Marriage in Bangladesh

Most marriages in Bangladesh are traditional arranged marriages, semi-arranged marriages or love marriages.

Arranged marriage occurs when a member of the family, a close friend or a third person party helps bring two supposedly compatible people together in matrimony.

Like many non-industrial societies, in Bangladeshi culture, marriage is seen as a union between two families rather than just two people. Within Bangladesh, arranged marriages are arguably the most common form of marriage and are considered traditional in society.

How can I get married in Bangladesh?

1) Offer from one part and acceptance from the other.
2) According to sharia law, two male or one male and two female witnesses. whatever, The Marriage and divorce registration act 1974 equally treated both male and females.
3) Both the parties must be free in their consent.

Marriage in Bangladesh

How long do Bangladeshi weddings last?

Even though religious ceremonies are distinctive for a Hindu and Muslim wedding, there are some ceremonies that are common for weddings in Bangladesh. A Bangladeshi wedding lasts for 3 days, starting from engagement until bou bhaat(reception).

Can foreigners get married in Bangladesh?

Answer: Yes. Bangladesh Government has made provision of Registration of marriages which came into force in April-2012. Bangladeshi and Foreigner can register their marriage in accordance with The Special Marriage Act, 1872.

What is the law of marriage in Bangladesh?

In Bangladesh, marriage laws are based on a combination of religious and civil law. Civil laws dictate that the legal age of consent and minimum age for marriage is 18 for women and 21 for men. Bangladesh does not have a specific law banning forced marriage.

What is the punishment for second marriage in Bangladesh?

Whoever, having a husband or wife living, marries in any case in which such marriage is void by reason of its taking place during the life of such husband or wife, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine

What is marriage like in Bangladesh?

Like many non-industrial societies, in Bangladeshi culture, marriage is seen as a union between two families rather than just two people. Within Bangladesh, arranged marriages are arguably the most common form of marriage and are considered traditional in society.

How many wife can you have in Bangladesh?

In Bangladesh multiple marriages doubled in the last decade. The limit is usually four wives, but money is the key determinant. Islamic law allows for 4 wives, consultation with existing spouses, and equal treatment. In practice spousal support may not be evenly or fairly distributed.

What is the main reason for divorce in Bangladesh?

Results indicated that extramarital affairs, substance abuse, physical abuse, dowry-related problems, abandonment, interference from in-laws, polygamy, personality problems, criminal activity, and unemployment of husbands are the primary factors responsible for divorce among women in Bangladesh.

How long does a divorce take in Bangladesh?

Time to complete the divorce process: The one sided divorce or divorce by notice can be completed within 90 days from the date receiving the notice by City Corporation or chairman. To complete a mutual divorce, in practice, both the husband and wife take their decision of giving divorce.

How much does a divorce cost in Bangladesh?

As per marriages and Divorces (Reg) Rules, 1975: A Nikah or Marriage Registrar shall charge a fee of BDT 200 (Two Hundred) for registration of divorce. The marriage registrar may also claim BDT. 25 as commission fee and BDT.

Is divorce common in Bangladesh?

The report said that, considering the total population of the country, the divorce rate is 42%, married rate is 65.26%, single rate is 28.65%, widow or widower rate is 5.31% and marital separation rate is 0.37%.

Best Hindu Matrimony Service in Bangladesh

Looking for Best Hindu Matrimony Service in Bangladesh? Find your perfect soulmate – Hindu Brides / Grooms on Bibahabd.

Bibahabd The Most Trusted Hindu Matrimony Service Provider Brand in Bangladesh Since 2007 with 24/7 Customer Service.

Best Hindu Matrimony Service in Bangladesh
Best Hindu Matrimony Service Bangladesh

Bibahabd Best Hindu Matrimony Service designed to provide its members a secured and private environment to find their ultimate life partners by providing them a trusted source of genuine people trying to find their soul mates.

The Best Hindu Matrimony Service platform bibahabd allows members to search, communicate, interact and finally find the right person for them or their loved ones.

Bibahabd believes that marriages are made in heaven and we only intend in realizing those dreams. It is a site for the generation of today and the future.

After Registration on Bibahabd
You can avail the service in two ways:

1) Self Service
In self-service, you can log in to the matrimonial site and select the profiles you like, and you will contact the bride and groom or their guardians.

2) Assistance service
An executive assigned to assist you in the assistance service will send you a profile according to your partner preferences and arrange a meeting with your consent.

Bibahabd Win BASIS National ICT Awards – 2017 under Category: Inclusion & Community.

For Hindu Matrimony Service Bibahabd web portal is one of the best Bangladeshi matrimonial websites.

Their support team ensures 24/7 days’ service. If you want profession service, you can safely open account here.

হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ পেতে বিবাহবিডি

সম্ভ্রান্ত ও উচ্চ শিক্ষিত বাংলাদেশী হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ পেতে বিবাহ বিডি’র রয়েছে সমৃদ্ধ ডাটাবেইজ।

পরিবারের প্রিয় সদস্যটির জন্য উপযুক্ত হিন্দু পাত্র পাত্রীর খোঁজ না পাওয়ায় কারনে
বিয়ের ব্যাপারে যদি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহ বিডি ডট কম

ঘরে বসেই হিন্দু পাত্র পাত্রীর খোঁজ অনলাইনে

চাহিদা অনুযায়ী হিন্দু পাত্র পাত্রীদের ছবি সহ বায়োডাটা দেখে পাত্র পাত্রী বা অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে নিশ্চিন্তে প্রোফাইল করুন।

বিবাহবিডি ডট কম, দীর্ঘ ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী পরিবারগুলোকে অনলাইন / অফলাইন সেবা নিশ্চিত করে আসছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বী পাত্রপাত্রীর খোঁজ
হিন্দুধর্মাবলম্বী পাত্রপাত্রী

যে ধরনের হিন্দু পাত্রপাত্রীর প্রোফাইল পাবেনঃ
১৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন  গোত্র কিংবা কাষ্টের, হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ পাওয়া যাবে –

ব্রাহ্মণ পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
ভট্ট/ভট্টাচার্য্য, মুখোপাধ্যায়/মুখার্জী, বন্দ্যোপাধ্যায়/ব্যানার্জী, গঙ্গোপাধ্যায়/গাঙ্গুলী, চট্টোপাধ্যায়/চ্যাটার্জী, উপাধ্যায়

গোস্বামী, চক্রবর্তী, লাহিড়ী, মিশ্র, মৈত্র, বাগচী, সান্যাল, ভাদুড়ী, ঘোষাল, তেওয়ারি/ত্রিবেদী, মৌলিক, কাঞ্জিলাল, শাস্ত্রী, আচার্য্য, শর্মা ।

বণিক পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
ধর, দ্ত্ত, মন্ডল/মণ্ডল, দে, শীল, নন্দী, মল্লিক, আঢ্য, কুন্ডু, পোদ্দার, বসাক, সাহা, বণিক, বড়াল, সেন, লাহা, রাহা

কায়স্থ  পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
দেব, চাকী, কর, মিত্র, নন্দী, দে, ধর, দত্ত, গুহ, পাইন, বসু/বোস, ঘোষ, বিশ্বাস, মণ্ডল/মন্ডল, উকিল, মল্লিক, পাল, ভঞ্জ, মজুমদার

সিংহ, চৌধুরী, সরকার, করণ, রায়, সুর, চন্দ, কুন্ডু, আইচ, দাস

মাহিষ্য পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
দাস, বিশ্বাস, মন্ডল/মণ্ডল, সিংহ, চৌধুরী, অধিকারী, গোস্বামী, কবিরাজ, ওঝা, উকিল, পুরকায়স্থ, তরফদার, আদক, সাঁতরা, ভৌমিক, প্রামাণিক

সরকার, রায়, মজুমদার, মল্লিক, মাইতি, জানা, বেরা, ধাড়া, গিরি, মান্না, দিন্দা, কারক, সামন্ত, হাজরা

ভূ-স্বামী পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
মুন্সী, মণ্ডল, চাকলাদার, তালুকদার, রায় বাহাদুর, চৌধুরী, ঠাকুর, প্রধান, মল্লিক, রায়চৌধুরী, দস্তিদার, খাস্তগীর, সরকার, বর্ধন, মহলানবীশ, মজুমদার, দেওয়ান

নমঃশূদ্র বা নমঃস্বেজ পাত্র পাত্রী। পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
ভক্ত, দাস, বাসফোর, মল্লবর্মণ, বর্মণ/বর্মা, মুচি/চর্মকার, ঘোষ, মোদক, শীল, দেববর্মা, হালদার, বিশ্বাস, রাজবংশী

পেশা হিসেবে পদবীঃ
কানুনগো, কারিগর, কর্মকার, ঘটক, গোঁসাই, পালাকার, নাগ (শাঁখারী), ভাঁড়, শোলাকার, মালাকার, ঘরামী, মিস্ত্রী, সূত্রধর/সুতার, পাঁটিকার

বাড়ৈ, হাজরা, হালদার, মাঝি, মালী, পাখাধরা, কার্য্যী, দেওরী, ওঝা, পটুয়া, পাটোয়ারি, ডাকুয়া, পাল, বৈদ্য, গুণ, পাজা, গদগদ,বালা জলদাস জলধর, বড়াল, সাহানী / সোহানী, বর, খাঁ, রং, সাউদ, গায়েন, ব্রজবাসী, মহন্ত

যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা, বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী এবং বিশ্বের প্রায় ৮০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী হিন্দু ধর্মাবলম্বী পাত্রপাত্রীর সন্ধান পেতে লিংকে ক্লিক করুন।

তাছাড়াও বিবাহ বিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন
– ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন)
– সিঙ্গেল ফাদার / সিঙ্গেল মাদার  সার্চ
( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে হিন্দু পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ
জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন

নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে –

ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ও ইজি সার্চ  অপশন –
যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে।

আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে রেজিষ্ট্রেশন করুন। 
অথবা বিস্তারিত জানতেঃ

বিবাহবিডি ডট কম
HOUSE # 02 (3rd Floor) BLOCK: G,

Hotline: +88 01922 115555, 88 01944 115555, 88 019 71 24 2242
Customer Care: + (88) 0961 22 11 555 Office: 02-4729-1212

Hindu Marriage Media in Bangladesh

Bibahabd is one of the Best Hindu marriage media in Bangladesh or Hindu Matrimony service provider.

Who provides online and offline matchmaking service to find a suitable partner / Bride Groom for marital relationship.

Log into Bibahabd The Best Hindu Marriage Media in Bangladesh for Hindu Never Married, Divorce, widowed Bride Groom.

You will find Barisal, Chittagong, Dhaka, Khulna, Mymensingh, Rajshahi, Rangpur, and Sylhet or NRB Hindu, Muslim, Buddhist, Christian Bride Groom for Arranged Marriage.

There are now more than 3,000 Hindu castes in all over the world, and an even greater number of sub-castes.

Here are six of the most significant:

Best Hindu marriage media in Bangladesh
Best Hindu marriage media in Bangladesh | Bangladesh Hindu Matrimony
  • Hindu Brahmins Bride Groom
    The highest of all the castes, and traditionally priests or teachers, Brahmins make up a small part of the population. The British colonial authorities gave Brahmins influential clerical jobs.
  • Hindu Kshatriyas Bride Groom
    Meaning “protector[s] of the gentle people,” Kshatriyas were traditionally the military class. They are now predominantly a land-owning caste and are diminished in power.
  • Hindu Vaishyas Bride Groom : A caste that is influential in trade, the Vaishyas were traditionally cattle-herders, agriculturalists, artisans and merchants. They are now associated with the middle-class and social advancement and make up around one fifth of Bangladeshis Hindu population.
  • Hindu Shudras Bride Groom : The lowest of the four ancient social classes, or Varnas -, the Shudras were considered so low as to be prohibited from the study of the “Vedas,” the earliest texts of sacred literature. Shudras are now considered to be a “scheduled caste” .
  • Hindu Adivasi Bride Groom : The term is used to refer to a collection of ethnic and tribal groups regarded as Bangladeshi’s aboriginal Hindu people. More than 95 per cent of Adivasis live in rural areas. Sixty-eight per cent do not reach high school.
  • Hindu Dalits Bride Groom : The word “Dalit,” derived from Sanskrit, means “ground,” “suppressed” or “crushed.” Considered the lowliest people of all the castes, Dalits are typically associated with Occupations regarded as ritually impure, such as those involving waste or carcasses.

We at Bibahabd believe that marriages are made in heaven and we only intend in realizing those dreams. It is a site for the generation of today and the future.

হিন্দু বিবাহরীতি

হিন্দু বিবাহ দুটি ব্যক্তি (বেশিরভাগই পুরুষ এবং মহিলা) চূড়ান্ত অনন্তকাল ধরে সমন্বিত করে, যাতে তারা ধর্ম (দায়িত্ব / কর্তব্য), আর্থ (অর্থ) এবং কাম অনুসরণ করতে পারে। এটি স্ত্রী বা স্ত্রী হিসাবে দুটি ব্যক্তির একটি ইউনিয়ন এবং জীবন্ত ধারাবাহিকতা দ্বারা স্বীকৃত। হিন্দু ধর্মে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য গতানুগতিক রীতি অনুসরণ করে না। প্রকৃতপক্ষে, বিবাহ সম্পূর্ণরূপে বা বৈধ হিসাবে বিবেচিত হয় এমনকি বিবাহ দুটি আত্মার মধ্যে হয় এবং এটি শরীরের বাইরে। এটি দুটি পরিবারকে একসাথে যোগ দেয়। অনুকূল রঙগুলি এই উপলক্ষে সাধারণত লাল এবং সোনার হয়।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, বিবাহে ছেলে মেয়েটির সমস্ত পালন পোষণের দ্বায়িত্ব নেয় এবং মেয়েটি তাদের সংসারের খেয়াল রাখার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে। এইভাবে তারা দুই আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে নিজেদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যায়।

বিবাহের লক্ষ হল সংসার ও সন্তানের লালনপালন করে বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য একই সময়ে বাইরে থেকে দরকারী জিনিস উপার্জন করে আনা আর ঘরের ভেতরে সংসারের কাজ সামলাতে হয়। যেহেতু একজন মানুষ একই সময়ে এই দুটো কাজ করতে পারে না তাই দুটো কাজ দুজনের মধ্যে বন্টিত বয়ে যায়।

যেহেতু পুরুষ বেশি বলবান হয় প্রাকৃতিকভাবেই আর মেয়েরা কোমল প্রকৃতির হয় এবং তাদের গর্ভে সন্তান জন্ম নেয় তাই বাইরে থেকে সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস উপার্জনের দ্বায়িত্ব পুরুষ নেয় আর ঘরে সংসারের দেখাশোনার দ্বায়িত্ব স্ত্রী নেয়। এইরকমভাবে হলেই সংসার সুস্হভাবে বেড়ে ওঠে ও সন্তানের সুন্দর দেখাশোনার মাধ্যমে বিবাহে বংশবিস্তারের উদ্দেশ্য সফল হয়।

হিন্দু বিবাহ
হিন্দু বিবাহের পাত্র পাত্রী

দুইজনের মধ্যে ভালবাসা থাকলেই এই কাজগুলো বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হয় কিন্তু দুইজনের মাঝে তৃতীয় কেউ আসলে সেই দুইজনের ভালবাসায় ফাটল তৈরী হয়।আর তাতে আগের কাজগুলো করার দ্বায়িত্ববোধ মন থেকে মিটতে শুরু করে। কষ্ট-হিংসার সৃষ্টি হয়।তাতে সংসারের ক্ষতি হয় যার ফলে সন্তানেরও পালন ঠিকভাবে হতে পারে না। আর এখানেই বিবাহের উদ্দেশ্য বিফল হয়ে যায়।এতে পরকীয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে তাই বিয়ের উদ্দেশ্যকে রক্ষা করতেই বিয়ে শুধু দুইজনের মাঝেই হয়।

বিয়ের ব্যবস্থা করণ প্রক্রিয়াঃ

পুরোহিতের সাহায্যে মিলিত হওয়ার জন্য পুত্র / কন্যার জাতকাম বা জনম কুন্ডালির (জন্মের সময় জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চার্ট) ব্যবহার সাধারণ, তবে সর্বজনীন নয় তামিল ভাষায় ‘জোথিদার’ বা উত্তর ভারতের তেলুগুতে ‘পান্থুলু বা সিদ্ধন্তী’ নামে পরিচিত ব্রাহ্মণের কাছ থেকেও অভিভাবকরা পরামর্শ নিয়ে থাকেন, যাদের বিবাহ করার জন্য অনেক লোকের বিবরণ রয়েছে। মিথিলাতে ব্রাহ্মণদের মতো কিছু সম্প্রদায় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বজায় রাখা বংশবৃত্তীয় রেকর্ড (“পজ্ঞিকা”) ব্যবহার করে।

জাতকাম বা কুণ্ডলি জন্মের সময় নক্ষত্র এবং গ্রহের স্থানের উপর ভিত্তি করে আঁকা হয়। যে কোনও ম্যাচের সর্বাধিক পয়েন্ট ৩৬ এবং ম্যাচের নূন্যতম পয়েন্ট ১৮ হতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সী পয়েন্টগুলির সাথে যে কোনও মিলই সুরেলা সম্পর্কের জন্য একটি শুভ মিল হিসাবে বিবেচিত হয় না তবে তারা এখনও বিবাহ করতে পারে এমন লোকদের উপর এটি উদারভাবে নির্ভর করে। যদি দুটি ব্যক্তি (পুরুষ ও মহিলা) এর জ্যোতিষীয় চার্টটি পয়েন্টগুলিতে প্রয়োজনীয় প্রান্তিকতা অর্জন করে তবে সম্ভাব্য বিবাহের জন্য আরও আলোচনা বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাকে একে অপরের সাথে কথা বলার এবং বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়। একবার চুক্তি হয়ে গেলে তার পরে বিবাহের জন্য একটি শুভ সময় বেছে নেওয়া হয়।

আট ধরণের বিবাহ

হিন্দু ধর্ম অনুসারে আটটি ভিন্ন ধরনের বিবাহ রয়েছে। সকলেরই ধর্মীয় অনুমোদন নেই।

আট প্রকার বিবাহ সমূহ:

  1. ব্রহ্ম বিবাহ – ব্রহ্ম বিবাহ হ’ল বেদে শিখেছিলে এবং নিজের দ্বারা নিমন্ত্রিত নেক আচরণের লোকের সাথে কন্যার বিবাহ হয়। একটি ব্রহ্ম বিবাহ হল যেখানে একটি ছেলে তার ছাত্রী বা ব্রহ্মাচার্য শেষ করে একবার বিয়ে করতে সক্ষম হয়। ব্রহ্ম বিবাহ আট ধরনের হিন্দু বিবাহের মধ্যে সবচেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থান। ছেলের বাবা-মা যখন কোনও মহিলা খোঁজেন, তারা তার পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা করতেন, তবে মেয়ের বাবা তার ছেলেকে নিশ্চিত করতে যে তার ছেলের সাথে বিয়ে করতে চায় সে বেদের জ্ঞান রাখে। এই বিষয়গুলিই যৌতুকের ব্যবস্থা নয়, ব্রহ্ম বিবাহের ভিত্তি তৈরি করে। এই ধরনের বিবাহে যৌতুক পাপ হিসাবে বিবেচিত হয়।
  2. দৈব বিবাহ – যে ধরনের বিবাহকে নিকৃষ্ট বলে মনে করা হয় কারণ এটি নারীত্বকে হ্রাস করে। এখানেই মহিলার পরিবার তার বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। যদি তিনি উপযুক্ত বর না পান, তবে তিনি এমন জায়গাগুলির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন যেখানে পরিবার পুরোহিতের মাধ্যমে ম্যাচ মেকিংয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল যারা যথাযথভাবে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে, পারফরম্যান্সের সময়। এটাই ছিল প্রচলিত রয়্যালস অনুসারী এবং মিত্র ও শত্রুদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রাচীন কালে প্রচলিত ছিল।
  3. অর্শ বিবাহ – একটি আরশার বিবাহ হয় যেখানে মেয়েটিকে ঋষির সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। কিছু গরুর বিনিময়ে কনে দেওয়া হত। অগস্ত্য সেই অনুসারে লোপামুদ্রকে বিয়ে করেছিলেন। রাজারা প্রায়শই ঋষিদের অস্বীকার করতে পারেননি যাদের এমন ক্ষমতা ছিল এবং সমাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাই মহাভারতের অসংখ্য গল্প যা এই অনুশীলনের চিত্রিত করে।
  4. প্রাজাপাত্য বিবাহ – প্রজাপতি হল যখন কোনও মেয়ের বাবা তাকে বরকে বিয়ে করে, শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করে এবং তাদের সম্বোধন করে: ‘তোমরা উভয়ই এক সাথে তোমার দায়িত্ব পালন করুক’। ব্রহ্মার বিবাহের বিপরীতে, প্রজাপাত্য বিবাহই কনের পিতা কনের সন্ধানে যান, যদিও এই বিষয়টি পিতামাতার নিখুঁত কনের সন্ধানের মতো ভাল বলে বিবেচিত হয় না। এছাড়াও, আরশা বিয়ের মত, আর্থিক লেনদেনগুলি প্রজাপাত্য বিবাহের অংশ নয়।
  5. গন্ধর্ব বিবাহ – একজন মেয়ের এবং তাঁর প্রেমিকের স্বেচ্ছাসেবী মিলনকে গন্ধর্ব বিবাহ বলে। যখন ‘প্রেম’ বিবাহের কথা আসে তখন এটি গন্ধর্ব বিবাহই সর্বাধিক মিল। এখানেই একজন বর এবং তার কনে তাদের পিতামাতার জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই বিবাহ করতে পারে। এই হল কিভাবে দুশ্যন্ত বিয়ে করে শকুন্তলাকে। এটি ডেটিংয়ের মতো নয়। এখানে নববধূ এবং বর কোনও পদক্ষেপের আগে কোনও ব্যক্তি, প্রাণী, গাছ, উদ্ভিদ বা দেবতার উপস্থিতিতে মানত করে।
  6. অসুর বিবাহ – আসুর বিবাহ হল যখন বর পাত্রী প্রথম মেয়ের সাথে তার নিজের ইচ্ছামত সম্পদ অর্জন করার পরে পাত্রী এবং তার আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধন-সম্পদ অর্জন করে। এটিই অসুর বিবাহ যা অন্য ধরনের বিবাহ থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলে। এটি এমন একটি বিবাহ যেখানে পাত্রী কনের সাথে প্রায়শই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না এবং কিছুটা অস্বাভাবিকতাও অর্জন করতে পারে তবে পাত্রীর পিতৃপুরুষের লোভ বা বাধ্যতামূলকভাবে বরের ইচ্ছা এবং ধনসম্পদ এটিকে দিতে পারে। সর্বদা এই ধরনের বিবাহকে নীচু বিবেচনা করা হত। আধুনিক সময়ে এটি অগ্রহণযোগ্য কারণ এটি অনেকটা শেল্ফের বাইরে পণ্য কেনার মতো এবং সাধারণ ভারতীয় আইনের বিরুদ্ধে।
  7. রাক্ষস বিবাহ – রক্ষাসা বিবাহ হ’ল এক গৃহকর্তার সাথে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণের সাথে জড়িত থাকার পরে বিবাহ হয় যা কাজাক এবং উজবেক সংস্কৃতিতে এখনও প্রচলিত রীতি অনুসারে হত্যা করা বা আহত করা হয়েছে। বর কনের পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য করবে, তাদের পরাস্ত করবে এবং কনেকে তার সাথে বিবাহের জন্য রাজি করানোর জন্য দূরে নিয়ে যাবে। বল প্রয়োগের কারণে এই বিবাহটি আধুনিক পার্লেন্সে মূলত ধর্ষণ করা হয় এবং এটি কখনই সঠিক বলে বিবেচিত হয় না – তাই এটি যুক্ত করা নামী রক্ষাসহ নামটি রাখে। এটি মানুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে এটি একটি অপরাধ। সুভদ্রার সাথে অর্জুনের বিবাহটি দেখতে দেখতে তৈরি হয়েছিল তবে বাস্তবে এটি একটি গন্ধর্ব বিবাহ ছিল কারণ তাদের উভয়েরই প্রেম ছিল এক অগ্রণী এবং তাদের মধ্যে সুভদ্রার ভাই শ্রীকৃষ্ণের সম্মতি ছিল যিনি বলরামকে মতভেদ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এই সাবটারফিউজকেই প্রস্তাব করেছিলেন।
  8. পৈশাচ বিবাহ – যখন চুরি করে কোনও মানুষ ঘুমন্ত, নেশা বা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিত কোনও মেয়েকে প্ররোচিত করে, তখন তাকে পয়শাচ বিবাহ বলে। এটি মনুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে একে ডেট রেপ বলা হয় এবং বেশিরভাগ সভ্য দেশে এটি একটি অপরাধ।

হিন্দু বিবাহ এবং রীতিনীতি প্রকারভেদ
ঐতিহাসিকভাবে বৈদিক বিবাহ ছিল হিন্দু বিবাহ রীতিনীতিগুলির কয়েকটি ভিন্ন ধরনের কিন্তু প্রেমের বিবাহ ঐতিহাসিক হিন্দু সাহিত্যেও দেখা গিয়েছিল এবং বিভিন্ন নামে যেমন গন্ধর্ব বিভা নামে বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু দরিদ্র বৈষ্ণব সম্প্রদায়গুলিতে এখনও কাঁথি-বাদল নামে প্রচলিত রীতি রয়েছে যা কৃষ্ণা প্রতিমার সামনে একাকীত্বের একান্ত সরল রূপ হিসাবে পুঁতির মালা বিনিময়, গ্রহণযোগ্য প্রেম বিবাহের এক রূপ হিসাবে বিবেচিত।

পুরানো হিন্দু সাহিত্যেও এলোপমেন্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ভগবান কৃষ্ণ স্বয়ং রুক্মিনীর সাথে ঘোড়ার রথে যাত্রা করলেন। লেখা আছে যে রুক্মিনীর পিতা তাঁর ইচ্ছের বিপরীতে তাকে শিশুপালের সাথে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন। রুকিমিনী কৃষ্ণকে চিঠি পাঠিয়েছিল যে স্থান ও সময় তাকে তুলে নেবে।

বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের দ্বারা প্রতীকী অনুষ্ঠান অনুসরণ করা
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিবাহিত হিন্দু মহিলারা বিভিন্ন রীতিনীতি অনুসরণ করে। প্রায় সিদুর মঙ্গললসূত্র এবং চুড়ি এক বিবাহিত নারী লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিছু কিছু জায়গায়, বিশেষ করে মধ্যে পূর্ব ভারতে, পরিবর্তে তারা শুধুমাত্র করা সিঁদুর চুল বিভাজিকা উপর, একজোড়া পরিধান শঙ্খ চুড়ি (শঙ্খ), লাল চুড়ি (পাল) এবং বাঁ হাত একটি লোহার বালা তাদের স্বামী যখন জীবিত. দক্ষিণ ভারতে, বিবাহিত মহিলার একটি থালি এবং রূপার টো-রিং নামক একটি স্বতন্ত্র দুলের সাথে নেকলেস পরতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় দু’জনকেই স্বামী তাকে ধরিয়ে দেয়। থালীর দুলটি কাস্টম-ইন এবং এটির নকশা পরিবার থেকে পরিবারে আলাদা।

এছাড়াও এই, বিবাহিত মহিলা তার কপাল নামক একটি লাল সিঁদুর ডট পরেন কুমকুম এবং (যখনই সম্ভব) তার চুল এবং চুড়ি ফুল। মধ্যযুগীয় সময়ে একজন বিবাহিত মহিলা তার স্বামী মারা গেলে এই সমস্ত ছেড়ে দেওয়ার জন্য উত্সাহিত হত। এটি এখন আর অনেক প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের অনুশীলন নয়। কাশ্মীরি তিহ্যে মহিলারা উপরের কানের মাধ্যমে একটি ছোট সোনার চেইন (চেইন থেকে ঝুলানো একটি ছোট সোনার ষড়জাকার পুঁতিযুক্ত) পরেন যা বিবাহিত হওয়ার লক্ষণ। কুমার উত্তরাখণ্ডের বিবাহিত মহিলাটি পিচোদা নামে একটি হলুদ কাপড় পরেন। আসল বিবাহে, হিন্দু নববধূরা উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরেন। একটি লাল শাড়ি বা লেঙ্গা সাধারণত কনে পরেন, তিনি এমনকি একাধিক পোশাক পরতে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমটি হ’ল তিনি তার পরিবার থেকে পোশাক পরে এসেছিলেন এবং দ্বিতীয়টি তিনি তার স্বামী এবং তাঁর পরিবার তাঁকে দিয়েছিলেন এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অর্ধপথে রূপান্তরিত হতে পারেন।

অনেক লোক বিশ্বাস করেন যে সাজানো বিবাহ ভারতে বিবাহের প্রচলিত রূপ; তবে প্রেম বিবাহ একটি আধুনিক রূপ, সাধারণত শহরাঞ্চলে। প্রেমের বিবাহটি বিবাহিত ব্যবস্থার চেয়ে পৃথক যে পিতা-মাতার পরিবর্তে এই দম্পতি তাদের নিজের সঙ্গী বেছে নেয়। হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে, রোমান্টিক প্রেমের বিবাহ যা প্রাচীন কালে গৃহীত হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ মহাভারতের গল্পে দুশায়ন্ত এবং শকুন্তলা । কোথাও কোথাও কোথাও, সাজানো বিবাহগুলি প্রাধান্য পেয়েছিল এবং প্রেমের বিবাহগুলি অগ্রহণযোগ্য বা কমপক্ষে ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, কিছু ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন যে এটি বিদেশী আগ্রাসনের সময়কালে হয়েছিল। কিছু প্রেমের বিবাহ সত্ত্বেও, বেশিরভাগ হিন্দু বিবাহের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সম্ভাব্য দম্পতিরা সাধারণত ঐতিহাসিকভাবে এই ম্যাচের চেয়ে বেশি এজেন্সি রাখেন।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা উচিত

আমাদের দেশে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিয়ে তাদের শাস্ত্রমতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম দেশ ভারত হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ও বিচ্ছেদসংক্রান্ত আইন বহু আগেই (১৯৫৫) প্রণীত হয়ে বলব আছে। এমনকি ভারতের একজন বিধবাও দ্বিতীয় দার পরিগ্রহ করতে পারেন।

আমাদের দেশে হিন্দু বিবাহবিচ্ছেদ ও বিধবা বিবাহ প্রচলন আইন প্রণীত না হওয়ায় আইনগতভাবে কোনো হিন্দু পুরুষ বা মহিলা বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন না এবং একজন বিধবাও আবার বিয়ে করতে পারেন না।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলেও সারা জীবন ক্ষেত্রবিশেষে পৃথক বাসস্থানে অবস্থান করতেও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন না। অনুরূপভাবে একজন যুবতী হিন্দু মহিলা তাঁর স্বামী রোগে-শোকে বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করলেও আবার বিয়ে করতে পারেন না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে প্রণীত হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন আইন (১৮৫৬) ভারতে আইন হিসেবে গৃহীত হলেও আমাদের দেশে আদৌ এ ব্যাপারে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন

হিন্দু নারীদের বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণা, বিয়ে-পরবর্তী দালিলিক প্রমাণ সৃষ্টির লক্ষ্যে ও সহজে হিন্দু নারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক রেখে ‘হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২’ সংসদে পাস করা হয়। বিদেশ ভ্রমণ, অভিবাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও বিবাহ নিবন্ধন-সম্পর্কিত দালিলিক প্রমাণ একটি অপরিহার্য বিষয়।

১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৫ ধারার মাধ্যমে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং নিবন্ধন না করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মুসলিম শরিয়া আইন অনুসারে মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো যায় এবং বিধবা মুসলিম নারীও আবার বিয়ে করতে পারেন।

কোনো কোনো হিন্দু ধর্মীয় নেতার মতে, হিন্দু বিয়ে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণে সাত পাকে বাঁধা বিধায় এ বিয়ের মাধ্যমে আত্মার সঙ্গে আত্মার, মাংসের সঙ্গে মাংসের ও অস্থিতে অস্থিতে মিলন ঘটায়। বিয়ের নিবন্ধন আইন প্রণীত হলে হিন্দু বিয়ের মূল ভিত্তি নষ্ট হবে বলেও তাঁদের ধারণা। নিবন্ধনের ফলে একজন হিন্দু মহিলার একজন হিন্দু পুরুষের সঙ্গে শুধু সম্পর্ক স্থাপিত হবে, স্বামীর অবর্তমানে স্বামীর পরিবারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না—এমনটাই দাবি তাঁদের।

অনেকেই এটাকে খোঁড়া যুক্তি হিসেবে উড়িয়ে দিতে চান। তাঁদের বক্তব্য হলো, বিবাহ নিবন্ধন হিন্দু বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতিতে কোনোভাবেই খর্ব করবে না। বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে শুধু বিয়ে প্রমাণের জন্য একটি অতিরিক্ত দালিলিক প্রমাণ সৃষ্টি হবে।

আইনের ৬ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হিন্দু ধর্ম, রীতি-নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর ওই বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে, বিবাহের যেকোনো পক্ষের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবাহ নিবন্ধন করিবেন।’ অনেক আইনজ্ঞ ও বিশিষ্টজনের মতে, কোনো আইন ঐচ্ছিক হতে পারে না, আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো আইনে বিধিবিধান প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা।

তাঁদের মতে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে সাত পাক ঘোরা ও অন্যান্য আচার পালনে কোনো সমস্যা হবে না। গত ২৩ ডিসেম্বর প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন না থাকার কারণে কাননবালার বিড়ম্বনা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ১৭ বছর আগে কাননবালাকে তাঁর দুই সন্তানসহ ফেলে রেখে তাঁর স্বামী চলে যান এবং দ্বিতীয় বিয়ে করেন। গাজীপুরের স্বামী পরিত্যক্ত কাননবালা এখন একজন আশ্রয়হীন ভাসমান নারী।

কাননবালার দাবি, তাঁদের বিবাহের নিবন্ধনমূলক কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকায়ই তাঁর স্বামী তাঁকে এবং সন্তানদের অস্বীকার করার শক্তি পেয়েছেন। কাননবালা তাঁর জীবনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছেন সরকারের কাছে। দেশের আর্থ-সামাজিক ধর্মীয় ও যুগের চাহিদার কারণে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে মনে করি।

Hindu Marriage Media, Brahman Marriage Media, Kshatriya Marriage Media, Chhettri Marriage Media, Vaisya Marriage Media, Sudra Marriage Media, Hindu