খ্রিস্টীয় বিয়ের রীতিনীতি

বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধন। বিয়ের মাধ্যমে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারাজীবন একসঙ্গে চলার শপথ। এছাড়া বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও আইনগত যে বিধান রয়েছে তাতে স্বামী -স্ত্রী উভয়েরই স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। ধর্মগত কারণে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিয়েতে রীতিনীতি আলাদা।

তবে আমাদের দেশে খ্রিস্টীয় বিয়েতে দেশীয় রীতি, কৃষ্টি ও সামাজিক মূল্যবোধ উপলব্ধি করে লোকাচার ও স্ত্রী আচার মিলে একটি নান্দনিক, আনন্দময় ও সুন্দর রূপ দেয়া হয়েছে। আসুন জেনে নিই খ্রিস্টীয় বিয়ের রীতিনীতি।

কনে নির্বাচন: খ্রিস্টান বিয়েতে সবার প্রথমে যে কাজটি করা হয় সেটি হলো কনে নির্বাচন। বরপক্ষ সাধারণত কনের চরিত্র, দোষ-গুণ, বংশ পরিচয় জেনে কনে নির্বাচন করে থাকেন।

প্রস্তাব : কনে পছন্দ হওয়ার পর শুভদিন দেখে বরপক্ষ কনের বাড়ি যায়। তাদের উদ্দেশ্যের কথা জানায় ও বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

বাগদান: বর ও কনেপক্ষ রাজি থাকলে বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাগদান উপলক্ষে পান, সুপারি, বিজোড়সংখ্যক মাছ আয়োজন থাকে।

আশীর্বাদ গ্রহণ: এই অনুষ্ঠানে বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে যায়, যা আগেই কথা বলে ঠিক করে রাখা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর-কনে সবার আশীর্বাদ গ্রহণ করে।

নাম লেখা: বিয়ের ৩ সপ্তাহ আগে কনের বাড়িতে পুরোহিতের কাছে বর-কনে নাম লেখান। অনেকে এ অনুষ্ঠানে আতশবাজি ও বাজনার আয়োজন করে।

বান প্রকাশ: এই অনুষ্ঠানে বর-কনে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মণ্ডলীর বিধি অনুযায়ী এ সময় বিয়ের ক্লাস করতে হয়। এটি বিয়ে-পূর্ব ব্যাধতামূলক ক্লাস ব্যবস্থা।

অপদেবতার নজর: নাম লেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বর-কনেকে অতি সংযমী জীবন করতে হয়। অনেকে এ সময় ভূত-প্রেত ও অপশক্তির নজর থেকে রক্ষার জন্য ‘রোজারি মালা’ বা ‘জপমালা’ গলায় পরেন।

খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বিয়ে
খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বিয়ে

কামানি বা গা-ধোয়ানি: বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানকে গা-ধোয়ানি বলে। অনেক খ্রিস্টান সমাজে এই দিন গায়েহলুদ মাখিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে অনুষ্ঠান করা হয়।

কনে তোলা: বিয়ের দিন ভোরে বাদকদলসহ বরের আত্মীয়স্বজন কনের বাড়ি গিয়ে কনেকে নিয়ে আসে। কনেকে ঘর থেকে আনার সময় তার হাতে পয়সা দেয়া হয়। কনে বাড়ি থেকে আসার সময় সেই পয়সা ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। এর অর্থ হলো যদিও সে বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে, তারপরও বাড়ির লক্ষ্মী ঘর থেকে চলে যাচ্ছে না।

গির্জার অনুষ্ঠান: শুরুতে গির্জার প্রবেশপথে যাজক বর-কনেকে বরণ করে নেয়। তারপর বর-কনে দুজনের মধ্যে মালাবদল করা হয়। এরপর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়া হয়।

ঘরে তোলা: এই অনুষ্ঠানে উঠানের দিকে মুখ করে বড় পিঁড়ির উপরে বর-কনেকে দাঁড় করানো হয়। এরপর বর-কনে সাদা-লাল পেড়ে শাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ঘরে ওঠে। এ সময় বর ও কনে একে অপরের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে থাকে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮৭২ সালের বিশেষ বিয়ে আইন রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বিশেষ বিয়ের জন্য একজন রেজিস্টার থাকে। প্রথমত বৈধ বিয়ে করা হচ্ছে এই হিসেবে এফিডেভিট করতে হয়, পরে রেজিস্টারের কাছে হলফনামা জমা দেয়। এর ১৪ দিন পর একটি নোটিশ দেয়া হয়। পরে নোটিশ নিয়ে রেজিস্টারের কাছে গেলে বিয়ে নিবন্ধিত করা হয়

হিন্দু বিবাহরীতি

হিন্দু বিবাহ দুটি ব্যক্তি (বেশিরভাগই পুরুষ এবং মহিলা) চূড়ান্ত অনন্তকাল ধরে সমন্বিত করে, যাতে তারা ধর্ম (দায়িত্ব / কর্তব্য), আর্থ (অর্থ) এবং কাম অনুসরণ করতে পারে। এটি স্ত্রী বা স্ত্রী হিসাবে দুটি ব্যক্তির একটি ইউনিয়ন এবং জীবন্ত ধারাবাহিকতা দ্বারা স্বীকৃত। হিন্দু ধর্মে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য গতানুগতিক রীতি অনুসরণ করে না। প্রকৃতপক্ষে, বিবাহ সম্পূর্ণরূপে বা বৈধ হিসাবে বিবেচিত হয় এমনকি বিবাহ দুটি আত্মার মধ্যে হয় এবং এটি শরীরের বাইরে। এটি দুটি পরিবারকে একসাথে যোগ দেয়। অনুকূল রঙগুলি এই উপলক্ষে সাধারণত লাল এবং সোনার হয়।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, বিবাহে ছেলে মেয়েটির সমস্ত পালন পোষণের দ্বায়িত্ব নেয় এবং মেয়েটি তাদের সংসারের খেয়াল রাখার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে। এইভাবে তারা দুই আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে নিজেদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যায়।

বিবাহের লক্ষ হল সংসার ও সন্তানের লালনপালন করে বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য একই সময়ে বাইরে থেকে দরকারী জিনিস উপার্জন করে আনা আর ঘরের ভেতরে সংসারের কাজ সামলাতে হয়। যেহেতু একজন মানুষ একই সময়ে এই দুটো কাজ করতে পারে না তাই দুটো কাজ দুজনের মধ্যে বন্টিত বয়ে যায়।

যেহেতু পুরুষ বেশি বলবান হয় প্রাকৃতিকভাবেই আর মেয়েরা কোমল প্রকৃতির হয় এবং তাদের গর্ভে সন্তান জন্ম নেয় তাই বাইরে থেকে সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস উপার্জনের দ্বায়িত্ব পুরুষ নেয় আর ঘরে সংসারের দেখাশোনার দ্বায়িত্ব স্ত্রী নেয়। এইরকমভাবে হলেই সংসার সুস্হভাবে বেড়ে ওঠে ও সন্তানের সুন্দর দেখাশোনার মাধ্যমে বিবাহে বংশবিস্তারের উদ্দেশ্য সফল হয়।

হিন্দু বিবাহ
হিন্দু বিবাহের পাত্র পাত্রী

দুইজনের মধ্যে ভালবাসা থাকলেই এই কাজগুলো বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হয় কিন্তু দুইজনের মাঝে তৃতীয় কেউ আসলে সেই দুইজনের ভালবাসায় ফাটল তৈরী হয়।আর তাতে আগের কাজগুলো করার দ্বায়িত্ববোধ মন থেকে মিটতে শুরু করে। কষ্ট-হিংসার সৃষ্টি হয়।তাতে সংসারের ক্ষতি হয় যার ফলে সন্তানেরও পালন ঠিকভাবে হতে পারে না। আর এখানেই বিবাহের উদ্দেশ্য বিফল হয়ে যায়।এতে পরকীয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে তাই বিয়ের উদ্দেশ্যকে রক্ষা করতেই বিয়ে শুধু দুইজনের মাঝেই হয়।

বিয়ের ব্যবস্থা করণ প্রক্রিয়াঃ

পুরোহিতের সাহায্যে মিলিত হওয়ার জন্য পুত্র / কন্যার জাতকাম বা জনম কুন্ডালির (জন্মের সময় জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চার্ট) ব্যবহার সাধারণ, তবে সর্বজনীন নয় তামিল ভাষায় ‘জোথিদার’ বা উত্তর ভারতের তেলুগুতে ‘পান্থুলু বা সিদ্ধন্তী’ নামে পরিচিত ব্রাহ্মণের কাছ থেকেও অভিভাবকরা পরামর্শ নিয়ে থাকেন, যাদের বিবাহ করার জন্য অনেক লোকের বিবরণ রয়েছে। মিথিলাতে ব্রাহ্মণদের মতো কিছু সম্প্রদায় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বজায় রাখা বংশবৃত্তীয় রেকর্ড (“পজ্ঞিকা”) ব্যবহার করে।

জাতকাম বা কুণ্ডলি জন্মের সময় নক্ষত্র এবং গ্রহের স্থানের উপর ভিত্তি করে আঁকা হয়। যে কোনও ম্যাচের সর্বাধিক পয়েন্ট ৩৬ এবং ম্যাচের নূন্যতম পয়েন্ট ১৮ হতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সী পয়েন্টগুলির সাথে যে কোনও মিলই সুরেলা সম্পর্কের জন্য একটি শুভ মিল হিসাবে বিবেচিত হয় না তবে তারা এখনও বিবাহ করতে পারে এমন লোকদের উপর এটি উদারভাবে নির্ভর করে। যদি দুটি ব্যক্তি (পুরুষ ও মহিলা) এর জ্যোতিষীয় চার্টটি পয়েন্টগুলিতে প্রয়োজনীয় প্রান্তিকতা অর্জন করে তবে সম্ভাব্য বিবাহের জন্য আরও আলোচনা বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাকে একে অপরের সাথে কথা বলার এবং বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়। একবার চুক্তি হয়ে গেলে তার পরে বিবাহের জন্য একটি শুভ সময় বেছে নেওয়া হয়।

আট ধরণের বিবাহ

হিন্দু ধর্ম অনুসারে আটটি ভিন্ন ধরনের বিবাহ রয়েছে। সকলেরই ধর্মীয় অনুমোদন নেই।

আট প্রকার বিবাহ সমূহ:

  1. ব্রহ্ম বিবাহ – ব্রহ্ম বিবাহ হ’ল বেদে শিখেছিলে এবং নিজের দ্বারা নিমন্ত্রিত নেক আচরণের লোকের সাথে কন্যার বিবাহ হয়। একটি ব্রহ্ম বিবাহ হল যেখানে একটি ছেলে তার ছাত্রী বা ব্রহ্মাচার্য শেষ করে একবার বিয়ে করতে সক্ষম হয়। ব্রহ্ম বিবাহ আট ধরনের হিন্দু বিবাহের মধ্যে সবচেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থান। ছেলের বাবা-মা যখন কোনও মহিলা খোঁজেন, তারা তার পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা করতেন, তবে মেয়ের বাবা তার ছেলেকে নিশ্চিত করতে যে তার ছেলের সাথে বিয়ে করতে চায় সে বেদের জ্ঞান রাখে। এই বিষয়গুলিই যৌতুকের ব্যবস্থা নয়, ব্রহ্ম বিবাহের ভিত্তি তৈরি করে। এই ধরনের বিবাহে যৌতুক পাপ হিসাবে বিবেচিত হয়।
  2. দৈব বিবাহ – যে ধরনের বিবাহকে নিকৃষ্ট বলে মনে করা হয় কারণ এটি নারীত্বকে হ্রাস করে। এখানেই মহিলার পরিবার তার বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। যদি তিনি উপযুক্ত বর না পান, তবে তিনি এমন জায়গাগুলির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন যেখানে পরিবার পুরোহিতের মাধ্যমে ম্যাচ মেকিংয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল যারা যথাযথভাবে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে, পারফরম্যান্সের সময়। এটাই ছিল প্রচলিত রয়্যালস অনুসারী এবং মিত্র ও শত্রুদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রাচীন কালে প্রচলিত ছিল।
  3. অর্শ বিবাহ – একটি আরশার বিবাহ হয় যেখানে মেয়েটিকে ঋষির সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। কিছু গরুর বিনিময়ে কনে দেওয়া হত। অগস্ত্য সেই অনুসারে লোপামুদ্রকে বিয়ে করেছিলেন। রাজারা প্রায়শই ঋষিদের অস্বীকার করতে পারেননি যাদের এমন ক্ষমতা ছিল এবং সমাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাই মহাভারতের অসংখ্য গল্প যা এই অনুশীলনের চিত্রিত করে।
  4. প্রাজাপাত্য বিবাহ – প্রজাপতি হল যখন কোনও মেয়ের বাবা তাকে বরকে বিয়ে করে, শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করে এবং তাদের সম্বোধন করে: ‘তোমরা উভয়ই এক সাথে তোমার দায়িত্ব পালন করুক’। ব্রহ্মার বিবাহের বিপরীতে, প্রজাপাত্য বিবাহই কনের পিতা কনের সন্ধানে যান, যদিও এই বিষয়টি পিতামাতার নিখুঁত কনের সন্ধানের মতো ভাল বলে বিবেচিত হয় না। এছাড়াও, আরশা বিয়ের মত, আর্থিক লেনদেনগুলি প্রজাপাত্য বিবাহের অংশ নয়।
  5. গন্ধর্ব বিবাহ – একজন মেয়ের এবং তাঁর প্রেমিকের স্বেচ্ছাসেবী মিলনকে গন্ধর্ব বিবাহ বলে। যখন ‘প্রেম’ বিবাহের কথা আসে তখন এটি গন্ধর্ব বিবাহই সর্বাধিক মিল। এখানেই একজন বর এবং তার কনে তাদের পিতামাতার জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই বিবাহ করতে পারে। এই হল কিভাবে দুশ্যন্ত বিয়ে করে শকুন্তলাকে। এটি ডেটিংয়ের মতো নয়। এখানে নববধূ এবং বর কোনও পদক্ষেপের আগে কোনও ব্যক্তি, প্রাণী, গাছ, উদ্ভিদ বা দেবতার উপস্থিতিতে মানত করে।
  6. অসুর বিবাহ – আসুর বিবাহ হল যখন বর পাত্রী প্রথম মেয়ের সাথে তার নিজের ইচ্ছামত সম্পদ অর্জন করার পরে পাত্রী এবং তার আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধন-সম্পদ অর্জন করে। এটিই অসুর বিবাহ যা অন্য ধরনের বিবাহ থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলে। এটি এমন একটি বিবাহ যেখানে পাত্রী কনের সাথে প্রায়শই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না এবং কিছুটা অস্বাভাবিকতাও অর্জন করতে পারে তবে পাত্রীর পিতৃপুরুষের লোভ বা বাধ্যতামূলকভাবে বরের ইচ্ছা এবং ধনসম্পদ এটিকে দিতে পারে। সর্বদা এই ধরনের বিবাহকে নীচু বিবেচনা করা হত। আধুনিক সময়ে এটি অগ্রহণযোগ্য কারণ এটি অনেকটা শেল্ফের বাইরে পণ্য কেনার মতো এবং সাধারণ ভারতীয় আইনের বিরুদ্ধে।
  7. রাক্ষস বিবাহ – রক্ষাসা বিবাহ হ’ল এক গৃহকর্তার সাথে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণের সাথে জড়িত থাকার পরে বিবাহ হয় যা কাজাক এবং উজবেক সংস্কৃতিতে এখনও প্রচলিত রীতি অনুসারে হত্যা করা বা আহত করা হয়েছে। বর কনের পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য করবে, তাদের পরাস্ত করবে এবং কনেকে তার সাথে বিবাহের জন্য রাজি করানোর জন্য দূরে নিয়ে যাবে। বল প্রয়োগের কারণে এই বিবাহটি আধুনিক পার্লেন্সে মূলত ধর্ষণ করা হয় এবং এটি কখনই সঠিক বলে বিবেচিত হয় না – তাই এটি যুক্ত করা নামী রক্ষাসহ নামটি রাখে। এটি মানুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে এটি একটি অপরাধ। সুভদ্রার সাথে অর্জুনের বিবাহটি দেখতে দেখতে তৈরি হয়েছিল তবে বাস্তবে এটি একটি গন্ধর্ব বিবাহ ছিল কারণ তাদের উভয়েরই প্রেম ছিল এক অগ্রণী এবং তাদের মধ্যে সুভদ্রার ভাই শ্রীকৃষ্ণের সম্মতি ছিল যিনি বলরামকে মতভেদ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এই সাবটারফিউজকেই প্রস্তাব করেছিলেন।
  8. পৈশাচ বিবাহ – যখন চুরি করে কোনও মানুষ ঘুমন্ত, নেশা বা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিত কোনও মেয়েকে প্ররোচিত করে, তখন তাকে পয়শাচ বিবাহ বলে। এটি মনুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে একে ডেট রেপ বলা হয় এবং বেশিরভাগ সভ্য দেশে এটি একটি অপরাধ।

হিন্দু বিবাহ এবং রীতিনীতি প্রকারভেদ
ঐতিহাসিকভাবে বৈদিক বিবাহ ছিল হিন্দু বিবাহ রীতিনীতিগুলির কয়েকটি ভিন্ন ধরনের কিন্তু প্রেমের বিবাহ ঐতিহাসিক হিন্দু সাহিত্যেও দেখা গিয়েছিল এবং বিভিন্ন নামে যেমন গন্ধর্ব বিভা নামে বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু দরিদ্র বৈষ্ণব সম্প্রদায়গুলিতে এখনও কাঁথি-বাদল নামে প্রচলিত রীতি রয়েছে যা কৃষ্ণা প্রতিমার সামনে একাকীত্বের একান্ত সরল রূপ হিসাবে পুঁতির মালা বিনিময়, গ্রহণযোগ্য প্রেম বিবাহের এক রূপ হিসাবে বিবেচিত।

পুরানো হিন্দু সাহিত্যেও এলোপমেন্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ভগবান কৃষ্ণ স্বয়ং রুক্মিনীর সাথে ঘোড়ার রথে যাত্রা করলেন। লেখা আছে যে রুক্মিনীর পিতা তাঁর ইচ্ছের বিপরীতে তাকে শিশুপালের সাথে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন। রুকিমিনী কৃষ্ণকে চিঠি পাঠিয়েছিল যে স্থান ও সময় তাকে তুলে নেবে।

বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের দ্বারা প্রতীকী অনুষ্ঠান অনুসরণ করা
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিবাহিত হিন্দু মহিলারা বিভিন্ন রীতিনীতি অনুসরণ করে। প্রায় সিদুর মঙ্গললসূত্র এবং চুড়ি এক বিবাহিত নারী লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিছু কিছু জায়গায়, বিশেষ করে মধ্যে পূর্ব ভারতে, পরিবর্তে তারা শুধুমাত্র করা সিঁদুর চুল বিভাজিকা উপর, একজোড়া পরিধান শঙ্খ চুড়ি (শঙ্খ), লাল চুড়ি (পাল) এবং বাঁ হাত একটি লোহার বালা তাদের স্বামী যখন জীবিত. দক্ষিণ ভারতে, বিবাহিত মহিলার একটি থালি এবং রূপার টো-রিং নামক একটি স্বতন্ত্র দুলের সাথে নেকলেস পরতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় দু’জনকেই স্বামী তাকে ধরিয়ে দেয়। থালীর দুলটি কাস্টম-ইন এবং এটির নকশা পরিবার থেকে পরিবারে আলাদা।

এছাড়াও এই, বিবাহিত মহিলা তার কপাল নামক একটি লাল সিঁদুর ডট পরেন কুমকুম এবং (যখনই সম্ভব) তার চুল এবং চুড়ি ফুল। মধ্যযুগীয় সময়ে একজন বিবাহিত মহিলা তার স্বামী মারা গেলে এই সমস্ত ছেড়ে দেওয়ার জন্য উত্সাহিত হত। এটি এখন আর অনেক প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের অনুশীলন নয়। কাশ্মীরি তিহ্যে মহিলারা উপরের কানের মাধ্যমে একটি ছোট সোনার চেইন (চেইন থেকে ঝুলানো একটি ছোট সোনার ষড়জাকার পুঁতিযুক্ত) পরেন যা বিবাহিত হওয়ার লক্ষণ। কুমার উত্তরাখণ্ডের বিবাহিত মহিলাটি পিচোদা নামে একটি হলুদ কাপড় পরেন। আসল বিবাহে, হিন্দু নববধূরা উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরেন। একটি লাল শাড়ি বা লেঙ্গা সাধারণত কনে পরেন, তিনি এমনকি একাধিক পোশাক পরতে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমটি হ’ল তিনি তার পরিবার থেকে পোশাক পরে এসেছিলেন এবং দ্বিতীয়টি তিনি তার স্বামী এবং তাঁর পরিবার তাঁকে দিয়েছিলেন এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অর্ধপথে রূপান্তরিত হতে পারেন।

আধুনিকতা
অনেক লোক বিশ্বাস করেন যে সাজানো বিবাহ ভারতে বিবাহের প্রচলিত রূপ; তবে প্রেম বিবাহ একটি আধুনিক রূপ, সাধারণত শহরাঞ্চলে। প্রেমের বিবাহটি বিবাহিত ব্যবস্থার চেয়ে পৃথক যে পিতা-মাতার পরিবর্তে এই দম্পতি তাদের নিজের সঙ্গী বেছে নেয়। হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে, রোমান্টিক প্রেমের বিবাহ যা প্রাচীন কালে গৃহীত হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ মহাভারতের গল্পে দুশায়ন্ত এবং শকুন্তলা । কোথাও কোথাও কোথাও, সাজানো বিবাহগুলি প্রাধান্য পেয়েছিল এবং প্রেমের বিবাহগুলি অগ্রহণযোগ্য বা কমপক্ষে ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, কিছু ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন যে এটি বিদেশী আগ্রাসনের সময়কালে হয়েছিল। কিছু প্রেমের বিবাহ সত্ত্বেও, বেশিরভাগ হিন্দু বিবাহের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সম্ভাব্য দম্পতিরা সাধারণত ঐতিহাসিকভাবে এই ম্যাচের চেয়ে বেশি এজেন্সি রাখেন।

ইসলামী বিবাহরীতি

ইসলামী বিয়ে হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। মুস‌লিম বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ছেলের আর্থিক সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী। “বিবাহ সংগঠিত হবে না অভিভাবক ও দু’জন সাক্ষী ব্যতীত। বিয়ের সময় একজন উকিল থাকেন।

ইসলাম ধর্মে বিবাহের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের মধ্যকার যৌন সম্পর্কের অনুমতি রয়েছে। ইসলামী বিবাহরীতিতে পাত্র পাত্রী উভয়ের সম্মতি এবং বিবাহের সময় উভয়পক্ষের বৈধ অভিভাবক বা ওয়ালীর উপস্থিতি ও সম্মতির প্রয়োজন।

ইসলামী বিবাহে যৌতুকের কোন স্থান নেই। বিয়ের পূর্বেই পাত্রের পক্ষ হতে পাত্রীকে পাত্রীর দাবি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা অর্থসম্পদ বাধ্যতামূলক ও আবশ্যকভাবে দিতে হয়, একে দেনমোহর বলা হয়। এছাড়া বিয়ের পর তা পরিবার পরিজন ও পরিচিত ব্যক্তিবর্গকে জানিয়ে দেয়াও ইসলামী করনীয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একজন পুরুষ সকল স্ত্রীকে সমান অধিকার প্রদানের তার চাহিদা অনুসারে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে।

আর সমান অধিকার দিতে অপারগ হলে শুধু একটি বিয়ে করার অনুমতি পাবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের অনুমতি নেই। ইসলামে একজন মুসলিম একজন অমুসলিমকে বিয়ে করতে পারবে যদি উক্ত অমুসলিম ঈমান আনে (ইসলাম গ্রহণ করে)।

ইসলামে, বিবাহ (আরবি: نِكَاح‎, প্রতিবর্ণী. নিকাহ‎) হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। ইসলামে কনে তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে| একটি আনুষ্ঠানিক এবং দৃঢ় বৈবাহিক চুক্তিকে ইসলামে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বর ও কনের পারষ্পারিক অধিকার ও কর্তব্যের সীমারেখা নির্ধারণ করে| বিয়েতে অবশ্যই দুজন মুসলিম স্বাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে| ইসলামে বিয়ে হল একটি সুন্নাহ বা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ এবং ইসলামে বিয়ে করার জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিয়ে ইসলামী বিবাহের মৌলিক বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। পাশাপাশি, ইসলামে সন্ন্যাসজীবন এবং কৌমার্যেরও কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে। ইসলামে তালাক অপছন্দনীয় হলেও এর অনুমতি আছে এবং তা যে কোন পক্ষ হতে দেওয়া যেতে পারে অর্থাৎ ইসলামে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই তালাক দেওয়ার অধিকার রাখে।

ইসলামী আইন অনুসারে, বিবাহ – বা আরও বিশেষত বিবাহের চুক্তিকে নিকাহ বলা হয়, একটি আরবি শব্দ যার মূল আক্ষরিক অর্থ ছিল “যৌন মিলন”, তবে যা ইতিমধ্যে কুরআনে রয়েছে তা বিবাহের চুক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক লিখিত আরবি’র ওয়েহর-কোয়ান ডিকশনারি-তে নিকাহকে “বিবাহ; বিবাহ চুক্তি) হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

বিবাহ

এই ‘বিবাহ’ শব্দের অর্থ কী?
এর অনুসন্ধান থেকে কি প্রথার খোঁজ মিলতে পারে? দেখাই যাক। ‘বিবাহ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে বি-পূর্বক বহ্ ধাতু ঘঞ্–এর সমন্বয়ে। শব্দটির এই মূলের দিকে তাকালে বোঝা যায়, কাউকে বহন করে আনাকেই বিবাহ বলে। তবে এমন ব্যাখ্যায় বিপদ অনিবার্য। কারণ, মোটাদাগে অর্থটিকে গ্রহণ করলে এমন অনেক কিছুর সঙ্গেই আমাদের ‘বিবাহ’ সম্পাদন হয়ে যেতে পারে, যা আদতে প্রয়োগমূল্য রাখে না।

বিবাহ বা বিয়ে হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সাধারণ ভাবে বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিছু সংস্কৃতিতে, যে কোন প্রকারের যৌন কর্মকাণ্ডে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন করাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হওয়া অথবা বিবেচনা করা হয়। বিশদ বিবৃত সংজ্ঞার ভাষায় বলতে গেলে, বিবাহ হল একটি বৈশ্বিক সার্বজনীন সংস্কৃতি। বিবাহ সাধারণত কোন রাষ্ট্র, কোন সংস্থা, কোন ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, কোন আদিবাসী গোষ্ঠী, কোন স্থানীয় সম্প্রদায় অথবা দলগত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে। একে প্রায়শই একটি চুক্তি হিসেবে দেখা হয়।

সাধারণত আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় অথবা ধর্মনিরপেক্ষ আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। বৈবাহিক কার্যক্রম সাধারণত দম্পতির মাঝে সমাজ-স্বীকৃত বা আইনগত দায়িত্ববোধ তৈরি করে, এবং এর মাধ্যমে তারা বৈধভাবে স্বেচ্ছায় সন্তানসন্তানাদির জন্ম দিতে পারে। বিশ্বের কিছু স্থানে, পরিবার-পরিকল্পিত বিবাহ, শিশু বিবাহ, বহুবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিবাহ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হয়। বলা বাহুল্য, আন্তর্জাতিক আইন ও নারী অধিকার বিষয়ক উদ্যোগের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখিত বিবাহরীতিগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনগত স্বীকৃতির ক্ষেত্রে, অধিকাংশ সার্বভৌম রাষ্ট্র ও অন্যান্য বিচারব্যবস্থা বিবাহকে দু’জন বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যে সীমিত করে এবং এদের মধ্যে হাতে গোনা কিছু রাষ্ট্র বহুবিবাহ, শিশুবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়।

বিগত বিংশ শতাব্দীতে এসে, ক্রমবর্ধমানভাবে বহুসংখ্যক রাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিচারব্যবস্থা আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিবাহ, আন্তঃধর্মীয় বিবাহ এবং অতি সাম্প্রতিকভাবে সমলিঙ্গীয় বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এদেরকে আইনগত স্বীকৃতি নিয়েছে। কিছু সংস্কৃতি তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেয় এবং কিছু স্থানে রাষ্ট্রের আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শিশুবিবাহ এবং বহুবিবাহ সংঘটিত হয়ে থাকে। বিবাহের মাধ্যমে পরিবারের সূত্রপাত হয়। এছাড়া বিবাহের মাধ্যমে বংশবিস্তার ও উত্তরাধিকারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিবাহের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কিত পুরুষকে স্বামী (পতি) এবং নারীকে স্ত্রী (পত্নী) হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। স্বামী ও স্ত্রীর যুক্ত জীবনকে “দাম্পত্য জীবন” হিসাবে অভিহিত করা হয়। বিভিন্ন ধর্মে বিবাহের বিভিন্ন রীতি প্রচলিত। একইভাবে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রথায় বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বিবাহ মূলত একটি ধর্মীয় রীতি হলেও আধুনিক সভ্যতায় এটি একটি আইনি প্রথাও বটে। বিবাহবহির্ভুত যৌনসঙ্গম অবৈধ বলে স্বীকৃত এবং ব্যভিচার হিসাবে অভিহিত একটি পাপ ও অপরাধ।

মনের রসায়ন ও বিয়ে

মনস্তত্ত্বের কথা হবে, এদিকে ফ্রয়েডের কথা আসবে না, তা কি হয়? তবে এক্ষেত্রে একটা মজার উদ্ধৃতি দেওয়া যাক! মেয়েদের প্রতি হালকা কটাক্ষ আছে এখানে। আসলে শুধু এই দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই বিয়ের ব্যাপারটা সমাজের প্রেক্ষিতে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়ে এসেছে। বহু যুগের শিকড়, সুতরাং একবারে তো সবটা উপড়ে ফেলা যাবে না। এই উপমহাদেশে বিয়ের মনস্তত্ত্ব ছেলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকখানিই আলাদা হয়ে গিয়েছে, তার কারণও সেই প্রোথিত মানসিকতা। দু-তিন দশক আগেও সাধারণভাবে বিয়ে মানে একজন পুরুষের সঙ্গিনী প্রয়োজন, যাঁর সঙ্গে সমাজস্বীকৃত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে, সন্তানধারণে সক্ষম হবেন এবং স্বামীর সঙ্গে যিনি পরিবার পরিজনেরও দেখভাল করবেন। উলটোদিকে একটি মেয়ে বড় হয়, উপযুক্ত স্ত্রী, মা এবং পুত্রবধূ হওয়ার জন্য। মানসিকতার গঠনও হতে থাকে সেরকমই। এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে দেশের একটি বিশেষ অংশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে। সমাজের অনেক স্তরে না হলেও মোটামুটি শিক্ষার আলো যেসব অংশে সঠিকভাবে পৌঁছেছে, সেখানে বিয়ের প্রধান স্তম্ভ এখন পারস্পরিক সমঝোতা, বর ও কনের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া। আমরাও আলোচনা বরং এখান থেকেই শুরু করি।

বিয়ে ও সমাজ

সমাজ শুধু বিয়ে নয়, আরও অনেক সম্পর্কেই হস্তক্ষেপ করে। সমাজ যে কোনও সম্পর্কেরই একটা নিয়ম বেঁধে দিতে চায়। যেমন, স্বামী বা স্ত্রী-র সম্পর্ক, পিতামাতার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, ভাই ও বোনের সম্পর্ক এবং এরকম আরও নানা সম্পর্কের সমীকরণে একটা মাপকাঠি ঠিক করে দিতে চায় সমাজ। বিয়ে তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সমাজের বাঁধা ছকে চলি বলেই সেটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রথমেই মনে রাখা দরকার যে, কোনও সামাজিক চাপ হিসেবে বিয়েতে রাজি হলে মুশকিল। মন থেকে তেমন সায় নেই, এদিকে একটি বিশেষ বয়সে পৌঁছেছি বলে এবং সকলে বলছে বলে আমাকে বিয়ে করে নিতে হবে, এমনটা যেন না হয়। বিয়ে করব বলে যদি মনস্থির করেন, তা হলে কিছুটা পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা ও কিছুটা মানসিক পরিণতির সাহায্য নিয়ে বুঝে নিতে হবে, বিয়ে করার সঙ্গে-সঙ্গে কী কী জিনিস জীবনের সঙ্গে জুড়তে চলেছে। প্রয়োজন হলে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে নিন। তিনিও বিয়ে করতে পুরোপুরি মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না, সেটাও জানা দরকার। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে থাকবেন, না স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকবেন, সেই প্রস্তুতিও বিয়ের আগে নেওয়াই বোধহয় ভাল। যে কোনও সম্পর্ক তৈরি করা উচিত, তা টিকিয়ে রাখার জন্যই। সেই আত্মবিশ্বাস নিজের আছে কিনা, যাচাই করে দেখা দরকার।

বিয়ের আগের পরিস্থিতি

কেউ ভালবেসে বা দীর্ঘ পরিচিতির পরে বিয়ে করেন, কেউ কমদিনের পরিচয়ে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিয়ের আগে অন্যের পরিবারকে কতখানি জেনে নেওয়া দরকার। শারীরিক কারণে কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা আজকাল আমরা সকলেই করি। ভবিষ্যতে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আনার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন তো আছেই। তা ছাড়াও অন্যের পরিবারের সকলের সঙ্গে মিশলে মনের দিক থেকেও একধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে। সবসময় যে তা ১০০ শতাংশ বোঝা যায়, তা নয়। কিন্তু আন্দাজ করা যেতে পারে। যাঁরা বিবাহ করবেন বলে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যায় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ও মনের জোর রয়েছে যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। অনেক কাপলই আছেন, যাঁরা পরস্পরের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু যাঁদের ক্ষেত্রে দ্বিধা কাজ করে, তাঁরা একবার পরস্পরের পারিবারিক দিকটাও দেখে নিতে পারেন। কতটা মানিয়ে নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, তা জানা থাকলে উভয়েরই ভাল।

শারীরিক সম্পর্ক ও বিয়ে

এখনও আমাদের দেশের অধিকাংশ কাপলের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক ঘটে না। ফলে জানা সম্ভব হয় না ফিজ়িক্যাল কম্প্যাটিবিলিটি কীরকম হতে পারে। এটা এমন একটা বিষয় যে, আগে থেকে আলোচনা করেও কোনও লাভ হয় না। ফলে এক্ষেত্রে বিয়ের পরে যদি সব ঠিকঠাক না থাকে, তা হলে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে। তবে এই নিয়ে চাপ নেওয়ারও কিছু নেই। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যাঁরা আছেন, তাঁরা এই বিষয়ে নিজেদের বুঝে নিতে পারেন। নতুনদের ক্ষেত্রে কম্প্যাটিবিলিটি ক্লিক না করলে নিজেদের বোঝাপড়ার দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

বিয়ে ও লিভ-ইন

বিয়ে ও দীর্ঘদিনের স্থায়ী লিভ-ইন সম্পর্কের খুব বেশি তফাত নেই, কিছু আইনি জটিলতা ছাড়া। কারণ সমাজ ও পরিপার্শ্ব সিরিয়াস সহবাসকেও প্রাধান্য দেয়। সম্পর্ক ভেঙে গেলে দু তরফেই মানসিক ও সামাজিকভাবে একইরকম হ্যাংওভার থেকে যায়। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ডিভোর্সের ব্যাপারটা সবসময় মসৃণ হয় না। লিভইন-এ সেই ‘ঝামেলা’ নেই। তবে আমাদের দেশে এখনও লিভ-ইন কাপল বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন মূলত দুটো কারণে। প্রথমত এখনও বাড়ির লোকেরা দীর্ঘদিনের লিভ-ইন মেনে নিতে পারেন না। একটা চাপ সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয়ত লিভ-ইন অবস্থায় সন্তানধারণের ব্যাপারে সমাজ এখনও ততটা প্রস্তুত নয়। সন্তানের পরিচয়কে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেও অনেকেই শেষপর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

সবশেষে বলে রাখা ভাল, পুরো আলোচনা করা হয়েছে সাধারণ কিছু পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। বিয়ে অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ক। সুতরাং তার মনস্তাত্ত্বিক আলোচনাও ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে, কেস টু কেসে সেটা আলাদাও হয়ে যায়। তাই নিজেদের সমস্যা দুজন বিবাহযোগ্য মানুষই তাঁদের মানসিক পরিণতি দিয়ে সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারবেন। সেইমতোই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Best Marriage Media in Bangladesh | Bibahabd.com

Bibahabd.com is the pioneer matrimonial web site in Bangladesh since 2007.  Their customer service is open 24 hours a day. Through skilled representatives they ensure offline and online based Match Making Marriage Services. Bibahabd.com is the best organization in Bangladesh for matchmaking.  So feel free to register to get their services.

Bibhababd.com is the only web site in Bangladesh that verifies the information of each user in three levels Such as – Parent Verification, Candidate Verification, National Identity Card Verification, Job ID, Divorce Certificate, and Visa Verification for Expatriates then activates the profile.

Here you will be able to interact directly with the partner of your choice by selecting the profile of the couple of your choice through more than 16 different search categories.

Join Bibahabd.com for Match Making Marriage

You can take match making service from this user friendly site if you want. Where an executive will find the bride / groom of your choice according to your needs and fix a genuine discussion meeting between the two parties.

Moreover, they ensure some additional services such as legal services and inquiries. The legal service is primarily legal advice on marital relations and the inquiry service is to verify the authenticity of the information provided in the couple’s permanent and current address and CV.

Bibahabd.com ensure the most professional matchmaking service in the country for a Sensible Match.  So the Largest Matrimonial Site in the country belongs to you or your family members create a profile for your family Marriage Solution. Click for Registration

সঙ্গীর মন খারাপ

মনখারাপের কথা মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেন না অনেকেই। ঠিক কী কারণে কেউ মানসিক চাপে ভুগঠেন, তা সবসময় বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যায় না! যে মানুষটাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেন, তিনিই হয়তো ভিতরে ভিতরে খুব ‘ডিস্টার্বড’, মনোকষ্টে ভুগছেন।

#ডিপ্রেশন’ বা #মেন্টাল_হেলথ নিয়ে এত কথার মাঝে আমরা সকলেই বলছি মনখুলে কথা বলার জন্য। কিন্তু সবার কাছে কি আর সব কথা বলা যায়! না সবাই সবকিছু বুঝে সমাধানের রাস্তা দেখাতে পারেন! তবে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়ার আগে একবার যদি নিজের কাছের মানুষের কাছে মনের জানলা খুলে দেওয়া যায়, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া যায়, তাহলে হয়তো অনেকটা কষ্টই লাঘব হবে।

অনেকে স্বভাবগতভাবেই নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রাখেন, ইন্ট্রোভার্ট থাকতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার বাইরের মানুষের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করলেও মনের ভিতরের অনুভূতি-আবেগগুলোকে নিজের কাছেই রেখে দেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনারকে যেহেতু আপনি খুব কাছ থেকে দেখছেন, তাই তাঁর মনোজগতের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করুন। মনখারাপ চেপে রাখতে রাখতে তা একটা সময়ে ক্রনিক ডিপ্রেশনে পৌঁছে যায়। তখন সাইকলজিক্যাল সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ডিপ্রেশন হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয় না।

কিন্তু জমতে থাকা স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি মনের মধ্যে পুষে রাখলে তা পরবর্তীকালে গুরুতর রূপ নিতে পারে। আর এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাছের মানুষের সাহচর্য। লকডাউনে অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়টুকু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠুন। একে অপরকে ভাঙার বদলে গড়ে তুলুন। জবস্ট্রেস থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কোনও হঠাৎ আঘাত থেকে পুরনো ট্রমা…যে কোনও কিছুই তিনি যেন আপনার কাছে খোলাখুলি বলতে পারেন। তাঁর বন্ধু হয়ে ওঠা জরুরি। যাতে তিনি কোনওকিছু আপনার থেকে না লুকোন।

মনে রাখবেন, সঙ্গীর মন ভাল রাখতে তাঁর সঙ্গে আপনার কমফর্ট লেভেলটা ভাল হওয়া জরুরি। কমিউনিকেট করুন। অনেক কাপলই সারাদিন একসঙ্গে থাকলেও নিজের নিজের জগতে ব্যস্ত থাকেন! পাশে বসে থাকলেও মোবাইল-ল্যাপটপে ডুবে থাকেন। কথোপকথনের বড্ড অভাব। এমনটা মোটেও কাম্য নয়। তা সে সুস্থ সম্পর্কের জন্যই হোক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই হোক! বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আলোচনা করুন। তাঁর পছন্দমতো করে খানিকটা সময় কাটান।অনেকসময় কোনও ব্যক্তির ভাললাগার বিষয়গুলোর মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক ফুটে ওঠে। যেমন কেউ হয়তো লেখালেখি করতে ভালবাসেন। তাঁর লেখার মধ্যে দিয়েও তাঁর মনের হদিশ পেতে পারেন। সবমিলিয়ে এত নেগেটিভিটির মধ্যেও পজ়িটিভ এনার্জি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে আমাদেরই! #বিবাহবিডি #Bangladeshi Bride Groom #Bangladeshi Matrimonial Site #Matrimony Bangladesh.

পছন্দের দুজন ব্যক্তি কাকে বাছাই করবেন?

প্রস্তাব পেতে কার না ভালো লাগে! আন্তরিকতার সাথে মনের দরজায় এসে কেউ যখন জীবনসঙ্গী হতে আবেদন জানায়,তখন কিন্তু নিজেকে বেশ অন্যরকমই লাগে। তবে ঝামেলা তখনই পোহাতে হয় যখন সেরা দুজন ব্যক্তির মধ্যে থেকে বাছাই করতে হয় একজনকে।

জীবনসঙ্গী হিসেবে কাকে বাছাই করবেন সে সিদ্ধান্তে শিথিল করুন নিজেকে কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে –

কার উদ্দেশ্য কি?

শুনতে অদ্ভু্ত লাগলেও, এ প্রশ্নটি আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা আপনাকে তাদের জীবনসঙ্গী করতে চাচ্ছেন তারা কেন চাচ্ছেন ও তাদের ভবিষ্যৎ জীবন পরিকল্পনা কি তা খুঁজে বের করুন।

আপনার উদ্দেশ্য কি?

স্বার্থপরতা নয়, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত গ্রহনে আপনার জীবনের ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য কি তা বিবেচনায় রাখতে হবে। আপনার জীবনের উদ্দেশ্যের সাথে তাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির উদ্দেশ্য একই বা কাছাকাছি তা মিলিয়ে নিন।

সত্যি কি আপনাকে চাচ্ছে?

এদের মধ্যে যাচাই করুন কে আপনাকে সত্যি চাচ্ছে আর কে অভিনয় করতে পারে। শুধু উদ্দেশ্যে মিল থাকলেও হাবেনা আপনাকে মন থেকে চাচ্ছে কিনা অথবা আবেগ কেটে গেলে ব্যক্তিও কেটে পরবেন কি না তা বুঝতে সময় নিন। প্রয়োজনে দুজনের সাথে আলাদা দিনে দেখা করুন ও তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।

আপনি কার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছেন?

আপনি কার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছেন আর কার সাথে করছেননা তা বুঝে নিতে কিন্তু অনেক সময় নেয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি ব্যক্তির সাথে একদিন সময় কাটানোর মাধ্যমে বুঝে যাবেন তার সঙ্গ আপনি কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছেন। তাই দুজন ব্যক্তির মধ্যে খুঁজে বের করুন কার সঙ্গ আপনার স্বাচ্ছন্দ্যে মনে হচ্ছে।

একটি কাগজে তালিকা করুন-

একটি কাগজে তালিকা তৈরি করুন দুজন ব্যক্তির সম্পর্কে। দুটি কাগজে দুজনার নাম, তাদের কোন বিষয়গুলতে আপনি আকর্ষণবোধ করছেন আর কোন বিষয়গুলো আপনার ভালো লাগেনা সেগুলো লিখুন। তালিকা করার পর সততার সাথে গননা করে কাগজেই ব্যক্তিদের নম্বর দিন। এখন সর্বাধিক নম্বর পাওয়া ব্যক্তিকে কিন্তু আপনি গ্রহন করতেই পারেন। তালিকাটি আপনি ছাড়া কাউকে দেখাবেন না।

আপনি কার সাথে হাসতে পারেন?

আপনি যদি কারো সাথে একসাথে হাসতে পারেন তবে আপনি একটি অমূল্য মুক্তো খুঁজে পেয়েছেন যা আপনার সম্পর্ককে ভালো এবং আনন্দময় করে তুলবে। আপনার জন্য অবশ্যই সে ব্যক্তি সঠিক যে আপনার জন্য হেসে ফেলতে পারেন এবং আপনাকেও হাসাতে পারেন।

পরামর্শ নিন আপনার শুভাকাংখীর থেকে-

সকলের জীবনেই এরকম কেউ না কেউ থাকেন যিনি ভালো চান ও ভালো পরামর্শ দেন। তেমনি আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং আপনি কে তার প্রতিচ্ছবি হলেন আপনার শুভাকাংখী। তাই এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহনে আপনার শুভাকাংখীর পরামর্শ নিতে পারেন।

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যখন আবেদনকারীর সংখ্যা বেশী পাওয়া হয় সিদ্ধান্ত গ্রহন ততই কঠিন হয়ে পরে। তাই সময় নিন ও ভালোভাবে যাচাই করে জীবনসঙ্গী বাছাই করুন।

আপনি যদি সময় নিয়ে ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে চান তাহলে যুক্ত হন বিবাহবিডির সাথে। বিস্তারিত জানতে কল করুনঃ ০১৯২২১১৫৫৫৫

সঙ্গীর অতিরিক্ত ক্রোধ; কিভাবে সামলাবেন?

ভালোবাসার সঙ্গী যখন ক্রোধপূর্ণ আচরণ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই খারাপ লাগে, কিন্তু এ আচরণ যদি তার স্বভাবে বারংবার কাজ করে তাহলে মানিয়ে নেয়া একটু কঠিনই হয়ে যায় অপর পক্ষের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক অ্যারন সেল বলেন, “ক্রোধ খুবই জটিল একটি বিষয়।

“”নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করলে বলা যায়, এটি মানুষের মন নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র। আরেকজন ব্যক্তির মাথার ভেতরে ঢুকে নিজেকে ঐ ব্যক্তির কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি পদ্ধতি। তাদের মন পরিবর্তন করে তাদের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জয়ী হওয়ার একটি প্রক্রিয়া।”

সঙ্গীর এ আচরণ পুনঃ পুনঃ হতে থাকলে একটা সময় ভালোবাসা শেষ হয়ে তিক্ততায় সম্পর্কই ভেঙ্গে যায়। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে সঙ্গীর অধিক ক্রোধ আচরণের জন্য সম্পর্কে কলহ-দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে যার ফলে সম্পর্ক অসুস্থ অবস্থায় বিরাজ করে।

যে মানুষটি মনের সবচেয়ে কাছে, যে মানুষটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমরা, তাঁর সাথেই কিন্তু মান-অভিমান হয় সবচেয়ে বেশি! আর তাই অতিরিক্ত ক্রোধ ভালোবাসার মানুষটির সাথেই বেশী প্রকাশ করা হয়। সঙ্গীর চট করে রেগে যাওয়া বা খিটমিটে ক্রোধ কে মানিয়ে নয় সামলিয়ে নিন।

নিজেকে সঙ্গীর স্থানে রাখুনঃ

সবসময় সঙ্গীর স্থানে নিজেকে রেখে দেখবেন, রেগে আপনি সঙ্গীর সাথে যে ব্যবহার করেন, তার স্থানে আপনি থাকলেও একই অভিজ্ঞতা আপনার হবে। কিছুটা হলেও কষ্টটা অনুভব করতে পারবেন।

খোলামেলা আলোচনা করুনঃ

একে অন্যকে ছাড় দেয়া নিয়ে আলোচনা করুন জানার চেষ্ঠা করুন তার রাগের উৎস ও সে কি চায়। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন যে রাগ করার ফলে আপনাদের সম্পর্কে কী ক্ষতি হচ্ছে।

সময় বুঝে উত্তর দিনঃ

রাগের মাথায় আপনার সঙ্গী যে আচরণই করুক না কেন আপনি উত্তর দেয়ার সময় ভেবে চিন্তে কথার উত্তর দিন। রাগ কিন্তু সময়ের সাথে শেষ হয়ে যাবে তবে কথা ফেরানো যাবে না। তাই কথা গুলো সতর্ক ভাবে বলতে সময় পাবেন, পরবর্তীতে নিজের কথার জন্য নিজেকে অনুতাপ করতে হবে না।

আলিঙ্গন করুনঃ

ভালোবাসার মানুষটির রাগ ভাঙ্গাতে আলিঙ্গনের বিকল্প নেই। তাকে আলিঙ্গন করে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। আপনার ভালোবাসার উষ্ণতায় নিমিষেই গলে যাবে তার মন।

দোষ স্বীকার করুনঃ

এক পক্ষ দোষের কারনে সঙ্গীর রাগ কিন্তু সব সময় চড়া হবেনা তাই নিজের দোষগুলোও স্বীকার করুন। আপনার স্বীকারোক্তি স্বভাব সঙ্গীর ক্রোধ আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

শর্ত স্বভাব বাদ দিনঃ

যদি তুমি এমন বলো…বা যদি আমি এমন করি… এ সব বাদ দিন। সঙ্গীর রাগ মানাতে অনেকেই শর্ত গ্রহন করে থাকেন। এ শর্ত থেকে পুনরায় যোগ হয় নতুন রাগের কারন।

থেরাপি প্রয়োগঃ

আমরা যখন রেগে যাই, তখন শরীর এবং মনে খুব অস্বস্তিকর একটা পরিবেশ তৈরি হয়। পুরো অবস্থাটা থেকে বেরিয়ে আসতে শরীর এবং মন, দু’টোই শান্ত করা প্রয়োজন। সঙ্গীর রাগ সামলাতে তাকে মানিয়ে তার রাগের মুহূর্তে থেরাপি প্রয়োগ করতে পারেন যেমন- ক্রিয়েটিভ, রিল্যাক্সেশন থেরাপি।প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতা নয় মায়া বৃদ্ধি করুনঃ

সঙ্গীর সাথে রাগ নিয়ে পাল্লা দিতে যাবেন না। দুজন একই সাথে রাগ ধরে রাখলে অথবা রাগ কে প্রতিযোগিতায় নিয়ে গেলে সম্পর্ক খারাপের দিকে অগ্রসর হবে। সঙ্গীর প্রতি মায়া বাড়ান। তার রাগের সময়গুলো কে অবহেলা না করে ধৈর্য ধারন করে সামলে নিন এতে সেও আপনার প্রতি রাগ কমিয়ে আন্তরিক হবে।

সাইকোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞেদের পরামর্শ নিতে পারেনঃ

উপরের বলা কোনও পদ্ধতিতেই যদি সঙ্গীর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বা সাইকোলজিস্টদের সাহায্য নিতে পারেন। কেননা, রাগের আড়ালে কোনও শারীরিক বা মানসিক সমস্যা নিহিত রয়েছে কি না, তা একজন বিশেষজ্ঞই চিহ্নিত করতে পারেন।

বিচ্ছেদের পর ফের নতুন সম্পর্ক

বিচ্ছেদের পর ফের সম্পর্ক গড়ার জন্য কেউ আপনার দরজায় কড়া নাড়তেই পারে। কিন্তু আপনি প্রস্তুত তো? দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর পুনরায় সম্পর্কে জড়াতে অনেকেই সংশয়ে ভুগে থাকেন। কিছু বিষয় আপনাকে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে –

#অভ্যাস#পরিত্যাগ

আপনার হয়তো কিছু বদভ্যাস আছে যা দ্বারা আপনি পূর্বের সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা আপনার প্রতি আপনার সঙ্গী বিরক্ত ছিল। সে অভ্যাসগুলো খুঁজে বের করুন ও পরিবর্তন করুন।

#নিজেকে_জানুন

আপনাকে কেউ ভালো রাখবে এরকম চিন্তা করে সম্পর্কে জড়াবেন না। অন্য কেউ কখনও আপনাকে ভাল রাখতে পারে না। নিজেকে নিজের ভালো রাখতে হয়।

#অতীত

অতীতের যে কোন বিষয়ের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি কে যেমন তুলনা করতে যাবেন না তেমনি প্রাক্তনের সাথে বর্তমান ব্যক্তিকেও তুলনা করবেন না।

#বিশ্বাস

স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছেদের ফলে নতুন কাউকে বিশ্বাস করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। তার মানে সবাই যে আপনার বিশ্বাস নষ্ট করবে এমন ধারণা দূর করুন। সবাইকে একই পাল্লায় মাপা উচিত নয়।

#ধারণা#নয়#ব্যক্তির#কথাকে#গুরুত্ব#দিন

অতীত সম্পর্ক থেকে নানান অভিজ্ঞতা হয় সবারই। কিন্তু এ অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান পরিস্থিতির ধারনা যাচাই করে থাকেন অনেকেই, এতে করে কিন্তু নতুন সঙ্গীর সাথে আপনার ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে। তাই ধারণা থেকে নয় সঙ্গীর কথাকে গুরুত্ব দিন।

#সম্পর্কে#ভবিষ্যত#অঙ্কন#করতে#যাবেন #না

একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন যাবে বা কি হবে এসব চিন্তায় মগ্ন হবেন না, তাহলে সম্পর্কে আপনি ভালো-খারাপ পরিস্থিতিগুলো সামলাতে পারবেন না।

#তাড়াহুড়ো#করবেন#না

বিচ্ছেদ হয়েছে বলে একাকীত্ব দূর করতে চট করেই নতুন সম্পর্কে জড়াবেন না। সময় নিন, স্বচ্ছ ও সততার সাথে নতুন কাউকে ভাবুন।

আপনি কি পুনরায় বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ হতে #জীবনসঙ্গী #খুঁজছেন? আপনি যদি #ডিভোর্স/ #বিধবা/ বিপত্নীক #জীবনসঙ্গী খুঁজে থাকেন তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন #বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে। রেজিস্ট্রেশন করার পর আমাদের সার্ভিস টিম আপনার সকল সত্যতা যাচাই করে আপনার প্রোফাইল একটিভ করলে, আপনি সুযোগ পাবেন বিবাহবিডির সকল ভেরিফাই করা প্রোফাইল থেকে আপনার পছন্দমত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে।