বিচ্ছেদের পর ফের নতুন সম্পর্ক

বিচ্ছেদের পর ফের সম্পর্ক গড়ার জন্য কেউ আপনার দরজায় কড়া নাড়তেই পারে। কিন্তু আপনি প্রস্তুত তো? দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর পুনরায় সম্পর্কে জড়াতে অনেকেই সংশয়ে ভুগে থাকেন। কিছু বিষয় আপনাকে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে –

#অভ্যাস#পরিত্যাগ

আপনার হয়তো কিছু বদভ্যাস আছে যা দ্বারা আপনি পূর্বের সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা আপনার প্রতি আপনার সঙ্গী বিরক্ত ছিল। সে অভ্যাসগুলো খুঁজে বের করুন ও পরিবর্তন করুন।

#নিজেকে_জানুন

আপনাকে কেউ ভালো রাখবে এরকম চিন্তা করে সম্পর্কে জড়াবেন না। অন্য কেউ কখনও আপনাকে ভাল রাখতে পারে না। নিজেকে নিজের ভালো রাখতে হয়।

#অতীত

অতীতের যে কোন বিষয়ের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি কে যেমন তুলনা করতে যাবেন না তেমনি প্রাক্তনের সাথে বর্তমান ব্যক্তিকেও তুলনা করবেন না।

#বিশ্বাস

স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছেদের ফলে নতুন কাউকে বিশ্বাস করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। তার মানে সবাই যে আপনার বিশ্বাস নষ্ট করবে এমন ধারণা দূর করুন। সবাইকে একই পাল্লায় মাপা উচিত নয়।

#ধারণা#নয়#ব্যক্তির#কথাকে#গুরুত্ব#দিন

অতীত সম্পর্ক থেকে নানান অভিজ্ঞতা হয় সবারই। কিন্তু এ অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান পরিস্থিতির ধারনা যাচাই করে থাকেন অনেকেই, এতে করে কিন্তু নতুন সঙ্গীর সাথে আপনার ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে। তাই ধারণা থেকে নয় সঙ্গীর কথাকে গুরুত্ব দিন।

#সম্পর্কে#ভবিষ্যত#অঙ্কন#করতে#যাবেন #না

একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন যাবে বা কি হবে এসব চিন্তায় মগ্ন হবেন না, তাহলে সম্পর্কে আপনি ভালো-খারাপ পরিস্থিতিগুলো সামলাতে পারবেন না।

#তাড়াহুড়ো#করবেন#না

বিচ্ছেদ হয়েছে বলে একাকীত্ব দূর করতে চট করেই নতুন সম্পর্কে জড়াবেন না। সময় নিন, স্বচ্ছ ও সততার সাথে নতুন কাউকে ভাবুন।

আপনি কি পুনরায় বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ হতে #জীবনসঙ্গী #খুঁজছেন? আপনি যদি #ডিভোর্স/ #বিধবা/ বিপত্নীক #জীবনসঙ্গী খুঁজে থাকেন তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন #বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে। রেজিস্ট্রেশন করার পর আমাদের সার্ভিস টিম আপনার সকল সত্যতা যাচাই করে আপনার প্রোফাইল একটিভ করলে, আপনি সুযোগ পাবেন বিবাহবিডির সকল ভেরিফাই করা প্রোফাইল থেকে আপনার পছন্দমত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে।

তাহলে সম্পর্ক টিকে কাদের?

যুগল তো অনেক ধরনের আছে, তাহলে সম্পর্ক টিকে কাদের? অধ্যাপক ব্রায়ান ওগোলস্কির মতে –

কাপলদের ৪টি বিভাগে ভাগ করা যায়। নাটকীয়, সর্বদা মনোমালিন্য লেগে থাকে এমন, সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ে খুব অ্যাক্টিভ এবং পার্টনার ফোকাসড বা সঙ্গীকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন যাঁরা।

কোন যুগলই একদম নিখুঁত নয়। একটি সম্পর্কের পরিচালনার উপর বিবেচিত হয় সম্পর্ক কতদূর স্থায়িত্ব হবে। বর্তমান বিশ্বে যেমন বাড়ছে ডিভোর্সের হার তেমনি দেখা যাচ্ছে যুগলদের সম্পর্কের বিভিন্ন ধরণ। জানা যাক তাহলে সম্পর্ক টিকে কোন যুগলদেরঃ

নাটকীয় যুগল-

মনোমালিন্য লেগে থাকা যুগল-

যদিও সম্পর্কে মনোমালিন্যে হওয়া জরুরী এতে প্রেম-ভালোবাসা বাড়ে, তবে ঘন ঘন মনোমালিন্যে সম্পর্কে তিক্ততাও নিয়ে আসে। মনোমালিন্য লেগে থাকা যুগলদের মধ্যে মতের অনেক অমিল থাকে। বারংবার ঝগড়া বা মনোমালিন্যে হলেও ভালোবাসার টানে এ ধরনের যুগলদের মধ্যে অনেকের সম্পর্ক টিকে যায় আবার অনেকে টিকিয়ে রাখতে পারেনা। তবে গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ১৭ শতাংশ।

সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ে খুব অ্যাক্টিভ যুগল- এ যুগলরা মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রনের চেয়ে লোক দেখানো প্রেম-ভালোবাসাতে ব্যস্ত থাকে। এরা সম্পর্কের চেয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের প্রতি বেশী বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে। ফলে এরা খারাপ পরিস্থিতিতে সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননা। সম্পর্কের প্রতি সৎ থাকলেও আন্তরিকতা কমই থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ১৯ শতাংশ।

পার্টনার ফোকাসড বা সঙ্গীকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন যাঁরা-এ ধরনের যুগলদের সম্পর্ক বেশীদিন দীর্ঘস্থায়ী হয়। কারন এরা নিজের চেয়ে সঙ্গীর প্রতি সর্বদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, খারাপ পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধারন করেন, এদের নিজেদের বোঝাপড়া ভালো থাকে তাই ভরসার সাথে এরা দীর্ঘকাল জীবন অতিবাহিত করতে পারেন। গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ।

গবেষণা প্রমাণ করে যে,

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আস্থা ও প্রতিশ্রুতি।

‘পার্টনার ফোকাসড জীবনসঙ্গী’ খুঁজে পেতে ভরসা করতে পারেন বিবাহবিডি ডট কম কে। বিবাহবিডির ওয়েব পোর্টালে রেজিষ্ট্রেশন করে পাঁচ সহস্রাধিক প্রোফাইল থেকে পছন্দের মানুষটিকে বেছে নেয়ার সুযোগ পাবেন আপনিও। যদি সিরিয়াস হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে রেজিষ্ট্রেশন করুন।

সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করবেন যেভাবে

সারা বিশ্বে বিচ্ছেদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমান যুগে দম্পতিরা বিচ্ছেদের জন্য বেশ তাড়াতাড়ি প্রস্তুতি গ্রহন করেন। সম্পর্কে জড়িয়েই তা টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট সময় একে অপরকে দিতে চান না। দাম্পত্য সম্পর্ককে বিচ্ছেদের মুখোমুখি না করে বরং দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সম্পর্ক গড়তে প্রয়োজন একে অন্যের প্রতি বুঝাপড়া।

সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই –

সঙ্গীকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন –

দাম্পত্যে কলহ মাঝে মধ্যেই ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একে অপরের প্রতি যখন ঘন ঘন দোষারোপ করে তখনই সম্পর্কে কলহ বিরাজ করতে থাকে। পরস্পর দোষগুলো ছাড় দিন তাহলে সম্পর্কে কলহও কমে যাবে।

সঙ্গীকে স্পর্শে রাখুন –

স্পর্শ পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। সম্পর্কের বয়স অনেকদিন হয়ে গেলও সঙ্গীকে নিজের স্পর্শে রাখুন। যেমন- পাশাপাশি হাঁটছেন সঙ্গীর হাত জড়িয়ে রাখুন, সম্পর্কের বয়স বাড়লেও রোমান্টিক আচরণ করুন।

স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে সম্পর্কের উন্নয়ন করুন –

সম্পর্কে একে অপরের প্রতি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ জাগাতে পারলে সমস্যাগুলো অনেকাংশে লাঘব হয়। কেবল সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সম্পর্ক ধরে রাখতে যাবেন না। সঙ্গীর আপনার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এমন আচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক কে উন্নত করুন।

ক্ষমা করুন –

ভুল সবাই করে, এটি জীবনের একটি শীতল কঠিন ঘটনা। যদি সঙ্গীর প্রতি যত্নবান হন তবে তার ভুলের জন্য ক্ষমা করতে আপনাকে শিখতে হবে। একে অপরের প্রতি ক্ষোভকে ধরে রাখা কোনও সম্পর্কের জন্য মঙ্গল বয়ে আনেনা। তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অবশ্যই ক্ষমা করা শিখতে হবে।

ইচ্ছের বিকাশ করুন –

সম্পর্কে কেবল একপক্ষের ইচ্ছা কে প্রাধান্য দিবেন না। দুজন আলাদা ব্যক্তি, দুজনার ইচ্ছাও আলাদা তাই সম্পর্ক কে সম্পর্কের অবস্থানে রেখে নিজস্ব ইচ্ছেগুলো পূরণ করুন ও একে অপরের ইচ্ছেকে সমর্থন করতে শিখুন।

প্রতিযোগিতা করবেন না –

সম্পর্ক কোন খেলা নয়। সম্পর্ক দুজন ব্যক্তির মাঝে পবিত্র বন্ধন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে অনেক বিষয় বিসর্জন দিতে হবে। এর মধ্যে প্রধান হল সঙ্গীর প্রতি হিংসাত্মক আচরণ আনবেন না এতে সম্পর্ক প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে চলে যায়।

আপনার সূক্ষ্ম গুণাবলীগুলো চর্চা করুন –

এমন গুণাবলী নিয়ে কাজ করুন যা আপনাকে আরও ভাল ব্যাক্তি করে তোলে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি করা সহজ – কারণ আনুগত্য, করুণা এবং বিশ্বাসের মতো এই গুণগুলি অনুশীলনের সুযোগ সর্বদা থাকে আর এ গুণগুলো সম্পর্কের সুন্দর রুপ প্রদান করে।

একে অপরকে উৎসাহিত করুন –

সম্পর্কে আছেন বলে কেবল সম্পর্ক নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন না। আপনার নির্দিষ্ট কাজ করা বা নতুন জিনিস চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকবেন না। আপনি আপনার সঙ্গীর কাজগুলোতে উৎসাহিত করুন এবং তার কাছ থেকে উৎসাহ পাওয়ার বিষয়টি তৈরি করুন এতে পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা বেড়ে উঠবে।

সঙ্গীর প্রশংসা করুন –

আপনার জীবনসঙ্গীর ভালো দিক ও গুনের জন্য তার সামনেই তার প্রশংসা করুন। আপনার জন্য উপহার বা রান্না করলে তাকে ধন্যবাদ দিন। দাম্পত্য সম্পর্কে প্রশংসা বিষয়টি অবশ্যই থাকা উচিত।

পরিস্থিতি বুঝে সম্পর্ক

ভালোবাসা বা প্রেমের সম্পর্ক চাই খুব গোছালো আর মানুষটা তো হবে একদম নিখুঁত। একটি সম্পর্কে যাওয়ার সময় সবারই মনে থাকে রঙিন প্রত্যাশা। সাধারণত ভঙ্গুর বা এলোমেলো কারো সাথে সঙ্গী হতে চায় না কেউ। অথচ ভালোবাসার মূল্য কিন্তু এ মানুষগুলোই দিতে পারে।

যে কারনে কারো খারাপ সময়ের সঙ্গী হবেনঃ

আপনি যখন দুঃসময়ে কারো সাথে সম্পর্কে জড়াবেন তখন সে আপনাকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখাবে না এতে করে আপনি প্রত্যাশার জালে ডুবে থাকবেন না বিধায় কষ্টও পাবেন না।

আবেগের চেয়ে বাস্তবতার উপলব্ধি উভয়ের মাঝে বিরাজ করবে যা আপনাদের সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কাউকে গড়ে নেয়ার মাঝে আলাদা একটা সুখ আছে। নিজে কিছু তৈরি করলে যেমন মনে এক ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়।

কারো খারাপ সময়ে যদি তার সঙ্গী হতে পারেন তাহলে বন্ধুত্বের জায়গাটা সহজেই তৈরি হয়ে যায়। সম্পর্কে বন্ধুত্ব সম্পর্ক খুব জরুরী।

আপনি যখন তার দুঃসময়ে পাশে থাকবেন পরবর্তীতে আপনাকে নিয়েই তার ভালো সময় কাটাবে তাই চলার পথে হতাশ হবেন না।

স্বাভাবিক ভাবে সে আপনাকে অবিশ্বাস করতে পারে যে আপনিও হয়তো তার জীবন থেকে চলে যাবেন এমন অবস্থায় তাকে মানসিক শক্তির যোগান দিন। তাকে বলুন আপনি তার পাশে আছেন ও সারাজীবন থাকবেন।

আপনার প্রতি সঙ্গীর আস্থা বাড়াতে তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন বা তার সাথে বেশী সময় কাটান। এতে করে ব্যাক্তি যে খারাপ সময় কাটাচ্ছে সে বিষয় থেকে তার মনোযোগের পরিবর্তন ঘটবে।

সম্পর্কে শ্রদ্ধাবোধ রাখুন। তার ভালো লাগা আর আপনার ভালো লাগার মধ্যে অমিল হতে পারে তাই ধৈর্য্য রাখুন।

কারো খারাপ সময়ে পাশে থাকার ফলে সম্পর্কের ভালো সময়গুলো আসতে সময় লাগে, ধীরে ধীরে সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ে। আর এ সম্পর্ক গুলো সহজে ভাঙ্গে না বরং সুখী হয়।

কারো ভালো সময়ে তার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর চেয়ে তার খারাপ সময়ে তাকে ভালোবাসুন এতে আপনি যেমন কাউকে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ দিচ্ছেন তেমনি এর থেকে ভালো প্রতিদান সে আপনাকে দিবে।

জর্জ চ্যাপম্যানের মতে-

‘ভালোবাসা পাওয়ার চাইতে ভালোবাসা দেওয়াতেই বেশি আনন্দ।’

সিদ্ধান্ত নিন ভেবে চিন্তে

দাম্পত্য জীবনে সবসময় সুন্দর পরিস্থিতি বিরাজ করে না। তবে দাম্পত্য জীবন ভালো রাখতে আপনাকে যেকয়টি গুনাবলী অর্জন করতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো “সিদ্ধান্ত গ্রহন”। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে না পারার কারনে পারস্পারিক সম্পর্ক খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

যে সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে হিতের বিপরীতে কাজ করেঃ

মানুষ সব থেকে ভুল সিদ্ধান্ত তখনই নেয় যখন সে রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত গ্রহন করে, তাই সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন ঠাণ্ডা মাথায়।

মানুষ কি বলছে বা বলবে এ বিষয়টি কে পাত্তা যতই দিবেন দাম্পত্যে সম্পর্ক ততই বিগড়ে যাবে। যেমন- স্বামীর খারাপ পরিস্থিতি অথবা স্ত্রীর ভালো সাফল্য নিয়ে আশেপাশের মানুষদের বেশ গবেষণা থাকে যা পারিবারিক পরিবেশ নষ্ট করে।

বাচ্চা নেয়ার বিষয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের সুযোগ খুঁজে পান না অনেক দম্পতি কারন একটাই পারিবারিক মুরব্বীদের চাপ ও মানুষ কি বলবে।

দাম্পত্যে বিশ্বাস বিষয়টি পরস্পর পরিষ্কার রাখুন কারন স্ত্রী বা স্বামী যখন সন্দেহ করতে থাকেন এর থেকে একটা সময় সম্পর্কের প্রতিও বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে বিচ্ছেদ ঘনিয়ে আসতে পারে।

অতিরিক্ত ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা আপনার বর্তমান পরিস্থিতিকে মানসিক ও শারীরিক চাপে রাখে ফলে আশা ক্ষুণ্ণ হয়।

দাম্পত্যে সম্পর্কে কি পেয়েছেন আর কি পাননি এসব হিসাবনিকাশ কিন্ত আপনাকে অধিক প্রত্যাশায় নিয়ে যায় ফলে সম্পর্কের খারাপ পরিস্থিতিতে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহনে ভুল করতে পারেন।

দাম্পত্যে জীবনের অন্যতম ভুল সিদ্ধান্ত হল স্বামী-স্ত্রী যখন অন্য দম্পতির জীবন অনুকরণ করতে চায়। ভালো থাকতে চাওয়ার ইচ্ছা ও অধিকার সবারই আছে তবে নিজেদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জীবন সাজানো উচিত।

দাম্পত্যে সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি যদি আন্তরিকতা না থাকে তখন স্বার্থপর হয়ে অনেকেই পরিবারে সকল বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে থাকেন যার ফলাফল সম্পর্ক খারাপের দিকে যায়।

দাম্পত্যে সম্পর্কে অবশ্যই স্বামী-স্ত্রী মিলে সকল পরিস্থিতির সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে চেষ্টা করুন। যদি তৃতীয় ব্যক্তির প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে যান অথবা দাম্পত্যে বিষয়ক কাউন্সিলরের শরাপন্ন হন।

দাম্পত্যে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহনের কারনে স্বাভাবিক সম্পর্ক বিরুপ হতে পারে তাই যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন ভেবে চিন্তে।

ঝগড়া ছাড়া সম্পর্ক

সম্পর্কে ঝগড়া হলে দুপক্ষের মধ্যে ভয় কাজ করে এই বুঝি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল। ঝগড়া কেউ ইচ্ছে করে করতে চায়না কিন্তু পরিস্থিতিতে ঝগড়া হয়ে যায়। তবে দাম্পত্যে সম্পর্কে ঝগড়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মনের মাঝে সমস্যা বা যে কোন কিছু পুষে রাখা উচিত নয় বরং ঝগড়া করে হলেও মনের অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো উচিত।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, ৪৪ শতাংশ মার্কিন দম্পতি মনে করেন সপ্তাহে অন্তত একবার গুছিয়ে ঝগড়া হওয়ার মানে সম্পর্কে পারস্পরিক যোগাযোগ বেশ ভাল।

দাম্পত্যে সম্পর্কে ঝগড়ার ও প্রয়োজন আছে –

সমস্যার প্রতি মনোযোগঃ

দাম্পত্যে সম্পর্কে অনেক সমস্যা বিরাজ করে যা পরস্পর আলোচনা আসেনা বা বলা হয়ে উঠে না। কিন্তু ঝগড়ার সময় ব্যক্তিরা না বলা সমস্যাগুলো নিয়েই কথা বলে তাই পরবর্তীতে সমস্যার প্রতি সম্পর্কের মনোযোগ দেখা যায়।

যত্নশীলঃ

ঝগড়ার সময় মনে হয় এই বুঝি সম্পর্কের ইতি টানল কিন্তু ঝগড়া শেষ হলে পরিস্থিতি এই যেন পানি। ফলাফল যত্ন বেড়ে যায় পরস্পরের প্রতি। ভুল বোঝাবোঝি দূর হয়ঃ দাম্পত্যে সম্পর্কে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় পরস্পরের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা হয়না তাই দুজন ব্যক্তিই মনে ভুল বোঝাবোঝি বয়ে চলে। আর এরকম পরিস্থিতিতে যখন ঝগড়া হয় তখন ভুল বোঝাবোঝির অবসান ঘটে।

ভুল বোঝাবোঝি দূর হয়ঃ

দাম্পত্যে সম্পর্কে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় পরস্পরের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা হয়না তাই দুজন ব্যক্তিই মনে ভুল বোঝাবোঝি বয়ে চলে। আর এরকম পরিস্থিতিতে যখন ঝগড়া হয় তখন ভুল বোঝাবোঝির অবসান ঘটে।

সম্পর্কের প্রতি অনীহা কাটায়ঃ

যখন দুজন ব্যক্তির মধ্যে যে কোন বিষয়ে আলোচনা, সমঝোতা বিষয়টি থাকে না, যে যার মত ছাড় দিতে থাকে তখন সম্পর্কে একঘেয়েমি কাজ করে। সম্পর্কের এ পরিস্থিতিতে ঝগড়া বিষয়টি কাজে লাগে। ঝগড়া হলে পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের প্রতি অনীহা কাটে।

সম্পর্কের প্রতি মায়া বাড়েঃ

সব সময় ঝগড়ার ফলে সম্পর্কের প্রতি অনেক সময় বিরক্ত কাজ করে। মনে হয় সব শেষ করে দেয়াই ভালো কিন্তু ঝগড়া শেষে বেশ কিছুদিন মান-অভিমানের পর সম্পর্ক শেষ করতে গিয়ে আর শেষ করা হয়না মায়ার টানে।

যোগাযোগ বাড়েঃ

ঝগড়ার করার জন্যও ব্যক্তির সাথে দেখা করা বা কথোপকথন বাড়ে যার ফলে ঝগড়া হলেও সম্পর্ক শেষ হয়না বরং যোগাযোগের মাত্রা বেড়ে যায়।

একটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, যে সমস্ত দম্পতি বা যুগলরা ঝগড়া করেন বা বেশি বেশি অভিমান করেন, তাঁরাই তুলনা মূলক ভাবে সম্পর্কের দিক থেকে অনেক বেশি সুখী, তাদের থেকে – যারা মনের ভাব লুকিয়ে রাখেন।

কিছু পরামর্শ নিতে নেই এতে দাম্পত্যে সম্পর্ক নাজুক হয়!

দাম্পত্য সম্পর্ক সুখের হোক বা না হোক – সেই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ঠিক করার দায়িত্ব একমাত্র আপনার। অনেক সময়ই সম্পর্কের নানা সমস্যায় আমরা পরামর্শ চাই কাছের বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে। কখনও কখনও সে সব পরামর্শে কাজ হয়, কখনও আবার হয় না।

তবে কাজ হোক বা না হোক, পরিস্থিতির দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে এবং নিজেই পথটা খুঁজে বের করতে হবে। এ সব ক্ষেত্রে বন্ধু বা আত্মীয়দের পরামর্শগুলোর ব্যাপারেও সাবধান থাকা দরকার।

স্বামীর সঙ্গে তর্ক কোরো নাঃ

কোনও মতেই এই পরামর্শে কান দেবেন না! তর্ক করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে ঠিকই, কিন্তু সেই ভয়ে চুপ করে থাকাটা কোনও কাজের কথা নয়। নৈর্ব্যক্তিক হয়ে বিষয়টা পর্যালোচনা করা এবং কোথায় আপনাদের দু’জনেরই ভুল হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। যদি মনে হয় আপনাকে বিনা কারণে দোষী করা হচ্ছে, তা হলে চুপ করে না থেকে মুখ খুলুন। সম্পর্ক সফল করতে দু’জনেরই সক্রিয় ভূমিকা থাকা দরকার।

স্বামীকে পালটানোর চেষ্টা করোঃ

এটা আর একটা ভুল পরামর্শ। কোনও দুটো আঙুল যেমন একরকম হয় না, তেমনি দু’জন মানুষও একরকম হতে পারেন না। সেই পার্থক্যটা মেনে নিতে হবে। স্বামী বা পার্টনারকে যদি পালটাতে চেষ্টা করেন, সেটা হবে আপনার সবচেয়ে বড়ো ভুল। পরস্পরের ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে মেনে নিয়ে জীবনটা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।

সংসারের রাশ নিজের হাতে রাখোঃ

সম্পর্কের মূল কথা হল দু’জনের মধ্যে একটা ভারসাম্য বজায় রাখা। সব কিছুর রাশ নিজের হাতে রাখলে মাথায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে ফেলবেন, এবং তা থেকে এক সময় হতাশা আর ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হবে যা যথেষ্টই এড়ানো সম্ভব। তাই সব দায়িত্ব নিজের উপর রাখবেন না, স্বামীর সঙ্গে ভাগ করে নিন।

স্বামীর ফোনের উপর নজর রাখোঃ

এরকম পরামর্শ শুনলে সেই পরামর্শদাতা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলাই ভালো। অপরের ফোন ঘাঁটা একইসঙ্গে অনৈতিক এবং অভদ্রতার চূড়ান্ত উদাহরণ। স্বামীর ব্যাপারে কোনও কারণে আপনার সন্দেহ তৈরি হতেই পারে, কিন্তু তার জন্য স্বামীর ফোন লুকিয়ে দেখতে যাবেন না। বরং সরাসরি স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন।

দাম্পত্য সম্পর্কে দুজনের মনের যোগাযোগের পথটা হওয়া চাই মসৃণ। হঠাৎ করেই সঙ্গীর চেনা আচরণে অচেনা সুর, ছোটখাটো ভুলত্রুটিতে বড় চেহারা দাম্পত্যে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতিতে সম্পর্কে এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়। দুজনের মনের যোগাযোগের পথ হতে হবে দূর্দান্ত;

পারস্পারিক বুঝাপড়া সমান্তরাল। তাই নিজেদের অকৃত্রিম সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে দুজনেই যথেষ্ঠ সচেতন হোন।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব কার?

ভালোলাগা থেকেই একটি সম্পর্কের শুরু, যার রেশ টেনে যায় ভালোবাসায়, আর সমাপ্তি বিয়ে পর্যন্ত। কিন্তু এই স্বর্গতুল্য সম্পর্ককে টিকিয়ে বা আগলে রাখার দায়ভার কার – নারী না পুরুষের? উত্তরটি সহজ- দু’জনেরই। কিন্তু কৌশলগত দিক থেকে এই দায়িত্ব-কর্তব্য ও বোঝাপড়াগুলো দু’জনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।

দায়িত্ব নিন দু’জনেইঃ একটি কথা উভয়েরই মনে রাখা উচিত, একতরফা আর যাই হোক সম্পর্ক হয় না। আমরা প্রায়ই ভুল করি, রিলেশনশিপ টিকিয়ে রাখা ও ভাঙনের সমস্ত দায়িত্ব ও সম্ভাবনা একটি পক্ষের ওপর ছেড়ে দিই। পুরুষেরা নারীদের আর নারীরা পুরুষদের দোষারোপ করেন। আপনিই ভাবুন, একটি সম্পর্ক কী করে একটি পক্ষ সামলে নেবেন? বাকি যিনি থাকবেন তার কোনো রেসপনসিবিলিটি, সেনসিবিলিটি ও যত্নের প্রয়োজন নেই? যদি না-ই থাকে, তাহলে তা সম্পর্ক নয়। সম্পর্কটা দাড়িপাল্লার মতো, যার দু’টো দিক সমান ভার নিলেই ভারসাম্য বজায় থাকে।

নিজেকে দিয়ে বিচার করুনঃ আপনি কর্মজীবী, আপনার সঙ্গীও তাই। কর্মক্ষেত্র ছাড়াও আপনাদের উভয়েরই পরিবার, বন্ধু ও অন্যান্য সামাজিক কিছু সম্পর্ক রয়েছে। দু’জনের দিক থেকেই এ বিষয়গুলোকে ছাড় দিন। লক্ষ্য করুন, আপনার আচরণে আপনার সঙ্গী এসব সম্পর্ক সহজভাবে সচল রাখতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন কিনা। যদি তিনি আপনাকে এ বিষয়ে ছাড় দিতে পারেন তাহলে আপনিও দিন। যদি আপনি তাকে চাপে রাখেন, তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধার কারণ হন, তাহলে একটা সময় পর আপনার সহজ বিষয়গুলোকেও আপনার সঙ্গীর কাছে কঠিন হয়ে ঠেকবে। তৈরি হবে তুলনাবোধ। তার মনে হবে- তিনি আপনাকে ছাড় দিচ্ছেন, তবে আপনি কেন নন?

যোগাযোগ রাখুনঃ নারী-পুরুষ দু’জনেরই ব্যস্ততা রয়েছে। একটা কথা জানেন কি- বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম মানুষটিও সবচেয়ে বেশি সম্পর্কযুক্ত থাকার ক্ষমতা রাখেন। শুধু চাই ইচ্ছেটা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে দু’একটা ফোন করে খোঁজখবর নিন- তিনি কেমন আছেন, খেয়েছেন কিনা। আদতে একদম সময় নেই বলে কিছু নেই, ভুলে যাওয়াটা ভিন্ন বিষয়।

মনোযোগ দিন, বাধা নয়ঃ প্রিয় মানুষের প্রতি মনোযোগ মানেই এই নয়, তার দিকে সর্বক্ষণ নজর রাখতে হবে, তাকেই সারাক্ষণ ভাবতে হবে। তবে খেয়াল রাখা জরুরি। হতে পারে আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি একটু বেশিই যত্নশীল, স্নেহপরায়ণ বা অবসেসড। কিন্তু এতে আপনি বিরক্ত। একটু ভেবে দেখুন তো- তিনি আপনাকে ভালোবাসেন বলেই আপনাকে নিয়ে ভাবেন, এতে বিরক্তি প্রকাশের কিছু নেই। হ্যা, যদি তার এই যত্নশীলতা আপনার স্বাভাবিক চলাফেরাকে বাধাগ্রস্ত করে তবে সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। ব্যাপারটি আপনার সঙ্গীকে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলুন। সুন্দরভাবে বললে বা বোঝালে সবই সম্ভব।

ভালোবাসার প্রকাশঃ নারী হোন বা পুরুষ, ভালোবাসার প্রকাশ করাটা খুব জরুরি। কথায় কথায় ভালোবাসি বলতে হবে তা নয় কিন্তু। আপনার কাজ ও আচার-আচরণে যেনো সেটা প্রকাশ পায় আপনার সঙ্গীর কাছে।

ভয় নয় আশ্রয় হোনঃ সঙ্গীর কাছে আপনার প্রতিমূর্তি কী বা কেমন তা নিয়ে ভেবেছেন কখনও? তিনি কি আপনাকে ভয় পান নাকি আশ্রয় ভাবেন? আপনার কথা বা আচরণ কি তার ভয়ের কারণ? সম্পর্কে ভয় দূরত্ব সৃষ্টি করে। বর্তমান সময়ে রিলেশনশিপে স্ট্যাবিলিটির চেয়ে ব্রেক-আপের সংজ্ঞা বেশি স্পষ্ট। এসময়ের অনেক প্রেমিক যুগলদের কাছেই সম্পর্কের যেকোনো সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে ব্রেক-আপ। আপনি কি আপনার সঙ্গীর যেকোনো ভুল, আচরণ বা ঘটনার কারণেই ব্রেক-আপের হুমকি তার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছেন বা তিনি দিচ্ছেন আপনাকে? যদি নিজেদের মধ্যে সমস্যা থাকে তাহলে সেটা নিজেরাই মিটিয়ে নিন। হোক একটু ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, মান-অভিমান। সময় নিন, আপনাআপনিই সব ঠিক হয়ে যাবে। যদি ভালোবাসা সত্যিই থাকে, তবে মিটে যাবে সব। একসঙ্গে থাকবেন এটা যদি লক্ষ্য হয় তবে এসব ঝগড়া, পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা কাটাকাটির একসময় অবসান হয়ে যাবে। এটা নিশ্চিত। আর যদি এটা মাথায় থাকে যে, যেকোনো বিষয় নিয়ে লাগলেই ছেড়ে দেবেন বা ছেড়ে যাবেন তাহলে নিশ্চিত কোনোদিনও এসব সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ মনে আশঙ্কা থাকবেই যে পাশের মানুষটি ছেড়ে যাবে একদিন।

অযথা দোষারোপ করবেন নাঃ কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দোষারোপ করবেন না। ভুল সবারই হয়, ক্ষমা করুন। আর যদি আপনার ভুলের জন্য সে আপনাকে দোষারোপ করে তাহলে ক্ষমা চেয়ে নিন। সম্পর্কটাই যদি মূখ্য হয়, তবে ক্ষমা চাইতে বা করতে ক্ষতি কী। তবে এখানেও কথা আছে- আপনি কী চান সম্পর্কটা নিয়ে? যদি নিতান্ত ওই ব্যক্তিটিকেই আর সহ্য না হয় বা ভালোলাগা কেটে যায় অথবা নতুন কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাহলে ভিন্ন বিষয়। সেক্ষেত্রে নতুন সম্পর্ককে আমন্ত্রণ জানানোর খাতিরে বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ বা তাকে অহেতুক দোষারোপ না করে সরাসরি বলে দিন সত্যটা। অযথা সম্পর্কের সমস্ত অসময়ের দোষ তার কাঁধে চাপাবেন না।

সুখী হওয়াই মূখ্য, ভাঙন নয়ঃ অ‍াপনার সম্পর্কের মূলমন্ত্র কী? চিরদিন সুখী হয়ে একসঙ্গে বাঁচা নাকি ভাঙনের ভয়ে একে অপরের থেকে গা বাঁচিয়ে কোনোভাবে সম্পর্ক বয়ে চলা? কোনো বিষয় নিয়ে বিবাদ হলেই ব্রেক-আপের কথা মাথায় আনবেন না, নিতান্তই যদি বাধ্য না হোন। কথায় কথায় ব্রেক-আপের ভয় দেখাবেন না, এতে স্বাভাবিক আস্থা ও বিশ্বাসের অবক্ষয় হয়, যা সম্পর্ককে ঢিলে করে দেয়। ব্রেক-আপের ভয়কে সামনে রেখে কোনো সম্পর্ক সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। একে অপরকে বোঝান- আপনারা একসঙ্গে থাকবেন বলেই একই পথে চলছেন, তাই নিজেদের সব সমস্যাগুলোকে নিজেদেরই সামলে উঠতে হবে। ব্রেক-আপ করলে হয়তো একটি সম্পর্কের অবসান হবে, কিন্তু আদতে কি সুখী হওয়া সম্ভব?

নারী-পুরুষ উভয়েরই স্বাধীনতাবোধ রয়েছে। স্বাধীন চিন্তা ও নিজের একটি স্বতন্ত্র জগত রয়েছে প্রতিটি মানুষেরই। ভালোবাসার সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত যা পরস্পরের স্বাধীনতা, মূল্যবোধ ও সম্মানের স্থানগুলোকে অক্ষত ও সুরক্ষিত রাখবে।

সম্পর্কে প্রনয় আছে কিন্তু বন্ধুত্ব নেই; কি করবেন?

প্রণয় ও বন্ধুত্ব আলাদা দুটি শব্দ হলেও একটি সম্পর্কে এর দুটির উপস্থিতি এক সাথে থাকা খুব জরুরী। আপনার সঙ্গীকে আপনি ভালোবাসেন, তার সব দিক খেয়াল রাখছেন, একই ছাদের নিচে দুজন বাস করছেন, কিন্তু একে অপরের কাছে মন খুলে সব কথা বলছেন না বা বলতে পারেন না। এটি আপনাদের সম্পর্কের মাঝে জটিলতা আনতে পারে। স্বামী-স্ত্রী বন্ধুত্বের রূপ হয় অন্য রকম। তাই আপনাকে আগে বুঝতে হবে বন্ধুত্ব কার সাথে কি রকম হবে। পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব, বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব আর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সাথে বন্ধুত্ব এক নয় কেননা সম্পর্ক গুলো আলাদা।

সম্পর্কে প্রনয় ও বন্ধুত্ব বজায় রাখতে যা করা উচিৎঃ

একে অপরের পছন্দ সম্পর্কে জানুন, অনেকটা আইস ব্রেকিং গেম এর মত একে অপরকে ব্যাক্তিগত ভালো লাগা খারাপ লাগা নিয়ে প্রশ্ন করুন।

দুজন ব্যাক্তির ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ থাকতেই পারে এটাই স্বাভাবিক; এতে হতাশ হবার কিছু নেই। একে অন্যের পছন্দকে শ্রদ্ধা করুন, নিজের পছন্দকে অন্যের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

স্বামী স্ত্রী’র নিজেদের ব্যাক্তিগত বিষয় গুলো অন্য কারও সাথে শেয়ার করবেন না।

নিজেদের ভালো মুহূর্ত গুলোর গল্প আপনার সঙ্গীকে মনে করিয়ে দিন।

আপনার অনেক স্মৃতি হয়ত আপনার সঙ্গী ভুলে যেতে পারেন তাই মনে করিয়ে দিতে আপনি ডায়েরি লিখতে পারেন, হতে পারে সেটি কবিতা কিংবা ছোট গল্প চাইলে আদি নিয়মের মত চিঠি লিখে বা চিরকুট লিখে তাকে উপহার দিতে পারেন।

ভালোমন্দ বোঝাপড়া নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিবেন পরিবারকে বা বন্ধুবান্ধব দিয়ে নিজের স্ত্রী বা স্বামী কে বোঝাতে যাবেন না।

দুজন ব্যাক্তির উচিৎ একে অপরকে জানা এবং প্রতিদিন জানতে চাওয়া। নিজেদের বারংবার জানতে চাওয়ার মাঝে গড়ে উঠবে বন্ধুত্ব আর যেটা থাকা চাই সেটা হল – বন্ধুত্বের শ্রদ্ধাবোধ।

প্রত্যাশার উর্দ্ধে সম্পর্ক

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের জীবনে সম্পর্কগুলিকে যেভাবে বজায় রাখেন, সেটিই মূলত তারা যেভাবে বেঁচে থাকেন তার মান নির্ধারণ করে। এটি যখন আপনার জীবনে এতখানি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করছে, তখন এটির দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন আছে। কোন একটি সম্পর্কের ভিত্তি কী? মানুষের সম্পর্কের প্রয়োজন কেন পড়ে? বিভিন্ন স্তরে সম্পর্ক তৈরি হয়; বিভিন্ন ধরণের চাহিদা পূরণের জন্য বিভিন্ন ধরণের সম্পর্ক রয়েছে। চাহিদাগুলি শারীরিক, মানসিক, আবেগ সংক্রান্ত, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক হতে পারে – এগুলি যে কোনও ধরণের হতে পারে। 

জীবনের এই অংশটি নিজেই একটি সম্পূর্ণ সত্তা – কেন এটি অসম্পূর্ণ বোধ করছে? কেন এটি অন্য একটি জীবনের সাথে অংশীদারি করে নিজেকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করছে?

সম্পর্কের প্রকৃতি যাই হোক না কেন, সম্পর্কের ধরণ যাই হোক না কেন, তবুও আসল ব্যাপারটি হলো আপনার একটি চাহিদা আছে যেটা পূরণ করা প্রয়োজন। “না, আমার কিছু পাওয়ার নেই, আমি দিতে চাই।” দেওয়াও গ্রহণ করার মতই একটি প্রয়োজন। “আমাকে কাউকে কিছু দিতে হবে” – এটি “আমাকে কিছু পেতে হবে” এর মতোই একটি চাহিদা। এখানেও একটা চাহিদা আছে। চাহিদাগুলি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, সেই অনুযায়ী সম্পর্কগুলিও বৈচিত্র্যময় হতে পারে।  

মানুষের ভেতর চাহিদা বেড়ে গেছে কারণ তাদের মধ্যে অসম্পূর্ণতার একটি বিশেষ অনুভূতি আছে এবং লোকেরা নিজের ভিতরে একটি বিশেষ পরিপূর্ণতা অনুভব করার তাগিদে সম্পর্ক তৈরি করছে। আপনি যখন আপনার কোন প্রিয়জনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখেন তখন আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ অনুভব করেন। আপনার যখন সেটা থাকে না, আপনি অসম্পূর্ণ বোধ করেন। কেন এমনটা হয়? জীবনের এই অংশটি নিজেই একটি পরিপূর্ণ সত্তা – কেন এটি অসম্পূর্ণ বোধ করছে? কেন এটি অন্য একটি জীবনের সাথে অংশীদারি করে নিজেকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করছে? মূল কারণটি হ’ল আমরা এই জীবনটিকে তার পূর্ন গভীরতা এবং মাত্রায় অনুসন্ধান করিনি। যদিও এটিই হলো ভিত্তি, সম্পর্কের একটি জটিল প্রক্রিয়া রয়েছে। 

প্রত্যাশার উৎস

যেখানে সম্পর্ক আছে সেখানে প্রত্যাশাও রয়েছে। বেশিরভাগ লোকেরা এমন সব প্রত্যাশা করে চলেছে, যা এই গ্রহের কোনও মানুষই কখনও পূরণ করতে পারে না । বিশেষত একটি পুরুষ-নারী সম্পর্কের ক্ষেত্রে, প্রত্যাশাগুলি এতটাই বেশি যে আপনি কোনও দেব-দেবীকে বিয়ে করলেও তারা আপনাকে ব্যর্থই করবে। আপনি যখন প্রত্যাশা বা প্রত্যাশার উৎস বুঝতে অক্ষম, তখন আপনি প্রত্যাশা পূরণ করতেও পারবেন না। তবে আপনি যদি এইসব প্রত্যাশাগুলির উৎস বুঝতে পারেন, তাহলে আপনি একটি খুব সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন। 

যদি আপনি নিজের স্বাভাবিক প্রকৃতিতেই খুশি থাকেন, সম্পর্কগুলি আপনার কাছে সুখ খোঁজার উপায় না হয়ে নিজের আনন্দ প্রকাশ করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠবে।

মূলত, আপনি সম্পর্ক খুঁজতে যান কেন ? কারণ আপনি দেখবেন যে আপনার জীবনে কোনও ধরণের সম্পর্ক ছাড়া আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন। আপনি একটি সম্পর্ক চাইছেন কারণ আপনি সুখী হতে চান, আপনি আনন্দে থাকতে চান। বা অন্য কথায় আপনি অপর এক ব্যক্তিকে আপনার সুখের উৎস হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। আপনি যদি নিজের প্রকৃতিতেই খুশি থাকেন, তবে সম্পর্কগুলি আপনার জন্য সুখ খোঁজার প্রচেষ্টা না হয়ে আপনার আনন্দ প্রকাশ করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠবে। আপনি যদি কারও কাছ থেকে সুখ নিঙড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেই ব্যক্তি যদি আপনার কাছ থেকে‌ আনন্দ বার করে নেওয়ার চেষ্টা করে- তবে কিছু সময় পর এটি একটি যন্ত্রনাদায়ক সম্পর্কে পরিণত হবে। শুরুর দিকে এটি ঠিক মনে হতে পারে কারণ কিছু একটা পূর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি নিজের আনন্দ প্রকাশ করার জন্য সম্পর্ক তৈরি করেন তবে কেউ আপনার সম্পর্কে অভিযোগ করবে না- কারণ আপনি অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে আনন্দ চাইছেন না বরং নিজের আনন্দ প্রকাশ করার প্রক্রিয়াতে আছেন।  

আপনার জীবন যদি সুখের অন্বেষণ না হয়ে, আপনার আনন্দের অভিব্যক্তি হয়ে ওঠে তবে সম্পর্কগুলি স্বাভাবিকভাবেই সুন্দর হয়ে উঠবে । আপনার লক্ষাধিক সম্পর্ক থাকলেও সেগুলিকে ভালভাবে ধরে রাখতে পারেন। অন্য কারোর প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টার এই পুরো সার্কাসটাই হয় না; কারণ আপনি নিজেই যদি আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠেন, তবে যেভাবেই হোক তারা আপনার সাথেই থাকতে চায়। আপনার জীবনকে সুখের পশ্চাদ্ধাবন থেকে আনন্দের বহিঃপ্রকাশের দিকে নিয়ে যাওয়া -, সম্পর্কগুলিকে যদি সত্যিই সমস্ত স্তরে কাজ করতে হয়, এটাই হওয়া প্রয়োজন; কারণ তারা বিভিন্ন ধরণের।  

বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক

আপনার শরীর এই মুহূর্তে এমনভাবে তৈরি যে এটি এখনও এমন অবস্থায় রয়েছে যেখানে এটির একটি সম্পর্কের প্রয়োজন। আপনার মন এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যে এটির এখনও একটি সম্পর্কের প্রয়োজন পড়ে। আপনার আবেগগুলি এমনভাবে রয়েছে যে এটির এখনও একটি সম্পর্কের প্রয়োজন আছে। এবং আরো গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে- আপনার শক্তিগুলি এমনভাবেই তৈরি যে আপনার এখনও সেই স্তরে একটি সম্পর্কের প্রয়োজন। যদি আপনার শরীর কোনও সম্পর্কের সন্ধানে যায় তবে আমরা একে যৌনতা বলি। আপনার মন যদি সম্পর্কের সন্ধানে যায় তবে আমরা একে সাহচর্য বলি । যদি আপনার আবেগ সম্পর্কের সন্ধানে যায় তবে আমরা তাকে ভালবাসা বলে থাকি । যদি আপনার শক্তিগুলি কোনও সম্পর্কের সন্ধানে যায় তবে আমরা একে বলি যোগ।.  

আপনার মধ্যে যখন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকেনা এবং আপনি যা কিছু করেন তা যদি সচেতন হয়ে ওঠে, সম্পর্ক সত্যিকারের আশীর্বাদে পরিণত হয়, কোনও আকাঙ্ক্ষা বা দ্বন্দ্ব নয়।

আপনি দেখবেন যে এই সকল প্রচেষ্টা- সেটি যৌনতা, সাহচর্য, প্রেম বা যোগ, যাই হোক না কেন, আপনি অন্য কোনও একটা কিছুর সাথে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করছেন; কারণ কোনও একটি কারণে এই মুহুর্তে আপনি যা, তা যথেষ্ট নয়। আপনি অন্য একজনের সাথে এক হতে পারেন কি করে ? শারীরিকভাবে আপনি চেষ্টা করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় আপনি এটা করে ফেলবেন কিন্তু আপনি জানেন যে আপনি আলাদা হয়ে যান। মানসিকভাবেও আপনি চেষ্টা করেছেন, অনেক সময়ই আপনার মনে হয়েছে যে ওখানে সত্যিই পৌঁছে গেছেন; তবে আপনি জানেন দুটি মন কখনও এক হয় না। আবেগ বশত আপনার মনে হয়েছে আপনি এটি সত্যিই করে ফেলেছেন, কিন্তু বিভাজন খুব সহজেই চলে আসে। 

কোনো একটা কিছুর সাথে এক হয়ে যাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষাটি পূরণ করার উপায় কী? অনেক ভাবে এটিকে দেখা যায়। আপনি হয়ত আপনার জীবনের কোনও একটা সময় এটি লক্ষ্য করেছেন- ধরুন আপনি খুবই আনন্দিত বা প্রেমময় বা পরমানন্দময় এবং আপনার জীবনীশক্তি খুবই উচ্ছ্বসিত বোধ করছে, আপনি একটি বিশেষ প্রসার অনুভব করছেন। এই যে বিস্তার, এর অর্থ কী? প্রথমত, ঠিক কাকে আপনি ‘আমি’’ বলে সম্বোধন করেন ? “এটি আমি এবং এটি আমি নই” – আপনার জানার ভিত্তিটা ঠিক কী? অনুভূতি, তাই না? আপনার অনুভূতির পরিসীমার মধ্যে যা কিছু আছে, তাই আপনি। এই অনুভূতির সীমানার বাইরে যা কিছু তাই “অন্য” এবং অন্যটি সর্বদাই খারাপ। আপনি এই খারাপের অভিজ্ঞতা নিতে চান না, তাই আপনি নিজের অংশ হিসাবে মানবতার অন্তত একটি ছোট্ট অংশ অনুভব করতে চান। আপনার জীবনের অংশ হিসাবে কাউকে বা অপরকে অন্তর্ভুক্ত করার এই ব্যাকুলতাকেই সম্পর্ক বলে। আপনি যদি অপরকে অন্তর্ভুক্ত করেন তবে সেই ‘খারাপ’ আপনার কাছে ‘স্বর্গের মতো সুন্দর’ হয়ে উঠতে পারে। সেই স্বর্গের অভিজ্ঞতা লাভ করতে, আপনার জীবনে স্বর্গের সেই টুকরোটিকে পেতেই সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এত ব্যাকুলতা। 

কোনও সম্পর্কের পেছনে যে আকাঙ্ক্ষাই থাকুক না কেন, তা যদি আপনি দেহ বা মনের মাধ্যমে বা আবেগের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করেন, আপনার আকাঙ্ক্ষা থেকেই যাবে; কখনই সেই একাত্মতা জানতে পারবেন না। আপনি একাত্মতার কোন মুহুর্ত হয়তো অনুভব করবেন, তবে এটি কখনই বাস্তবায়িত হবে না। আপনার চারপাশের সমস্ত জীবনকে যদি আপনি নিজের অংশ হিসেবে অনুভব করেন – যোগ হ’ল এই একাত্মতা অনুভব করার মাধ্যম ; এখানে আপনার অস্তিত্বের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ অন্যরকম হবে। যখন এটা ঘটবে, তখন সম্পর্ক কেবল অন্যের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখার একটি উপায় হয়ে উঠবে, নিজের নয়; কারণ আপনার নিজের আর কিছুই প্রয়োজন নেই। আপনার মধ্যে যখন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না এবং আপনি যা কিছু করেন তা যদি সচেতন হয়ে ওঠে, সম্পর্ক সত্যিকারের আশীর্বাদে পরিণত হয়, কোনও আকাঙ্ক্ষা বা দ্বন্দ্ব নয়। 

ফিচার টি সদগুরুর সম্পর্ক ও প্রত্যাশা বিষয়ক বক্তিতা থেকে সংকলিত