fbpx

জীবনসঙ্গী খুঁজতে বিবাহ বিডি

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনার  অথবা  পরিবারের প্রিয় সদস্যটির জন্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস | জীবনসঙ্গী খুঁজতে বিবাহ বিডি ডট কম

ঘরে বসেই ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে  চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ
৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স,  বিধবা, বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী।  তাছাড়াও বিবাহ বিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার  সার্চ ( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ
জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

প্রথমেই দেখে নিন কোন কোন প্রফেশনের কত জন পাত্র/পাত্রী এই মূহুর্তে বিবাহবিডিতে রয়েছে।  লিংকে ক্লিক করুন 


এই অডিওটি আপনাকে আমাদের সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।


যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ইজি সার্চ  অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে। 


আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে
লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন   
অথবা বিস্তারিত জানতেঃ
০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


নীচের উল্লেখিত ভিডিওটি দেখলে বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা পাওয়া যাবে –

কোন কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে সমস্যায় পড়লে বিবাহবিডির কাষ্টমার সাপোর্ট আপনাকে ২৪/৭ দিনই হেল্প করার জন্য প্রস্তুত আছে আপনি ফোনে (০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫) সাহায্য নিতে পারেন।

আপনার রেজিষ্ট্রেশন টি সম্পূর্ন হয়ে গেলে বিবাহবিডির একজন কাষ্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ আপনার প্রদত্ত তথ্যগুলো ফোনে রিভিও করে আপনাকে ৩ দিনের জন্য বিবাহবিডিতে ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ দিবে ও বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা দিবে।

৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপে আপনি বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে বাছাই (Add To Favorite ) করে পরবর্তীতে আপনার সাধ্য অনুযায়ী মেম্বারশীপ কিনে পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌছাতে সক্ষম হবেন।


পাঠকের সুবিধার্থে বিবাহবিডির সরাসরি কয়েকটি সার্চ রিজাল্টের লিংক নিম্নে দেয়া হলোঃ


Support Center:

BIBAHABD.COM
HOUSE: 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE, DHAKA-1219.
Hotline : +88 0961 22 11 555,  88 019 22 11 5555


বিবাহবিডি ডট কম অফিস লোকেশন 

সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, পাত্র পাত্রী

ডিভোর্স / বিচ্ছেদ বা দূর্ঘটনায় অকাল মৃত্যুর পর বিভিন্ন বয়সের প্রতিষ্ঠিত অনেক ব্যাক্তি সন্তান সহ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।

এমন নিঃসঙ্গতার যন্ত্রনা কেবল তারাই ( সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, পাত্র পাত্রী) উপলব্ধী করেন যারা এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন।

তারা না পারছেন এই যন্ত্রনাগুলো অন্যকে বলতে বুঝাতে –
না পারেন নিজেকে পুনরায় প্রস্তুত করতে। আর এই ধরনের মানুষদের জন্য যোগ্যসঙ্গী খুঁজে পাওয়াও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে।

বিবাহবিডি’তে রয়েছে এমন –
হাজারো  সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, পাত্র পাত্রী, একক অভিভাবক  পাত্র পাত্রীর প্রোফাইল।

প্রত্যেকের সামাজিক ষ্টেটাস, পারিবারিক মূল্যবোধ, নিজস্ব চাহিদা ও পছন্দেও রয়েছে ভিন্নতা।

সিঙ্গেল মাদার


আমরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি –
আপনার পরিবারে বা পরিচিতদের মাঝে যদি এমন কেউ থেকে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চিতে বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করতে বলুন।

আমরা কনফিডেন্সের সাথে বলতে চাই, চাহিদা অনুযায়ী অবশ্যই সঠিক সঙ্গী বিবাহবিডি আপনাকে নিশ্চিত করবে।

শুধু বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করুন
অথবা আমাদের ফোন করে আপনার চাহিদার কথা বলুন।

বিবাহবিডি ডট কম
Hotline : +88 01922 115555, 88 01944 115555 , 88 019 71 24 2242
IP Phone : +(88) 0961 22 11 555  Office land : 02-4729-1212



প্রবাসী পাত্রপাত্রী খুঁজতে বিবাহ বিডি

পরিবারের প্রিয় সদস্যটির জন্য প্রবাসী পাত্রপাত্রী খুঁজতে সম্পূর্ন অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহ বিডি ডট কম।

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আস্থার সাথে আমরা সেবা দিচ্ছি, তাই ঘরে বসেই আপনার চাহিদা অনুযায়ী প্রফেশন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দেশে বা প্রবাসে বসবাসরত পাত্রপাত্রীর প্রোফাইল দেখে পাত্রপাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে নিশ্চিতে প্রোফাইল করুন।

★ যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ

– ১৮৫ টি প্রফেশন ক্যাটাগরি
– যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার
– যেকোন ধর্মাবলম্বী, যেকোন গোত্র কিংবা কাষ্টের
– যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা / বিপত্নীক
– বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী
– বিশ্বের প্রায় ৯৫ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী পাত্র পাত্রী

★ ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন –

– সিঙ্গেল ফাদার ( সন্তান সহ ডিভোর্স / বিপত্নীক)
– সিঙ্গেল মাদার ( সন্তান সহ ডিভোর্স / বিধবা)
– রিটায়ার্ড / বয়স্ক ( ডিভোর্স / বিধবা/ বিপত্নীক)
– ডিসএবিলিটি (শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে )

★ কেন বিবাহবিডিতে পাত্র পাত্রী খুঁজবেনঃ

জীবন একটাই আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্রপাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম। আমাদের রয়েছে সার্বোক্ষনিক কলসেন্টার সাপোর্ট।

Popular Matchmaking Portals
Matchmaking Portals for Digital Bangladesh

তাই যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন এবং আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার আগ্রহ হয় তবে ফোন করুন অথবা আমাদের অফিস ভিজিট করুন।

Support Center: 🇧🇩

BIBAHABD.COM
HOUSE: 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE, DHAKA-1219.
Hotline : +88 09612211555, +88019 22115555

Best 3 Matrimony Site in Bangladesh 2022

If you are still undecided about marriage, you have not been able to find a suitable mate for you or your beloved family member –

Even after you have established higher education, then you should register at one of the most acceptable Best 3 Matrimony Site in Bangladesh 2022.

However, one thing you must note is that in the global COVID pandemic, many traditional matchmakers in Bangladesh try to convert their services online, but their service system is not very good.

Because they are inexperienced in online services, there are many complaints about them.

We have selected the Best 3 Bangladeshi Matrimony companies offering online / Offline matrimony services their skills and long time business stability.

All these companies will give you really good service. All of them have experience of 12-15 years of giving professional service.

Where you will be able to quickly contact yourself directly by looking at the numerous profiles of your choice –

Bibahabd is an international matrimonial web portal founded 1st Feb 2007 under a renowned group of company, aimed at fulfilling the needs of Bangladeshis both at home and abroad.

It is designed to provide its members a secured and private environment to find their ultimate life partners by providing them a trusted source of genuine people trying to find their soul mates.

The platform bibahabd allows members to search, communicate, interact and finally find the right person for them or their loved ones.

Bibahabd believes that marriages are made in heaven and we only intend in realizing those dreams. It is a site for the generation of today and the future.

Bibahabd | Bangladeshi Matrimony Service

Bibahabd Win BASIS National ICT Awards – 2017 under Category: Inclusion & Community.

Bangladeshi pioneer matrimonial web portal Bibahabd is one of the best Bangladeshi matrimonial websites.

Their support team ensures 24/7 days’ service. If you want profession service, you can safely open account here.

  • Bibahabd Specialty:
  • Reliability and Trustworthiness since individuals are entering their profiles personally it provides high reliability
  • Verification of Profiles Select profiles can be verified by Bibahabd.com Team
  • Meeting Bibahabd.com responsible for “private matrimonial discussion” only for Matchmaking Member.
  • Unlimited Time Being on web, it can be browsed at any time and all the time
  • Various Category offers a wide category of preferences close to you
  • Unlimited Profiles being international and on web anyone can become a member thus unlimited profiles
  • Highly Secured it ensures high level of privacy

Bibahabd.com will activate your profile after verbal verification with valid documents.

  • Borbodhu

Finding the right life partner is one of the most important and difficult tasks of one’s life. Our goal is to help you in the process of finding your perfect partner.

We do everything we can to achieve this goal. Since we first founded in 2007, over the decade we have helped thousands of people find their life partner.

We take pride in providing outstanding customer service, realizable service with true result.

Borbodhu team is a team of hardworking, honest and friendly people that strives in providing ultimate partner search experience and believes that our action and service will determine our destiny. We are proud to serve our members for last 12 year.

Finally, we take privacy and security very seriously. Your information and privacy is safe with us.

We will not share your information with anyone without your permission.

At borbodhu.com, we wish you a happy journey in finding your life partner and we are proud to be part of it. Start finding your life partner now.

Borbodu
  • Sensible Match

SensibleMatch is the most trusted matrimonial website in Bangladesh. Quietly making happy marriages possible among brides and grooms located around the world.

Sensible Match
Sensible Match

We care about your privacy and we take every step possible to protect it.

We have our office in Dhaka where our matchmakers are working hard to provide dedicated & personalized services to find the most suitable bride or groom for you.

If you are busy, and do not have a lot of time to find the perfect match for you, our matchmakers are available to help. We are the ‘marriage media’ of the digital era.

The 3 Best Matrimony organizations of Bangladesh that are presented, you can get a good profiles from here and there is no chance of any kind of harassment in the case of this service organization.

They are experienced in online services so feel free to profile.

ডিভোর্স কেন হয় ?

ইশতিয়াক আর সোনিয়া। দুজনই ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। ছিলেন ব্যাচমেট। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়িয়ে শেষমেশ সফল পরিণতি। একজন একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে কাজ করছেন বেশ ক বছর হল। আর সোনিয়া আছেন একটা ব্যাংকে। পরিবারে আর্থিক টানাপড়েন নেই। সমস্যা সময় নিয়ে।

ইশতিয়াকের মিটিং থাকলে ফিরতে রাত হয়। সেখানে সোনিয়া আগেই ফিরে বসে থাকেন মনমরা হয়ে। আর বাসায় এসে ইশতিয়াকের গভীর রাত অবধি অফিসের কাজ করার জন্য সোনিয়ার তো পর্বতসমান ক্ষোভ। অন্যদিকে কাজের ফাঁকে ইশতিয়াক হয়ত ফোন দিয়েছেন সেনিয়াকে। কিন্তু অফিসে এত ব্যস্ত সময় কাটে যে সোনিয়া হাই-হ্যালোর বেশি কথাই বলতে পারেন না। এসব নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছে তাদের মধ্যে।  সম্পর্কটাও কেমন যেন একেবারেই থমকে গেছে। তবে কি ডিভোর্সে এর সমাপ্তি?

অপরদিকে চল্লিশোর্ধ রায়হান সাহেবের প্রমোশন হচ্ছে না পাঁচ বছর।বসের সাথে ঝামেলা। সন্তানেরা বড় হচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চাহিদাও বাড়ছে।রায়হান সাহেবের উপায় কী? এমনকি স্ট্রেস সামলাতে না পেরে ইদানীং স্ত্রীর গায়ে হাতও তুলছেন। ফলে স্ত্রী সন্তানসহ আলাদা হয়ে যাবেন বলে সরাসরি বলে দিয়েছেন। আইনী পরিভাষায় যা ডিভোর্স।

মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় ডিভোর্সের পেছনের কিছু কারণ উঠে এসেছে। আর্থ-সামাজিক কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত আর্থ-সামাজিক ইস্যু পরিমাপের পদ্ধতি হল শিক্ষা আর উপার্জন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত দম্পতিরা তাদের আবেগ, সময়, পার্টনারের আত্মকেন্দ্রিকতা, অসামঞ্জস্যতা, ভালোবাসার অভাব ইত্যাদির সাথে আপস করে না এবং শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যায়।

অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক মাপকাঠিতে নিজের সারিতে যারা রয়েছে তাদের বিচ্ছেদের কারণগুলো কখনও আর্থিক, কখনও নির্যাতন, কখনও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক অথবা মাদকাসক্তি।

বিবাহবিচ্ছেদের আরও কিছু ব্যবহারিক নির্ধারক রয়েছে। কে কত বছর বয়সে বিয়ে করেছে, সাংসারিক জীবন কত বছরের কিংবা সন্তানের সংখ্যা বা সন্তানের বয়স। সাধারণত অল্প বয়সের বিয়ে সাংসারিক জীবনের আয়ু বাড়ায়। এখানে বিচ্ছেদের ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ হিসেবে গবেষকেরা যে বিষয়গুলোকে সামনে এনেছেন সেগুলো হল, মানসিক অপরিপক্বতা, অস্থায়ী চাকরি ইত্যাদি। এছাড়া অল্প বয়সে লাইফ পার্টনারকে বুঝেই বা ওঠা যায় কতটুকু?

ফলে তুলনামূলক পরিণত বয়সে বিয়ে অনেক জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় আমরা খুব দ্রুত দম্পতিদের ডিভোর্সের পথ বেছে নিতে দেখি। এর পেছনে যেসব করণ রয়েছে বলে মনে করা যায় সেসব হল, পার্টনারদের মাঝে পারস্পরিক মৌলিক সামঞ্জস্য আবিষ্কারে ব্যর্থ হওয়া, মূল্যবোধের সংঘাত এবং ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব।

আবার দীর্ঘসময় দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা মানুষদের যে ডিভোর্স হচ্ছে না তা নয়। সেক্ষেত্রে কারণগুলোও ভিন্ন। যেমন, সন্তান প্রতিপালনে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে জীবনের সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একসময় হতাশায় ভোগা, সম্পর্কের মাঝে কোন নতুনত্ব খুঁজে না পেয়ে একচক্রে ঘুরপাক খেতে খেতে ইদানীং অনেক দীর্ঘ সংসার ভেঙে যাচ্ছে। পাশ্চাত্যের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এমন ঘটনা হরহামেশা ঘটছে।

এছাড়া লাইফ পার্টনার ব্যতীত গোপন অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ডিভোর্সের মূল কারণগুলোর একটা বড় অংশজুড়ে। এর সাথে শারীরিক নির্যাতনও রয়েছে কারণ হিসেবে। গবেষণায় এসেছে, স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রথম।

উক্ত বিষয়গুলো পাশ্চাত্যের গবেষণায় দেখা গেছে। আবার বাংলাদেশেও ডিভোর্সের কারণ হিসেবে এগুলোই উল্লেখযোগ্য। সম্পর্কের অবনতি আমাদের কারোরই কাম্য নয়, তেমনই অনেকে সামাজিকভাবে অথবা অর্থনৈতিক টানাপড়েনের ভয়ে কষ্টকর একটা সামাজিক সম্পর্কের জের টেনে বেড়ায়-সেটাও কাঙ্ক্ষিত নয়।

বিয়ে ভেঙে যাওয়া মানে ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এর মানে একজন আরেকজনকে আর ঘৃণা না করা। অনেকেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুশোচনায় ভোগে অথবা একটি অবাঞ্ছিত সম্পর্ক বয়ে নিয়ে কষ্টে থাকে। তাই এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার সাথে পরামর্শ এবং সব ধরণের পরিস্থিতি বিবেচনা করা অনেক জরুরী।

লিখেছেনঃ  এ্যানি বাড়ৈ | সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলর, আপন

আবেগপ্রবণ পুরুষ

পুরুষ আর আবেগ! বিষয়দু’টোকে অনেকেই ঠিক মেলাতে পারেন না। বেশিরভাগ পুরুষই আবেগের বহিঃপ্রকাশে অস্বস্তিবোধ করেন। সিনেমার পরদায় অবশ্য নায়কদের আমরা মেলোড্রামাটিক দৃশ্যে দেখে থাকি। তবে বাস্তবে সেই দৃশ্য অনেক পুরুষই পছন্দ করেন না। আর তাঁদের স্ত্রীদেরও এ ব্যাপারে অনুযোগ রয়েছে।

শুধু যে পুরুষদের মধ্যে আবেগের অভাবই তাঁদের অনুযোগের বিষয়, তা নয়! পুরুষরা যৌনমিলনের সময়ে আবেগতাড়িত হন না—এটাও অনেক স্ত্রীরাই অভিযোগ করে থাকেন। তবে পুরুষরা আবার পালটা প্রশ্ন করেন এই বলে যে সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হওয়াটাই এক ধরনের আবেগ। এটাই কি যথেষ্ট নয়! সকলের আগে ভেবে দেখা প্রয়োজন যে আবেগপ্রবণতা আসলে কী। মোটের উপর যে কোনও কাজে প্যাশনের অভাব, উৎসাহ না দেখানোকেই আবেগের অনুপস্থিতি বলে ধরি আমরা। মিলনের সময় শীতল প্রতিক্রিয়াও ঠিক তাই।

তবে পুরুষ ও মহিলা উভয় পক্ষেরই কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখা প্রয়োজন। অনেক পুরুষই আছেন যাঁরা মিলনের সময়ে নিজের দুর্বলতা ঢাকার উপায় হিসেবে শীতল ব্যবহার করেন। আবার অনেক পুরুষ ভাবেন আবেগপ্রবণ হওয়াটা আদৌ পুরুষালি গুণ নয়। তাই মিলনের সময়ে বেশি আবেগে ভেসে যাওয়ার পক্ষপাতি নন তাঁরা।


আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সেখানো হয় চোখের জল না ফেলতে। কোনও পুরুষ কান্নাকাটি করলে তা অনেকসময় হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। তাই, অনেক পুরুষই তাঁদের অনুভূতি, মুড, সেন্টিমেন্ট ইত্যাদিকে চেপে রাখেন। ধীরে ধীরে এটাই তাঁদের অভ্যেসে দাঁড়িয়ে যায়।

মিলনের সময়েও মহিলাদের মতো নিজেকে অতটা মেলে ধরতে পারেন না অনেক পুরুষই। পুরুষদের দোষ দেওয়ার আগে মহিলাদের এই বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন। সাধারণত, অনেক পুরুষই সেক্সুয়াল কমিটমেন্ট চট করে করতে চান না। অর্থাৎ, একটি কমিটেড সম্পর্কে না থাকলে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে মিলিত হতে চান না। পেড সেক্স অবশ্যই এর ব্যতিক্রম। কিন্তু অনেকের কাছেই যৌনমিলন হল আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ। অনেক মহিলাই এটা বুঝতে পারেন না।


স্ত্রীরা চাইতেই পারেন যে তাঁদের স্বামীরা আবেগপ্রবণ হবেন—এতে দোষের কিছু নেই। তবে সকলেই যে একরকম হবেন তা তো নয়। ধৈর্য ধরুন। স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন। ধীর ধীরে তিনিও আপনার প্রতি ইমোশনাল হবেন।


আপনার স্ত্রী যদি আপনার থেকে আরও বেশি আবেগ প্রত্যাশা করেন, তাহলে নিজেকে একটু বদলানোর চেষ্টা করে দেখুন না। এতে কিন্তু আপনার পৌরুষ চলে যাবে না! আবার স্ত্রীরাও একটু চেষ্টা করে দেখুন না, স্বামীরা যদি নিজের মতো থাকেন, তাহলে সম্পর্কে খুব একটা সমস্যা হবে না।

যে যেমন তাঁকে সেরকম থাকতে দিলেই সবচেয়ে ভাল। দু’জনেই একটু মানিয়ে নিতে পারলে সুস্থ সম্পর্কে আর কীই বা চাই!

দাম্পত্য কলহ সামলাবেন কিভাবে?

দাম্পত্য কলহে যদি স্বামী-স্ত্রী নিজেরে মধ্যে বনিমনা না হয় তবে পারিবারিকভাবে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে। এছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বা কাছের মানুষের সহযোগিতা নিতে হবে।কারণ দাম্পত্য কলহ থেকে হতে পারে মানসিক রোগ। 

বিয়ে হচ্ছে একজন নর ও নারীর মধ্যে স্বর্গের সম্পর্কের বন্ধন। তবে এখানে যখন বিষাদের ছাড়া নেমে আসে তখন আসে দাম্পত্য কলহ। 

দাম্পত্য কলহের কারণ

১. দু’জন মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু একসঙ্গে থাকতে হলে, মতপার্থক্য দূর করে আনতে হবে। এতে দু’জনকেই ছাড় দিতে হবে। 

২. স্বামী  অনেক সময় দেখা যায় স্ত্রীকে ডমিনেট করে। উচ্চশিক্ষিত স্বাবলম্বী অনেক মেয়ে তা মেনে নিতে পারছে না। এতে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. বিয়ের আগে অতিরিক্ত আবেগ কাজ করে। অনেকেই ভেবে চিন্তে জীবনসঙ্গী বাছাই করতে পারে না। পরবর্তীতে আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার বিশাল পার্থক্য, মানসিক চাপে, দ্বন্দ্বের কারণ হয়।

৪. দীর্ঘদিন ধরে যৌন জীবনে অতৃপ্ত থাকলে, সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি ঘটে। বিশেষ করে স্ত্রীরা তা প্রকাশ করতে পারে না।

৫. অনেক স্বামী-স্ত্রী তাদের মনের সুখ দুঃখগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করতে পারে না। শেয়ারিং না থাকলে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে, সমাধান বের হবে না।

৬. বর্তমানে অনেকেই দাম্পত্য বা বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে। যা ভয়াবহতম দাম্পত্য দহনের কারণ। 

৭. দাম্পত্য দহনে লিপ্ত দায়ী স্বামী বা স্ত্রী যে কোনো একজন বা দু’জনই মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকতে পারে। আপনার জীবনসঙ্গীর অস্বাভাবিক আচরণের কারণ হতে পারে মানসিক রোগ।

৮. যারা নেশা করে, তারা তাদের পার্টনারকে অমূলক সন্দেহ করে, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করে। শুরুতে বন্ধু পরে পরিণত হয় অবৈধ প্রেমে।

কীভাবে দাম্পত্য কলহ দূর করবেন

মতামতের পার্থক্য কমিয়ে আনা, দায়িত্ব পালন, পরনারী বা পরপুরুষে সম্পর্কে না জড়ানো, শারীরিক মানসিক নির্যাতন না করা, পার্টনারকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া। প্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে Couple Therapy নিতে হবে। দু’জনকেই Co-Operative হতে হবে। 

ভালোবাসাহীন দাম্পত্য জীবনের চেয়ে একা থাকা ভালো। সম্পর্ককে বাগানের মতো পরিচর্চা করতে হবে। যেসব মানসিক রোগ হতে পারে- বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা, ফোবিয়া, হিস্টিরিয়া, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি।

ডা. মো. হারুনুর রশীদ 
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

মানুষের একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা

আমরা মানুষরা কি একা থাকতে পারি? উত্তর আসবে- পারি না। কারণ, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে পৃথিবীতে একা রাখেননি। পৃথিবীর প্রথম মানবের জন্য তিনি সঙ্গী সৃষ্টি করে পাঠিয়েছেন একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা ঘোচানোর জন্য। শুধু মানুষ নয়; সৃষ্টি জগতের কোনো সৃষ্টিই একা নয়।

আমরা মানুষেরা একা থাকতে চাই না। খুব কম মানুষই চায় একাকী থেকে জীবন কাটাতে। কেউ পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে একা থাকে, কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায়। যারা একাকী জীবন বা একাকীত্বকে উপভোগ করতে চায় বা পারে বা কিভাবে করতে হয় জানে তারাই একাকী পাড়ি দেয় জীবন নামক অজানা ও রহস্যময় সমুদ্র।

একাকীত্ব কখন আসে? আমরা সাধারণত বুঝতে পারি না। যখন বুঝি তখন অনেকটা দেরি হয়ে যায়। জীবনে কখনও কখনও এমন সময় আসে যখন না চাইলেও একা থাকতে হয়। হয়ত সারা জীবনের জন্য নয় তবুও যতটুকু সময়ই একা থাকতে হয়, হয়ত মাস বা বছর বা দীর্ঘসময় ধরে। আবার কখনও কখনও আজীবনই একাকী।

একা থাকাকে যখন আমরা নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করি তখনই একাকীত্ব বোধ আসে। এই বোধ তখন আমাদেরকে ভেতর থেকে ভেঙ্গেচুরে দেয়। কুড়ে কুড়ে খায়। এর যন্ত্রণা কতটা ভয়ংকর সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ সুন্দরভাবে বর্ণনা দিতে পারবে না।

মানসিকভাবে কেউ যখন কোনো একজনকে যার সাথে তার সামাজিক সম্পর্ক বা বন্ধন আছে, যাকে সে আশা করছে, যোগাযোগ করতে চাচ্ছে ও মিশতে চাচ্ছে কিন্তু তার চাওয়ার গভীরতা অনুযায়ী সে তাকে পাচ্ছে না, তখন তার মনে যে কষ্টকর অনুভূতি হচ্ছে সেটিই একাকীত্ব।

আমাদের জীবনে চলার পথে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হই। সমস্যার সমাধান যখন করতে পারি না, তখন নিজেকে একা মনে হয়, তুচ্ছ মনে হয় নিজের কাছে নিজেকে। বাঁচার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
 
আর এভাবেই জমতে জমতে গড়ে ওঠে মনের মধ্যে একাকীত্বের পাহাড়। একাকীত্ব যখন গ্রাস করে তখন আমাদের কর্মক্ষমতা কমে যায়। মনোযোগ কমে যায়। কোনো কাজ সুন্দর করে করা হয় না। আত্মবিশ্বাস কমতে কমতে আমাদের জীবনের আনন্দগুলোও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। এরপর একসময় এটি মানসিক সমস্যায় পরিণত হয়। ধীরে ধীরে সমস্যাটি অনেক বড় রূপ ধারণ করে। এটি তখনই আশংকার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তাই আমাদের  মনে রাখতে হবে- একাকীত্বকে আমরা যত প্রশ্রয় দেবো, এটি তত বেশি গ্রাস করতে থাকবে আমাদেরকে অর্থাৎ ভুক্তভোগীকে। একাকীত্ব জীবনকে ঝামেলা না ভেবে মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়া এবং এটিকে উপভোগ করা প্রয়োজন অনেক বেশি। আমরা কখনই বুঝে উঠতে পারি না, একা থাকার মুহূর্তগুলোতে আমরা কী করবো বা কী করবো না।

কেউই বলতে পারবে না যে, তার কখনও একা লাগেনি। কোনো না কোনো সময় একা লাগেই মানুষের। যাদেরকে আমরা জনপ্রিয় বলে মনে করি, তারাও এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ একজন ব্যক্তির অনেকজন বন্ধুবান্ধব থাকা মানেই সে একাকী বোধ করে না, এমন নয় ব্যাপারটি। তাদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা না থাকলে সে একা বোধ করতে পারে এবং অনেকজন লোক থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত বন্ধু না থাকায় সে একাকী বোধ করতে পারে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, যখন আমি বা আপনি একা থাকি তখন নিজেকে নতুন করে জানতে পারা যায়। একা থাকলে নিজের প্রতি খেয়াল রাখার সময় বেশি পাওয়া যায়। তখন আমাদের নিজেদের কাজ নিজেকেই করতে হয় বিধায় আমরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারি। জগতে সম্পর্ক ভাঙ্গার কষ্ট সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক। যখন একটা ভালোবাসার সম্পর্ক ভাঙ্গে তখন সেটা আমাদের মানসিক শক্তি এবং শান্তি দুটোই নষ্ট করে দেয়। 

একা থাকার ক্ষেত্রে নিজের জন্য সময় পাওয়ার ব্যাপারটা খুব কাজে দেয়। নিজের জন্য নিজের কিছু একা সময় পাওয়া যায়। নিজের অতীতের কষ্ট, অতীতের ভুলগুলো নিয়ে নিজের সাথে নিজে বোঝাপড়া করা ও নিজেকে শুধরাতে পারা যায়। প্রথমে কিছুটা কষ্ট হলেও পরে একসময় একাকীত্ব ও নির্জনতার সাথে যুদ্ধ করে করে শিখে ফেলি কিভাবে নিজের সাথে নিজে চমৎকার সময় কাটানো যায়।

সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হচ্ছে, পরবর্তী সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে আর ভুল হয় না। আমরা একদমই ভুলে যাই যেটি, একা থাকা মানেই কিন্তু জীবন প্রেমবিহীন নয়। সেই সময়টা জীবনকে সমৃদ্ধ করতে ভালভাবে ভালো কাজে লাগানো যায়। একাকীত্বের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এটি আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না, কখনই না।

যদি দেখা যায় কেউ কারো সাথে ব্যস্ততার অজুহাতে অবহেলা করছে, বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা করছে কিংবা ভালোবাসার ছলনা করছে সেক্ষেত্রে তাকে এড়িয়ে চলতে পারাটাই উত্তম। কারণ তার মিথ্যে ভালোবাসা সুন্দর জীবনটা আস্তে আস্তে শেষ করে দিতে পারে। তার চেয়ে একা থাকা অনেক ভালো। তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজন ব্যক্তির শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবল। তবে অনেকেরই এই রকম মনোবল থাকে না বিধায় একাকীত্ব তাকে শেষ করতে থাকে ধীরে ধীরে।

আমরা আমাদের একাকীত্ব দূর করতে পারি যদি স্বদিচ্ছা থাকে এবং নিজের জীবনটাকে খানিকটা হলেও ভালোবেসে থাকি। যখন আমরা ভালোকাজে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম হবো, একাকীত্ব বোধ তখন আমাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। এজন্য আমরা নিজের কিছু কিছু শখ পূরণ করার চেষ্টা করতে পারি। প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে পারি বাগান করার মাধ্যমে।

এছাড়া সেলাই করতে পারি, ঘর গোছাতে পারি, ছবি আঁকার চেষ্টা করতে পারি, মিউজিক শুনতে পারি ইত্যাদি আরও অনেক কাজ। নিজের শরীরের যত্ন নিতে পারি। ব্যায়াম হিসেবে হাঁটতে পারি। হাঁটতে হাঁটতে অনেক সৃষ্টিশীল ভাবনা আসে মাথায়। চাইলে লিখতে শুরু করা যায়। ভাবুন আর লিখুন। কাগজ কলম তো হাতের কাছেই! নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে ছোট গল্প বা বড় গল্প লেখা যায়, আর্টিকেল লেখা যায়, কিছু সুন্দর মুহূর্ত নিজের সঙ্গেই কাটানো যায় এভাবেই। 

একঘেয়েমি কাটানোর জন্য আমরা ভ্রমণ করতে পারি নতুন নতুন জায়গায়। ভ্রমণ করার ফলে আমাদের মানসিক প্রশান্তি মেলে এবং আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার প্রশস্ত হয়। নিজেকে চেনা যায়। এ জন্যই হয়ত ডাক্তার রোগীকে ঘুরে আসতে বলে। ভ্রমণ তাই একাকীত্ব দূর করার উপায়গুলোর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার কাছে এবং আমার নিজের পছন্দের শীর্ষে। 

আরেকটি ব্যাপার যেটা সবাই ধরতে পারে না, সেটি হচ্ছে- আমাদের চেয়ে বয়সে বড় এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা। আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড় যারা তাদের বিচারবুদ্ধি অনেক পরিপক্ব আর তারা হলেন নির্ভরযোগ্য। নতুন মানুষের সাথে মিশে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারলে একা বোধ হয় না। আসলে একাকীত্বকে দুঃখ হিসেবে না দেখে বরং এটাকে উপলব্ধি করা উচিত। একা থাকা মানেই একাকিনী নয়।

একা থাকলে ক্ষমা করতে পারার মতো মহৎ গুনটি চলে আসে। যখন একাকী নিজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে ভাবা হয়, দেখা যায় তখন অন্যের জন্য আমাদের মনে একটা সফট কর্নার তৈরি হয়। ক্ষমা করে দিতে পারি আমরা তখন। আমাদের কষ্টগুলো সহজ হয়ে যায় তখন। একা থাকার সবচেয়ে বড় অর্জন এটিই মনে করি আমি। 

এর সাথে সাথে আর একটা বড় ব্যাপার  হয় যে, আমরা সৃষ্টিকর্তাকে ফিল করতে পারি খানিকটা হলেও নিজেদের শুদ্ধ চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে। নিজেদেরকে মেলে ধরতে পারি সৃষ্টিকর্তার কাছে। একটা ঐশ্বরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে আমরা যে বিশেষ জ্ঞানটি অর্জন করতে পারি তা হচ্ছে, আমরা সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে পারি। পুরোপুরি হয়ত নয়; হোক সামান্য তবুও তা একজন মানুষের জন্য বিশাল যা একাকীত্বই দিতে পারে। আর সৃষ্টিকর্তাকে অনুভব করতে পারা যায় বলেই অন্তরে মানুষের জন্য ক্ষমা অটোমেটিক চলে আসে।

একাকী হয়ে যাবার ভালো দিকের আরও একটি ভালো দিক- আমরা প্রকৃত বন্ধু চিনে নিতে পারি। একা হয়ে গেলে আমরা যেটা করি- নিজেকে একদম আলাদা করে ফেলি। কোনো সমস্যা হলে আমরা নিজেকে টেনে তুলতে একা একা অনবরত চেষ্টা করে যাই যা একদমই ভুল। এটি না করে সমস্যা কেন সৃষ্টি হয়েছে তা বের করার চেষ্টা করা আর সমাধানের জন্য সাহায্য চাওয়া। এই অন্যের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতায় নিজেদেরকে আর একা মনে হয় না। 

আমাদের আশেপাশে আমাদেরকে পছন্দ করে এমন মানুষ আছে। অন্যের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সুন্দর কাজ করে। আর একাকীত্বের এই দুঃসময়ে যে ব্যক্তি বা বন্ধুটি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে, বুঝতে হবে সেই প্রকৃত বন্ধু। যখন কেউ পাশে থাকে না, তখন কে আমাদের বন্ধু বা শত্রু তা চিনে নিতে ভুল করা উচিত নয় একদমই।

একাকীত্ব বোধ করার খারাপ দিকও আছে যা জানা আমাদের জরুরি। একাকীত্বের প্রথম সমস্যা হচ্ছে, শারীরিক ক্ষতি। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ১৫টি সিগারেট খেলে যে ক্ষতি হয় শরীরের, একাকীত্ব ঠিক ততটাই ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন ধরে এই একাকীত্বে ভুগতে থাকলে সেটা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকারক। 

এরপর যেটা হয়, আমাদের কায়িক পরিশ্রম বেড়ে যায়। সব কাজ নিজেকেই করতে হয়। রান্না করা, বাজার করা, কাপর কাচা থেকে শুরু করে থালা বাসন ধোয়া, নিজের রুম সবকিছু নিজেকেই পরিষ্কার করা ইত্যাদি আরও অনেক কাজ একাই করতে হয়। এরমধ্যে ভালো দিকটি আমি আগেই বলেছি। শারীরিক খাটুনি বেশি হয় এই যা।

বাংলায় একটা কথা আছে, “চিন্তার চেয়ে চিতার আগুন ভালো”। আমরা যখন একা হয়ে যাই, সাধারণত তখন আমাদের মনে নানা রকম নেতিবাচক চিন্তা এসে ভিড় করে। আর এই নেতিবাচক চিন্তা যেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি শরীরের জন্যও। অনবরত নেতিবাচক চিন্তা করার ফলে শরীরে নানা অসুখ বাসা বাঁধে। তাই ইতিবাচক চিন্তা করা প্রয়োজন সব সময়।

আমরা যে ভুলটা করি একা হয়ে গেলে সেটি হচ্ছে নিজেকে ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলি। একাকীত্ব আমাদেরকে ভুল পথে নিয়ে যায় অনেক সময়ই। একাকীত্ব কাটিয়ে ওঠার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে আমরা হয়তো বাছবিচারহীনভাবে যে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলি। যে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি। হয়তো অনেকেই এইরকম মনে করি যে, কোনো ভালো বন্ধু না থাকার চেয়ে যে কোনো বন্ধু থাকা ভালো। আর এটাই বিপদ ডেকে আনতে পারে জীবনে।

আর যেটা করি, আমরা ডিভাইস আসক্ত হয়ে পড়ি। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সবসময় একাকীত্ব দূর করতে পারে না। একা থাকলে আর যেটি হয়, আমরা কথা বলা কমিয়ে দেই মানে কথা বলার সুযোগ থাকে না, ফলে আমরা কিছুটা দূরে ছিটকে পড়ি। আমরা নীরব প্রকৃতির মানুষ হয়ে যাই।

যতদিন এই পৃথিবী থাকবে, সৃষ্টিসমূহ থাকবে, মনুষ্য সমাজ থাকবে, ততদিনই এই একাকীত্ব বোধও থাকবে। মানুষ একা বাস করতে পারে না বলেই সমাজের সৃষ্টি। ক্ষুধা লাগলে খাবার খাই, তৃষ্ণা পেলে পানি পান করি তেমনি একাকীত্ব বোধ হলেও তা মেটানোর প্রতি মনোযোগী হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। একা না হলে নিজেকে আবিষ্কার করা যায় না, এটি জীবনের উন্নতির জন্যও অন্তরায় নয়, বরং সহায়ক। তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, যেদিন একা থাকার মুহূর্তগুলোকে ভালোবাসতে পারা যাবে, সেদিন আর একাকীত্ব আমাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।

লেখক: রেহানা রহমান রেনু, শিক্ষক ও কলামিস্ট

কতটুকু ভালো সঙ্গী পেলে সন্তুষ্টি আসে পুরুষের!

ভালোর আসলে শেষ কোথায়; একজন পুরুষ কতটুকু ভালো সঙ্গী পেলে সন্তুষ্ট হবে তার কি কোন মানদন্ড আদৌ আছে? অথচ প্রত্যেক পরিবারে চাহিদা থাকে একজন ভালো মেয়ে, ভালো বৌ;  যদি ও ভালো বৌ বলতে মুলত যা বুঝায় তা হলো – ঐ পরিবেশে খাপ খাইয়ে চলতে পারার সক্ষমতা। এক্ষেত্রেও মেধার বিকল্প নেই; একজন মেধাবী বৌ তার ধৈর্য্য, মানসিক শক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও দুরদর্শিতা দিয়ে একটি পরিবারের সদস্যদের আচার আচারন, আয় উন্নতি এমন কি ঐ পরিবারের সামাজিক অবস্থানটিও পরিবর্তন করতে পারেন। এজন্যই হইতো শত শত বছর ধরে প্রবাদ প্রবাদটি প্রচলিত “নদীর পানি ঘোলা ভালো, জাতের মেয়ে কালো ভাল”।

বিয়ে করার পর আপনি অন্য একটি পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও এ পরিবারের রয়েছে আরও অনেক সদস্য। আর এসব মিলে সবার মন যোগানোর কথা চিন্তা করতে গেলে হয়তো আপনার মাথাটাই খারাপ হয়ে যাওয়ার যোগাড় হবে। তবে চিন্তা করবেন না, এ লেখায় থাকছে সহজ কয়েকটি উপায়  যার মাধ্যমে ভালো বৌ হবার চর্চাটা অন্তত আপনি করতে পারবেন।  বাস্তবে অতি সাধারণ মনে হলেও এসব উপায় হয়ে উঠতে পারে আপনার ভালো স্ত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার অন্যতম পন্থা। এসব বিষয় পালন করলে নিজেকে আকর্ষণীয় ও অন্যদের কাছে অনুকরণীয় একজন যথার্থ স্ত্রী হিসেবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

পজেটিভ হতে একটু সময় নিনঃ প্রত্যেক  মানুষ আলাদা আলাদা আচারনের অধিকারী,  একটি পরিবারের সবাই একরকম মানসিকতার হবে না। তাই নতুন সংসারে যাবার পর তাড়াহুড়া না করে কিছুদিন ধৈর্য্য সহকারে প্রত্যেকের আচার আচারন মানসিকতা খুব ক্লোজলী পর্যবেক্ষন করতে হবে। এ জন্য সবার সাথে কথা বলা; একসাথে খাবার খাওয়া, গল্প করা, শপিং এ যাওয়া, প্রতিবেশী / আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাওয়া অন্যতম উপায়;  এবং পরিবারে সকল সদস্যের মানসিক অবস্থা বুঝে প্রত্যেকের ব্যাপারে আপনার নিজস্ব ষ্ট্রেটিজি সেট করতে। কথা বলার ক্ষেত্রে ও স্বামী কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সার্ভিস/ সেবা ক্ষেত্রে ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি কৌশলী হওয়ার বিকল্প নেই।

পরিবারের ঐতিহ্যবাহী রেসিপির সন্ধান করুন
অনেক পরিবারেই থাকতে পারে দীর্ঘদিন থেকে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী কোনো রেসিপি। দেখা যাবে আপনার সঙ্গী ছোটবেলায় তার মা বা দাদির কাছ থেকে এমন খাবার খেয়েছে, যা তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির পদ্ধতি আয়ত্ব করুন এবং তা রান্না করুন। যদি সম্পূর্ণভাবে সে খাবারের মতো নাও হয়, তার পরও আপনি এ উদ্যোগের প্রশংসা পাবেন। আর এতে স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক অনেক গাঢ় হবে।

লিখে ফেলুন
স্বামীকে একটি প্রেমপত্র লিখে দেওয়ার ধারণা অনেকের কাছেই হাস্যকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের মনের কথা লিখে তা প্রকাশ করার মধ্যে যে আনন্দ আছে তার কোনো তুলনা হয় না। আর এর মাধ্যমে আপনাদের হৃদয়ের মিলও অনেক বাড়বে।

নিজেদের যত্ন নিন
বিয়ের পরই যে সবকিছুর শেষ, তেমন কোনো কথা নেই। স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনার নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এ ছাড়াও নিয়মিত চুলের পরিচর্যা, নখ ও দেহের পরিচর্যার মাধ্যমে শরীর ঠিকঠাক রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ছাড়াও শারীরিক অনুশীলন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সমর্থন করুন
স্বামীর ভালো কাজে সমর্থন যোগানো উচিত স্ত্রীর। তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিংবা মানসিকভাবে স্বস্তিকর বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করা যেতে পারে। তার যদি কোনো লুকানো প্রতিভা থাকে তবে তা বিকশিত হতে সাহায্য করুন। এসব বিষয়ে সে যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে তাহলে তা আপনারই সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হবে। তার কোনো শখ যদি আপনার নিজের আগ্রহের বিষয় নাও হয়, তার পরও তা হেলাফেলা করার প্রয়োজন নেই। কারণ কোন বিষয়ে তার প্রতিভার বিস্ফুরণ ঘটবে তা কেউ বলতে পারে না। হতে পারে গান গাওয়া, যন্ত্র সংগীত, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ধাঁধা কৌতুক বলা !

কাজ ভাগ করে নিন
অতীতের মতো এখন বাড়ির কাজ শুধু নারীরাই করে না। কর্মব্যস্ত জীবনে এখন উভয়কেই নিজের নিজের কাজ করতে হয়। এ কারণে নারীর বা পুরুষের কাজ বলে কোনো কাজ থাকছে না বাসায়। আর এ অবস্থায় আপনার স্বামীকে তার পছন্দমতো কিছু কাজ ঠিক করে দিন নিয়মিত করার জন্য। আপনিও করুন কিছু কাজ। অনেক নারীই বাড়ির সব কাজ একাই করতে চান। একই বিষয়ে পুরুষের করা কাজ তাদের মনমতো না হওয়ায় এ বিপত্তি বাধে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সবার কাজের ধরন একরকম নয়। তাই মনমতো না হলেও তাকে তার মতো কাজ করতে দিন। সব কাজ একা করলে তাতে অন্যের অংশগ্রহণ যেমন থাকে না, তেমনি তৈরি হতে পারে দূরত্ব।

খেলাধূলা আর হাসি
বড় মানুষ হলে যে কোনো খেলাধূলা করা যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। গুরুগম্ভীর ভাব বাদ দিয়ে হালকা মেজাজে চলুন। মেতে উঠুন খেলা আর হাসিঠাট্টায়। এতে জীবন হয়ে উঠবে আনন্দে পরিপূর্ণ।

সারপ্রাইজ দিন
আপনার স্বামী যে শুধু সারপ্রাইজ দেবে এমন কোনো কথা নেই। তার বদলে আপনি নিজেও তাকে সারপ্রাইজ দিন। কোনো ছুটির দিনকে দারুণভাবে ব্যবহার করে কিংবা বিশেষ কোনো দিনে তাকে মজার উপহার দিয়ে চমকে দিন সবাইকে।

খ্রিস্টীয় বিয়ের রীতিনীতি

বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধন। বিয়ের মাধ্যমে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারাজীবন একসঙ্গে চলার শপথ।

এছাড়া বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও আইনগত যে বিধান রয়েছে তাতে স্বামী -স্ত্রী উভয়েরই স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। ধর্মগত কারণে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিয়েতে রীতিনীতি আলাদা।

তবে আমাদের দেশে খ্রিস্টীয় বিয়েতে দেশীয় রীতি, কৃষ্টি ও সামাজিক মূল্যবোধ উপলব্ধি করে লোকাচার ও স্ত্রী আচার মিলে একটি নান্দনিক, আনন্দময় ও সুন্দর রূপ দেয়া হয়েছে। আসুন জেনে নিই খ্রিস্টীয় বিয়ের রীতিনীতি।

কনে নির্বাচন: খ্রিস্টান বিয়েতে সবার প্রথমে যে কাজটি করা হয় সেটি হলো কনে নির্বাচন। বরপক্ষ সাধারণত কনের চরিত্র, দোষ-গুণ, বংশ পরিচয় জেনে কনে নির্বাচন করে থাকেন।

প্রস্তাব : কনে পছন্দ হওয়ার পর শুভদিন দেখে বরপক্ষ কনের বাড়ি যায়। তাদের উদ্দেশ্যের কথা জানায় ও বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

বাগদান: বর ও কনেপক্ষ রাজি থাকলে বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাগদান উপলক্ষে পান, সুপারি, বিজোড়সংখ্যক মাছ আয়োজন থাকে।

আশীর্বাদ গ্রহণ: এই অনুষ্ঠানে বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে যায়, যা আগেই কথা বলে ঠিক করে রাখা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর-কনে সবার আশীর্বাদ গ্রহণ করে।

নাম লেখা: বিয়ের ৩ সপ্তাহ আগে কনের বাড়িতে পুরোহিতের কাছে বর-কনে নাম লেখান। অনেকে এ অনুষ্ঠানে আতশবাজি ও বাজনার আয়োজন করে।

বান প্রকাশ: এই অনুষ্ঠানে বর-কনে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মণ্ডলীর বিধি অনুযায়ী এ সময় বিয়ের ক্লাস করতে হয়। এটি বিয়ে-পূর্ব ব্যাধতামূলক ক্লাস ব্যবস্থা।

অপদেবতার নজর: নাম লেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বর-কনেকে অতি সংযমী জীবন করতে হয়।

অনেকে এ সময় ভূত-প্রেত ও অপশক্তির নজর থেকে রক্ষার জন্য ‘রোজারি মালা’ বা ‘জপমালা’ গলায় পরেন।

খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বিয়ে
খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বিয়ে

কামানি বা গা-ধোয়ানি:

বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানকে গা-ধোয়ানি বলে। অনেক খ্রিস্টান সমাজে এই দিন গায়েহলুদ মাখিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে অনুষ্ঠান করা হয়।

কনে তোলা:

বিয়ের দিন ভোরে বাদকদলসহ বরের আত্মীয়স্বজন কনের বাড়ি গিয়ে কনেকে নিয়ে আসে। কনেকে ঘর থেকে আনার সময় তার হাতে পয়সা দেয়া হয়।

কনে বাড়ি থেকে আসার সময় সেই পয়সা ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। এর অর্থ হলো যদিও সে বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে, তারপরও বাড়ির লক্ষ্মী ঘর থেকে চলে যাচ্ছে না।

গির্জার অনুষ্ঠান:

শুরুতে গির্জার প্রবেশপথে যাজক বর-কনেকে বরণ করে নেয়। তারপর বর-কনে দুজনের মধ্যে মালাবদল করা হয়। এরপর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়া হয়।

ঘরে তোলা:

এই অনুষ্ঠানে উঠানের দিকে মুখ করে বড় পিঁড়ির উপরে বর-কনেকে দাঁড় করানো হয়। এরপর বর-কনে সাদা-লাল পেড়ে শাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ঘরে ওঠে। এ সময় বর ও কনে একে অপরের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে থাকে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮৭২ সালের বিশেষ বিয়ে আইন রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বিশেষ বিয়ের জন্য একজন রেজিস্টার থাকে।

প্রথমত বৈধ বিয়ে করা হচ্ছে এই হিসেবে এফিডেভিট করতে হয়, পরে রেজিস্টারের কাছে হলফনামা জমা দেয়।

এর ১৪ দিন পর একটি নোটিশ দেয়া হয়। পরে নোটিশ নিয়ে রেজিস্টারের কাছে গেলে বিয়ে নিবন্ধিত করা হয়