সঙ্গীর মন খারাপ

মনখারাপের কথা মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেন না অনেকেই। ঠিক কী কারণে কেউ মানসিক চাপে ভুগঠেন, তা সবসময় বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যায় না! যে মানুষটাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেন, তিনিই হয়তো ভিতরে ভিতরে খুব ‘ডিস্টার্বড’, মনোকষ্টে ভুগছেন।

#ডিপ্রেশন’ বা #মেন্টাল_হেলথ নিয়ে এত কথার মাঝে আমরা সকলেই বলছি মনখুলে কথা বলার জন্য। কিন্তু সবার কাছে কি আর সব কথা বলা যায়! না সবাই সবকিছু বুঝে সমাধানের রাস্তা দেখাতে পারেন! তবে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়ার আগে একবার যদি নিজের কাছের মানুষের কাছে মনের জানলা খুলে দেওয়া যায়, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া যায়, তাহলে হয়তো অনেকটা কষ্টই লাঘব হবে।

অনেকে স্বভাবগতভাবেই নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রাখেন, ইন্ট্রোভার্ট থাকতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার বাইরের মানুষের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করলেও মনের ভিতরের অনুভূতি-আবেগগুলোকে নিজের কাছেই রেখে দেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনারকে যেহেতু আপনি খুব কাছ থেকে দেখছেন, তাই তাঁর মনোজগতের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করুন। মনখারাপ চেপে রাখতে রাখতে তা একটা সময়ে ক্রনিক ডিপ্রেশনে পৌঁছে যায়। তখন সাইকলজিক্যাল সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ডিপ্রেশন হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয় না।

কিন্তু জমতে থাকা স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি মনের মধ্যে পুষে রাখলে তা পরবর্তীকালে গুরুতর রূপ নিতে পারে। আর এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাছের মানুষের সাহচর্য। লকডাউনে অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়টুকু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠুন। একে অপরকে ভাঙার বদলে গড়ে তুলুন। জবস্ট্রেস থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কোনও হঠাৎ আঘাত থেকে পুরনো ট্রমা…যে কোনও কিছুই তিনি যেন আপনার কাছে খোলাখুলি বলতে পারেন। তাঁর বন্ধু হয়ে ওঠা জরুরি। যাতে তিনি কোনওকিছু আপনার থেকে না লুকোন।

মনে রাখবেন, সঙ্গীর মন ভাল রাখতে তাঁর সঙ্গে আপনার কমফর্ট লেভেলটা ভাল হওয়া জরুরি। কমিউনিকেট করুন। অনেক কাপলই সারাদিন একসঙ্গে থাকলেও নিজের নিজের জগতে ব্যস্ত থাকেন! পাশে বসে থাকলেও মোবাইল-ল্যাপটপে ডুবে থাকেন। কথোপকথনের বড্ড অভাব। এমনটা মোটেও কাম্য নয়। তা সে সুস্থ সম্পর্কের জন্যই হোক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই হোক! বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আলোচনা করুন। তাঁর পছন্দমতো করে খানিকটা সময় কাটান।অনেকসময় কোনও ব্যক্তির ভাললাগার বিষয়গুলোর মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক ফুটে ওঠে। যেমন কেউ হয়তো লেখালেখি করতে ভালবাসেন। তাঁর লেখার মধ্যে দিয়েও তাঁর মনের হদিশ পেতে পারেন। সবমিলিয়ে এত নেগেটিভিটির মধ্যেও পজ়িটিভ এনার্জি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে আমাদেরই! #বিবাহবিডি #Bangladeshi Bride Groom #Bangladeshi Matrimonial Site #Matrimony Bangladesh.

সন্তানের উপর বিচ্ছেদের প্রভাব

বিবাহবিচ্ছেদ একজোড়া নারী-পুরুষ আর সেই সাথে তাদের সন্তানদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যে কারণেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হোক না কেন, শিশু সন্তানটির উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।অত্যন্ত সচেতনতা, পারদর্শিতা আর অগাধ ভালোবাসা ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমেই শিশুর মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, হতাশা, অনিশ্চয়তা দূর করে তার সুস্থ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হয়। তা না হলে এর বিরূপ প্রভাব থেকে সারা জীবনেও হয়ত সে বের হতে পারবে না, তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমস্যা থেকে যাবে এবং পরবর্তী জীবনে অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী করবে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয় সাধারণত খুব সহজে সম্পাদিত হয় না, এর কিছু পূর্বগামী ঘটনা থাকে যেগুলো মোটেও সুখকর না। এই অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর সাক্ষী কিন্তু ছোট্ট শিশুটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহ, মানোমালিন্য, শারীরিক নির্যাতন, কান্নাকাটির মতো অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুটিকে যেতে হয়।বাড়ির ছোট শিশু এসব দেখে বাড়ির আবহ বুঝতে পারে। সরাসরি মা-বাবার কলহ না দেখেও মা-বাবার চেহারা, প্রকাশভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি দেখে তাদের রাগ, ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট বুঝতে পারে। আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে, বাচ্চারা কিছু বোঝে না। প্রকৃতপক্ষে শিশুরা সবই বোঝে আর তারা তাদের নিজেদের মতো করে বিষয়টি বুঝে নেয়। অনেক স্বামী স্ত্রী সন্তানদের সামনেই পরস্পরের প্রতি কটূক্তি, গালাগালি, হাতাহাতি করে থাকে কিংবা শিশুটিকে ঘটনার সাক্ষী রাখে। এর সবই শিশুসন্তানটির উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বড়রা অনেক সময়ই নিজেদের স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার করে যা অত্যন্ত অনুচিত।

একজন শিশুর পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বড়দের মতো নয়। সে সব বোঝে, তবে নিজের মতো করে। তাই পরিস্থিতির সাথে নিজের মতো করে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করে। অনেক সময় ছোট ঘটনা তার মধ্যে বড় অনিশ্চয়তা তৈরী করে। সামান্য উদ্বেগ তার মধ্যে বিশাল ভীতির সঞ্চার করে। এর সবকিছু নিয়ে শিশুটি খুব নাজুক পরিস্থিতিতে থাকে। মা কিংবা বাবার মৌখিক আশ্বাসও তাকে নিরুদ্বেগ রাখতে পারে না। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে যেসব সমস্যা থাকে তা হলঃ

  • নিজেকে গুটিয়ে নেয়া
  • পারিবারের বাইরের লোকের সামনে লজ্জা পাওয়া, মিথ্যা বলা
  • মা বা বাবাকে (বা যার সাথে শিশুটি এখন থাকে )হারিয়ে ফেলার ভয়, অনিশ্চয়তার অনুভূতি
  • বিষন্ণতা
  • নিজের চাহিদার কথা না বলা
  • আগের তুলনায় চুপচাপ হয়ে যাওয়া
  • অস্থিরতা প্রকাশ করা বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
  • পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো
  • বাবা-মা অথবা নিজেকে দোষারোপ করা
  • নেশা করা বা অপরধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়া
  • আচরনগত বৈকল্যের শিকার হওয়া

বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এমন পরিবারের বিভিন্ন বয়সী শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণা থেকে দেখা যায়, ৭-৮ বছরের শিশুদের মাঝে দুঃখবোধ, মনমরা ভাব, হারানোর অনুভূতি- সেই সাথে ভয় আর অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। একই সাথে তারা নিজেদের পরিত্যক্ত ও অবাঞ্ছিত ভাবে।৯-১০ বছর বয়সী শিশুরা রাগান্বিত বোধ করে। কারণ তারা নিজেদের অবহেলিত, বঞ্চিত এবং একাকী মনে করে। অপরদিকে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা রাগ, লজ্জা, মনখারাপ ইত্যাদি বোধ করে।

৫ বছরব্যাপী আরেকটি গবেষণাঃ জরিপে অংশগ্রহণ করেছে এমন শিশুদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানিয়েছে তারা এখন সুখী।২৯ শতাংশ মোটামুটি মানিয়ে চলছে। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, তারা এখনও বিষন্ণতায় ভুগছে। এ ধরণের বহু গবেষণায় শিশুদের বিবাহবিচ্ছেদের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ক্ষেত্রে তার সাথে বেশি সময় কাটান। তার হতাশা, দুঃখ ও ভয় বোঝার চেষ্টা করুন। বাস্তবসম্মতভাবে মোকাবেলার উপায় শেখান। শিশু মা-বাবার (যিনি শিশুর সাথে থাকেন না ) অভাব অনুভব করছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করুন।কারণ শিশু হয়ত আপনাকে হারানোর ভয়ে অথবা আপনি কষ্ট পাবেন এ চিন্তা থেকে তার সত্যিকারের অনুভূতি আড়াল করে রেখেছে। তাকে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তার জন্য সে দায়ী নয়। কারণ ছোট শিশুরা অনেক সময় ভেবে থাকে যে, তার কারণেই এমনটি ঘটেছে। কখনোই শিশুর সামনে তার মা-বাবা সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। এতে শিশুরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করে এবং দিশেহারা হয়ে পড়ে। সম্ভব হলে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তা আমাদের মধ্যে, তুমি আমাদের সন্তান, আমরা তোমাকে ভালোবাসি। একসাথে না থাকলেও। অনেক সময় যে পরিবারে শিশুটি রয়েছে সেখানে মা-বাবার প্রসঙ্গ কঠোরভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এতে শিশুর মধ্যে মা-বাবা সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসা থাকলেও সে ভয়ে কোন কিছু বলতে পারে না। তাই তার মনে কোনো প্রশ্ন এলে তা যেন অবলীলায় জিজ্ঞেস করতে পারে-এরকম পরিবেশ বজায় রাখুন।

শিশুটির বাবা (অথবা মা )নেই।তাই তাকে বেশি বেশি খেলনা দেওয়া বা এধরণের আচর থেকে বিরত থাকুন। বস্তুর চেয়ে বড় তার আবেগ-অনুভূতির সঙ্গী হওয়া, তাকে আশ্বস্ত করা এবং এই কষ্টকর অনুভূতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করা।

বাবা-মা যে-ই থাকুক না কেন, শিশুর মানসিক সহয়তার জন্য তার পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বা কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের সহায়তা নিতে হবে।

মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এ ধরণের শিশুদের প্রতি আমাদের সচেতনতা, ভালোবাসা ও সহায়তা তাদের হতাশা, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ, একাকীত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবার সাহস ও মনোবল জোগাবে।

লিখেছেনঃ

মেহজাবীন হক
প্রফেসর, 
এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সংখ্যাতত্ত্বে বিচ্ছেদ

ডিভোর্স শব্দটির আভিধানিক অর্থ বিবাহচ্ছেদ অথবা বিবাহবিচ্ছেদ। বিবাহিত নর-নারীর জীবিত অবস্থায় আইনগত বিবাহ-সম্পর্কের পরিসমাপ্তিই ডিভোর্স। শব্দটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গ্রামবাংলার নারীদের মুখ ও তাঁদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কষ্ট। আমাদের সমাজে নারীর জন্য অভিশপ্ত জীবন বয়ে আনে ডিভোর্স। চিরায়ত নারীর কাছে স্বামীর ঘরই যেন সকল নিরাপত্তার এবং শান্তির আশ্রয়। পক্ষান্তরে পুরুষেরা ডিভোর্সের মাধ্যমে পুনর্বিবাহের সুপ্ত বাসনা কায়েমের সুযোগ খুঁজে পায়। এটা যেন সামাজিক রীতি। শহর অঞ্চলে ডিভোর্সের পরিব্যাপ্তির রূপ ভিন্ন। ডিভোর্স যেন স্বাধীনতা বা অধিকারের ঢাল। মেয়েরাই ছেলেদের তুলনায় বেশি ডিভোর্সের আবেদন বেশি করে। পরকিয়া (বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক )বা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে তিক্ততা ডিভোর্সের অন্যতম কারণ,  যা নারীর অধিকার রক্ষার হাতিয়ার। পাশ্চাত্যে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডিভোর্সের হার পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ৫০ শতাংশ বিবাহ ডিভোর্স পর্যন্ত গড়ায়। ৬৭ শতাংশ দ্বিতীয় বিবাহ ভেঙে যায়। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহচ্ছেদের হার কমে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিবাহচ্ছেদের আর্থিক অক্ষমতা।

ডিভোর্সের একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান

আমাদের দেশে ডিভোর্সের হার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল অনুসারে, মার্চ ১৯৯৫ থেকে মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত সারাদেশে ডিভোর্সের আবেদন পড়েছে ১৭৩০, যার মধ্যে ঢাকায় ১৩১৭, চট্টগ্রামে ১৩৭, বরিশালে ১০১, খুলনায় ৭২, সিলেটে ৪৮ এবং রাজশাহীতে ১ টা।

২০১৮ সালের জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোতে উঠে আসে বিগত বছরগুলোর বিচ্ছেদের হারঃ

ঢাকা ঊত্তর সিটিতে ডিভোর্সের আবেদন পড়ে – ২০১২ সালে ২,৮৮৮ টি,  ২০১৩ সালে ৩,২৩৮ টি, ২০১৪ সালে ৪,৪৪৫ টি, ২০১৫ সালে ৪,০৭৭ টি, ২০১৭ সালে ৫,০৪৬ টি

ঢাকা দক্ষিন সিটিতে ডিভোর্সের আবেদন পড়ে – ২০১২ সালে ৪৫১৮ টি, ২০১৩ সালে ৪,৪৭০ টি, ২০১৪ সালে ৪,৬০০ টি, ২০১৫ সালে ৪,৮৯৭ টি, ২০১৭ সালে ৫,২৪৫ টি

ডিভোর্স কেন হয়

ডিভোর্সের কারণ বহুবিধ। এটা গ্রাম ও শহরে বা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রভৃতি বিভিন্ন ডিসকোর্সে প্রভাবিত। গ্রাম অঞ্চলে ডিভোর্সের প্রধান কারণ যৌতুক। এছাড়া স্বামী কৃর্তৃক স্ত্রীকে নির্যাতন, সন্তান না হওয়া, ছেলে সন্তান না হওয়া, যৌনজীবনে অক্ষমতা, বহুবিবাহ, স্ত্রী বা স্বামীর মানসিক রোগ অন্যতম কারণ। অন্যদিকে শহর অঞ্চলে পরকিয়া, স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে নির্যাতন, সন্তান না হওয়া, স্বামী স্ত্রীর দ্বন্ধ, ব্যক্তিত্বের সমস্যা, যৌনজীবনে অক্ষমতা, মাদকাসক্তি. দ্বন্ধ নিরসনে দক্ষতার অভাব ডিভোর্সের প্রধান কারণ।

যুক্তরাজ্যের বিবাহসম্পর্কিত এক রিপোর্টে গ্রান্ট থরন্টম ডিভোর্সের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নিম্নরূপ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন:

  • বিয়েবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ও স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বাসভঙ্গ ২৭ শতাংশ
  • পারিবারিক নির্যাতন ১৭ শতাংশ
  • মধ্যবয়সের ক্রাইসিস ১৩ শতাংশ
  • মাদকাসক্তি (অ্যালকোহল আসক্তি ও গ্যাম্বলিং ) ৬ শতাংশ
  • কর্মক্ষেত্রে অ্যালকোহল আসক্তি ৬ শতাংশ পরকিয়ার কারণে পুরুষ ৭৫ শতাংশ এবং নারী ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী।

বাংলাদেশ মুসলিম আইন রেজিস্ট্রারের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল হুসাইনের মতে, ডিভোর্সের অন্যতম কারণ পারিবারিক নির্যাতন যা নারী-পুরুষ উভয়ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ডিভোর্সের মানসিক প্রভাব

ডিভোর্স শুধু স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বিচ্ছেদ নয়। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক বিচ্ছেদ, মানসিক বিচ্ছেদ এবং সর্বোপরি সন্তানের সাথে তাদের সামগ্রিক সম্পর্কের টানাপড়েন। ডিভোর্স যে দেয় এবং যাকে দেয়া হয়- দুজনের উপরই ভিন্ন মানসিক প্রভাব পড়ে। যে ডিভোর্স দেয় সে ভীতিবোধ, নির্ভার, দূরত্ববোধ, অসহিষ্ণুতা, বিরক্তিবোধ, সন্দেহ ও অনুশোচনায় ভোগে। আর যাকে ডিভোর্স দেয়া হয় সে হতবিহ্বল, প্রতারিত, আত্মনিয়ন্ত্রণহীন, নির্যাতিত, আত্মমর্যাদা হ্রাস, নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে। তারপর ক্রোধের মাঝে সান্ত্বনা খুঁজতে থাকে। ডিভোর্স হঠাৎ করে হয় না। ডিভোর্স একরাতে বা একটি দুর্ঘটনার ফল না। ডিভোর্সে শারীরিক বিচ্ছেদের পাশাপাশি মানসিক বিচ্ছেদ হয়ে থাকে। মানসিক বিচ্ছেদ বিভিন্ন ধাপে হয়ে থাকে যা কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। আবেগী বিচ্ছেদের ধাপগুলো নিম্নরূপ:

ভ্রান্তিকর চিন্তা (যা মৌখিক প্রকাশের ১-২ বছর আগে শুরু হয় )

  • ভ্রান্ত অসন্তুষ্টি, অবিশ্বাস, তর্ক, বিরক্তি
  • বাস্তব সমস্যা অস্বীকার
  • দূরত্ব বৃদ্ধি ও পারস্পরিক আস্থাহীনতা
  • বিচ্ছেদের স্ট্রাটেজি ঠিক করা
  • এ সময়ের অনুভূতি: ভয়, অস্বীকৃতি, দুশ্চিন্তা, অনুশোচনা, ভালোবাসা, রাগ, বিষন্ণতা, শোক।

অসন্তুষ্টি প্রকাশ (আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ৮-১২ মাস পূর্বে )

  • অসন্তুষ্টি প্রকাশ বা উভমুখী আচরণ
  • বিবাহ কাউন্সেলিং
  • এ সময়ের অনুভূতি: দায়হীন, টেনশন, রাগ, অনুশোচনা, তিক্ততা, সন্দেহ, শোক।

বিবাহচ্ছেদের সিদ্ধান্ত (আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ৬-১২ মাস আগে )

  • আবেগের দূরত্ব তৈরী
  • কেউ কেউ ভ্রান্তিকর চিন্তার মধ্যে থাকে
  • উভয়ে নিজেকে নির্যাতিত মনে করে
  • এ সময়ের অনুভূতি: রাগ, বিরক্তি, বিষন্ণতা, পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যের প্রতি অসহিষ্ণুতা।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করা (আইনি পদ্ধতি শুরু )

  • শারীরিক বিচ্ছেদ
  • মানসিক বিচ্ছেদ
  • নিজেকে পুনঃপ্রস্তুত করা
  • সবার সাথে ডিভোর্স নিয়ে কথা বলা
  • আইনি পদ্ধতি গ্রহণ
  • বন্ধু-পরিবারের পক্ষাবলম্বন
  • ছেলেমেয়েদের দায়িত্ববোধ
  • এ সময়ের অনুভূতি: আঘাতবোধ, আতঙ্কগ্রস্ততা, ভয়, লজ্জা, অনুশোচনাবোধ, ও দোয়ারোপ।

গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো (আইনি পদ্ধতি গ্রহণকালীন বা পরে )

  • শারীরিক ও মানসিক অ্যাডজাষ্টমেন্ট
  • বিবাহ সুখ বা পরিপূর্ণতা আনে না বলে মনে করা
  • নিজের মধ্যে শক্তি ও নিয়ন্ত্রণবোধ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজেকে নতুন করে পরিচয় দেওয়া, নিজেকে মেধাবী ও সম্পদের অধিকারী মনে করা
  • আত্মনিয়ন্ত্রণবো: মন আগের চেয়ে ভালো থাকা ও জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ গ্রহণের আনন্দ অনুভব করা

নতুন করে শুরু ( আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা থেকে পরবর্তী ৪ বছরের মধ্যে )

  • অভিযোগ ও রাগ বাদ দিয়ে মাফ দেওয়া ও সম্মান প্রদর্শন, নতুন করে জীবন সূচনা করা
  • অনুধাবন: অন্তর্দৃষ্টি, গ্রহণযোগ্যতা, সামগ্রিক সম্পৃক্ততা, তুলনামূলক সন্তুষ্টি ও আইনি বিবাদ শেষ করা। ডিভোর্সর প্রভাব স্বামী, স্ত্রী, সন্তান ও তাদের পরিবারে পড়ে থাকে। ডিভোর্স হলে একজন নারীর পরিবার তার প্রতি অনেকসময় সহযোগিতামূলক আচরণ করে না। নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক স্টিগমা তাকে তার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। অর্থনৈতিকভাবে সে দরিদ্রতায় নিমজ্জিত হয়। শারীরিকভাবে সে অসুস্থ হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিধবা নারী বা পুরুষের অল্প বয়সে মৃত্যুর হার অন্যদের চেয়ে বেশি। ডিভোর্সের মানসিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি। মানসিকভাবে একজন বিধবা নারী বা পুরুষ অন্যদের চেয়ে বেশি অসুখী থাকে। দুশ্চিন্তা, বিষন্ণতা, মাদকাসক্তি এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে। পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিকভাবে তাকে ভিন্ন চোখে দেখা হয়।

ডিভোর্স যখন আশীর্বাদ

কখনও কখনও ডিভোর্স জীবনে ভালো প্রভাব ফেলে। কোনো কোনো নারী ডিভোর্সকে প্রশান্তিকর মনে করে। এতে তার বিবাহিত জীবন অতিমাত্রায় তিক্ততায় ভরে যায় না এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণ হয় না। কাথনিল ও কন্নেল করকরাণের মতে, ডিভোর্স একজন নারীর জীবনে মা ও স্ত্রীর ভূমিকা ছাড়াও নতুন ক্যারিয়ার, সামাজিক যোগাযোগ এবং নিজের ও পেশাগত ভূমিকা পালনে সুযোগ করে দেয় যার তার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করে।

বিবাহ বা বিবাহচ্ছেদ দুটিই সামজিক প্রথা। এটা সভ্যতার বিকাশে আদিম অসভ্য মানুষকে সভ্য মানুষ হিসেবে একবিংশ শতাব্দিতে পৌঁছে দিয়েছে। বিবাহ মানুষকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্য উপায়ে বংশানুক্রমিক করে তোলে। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও পারিবারিক কাঠামো গঠনের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। বিবাহ তাই সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ রীতি। কিন্তু কখনও কখনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। তাই বিবাহবিচ্ছেদ সর্বদা নেতিবাচক না হয়ে ইতিবাচকও হতে পারে।

লিখেছেনঃ

ডা. মো. রশিদুল হক
এমবিবিএস (ডিএমসি ), বিসিএস (স্বাস্থ্য),এফসিপিএস(সাইকিয়াট্রি )
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও রেজিষ্ট্রার, মানসিক রোগ বিভাগ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

বিয়ে নিয়ে পাঁচটি ভুল ধারণা

নারী বা পুরুষ বিয়ের আগে যখন মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন বা একাকিত্ব বোধ করেন, তখন ভাবেন বিয়ে করলেই হয়তো এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনি যদি এমনটি ভেবে থাকেন, তাহলে তা হবে ভুল। বিয়ে আপনার এসব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। বিয়ে সম্পর্কে প্রচলিত এমন পাঁচটি ভুল ধারণার কথা তুলে ধরেছে মুম্বাই মিরর।

একাকিত্ব থাকবে না?

বিয়ে মানে সঙ্গী পাওয়া। তা নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সত্য। তাই দুই পক্ষই মনে করে, সঙ্গী যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে, একাকিত্বের যন্ত্রণায় ভোগার কোনো আশঙ্কা নেই। নারী মনে করেন, তিনি তাঁর স্বামীর কাছে এত দিনের না-বলা কথা, দুঃখ-কষ্ট বলে নিজেকে হালকা করবেন, তাঁকে বন্ধু বানিয়ে নেবেন। আশা করেন, স্বামীও তাঁর সব কষ্ট ভাগ করে নেবেন। কিন্তু বিয়ের পর নারীকে হতাশ হতে হয়। এমনই এক নারী বলেন, ‘বিয়ের পর আমার কখনো মনে হয় না, আমরা পরস্পরের সঙ্গে কোনো কিছু শেয়ার করি। আমি যখন বলি, সে কান দিয়ে শোনে, কিন্তু মন দিয়ে বোঝে না। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও মনে হয় না, আমরা একসঙ্গে আছি।’

যখন-তখন যৌনতা!

স্বাভাবিক যৌন-সম্পর্ক যেকোনো দাম্পত্যকে সুখী রাখতে সহায়তা করে। বিয়ের আগে মনে হয়, বিয়ের পর ইচ্ছে হলেই যখন-তখন যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব। বাস্তবে এমনটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। রোজকার বাস্তবতা, ব্যস্ততা ও সমস্যায় এমন আকাঙ্ক্ষা বিয়ের পর কমতে থাকে। এ নিয়ে দুই পক্ষেই হতাশা বাড়ে।

আর্থিক নিরাপত্তা

অবিবাহিতরা ধারণা করেন, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর যৌথ আয় সংসারজীবনে আর্থিক নিরাপত্তা দেবে। আসলে তা হয় না। নিজ নিজ আয়ে সংসারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। নিজের খরচের জোগান নিজেকেই দিতে হয়। এ বিষয়ে দম্পতির কেউ কাউকে তেমন একটা সহায়তা করেন না।

অন্যের স্বজন নিজের হয় না

বিয়ের পর নতুন আত্মীয়স্বজন-পরিজন নিয়ে সুখে বাস করার স্বপ্ন দেখেন অবিবাহিত নারী-পুরুষ। বিয়ের পর পর উভয়েই চেষ্টা করেন সঙ্গীর স্বজনকে আপন করে নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখে না। দিন শেষে নিজের রক্তের বন্ধনই প্রধান হয়ে দেখা দেয়। যখন কোনো সংকট দেখা দেয়, তখন এই সত্য প্রকট হয়। অন্য পরিবার থেকে আসা কেউ, সে যতই ভালো হোক না কেন; পক্ষপাতিত্ব চলে যায় নিজের স্বজনের দিকে। এ ক্ষেত্রে স্বপ্ন ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে, নতুন স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দেখান কিন্তু বেশি কিছু আশা করবেন না।

সমস্যার সমাধান সন্তানে?

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যখন একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন, তখন তাঁদের মনে হয় সন্তানের জন্মই হয়তো সংকটে সমাধান দেবে। এটি ভুল ধারণা। যথেষ্ট প্রস্তুতি না নিয়ে সন্তান নিলে তা বরং দাম্পত্য জীবনকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই সন্তান নেওয়ার আগে ভালো করে ভাবুন, আপনারা প্রস্তুত তো নতুন অতিথিকে নিয়ে সুন্দরভাবে সময় কাটানোর জন্য?

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো

সংসারের রসায়ন

প্রাচীন যুগের প্রারম্ভে জনৈক উদ্দালকের শিশুপুত্র উজ্জীবন একদিন সন্ধ্যায় খেলা শেষে বাড়ি ফিরে এসে তার মাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। বাবা উদ্দালক বিষণ্ন মনে বারান্দার খুঁটি ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। উজ্জীবন বারবার তার বাবাকে প্রশ্ন করল—মা কোথায়? আমাকে বলো, আমার মা কোথায়? উদ্দালক হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন এবং মেঝেতে ধপাস করে বসে পড়লেন। পুত্র পিতার প্রতি মারমুখী হয়ে উঠল—সত্যি করে বলো, আমার মা কোথায়…?

উদ্দালক দুই হাঁটুর মধ্যে থুতনি রেখে ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন—তোর মাকে কতগুলো অচেনা লোক এসে ধরে নিয়ে গেছে। সাত বছর বয়সী উজ্জীবন বলল—কেন?

—ওদের মধ্যে একজন তোর মাকে খুব পছন্দ করত।

—তা কেন হবে বাবা? তুমি ওদের বাধা দিলে না কেন? মাকে ধরে রাখলে না কেন?

—ওকে ধরে রাখার কোনো অধিকার আমার নেই। এত বছর আমার সঙ্গে থেকেছে। তোর জন্ম হয়েছে, কিন্তু আইনত ও আমার কেউ নয়। ও যে আমার স্ত্রী

—এ রকম প্রমাণ আমি দিতে পারিনি। কারণ আমাদের তো বৈধ কোনো সম্পর্ক ছিল না।

জনশ্রুতি রয়েছে উদ্দালকের সেই ছেলেই বড় হয়ে একদিন সমাজে নর-নারীর সম্পর্কের বৈধতা—অর্থাৎ বিবাহের প্রথাটি চালু করে। পরবর্তী সময়ে সভ্যতার ঊষালগ্নে এসে এক ধরনের যুক্তি দ্বারা তাড়িত হয়ে নৃবিজ্ঞানীরা বিয়ে সম্পর্কিত একটি বিশ্বজনীন তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কোনো কোনো নৃবিজ্ঞানী এই তত্ত্ব নির্মাণে মনোবিজ্ঞান, দৈহিক নৃবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞানের সাহায্য নেন। আবার কেউ কেউ এর একটি নিরেট সামাজিক ব্যাখ্যাও দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন।

বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব কিছু চিন্তা-ভাবনা। তারপর আসে পারিবারিক সদস্যদের সহযোগিতা এবং পরামর্শ।

বিয়ের আগেই দেখা দরকার দুই পক্ষের পারিবারিক সমতা, ক্ষমতা এবং পাত্রপাত্রী দুজনের ব্যক্তিত্ব আর যোগ্যতার মাপকাঠি সঠিক বিন্দুতে রয়েছে কি না। সেটি বয়স হতে পারে, শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে পারে, আবার বাহ্যিক সৌন্দর্যও হতে পারে। ভবিষ্যতে এ দুটি পরিবারের মধ্যে কোনো রকম সম্মান-শ্রদ্ধার ঘাটতি দেখা দেবে না তো? বংশ মর্যাদা নিয়ে কেউ কারও ওপর খড়্গ তুলবে না তো? তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বনিবনা না হলেও দুজনে দুজনের প্রতি বিশ্বাস, বোঝাপড়া এবং ভালোবাসা থাকলে কোনো অশুভ শক্তি তাদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে পারবে না। বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য শুধু দায়সারা সংসার করাটাই শেষ কথা নয়।

বিবাহিত জীবনকে সার্থক-সুন্দর এবং মধুময় করে তোলার উপায় হচ্ছে তিনটি:

এক. শ্রদ্ধা, পরস্পরের প্রতি।

দুই. বিশ্বাস, দুজন দুজনকেই।

তিন. ভালোবাসা, একে অপরের প্রতি। এর সঙ্গে কর্তব্যবোধটিকেও সংযুক্ত করতে চাই। সন্দেহ একটি সাংঘাতিক অসুখ। ক্যানসারের মতো। এটিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলে দিতে হবে। কান কথা শোনা আরেকটি অসুখ—যক্ষ্মার মতো। আমরা দেখেছি, একটি মেয়ে কখনোই সংসার এবং সন্তান ছেড়ে পালাতে চায় না। যতই অত্যাচারী স্বামী থাক তার ঘরে। কিন্তু পরকীয়া করে এমন স্বামীকে কোনো মেয়েই মেনে নিতে পারে না।

সদ্য বিবাহিত একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেটে গেলেন এবং তার মা, বোন এবং ভাগনি জামাইয়ের জন্য ঈদের জামা-কাপড় কিনে ১০ টাকার চীনাবাদাম চিবাতে চিবাতে রিকশায় চেপে বাড়িতে এলেন এবং স্ত্রীকে বললেন—ওগুলো সব সুন্দর করে প্যাকেট করে রেখে দাও, কাল গিয়ে দিয়ে আসব। অল্পবয়সী স্ত্রীর তখন মনের অবস্থা কী রকম হতে পারে? রাগ, দুঃখ, নাকি অভিমান? মাত্র তিন দিন বাকি ঈদের। বিয়ের পর এই প্রথম ঈদ বলে কথা!

প্রিয় পাঠক ভাবতে পারেন—দূর! এ-ও কি হতে পারে? নাকি হয়? চল্লিশ বছর আগে হয়েছিল। এ আমার চোখের দেখা। সবার প্রতি কর্তব্য পালন করবে আর স্ত্রীর প্রতি করবে না—এটা তো নির্বোধের কাজ। স্বামীর পক্ষের আত্মীয়স্বজন এলে পোলাও-মাংস রান্না করার হুকুম আসবে আর স্ত্রীর পক্ষের কেউ এলে যদি কোনো স্বামী বলেন—কী চায় এই অসময়? কেন এসেছে জিজ্ঞেস করে বিদায় করো। তাহলে কোনো স্ত্রী তাঁর স্বামীকে শ্রদ্ধা করবে? এবং এভাবেই কিন্তু মন ভাঙতে ভাঙতে ঘর ভাঙার চিন্তা আসে। তিক্ততার সৃষ্টি হয় তুচ্ছ কারণেই। তাই মন থেকে ক্ষুদ্রতা এবং তুচ্ছতাকে সরিয়ে রাখতে হবে ভালো থাকার জন্য।

স্ত্রী যদি কখনো কখনো স্বামীর চেয়ে একটু বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে ওঠেন—তখন স্বামীর উচিত তাকে সম্মান করা। প্রশংসা করা কিংবা আনন্দিত হওয়া। এর উল্টোটা হলেই সংসারে অশান্তি আসে। অযোগ্য স্বামীরাই আস্ফাালন করেন বেশি। তাঁরা ভাবেন বউকে দাবিয়ে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি মনে পড়ে যায়—‘প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে বড়াই। জেন মনে তাহার তখন বিধির সঙ্গে লড়াই।’ সংসারের বয়স যত বাড়ে; সন্তান যত বড় হবে। বাবা-মার সম্পর্কটা ততই পোক্ত এবং বিশ্বস্ত হওয়ার কথা। তবেই তো ছেলেমেয়েরা বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।

একজন স্ত্রীকেও বুঝতে হবে তাঁর স্বামীর সার্বিক ক্ষমতা কতটুকু—সে অনুযায়ী তাঁর চাহিদা থাকতে হবে। অমুকের স্বামীর অত বড় বাড়ি, দামি গাড়ি এসব উদাহরণ দিয়ে স্বামীকে বিব্রত করা ঠিক নয়। স্বামীর বিশ্বাস এবং ভালোবাসার কাছে অন্য কিছুর প্রয়োজন কিন্তু মূল্যহীন।

ছেলেমেয়েরা যখন বড় হয়ে যায়, ওঁরা নিজেরা নিজেদের সংসার সন্তান-স্ত্রী নিয়ে একটি স্বতন্ত্র জগৎ গড়ে নেন এবং এটিই স্বাভাবিক। বয়সী বাবা-মার খোঁজখবর তাঁদের পক্ষে সব সময় নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। সব ক্ষেত্রে ওঁদের দোষারোপও করা যায় না। বৃদ্ধ বয়সে নিজেরা নিজেদের কাছে আন্তরিক হতে হবে। একজন রোগাক্রান্ত হলে অন্যজনের দেখাশোনা করার মানসিকতা থাকতে হবে। কিন্তু মধ্য বয়স থেকে যদি দুজনে দুজনের প্রতি বিরূপ মনোভাব নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু সমূহ বিপদ। কে কাকে দেখবে।

তাই দুজন দুই ঘরে দুই প্রান্তে না থেকে একবার এসে হাতটা ধরুন। মাথায় হাত রাখুন। কিংবা সেই চল্লিশ বছর আগের একটি সুন্দর স্মৃতির কথা ভাবুন। একজন আর একজনকে বুঝতে চেষ্টা করুন। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য একজন অন্যজনের কাছে ক্ষমা চাওয়া কোনো অপমান নয়—নিজেকে ছোট করাও নয়। বরং একে অন্যের কাছে বিশুদ্ধ হওয়া, ভবিষ্যতে এ রকম ভুল আর হবে না। এ মনোভাব ব্যক্ত করা উচিত। মনে রাখা উচিত, একরোখা গোঁয়ার্তুমির জন্য যেন ঘর ভেঙে না যায়। মনের ঝড় থেকে ঘরের ভাঙন ঠেকাতে হবে যে!

লেখক:নাসরীন নঈম
Prothom Alo 

উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে বিবাহবিডি ডট কম

বিবাহবিডি ডট কম ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। আপনি কি আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, প্রবাসী কিংবা কোন নির্দিষ্ট প্রফেশনের প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজছেন? তাহলে নিশ্চিন্তে লগ ইন করুন বাংলাদেশের লিডিং ম্যাট্রিমিনিয়াল পোর্টাল www.bibahabd.com অনলাইনে। আমরা  ২০০৯ সাল থেকে আজ অব্দী সেবা দিয়েছি  দুই লক্ষের বেশী উচ্চ শিক্ষিত পরিবারকে।

ঘরে বসেই অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে অসংখ্য উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রীদের  ছবি সহ পূর্নাঙ্গ জীবন বৃত্তান্ত দেখে  পছন্দের পাত্র/পাত্রী কিংবা তার অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে এখনি লগিন করুন।

কেন বিবাহবিডি ডট কম এ পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ
জীবন একটায় আর একটি সুখী জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/ পাত্রী কিংবা তার অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। এতে লোক জানাজানি ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

বিবাহবিডির ইউজারদের সম্পর্কেঃ
বিবাহবিডি ডট কম শুধু মাত্র  ইন্টারনেট ব্যবহার করে এমন উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সদস্যদের জন্যই অনলাইন বেইজ ২৪ ঘন্টা ৭ দিন সেবা নিশ্চিত করে থাকে। যেখানে লগিন করে  আপনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী,  প্রবাসী সহ প্রায় ৭৪ টি প্রফেশনের মুসলিম, হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ ধর্মালম্বী অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিপত্নীক, বিধবা  অসংখ্য পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল বাছাই করে সরাসরি নিজেরাই তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

কিভাবে বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করবেন –
আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন  তাহলে  লগিন করুনঃ Bibahabd.com অথবা ক্লিক করুন এখানে।  বিবাহবিডির কাষ্টমার সাপোর্ট আপনাকে ২৪/৭ দিনই হেল্প করার জন্য প্রস্তুত আছে।

বিবাহবিডির প্রোফাইল ভেরিফিকেশন প্রসেস কিঃ
আপনার অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন টি সম্পূর্ন হয়ে গেলে বিবাহবিডির একজন কাষ্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ প্রথমেই আপনার প্রদত্ত তথ্য গুলো আপনার সাথে ফোনে রিভিও করে প্রোফাইলে আপনার একজন বৈধ অভিভাবকের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে আপনার অভিভাবকের সাথে কথা বলবে এবং পরবর্তীতে প্রোফাইলটি এক্টিভ করে আপনাকে ৩ দিনের জন্য বিবাহবিডিতে একটি ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ প্রদান করবে ও বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা দিবে।

পরবর্তীতে মেম্বারশীপ কিনে নিয়ে পাত্র/পাত্রী বা তাদের বৈধ অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেই সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিবাহবিডির ফ্রী মেম্বারশীপ এ কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে  ?
একজন ফ্রী মেম্বার হিসাবে আপনি ১০ জনকে ফেভারিট করতে পারবেন ও ১০ জনকে প্রোপোজাল পাঠাতে পারবেন। যা সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়  ভাবে SMS, Email Notification এর মাধ্যমে আপনার কাংখিত পাত্র বা পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবক কে জানিয়ে দেয়া হবে।  তাছাড়া  আপনার কাছে আসা প্রোপোজাল গুলো এক্সেপ্ট করে অন্যকেও আপনি – আপনার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ দিতে পারেন।

বিবাহবিডির রয়েছে ৪ টি মেম্বারশীপ প্যাকেজঃ 

মেম্বারশীপমেয়াদকালসরাসরি যোগাযোগপ্রপোজাল লিমিটমূল্য
অনিক্স৪৫ দিনপছন্দের ৫ জন১৫০ জন কে২৯৯৫
রুবী৯০ দিনপছন্দের ১৫ জন২৫০ জন কে৪৯৯৫
পার্ল১৮০ দিনপছন্দের ৩৫ জন৩৫০ জন কে৮৮৫৫
ডায়ামন্ড২৭০ দিনপছন্দের ৫৫ জন৪৫০ জন কে১৩৭৭৫

## মেয়াদ কালের মধ্যে একজন মেম্বার পছন্দের সঙ্গীকে প্রোপোজাল পাঠাতে ও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।

** যোগাযোগের তথ্যঃ
পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবকের ফোন নাম্বার,
ইমেইল আইডি,  বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা।

***  আপনি প্রাইভেসী ফিচার অন করে আপনার যোগাযোগের তথ্য স্থায়ী ভাবে লুকিয়ে রাখতে পারবেন। আপনি না চাইলে কোন ইউজার আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। 

বিবাহবিডির মুড অফ পেমেন্ট কিকিভাবে সার্ভিস কেনা যায় ।

  • বিশ্বের যে কোন দেশের ভিসা, মাষ্টার কার্ড দিয়ে আপনি অনলাইনেই সার্ভিস কিনতে সক্ষম ।
  • বাংলাদেশের যেকোন ব্যাংক থেকে আমাদের ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করা যাবে।
  • তাছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, রকেট, সহজ, নেক্সাস পে দিয়ে মেম্বারশীপ কেনা যাবে ।

কোন কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে সমস্যায় পড়লে আপনি
( 01922 11 5555 অথবা 02-4729-1212) আমাদের সাহায্য নিতে পারেন।

হু হু করে বয়স বেড়ে যাচ্ছে মনের মত জীবন সঙ্গী পেয়েছেন কি?

আপনি কি আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার অথবা পছন্দের কোন প্রফেশনের  পাত্র/পাত্রী খুঁজছেন? তাহলে  নিশ্চিন্তে লগ ইন করুন বাংলাদেশের লিডিং ম্যাট্রিমিনিয়াল পোর্টাল  বিবাহবিডি ডট কম এ,  ২০০৯ সাল থেকে বিবাহবিডির সেবা নিয়েছে ১০,০০০ এর বেশী উচ্চ শিক্ষিত পরিবার।

বিবাহবিডি (বিবাহবিডি ডট কম) আপনার শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে  ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই  প্রস্তুত আছে। এ সেবাটি সম্পূর্ন অনলাইন বেইজ  এবং  ১০০ ভাগ সেলফ সার্ভিস। ঘরে বসেই অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করে নিজের মত করে প্রফেশন, এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রীর প্রোফাইল গুলো দেখে সহজেই বাচাই করে সরাসরি পাত্র/পাত্রী বা তার অভিভাবকের সাথে  নিজেই যোগাযোগ করতে পারবেন এবং তা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই।

তাছাড়াও বিবাহবিডিতে আপনার অথবা  আপনার পরিবারের সদস্যের প্রোফাইলটি দেখে আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকেরাও সরাসরি আপনার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।

আপনি কেন  বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেন ?

  • বিবাহবিডি সম্পূর্ন একটি সেলফ সার্ভিস। যেখানে পাত্র/পাত্রী কিংবা অভিভাবকেরা অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ৩ দিনের ট্রায়াল মেম্বারশীপ নিয়ে, নিজেরাই পাত্রপাত্রীর প্রোফাইল দেখে বাছাই করেন এবং পরবর্তীতে পছন্দের পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে নিজেরাই সরাসরি যোগাযোগ করে থাকেন।
  • প্রফেশন অনুযায়ী, অবিবাহিত,  ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক  পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • প্রবাসী প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • বাংলাদেশের যে কোন জেলার প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে

বিবাহবিডিতে আসা প্রোফাইল গুলো যাচাই হয় কিভাবে?

  • বিবাহবিডি ডট কম এ আছে (২৪/৭ দিন) এক্সপার্ট কাষ্টমার সাপোর্ট টিম। একটি প্রোফাইল আসার সাথে সাথেই আমাদের কাষ্টমার সাপোর্ট প্রোফাইলটিকে  বেশ কিছু পন্থায় যাচাই করে থাকে এবং পাত্র-পাত্রী ও অভিভাবকের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলে তার প্রদত্ত প্রত্যেকটি তথ্য সম্পূর্ন নিশ্চিত হয়ে তারপরই একটি প্রোফাইল এক্টিভ করে।

বিবাহবিডিতে প্রোফাইল প্রোফাইল করতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন?

  • বিবাহবিডি ডট কম ছেলেদের  ক্ষেত্রে  শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ব্যাচেলর ডিগ্রী সহ চাকুরীজীবি কিংবা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত।
  • ডিভোর্স/ বিধবা কিংবা অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ইন্টারমিডিয়েট।

৩ দিন ফ্রী মেম্বারশীপের মেয়াদ কালীন সময়ে আপনি বিবাহবিডির সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে (শর্টলিষ্ট/ ফেভারিট) করে নিতে পারবেন ।

কিভাবে পছন্দের কারো সাথে যোগাযোগ করবেন ?
বিবাহবিডি ডট কমের  রয়েছে  ৪ টি প্যাকেজ । অনিক্স, রুবী, পার্ল, ডায়ামন্ড। এই চারটি প্যাকেজের যে কোন একটি কিনে আপনি পছন্দের যে কারো সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন ।  

কোন প্যাকেজের কি কি সুবিধা ?
প্যাকেজ অনুযায়ী আপনি সয়ংক্রিয় ভাবে যোগাযোগের তথ্য পাবেনঃ

অনিক্স মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৪৫ দিন – পছন্দের ৩ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য
রুবী মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৯০ দিন  – পছন্দের ১০ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য
পার্ল মেম্বারশীপ – মেয়াদ ১৮০ দিন – পছন্দের ২৫ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য
ডায়ামন্ড মেম্বারশীপ – মেয়াদ ১৮০ দিন – পছন্দের ৪০ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য

যোগাযোগের তথ্যঃ  
পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবকের ফোন নাম্বার, ইমেইল আইডি,  বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা।

 ** আপনি প্রাইভেসী ফিচার অন করে আপনার যোগাযোগের তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারবেন। আপনি না চাইলে কোন ইউজার আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। 

বিবাহবিডির মুড অফ পেমেন্ট কি? কিভাবে সার্ভিস কেনা যায় ।

  • আপনার যদি ইন্টারনেশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে পেপল এর কার্ড কিংবা একাউন্ট থেকে থাকে অথবা
  • বিশ্বের যেকোন দেশ থেকে আপনার  ভিসা, মাষ্টার কার্ড দিয়ে আপনি  অনলাইনেই সার্ভিস কিনতে সক্ষম ।
  • বাংলাদেশের ডাচবাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনেই সার্ভিস কেনা যায়।
  • আমাদের ৩ টি অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট আছে সে গুলোতে সরাসরি ডিপোজিট করে আপনি সার্ভিস কিনতে  পারবেন –  ব্যাংক গুলো – ১)  ডাচ বাংলা ব্যাংক  ২) ব্র্যাক ব্যাংক  ৩) ব্যাংক এশিয়া

বিবাহবিডির বিগত দিনের কার্যক্রমঃ
BIBAHABD CEO @ ATN NEWS Young Nite :

TEAM LEADER @ SATV Web Intro

BIBAHABD UK Coordinator
@ বাংলাদেশ – ইউকে  যৌথ ই-কমার্স ফেয়ার – ২০১৩, গ্লুচেষ্টার মিলিনিয়াম হোটেল, লন্ডন
আয়োজকঃ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, আইসিইটি মন্ত্রনালয় ও কম্পিউটার জগত


ডিসি, ঢাকা ও তথ্য মন্ত্রনালয় আয়োজিত ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ার – ২০১৩,
পাব্লিক লাইব্রেরী চত্তর, শাহবাগ – ঢাকা
 

ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ার – ২০১৩, বাঁ থেকে –
CEO BIBAHABD, DC – DHAKA,  Information Secretary – N.I Khan

7-9 Feb, 2013 পাব্লিক লাইব্রেরী প্রঙ্গনে : ই-বাণিজ্য মেলায় BIBAHABD.COM এর ষ্টল ।

বেসিস সফট এক্সপো ২০১২, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক  সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা

 

বেসিস সফট এক্সপো ২০০৯, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা

বিভিন্ন সময় আমাদের নিউজ কভারেজ এর স্ক্রীন শর্ট দেখতে ক্লিক করুনঃ এইখানে 

বিবাহবিডি ডট কমে রেজিষ্ট্রেশন করে ফ্রী ৩ দিন ট্রায়াল মেম্বারশীপের জন্য
নীচের ছবিতে ক্লিক করুনঃ

রুপ চর্চায় ফুল

fulফুলের রং আর মিষ্টি সুবাসে মন যেমন ভরে ওঠে, ঠিক তেমনি ফুল দিয়ে সাজতে পছন্দও করেন অনেকে। কেউ খোঁপায় ফুল গোঁজেন, তো কেউ হাতে জড়ান বেলি বা বকুল ফুলের মালা। আবার ত্বক ও চুলের যত্নে অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় ফুল।

রূপচর্চায় ফুলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জানালেন হারমনি স্পা’র আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। জেনে নিন রূপচর্চায় ফুলের কিছু ব্যবহার—

গোলাপ
গোলাপ ফুলের সঙ্গে মধু ও লাল আতা মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ, উজ্জ্বল ও সতেজ।
ক্যামেলিয়া
ক্যামেলিয়া ফুল, দুধ ও চালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হবে আর ত্বক ফিরে পাবে লাবণ্য।
শাপলা
শাপলা ফুল, নিমের তেল ও তিল বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ব্রণ কমে যাবে।
বেলি
বেলি ফুলের সঙ্গে ঘৃতকুমারী ও মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক টানটান ও মসৃণ হয়ে উঠবে।
জবা
জবা ফুল ও চালের গুঁড়ার মিশ্রণ ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে চুলে লাগালে তা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।
কিছু সতর্কতা
বিভিন্ন মৌসুমে যেসব ফুল পাওয়া যায়, সেগুলো রূপচর্চায় কাজে লাগানো যেতেই পারে, তবে এর কোনোটিই সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়, অবশ্যই কোনো কিছুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা উচিত। কারণ, কোনোটির অম্লত্ব বেশি হতে পারে, আর সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাই সরাসরি কোনো ফুল ত্বকে বা চুলে ব্যবহার করবেন না।

তথ্য সূত্রঃ নকশা