জীবনসঙ্গী খুঁজতে বিবাহবিডি

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনি অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহবিডি ডট কম। এখানে অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ঘরে বসেই আপনি চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ
৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স – বিধবা – বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী।  তাছাড়াও বিবাহবিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার  সার্চ ( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ
জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

প্রথমেই দেখে নিন কোন কোন প্রফেশনের কত জন পাত্র/পাত্রী এই মূহুর্তে বিবাহবিডিতে রয়েছে।  লিংকে ক্লিক করুন 


এই অডিওটি আপনাকে আমাদের সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।


যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ইজি সার্চ  অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে। 


কিভাবে বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করবেন: আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে
লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন   অথবা বিস্তারিত জানতেঃ ০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


নীচের উল্লেখিত ভিডিওটি দেখলে বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা পাওয়া যাবে –

কোন কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে সমস্যায় পড়লে বিবাহবিডির কাষ্টমার সাপোর্ট আপনাকে ২৪/৭ দিনই হেল্প করার জন্য প্রস্তুত আছে আপনি ফোনে (০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫) সাহায্য নিতে পারেন।

আপনার রেজিষ্ট্রেশন টি সম্পূর্ন হয়ে গেলে বিবাহবিডির একজন কাষ্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ আপনার প্রদত্ত তথ্যগুলো ফোনে রিভিও করে আপনাকে ৩ দিনের জন্য বিবাহবিডিতে ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ দিবে ও বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা দিবে।

৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপে আপনি বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে বাছাই (Add To Favorite ) করে পরবর্তীতে আপনার সাধ্য অনুযায়ী মেম্বারশীপ কিনে পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌছাতে সক্ষম হবেন।


বিবাহবিডি ডট কমের বুকলেট বা  সেবা বিষয় পুস্তিকা (PDF) ডাউনলোড  করুন ।


পাঠকের সুবিধার্থে বিবাহবিডির সরাসরি কয়েকটি সার্চ রিজাল্টের লিংক নিম্নে দেয়া হলোঃ


Support Center:

BIBAHABD.COM
HOUSE: 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE, DHAKA-1219.
Hotline : +88 0961 22 11 555,  88 019 22 11 5555


বিবাহবিডি ডট কম অফিস লোকেশন 

পাত্র বাছাইয়ে নারীদের যেমন পুরুষ পছন্দ

একজন মানুষের গুণাগুণ মাপার শর্টকাট কোন যন্ত্র নেই । সৎ ও আদর্শবান মানুষ হতে হলে কী কী গুণাবলী থাকা দরকার এ বিষয়ে হাজারো মন্তব্য পাওয়া যাবে। তারপর যখন আরো একটু বিস্তারিত ভাবে জানতে চাইবেন যে, একজন পুরুষের মধ্যে কী কী গুণাবলী থাকা উচিৎ; সেখানেও নানান মন্তব্য পাওয়া যাবে। একজন পুরুষ যেমন একজন সুন্দরী, শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্ববান নারী পছন্দ করেন।  তেমনি একজন নারীও চান তার সঙ্গীটি সৎ, ব্যক্তিত্ববান এবং বিশ্বস্ত হবেন।

পৃথিবীতে সমস্ত গুণাবলীর ভাণ্ডার নিয়ে কোনো পুরুষই জন্মায়নি।  সবদিক থেকে গুণাবলীসম্পন্ন পুরুষ সঙ্গী মেলা ভার। কিছু মৌলিক জিনিস আছে যেগুলো নারী-পুরুষের চাওয়ার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে পাওয়ার মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য আছে।  সবার দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু এক নয়। আপনার চোখে যা সুন্দর অন্যের চোখে তা তেমন সুন্দর নাও হতে পারে।  নারীর পছন্দ, অপছন্দ চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদির বিস্তর সন্ধান করেছেন গবেষকরা।  অনাবৃত রয়েছে অনেক রহস্য।

অস্ট্রেলিয়ান মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড মনে করেন, মেয়েদের মন পুরুষদের চেয়ে অনেক পরিষ্কার থাকে। আর সে কারণে মেয়েরা তাদের মনটাকে ঘন ঘন বদলান। আবার তাদের অনেক প্রিয় বিষয় আছে যা তারা একেবারেই বদলান না।

একজন নারী সঙ্গী বা পাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন গুণাগুণ যাচাই করেন তারই কিছুটা –

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ পাত্র নির্বাচনের জন্য অনেক তোড়জোড় দিয়েই শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা হয়। কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে ক্যারিয়ার জড়িত থাকে। সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পাত্র না হলে এবং ভালো ক্যারিয়ার না থাকলে পাত্রীর বাবা মা বিয়ে দিতে চান না। কিন্তু বর্তমান ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ক্যারিয়ার ভিত্তিক চিন্তা ভাবনা, যোগ্যতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতটাও দেখা উচিত।

সঠিক বয়সের পার্থক্য: আজকাল অনেকে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। সমবয়েসি কিংবা পাত্রী বড়ও বিয়ে করে থাকেন। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পাত্রের পাত্রীর চাইতে ৩-৫ বছরের বয়সের পার্থক্য থাকা উচিত। কারণ সাইকোলজিস্টদের মতে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ম্যচিউরিটি একটু দেরিতে আসে।

শারীরিক সুস্থতা: অনেকেই শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য, বয়স, ক্যারিয়ারের কারণে পাত্র পছন্দ করে ফেলেন। কিন্তু বয়সের আগে শারীরিক সুস্থতা নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত। এর মানে এই নয় যে সাধারণ বিষয় ধরে বসে থাকা উচিত। ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পাত্র/পাত্রীর সুস্থতার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ন।

মানবিক গুণাবলী: মানুষটির মানবিক মূল্যবোধ কতোটা ভালো তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। কারণ নিজের চাইতে ছোটো এবং পজিশনের ছোটো মানুষের প্রতি তার আচরণ খারাপ হলে তার মানসিক এবং মানবিক মূল্যবোধ না থাকারই কথা। এবং এই ধরণের মানুষের সাথে সংসার পাতা যায় না।

ব্যক্তিত্ববান : আপনি দেখতে আকর্ষণীয় নাও হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিত্ববান তো হতে পারেন। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষদের নারীরা বেশি পছন্দ করে থাকেন। কারণ ব্যক্তিত্ববান পুরুষ সঙ্গীর পাশাপাশি অন্যের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম।

সৎ এবং বিশ্বস্ত : সঙ্গী সৎ এবং বিশ্বস্ত হবে এমনটা প্রতিটি নারী আশা করেন। তারা চান সঙ্গী যেন অবশ্যই সৎ ও স্মার্ট হয়।  নারীরা সততার মাপকাঠিতে পুরুষকে সবার আগে যাচাই করেন তার বিশ্বস্ততা। এ ক্ষেত্রে সবসময় আপনার সঠিক অবস্থানটাই জানান। এতে তার মধ্যে বিশ্বস্ততা তৈরি হবে।

পরিপক্ষ ও শান্ত স্বভাবের : লক্ষ্য করে দেখুন তিনি কতোটা খোলা মানসিকতার মানুষ। কারণ মানসিকতা যদি ছোটো হয় তাহলে আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতায় তিনি হস্তক্ষেপ করবেন এবং আপনার ওপর কারণে অকারনে সন্দেহের দৃষ্টি দেবেন। তাই এই ধরণের মানুষ নির্বাচন করে বসবেন না। সাধারণত নারীদের মানসিক পরিপূর্ণতা পুরুষের আগে আসে। নারীরা চান তার পুরুষ সঙ্গীটি যেন মানসিকভাবে পরিপক্ক এবং শান্ত স্বভাবের হন। ভালোবাসার ক্ষেত্রে আবেগ প্রকাশ করেন এবং একইসঙ্গে সাহস করে সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা থাকে। এক কথায় নারীরা তার সঙ্গীর ওপর নির্ভর করতে পছন্দ করেন। তাই মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা পুরুষের সঙ্গ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

কিছুটা হলেও হাসিখুশি মেজাজের: অনেকেই আছেন অনেক গম্ভীর মেজাজের হয়ে থাকেন কিন্তু তার মধ্যে কিছুটা হলেও রসবোধ থাকে। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থেই একেবারে গম্ভীর তাদের সাথে সংসার করা এবং সময় কাটানো বেশ কঠিন।

আপনার সাথে মনের মিল: বিয়ের আগেই দেখে নিন আপনাদের মধ্যে মিলটা কতোখানি। আপনারা কি একই ধরণের চিন্তা করেন কিনা বা একই আদর্শে বিশ্বাসী কিনা। কারণ একজন অনেক খোলামেলা মনের অধিকারী হয়ে নিচু মনমানসিকতার মানুষের সাথে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

সত্যবাদী : নারীরা সত্যবাদী পুরুষদের বেশি পছন্দ করেন। যদি দীর্ঘ সম্পর্কে জড়াতে চান সঙ্গিনীর সঙ্গে কখনো সত্য গোপন করবেন না। অথবা কোনো কিছু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সঙ্গিনীকে বিব্রত করবেন না। আপনি অপছন্দনীয় কিছু একটা করে ফেললেও তা লুকোনো হবে আপনার জন্যে আরো বড় ভুল। কারণ আপনার দোষের যদি কোনো কিছু থাকে তা সত্যি করে বলাটাকে মেয়েরা আরো বেশি পছন্দ করেন। তাই নারীদের সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পাত্র কতটুকু সত্যবাদী তা পরখ করে নেয়াই শ্রেয়।

আর্থিক নিরাপত্তা: প্রতিটি নারীই কর্মঠ সঙ্গী পছন্দ করেন, এযুগে উচ্চ শিক্ষিত অনেক নারীই কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন,  তারপর ও বেশীর ভাগ নারীই চান নিজের জীবন সঙ্গী অবশ্যই কর্মঠ হবেন।  তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক নারীই সঙ্গী বাছাইয়ে সরকারী চাকুরীজীবীদের বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।  আবার শহরের বেড়ে উঠা সচ্ছল ও উচ্চ শিক্ষিত নারীদের মাঝে উন্নত দেশে প্রতিষ্ঠিত অথবা প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী, বহুজাতিক কোম্পানীর চাকুরীজীবীদের পছন্দের প্রধান্য লক্ষ্য করা যায়।  আবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে খুব বেশী চাহিদা না থাকলেও শিক্ষিত ও কর্মক্ষম পুরুষ তাদের প্রথম পছন্দ হয়, হোক সে সরকারী, বেসরকারী চাকুরে কিংবা প্রবাসী; সেখানে আর্থিক নিরাপত্তার বিয়য়টি ব্যাপক প্রাধান্য পায়। এজন্য কর্মক্ষম, স্বাবলম্বী ও ব্যাক্তিত্ববান একজন পুরুষই প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

পোশাকে রুচিশীল : বিশেষজ্ঞদের মতে, রুচিহীন পোশাকের পুরুষদের কোনো কিছুই মেয়েদের আকর্ষণ করে না। সাধারণত চলতি ফ্যাশন নারীদের কাছে প্রিয়। তাই একটু ফ্যাশনেবল থাকতে হবে। ভালো পোশাকই আপনার রুচির পরিচায়ক।

চুলে স্টাইলিশ : চুলের ভালো একটা কাটিং আপনার চেহারা বদলে দেবে অনেকখানি। চেহারার আদলের সঙ্গে মানানসই চুলের ছাঁট নারীদের কাছে আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে। তাদের সামনে আপনার উপস্থিতির ওপর চুলের ছাঁট অনেক গুরুত্ব রাখে।

কথা বলার স্টাইল : আপনার স্টাইলেই কথা বলুন। অন্যকে একদম নকল করবেন না। কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু কথা একদম বলবেন না। বারবার যেন আঞ্চলিকতার টান কথার মাঝে চলে না আসে। শুদ্ধ সহজ ও সাবলীল ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালোভাবে কথা বলতে জানলে আপনার সঙ্গিনী শুধু আপনার কথা শোনার প্রতীক্ষায় থাকবেন।

উপহার দেয়া : মেয়েরা হঠাৎ করে পছন্দনীয় গিফট পেয়ে চমকে যেতে মারাত্মক ভালোবাসেন। চকোলেট, সুন্দর কথা লেখা গিফট কার্ড বা ফুল এগুলোর কথা নিশ্চয় সবাই জানেন। আরো কি কি জিনিস রয়েছে তাদের পছন্দের তালিকায় সেগুলো কৌশলী হয়ে জেনে নিতে হবে। তাকে হঠাৎ করে সুসজ্জিত কিছু একটা উপহার দিয়ে চমকে দেয়া খুব পছন্দ করেন। দেখবেন, আপনার কাছ থেকে এমনই একটা গিফট আশা করেছিলেন আপনার সঙ্গিনী।

কেউই চান না তার বিবাহবিচ্ছেদ হোক। মানুষ যখন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তখন সারাজীবন একসাথে একই ছাদের নিচে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু একে অপরকে বুঝতে না পারা এবং ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের কারণে হয়তো বিবাহের সম্পর্কে টানাপোড়নের সৃষ্টি হয়। এবং বেশি টানাপোড়নের কারণে অনেক সময় না চাইতেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তাই বিয়ের আগেই ভাবুন। পাত্র  পছন্দের সময় মাথায় রাখুন ভবিষ্যতের ব্যাপারগুলো। পাত্র পছন্দ হলেও মিলিয়ে দেখুন তার কিছু গুণ রয়েছে কিনা যা ভবিষ্যতে আপনাদের দাম্পত্যজীবন সুখী করে তুলবে।

ছেলেরা যে গুন গুলো রূপ থেকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

প্রতিটা মেয়ে তার সঙ্গীর মনের রানী হয়ে থাকতে চায়, অনেকের ধারনা ছেলেরা সুন্দর চেহারার মেয়েদেরকে বেশি পছন্দ করে, ধারনাটি সম্পূর্ণ ঠিক না। বেশির ভাগ ছেলেরা মেয়েদের রূপে নয় গুণে মুগ্ধ হয়। সকল মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনি কোন শো-পিস না, আচারনগত গুন আপনার আসল সৌন্দর্য। মেয়েদের যে আচরণ গুলো তার সঙ্গীর মনে দৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করে, সে চমৎকার বিষয় গুলো তুলে ধরা হলোঃ

জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা: আমাদের জীবনে ভালো সময় যেমন আসে, খারাপ সময় তেমনি আসে। ভালো সময়ে সবাই পাশে থাকে, কিন্তু খারাপ সময় কেউ থাকেনা। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর কঠিন সময়টাতে তার পাশে থাকেন তবে কঠিন সময়টা কিছুটা হলেও সহজ মনে হবে।

বিশ্বাসের মর্যাদা: পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্ক সম্পূর্ণ হয়না। আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি তখনি বেশী আশ্বস্থ হবে যখন আপনি তার বিশ্বাস ভাঙতে দেবেন না। কখনো এমন কোন ভুল কাজ করবেন না যেটার প্রভাব আপনাদের সম্পর্কের উপর পড়ে। আপনার প্রতি আপনার সঙ্গীর যে বিশ্বাস আছে তার মর্যাদা অক্ষুন্য রাখুন।

ভাষার মিষ্টতা: মানুষ তার মুখের ভালো ভাষা দিয়ে যে কারো মন জয় করতে পারে। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলার সময় মিষ্টি করে কথা বলেন তাহলে আপনার জন্য তার মনে গভীর স্থান তৈরি হবে। ছেলেরা তার সঙ্গীর মধ্যে এধরনের গুণ আশা করে।

সঙ্গীর জীবনের লক্ষ্যকে নিজের মনে করা: কথায় আছে প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন নারী থাকে।আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে তার সাফল্য অর্জনের পথে থাকেন তবে মনে রাখবেন আপনি হবেন তার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ।

আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার সময় মনোবলের যোগান: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, প্রতিটি ছেলে শিক্ষাজীবন পার করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে চাকরি বা ব্যবসা শুরু করে, তবে পথটা এত সহজ না। আপনি যদি এই কঠিন সময়টাতে তার পাশে থেকে উৎসাহিত করেন তবে আপনি সঙ্গী হিসাবে আদর্শ।

মানুষ তার আচারনকে পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু চেহারা পরিবর্তন করতে পারেনা। আমাদের উচিৎ সঙ্গীর সাথে সব সময় সৎ আচারন করা।

বিয়ের প্রস্তুতিঃ বর-কনের আচরণ ও কিছু সতর্কতা

বিয়ের আগের ও পরের আচরণ বর-কনের পরবর্তী জীবনে প্রভাব বিস্তার করে। তাই দুজনই সতর্ক থাকুন।  ভেবেচিন্তে একে অপরের সঙ্গে আচরণ করুন।  কী করবেন আর করবেন না, জানাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহমেদ তুষার –

বিয়ের পর প্রায়ই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নানা রকম কষ্ট, যন্ত্রণা কিংবা অসন্তুষ্টি দেখা যায়।  অথচ একটু সচেতন হলেই অশান্তি দূর করে সাংসারিক জীবনে বসন্তের রং ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।   বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব সাধারণ কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো একটু জেনে নেওয়া যাক।

বিয়ের আগে: বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীরা ছোটবেলা থেকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে রাখা আদর্শ বা পারফেক্ট পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে থাকে। জেনে রাখা দরকার যে পৃথিবীর কেউই পারফেক্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে প্রত্যাশার একটা ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে পাত্র-পাত্রী খোঁজা ভালো। পাত্র-পাত্রী খোঁজার সময় তাদের ব্যক্তিত্ব, পেশাগত কাজের ধরন, পারিবারিক সংস্কৃতি ও রীতিনীতি জানা প্রয়োজন।

দেখতে যাওয়া: বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীকে দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। পাত্র-পাত্রীর নিজেদেরও পরিচিত হয়ে নেওয়াটা দরকার। কিন্তু বারবার দেখতে এলে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। বিয়ের পরও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। ছবি দেখে ও খোঁজখবর নিয়ে পছন্দ হলে কোনো রেস্টুরেন্ট বা মার্কেটে পাত্রীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখা করুন এবং স্বাভাবিক সামাজিক কথাবার্তা বলে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। সব দিক থেকে পছন্দ হলেই শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্র-পাত্রীর বাসায় যাওয়া উচিত। পাত্র বা পাত্রীকে দেখতে গিয়ে এমন কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য করবেন না, যা তার জন্য অপমানজনক।  কোনো তথ্য জানতে হলে কৌশলী হোন।

বিয়ে ঠিক হলে: বিয়ে ঠিক হলে পাত্র-পাত্রী নিজেদের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে নিতে পারলে ভালো। একই সঙ্গে উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত ফোনে হলেও কথা বলে সম্পর্কগুলো সহজ করে নেওয়া যেতে পারে। এ সময় সততার সঙ্গে তথ্যর আদান-প্রদান করা উচিত। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী তার ভাবী স্ত্রী বা স্বামীকে একজন আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী হিসেবে কল্পনা করতে পছন্দ করে। শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবাই তাকে আদর করবে, সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক থাকবে। মনে রাখতে হবে, আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য থাকবে। কারণ কেউই সব দিক থেকে আদর্শ নয়। অন্যদিকে তাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কাও কাজ করতে থাকে। মেয়েদের মধ্যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেমন হবে, তাদের সঙ্গে মানাতে পারবে কি না, স্বামী তাকে বুঝবে কি না, এ ছাড়া তার প্রিয় পরিবেশ ছেড়ে যেতে হবে—এটার একটা কষ্ট তার মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে। বিয়ের আগে ও পরে পাত্র-পাত্রীর একে অপরের আশঙ্কাগুলো বুঝে তাকে আশ্বস্ত ও সহায়তা করা উচিত।

বিয়ের দিন কনেকে ঠাট্টা নয়: বিয়ের দিন ঠাট্টা বা ঠকানোর বিষয়টি পুরনো প্রচলন। ঠকানোর বিষয়টি অন্যদের ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার না করলেও কনের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। কনে অনেক মানসিক চাপ, আশঙ্কার মধ্যে থাকে এবং তাকেই নতুন পরিবেশে যেতে হয়। এ কারণে তার মনের অবস্থা নাজুক থাকে। তাই সামান্য পিনের খোঁচা বুলেটের চেয়েও বেশি ব্যথিত করে। এটার প্রভাব মেয়েটির মনের অজান্তেই দীর্ঘদিন থেকে যায়। এ জন্য বিয়ের দিন প্রথম দেখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বউয়ের সঙ্গে ঠাট্টা না করে সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বললে তার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিয়ের পর:  বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীকে আরো বেশি করে অনুভব করে এবং স্বামীও তার মতো করে প্রচণ্ড আবেগ দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করুক—এটা প্রত্যাশা করে। অনেকে এই আবেগকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে করে বিরক্ত হয়। অন্যদিকে সামাজিক কারণেই স্বামীকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়—স্ত্রীকে সম্মানজনক অবস্থায় রাখতে হবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে ইত্যাদি। ফলে স্ত্রী মনে করে, স্বামী তাকে আর আগের মতো ভালোবাসে না। এ সময় সন্দেহের সুপ্ত বীজ উপ্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ছেলেটি যে মেয়েটিকে ভালোবাসে না তা নয়, কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারে না অথবা প্রকাশ করার প্রয়োজন অনুভব করে না। হয়তো স্ত্রী-সন্তানদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্যই সে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এ সময় স্বামীর উচিত স্ত্রীর আবেগকে বোঝার চেষ্টা করা এবং স্ত্রীকে যথাসম্ভব সময় দেওয়া। একই সঙ্গে স্ত্রীরও বোঝা উচিত স্বামীর ব্যস্ততার অর্থ ভালোবাসা কমে যাওয়া নয়, এই পরিশ্রমের উদ্দেশ্য তাদের ভালো রাখার প্রচেষ্টা।

নবদম্পতি ও যৌথ পরিবার: যৌথ পরিবারে অনেক সময় দম্পতিরা একান্তে সময় কাটানো বা একটু কাছাকাছি আসতে কুণ্ঠা বোধ করে। ফলে তাদের মানসিক চাহিদা পূর্ণ হয় না। বরং এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। স্বামী হয়তো বাইরে গিয়ে অস্বস্তি কিছুটা কমিয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু স্ত্রীর মধ্যে দিনে দিনে অস্বস্তিটা জমাট বাঁধতে থাকে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই অস্বস্তি সংযুক্ত হয়ে যায়। ফলে মেয়েটির মনের অজান্তেই পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিরক্তিবোধ তৈরি হতে থাকে। একান্ত সময়গুলোতে যাতে সে অবাধে সারা দিনের আবেগ প্রকাশ করতে পারে, সেই সুযোগ দিতে হবে। তার আবেগের প্রতি অতিপ্রতিক্রিয়াশীলতা দেখানোর প্রয়োজন নেই, বরং তার আবেগকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যৌথ পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত নবদম্পতিকে কিছুটা সময় একান্তে কাটানোর সুযোগ দেওয়া। মেয়েটি যাতে এই পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারে, এ বিষয়ে তাকে সহায়তা করা।

স্ত্রী ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা: বিয়ের পর ছেলেটিকে যে শক্ত কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় তা হচ্ছে স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষত মায়ের মধ্যে ব্যালান্স করা। ছেলেটির জন্য মা ও স্ত্রী তার দুই হাতের মতো; কোনোটিই তার বেশি আপন বা পর নয়। একইভাবে সে মা ও স্ত্রী উভয়েরই ভালোবাসার পাত্র, দুজনই তার কাছ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ প্রত্যাশা করে, যা খুবই স্বাভাবিক। তাই ছেলেটিকে এ ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে এবং কাউকে কষ্ট না দিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।

জীবনধারার পরিবর্তন: বিয়ের পর ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই তার লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হয়। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় দেওয়া কমে যায় এবং খাওয়া, ঘুমসহ জীবনের নানা উপাদান নতুন মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতে হয়। এ ক্ষেত্রে উভয়কেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে। খরচের হাত কিছুটা সীমিত করতে হয়। তবে মনে রাখা দরকার, হঠাৎ করে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা কঠিন। এ জন্য তাকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত এবং উন্নতি হলে উৎসাহিত করা উচিত।

বিয়ের পর ভালো সম্পর্ক রাখতে করণীয়:
♦ মনে রাখুন, বিয়ে হলেই অবধারিতভাবে ভালোবাসা থাকবে তা নয়। ভালোবাসা তৈরি ও রক্ষার জন্য সব সময় স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই ভূমিকা রাখতে হয়।
♦ নতুন জীবনের সঙ্গে আপনার লাইফস্টাইলটা অ্যাডজাস্ট করে নিন।  যেকোনো সম্পর্কই ছাড় প্রত্যাশা করে।
♦ স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে আনন্দদায়ক কিছু করুন; যেমন—দূরে বেড়াতে যাওয়া, একসঙ্গে হাঁটা, মার্কেটে যাওয়া। আপনার কোনটাতে ভালো লাগবে তা আপনার সঙ্গীকে বলুন এবং তারটিকেও গুরুত্ব দিন।
♦ সঙ্গীর ভালো কাজের সত্যিকারের প্রশংসা করুন।
♦ মাঝে মাঝে উপহার দিন, সারপ্রাইজ দিন এবং সৃজনশীল কিছু করুন, যাতে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়।
♦ মনের মধ্যে কষ্ট বা ভালো লাগা তৈরি হলে তা ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করুন এবং সঙ্গী প্রকাশ করলে তার স্বীকৃতি দিন। রাগ সঠিকভাবে প্রকাশ করুন। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে পছন্দনীয় কোনো নামে ডাকুন।
♦ পরিবারে কোনো সমস্যা তৈরি হলে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধান করুন। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দুজনে মিলে আলোচনা করে নিন।
♦ উভয় পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন এবং পরস্পরকে খোঁচা মেরে কথা বলা এড়িয়ে চলুন।
♦ নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া একে অপরকে সন্দেহ করা এড়িয়ে চলুন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো বারবার মনে করিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করুন এবং তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করুন।  সুত্রঃ কুমিল্লার কাগজ

যা দেখে বুঝবেন সে বিয়ে করবে না

প্রতিটি সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত মিলন চায়।  ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু দুজনের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্ক ঠিকঠাক থাকলেও অনেক সময় ভবিষ্যতের ভাবনায় কেউ কেউ পিছুটান দিতে শুরু করে। এতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সম্পর্ক টিকবে কি না, দুজনের একসঙ্গে ঘর বাঁধা হবে কি না, সঙ্গীর হাবভাবে বুঝে নিতে পারেন। কিছু আচরণ দেখেই বুঝে নিতে পারেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। জেনে নিন কয়েকটি আচরণ সম্পর্কে:

প্রয়োজনে পাবেন না: যখন আপনার সবচেয়ে জরুরি দরকার, তখন পাশে পাবেন না। আপনার ভালো বন্ধু হতে পারে, আপনাদের মধ্যে রসায়নটা ভালো হতে পারে, কিন্তু যখন মানসিক সমর্থন দরকার হয়, তখন সবচেয়ে দূরে চলে যায়—এমন ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী করা বিপদ।

ভবিষ্যতের আলাপে অনীহা: আপনার সঙ্গী কি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনাগ্রহী? যখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, সে এড়িয়ে যায় বা অন্য প্রসঙ্গ তোলে? এ রকম হলে সতর্ক হতে পারেন। কারণ, আপনার সঙ্গীর মনে হয়তো অন্য কিছু। বুঝে নিতে পারেন সে হয়তো ঘর বাঁধতে আগ্রহী না!

পরিবারের কথা লুকাবে: পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললে বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কথা বললে যদি দেখেন আপনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বা ঝামেলা করছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিক কি না ভেবে দেখতে পারেন।

দায়িত্ব গ্রহণে অজুহাত: অনেক দিন দেখা-সাক্ষাতের পরও বিয়ের কথা তুললে অনেকেই বলে, বিষয়টি অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে বা আমার এখনো দায়িত্ব নেওয়ার সময় আসেনি। এমন অজুহাত দেখালে তার দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহ জাগতে পারে।

বিয়েবিরোধী: বিয়ের কথা বললেই যদি সঙ্গীর অস্বস্তি শুরু হয় আর তার তালিকায় যদি বিয়ে সবার শেষ থাকে বা বিয়ে নিয়ে তার ধারণা নেতিবাচক হয়, তবে অবশ্যই বিষয়টি চিন্তার। এ রকম ধারণার মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নাও হতে পারে।

আপনার ভাবনায় অনাগ্রহী: সে কী চায় বা তার আগ্রহ নিয়ে আপনার অনেক কিছু ভাবনা হয়তো আছে, একই রকম ভাবনা তার আছে কি না খেয়াল করেছেন? আপনাকে নিয়ে তার যদি খুব বেশি আগ্রহ না থাকে, তবে সম্পর্ক নিয়ে দুবার চিন্তা করুন।

দিন শেষে একাকী: দুজন কোথায় খেতে বা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও সঙ্গী যদি কৌশলে এড়িয়ে যায় বা আপনাকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী না থাকে, তবে সম্পর্ক কত দূর যাবে, সেটি ভাবার বিষয়।

কখনো প্রশংসা না করা: সঙ্গীর জন্য যতই করুন, যদি তার কাছ থেকে প্রশংসা না শোনেন বা আপনাকে নিয়ে তার আগ্রহের কথা না বলে, তবে নিশ্চয়ই তার মনে অন্য কিছু আছে।

মহড়া দেওয়া: সম্পর্কের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যদি আপনার সঙ্গী মহড়া দেওয়ার কথা বলে বা আগে পরীক্ষা করে পরে সম্পর্ক স্থায়ী করার কথা বলে, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কারণ, বিয়ে কোনো মহড়া বা পরীক্ষার বিষয় নয়।

সুসময়ের বন্ধু: যদি আপনার সুখের সময় শুধু তাকে পান আর দুঃখের সময় না পান, তবে সে আপনার জন্য বিশেষ হতে পারে না। যার সঙ্গে দুঃখ-সুখ ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন, তার সঙ্গেই কেবল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারেন।  তথ্যসূত্র: টিএনএন, প্রথম আলো 

সম্পর্কে জড়ানোর আগে

ভালো লাগা থেকে সম্পর্কে জড়ানোর আগে এর গুরুত্বটা বুঝতে হবে। তা না হলে শুরুতে যে আকর্ষণবোধ থাকে, পরে তা তেতো হয়ে ওঠে। সম্পর্ক গড়লে তার পরিণতি কী হবে, সেটি ভেবে সম্পর্কে জড়ানো উচিত।  এ ছাড়া সম্পর্কে জড়ানোর আগে আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত।  জেনে নিন বিষয়গুলো:

প্রত্যাশা: সম্পর্কে প্রত্যাশার বিষয়টি আগে মিটমাট করে নিন। সঙ্গীর আবেগের সঙ্গে আপনার আবেগ কতটুকু যায়, সেটা আগে বুঝতে হবে। প্রয়োজনে সম্পর্কের ধরন ও প্রত্যাশাগুলোর বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নিন। এতে পরে সম্পর্কে ঝুট-ঝামেলা কম হবে, দুজনের বোঝাপড়া শক্ত হবে।

ত্যাগ: সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে কতটুকু ছাড় দেবেন, সম্পর্কে জড়ানোর আগে তা নির্ধারণ করে নিতে পারলে ভালো। দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। সম্পর্কে জড়ানোর আগে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য সবকিছু ভেবে তারপর সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

পরিচয়: সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজের পরিচয়ের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন। মনে রাখবেন, কোনো কিছু সমন্বয় করা মানে আপস করা নয়। নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিতে হয়—এমন সম্পর্কে জড়ানোর আগে সতর্ক থাকুন।

অতীত: নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে অবশ্যই পুরোনো সম্পর্কের সবকিছু ছেড়ে দিতে হবে। এতে নতুন সম্পর্কে ঝড় ওঠার আশঙ্কা কম। এ ছাড়া সঙ্গীর সঙ্গে অতীত নিয়ে প্রতারণা করা ঠিক নয়। পুরোনো সম্পর্কের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র থাকলে তা নতুন সঙ্গীকে আগে খোলাসা করে বলা উচিত।

সময়: সুখী সম্পর্ক গড়তে সঙ্গীর সঙ্গে ভালো সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ। হাতে যখন সঙ্গীকে দেওয়ার মতো যথেষ্ট সময় থাকবে, তখনই কেবল সম্পর্কের কথা ভাববেন। তা না হলে সঙ্গীকে সময় না দেওয়ার অভিযোগে খুটখাট লেগেই থাকবে। সম্পর্ক বিষিয়ে উঠবে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হাফিংটন পোস্ট, প্রথম আলো

জাদুকর ভালোবাসা

কিছুদিন ধরেই কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে সম্পর্কটা। কোনো কিছুই আর ভালো লাগছে না ইদানিং। আর তাই কয়েক দিন ধরেই ভাবছেন কিভাবে ভালোবাসার সম্পর্কটাকে আরো ‘আনন্দময়’ করে তোলা যায়। দুজনের প্রেমের সম্পর্কটাকে আরো একটু সুন্দর করে তোলার জন্য এবং ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে তোলার জন্য কি করা যায় তাই ভাবছেন এখন।

ভালোবাসার সম্পর্কটাকে ‘জাদুময়’ করে তোলা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। বেশ সহজ কিছু কাজের মাধ্যমেই দুজনের সম্পর্কটাকে করে তুলতে পারেন জাদুকরী।  যে কাজগুলো করতে আমরা ভুলে যাই, কখনো কখনো সেই ছোট্ট কাজগুলোই ভালোবাসাকে করে তোলে দারুণ আকর্ষণীয়। আসুন জেনে নেয়া যাক “জাদুকর ভালোবাসা” তৈরী করার কিছু কৌশল সম্পর্কে।

প্রতিদিন আলিঙ্গন
আলিঙ্গন ভালোবাসাকে করে তোলে ‘প্রাণবন্ত’।  প্রতিদিন আপনার সঙ্গীকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করে রাখুন। অন্তত ১০ সেকেন্ড ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে রাখুন তাকে। এতে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং ভালোবাসা হয়ে উঠবে ‘ম্যাজিক্যাল’।

সঙ্গীর জন্য সপ্তাহে  বিশেষ একটি দিন
সবারই কাজের ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু তাই বলে ব্যস্ততার অজুহাত কি সঙ্গীকে দেয়া যায় সবসময়? প্রতিদিনই তো ব্যস্ততার অজুহাতে সঙ্গীর ফোন ধরা হয় না কিংবা দেখা করা হয় না। সপ্তাহের ছুটির দিনটি তো দেয়াই যায় সঙ্গীকে তাই না? যারা পুরো সপ্তাহ ব্যস্ত থাকেন তাঁরা সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে চাইতে সপ্তাহে অন্তত একটি দিন সঙ্গীকে সময় দিন। সেই দিন দুজনে মিলে রোমান্টিক ডিনার করুন অথবা দূরে কোথাও ঘুরতে যান। তাহলে দুজনের সম্পর্ক হয়ে উঠবে ‘ম্যাজিক্যাল’।

ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিন
আপনাদের সম্পর্ক যতই পুরান হোক সঙ্গীকে ভালোবাসার কথা জানাতে কখনই কার্পণ্য করা উচিত না। অনেকেই মনে করেন প্রেমের সম্পর্ক পুরনো হয়ে গেলে ‘ভালোবাসি’ কথাটা না বললেও চলে। কিন্তু নেই ধারণা ভুল। ভালোবাসার সম্পর্কে ‘ম্যাজিক’ ধরে রাখতে চাইতে চিরকালই সঙ্গীকে ভালোবাসার কথা জানানো উচিত।

সারপ্রাইজ দিন
সঙ্গীকে মাঝে মাঝেই সারপ্রাইজ দেয়া উচিত। সারপ্রাইজ শুধু বিশেষ দিনেই দিতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। যে কোনো সময়েই হঠাৎ করে চমকে দিতে পারেন আপনার সঙ্গীকে। সেটা হতে পারে ছোট্ট কোনো উপহার, পছন্দের খাবার রান্না করা অথবা রোমান্টিক যে কোনো কিছু।

নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন
ভালোবাসার সম্পর্কের ‘ম্যাজিক’ অনেকটাই নির্ভর করে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার উপর। প্রেমের সম্পর্কের শুরুতে মানুষ নিজের প্রতি যতটা যত্নশীল থাকে ততটা অনেকদিনের পুরনো সম্পর্কে থাকে না। কাঙ্খিত মানুষটির সাথে সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে বলে কি নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই? অবশ্যই আছে। সঙ্গীর জন্য নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন। সঙ্গির পছন্দের আকর্ষণীয় সুগন্ধি ব্যবহার করুন সবসময়। তাহলে ভালোবাসার সম্পর্কটা থাকবে ‘ম্যাজিক্যাল’।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন
আপনি যদি আপনার সম্পর্কটাকে ‘ম্যাজিক্যাল’ করতে চান তাহলে অবশ্যই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ আপনার সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে যাবে যদি হুট হাট আপনি রেগে যান এবং সঙ্গীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন কখনো। তাই সব সময় চেষ্টা করুন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার।

নিজেকে প্রানবন্ত রাখুন
সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় চেষ্টা করুন প্রাণবন্ত থাকার। স্বতস্ফুর্ত ভালোবাসায় দুজনের সম্পর্কটা খুব সহজেই ‘ম্যাজিক্যাল’ হয়ে উঠবে। তাই সঙ্গীর সাথে কাটানো সময় গুলো যেন দুজনের হাসি, আড্ডায় প্রানবন্ত থাকে সেই চেষ্টা করুন। মাঝে মাঝে কিছু নির্দোষ পাগলামীও সম্পর্কে নিয়ে আসে ‘জাদু’।

সময় দিন সঙ্গীকে

নাগরিক জীবন।  নাভিশ্বাস দৌড়।  কর্মক্ষেত্র-পরিবার।  ব্যস্ততা।  একফুটো অবকাশের দেখা মেলা ভার।  নিত্য ব্যস্ততার এই সময়ে আলাদা করে সময় মেলে কী দুজনকে দেয়ার। আর এরই ফাকফোঁকরে দূরত্ব নামক শব্দটি জায়গা করে নেয় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে।  অনেকে হয়তো টেরই পান না দূরত্বের এই উপস্থিতি। তাই ঘোচাতে হবে এই দূরত্বটাকে।  সময় দিতে হবে দুজন দুজনকে।

নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, নতুন অভ্যাস।  হাজার আলোর সম্ভাবনা আর আশা নিয়ে সুখ সাগরে ভাসতে ভাসতে মনটাকে মাঝেমধ্যেই হোঁচট খেতে হচ্ছে।  বিয়ের পরে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেই কিছুটা পরিবর্তন অবশ্যই আসে।  আগের সেই অদম্য উচ্ছল জীবনে কোথাও যেন একটু ইতস্তত ভাব ক্ষণিকের জন্য হলেও জেগে ওঠে।  সত্যি কথা হলো, বিয়ের আগে যেভাবে চলা যেত বিয়ের পর কী সেই একই গতিতে চলা সম্ভব? এখানে নতুন দায়িত্ববোধের একটা ব্যাপার আপনাআপনিই এসে জড়িয়ে যায়।  অনেকের মনেই ভাবনা থাকে—বিয়ের পরে মানিয়ে নিতে পারব তো? আমাকে মানিয়ে নিতে পারবে তো সে? কেমন হবে তার চালচলন? বিয়ের পরে আমার উপরে আমার কর্তৃত্ব ফলাবে না তো? এমন নানা ধরনের আশঙ্কাই মনের কোণে উঁকিঝুঁকি দেয় তখন। এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান সঙ্গীকে সময় দেওয়া। সুখী দাম্পত্যজীবন চাইলে বিয়ের পরে সংসারজীবনে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত।

একটা ঘটনা বলা যাক।  মিতু আর নিলয়ের নতুন বিয়ে হয়েছে।  ভীষণ ব্যস্ত দম্পতি ওরা।  একজন কর্পোরেট অফিসের উচ্চ পদস্থ অফিসার।  আরেকজন ব্যবসা চালায়।  একজনের যখন কাজের অবসর মেলে আরেকজন তখন অফিসের কাজে বিদেশ সফরে ব্যস্ত থাকে।  মাঝে মাঝে সহকর্মীদেরই স্বামী বা স্ত্রীর থেকে বেশি আপন মনে হয় ওদের। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যকার দূরত্বটা যেন বেড়েই চলেছে।

যেখানে মিতু-নিলয় দম্পতিদের মতো স্বামী বা স্ত্রীর একজন বা দু’জনই চাকরি করেন সেখানে দু’জনার ব্যস্ততা থাকবে, ব্যস্ততার মধ্যে একটা ফারাকও থাকবে।  ব্যস্ততাকে দাম্পত্যের নিত্যসঙ্গী ধরে নিয়েই নিজেদের জন্য সময় বের করার প্ল্যানিং করুন।  দাম্পত্য যদি আপনার প্রায়োরিটি হয় তাহলে আপনি সফল হবেনই।  মনে করে দেখুন তো বিয়ের আগের দিনগুলো কেন একে অপরকে ভালো লেগেছিল।  হয়তো তার উদার মন, খোলা হাসি ভালো লাগত।  সেই পুরোনো ভালোলাগাগুলোই ধরে রাখার চেষ্টা করুন কিংবা রিক্রিয়েট করুন। সপ্তাহান্তে দু’জনে চলে যান ভালোলাগে এমন কোনো জায়গায়। সঙ্গে বন্ধুবান্ধব কাউকে নেবেন না।  সংসারী আলাপ বাদ দিয়ে এদিন হবে শুধুই আড্ডা। স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো কথা ঘুরেফিরে আসবে।  তখন ভালোলাগা মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে ভুলবেন না।  স্বামী যখন ট্রাভেল করছেন তখন মাঝে মাঝে তার সঙ্গী হতে পারেন। পুরোটা না হোক কিছুটা সময় তো একসাথে কাটবে।  নিজের লম্বা ট্যুর থাকলে স্বামীকেও সাথে নিন।  সন্ধ্যেটা একটু স্পেশাল করে প্ল্যান করুন।  সুস্বাদু ডিনার, সুন্দর কোনো গিফট আর লং ড্রাইভ—সম্পর্কের সুতোটাকে আরও মজবুত করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দাম্পত্য জীবনে কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময়ের খুব প্রয়োজন।  তাহলে অনেক ব্যস্ততার মধ্যে পুরনো সেই দিনের মতো এখনও ভালোবাসার রেশ থাকে সম্পর্কে।  সম্পর্কে ভালোবাসা রাখতে দুজন দুজনকে দিতে হবে সময়।  করতে হবে শ্রদ্ধা।

একটুকু সময় নিজেদের

সারা সপ্তাহেই ব্যস্ততা। এর মধ্যেও দুজন দুজনের জন্য খানিকটা সময় রাখতেই পারেন।  অফিস থেকে ফেরার পথে স্বামী-স্ত্রী কোনো কফি শপে গিয়ে কফিতে চুমুক দিতে দিতে কিছু মুহূর্ত কাটাতে পারেন। তখন সংসারের হালচাল, সন্তানের ভবিষ্যৎ কিংবা অফিসের সমস্যাগুলো ছাপিয়ে নিজেদের জন্য একটু সময় দিন। গুণগত সময় মানেই পরিবারের জন্য একান্ত কিছু সময়, যে সময়টুকুতে সব ধরনের সমস্যা দূরে সরিয়ে শুধু ভালোবাসার আবেশে থাকবেন দুজন।

দূরত্ব বুঝতে হবে

অনেকে তো বুঝতেই পারেন না, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলাফলে কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ কিংবা ভার্চুয়াল জগতের হাতছানি। এটি যেন না হয়। হাজারো কাজের মধ্যে একটি দিন বেছে নিন। সেই দিনে স্বামী-স্ত্রী বাইরে ঘুরতে যেতে পারেন। রাতে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতে পারেন। অল্প আয়োজনে রিকশায়ও আইসক্রিম খেতে খেতে গল্প করতে পারেন।  ছুটির দিনে কোথাও বেড়াতে না গেলেও সঙ্গীর সঙ্গে বাড়িতে বসে সিনেমা দেখতে পারেন। বন্ধুদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতে পারেন।

কোয়ালিটি টাইম কথা

শুধু স্ত্রী একাই কোয়ালিটি টাইম নিয়ে ভাববেন, তা নয়। পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য দুজনেরই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষ করে স্বামীদের। তারা অনেক সময় মনে করেন, সব দায়িত্ব শুধু স্ত্রীদেরই। বিষয়টি তেমন হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ ভাবেন, দামি উপহার কিংবা কেনাকাটার টাকা দিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ। বরং স্ত্রীকে হঠাৎ তার প্রিয় কোনো ফুল, বই বা ছোট্ট কিছু দিয়ে অবাক করে দিতে পারেন। ব্যস্ততার মধ্যেও যে তাকে মনে রেখেছেন, এতেই স্ত্রী খুশি হবেন। কাজ তো থাকবেই, তবুও অফিস থেকে ফিরে একসঙ্গে এক কাপ চা তো খাওয়াই যায়।

শ্রদ্ধা থাকুক পারস্পরিক

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে শ্রদ্ধা! অবাক হতে পারেন। এটা তো শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক নয় রে বাবা।  কিন্তু মনে রাখতে হবে শ্রদ্ধাতে-ই শ্রাদ্ধ হয় না সম্পর্কের।  সঙ্গীকে সময় দিচ্ছেন, তার মনের চাওয়া-পাওয়াকে শ্রদ্ধা করেই তো ঘড়ির কাঁটার কাছ থেকে আপনার এই সময় ছিনিয়ে নেয়া।  তাই সবসময় শ্রদ্ধা থাকুক পারস্পরিক।

সম্পর্কটা থাক সতেজ
দম্পতি; হোক সে নতুন বা পুরোনো, সম্পর্ক হতে হবে সব সময়ই সতেজ।  স্নিগ্ধতায় ভরা।  মধুময়।  স্বামী কাজে ব্যস্ত।  দৈনিক আট ঘণ্টা অফিস শেষে বাসায় পৌঁছাতে আরও দেরি।  স্ত্রী সারা দিন বাসায় একা। টিভি দেখা, ম্যাগাজিন পড়া, ফোনে কিছুটা সময় কাটানো। তার পরও কিছু করার নেই।  সবাই ব্যস্ত।  এত ব্যস্ততার মধ্যে একাকিত্ব কাটানোর জন্য আপনি ফেসবুককে সঙ্গী করে নিলেন। ক্রমেই আপনার একাকিত্ব কেটে যেতে থাকল। স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, চ্যাটিং করছেন, অন্যের স্ট্যাটাস ও ছবিতে লাইক করছেন, কমেন্টস করছেন—মনের ভাব বিনিময় হচ্ছে। বন্ধুত্ব গাঢ় হতে থাকল। এরপর সম্পর্ক শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ থাকল না। ক্যাফে, শপিং মলে আড্ডাও চলে।  এখন স্বামীর অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেন না, কিন্তু একটা সময় যদি স্বামীর মনে খটকা লাগে বা নিজেই যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন, তবে এই নতুন সম্পর্কের কী নাম দেবেন?
এ ধরনের সমস্যায় কি বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরবে আর নতুন সম্পর্ক অটল হয়ে থাকবে? অযথা সন্দেহের আবর্তে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কি বাড়তেই থাকবে?

দুজনে মিলে যা করতে পারেন
স্ত্রী যখন তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে চান, তখন তাঁকে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। এই স্বাধীনতা তাঁকে দিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় স্বামী যদি একটু সময় বের করে স্ত্রীকে দেন। সময় অল্প হলেও আন্তরিকতা থাকলে বা কোয়ালিটি সময় দিলে স্ত্রীর মনে স্বামীকে নিয়ে আর খারাপ লাগা থাকবে না। কাজের ফাঁকে ছুটি নিয়ে কোথাও একবেলার জন্য ঘুরে আসতে পারেন। সব সময় যে কারণ ধরেই যেতে হবে এমন নয়, অকারণ পাগলামিতে অভিমানের বরফ গলে যায়।  আর ব্যস্ততার মাঝেও ফেসবুকে নিজেরা চ্যাটিং করতে পারেন।  নিজেদেরও সময় দিন। ঘরের মধ্যে নিত্যদিনের সংসারসঙ্গীর সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের খানিক সময়ের ভাববিনিময় আরও প্রাণময় করবে দুজনকে।

সচেতন থাকুন
নিজের মনের অগোচরে যদি কোনো নতুন ‘বিশেষ’ সম্পর্ক উঁকি দেয় বা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে প্রথমেই তা সামলে নিন। ফেসবুকসহ অন্য সব যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম প্রতারণা বাড়ছেই।   ফেসবুকে অনৈতিক নানা প্রস্তাবও পেতে পারেন বন্ধুদের কাছ থেকে। ইদানীং দেশেও এ চক্র সক্রিয়। মানবমনের আকাঙ্ক্ষা বড় বিচিত্র। মনে রাখতে হবে, এই চক্রগুলো সক্রিয় আমাদের নানা গোপন আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরেই। এসব বিষয় সব সময় মাথায় রাখতে হবে।  স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও আন্তরিক হতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে । ক্ষণিকের ভুলে যেন সারা জীবন কষ্ট পোহাতে না হয়।  স্বামী-স্ত্রী পরস্পর খোলাখুলি আলাপ করতে পারেন।

যা কখনোই করবেন না
সংসার মধুময় বন্ধন। এ ধরনের ফেসবুক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্মল বন্ধুত্বের সীমা কখনোই যেন অতিক্রম না করে।   জীবন চলার পথে পুরোনো কোনো ঘনিষ্ঠতম বন্ধুর সঙ্গে আবার আলাপ-পরিচয় হতেই পারে। এ নিয়ে আবেগের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেবেন না। সহজভাবে নিন। ওই বন্ধুর কথা আপনার জীবনসঙ্গীকেও জানান। আড়াল করার দরকার নেই। বন্ধুকে বন্ধু হিসেবেই রাখুন।   ফেসবুক হোক আর ই-মেইলেই হোক, কোনো ধরনের বিব্রতকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে দ্রুত সঙ্গীকে জানান। দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন।
আপত্তিকর ছবিসংবলিত কোনো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এলে সেটা এড়িয়ে যান। এটাই সর্বোত্তম পথ।   যেসব একাউন্ট থেকে আপত্তিকর ছবি, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হয়, সেগুলো পরিহার করুন।

ট্রেডিশনাল ঘটক বনাম বিবাহবিডি ডট কম

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও নারীর জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘বিবাহ’ এবং দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রতিটি মানুষের থাকে বিভিন্ন রকম আশা ও স্বপ্ন। একটি বিয়ে শুধু দুজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তৈরী করে দুটি পরিবারের মধ্যে সামাজিক বন্ধন। তাই একটি পরিবার সামাজিক ভাবে আরেকটি পরিবারের সাথে বন্ধন তৈরীর পূর্বে অনেক হিসেব নিকেশ করে থাকে।  এজন্য সঠিক ও যোগ্য পাত্র/পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবার নিজেদের চাহিদাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে বারংবার, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত আবেগ বা আপোসকামীতা বয়ে আনতে পারে দুটি জীবনে অসহনীয় যন্ত্রনা ।

পরিবারের কোন সদস্যের বিয়ের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী নির্বাচনে আমরা সাধারনত সাহায্য নিয়ে থাকি নির্ভরযোগ্য কোন মাধ্যমের। কখনো তা নিকট আত্মীয়, কখনো প্রফেশনাল ঘটক, আবার কখনো প্রযুক্তি নির্ভর অনলাইন ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব পোর্টালের।

প্রশ্ন হচ্ছে সম-সাময়িক বিবেচনায় ঘটক কিংবা ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব পোর্টাল বিবাহবিডি ডট কমের মধ্যে কোনটি বেশী গ্রহন যোগ্য, আস্থাশীল এবং দ্রুততর? বিবাহবিডি উপস্থাপন করছে এমনই তুলনামূলক কিছু তথ্য যা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়ক হবে।

আসুন দেখি একটি তুলনা মূলক পার্থক্য –

১।  নিবন্ধনঃ


ঘটক: একজন শহরের প্রফেশনাল ঘটকের কাছে পাত্র-পাত্রীর বায়োডাটা জমা দেয়ার সময় নিবন্ধন ফী হিসাবে প্রথমেই এককালীন ফী দিতে হয় যা ক্ষেত্র বিশেষে ৩ থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি ডট কম মূলত পাত্র-পাত্রী খোঁজার ও সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি করা একটি অনলাইন বেইজ সার্চ ইঞ্জিন। এখানে রেজিষ্ট্রেশন সম্পূর্ন ফ্রী। যে কেউ বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে সহজেই ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রফেশন, প্রোফাইল ভ্যারিফিকেশন এর উপর ভিত্তি করে বিবাহবিডি একটি ইউজার গ্রেড নিশ্চিত করে তারপরই প্রোফাইল এক্টিভেট করে এবং ৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ প্রদান করে, যেনো ব্যবহারকারী লগিন করে পছন্দের প্রোফাইল গুলো দেখে সহজেই বাছাই করতে পারে।

২।  পছন্দ ও যোগাযোগঃ


ঘটক: এক জন ঘটকের কাছে নিবন্ধন পরবর্তীতে প্রতিবার পাত্র-পাত্রীর সন্ধান ও মুখোমুখি সাক্ষাতের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।  ফলে আপনি চাইলেও সময় ও অর্থের কথা ভেবে খুব বেশী যাচায় বাছাই করার সুযোগ পাবেন না।  এক্ষেত্রে আপনার পছন্দের ব্যাপারে ঘটকের উপরই নির্ভর করতে হবে।  নিত্যনতুন বায়োডাটা দেখতে ও নিজেরাই পাত্র-পাত্রী কিংবা অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার কোন সুযোগ ঘটকের কাছ থেকে পাওয়া যায় না।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি পাত্র পাত্রীর মধ্যে কোন রকমের মধ্যস্থতা করে না। এখানে আপনি নিজেই ঘরে বসেই কম্পিউটারে/মোবাইলে বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সর্বশেষ সংগ্রহিত/ এক্টিভেট করা প্রোফাইল গুলো দেখে পাত্র-পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এজন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে ৪ টি সহজলভ্য বিভিন্ন মেয়াদী মেম্বারশীপ প্যাকেজ। যার মাধ্যমে পাত্র-পাত্রীর পরিবার একে অন্যের সাথে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করতে পারে।

৩।  বায়োডাটা সংগ্রহ ও ব্যাপ্তিঃ


ঘটক: একজন ট্রেডিশনাল ঘটক নির্দিষ্ট একটি এলাকা/মহল্লার মধ্য সীমিত তথ্য নিয়ে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকে এবং অতি সনাতন পদ্ধতিতে।

বিবাহবিডি ডট কম:  বিবাহবিডি সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে। তাই বিশ্বের যেকোন দেশ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে  পাত্র-পাত্রী বা অভিভাবকেরা প্রোফাইল দেখে নিজেরাই সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।  তাই এর ব্যাপ্তি বিশ্বব্যাপী এবং তা সমকালীন একটি আধুনিক সেবা।

৪।  বায়োডাটার তথ্য যাচাই ও সত্যতাঃ


ঘটক: প্রফেশনাল ঘটকের কাছে যে বায়োডাটা থাকে তা কতটুকু গ্রহনযোগ্য, তার সত্যতা নিয়ে আপনার সংশয় থাকতে পারে।  এবং একজন ঘটক কখনোই তার গ্রাহক প্রদত্ত বায়োডাটা গুলোর ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব নেয় না।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি প্রোফাইল এক্টিভেট/সক্রিয় করার পূর্বে নিজস্ব কাষ্টমার সাপোর্ট টিম দ্বারা তা ভেরিফাই করে এবং পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার তারপরই একটি প্রোফাইল একটিভ করে।  এক্ষেত্রে প্রোফাইল ভেরিফিকেশনের  জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম নিবন্ধন / একাডেমিক সার্টিফিকেট/ প্রবাসীদের জন্য ভিসা, পাসপোর্ট / ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেট যাচাই করন বিবাহবিডিতে বাধ্যতামূলক।

৫।  প্রোফাইল সার্চ ও ম্যাচমেকিং :


ঘটক: সাধারনত একজন ঘটক তার কাছে থাকা সীমিত বায়োডাটার মধ্যেই আপনার সঙ্গী খুঁজার জন্য আপনাকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে থাকে এবং এতে ক্ষেত্র বিশেষে ভুল সঙ্গী বাছায়ের সম্ভাবনা থাকে।

বিবাহবিডি ডট কমবিবাহবিডিতে আপনি আপনার পছন্দের প্রফেশন, পাত্র-পাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা, আর্থিক অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান অবস্থান, বর্ন, গোত্র, ধর্ম সহ ১৮ টি সার্চ ক্যাটাগরীর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কাংখিত সংঙ্গীকে সহজেই খুঁজতে সক্ষম হবেন।  তাছাড়া আপনার প্রদত্ত সঙ্গী বাছাইয়ের বিবরন ( পার্টনার প্রেফারেন্স) এর সাথে মিলিয়ে বিবাহবিডি সার্চ ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডাটাবেইজের সেই সব প্রোফাইল খুঁজে আপনার সামনে এক নিমিষেই হাজির করে।

৬।   বিবাহ ঠিক হলে সার্ভিস চার্জঃ


ঘটক: একজন ঘটকের মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদনের পর আপনাকে মোটা অংকের চুক্তি ভিত্তিক অর্থ প্রদান করতে হয়, যা ২০ হাজার থেকে কখনো লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি থেকে আপনি জীবন সঙ্গীখোঁজে পাবার পর বিবাহবিডি আপনার কাছে কখনোই কোন সার্ভিস চার্জ দাবি করবেনা। বরংচ বিবাহবিডিতে আপনার সাকসেস ষ্টোরী শেয়ার করলে বিবাহবিডিই অাপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার ঠিকানায় গিফট পাঠাবে।

সম্মানিত পাঠক, আশাকরি আপনারা উপরোক্ত অালোচনা ও পার্থক্য গুলো থেকে সহজেই সঠিক বিষয়টি অনুধাবন করে নিজেরাই যথাযথ সিদ্ধান্তে উপনিত হতে সক্ষম হবেন।

ডিভোর্স..কেন

ইশতিয়াক আর সোনিয়া। দুজনই ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। ছিলেন ব্যাচমেট। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়িয়ে শেষমেশ সফল পরিণতি। একজন একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে কাজ করছেন বেশ ক বছর হল। আর সোনিয়া আছেন একটা ব্যাংকে। পরিবারে আর্থিক টানাপড়েন নেই। সমস্যা সময় নিয়ে।

ইশতিয়াকের মিটিং থাকলে ফিরতে রাত হয়। সেখানে সোনিয়া আগেই ফিরে বসে থাকেন মনমরা হয়ে। আর বাসায় এসে ইশতিয়াকের গভীর রাত অবধি অফিসের কাজ করার জন্য সোনিয়ার তো পর্বতসমান ক্ষোভ। অন্যদিকে কাজের ফাঁকে ইশতিয়াক হয়ত ফোন দিয়েছেন সেনিয়াকে। কিন্তু অফিসে এত ব্যস্ত সময় কাটে যে সোনিয়া হাই-হ্যালোর বেশি কথাই বলতে পারেন না। এসব নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছে তাদের মধ্যে।  সম্পর্কটাও কেমন যেন একেবারেই থমকে গেছে। তবে কি ডিভোর্সে এর সমাপ্তি?

অপরদিকে চল্লিশোর্ধ রায়হান সাহেবের প্রমোশন হচ্ছে না পাঁচ বছর।বসের সাথে ঝামেলা। সন্তানেরা বড় হচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চাহিদাও বাড়ছে।রায়হান সাহেবের উপায় কী? এমনকি স্ট্রেস সামলাতে না পেরে ইদানীং স্ত্রীর গায়ে হাতও তুলছেন। ফলে স্ত্রী সন্তানসহ আলাদা হয়ে যাবেন বলে সরাসরি বলে দিয়েছেন। আইনী পরিভাষায় যা ডিভোর্স।

মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় ডিভোর্সের পেছনের কিছু কারণ উঠে এসেছে। আর্থ-সামাজিক কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত আর্থ-সামাজিক ইস্যু পরিমাপের পদ্ধতি হল শিক্ষা আর উপার্জন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত দম্পতিরা তাদের আবেগ, সময়, পার্টনারের আত্মকেন্দ্রিকতা, অসামঞ্জস্যতা, ভালোবাসার অভাব ইত্যাদির সাথে আপস করে না এবং শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যায়।

অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক মাপকাঠিতে নিজের সারিতে যারা রয়েছে তাদের বিচ্ছেদের কারণগুলো কখনও আর্থিক, কখনও নির্যাতন, কখনও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক অথবা মাদকাসক্তি।

বিবাহবিচ্ছেদের আরও কিছু ব্যবহারিক নির্ধারক রয়েছে। কে কত বছর বয়সে বিয়ে করেছে, সাংসারিক জীবন কত বছরের কিংবা সন্তানের সংখ্যা বা সন্তানের বয়স। সাধারণত অল্প বয়সের বিয়ে সাংসারিক জীবনের আয়ু বাড়ায়। এখানে বিচ্ছেদের ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ হিসেবে গবেষকেরা যে বিষয়গুলোকে সামনে এনেছেন সেগুলো হল, মানসিক অপরিপক্বতা, অস্থায়ী চাকরি ইত্যাদি। এছাড়া অল্প বয়সে লাইফ পার্টনারকে বুঝেই বা ওঠা যায় কতটুকু?

ফলে তুলনামূলক পরিণত বয়সে বিয়ে অনেক জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় আমরা খুব দ্রুত দম্পতিদের ডিভোর্সের পথ বেছে নিতে দেখি। এর পেছনে যেসব করণ রয়েছে বলে মনে করা যায় সেসব হল, পার্টনারদের মাঝে পারস্পরিক মৌলিক সামঞ্জস্য আবিষ্কারে ব্যর্থ হওয়া, মূল্যবোধের সংঘাত এবং ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব।

আবার দীর্ঘসময় দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা মানুষদের যে ডিভোর্স হচ্ছে না তা নয়। সেক্ষেত্রে কারণগুলোও ভিন্ন। যেমন, সন্তান প্রতিপালনে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে জীবনের সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একসময় হতাশায় ভোগা, সম্পর্কের মাঝে কোন নতুনত্ব খুঁজে না পেয়ে একচক্রে ঘুরপাক খেতে খেতে ইদানীং অনেক দীর্ঘ সংসার ভেঙে যাচ্ছে। পাশ্চাত্যের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এমন ঘটনা হরহামেশা ঘটছে।

এছাড়া লাইফ পার্টনার ব্যতীত গোপন অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ডিভোর্সের মূল কারণগুলোর একটা বড় অংশজুড়ে। এর সাথে শারীরিক নির্যাতনও রয়েছে কারণ হিসেবে। গবেষণায় এসেছে, স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রথম।

উক্ত বিষয়গুলো পাশ্চাত্যের গবেষণায় দেখা গেছে। আবার বাংলাদেশেও ডিভোর্সের কারণ হিসেবে এগুলোই উল্লেখযোগ্য। সম্পর্কের অবনতি আমাদের কারোরই কাম্য নয়, তেমনই অনেকে সামাজিকভাবে অথবা অর্থনৈতিক টানাপড়েনের ভয়ে কষ্টকর একটা সামাজিক সম্পর্কের জের টেনে বেড়ায়-সেটাও কাঙ্ক্ষিত নয়।

বিয়ে ভেঙে যাওয়া মানে ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এর মানে একজন আরেকজনকে আর ঘৃণা না করা। অনেকেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুশোচনায় ভোগে অথবা একটি অবাঞ্ছিত সম্পর্ক বয়ে নিয়ে কষ্টে থাকে। তাই এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার সাথে পরামর্শ এবং সব ধরণের পরিস্থিতি বিবেচনা করা অনেক জরুরী।

লিখেছেনঃ  এ্যানি বাড়ৈ | সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলর, আপন