ইসলামী বিবাহরীতি

ইসলামী বিয়ে হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। মুস‌লিম বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ছেলের আর্থিক সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী। “বিবাহ সংগঠিত হবে না অভিভাবক ও দু’জন সাক্ষী ব্যতীত। বিয়ের সময় একজন উকিল থাকেন।

ইসলাম ধর্মে বিবাহের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের মধ্যকার যৌন সম্পর্কের অনুমতি রয়েছে। ইসলামী বিবাহরীতিতে পাত্র পাত্রী উভয়ের সম্মতি এবং বিবাহের সময় উভয়পক্ষের বৈধ অভিভাবক বা ওয়ালীর উপস্থিতি ও সম্মতির প্রয়োজন।

ইসলামী বিবাহে যৌতুকের কোন স্থান নেই। বিয়ের পূর্বেই পাত্রের পক্ষ হতে পাত্রীকে পাত্রীর দাবি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা অর্থসম্পদ বাধ্যতামূলক ও আবশ্যকভাবে দিতে হয়, একে দেনমোহর বলা হয়। এছাড়া বিয়ের পর তা পরিবার পরিজন ও পরিচিত ব্যক্তিবর্গকে জানিয়ে দেয়াও ইসলামী করনীয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একজন পুরুষ সকল স্ত্রীকে সমান অধিকার প্রদানের তার চাহিদা অনুসারে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে।

আর সমান অধিকার দিতে অপারগ হলে শুধু একটি বিয়ে করার অনুমতি পাবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের অনুমতি নেই। ইসলামে একজন মুসলিম একজন অমুসলিমকে বিয়ে করতে পারবে যদি উক্ত অমুসলিম ঈমান আনে (ইসলাম গ্রহণ করে)।

ইসলামে, বিবাহ (আরবি: نِكَاح‎, প্রতিবর্ণী. নিকাহ‎) হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। ইসলামে কনে তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে| একটি আনুষ্ঠানিক এবং দৃঢ় বৈবাহিক চুক্তিকে ইসলামে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বর ও কনের পারষ্পারিক অধিকার ও কর্তব্যের সীমারেখা নির্ধারণ করে| বিয়েতে অবশ্যই দুজন মুসলিম স্বাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে| ইসলামে বিয়ে হল একটি সুন্নাহ বা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ এবং ইসলামে বিয়ে করার জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিয়ে ইসলামী বিবাহের মৌলিক বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। পাশাপাশি, ইসলামে সন্ন্যাসজীবন এবং কৌমার্যেরও কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে। ইসলামে তালাক অপছন্দনীয় হলেও এর অনুমতি আছে এবং তা যে কোন পক্ষ হতে দেওয়া যেতে পারে অর্থাৎ ইসলামে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই তালাক দেওয়ার অধিকার রাখে।

ইসলামী আইন অনুসারে, বিবাহ – বা আরও বিশেষত বিবাহের চুক্তিকে নিকাহ বলা হয়, একটি আরবি শব্দ যার মূল আক্ষরিক অর্থ ছিল “যৌন মিলন”, তবে যা ইতিমধ্যে কুরআনে রয়েছে তা বিবাহের চুক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক লিখিত আরবি’র ওয়েহর-কোয়ান ডিকশনারি-তে নিকাহকে “বিবাহ; বিবাহ চুক্তি) হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

সঙ্গীর মন খারাপ

মনখারাপের কথা মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেন না অনেকেই। ঠিক কী কারণে কেউ মানসিক চাপে ভুগঠেন, তা সবসময় বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যায় না! যে মানুষটাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেন, তিনিই হয়তো ভিতরে ভিতরে খুব ‘ডিস্টার্বড’, মনোকষ্টে ভুগছেন।

#ডিপ্রেশন’ বা #মেন্টাল_হেলথ নিয়ে এত কথার মাঝে আমরা সকলেই বলছি মনখুলে কথা বলার জন্য। কিন্তু সবার কাছে কি আর সব কথা বলা যায়! না সবাই সবকিছু বুঝে সমাধানের রাস্তা দেখাতে পারেন! তবে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়ার আগে একবার যদি নিজের কাছের মানুষের কাছে মনের জানলা খুলে দেওয়া যায়, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া যায়, তাহলে হয়তো অনেকটা কষ্টই লাঘব হবে।

অনেকে স্বভাবগতভাবেই নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রাখেন, ইন্ট্রোভার্ট থাকতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার বাইরের মানুষের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করলেও মনের ভিতরের অনুভূতি-আবেগগুলোকে নিজের কাছেই রেখে দেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনারকে যেহেতু আপনি খুব কাছ থেকে দেখছেন, তাই তাঁর মনোজগতের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করুন। মনখারাপ চেপে রাখতে রাখতে তা একটা সময়ে ক্রনিক ডিপ্রেশনে পৌঁছে যায়। তখন সাইকলজিক্যাল সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ডিপ্রেশন হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয় না।

কিন্তু জমতে থাকা স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি মনের মধ্যে পুষে রাখলে তা পরবর্তীকালে গুরুতর রূপ নিতে পারে। আর এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাছের মানুষের সাহচর্য। লকডাউনে অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়টুকু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠুন। একে অপরকে ভাঙার বদলে গড়ে তুলুন। জবস্ট্রেস থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কোনও হঠাৎ আঘাত থেকে পুরনো ট্রমা…যে কোনও কিছুই তিনি যেন আপনার কাছে খোলাখুলি বলতে পারেন। তাঁর বন্ধু হয়ে ওঠা জরুরি। যাতে তিনি কোনওকিছু আপনার থেকে না লুকোন।

মনে রাখবেন, সঙ্গীর মন ভাল রাখতে তাঁর সঙ্গে আপনার কমফর্ট লেভেলটা ভাল হওয়া জরুরি। কমিউনিকেট করুন। অনেক কাপলই সারাদিন একসঙ্গে থাকলেও নিজের নিজের জগতে ব্যস্ত থাকেন! পাশে বসে থাকলেও মোবাইল-ল্যাপটপে ডুবে থাকেন। কথোপকথনের বড্ড অভাব। এমনটা মোটেও কাম্য নয়। তা সে সুস্থ সম্পর্কের জন্যই হোক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই হোক! বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আলোচনা করুন। তাঁর পছন্দমতো করে খানিকটা সময় কাটান।অনেকসময় কোনও ব্যক্তির ভাললাগার বিষয়গুলোর মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক ফুটে ওঠে। যেমন কেউ হয়তো লেখালেখি করতে ভালবাসেন। তাঁর লেখার মধ্যে দিয়েও তাঁর মনের হদিশ পেতে পারেন। সবমিলিয়ে এত নেগেটিভিটির মধ্যেও পজ়িটিভ এনার্জি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে আমাদেরই! #বিবাহবিডি #Bangladeshi Bride Groom #Bangladeshi Matrimonial Site #Matrimony Bangladesh.

পছন্দের দুজন ব্যক্তি কাকে বাছাই করবেন?

প্রস্তাব পেতে কার না ভালো লাগে! আন্তরিকতার সাথে মনের দরজায় এসে কেউ যখন জীবনসঙ্গী হতে আবেদন জানায়,তখন কিন্তু নিজেকে বেশ অন্যরকমই লাগে। তবে ঝামেলা তখনই পোহাতে হয় যখন সেরা দুজন ব্যক্তির মধ্যে থেকে বাছাই করতে হয় একজনকে।

জীবনসঙ্গী হিসেবে কাকে বাছাই করবেন সে সিদ্ধান্তে শিথিল করুন নিজেকে কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে –

কার উদ্দেশ্য কি?

শুনতে অদ্ভু্ত লাগলেও, এ প্রশ্নটি আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা আপনাকে তাদের জীবনসঙ্গী করতে চাচ্ছেন তারা কেন চাচ্ছেন ও তাদের ভবিষ্যৎ জীবন পরিকল্পনা কি তা খুঁজে বের করুন।

আপনার উদ্দেশ্য কি?

স্বার্থপরতা নয়, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত গ্রহনে আপনার জীবনের ভবিষ্যৎ উদ্দেশ্য কি তা বিবেচনায় রাখতে হবে। আপনার জীবনের উদ্দেশ্যের সাথে তাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির উদ্দেশ্য একই বা কাছাকাছি তা মিলিয়ে নিন।

সত্যি কি আপনাকে চাচ্ছে?

এদের মধ্যে যাচাই করুন কে আপনাকে সত্যি চাচ্ছে আর কে অভিনয় করতে পারে। শুধু উদ্দেশ্যে মিল থাকলেও হাবেনা আপনাকে মন থেকে চাচ্ছে কিনা অথবা আবেগ কেটে গেলে ব্যক্তিও কেটে পরবেন কি না তা বুঝতে সময় নিন। প্রয়োজনে দুজনের সাথে আলাদা দিনে দেখা করুন ও তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।

আপনি কার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছেন?

আপনি কার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছেন আর কার সাথে করছেননা তা বুঝে নিতে কিন্তু অনেক সময় নেয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি ব্যক্তির সাথে একদিন সময় কাটানোর মাধ্যমে বুঝে যাবেন তার সঙ্গ আপনি কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যেবোধ করছেন। তাই দুজন ব্যক্তির মধ্যে খুঁজে বের করুন কার সঙ্গ আপনার স্বাচ্ছন্দ্যে মনে হচ্ছে।

একটি কাগজে তালিকা করুন-

একটি কাগজে তালিকা তৈরি করুন দুজন ব্যক্তির সম্পর্কে। দুটি কাগজে দুজনার নাম, তাদের কোন বিষয়গুলতে আপনি আকর্ষণবোধ করছেন আর কোন বিষয়গুলো আপনার ভালো লাগেনা সেগুলো লিখুন। তালিকা করার পর সততার সাথে গননা করে কাগজেই ব্যক্তিদের নম্বর দিন। এখন সর্বাধিক নম্বর পাওয়া ব্যক্তিকে কিন্তু আপনি গ্রহন করতেই পারেন। তালিকাটি আপনি ছাড়া কাউকে দেখাবেন না।

আপনি কার সাথে হাসতে পারেন?

আপনি যদি কারো সাথে একসাথে হাসতে পারেন তবে আপনি একটি অমূল্য মুক্তো খুঁজে পেয়েছেন যা আপনার সম্পর্ককে ভালো এবং আনন্দময় করে তুলবে। আপনার জন্য অবশ্যই সে ব্যক্তি সঠিক যে আপনার জন্য হেসে ফেলতে পারেন এবং আপনাকেও হাসাতে পারেন।

পরামর্শ নিন আপনার শুভাকাংখীর থেকে-

সকলের জীবনেই এরকম কেউ না কেউ থাকেন যিনি ভালো চান ও ভালো পরামর্শ দেন। তেমনি আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং আপনি কে তার প্রতিচ্ছবি হলেন আপনার শুভাকাংখী। তাই এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহনে আপনার শুভাকাংখীর পরামর্শ নিতে পারেন।

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যখন আবেদনকারীর সংখ্যা বেশী পাওয়া হয় সিদ্ধান্ত গ্রহন ততই কঠিন হয়ে পরে। তাই সময় নিন ও ভালোভাবে যাচাই করে জীবনসঙ্গী বাছাই করুন।

আপনি যদি সময় নিয়ে ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে চান তাহলে যুক্ত হন বিবাহবিডির সাথে। বিস্তারিত জানতে কল করুনঃ ০১৯২২১১৫৫৫৫

সঙ্গীর অতিরিক্ত ক্রোধ; কিভাবে সামলাবেন?

ভালোবাসার সঙ্গী যখন ক্রোধপূর্ণ আচরণ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই খারাপ লাগে, কিন্তু এ আচরণ যদি তার স্বভাবে বারংবার কাজ করে তাহলে মানিয়ে নেয়া একটু কঠিনই হয়ে যায় অপর পক্ষের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক অ্যারন সেল বলেন, “ক্রোধ খুবই জটিল একটি বিষয়।

“”নাটকীয়ভাবে বর্ণনা করলে বলা যায়, এটি মানুষের মন নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র। আরেকজন ব্যক্তির মাথার ভেতরে ঢুকে নিজেকে ঐ ব্যক্তির কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি পদ্ধতি। তাদের মন পরিবর্তন করে তাদের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জয়ী হওয়ার একটি প্রক্রিয়া।”

সঙ্গীর এ আচরণ পুনঃ পুনঃ হতে থাকলে একটা সময় ভালোবাসা শেষ হয়ে তিক্ততায় সম্পর্কই ভেঙ্গে যায়। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে সঙ্গীর অধিক ক্রোধ আচরণের জন্য সম্পর্কে কলহ-দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে যার ফলে সম্পর্ক অসুস্থ অবস্থায় বিরাজ করে।

যে মানুষটি মনের সবচেয়ে কাছে, যে মানুষটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমরা, তাঁর সাথেই কিন্তু মান-অভিমান হয় সবচেয়ে বেশি! আর তাই অতিরিক্ত ক্রোধ ভালোবাসার মানুষটির সাথেই বেশী প্রকাশ করা হয়। সঙ্গীর চট করে রেগে যাওয়া বা খিটমিটে ক্রোধ কে মানিয়ে নয় সামলিয়ে নিন।

নিজেকে সঙ্গীর স্থানে রাখুনঃ

সবসময় সঙ্গীর স্থানে নিজেকে রেখে দেখবেন, রেগে আপনি সঙ্গীর সাথে যে ব্যবহার করেন, তার স্থানে আপনি থাকলেও একই অভিজ্ঞতা আপনার হবে। কিছুটা হলেও কষ্টটা অনুভব করতে পারবেন।

খোলামেলা আলোচনা করুনঃ

একে অন্যকে ছাড় দেয়া নিয়ে আলোচনা করুন জানার চেষ্ঠা করুন তার রাগের উৎস ও সে কি চায়। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন যে রাগ করার ফলে আপনাদের সম্পর্কে কী ক্ষতি হচ্ছে।

সময় বুঝে উত্তর দিনঃ

রাগের মাথায় আপনার সঙ্গী যে আচরণই করুক না কেন আপনি উত্তর দেয়ার সময় ভেবে চিন্তে কথার উত্তর দিন। রাগ কিন্তু সময়ের সাথে শেষ হয়ে যাবে তবে কথা ফেরানো যাবে না। তাই কথা গুলো সতর্ক ভাবে বলতে সময় পাবেন, পরবর্তীতে নিজের কথার জন্য নিজেকে অনুতাপ করতে হবে না।

আলিঙ্গন করুনঃ

ভালোবাসার মানুষটির রাগ ভাঙ্গাতে আলিঙ্গনের বিকল্প নেই। তাকে আলিঙ্গন করে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। আপনার ভালোবাসার উষ্ণতায় নিমিষেই গলে যাবে তার মন।

দোষ স্বীকার করুনঃ

এক পক্ষ দোষের কারনে সঙ্গীর রাগ কিন্তু সব সময় চড়া হবেনা তাই নিজের দোষগুলোও স্বীকার করুন। আপনার স্বীকারোক্তি স্বভাব সঙ্গীর ক্রোধ আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

শর্ত স্বভাব বাদ দিনঃ

যদি তুমি এমন বলো…বা যদি আমি এমন করি… এ সব বাদ দিন। সঙ্গীর রাগ মানাতে অনেকেই শর্ত গ্রহন করে থাকেন। এ শর্ত থেকে পুনরায় যোগ হয় নতুন রাগের কারন।

থেরাপি প্রয়োগঃ

আমরা যখন রেগে যাই, তখন শরীর এবং মনে খুব অস্বস্তিকর একটা পরিবেশ তৈরি হয়। পুরো অবস্থাটা থেকে বেরিয়ে আসতে শরীর এবং মন, দু’টোই শান্ত করা প্রয়োজন। সঙ্গীর রাগ সামলাতে তাকে মানিয়ে তার রাগের মুহূর্তে থেরাপি প্রয়োগ করতে পারেন যেমন- ক্রিয়েটিভ, রিল্যাক্সেশন থেরাপি।প্রতিযোগিতা

প্রতিযোগিতা নয় মায়া বৃদ্ধি করুনঃ

সঙ্গীর সাথে রাগ নিয়ে পাল্লা দিতে যাবেন না। দুজন একই সাথে রাগ ধরে রাখলে অথবা রাগ কে প্রতিযোগিতায় নিয়ে গেলে সম্পর্ক খারাপের দিকে অগ্রসর হবে। সঙ্গীর প্রতি মায়া বাড়ান। তার রাগের সময়গুলো কে অবহেলা না করে ধৈর্য ধারন করে সামলে নিন এতে সেও আপনার প্রতি রাগ কমিয়ে আন্তরিক হবে।

সাইকোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞেদের পরামর্শ নিতে পারেনঃ

উপরের বলা কোনও পদ্ধতিতেই যদি সঙ্গীর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বা সাইকোলজিস্টদের সাহায্য নিতে পারেন। কেননা, রাগের আড়ালে কোনও শারীরিক বা মানসিক সমস্যা নিহিত রয়েছে কি না, তা একজন বিশেষজ্ঞই চিহ্নিত করতে পারেন।

বিচ্ছেদের পর ফের নতুন সম্পর্ক

বিচ্ছেদের পর ফের সম্পর্ক গড়ার জন্য কেউ আপনার দরজায় কড়া নাড়তেই পারে। কিন্তু আপনি প্রস্তুত তো? দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর পুনরায় সম্পর্কে জড়াতে অনেকেই সংশয়ে ভুগে থাকেন। কিছু বিষয় আপনাকে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে –

#অভ্যাস#পরিত্যাগ

আপনার হয়তো কিছু বদভ্যাস আছে যা দ্বারা আপনি পূর্বের সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা আপনার প্রতি আপনার সঙ্গী বিরক্ত ছিল। সে অভ্যাসগুলো খুঁজে বের করুন ও পরিবর্তন করুন।

#নিজেকে_জানুন

আপনাকে কেউ ভালো রাখবে এরকম চিন্তা করে সম্পর্কে জড়াবেন না। অন্য কেউ কখনও আপনাকে ভাল রাখতে পারে না। নিজেকে নিজের ভালো রাখতে হয়।

#অতীত

অতীতের যে কোন বিষয়ের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি কে যেমন তুলনা করতে যাবেন না তেমনি প্রাক্তনের সাথে বর্তমান ব্যক্তিকেও তুলনা করবেন না।

#বিশ্বাস

স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছেদের ফলে নতুন কাউকে বিশ্বাস করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। তার মানে সবাই যে আপনার বিশ্বাস নষ্ট করবে এমন ধারণা দূর করুন। সবাইকে একই পাল্লায় মাপা উচিত নয়।

#ধারণা#নয়#ব্যক্তির#কথাকে#গুরুত্ব#দিন

অতীত সম্পর্ক থেকে নানান অভিজ্ঞতা হয় সবারই। কিন্তু এ অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান পরিস্থিতির ধারনা যাচাই করে থাকেন অনেকেই, এতে করে কিন্তু নতুন সঙ্গীর সাথে আপনার ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে। তাই ধারণা থেকে নয় সঙ্গীর কথাকে গুরুত্ব দিন।

#সম্পর্কে#ভবিষ্যত#অঙ্কন#করতে#যাবেন #না

একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন যাবে বা কি হবে এসব চিন্তায় মগ্ন হবেন না, তাহলে সম্পর্কে আপনি ভালো-খারাপ পরিস্থিতিগুলো সামলাতে পারবেন না।

#তাড়াহুড়ো#করবেন#না

বিচ্ছেদ হয়েছে বলে একাকীত্ব দূর করতে চট করেই নতুন সম্পর্কে জড়াবেন না। সময় নিন, স্বচ্ছ ও সততার সাথে নতুন কাউকে ভাবুন।

আপনি কি পুনরায় বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ হতে #জীবনসঙ্গী #খুঁজছেন? আপনি যদি #ডিভোর্স/ #বিধবা/ বিপত্নীক #জীবনসঙ্গী খুঁজে থাকেন তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন #বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে। রেজিস্ট্রেশন করার পর আমাদের সার্ভিস টিম আপনার সকল সত্যতা যাচাই করে আপনার প্রোফাইল একটিভ করলে, আপনি সুযোগ পাবেন বিবাহবিডির সকল ভেরিফাই করা প্রোফাইল থেকে আপনার পছন্দমত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে।

তাহলে সম্পর্ক টিকে কাদের?

যুগল তো অনেক ধরনের আছে, তাহলে সম্পর্ক টিকে কাদের? অধ্যাপক ব্রায়ান ওগোলস্কির মতে –

কাপলদের ৪টি বিভাগে ভাগ করা যায়। নাটকীয়, সর্বদা মনোমালিন্য লেগে থাকে এমন, সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ে খুব অ্যাক্টিভ এবং পার্টনার ফোকাসড বা সঙ্গীকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন যাঁরা।

কোন যুগলই একদম নিখুঁত নয়। একটি সম্পর্কের পরিচালনার উপর বিবেচিত হয় সম্পর্ক কতদূর স্থায়িত্ব হবে। বর্তমান বিশ্বে যেমন বাড়ছে ডিভোর্সের হার তেমনি দেখা যাচ্ছে যুগলদের সম্পর্কের বিভিন্ন ধরণ। জানা যাক তাহলে সম্পর্ক টিকে কোন যুগলদেরঃ

নাটকীয় যুগল-

মনোমালিন্য লেগে থাকা যুগল-

যদিও সম্পর্কে মনোমালিন্যে হওয়া জরুরী এতে প্রেম-ভালোবাসা বাড়ে, তবে ঘন ঘন মনোমালিন্যে সম্পর্কে তিক্ততাও নিয়ে আসে। মনোমালিন্য লেগে থাকা যুগলদের মধ্যে মতের অনেক অমিল থাকে। বারংবার ঝগড়া বা মনোমালিন্যে হলেও ভালোবাসার টানে এ ধরনের যুগলদের মধ্যে অনেকের সম্পর্ক টিকে যায় আবার অনেকে টিকিয়ে রাখতে পারেনা। তবে গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ১৭ শতাংশ।

সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ে খুব অ্যাক্টিভ যুগল- এ যুগলরা মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রনের চেয়ে লোক দেখানো প্রেম-ভালোবাসাতে ব্যস্ত থাকে। এরা সম্পর্কের চেয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের প্রতি বেশী বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে। ফলে এরা খারাপ পরিস্থিতিতে সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননা। সম্পর্কের প্রতি সৎ থাকলেও আন্তরিকতা কমই থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ১৯ শতাংশ।

পার্টনার ফোকাসড বা সঙ্গীকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন যাঁরা-এ ধরনের যুগলদের সম্পর্ক বেশীদিন দীর্ঘস্থায়ী হয়। কারন এরা নিজের চেয়ে সঙ্গীর প্রতি সর্বদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, খারাপ পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধারন করেন, এদের নিজেদের বোঝাপড়া ভালো থাকে তাই ভরসার সাথে এরা দীর্ঘকাল জীবন অতিবাহিত করতে পারেন। গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ।

গবেষণা প্রমাণ করে যে,

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আস্থা ও প্রতিশ্রুতি।

‘পার্টনার ফোকাসড জীবনসঙ্গী’ খুঁজে পেতে ভরসা করতে পারেন বিবাহবিডি ডট কম কে। বিবাহবিডির ওয়েব পোর্টালে রেজিষ্ট্রেশন করে পাঁচ সহস্রাধিক প্রোফাইল থেকে পছন্দের মানুষটিকে বেছে নেয়ার সুযোগ পাবেন আপনিও। যদি সিরিয়াস হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে রেজিষ্ট্রেশন করুন।

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে দ্বিধা

উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অনেকেই এক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে থাকেন। দেখা যায় ছোট-বড় যে কোন বিষয়ে অনেকেই নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন না অথবা দীর্ঘ সময় নেন, আবার অনেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহনে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকেন যা সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়।

এমন দ্বিধা কাটিয়ে না উঠার জন্য ব্যক্তি সর্বদা সম্মুখীন হন জটিল পরিস্থিতির। তেমনি জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কাজ করে সিদ্ধান্তহীনতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই যে দ্বিধাগুলোতে ভোগেনঃ

– নিখুঁত সঙ্গী খোঁজার প্রবণতা।

– নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা অর্থাৎ হীনম্মন্যতায় ভোগা।

– নিজের পছন্দের প্রতি অনাস্থা তাই সর্বক্ষেত্রে অন্যের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল থাকা।

– অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ে সঙ্গী খুঁজার প্রবনতা।

– অন্যের ত্রুটি ধরার মানসিকতা বা খুঁতখুঁতে স্বভাব।

– বিচ্ছেদের ভয়।

সঙ্গী বাছাইয়ে দ্বিধা দূর করবেন যেভাবে –

আপনি কি বিয়ের বিষয়ে সত্যি সিরিয়াসঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কি বিয়ের জন্য সত্যি সিরিয়াস? উত্তর যদি হয় হ্যাঁ, এবার খেয়াল করুন আপনি কি বিয়ের জন্য পুরোপুরি ভাবে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক দিক থেকে প্রস্তুত। আপনি এ বিষয়গুলো নিয়ে যদি প্রস্তুত থাকেন তাহলে আপনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জানুন কেন বিয়ে করছেনঃ

বিয়ের বয়স হয়েছে, জৈবিক চাহিদার জন্য বিয়ে, একাকীত্ব দূর করতে, বৃদ্ধ বাবা মায়ের সেবা করতে বা সামাজিক নিয়ম এসব এক পক্ষ চিন্তা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন না। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের পূর্বে সচেতন হন যে আপনি কেন বিয়ে করছেন। বিয়ে মানে দুজন ব্যক্তির জীবন অন্তর্নিহিত হবে একই সুতোয়। তাই কি কি পরিস্থিতি সামনে আসবে আর কিভাবে দুজন মিলে জীবন পরিচালনা করবেন সে দিকগুলো ভেবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন।

উপদেশ গ্রহন করুন তবে বুঝেশুনেঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে আপনি কারো উপদেশ গ্রহন করতেই পারেন তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যেমনঃ সে যেন আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হন। উপদেশ নেয়ার সময় আপনার পছন্দ-অপছন্দ, মতামত বা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন, বেশী মানুষের উপদেশ গ্রহন করতে যাবেন না।

আবেগি মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিজেকে বা অন্যকে কষ্ট দিবেন নাঃ

মানুষের মন সহজাতভাবেই আবেগি কিন্তু জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। কেবল রুপ, গুণ অথবা ঐশ্বর্য এসব দেখে যেমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন করা উচিত নয় তেমনি প্রতিষ্ঠিত নয় অথবা আপনার সাথে বা আপনার পরিবারের সাথে মানানসই নয় এরকম ব্যক্তি কেউ জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন না করাই ভালো।

নিখুঁত নয়, সঙ্গী হবে উপযোগীঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিখুঁত ব্যক্তি খুঁজতে থাকি আমরা, আর প্রধান ভুলটা এখানে কেননা পৃথিবীতে নিখুঁত কোন মানুষ হয়না।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ো নয়ঃ

তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গেলে, অনেক যৌক্তিক চিন্তা মাথা থেকে বের হয়ে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ভুল হলে অনেক সময় আফসোস করতে হয়। তাই জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক ভেবে চিন্তে ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে।

বিচ্ছেদের ভয় কে জয় করুনঃ

আপনার সিদ্ধান্ত যদি আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথে মানানসই হয় তাহলেই আপনি বিচ্ছেদের ভয় কে জয় করতে পারবেন। তাই এমন জীবনসঙ্গী বাছাই করুন যেন সারাজীবন মানানসই হয়।

জীবনের পথে দুজনের ভাবনা খাপে খাপে মিলে না গেলে দাম্পত্যে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়াটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সুখী দাম্পত্যের জন্য অর্থ-বিত্ত বা অন্য কিছুর চাইতে পছন্দের একটি মানুষ সবচাইতে বেশি জরুরী।

বিবাহবিডি ডট কম

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনি অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহবিডি ডট কম।

অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ঘরে বসেই আপনি চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ

৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স – বিধবা – বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী। তাছাড়াও বিবাহবিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার সার্চ ( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ

জীবন একটাই আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

জমকালো আয়োজনে বিয়ে! আসলে প্রয়োজন কতটুকু?

বর্তমানে বাংলাদেশে শহুরে বিয়ের অনুষ্ঠান যেন মানুষের মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বিয়েতে কে কত বেশি জমকালো আয়োজন করতে পারে, অর্থ ব্যয় করতে পারে, তার যেন প্রতিযোগিতা চলে আজকাল৷ কিন্তু এর প্রয়োজন আসলে কতটা?

মূল কথায় যাওয়ার আগে আসুন আজ থেকে এক বা দুই দশক পিছিয়ে যাই৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে মুসলিম বা হিন্দু বিবাহ ছিল আজকের অনুষ্ঠান থেকে অনেকটাই ভিন্ন৷ সেসময় বিয়েতে প্রধান অতিথি হতেন আত্মীয়স্বজন, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব৷ যাঁদের ছাদ আছে বা বড় উঠোন- মুসলিম বিয়েতে হলুদ থেকেই শুরু হতো বিয়ের অনুষ্ঠান৷

আজকের মতো উপটান দিয়ে হলুদ তখন দেয়া হতো না৷ রীতি মতো কাঁচা হলুদ বাঁটা হতো, সঙ্গে হত গীত – ‘‘হলুদ বাটো, মেহেদি বাটো…”৷

একদিকে গান চলছে, অন্যদিকে কাঁচা হলুদ ও মেহেদি পাতা বাটা হচ্ছে৷ চারপাশে হাসির ফোয়ারা, সেইসাথে আনন্দের লহর৷ আর হলুদে হতো রং খেলা৷ একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ হতো দ্বিগুণ৷

এরপর ছাদে বা পাশের বড় কোনো মাঠে সামিয়ানা টাঙিয়ে বিয়ের দিন হতো প্রীতিভোজ৷ উপহার দেয়া হতো নব দম্পতির সাংসারিক জীবনে যা প্রয়োজন, তেমন আসবাব৷ কনের প্রসাধনও ছিল সাধারণ৷

হলুদে গাছ থেকে ফুল ছিড়ে তা দিয়ে সাজ৷ সাধারণ সুতি বা জামদানি শাড়ি৷ বিয়ের দিন বেনারশি শাড়ি, একটু স্নো পাউডার, চোখে কাজল৷ আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের মধ্যে যে ভালো সাজাতে জানেন, তাঁর ওপরই পড়ত কনেকে সাজানোর ভার৷

বিয়েতে এই যে আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সমাগম, তাঁরা কিন্তু নিজেরাই কাজ ভাগ করে নিতেন৷ এমনকি কোমরে গামছা বেঁধে তাঁরা নেমে পড়তেন খাওয়ার পরিবেশনের কাজও৷

ফলে যে পরিবারে মেয়ের বিয়ে তাঁদের ওপর চাপ অনেক কমে যেত৷ বিয়েতে অর্থ খরচের বাহুল্যো তেমন চোখে পড়ত না৷ অথচ আনন্দের কোনো কমতি ছিল না৷ প্রতিটির মেয়েরই জীবনে সাধ থাকে বিয়ের দিনটিতে তাঁকে যেন রাজরানীর মতো লাগে৷ তখনকার সেই সাজে মেয়েটি কিন্তু তৃপ্ত ছিল৷ তাঁর স্বপ্ন ভঙ্গ হতো না

কিন্তু গত দই দশকে বদলে গেল চিত্র৷ বাংলাদেশের শহরগুলোতে গড়ে উঠল অনেক ভবন৷ গড়ে উঠল অ্যাপার্টমেন্ট৷ আগের মতো জায়গা পাওয়া না যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হলো কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে৷ সেটা অবশ্য হতেই পারে৷

কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়৷ হিন্দি সিরিয়াল ও বলিউডের প্রভাবে অনেক উচ্চবিত্তরা শুরু করলেন নতুন এক সংস্কৃতি৷ হলদি নাইট, মেহেন্দি নাইট শুরু হয়ে গেল৷

ডিজে আনা হতে লাগলো৷ প্রচুর খরচ হতে শুরু হলো বিয়েতে৷ কে কার চেয়ে বেশি পারে৷ হিন্দু বিয়েতেও একই অবস্থা৷ আগে হিন্দু বিয়েতে হলুদ দিয়ে মেয়েকে গোসল করানো হতো৷

এখন হলুদে আলাদা অনুষ্ঠান হয়, মেহেদি পড়ানো হয়৷ আর পার্লারে যাওয়া যেন বাধ্যতামূলক৷ কেবল কনে নয়, বর এবং দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই৷ তার ওপর হলুদে হিন্দি গানের সাথে রাতভর নাচ তো আছেই৷ ডিজিটাল অগ্রগতির কারণে এই সংস্কৃতি কেবল শহরে নয়, এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রামেও৷

প্রশ্ন হলো,

এতে করে কি আনন্দের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে? মনে হয় না৷ কেননা বর্তমানে আমন্ত্রিত অনেককেই হয়ত বর-কনে চেনেন না৷ তাছাড়া এত অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতায় অনেক বাবা-মা নিঃস্ব হয়ে যান৷ নিজের কন্যা বা পুত্রের মুখের দিকে চেয়ে তারা, মানে তাঁদের বুকের ধন যা দাবি করে – তাই উজার করে দিতে চান তাঁরা৷

কিন্তু এর কোনো প্রয়োজন আছে কি? নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছোট করে চমৎকার একটি বিয়ের আয়োজন কি কারো মর্যাদা বা আভিজাত্যে আঘাত হানে? কত গরু-খাসি কাটা হলো, কত মানুষ আমন্ত্রিত হলো, বিয়ের পর সে হিসাব কে রাখে?

বরং ..

কাছের ও পছন্দের মানুষের আশীর্বাদটাই যে সবচেয়ে প্রয়োজন৷ আর বাবা-মা যদি সত্যিই ধনী হন, তবে তো জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখা যায় আরও বড়, আরও ভালো কাজের মধ্য দিয়ে! সুত্র: DW

শয়নকালীন কিছু অভ্যাস দাম্পত্যে প্রশান্তি নিশ্চিত করে

আপনার শোবার ঘরের পরিবেশ আপনারই বদভ্যাসে আচ্ছন্ন নয় তো? কিছু বদঅভ্যাস থাকে যা গুরুত্ব না দেয়ার ফলে এ অভ্যাসগুলো দ্বারা সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ট্রিনের মনোবিজ্ঞানী লি ল্যান্ড বলেন- দুজন মানুষ যদি শূন্যতা অনুভব করেন, তখন পারস্পরিক খেয়াল রাখা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে কম সাড়া দেন। নিঃসন্দেহে বলা যায়, কম ঘুম হলে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও সম্পর্কে চিড় ধরতে দেখা যায়।

ঘুমের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞরা বলেন-

বিছানায় যাওয়ার আগের অভ্যাসগুলো দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। তাই দাম্পত্যে সুখী হতে চাইলে আপনার প্রাক-শয়নকালীণে যে কাজ গুলো করবেন না-

তাই দাম্পত্যে সুখী হতে চাইলে আপনার প্রাক-শয়নকালীণে যে কাজ গুলো করবেন না-

কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন নাঃ

বর্তমানে যে চিত্রটি সবচেয়ে বেশী দম্পতীদের শোবার ঘরে দেখা যায় তা হল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা। যেমন- ইন্টারনেট ব্রাউজিং, অফিসের কাজ, বই পড়া বা নিজের পছন্দের অনুষ্ঠান দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকা ইত্যাদি।

যোগাযোগ হবে খোলামেলাঃ

একই ছাদের নিচে যার সাথে থাকছেন তাকে বলার মত অজস্র কথা তৈরি হয় প্রতিদিনই কিন্তু আপনি তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করছেন তো? সারাদিন ব্যস্ততার পর ক্লান্তি থাকা অথবা ইন্টারনেটে নিজেকে ব্যস্ত রাখার ফলে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে কথোপকথন প্রয়োজনের তুলনায় কম বলছেন। তাই আপনাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ কমছে ও পরস্পরকে কম জানছেন যা আপনাদের সম্পর্ক নড়বড় অবস্থানে নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ উইন্টার্স বলেন- দাম্পত্য জীবনে পিলোটক বা ঘনিষ্ঠ আলাপ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুজনের মধ্যে আলোচনার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। উষ্ণতা আর স্নেহে ভরা ওই সময়টুকু পরবর্তী দিনের মেজাজ ঠিক করে দেয়। সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সুজান উইন্টারের মতে- দাম্পত্যে আদর-সোহাগের মাধ্যমে বন্ধন তৈরি হয়। বেডরুমের অভ্যাসগুলো ভালো হলে দুজনের অন্তরঙ্গতা বাড়ে। এটি সুখী দাম্পত্যের লক্ষণ। এই রোমান্টিক সম্পর্ককে অবহেলা করলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের বাঁধন আলগা হতে শুরু করে।

দুজন একই সময় ঘুমাতে যাবেনঃ

একই সাথে ঘুমাতে যাওয়ার ফলে পরস্পরের মধ্যে আবেগজনিত সম্পর্ক বাড়ে যা দাম্পত্যে জীবণ মধুর রাখে।

থেরাপিস্ট জ্যানি ইনগ্রাম বলেছেন- আপনার সময়সূচী যদি একই সাথে মিলে যায় তবে একই সময়ে বা তার চারপাশে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রায়শই টিভি বা ইন্টারনেটের কারণে দম্পতিরা আলাদা সময়ে বিছানায় যাওয়ার রীতিতে পড়ে যান।

শোবার ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখুনঃ

আপনার শোবার ঘরের পরিবেশ আপনাদের মনের উপর প্রভাব ফেলে এটি আপনাদের দাম্পত্যে সম্পর্কেও ভূমিকা রাখে। অবাক হচ্ছেন তাই তো? শোবার ঘরের পরিবেশ যদি অগোছালো থাকে তখন কিন্তু মন মেজাজে মন্দা কাজ করে আবার সুন্দর পরিবেশ মনকে প্রফুল্লও রাখে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ঘরের পরিবেশ সুন্দর ও গোছালো রাখুন।

আলাদা ঘুমানো বিষয়টি এড়িয়ে চলুনঃ

সম-সাময়িক দূরত্ব বা রাগ-অভিমান সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়। কিন্তু দীর্ঘকালীন সঙ্গীর থেকে আলাদা ঘুমানো দাম্পত্যে সম্পর্কে হিতের বিপরীতে কাজ করে।

মনোবিজ্ঞানী র‍্যাচেল সুসম্যান বলেন- দুজন আলাদা সময় ঘুমাতে যাওয়া ইতিবাচক হতে পারে। কারণ, প্রত্যেকে আলাদা সময় পায় এবং ভালো ঘুমাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই পৃথক থাকার বিষয়টি যেন দুজনের মধ্যে দূরুত্ব না বাড়ায়।

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ঝগড়া থেকে বিরত থাকুনঃ

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ঝগড়া হবে এরকম আলোচনায় কেউ যাবেন না। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মন শান্ত থাকবে এরকম কিছু করুন। ঝগড়া বা অভিমান হতে পারে এরকম বিষয়ের আলোচনার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করুন।

কার্ট স্মিথ মনে করিয়ে দেন যে- বিছানায় যাওয়ার আগে অবশ্যই ঝগড়া করা যাবে না। ঝগড়া কখনো সমাধানের পথ দেখায় না। তার উপর রাগ নিয়ে যখন ঘুমাতে যাবেন তখন আপনার চোখে ঘুম আসবে না এবং পরের দিন খুব বাজে কাটবে। যা আপনাদের সম্পর্কের জন্য মোটেও ভালো হবে না।