সন্তানের উপর বিচ্ছেদের প্রভাব

বিবাহবিচ্ছেদ একজোড়া নারী-পুরুষ আর সেই সাথে তাদের সন্তানদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যে কারণেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হোক না কেন, শিশু সন্তানটির উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।অত্যন্ত সচেতনতা, পারদর্শিতা আর অগাধ ভালোবাসা ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমেই শিশুর মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, হতাশা, অনিশ্চয়তা দূর করে তার সুস্থ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হয়। তা না হলে এর বিরূপ প্রভাব থেকে সারা জীবনেও হয়ত সে বের হতে পারবে না, তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমস্যা থেকে যাবে এবং পরবর্তী জীবনে অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী করবে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয় সাধারণত খুব সহজে সম্পাদিত হয় না, এর কিছু পূর্বগামী ঘটনা থাকে যেগুলো মোটেও সুখকর না। এই অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর সাক্ষী কিন্তু ছোট্ট শিশুটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহ, মানোমালিন্য, শারীরিক নির্যাতন, কান্নাকাটির মতো অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুটিকে যেতে হয়।বাড়ির ছোট শিশু এসব দেখে বাড়ির আবহ বুঝতে পারে। সরাসরি মা-বাবার কলহ না দেখেও মা-বাবার চেহারা, প্রকাশভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি দেখে তাদের রাগ, ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট বুঝতে পারে। আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে, বাচ্চারা কিছু বোঝে না। প্রকৃতপক্ষে শিশুরা সবই বোঝে আর তারা তাদের নিজেদের মতো করে বিষয়টি বুঝে নেয়। অনেক স্বামী স্ত্রী সন্তানদের সামনেই পরস্পরের প্রতি কটূক্তি, গালাগালি, হাতাহাতি করে থাকে কিংবা শিশুটিকে ঘটনার সাক্ষী রাখে। এর সবই শিশুসন্তানটির উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বড়রা অনেক সময়ই নিজেদের স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার করে যা অত্যন্ত অনুচিত।

একজন শিশুর পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বড়দের মতো নয়। সে সব বোঝে, তবে নিজের মতো করে। তাই পরিস্থিতির সাথে নিজের মতো করে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করে। অনেক সময় ছোট ঘটনা তার মধ্যে বড় অনিশ্চয়তা তৈরী করে। সামান্য উদ্বেগ তার মধ্যে বিশাল ভীতির সঞ্চার করে। এর সবকিছু নিয়ে শিশুটি খুব নাজুক পরিস্থিতিতে থাকে। মা কিংবা বাবার মৌখিক আশ্বাসও তাকে নিরুদ্বেগ রাখতে পারে না। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে যেসব সমস্যা থাকে তা হলঃ

  • নিজেকে গুটিয়ে নেয়া
  • পারিবারের বাইরের লোকের সামনে লজ্জা পাওয়া, মিথ্যা বলা
  • মা বা বাবাকে (বা যার সাথে শিশুটি এখন থাকে )হারিয়ে ফেলার ভয়, অনিশ্চয়তার অনুভূতি
  • বিষন্ণতা
  • নিজের চাহিদার কথা না বলা
  • আগের তুলনায় চুপচাপ হয়ে যাওয়া
  • অস্থিরতা প্রকাশ করা বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
  • পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো
  • বাবা-মা অথবা নিজেকে দোষারোপ করা
  • নেশা করা বা অপরধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়া
  • আচরনগত বৈকল্যের শিকার হওয়া

বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এমন পরিবারের বিভিন্ন বয়সী শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণা থেকে দেখা যায়, ৭-৮ বছরের শিশুদের মাঝে দুঃখবোধ, মনমরা ভাব, হারানোর অনুভূতি- সেই সাথে ভয় আর অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। একই সাথে তারা নিজেদের পরিত্যক্ত ও অবাঞ্ছিত ভাবে।৯-১০ বছর বয়সী শিশুরা রাগান্বিত বোধ করে। কারণ তারা নিজেদের অবহেলিত, বঞ্চিত এবং একাকী মনে করে। অপরদিকে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা রাগ, লজ্জা, মনখারাপ ইত্যাদি বোধ করে।

৫ বছরব্যাপী আরেকটি গবেষণাঃ জরিপে অংশগ্রহণ করেছে এমন শিশুদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানিয়েছে তারা এখন সুখী।২৯ শতাংশ মোটামুটি মানিয়ে চলছে। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, তারা এখনও বিষন্ণতায় ভুগছে। এ ধরণের বহু গবেষণায় শিশুদের বিবাহবিচ্ছেদের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ক্ষেত্রে তার সাথে বেশি সময় কাটান। তার হতাশা, দুঃখ ও ভয় বোঝার চেষ্টা করুন। বাস্তবসম্মতভাবে মোকাবেলার উপায় শেখান। শিশু মা-বাবার (যিনি শিশুর সাথে থাকেন না ) অভাব অনুভব করছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করুন।কারণ শিশু হয়ত আপনাকে হারানোর ভয়ে অথবা আপনি কষ্ট পাবেন এ চিন্তা থেকে তার সত্যিকারের অনুভূতি আড়াল করে রেখেছে। তাকে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তার জন্য সে দায়ী নয়। কারণ ছোট শিশুরা অনেক সময় ভেবে থাকে যে, তার কারণেই এমনটি ঘটেছে। কখনোই শিশুর সামনে তার মা-বাবা সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। এতে শিশুরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করে এবং দিশেহারা হয়ে পড়ে। সম্ভব হলে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তা আমাদের মধ্যে, তুমি আমাদের সন্তান, আমরা তোমাকে ভালোবাসি। একসাথে না থাকলেও। অনেক সময় যে পরিবারে শিশুটি রয়েছে সেখানে মা-বাবার প্রসঙ্গ কঠোরভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এতে শিশুর মধ্যে মা-বাবা সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসা থাকলেও সে ভয়ে কোন কিছু বলতে পারে না। তাই তার মনে কোনো প্রশ্ন এলে তা যেন অবলীলায় জিজ্ঞেস করতে পারে-এরকম পরিবেশ বজায় রাখুন।

শিশুটির বাবা (অথবা মা )নেই।তাই তাকে বেশি বেশি খেলনা দেওয়া বা এধরণের আচর থেকে বিরত থাকুন। বস্তুর চেয়ে বড় তার আবেগ-অনুভূতির সঙ্গী হওয়া, তাকে আশ্বস্ত করা এবং এই কষ্টকর অনুভূতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করা।

বাবা-মা যে-ই থাকুক না কেন, শিশুর মানসিক সহয়তার জন্য তার পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বা কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের সহায়তা নিতে হবে।

মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এ ধরণের শিশুদের প্রতি আমাদের সচেতনতা, ভালোবাসা ও সহায়তা তাদের হতাশা, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ, একাকীত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবার সাহস ও মনোবল জোগাবে।

লিখেছেনঃ

মেহজাবীন হক
প্রফেসর, 
এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ভাঙার আগে-পরে

আমি ওকে কেবল আবার একটা ফোন দিতে চাই। যদিও আমি জানি এটা ঠিক হবে না। ও কেবলই আমার সঙ্গে চিৎকার ও দুর্ব্যবহার করবে আমি জানি। এটা ভেবেই আমি ভয় পেয়ে যাই। আমি বাইরে কাজ-কর্ম করতে পারছি না। একেবারেই মনোযোগ দিতে পারছি না। আমি চিৎকার করে সবাইকে বলে দিতে চাই যে, আমি ভালো নেই। কিন্তু আমি জানি, তারা আমাকে কাপুরুষ ভাববে। আমি স্বপ্নাকে ছাড়আর কিছুই ভাবতে পারছি না। আমি দিনে দিনে নিঃশেষ হতে যাচ্ছি।

এটি সম্প্রতি বিয়ে ভেঙে যাওয়া এক পুরুষের নীরব আর্তচিৎকার। তিনি ভেবেছিলেন সম্পর্কটি পুনরুদ্ধার করা যায় কিনা। স্ত্রী ও সন্তান থেকে দূরে থাকার ভয়ে তিনি ভীত। হতাশা আর অপরাধবোধ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। কাজকর্মে নিজেকে আগেরমতো সক্রিয় রাখতে পারছেন না।কোনো অন্তরঙ্গ সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর এমন প্রতিক্রিয়া অস্বাভাবিক নয়। পুরুষ বা নারী যেকারো জন্যই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এক তীব্র মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয় হিসেবে কাজ করে। বৈবাহিক সম্পর্ক আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বৈবাহিক সম্পর্কে ‍সুখী হওয়া না হওয়া নানা বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। আবার বিবাহিত জীবনের নানা পর্বের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোও বেশ কঠিন বিষয়। অবাস্তব প্রত্যাশা, দায়িত্বহীনতা, স্বামী বা স্ত্রীর কাজের মাত্রা-ধরণ, শ্বশুড়-শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সব সদস্যের সাথে মানিয়ে চলা, আর্থিক সমস্যা, যোগাযোগ দক্ষতার অভাব, অবিশ্বস্ততা বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরাতে ভূমিকা রাখে।

সম্পর্কে বিচ্ছেদ ধরার ক্ষেত্রে একক কোনো কারণ নেই। এটি শুরু হয় নানা প্রকিয়ার ভেতর দিয়ে। কখনও কখনও একজন সঙ্গী আলাদা থাকার হুমকি দিয়ে অন্য সঙ্গীর আবেগীয় প্রতিক্রিয়া যাচাই করে নেয়। এই সংসারে আমি আর পারছি না। আমি চলে যাবো। এ জাতীয় কথাবার্তা মূলত যিনি সম্পর্ক ছেড়ে দিতে চান তার থেকেই বেশি শোনা যায়। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত আরও একধাপ এগিয়ে যায় যখন কোনো একজন সঙ্গী বলতে শুরু করেন, আমি কালই উকিল নোটিশ পাঠিয়ে দেবো। আমি তোমার কাবিনের টাকা জোগাড় করে ফেলেছি। তুমি চলে যেতে পারো, ইত্যাদি। যদিও মনোবিজ্ঞানীরা ভালোবাসা এবং ঘৃণাকে একই অনুষঙ্গ হিসেবে দেখে থাকেন। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে আমি মরতে চাই যেমন বেঁচে থাকার আকুতি বহন করে, একইভাবে আমি ডিভোর্স চাই এটিও কখনও কখনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আবেদন।

সম্পর্ক বিচ্ছেদ সবসময় বেদনাদায়ক না-ও হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে বিচ্ছেদের মাধ্যমে ব্যক্তি যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারে। দুটি সত্য ঘটনা তুলে ধরা যাক।

ঘটনা -১

ষাট বছরের রীতা (ছদ্মনাম )সারা জীবন স্বামীর অত্যাচার, যন্ত্রণা সহ্য করে একটু ধাতস্থ হতে চেষ্টা করছিলেন। ভাইদের সহযোগিতায় ছেলেমেয়ে দুজনকে বিদেশে পাঠিয়ে লেখাপড়া করিয়েছেন। তারা বর্তমানে বিদেশেই প্রতিষ্ঠিত। ছেলেমেয়ের সাথে রীতাও দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। স্বামী রীতার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অর্থনৈতিক বিচারে স্বামী নিজেও সমাজের উচুপর্যায়ের লোক। গা সওয়া রীতা ছেলেমেয়েকে সময় দিতে গিয়ে স্বামীর বিষয়ে ভুলতেই বসেছিলেন বলা যায়। দেশে আসার কিছুদিনর মাথায় রীতা জানতে পারেন, তার নামে প্রায় কোটি টাকার ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে। শুধু এখানেই শেষ হয় নি।স্বামীর অধিকার নিয়ে তিনি রীতার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িতে থাকার জন্য জোর দাবি তুলছেন। রীতা না করতে পারেন নি। ছেলেমেয়ের সামাজিক মর্যাদার দিকে তাকিয়ে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি।

ঘটনা -২

বত্রিশ বছরের আরশির (ছদ্মনাম ) বিয়ের বয়স পাঁচ ছুঁই ছুঁই। দীর্ঘ পরিচয় থেকে পরিণয়। শেষমেশ দুই পরিবারের সম্মতিতে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে ছিল মনে রাখার মতো। আস্থা ও ভালোবাসায় পূর্ণ আরশির স্বামী আর্য্য তার কাছে অনেকটা দেবতার মতো। আরশি চাকরি করতেন বিমানের ফ্লাই অফিসার হিসেবে। ফ্লাইটের সাথে জীবনের সূচী মেলাতে গিয়ে অনেকটা হাঁপিয়ে ওঠেন আরশি। আর্য্যর সহযোগীতায় আবারো কাজে মন দেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই আরশির মনে হতে থাকে, সংসারে সময় না দিতে পেরে জীবনে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছেন। সংসারটা বড়ো ভালোবাসার জায়গা তার কাছে। এক জীবনে স্বামী-সংসার নিয়ে সুখের থাকার বিকল্প আর কী-ই-বা হতে পারে! এবার চাকরিই ছেড়ে দিলেন আরশি। ইতিমধ্যে মা হয়েছেন তিনি। স্বর্গসুখ যেনো হাতের মুঠোয়। ছোট্ট শিশুর দেখভাল করার জন্য নিয়ে আসেন নিজের খালাতো বোনকে। আর্য্যও খুব খুশি হয়েছেন আরশির কষ্ট কমবে বলে। স্বামীর ঘুমের সমস্যা এড়াতে আরশি প্রায়ই মেয়েকে নিয়ে অন্যঘরে ঘুমোতেন। সময়ের পরিক্রমায় হঠাৎ আর্য্যকে আবিষ্কার করেন তারই বোনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায়। এই অবর্ণনীয় মানসিক আঘাত তিনি বেশিদিন সহ্য করতে পারেন নি। জীবনের দ্বিতীয় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজে নিজেই সই করেন ডিভোর্সের দলিলপত্রে।

ডিভোর্স পরবর্তী মানসিক অবস্থা বুঝাবার জন্য দুটি উদাহরণ যথেষ্ট মনে করা যায়। যিনি ডিভোর্স দিতে উদ্যোগ নেন, তার জন্য সাময়িক চাপ লাঘবের অনুভূতি কাজ করতে পারে। তবে বেশিরভাগ দম্পতির ক্ষেত্রে ডিভোর্স তীব্র মানসিক ক্ষত তৈরী করে। সম্পর্কে বিচ্ছেদের আঘাত এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে।

আমরা আরশির দিকে তাকাই। সম্মানজনক পেশা ছেড়ে দেওয়া, চুরমার হয়ে যাওয়া স্বপ্নময় সংসার, এ যেন এক অসহনীয় রূপকথা। ক্ষিপ্রতার সাথে আরশি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছুতেই আরশি মেলাতে পারেন না তার জীবনের ঘটনাগুলো। মাঝে মাঝে নিজের অজান্তেই ভাবেন, এমন কিছু যদি ঘটতো, যাতে সব কিছু পাল্টে যেতো! সময় ঘড়িটাকে পিছিয়ে দেওয়া যেতো!

মাঝে মাঝে এ-ও ভাবেন, আচ্ছা, কম্পিউটারের মতো আয্যর ওই অংশটুকু ডিলিট করে দেয়া গেলেইতো চলতো! এ জাতীয় হাজারো প্রশ্ন এসে ভীড় জমায় মনে!

বিচ্ছেদের ফলে নারীর আত্মপরিচিতির ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। বেশিরভাগ মানুষ কারও স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে সমাজে নিজের আত্মপরিচয় ধারণ করে অভ্যস্ত। বিচ্ছেদ হওয়াতে এই আকস্মিক পরিবর্তণের সাথে খাপ খাওয়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় ব্যক্তির আত্মবিশ্বাসই মানুষ হিসেবে সমাজে তার স্বীকৃতি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়।কেউ কেউ নিজেকে গুটিয়ে নেন অন্য সকল যোগাযোগ থেকে। পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দূরত্ব বাড়তেই থাকে। সত্যিকারের বন্ধুর সহযোগিতা নিঃসন্দেহে উপকারী হবে।

অনেকের মধ্যে বিচ্ছেদের দীর্ঘ সময় পরও পূর্ববর্তী সঙ্গীর উপর তীব্র রাগ ও ক্ষোভ থেকে যায়। এটি ব্যক্তির নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি তৈরী করতে পারে। অনেকে এই ‍তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। যা ক্ষতিকর হতে পারে পরবর্তী সম্পর্কের জন্য। তাই একটি বিচ্ছেদের পর যথেষ্ট সময় নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া যেতে পারে। যাতে নতুন সম্পর্ক আরো বেশি পরিপূর্ণ হয়।

লিখেছেনঃ

মোসাম্মাৎ নাজমা খাতুন
অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিয়ে নিয়ে পাঁচটি ভুল ধারণা

নারী বা পুরুষ বিয়ের আগে যখন মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন বা একাকিত্ব বোধ করেন, তখন ভাবেন বিয়ে করলেই হয়তো এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনি যদি এমনটি ভেবে থাকেন, তাহলে তা হবে ভুল। বিয়ে আপনার এসব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না। বিয়ে সম্পর্কে প্রচলিত এমন পাঁচটি ভুল ধারণার কথা তুলে ধরেছে মুম্বাই মিরর।

একাকিত্ব থাকবে না?

বিয়ে মানে সঙ্গী পাওয়া। তা নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সত্য। তাই দুই পক্ষই মনে করে, সঙ্গী যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে, একাকিত্বের যন্ত্রণায় ভোগার কোনো আশঙ্কা নেই। নারী মনে করেন, তিনি তাঁর স্বামীর কাছে এত দিনের না-বলা কথা, দুঃখ-কষ্ট বলে নিজেকে হালকা করবেন, তাঁকে বন্ধু বানিয়ে নেবেন। আশা করেন, স্বামীও তাঁর সব কষ্ট ভাগ করে নেবেন। কিন্তু বিয়ের পর নারীকে হতাশ হতে হয়। এমনই এক নারী বলেন, ‘বিয়ের পর আমার কখনো মনে হয় না, আমরা পরস্পরের সঙ্গে কোনো কিছু শেয়ার করি। আমি যখন বলি, সে কান দিয়ে শোনে, কিন্তু মন দিয়ে বোঝে না। এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও মনে হয় না, আমরা একসঙ্গে আছি।’

যখন-তখন যৌনতা!

স্বাভাবিক যৌন-সম্পর্ক যেকোনো দাম্পত্যকে সুখী রাখতে সহায়তা করে। বিয়ের আগে মনে হয়, বিয়ের পর ইচ্ছে হলেই যখন-তখন যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব। বাস্তবে এমনটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। রোজকার বাস্তবতা, ব্যস্ততা ও সমস্যায় এমন আকাঙ্ক্ষা বিয়ের পর কমতে থাকে। এ নিয়ে দুই পক্ষেই হতাশা বাড়ে।

আর্থিক নিরাপত্তা

অবিবাহিতরা ধারণা করেন, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর যৌথ আয় সংসারজীবনে আর্থিক নিরাপত্তা দেবে। আসলে তা হয় না। নিজ নিজ আয়ে সংসারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। নিজের খরচের জোগান নিজেকেই দিতে হয়। এ বিষয়ে দম্পতির কেউ কাউকে তেমন একটা সহায়তা করেন না।

অন্যের স্বজন নিজের হয় না

বিয়ের পর নতুন আত্মীয়স্বজন-পরিজন নিয়ে সুখে বাস করার স্বপ্ন দেখেন অবিবাহিত নারী-পুরুষ। বিয়ের পর পর উভয়েই চেষ্টা করেন সঙ্গীর স্বজনকে আপন করে নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখে না। দিন শেষে নিজের রক্তের বন্ধনই প্রধান হয়ে দেখা দেয়। যখন কোনো সংকট দেখা দেয়, তখন এই সত্য প্রকট হয়। অন্য পরিবার থেকে আসা কেউ, সে যতই ভালো হোক না কেন; পক্ষপাতিত্ব চলে যায় নিজের স্বজনের দিকে। এ ক্ষেত্রে স্বপ্ন ভঙ্গের আশঙ্কা থাকে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে, নতুন স্বজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দেখান কিন্তু বেশি কিছু আশা করবেন না।

সমস্যার সমাধান সন্তানে?

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যখন একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন, তখন তাঁদের মনে হয় সন্তানের জন্মই হয়তো সংকটে সমাধান দেবে। এটি ভুল ধারণা। যথেষ্ট প্রস্তুতি না নিয়ে সন্তান নিলে তা বরং দাম্পত্য জীবনকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই সন্তান নেওয়ার আগে ভালো করে ভাবুন, আপনারা প্রস্তুত তো নতুন অতিথিকে নিয়ে সুন্দরভাবে সময় কাটানোর জন্য?

তথ্য সুত্রঃ প্রথম আলো

কাংখিত সার্চ রিজাল্ট পেতে

সম্মানিত ইউজার আপনি বিবাহবিডি ডট কম ব্লগে অবস্থান করছেন।   আপনি সরাসরি বিবাহবিডি ডট কম এ লগিন করতে এই লিংকে ক্লিক করুন।  

তাছাড়াঃ-
প্রফেশন অনুযায়ী পাত্র/ পাত্রী খুজতে ক্লিক করুন
শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রী খুজতে


ডিভোর্স সেপারেটেড বিধবা কিংবা বিপত্নীক খুজতে ক্লিক করুন
প্রবাসী পাত্র/পাত্রী খুজতে ক্লিক করুন