লাভ ম্যারেজ নাকি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ

অজানা-অচেনা মানুষকে হুট করে বিয়ে করতে নারাজ থাকেন অনেকেই। আবার দীর্ঘদিনের চেনা মানুষটির সঙ্গেও বিয়ের পর বিবাহবিচ্ছেদ হতে পারে। এমনও জুটি আছেন, যাদের রীতিমতো সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছে কিন্তু তারা আগে হয়তো একে অন্যকে চিনতেন না। তবে বিয়ের পর সম্পর্কে কোনোদিন ভাঙন ধরেনি!

আসলে দাম্পত্য জীবন নিয়ে আগে থেকেই কোনো ধারণা করা উচিত নয়। সবাই সুখী হতে চায়, কেউ সুখী হয়; কেউ হয় না। তবে লাভ ম্যারেজ হওয়ার পর দাম্পত্য কলহ বা বিচ্ছেদের বিষয়টি সবারই নজর কাড়ে।

এজন্য গুরুজনেরা বলে থাকেন, প্রেমের বিয়ে টিকবে না! কেউ কিন্তু বলে না অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ টিকবে না! বরং গুরুজনেরাই উপদেশ দিয়ে থাকেন, সম্বন্ধের বিয়ে স্থায়ী হয়। অনেকেই ভেবে থাকেন, তাহলে কোন বিয়েতে সুখী হওয়া যায় লাভ না-কি অ্যারেঞ্জ?

যেভাবেই বিয়ে হোক, সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করতে হবে 

সম্বন্ধ করে বিয়ে ঠিক হলেও আগে কয়েক বছর চুটিয়ে প্রেম করুন। এতেই বুঝতে ও চিনতে পারবেন পরস্পরকে। এর ধারণা পাবেন, বিয়ের পরে আপনাদের সম্পর্কটা কেমন হবে।

দু’জন আলাদা মানুষ যখন একসঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন; তখন পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দ মেনে নিয়ে চলতে হবে। একে অন্যের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে বিয়ে করলেও মনে রাখা জরুরি, আপনি যেমন আপনার সঙ্গী তেমন নাও হতে পারেন!

লাভ ম্যারেজের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখুন, বিয়ের আগে ও পরে কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়। বিয়ের আগে যদি প্রেমিক আপনাকে সারাদিন ফোন করত কিন্তু বিয়ের পর যখন সে দিনে ২ বার ফোন করবে; তখন বিষয়গুলো মানিয়ে না নিলেই কলহ হবে।

প্রেমের সময় অনেকেই সঙ্গীকে নানাভাবে সুখী করার স্বপ্ন দেখায়। লাভ ম্যারেজের পর দেখা যায় সেসব আর ঘটে না; তখন সঙ্গী সেগুলো মনে করিয়ে দিয়ে কলহ সৃষ্টি হতে পারে। তাই লাভ ম্যারেজ করার আগে বিষয়গুলো নিয়ে একবার ভেবে দেখবেন।

তরুণীরা যেমন পাত্র পছন্দ করেন!

মেয়েদের বিয়ের বিষয়ে যেন নিজে থেকে কিছু বলতে নেই। ছেলে দেখতে-শুনতে যেমনই হোক তাতে কি; ছেলে তো প্রতিষ্ঠিত! পরিবারের পছন্দ হয়েছে তো – ব্যাস; এখন বিয়েটা হয়ে যাক।

না! এভাবে মেয়ের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিবেন না। আপনি অবশ্যই মেয়ের জন্য যোগ্য পাত্র খুঁজবেন তবে মেয়ের কেমন জীবনসঙ্গী পছন্দ তা আগে জেনে নিন ।

একটি মেয়ে জীবনসঙ্গী নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে, কল্পনায় গুছানো সংসারের ছবি আঁকে কিন্তু মেয়েদের পছন্দ কে আমাদের সমাজে অনেকাংশেই গুরুত্ব দেয়া হয় না যা অনুচিত।

তরুণীরা যেমন পাত্র পছন্দ করেঃ

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ পাত্র পছন্দে নারীরা সব থেকে বেশী প্রাধান্য দেয় যে বিষয়ে তা হল শিক্ষাগত যোগ্যতা। কেবলমাত্র আর্থিক সচ্ছলতার জন্য নয় এক্ষেত্রে একজন শিক্ষিত পুরুষের মানবিক মানসিকতা নারীর কাছে মুখ্য।

মতের বা মানসিকতার মিলঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নেহাল করিম বলেন – ‘এখন পাত্র-পাত্রী উভয়েই খুব সচেতন। তাঁরা নিজেরাই পছন্দ করে বিয়ে করছেন। এ ক্ষেত্রে শারীরিক সৌন্দর্যের চেয়ে তাঁদের সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মিলের বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, বিয়ের ক্ষেত্রে আইনি বন্ধনই বড় নয়, মানসিক বন্ধনটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

বর্তমানে মেয়েরা চায় তাদের জীবনসঙ্গী এমন হবে যার সাথে মতের মিল থাকবে। বছরের পর বছর একটি মানুষের পছন্দের বা মতের সাথে নিজের জীবন বলি দেয়ার বিষয়ে মেয়েরা আজকাল বেশ সতর্ক।

কর্মঠ সঙ্গীঃ

পুরুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, চাকরি বা ব্যবসা করছে কিন্তু কর্মঠ নয় এরকম পাত্র নারীরা পছন্দ করেনা। বর্তমান শিক্ষিত নারীরা এ বিষয়ে বেশী সচেতন। নারীরা যেমন পুরুষদের উপর এখন আর নির্ভরশীল হতে চায় না তেমনি কর্মঠ নয় এমন পুরুষও তাদের পছন্দ নয়।

পোশাকে রুচিশীলঃ

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুচিহীন পোশাকের পুরুষদের কোনো কিছুই নারীদের আকর্ষণ করে না। সাধারণত চলতি ফ্যাশন নারীদের কাছে প্রিয়। ভালো পোশাকই ব্যক্তির রুচির পরিচায়ক।

সঠিক বয়সের পার্থক্যঃ

আজকাল নারীরা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছে তেমনি জীবনসঙ্গিনীর বয়সের ব্যবধানের বিষয়ে বিশেষ পছন্দ রাখছে। পুরুষের বয়সসীমা নারীর বয়সসীমার চেয়ে বেশী ব্যবধান হলে এখনকার নারীরা বিয়ের সম্মতি দিতে নারাজ। একজন জীবনসঙ্গী বাছায়ের জন্য স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পাত্রের পাত্রীর চাইতে ৩-৫ বছরের বয়সের পার্থক্য থাকা উচিত।

শারীরিক সুস্থতাঃ

এখন আর পূর্বের মত পাত্র বাছায়ে নারীরা শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য ও ক্যারিয়ারের কারণে পাত্র পছন্দ করে ফেলেন না। পাত্রের শারীরিক গঠন ও সুস্থতা নিয়ে সচেতন নারীরা। ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পাত্র/পাত্রীর সুস্থতার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়।

সৎ এবং বিশ্বস্তঃ

সঙ্গী সৎ এবং বিশ্বস্ত হবে এমনটা প্রতিটি নারী আশা করেন। তারা চান সঙ্গী যেন অবশ্যই সৎ হয়। নারীরা সততার মাপকাঠিতে পুরুষকে সবার আগে যাচাই করেন তার বিশ্বস্ততা।

ব্যক্তিত্ববানঃ

ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষদের নারীরা বেশি পছন্দ করে থাকেন। কারণ ব্যক্তিত্ববান পুরুষ সঙ্গীর পাশাপাশি অন্যের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম। কোন পুরুষ দেখতে আকর্ষণীয় না হলেও ব্যক্তিত্ববান হলে নারীরা তাদের পছন্দ করেন।

মানবিক গুণাবলীঃ

ব্যক্তির আচরণে তার মানবিক ও মানসিকতার প্রকাশ পায়। নারীকে কে নারী হিসেবে না দেখে নারীকে মানুষ হিসেবে দেখবে, সম্মান করবে, ইচ্ছে কে প্রাধান্য দিবে, সফলতা কে শ্রদ্ধা করবে, স্বাধীনতা দিবে। এসকল মানবিক গুনাবলিগুলো একজন জীবনসঙ্গীর মাঝে থাকবে এরকমটাই নারীরা চান।

কথা বলার ধরনঃ

একজন মানুষের কথা বলার ধরণের উপর ঐ ব্যাক্তির অনেকগুলো দিক ফুটে উঠে। একজন পুরুষের কথা বলা যত মার্জিত-ভদ্র ও আকর্ষণীয় হবে নারীরা সহজেই সে পুরুষের উপর আকৃষ্ট হয়ে উঠে।

কাজে গোছালোঃ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ নারীরা স্বাবলম্বী। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা বাহিরে কাজ করছে তবে অনেক নারীকে চাকরির পাশাপাশি একা ঘর সামলাতে হচ্ছে। তাই নারীরা চায় এমন জীবনসঙ্গী পেতে যারা ঘরের কাজে সহায়ক ও গোছালো হবে।

পৃথিবীতে সমস্ত গুণাবলীর ভাণ্ডার নিয়ে কোনো পুরুষই জন্মায়নি। সবদিক থেকে গুণাবলীসম্পন্ন পুরুষ সঙ্গী মেলা ভার। কিছু মৌলিক জিনিস আছে যেগুলো নারী-পুরুষের চাওয়ার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে পাওয়ার মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য আছে। সবার দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু এক নয়। আপনার চোখে যা সুন্দর অন্যের চোখে তা তেমন সুন্দর নাও হতে পারে। নারীর পছন্দ, অপছন্দ চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদির বিস্তর সন্ধান করেছেন গবেষকরা। অনাবৃত রয়েছে অনেক রহস্য।

অস্ট্রেলিয়ান মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড মনে করেন -মেয়েদের মন পুরুষদের চেয়ে অনেক পরিষ্কার থাকে। আর সে কারণে মেয়েরা তাদের মনটাকে ঘন ঘন বদলান। আবার তাদের অনেক প্রিয় বিষয় আছে যা তারা একেবারেই বদলান না।

আত্মবিশ্বাসী মানুষ যেভাবে চিনবেন

আত্মবিশ্বাস আর প্রেরণা একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দুয়ের সম্মিলনেই সফলতা আসে জীবনে। কিন্তু আমাদের সমাজে গোমড়া মুখে ঘুরে বেড়ানো মানুষেরও অভাব নেই। এদের ভিড়ে আত্মবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা কম হলেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আত্মবিশ্বাসীদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। সেসব দেখে চিনে নিতে পারেন আপনার আশপাশের আত্মবিশ্বাসীদের। পাশাপাশি নিজের জীবনে সেসবের চর্চায় আপনিও হয়ে উঠুন আত্মবিশ্বাসী। উইম্যানেটলি ডটকম এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে জানিয়েছে।

শরীরী ভাষা
অনেকেই আছেন যাঁরা সামনে থাকা মানুষটির সঙ্গে কোনো বাক্যবিনিময় ছাড়াই তাঁর সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যান। আত্মবিশ্বাসীরা অন্যদের প্রভাবিত করেন তাঁদের শরীরী ভাষার মাধ্যমে। তাঁরা সাধারণত স্থির স্বভাবের। হাঁটাচলাই করুন বা বসেই থাকুন, তাঁদের শরীরী ভঙ্গিমা দেখেই অন্যরা বুঝতে পারবেন তাঁর বিশেষত্ব। এক দল লোকের মধ্য থেকে সহজেই তাঁকে আলাদা করতে পারবেন আপনি। আত্মবিশ্বাসীরা যখন যার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন।

সংক্রামক হাসি
আত্মবিশ্বাসী মানুষ জীবনের সব মুহূর্তেই ইতিবাচক থাকেন। এরা খুব একটা ভেঙে পড়েন না। ভালো অনুভূতি এবং নিজের জীবনের হাসি-আনন্দও তাঁর চারপাশে থাকা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন আত্মবিশ্বাসীরা। এমনকি অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বললেও এঁরা নিজের আত্মবিশ্বাসটাকে ওই মানুষটির মধ্যে ছড়িয়ে দেন। খুব বেশি মাত্রায় আত্মবিশ্বাসীরা অপরিচিত লোকদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, হাসতে পারার ক্ষমতাই তাঁদের ইতিবাচক জীবনযাপনে সাহায্য করে। তাই হাসি-খুশি থাকুন। চারপাশের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করুন। দেখবেন ভেতর থেকে ভালো লাগা কাজ করছে এবং ভালো থাকতে পারছেন।

তাঁরা অন্যের মনে ব্যথা দেন না
আত্মবিশ্বাসী মানুষ আরেকজন মানুষের নেতিবাচক দিক নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। কারণ তাঁরা নিজেদের নিয়েই থাকেন। বরং তাঁরা প্রিয়জনকে সহযোগিতা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কারোর ব্যাপারে কথা বলার সময় অনেক হিসাব করে কথা বলেন। পেশাগত জীবনই হোক বা ব্যক্তিজীবন, আত্মবিশ্বাসীরা নিজের কাজের বিষয়ে সব সময় মনোযোগী থাকেন।

যোগাযোগের সূতিকাগার
এটা সত্যি যে অপরিচিত কারোর সঙ্গে কথা বলতে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসীরা এ বিষয়ে উল্টো পথের যাত্রী। তাঁরা মনে করেন, অপরিচিতদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হলে কিংবা কথা বললে নতুন কোনো কাজ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। তাই নতুন কারোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর প্রয়োজনে তাঁরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

ভিন্ন কিছু করা
আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি অনেক সময় এমন কিছু করেন যেটা অন্যদের চোখে স্বাভাবিক মনে না-ও হতে পারে। মূল কথা, তিনি আসলে নতুন কিছু করতে মোটেও ভয় পান না। জীবনের জটিল কোনো সময়ে তিনি ভেঙে না পড়ে এমন কিছু করেন যেটি তাঁকে সফলতা এনে দেয়। আত্মবিশ্বাসী মানুষ জানেন এটি অস্বাভাবিক, তবে তিনি এ-ও জানেন, তিনিই সেরা!

অন্যকে মূল্যায়ন করা
নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করতে হলে আত্মবিশ্বাসী মানুষজন যা করেন সেটির চর্চা করুন। আত্মবিশ্বাসীরা অন্য কেউ ভালো কিছু করলে সেটির বাহবা দিতে ভুল করেন না। অন্যের কাজের মূল্যায়ন তাঁরা ঠিকভাবেই করেন।

হাসি মুখে প্রশংসা গ্রহণ
আত্মবিশ্বাসী মানুষ কেউ প্রশংসা করলে হাসি মুখেই তা বরণ করেন। এটি তাঁর স্বভাবে থাকা বন্ধুসুলভ আচরণের প্রকাশ। অনাকাঙ্ক্ষিত কারও কাছ থেকে প্রশংসা পেলে হাসি মুখে সেটা নিতে না পারলেও এ জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভোলেন না।

সংগ্রহীত পোষ্ট

ইসলামী বিবাহরীতি

ইসলামী বিয়ে হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। মুস‌লিম বিয়েতে দেনমোহর ধার্য করা হয় ছেলের আর্থিক সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী। “বিবাহ সংগঠিত হবে না অভিভাবক ও দু’জন সাক্ষী ব্যতীত। বিয়ের সময় একজন উকিল থাকেন।

ইসলাম ধর্মে বিবাহের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের মধ্যকার যৌন সম্পর্কের অনুমতি রয়েছে। ইসলামী বিবাহরীতিতে পাত্র পাত্রী উভয়ের সম্মতি এবং বিবাহের সময় উভয়পক্ষের বৈধ অভিভাবক বা ওয়ালীর উপস্থিতি ও সম্মতির প্রয়োজন।

ইসলামী বিবাহে যৌতুকের কোন স্থান নেই। বিয়ের পূর্বেই পাত্রের পক্ষ হতে পাত্রীকে পাত্রীর দাবি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা অর্থসম্পদ বাধ্যতামূলক ও আবশ্যকভাবে দিতে হয়, একে দেনমোহর বলা হয়। এছাড়া বিয়ের পর তা পরিবার পরিজন ও পরিচিত ব্যক্তিবর্গকে জানিয়ে দেয়াও ইসলামী করনীয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একজন পুরুষ সকল স্ত্রীকে সমান অধিকার প্রদানের তার চাহিদা অনুসারে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে।

আর সমান অধিকার দিতে অপারগ হলে শুধু একটি বিয়ে করার অনুমতি পাবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের অনুমতি নেই। ইসলামে একজন মুসলিম একজন অমুসলিমকে বিয়ে করতে পারবে যদি উক্ত অমুসলিম ঈমান আনে (ইসলাম গ্রহণ করে)।

ইসলামে, বিবাহ (আরবি: نِكَاح‎, প্রতিবর্ণী. নিকাহ‎) হল বিবাহযোগ্য দুইজন নারী ও পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রনয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। ইসলামে কনে তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে| একটি আনুষ্ঠানিক এবং দৃঢ় বৈবাহিক চুক্তিকে ইসলামে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বর ও কনের পারষ্পারিক অধিকার ও কর্তব্যের সীমারেখা নির্ধারণ করে| বিয়েতে অবশ্যই দুজন মুসলিম স্বাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে| ইসলামে বিয়ে হল একটি সুন্নাহ বা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ এবং ইসলামে বিয়ে করার জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিয়ে ইসলামী বিবাহের মৌলিক বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। পাশাপাশি, ইসলামে সন্ন্যাসজীবন এবং কৌমার্যেরও কঠোর বিরোধিতা করা হয়েছে। ইসলামে তালাক অপছন্দনীয় হলেও এর অনুমতি আছে এবং তা যে কোন পক্ষ হতে দেওয়া যেতে পারে অর্থাৎ ইসলামে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই তালাক দেওয়ার অধিকার রাখে।

ইসলামী আইন অনুসারে, বিবাহ – বা আরও বিশেষত বিবাহের চুক্তিকে নিকাহ বলা হয়, একটি আরবি শব্দ যার মূল আক্ষরিক অর্থ ছিল “যৌন মিলন”, তবে যা ইতিমধ্যে কুরআনে রয়েছে তা বিবাহের চুক্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক লিখিত আরবি’র ওয়েহর-কোয়ান ডিকশনারি-তে নিকাহকে “বিবাহ; বিবাহ চুক্তি) হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

বিবাহ

এই ‘বিবাহ’ শব্দের অর্থ কী?
এর অনুসন্ধান থেকে কি প্রথার খোঁজ মিলতে পারে? দেখাই যাক। ‘বিবাহ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে বি-পূর্বক বহ্ ধাতু ঘঞ্–এর সমন্বয়ে। শব্দটির এই মূলের দিকে তাকালে বোঝা যায়, কাউকে বহন করে আনাকেই বিবাহ বলে। তবে এমন ব্যাখ্যায় বিপদ অনিবার্য। কারণ, মোটাদাগে অর্থটিকে গ্রহণ করলে এমন অনেক কিছুর সঙ্গেই আমাদের ‘বিবাহ’ সম্পাদন হয়ে যেতে পারে, যা আদতে প্রয়োগমূল্য রাখে না।

বিবাহ বা বিয়ে হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সাধারণ ভাবে বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিছু সংস্কৃতিতে, যে কোন প্রকারের যৌন কর্মকাণ্ডে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন করাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হওয়া অথবা বিবেচনা করা হয়। বিশদ বিবৃত সংজ্ঞার ভাষায় বলতে গেলে, বিবাহ হল একটি বৈশ্বিক সার্বজনীন সংস্কৃতি। বিবাহ সাধারণত কোন রাষ্ট্র, কোন সংস্থা, কোন ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, কোন আদিবাসী গোষ্ঠী, কোন স্থানীয় সম্প্রদায় অথবা দলগত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে। একে প্রায়শই একটি চুক্তি হিসেবে দেখা হয়।

সাধারণত আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় অথবা ধর্মনিরপেক্ষ আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। বৈবাহিক কার্যক্রম সাধারণত দম্পতির মাঝে সমাজ-স্বীকৃত বা আইনগত দায়িত্ববোধ তৈরি করে, এবং এর মাধ্যমে তারা বৈধভাবে স্বেচ্ছায় সন্তানসন্তানাদির জন্ম দিতে পারে। বিশ্বের কিছু স্থানে, পরিবার-পরিকল্পিত বিবাহ, শিশু বিবাহ, বহুবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিবাহ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হয়। বলা বাহুল্য, আন্তর্জাতিক আইন ও নারী অধিকার বিষয়ক উদ্যোগের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখিত বিবাহরীতিগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনগত স্বীকৃতির ক্ষেত্রে, অধিকাংশ সার্বভৌম রাষ্ট্র ও অন্যান্য বিচারব্যবস্থা বিবাহকে দু’জন বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যে সীমিত করে এবং এদের মধ্যে হাতে গোনা কিছু রাষ্ট্র বহুবিবাহ, শিশুবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়।

বিগত বিংশ শতাব্দীতে এসে, ক্রমবর্ধমানভাবে বহুসংখ্যক রাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিচারব্যবস্থা আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিবাহ, আন্তঃধর্মীয় বিবাহ এবং অতি সাম্প্রতিকভাবে সমলিঙ্গীয় বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এদেরকে আইনগত স্বীকৃতি নিয়েছে। কিছু সংস্কৃতি তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেয় এবং কিছু স্থানে রাষ্ট্রের আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শিশুবিবাহ এবং বহুবিবাহ সংঘটিত হয়ে থাকে। বিবাহের মাধ্যমে পরিবারের সূত্রপাত হয়। এছাড়া বিবাহের মাধ্যমে বংশবিস্তার ও উত্তরাধিকারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিবাহের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কিত পুরুষকে স্বামী (পতি) এবং নারীকে স্ত্রী (পত্নী) হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। স্বামী ও স্ত্রীর যুক্ত জীবনকে “দাম্পত্য জীবন” হিসাবে অভিহিত করা হয়। বিভিন্ন ধর্মে বিবাহের বিভিন্ন রীতি প্রচলিত। একইভাবে বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রথায় বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বিবাহ মূলত একটি ধর্মীয় রীতি হলেও আধুনিক সভ্যতায় এটি একটি আইনি প্রথাও বটে। বিবাহবহির্ভুত যৌনসঙ্গম অবৈধ বলে স্বীকৃত এবং ব্যভিচার হিসাবে অভিহিত একটি পাপ ও অপরাধ।

এই সম্পর্ক আমাদের জন্য ভালো হবে না

সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের। বন্ধু, পরিবার সবাই জানে আপনাদের প্রেমের কথা। ধীরে ধীরে টের পাচ্ছেন সম্পর্কটার ছন্দ আগের মতো নেই। কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। আলোচনার মাধ্যমেই হয়তো সিদ্ধান্ত নিলেন এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার…

প্রেমে পড়তে নিষেধ নেই। ভালোবাসা কোনো কিছু মানে না। মানমর্যাদা, সামাজিকতার বিধিনিষেধ পেরিয়ে প্রেমের জয়জয়কার। জয়ধ্বনি তুলতে তুলতে হঠাৎ যদি প্রেমের ফোলানো বেলুনটি আলপিনের খোঁচায় চুপসে যায়, তখন কী হবে! প্রেমের এত সুর আর এত গান যদি ভালো না লাগে তখন কী করা? ভালো লাগা মানে হচ্ছে, রাস্তা থেকে পছন্দ হলে সেই ফুলটি ছিঁড়ে নেওয়া! শুকিয়ে গেলে বা গন্ধ চলে গেলে তা ছুড়ে ফেলা! আর ভালোবাসা হচ্ছে ফুলগাছটির পরিচর্যা করা। প্রেম থাকবে সারা জীবন। তাই এর সঠিক পরিচর্যা করা প্রয়োজন জীবনভর। একে টিকিয়ে রাখতে চাইলে চাই উভয় পক্ষের সমঝোতা। যত ঝড়ঝাপটা আসুক না কেন, কেউ তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অস্থিরতা, লোভ, লাভক্ষতির হিসাবনিকাশ করলে প্রেম থাকে না।

অনার কিলিং প্রথা আমাদের দেশে চালু নয়। কিন্তু সে রকম পারিবারিক, সামাজিক টানাপোড়েন কিন্তু অস্বীকার করা যায় না। ঝাঁজ ও ঝকমারিও বেশ রয়েছে।

একজন ১৮-১৯ বছর বয়সী মেয়ে এল। সঙ্গে তার মা। মেয়েটি রাগে মরে যেতে চাইছে। কারণ, ওর সহপাঠীর সঙ্গে এক বছর ধরে সম্পর্ক চলছিল। এটা জানার পর থেকে ছেলেটির মা ওকে ফোনে বিভিন্নভাবে তাঁর ছেলে থেকে দূরে থাকতে বলছিলেন। মেয়েটি যত দূর পারে এড়িয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়েটি ভদ্রমহিলাকে জানায়, তার মাদকাসক্ত ছেলেটিই পিছু ছাড়ছে না। তখন ছেলেটির মা তাকে যা নয় তা বলে। টিনএজ মেয়েটি গালাগাল ও নোংরা কথার উত্তর দিতে পারেনি। এখন সে অপমানের জ্বালা সইতে পারছে না।

আগে ভাবলে পরে পস্তাতে হবে না
* প্রেমে যে পড়েছেন তার গন্তব্য কী? ‘টাইম পাস’ না সারা জীবনের জন্য গাঁটছড়া বাঁধার ইচ্ছা।
* যে সময় দুজন একসঙ্গে কাটালেন, এই সময়ে দুজনার মতের মিল-অমিল কতখানি মেপে নিন।
* একজনের পছন্দ-অপছন্দ অন্যজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কতখানি। বুঝে নিন।
* প্রেমে পড়লেই তো চলে না। এর পেছনে খরচও আছে। খরচ চালানো বড় একটা ব্যাপার বটে। মেয়েটি ভাবে, ছেলেটি সব সময় কিছু না কিছু খাওয়াবে, যাতায়াতের খরচ বহন করবে। কিন্তু ছেলেটি যদি ছাত্র হয়, তবে তাকে মা-বাবার পকেট কেটেই চলতে হয়।

* আবার এমনও দেখা গেছে, মেয়েটি ছেলেটির টিউশন ফি থেকে শুরু করে বাদাম খাওয়ার খরচ পর্যন্ত দিচ্ছে। আর জন্মদিন, ভালোবাসা দিবস, বন্ধু দিবস, প্রথম দেখার দিন—কত কিছুই না তালিকায় আছে। প্রেমে শত ঝকমারি। খরচের ক্ষেত্রে কার হাতখোলা, কে কৃপণ, কে প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে; কে কতখানি বন্ধুবৎসল বুঝতে হবে।

* সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরস্পরের পরিবারের সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
* পেশাজীবন নিয়ে কে কী ভাবছেন, তা দুজনের কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।
* প্রেমের মধুর দিনগুলোয় সজাগ থাকাই ভালো। গড্ডলিকায় ভেসে যাওয়া চলবে না।
* আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বাস্তবতাকে মেনে নিতে মানসিক প্রস্তুতি যেন থাকে।
* ভুলেও ফাঁদে পড়া চলবে না। সুখের মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করুন। কিন্তু একান্ত মুহূর্তগুলো দাম্পত্য জীবনের জন্য রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

* সেলফি নিষেধ নয়। সুন্দর প্রেমের মুহূর্ত স্মৃতিছবির ফ্রেমে থাকুক—সেটা সবার কাম্য। কিন্তু সেই ফ্রেমে আপত্তিকর যেকোনো সম্পর্ক একদম এড়িয়ে চলা উচিত।
* ক্ষণিকের আবেগের জোয়ারে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের নানা ছবি সৃষ্টি হয়ে যায়। কিন্তু ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কা মনে রাখতেই হবে।

* ভিডিও বা ফটো ব্ল্যাকমেলিং এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সাবধানতা কাম্য। কোনোভাবেই নিরাপদ ও সহজ স্বাভাবিক প্রেম-বন্ধুতার বেশি চাওয়া পাওয়ায় জড়ানো ঠিক নয়।
* ডেটিংয়ের নামে অচেনা কোনো জায়গা, হোটেল, বন্ধুর বাসা নিরাপদ নয়।
* জীবন থেকে পলায়ন প্রেম নয়; প্রেমে পড়ে দূরে কোথাও কোনো হারিয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

* প্রেমে পড়াকে দুর্ঘটনা ভাবলে চলবে না। ভুল প্রেম থেকে ফিরে আসার সাবধানতা থাকতে হবে। আপসে মুক্তির বা বিচ্ছেদের পথ যেন খোলা থাকে।
* প্রেমের আবেগে পরিবারকে ভুললে চলবে না; বরং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক, পারিবারিক মোড়কে সমাধানের উদ্যোগ থাকলে সেটা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
* সারা জীবনের জন্য দুর্গতি ও কান্না কি না—প্রেমের পর্বে মনে রাখা চাই।
* প্রেম ছেলেখেলা বা টাইম পাস নয়। প্রেম হলো একটি সম্ভাবনাময় সুখের সংসারের ভিত্তি।

কীভাবে সরে আসবেন
মনোরোগবিদেরা এমন সমস্যার কাউন্সেলিংয়ে যে বিষয়ে গুরুত্ব দেন, তা হলো হুট করে রাগারাগির বশে; মাথা গরম করে সম্পর্ক ভাঙতে নেই। সেটা প্রচুর পার্শ্ব সমস্যার সৃষ্টি করে।
* দুয়ে দুয়ে চার না হলে মুশকিল। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। অযথা ঝগড়া করে লোক হাসিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই।

* সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো অনুভব করছেন, তা মনের মধ্যে পুষে রেখে বা চাপা দিয়ে কোনো লাভ নেই। এতে দুজনার সুসম্পর্কের মুহূর্তগুলো হারিয়ে যাবে। তিক্ততার সম্পর্ক বাসা বাঁধবে। সময় থাকতে নিজেদের নাখোশ মনোভাব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করুন।
* দোষারোপের ভঙ্গিতে নয়। শান্ত ভঙ্গিতে আলাপচারিতাই কাম্য। কেন সরে আসা—তার ব্যাখ্যা ও যুক্তি মাথায় সাজিয়ে সমঝোতামূলক বিচ্ছেদ উত্তম।
* বলতে না পারলে কষ্ট হলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের মাধ্যম যেমন ফোন, ফেসবুক থেকে নিজেদের সরিয়ে নিন।

* সরে আসার পর্বে বিশ্বস্ত বন্ধুবান্ধব; সহানুভূতিশীল নিকটাত্মীয়দের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যেতে পারে। সেটা নানা অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা ও বিপদকে প্রশমন করবে।
* কার কী ভুল, তা নিয়ে উত্তেজনা, উগ্রতা ও রাগ পরিহার করে আত্মোপলব্ধি ও আত্মমূল্যায়নের সঠিকতা নির্ণয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

* কোনো ধরনের অপরাধমূলক প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের আশঙ্কা থাকলে সেটা নিয়ে অতি গোপনীয়তার চেয়ে আইনি সুরক্ষা চিন্তা করা যেতে পারে।
আগে-পিছে দেখে চল, কাঁটা ফুটবে পায়ে; চোরকাঁটা হলে পরে তারে তোলা যায়; কিন্তু প্রেমের কাঁটা দুধারী তলোয়ার—কেবল প্রেমকেই বিষায় না, জীবনকেও বিষিয়ে তুলতে পারে। তাই আগাম সাবধানতাই সর্বাত্মক কাম্য।

তারপরও প্রেম কি বাধ মানে?
আড়ালে-আবডালে প্রেম নিয়ে চলে অভিভাবকদের নানা সমীকরণ। ছেলে-মেয়ে একে অপরকে শর্তহীন পছন্দ করলেও উভয় পক্ষের গুরুজন পরস্পরের বিত্তবৈভবের দিকে নজর রাখেন। ছেলের বাড়ির তরফ থেকে উচ্চশিক্ষিত মেয়ে খুব কাম্য নয়।

নরম-শরম গোবেচারা কি না, সেটা বড় কাঙ্ক্ষিত। গাত্রবর্ণ নিয়েও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। মেয়ের বাবা-মায়ের তরফে প্রতিষ্ঠিত ছেলে; একনামে চেনে এমন পরিবারই পছন্দ। যখন এই চাওয়াপাওয়াগুলো গোলমেলে হয়, তখনই সামাজিক, পারিবারিক আপত্তির বাজনা বেশি বাজা শুরু হয়।

এত সমস্যা জানার পরেও প্রেমে পড়তে বা করতে মনে মনে সবাই আগ্রহী। প্রেমের রসায়ন প্রথম যৌবনের ঘূর্ণিঝড়। এর ঝাপটা কমবেশি সব প্রাণকেই করে আলোড়িত ও শিহরিত। দিল্লিকা লাড্ডুর মতো।

স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রথম বর্ষ থেকেই প্রেম। মেয়েটি অপেক্ষাকৃত ভালো ছাত্রী। প্রেম বলে কথা। দখল দেখভাল কম নয়। ছেলেটি ক্রমেই মেয়ের চলাফেরা, কার সঙ্গে কথা বলবে কি বলবে না তাতে বাধা দেওয়া শুরু করে। ক্যাম্পাসে সবাই মিলে ছেলেমেয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, তা মানতে নারাজ প্রেমিকটি। যখন-তখন রাতে ওর মোবাইল ফোনে মিসড কল বা কল দিয়ে চেক করে, মেয়েটির ফোন ব্যস্ত কি না। ব্যস্ত থাকলে ওর বন্ধুদের সামনে বকাঝকা শুরু করে। মেয়েটির বান্ধবীরা ওকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলেছিল। তারপরও অন্যায় আচরণগুলো সে মেনে নিয়েছিল। একদিন সবার সামনে ওকে ছেলেটি কথায় কথায় চড় মেরে বসে। পুষে রাখা দীর্ঘদিনের রাগ চাপতে না পেরে মেয়েটিও সজোরে চড় মেরে দেয়। শোধবোধ। পেছনে না তাকিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসে সে। তারপর লেখাপড়ায় বেশ বিরতি। ছেলেটি ভয়ভীতি দেখায়—ভয়ংকর কোনো কাণ্ড করবে। হেনস্তা, অপমান করবে বন্ধুদের নিয়ে। উড়োচিঠি দেয়। অন্তরঙ্গ কিছু ছবি, ভিডিও ক্লিপস ফাঁস করার ব্ল্যাকমেলিং করতে শুরু করে।

এমন গল্প আমাদের যাপিত জীবনে কমবেশি চারপাশে সব জায়গায় ঘটছে। মহানগর থেকে মফস্বলের ছোট শহরে।

লিখেছেনঃ সুলতানা আলগিন, সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সঙ্গীর মন খারাপ

মনখারাপের কথা মুখ ফুটে বলে উঠতে পারেন না অনেকেই। ঠিক কী কারণে কেউ মানসিক চাপে ভুগঠেন, তা সবসময় বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যায় না! যে মানুষটাকে সবসময় হাসিখুশি দেখেন, তিনিই হয়তো ভিতরে ভিতরে খুব ‘ডিস্টার্বড’, মনোকষ্টে ভুগছেন।

#ডিপ্রেশন’ বা #মেন্টাল_হেলথ নিয়ে এত কথার মাঝে আমরা সকলেই বলছি মনখুলে কথা বলার জন্য। কিন্তু সবার কাছে কি আর সব কথা বলা যায়! না সবাই সবকিছু বুঝে সমাধানের রাস্তা দেখাতে পারেন! তবে প্রফেশনাল হেল্প নেওয়ার আগে একবার যদি নিজের কাছের মানুষের কাছে মনের জানলা খুলে দেওয়া যায়, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া যায়, তাহলে হয়তো অনেকটা কষ্টই লাঘব হবে।

অনেকে স্বভাবগতভাবেই নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে রাখেন, ইন্ট্রোভার্ট থাকতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার বাইরের মানুষের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করলেও মনের ভিতরের অনুভূতি-আবেগগুলোকে নিজের কাছেই রেখে দেন। আপনার স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনারকে যেহেতু আপনি খুব কাছ থেকে দেখছেন, তাই তাঁর মনোজগতের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করুন। মনখারাপ চেপে রাখতে রাখতে তা একটা সময়ে ক্রনিক ডিপ্রেশনে পৌঁছে যায়। তখন সাইকলজিক্যাল সাহায্য নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ডিপ্রেশন হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয় না।

কিন্তু জমতে থাকা স্ট্রেস, অ্যাংজ়াইটি মনের মধ্যে পুষে রাখলে তা পরবর্তীকালে গুরুতর রূপ নিতে পারে। আর এব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাছের মানুষের সাহচর্য। লকডাউনে অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়টুকু নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠুন। একে অপরকে ভাঙার বদলে গড়ে তুলুন। জবস্ট্রেস থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কোনও হঠাৎ আঘাত থেকে পুরনো ট্রমা…যে কোনও কিছুই তিনি যেন আপনার কাছে খোলাখুলি বলতে পারেন। তাঁর বন্ধু হয়ে ওঠা জরুরি। যাতে তিনি কোনওকিছু আপনার থেকে না লুকোন।

মনে রাখবেন, সঙ্গীর মন ভাল রাখতে তাঁর সঙ্গে আপনার কমফর্ট লেভেলটা ভাল হওয়া জরুরি। কমিউনিকেট করুন। অনেক কাপলই সারাদিন একসঙ্গে থাকলেও নিজের নিজের জগতে ব্যস্ত থাকেন! পাশে বসে থাকলেও মোবাইল-ল্যাপটপে ডুবে থাকেন। কথোপকথনের বড্ড অভাব। এমনটা মোটেও কাম্য নয়। তা সে সুস্থ সম্পর্কের জন্যই হোক বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই হোক! বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়েও আলোচনা করুন। তাঁর পছন্দমতো করে খানিকটা সময় কাটান।অনেকসময় কোনও ব্যক্তির ভাললাগার বিষয়গুলোর মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক ফুটে ওঠে। যেমন কেউ হয়তো লেখালেখি করতে ভালবাসেন। তাঁর লেখার মধ্যে দিয়েও তাঁর মনের হদিশ পেতে পারেন। সবমিলিয়ে এত নেগেটিভিটির মধ্যেও পজ়িটিভ এনার্জি ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে আমাদেরই! #বিবাহবিডি #Bangladeshi Bride Groom #Bangladeshi Matrimonial Site #Matrimony Bangladesh.

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কেন করতে হবে?

প্রশ্নটির উত্তর অতি ব্যাপক। সংক্ষেপে, সামাজিক মর্যাদা এবং আইনগত অধিকার রক্ষার জন্যই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা অতি জরুরি। রেজিস্ট্রেশন ব্যাতীত আপনি আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সাক্ষ্যগত মূল্য বহন করে। রেজিস্ট্রেশন ব্যাতিত বিবাহ প্রমাণ করা কঠিন ফলে মেয়েদের প্রতারিত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় সবচেয়ে বেশি। দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের অভিভাবকত্ব ইত্যাদি দাবির ক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রিশন বা বিবাহের কাবিননামা আইনগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কাবিননামার গুরুত্ব ব্যাপক। কাবিননামায় বয়স উল্লেখ করতে হয় বিধায় বাল্য বিবাহ রোধও সম্ভব। এটি বিবাহিত ছেলে-মেয়ে উভয়ের ভবিষ্যত আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করে। বিবাহ সম্পর্কে উভয় পক্ষ থেকেই যে কোন সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, তখন কাবিননামা প্রমাণ পত্র হিসেবে কাজ করে।

অন্যদিকে, আইনের দৃষ্টিতে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাই সকল বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা আইনত আবশ্যক।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কী এবং কেন?

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে সরকারিভাবে বিবাহকে তালিকাভুক্তি করা। সরকারের নির্ধারিত ফরমে বিবাহের তথ্যবলী দিয়ে এই তালিকাভূক্তি করতে হয়। তালিকাভূক্তি ফরমটিকে কাবিননামাও বলে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজী বা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনটি ২০০৫ সালে সংশোধনী আনা হয় এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ওই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন হবার সঙ্গে সঙ্গেই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বিবাহ সম্পন্ন করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজীর নিকট বিবাহের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং কাজী উক্ত তথ্য প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের এসব বিধান লঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ বাতিল হয় না তবে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধি বিধান নেই। তবে ২০১২ সালে প্রণীত “হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন” অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধনের বিধান থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এরূপ বিধান নেই। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে রাখা যেতে পারে।


কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় :

২০০৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) সংশোধিত আইন অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হবার সাথে সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হলে ৩০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি করতে রেজিস্ট্রেশন সরকারি ফি দিতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয়। ধার্য্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ টাকা হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি এর মোট পরিমাণ ১০০ টাকার কম হবে না এবং ৪০০০ টাকার উপর হবে না। এই ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তন হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের।

আইন অনুযায়ী বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বা শর্ত যেমন, বর কনের বয়স, উভয়ের সম্মতি, দেনমোহর, তালাক প্রদানের ক্ষমতা ইত্যাদি পূরণ সাপেক্ষে কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। খ্রিস্টান বিবাহের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহ সম্পাদন করবেন তিনিই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর কাজী উভয়পক্ষকে রেজিস্ট্রেশন ফরম বা কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদান করবেন।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সুফল-কুফল :
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করলে আইনগত কিছু সুফল পাওয়া যায় কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না করলে কুফলও রয়েছে অনেক, যেমন রেজিস্ট্রেশনের ফলে,

১) উভয় পক্ষ বিবাহ অস্বীকার করার আইনত সুযোগ থাকেনা এবং এর দ্বারা সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা আরোপিত হয়।
২) রেজিস্ট্রেশনের ফলে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ণয় সহজ হয়।
৩) স্ত্রী তার প্রাপ্ত দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় বা দাবি করতে পারে।
৪) সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ণয় করতে সহজ হয়।
৫) স্বামী দ্বিতীয় বিবাহের জন্য উদ্যোগী হলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
৬) রেজিস্ট্রেশনের ফলে বাল্য বিবাহ রোধ সম্ভব হয়।
৭) রেজিস্ট্রেশনের ফলে স্ত্রী ডিভোর্স দেয়ার ক্ষমতা প্রাপ্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বৈধতা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা যায় না। রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার ফলে স্বামী অথবা স্ত্রী উভয়ই আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত বা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আবার, রেজিস্ট্রেশন না করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। মোট কথা, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একদিকে যেমন বাধ্যতামূলক অন্যদিকে এটি একটি সামাজিক এবং পারিবারিক প্রামাণ্য দলিল।

তথ্য সুত্রঃ advocateregan.com

কর্মজীবি নারী ও ডিভোর্স

মিতা আর আসিফ।  প্রতিষ্ঠিত, সফল।  ১০ বছরের বিবাহিত জীবনে আসে নি সন্তান। গত দুই বছরে বদলে গেছে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ। হারিয়ে গেছে প্রেম। দাম্পত্য কেবল হয়ে গেছে রোজকার রুটিনমাফিক নাশতা বানানো কিংবা অফিসে যাবার মতো একঘেয়ে। সেক্সুয়াল আর্জ কিংবা এক্সাইটমেন্টও নেই আগের মতো। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললো মিতা। এভাবে নয়। নতুন করে জীবন শুরু করবে সে, আসিফকে ছাড়াই।

আরেকটি গল্প।  আবির ও সুমী দুজনেই ব্যবসায়ী। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে।বিয়ের দুই বছরের মধ্যে সুমী গর্ভধারণ করলো। ধীরে ধীরে সুমী বুঝতে পারলো তার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে আবির।  আবিরের অভিযোগ সুমীর মেজাজ নিয়ে। অসম্ভব জেদি, একরোখা মেয়ে। তার চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব। প্রথমে ভালোবাসার তোড়ে এসব অভিযোগ গুরুত্ব পায় নি। কিন্তু আবির ধীরে ধীরে সুমীকে দূরে সরিয়ে দিতে শুরু করলো। সুমীর শারীরিক কিছু সমস্যাও ছিলো যা তাকে কখনো কখনো দুর্বল করে দিতো। ধীরে ধীরে সুমী আরো অসুস্থ হয়ে পড়লো যার তার গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। মাত্র সাত মাস বয়সে সন্তানটি মৃত্যুবরণ করে। মানসিক যন্ত্রণায় সুমী ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো। তার কিছুদিন পরেই ডিভোর্স লেটার পাঠায় আবির।

এধরণের ঘটনা এখন অহরহ দেখা যায় আমাদের সমাজে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরো চিত্রটি আরো ব্যাপক। এই লেখাটি কর্মজীবি মহিলাদের ডিভোর্স সংক্রান্ত।

বাংলাদেশে ডিভোর্সকে এখনো ভীষণ নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। তাই বলে ডিভোর্স থেমে নেই। কর্মজীবি মহিলাদের ডিভোর্সের পেছনের কারণগুলো পর্যালোচনা করলেই কিছু বিষয়কে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আত্মোন্নয়নের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত সচেতন। একজন কর্মজীবি নারী তার কর্মস্থলে একজন পুরুষের সমান লয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর তাই যখন সে দেখতে পাচ্ছে, পরিবারে তার স্বামী তাকে মূল্যহীন বলে মনে করছে, তখনই শুরু হচ্ছে দ্বন্দ্ব।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একজন উপার্জনক্ষম নারী ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন হয়। তার নিজস্ব মর্যাদাবোধ ও বিশ্বাস গড়ে উঠে। এই বিশ্বাসে আঘাত একজন মানুষ হিসেবে তার জন্য মেনে নেয়া কঠিন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এখনো আমাদের সমাজে ডিভোর্সকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। তাই নারীরা অনেকসময় নিজের চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে সংসার টিকিয়ে রাখতে চায়। শারীরিক মানসিক নির্যাতন সহ্য করে জীবন অতিবাহিত করে।

ডিভোর্সকে যদি আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে চাই, হয়তোবা আরো অনেক কারণ বেরিয়ে আসবে। এখন প্রশ্ন হলো, ডিভোর্স কি দোষের কিছু? বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই ধরে নেয়া হয়, এই মানুষটির সাথে সারাজীবন অতিবাহিত করতে হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই দুটি ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা দুটি মানুষের মূল্যবোধ, বিশ্বাস সবকিছুই দুইরকম। সাধারণত দেখা যায়, যেসব বিয়ে হাই কনফ্লিক্ট ম্যারেজ, তাদের মধ্যে ডিভোর্সের হার সবচেয়ে বেশি। আসুন এবার একটু গভীরে চিন্তা করি। একটু অভাব হলেই আমরা ভাবি, এই সম্পর্ক আমাকে কী দিচ্ছে? আমার কাছে সমাজ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ না আমি? যদি সমাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে নিজেকে প্রশ্ন করি, এই সমাজ আমাকে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী কী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আবার একইভাবে কী কী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডিভোর্স ঠিক না বা ডিভোর্স খারাপ, এই বার্তাগুলো আমার বার্তা না আমার সমাজ বা অভিভাবকের বার্তা?

সকল প্রশ্নের একই উত্তর আসে আমার কাছে। একমাত্র আমিই পারি আমার জীবনকে গড়ে তুলতে। সেক্ষেত্রে সম্পর্ক একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যখন দুটি মানুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের এধরণের কোন চিন্তা থাকে না যে, এই বিয়ের সম্পর্ক কখনো ডিভোর্সে গড়াতে পারে। কিন্তু যখন দুজনের মধ্যে মতোবিরোধ তুঙ্গে ওঠে, একসাথে থাকা দুঃসহ হয়ে যায়, তখন হয়তো এ দম্পতি ডিভোর্সের চিন্তা করে।

একজন নারীর পক্ষে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়াটা আমাদের সমাজে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। আবার যদি সন্তান থাকে তবে সমস্যার গভীরতা আরো বেশি। নারীরা অনেক সময় নিজেকে দোষী বলে মনে করে। সমাজের বিদ্রুপ কর্মজীবি নারীদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। নিজের উপর ভরসা রাখুন। কর্মজীবন আপনাকে সিদ্ধান্ত নেয়া শিখিয়েছে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন। নিজেকে দোষী ভাবার কোন কারণ নেই।

ডিভোর্স একটি মানসিক আঘাত

দাম্পত্য সম্পর্কের উপর একটি বড়ো আঘাত এটা বহন করা খুব কঠিন। এ সময় একজন রাগ, ক্ষোভ , একা থাকার অনিশ্চয়তা, ভয়, অপরাধবোধে ভোগে। অন্যকে বিশ্বাসঘাতক মনে করার প্রবণতা, নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাও খুব স্বাভাবিক।

অনেকক্ষেত্রে এর বিপরীত অর্থাৎ মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির এক দৃষ্টান্ত হিসেবে ডিভোর্সকে দেখা হয়।

বিবাহবিচ্ছেদের পর জীবন হতে পারে ভীষণ কষ্টসাধ্য। প্রত্যেকটি মেয়ের নিজের জীবন বিশেষ করে বিবাহিত জীবন নিয়ে একটি পরিকল্পনা থাকে। এই পরিকল্পনায় একজন কর্মজীবি নারী কী কী বিষয় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন সেটা যদি দেখি তবে প্রথমেই বলা যায়, ঘটনাটিকে মেনে নেয়া। মেনে নেওয়া যে, আমি এখন কারও স্ত্রী নই। বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা শোক পালনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী করার অর্থ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা। প্রয়োজন নতুন জীবন মেনে নেয়া। নতুন আশা জাগ্রত করা।  ডিভোর্স কেবল বিচ্ছেদ নয়, এটা নতুন জীবনের আভাসও।

কর্মজীবি নারীর করণীয়

এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে গমনের যে মানসিক চাপ তা থেকে নিজেকে একটু সরিয়ে আনার জন্য একজন কর্মজীবি নারী যা করতে পারেন:

  • প্রথমত, নিজের আবেগগুলোকে প্রাধান্য দেয়া। আবেগের সাথে থাকা। নিজের কষ্টগুলো অনুভব করা। কী হচ্ছে তাতে মনোযোগ দেয়া। নিজের সাথে নিজে কথা বলা।
  • নিজের শরীরের যত্ন নেয়া। শারীরিক ব্যায়াম বা কাজে ব্যস্ত থাকলে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, রাগসহ সকল নেতিবাচক অনুভূতি থেকে দূরে থাকা যায়।
  • নিজের পছন্দ অনুযায়ী সময় কাটানো। গল্পের বই পড়া, বিশ্রাম নেয়া, ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুর সাথে সময় কাটানো। সর্বোপরি ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন মানুষের সাথে সময় কাটানো।
  • অফিসে বা বাসায় যে সমস্যাগুলো আয়ত্বের বাইরে, তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার কিছু নেই। খুব গভীরে ঢুকে নিজের কষ্ট বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
  • খুব দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকা। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। একজন কর্মজীবি নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত শক্তিশালী।
  • সর্বোপরি একজন কাউন্সেলরের সাথে দেখা করার বিষয়টি মাথায় রাখা যেতে পারে। একজন কাউন্সেলর ব্যক্তির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে আত্মনির্ভলশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারেন।

সবশেষে বলতে চাই, ডিভোর্স অর্থ পরিবর্তন। ডিভোর্স একটি জীবনে কোনো না কোনোভাবে পরিবর্তন আনে। বিশ্বাস রাখুন নিজের উপর। আপনিই পারবেন, জীবনের সকল কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করতে। একজন কর্মজীবি নারী হিসেবে বলতে পারি, কর্ম আমাদের আত্মনির্ভরশীল ও আত্মসচেতন করে তোলে। কর্মজীবি নারীদের সহযোগীতা লাভের নেটওয়ার্ক অন্য নারীদের তুলনায় শক্তিশালী। কাজেই এই নেটওয়ার্ক থেকে ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন মানুষগুলো হতে পারে আপনার শক্তির উৎস। অথবা আপনার কাজই হতে পারে আপনার শক্তির উৎস।কাজেই ডিভোর্স কখনো একজন কর্মজীবি নারীকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সে এগিয়ে যাবেই। সমাজ বিবাহবিচ্ছেদকে নেতিবাচক চোখে দেখলেও আপনিই পারে জীবনকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে নতুনভাবে সাজাতে। একজন নারী হিসেবে আপনার দক্ষতাকে আরও তীক্ষ্ণ করতে।

লিখেছেন: সুমাইয়া আনোয়ার
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ , সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর এবং লেকচারার হিসেবে কর্মরত

সরাসরি পাত্রী দেখার কৌশল

বায়োডাটা দেখার কাজটি শেষ করেছেন, এখন দু পক্ষের সরাসরি সাক্ষাত প্রয়োজন।  

যদিও ছবি ও বাস্তবের মানুষের মাঝে ফারাক থাকে তবু যে মানুষ ছবিতে অসুন্দর সে বাস্তবে সুন্দর হওয়ার সম্ভাবনা কম।  এতে আপনার অনেক সুবিধা হবে এবং অনাকাংক্ষিত ঝামেলা ও খরচ হতে রেহায় পেয়ে যাবেন।

অনেকেই আপনাকে অনেকভাবে প্রলোভন দেখাবে, অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলবে।কিন্ত মনে রাখবেন সবার সৌন্দয্যবোধ এক রকম নয় আবার অনেকে শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য আপনাকে মেয়ে দেখাতে পারে তাই বায়োডাটা দেখে আগেই বাছাই করে নেয়া ভাল।

পাত্রী দেখার কৌশল গুলো বিবেচনায় রাখা ভালো

  • যখন পাত্রী দেখতে যাবেন তখন যতটা সম্ভব আধুনিক ডিজাইনের পোষাক পড়ুন।  দামী এবং ভাল মানের মিষ্টি নিতে ভুলবেন না।
  • যতটা সম্ভব নিজের মধ্যে একটা ভদ্র বজায় রাখুন কিন্তু কথনে অভদ্র আচরন করবেন না এবং কোন প্রশ্নের প্রতি প্রশ্ন বা অতি উত্তর দেবেন না।
  • যখন কনে দেখবেন তখন সবার প্রথম দেখবেন তার হাত, কারন হাত দেখে তার মুখের রং সম্বন্ধে আসল ধারনা পাবেন।
  • কনের শারীরিক গড়ন বোঝার জন্য শাড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখলেই ভালো আর এজন্য প্রয়োজনে মেয়ে পক্ষকে আগে হতে বলে রাখা যেতে পারে।
  • মেয়ের সাথে একলা (পাত্র নিজে) কথা বলুন –
    এটা শুধু আধুনিকতার জন্যই জরুরী নয় বরং জরুরী তার মন-মানসিকতা বোঝার জন্য।  আরও বেশি জরুরী তার বাবা মা যে জোর করে তার বিয়ে দিচ্ছে না অন্তত তা পরিষ্কার হ্ওয়ার জন্য।  

    এসময় অবশ্যই যে প্রশ্নটি করতে পারেন তা হল –
    আমরা তো একটা সম্পর্কের জন্য এখানে মিলিত হয়েছি, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? বা জেনে নিতে পারেন তার কোন ব্যক্তিগত পছন্দের মানুষ আছে কি না? মেয়ের উত্তর হতে তার মনোভাব বুঝতে পারবেন।  আর এক্ষেত্রে কোন প্রকার লাজ-লজ্জার কোন অবকাশ নেই কারন এতে দুটি মানুষের সারা জীবনের প্রশ্ন জড়িত।
  • মেয়ের উচ্চতা বোঝার জন্য আশপাশের কারো সাথে তার উচ্চতার তুলনা করতে পারেন।
  • খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে কখনই আগ বাড়িয়ে কিছু নেবেন না আর অতি ভোজন তো কখনই নয়।
  • প্রথম দেখায় হতো আপনার পাত্রীকে ভাল নাও লাগতে পারে এবং আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারেন যে এখানে আপনি বিয়ে করছেন না তারপরও আপনা আচরনে সেটা বুঝতে না দেওয়াই উত্তম কারন এতে কন্যা পক্ষ মনে শুধু খুব কষ্টই দেওয়া হবে না বরং আপনার ভবিষ্যৎ পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রেও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  সুতরাং ভদ্র আচরনের কোন বিকল্প নাই।
  • একসময় পাত্রীর অনেক কিছু খুটিয়ে দেখা হত, তার চুল হতে শুরু করে পায়ের পাতা পযর্ন্ত ।কিন্তু এখনকার যুগে তা সম্ভব নয়।  কিন্তু সম্ভব না হলেও যতটা সম্ভব বেশি সময় নিয়ে দেখবেন এবং পরিবারের তাদেকেই সাথে নিবেন যাদের ভাল লাগা এবং না লাগার উপর আপনার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।  পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে দল বেঁধে পাত্রী দেখতে যাবেন না।  

    তবে হ্যাঁ পরিবারের সব সদস্যকে রাজি করিয়ে বিয়ে করবেন – এমনটা আশা না করাই ভাল।  কারন ঐ যে আগেই বলেছি সবার সৌন্দয্যবোধ এক রকম নয়।  সেক্ষেত্রে আপনি নিজের বাবা-মা এবং নিজের মতামতকে প্রধান্য দিন।
  • কনে দেখার পর কখনই পাত্রী পক্ষকে আপনাদের সিদ্ধান্ত জানাতে দেরী বা তাড়াহুড়া করবেন না। আবার খুব রুঢ়ভাবে কখনই কাউকে প্রত্যাখান করবেন না।  আমাদের সমাজে অনেকেই আছে যারা বিয়ে নামক পবিত্র সম্পর্কটাকে একটা ব্যবসায়িক তথা লাভ ক্ষতির ব্যাপার মনে করেন।

তারা অর্থ বিত্ত ও সামাজিক অবস্থান লাভ করার একটি হাতিয়ার হিসাবে বিবাহকে বিবেচনা করে যা নিঃসন্দেহে একটি নিন্দনীয় কাজ।  দুটি মানব-মানবীর ভাল লাগা, ভালবাসাই হতে পারে বিয়ের মূলমন্ত্র অন্য কিছু নয়।  অনেকেই একটি পাত্রী দেখার পর আরো ভাল অফারের খোঁজে নেমে পড়েন এবং আগের পক্ষকে হ্যাঁ/না কিছুই বলেন না।  

অনেক সময় আপনার অনেক নিকট আত্মীয় এরুপ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।  তখন যদি তাদের কথায় কান দেন তবে শেষে একুল-ওকুল দুকুলই হারাতে পারেন।  সুতরাং এমনটা কখনই করবেন না।

কেননা বিয়ে শুধু একটা সামাজিক অনুমোদন নয় বরং দুটি মানব-মানবীর সারাজীবন এক সাথে কাটানো জন্য জীবন সঙ্গী হিসাবে পরস্পরকে কাছে পাবার একটা দরজা বিশেষ। যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করা খু্বই সোজা।  কিন্ত আমরাই এই কাজটি জটিল করে তুলি।  সুতরাং আসুন সকল প্রকার জটিলতা পরিহার করে সচেতন ভাবে খুঁজে নেই নিজের মনের মানুষটিকে।

লিখেছেনঃ রফিকুজ্জামান