জেলা ভিত্তিক বিবাহবিডি সার্ভিস এজেন্ট

বিবাহবিডি ডট কম ২০০৭ সাল থেকে পরিচালিত সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় একটি ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান। প্রফেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোন ধর্মাবলম্বী, যেকোন জেলার, বাংলাদেশ ও প্রবাসে বসবাসরত যথাযোগ্য পাত্রপাত্রীর খোঁজ ও পাত্রপাত্রী বা অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা সবচেয়ে বিশ্বস্থ মাধ্যম বিবাহবিডি ডট কম। যেখানে লাখো পাত্রপাত্রীর সন্ধান রয়েছে।

বিবাহবিডি সার্ভিস এজেন্ট কি?
বিবাহবিডি ডট কম বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা সদরে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সার্ভিস এর আওতায় আনার লক্ষ্যে জেলা ভিত্তিক সার্ভিস সেন্টার উন্মুক্ত করার প্রকৃয়া নিয়েছে।

একজন সার্ভিস এজেন্ট এর কাজ কি হবে?
একজন সার্ভিস এজেন্ট তার নিজ জেলা সদরে স্বশরীরে বিবাহবিডি’র জেলাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। যেমন –

  • প্রোফাইল সংগ্রহ
  • সার্ভিস বিক্রয় ও বিক্রয় পরবর্তী সেবা নিশ্চিত
  • প্রোফাইল ভেরিফিকেশন
  • ইউজার সাপোর্ট

সার্ভিস এজেন্ট নিয়োগের প্রকৃয়া কি?

  • উদ্যোক্তাকে অবশ্যই কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে
  • দৈনিক ১০-১২ ঘন্টা (মাসে ২৫ দিন) কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে
  • কর্মক্ষেত্রে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ইন্টারনেট সংযোগ, গ্রাহকদের বসা ও আপ্যায়নের সুযোগ থাকতে হবে।
  • যাদের নিজস্ব ষ্টুডিও অথবা উপরোক্ত সুবিধাগুলো কর্মক্ষেত্রে রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

সার্ভিস এজেন্ট কি “চাকুরী নাকি ব্যবসা”?

একজন এজেন্ট বিবাহবিডি ডট কম এর একজন জেলা প্রতিনিধি হিসাবে সমগ্র জেলায় নিজ ব্যবসা পরিচালনা করবেন। এবং লভ্যাংশ থেকে আকর্ষনীয় মুনাফা অর্জন করবেন। এই জন্য আমাদের নিজস্ব সফটওয়ার, কর্ম পদ্ধতি, পরামর্শ ও আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করবেন।

সার্ভিস এজেন্ট কে কি প্রশিক্ষন দেয়া হবে ?

এজেন্ট হিসাবে চুড়ান্ত দায়িত্ব বুঝে নেয়ার আগে অবশ্যই একজন এজেন্টকে বিবাহবিডির কর্ম কৌশলের উপর ৩ দিনের একটি ট্রেনিং নিতে হবে। আপনি যদি আপনার জেলা সদরে বিবাহবিডির সার্ভিস সেন্টার এজেন্ট হিসাবে দীর্ঘমেয়াদী কাজ করতে আগ্রহী হোন থাকেন তাহলে

আমাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলুনঃ
বিবাহবিডি সাপোর্ট টিম, সকাল ৯ঃ০০ টা – রাত ১০:৩০ (প্রতিদিন)
+88 09612211555, +88 01922115555, +88 01944115555

BIBAHABD.COM
House # 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE MAIN ROAD, DHAKA-1219

কতটুকু ভালো সঙ্গী পেলে সন্তুষ্টি আসে পুরুষের!

ভালোর আসলে শেষ কোথায়; একজন পুরুষ কতটুকু ভালো সঙ্গী পেলে সন্তুষ্ট হবে তার কি কোন মানদন্ড আদৌ আছে? অথচ প্রত্যেক পরিবারে চাহিদা থাকে একজন ভালো মেয়ে, ভালো বৌ;  যদি ও ভালো বৌ বলতে মুলত যা বুঝায় তা হলো – ঐ পরিবেশে খাপ খাইয়ে চলতে পারার সক্ষমতা। এক্ষেত্রেও মেধার বিকল্প নেই; একজন মেধাবী বৌ তার ধৈর্য্য, মানসিক শক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও দুরদর্শিতা দিয়ে একটি পরিবারের সদস্যদের আচার আচারন, আয় উন্নতি এমন কি ঐ পরিবারের সামাজিক অবস্থানটিও পরিবর্তন করতে পারেন। এজন্যই হইতো শত শত বছর ধরে প্রবাদ প্রবাদটি প্রচলিত “নদীর পানি ঘোলা ভালো, জাতের মেয়ে কালো ভাল”।

বিয়ে করার পর আপনি অন্য একটি পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও এ পরিবারের রয়েছে আরও অনেক সদস্য। আর এসব মিলে সবার মন যোগানোর কথা চিন্তা করতে গেলে হয়তো আপনার মাথাটাই খারাপ হয়ে যাওয়ার যোগাড় হবে। তবে চিন্তা করবেন না, এ লেখায় থাকছে সহজ কয়েকটি উপায়  যার মাধ্যমে ভালো বৌ হবার চর্চাটা অন্তত আপনি করতে পারবেন।  বাস্তবে অতি সাধারণ মনে হলেও এসব উপায় হয়ে উঠতে পারে আপনার ভালো স্ত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার অন্যতম পন্থা। এসব বিষয় পালন করলে নিজেকে আকর্ষণীয় ও অন্যদের কাছে অনুকরণীয় একজন যথার্থ স্ত্রী হিসেবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

পজেটিভ হতে একটু সময় নিনঃ প্রত্যেক  মানুষ আলাদা আলাদা আচারনের অধিকারী,  একটি পরিবারের সবাই একরকম মানসিকতার হবে না। তাই নতুন সংসারে যাবার পর তাড়াহুড়া না করে কিছুদিন ধৈর্য্য সহকারে প্রত্যেকের আচার আচারন মানসিকতা খুব ক্লোজলী পর্যবেক্ষন করতে হবে। এ জন্য সবার সাথে কথা বলা; একসাথে খাবার খাওয়া, গল্প করা, শপিং এ যাওয়া, প্রতিবেশী / আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাওয়া অন্যতম উপায়;  এবং পরিবারে সকল সদস্যের মানসিক অবস্থা বুঝে প্রত্যেকের ব্যাপারে আপনার নিজস্ব ষ্ট্রেটিজি সেট করতে। কথা বলার ক্ষেত্রে ও স্বামী কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সার্ভিস/ সেবা ক্ষেত্রে ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি কৌশলী হওয়ার বিকল্প নেই।

পরিবারের ঐতিহ্যবাহী রেসিপির সন্ধান করুন
অনেক পরিবারেই থাকতে পারে দীর্ঘদিন থেকে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী কোনো রেসিপি। দেখা যাবে আপনার সঙ্গী ছোটবেলায় তার মা বা দাদির কাছ থেকে এমন খাবার খেয়েছে, যা তার স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির পদ্ধতি আয়ত্ব করুন এবং তা রান্না করুন। যদি সম্পূর্ণভাবে সে খাবারের মতো নাও হয়, তার পরও আপনি এ উদ্যোগের প্রশংসা পাবেন। আর এতে স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক অনেক গাঢ় হবে।

লিখে ফেলুন
স্বামীকে একটি প্রেমপত্র লিখে দেওয়ার ধারণা অনেকের কাছেই হাস্যকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের মনের কথা লিখে তা প্রকাশ করার মধ্যে যে আনন্দ আছে তার কোনো তুলনা হয় না। আর এর মাধ্যমে আপনাদের হৃদয়ের মিলও অনেক বাড়বে।

নিজেদের যত্ন নিন
বিয়ের পরই যে সবকিছুর শেষ, তেমন কোনো কথা নেই। স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আপনার নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এ ছাড়াও নিয়মিত চুলের পরিচর্যা, নখ ও দেহের পরিচর্যার মাধ্যমে শরীর ঠিকঠাক রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ছাড়াও শারীরিক অনুশীলন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

সমর্থন করুন
স্বামীর ভালো কাজে সমর্থন যোগানো উচিত স্ত্রীর। তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিংবা মানসিকভাবে স্বস্তিকর বিষয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করা যেতে পারে। তার যদি কোনো লুকানো প্রতিভা থাকে তবে তা বিকশিত হতে সাহায্য করুন। এসব বিষয়ে সে যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে তাহলে তা আপনারই সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হবে। তার কোনো শখ যদি আপনার নিজের আগ্রহের বিষয় নাও হয়, তার পরও তা হেলাফেলা করার প্রয়োজন নেই। কারণ কোন বিষয়ে তার প্রতিভার বিস্ফুরণ ঘটবে তা কেউ বলতে পারে না। হতে পারে গান গাওয়া, যন্ত্র সংগীত, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ধাঁধা কৌতুক বলা !

কাজ ভাগ করে নিন
অতীতের মতো এখন বাড়ির কাজ শুধু নারীরাই করে না। কর্মব্যস্ত জীবনে এখন উভয়কেই নিজের নিজের কাজ করতে হয়। এ কারণে নারীর বা পুরুষের কাজ বলে কোনো কাজ থাকছে না বাসায়। আর এ অবস্থায় আপনার স্বামীকে তার পছন্দমতো কিছু কাজ ঠিক করে দিন নিয়মিত করার জন্য। আপনিও করুন কিছু কাজ। অনেক নারীই বাড়ির সব কাজ একাই করতে চান। একই বিষয়ে পুরুষের করা কাজ তাদের মনমতো না হওয়ায় এ বিপত্তি বাধে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সবার কাজের ধরন একরকম নয়। তাই মনমতো না হলেও তাকে তার মতো কাজ করতে দিন। সব কাজ একা করলে তাতে অন্যের অংশগ্রহণ যেমন থাকে না, তেমনি তৈরি হতে পারে দূরত্ব।

খেলাধূলা আর হাসি
বড় মানুষ হলে যে কোনো খেলাধূলা করা যাবে না, এমন কোনো কথা নেই। গুরুগম্ভীর ভাব বাদ দিয়ে হালকা মেজাজে চলুন। মেতে উঠুন খেলা আর হাসিঠাট্টায়। এতে জীবন হয়ে উঠবে আনন্দে পরিপূর্ণ।

সারপ্রাইজ দিন
আপনার স্বামী যে শুধু সারপ্রাইজ দেবে এমন কোনো কথা নেই। তার বদলে আপনি নিজেও তাকে সারপ্রাইজ দিন। কোনো ছুটির দিনকে দারুণভাবে ব্যবহার করে কিংবা বিশেষ কোনো দিনে তাকে মজার উপহার দিয়ে চমকে দিন সবাইকে।

Bangladeshi Matrimonial information system and services

In recent time, online matrimony portals accelerate the opportunities of providing newer matrimony services for sharing matrimonial information more comfortably and selectively.  

Since the beginning of fourth century, Bangladesh has a rich tradition of arrange marriages that have been practiced mainly to establish a sacred bond between two families.

In recent time, marriages in Bangladesh have undergone tremendous change with the changing trends of Bangladesh society.

Therefore, marriages are deviating mostly from arranged to love marriage, arranged love to love arranged, intra caste to inter-caste even inter-religion, social-marriage to court-marriage and seldom living together.

Traditions and customs are greatly affected by the attitudes and beliefs of brides or grooms, ceremonies are not as long as they used to be, certain numbers of rituals losing their relevance, unusual trend of marriages are evident, court marriages are gaining importance.

Practically, global techno culture is dominating on many social events, thereby enforcing young peoples to cross the boarders of social practices of Bangladeshi culture.

trusted Bangladeshi matrimonial website
Trusted Bangladeshi matrimonial website | Bibahabd

Recently, online matrimony portals accelerate the opportunities of providing better matrimony services for sharing matrimonial information more comfortably and selectively.

However, one can use a single or multiple vectors simultaneously to share such information depending upon the needs and desire of the individual concern. It is being observed that aspiring brides and grooms often interact among themselves peer to peer in view of sharing matrimonial information of their own, but without any causative agent.

In fact, gradual change of intermediaries has been taking place over time to meet up the changing requirements of marriage-information seekers in Bangladeshi society, which can be discussed under following sub-headings.

Usefulness of Online Matrimony Service:

In recent time’s matrimony portals, social networking sites, community specific chat rooms are prevailing on the Internet.

These can be treated as transmitting agent of first hand matrimonial information and gaining popularity with the increasing use of Internet in our country. Such interactive platforms offer attractive services to their registered members and facilities online searching free fee based instantly and more comfortably. 

Online matrimony service refers to the formation of a community on the Internet, which facilitates the members to interact and share marriage related information through selective information based personalized ways. This service provides a variety of new ways for users to interact and share first hand information, thus gained much popularity in twenty first century.

Such platform brings the peoples together having matrimonial interest. Therefore, interested members can explore the interest of others. Current matrimony service portals have their ability to set up and customize a personal profile that enables the members to use attractive services in the same way of social networking practices.

Matrimonial Services:

  • Free registration
  • Fee-based utilities
  • E-matchmaking
  • Online chatting
  • Email/SMS alerts
  • Personalize services
  • Community specific search

Free registration always attracts information seekers to be a member of online matrimony. Obviously paid members have greater level of access; they can initiate meaningful contacts with other members, successfully can use functional tools, and enjoy many other value added services.

Again, structural components of these portals substantially make the difference in their efficiency and use. Matrimony databases are usually comprises of information components like basic information, vital statistical information, religion and family, education and career, behavior and culture, and lifestyle information.

None the less online matrimony sites are increasingly being used to keep connected with prospective brides and grooms.

Peoples of every sphere of the society have begun to observe its usefulness on various marital events. In Bangladesh, online matrimony market reveals twelve million users and gaining prominence during last few years.

Criteria for accomplished matrimony sites:

  • Accessibility
  • Cost
  • Credibility
  • Ease of use
  • Functional tools
  • Reliability, utility, visibility
  • Presentation

Today, hundreds of matrimony sites have become operative in national and regional level to sustain the pressure of marriage information seekers.

These sites provide interactive platform to communicate marriage related information. Potential users can choose any of the platforms, but they must evaluate these sites in terms of many factors.

Apart from many matrimonial websites, no doubt, Bibahabd.com is a clear winner followed by Borbodhu.com, sensiblematch.com, simply marry and bdmarriage and others.

These sites are driving their focus more on newer technologies in order to increase the revenues. Such matrimony sites have revealed a completely new Bangladeshi culture in transforming matrimonial information.

The growth of online matrimonial sites is mainly because of the wide variety of choices, convenience, time saving and efficiency. Recent study reveals that the top online Bangladeshi Matchmaking platforms have accounted for over five million marriages in the last decade.

On an average, lot of websites gains around ten thousand new registrations a day and three million active users looking for spouses. 

Matrimonial websites offer different levels of service, so it’s important to make sure you know how much help you think.

For further information, you can visit Bibahabd to make your big bride or groom search a memorable one.

খ্রিস্টান ম্যারেজ অ্যাক্ট – খ্রিস্টান বিবাহ আইন

মুসলিম প্রাপ্ত বয়স্ত নর-নারীর লিখিত চুক্তির মাধ্যমে বিয়ে সম্পাদিত হয়। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিয়ে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পবিত্র চুক্তি। তাদের বিয়ে লিখিত মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বাধ্যতামূলকভাবে করতে হয় রেজিস্ট্রি। খ্রিস্টান  বিয়েতে রেজিস্ট্রেশন ও আইনগত যে বিধান রয়েছে তাতে স্বামী -স্ত্রী উভয়েরই স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। 

বাংলাদেশে ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ অ্যাক্ট (খ্রিস্টান বিবাহ আইন) অনুযায়ী, খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে সম্পাদিত হয়। তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করার আগে কিছু নিয়ম পালন করতে হয়, যা অন্যান্য ধর্মের চেয়ে কিছুটা আলাদা।

আসুন জেনে নেই খ্রিস্টান বিয়েতে রেজিস্ট্রেশন করার আগে বাধ্যতামূলক বিষয়গুলো। 

গির্জার  কাছে নোটিশ

বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের আগে পাত্রপাত্রীর পুরো নাম, ডাক নাম, পেশা বা অবস্থা ও বাসস্থানের ঠিকানা গির্জার কাছে নোটিশ আকারে দিতে পাঠাতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির পর গির্জার যাজক নোটিশটি খোলা জায়গায় টানিয়ে দেবেন যাতে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

আপত্তি বিবেচ্য

পাত্র ও পাত্রী পক্ষের পাঠানো নোটিশ কয়েক সপ্তাহ ঝোলানো থাকবে। নোটিশের কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা গির্জায় জানাতে হবে। আর আপত্তি না পেলে গির্জার প্রধান বিয়ের দুটি পক্ষের কাছ থেকে একটি ঘোষণা গ্রহণ করবেন। এছাড়া এই ঘোষণাটি বিয়ের পক্ষগুলো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে দেবেন। সেই ঘোষণায় কিছু বিধিনিষেধ আছে যা দুই পক্ষকে পূরণ করতে হবে।


আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক

পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিবাহ বা আত্নীয় সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাত্রপাত্রীর মধ্যে জানা মতে এমন কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক নেই যাতে তাদের বিয়েতে আইনসম্মত বাধা আছে।

পাত্র-পাত্রী সাবালক

বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রীকে অবশ্যই সাবালক হতে হবে। পাত্র-পাত্রী যদি সাবালক না হয় তবে বিবাহ আইননত বৈধ হবে না। 

এই ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার কমপক্ষে চারদিন পর গির্জার যাজক বিয়ের আবেদনকারীকে একটি সার্টিফিকেট দেবেন। সেই সার্টিফিকেট জারির দুই মাসের মধ্যে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

খ্রিস্টীয় বিয়ের রীতিনীতি

বিয়ে একটি পারিবারিক বন্ধন। বিয়ের মাধ্যমে দুই হাত এক করে নেয়া হয় সারাজীবন একসঙ্গে চলার শপথ।

এছাড়া বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও আইনগত যে বিধান রয়েছে তাতে স্বামী -স্ত্রী উভয়েরই স্বার্থ রক্ষার কথা বলা হয়েছে। ধর্মগত কারণে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিয়েতে রীতিনীতি আলাদা।

তবে আমাদের দেশে খ্রিস্টীয় বিয়েতে দেশীয় রীতি, কৃষ্টি ও সামাজিক মূল্যবোধ উপলব্ধি করে লোকাচার ও স্ত্রী আচার মিলে একটি নান্দনিক, আনন্দময় ও সুন্দর রূপ দেয়া হয়েছে। আসুন জেনে নিই খ্রিস্টীয় বিয়ের রীতিনীতি।

কনে নির্বাচন: খ্রিস্টান বিয়েতে সবার প্রথমে যে কাজটি করা হয় সেটি হলো কনে নির্বাচন। বরপক্ষ সাধারণত কনের চরিত্র, দোষ-গুণ, বংশ পরিচয় জেনে কনে নির্বাচন করে থাকেন।

প্রস্তাব : কনে পছন্দ হওয়ার পর শুভদিন দেখে বরপক্ষ কনের বাড়ি যায়। তাদের উদ্দেশ্যের কথা জানায় ও বিয়ের প্রস্তাব দেয়।

বাগদান: বর ও কনেপক্ষ রাজি থাকলে বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাগদান উপলক্ষে পান, সুপারি, বিজোড়সংখ্যক মাছ আয়োজন থাকে।

আশীর্বাদ গ্রহণ: এই অনুষ্ঠানে বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে যায়, যা আগেই কথা বলে ঠিক করে রাখা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর-কনে সবার আশীর্বাদ গ্রহণ করে।

নাম লেখা: বিয়ের ৩ সপ্তাহ আগে কনের বাড়িতে পুরোহিতের কাছে বর-কনে নাম লেখান। অনেকে এ অনুষ্ঠানে আতশবাজি ও বাজনার আয়োজন করে।

বান প্রকাশ: এই অনুষ্ঠানে বর-কনে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মণ্ডলীর বিধি অনুযায়ী এ সময় বিয়ের ক্লাস করতে হয়। এটি বিয়ে-পূর্ব ব্যাধতামূলক ক্লাস ব্যবস্থা।

অপদেবতার নজর: নাম লেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বর-কনেকে অতি সংযমী জীবন করতে হয়।

অনেকে এ সময় ভূত-প্রেত ও অপশক্তির নজর থেকে রক্ষার জন্য ‘রোজারি মালা’ বা ‘জপমালা’ গলায় পরেন।

খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বিয়ে
খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বিয়ে

কামানি বা গা-ধোয়ানি:

বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানকে গা-ধোয়ানি বলে। অনেক খ্রিস্টান সমাজে এই দিন গায়েহলুদ মাখিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে অনুষ্ঠান করা হয়।

কনে তোলা:

বিয়ের দিন ভোরে বাদকদলসহ বরের আত্মীয়স্বজন কনের বাড়ি গিয়ে কনেকে নিয়ে আসে। কনেকে ঘর থেকে আনার সময় তার হাতে পয়সা দেয়া হয়।

কনে বাড়ি থেকে আসার সময় সেই পয়সা ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। এর অর্থ হলো যদিও সে বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে, তারপরও বাড়ির লক্ষ্মী ঘর থেকে চলে যাচ্ছে না।

গির্জার অনুষ্ঠান:

শুরুতে গির্জার প্রবেশপথে যাজক বর-কনেকে বরণ করে নেয়। তারপর বর-কনে দুজনের মধ্যে মালাবদল করা হয়। এরপর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয়া হয়।

ঘরে তোলা:

এই অনুষ্ঠানে উঠানের দিকে মুখ করে বড় পিঁড়ির উপরে বর-কনেকে দাঁড় করানো হয়। এরপর বর-কনে সাদা-লাল পেড়ে শাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ঘরে ওঠে। এ সময় বর ও কনে একে অপরের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে থাকে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে ১৮৭২ সালের বিশেষ বিয়ে আইন রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বিশেষ বিয়ের জন্য একজন রেজিস্টার থাকে।

প্রথমত বৈধ বিয়ে করা হচ্ছে এই হিসেবে এফিডেভিট করতে হয়, পরে রেজিস্টারের কাছে হলফনামা জমা দেয়।

এর ১৪ দিন পর একটি নোটিশ দেয়া হয়। পরে নোটিশ নিয়ে রেজিস্টারের কাছে গেলে বিয়ে নিবন্ধিত করা হয়

হিন্দু বিবাহরীতি

হিন্দু বিবাহ দুটি ব্যক্তি (বেশিরভাগই পুরুষ এবং মহিলা) চূড়ান্ত অনন্তকাল ধরে সমন্বিত করে, যাতে তারা ধর্ম (দায়িত্ব / কর্তব্য), আর্থ (অর্থ) এবং কাম অনুসরণ করতে পারে। এটি স্ত্রী বা স্ত্রী হিসাবে দুটি ব্যক্তির একটি ইউনিয়ন এবং জীবন্ত ধারাবাহিকতা দ্বারা স্বীকৃত। হিন্দু ধর্মে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য গতানুগতিক রীতি অনুসরণ করে না। প্রকৃতপক্ষে, বিবাহ সম্পূর্ণরূপে বা বৈধ হিসাবে বিবেচিত হয় এমনকি বিবাহ দুটি আত্মার মধ্যে হয় এবং এটি শরীরের বাইরে। এটি দুটি পরিবারকে একসাথে যোগ দেয়। অনুকূল রঙগুলি এই উপলক্ষে সাধারণত লাল এবং সোনার হয়।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, বিবাহে ছেলে মেয়েটির সমস্ত পালন পোষণের দ্বায়িত্ব নেয় এবং মেয়েটি তাদের সংসারের খেয়াল রাখার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে। এইভাবে তারা দুই আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে নিজেদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যায়।

বিবাহের লক্ষ হল সংসার ও সন্তানের লালনপালন করে বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য একই সময়ে বাইরে থেকে দরকারী জিনিস উপার্জন করে আনা আর ঘরের ভেতরে সংসারের কাজ সামলাতে হয়। যেহেতু একজন মানুষ একই সময়ে এই দুটো কাজ করতে পারে না তাই দুটো কাজ দুজনের মধ্যে বন্টিত বয়ে যায়।

যেহেতু পুরুষ বেশি বলবান হয় প্রাকৃতিকভাবেই আর মেয়েরা কোমল প্রকৃতির হয় এবং তাদের গর্ভে সন্তান জন্ম নেয় তাই বাইরে থেকে সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস উপার্জনের দ্বায়িত্ব পুরুষ নেয় আর ঘরে সংসারের দেখাশোনার দ্বায়িত্ব স্ত্রী নেয়। এইরকমভাবে হলেই সংসার সুস্হভাবে বেড়ে ওঠে ও সন্তানের সুন্দর দেখাশোনার মাধ্যমে বিবাহে বংশবিস্তারের উদ্দেশ্য সফল হয়।

হিন্দু বিবাহ
হিন্দু বিবাহের পাত্র পাত্রী

দুইজনের মধ্যে ভালবাসা থাকলেই এই কাজগুলো বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হয় কিন্তু দুইজনের মাঝে তৃতীয় কেউ আসলে সেই দুইজনের ভালবাসায় ফাটল তৈরী হয়।আর তাতে আগের কাজগুলো করার দ্বায়িত্ববোধ মন থেকে মিটতে শুরু করে। কষ্ট-হিংসার সৃষ্টি হয়।তাতে সংসারের ক্ষতি হয় যার ফলে সন্তানেরও পালন ঠিকভাবে হতে পারে না। আর এখানেই বিবাহের উদ্দেশ্য বিফল হয়ে যায়।এতে পরকীয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে তাই বিয়ের উদ্দেশ্যকে রক্ষা করতেই বিয়ে শুধু দুইজনের মাঝেই হয়।

বিয়ের ব্যবস্থা করণ প্রক্রিয়াঃ

পুরোহিতের সাহায্যে মিলিত হওয়ার জন্য পুত্র / কন্যার জাতকাম বা জনম কুন্ডালির (জন্মের সময় জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চার্ট) ব্যবহার সাধারণ, তবে সর্বজনীন নয় তামিল ভাষায় ‘জোথিদার’ বা উত্তর ভারতের তেলুগুতে ‘পান্থুলু বা সিদ্ধন্তী’ নামে পরিচিত ব্রাহ্মণের কাছ থেকেও অভিভাবকরা পরামর্শ নিয়ে থাকেন, যাদের বিবাহ করার জন্য অনেক লোকের বিবরণ রয়েছে। মিথিলাতে ব্রাহ্মণদের মতো কিছু সম্প্রদায় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বজায় রাখা বংশবৃত্তীয় রেকর্ড (“পজ্ঞিকা”) ব্যবহার করে।

জাতকাম বা কুণ্ডলি জন্মের সময় নক্ষত্র এবং গ্রহের স্থানের উপর ভিত্তি করে আঁকা হয়। যে কোনও ম্যাচের সর্বাধিক পয়েন্ট ৩৬ এবং ম্যাচের নূন্যতম পয়েন্ট ১৮ হতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সী পয়েন্টগুলির সাথে যে কোনও মিলই সুরেলা সম্পর্কের জন্য একটি শুভ মিল হিসাবে বিবেচিত হয় না তবে তারা এখনও বিবাহ করতে পারে এমন লোকদের উপর এটি উদারভাবে নির্ভর করে। যদি দুটি ব্যক্তি (পুরুষ ও মহিলা) এর জ্যোতিষীয় চার্টটি পয়েন্টগুলিতে প্রয়োজনীয় প্রান্তিকতা অর্জন করে তবে সম্ভাব্য বিবাহের জন্য আরও আলোচনা বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাকে একে অপরের সাথে কথা বলার এবং বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়। একবার চুক্তি হয়ে গেলে তার পরে বিবাহের জন্য একটি শুভ সময় বেছে নেওয়া হয়।

আট ধরণের বিবাহ

হিন্দু ধর্ম অনুসারে আটটি ভিন্ন ধরনের বিবাহ রয়েছে। সকলেরই ধর্মীয় অনুমোদন নেই।

আট প্রকার বিবাহ সমূহ:

  1. ব্রহ্ম বিবাহ – ব্রহ্ম বিবাহ হ’ল বেদে শিখেছিলে এবং নিজের দ্বারা নিমন্ত্রিত নেক আচরণের লোকের সাথে কন্যার বিবাহ হয়। একটি ব্রহ্ম বিবাহ হল যেখানে একটি ছেলে তার ছাত্রী বা ব্রহ্মাচার্য শেষ করে একবার বিয়ে করতে সক্ষম হয়। ব্রহ্ম বিবাহ আট ধরনের হিন্দু বিবাহের মধ্যে সবচেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থান। ছেলের বাবা-মা যখন কোনও মহিলা খোঁজেন, তারা তার পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা করতেন, তবে মেয়ের বাবা তার ছেলেকে নিশ্চিত করতে যে তার ছেলের সাথে বিয়ে করতে চায় সে বেদের জ্ঞান রাখে। এই বিষয়গুলিই যৌতুকের ব্যবস্থা নয়, ব্রহ্ম বিবাহের ভিত্তি তৈরি করে। এই ধরনের বিবাহে যৌতুক পাপ হিসাবে বিবেচিত হয়।
  2. দৈব বিবাহ – যে ধরনের বিবাহকে নিকৃষ্ট বলে মনে করা হয় কারণ এটি নারীত্বকে হ্রাস করে। এখানেই মহিলার পরিবার তার বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। যদি তিনি উপযুক্ত বর না পান, তবে তিনি এমন জায়গাগুলির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন যেখানে পরিবার পুরোহিতের মাধ্যমে ম্যাচ মেকিংয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল যারা যথাযথভাবে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে, পারফরম্যান্সের সময়। এটাই ছিল প্রচলিত রয়্যালস অনুসারী এবং মিত্র ও শত্রুদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রাচীন কালে প্রচলিত ছিল।
  3. অর্শ বিবাহ – একটি আরশার বিবাহ হয় যেখানে মেয়েটিকে ঋষির সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। কিছু গরুর বিনিময়ে কনে দেওয়া হত। অগস্ত্য সেই অনুসারে লোপামুদ্রকে বিয়ে করেছিলেন। রাজারা প্রায়শই ঋষিদের অস্বীকার করতে পারেননি যাদের এমন ক্ষমতা ছিল এবং সমাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাই মহাভারতের অসংখ্য গল্প যা এই অনুশীলনের চিত্রিত করে।
  4. প্রাজাপাত্য বিবাহ – প্রজাপতি হল যখন কোনও মেয়ের বাবা তাকে বরকে বিয়ে করে, শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করে এবং তাদের সম্বোধন করে: ‘তোমরা উভয়ই এক সাথে তোমার দায়িত্ব পালন করুক’। ব্রহ্মার বিবাহের বিপরীতে, প্রজাপাত্য বিবাহই কনের পিতা কনের সন্ধানে যান, যদিও এই বিষয়টি পিতামাতার নিখুঁত কনের সন্ধানের মতো ভাল বলে বিবেচিত হয় না। এছাড়াও, আরশা বিয়ের মত, আর্থিক লেনদেনগুলি প্রজাপাত্য বিবাহের অংশ নয়।
  5. গন্ধর্ব বিবাহ – একজন মেয়ের এবং তাঁর প্রেমিকের স্বেচ্ছাসেবী মিলনকে গন্ধর্ব বিবাহ বলে। যখন ‘প্রেম’ বিবাহের কথা আসে তখন এটি গন্ধর্ব বিবাহই সর্বাধিক মিল। এখানেই একজন বর এবং তার কনে তাদের পিতামাতার জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই বিবাহ করতে পারে। এই হল কিভাবে দুশ্যন্ত বিয়ে করে শকুন্তলাকে। এটি ডেটিংয়ের মতো নয়। এখানে নববধূ এবং বর কোনও পদক্ষেপের আগে কোনও ব্যক্তি, প্রাণী, গাছ, উদ্ভিদ বা দেবতার উপস্থিতিতে মানত করে।
  6. অসুর বিবাহ – আসুর বিবাহ হল যখন বর পাত্রী প্রথম মেয়ের সাথে তার নিজের ইচ্ছামত সম্পদ অর্জন করার পরে পাত্রী এবং তার আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধন-সম্পদ অর্জন করে। এটিই অসুর বিবাহ যা অন্য ধরনের বিবাহ থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলে। এটি এমন একটি বিবাহ যেখানে পাত্রী কনের সাথে প্রায়শই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না এবং কিছুটা অস্বাভাবিকতাও অর্জন করতে পারে তবে পাত্রীর পিতৃপুরুষের লোভ বা বাধ্যতামূলকভাবে বরের ইচ্ছা এবং ধনসম্পদ এটিকে দিতে পারে। সর্বদা এই ধরনের বিবাহকে নীচু বিবেচনা করা হত। আধুনিক সময়ে এটি অগ্রহণযোগ্য কারণ এটি অনেকটা শেল্ফের বাইরে পণ্য কেনার মতো এবং সাধারণ ভারতীয় আইনের বিরুদ্ধে।
  7. রাক্ষস বিবাহ – রক্ষাসা বিবাহ হ’ল এক গৃহকর্তার সাথে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণের সাথে জড়িত থাকার পরে বিবাহ হয় যা কাজাক এবং উজবেক সংস্কৃতিতে এখনও প্রচলিত রীতি অনুসারে হত্যা করা বা আহত করা হয়েছে। বর কনের পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য করবে, তাদের পরাস্ত করবে এবং কনেকে তার সাথে বিবাহের জন্য রাজি করানোর জন্য দূরে নিয়ে যাবে। বল প্রয়োগের কারণে এই বিবাহটি আধুনিক পার্লেন্সে মূলত ধর্ষণ করা হয় এবং এটি কখনই সঠিক বলে বিবেচিত হয় না – তাই এটি যুক্ত করা নামী রক্ষাসহ নামটি রাখে। এটি মানুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে এটি একটি অপরাধ। সুভদ্রার সাথে অর্জুনের বিবাহটি দেখতে দেখতে তৈরি হয়েছিল তবে বাস্তবে এটি একটি গন্ধর্ব বিবাহ ছিল কারণ তাদের উভয়েরই প্রেম ছিল এক অগ্রণী এবং তাদের মধ্যে সুভদ্রার ভাই শ্রীকৃষ্ণের সম্মতি ছিল যিনি বলরামকে মতভেদ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এই সাবটারফিউজকেই প্রস্তাব করেছিলেন।
  8. পৈশাচ বিবাহ – যখন চুরি করে কোনও মানুষ ঘুমন্ত, নেশা বা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিত কোনও মেয়েকে প্ররোচিত করে, তখন তাকে পয়শাচ বিবাহ বলে। এটি মনুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে একে ডেট রেপ বলা হয় এবং বেশিরভাগ সভ্য দেশে এটি একটি অপরাধ।

হিন্দু বিবাহ এবং রীতিনীতি প্রকারভেদ
ঐতিহাসিকভাবে বৈদিক বিবাহ ছিল হিন্দু বিবাহ রীতিনীতিগুলির কয়েকটি ভিন্ন ধরনের কিন্তু প্রেমের বিবাহ ঐতিহাসিক হিন্দু সাহিত্যেও দেখা গিয়েছিল এবং বিভিন্ন নামে যেমন গন্ধর্ব বিভা নামে বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু দরিদ্র বৈষ্ণব সম্প্রদায়গুলিতে এখনও কাঁথি-বাদল নামে প্রচলিত রীতি রয়েছে যা কৃষ্ণা প্রতিমার সামনে একাকীত্বের একান্ত সরল রূপ হিসাবে পুঁতির মালা বিনিময়, গ্রহণযোগ্য প্রেম বিবাহের এক রূপ হিসাবে বিবেচিত।

পুরানো হিন্দু সাহিত্যেও এলোপমেন্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ভগবান কৃষ্ণ স্বয়ং রুক্মিনীর সাথে ঘোড়ার রথে যাত্রা করলেন। লেখা আছে যে রুক্মিনীর পিতা তাঁর ইচ্ছের বিপরীতে তাকে শিশুপালের সাথে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন। রুকিমিনী কৃষ্ণকে চিঠি পাঠিয়েছিল যে স্থান ও সময় তাকে তুলে নেবে।

বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের দ্বারা প্রতীকী অনুষ্ঠান অনুসরণ করা
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিবাহিত হিন্দু মহিলারা বিভিন্ন রীতিনীতি অনুসরণ করে। প্রায় সিদুর মঙ্গললসূত্র এবং চুড়ি এক বিবাহিত নারী লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিছু কিছু জায়গায়, বিশেষ করে মধ্যে পূর্ব ভারতে, পরিবর্তে তারা শুধুমাত্র করা সিঁদুর চুল বিভাজিকা উপর, একজোড়া পরিধান শঙ্খ চুড়ি (শঙ্খ), লাল চুড়ি (পাল) এবং বাঁ হাত একটি লোহার বালা তাদের স্বামী যখন জীবিত. দক্ষিণ ভারতে, বিবাহিত মহিলার একটি থালি এবং রূপার টো-রিং নামক একটি স্বতন্ত্র দুলের সাথে নেকলেস পরতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় দু’জনকেই স্বামী তাকে ধরিয়ে দেয়। থালীর দুলটি কাস্টম-ইন এবং এটির নকশা পরিবার থেকে পরিবারে আলাদা।

এছাড়াও এই, বিবাহিত মহিলা তার কপাল নামক একটি লাল সিঁদুর ডট পরেন কুমকুম এবং (যখনই সম্ভব) তার চুল এবং চুড়ি ফুল। মধ্যযুগীয় সময়ে একজন বিবাহিত মহিলা তার স্বামী মারা গেলে এই সমস্ত ছেড়ে দেওয়ার জন্য উত্সাহিত হত। এটি এখন আর অনেক প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের অনুশীলন নয়। কাশ্মীরি তিহ্যে মহিলারা উপরের কানের মাধ্যমে একটি ছোট সোনার চেইন (চেইন থেকে ঝুলানো একটি ছোট সোনার ষড়জাকার পুঁতিযুক্ত) পরেন যা বিবাহিত হওয়ার লক্ষণ। কুমার উত্তরাখণ্ডের বিবাহিত মহিলাটি পিচোদা নামে একটি হলুদ কাপড় পরেন। আসল বিবাহে, হিন্দু নববধূরা উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরেন। একটি লাল শাড়ি বা লেঙ্গা সাধারণত কনে পরেন, তিনি এমনকি একাধিক পোশাক পরতে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমটি হ’ল তিনি তার পরিবার থেকে পোশাক পরে এসেছিলেন এবং দ্বিতীয়টি তিনি তার স্বামী এবং তাঁর পরিবার তাঁকে দিয়েছিলেন এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অর্ধপথে রূপান্তরিত হতে পারেন।

আধুনিকতা
অনেক লোক বিশ্বাস করেন যে সাজানো বিবাহ ভারতে বিবাহের প্রচলিত রূপ; তবে প্রেম বিবাহ একটি আধুনিক রূপ, সাধারণত শহরাঞ্চলে। প্রেমের বিবাহটি বিবাহিত ব্যবস্থার চেয়ে পৃথক যে পিতা-মাতার পরিবর্তে এই দম্পতি তাদের নিজের সঙ্গী বেছে নেয়। হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে, রোমান্টিক প্রেমের বিবাহ যা প্রাচীন কালে গৃহীত হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ মহাভারতের গল্পে দুশায়ন্ত এবং শকুন্তলা । কোথাও কোথাও কোথাও, সাজানো বিবাহগুলি প্রাধান্য পেয়েছিল এবং প্রেমের বিবাহগুলি অগ্রহণযোগ্য বা কমপক্ষে ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, কিছু ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন যে এটি বিদেশী আগ্রাসনের সময়কালে হয়েছিল। কিছু প্রেমের বিবাহ সত্ত্বেও, বেশিরভাগ হিন্দু বিবাহের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সম্ভাব্য দম্পতিরা সাধারণত ঐতিহাসিকভাবে এই ম্যাচের চেয়ে বেশি এজেন্সি রাখেন।

দ্বিতীয় বিয়ে: স্বামী বা স্ত্রী থাকা অবস্থায় আবার বিয়ে – আইন কী বলে?

বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণার ঘটনা বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে স্বামী কিংবা স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় পরবর্তী বিয়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। এসব প্রতারণামূলক ঘটনা থেকে বিভিন্ন সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক জটিলতা ও সহিংসতা্র সৃষ্টি হয় যা বেশিরভাগ সময় আদালতে মোকদ্দমায় গড়ায়। বাংলাদেশে বিয়ে ও বিয়ে-বিচ্ছেদ পারিবারিক ধর্মীয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু বিয়ে সংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে করা স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রথম স্বামীর আইনি প্রতিকার:

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, প্রথম স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাবস্থায় স্ত্রী যদি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তাহলে সেই দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ, অকার্যকর ও বাতিল বলে গণ্য হবে। স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করতে ইচ্ছুক হলে তাঁকে আবশ্যিকভাবে আগে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করতে হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুসারে প্রথম স্বামীকে তালাকের নোটিশ প্রদানপূর্বক ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হওয়া সাপেক্ষে নির্দিষ্ট ইদ্দতপালন শেষে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করা যেতে পারে। এই বিধান লঙ্ঘন করে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়ে বলবৎ থাকাবস্থায় স্ত্রী যদি স্বামীর জিম্মা থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করেন  সেক্ষেত্রে প্রথম স্বামী সেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত স্ত্রী বাংলাদেশের ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড পেতে পারেন। সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

তবে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার এই বিধানের ব্যতিক্রম হতে পারে যদি সেই স্ত্রী তার পূর্বের স্বামীর সাত বছর যাবত কোনো খোঁজ-খবর না পান, অথবা তিনি জীবিত থাকতে পারেন এমন কোনো তথ্য যদি জানা না যায়, তাহলে পরবর্তী স্বামীকে আসল ঘটনা জানিয়ে তাঁর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন। অর্থাৎ এই ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে শাস্তিযোগ্য হবে না।

প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে স্ত্রীর পুনরায় বিয়ে: দ্বিতীয় স্বামীর আইনি প্রতিকার কী?

স্ত্রী যদি দ্বিতীয় বা পরবর্তী বিয়ে করার সময় যাকে বিয়ে করছেন তাঁর কাছে পূর্বের বিয়ের কথা গোপন করেন এবং দ্বিতীয় বা পরবর্তী স্বামী তা জানতে পারেন তাহলে সেটি দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারা অনুসারে একটি অপরাধ। যার ভিত্তিতে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করা হবে, সাথে অর্থদণ্ডও প্রযোজ্য হবে।

কারো বিবাহিত স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে গেলে আইনি প্রতিকার কী?

অন্যের স্ত্রী জানা সত্ত্বেও কোনো বিবাহিত নারীকে কোনো পুরুষ যদি ফুসলিয়ে বা প্ররোচনার মাধ্যমে যৌনসঙ্গম করার উদ্দেশে কোথাও নিয়ে যায় বা একই উদ্দেশে কোথাও আটকে রাখে তাহলে সেটি একটি অপরাধ যা দণ্ডবিধির ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডনীয়, অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। 

স্বামীর অজ্ঞাতে স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার: আইনি প্রতিকার কী?

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচারের শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্মতি ছাড়া যৌনসঙ্গম করে এবং অনুরূপ যৌনসঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবে। যার শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডসহ উভয় দণ্ড। তবে ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকটির কোনো শাস্তির বিধান আইনে নেই।

আইনি প্রতিকার কোথায়, কীভাবে পাওয়া যাবে? 

উপরোক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিকটস্থ থানা বা আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর এজাহার দাখিল করা যায়, থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা যাবে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে বিবাহ নিবন্ধনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও অনলাইন বা ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে এই সুযোগে বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকেন যা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যেকোনো বিয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে, বিয়ের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে, বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান সম্বন্ধে সজাগ থাকতে হবে। ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে এবং বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার হলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। তাহলেই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে আশা করা যায়।

বিয়ের পর অ্যডজাস্টমেন্ট

বিয়ের পর জীবনের একটা সম্পূর্ণ নতুন পর্ব শুরু হয়। জীবনে নতুন মানুষটি ও তার পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে থাকার সূত্রপাতও এখন থেকেই। নতুন কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে বই কী! অনেকে হিমশিম খেয়ে দিশেহারাও হয়ে পড়েন। তাঁদের জন্য রইল অ্যাডজাস্টমেন্ট সম্পর্কে কয়েকটি জরুরি টিপস।

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হোক বা লাভ ম্যারেজ বিয়ের পর সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে বই কী! নতুন শ্বশুরবাড়ি আর নিজের ছোটছোট অভ্যাস, ইচ্ছে, পছন্দ, এই দুয়ের মধ্যে সেতু তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই একটু সমস্যায় পড়ে যান। তবে একটু অ্যাডজাস্টমেন্ট আর বুদ্ধি করে চললে দেখবেন সহজেই অ্যাডপ্ট করে নিতে পারছেন।

বিয়ের পর টাইম ম্যানেজমেন্ট একটা বড় চ্যালেঞ্জ। শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়ির মধ্যে ব্যালেন্স করে চলুন। বিয়ের পরপর কিছুদিন একে ওপরকে সময় দেওয়া খুব জরুরি। তা লাভ ম্যারেজ বা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ যাই হোক না কেন। নতুন সম্পর্কের ভিত দৃঢ় করতে  এবং এতে ওপরকে আরও ভাল ভাবে চিনে নেওয়ার জন্য এই সময়টা খুব জরুরি। তাই বলে বিয়ের পর হ্যজব্যান্ড যদি কোনও একটা উইকঅনেড ওঁর বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতে চায় তাতে বাধা দেবেন না। দেখুন, সোশাল লাইফ তো আপনাদের দু’জনেরই আছে। বিয়ে হয়ে গিয়েছে মানেই সব কিছু বদলে গেল এমন তো নয়। কখনও কখনও টাইম বের করে আপনিও আপনার বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে ঘুরে আসুন।

একসঙ্গে থাকতে গেলে দাম্পত্যে নানারকম সমস্যা আসতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। তাই তাঁর বেড়ে ওঠা, পরিবার, রুচিবোধ, ধ্যানধারণা, অভ্যাসগুলো আপনার থেকে আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই তাঁকে তাঁর মতো করেই গ্রহণ করুন। নিজেদের মধ্যে সমস্যা হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসুন। নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সঙ্গীর দিকটাও বোঝার চেষ্টা করুন।

বিয়ের পর নতুন সংসারে কিছু দায়িত্ব নিন। সংসারের কাজে সবাই হাত লাগলে, ফ্যামিলি বন্ডিংও  দৃঢ় হয়। যদি আপনি স্বামীর সঙ্গে একা থাকেন তাহলে কে কী কাজ করবেন নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিন। দু’জনের সংসারে দায়িত্ব তো দু’জনের উপরই বর্তায়। যেমন ধরুন, উইকএন্ডে ঘর সাফ করার প্ল্যান হলে ঠিক করে নিন কে কোনটা করবেন। কিংবা একসঙ্গেও কোনও একটা কাজ করতে পারেন। একে অপরকে সাহায্য করুন। হালকা মিউজ়িক চালিয়ে গল্প করতে করতে কাজ করে করুন। দেখবেন এতে আপনারা কাজটাকে এনজয় করবেন।

নিজেরদের মধ্যে রোম্যান্স বজায় রাখুন। রোজ দেখা হওয়ায় কাছের মানুষ অনেকটা চেনা হয়ে যায়। এটাকে বোরডম ভাববে না। বরং দেখুন প্রতিদিনই একটু একটু করে আপনারা একে অপরের সঙ্গে আরও বেশি কমফর্টেবল হয়ে উঠবেন।  মাঝে মধ্যে ডেটে যান। একে অপরকে সারপ্রাইজ় করুন। অফিস ফেরত ছোট কোনও উপহার নিয়ে যান। একসঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান। অফিসের কাজ বাড়িতে নিয়ে যাবেন না। ওই সময়টুকু একে অপরেকে দিন। ফোন বা সোশাল সাইটে সময় না কাটিয়ে নিজেরা গল্প করুন।

শ্বশুরবাড়িতে চেষ্টা করুন স্বাভাবিক থাকতে। আপনি তো এখন এই পরিবারেরই একজন, তাই আপনি যেরকম সেরকম ভাবেই থাকুন। শাশুড়িকে সব কাজে সাধ্যমত সাহায্য করুন। শাশুড়ির কাছ থেকে জেনে নিন স্বামী এবং পরিবারের সবাই কী কী খেতে ভালবাসেন। সেই ডিশগুলো হঠাৎ একদিন রান্না করে খাইয়ে সবাইকে সারপ্রাইজ় দিতে পারেন। অফিস থেকে ফিরে কিংবা ডিনার টেবলে সবাই একসঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান। সারাদিন কী হল গল্প করুন। আপনারা যদি আলাদা থাকেন তাহলে চেষ্ট করুন দিনে একবার ফোন করে খোঁজ নিতে। কখনও কখনও উইকএন্ডে একসঙ্গে বেড়াতে যান কিংবা লাঞ্চ বা ডিনার করুন। এতেই সুন্দর সম্পর্ক বজায় থাকবে।

ভালোবাসি হয়নি বলা!

সব সম্পর্কের নাম থাকে না। ভালোবাসি না বলেও ভালোবাসার ভেলায় ভাসতে থাকে কিছু সম্পর্ক। সম্পর্কে পরস্পরের যোগাযোগের মাত্রা ও অভ্যন্তরীণ টানেরও কোন কমতি থাকে না, শুধু থাকে কিছু শর্ত। এ সম্পর্কগুলোর প্রধান শর্ত হল পরস্পরের প্রতি কোন প্রত্যাশা থাকবেনা। অথচ প্রত্যাশার জন্মই হয় ভালোবাসা থেকে।

মনোবিজ্ঞানী ফিন বলেন, ‘সবকিছুর মধ্যেই হতাশা খুঁজে বেড়ানোর বদলে ভালোবাসা আমাদের আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে জীবনকে সামলাতে সহায়তা করে।’

ভালোবাসি না বলেও যে সম্পর্কগুলো ধীরে ধীরে গড়ে উঠে সে সম্পর্কেগুলো তে আবেগের চেয়ে বাস্তবতার বিষয়গুলো বেশী থাকে।

এ ধরনের সম্পর্কগুলোর স্বীকৃতি দেরিতে পেলেও টিকে থাকার সম্ভবনা থাকে বহুদিন।

প্রত্যাশা মানুষের মনের স্বাভাবিক চাহিদা হলেও মানুষ বেশী কষ্ট পায় প্রত্যশা থেকে। যেহতু প্রত্যাশা না রাখা হল এ সম্পর্কগুলোর ধর্ম তাই কষ্টের পরিমাণও পরস্পরের মাঝে কম থাকে।

পরস্পরের ধৈর্য্যের গুণ দ্বিগণ বেড়ে যায় যখন হয়নি বলা ভালোবাসি সম্পর্কের স্বীকৃতি ঘটে।

সারাজীবন এক সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি থাকেনা বলে মানসিক চাপ তুলনামূলক এ সম্পর্কের ব্যক্তিদের কম থাকে।

এ ধরনের সম্পর্ক মূলত বন্ধুত্ব দিয়ে টিকে থাকে। যেকোনো সম্পর্কে বন্ধুত্ব বিষয়টি থাকা প্রয়োজন তাই এ সম্পর্কগুলোর স্থায়িত্বকাল বেশী হয়।

এ সম্পর্কগুলোর আন্তরিকতা বেশী থাকে কেননা এদের মধ্যে ঝগড়ার চেয়ে সমঝতার ব্যাপারটি বেশী থাকে।

এ ধরনের সম্পর্কে ব্যক্তিদের অগ্রিম চাহিদা না থাকার ফলে এরা বেশী সুখী হয়। – একাকীত্ব জীবনের নেতিবাচক প্রভাবের চেয়ে নাম না দেয়া সম্পর্কে নিজেকে ব্যস্ত রাখা ভালো কেননা একাকীত্ব গ্রাস যে কোন ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর।

সম্পর্কে ভালোবাসি শব্দটি হল একটি পর্দা, কেউ এ পর্দা সরিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে। ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি সর্বক্ষণ বলা অসংখ্য সম্পর্ক হারিয়ে যায় নানা প্রতিকূলতার কারনে। আবার অনেকেই ব্যক্তিগত কারনে এ পর্দার আড়ালেই ভালোবাসি শব্দটি না বলেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে বহুদিন।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয় বিয়ের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার জন্য হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এতে বিবাহ নিবন্ধনের বিষয়টি ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের আবেদন ও পদ্ধতি:
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয়ভাবে বিয়ের পর, বিয়ে যে স্থানে হবে, সেই এলাকার নিবন্ধকের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। বর-কনে যৌথ স্বাক্ষর বা টিপসই দিয়ে নিবন্ধনের জন্য লিখিত আবেদন করবে। আবেদনের সঙ্গে বর-কনের পাসপোর্ট আকারের বা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ ছবি সংযুক্ত করতে হবে। তবে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের জন্য হিন্দু পুরুষের বয়স ২১ বছর এবং হিন্দু মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। অন্য কোন আইনে যাই থাকুক না কেন, ২১ বছরের কম বয়সী কোনো হিন্দু পুরুষ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো হিন্দু মেয়ে বিয়ে করলে তা নিবন্ধনযোগ্য হবে না। অতএব, আবেদনের সময় বয়স প্রমান করে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র সাথে রাখতে হবে।

নিবন্ধক কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে আবেদনকারী প্রত্যাখ্যানের ৩০ দিনের মধ্যে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল সম্পর্কে জেলা রেজিস্ট্রারের আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ফি: বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি বিয়েতে নিবন্ধন ফি লাগবে এক হাজার টাকা। এই ফি পরিশোধ করবে বরপক্ষ। বিয়ে-সংক্রান্ত নথির হুবহু নকল পাওয়ার জন্য ১০০ টাকা ফি দিতে হবে।

হিন্দু  বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন জানতে ক্লিক করুন
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=1105

হিন্দু বিবাহ ও বিবাহ-বিচ্ছেদ: কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ

সামাজিক নানা ধরণের সমস্যায় আমরা বিপর্যস্ত। এর মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যা ও বিবাহ-বিচ্ছেদ সুস্থ সমাজ চেতনার পথে অন্যতম বাধা। প্রকৃত আইন না জানার জন্য অনেকেই এই সমস্যায় খুবই বিব্রত হয়ে পড়েন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে হিন্দু বিবাহ ও বিবাহের বিচ্ছেদ নিয়ে কিছু আইনী পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

প্রশ্ন: হিন্দু বিবাহ আইন কবে পাশ হল?
উত্তর: ১৯৫৫ সালের মে মাসে এই আইন চালু হয় এবং সংশোধিত হয় ২০১২ ।

প্রশ্ন: সাধারণত এই আইন কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, ব্রাহ্ম ও আর্য সমাজভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য।

প্রশ্ন: হিন্দুমতে বিবাহ অনুষ্ঠানের কোনও অপরিহার্য অঙ্গ আছে কি?
উত্তর: বিবাহের জন্য প্রচলিত রীতিনীতি পালন করাটা আবশ্যক। সাধারণত হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এই বিবাহের অনুষ্ঠান শুরু হয়; অগ্নিসাক্ষী রেখে সপ্তপদী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহ শেষ হয়।

প্রশ্ন: হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী বিয়ের দুপক্ষকেই (পাত্র ও পাত্রী) কি হিন্দু হতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী উভয় পক্ষকেই, অর্থাত্ পাত্র ও পাত্রীকে অবশ্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতে হয়।

প্রশ্ন: হিন্দু মতে বিবাহের জন্য রেজিস্ট্রি (Registry) করা কি অবশ্যই প্রয়োজন?
উত্তর: না, রেজিস্ট্রি না হলেও বিবাহ অসিদ্ধ হয় না। তবে রেজিস্ট্রেশনটা হয়ে থাকলে পরে অনেক ক্ষেত্রে তা কাজে লাগে। যেমন, ভারতবর্ষের বাইরে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক স্থাপনের জন্য রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের দরকার হয়। হিন্দুমতে বিবাহটি রেজিস্ট্রি করার উদ্দেশ্য হল, হিন্দুমতে যে বিবাহটা হয়েছে – তা পরে প্রমাণ করার জন্য নথিভুক্ত করা।

প্রশ্ন: যখন দুপক্ষই হিন্দু-ধর্মাবলম্বী হয়, সেক্ষেত্রে অন্য কোনও আইন অনুযায়ী কি বিবাহ সম্ভব?
উত্তর: স্পেশাল ম্যারেজ এক্ট অনুযায়ী এই বিবাহ হতে পারে। আবার হিন্দুমতে বিবাহটা স্পেশাল ম্যারেজ এক্টের আইনে রেজিস্ট্রি করা যেতে পারে। তবে এই স্পেশাল ম্যারেজ এক্টে বিবাহ করতে হলে বিবাহের অন্তত ২ মাস আগে লাইসেন্স প্রাপ্ত বিবাহ-রেজিস্ট্রারের কাছে নির্দিষ্ট একটি ফর্ম ভর্তি করে আবেদনপত্র সহ সেটি জমা করতে হয়।

প্রশ্ন: হিন্দুমতে বিবাহ করতে বয়সের কি কিছু বিধি নিষেধ আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এই আইনে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে যে, পুরুষদের ক্ষেত্রে বিবাহযোগ্য বয়স হল একুশ (২১) বছর এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে আঠারো (১৮) বছর। যেহেতু এই বয়সে পুরুষ ও মহিলা সাবালক ও সাবালিকা হয়ে যাচ্ছেন, তাই বিবাহের জন্য ওঁদের বাবা-মা বা অভিভাবকদের অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন: হিন্দুমতে বিবাহের পরে যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মতের মিল না হয়, কিংবা একসঙ্গে তাঁদের পক্ষে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে আইনত তাঁরা কি করতে পারেন?
উত্তর: যদি এমন হয় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতের মিল হচ্ছে না বা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অসুবিধা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে তাঁরা জুডিশিয়াল সেপারেশনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন। আদালত ওঁদের এই আবেদন যথোপযুক্ত ও যুক্তিসংগত মনে করলে, বিবাহ-বিচ্ছেদ না করেও আদালতের মাধ্যমে দুপক্ষের আলাদা হয়ে থাকার বিধান আছে। অনেক সময়ে দেখা যায় যে, দু-পক্ষ আলাদা থাকার ফলে নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো বুঝতে পেরে আবার একসাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু যদি দেখা যায় যে, এক বছর আলাদা থাকা সত্বেও স্বামী-স্ত্রীর মতপার্থক্য কমছে না ও তার মীমাংসার কোনও সম্ভাবনা নেই, সে ক্ষেত্রে যে-কোনও পক্ষ আদালতের কাছে বিবাহ-বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) জন্য আবেদন করতে পারেন।

প্রশ্ন: জুডিশিয়াল সেপারেশন হয়ে যাবার পর কি কোনও পক্ষ আবার বিবাহ করতে পারেন?
উত্তর: জুডিশিয়াল সেপারেশন চলাকালীন কেউ বিবাহ করতে পারেন না, কারণ আইনের চোখে তখনও তাঁরা স্বামী ও স্ত্রী। সেপারেশন হবার পর এক বছরের মধ্যেও যদি দুপক্ষের মিল না হয়, তাহলে আদালতের কাছে বিবাহ-বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) জন্য আবেদন করা যায়। আদালত তা মঞ্জুর করলে, তার পর বিবাহ করার কোনও বাধা থাকে না।

প্রশ্ন: আইনের ভাষায় অসিদ্ধ বিবাহ বলতে কি বোঝায়?
উত্তর : যে সব বিবাহ আইনানুযায়ী হয় নি, তাই অসিদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, যদি পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ বিবাহিত হন এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত অবস্থায় থাকেন, তাহলে তার নতুন বিবাহটা অসিদ্ধ বলে গণ্য করা হবে। আরেকটা উদাহরণ, সম্পর্কের বিচারে পাত্র ও পাত্রী যদি সপিণ্ড হন বা অন্য কোনও নিষিদ্ধ সম্পর্কের (প্রহিবিটেড রিলেশনশিপ) আওতায় পরেন, তাহলে সেই বিয়ে অসিদ্ধ বলে গণ্য করা হবে।

প্রশ্ন: সপিণ্ড ও নিষিদ্ধ সম্বন্ধ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন।
উত্তর : নিষিদ্ধ সম্পর্ক বলতে বোঝায় মামা, পিসি, বিমাতা, ঠাকুমা, ইত্যাদি। এই রকমের আত্মীয়দের মধ্যে যদি বিবাহ হয়, তাহলে তা অসিদ্ধ হবে। সপিণ্ডর সাধারণ অর্থ হল যেক্ষেত্রে দুজনে একই পূর্ব-পুরুষকে পিণ্ড দান করেন। তবে ঠিক কারা সপিণ্ড সম্পর্কের মধ্যে পড়েন আইনে সেটি পরিষ্কার ভাবে উল্লেখিত হয়েছে।

প্রশ্ন: বিবাহ-বিচ্ছেদের কতদিন পরে আবার বিবাহ করা যায়?
উত্তর :সাধারণভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ মঞ্জুর হবার পর আপীল দায়ের করার সময় পেরিয়ে গেলেই যে কোনও পক্ষ আবার বিবাহ করতে পারেন।

প্রশ্ন: স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কি তাঁরা আবার নতুন করে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হতে পারেন?
উত্তর : হ্যাঁ, পারেন।

প্রশ্ন: বিবাহ বিচ্ছেদের পর মহিলারা বা সন্তানরা কি স্বামীর পদবী ব্যবহার করতে পারেন?
উত্তর : বিবাহ-বিচ্ছেদকারিণী মহিলা চাইলে তাঁর বাবার পদবী ব্যবহার করতে পারেন। মহিলার সন্তানরা তাদের বাবার পদবী ব্যবহার করতে পারবে।

প্রশ্ন: যদি কোনও স্বামী বিবাহ বিচ্ছেদ চান, সেক্ষেত্রে তিনি কি তাঁর স্ত্রীর ভরণপোষণ করতে বা তাঁকে খোরপোষ দিতে বাধ্য?
উত্তর : স্ত্রীর নিজস্ব রোজগার না থাকলে, আদালতে আবেদন করে তিনি খোরপোষ পেতে পারেন। কিন্তু স্ত্রীর পর্যাপ্ত পরিমানে নিজস্ব রোজাগার থাকলে কিংবা তিনি আইনের চোখে দুশ্চরিত্রা বলে প্রমাণিত হলে, স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য হবেন না। একই আইন পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাত্, স্বামীর রোজগার না থাকলে, তিনি তাঁর রোজগেরে স্ত্রীর কাছ থেকে ভরণপোষণের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।

প্রশ্ন: স্বামী ও স্ত্রীর যদি শিশু সন্তান এবং সাবালক সন্তান থাকে, সেক্ষেত্রে বিবাহ-বিচ্ছেদের পর সন্তানরা কার কাছে থাকবে?
উত্তর : বাচ্চারা বাবা অথবা মা – যে-কোনও একজনের কাছে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে দু-পক্ষের মধ্যে যদি মতান্তর হয়, তাহলে আদালত এই ব্যাপারে রায় দেবে। আইনের বিধানে সাধারণত ছয় বছর পর্যন্ত বাচ্চারা মায়ের কাছে থাকতে পারে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে শিশু-সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণের ভার বাবাকেও দেওয়া হয়। ক্ষেত্রবিশেষ বলতে মায়ের পুনর্বিবাহ-ঘটিত সমস্যা বা তাঁর চরিত্রহীনতা, অথবা মাতৃগৃহের পরিবেশ শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হওয়া, ইত্যাদি, বোঝাচ্ছে।

প্রশ্ন: যাদি সন্তানরা মায়ের কাছে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাবা কি বাচ্চাদের ভরণপোষণের জন্য টাকা দিতে বাধ্য? দিতে হলে, কতদিন পর্যন্ত তিনি তা দেবেন?
উত্তর : হ্যাঁ, বাবা সন্তানদের জন্য খরচ দিতে বাধ্য। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে এই ভরণপোষণ চলবে তারা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত। মেয়েদের ক্ষেত্রে তাদের বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত।

প্রশ্ন: বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা কি কি কারণে করা যায়?
উত্তর: অনেক কারণেই বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য মামলা করা যায়। যেমন, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের দুর্ব্যবহার অভিযোগ থাকলে, অথবা দুবছরের বেশি অন্য পক্ষ কর্তৃক পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলে, বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য মামলা আনা যেতে পারে। তবে এ দুটি ছাড়াও আরও অনেক কারণের ভিত্তিতে বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা আনা যেতে পারে।

প্রশ্ন: বিবাহ-বিচ্ছেদ মামলা কোন আদালতে আনা যায়?
উত্তর: বিবাহ-বিচ্ছেদের সংক্রান্ত মামলা ডিস্ট্রিক্ট জজ-এর কাছে দায়ের করা যায়। বর্তমানে পারিবারিক আদালতে এই ধরণের মামলা দায়ের করতে হয়।

প্রশ্ন: মিউচিয়াল কনসেণ্ট বলতে কি বোঝায়?
উত্তর : যখন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মতের এতো অমিল যে, তাঁদের পক্ষে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না, তখন দুজনে মিলিত ভাবে আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য। তবে বিবাহের এক বছরের মধ্যে এই আবেদন করা যায় না।

হিন্দু বিবাহ রেজিষ্টারঃ
দেশের প্রত্যেকটি উপজেলা / থানায় সরকার একজন করে হিন্দু বিবাহ রেজিষ্টার নিযুক্ত করেছেন।  যাদের তথ্য জেলা প্রশাসকের ওয়েব সাইটে রাখা হচ্ছে।  
22