অতিরিক্ত প্রত্যাশা দাম্পত্যে সম্পর্কে ইতি টানতে পারে!

প্রত্যাশা হল মানুষের কাল্পনিক ইচ্ছা। মানুষ যা অপরের কাছ থেকে অর্জন করতে চায় তাই প্রত্যাশা। দাম্পত্য সম্পর্ক নতুন হোক বা পুরনো, প্রত্যাশা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রত্যাশা স্থাপনের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর বুঝতে হবে তার সঙ্গীর পক্ষে তা পূরণ করা সম্ভব বা কঠিন হবে কিনা। কেবল প্রত্যাশা থাকলেই হয়না, প্রত্যাশার বিষয়টি সম্পর্কে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। অধিক প্রত্যাশায় দাম্পত্যে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

দাম্পত্যে সম্পর্কে প্রত্যাশার নিয়ন্ত্রণঃ

কল্পনা-

বিয়ের পূর্বে সঙ্গীকে নিয়ে যা কিছু কল্পনা করেছেন বা মনে প্রত্যাশা ছিল সংসার নিয়ে আর বিয়ের পর তার উল্টোটা দেখছেন বা কিছু অমিল রয়েছে তাই বলে সঙ্গী কে বদলানোর চেষ্টা করবেন না। সঙ্গী যেমন তাকে সেভাবেই ভালবাসুন।

আশা-

সঙ্গীর প্রতি আশা করে বসে থাকা বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্যে সবচেয়ে বেশী কলহ বা অভিমান দেখা যায়। চোখের ভাষা বা মনের অবস্থা বোঝার ক্ষমতা সবার থাকেনা। তাই মনে মনে আশা বেধে কষ্ট না চেপে রেখে আপনি সরাসরি আপনার জীবনসঙ্গীর কাছে যা চান তা বলে ফেলুন।

সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকা-

দাম্পত্য সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকার বিষয়টি অতি প্রয়োজনীয়। আপনারা পরস্পরের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে যত ভালো স্বচ্ছ ধারণা গড়তে পারবেন, প্রত্যাশার প্রভাব আপনাদের সম্পর্কে তত কম প্রভাব ফেলবে।

বিলাসিতা-

বিলাসিতা অধিক প্রত্যাশা তৈরি করে যা দাম্পত্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন- স্ত্রী তার চাহিদার চেয়ে বেশী কিছু স্বামীর কাছে চাইছে তখন যদি স্বামীর সামর্থ্য না থাকে বা তার জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে যায় তখন দাম্পত্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। তাই প্রয়োজনের চেয়ে চাহিদা না বাড়িয়ে সঙ্গীর অবস্থা কে গুরুত্ব দিন। আবার দেখা যায় পারিবারিক অবস্থা ভালো নয় কিন্তু স্বামী বিলাসিতায় সংসার কাটাচ্ছে এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সচেতন থাকা উচিত।

বয়সের ব্যবধান-

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধানে প্রত্যাশার পার্থক্য দেখা যায়, যার ফলে উভয় পক্ষের থাকে নানান অভিযোগ। দেখা গেছে বয়সের পার্থক্যের জন্য স্ত্রীর কিছু আবদার স্বামীর কাছে অহেতুক মনে হয়ে থাকে। আবার দেখা যায় স্বামীর প্রত্যাশা থেকে স্ত্রীর প্রতি এমন কিছু দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয় যা তার পক্ষে পূরণ সম্ভব হয়ে উঠেনা। যেহেতু বয়সের ব্যবধান রয়েছে তাই দুজনার আন্তরিকতা দ্বারা প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

প্রত্যাশা থেকে হতাশা-

প্রত্যশা থেকে হতাশা তৈরি হয় ধীরে ধীরে। স্বামী বা স্ত্রী যখন তার জীবনসঙ্গীর কাছে বার বার প্রত্যশা পুরনে ব্যর্থ হয় তখনই হতাশা তৈরি হয়। তাই স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উচিত জীবনসঙ্গীর প্রত্যাশা বিষয়ে মনোযোগ দেয়া।

পারিবারিক বিষয়ে প্রত্যাশা-

একটি সংসার কেবল স্বামী-স্ত্রী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনা। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পরস্পরের পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও আন্তরিকতা বিষয়গুলো পূরণ করা হল পারিবারিক বিষয়ে প্রত্যাশা। দাম্পত্যে প্রায় ৫০% ঝগড়া হয়ে থাকে এ বিষয়ে অবহেলার জন্য। পরস্পরের পরিবারের বিষয়ে প্রত্যাশা পূরণ করলে দাম্পত্যে সম্পর্ক ভালো থাকবে।

জৈবিক চাহিদায় প্রত্যাশা-

দাম্পত্যে জৈবিক চাহিদার বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে স্ত্রী লাজুক বা ইচ্ছে প্রকাশ করেনা। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ না হলে এক সময় সম্পর্কের প্রতি হতাশা বা অনীহা কাজ করে। তাই দাম্পত্যে জৈবিক চাহিদায় স্বামী-স্ত্রীর খোলামেলা আলোচনা করা উচিত।

সন্তুষ্টির অভাবে প্রত্যাশা বাড়ে-

অধিক প্রত্যাশা একটি রোগ। মানুষ যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশী পায় তখন সন্তুষ্টি বিষয়টি ভুলে যায়। দাম্পত্যে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যাশার একটি নকশা রাখা উচিত যেন অধিক প্রত্যাশায় সব কিছুতে অসন্তুষ্টি বিষয়টি না কাজ করে।

উইলিয়াম শেক্সপিয়র বলেন-

“আমি সবসময় নিজেকে সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময়ই দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

দাম্পত্য কলহ ও প্রত্যাশা পূর্বেও ছিল, এখনও আছে, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু দাম্পত্যে অধিক প্রত্যাশা রাখার ফলে কলহ বাড়তে থাকে যা একসময় সম্পর্ক বিচ্ছেদের দিকে অগ্রসর হয়। তাই দাম্পত্য সম্পর্কে প্রত্যাশার নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন।

দাম্পত্যে আবেগ ও বাস্তবতা

আবেগ মানুষের মনে একটি সহজাত অনুভূতি আর বাস্তবতা প্রকৃতির নিয়ম। আবেগ ছাড়া মানুষ সম্পর্ক গড়তে পারেনা আবার বাস্তবতা ছাড়া জীবন চলেনা। দাম্পত্যে সম্পর্কে আবেগ ও বাস্তবতার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাব রয়েছে।

সম্পর্কে আবেগের প্রভাবঃ

আবেগ ছাড়া সম্পর্ক এক ঘেয়েমি হয়ে যায় তাই আবেগ সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আবেগ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো রাখে।

একজনের আবেগীয় আচরণের ফলে দাম্পত্যে সম্পর্কে বিপরীত মানুষের আচরণে উন্নতি ঘটে। যেমন- স্বামী বা স্ত্রী কারো কঠোর মন এক সময়ে কিছুটা হলেও মনুষ্যত্বে পরিণত হয়।

অতিরিক্ত আবেগের বশে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে যার ফলে ব্যাক্তিকে ভুলের স্বীকার হতে হয়। হতে পারে এ আবেগ রাগ বা কষ্ট অনুভূতি থেকে সঙ্গীর প্রতি ভুল আচরণ বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া।

কখনও কখনও আবেগের ফলে সম্পর্ক হিতের বিপরীতে যায়। দেখা গেছে স্বামী বা স্ত্রী কোন অন্যায়মূলক কাজ করছে বিপরীত ব্যক্তি অতিরিক্ত ভালোবাসার ফলে দোষটিএড়িয়ে চলছে।

অতিরিক্ত আবেগের ফলে দাম্পত্যে সম্পর্কে একমুখী দায়িত্ব পালন করেন একপক্ষ। ফলে এক পর্যায়ে সম্পর্কে হতাশা তৈরি করে ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আবেগের ফলে দাম্পত্যে ছোটখাটো বিষয়ে স্বামী বা স্ত্রী বেশ যত্নশীল ভূমিকা রাখে ফলে সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

অতিমাত্রায় আবেগ থেকে সম্পর্কে ঈর্ষাবোধ মনোভাব তৈরি হয় ফলে দাম্পত্যে কলহ বিরাজ করে।

বেশী আবগ মানুষকে বাস্তবতা মেনে নিতে দেয় না ফলে দাম্পত্যে সম্পর্কে উভয়কে খারাপ পরিস্থিতি পোহাতে হয়।

সম্পর্কে বাস্তবতার প্রভাবঃ

জীবন সবসময়য় বাস্তব কেন্দ্রিক হতে পারেনা। অতিমাত্রায় বাস্তবতা দাম্পত্য সম্পর্কে কঠিন করে ফেলে তখন স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি অনীহাবোধ করে।

বাস্তবতার জন্য সম্পর্ক নিয়ন্ত্রনে থাকে। যেমন- দাম্পত্যে যদি স্ত্রী বা স্বামী বেশী আবেগ প্রবণ হয় আর বিপরীত ব্যক্তি বাস্তবমুখী হয় ফলে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রনে থাকে।

বাস্তবতা যখন অনেক কঠিন হয়ে যায় মানুষ জীবন থেকে পালাতে চায়। ঠিক তেমনি সম্পর্কে আবেগহীন বাস্তবতা সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের দিকে ধাবিত হয়।

দাম্পত্যে সম্পর্কে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা বেশী থাকলে সে সম্পর্ক বেশীদিন স্থায়ী হয়।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর মতে- “বাস্তবতা নিছক একটি বিভ্রম, যদিও এটি খুব স্থায়ী”

তাই প্রতিটি দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগ যেমন প্রয়োজনীয় তেমনি বাস্তবতার সমন্বয়ও খুব গুরুত্বপূর্ন। একটি স্বাস্থ্যকর দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য আবেগ ও বাস্তবতার সমন্বয় অবশ্যই প্রয়োজন।

ঝগড়া ছাড়া সম্পর্ক

সম্পর্কে ঝগড়া হলে দুপক্ষের মধ্যে ভয় কাজ করে এই বুঝি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। ঝগড়া কেউ ইচ্ছে করে করতে চায়না কিন্তু পরিস্থিতিতে ঝগড়া হয়ে যায়। তবে দাম্পত্যে সম্পর্কে ঝগড়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মনের মাঝে সমস্যা বা যে কোন কিছু পুষে রাখা উচিত নয় বরং ঝগড়া করে হলেও মনের অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো উচিত।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, ৪৪ শতাংশ মার্কিন দম্পতি মনে করেন সপ্তাহে অন্তত একবার গুছিয়ে ঝগড়া হওয়ার মানে সম্পর্কে পারস্পরিক যোগাযোগ বেশ ভাল।

দাম্পত্যে সম্পর্কে ঝগড়ার ও প্রয়োজন আছে –

সমস্যার প্রতি মনোযোগঃ

দাম্পত্যে সম্পর্কে অনেক সমস্যা বিরাজ করে যা পরস্পর আলোচনা আসেনা বা বলা হয়ে উঠে না। কিন্তু ঝগড়ার সময় ব্যক্তিরা না বলা সমস্যাগুলো নিয়েই কথা বলে তাই পরবর্তীতে সমস্যার প্রতি সম্পর্কের মনোযোগ দেখা যায়।

যত্নশীলঃ

ঝগড়ার সময় মনে হয় এই বুঝি সম্পর্কের ইতি টানল কিন্তু ঝগড়া শেষ হলে পরিস্থিতি এই যেন পানি। ফলাফল যত্ন বেড়ে যায় পরস্পরের প্রতি। ভুল বোঝাবোঝি দূর হয়ঃ দাম্পত্যে সম্পর্কে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় পরস্পরের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা হয়না তাই দুজন ব্যক্তিই মনে ভুল বোঝাবোঝি বয়ে চলে। আর এরকম পরিস্থিতিতে যখন ঝগড়া হয় তখন ভুল বোঝাবোঝির অবসান ঘটে।

ভুল বোঝাবোঝি দূর হয়ঃ

দাম্পত্যে সম্পর্কে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় পরস্পরের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা হয়না তাই দুজন ব্যক্তিই মনে ভুল বোঝাবোঝি বয়ে চলে। আর এরকম পরিস্থিতিতে যখন ঝগড়া হয় তখন ভুল বোঝাবোঝির অবসান ঘটে।

সম্পর্কের প্রতি অনীহা কাটায়ঃ

যখন দুজন ব্যক্তির মধ্যে যে কোন বিষয়ে আলোচনা, সমঝোতা বিষয়টি থাকে না, যে যার মত ছাড় দিতে থাকে তখন সম্পর্কে একঘেয়েমি কাজ করে। সম্পর্কের এ পরিস্থিতিতে ঝগড়া বিষয়টি কাজে লাগে। ঝগড়া হলে পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের প্রতি অনীহা কাটে।

সম্পর্কের প্রতি মায়া বাড়েঃ

সব সময় ঝগড়ার ফলে সম্পর্কের প্রতি অনেক সময় বিরক্ত কাজ করে। মনে হয় সব শেষ করে দেয়াই ভালো কিন্তু ঝগড়া শেষে বেশ কিছুদিন মান-অভিমানের পর সম্পর্ক শেষ করতে গিয়ে আর শেষ করা হয়না মায়ার টানে।

যোগাযোগ বাড়েঃ

ঝগড়ার করার জন্যও ব্যক্তির সাথে দেখা করা বা কথোপকথন বাড়ে যার ফলে ঝগড়া হলেও সম্পর্ক শেষ হয়না বরং যোগাযোগের মাত্রা বেড়ে যায়।

একটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, যে সমস্ত দম্পতি বা যুগলরা ঝগড়া করেন বা বেশি বেশি অভিমান করেন, তাঁরাই তুলনা মূলক ভাবে সম্পর্কের দিক থেকে অনেক বেশি সুখী, তাদের থেকে – যারা মনের ভাব লুকিয়ে রাখেন।

জীবনসঙ্গী খুঁজছেন? জেনে নিন কিছু তথ্য

নিজের পছন্দ হোক কিংবা পরিবারের পছন্দ –

বিয়ের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করবেন না মোটেই। বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয়, আজীবনের বন্ধন। তাই জীবনসঙ্গী এমন একজন মানুষ হতে হবে, যার সাথে আপনার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া গুলো মেলে।

সকলেই তো আর প্রেম করে বিয়ে করেন না। অনেকেরই বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে, যাকে আমরা “অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ” বলি। শুনতে খুব সহজ মনে হলেও বিষয়টা আসলে খুব একটা সহজ নয়। অনেকেই হয়তো বিয়ে করার কথা ভাবছেন, কিন্তু পছন্দের সঙ্গী কিভাবে খুঁজবেন বুঝতে পারেন না। আবার খুঁজে পেলেও আপনার সাথে মনের মিল হবে কিনা তা নিয়েও আছে দ্বিধা-দ্বন্দ।

জীবনসঙ্গী খোঁজাটা যেন এক বিশাল পরীক্ষা। “অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ” এর জন্য সঠিক জীবন সঙ্গী খুঁজে পেতে কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে চেষ্টা করাই ভালো। পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে গেলে খুব বেশি কাঠ-খড় পোড়ানো ছাড়াই মিলবে মনের মানুষের দেখা। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক জীবনসঙ্গী খোঁজার ধাপ গুলো।

নিজের পছন্দ চুড়ান্ত করুনঃ

আপনি কেমন সঙ্গী চাইছেন কেমন হবে সঙ্গীর পারিবারিক অবস্থা, দেশের বাড়ি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরী সব মিলিয়ে যেমন সঙ্গী আপনার পছন্দ সেটা মনে মনে ঠিক করে ফেলুন। নিজের পছন্দের সাথে সবসময়েই পরিবারের পছন্দের সামঞ্জস্য রাখুন। তাহলে বিয়ের পরে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে।

বয়সের পার্থক্য ও পেশাঃ

যাকে জীবনসঙ্গী বানাবেন ভাবছেন তার সাথে বয়সের পার্থক্য যেন খুব বেশী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেই সাথে সঙ্গীর আয় বা পেশার দিকটি অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে কেননা জীবন চালাতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জরুরী।

পারিবারিক ও আঞ্চলিক সংস্কৃতিঃ

পারিবারিক ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বিয়ে মানে দুজন ব্যাক্তি নয় বরং দুটি পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক। যদি দুটি পারিবারের মধ্যে কালচারগত বিষয়ে সামঞ্জস্যতা থাকে তবে নতুন পরিবারে গিয়ে সহজেই মানিয়ে নেয়া যায়।

ব্যক্তির আচরণঃ

যাকে জীবনসঙ্গী বানাবেন ভাবছেন শুধু তার গুনের প্রশংসা বা সৌন্দর্য না দেখে তার আচরনের প্রতিও খেয়াল রাখুন। আপনি একজন ব্যক্তির সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেই বুজতে পারবেন তার আচরণগত কোন সমস্যা আছে কিনা বা তার কোন অভ্যাস যা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে।

দায়িত্ববান ও কর্মক্ষমঃ

একটি নতুন সংসার শুরু করতে নারী-পুরুষ দুজনের ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একজন দায়িত্ববান ও কর্মঠ হবেন আরেকজন উদাসীন তা হলে সংসার শুরু হবে অশান্তি দিয়ে। তাই জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে এ গুনাবলি গুলো আছে কিনা যাচাই করে নিন।

শারীরিক বিষয়ঃ

যাকে বিয়ে করবেন তার শারীরিক গঠন আপনার সাথে মানায় কি না খেয়াল রাখুন। ব্যক্তি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিন।

মানসিক প্রস্তুতিঃ

যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন সে কি বিয়ের জন্য মানসিকভাবে তৈরি কিনা তা বোঝার চেষ্টা করুন। যদি সে বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে তাহলে ভাবতে পারেন।

জীবনসঙ্গী খুঁজার ক্ষেত্রে গুণবতী, সুন্দরী বা ছেলের অবস্থান যাচাই করা ছাড়াও অনেক বিষয় রয়েছে যা আমরা দেখা প্রয়োজন মনে করি না। ফলে বিয়ের পর সংসারের অধ্যায় শুরু হয় ঝামেলা দিয়ে। তাই জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ বিষয়গুলো প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত।

দাম্পত্যে রাগ অভিমান ও কষ্ট

মানব মনের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ বিষয়টি বেশ চমৎকার ও আকর্ষণীয়। আপনার অবচেতন মন যদি কারো প্রতি রাগ, অভিমান বা কষ্ট পোষে রাখে তবে তা আপনি মুখে নয় বরং তা আচরনে প্রকাশ করবেন।

তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে- ভালোবাসার সম্পর্কে রাগ, অভিমান থাকা ভালো। এতে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়।

অহেতুক রাগ এড়িয়ে চলুনঃ

রাগ হল মানুষের মনের হিংসাত্মক মনোভাব। রাগ বা ক্ষোভ মানুষের মনে বেশীদিন জমা থাকলে এক পর্যায়ে অপর ব্যক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া যার মনে ক্ষোভ অনুভূতি কাজ করতে থাকে সে মানসিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাগ যে কারো প্রতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে দাম্পত্যে জীবনে অতিরিক্ত রাগ এড়িয়ে চলা ভালো।

অভিমানের মূল্যায়ন বুঝতে হবেঃ

অভিমান বিষয়টি দারুন একটি অনুভূতি যা দাম্পত্য জীবনে থাকা প্রয়োজন। ‘অভিমান অনুভূতি’ মূলত কাছের মানুষের সাথেই ঘটে থাকে। অভিমান হয় অপর ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা ও প্রত্যাশা থেকে। তবে ব্যাক্তির অভিমান কে সর্বক্ষণ অবহেলা করলে সম্পর্ক খারাপ দিকে যেতে পারে।

অযথা কষ্ট নিতে নেইঃ

সুখ-দুঃখের অঙ্গিনায় তৈরি হয় কষ্ট। কষ্ট যেকোন কারনেই আসতে পারে। হতে পারে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারন। তবে কষ্ট ভাগাভাগি করে নিলে দাম্পত্য জীবনে এর প্রভাব অনেকটা কমে আসে।

গবেষণায় দেখা গেছে – রাগ যাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ।

রাগ, অভিমান ও কষ্টের নেতিবাচক দিকঃ

অতিরিক্ত রাগের ফলে দাম্পত্যে কলহ বাড়তে থাকে।

রাগ ও কষ্ট পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট করে, অনেক সময় মানসিক দিক থেকে উভয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অভিমান ও রাগ থেকে সম্পর্কে প্রতিযোগিতা দেখা দেয়।

অতিরিক্ত কষ্টের ফলে পরস্পরের সম্পর্কের প্রতি অনীহা কাজ করে।

রাগ, অভিমান কষ্টেরও কিছু ইতিবাচক দিক আছেঃ

সঙ্গীর রাগ ভাঙ্গানোর ফলে সম্পর্ক ক্ষীর মধুময় হয়।

অভিমান শেষে ভালোবাসা ও প্রত্যাশার স্বীকৃতি ঘটে।

কষ্ট বাস্তবতা শেখার ফলে পরবর্তী পথ চলায় পরস্পরের প্রতি আস্থা বাড়ে।

সম্পর্কে সচেতনতার বৃদ্ধি ঘটে।

সম্পর্কে রাগ, অভিমান, কষ্ট বিষয়গুলো ঠিক যেন টক, ঝাল, মিষ্টি স্বাদের মত যা দাম্পত্যে জীবনে উপভোগ করা দরকার। তবে এ বিষয়গুলো বেশীদিন মনে পুষে না রাখাই ভালো। এ পরিস্থিতি গুলোতে দুজন সমঝোতায় আসতে পারলে ভালোবাসা ও সম্পর্ক আগের চেয়ে মধুর হয়।

কিছু পরামর্শ নিতে নেই এতে দাম্পত্যে সম্পর্ক নাজুক হয়!

দাম্পত্য সম্পর্ক সুখের হোক বা না হোক – সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব একমাত্র আপনার। অনেক সময়ই সম্পর্কের নানা সমস্যায় আমরা পরামর্শ চাই কাছের বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে। কখনও কখনও সে সব পরামর্শে কাজ হয়, কখনও আবার হয় না।

তবে কাজ হোক বা না হোক, পরিস্থিতির দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে এবং নিজেই পথটা খুঁজে বের করতে হবে। এ সব ক্ষেত্রে বন্ধু বা আত্মীয়দের পরামর্শগুলোর ব্যাপারেও সাবধান থাকা দরকার।

স্বামীর সঙ্গে তর্ক কোরো নাঃ

কোনও মতেই এই পরামর্শে কান দেবেন না! তর্ক করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে ঠিকই, কিন্তু সেই ভয়ে চুপ করে থাকাটা কোনও কাজের কথা নয়। নৈর্ব্যক্তিক হয়ে বিষয়টা পর্যালোচনা করা এবং কোথায় আপনাদের দু’জনেরই ভুল হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। যদি মনে হয় আপনাকে বিনা কারণে দোষী করা হচ্ছে, তা হলে চুপ করে না থেকে মুখ খুলুন। সম্পর্ক সফল করতে দু’জনেরই সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার।

স্বামীকে পালটানোর চেষ্টা করোঃ

এটা আর একটা ভুল পরামর্শ। কোনও দুটো আঙুল যেমন একরকম হয় না, তেমনি দু’জন মানুষও একরকম হতে পারেন না। সেই পার্থক্যটা মেনে নিতে হবে। স্বামী বা পার্টনারকে যদি পালটাতে চেষ্টা করেন, সেটা হবে আপনার সবচেয়ে বড়ো ভুল। পরস্পরের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে মেনে নিয়ে জীবনটা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংসারের রাশ নিজের হাতে রাখোঃ

সম্পর্কের মূল কথা হল দু’জনের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখা। সব কিছুর রাশ নিজের হাতে রাখলে মাথায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে ফেলবেন, এবং তা থেকে এক সময় হতাশা আর ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হবে যা যথেষ্টই এড়ানো সম্ভব। তাই সব দায়িত্ব নিজের উপর রাখবেন না, স্বামীর সঙ্গে ভাগ করে নিন।

স্বামীর ফোনের উপর নজর রাখোঃ

এরকম পরামর্শ শুনলে সেই পরামর্শদাতা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলাই ভালো। অপরের ফোন ঘাঁটা একইসঙ্গে অনৈতিক এবং অভদ্রতার চূড়ান্ত উদাহরণ। স্বামীর ব্যাপারে কোনও কারণে আপনার সন্দেহ তৈরি হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য স্বামীর ফোন লুকিয়ে দেখতে যাবেন না। বরং সরাসরি স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন।

দাম্পত্য সম্পর্কে দুজনের মনের যোগাযোগের পথটা হওয়া চাই মসৃণ। হঠাৎ করেই সঙ্গীর চেনা আচরণে অচেনা সুর, ছোটখাটো ভুলত্রুটিতে বড় চেহারা দাম্পত্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতিতে সম্পর্কে এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়। দুজনের মনের যোগাযোগের পথ হতে হবে দূর্দান্ত;

পারস্পারিক বুঝাপড়া সমান্তরাল। তাই নিজেদের অকৃত্রিম সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে দুজনেই যথেষ্ঠ সচেতন হোন।

কিছু পরামর্শ নিতে নেই এতে সম্পর্ক নাজুক হয়

দাম্পত্য সম্পর্ক সুখের হোক বা না হোক – সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব একমাত্র আপনার। অনেক সময়ই সম্পর্কের নানা সমস্যায় আমরা পরামর্শ চাই কাছের বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে। কখনও কখনও সে সব পরামর্শে কাজ হয়, কখনও আবার হয় না।

তবে কাজ হোক বা না হোক, পরিস্থিতির দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে এবং নিজেই পথটা খুঁজে বের করতে হবে। এ সব ক্ষেত্রে বন্ধু বা আত্মীয়দের পরামর্শগুলোর ব্যাপারেও সাবধান থাকা দরকার।

স্বামীর সঙ্গে তর্ক কোরো নাঃ

কোনও মতেই এই পরামর্শে কান দেবেন না! তর্ক করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে ঠিকই, কিন্তু সেই ভয়ে চুপ করে থাকাটা কোনও কাজের কথা নয়। নৈর্ব্যক্তিক হয়ে বিষয়টা পর্যালোচনা করা এবং কোথায় আপনাদের দু’জনেরই ভুল হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। যদি মনে হয় আপনাকে বিনা কারণে দোষী করা হচ্ছে, তা হলে চুপ করে না থেকে মুখ খুলুন। সম্পর্ক সফল করতে দু’জনেরই সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার।

স্বামীকে পালটানোর চেষ্টা করোঃ

এটা আর একটা ভুল পরামর্শ। কোনও দুটো আঙুল যেমন একরকম হয় না, তেমনি দু’জন মানুষও একরকম হতে পারেন না। সেই পার্থক্যটা মেনে নিতে হবে। স্বামী বা পার্টনারকে যদি পালটাতে চেষ্টা করেন, সেটা হবে আপনার সবচেয়ে বড়ো ভুল। পরস্পরের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে মেনে নিয়ে জীবনটা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংসারের রাশ নিজের হাতে রাখোঃ

সম্পর্কের মূল কথা হল দু’জনের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখা। সব কিছুর রাশ নিজের হাতে রাখলে মাথায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে ফেলবেন, এবং তা থেকে এক সময় হতাশা আর ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হবে যা যথেষ্টই এড়ানো সম্ভব। তাই সব দায়িত্ব নিজের উপর রাখবেন না, স্বামীর সঙ্গে ভাগ করে নিন।

স্বামীর ফোনের উপর নজর রাখোঃ

এরকম পরামর্শ শুনলে সেই পরামর্শদাতা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলাই ভালো। অপরের ফোন ঘাঁটা একইসঙ্গে অনৈতিক এবং অভদ্রতার চূড়ান্ত উদাহরণ। স্বামীর ব্যাপারে কোনও কারণে আপনার সন্দেহ তৈরি হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য স্বামীর ফোন লুকিয়ে দেখতে যাবেন না। বরং সরাসরি স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন।

দাম্পত্য সম্পর্কে দুজনের মনের যোগাযোগের পথটা হওয়া চাই মসৃণ। হঠাৎ করেই সঙ্গীর চেনা আচরণে অচেনা সুর, ছোটখাটো ভুলত্রুটিতে বড় চেহারা দাম্পত্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতিতে সম্পর্কে এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়। দুজনের মনের যোগাযোগের পথ হতে হবে দূর্দান্ত;

পারস্পারিক বুঝাপড়া সমান্তরাল। তাই নিজেদের অকৃত্রিম সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে দুজনেই যথেষ্ঠ সচেতন হোন।

ভালোবাসা দিয়েই ভালোবাসা আদায় করে নিতে হয়!

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ “ভালোবাসা”। ভালোবাসা মূলত সাধনার বিষয়। আপনি যত বড় সাধক হবেন তত সফল হবেন। আপনি আজ উজাড় করে দিবেন পরবর্তীতে এর পরিমাণ উত্তম কিছু পাবেন এটাই প্রকৃতির ধর্ম। প্রকৃতির এ নিয়ম যদি আপনি বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে হতাশায় না ভুগে ভালোবাসা দিয়েই ভালোবাসা আদায় করে নিন।

প্রত্যাশা রাখবেন নাঃ কি পেলাম, কতটুকু পেলাম এ নিয়ে হিসেব-নিকাশ করবেন না। মানুষ বেশী কষ্ট পায় যখন সে মনে প্রত্যাশা রাখে।

তার প্রিয়জন হনঃ আপনি তখনই একজন মানুষের প্রিজন হতে পারবেন যখন আপনার সঙ্গ তার ভালো লাগবে। তাই সম্পর্কে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলন।

স্বার্থপর হবেন নাঃ ভালোবাসার বিষয়ে স্বার্থ থাকতে নেই আর প্রকৃত ভালোবাসয় স্বার্থপরতা নেই ।

বিশ্বস্ত হনঃ যে কোন সম্পর্কে বিশ্বাস অতি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন কারো বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন তার কাছে আপনার চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকবে না। সে আপনার কাছেই আসবে বার বার।

প্রয়োজন হবার চেষ্টা করুনঃ তার প্রয়োজন হওয়ার জন্য অবশ্যই ব্যক্তির কাজে সহযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন, এর ফলে আপনাদের বোঝাপড়া বিষয়টি মজবুত হবে। প্রয়োজন থেকেই কিন্তু প্রিয়জন হওয়া সম্ভব।

ছাড় দিনঃ সম্পর্কে তখনই ফাটল ধরে বা ব্যক্তি অপছন্দের কারন হয়ে যায় যখন সম্পর্কে ছাড় দেয়ার বিষয়টি থাকে না। হারাবার ভয় হবেই এটাই স্বাভাবিক। পোষা পাখির মত আটকে রাখবেন না। মানুষটি যদি আপনাকে ভালোবাসে যে যতদুরেই যাক আপনার কাছে ফিরবেই।

ঈর্ষাঃ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন আর মনে ঈর্ষা জন্মাবে না তা আসলে হয় না, তবে এর পরিমাণ যেন তীব্র না হয়। কারন অতিরিক্ত ঈর্ষাবোধ একটি রোগ ও সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়।

হতাশা হবেন নাঃ চিন্তা করুন তো; দিন গড়িয়ে যেমন রাত আসে তেমনি রাত পেরিয়ে আবার ভোর হয়! তাই আজ যা কিছু করবেন সময় আপনাকে ফলাফল দিবেই তাই হতাশ হবেন না।

ভালো লাগা বা সম্পর্ক বিষয়টি চট করে হয়ে গেলেও ভালোবাসা তৈরি হয় ধীরে ধীরে। ভালোবাসা গড়ে উঠে পরস্পরের বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে। সম্পর্ক আছে কিন্তু ভালোবাসা নেই বা একপক্ষের অনুভূতি এ বিষয়টি অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়। আর এ সম্পর্ক গুলো প্রতিনিয়ত হতাশায় ভুগে, অতঃপর কারো কারো ক্ষেত্রে হয়ে যায় বিচ্ছেদ।

ভালোবাসা নিয়ে ‘ টমাস ফুলার বলেছেন -ভালোবাসতে শিখুন, ভালোবাসা দিতে শিখুন তাহলে আপনার জীবনে ভালোবাসার অভাব হবে না।

বিয়ে নিয়ে ভয়?

কারও বিয়ের ছবি বা ভিডিও অথবা সিনেমা-নাটকে বিয়ের গল্প দেখলে অবচেতন মনে যে কেউ নিজের বিয়ের কল্পনা করে ফেলেন; স্বপ্ন বুনতে থাকেন। আবার বিয়ে নিয়ে অনেকের মাঝে ভয়ের অনুভূতিও কাজ করে এ বিষয়টি হয়তো অনেকেরই অজানা।

বিয়ে করতে ভয় পাওয়ার বিষয়টিকে একটি মানসিক রোগ হিসাবে সনাক্ত করা হয় যার নাম “গ্যামোফোবিয়া”। গ্রিক ভাষায় গ্যামো মানে বিয়ে আর ফোবিয়া মানে ভয়। বিয়ে ভীতি বিষয়টি আজকাল অনেক তরুন-তরুণীদের মাঝে ব্যাপক দেখা যাচ্ছে।

লক্ষণঃ

যাদের গ্যামোফোবিয়া হয় তারা সাধারণত সম্পর্কের ব্যাপারে বেশ উদাসীন থাকে, এসব নিয়ে সিরিয়াস কোনো কথা উঠলে এড়িয়ে যেতে চায়। এছাড়া, বিয়ে সংক্রান্ত যেকোনো আলোচনা তারা অপছন্দ করে। এমনকি বিয়ের আয়োজনেও তারা যেতে চায় না। বিয়ের ফর্মালিটিজকে তারা বেশ অপছন্দ করে। তারা সবসময়ই মনে করে সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়াটা হয়ত ভুল সিদ্ধান্ত হবে। এই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকাও গ্যামোফোবিয়ার একটি লক্ষণ।

প্রতিকারঃ

গ্যামোফোবিয়া হয়েছে কিনা এটি অনেকক্ষেত্রে বুঝার আগেই সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কমিটমেন্টে কারো অনীহা থাকলে তাকে যেভাবে তিরস্কার করা হয়, বিপরীতে সে আবার যে প্রতিক্রিয়া দেখায় এর ফলেই সম্পর্ক তিতকুটে হয়ে যায়। ফলে যে মানুষটা গ্যামোফোবিয়ায় ভুগছে সে আরো বেশি সম্পর্কের প্রতি বিরক্তিবোধ করে। আর যে গ্যামোফোবিয়া আক্রান্ত মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেছে মাত্র সেও হয়ত গ্যামোফোবিয়ায় ভুগতে শুরু করবে একটা সময়।

কারনঃ

– ব্যাক্তি স্বাধীনতা হারানোর ভয়।

– দায়িত্ব নেয়ার ভয়। – সঙ্গীর থেকে প্রতারণা হবার ভয়।

– পারিবারিক কলহ হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা।

– বিয়ের খরচ।

– বন্ধু মহল হারানোর ভয়।

– অনেকেই স্বাবলম্বী না হয়ে বিয়ে করতে চাইছেন না।

– অল্প বয়সে বিভিন্ন সম্পর্কজনিত জটিলতা।

– পরিবারের বা আশেপাশে কারও বিচ্ছেদ থেকে মনে জন্মানো নেতিবাচক ধারণা।

বিয়ে নিয়ে ভয়ের মাত্রা সবার এক নয়। তাই বিয়ে নিয়ে যাদের ভয়ের মাত্রা কম তাদের ক্ষেত্রে আশেপাশের নিকট আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব বিয়ের ইতিবাচক বিষয়গুলো বোঝালে তারা স্বাভাবিকভাবে বিয়ে তে রাজি হবে। তবে যাদের ভয়ের মাত্রা বেশী তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আয়ত্তের মাঝে ফিরিয়ে আনতে এ রোগের জন্য ডাক্তার দেখাতেই পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোবিয়ার সবচেয়ে উপযোগী চিকিৎসা হচ্ছে হাইপোথেরাপি, সাইকোথেরাপি ও নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং।

ভালো সঙ্গী হতে হলে

‘অমরসঙ্গী’ হওয়ার তাগিদ দিলে হয়তো রোমান্টিকতার বাড়াবাড়িই হবে। তবে আরও একটু বেশি হলে ক্ষতি কী?… সফল ও ভালো জীবনসঙ্গী সবারই চাওয়া থাকে। ‘সঙ্গী রোমান্টিক হবে। আমার সব কথা বুঝবে। দারুণ সুন্দর সময় কাটাব।’ প্রত্যেকেই ভাবেন, তাঁর সঙ্গী তাঁকে ঘিরেই নতুন জীবন রচনা করবেন—জীবন কাটাবেন। তাঁর রাজ্যে তিনি একাই রাজত্ব করবেন। এখানে অন্য কেউ অপরের ভাবনায়, প্রকাশ্যে, ফেসবুক অথবা মোবাইলে কাজে-অকাজে ভাগ বসাবে না। দুজনের পারস্পরিক মুগ্ধতা যেন সারা জীবন থাকে।

আবার পারিবারিক সম্বন্ধ করে হওয়া বিয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের পর এই ভালোবাসাবাসীর পর্বটা শুরু হয়। বিয়ের মূল লক্ষ্য যেটা থাকে সেটা হলো, মনের মধ্যে যে মিলনের আকাঙ্ক্ষা তার নান্দনিক বাস্তবায়নে নিজেকে প্রকাশ করা, রোমান্টিকতা। আর এসব ঘিরে রয়েছে সামাজিকতা। এসব নিয়েই তো বিয়ে।

মার্কিন লেখক মিগনন-ম্যাকফলিন যেমনটা বলেছেন, দায়িত্ব দু-তরফেরই। সম্পর্ক হবে এ রকম; একজীবনেই বারবার প্রেমে পড়া চাই একে অপরের। শুধু তো দায়িত্ববোধ না, পরস্পরের প্রতি মুগ্ধতা না থাকলে ভালো সঙ্গী হয়ে ওঠা দুষ্কর। আগে থেকে পরিচয় না থাকলে পারিবারিক সম্বন্ধ করা বিয়েতে আরেকটু কাঠখড় তো পোড়াতেই হয়। মার্কিন দুঁদে মঞ্চকর্মী রবার্ট ব্রল্টের কথাটাই বা বলি না কেন! সংসার রঙ্গমঞ্চে দুজনকে হতে হবে দুজনার। আর ভালোবাসার প্রশ্নে সারা পৃথিবীর বিরুদ্ধে দরকারে এককাট্টা হয়ে লড়াই।

রম্যলেখক রবার্ট কুইলেন বলেছেন, সুখী ও ভালো সম্পর্ক হলো—যুগলের দুজনই একে অপরের প্রতিÿআস্থাশীল, সহৃদয়, সদয় এবং সংবেদনশীল।

তাহলে কী করতে হবে?

বিয়েটা যদি হয় সম্বন্ধ করে:

দুজনের পছন্দ-অপছন্দ বিয়ের আগে আলোচনা করে নিলেই ভালো হয়।

কারও বিয়ের আগে প্রেম থাকতেই পারে। সে ব্যাপারটা দুজনেই দুজনের স্মৃতি থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারবেন কি না, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। এই বোঝাপড়া যত আগে হবে ততই ভালো।

নিজের মতের বিরুদ্ধে বিয়ে করা উচিত নয়। এতে উভয়ের পরিবার ও নিজেদের মধ্যে ঝামেলা বাড়বে।

নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ যদি না থাকে; তা শোধরানোর মানসিকতা থাকতে হবে।

পারস্পরিক দুর্বলতাগুলো জানতে ও জানাতে পারলে ভালো। এ কারণে, যাতে সে ব্যাপারে আপনি ‘কেয়ারিং’ হতে পারেন। আপনার ওপর আপনার সঙ্গীর আস্থা যেন বাড়ে। অযথা সেসব বিষয় নিয়ে জীবনকে তিতকুটে বানানোর কোনো মানে নেই।

বিবাহিত জীবন টিভির সিরিয়াল— ডেইলি সোপ বা অপেরা নয়। গোপন গল্পগুলো জীবননাট্যের ক্লাইমেক্স বা জটিলতা বাড়ানোর জন্য মজুত রাখবেন না।

আপনার সঙ্গীর আগ্রহের দিকটায় নজর দিন। তাকে উৎসাহ দিন। দেখবেন সেও আপনার প্রতি তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

যেমন: পড়াশোনা করা, বছরে অন্তত একবার বেড়িয়ে আসা, কোনো সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করা, সিনেমা দেখা ইত্যাদি। আবার কেনাকাটাও হতে পারে। একদিন না হয় গেলেনই সঙ্গীর সঙ্গে।

শারীরিক ব্যাপারটি উপভোগ্য করে তুলুন। ব্যাপারটি নিয়ে লজ্জা না করে নিজেদের মধ্যে খোলাখুলি আলোচনা করা ভালো। প্রয়োজন হলে নিজেদের পরিতৃপ্তির জন্য চিকিৎসক-পরামর্শ, ইন্টারনেটের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

অন্যের দোষ-খুঁতগুলো হিসাব না করে সঙ্গীর ইতিবাচক দিক বের করুন। আর সেগুলোর প্রশংসা অব্যাহত রাখতে হবে।

ঝগড়া নয়, আলোচনায় যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে।

প্রেমের বিয়েতে:

প্রেমের সময় অনেক ক্ষেত্রে দুজনের পারিবারিক স্ট্যাটাস, পারিবারিক আবহ, তাদের নিজেদের মতামতের মূল্য কতখানি সেসব দিক অনেকটা অজানাই থেকে যায়, ভাবেন যে পরে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আসলে বাস্তবতা ভিন্ন। বিয়ে মানেই হচ্ছে সামাজিকতা। সংসার মানেই একটি সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা। যে যার মাতব্বরি ফলানোর একটা জম্পেশ জায়গা ভেবে নড়েচড়ে বসেন। সংসার রাজনীতির ভালোমন্দ দেখভাল এড়িয়ে গেলে কেমন করে চলবে!

তাহলে উপায়—যখনই ভাবলেন বিয়ে করবেন! একটু ভেবে নিন।

দুজনই দুজনের পরিবারকে ভালোভাবে জানার চেষ্টা করুন।

দুজনই তাঁদের নিজেদের পরিবারে কতখানি প্রভাব রাখতে পারবেন তা পর্যালোচনা করুন।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অবশ্যই থাকতে হবে। বিয়ের পর ‘পারবো না, পারলাম না’ বলতে যাতে না হয় সে রকম মানসিক প্রস্তুতি আগেই নেওয়া প্রয়োজন।

ভুল-বোঝাবুঝির শুরুতেই তা নিরসন করা উচিত ।

নিজেদের দোষত্রুটিগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখতে পারেন। পরে ডায়েরি দেখে সেসব শোধরাতে হবে।

লেখেছেন: সুলতানা আলগিন, সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ।

সুত্রঃ প্রথম আলো