বিয়ের প্রস্তাব কাকে দিবেন;কিভাবে দিবেন

বিয়ে মানুষের জীবনে নতুন এক অধ্যায়। অনেক নারী ও পুরুষ আছেন বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিলেও যাকে ভালো লাগে তাকে প্রস্তাব দিতে সংকোচবোধ করেন। এর প্রধান কারন অযাচিত ভয়; যদি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান হয়!

বিয়ের প্রস্তাব দেয়া মূলত তখনই সহজ হবে যখন আপনি বিয়ের প্রস্তাব কাকে দিবেন এ বিষয়টি যাচাই করে নেন। আপনার যেমন জীবনসঙ্গিনীর বিষয়ে কিছু প্রত্যাশা রয়েছে তেমনি বিপরীত ব্যক্তির মনেও রয়েছে নিজস্ব কিছু চাহিদা ও পছন্দ।

যে বিষয়গুলো দেখে ব্যাক্তি কে বিয়ের প্রস্তাব দিবেনঃ

ব্যাক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার থেকে অনেক কম বা বেশী হবে এমন কারও কথা না ভাবাই ভালো।

যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন, তার আর আপনার পেশা, সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক কালচার, ভবিষ্যতে দুজন পেশাগত বিষয়ের দিকগুলো মানিয়ে নিতে পারবেন কি না। এ বিষয়টি অবশ্যই খেয়ালে রাখবেন।

দুই পরিবারের অবস্থা কতটুকু সামঞ্জস্যক তা দেখা উচিত।

আগে জানার চেষ্টা করুন তার ব্যক্তিত্ব আর আপনার ব্যক্তিত্বে মিল রয়েছে কিনা বা মিলিয়ে নেয়ার মত কিনা।

ব্যাক্তির সাথে আপনার বয়সের ব্যবধান কত।

যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন সে মানসিক দিক থেকে বিয়ের জন্য প্রস্তুত আছে কি না জেনে নিন।

যাকে পছন্দ করছেন তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর আগে তার সাথে আলোচনা করে জেনে নিন, অথবা বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝার চেষ্টা করুন।

যেভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিবেনঃ

সাক্ষাতের জন্য এমন একটি পরিবেশ বাছাই করুন অথবা তৈরি করুন যে পরিবেশে পছন্দের ব্যক্তি মানসিক ভাবে উৎফুল্ল থাকে।

সময় ও দিন নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেদিন আপনি ব্যক্তির সাথে দেখা করতে যাবেন সেদিনটি দুজনের ছুটির দিনটি বেঁছে নিন ও সময় বিবেচনা করে দেখা করুন, যেনো কোন তাড়াহুড়ো না থাকে।

আকর্ষণীয় উপহার দিতে পারেন অথবা সম্ভব হলে তার পছন্দ জেনে প্রিয় কিছু উপহার দিন।

তার সাথে এমন ভাবে আচরণ করুন যেন সে যতটুকু সময় আপনার সাথে থাকবে অবশ্যই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

আপনি তাকে পছন্দ করেন, বিয়ের কথা ভাবছেন; এ কথাটি এক লাইনে না বলে তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করুন, আপনি তাকে কেন বিয়ে করতে চাচ্ছেন।

বিবাহবিডিতে যাদের প্রোফাইল আছে তারা তাদের পছন্দের বিষয়গুলোকে প্রধান্য দিয়ে মুহুর্তের মধ্যেই জীবনসঙ্গী খুঁজতে পারেন। এবং সরাসরি অথবা বিবাহবিডির এক্সিকিউটিভদের মাধ্যমে প্রোপোজাল পাঠাতে পারেন।

বিবাহবিডিতে আপনি আপনার পছন্দের প্রফেশন, পাত্র-পাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা, আর্থিক অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান অবস্থান, বর্ন, গোত্র, ধর্ম সহ ১৮ টি সার্চ ক্যাটাগরীর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কাংখিত সঙ্গীকে সহজেই খুঁজতে সক্ষম হবেন।

তাছাড়া আপনার প্রদত্ত সঙ্গী বাছাইয়ের বিবরন (পার্টনার প্রেফারেন্স) এর সাথে মিলিয়ে বিবাহবিডি সার্চ ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডাটাবেইজের সেই সব প্রোফাইল খুঁজে আপনার সামনে এক নিমিষেই হাজির করে।

প্রথম প্রেম কি সত্যি ভোলা যায় না!

প্রেম একটি মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও আকর্ষণ। মানুষের মনে যে কোন বয়সে বিভিন্ন চাহিদা ও আকর্ষন জাগ্রত হয় যেমন- রুপ, গুণ, ব্যক্তিত্ব, কারও সঙ্গ ভালো লাগা ইত্যাদি।

প্রেম জীবনে একবার নয় বার বার আসতে পারে। আবার এ কথাও বহুল প্রচলিত যে প্রথম প্রেম কখনও ভোলা যায় না। প্রথম প্রেম কি সত্যি ভোলা যায় এ নিয়ে রয়েছে অসংখ্য বানী, বিতর্ক ও গবেষণা।

যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফারসন সিঙ্গার বলেন-

অধিকাংশ মানুষের ১৫-২৬ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কে মেমোরি বাম্প বা আকস্মিক স্মৃতির একটি বিষয় থাকে। আকস্মিক স্মৃতির বিষয়টি যাদের থাকে তারা বেশি স্মৃতিকাতর বা স্মৃতি রোমন্থন করেন। এই স্মৃতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইতিবাচক স্মৃতি হয়। এ কারণেই ১৫-২৬ বছর বয়সের সময় প্রথমবারের মতো অভিজ্ঞতা নেওয়া জিনিস স্মৃতিতে ফিরে আসে। আর তা মনের পর্দায় ভেসে ওঠে বারবার।

কারও কারও ক্ষেত্রে প্রথম প্রেম ভোলা যায় না আবার কারও কারও ক্ষেত্রে প্রথম প্রেম ভোলা সম্ভব। যারা বলেন ভোলা যায় না তাদের মতে, অধিকাংশ মানুষই আবেগ কন্ট্রোলে রেখে ভুলে থাকার অভিনয় করে। প্রথম প্রেম বিষয়ে লেখক সাহিত্যিক দেরও রয়েছে অসংখ্য বানী।

তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন, সে জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন

– কাজী নজরুল ইসলাম।

হুমায়ূন আজাদের মতে,

দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পরে তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম।

মানুষের জীবনে প্রেম কখন, কিভাবে, কার সাথে ঘটবে কেউ তা জানে না। তেমনি কারও জীবনে প্রথম প্রেম টিকতে পারে আবার নাও পারে। অবশ্যই মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভিন্ন তাই কারও প্রথম প্রেম মধুর হতে পারে আবার কারও ক্ষেত্রে পরবর্তী কোন প্রেম।

তবে প্রথম প্রেম ভুলে থাকা সম্ভব কেননা মানুষ প্রেমে পরে মানসিক আকর্ষণ বা চাহিদা থেকে আর তা যে কোন সময় বা বয়সে হতে পারে।

প্রথম প্রেম সম্পর্কে ধারনাঃ

কিছু মানুষ মনে গেঁথেই রেখেছে প্রথম প্রেম ভোলা যায় না অথচ মানুষ যুক্তি দিয়ে চিন্তা করেনা এ কথা সবার জন্য প্রযোজ্য কিনা।

মানুষের বয়সের সাথে চাহিদার পরিবর্তন ঘটে তাই মানুষ কয়েকবার প্রেমে পরে। মানুষ মূলত মনে রাখে প্রেমের মধুর বা তিক্ত মুহূর্তগুলো আর ভুলে যায় ব্যাক্তি কে। যেমন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনার প্রাক্তন দেখেতে কেমন ছিল তা স্পষ্ট আপনার চোখে যতটুকু ধরা পরে এর চেয়ে স্পষ্ট আপনি দেখতে পাবেন তার সাথে কাটানো আনন্দ মুহূর্ত গুলো। কারন সময়টা ছিল আপনার বয়সের চাহিদা।

আবার দেখুন, যে এখন আপনার জীবনসঙ্গী সে যখন আপনার প্রেমিকা ছিল সে প্রেমের সময় তার সাথে কাটানো মুহূর্ত, তার ছোঁয়া আপনার কাছে যেমনটা ভালো লাগতো এখন তার অনুভূতি গুলো কিন্ত ভিন্ন শুধু ব্যক্তি এক। কারন আপনাদের বয়সের সাথে চাহিদা এখন ভিন্ন।

মানুষ স্মৃতিচারন করতে ভালোবাসে আর তাই আনন্দের স্মৃতি মনে করে আনন্দিত হয় আর কষ্টের স্মৃতি মনে করে হতাশা হয়। আর তাই অনেকেই এ বিষয়কে প্রথম প্রেম মানেই ভোলা যায় না তে আটকে আছে।

প্রেমে পড়ার বিষয়ে পশ্চিম বাংলার সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ লিখেছেন- “ভালবাসা হচ্ছে তীরের মত। তীর থেকে বেরিয়ে গেলে সে বেরিয়েই যায়। তীর তার লক্ষ্য বস্তকে বিঁধতে পারবে কি পারবে না – সেটা সেই তীরন্দাজের কপাল। কিন্তু ভালবাসা তো আর পোষা কুকুর নয় যে, তু তু করে ডাকলেই আবার ফিরে আসবে।

প্রথম সাক্ষাতেই মেয়েদের যে বিষয় গুলো লক্ষ্য করে ছেলেরা!

হঠাৎ পরিচয় হলো একজন পুরুষের সাথে। বেশ কিছুক্ষন কথাবার্তাও হলো। বেশ আন্তরিক মানুষ বলেই মনে হলো তাকে প্রথম পরিচয়ে। মনে মনে মানুষটি সম্পর্কে অনেক কিছু ভেবে নিলেন আপনি। আচ্ছা, আপনারও কি জানতে ইচ্ছে করছে সেই মানুষটি আপনার মাঝে কী দেখলো? এমন কৌতুহল হতেই পারে আর সবসময় হয়, তাই না?

পুরুষরা নারীর মাঝে প্রথম দেখায় কী কী বিষয় লক্ষ্য করে তা নিয়ে অনেক তর্ক বিতর্ক আছে। তবে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণত একই রকম হয়। আসুন জেনে নেয়া যাক পুরুষরা প্রথম দেখায় নারীর মাঝে লক্ষ্য করেন এমন ৭টি বিষয় সম্পর্কে।

৭) পোশাক:প্রথম সাক্ষাতে নারীর পোশাকের দিকে খেয়াল করে কম বেশি সব পুরুষ। কেমন পোশাক পড়েছে, কি রঙ, রুচিশীল নাকি বেমানান ইত্যাদি বিষয়গুলো খেলা করে পুরুষরা নারীর সাথে প্রথম দেখায়। এমনকি পোষাকের সাথে ব্যাগ ও জুতা ম্যাচিং করে পড়েছে কিনা সেটাও তাদের চোখ এড়ায় না।

৬) রসবোধ:বলা হয়ে থাকে যে নারীরা পুরুষের মাঝে রসবোধের উপস্থিতি পছন্দ করে। এক্ষেত্রে পুরুষরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। পুরুষরাও নারীদের মাঝে রসবোধের উপস্থিতি খুবই পছন্দ করে। প্রথম বার কথা বলার সময়েই তারা এই বিষয়টি নারীদের মাঝে খোঁজে এবং বেশ আগ্রহ সহকারে লক্ষ্য করে। তাদের রসিকতাকে নারীরা কিভাবে গ্রহণ করছে সেই বিষয়টিও তারা লক্ষ্য করে।

৫) কন্ঠস্বর ও কথা বলার ভঙ্গি:একজন নারীর সাথে প্রথম পরিচয়ের সময় পুরুষরা নারীর কন্ঠস্বর ও কথা বলার ভঙ্গি খেয়াল করে। সুন্দর মিষ্টি কন্ঠ ও স্পষ্ট সুন্দর উচ্চারনের নারীরা পুরুষদের মনোযোগ আকর্ষন করে ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী করে।

৪) বুদ্ধিমত্তা:প্রথম দর্শনেই কথা বলার সময় নারীর বুদ্ধিমতার বিষয়টি বেশ মনোযোগ সহকারেই খেয়াল করে পুরুষরা। কথা বার্তা বলার সময় উপস্থিত বুদ্ধিও নজর কাড়ে তাদের। উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন নারীদেরকে পুরুষরা বেশ পছন্দ করে এবং তাদের প্রতি তীব্র আকর্ষন বোধ করে।

৩) উচ্ছলতা:হাসিখুশি নারীদের প্রতি পুরুষদের আকর্ষন চিরন্তন। আর এই চিরন্তন আকর্ষনের কারণে প্রথম দর্শনেই পুরুষরা নারীদের হাসি খেয়াল করে। একজন নারীর সাথে প্রথম পরিচয়ে তারা সেই নারীর হাসি কেমন, সে কী মন খুলে হাসে কিনা কিংবা মেয়েটি হাসিখুশি নাকি গম্ভীর ইত্যাদি বিষয়গুলো লক্ষ্য করে।

২) চোখ,হাসি ও চুল:সুন্দর টানা টানা চোখ সব পুরুষই পছন্দ করে। আর তাই নারীর সাথে প্রথম দর্শনে কথা বলার সময় পুরুষরা শরীরের পরেই চোখের দিকে লক্ষ্য করে। চোখ সুন্দর হলে অপলক সেই চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে কথা বলে তারা। এছাড়া চোখের চাহনিও খেয়াল করে সর্বক্ষণ। হাসির সৌন্দর্যটাও বেশ মনোযোগ দিয়েই দেখে পুরুষেরা। নারীর চুলের প্রতিও পুরুষদের আগ্রহ অপরিসীম। আর তাই একজন নারীর সাথে প্রথম পরিচয়ে তারা সেই নারীর চুল ও চুলের স্টাইল লক্ষ্য করে। সুন্দর চুল ও হেয়ার কাটের নারীদের প্রতি তারা বেশি আকর্ষনবোধ করে।

১) দৈহিক সৌন্দর্য:নারীর সাথে প্রথম দর্শনে পুরুষরা চেহারার বদলে নারীর দৈহিক সৌন্দর্য ও গঠন লক্ষ্য করে সবার আগে। সুন্দর ফিগারের অধিকারিণীদের প্রতি পুরুষদের আকর্ষণ থাকে বরাবরই বেশি। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টি প্রথমেই যায় নারীর বক্ষের দিকে। এছাড়াও তারা কোমর, নিতম্ব ও পা দেখে । বিভিন্ন গবেষনার জরিপে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে যে নারীর সাথে প্রথম দেখায় পুরুষরা তাদের স্তন, কোমর ও পা খেয়াল করে সবার আগে। সুন্দর ও অপেক্ষাকৃত লম্বা পায়ের অধিকারিণীদের প্রতি পুরুষদের আকর্ষন বেশি থাকে সবসময়। যদিও এই বিষয়টি অনেক পুরুষই স্বীকার করতে চায় না কারণ মনের অজান্তেই তারা কাজটি করে।

সফলতা ও দাম্পত্যে অবহেলা

জীবনে ক্যারিয়ার সফলতা কে না চায়। দাম্পত্যে জীবন থাকুক মধুময় এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সবারই থাকে প্রত্যাশা। অনেকের ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারে সফলতা যখন দাম্পত্যে জীবনের দরজায় এসে কড়া নাড়ে তখন ব্যাক্তির অগোচরে দাম্পত্যে জীবন অবহেলিত হতে থাকে। সপ্তাহের অধিকাংশ সময় অফিসে কাটানোর ফলে কাজের প্রভাব সহজেই ব্যক্তিগত জীবনে পড়তে পারে। প্রায়ই এরকম হতে থাকলে সংসারে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যেই মানসিক চাপ তৈরি হয় এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দাম্পত্য জীবন।

যেভাবে বুঝবেন আপনার সফলতার আড়ালে দাম্পত্যে সম্পর্ক অবহেলিত হচ্ছেঃ

– অফিস শেষ তবুও বাসায় অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরা বা ছুটির দিনগুলতেও ঘরে বসে অফিসের কাজে ব্যাস্ত থাকা।

– স্ত্রী, সন্তান বা পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছেন কিন্ত মন পরে আছে অফিসের কাজের দিকে অথবা বার বার উদাসীন হয়ে যাচ্ছেন।

স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়াঃ

কাজের চাপে আপনি হয়ত ভুলে যাচ্ছেন আপনার জন্য কেউ দিন শেষে অপেক্ষা করছে, ফোন বা ম্যাসেজ এর মাধ্যমে আপনার খবর নিচ্ছে কিন্তু আপনি তার প্রতিউত্তর দেয়ার বিষয়ে বিরক্ত বোধ করছেন। অথবা কাজের ক্লান্তিতে আপনার সঙ্গী কে সময় দিতে আপনার ভালো লাগছেনা। পরের দিন অফিস যেতে হবে সে উদ্দশ্যে আপনি ঘুমিয়ে পড়ছেন।

সন্তানের প্রতি বিরক্তবোধঃ

আপনার সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপনাকে প্রয়োজন কিন্তু আপনি সময় দিতে পারছেন না, তার কোন প্রয়োজনে আপনার সঙ্গ চাচ্ছে কিন্তু আপনি কাজের চাপে বার বার আপনার স্ত্রী বা পরিবারের কারও উপর দায়িত্ব দিয়ে দিচ্ছেন।

জীবনসঙ্গীর আচরণঃ

অফিস প্রসঙ্গে কথা বলার সময় যদি আপনার সঙ্গী আপনার চোখের দিকে না তাকায়, কাজে ব্যস্ততা দেখায় বা কথায় অন্য প্রসঙ্গে চলে যায় তাহলে বুঝবেন আপনি কাজ কে অতিমাত্রায় প্রাধান্য দিচ্ছেন।

ঘন ঘন ঝগড়াঃ

স্ত্রী কিছু আনতে বলছে বা করতে বলছে আপনি ভুলে যাচ্ছেন, সংসারের কাজের দায়িত্ব নিতে বিরক্ত হচ্ছেন। অথবা আপনার স্ত্রী আপনার কাছে সময় চাচ্ছে কিন্তু দিতে পারছেন না এ নিয়ে বারবার ঝগড়া হচ্ছে।

খাবারে অনীহাঃ

কাজের চাপে আপনি অফিসে খাবার খেতে ভুলে যান অথবা অফিস ও বাসায় দুই জায়গায়ই আপনি কাজের চাপে তুলনামুলক কম খাচ্ছেন এতে কিন্তু আপনি শারীরিক দিক থেকেও দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন। লক্ষ্য করুন এতে আপনার দাম্পত্যে জীবনে মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলতে অনুপস্থিত থাকাঃ

পারিবারিক অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে উপস্থিত থাকা মানে অযথা সময় নষ্ট মনে হচ্ছে। আপনার বিবাহবার্ষিকী, স্ত্রীর বা সন্তানের জন্মদিন ভুলে যেতে পারেন বা এ অনুষ্ঠানগুলতে উপস্থিত হতে দেরি লাগা।

ঘন ঘন অফিসের গল্প বলাঃ

আপনি হয়ত নিজেও খেয়াল করছেন না বা মনের অগোচরে আপনি বাড়িতে স্ত্রী বা পরিবারের সাথে অফিসের গল্প বেশী বলছেন। অথবা কথায় কথায় অফিসের উদাহরণ টানছেন।

সামাজিকতা রক্ষায় অনীহাঃ

সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলতে অংশ নিতে ইচ্ছে না হওয়া। সামাজিক বিষয়গুলো আপনার বিরক্ত লাগছে ফলে আপনার স্ত্রী-সন্তান অনেক বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আর এ নিয়ে আপনার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া লেগে থাকা।

করনীয় কিঃ

অফিসের কাজ অফিসেই করুন কাজের চাপ যত বেশী হোক।

ছুটির দিনগুলোতে স্ত্রী-সন্তান কে সময় দিন, ঘুরতে নিয়ে যান, তারা যেভাবে সময় কাটাতে চায় সেভাবে তাদের সাথে উপভোগ করুন।

খাবার সময়মত ও প্রয়োজন মত খাবেন। দাম্পত্যে জীবনে আপনার শারীরিক সুস্থতা অনেক জরুরী।

স্ত্রী কে তার চাহিদামত সময় দিন এতে দাম্পত্যে জীবন অনেক মধুময় হবে।

হয়ত বিশেষ দিন গুলো আপনার মনে থাকবে না। তবে বিশেষ দিনগুলো তে আপনার স্ত্রী, সন্তানদের সাথে পুরোটা দিন কাটানোর চেষ্টা করুন।

অফিসের গল্প স্ত্রীর সাথে বেশী বলবেন না। এতে আপনার প্রতি তার সন্দেহও আসতে পারে তাই চেষ্টা করুন অফিস কে অফিসের জায়গায় রাখতে আর ব্যাক্তিগত বিষয়গুলো স্ত্রীর সাথে শেয়ার করতে।

অফিস থেকে বাড়িতে ফেরার পর আপনার সঙ্গিনীর আচরণে লক্ষ্য করুন। আপনার উপর তার কোন রাগ বা কষ্ট আছে কি না। যদি এরকম কিছু মনে হয় তবে তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন।

কাজকে দাম্পত্যে জীবনে বিশ্বস্ততার সাথে পরিচালনা করুন যেন আপনার ব্যস্ততা কে আপনার সঙ্গিনী সন্দেহ না করেন।

সন্তানের প্রতি মনোযোগী হন। সন্তানের প্রতিষ্ঠানে আপনাকে দরকার হলে অবশ্যই উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়া আপনাকে তার কখন কোথায় প্রয়োজন বা সে আপনাকে চাচ্ছে এ বিষয়গুলতে মনোযোগ দিন। এতে আপনার দাম্পত্যে ঝগড়া বা মনোমালিন্য অনেকটা কম হবে।

অফিসে কাজের খুব চাপ, এ দিকে আপনার সঙ্গী কে সময় দিতে পারছেন না। বাসায় ফেরার পথে উপহার বা ফুল নিয়ে যান এতে আপনার সঙ্গিনীর রাগ ঘুচে যাবে।

কাজের চাপে সন্তান কে সময় দেয়া হচ্ছে না, বাড়িতে ফেরার সময় খেলনা বা তার পছন্দের কিছু উপহার নিয়ে যান।

কাজ মানেই ব্যস্ততা এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনার সঙ্গীর সাথে ফোনে বা ম্যসেজে কথা বলতে হবে বিষয়টা তা না, সময় করে কয়েক মিনিটে কিন্তু তার খোঁজ নেয়াই যায়। এ ছোট-খাটো বিষয়গুলো দাম্পত্যে সম্পর্ক আপনার অজান্তেই স্বাস্থ্যকর করে তুলবে।

সামাজিক কর্মকাণ্ড গুলতে অংশ নিন। যদি আপনি সামাজিক কাজগুলো করতে না পারেন ফলে পারিবারিক সম্পর্কেও এক সময় অসামাজিক হয়ে যাবেন। তাই দাম্পত্যে জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে আপনি যখন সামাজিকতা বিষয়গুলো রক্ষা করবেন।

দাম্পত্য জীবনে বেশীরভাগ ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়ে থাকে সঙ্গীর কাজের ব্যস্ততার ফলে। আবার ক্যারিয়ারে সফলতা কেও ফেলে দেয়া যাবে না। তাই প্রয়োজন এ দুয়ের মধ্যে সমতা রক্ষা। আর এই সমতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন নিজেকে ছুটি দেয়া।

ভালোবাসা নাকি ভালো অভিনয়

প্রেম নিবেদন নিয়ে যখন কেউ কাছে আসে তখন “সম্পর্ক টাকে মুখ্য না ভেবে প্রেম নিবেদনের ভঙ্গিমাতে মুগ্ধ হয়ে মেয়েরা অনেক সময় প্রেমের দুয়ারে পা বাড়িয়ে থাকে। আর এ মুগ্ধকর ভঙ্গিমাতে মেয়েরা ডুবে থাকতে চায় সবসময় যার ফলে প্রেমটায় কি ভালোবাসা বিরাজ করছে নাকি ভালো অভিনয় তা বুঝে উঠতে পারে না অনেকেই।

ছেলে অথবা মেয়ে ; সম্পর্ক তৈরি করা চাই সময় নিয়ে, আস্তে আস্তে যাচাই করে। যে সম্পর্ক যতটা সময় নিয়ে শুরু হবে, তার টিকে থাকার সম্ভাবনাও ততটাই বেশি। সম্পর্কের শুরুতে নতুন প্রেম সবার কাছেই মধুর মনে হয় তবে খেয়াল রাখবেন আবেগে মুগ্ধ হয়ে অতি তাড়াতাড়ি সম্পর্ক জড়াচ্ছেন নাতো? অথবা আপনার সঙ্গী আপনার সাথে ভালো অভিনয় করছে না তো?

কোন সম্পর্কে জড়ানোর আগে কিছু বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে-

প্রথম প্রথম আপনার মন জুগিয়ে চললেও কিছুদিন পরেই খেয়াল করলেন আপনার সঙ্গী আপনার জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন, তাঁর ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যদি এমন হতে থাকে তাহলে দ্রুত সতর্ক হোন।

আপনার সঙ্গী সব সময় আপনার ইচ্ছার থেকে তার নিজের ইচ্ছাগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে কিনা যাচাই করুন ।

যদি আপনার সঙ্গী সারাদিনই আপনার সম্পর্কে খুব ভাল ভাল কথা বলেন বা দামি দামি উপহার দেন, তাহলে একটু ভেবে দেখুন তার আসল উদ্দেশ্য কি।

ঘন ঘন ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, রেস্তরায় খাওয়ানো এসবের মোহে ডুবে থাকবেন না যাচাই করুন আপনার বিশ্বাসকে কতটা মুল্য দিচ্ছে।

আপনার সঙ্গীর অনেক বন্ধুবান্ধব থাকতেই পারে কিন্তু আপনি তার কাছে বিশেষ কেউ একজন হয়ে উঠতে পেরেছেন কিনা যাচাই করুন। যদি এ অনুভূতি না আসে তাহলে সতর্ক হন।

আপনার স্বপ্ন বা সাফল্য কে সম্মান করছে তো? যদি আপনার সাফল্যে সহায়তা করতে নাও পারে তবুও আপনার সাফল্যতে সম্মান প্রকাশ করবে।যদি সে সম্মানবোধটুকু না থাকে তাহলে তার বিষয়ে আবারও ভাবুন।

বর্তমান যুগে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিলেশনশীপ ষ্টেটাস আপডেট করা অথবা নিছক টাইমপাস করার জন্য সম্পর্ক করে থাকে। দীর্ঘকালীন সম্পর্ক বা বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হন না। তাই, প্রথম থেকেই দৃঢ় ভাবে আপনার সঙ্গীকে চেনার চেষ্টা করুন – তার আবেগ, বিশ্বাসযোগ্যতা, মনস্তত্ব, আপনার প্রতি তার মূল্যবোধ ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কে ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে তারপরই সম্পর্কে জড়ান। এতে ভবিষ্যত হতাশা কিংবা মানসিক যন্ত্রণা থেকে নিশ্চিত নিরাপদ থাকবেন।

বিচ্ছেদের পর সময় নিন; ঘুরে দাঁড়ান

বাংলাদেশে দিন দিন বেড়েই চলছে ডিভোর্সের হার। ডিভোর্স হঠাৎ করে হয় না। ডিভোর্স একরাতে বা আচমকা দুর্ঘটনার ফল না। বহুবিধ কারনে ডিভোর্স হয়ে থাকে।

ডিভোর্স শুধু স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বিচ্ছেদ নয়। এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক, মানসিক বিচ্ছেদ এবং সর্বোপরি সন্তানের সাথে তাদের সামগ্রিক সম্পর্কের টানা পড়ে।

ডিভোর্স যে দেয় এবং যাকে দেয়া হয় – দুজনের উপরই ভিন্ন মানসিক প্রভাব পড়ে। যে ডিভোর্স দেয় সে ভীতিবোধ, নির্ভার, দূরত্ববোধ, অসহিষ্ণুতা, বিরক্তিবোধ, সন্দেহ ও অনুশোচনায় ভোগে। আর যাকে ডিভোর্স দেয়া হয় সে হতবিহ্বল, প্রতারিত, আত্মনিয়ন্ত্রণহীন, নির্যাতিত, আত্মমর্যাদা হ্রাস, নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে।

ধরুন, আপনি পুরনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠেছেন। নতুন বাসা আপনি কিভাবে সাজাবেন? অবশ্যই হুবহু পুরনো বাসার আদলে নয় বরং আপনি নতুন বাসায় উঠার সময় পুরনো কিছু জিনিস বাদ দিয়ে নতুন জিনিস কিনে ঘর সাজান বা সাজাবেন। ঠিক এভাবেই ডিভোর্সের পরবর্তী জীবনটা নতুন করে সাজান।

ডিভোর্সের পর করনীয়ঃ

আত্মবিশ্বাসী হন।

সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান।

স্বাবলম্বী হন।

আপনাকে যে কেউ নেতিবাচক কথা বলবে আপনি সেগুলো এড়িয়ে চলুন।

নিজেকে সময় দিন।

সন্তানকে এমন ভাবে বড় করুন যেন তার বেড়ে ওঠায় নেতিবাচক প্রভাব না পরে।

পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান।

পছন্দের কাজ করে সময় কাটান।

নিজেকে দোষ দেবেন না।

ডিভোর্স মানেই আপনার জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আপনি চাইলে ডিভোর্সের পর আপনার জীবনে দ্বিতীয় সঙ্গীর কথা ভাবতেই পারেন, এ অধিকারটুকু আপনার আছে। তবে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই সময় নিন ও সম্পর্কে জড়ান তবে নতুন সঙ্গীকে সব কিছু জানিয়ে ।

বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতি

বিয়ের বাস্তবতা উপলব্ধিঃ

বয়স ভেদে নুন্যতম ২০ বছরের জার্নি হয়তবা সারা জীবনের। তাই ভেবে চিন্তে পরিপক্ক সিদ্ধান্তে আসতে হবে আবেগে নয়। উল্লেখিত এ সময়টুকুতে আপনাকে সংসার, সন্তান পালনের দায়িত্বগুলো ধৈয্যের সাথে পালন করতে হবে । তাই ভেবে চিন্তে পরিপক্ক সিদ্ধান্তে আসতে হবে আবেগে নয়।

দায়িত্ববান হতে হবেঃ

স্বভাবের কোন নেতিবাচক দিক থাকলে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। বিয়ের আগে পরস্পর নিজেদের সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করে নিলে বিয়ের পর বোঝাপড়াটা সহজেই হয়ে যাবে।

বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতি

মানিয়ে চলাঃ

দুজনকেই দুই পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতা থাকতে হবে এতে অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব। প্রত্যেক পরিবারের নিয়ম-কানুন, আচার-ব্যবহার ভিন্ন; তাই পরিবারিক বিষয়ে আলোচনা করে নিলে পরবর্তীতে নতুন সদস্যদের সঙ্গে মিলে মিশে চলতে সুবিধা হবে।

ধৈয্যশীল ও শ্রদ্ধাবোধঃ

ছোটখাটো বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার ইতিবাচক মানুসিকতা রাখতে হবে। হয়ত নিজের আশানুরূপ অথবা স্বপ্নের মত সংসারে সব কিছু ঘটবে না; এ ক্ষেত্রে ধৈয্যশীল হতেই হবে। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।

আলোচনা ও বোঝাপড়া ভালোঃ

দাম্পত্য সম্পর্কে অমিল হবেই তাই যে কোন সমস্যায় খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। সম্পর্কের শুরুতে একে অপরকে বন্ধুর মত গ্রহন করতে হবে, কেবল নিজেদের চাহিদা বা প্রয়োজনে সংসার জীবন চিন্তা করলে হবে না।

আন্তরিকতা জরুরিঃ

একজন মানুষকে নতুন পরিবেশ মানিয়ে নিতে সহযোগিতা প্রয়োজন এক্ষেত্রে ছেলের ভূমিকা প্রধান। নতুন সদস্য, নিয়ম-কানুন, আচার-ব্যবহার বিষয়গুলো মানিয়ে চলা খুব সহজ কথা নয়। তাই নিজের পরিবার ছেড়ে মেয়েরা যখন নতুন পরিবারে আসে তখন নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এ পরিস্থিতিতে ছেলের উচিত মেয়ের সাথে আন্তরিক আচরণ করা ও মানিয়ে নেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করা।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত নয়ঃ

সবার মন-মানসিকতায় পরিবর্তন জরুরি। দুই পক্ষই একে অপরকে নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী হবেন না। একটু সচেতন সহযোগিতা পরায়ন ও বোঝাপড়া ভালো হলে দাম্পত্য জীবন সুন্দর হতে বাধ্য।

সখি ভালোবাসা কারে কয়!

ভালোবাসা মানুষের মনের এক অদ্ভুত অনুভূতি। ভালোবাসার আরেক নাম কেউ কেউ প্রেম ও বলে থাকেন। যখন কেউ ভালোবাসা অনুভূতি অনুভব করে তার মনের উপর বিশেষ পরিবর্তন ঘটে। ভালোবাসা বা প্রেম একটি মানবিক আবেগ তবে যুগের সাথে ভালোবাসার ধরন ও বহিঃপ্রকাশের বেশ ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

ভালোবাসার প্রকৃত কোন সংজ্ঞা নেই তবে রয়েছে নানান বিতর্ক ও মতামত। পৃথিবীতে এমন কোনো কবি বা সাহিত্যিক নেই যিনি ভালোবাসা নিয়ে কিছু সৃষ্টি করেননি, কবি রফিক আজাদের মতে-

“ভালোবাসা মানে দু’জনের পাগলামি,পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া,বিরহ-বালুতে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি”

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও খুঁজেছেন ভালোবাসার প্রকৃত উত্তর তাই তো লিখেছিলেন –

‘তোমরা যে বল দিবস-রজনী, ভালোবাসা, ভালোবাসা, সখী ভালোবাসা কারে কয়? সে তো কেবলই যাতনা নয়।’

ভালোবাসা কাল্পনিক নির্মলেন্দু গুণের কবিতার মতোই-

‘হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে মন বাড়িয়ে ছুঁই’।

লেখক সমরেশ বসুর মতে – ভালবাসা। কী কঠিন! ভালবাসা, কী যে নিষ্ঠুর আর কী বিচিত্র তাঁর সংবেদ!

বাংলা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নারী-পুরুষের মনে গড়ে উঠা ভালোবাসা ও প্রেম নিয়ে অসংখ্য মতামত দিয়েছেন তার গল্প, উপন্যাস গুলোতে তার মতে –

“ভালোবাসাবাসির ব্যাপারটা হাততালির মতো। দুটা হাত লাগে। এক হাতে তালি বাজে না। অর্থাৎ একজনের ভালোবাসায় হয় না।

ভালোবাসা কি? এ অনুভূতি কেন হয় বা কেমন? এ প্রশ্ন জীবনে একবার হলেও মনে জাগেনি বা জানতে চায়নি এমন মানুষ পাওয়া সম্ভব নয়। শুধু কবি-সাহিত্যিকগন নয় মনোবিজ্ঞানীগন ও বিজ্ঞানীরাও গবেষণা করেছেন মানব মনের ভালোবাসা নামক অনুভূতি নিয়ে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন ব্যক্তি অন্য কারও প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক মোট চার মিনিট ৯০ সেকেন্ড সময় নেয়। গবেষকরা এটাও দেখেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির কিছু বিষয় বিবেচনা করে। তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ হলো তার অঙ্গভঙ্গি বা বাহ্যিক রূপ, ৩৮ শতাংশ কণ্ঠস্বর ও কথা বলার ভঙ্গি এবং মাত্র ৭ শতাংশ তাদের মূল বক্তব্য শোনে।

যুক্তরাষ্ট্রের রটার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেলেন ফিসার জানান -প্রেমের তিনটি স্তর রয়েছে। এই তিনটি স্তরের প্রতিটি স্তরই ভিন্ন ভিন্ন হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়।

স্তরগুলো হলো- ভালোবাসার ইচ্ছে, আকর্ষণ ও সংযুক্তি।

ভালোবাসা হলো পার্থিব জীবনের এক বিস্ময়কর অনুভূতি। যা আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দরতম ও টিকে আছে।

ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা না থাকলেও রয়েছে কিছু বৈশিষ্ট্যঃ

ভালোবাসা কখনও পারফেক্ট হয় না। ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি ভালো খারাপ সব জেনেও কারও সঙ্গ ভালো লাগা।

নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ভালো লাগা মানুষটিকে মনে করা।

ভালো লাগার মানুষটিকে না পেলে হয়তো জীবনের কোন অর্থ নেই এরকম অনুভূতি হবে।

বিপরীত স্বভাবের মানুষের প্রতি ভালোবাসা বা প্রেম জন্মাতে পারে।

ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টিশীল তাই চিন্তা – চেতনার উন্মোচন ঘটতে পারে।

ভালোবাসার মানুষকে অন্য কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে দেখলে ঈর্ষাবোধ সৃষ্টি হবে।

ভালো লাগার মানুষটিকে বার বার কল্পনা করা বা তার উপস্থিতি অনুভব করা।

মনে ভালোবাসা জন্মালে সহজাত ভাবে ব্যাক্তিকে আগের চেয়ে আরো বেশি আকর্ষণীয় এবং প্রফুল্ল দেখাবে।

ভালোবাসার মানুষটির সাথে বার বার দেখা করার বা কাছে যাওয়ার অজুহাত খোঁজা।

হয়তো কোন ব্যাক্তির মাঝে বিশেষ কোন মুগ্ধতা নেই তবুও প্রবল আকর্ষণ অনুভব করা।

ভালোবাসার উল্টো পিঠে যাতনা জেনেও ভালোবাসতে ইচ্ছে করা।

ভালোবাসা কোন সময় কেন্দ্রিক থাকেনা আবার ভালোবাসা একদিন এর জন্যও হয় না। প্রতিদিন একটু একটু করে বা দীর্ঘ সময় ধরে এটি বিরাজ করতে পারে।

যে কোন বিষয়কে পরোয়া না করে, চক্ষুলজ্জা ডিঙ্গিয়ে কাউকে নিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে প্রবল ইচ্ছা বা ভাবনা মনে জাগে তাই ভালোবাসা।

কারও প্রতি সহানুভূতি বা শ্রদ্ধাবোধও ভালোবাসার একটি অন্যতম লক্ষণ।

ভালোবাসার নেই কোন সংজ্ঞা, চিত্র বা পরিমাপ। কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মনের কনে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে যে অনুভূতিগুলো নাড়া দেয় তাই ভালোবাসা। তবে শুধু ভালবাসলেই হয় না এ ভালোবাসা ধরে রাখতে পরিচর্চার প্রয়োজন।

কথায় আছে –

ভালোবাসার বাগানে সম্পর্কগুলো হলো এক একটি জীবন্ত গাছ আর সেই বাগানের মালী হিসেবে নিজেকে বসিয়ে দিয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করলেই ভালোবাসা সুগন্ধ ছড়াতে থাকবে আপনার চারপাশে। তাই ভালোবাসার যত্ন নিতে হয়। গাছে পানি না দিলে যেমন গাছটি মরে যায়, ভালোবাসার যত্ন না নিলে ভালোবাসাও মরে যায়!

বিচ্ছেদের কষ্ট দূর হবে যেভাবে

স্বাভাবিকভাবেই অতীত ভোলা সহজ নয় আবার ইচ্ছা শক্তি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অতীত ভোলা সম্ভব। অতীত ভুলবার অথবা কষ্ট দূর করার জন্য আমাদের উচিত নিজেদের একটি চক্রে আবদ্ধ করা, আর সে চক্রে আমাদের কিছু বিষয় সাজাতে হবে যা আমরা করবো নিজেকে ভালো রাখার জন্য –

নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন- জোর করে কোন সম্পর্ক টিকে রাখা যায় না। ভালোবাসা হারিয়ে গেলে অনেক সময় তা ছেড়ে দিতে হয় আটকে রাখতে হয় না, এ সত্য আপনাকে মেনে নিতে হবে। শুরুতে অনেক কষ্ট হলেও এটা ভাবুন যা হয়েছে তা ভালো কিছুর জন্যই হয়েছে। নিজের জীবনকে নতুনভাবে কল্পনা করুন। ভালো আছেন এরকম ভান বা অভিনয় করবেন না, আবেগ চাপা রাখলে আপনার মানুসিক চাপ বাড়বে তাই শোক করুন, কাদুন।

পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন স্মৃতি তৈরি করুন- পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন করে নিজেকে তৈরি করুন। কেননা, নিজেকে অতীতে আটকে রাখলে বর্তমান পরিস্থতি থেকে আপনি সহজে নিজেকে পরিত্রাণ করতে সক্ষম হবেন না। সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে কোথাও ঘুরেছেন, ভাল সময়গুলো দীর্ঘকাল কাটিয়েছেন এমন পরিবেশগুলো ত্যাগ করুন ও নতুন জায়গাগুলোতে ঘুরে আসুন, নতুন পরিবেশে সময় কাটান। পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সহায়তা নিন, কান্না করুন, ক্রোধ প্রকাশ করুন, নিজকে হালকা করুন।

অতীত নিয়ে পড়ে থাকবেন না- কেন আমার সঙ্গে এমন হলো বা সম্পর্ক কেন টিকলো না? সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এরকম প্রশ্ন অনেকেরই মাথায় ঘোরে। এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বন্ধ করুন। প্রাক্তনের দেয়া পুরোনো চিঠি-গিফট ফেলে দিন, ই-মেইল, মেসেজ, ছবি ইত্যাদি ডিলিট করুন। পরিচিত কারো কাছ থেকে প্রাক্তন সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন না। সে কেমন আছে, আপনাকে কি মনে করে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কি আবডেট দিচ্ছে তা স্টক করা থেকে বিরত থাকুন।

প্রতিশোধ নেবেন না- ক্ষমা করতে শিখুন। যদি মন থেকে ক্ষমা করতে নাও পারেন তবুও প্রতিশোধ নেবেন না বা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে রাগের মাথায় এমন কিছু করবেন না যাতে আপনার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় অথবা আপনি কোনভাবে আইনের জটিলতার পরিস্থিতিতে পরেন।

প্রাক্তন সম্পর্কে কোন প্রকার মন্ত্যব্যে করবেন না- অনেকেই বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাজে বা আবেগপ্রবণ কথা লিখতে থাকেন। তারা ভাবেন, এতে ওই ব্যক্তিটি হয়ত ফিরে আসবে অথবা অপদস্ত হচ্ছে। এই কাজটি ভুল। এতে আপনার দুর্বল ব্যক্তিত্বের প্রমান পায়। এটি একেবারেই করবেন না। খুব কষ্ট লাগলে ডায়েরিতে নিজের মনে যা আছে তা লিখুন এতে আপনি কিছুটা হলেও হালকা হবেন।

হয়তো ফিরে আসবে- প্রাক্তন ফিরে আসবে। কোন এক সময় হয়ত ফিরে পাবেন এরকম চিন্তা বা অযথা অপেক্ষা করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। পুনরায় সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করবেন না। নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখুন। ভিক্ষার মত ভালোবাসা ফেরত চাইবেন না। এতে আপনিই ছোট হচ্ছেন তাই কষ্ট হলেও নিজেকে অন্তত ছোট করবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন। আপনার ভালো লাগা কাজগুলো করুন যেমন- শপিং করা, কারও বাসায় ঘুরতে যাওয়া, মুভি দেখা, পরিবারের সাথে সময় কাটান, বাচ্চাদের সাথে সময় কাটান ইত্যাদি।

যোগাযোগ বন্ধ করুন- ‘বন্ধু’ হয়ে থাকব, এই চিন্তা করবেন না। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম হতে পারে, কিন্তু প্রেম থেকে নেমে বন্ধুত্বে আসা সম্ভব নয়। তাই যথাসাধ্য অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখুন। মুঠোফোন, ফেসবুক, ই-মেইল, হোয়াটস অ্যাপসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিন। হয়তো তীব্র ইচ্ছে হবে যোগাযোগ করার, সে বিষয়ে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। একাকীত্ব পূরণের জন্য পরিবারের সাথে সময় কাটান, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের শরণাপন্ন হোন।

নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন- বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিন যেমন – খেলাধুলা, বিতর্ক, পাবলিক স্পিকিং, লেখালেখি, স্টোরি টেইলিং, ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিন, জাম্পিং, ছবি বা ক্যনভাস আঁকতে পারেন, সাইক্লিং, সুইমিং, সামাজিক কাজগুলতে অংশ নিতে পারেন, বই পরতে পারেন, রান্না শিখতে পারেন, ব্যবসায় অথবা চাকরিতে নিজে কে ব্যস্ত রাখতে পারেন। বাগান করতে পারেন, পছন্দের পোষা প্রাণী পালতে পারেন। গান শুনুন- তবে প্রাক্তন কে মনে করিয়ে দিতে পারে এমন গান নয় মন প্রফুল্ল করে এমন গান শুনতে হবে। মটিভেশনাল বা কমেডি মুভি, নাটক, কন্টেন্ট ভিডিও দেখতে পারেন।

নিজের প্রতি যত্ন নিন- বিচ্ছেদের পর অনেকেই অতীতের ভাবনায় নিজের প্রতি যত্ন নিতে ভুলে যায়। এ কঠিন সময়ে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। ফলে কেউ কেউ আত্মহত্যার কথা ভেবে থাকেন অথবা শরাপন্ন হন। আবার অনেকের শরীর খারাপ বা অসুস্থ থাকে তাই অবশ্যই আপনার দেহ ও মনের আত্মার পরিচর্যা করুন । নিজের শরীর ও মনকে ভালো রাখতে জিমে অথবা বাসায় এক্সারসাইজ করুন, ইওগা করুন, কাউন্সিলিং করুন। রুপ চর্চা করুন। সকালে বা বিকালে হাঁটতে বের হন, যতদিন অতীত ভুলতে পারছেন না ততদিন কাউন্সিলিং বন্ধ করবেন না। অনেকে মাদকাসক্ত বা বাজে নেশায় চলে যায় এটা করা একেবারেই উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘুমের ওষুধ খেতে পারেন।

নিজেকে একা করে ফেলবেন না- নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে রাখবেন না কেননা একা থাকলে আপনাকে একাকীত্ব গ্রাস করবেই। এই সময় এমন কারও সঙ্গে কথা বলুন, যাকে নির্দ্বিধায় আপনি সমস্ত কথা খুলে বলতে পারবেন এবং সেও আপনার সমস্ত কথা গোপন রাখবে। এ সময়ে আপনাকে অনেকেই ইতিবাচক – নেতিবাচক কথা বলে থাকবে। অন্যের কথায় নিজেকে হীনমন্য না ভেবে নিজের ওপর আস্থা রাখুন। নিজের ভালো দিকগুলো ও সফলতাগুলো গড়ার চেষ্টা করুন। আদর্শ মানুষের সঙ্গ অবলম্বন করুন এবং আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে সময় কাটান।

জোর করে ভোলার চেষ্টা করবেন না- আপনি মাথায় এটা আনবেন না যে আমার তাকে ভুলে যেতেই হবে। প্রাক্তন কে ভুলে যেতে তার সাথে বাজে অভিজ্ঞতাটি মনে করুন। কাউকে ভোলার চেষ্টা করলে তাকে আরও বেশি মনে পড়ে। তাই কাউকে জোর করে ভুলতে চেষ্টা করবেন না।

অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহন করুন- অতীত নিয়ে আফসোস না করে এটা আপনার জীবনের একটা শিক্ষণীয় অধ্যায় ভাবুন। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রনে রেখে বাস্তবতা মেনে নিতে আপনি এখন শিখে গেছেন তাই আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন। সামনে কোন বাধা আসলে আপনি নিজেকে শক্ত রেখে সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন এরকম আস্থা নিজের প্রতি তৈরি করুন দেখবেন আপনার সামনে এগিয়ে চলার পথ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

সম্পর্ক বাঁচাতে প্রয়োজন বোঝাপড়া

সম্পর্ক গুলোকে বুঝতে হলে মানুষটার অভিমানের ভাষা গুলো বুঝতে হবে। কেউ যদি রাতে না খেয়ে বলে খিদে নেই তাহলে নিজে একা খেয়ে বাতি বন্ধ করে ঘুমিয়ে যাবার অর্থ হল আপনি তার অভিমানের ভাষা বোঝেননি। সে হয়ত ভেবেছিল , তার খিদে নেই শুনে আপনি তার প্রতি একটু মনোযোগী হবে। সে হয়ত চেয়েছিল আজ আপনি তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিবেন। সে এমন ভাবে বলেছে ‘আমি তোমাকে বুঝতে চাই’ যার সারমর্ম হল, সে আসলে আপনাকে বুঝতে চায় না।

প্রতিউত্তরে আপনি অসংখ্যবার বলে গেছেন, ‘তুমি তাকে বুঝতে চাও না’ এই যে তুমি তাকে বুঝতে চাও না,ব্যাকটির শেষ শব্দের এই ‘ না’ টা সে আসলেই বুঝে উঠতে পারেনি। সে জানলোই না, এই ‘ না’ এর ভেতরে কত লাইন অভিমান আর আক্ষেপ ছিল। আপনাকে একটু খেয়াল রাখতে হবে আপনার কতটুকু সে মেনে নিয়েছে আর কতটুকু মন থেকে নিয়েছে। মেনে নিতে নিতে এক সময় দেখবেন মানুষটা শুধুই মেনে নিচ্ছে, এর হৃদয়ে আর কোন ‘মন’ অবশিষ্ট নেই।

সম্পর্কে যাবার আগে আপনি হয়ত একটা মোহে ছিলেন, তার সব কিছুই ভাললাগা টাইপ একটা ঐশ্বরিক ব্যাপার। সম্পর্কে আসার আগে আপনাকে এইটুকু পার্থক্য বুঝতেই হবে, প্রেম এবং ভালোবাসা এক জিনিস না। প্রেম অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির। একটা সাদামাটা গানের লাইনে হেলুসিনেশন চলে আসে। প্রেমের রসয়ানে পাগলামি আছে। একটা পাগল মানুষের ভেতরে ঢুকে মানুষটাকে দিয়ে সারারাত প্রিয়তমার বাসার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে। সব থেকে সাংঘাতিক ব্যাপার হল, প্রেম অনেক সময় ভালো না বাসলেও ভালোবাসার চেষ্টা করে!

ভালোবাসা স্থির। সে মানুষটার সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়। সে টিনএইজের প্রথম প্রেমের মত পাগলামি করে না; তবে সে পাগলের মতই ভালোবাসে।’ আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এটা আসলে বলবার বিষয় না। ভন্ড এবং প্রতারকরাও বলে, বরংচ বেশিই বলে। এটা করে দেখাতে হয়। সম্পর্ক গুলো কেমন হবার কথা ছিল সেটা আমাদের চোখের দিকে তাকালেই আঁচ করা যায়।