বিচ্ছেদের পর সময় নিন; ঘুরে দাঁড়ান

বাংলাদেশে দিন দিন বেড়েই চলছে ডিভোর্সের হার। ডিভোর্স হঠাৎ করে হয় না। ডিভোর্স একরাতে বা আচমকা দুর্ঘটনার ফল না। বহুবিধ কারনে ডিভোর্স হয়ে থাকে।

ডিভোর্স শুধু স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বিচ্ছেদ নয়। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক, মানসিক বিচ্ছেদ এবং সর্বোপরি সন্তানের সাথে তাদের সামগ্রিক সম্পর্কের টানা পড়ে।

ডিভোর্স যে দেয় এবং যাকে দেয়া হয় – দুজনের উপরই ভিন্ন মানসিক প্রভাব পড়ে। যে ডিভোর্স দেয় সে ভীতিবোধ, নির্ভার, দূরত্ববোধ, অসহিষ্ণুতা, বিরক্তিবোধ, সন্দেহ ও অনুশোচনায় ভোগে। আর যাকে ডিভোর্স দেয়া হয় সে হতবিহ্বল, প্রতারিত, আত্মনিয়ন্ত্রণহীন, নির্যাতিত, আত্মমর্যাদা হ্রাস, নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে।

ধরুন, আপনি পুরনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠেছেন। নতুন বাসা আপনি কিভাবে সাজাবেন? অবশ্যই হুবহু পুরনো বাসার আদলে নয় বরং আপনি নতুন বাসায় উঠার সময় পুরনো কিছু জিনিস বাদ দিয়ে নতুন জিনিস কিনে ঘর সাজান বা সাজাবেন। ঠিক এভাবেই ডিভোর্সের পরবর্তী জীবনটা নতুন করে সাজান।

ডিভোর্সের পর করনীয়ঃ

আত্মবিশ্বাসী হন।

সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান।

স্বাবলম্বী হন।

আপনাকে যে কেউ নেতিবাচক কথা বলবে আপনি সেগুলো এড়িয়ে চলুন।

নিজেকে সময় দিন।

সন্তানকে এমন ভাবে বড় করুন যেন তার বেড়ে ওঠায় নেতিবাচক প্রভাব না পরে।

পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান।

পছন্দের কাজ করে সময় কাটান।

নিজেকে দোষ দেবেন না।

ডিভোর্স মানেই আপনার জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আপনি চাইলে ডিভোর্সের পর আপনার জীবনে দ্বিতীয় সঙ্গীর কথা ভাবতেই পারেন, এ অধিকারটুকু আপনার আছে। তবে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই সময় নিন ও সম্পর্কে জড়ান তবে নতুন সঙ্গীকে সব কিছু জানিয়ে ।

বিচ্ছেদের কষ্ট দূর হবে যেভাবে

স্বাভাবিকভাবেই অতীত ভোলা সহজ নয় আবার ইচ্ছা শক্তি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অতীত ভোলা সম্ভব। অতীত ভুলবার অথবা কষ্ট দূর করার জন্য আমাদের উচিত নিজেদের একটি চক্রে আবদ্ধ করা, আর সে চক্রে আমাদের কিছু বিষয় সাজাতে হবে যা আমরা করবো নিজেকে ভালো রাখার জন্য –

নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন- জোর করে কোন সম্পর্ক টিকে রাখা যায় না। ভালোবাসা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা ছেড়ে দিতে হয় আটকে রাখতে হয় না, এ সত্য আপনাকে মেনে নিতে হবে। শুরুতে অনেক কষ্ট হলেও এটা ভাবুন যা হয়েছে তা ভালো কিছুর জন্যই হয়েছে। নিজের জীবনকে নতুনভাবে কল্পনা করুন। ভালো আছেন এরকম ভান বা অভিনয় করবেন না, আবেগ চাপা রাখলে আপনার মানুসিক চাপ বাড়বে তাই শোক করুন, কাদুন।

পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন স্মৃতি তৈরি করুন- পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন করে নিজেকে তৈরি করুন। কেননা, নিজেকে অতীতে আটকে রাখলে বর্তমান পরিস্থতি থেকে আপনি সহজে নিজেকে পরিত্রাণ করতে সক্ষম হবেন না। সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে কোথাও ঘুরেছেন, ভাল সময়গুলো দীর্ঘকাল কাটিয়েছেন এমন পরিবেশগুলো ত্যাগ করুন ও নতুন জায়গাগুলোতে ঘুরে আসুন, নতুন পরিবেশে সময় কাটান। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহায়তা নিন, কান্না করুন, ক্রোধ প্রকাশ করুন, নিজকে হালকা করুন।

অতীত নিয়ে পড়ে থাকবেন না- কেন আমার সঙ্গে এমন হলো বা সম্পর্ক কেন টিকলো না? সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এরকম প্রশ্ন অনেকেরই মাথায় ঘোরে। এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বন্ধ করুন। প্রাক্তনের দেয়া পুরোনো চিঠি-গিফট ফেলে দিন, ই-মেইল, মেসেজ, ছবি ইত্যাদি ডিলিট করুন। পরিচিত কারো কাছ থেকে প্রাক্তন সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন না। সে কেমন আছে, আপনাকে কি মনে করে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কি আবডেট দিচ্ছে তা স্টক করা থেকে বিরত থাকুন।

প্রতিশোধ নেবেন না- ক্ষমা করতে শিখুন। যদি মন থেকে ক্ষমা করতে নাও পারেন তবুও প্রতিশোধ নেবেন না বা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে রাগের মাথায় এমন কিছু করবেন না যাতে আপনার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় অথবা আপনি কোনভাবে আইনের জটিলতার পরিস্থিতিতে পরেন।

প্রাক্তন সম্পর্কে কোন প্রকার মন্ত্যব্যে করবেন না- অনেকেই বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে বা আবেগপ্রবণ কথা লিখতে থাকেন। তারা ভাবেন, এতে ওই ব্যক্তিটি হয়ত ফিরে আসবে অথবা অপদস্ত হচ্ছে। এই কাজটি ভুল। এতে আপনার দুর্বল ব্যক্তিত্বের প্রমান পায়। এটি একেবারেই করবেন না। খুব কষ্ট লাগলে ডায়েরিতে নিজের মনে যা আছে তা লিখুন এতে আপনি কিছুটা হলেও হালকা হবেন।

হয়তো ফিরে আসবে- প্রাক্তন ফিরে আসবে। কোন এক সময় হয়ত ফিরে পাবেন এরকম চিন্তা বা অযথা অপেক্ষা করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। পুনরায় সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখুন। ভিক্ষার মত ভালোবাসা ফেরত চাইবেন না। এতে আপনিই ছোট হচ্ছেন তাই কষ্ট হলেও নিজেকে অন্তত ছোট করবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন। আপনার ভালো লাগা কাজগুলো করুন যেমন- শপিং করা, কারও বাসায় ঘুরতে যাওয়া, মুভি দেখা, পরিবারের সাথে সময় কাটান, বাচ্চাদের সাথে সময় কাটান ইত্যাদি।

যোগাযোগ বন্ধ করুন- ‘বন্ধু’ হয়ে থাকব, এই চিন্তা করবেন না। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হতে পারে, কিন্তু প্রেম থেকে নেমে বন্ধুত্বে আসা সম্ভব নয়। তাই যথাসাধ্য অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখুন। মুঠোফোন, ফেসবুক, ই-মেইল, হোয়াটস অ্যাপসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিন। হয়তো তীব্র ইচ্ছে হবে যোগাযোগ করার, সে বিষয়ে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। একাকীত্ব পূরণের জন্য পরিবারের সাথে সময় কাটান, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের শরণাপন্ন হোন।

নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন- বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিন যেমন – খেলাধুলা, বিতর্ক, পাবলিক স্পিকিং, লেখালেখি, স্টোরি টেইলিং, ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিন, জাম্পিং, ছবি বা ক্যনভাস আঁকতে পারেন, সাইক্লিং, সুইমিং, সামাজিক কাজগুলতে অংশ নিতে পারেন, বই পরতে পারেন, রান্না শিখতে পারেন, ব্যবসায় অথবা চাকরিতে নিজে কে ব্যস্ত রাখতে পারেন। বাগান করতে পারেন, পছন্দের পোষা প্রাণী পালতে পারেন। গান শুনুন- তবে প্রাক্তন কে মনে করিয়ে দিতে পারে এমন গান নয় মন প্রফুল্ল করে এমন গান শুনতে হবে। মটিভেশনাল বা কমেডি মুভি, নাটক, কন্টেন্ট ভিডিও দেখতে পারেন।

নিজের প্রতি যত্ন নিন- বিচ্ছেদের পর অনেকেই অতীতের ভাবনায় নিজের প্রতি যত্ন নিতে ভুলে যায়। এ কঠিন সময়ে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। ফলে কেউ কেউ আত্মহত্যার কথা ভেবে থাকেন অথবা শরাপন্ন হন। আবার অনেকের শরীর খারাপ বা অসুস্থ থাকে তাই অবশ্যই আপনার দেহ ও মনের আত্মার পরিচর্যা করুন । নিজের শরীর ও মনকে ভালো রাখতে জিমে অথবা বাসায় এক্সারসাইজ করুন, ইওগা করুন, কাউন্সিলিং করুন। রুপ চর্চা করুন। সকালে বা বিকালে হাঁটতে বের হন, যতদিন অতীত ভুলতে পারছেন না ততদিন কাউন্সিলিং বন্ধ করবেন না। অনেকে মাদকাসক্ত বা বাজে নেশায় চলে যায় এটা করা একেবারেই উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘুমের ওষুধ খেতে পারেন।

নিজেকে একা করে ফেলবেন না- নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে রাখবেন না কেননা একা থাকলে আপনাকে একাকীত্ব গ্রাস করবেই। এই সময় এমন কারও সঙ্গে কথা বলুন, যাকে নির্দ্বিধায় আপনি সমস্ত কথা খুলে বলতে পারবেন এবং সেও আপনার সমস্ত কথা গোপন রাখবে। এ সময়ে আপনাকে অনেকেই ইতিবাচক – নেতিবাচক কথা বলে থাকবে। অন্যের কথায় নিজেকে হীনমন্য না ভেবে নিজের ওপর আস্থা রাখুন। নিজের ভালো দিকগুলো ও সফলতাগুলো গড়ার চেষ্টা করুন। আদর্শ মানুষের সঙ্গ অবলম্বন করুন এবং আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে সময় কাটান।

জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন না- আপনি মাথায় এটা আনবেন না যে আমার তাকে ভুলে যেতেই হবে। প্রাক্তন কে ভুলে যেতে তার সাথে বাজে অভিজ্ঞতাটি মনে করুন। কাউকে ভোলার চেষ্টা করলে তাকে আরও বেশি মনে পড়ে। তাই কাউকে জোর করে ভুলতে চেষ্টা করবেন না।

অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন- অতীত নিয়ে আফসোস না করে এটা আপনার জীবনের একটা শিক্ষণীয় অধ্যায় ভাবুন। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রনে রেখে বাস্তবতা মেনে নিতে আপনি এখন শিখে গেছেন তাই আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন। সামনে কোন বাধা আসলে আপনি নিজেকে শক্ত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন এরকম আস্থা নিজের প্রতি তৈরি করুন দেখবেন আপনার সামনে এগিয়ে চলার পথ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

একক মায়েরা কেমন জীবনসঙ্গী আশা করেন!

আমাদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়।  বিচ্ছেদের কারণ গুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়।  কারণ যেটাই হোক বিচ্ছেদের কারনে একটা সংসার ভেঙ্গে যায়, এটায় বাস্তবতা।  তাই বলে জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায় না, সময়ের সাথে জীবনকে চালিয়ে নিতে হয়। আমাদের দেশে অনেক মেয়েরা বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকছে এবং একা হাতে সন্তান লালন পালন করছে। আমেরিকতে প্রায় ৪৫% শতাংশ একক মা সন্তান লালন পালন করে। এই সংখ্যা বাংলাদেশে একদম কম না।

একা জীবন কাটানো খুব সহজ না, তাই তারা নতুন করে জীবন কে সাজাতে চেষ্টা করে। নতুন জীবনে প্রবেশের সময় একক মায়েরা অনেক বিষয়কে মাথায় রাখে, সঙ্গী নির্বাচনে তারা অনেক বেশী সতর্ক থাকে।  আপনি যদি একক মা হয়ে থাকেন তবে, সঙ্গীর ভিতরে যে বিষয় গুলো লক্ষ্য করবেন, তার একটা অংশ তুলে ধরার প্রয়াস করা হলো।

আপনার সময়কে গুরুত্ব যে দেবেঃ  যেহেতু আপনি আপনার বেশীর ভাগ সময় আপনার সন্তানকে দিচ্ছেন, এ বিষয়টা বুঝে যে ব্যক্তি আপনার কাছে তার জন্য সময় আশা করবে, আসলেই সে আদর্শ সঙ্গী হবে।

সন্তানের স্থানঃ  একক মায়ের কাছে তার পৃথিবী জুড়ে তার সন্তান থাকে।  আপনার জীবনে যে নতুন মানুষটাকে আশা করছেন তার কাছে যদি আপনার সন্তানের একটা বিশেষ স্থান থাকে।  স্থানটা যদি সে ভালোবাসা দিয়ে তৈরী করে নেয়, তবে মানুষটা আপনাকে বুঝবে।

মানুষিক স্বস্থিঃ বিচ্ছেদের পর একজন মাকে তার সন্তানকে নিয়ে অনেক বাঁধা বিপত্তি পার করতে হয়। অনেক বড় সংগ্রাম করতে হয়।  সামাজিক নানা প্রতিকূল অবস্থার কারনে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়।মানুসিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ে, জীবনটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এই কঠিন সময়ে যে বিশেষ মানুষটা আপনাকে সম্পূর্ণ সস্থির স্থান করে দেবে, সেই আদর্শ জীবন সঙ্গী হবে।

প্রাক্তনের সাথে সম্পর্কঃ  সন্তানের কারনে বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তনের সাথে একটা যোগাযোগ রাখতে হয়, এই বিষয়টাকে আপনার নতুন সঙ্গী যদি খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করে তবে ব্যক্তিটি আপনার সকল সমস্যাকে সহজ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আচরণঃ  যে ব্যক্তি আপনার মন বুঝে আপনার সাথে আচরণ করবে, আপনার মন খারাপ থাকলে আপনাকে হাঁসাবে, দুঃখে আপনার পাশে থাকবে । আপনার সাথে ও আপনার সন্তানের সাথে খুব সুন্দর ব্যবহার করবে, আপনাকে আপনার সন্তানের সামনে কখনো ছোট করবেনা। আপনাকে ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মান করবে। এরকম মানুষ আদর্শ জীবন সঙ্গী।

প্রাক্তনকে নিয়ে মাথা না ঘামানোঃ  কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি অতীত ঘটনাকে নিয়ে বর্তমান সম্পর্ক নষ্ট করবেনা। যে কথায় কথায় আপনার অতীত নিয়ে নানান কথা শুনাবে, সে ব্যক্তি আপনার যোগ্য না।

দায়িত্ববোধঃ  যে আপনার সকল দায়িত্ব কে নিজের দায়িত্ব মনে করবে এমনকি আপনার সন্তানের দায়িত্বও নিতে পিছুপা হবেনা, এরকম মানুষ পাওয়াটা একটা আশীর্বাদ।

মনোযোগঃ  যে ব্যক্তির মনোযোগ শুধু আপনি হবেন না, সাথে আপনার সন্তানও থাকবে এবং জীবনে এগিয়ে যাবে আপনার সাথে, আপনাকে ছাড়া নয়।  সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে আপনাদের সম্পর্কটা কিভাবে সফল হবে তার উপর। এরকম ব্যক্তির উপর ভরসা করা যায়। জীবনে একবার ঘটে যাওয়া ঘটনা বার বার ফিরে যেন না আসে, এজন্য কোন সিদ্ধান্ত খুব তাড়াহুড়া করে নেওয়া যাবে না। সময় দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ডিভোর্সের পর: প্রস্তুত করুন নিজেকে

ডিভোর্স বা সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একটি সম্পর্কে দুই জনের মাঝে ছাড়াছাড়ি নানা কারণেই হতে পারে। হয়তো মতের মিল না হওয়া, কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার অভাব, পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য জীবনে আকর্ষণের অভাব এর মত কারণগুলোই আসলে মূখ্য।  একটি ডিভোর্স যখন হয়ে যায়, তখন নারী-পুরুষ দুইজনের জন্যই ব্যাপারটা গ্রহণ করা একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আমাদের সমাজে ডিভোর্স ব্যাপারটাকে যেমন সহজভাবে নেয়া হয় না, তেমনি ডিভোর্স এর ভুক্তভোগীদের নিয়েও শুরু হয় নানান কানাকানি। যার কারণে অনেকেই শত সমস্যার মধ্যে থাকার পরেও ডিভোর্স এর মত সিদ্ধান্ত নিতে চাননা সমাজে কীভাবে মুখ দেখাবেন সেটা চিন্তা করে।

কিন্তু সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাই যদি ডিভোর্স ছাড়া আপনার সামনে আর কোনো পথ খোলা না থাকে, তবে দেরি না করে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন। ডিভোর্সের পর সবার আগে আপনার মাঝে যে জিনিসটি থাকা প্রয়োজন, তা হল আত্মবিশ্বাস। আপনাকে এখন থেকে একা একা সবকিছু করতে হবে – এই চরম সত্যটি সবার আগে মেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। যখন নিজেকে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী আর প্রস্তুত বলে মনে হবে, তখন সমাজের মুখোমুখি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করুন।

১. সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান: ডিভোর্স এর পর সমাজের বাঁকা চোখ অনেককেই ভীত করে। কিন্তু ভয় পাবেন না। মাথা উঁচু করে দাঁড়ান, নিজের পরিবারের কাছে কারণ ব্যাখ্যা করুন। তাদের সাপোর্ট নিন। কাছের মানুষদের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করুন, কেন আপনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তা বুঝিয়ে বলুন। যদি কেউ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তীর্যক কিছু বলে সেটিকে এড়িয়ে যান। কারণ তর্ক করা ছাড়াও আপনার অনেক কিছু করার আছে।

২. খুঁজে বের করুন আপনার মতই কাউকে: ডিভোর্সের পর আপনার যেটা করা উচিত, সেটা হল বন্ধু বাড়ানো। যেহেতু একটা সম্পর্কের শেষ হয়েছে, সেখানে সেই সম্পর্কের জন্য হা হুতাশ করে জীবন নষ্ট করে দেয়ার কোন মানে নেই। এক্ষেত্রে বন্ধুদের সঙ্গ আপনাকে সাহায্য করবে। তাদেরকে সময় দিন, তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। বেড়াতে যান, আনন্দ করুন। খুব ভালো হয় যদি আপনার মত কাউকে খুঁজে পান। যদি পেয়েই যান তবে তার সাথে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন। তার অনুভূতির কথা শুনুন।


বিজ্ঞাপনঃ দাম্পত্য জীবনে যারা সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডি ডট কম এ রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ও ইজি সার্চ অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে।  চাইলেই অনলাইনে লগিন করে ছবি সহ প্রোফাইল দেখে সরাসরি পাত্র/পাত্রী অথবা অভিভাবকের সাথে নিজেরাই যোগাযোগ করতে পারেন –  
আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন  অথবা বিস্তারিত জানতেঃ ০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


৩. নিজেকে সময় দিন: আগেই বলা হয়েছে, ডিভোর্সের পর নিজেকে সময় দেয়া অত্যন্ত জরুরী। নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য, জীবনকে এখন থেকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেবে সেটার পরিকল্পনা করুন। আপনার জীবন, আপনার ক্যারিয়ারের মূল্য নিয়ে ভাবুন। ক্যারিয়ার যত ছোটই হোক তার অবশ্যই একটা মূল্য আছে। নিজেকে সময় দিন, নিজেকে নিয়ে ভাবুন। আপনার মূল্য কতটুকু সেটা নিজেকে বোঝান। অন্য কারো উপর যে আপনি নির্ভরশীল নন সেরকম মানসিকতা গড়ে তুলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, “আপনি একা, কিন্তু একাকী নন” – এই বিশ্বাস নিজের মাঝে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করুন।

৪. পরিবারকে সময় দিন: আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার ছাড়াছাড়ির পর সবার আগে যেই ব্যাপারটি আপনার প্রয়োজন সেটা হচ্ছে পরিবারের সাপোর্ট। তাদের সাথে সময় কাটান। আপনার বাবা মা থাকলে তাদের সাথে গল্প করুন। যদি আপনার আর আপনার সঙ্গীর দাম্পত্য জীবনে সন্তান এসে থাকে তবে সন্তানকে সময় দিন। আপনার পাশাপাশি তাকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। তাদেরকে অপরজনের অভাব বুঝতে দেবেন না।

৫. পছন্দের কাজ করে সময় কাটান: যখন আপনি একা জীবন যাপন করা শুরু করবেন, তখন দেখবেন আপনার অফুরন্ত অবসর সময়। অলস সময়ে অপরাধবোধের মত ক্ষতিকর ব্যাপারগুলো যাতে আপনাকে ঘিরে ধরতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিন। বই পড়ুন, গান শুনুন। দুঃখের গান শোনা পরিহার করুন, আনন্দের সুরগুলো বেছে নিন। কোন শখ থাকলে সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারেন।

৬. নিজেকে দোষ দেবেন না: আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডিভোর্সের পর ভুক্তভোগীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। হয় ডিভোর্সের পেছনে কারণ হিসেবে দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে নেন, নয়তো অপরজনের ঘাড়ে তুলে দিয়ে নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে থাকেন। দুটোই কিন্তু আপনার জন্য ক্ষতিকর। যদি আপনার সঙ্গীর সমস্যার কারণে আপনি ডিভোর্স নিতে বাধ্য হয়ে থাকেন তবে সেটা কখনোই আপনার দোষ নয়! আর যদি আপনার কারণে আপনার সঙ্গী আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে থাকেন তাহলে অনুতপ্ত হোন। আশা শেষ হয়ে যায় নি, অপরাধবোধে না ভুগে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। দরকার হলে মেন্টাল কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করুন। আপনি চাইলে আপনার সঙ্গীর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। ডিভোর্সের পর ক্ষমা হয়তো আপনার সঙ্গীকে ফিরিয়ে আনবে না, কিন্তু আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে।

৭. তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই: অনেকেই আছেন ডিভোর্সের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এটি উচিত নয়। যদি ডিভোর্সের পর আপনি নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে সেটা বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সময় নিন। কারণ ডিভোর্সের পর পর আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার সুন্দর অতীতগুলো আপনাকে পীড়া দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটা খুবই সাধারণ বিষয়। নিজেকে প্রস্তুত করুন, পীড়াদায়ক অনুভূতিগুলোকে আস্তে আস্তে চলে যেতে দিন। কারণ তাড়াহুড়ো করে সম্পর্কে জড়াতে গেলে আপনি অস্বস্তিকর অনুভূতিতে পড়তে পারেন। যদি সেটা বাড়ে, তাহলে আবারও ছাড়াছাড়ির ভয় আপনাকে ঘিরে ধরবে। সেক্ষেত্রে নতুন সম্পর্কেও আপনি ভালো থাকতে পারবেন না। তাই এইসব ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো।

৮. আত্মবিশ্বাসী হোন, ভালো থাকুন:  জীবনের মাঝামাঝি সময়ে ডিভোর্সের পর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাসী থাকা। এই ব্যাপার থেকে নিজেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন এই বিশ্বাস থাকলে যে কোনো সমস্যা থেকেই উত্তরণের পথ আপনি খুঁজে পাবেন। অতীতে যা যা করেছেন সেগুলো নেয়ে চিন্তা করুন, কী কী ভুল করেছেন সেগুলো বের করুন। সেগুলো যাতে ভবিষ্যতে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর পর এই ভুলগুলো যাতে আর না হয় সেইদিকে লক্ষ্য রাখুন।

৯. সম্পর্কে জড়ান সবকিছু জানিয়ে:  যখন আপনি নিজেকে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে মনে করবেন তখনই সম্পর্কে জড়াতে পারেন। তবে সম্পর্কে যাওয়ার আগে আপনার নতুন সঙ্গীকে সবকিছু জানান। তার কাছে ব্যাখ্যা করুন, কেন আগের ডিভোর্সটি হয়েছে। যদি আপনার দোষ থেকে থাকে তাহলে সেগুলোও তাকে বলুন, এবং আশ্বাস দিন যে ভবিষ্যতে এমন কিছু হবে না। জোর করে কিছু করতে যাবেন না, তাহলে হয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।

সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি মানুষের জীবনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। যদি ছাড়াছাড়ি হয়েই যায়, ভেঙ্গে পড়বেন না। ভুল থেকে শিক্ষা নিন, সাহসী হোন। মানসিকভাবে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য প্রস্তুত হলে সেটা করুন। জীবন খুবই ছোট। আপনি হয়তো কষ্ট পেতে পারেন। কিন্তু তার জন্য পুরো জীবন ভাসিয়ে দেয়ার মানে নেই। বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন, ক্ষতিগুলো পূরণ করুন। সুখী থাকুন।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানে জীবন শেষ নয়

ভালোবাসায় ভরা ছোট্ট একটা ঘরের স্বপ্ন কে না দেখে। কেউ হয়তো তার সঙ্গীর হাতে হাত রেখে সারা জীবন একসাথে চলার স্বপ্ন দেখে।কিন্তু সেই ভালোবাসার মানুষটি কিছুক্ষণের জন্য দূরে গেলে আমাদের পৃথিবীতে নেমে আসে অন্ধকার, সেখানে যদি ভালোবাসার মানুষটি সম্পর্কচ্ছেদ করে চলে যান তাহলে মানসিকভাবে ভেঙে পরাটা খুব স্বাভাবিক।ভালোবাসার মানুষটির সাথে বিচ্ছেদ যেনো জীবনটাকে থমকে দেয়।

কিন্তু ভেঙে পড়ে সারাজীবন তো আর থাকা যায় না।তাই আমাদের নিজেদেরকেই সামলে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে সামনে। নতুন ভাবে উঠে দাঁড়াতে হবে, ভুলে যেতে হবে পুরোনো ফেলে আসা স্মৃতি।এক্ষেত্রে প্রেম ও দাম্পত্য সম্পর্কে ভেঙে গেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যা করবেন-

নিজেকে দোষারোপ করবেন না: একটা সম্পর্ক অনেকগুলো কারণেই ভেঙে যেতে পারে। অনেকদিনের সম্পর্ক অনেক গুরুতর কারণে অথবা অনেক ছোট কারণেও ভেঙে যেতে পারে। হতে পারে সেক্ষেত্রে দুই পক্ষের বোঝাপড়ার সমস্যা ছিল, অথবা যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। কিন্তু কখনো ভুলেও নিজেকে সম্পর্ক ভাঙার জন্যে মনে মনে দোষারোপ করবেন না।

নিজেকে সময় দিন: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাধারণত আমরা যে জিনিসটি করি, তা হলো খুব বেশি অস্থির হয়ে পড়ি, একটি সম্পর্ক ভাঙার হতাশা থেকে বের হতে না হতেই আরেকটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। একটি ভাঙা সম্পর্ক থেকে কিন্তু আমরা শিখতে পারি পরবর্তীতে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী করণীয় বা কী বর্জনীয় হবে। তাই বিচ্ছেদের পর নিজেকে সময় দিন, নিজেকে আরও একটু ভালোবাসতে চেষ্টা করুন।  হুটহাট করে নতুন আরেকটি সম্পর্কে নিজেকে জড়িয়ে অবস্থা আরও জটিল করে তুলবেন না।

নিজের যত্ন নিন:  খেতে ইচ্ছে করবে না, ঘুম হবে না- এগুলো এ সময় খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই হতাশা থেকে বের হয়ে আসতে গেলে আপনাকে নিজের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হয়ে উঠতে হবে। পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান, তাজা ফলমূল খান। ঘুমাতে চেষ্টা করুন আর অবশ্যই ব্যায়াম করুন। শরীর চনমনে থাকলে মন ভালো হতে সময় লাগবে না।

একা থাকবেন না: এই সময়টাতে আপনি যত বেশি একা থাকবেন, আপনার জন্যে সময়গুলো ততবেশি কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে। তাই এই সময়গুলোতে একা না থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হোন। বন্ধুদেরকে না পেলে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সময় বের করে বেরিয়ে পড়ুন।

ভ্রমণ করুন, নতুন বন্ধু তৈরি করুন:  মনের ভার কমাতে এবং মাথা একদম পরিষ্কার করে ফেলতে ভ্রমণ সবসময়ই অনেক বেশি উপকারী। বন্ধুদের সঙ্গে শুধু কাছে-কূলে নয়, প্ল্যানিং করে নতুন কোনো জায়গায় ভ্রমণ করতে বেড়িয়ে পড়ুন। নতুন পরিবেশ, নতুন স্থান, নতুন মানুষ- আপনার মনের পুরাতন স্মৃতিগুলোকে হালকা করে দিতে সাহায্য করবে অনেকটাই।

নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনেক সময় বেঁচে থাকাও অর্থহীন মনে হতে থাকে। অনেকে আত্মহত্যার মতো আত্মবিধ্বংসী চিন্তা পর্যন্ত করতে শুরু করি। আপনাকে এই নেতিবাচক চিন্তার পুরোপুরি বিপরীতে যেতে হবে, প্রমাণ করতে হবে আপনি এতোটা দুর্বল, এতোটা ঠুনকো নন।

ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষদের সাথে সময় কাটান: একটা সম্পর্ক ভেঙে গেলে একজন মানুষ মানসিকভাবে নিতান্তই ভেঙে পড়েন, এখন এই অবস্থার মধ্যে যদি আশেপাশের মানুষগুলো প্রতিনিয়ত চোখে আঙুল দিয়ে সবটা বার বার সামনে নিয়ে আসে অথবা কটু কথা বলতে থাকে, তাহলে ভাঙা মন আবার জোড়া লাগা সত্যিই অসম্ভব। চারপাশে ইতিবাচক ও সহায়ক মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ থাকলে আপনি খুব দ্রুতই আবার নিজের উপর আস্থা ফিরে পাবেন।

অতীত কে অতীতেই থাকতে দিন:  যদি সত্যিই চেয়ে থাকেন অতীতের গ্লানি থেকে বের হয়ে আসবেন, তাহলে বারবার সেই অতীতেই ফিরে যাবেন না। শুধু চেষ্টা করুন অতীতের ভাঙা সম্পর্কটিকে একটি শিক্ষা হিসেবে নিতে, পাথেয় হিসেবে নয়।

দায়িত্ব নিতে শিখুন: যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে, এবার নিজেকে বা ভালোবাসার মানুষটিকে দোষারোপ করে হা-হুতাশে জীবন অতিবাহিত না করে পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষগুলোর ভালো থাকার জন্য ছোটখাটো দায়িত্ব নিন। যখন দেখবেন সামান্য কিছুতেই আপনি কারো মুখে হাসি ফোটাতে পারছেন তখন আর সব অপ্রাপ্তি এবং কষ্টগুলো ম্লান হতে থাকবে।

যা করতে ভালো লাগে তা-ই করুন: ভাঙা মন নিয়ে কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করা অনেক কঠিন। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙার হতাশা থেকে বের হয়ে এসে জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে এসব কিছুর উপর আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে হবে। আপনার যা মন চায়, যেভাবে আপনি নিজেকে আবার প্রাণোচ্ছল করে তুলতে সক্ষম বলে মনে হয়; সেটাই করুন। সহজ কথায়, নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, দেখবেন হতাশা কাটতে শুরু করছে।

একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানে জীবনের শেষ নয়, বরং নতুন করে আবার সবকিছু শুরু হওয়া। কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে আবার প্রস্তুত করুন, সমস্ত খারাপ চিন্তা-ভাবনার বিপরীতে গিয়ে নিজেকে প্রমাণ করুন। আপনার মধ্যে কী কী গুণ রয়েছে সেগুলোকে কাজে লাগান। কমপক্ষে এই সময় নিজের মনের কথাগুলো শুনুন, যদি মনে হয় ভেঙে যাওয়া সম্পর্কে আপনারও কিছু ভুল ছিল, তাহলে সেটা শুধরে নিতে চেষ্টা করুন। তবে ভুলেও সারাজীবনের জন্য নিজেকে অপরাধী করে রাখবেন না নিজের কাছে। এই মানুষই ভুল করে, আবার মানুষই নিজেকে শুধরে নেয়।  সংকলিত,সূত্র :নতুন সময়, রোয়ার মিডিয়া, দৈনিক আমাদের সময়

এই সম্পর্ক আমাদের জন্য ভালো হবে না

সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের। বন্ধু, পরিবার সবাই জানে আপনাদের প্রেমের কথা। ধীরে ধীরে টের পাচ্ছেন সম্পর্কটার ছন্দ আগের মতো নেই। কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। আলোচনার মাধ্যমেই হয়তো সিদ্ধান্ত নিলেন এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার…

প্রেমে পড়তে নিষেধ নেই। ভালোবাসা কোনো কিছু মানে না। মানমর্যাদা, সামাজিকতার বিধিনিষেধ পেরিয়ে প্রেমের জয়জয়কার। জয়ধ্বনি তুলতে তুলতে হঠাৎ যদি প্রেমের ফোলানো বেলুনটি আলপিনের খোঁচায় চুপসে যায়, তখন কী হবে! প্রেমের এত সুর আর এত গান যদি ভালো না লাগে তখন কী করা? ভালো লাগা মানে হচ্ছে, রাস্তা থেকে পছন্দ হলে সেই ফুলটি ছিঁড়ে নেওয়া! শুকিয়ে গেলে বা গন্ধ চলে গেলে তা ছুড়ে ফেলা! আর ভালোবাসা হচ্ছে ফুলগাছটির পরিচর্যা করা। প্রেম থাকবে সারা জীবন। তাই এর সঠিক পরিচর্যা করা প্রয়োজন জীবনভর। একে টিকিয়ে রাখতে চাইলে চাই উভয় পক্ষের সমঝোতা। যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, কেউ তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অস্থিরতা, লোভ, লাভক্ষতির হিসাবনিকাশ করলে প্রেম থাকে না।

অনার কিলিং প্রথা আমাদের দেশে চালু নয়। কিন্তু সে রকম পারিবারিক, সামাজিক টানাপোড়েন কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। ঝাঁজ ও ঝকমারিও বেশ রয়েছে।

একজন ১৮-১৯ বছর বয়সী মেয়ে এল। সঙ্গে তার মা। মেয়েটি রাগে মরে যেতে চাইছে। কারণ, ওর সহপাঠীর সঙ্গে এক বছর ধরে সম্পর্ক চলছিল। এটা জানার পর থেকে ছেলেটির মা ওকে ফোনে বিভিন্নভাবে তাঁর ছেলে থেকে দূরে থাকতে বলছিলেন। মেয়েটি যত দূর পারে এড়িয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়েটি ভদ্রমহিলাকে জানায়, তার মাদকাসক্ত ছেলেটিই পিছু ছাড়ছে না। তখন ছেলেটির মা তাকে যা নয় তা বলে। টিনএজ মেয়েটি গালাগাল ও নোংরা কথার উত্তর দিতে পারেনি। এখন সে অপমানের জ্বালা সইতে পারছে না।

আগে ভাবলে পরে পস্তাতে হবে না
* প্রেমে যে পড়েছেন তার গন্তব্য কী? ‘টাইম পাস’ না সারা জীবনের জন্য গাঁটছড়া বাঁধার ইচ্ছা।
* যে সময় দুজন একসঙ্গে কাটালেন, এই সময়ে দুজনার মতের মিল-অমিল কতখানি মেপে নিন।
* একজনের পছন্দ-অপছন্দ অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কতখানি। বুঝে নিন।
* প্রেমে পড়লেই তো চলে না। এর পেছনে খরচও আছে। খরচ চালানো বড় একটা ব্যাপার বটে। মেয়েটি ভাবে, ছেলেটি সব সময় কিছু না কিছু খাওয়াবে, যাতায়াতের খরচ বহন করবে। কিন্তু ছেলেটি যদি ছাত্র হয়, তবে তাকে মা-বাবার পকেট কেটেই চলতে হয়।
* আবার এমনও দেখা গেছে, মেয়েটি ছেলেটির টিউশন ফি থেকে শুরু করে বাদাম খাওয়ার খরচ পর্যন্ত দিচ্ছে। আর জন্মদিন, ভালোবাসা দিবস, বন্ধু দিবস, প্রথম দেখার দিন—কত কিছুই না তালিকায় আছে। প্রেমে শত ঝকমারি। খরচের ক্ষেত্রে কার হাতখোলা, কে কৃপণ, কে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে; কে কতখানি বন্ধুবৎসল বুঝতে হবে।
* সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরস্পরের পরিবারের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
* পেশাজীবন নিয়ে কে কী ভাবছেন, তা দুজনের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।
* প্রেমের মধুর দিনগুলোয় সজাগ থাকাই ভালো। গড্ডলিকায় ভেসে যাওয়া চলবে না।
* আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবতাকে মেনে নিতে মানসিক প্রস্তুতি যেন থাকে।
* ভুলেও ফাঁদে পড়া চলবে না। সুখের মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করুন। কিন্তু একান্ত মুহূর্তগুলো দাম্পত্য জীবনের জন্য রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
* সেলফি নিষেধ নয়। সুন্দর প্রেমের মুহূর্ত স্মৃতিছবির ফ্রেমে থাকুক—সেটা সবার কাম্য। কিন্তু সেই ফ্রেমে আপত্তিকর যেকোনো সম্পর্ক একদম এড়িয়ে চলা উচিত।
* ক্ষণিকের আবেগের জোয়ারে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের নানা ছবি সৃষ্টি হয়ে যায়। কিন্তু ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কা মনে রাখতেই হবে।
* ভিডিও বা ফটো ব্ল্যাকমেলিং এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সাবধানতা কাম্য। কোনোভাবেই নিরাপদ ও সহজ স্বাভাবিক প্রেম-বন্ধুতার বেশি চাওয়া পাওয়ায় জড়ানো ঠিক নয়।
* ডেটিংয়ের নামে অচেনা কোনো জায়গা, হোটেল, বন্ধুর বাসা নিরাপদ নয়।
* জীবন থেকে পলায়ন প্রেম নয়; প্রেমে পড়ে দূরে কোথাও কোনো হারিয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
* প্রেমে পড়াকে দুর্ঘটনা ভাবলে চলবে না। ভুল প্রেম থেকে ফিরে আসার সাবধানতা থাকতে হবে। আপসে মুক্তির বা বিচ্ছেদের পথ যেন খোলা থাকে।
* প্রেমের আবেগে পরিবারকে ভুললে চলবে না; বরং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক, পারিবারিক মোড়কে সমাধানের উদ্যোগ থাকলে সেটা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
* সারা জীবনের জন্য দুর্গতি ও কান্না কি না—প্রেমের পর্বে মনে রাখা চাই।
* প্রেম ছেলেখেলা বা টাইম পাস নয়। প্রেম হলো একটি সম্ভাবনাময় সুখের সংসারের ভিত্তি।

কীভাবে সরে আসবেন
মনোরোগবিদেরা এমন সমস্যার কাউন্সেলিংয়ে যে বিষয়ে গুরুত্ব দেন, তা হলো হুট করে রাগারাগির বশে; মাথা গরম করে সম্পর্ক ভাঙতে নেই। সেটা প্রচুর পার্শ্ব সমস্যার সৃষ্টি করে।
* দুয়ে দুয়ে চার না হলে মুশকিল। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। অযথা ঝগড়া করে লোক হাসিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই।
* সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো অনুভব করছেন, তা মনের মধ্যে পুষে রেখে বা চাপা দিয়ে কোনো লাভ নেই। এতে দুজনার সুসম্পর্কের মুহূর্তগুলো হারিয়ে যাবে। তিক্ততার সম্পর্ক বাসা বাঁধবে। সময় থাকতে নিজেদের নাখোশ মনোভাব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করুন।
* দোষারোপের ভঙ্গিতে নয়। শান্ত ভঙ্গিতে আলাপচারিতাই কাম্য। কেন সরে আসা—তার ব্যাখ্যা ও যুক্তি মাথায় সাজিয়ে সমঝোতামূলক বিচ্ছেদ উত্তম।
* বলতে না পারলে কষ্ট হলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের মাধ্যম যেমন ফোন, ফেসবুক থেকে নিজেদের সরিয়ে নিন।
* সরে আসার পর্বে বিশ্বস্ত বন্ধুবান্ধব; সহানুভূতিশীল নিকটাত্মীয়দের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যেতে পারে। সেটা নানা অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও বিপদকে প্রশমন করবে।
* কার কী ভুল, তা নিয়ে উত্তেজনা, উগ্রতা ও রাগ পরিহার করে আত্মোপলব্ধি ও আত্মমূল্যায়নের সঠিকতা নির্ণয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
* কোনো ধরনের অপরাধমূলক প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের আশঙ্কা থাকলে সেটা নিয়ে অতি গোপনীয়তার চেয়ে আইনি সুরক্ষা চিন্তা করা যেতে পারে।
আগে-পিছে দেখে চল, কাঁটা ফুটবে পায়ে; চোরকাঁটা হলে পরে তারে তোলা যায়; কিন্তু প্রেমের কাঁটা দুধারী তলোয়ার—কেবল প্রেমকেই বিষায় না, জীবনকেও বিষিয়ে তুলতে পারে। তাই আগাম সাবধানতাই সর্বাত্মক কাম্য।
তারপরও প্রেম কি বাধ মানে?
আড়ালে-আবডালে প্রেম নিয়ে চলে অভিভাবকদের নানা সমীকরণ। ছেলে-মেয়ে একে অপরকে শর্তহীন পছন্দ করলেও উভয় পক্ষের গুরুজন পরস্পরের বিত্তবৈভবের দিকে নজর রাখেন। ছেলের বাড়ির তরফ থেকে উচ্চশিক্ষিত মেয়ে খুব কাম্য নয়।
নরম-শরম গোবেচারা কি না, সেটা বড় কাঙ্ক্ষিত। গাত্রবর্ণ নিয়েও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। মেয়ের বাবা-মায়ের তরফে প্রতিষ্ঠিত ছেলে; একনামে চেনে এমন পরিবারই পছন্দ। যখন এই চাওয়াপাওয়াগুলো গোলমেলে হয়, তখনই সামাজিক, পারিবারিক আপত্তির বাজনা বেশি বাজা শুরু হয়।
এত সমস্যা জানার পরেও প্রেমে পড়তে বা করতে মনে মনে সবাই আগ্রহী। প্রেমের রসায়ন প্রথম যৌবনের ঘূর্ণিঝড়। এর ঝাপটা কমবেশি সব প্রাণকেই করে আলোড়িত ও শিহরিত। দিল্লিকা লাড্ডুর মতো।
স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রেম। মেয়েটি অপেক্ষাকৃত ভালো ছাত্রী। প্রেম বলে কথা। দখল দেখভাল কম নয়। ছেলেটি ক্রমেই মেয়ের চলাফেরা, কার সঙ্গে কথা বলবে কি বলবে না তাতে বাধা দেওয়া শুরু করে। ক্যাম্পাসে সবাই মিলে ছেলেমেয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, তা মানতে নারাজ প্রেমিকটি। যখন-তখন রাতে ওর মোবাইল ফোনে মিসড কল বা কল দিয়ে চেক করে, মেয়েটির ফোন ব্যস্ত কি না। ব্যস্ত থাকলে ওর বন্ধুদের সামনে বকাঝকা শুরু করে। মেয়েটির বান্ধবীরা ওকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলেছিল। তারপরও অন্যায় আচরণগুলো সে মেনে নিয়েছিল। একদিন সবার সামনে ওকে ছেলেটি কথায় কথায় চড় মেরে বসে। পুষে রাখা দীর্ঘদিনের রাগ চাপতে না পেরে মেয়েটিও সজোরে চড় মেরে দেয়। শোধবোধ। পেছনে না তাকিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসে সে। তারপর লেখাপড়ায় বেশ বিরতি। ছেলেটি ভয়ভীতি দেখায়—ভয়ংকর কোনো কাণ্ড করবে। হেনস্তা, অপমান করবে বন্ধুদের নিয়ে। উড়োচিঠি দেয়। অন্তরঙ্গ কিছু ছবি, ভিডিও ক্লিপস ফাঁস করার ব্ল্যাকমেলিং করতে শুরু করে।
এমন গল্প আমাদের যাপিত জীবনে কমবেশি চারপাশে সব জায়গায় ঘটছে। মহানগর থেকে মফস্বলের ছোট শহরে।

লিখেছেনঃ সুলতানা আলগিন, সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


প্রথম প্রকাশঃ দৈনিক প্রথম আলো
তারিখঃ আগস্ট ২৪, ২০১৬

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ৯ আলামত

কে না চায় সুখী দাম্পত্য! কিন্তু সবার জীবনে কি আর সেই সুখ মেলে! তুচ্ছ থেকে শুরু করে গুরুতর নানা বিষয় নিয়ে বিষিয়ে ওঠে অনেক দম্পতির জীবন। খুবই অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক নানা ঘটনা ঘটতে থাকে, যার ফলাফল নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদ। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে সাধারণত যে ধরনের আলামত দেখা দেয়, সম্প্রতি তা প্রকাশ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে। নয়টি আলামতের কথা রয়েছে সেখানে।

অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। কথার আঘাতে একে অন্যকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। স্ত্রী তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের একদমই সহ্য করতে পারেন না। ঠিক একই আচরণ লক্ষ করা যায় স্বামীর মধ্যেও।

তুচ্ছ কারণে ঝগড়া
ঝগড়া করার জন্য তুচ্ছ নানা কারণ খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সামান্য কোনো অভিযোগ পেলেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে উদ্যত হন তাঁরা। একটা পর্যায়ে তাঁরা একে অন্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। স্বামী কিংবা স্ত্রী ঘর থেকে বের হলে একদমই ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে না তাঁদের। এসব সমস্যার কোনো সমাধানও তাঁরা দেখতে পান না।

মতের অমিল

স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল প্রকট আকার ধারণ করে। যৌথভাবে কোনো সিদ্ধান্তই তাঁরা নিতে পারেন না। দুজনই যাঁর যাঁর অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজের মতামত ঠিক কি না, তা ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো যুক্তির আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা অনুভব করেন না। মূলত ইগো সমস্যার কারণেই এমনটা হয়। একপক্ষ মনে করতে থাকে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করছে অপর পক্ষ। একে অন্যকে স্বার্থপর বলেও ভাবতে শুরু করেন তাঁরা।

গোপন ঈর্ষা

মনের অজান্তেই চুপিসারে ঈর্ষা নামের বিষবাষ্প ঢুকে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে। সঙ্গীর ওপর থেকে আস্থা পুরোপুরি উঠে যায়। একটা পর্যায়ে একে অন্যকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেন তাঁরা।

আত্মকেন্দ্রিকতা

স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ স্বার্থের বাইরে আর কিছুই ভাবতে পারেন না। নিজেকে উপেক্ষিত ও অনাহূত বলে মনে করতে থাকেন তাঁরা। সংসারকে আর নিজের বলে মনে হয় না। একটা সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘আমাদের’ বলে আর কিছু থাকে না। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠেন দুজনই। এটা খুবই ভয়ংকর একটি বিষয়।

প্রতারণা

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী কিংবা স্ত্রীর কেউ একজন প্রতারণার আশ্রয় নেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তাঁদের কেউ কেউ।  নিশ্চিতভাবেই এটা বিয়ে এবং পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু

স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা উবে যায়। আর যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হলেও সেখানে কোনো রকম আবেগ কাজ করে না। যৌনতাকে পুরোপুরি যান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া বলে মনে হয় তাঁদের কাছে। অথচ দাম্পত্য জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টা

সমস্যা সমাধানের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন না স্বামী কিংবা স্ত্রী। তাঁরা হাল ছেড়ে দেন। একে অন্যের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ান তাঁরা। একটা পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরং সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টায় মেতে ওঠেন তাঁরা। পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত কবে হবে, সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনতে থাকেন। সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার ইচ্ছে থেকেই তাঁরা এমনটা করেন।

যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া 

পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন স্বামী ও স্ত্রী। যে দাম্পত্যে একটা সময়ে কথার ফুলঝুরি ঝরত, সেখানে ভর করে আশ্চর্য এক নীরবতা। তাঁরা কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং একে অন্যের ছায়াও মাড়ান না। কোনো দম্পতির মধ্যে এমন আলামত দেখা যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ফেরার আর কোনো পথ নেই। নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তাঁরা।

সুত্রঃ প্রথম আলো

নৈতিক স্খলনে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ

মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামালের মতে, নৈতিক স্খলনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। তাঁর মতে, প্রবাসীদের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে বাড়ছে মূলত সন্দেহ-অবিশ্বাস থেকে। বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনির পর স্ত্রীর সঙ্গ পান না তাঁরা। এমনকি তাঁদের জীবনে অন্য কোনো বিনোদনও নেই। দেশে স্ত্রী কী করছে এই চিন্তায় অস্থির থাকেন তাঁরা। তার ওপর দেশ থেকে অনেক সময় বাবা-মা বা ভাইয়েরা তাঁর স্ত্রীর আচরণ সম্পর্কে নানা অভিযোগ করেন। এগুলো তাঁর মনকে বিষিয়ে দেয়।

স্ত্রীকে ফোন করে তাঁরা তখন কটুকাটব্য করতে থাকেন। এতে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ে। তবে এ কথাও ঠিক, দীর্ঘকাল স্বামীর অনুপস্থিতিতে অনেকে বিবাহ- বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এটা একটা জৈবিক কারণ। স্বামীর অনুপস্থিতিতে এই জৈবতাড়নাই তাঁকে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে প্ররোচিত করে। পোশাক-কর্মীদের মতো যাঁরা নিম্নআয়ের মহিলা, অনেক দরিদ্র পুরুষই তাঁদের বিয়ে করেন অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য। অনেক সময় স্ত্রীর টাকায় নেশা করেন অনেকে, কেউ বা গোপনে অন্য নারীতে আসক্ত হয়ে পড়েন। এই মেয়েরা এখন অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী। তাঁরা এ অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেন না। তাই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানোর মতো সিদ্ধান্ত নেন।

উচ্চবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী ব্যবসা বা বড় চাকরি করেন। নিয়মিত মদ্য পান করাকে সোশ্যাল স্ট্যাটাসের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেন। এ ছাড়া এ শ্রেণীর মেয়েদের মধ্যেও নানা হতাশা থেকে বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনের অনেক নজির আছে। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে চিড় ধরে, যার অনিবার্য ফল বিবাহবিচ্ছেদ।
মাদকাসক্তি ও যৌতুকের মতো সামাজিক ক্ষত সারানো গেলে বিবাহবিচ্ছেদ অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেন মোহিত কামাল। তাঁর মতে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো নিদান নেই।

মোহিত কামাল, মনোরোগ চিকিৎসক
সুত্রঃ প্রথম আলো 

আবার বিয়ে, বাচ্চা নিয়ে চিন্তা!

একা একা জীবন পার করা যায়। তবে একজন সঙ্গী থাকলে ক্লান্তি ভর করে না। তাই পুনরায় কোনো সম্পর্ক শুরু করার আগে চাই সন্তানের পূর্ণ সমর্থন।

বেশ কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মাহফুজ। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার সময় তাদের ছেলেটির বয়স ছিল ৪ বছর। পারিবারিক চাপে আবার বিয়েতে সম্মতি দেন। যিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে আসেন তারও ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে একটি মেয়ে আছে তার।

বাবার বিয়ের কথা অন্যদের মুখে শুনে মাহফুজের ছেলেটি তার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। তিনিও নিজের বিয়ের কথা সন্তানকে সরাসরি বলতে পারেননি।

মাহফুজ বলেন, “ভেবেছিলাম, ও তো ছোট, তেমন কোনো সমস্যা হবে না। সে সময় সবাই এমনটাই বলেছিল। তবে ছেলেটি কেমন চুপচাপ হয়ে গেল। আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বোঝাপড়া ভালো হল না তার। স্ত্রীও তার মেয়েটিকেই বেশি যত্ন করত। বড় হওয়ার পর ছেলেটি আমাকে ছেড়ে চলে যায়। ওকে আসলে বুঝতে পারিনি আমি। ওর অভিমান বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।”

বিচ্ছেদ কিংবা মৃত্যু- প্রিয়জনকে হারিয়ে জীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। তবু থেমে থাকে না জীবন। চলে যায় অমোঘ নিয়মে। এ চলার পথেই হয়তো নতুন সঙ্গীর প্রয়োজন পড়ে। অনেকেই এ সময় সন্তানের কথা ভেবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন— সন্তান নাকি নিজের জীবন কোনটা প্রাধান্য দেবেন? বাবা অথবা মায়ের নতুন সঙ্গীকে সব সময় মেনে নিতে পারে না সন্তান।

এসব পরিস্থিতি অনেকটা এড়ানো সম্ভব, যদি শুরুতেই বিষয়টি সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা যায়। এক্ষেত্রে সন্তানের সিদ্ধান্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের বলেন, “মানুষের এসব সম্পর্কের জায়গা বেশ জটিল। মনোজগতে নানান ধরনের আলোড়ন চলতে থাকে। এ সমাজে বাবার আবার বিয়ে যদিও সন্তানদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে এখনও অপ্রত্যাশিতই। একজন মানুষ একা হয়তো তার জীবন পাড়ি দিতে পারে। তবে তার চলার পথে বন্ধু বা একজন সঙ্গী থাকলে ক্লান্তি ভর করে না।”

সমাজকেও এই বিষয়ে উদার হতে হবে। এটি মনে করা অন্যায় যে সঙ্গীবিহীন অবস্থায় মানুষকে থাকতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, স্ত্রী থাকা অবস্থায় বা তাকে না জানিয়ে বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

স্ত্রীর মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানকে না জানিয়ে হুট করে সংসারে নতুন সঙ্গী নিয়ে আসেন অনেকে। যা সন্তানের মনোজগতে প্রভাব ফেলে। আকস্মিক এ আঘাত সে মেনে নিতে পারে না। পারিবারিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা যদি আগেই সন্তানের সঙ্গে পুরো বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে নেন, তাহলে পরে সমস্যায় পড়তে হবে না।

অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী বলেন, “একটা ছোট শিশুরও মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা থাকে। তাই সন্তানকে বোঝাতে হবে, এ বিষয়ে সে-ই মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাই সব। নতুন সঙ্গী নিয়ে সংসার শুরুর সময়ই সন্তানকে সব বুঝিয়ে বলুন। তাকে পরিচয় করিয়ে দিন। সন্তানের সঙ্গে নতুন মানুষের বোঝাপড়া ভালো হলে বা বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।”

প্রাচী আরও বলেন, “মা-বাবার পুনরায় বিয়ের পর সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। আগের মতো পারিবারিক আবহ বজায় রাখতে হবে। নতুন বাড়িতে উঠলে সেখানে সন্তান যেন পুরানো পরিবেশ খুঁজে পায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। হুট করেই তার আগের সব অভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলা যাবে না। শিশুর হয়তো মা-বাবার সঙ্গে ঘুমানোর অভ্যাস। তাকে যদি আলাদা ঘরে থাকতে বলা হয়, তখন সে ভাববে, নতুন মানুষের কারণে তার সব হারাতে হচ্ছে।”

সন্তানের সীমাবদ্ধতা, পছন্দ-অপছন্দ— সব আগেই নতুন সঙ্গীকে জানিয়ে দিতে হবে। যদি দুই পক্ষেরই আগের ঘরের সন্তান থাকে, তাহলে যথেষ্ট সহনশীল হওয়া উচিত। কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। বাচ্চাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হলে তাদেরই সমাধান করতে দিন। এক্ষেত্রে বিয়ের আগেই দুই পক্ষের সন্তানের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সবচেয়ে ভালো।

এই অভিনয়শিল্পী মতে, “বিয়ের দিনও কৌশলী হতে হবে। সন্তান যাতে মনে করে সেই-ই সবচেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে এবং সে একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। আসল কথা হল, সন্তান যারই হোক সে যেন বুঝতে পারে তার জীবনে নানান প্রাপ্তি যোগ হচ্ছে। বিনিময়ে কিছুই হারাতে হচ্ছে না। তাহলে পরিবারে সুখ-শান্তি থাকবে।”

সবচেয়ে বড় কথা হল, সবাইকে নিয়েই পরিবার। দ্বিতীয় বিয়ের পর স্বামী এবং স্ত্রী দুজনকেই সহনশীল হয়ে সংসার করতে হবে। আগের ঘরের সন্তান থাকলে তাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। যত কারণই হোক, সুখি হওয়ার জন্যই মানুষ পুনরায় জীবন শুরু করে। আর পরিবারের সবাইকে নিয়েই সেটা সম্ভব।

ফিচারঃ বিডি নিউজ ২৪
ছবি : অপূর্ব খন্দকার

কীভাবে বুঝবেন বিয়ে টিকছে না?

বিশ্বে গত কয়েক বছরে বিবাহবিচ্ছেদের হার আতঙ্কজনকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিয়ের পর যত দিন গড়াতে থাকে পারস্পরিক সহমর্মিতা কিংবা আকর্ষণবোধ ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে। স্বামী বা স্ত্রীর ছোটখাটো খুঁত আস্তে আস্তে বড় হয়ে দেখা দিতে থাকে। এক সময় দাম্পত্যের বন্ধনকে বোঝা মনে হয়। ভারমুক্তির জন্য তখন বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়া আর উপায় থাকে না।
আপনার যদি মনে হয় স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আগের মতো আর আপনার তাল মিলছে না, সম্পর্কে তিক্ততা বেড়েই চলেছে; তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার দাম্পত্যজীবন ঝুঁকির মধ্যে। পরিস্থিতি ডিভোর্সের মতো বেদনাদায়ক পর্যায়ে গড়াতে পারে।
এ অবস্থায় আপনার বিয়েটা শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা বুঝতে নিচের সাধারণ লক্ষণগুলো আপনাকে সাহায্য করবে:

দুটি হৃদয় এখন আর আগের মতো অভিন্ন নয়
বিয়ে মানব-মানবীর হৃদয়ে এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করে। স্বামী-স্ত্রীর দুই দেহে যেন এক প্রাণ। ভালোবাসার বন্ধন স্বামী-স্ত্রীকে দুঃখ-কষ্টে মানসিকভাবে এক করে রাখে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একজন আরেকজনের ভাগ নেয়; বিশেষ করে, সংসারে সন্তান এলে এই পারস্পরিক দায়িত্বের ভাগাভাগির মানসিকতা বেড়ে যায়। কিন্তু আপনার যদি মনে হয় আগের মতো আর আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীলতা অনুভব করছেন না, সংসারের কোনো বিষয়ে একা একাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন; এমনকি ছুটির দিনে স্বামী বা স্ত্রীকে সময় না দিয়ে একাই বাইরে থেকে বেড়িয়ে আসছেন—তাহলেই বুঝবেন সম্পর্কে বড় ধরনের চিড় ধরেছে। আপনার দাম্পত্য বন্ধন হুমকির মুখে।

প্রতারণা
বর্তমানে যত ডিভোর্সের ঘটনা ঘটছে তার বেশির ভাগেরই মূল কারণ প্রতারণা। পুরোনো একটি প্রবাদ আছে: ‘বিশ্বাস হলো আয়নার মতো। আয়না একবার ভেঙে গেলে তা আপনি জোড়া লাগাতে পারেন, তাতে মুখও দেখতে পারেন। কিন্তু ভাঙা আয়নার ভাঙা দাগ থেকেই যাবে।’ কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে কিংবা কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে একবার প্রতারণা করে বা ঠকায়, তাহলে অবিশ্বাসের দাগ প্রতারিত স্বামী বা স্ত্রীর মনে স্থায়ীভাবে গেথে যায়। প্রতারিত স্বামী বা স্ত্রী সব সময় তার সঙ্গীকে সন্দেহের চোখে দেখতে থাকে। ভবিষ্যতে আবার প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা একপর্যায়ে তাকে ডিভোর্সের ফাইলে সই করতে বাধ্য করে।

দুজনের দুই রকমের ভাবনা
বিয়ের পর সাধারণত স্বামী-স্ত্রী দুজনের ভাবনা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা অভিন্ন থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভিন্ন ভাবনা ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। ধরুন, আপনি ঠিক করলেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উন্নত বিশ্বের কোনো একটি দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাবেন। উন্নত জীবনযাপন করবেন। কিন্তু দেখা গেল আপনার স্ত্রী দেশেই ভালো কিছু করার কোনো পরিকল্পনা করে বসে আছেন। এ নিয়ে মনকষাকষি হলে বুঝবেন আপনাদের অভিন্ন ভাবনার জগিট অদৃশ্য আত্মকেন্দ্রিকতার ঘুণে নষ্ট করে ফেলেছে। বুঝবেন আপনাদের পারস্পরিক রোমাঞ্চকর ভাববিনিময়ে ঘাটতি রয়েছে। সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব না হলে বিবাহবিচ্ছেদ অবশ্যম্ভাব

পরস্পরকে বোঝার চেষ্টার অভাব
পরস্পরের মধ্যে ভাবনাবিনিময় জোরালো দাম্পত্য সম্পর্কের পূর্বশর্ত। আপনি যদি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে নিজের ভাবনা শেয়ার না করেন, তাঁর সঙ্গে সারাক্ষণ নিরস-নিরুত্তাপ কথাবার্তা বলেন; সংসারের তেল নুন ডালের আলাপ-আলোচনাতেই দিন-রাত পার করেন, তাহলে বুঝবেন সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে। একঘেয়েমি সাংসারিক আলোচনায় এক সময় হাঁপিয়ে উঠবেন, যা ডিভোর্সের মতো পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

সুস্থ যৌন সম্পর্কের ঘাটতি
বিয়ের পরপর যৌন সংসর্গে স্বামী-স্ত্রীর যে আগ্রহ থাকে, সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহে ভাটা পড়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন যথেষ্ট তারুণ্য ও শারীরিক সক্ষমতা থাকার পরও আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সংসর্গে অনীহা বোধ করছেন, তাহলে বুঝবেন সংসার ভাঙনের পথে। বাস্তবতা হলো স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক বন্ধন টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্তই হল সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক।

অর্থকড়িও কাল হতে পারে
ধরুন স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক শীতল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি আপনার উপার্জন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ঋণ ইত্যাদি নিয়ে হঠাত্ করে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন, তাহলে সেটাকে খারাপ লক্ষণ হিসেবে মনে করা যেতে পারে। ডিভোর্সের পর আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনার সম্পদের কতটুকু হিস্যা পাবেন, তা হিসাব-নিকাশ করার জন্যই এমনটা করছেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, বিয়ের সময় আর্থিক বিষয়টি ততটা বড় হয়ে সামনে না এলেও ডিভোর্সের সময় কোনো পক্ষই ছাড় দেয় না। কড়ায়-গন্ডায় নিজের হিস্যা বুঝে নেয় (অবশ্য এ ধরনের মানসিকতা পশ্চিমাদের মধ্যে প্রকট থাকলেও আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ততটা নেই)।

আগের চেয়ে ঝগড়াপ্রবণ হয়ে ওঠা
দাম্পত্যজীবনে ভুলবোঝাবুঝি ও ঝগড়া হবেই। তবে স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঝগড়া খুবই ক্ষণস্থায়ী। প্রচণ্ড ঝগড়ার পর দিনের শেষে স্বামী বা স্ত্রীর কানে ফিসফিস করে একটা ‘ম্যাজিক ওয়ার্ড’ উচ্চারণ করলেই সব রাগ এক মুহূর্তে পানি। কিন্তু যদি দেখেন আপনি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে সারাক্ষণই রূঢ় ভাষায় কথা বলছেন। দুজনই খিটমিটে আচরণ করছেন এবং তার জন্য অনুশোচনাবোধ করছেন না। এ অবস্থায় বুঝবেন সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।

সুত্রঃ প্রথম আলো