সঙ্গীর মন খারাপ

মনখারাপের কথা মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেন না অনেকেই। ঠিক কী কারণে কেউ মানসিক চাপে ভুগঠেন, তা সবসময় বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যায় না! যে মানুষটাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেন, তিনিই হয়তো ভিতরে ভিতরে খুব ‘ডিস্টার্বড’, মনোকষ্টে ভুগছেন।

#ডিপ্রেশন’ বা #মেন্টাল_হেলথ নিয়ে এত কথার মাঝে আমরা সকলেই বলছি মনখুলে কথা বলার জন্য। কিন্তু সবার কাছে কি আর সব কথা বলা যায়! না সবাই সবকিছু বুঝে সমাধানের রাস্তা দেখাতে পারেন! তবে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়ার আগে একবার যদি নিজের কাছের মানুষের কাছে মনের জানলা খুলে দেওয়া যায়, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া যায়, তাহলে হয়তো অনেকটা কষ্টই লাঘব হবে।

অনেকে স্বভাবগতভাবেই নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রাখেন, ইন্ট্রোভার্ট থাকতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার বাইরের মানুষের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করলেও মনের ভিতরের অনুভূতি-আবেগগুলোকে নিজের কাছেই রেখে দেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনারকে যেহেতু আপনি খুব কাছ থেকে দেখছেন, তাই তাঁর মনোজগতের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করুন। মনখারাপ চেপে রাখতে রাখতে তা একটা সময়ে ক্রনিক ডিপ্রেশনে পৌঁছে যায়। তখন সাইকলজিক্যাল সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ডিপ্রেশন হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয় না।

কিন্তু জমতে থাকা স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি মনের মধ্যে পুষে রাখলে তা পরবর্তীকালে গুরুতর রূপ নিতে পারে। আর এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাছের মানুষের সাহচর্য। লকডাউনে অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়টুকু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠুন। একে অপরকে ভাঙার বদলে গড়ে তুলুন। জবস্ট্রেস থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কোনও হঠাৎ আঘাত থেকে পুরনো ট্রমা…যে কোনও কিছুই তিনি যেন আপনার কাছে খোলাখুলি বলতে পারেন। তাঁর বন্ধু হয়ে ওঠা জরুরি। যাতে তিনি কোনওকিছু আপনার থেকে না লুকোন।

মনে রাখবেন, সঙ্গীর মন ভাল রাখতে তাঁর সঙ্গে আপনার কমফর্ট লেভেলটা ভাল হওয়া জরুরি। কমিউনিকেট করুন। অনেক কাপলই সারাদিন একসঙ্গে থাকলেও নিজের নিজের জগতে ব্যস্ত থাকেন! পাশে বসে থাকলেও মোবাইল-ল্যাপটপে ডুবে থাকেন। কথোপকথনের বড্ড অভাব। এমনটা মোটেও কাম্য নয়। তা সে সুস্থ সম্পর্কের জন্যই হোক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই হোক! বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আলোচনা করুন। তাঁর পছন্দমতো করে খানিকটা সময় কাটান।অনেকসময় কোনও ব্যক্তির ভাললাগার বিষয়গুলোর মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক ফুটে ওঠে। যেমন কেউ হয়তো লেখালেখি করতে ভালবাসেন। তাঁর লেখার মধ্যে দিয়েও তাঁর মনের হদিশ পেতে পারেন। সবমিলিয়ে এত নেগেটিভিটির মধ্যেও পজ়িটিভ এনার্জি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে আমাদেরই! #বিবাহবিডি #Bangladeshi Bride Groom #Bangladeshi Matrimonial Site #Matrimony Bangladesh.

সফলতা ও দাম্পত্যে অবহেলা

জীবনে ক্যারিয়ার সফলতা কে না চায়। দাম্পত্যে জীবন থাকুক মধুময় এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সবারই থাকে প্রত্যাশা। অনেকের ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারে সফলতা যখন দাম্পত্যে জীবনের দরজায় এসে কড়া নাড়ে তখন ব্যাক্তির অগোচরে দাম্পত্যে জীবন অবহেলিত হতে থাকে। সপ্তাহের অধিকাংশ সময় অফিসে কাটানোর ফলে কাজের প্রভাব সহজেই ব্যক্তিগত জীবনে পড়তে পারে। প্রায়ই এরকম হতে থাকলে সংসারে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই মানসিক চাপ তৈরি হয় এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দাম্পত্য জীবন।

যেভাবে বুঝবেন আপনার সফলতার আড়ালে দাম্পত্যে সম্পর্ক অবহেলিত হচ্ছেঃ

– অফিস শেষ তবুও বাসায় অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরা বা ছুটির দিনগুলতেও ঘরে বসে অফিসের কাজে ব্যাস্ত থাকা।

– স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছেন কিন্ত মন পরে আছে অফিসের কাজের দিকে অথবা বার বার উদাসীন হয়ে যাচ্ছেন।

স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়াঃ

কাজের চাপে আপনি হয়ত ভুলে যাচ্ছেন আপনার জন্য কেউ দিন শেষে অপেক্ষা করছে, ফোন বা ম্যাসেজ এর মাধ্যমে আপনার খবর নিচ্ছে কিন্তু আপনি তার প্রতিউত্তর দেয়ার বিষয়ে বিরক্ত বোধ করছেন। অথবা কাজের ক্লান্তিতে আপনার সঙ্গী কে সময় দিতে আপনার ভালো লাগছেনা। পরের দিন অফিস যেতে হবে সে উদ্দশ্যে আপনি ঘুমিয়ে পড়ছেন।

সন্তানের প্রতি বিরক্তবোধঃ

আপনার সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপনাকে প্রয়োজন কিন্তু আপনি সময় দিতে পারছেন না, তার কোন প্রয়োজনে আপনার সঙ্গ চাচ্ছে কিন্তু আপনি কাজের চাপে বার বার আপনার স্ত্রী বা পরিবারের কারও উপর দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছেন।

জীবনসঙ্গীর আচরণঃ

অফিস প্রসঙ্গে কথা বলার সময় যদি আপনার সঙ্গী আপনার চোখের দিকে না তাকায়, কাজে ব্যস্ততা দেখায় বা কথায় অন্য প্রসঙ্গে চলে যায় তাহলে বুঝবেন আপনি কাজ কে অতিমাত্রায় প্রাধান্য দিচ্ছেন।

ঘন ঘন ঝগড়াঃ

স্ত্রী কিছু আনতে বলছে বা করতে বলছে আপনি ভুলে যাচ্ছেন, সংসারের কাজের দায়িত্ব নিতে বিরক্ত হচ্ছেন। অথবা আপনার স্ত্রী আপনার কাছে সময় চাচ্ছে কিন্তু দিতে পারছেন না এ নিয়ে বারবার ঝগড়া হচ্ছে।

খাবারে অনীহাঃ

কাজের চাপে আপনি অফিসে খাবার খেতে ভুলে যান অথবা অফিস ও বাসায় দুই জায়গায়ই আপনি কাজের চাপে তুলনামুলক কম খাচ্ছেন এতে কিন্তু আপনি শারীরিক দিক থেকেও দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন। লক্ষ্য করুন এতে আপনার দাম্পত্যে জীবনে মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলতে অনুপস্থিত থাকাঃ

পারিবারিক অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে উপস্থিত থাকা মানে অযথা সময় নষ্ট মনে হচ্ছে। আপনার বিবাহবার্ষিকী, স্ত্রীর বা সন্তানের জন্মদিন ভুলে যেতে পারেন বা এ অনুষ্ঠানগুলতে উপস্থিত হতে দেরি লাগা।

ঘন ঘন অফিসের গল্প বলাঃ

আপনি হয়ত নিজেও খেয়াল করছেন না বা মনের অগোচরে আপনি বাড়িতে স্ত্রী বা পরিবারের সাথে অফিসের গল্প বেশী বলছেন। অথবা কথায় কথায় অফিসের উদাহরণ টানছেন।

সামাজিকতা রক্ষায় অনীহাঃ

সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলতে অংশ নিতে ইচ্ছে না হওয়া। সামাজিক বিষয়গুলো আপনার বিরক্ত লাগছে ফলে আপনার স্ত্রী-সন্তান অনেক বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আর এ নিয়ে আপনার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া লেগে থাকা।

করনীয় কিঃ

অফিসের কাজ অফিসেই করুন কাজের চাপ যত বেশী হোক।

ছুটির দিনগুলোতে স্ত্রী-সন্তান কে সময় দিন, ঘুরতে নিয়ে যান, তারা যেভাবে সময় কাটাতে চায় সেভাবে তাদের সাথে উপভোগ করুন।

খাবার সময়মত ও প্রয়োজন মত খাবেন। দাম্পত্যে জীবনে আপনার শারীরিক সুস্থতা অনেক জরুরী।

স্ত্রী কে তার চাহিদামত সময় দিন এতে দাম্পত্যে জীবন অনেক মধুময় হবে।

হয়ত বিশেষ দিন গুলো আপনার মনে থাকবে না। তবে বিশেষ দিনগুলো তে আপনার স্ত্রী, সন্তানদের সাথে পুরোটা দিন কাটানোর চেষ্টা করুন।

অফিসের গল্প স্ত্রীর সাথে বেশী বলবেন না। এতে আপনার প্রতি তার সন্দেহও আসতে পারে তাই চেষ্টা করুন অফিস কে অফিসের জায়গায় রাখতে আর ব্যাক্তিগত বিষয়গুলো স্ত্রীর সাথে শেয়ার করতে।

অফিস থেকে বাড়িতে ফেরার পর আপনার সঙ্গিনীর আচরণে লক্ষ্য করুন। আপনার উপর তার কোন রাগ বা কষ্ট আছে কি না। যদি এরকম কিছু মনে হয় তবে তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন।

কাজকে দাম্পত্যে জীবনে বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করুন যেন আপনার ব্যস্ততা কে আপনার সঙ্গিনী সন্দেহ না করেন।

সন্তানের প্রতি মনোযোগী হন। সন্তানের প্রতিষ্ঠানে আপনাকে দরকার হলে অবশ্যই উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়া আপনাকে তার কখন কোথায় প্রয়োজন বা সে আপনাকে চাচ্ছে এ বিষয়গুলতে মনোযোগ দিন। এতে আপনার দাম্পত্যে ঝগড়া বা মনোমালিন্য অনেকটা কম হবে।

অফিসে কাজের খুব চাপ, এ দিকে আপনার সঙ্গী কে সময় দিতে পারছেন না। বাসায় ফেরার পথে উপহার বা ফুল নিয়ে যান এতে আপনার সঙ্গিনীর রাগ ঘুচে যাবে।

কাজের চাপে সন্তান কে সময় দেয়া হচ্ছে না, বাড়িতে ফেরার সময় খেলনা বা তার পছন্দের কিছু উপহার নিয়ে যান।

কাজ মানেই ব্যস্ততা এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনার সঙ্গীর সাথে ফোনে বা ম্যসেজে কথা বলতে হবে বিষয়টা তা না, সময় করে কয়েক মিনিটে কিন্তু তার খোঁজ নেয়াই যায়। এ ছোট-খাটো বিষয়গুলো দাম্পত্যে সম্পর্ক আপনার অজান্তেই স্বাস্থ্যকর করে তুলবে।

সামাজিক কর্মকাণ্ড গুলতে অংশ নিন। যদি আপনি সামাজিক কাজগুলো করতে না পারেন ফলে পারিবারিক সম্পর্কেও এক সময় অসামাজিক হয়ে যাবেন। তাই দাম্পত্যে জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে আপনি যখন সামাজিকতা বিষয়গুলো রক্ষা করবেন।

দাম্পত্য জীবনে বেশীরভাগ ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়ে থাকে সঙ্গীর কাজের ব্যস্ততার ফলে। আবার ক্যারিয়ারে সফলতা কেও ফেলে দেয়া যাবে না। তাই প্রয়োজন এ দুয়ের মধ্যে সমতা রক্ষা। আর এই সমতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন নিজেকে ছুটি দেয়া।

সঙ্গীর সন্তানই প্রায়োরিটি

যাঁকে মনে ধরেছে, তিনি হয়তো কারওর মা কিংবা বাবা। তা বলে প্রেমে বাধা কোথায়! প্রেমিক বা প্রেমিকার সন্তান থাকলেও দিব্যি সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন। শুধু সন্তানকে প্রায়োরিটি দেওয়া জরুরি।

কে ভবিষ্যতের সঙ্গী হিসেবে ভেবে নিয়েছেন, হতেই পারে তিনি একটা সময়ে বিবাহিত ছিলেন! আর তিনি হয়তো এক বা দুই সন্তানের মা কিংবা বাবা।কিন্তু এসবে কি আর প্রেম আটকায়! যাঁকে মনে ধরেছে, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করবে, সেটা স্বাভাবিক। আর সেই ইচ্ছের সৌজন্যেই নিয়মিত ডেটিং। কফিশপে, রেস্তরাঁয়, লং ড্রাইভে…সঙ্গী সেই বিশেষ বন্ধুটি। কিন্তুটি তাঁর সন্তানকে তো অগ্রাহ্য করলে চলবে না! তিনিও তা চাইবেন না। হ্যাঁ, নিজেরা কিছুটা সময়ে একান্তে কাটাতেই পারেন। 

কিন্তু একই সঙ্গে জরুরি হল হবু সঙ্গীর সন্তানকে আপন করে নেওয়া। সন্তান-সহ কাউকে ডেট করার আগে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আপনি হয়তো আগ্রহী তাঁর ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে! তবে উত্তেজনায় খুব তাড়াহুড়ো করে ফেলবেন না। আগে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করুন। সাধারণত, এই পর্যায়ে এসে ক্যাজ়ুয়াল ডেটিংয়ের ইচ্ছে আপনার সঙ্গী প্রকাশ করবেন না।তিনি যদি আপনাকে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করবেন বলে ভাবেন, তা হলে আপনারও প্রয়োজন নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে তোলা। শুধুমাত্র প্রেমিক বা স্বামী নয়, সম্পর্কের অব্যবহিত পর থেকেই আপনাকে বাবা-মা বা কেয়ারগিভারের দায়িত্ব সামলাতে হবে। 

আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, সেই দায়িত্ব নিতে আপনি তৈরি তো! বাচ্চাটির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। একজন নতুন মানুষকে সে তার জীবনে জায়গা করে দিতে চলেছে—এর প্রতিক্রিয়া এক একটি বাচ্চার এক একরকম। তাই, ওর মনোজগৎটা বোঝা একান্ত দরকার। ডেটিংয়ের জায়গা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সন্তানকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। কোনও কিড-ফ্রেন্ডলি কাফে বা পার্কে যেতে পারেন। ডেটিংয়ের যাবতীয় পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিলও হতে পারে! সৌজন্যে সন্তানের শরীর খারাপ বা পরীক্ষার চাপ। সেরকম পরিস্থিতির জন্যও তৈরি থাকতে হবে। সঙ্গীকে ভালবাসার অর্থ এখানে তাঁর ছেলেমেয়েকেও সমান ভাবে ভালবাসা। আর এটি সচেতন সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই সম্ভব। উনি যদি তাঁর প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে যোগাযোগ রাখেন, তা হলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না। 

যদি কোনও কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন, সন্তানের সামনে নয়।সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আপনার সঙ্গী ও তাঁর প্রাক্তন নিতেই পারেন। কিন্তু প্রাক্তনের সঙ্গে তিনি ঠিক কতটা সম্পর্ক রাখবেন, সে ব্যাপারে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে আসা চাই। সুত্রঃ সানন্দা

অমিল গুলো মেনে নিন – সুখে থাকুন

তাকে বোঝার চেষ্টা না করাটাই হল প্রধান বাধা। ভালবাসা চান কিন্তু তার মন, মেজাজ, রুচি কেমন সেদিকে খেয়াল রাখছেন না, এমন হলে মিল হবে না। মিলন ত দূরে! খেয়াল রাখার কাজটা মানুষ সাধারণত অভ্যাসবশে করে। অভ্যাসবশে সবটা খেয়াল করতে পারলে সেটা খুব চমৎকার, কিন্তু অভ্যাসবশে সবটা খেয়াল করা নতুন নতুন মোটেও সম্ভব না।

বিশেষ মনোযোগ আবশ্যক। কারণ নতুন নতুন সে তার মনের কথা, সব কথা গড়গড় করে আপনাকে বলে দেবে না। হয়ত একটা শব্দ বলল, তাও এমনভাবে বলল যে তা আপনার মনে কোনো দাগ কাটল না। একটু পরেই ভুলে গেলেন। এমন হলে বিপদ আছে।

যা বলছে তা গভীরভাবে মন দিয়ে উপলব্ধি করুন। সমস্যা বোঝার চেষ্টা ও ভাল লাগার বিষয়-আশয় জানার চেষ্টা থাকবে। তারপর সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ ও ভাল লাগায় পানি ঢালা, সার দেওয়া, ভালবাসার চারা লাগানোর কাজটা! প্রক্রিয়া লম্বাই বটে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সবাই লম্বা সময় দেয়ও বটে, কিন্তু প্রায়ই একপক্ষ মোটেও ধৈর্য ধরতে চায় না! এখানে যথেষ্ট গোল বাধে।

তার মনের কথা, সমস্যার কথা বোঝার উপায় কী?

প্রয়োজনে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করতে হবে! নয়ত বলবে কেন? আপনি তার কে যে আপনাকে গড়গড় করে সব বলে দেবে?

বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় দরকার। আগ্রহ থাকবে পুরোপুরি। তবে এগোতে হবে একটু করে। তাড়াহুড়ো করলে ফল ধরার সম্ভাবনা কম।

জানতে হবে বোঝাপড়ার সীমানা।

সে যতটুকু চায় ততটুকু বোঝার চেষ্টা করা ভাল। এমনকি সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলেও মনে রাখা ভাল সে কতটুকু আপনাকে বলতে চায়। যা বলতে চায় না তার জন্য চাপাচাপি ভাল না।

ভালবাসা মানে সবকিছু শেয়ার করা?

এ ব্যাপারে সবাই এক মত না। সুতরাং তার একান্ত কিছু বিষয় তার মধ্যেই থাকতে দেওয়া ভাল। আপনি বরং আরো ঘনিষ্ঠ, আরো বিশ্বস্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে একদিন হয়ত সব বলে দেবে। প্রতিটা মানুষই দেহে ও মনে আলাদা। তাহলে আপনি তার সঙ্গে শতভাগ মিল চান কোন আক্কেলে? সে আমাকে এটা বলল না, সে কেন এটা করল—এসব নিয়ে দুঃখ-মনস্তাপ না করাই ভাল। বরং কিছু অমিল মেনে নিতে পারলেই সুখের সম্ভাবনা বেশি।

আদর্শ জীবনসঙ্গী বিষয়টি আসলে কি?

বিভিন্ন বই পুস্তকে, সিনেমার গল্পে  একটা বিষয় ঘুরে ঘুরে আসে, সেইটা হচ্ছে একজন  আদর্শ জীবন সঙ্গী বা সোলমেটের বিষয়টি। বেশীর ভাগ গল্পের কেন্দ্রে থাকে এই সোলমেট বা আদর্শ জীবন সঙ্গী, বাকী গল্পটা প্রবর্তিত হয় তাকে ঘিরে ,এই ধরনের কাহিনী বা গল্প দ্বারা আমরা বাস্তব জীবনে অনুপ্রাণিত হয়। আমাদের মধ্যে একটা ধারনার সৃষ্টি হয় যে, একদিন এক রাজকুমার আমাদের জীবনে আসবে,এসে পুরা জীবনটায় বদলে দেবে, জীবনটাকে পরিপূর্ণ করে তুলবে।

কিন্তু বাস্তবে কি এইটা সম্ভব?আসলেই কি একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব অন্য আরেক জনের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলা? এই ধারনাটি সম্পূর্ণ ঠিক না, কারন এতো বড় পৃথিবীতে বিশেষ একজন মানুষকে খুঁজে বের করা আসলেই অনেক কঠিন একটা কাজ।

তাহলে মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমরা কি ভালোবাসার মানুষের সন্ধান করা বন্ধ করে দিবো?

বিষয়টা আসলে এমন দাড়ায়, আমাদের যদি ধারনা থাকে যে আমাদের একজন সুনির্ধারিত জীবন সঙ্গী আছে তবে তাকে খুঁজে বের করার আগ্রহ বেড়ে যাবে। যদি বিশেষ কেউ না থাকে তবে ভালোবাসার অনুভূতি আর সাধারণ ভালো লাগার মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে না। তখন মনে হবে যদি বিশেষ কেউ না থেকে থাকে তবে খুঁজে লাভটা কি?

আদর্শ জীবন সঙ্গী বা সোলমেট ছাড়া ভালোবাসা শব্দটি একে বারে অর্থহীন, যদিও বাস্তবের ভালোবাসা, কল্পনার জগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কারন, বাস্তবে আমরা যাকে ভালোবেসে সম্পূর্ণ জীবনটা তার সাথে কাটাতে চায়, সেই সম্পর্কটা গড়ে তুলতে আমাদেরকে অনেক ভালো-খারাপ অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, করতে হয় অনেক সমঝোতা, দিতে হয় অনেক ত্যাগ। শুধু ব্যাক্তিটা কে খুঁজে পেলে হয় না।

বাস্তবমুখী ভালোবাসাঃ বয়স যখন কম থাকে তখন চোখে থাকে রঙ্গিন স্বপ্ন, তখন কাউকে ভালো লাগলে মনে হয় এই বুঝি আমার স্বপ্নের মানুষ, কিন্তু বাস্তবে সেটা না ও হতে পারে। সত্যিকারের ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী হয় না কিংবা কাউকে সাময়িক ভালোলাগা নয়। বাস্তবে সত্যিকারের ভালোবাসা হচ্ছে একে অন্যকে খেয়াল করা, বাহ্যিক সৌন্দর্য দ্বারা প্রভাবিত হয় না, সম্পর্ক যতোয় পুরানো হোক না কেন ভালোবাসার পরিমাণ একই রকম থেকে যায়, এরকমটা কেবল সত্যিকারের ভালোবাসায় হয়। দুই জন মানুষের একে অন্যের প্রতি প্রবল টান, এক সাথে থাকার ইচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি, এগুলো সত্যিকারের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আদর্শ জীবন সঙ্গী বা সোলমেট আমাদের প্রত্যেকের জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সত্যিকারের ভালোবাসার সার্থকতা যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

মানুষটাকে কি ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী হবার যোগ্য !

যখন কারো প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখন কিছু আচার আচারন, ভাব বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে বোঝা যায় –  আপনি আপনার সঙ্গীকে কি পরিমাণ ভালোবাসেন এবং তার বিপরীতে কি পরিমাণ সাড়া তার কাছ থেকে পাচ্ছেন এবং তা বিয়ের বন্ধনের জন্য যথেষ্ট কিনা । একই ভাবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা যায় যে,  আপনার সম্পর্কটি বিয়ের মত একটি সিরিয়াস সিদ্ধান্তে যাওয়ার মত পরিপক্ষতা পেয়েছে  কি না।  যাকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার কথা ভাবছেন সে আপনার জন্য সঠিক মানুষ কি না।  এবং  মানুষটাকে ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করবেন কি না –

ভবিষ্যৎ কল্পনাঃ আপনি যখন কারো প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তখন তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন কল্পনা করতে শুরু করেন, ঠিক রূপকথার গল্পের মতো। এরকম ভাবনা গুলোর সৃষ্টি হয় মানুষের হরমোনের ক্রিয়ার ফলে এবং প্রতিটা মানুষের মনে এরকম কল্পনা আসে।  যদিও সব ভালোবাসার সম্পর্ক বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত যায় না।  আপনি যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে সারা জীবনের সঙ্গী হিসাবে পেতে চাইবেন তখন অবশ্যই বাস্তবতাকে বিবেচনা করবেন শুধু কল্পানায় ভেসে যাবেন না।

সঙ্গীর মতামতঃ যখন দুজন মানুষ একে অন্যকে পাগলের মত ভালোবেসে এক হয়ে যায় এর অর্থ এই নয় যে তারা আদর্শ জীবন সঙ্গী হবে।  বিয়ে বিষয়টা খুব পরিষ্কার মাথায় বিবেচনা করা উচিৎ। একটা স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তখন তৈরি হবে তখনই, যখন আপনার সঙ্গীকে আপনি সমর্থন করবেন।  যদিও অনেক ক্ষেত্রে আপনাদের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে।

ক্ষমা করাঃ যে কোন সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর কোন দোষ বা ত্রুটি আমাদের চোখে পড়ে না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে হয়তো আমাদের সঙ্গী আমাদের মনে কষ্ট দিতে পারে, এমন কোন ঘটনা ঘটাতে পারে যেটা আমরা ভাবতেও পারি না।  যখন সঙ্গীর এই দোষ গুলো ক্ষমা করতে প্রস্তুত থাকবো, তখনই ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করবো।  অবশ্য এই ক্ষেত্রে বড় কোন অপরাধ কে বিশেষ ভাবে বিবেচনা করবো, ক্ষমার অযোগ্য দোষকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কে স্থান দিনঃ সকল মানুষ তাদের চিন্তা চেতনায় আলাদা হয়, দুজন মানুষ একে অন্যকে ভালোবাসলেও তাদের ভাবনা, স্বপ্ন অথবা ইচ্ছা গুলো আলাদা হতে পারে।  যদি ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন তবে এই ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কে সম্মান দিতে হবে।

প্রতিক্রিয়া আপনার পরিমাপকঃ জীবন সঙ্গী নির্বাচনে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া করচ্ছেন।  ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার আচরণকে লক্ষ্য করলে আপনি নিজেই বুঝবেন সম্পর্কটা বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা।  যদি সম্পর্কটা নিয়ে বেশী খুঁতখুঁত করেন তবে সম্পর্কটাকে বিয়ে পর্যন্ত না নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভালোবাসলে মন থেকে ভালোবাসতে হবে, তা না হলে পরিণতিটা বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে না। ভালোবাসা ছাড়া যেমন কোন বিয়ে অপূর্ণ থাকে, ঠিক তেমনি সঠিক মানুষ ছাড়া ভালোবাসাও অপূর্ণ থেকে যায়।