ডিভোর্সের পর: প্রস্তুত করুন নিজেকে

ডিভোর্স বা সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একটি সম্পর্কে দুই জনের মাঝে ছাড়াছাড়ি নানা কারণেই হতে পারে। হয়তো মতের মিল না হওয়া, কিংবা পারস্পরিক সমঝোতার অভাব, পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য জীবনে আকর্ষণের অভাব এর মত কারণগুলোই আসলে মূখ্য।  একটি ডিভোর্স যখন হয়ে যায়, তখন নারী-পুরুষ দুইজনের জন্যই ব্যাপারটা গ্রহণ করা একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আমাদের সমাজে ডিভোর্স ব্যাপারটাকে যেমন সহজভাবে নেয়া হয় না, তেমনি ডিভোর্স এর ভুক্তভোগীদের নিয়েও শুরু হয় নানান কানাকানি। যার কারণে অনেকেই শত সমস্যার মধ্যে থাকার পরেও ডিভোর্স এর মত সিদ্ধান্ত নিতে চাননা সমাজে কীভাবে মুখ দেখাবেন সেটা চিন্তা করে।

কিন্তু সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাই যদি ডিভোর্স ছাড়া আপনার সামনে আর কোনো পথ খোলা না থাকে, তবে দেরি না করে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন। ডিভোর্সের পর সবার আগে আপনার মাঝে যে জিনিসটি থাকা প্রয়োজন, তা হল আত্মবিশ্বাস। আপনাকে এখন থেকে একা একা সবকিছু করতে হবে – এই চরম সত্যটি সবার আগে মেনে নেয়ার চেষ্টা করুন। যখন নিজেকে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী আর প্রস্তুত বলে মনে হবে, তখন সমাজের মুখোমুখি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করুন।

১. সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ান: ডিভোর্স এর পর সমাজের বাঁকা চোখ অনেককেই ভীত করে। কিন্তু ভয় পাবেন না। মাথা উঁচু করে দাঁড়ান, নিজের পরিবারের কাছে কারণ ব্যাখ্যা করুন। তাদের সাপোর্ট নিন। কাছের মানুষদের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করুন, কেন আপনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তা বুঝিয়ে বলুন। যদি কেউ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তীর্যক কিছু বলে সেটিকে এড়িয়ে যান। কারণ তর্ক করা ছাড়াও আপনার অনেক কিছু করার আছে।

২. খুঁজে বের করুন আপনার মতই কাউকে: ডিভোর্সের পর আপনার যেটা করা উচিত, সেটা হল বন্ধু বাড়ানো। যেহেতু একটা সম্পর্কের শেষ হয়েছে, সেখানে সেই সম্পর্কের জন্য হা হুতাশ করে জীবন নষ্ট করে দেয়ার কোন মানে নেই। এক্ষেত্রে বন্ধুদের সঙ্গ আপনাকে সাহায্য করবে। তাদেরকে সময় দিন, তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। বেড়াতে যান, আনন্দ করুন। খুব ভালো হয় যদি আপনার মত কাউকে খুঁজে পান। যদি পেয়েই যান তবে তার সাথে আপনার অনুভূতি শেয়ার করুন। তার অনুভূতির কথা শুনুন।


বিজ্ঞাপনঃ দাম্পত্য জীবনে যারা সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডি ডট কম এ রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ও ইজি সার্চ অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে।  চাইলেই অনলাইনে লগিন করে ছবি সহ প্রোফাইল দেখে সরাসরি পাত্র/পাত্রী অথবা অভিভাবকের সাথে নিজেরাই যোগাযোগ করতে পারেন –  
আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন।  অথবা বিস্তারিত জানতেঃ ০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


৩. নিজেকে সময় দিন: আগেই বলা হয়েছে, ডিভোর্সের পর নিজেকে সময় দেয়া অত্যন্ত জরুরী। নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য, জীবনকে এখন থেকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেবে সেটার পরিকল্পনা করুন। আপনার জীবন, আপনার ক্যারিয়ারের মূল্য নিয়ে ভাবুন। ক্যারিয়ার যত ছোটই হোক তার অবশ্যই একটা মূল্য আছে। নিজেকে সময় দিন, নিজেকে নিয়ে ভাবুন। আপনার মূল্য কতটুকু সেটা নিজেকে বোঝান। অন্য কারো উপর যে আপনি নির্ভরশীল নন সেরকম মানসিকতা গড়ে তুলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, “আপনি একা, কিন্তু একাকী নন” – এই বিশ্বাস নিজের মাঝে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করুন।

৪. পরিবারকে সময় দিন: আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার ছাড়াছাড়ির পর সবার আগে যেই ব্যাপারটি আপনার প্রয়োজন সেটা হচ্ছে পরিবারের সাপোর্ট। তাদের সাথে সময় কাটান। আপনার বাবা মা থাকলে তাদের সাথে গল্প করুন। যদি আপনার আর আপনার সঙ্গীর দাম্পত্য জীবনে সন্তান এসে থাকে তবে সন্তানকে সময় দিন। আপনার পাশাপাশি তাকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। তাদেরকে অপরজনের অভাব বুঝতে দেবেন না।

৫. পছন্দের কাজ করে সময় কাটান: যখন আপনি একা জীবন যাপন করা শুরু করবেন, তখন দেখবেন আপনার অফুরন্ত অবসর সময়। অলস সময়ে অপরাধবোধের মত ক্ষতিকর ব্যাপারগুলো যাতে আপনাকে ঘিরে ধরতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিন। বই পড়ুন, গান শুনুন। দুঃখের গান শোনা পরিহার করুন, আনন্দের সুরগুলো বেছে নিন। কোন শখ থাকলে সেদিকে মনোনিবেশ করতে পারেন।

৬. নিজেকে দোষ দেবেন না: আমাদের সমাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডিভোর্সের পর ভুক্তভোগীরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। হয় ডিভোর্সের পেছনে কারণ হিসেবে দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে নেন, নয়তো অপরজনের ঘাড়ে তুলে দিয়ে নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে থাকেন। দুটোই কিন্তু আপনার জন্য ক্ষতিকর। যদি আপনার সঙ্গীর সমস্যার কারণে আপনি ডিভোর্স নিতে বাধ্য হয়ে থাকেন তবে সেটা কখনোই আপনার দোষ নয়! আর যদি আপনার কারণে আপনার সঙ্গী আপনাকে ডিভোর্স দিয়ে থাকেন তাহলে অনুতপ্ত হোন। আশা শেষ হয়ে যায় নি, অপরাধবোধে না ভুগে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। দরকার হলে মেন্টাল কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করুন। আপনি চাইলে আপনার সঙ্গীর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। ডিভোর্সের পর ক্ষমা হয়তো আপনার সঙ্গীকে ফিরিয়ে আনবে না, কিন্তু আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে।

৭. তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই: অনেকেই আছেন ডিভোর্সের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এটি উচিত নয়। যদি ডিভোর্সের পর আপনি নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে সেটা বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সময় নিন। কারণ ডিভোর্সের পর পর আপনার সঙ্গীর সাথে আপনার সুন্দর অতীতগুলো আপনাকে পীড়া দেয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটা খুবই সাধারণ বিষয়। নিজেকে প্রস্তুত করুন, পীড়াদায়ক অনুভূতিগুলোকে আস্তে আস্তে চলে যেতে দিন। কারণ তাড়াহুড়ো করে সম্পর্কে জড়াতে গেলে আপনি অস্বস্তিকর অনুভূতিতে পড়তে পারেন। যদি সেটা বাড়ে, তাহলে আবারও ছাড়াছাড়ির ভয় আপনাকে ঘিরে ধরবে। সেক্ষেত্রে নতুন সম্পর্কেও আপনি ভালো থাকতে পারবেন না। তাই এইসব ব্যাপারে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো।

৮. আত্মবিশ্বাসী হোন, ভালো থাকুন:  জীবনের মাঝামাঝি সময়ে ডিভোর্সের পর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাসী থাকা। এই ব্যাপার থেকে নিজেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন এই বিশ্বাস থাকলে যে কোনো সমস্যা থেকেই উত্তরণের পথ আপনি খুঁজে পাবেন। অতীতে যা যা করেছেন সেগুলো নেয়ে চিন্তা করুন, কী কী ভুল করেছেন সেগুলো বের করুন। সেগুলো যাতে ভবিষ্যতে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর পর এই ভুলগুলো যাতে আর না হয় সেইদিকে লক্ষ্য রাখুন।

৯. সম্পর্কে জড়ান সবকিছু জানিয়ে:  যখন আপনি নিজেকে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে মনে করবেন তখনই সম্পর্কে জড়াতে পারেন। তবে সম্পর্কে যাওয়ার আগে আপনার নতুন সঙ্গীকে সবকিছু জানান। তার কাছে ব্যাখ্যা করুন, কেন আগের ডিভোর্সটি হয়েছে। যদি আপনার দোষ থেকে থাকে তাহলে সেগুলোও তাকে বলুন, এবং আশ্বাস দিন যে ভবিষ্যতে এমন কিছু হবে না। জোর করে কিছু করতে যাবেন না, তাহলে হয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে।

সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি মানুষের জীবনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। যদি ছাড়াছাড়ি হয়েই যায়, ভেঙ্গে পড়বেন না। ভুল থেকে শিক্ষা নিন, সাহসী হোন। মানসিকভাবে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য প্রস্তুত হলে সেটা করুন। জীবন খুবই ছোট। আপনি হয়তো কষ্ট পেতে পারেন। কিন্তু তার জন্য পুরো জীবন ভাসিয়ে দেয়ার মানে নেই। বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিন, ক্ষতিগুলো পূরণ করুন। সুখী থাকুন।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানে জীবন শেষ নয়

ভালোবাসায় ভরা ছোট্ট একটা ঘরের স্বপ্ন কে না দেখে। কেউ হয়তো তার সঙ্গীর হাতে হাত রেখে সারা জীবন একসাথে চলার স্বপ্ন দেখে।কিন্তু সেই ভালোবাসার মানুষটি কিছুক্ষণের জন্য দূরে গেলে আমাদের পৃথিবীতে নেমে আসে অন্ধকার, সেখানে যদি ভালোবাসার মানুষটি সম্পর্কচ্ছেদ করে চলে যান তাহলে মানসিকভাবে ভেঙে পরাটা খুব স্বাভাবিক।ভালোবাসার মানুষটির সাথে বিচ্ছেদ যেনো জীবনটাকে থমকে দেয়।

কিন্তু ভেঙে পড়ে সারাজীবন তো আর থাকা যায় না।তাই আমাদের নিজেদেরকেই সামলে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে সামনে। নতুন ভাবে উঠে দাঁড়াতে হবে, ভুলে যেতে হবে পুরোনো ফেলে আসা স্মৃতি।এক্ষেত্রে প্রেম ও দাম্পত্য সম্পর্কে ভেঙে গেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যা করবেন-

নিজেকে দোষারোপ করবেন না: একটা সম্পর্ক অনেকগুলো কারণেই ভেঙে যেতে পারে। অনেকদিনের সম্পর্ক অনেক গুরুতর কারণে অথবা অনেক ছোট কারণেও ভেঙে যেতে পারে। হতে পারে সেক্ষেত্রে দুই পক্ষের বোঝাপড়ার সমস্যা ছিল, অথবা যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। কিন্তু কখনো ভুলেও নিজেকে সম্পর্ক ভাঙার জন্যে মনে মনে দোষারোপ করবেন না।

নিজেকে সময় দিন: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাধারণত আমরা যে জিনিসটি করি, তা হলো খুব বেশি অস্থির হয়ে পড়ি, একটি সম্পর্ক ভাঙার হতাশা থেকে বের হতে না হতেই আরেকটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। একটি ভাঙা সম্পর্ক থেকে কিন্তু আমরা শিখতে পারি পরবর্তীতে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী করণীয় বা কী বর্জনীয় হবে। তাই বিচ্ছেদের পর নিজেকে সময় দিন, নিজেকে আরও একটু ভালোবাসতে চেষ্টা করুন।  হুটহাট করে নতুন আরেকটি সম্পর্কে নিজেকে জড়িয়ে অবস্থা আরও জটিল করে তুলবেন না।

নিজের যত্ন নিন:  খেতে ইচ্ছে করবে না, ঘুম হবে না- এগুলো এ সময় খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই হতাশা থেকে বের হয়ে আসতে গেলে আপনাকে নিজের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হয়ে উঠতে হবে। পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান, তাজা ফলমূল খান। ঘুমাতে চেষ্টা করুন আর অবশ্যই ব্যায়াম করুন। শরীর চনমনে থাকলে মন ভালো হতে সময় লাগবে না।

একা থাকবেন না: এই সময়টাতে আপনি যত বেশি একা থাকবেন, আপনার জন্যে সময়গুলো ততবেশি কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে। তাই এই সময়গুলোতে একা না থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হোন। বন্ধুদেরকে না পেলে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সময় বের করে বেরিয়ে পড়ুন।

ভ্রমণ করুন, নতুন বন্ধু তৈরি করুন:  মনের ভার কমাতে এবং মাথা একদম পরিষ্কার করে ফেলতে ভ্রমণ সবসময়ই অনেক বেশি উপকারী। বন্ধুদের সঙ্গে শুধু কাছে-কূলে নয়, প্ল্যানিং করে নতুন কোনো জায়গায় ভ্রমণ করতে বেড়িয়ে পড়ুন। নতুন পরিবেশ, নতুন স্থান, নতুন মানুষ- আপনার মনের পুরাতন স্মৃতিগুলোকে হালকা করে দিতে সাহায্য করবে অনেকটাই।

নেতিবাচক চিন্তা বাদ দিন: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনেক সময় বেঁচে থাকাও অর্থহীন মনে হতে থাকে। অনেকে আত্মহত্যার মতো আত্মবিধ্বংসী চিন্তা পর্যন্ত করতে শুরু করি। আপনাকে এই নেতিবাচক চিন্তার পুরোপুরি বিপরীতে যেতে হবে, প্রমাণ করতে হবে আপনি এতোটা দুর্বল, এতোটা ঠুনকো নন।

ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন মানুষদের সাথে সময় কাটান: একটা সম্পর্ক ভেঙে গেলে একজন মানুষ মানসিকভাবে নিতান্তই ভেঙে পড়েন, এখন এই অবস্থার মধ্যে যদি আশেপাশের মানুষগুলো প্রতিনিয়ত চোখে আঙুল দিয়ে সবটা বার বার সামনে নিয়ে আসে অথবা কটু কথা বলতে থাকে, তাহলে ভাঙা মন আবার জোড়া লাগা সত্যিই অসম্ভব। চারপাশে ইতিবাচক ও সহায়ক মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ থাকলে আপনি খুব দ্রুতই আবার নিজের উপর আস্থা ফিরে পাবেন।

অতীত কে অতীতেই থাকতে দিন:  যদি সত্যিই চেয়ে থাকেন অতীতের গ্লানি থেকে বের হয়ে আসবেন, তাহলে বারবার সেই অতীতেই ফিরে যাবেন না। শুধু চেষ্টা করুন অতীতের ভাঙা সম্পর্কটিকে একটি শিক্ষা হিসেবে নিতে, পাথেয় হিসেবে নয়।

দায়িত্ব নিতে শিখুন: যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে, এবার নিজেকে বা ভালোবাসার মানুষটিকে দোষারোপ করে হা-হুতাশে জীবন অতিবাহিত না করে পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষগুলোর ভালো থাকার জন্য ছোটখাটো দায়িত্ব নিন। যখন দেখবেন সামান্য কিছুতেই আপনি কারো মুখে হাসি ফোটাতে পারছেন তখন আর সব অপ্রাপ্তি এবং কষ্টগুলো ম্লান হতে থাকবে।

যা করতে ভালো লাগে তা-ই করুন: ভাঙা মন নিয়ে কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করা অনেক কঠিন। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙার হতাশা থেকে বের হয়ে এসে জীবনকে নতুনভাবে উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে এসব কিছুর উপর আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে হবে। আপনার যা মন চায়, যেভাবে আপনি নিজেকে আবার প্রাণোচ্ছল করে তুলতে সক্ষম বলে মনে হয়; সেটাই করুন। সহজ কথায়, নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, দেখবেন হতাশা কাটতে শুরু করছে।

একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানে জীবনের শেষ নয়, বরং নতুন করে আবার সবকিছু শুরু হওয়া। কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে আবার প্রস্তুত করুন, সমস্ত খারাপ চিন্তা-ভাবনার বিপরীতে গিয়ে নিজেকে প্রমাণ করুন। আপনার মধ্যে কী কী গুণ রয়েছে সেগুলোকে কাজে লাগান। কমপক্ষে এই সময় নিজের মনের কথাগুলো শুনুন, যদি মনে হয় ভেঙে যাওয়া সম্পর্কে আপনারও কিছু ভুল ছিল, তাহলে সেটা শুধরে নিতে চেষ্টা করুন। তবে ভুলেও সারাজীবনের জন্য নিজেকে অপরাধী করে রাখবেন না নিজের কাছে। এই মানুষই ভুল করে, আবার মানুষই নিজেকে শুধরে নেয়।  সংকলিত,সূত্র :নতুন সময়, রোয়ার মিডিয়া, দৈনিক আমাদের সময়

দাম্পত্য সম্পর্কে ঈর্ষার প্রভাব!

সভ্যতার শুরু থেকে ঈর্ষার সূচনা।  আদিম নারী লিলিয়াৎ ও ইভের মধ্যে ছিল ঈর্ষার চোরা স্রোত।  ত্রিকোণ সম্পর্কের সেই ঈর্ষার ধারা আজো অব্যাহত আছে।  সভ্যতার বর্তমান উৎকর্ষেও মানুষের যেসব আদিম বৈশিষ্ট্য রয়ে গেছে, ঈর্ষা তারই একটি। ঈর্ষার কারণে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান লোপ পায়। যে কারণে মানুষ ঈর্ষার যুক্তিহীন দহনে পুড়ে মরে। আবার ঈর্ষাকে অনেকে বলেন সুমহতী। ঈর্ষাই নাকি উন্নতির ইন্ধন-আরোহণ রসায়ন। তবে যে ঈর্ষা হয়ে উঠতে পারত সৃষ্টির নিয়ামক, কখনো তাই হয়ে ওঠে সর্বনাশী।

ঈর্ষা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু জটিল এক অনুভূতি। দুজনের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির আগমনে ঈর্ষার উৎপত্তি। পরের উন্নতি দেখে কাতর হওয়াই ঈর্ষা। এটা ব্যক্তিত্বের এক বিশেষ প্রকাশ। আবার পরের শ্রী দেখে ভালোলাগা বা মুগ্ধ হওয়া অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ঘটনা। একইভাবে অন্যের সুখে সুখী হওয়া ও দুঃখে দুঃখী হওয়া হচ্ছে কারো সঙ্গে একাত্মবোধ করা। গাছের ফুল দেখলে ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু যার গাছের ফুল এত সুন্দর তার কথা ভেবে ফুলটা খারাপ লাগাই ঈর্ষা।
নিজের যা আছে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা থেকেই ঈর্ষার জন্ম। নিজের যা নেই, অন্যের আছে তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই হিংসা, নিরাপত্তাবোধের অভাব থেকেই ঈর্ষার উৎপত্তি। সম্পর্ক ভাঙনের আশঙ্কায় অস্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়াও ঈর্ষা।

ঈর্ষা গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে। ধ্বংসাত্মক ঈর্ষার উৎস অনেক ক্ষেত্রে বাবা, মা ও সন্তানের ত্রিকোণ সম্পর্কে লক্ষ করা যায়। সন্তান যখন বাবা-মাকে পুরোপুরি নিজের করে পায় না তখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়। বাবা, মা ও গুরুজনদের থেকে ভালোবাসা পাওয়ার জন্য অনেকে গঠনমূলক কাজ করে অর্থাৎ ভাবে ওই কাজটা করলে ভালোবাসা পাওয়া যাবে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা ব্যাহত হলে, অন্যের ক্ষতি করাটা মনে এলে তখন তাকে ধ্বংসাত্মক ঈর্ষা বলা যায়।

ঈর্ষার উৎস ও প্রকারভেদ: কেউ বলেন ঈর্ষা জিনঘটিত, কিছু অর্জন করার জন্য মানুষের মনে ঈর্ষা আসে। কিন্তু এ নিয়ে বিজ্ঞান এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। ঠিক কেমন করে কাজ করে মানুষের প্রবণতার পরম্পরা, তাও অনাবিষকৃত। ঈর্ষা ও জিনের সম্পর্ক যদি কখনো থাকেও, কোন প্রজন্মে তার প্রকাশ ঘটবে, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এর প্রকাশ নির্ভর করে পরিবেশের ওপর। সত্যিকার অর্থে জিনের প্রকাশ এক প্রজন্মে হয় না। শারীরিক উপাদান ও পরিবেশের নানা উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে মানুষের একেকটা গুণ বা দোষের প্রকাশ ঘটে। অনেক সময় ঈর্ষা থেকে তুলনা ও অনুকরণ আসে। কিন্তু এগুলো ঠিকমতো করতে না পারলে ঈর্ষার জন্ম হয়। মূলত অভাববোধ থেকেই মানুষের মনে ঈর্ষার জন্ম হয়। এ অভাববোধ যে কোনো প্রকারের হতে পারে। এটা ঠিক পার্থিব বস্তুর অভাব নয়, সুখের অভাব। মনে মনে সুখী হওয়াটা বড় কথা। আমাদের প্রত্যেকের আমিত্বের একটা গণ্ডি বা সীমানা আছে। বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, বাড়ি-গাড়ি, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আমাদের জগৎ। এ আমিত্বের গণ্ডি যে ব্যক্তির যত সীমিত ততই তার মধ্যে নিরাপত্তার অভাব। এ অভাববোধ আমাদের মধ্যে অসম্পূর্ণতা নিয়ে আসে, যা ঈর্ষার জন্ম দেয়।

বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক চালচিত্রে দুটি জিনিস চোখে পড়ার মতো। প্রথমত, সাফল্যের প্রতি মানুষের একমুখী ধাববান গতি এবং দ্বিতীয়ত, মানুষে মানুষে প্রতিযোগিতামূলক বিরোধের সম্পর্ক। ধরেই নেয়া হয়, কোনো কাজে সাফল্যই একমাত্র লক্ষ্য আর সফলতা লাভে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে দরকার প্রতিযোগিতার মানসিকতা। এ অবস্থায় মানুষ তার ব্যবহারে হয়ে পড়ে যান্ত্রিক, দেখা দেয় পরশ্রীকাতরতা, ঈর্ষা। ফলে নিরন্তর মানসিক অশান্তির সৃষ্টি হয় এবং মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় তাড়াতাড়ি ছন্দ হারায়। আজকের হাইটেক যত উন্নতির পথে এগোবে, মানুষ ততই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবে। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠার এ প্রবণতাকে সত্যিকার অর্থে ত্বরান্বিত করে ঈর্ষা।

ঈর্ষার উৎস ও প্রকারভেদ:  অর্থ, বিত্ত ও যৌনসংক্রান্ত বিষয় থেকেই যাবতীয় ঈর্ষার উৎপত্তি। এছাড়া ক্ষুধা থেকেও ঈর্ষা আসে। Hunger, Sex, Aggression are all basic instincts যেগুলো থেকেও ঈর্ষা জন্ম নেয়। ইতিহাসে দেখা যায়, নেফারতিতির বিবাহিত জীবন কিংবা গ্রিক দেবদেবীদের নিজেদের মধ্যেও এসবের অস্তিত্ব ছিল। আজকের সমাজে যে এত হানাহানি ও সংঘাত বেড়ে উঠছে তার মূলে রয়েছে সত্যিকার অর্থে ঈর্ষা।

ওথেলো সিনড্রম:  সাধারণত এ ধরনের ঈর্ষার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না। ঈর্ষান্বিত ব্যক্তি মিথ্যা বিশ্বাসে ভুগতে থাকেন যে তার ভালোবাসার মানুষ তাকে ঠকাচ্ছে, সে অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িত। মাদকাসক্তি অথবা যৌন অক্ষমতার ফলে এ মানসিকতা প্রকাশ পায়। সাইকিয়াট্রিস্টদের মতে, এ ধরনের জেলাসি এক ধরনের অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি।  সেক্সুয়াল অবসেশনযুক্ত ওসিডি পুরুষদের বেশি হয় বলে অনেকে মনে করেন।

এ ধরনের জেলাসি বা ঈর্ষায় মনে রাখতে হবেঃ  জীবনে সবকিছু নিজের চাহিদামতো পাওয়া যায় না।পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব সৎ থাকার চেষ্টা করতে হবে। কমিউনিকেশন ক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা করতে হবে।   মানসিক ও আবেগগত দিক থেকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চেষ্টা করতে হবে। নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অভাব বুঝতে হবে, নিজেকে ভালোবাসতে হবে। অন্যের সদিচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঈর্ষান্বিত হওয়ায় লজ্জার কিছু নেই। ঈর্ষা না থাকা মহান কোনো ব্যাপার নয়। একা না থেকে পাঁচজনের সঙ্গে মেলামেশা করতে হবে। অন্যের সঙ্গে আপনার ভাবনা ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

সিবলিং জেলাসি: এ শক্তিশালী ঈর্ষার উৎস মায়ের সঙ্গে থাকা দৃঢ় বন্ধন ও ভালোবাসা। দুটি সন্তানের মধ্যে বয়সের তফাৎ কম হলে প্রথম সন্তানের ঈর্ষা বেশি হয়। সাধারণত পাঁচ বছরের শিশু সবকিছুর জন্যই মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে বাচ্চাদের স্কুল, খেলা ইত্যাদি নিয়ে বৃহত্তর জগৎ তৈরি হয়। তখন আর সন্তান বাড়ির ঘেরাটোপে আবদ্ধ থাকে না এবং তার ঈর্ষা কমে আসে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবার উচিত ঈর্ষান্বিত সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসা বেশি করে প্রকাশ করা।
সিবলিং জেলাসির ভালো দিক হচ্ছে এর মাধ্যমে সন্তান পরবর্তী জীবনে তার কর্মজগতে যে ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় তা মোকাবিলা করতে শেখে। মা-বাবা বিদ্বেষপূর্ণ ব্যবহারকে সহযোগিতামূলক আচরণে রূপান্তর ঘটাতে পারেন।

সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক ঈর্ষা: সুখ-সমৃদ্ধির উপাদান সবাই অর্জন করতে চায়। যেমন মধ্যবিত্তের তিন ভাগ-উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন। এদের মধ্যে সব সময় লড়াই চলতে থাকে। এই ‘ক্লাস শিফটিং’ কীভাবে হয় তা যদি লক্ষ করা যায় তবে দেখা যাবে হিংসা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উত্তরণের সপৃহাকে বাড়িয়ে দেয়। চাহিদা অবাস্তব হলেই ঈর্ষা বেশি মানসিক ক্ষতি করে। ব্যর্থতা ও অসমতা মেনে নিতে না পেরেও কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হন। যেসব মানুষ সমাজের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেন না তারাও ঈর্ষার শিকার। ঈর্ষা থেকে আসে মানুষের অসামাজিক আচার-আচরণ। বাগানের ফুল ছিঁড়ে ফেলার আপাতত তুচ্ছ ঘটনাও যার মধ্যে পড়ে। সমাজের মূল স্রোত থেকে যারাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তাদের মধ্যেই এ প্রবণতা প্রবল। কারণ এ ক্ষেত্রে মমত্ববোধ কাজ করে না। বাণ মারা, তুক-তাক করাও ঈর্ষার সংস্কারাচ্ছন্ন সামাজিক প্রকাশ। সমাজে ইচ্ছা ও ক্ষমতা একসঙ্গে এসেছে। ঈর্ষা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই উপাদানেই তৈরি। আমরা কতটা স্বাভাবিক ও সুস্থ আছি, অর্থাৎ সুস্থতার মানসিক বোধ State of well bering নির্ভর করে ব্যক্তিত্বের ওপর। ঈর্ষানুভূতি অনেক ক্ষেত্রে এ পারসপরিক সম্পর্কে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আসে। আর তখনই হয় ক্ষতির সূচনা।  মাত্রাহীন পরশ্রীকাতরতায় মানুষের বাস্তববোধ কাজ করে না।

ঈর্ষা থেকে মুক্তির উপায়: শেক্সপিয়ারের উপমায় ঈর্ষা হলো গ্রিন আইভ মনস্টার।  এ সবুজ চোখের দানব খুবই শক্তিশালী। এর দানবীয় শক্তি মোকাবেলায় চাই অন্তরের সুপ্ত মানবিক বোধের বিকাশ।  ঈর্ষা থেকে চিন্তাকে মুক্ত করাটা নিজের দায়িত্ব। বল্গাহীন সমাজে যে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাচ্ছে, তারা পিছিয়ে পড়ছে।  এরাই ঈর্ষার শিকার।  ঈর্ষা থেকে মুক্তির জন্য সুস্থ সমাজ, সমবণ্টন ও সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন।  চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সমতা রাখাটাও জরুরি। নিজের বোধ, বিবেচনা, বুদ্ধি দিয়ে বাস্তবের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারলে ঈর্ষাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এর জন্য নিজেকে পরিশীলিত ও বাস্তবের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। মূল কথা হচ্ছে বোধ ও বিবেচনা দিয়ে যে কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করলে মনে ঈর্ষার কোনো জায়গা হতে পারে না।

ঈর্ষাজনিত যে দহন ও উৎকণ্ঠা তাতে আমাদের অন্তর্নিহিত শক্তি ক্রমাগত ক্ষয় হয়।  ঈর্ষাপ্রণোদিত হয়ে আমরা কর্মক্ষেত্রে যে শক্তি নিয়োগ করি তার অনেকটারই অপচয় হয় এ দহনজ্বালায়। এ শক্তিকে বেশি ক্ষয় না করে যদি কাজে নিয়োগ করা যায়, উৎপাদন শক্তিও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কারণ তখন প্রেরণা আসে অন্তরের সম্ভাবনাময় শক্তিপুঞ্জের জাগরণ থেকে, সতীর্থ কিংবা সহকর্মীর সাফল্যজনিত ঈর্ষার অন্তর্দহন থেকে নয়। কর্মের প্রকৃত লক্ষ্য সাফল্য বা উৎকর্ষতাকে যদি লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়, তখনই সাফল্য ও ব্যর্থতার প্রতি সমভাব বজায় রাখা যায়। তখন প্রতিযোগী আর বাইরের কোনো সফল সতীর্থ বা সহকর্মী নয়, অতীতের আমিই তখন বর্তমান আমির প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যের প্রতি যদি সাময়িকভাবে ঈর্ষার ভাব আমাদের মনে জেগে ওঠে, আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের গভীরে ডুব দিয়ে তা কাটিয়ে উঠতে পারি।

ঈর্ষা কখন আসে: মূলত হেরে যাওয়ার ভয় থেকে ঈর্ষার জন্ম।  আর পাঁচটা অনুভূতি বা আবেগের মতো ঈর্ষাও একটি মানসিক অবস্থা। তার বাহ্যিক প্রকাশ একেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একেক রকম। যে ব্যক্তি ঈর্ষা করে তার মধ্যে একটা হীনমমন্যতা কাজ করে। যাকে সে ঈর্ষা করছে তার মতো হতে না পারা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, গুরুত্ব না পাওয়ার যন্ত্রণা, অন্যের চোখে ঈর্ষণীয় ব্যক্তিকে কীভাবে ছোট করা যায় তার নিরন্তর প্রচেষ্টাই এ হীনমমন্যতার জন্ম দেয়। ঈর্ষার নিজস্ব ডাইমেনশন রয়েছে। কেউ ভালো নাম্বার পেলে কম নাম্বার পাওয়া মানুষটি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। এটা ঈর্ষার নেতিবাচক দিক। কিন্তু যখন মানুষটি ভাবেন ওই নাম্বার তাকেও পেতে হবে তখন ঈর্ষা ইতিবাচক। ক্ষমতার পায়ে পায়ে ঈর্ষার চলাফেরা। ক্ষমতা মানে Passessione, যে ক্ষমতার জন্য মানুষ প্যারানয়েড (অবিরাম সন্দেহ আর অবিশ্বাস, ভ্রমবাতুলতার মনোরোগ) হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই রাজা-বাদশাদের যুগে প্রচুর গুপ্তহত্যার ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঈর্ষার আরেকটি কারণ। তবে মুখ্য হলো ব্যক্তিগত হিংসা। নিজেকে মহান ভাবার বোধ, যাকে বলা হয় অস্বাভাবিক অহংমন্যতা, এর থেকেও আবার তৈরি হয় কূপমণ্ডুতা। এর উৎস নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবা। তবে দুটি সমমেধা যদি একে অন্যের পরিপূরক হয় তবে তা গঠনমূলক, সেখানে একে অন্যের প্রতি ঈর্ষা নেই। কিন্তু এর মধ্যে আমিত্ব বড় হয়ে উঠলেই ঈর্ষার উদয় হয়। তবে সব ক্ষেত্রে তা হয় না, কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সমানে সমানে। তাছাড়া সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাস্থ্যকর দিকও রয়েছে।   সব মানুষ কি ঈর্ষাপরায়ণ না, যে মানুষ যথাযথ আত্মসমীক্ষা, আত্মবিশ্লেষণ করতে পারেন তাদের ঈর্ষা কম হয়। আকাঙ্ক্ষা না থাকলে ঈর্ষা আসে না। মনের প্রসারতা বাড়ালে ঈর্ষা কমে। সন্ন্যাসীর ঈর্ষা থাকে না। বিশেষণে কোনো একটা জায়গায় নিজেকে কম মনে হলে ঈর্ষা জন্মায়। ঈর্ষার পেছনে বুদ্ধি কাজ করে।  মানসিক প্রতিবন্ধীদের তাই কোনো ঈর্ষা থাকে না।

ঈর্ষা কিসের ওপর নির্ভর করে: সাইকোলজিতে ‘ওথেলো সিনড্রম’ বলে একটা কথা আছে। ওথেলো বেশি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় নিজের স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। যার জন্ম হয়েছিল ঈর্ষা থেকে। এক পর্যায়ে ওথেলো স্ত্রীকে খুনও করেন। একে ‘প্যাথলজিক্যাল জেলাসি’ বলা হয়। ষড়রিপুর অন্যতম ‘মদ’ ঈর্ষাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। তবে ঈর্ষান্বিত হয়ে যদি কেউ সঠিক কাজ করে, যেমন পড়াশোনা আরো বাড়িয়ে দেয়া, তখন তো ‘অসুখী মনন’ নয়। সহকর্মীর পদোন্নতি কেউ কেউ ঈর্ষার চোখে দেখেন আবার কেউ কেউ মনে করেন ওটা অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে ঈর্ষার কোনো স্থান নেই।

ঈর্ষার পরিমাপ:  নিচের বাক্যগুলো পড়ুন! দেখুন তো কতটির সঙ্গে আপনি একমত হতে পারেন বা ‘হ্যাঁ’ বলতে পারছেন। তারকাযুক্ত বাক্যের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ হলে ঈর্ষাকাতরতা ‘কম’ বা ‘নেই’।  তারকা ছাড়া প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে ঈর্ষাকাতরতা বেশি।   এবার সব বাক্যের ক্ষেত্রে আপনার মতামত মিলিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান, আপনি ঈর্ষাকাতর কি না।

  • ছোটবেলায় মনে হতো আমার থেকে বশিরকেই সবাই ভালোবাসত।
  • ছোটবেলায় ভাইয়া যা চাইত তাই পেত; কিন্তু আমি পেতাম না।
  • বন্ধুর স্কুলব্যাগটা অনেক সুন্দর। তা দেখে আমার মন খারাপ হতো।
  • আমি বিশ্বাস করি, খুব বেশি পয়সা থাকলে মানসিক শান্তি থাকে না, তার চেয়ে পয়সা কম থাকাই ভালো।  আমার থেকে সহকর্মীর ওপর অফিশিয়াল ব্যাপারে বেশি নির্ভর করা হয়।  বেশির ভাগ সময় ভাইয়া আর আমি একই রকম রেজাল্ট করা সত্ত্বেও বাবা-মা ভাইয়ার প্রশংসাই করত সবার কাছে। আমার বোনের স্বামী দেখতে খুব সুন্দর, যদিও বোনকে তার পাশে মানায় না।
  • বন্ধুর দামি মোবাইল দেখে আমার খুব রাগ হয়।
  • আমার সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে কারণ যে মেয়েটিকে আমার ভালো লাগত তার সঙ্গে আমার বন্ধুর বিয়ে হয়েছে।
  • আপনার বাবা-মা যদি আপনার কোনো ভাই বা বোনকে আপনার চেয়ে বেশি ভালোবাসে তাহলে কি কষ্ট পান?

ঈর্ষা এবং কল্পনা: বলা যায় ঈর্ষার সঙ্গে মানুষের কল্পনা কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে যায়। প্রসঙ্গত, একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়, স্বামীর জন্য বেল্ট কিনে এনেছেন স্ত্রী। স্বামীর সে সময় চাকরি নেই। দামি বেল্ট দেখে স্বামীর প্রশ্ন, কত দিয়ে কিনলে? চাকরি না থাকায় হীনমমন্যতায় ভুগতে থাকা ঈর্ষান্বিত স্বামী ভাবতে থাকেন স্ত্রী নিজের আর্থিক ক্ষমতা দেখাতে চাইছে। কল্পনার জাল বুনতে বুনতে সে সঙ্গে এটাও ভাবেন নিশ্চয়ই অন্য কোনো সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে, তাই তাকে বেশি খুশি রাখার জন্য এটা এক রকমের চেষ্টা। অথচ আসল ঘটনা কিন্তু খুবই সহজ। স্বামীর বেল্ট ছিঁড়ে গেছে দেখে স্ত্রী একটা বেল্ট কিনে এনেছেন।

ঈর্ষা এবং হিংসা :  ঈর্ষা সুযোগসাপেক্ষ। ঈর্ষার সঙ্গে এক ধরনের লজ্জাবোধ থাকে, যার ফলে ঈর্ষান্বিত ব্যক্তি নিজেকেও ছোট মনে করেন। অন্যদিকে হিংসার মধ্যে একটা আক্রমণাত্মক ভাব থাকে এবং হিংসা বোধবুদ্ধি আচ্ছন্ন করে ফেলে। ঈর্ষা মানুষকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে না, হিংসার ক্ষেত্রে তা সম্ভব। সম্পর্কের নৈকট্য ঈর্ষা নিয়ন্ত্রণ করে না। এটা নির্ভর করে ব্যক্তির নিজস্ব মানসিক গঠনের ওপর। প্রতিটি ব্যক্তিসত্তা আলাদা, বিচ্ছিন্ন এক একটা দ্বীপের মতো, আলাদা চাহিদা যা সম্পর্ক-নিরপেক্ষ, সেখানে যখন আঘাত লাগে তখনই ঈর্ষার উদয় হয়। যে ব্যক্তি সব সময় নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় দেখতে চান তার ঈর্ষা বেশি। ঈর্ষা সম্পর্কের ক্ষতি করে। যেমন-স্ত্রীর সাফল্যে স্বামীর প্রাথমিক ভালোলাগা থাকলেও যে কোনো জমায়েত, অফিস পার্টি, পারিবারিক অনুষ্ঠানে ক্রমাগত স্ত্রীর প্রশংসা শুনতে শুনতে স্বামীর মধ্যে হীনমমন্যতা তৈরি হয়, স্বামী ঈর্ষান্বিত বোধ করেন, সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। ঠিক বিপরীত দিকে সফল স্বামীর প্রতিও স্ত্রীর ঈর্ষা জন্ম নিতে পারে। ইচ্ছা আর হিংসা এ দুইকে এক চোখে দেখতে চান না মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ। আর সেখানেই ঈর্ষা হয়ে ওঠে আরোহণের ময়ূরকণ্ঠী লিপ্সা।

ঈর্ষার তত্ত্ব: ঈর্ষার দুটি মৌলিক তত্ত্ব ইভুলিউশনারি থিয়রি অব সোশ্যাল কন্সট্রাক্ট থিওরি। বিবর্তনবাদ মতে, জেলাসি পারফর্মস অ্যান অ্যাকশন ইদ দি প্রিজার্ভেশন অব দি সিপশিস। ছেলেরা সাধারণত মেয়েদের সেক্সুয়াল ইনফিডেলটিতে বা অবিশ্বস্ত যৌন সম্পর্কের কারণে বেশি ঈর্ষান্বিত হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। মেয়েরা ছেলেদের ইমোশনাল ইনফিডেলটি বা আবেগজনিত অসততায় ভয় পান এবং ঈর্ষাবোধ করেন। তাদের যুক্তি হলো, যখন ছেলেরা মানসিকভাবে বিশ্বস্ত থাকে তখন তারা অন্য কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ হলেও তা হয় সাময়িক। প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী ইত্যাদি সম্পর্কের বিশেষণে দেখা যায় ভালোবাসা হারানোর ভয়; মনোযোগ হারানোর ভয় উভয়কেই তাড়া করে ফেরে। স্বামী অন্য কোনো মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হলে স্ত্রীর প্রথম যে প্রতিক্রিয়া সেটাই ঈর্ষা। সম্পর্কের মূল্য হারানোর দুঃখবোধ তাদের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে। স্বজন হারানোর দুঃখের থেকেও এ ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে ওঠে এক নিরন্তর মানসিক যন্ত্রণা। আমার যা ছিল তা অন্যের হয়ে যাচ্ছে-এ অনুভূতি বা অসহায়তা থেকেই ইমোশনাল বা আবেগজনিত জটিলতা তৈরি হয়। ঈর্ষা দুই রকম-স্বাভাবিক ঈর্ষা, অস্বাভাবিক ঈর্ষা। অস্বাভাবিক ঈর্ষা মানসিক রোগের পর্যায়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ঈর্ষার প্রকৃত কোনো কারণ নেই। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সৌন্দর্য সম্পর্কে সবার প্রশংসায় হীনমমন্যতায় ভুগতে শুরু করেন। সন্দেহ শুরু হয় স্ত্রী যদি অন্যের হয়ে যান, এ হারানোর ভয় থেকে। যার ফলে অসময়ে অফিস থেকে এসে টেবিলে দুটি চায়ের কাপ দেখে ঈর্ষায় জ্বলতে থাকেন। ঈর্ষান্বিত হয়ে স্ত্রীর সঙ্গে অতিরিক্ত যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হতে শুরু করেন। স্ত্রী রাজি না হলে স্বামী মনে করেন, স্ত্রী অবশ্যই পরপুরুষের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। তবে ঈর্ষা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলেই মানুষ এমন অপ্রকৃতিস্থ আচরণ করতে শুরু করে। সাধারণত আমাদের অন্তর্জগতে দুই রকম বৃত্তি কাজ করে-বুদ্ধিবৃত্তি (ইন্টেলিজেন্স) ও হৃদয়বৃত্তি (ইমোশন)। ঈর্ষার উৎস দ্বিতীয় বৃত্তি থেকে।

ঈর্ষা এবং ভালোবাসা:  সম্পর্ক গড়ার প্রথমদিকে নতুন দম্পতিদের মধ্যে ভালোবাসা থেকে ঈর্ষার মনোভাব দেখা যায়। নিজের আচরণের বিপরীতে সঙ্গীর মধ্যে কোনো রকম ঈর্ষার প্রকাশ না দেখে ধরে নেন তার সঙ্গী তাকে ভালোবাসে না। দখলদারিত্বের বিভিন্ন ধারণা থেকেই এ সমস্যার উৎপত্তি হয়। অনেক সময় এমনো দেখা যায়, পুরুষ সঙ্গীর ভালোবাসা পরীক্ষা করার জন্য মেয়ে পার্টনার নানাভাবে ফ্ল্যাট (ফলমড়য়) করতে শুরু করেন। আসলে সম্পর্কের নিবিড়তায় যারা তৃপ্ত তাদের মধ্যে এ ধরনের ঈর্ষার জন্ম হয় না।

শিশুর ঈর্ষা :  ভালো পেনসিল বক্স, খেলনা, কানের দুল ইত্যাদি থেকেই সাধারণত শিশুদের ঈর্ষার শুরু হয়। শিশুরা চায় তার ভালোবাসার মানুষের ভাগ আর কেউ পাবে না। দেখা যায় ছোট শিশু মায়ের প্রিয় ফুলগাছগুলো ভেঙে ফেলেছে কারণ মা তাকে সময় না দিয়ে ওই গাছগুলোর যত্ন নেয়। একই মানসিকতা কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। স্বামী রোজ অফিসে বেরোনোর সময় তার পোষা টিয়াকে ছোলা খেতে দেন। যে কারণে দেখা যায় স্ত্রী বলছেন, পাখিটার গলা টিপে মেরে ফেলতে ইচ্ছা করে। সন্তান জন্মানোর পর অনেক সময় মানুষের ডিপ্রেশন হয়। স্বামীর কাছে ইম্পরটান্স হারানোর ভয় থেকেই এ অবসাদের জন্ম। মূলকথা যেসব মানুষ নিজেকে প্রাধান্য দেয় তারা সামান্য আঘাতেই ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে।

নবজাতকের প্রতি প্রথম সন্তানের ঈর্ষা, মা-বাবার করণীয়: 
প্রথম সন্তানের দৈনন্দিন রুটিনে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন ঘটাবেন না। তাকে যদি স্কুলে দিয়ে দিতে চান, নতুন শিশু আসার মাস দুয়েক আগেই তা করুন।   সব ব্যাপারে আগের অভ্যাস বজায় রাখুন, যেমন ঘুমানোর সময় গল্প বলা বা বই পড়ে শোনানো।   বড় হওয়ার ভালো দিকগুলো বোঝান।   দিনে অন্তত আধঘণ্টা সময় প্রথম সন্তানের জন্য আলাদা করে রাখুন।  নবজাতকের জন্য সে যদি আপনাকে সাহায্য করতে চায় তা করতে দিন।

    • প্রশংসা করুন।  কারণ ছাড়াই উপহার দিন।
    • কখনো ঈর্ষার ব্যাপারটি তার সামনে মুখ ফুটে বলবেন না।

ঈর্ষা সেসব মানুষের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে, যাদের মানসিক গঠন শক্তিশালী এবং ভারসাম্য আছে। এমন মানুষকে ঈর্ষা মোটিভেট বা উদ্বুদ্ধ করে। ঈর্ষা যখন চরম আকার নেয়, হিংসার রূপ ধরে, তখনই মানসিক সমস্যা শুরু হয়। এ সময়ে মানুষ নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেয়, ডিপ্রেশনে ভোগে, কখনো আবার উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং সব ব্যক্তিকে ক্ষতিকারক মনে করে। ক্ষতির জন্য ক্ষতি করা আর ঈর্ষান্বিত হয়ে ক্ষতি করা কিন্তু এক নয়।  দুটি ভিন্ন মানসিকতার পরিচয় দেয়। তাই ঈর্ষাকে চেনা জরুরি। জানা দরকার, ঈর্ষা নামের এ বহুরূপীর নানা মুখ ও মুখোশ। সে সঙ্গে জানা দরকার নিজের মনের আঁধার গহীনের সাদা-কালো ছবি। পড়ুন-চিনুন নিজেকে, অচেনা ‘আমি’ কে?

  • ঈর্ষা সম্পর্কিত কয়েকটি ধারণা
  • আমার সঙ্গী যদি প্রকৃত আমাকে ভালোবাসে তাহলে অন্য কাউকে সে চাইবে না।
  • আমার সঙ্গী যদি আমাকে নিয়ে খুশি থাকে, সঙ্গী হিসেবে আমি যদি যথার্থ হই, আমার সঙ্গী শুধু আমাকে নিয়েই তৃপ্ত থাকবে।
  • প্রেম দুর্লভ।
  • একজনের বেশি কাউকে ভালোবাসা অসম্ভব।
  • সম্পর্কে অমীমাংসিত নিরাপত্তার অভাব।
  • বিশ্বাসের সমস্যা।
  • সঙ্গীর স্বীকার করার সৎ সাহসের প্রতি অনাস্থা।
  • সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অনীহা।
  • ঈর্ষা ভালোবাসার উল্টো
  • ছেলেরা সঙ্গী হারানোর আশঙ্কায় ভোগে, মেয়েরা সম্পর্কের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকে।
  • ছেলেরা ঈর্ষাবোধকে প্রকাশ করতে চায় না, তারা তাদের হীনমমন্যতাবোধ স্বীকার করতে চায় না। মেয়েরা অনুভূতি প্রকাশ করে নিজেদের আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে চায়।
  • তীব্র আত্মসমমানবোধ আছে এমন মেয়েরা ঈর্ষান্বিত হন না।
  • আত্মসমমানবোধ যাদের কম, আত্মবিশ্বাসের অভাবে যারা ভোগেন তারা ঈর্ষান্বিত বেশি হন।
  • আপনার সঙ্গীর ঈর্ষা স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক কীভাবে বুঝবেন?
  • আপনার সঙ্গী দিনের অধিকাংশ সময় বিষণ্ন থাকবে এবং যাকে ঈর্ষা করেন তার ভাবনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেন না।
  • সম্পর্ক খারাপ করার মতো কাজ করতে থাকেন।
  • সঙ্গীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন।
  • সঙ্গীকে অনুসরণ করা, ফোনে আড়ি পাতা, মোবাইলের এসএমএসের ওপর নজরদারি করা। বাইরে থেকে ফিরলে ব্যাগ, জামাকাপড় তন্ন তন্ন করে খুঁটিয়ে দেখা।

বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতি থাকা জরুরি

সামাজিক বন্ধন হিসেবে বিয়ের আবেদন সেই পুরনো এবং রীতিটাকে সর্বজনসিদ্ধ রীতি বলা চলে।কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো অনেকেরই বিয়ের মতো বড় একটি বিষয়ে আগাম কোনো মানসিক কিংবা শারীরিক প্রস্তুতি থাকে না। পরিবারের সিদ্ধান্তে অথবা নিজের পছন্দে হুট করেই বিয়ের পিড়িতে বসে যাওয়া হয়।কিন্তু জেনে রাখা উচিত, বিয়ে মানেই হচ্ছে একটি নতুন জীবনের সূচনা। যে নতুন জীবনে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ের সঙ্গেও আরেকজনের সক্রিয় অংশীদারিত্ব শুরু হবে। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে বিয়ের আগে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। তাহলে সম্পর্ক হয় অটুট, আজীবন।আজীবন।যারা বিয়ে করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা জেনে নিন বিয়ের আগের মানসিক প্রস্তুতিগুলো।

বিয়ের বাস্তবতা উপলব্ধি :  মানসিক প্রস্তুতির প্রথম ধাপটি হচ্ছে বিয়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করা। কেউ কেউ নিজের ভাবনা কিংবা ইচ্ছার সূত্র ধরেই বৈবাহিক সম্পর্কের তাত্পর্য বুঝতে পারেন। আবার অনেক মেয়ে বা ছেলে আগে থেকেই এসব বুঝবে না। তাই মা কিংবা কাছের অভিজ্ঞ কেউ তাকে ইতিবাচকভাবে জীবনের বাস্তবতা বুঝিয়ে বলতে পারেন। ছেলেমেয়ে দুজনকেই পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতা থাকতে হবে। তা হলে দাম্পত্য জীবনে অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা যাবে।

দায়িত্ববান হতে হবে:  নিজের, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজের স্বভাবের কোনো নেতিবাচক দিক থাকলে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।

মানিয়ে চলা: ছেলেমেয়ে দুজনকেই পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতা থাকতে হবে। তা হলে দাম্পত্য জীবনে অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব।

ধৈর্যশীল ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে:  ছেলে-মেয়ে দুই জনকেই ধৈর্যশীল ও পরস্পরের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এ দুইটি গুণের অভাবে পরিবারগুলোতে দাম্পত্য কলহ বাড়ছে। ছোট খাটো বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার ইতিবাচক মানসিকতা রাখতে হবে।

আলোচনা ও বোঝাপড়া ভালো: নিজের সব দিক নিয়ে বিয়ের আগে উভয়ে আলোচনা করলে বোঝাপড়ার শুরুটা ভালো হবে। এটিও ঠিক যে, একেকজনের জীবনযাপন একেকভাবে নির্ধারিত হয়। পারিপার্শ্বিকতায় ভিন্নতা থাকে।প্রতিটি পরিবারের আলাদা নিয়মকানুন, আচার-ব্যবহার থাকে। সেসব আগে থেকে একটু জানলে পরবর্তী সময় নতুন সদস্যের বুঝতে সহজ হয়। এসব ক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই মানিয়ে চলবে, তা নয়, ছেলেটিকেই বরং সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে। মেয়েটি সব ছেড়ে তাদের পরিবারে আসছে। ছেলেটির পরিবারকে এ বিষয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ছেলেকে বোঝাতে হবে সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া না করতে। যে কোনো সমস্যা হলে তারা যেন খোলাখুলি আলোচনা করে নেয়।

আন্তরিকতা জরুরি: বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানীর পর্যালোচনায় উঠে আসে বিয়েতে একজন ছেলের নিবাসের তেমন পরিবর্তন হয়না। কিন্তু একজন মেয়ের যে বাড়িটিতে বাবা-মা, ভাইবোনোর সঙ্গে শৈশব-কৈশোরের স্বর্ণালী সময়টুকু কাটানো হয় সেই শিকড় থেকে তাকে উপড়েই নিয়ে যেতে হয় নতুন পরিবেশে। তাই নতুন অতিথিকে বরণ করতে হবে কন্যারুপে, ভগ্নিরুপে। এক্ষেত্রে স্বামীর ভূমিকা এবং ছেলেপক্ষের ভূমিকা-আন্তরিকতা জরুরি।শাশুড়ি নিয়ে অনেক মেয়ের মনে ভয় থাকে। বিয়ের আগে সুযোগ থাকলে মেয়ের সঙ্গে ছেলের পরিবার কথা বলে নিতে পারে। তবে শুরুতেই মেয়েকে নেতিবাচক কোনো বিষয় বলা উচিত নয়।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত নয়: ছেলের বিয়ের আগেই পরিবারের সদস্যদের মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে তারা যেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হন। এমনকি ছেলেরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কল্পনা আর বাস্তবতা মিলে যায় না। তখন সমস্যার সৃষ্টি হয়। একটু সচেতন, সহযোগিতাপরায়ণ ও বোঝাপড়া ভালো হলে দাম্পত্য জীবন সুন্দর হতে বাধ্য। এটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের মনোবিজ্ঞানী তামিমা তানজিন বলেন, আসলে মানসিক প্রস্তুতিটা নেওয়া দরকার বিয়ে-পরবর্তী জীবনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। শুধু মানসিক নয়, শারীরিক প্রস্তুতিটাও নিতে হবে।  দাম্পত্য জীবনে শারীরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। কাছের কেউ বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া যেতে পারে।   শেষ কথা, বিয়ের আগের সময়টা পরিবারের সবার সঙ্গে উপভোগ করুন।  একদম মানসিক চাপমুক্ত থাকুন।  শুভকামনা।

সংকলিত, সূত্র : অর্থসূচক ,বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো

“লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট”-সত্যিই কি হয় ?

প্রথম দেখায় ভালোবাসা (লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট) হচ্ছে একটি চমৎকার-রোমান্টিক-উত্তেজনাকর শব্দগুচ্ছ।অনেকেরই কল্পনাবিলাস থাকে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়া নিয়ে।আর যাঁদের এ অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁরা এর মহত্ত্ব প্রচারে উচ্চকণ্ঠ। কেউ বলেন, ‘ওকে দেখেই আমার মনে হয়েছিল ও আমার!’ আবার কেউ বলেন, ‘প্রথম দেখাতেই জেনেছিলাম আমরা—দুজনে দুজনার!’

বিজ্ঞানীরা বর্তমানে একমত যে, প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার বিষয়টা সত্যি সত্যি ঘটে। যেসব বিজ্ঞানী এ ক্ষেত্রে কাজ করছেন তারা বিশ্বাস করেন, যেসব সমাজে অস্থিরতা নেই, যুদ্ধ ও মৃত্যুর ঝুঁকি নেই সেসব সমাজে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। আর এরকম একটা সম্ভাবনার প্রাথমিক শর্ত হলো এমন একটা অনুকূল বিশ্বাস সেই সমাজ ধারণ করবে।

যাহোক, ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই। এটি একেকজনের কাছে অনেক রকম। কেউ সত্যিকার অর্থেই কাউকে ভালোবেসে ফেলেন। কেউবা আবেগের বশেই কারও প্রতি আকৃষ্ট হন। এই দুটো বিষয়ের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। কোনটি ভালোলাগা বা আবেগ আর কোনটি ভালোবাসা এটা বুঝতে আমরা অনেকেই ভুল করে ফেলি। সত্যের জন্য প্রস্তুত হন। ভালোবাসার ভ্রমরটাকে একটু সময় নিতে দিন। কে জানে প্রথম দেখাতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে বাকি জীবনভর হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার না ভাবাটাই আপনাকে ভাবাবে!

এক তরফা প্রেম তো নয়?
আপনি তো প্রথম দেখাতেই ‘প্রেমে পড়ে গেলেন’ কিংবা অন্য ভাষায় বললে, ‘প্রেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।’ কিন্তু একে ‘প্রেম’ নামে ডাকার আগে একবার ভেবে নিন প্রিয়মুখের মানুষটা আপনার এই অনুভূতি কীভাবে গ্রহণ করবেন। ‘বন্ধু’ হয়ে থাকতে চাইলে বন্ধু হয়েই থাকুন না!

আসলেই কি প্রেম?
প্রেম-পাখি নিশ্চয়ই চির দিন অধরাই থেকে যায় না! কিন্তু প্রেম প্রেম ভাব হওয়া আর প্রেম হওয়া তো এক কথা না। যাঁর প্রেমে পড়েছেন বলে মনে করছেন তাঁকে নিয়ে ভাবার আগে নিজেকে নিয়ে আরেকটু ভাবুন। অনেক কিছুই তো হতে পারে প্রেমের কাছাকাছি কিন্তু প্রেম নয়! আজকাল অনেকেই যেমন বলেন থাকেন—হার্ট থ্রব! ক্রাশ! আর কাউকে দেখে একটা মোহের ঘোরে তো পড়তেই পারেন, হোক তা মানসিক বা শারীরিক আকর্ষণ থেকে।

জল দেখে ঝাঁপ দিন
জলে ঝাঁপ দেওয়ার আগে জলের চরিত্রটা জেনে নিন। জল গভীর হলে তো বেঁচেই গেলেন! সাঁতার না জানলে গভীর জলে তো ডুবতেই পারেন। কিন্তু সে জলে ডোবা হাঁটুপানিতে ঝাঁপ দিয়ে মাথা ফাটানোর চেয়ে ভালো! যে মানুষটিকে পেতে চাইছেন তাঁকে চেনার জানার চেষ্টা করুন। জীবনটা তো আর হলিউড-বলিউডের রোমান্টিক কমেডির মতো স্ক্রিপ্ট মেনে চলে না তাই জীবনের হিসেব নিয়ে বসুন।

ঠোকাঠুকিটা পার করুন
প্রেমে পড়লে নাকি লোকে অবলীলায় মধু মনে করে বিষও পান করতে পারে! আর প্রথম প্রথম তো সবকিছুই ভালো লাগে। স্বভাবের দোষ-ত্রুটিগুলোও তখন চোখে পড়ে না। কিন্তু টুকিটাকি একটা কিছু নিয়ে ঠোকাঠুকি তো লেগেই যেতে পারে। দেখুন এই ঠোকাঠুকিটা কীভাবে পার হয়। যদি সত্যিই একে অন্যের দোষ-ত্রুটি মেনে নিয়েই পরস্পরকে গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে আপনারা সত্যিই ভাগ্যবান। বুঝতে হবে আপনারা আসলেই প্রেমের জোয়ারে ভাসতে যাচ্ছেন।

অতীত এড়াবেন না
আপনার মতোই আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকারও একটা অতীত আছে। অতীতটাকে এড়ানোর কিছু নেই। খোলা চোখে দেখে বিষয়টা বুঝে নিন। অন্ধের মতো নয়, জেনেশুনে সেটা মেনে নিন। একে অন্যের সঙ্গে নিজেদের অতীতের কথা, সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করে নিন। সঙ্গীকে বিচার করতে নয়, নিজেদের বোঝাপড়াটা আরও বাড়াতেই তা করুন।

ভালোবাসার কারণ আবিষ্কার করুন
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি কেন তাঁকে ভালোবাসেন? এবার তাঁকেও জিজ্ঞেস করুন, তিনি কেন আপনাকে ভালোবাসেন? এমনও তো হতে পারে আপনারা পরস্পরকে এর মধ্য আরও ভালোভাবে আবিষ্কার করবেন। আর তিনি না বললে আপনি হয়তো জানতেনই না আপনার সেই গুণের কথা, যে জন্য তিনি আপনাকে ভালোবাসেন! এই বোঝাপড়াটা দরকার।

বাস্তবতা বোঝা জরুরি
কোনো কিছুই যখন ঠিকঠাক কাজ করে না তখন একদল লোক নিরাশায় ডুবে যান আরেক দল লোক কেবলই আশাবাদী হয়ে খালি স্বপ্ন দেখতে থাকেন। কিন্তু এই আশা বা নিরাশার চেয়ে বাস্তবটাকে ভালোভাবে জানা বোঝা জরুরি। কোনো কিছুকেই ধ্রুব বা চিরায়ত বলে ধরে নেবেন না। আপনি যদি নিজে সুখী না হন তাহলে বুঝতে হবে আপনার সঙ্গীও আপনাকে নিয়ে সুখে থাকবেন না। কেননা, নিজে সুখী না হলে অন্যকে সুখী করা যায় না। সম্পর্কের বাস্তব চেহারাটা ভালো করে দেখুন।

নিজের জীবন নিজেরই থাকে
ভালোবেসে তাঁকে ‘জান-প্রাণ’ ডাকতেই পারেন! মনের মানুষ, প্রেমের মানুষ তো তাই-ই। কিন্তু সাধু সাবধান, ভুলবেন না যে নিজের জীবনটা সব সময় নিজেরই থাকে। ফলে প্রেমের বাতাসে গা ভাসিয়ে দিলেই চলবে না। নিজের জীবনের প্রতি খেয়াল রাখা চাই। প্রেমের জোয়ারে ভেসে গিয়ে নিজের লেখাপড়া, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যতের পথ থেকে যেন পা পিছলে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। নইলে মধুচন্দ্রিমার সঙ্গে সঙ্গে প্রেম-পাখিটাও আপনাকে ফেলে উড়ে যেতে পারে।

তবে যাই হোক না কেন ভালোবাসা যেহেতু সকল কিছুর ঊর্ধ্বে তাই কোনো সঠিক ব্যখা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না এ বিষয়ে। স্যাম লিভেনসনের ভাষায়, “লাভ অ্যাট ফার্স্ট‌ সাইট ইজ ইজি টু আনডারস্টান্ড। ইটস হোয়েন টু পিপল হ্যাভ বিন লুকিং টু ইচ আদার ফর এ লাইফ টাইম, দ্যাট ইট বিকামস এ মিরাকল’ । তাই লভেনসনের মতোই বলতে হয় থাক না কিছু জিনিস মিরাকল পৃথিবীতে।  সব কিছুর ব্যাখা থাকলে জীবন তো হয়ে যাবে একঘেয়ে আর চির নির্দিষ্ট।
সংকলিতঃ সূত্র  : প্রথম আলো, প্রিয়.কম , দৈনিক আমাদের সময়, বিডি লাইভ ২৪

দৈহিক সম্পর্কের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত সুফল

যৌন সম্পর্ক মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মনে এমন আকাঙ্খা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়।  বৈবাহিক জীবনে অনেকেই মনে করেন সেক্সে কোনো উপকার নেই। একটি ভালো যৌন সম্পর্কের পর মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে তৃপ্তি লাভ করে। যৌন সম্পর্ক ও অর্গাজম যে শুধু তৃপ্তির ব্যাপার, তা-ই নয়, বরং এটি আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সেক্স থেরাপিস্টরা বারবার নিয়মিত যৌন সম্পর্কের সুফলের কথা বলে আসছেন। এখানে তার কয়েকটি আলোচনা করা হলো-

আয়ুষ্কাল বাড়াতে পারে: ক্লিনিক্যাল সেক্সিওলজিস্ট এবং সনদপ্রাপ্ত সেক্স কোচ সানি রডজার্সের মতে, নিয়মিত যৌনতার ফলে আপনার জীবনের পরিধি বাড়তে পারে।  ‘আপনি যখন প্রতিবার অর্গাজম করেন তখন আপনার শরীর ডিএইচইএ নামের একটি হরমোন নিঃসরণ করে। এ হরমোনটি দেহের ইমিউন সিস্টেমের জন্য খুবই উপকারী এবং এটি আপনার চামড়াকে আরও স্বাস্থ্যবান করে, যা আপনাকে আরও তরুণ দেখাতে সাহায্য করে।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী:  যৌন সম্পর্ক আপনাকে দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখবে। রডজার বলেন ‘যৌনতা কষ্ট এবং উদ্বেগ কমায়, পক্ষান্তরে রিলাক্সেশন বাড়ায়।’  অ্যান্ড্রোফিনস নামের এক প্রকার হরমোন মূলত এর জন্য দায়ী। যৌনতার ফলে এ হরমোনটি নিসৃত হয় এবং এটি মানুষের ডিপ্রেশন কমিয়ে মন চাঙ্গা করতে সাহায্য করে।

সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়: সেক্স থেরাপিস্ট লরি ওয়াটসন বলেন,  ‘সঙ্গীকে স্পর্শ করার মাধ্যমে তার আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া যায়। যৌনতার কারণে অক্সিটোসিন নামের এক ধরনের হরমোন নিসৃত হয়, ফলে সঙ্গীর সঙ্গে আপনাকে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করে।

যৌনতা হতে পারে ভালো ওষুধ:  নিয়মিত যৌন সম্পর্ক বেশ কয়েকভাবে আপনার শরীরের উপকারে আসতে পারে। রডজার বলেন, ‘বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বীর্যপাত প্রোস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। পুরুষের জন্য তাই যৌনতা স্বাস্থ্যকর হতে পারে। অর্গাজমের ফলে নিসৃত অক্সিটোসিন হরমোন প্রাকৃতিকভাবেই মনযন্ত্রনা, মাথা ব্যাথা ও মাংসপেশির পীড়া দূর করতে সাহায্য করে।’

ক্যালরি ক্ষয় করে:  রডজার বলেন, ‘প্রতিবার যৌনতায় একটি যুগল অন্তত ১০০ ক্যালরি ক্ষয় করে। যদি কোনো যুগল সপ্তাহে তিনবার মিলিত হয়, তাহলে কোনো ধরনের ব্যয়ামাগারে যাওয়া ছাড়াই তারা বছর শেষে ১৫ হাজার ক্যালরি ক্ষয় করতে পারবে।’

মানসিক চাপ কমায়: ওয়াটসন বলেন, ‘অর্গাজমের ফলে অনেক দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। আমার একজন নারী রোগী ছিলেন যিনি ১২ বছর ধরে সপ্তাহে তিনবার সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হয়ে আসছিলেন। কিন্তু তার কোনো অর্গাজম হচ্ছিল না। পরে আমি তার এ সমস্যাটির সমাধান করি।  অর্গাজম মানসিক চাপ কমায় বলে সে আমার কাছে স্বীকার করেছে।’

পিএলওএস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সেক্স করলে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশের কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের এ অংশটি মানুষের মন ভালো বা খারাপের জন্য দায়ী।  এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক ও শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হলে সেটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।   উৎস-প্রিয় ডেস্ক 

প্রথম প্রেম কেন ভুলা দ্বায়!

জীবনের প্রথম ভালোবাসার বিষয়টি আজীবন আলাদা আবেদন ধরে রাখে। প্রথম প্রেমের রেশ থেকে যায় অনেক দিন। একটা তাড়না, তিক্ত-মধুর এক অনুভূতি মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। অনেকের মনে অতীত স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায়। স্মৃতি রোমন্থনে অনেকে আবেগী হয়ে ওঠেন।   একটি মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, প্রথম প্রেমের অনুভূতি অনেকটা প্রথমবার স্কাইডাইভিং বা বিমান থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে লাফ দেওয়ার মতো। এরপর আপনি যতবারই লাফ দেন না কেনো, প্রথমবারের স্মৃতিটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে মনে থাকে।

নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আর্ট অ্যারন বলেন, ‘যে কোনো বিষয়ে আপনার প্রথমবারের অভিজ্ঞতা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ভালো মনে থাকে। সম্ভবত প্রথমবার কোনো কাজ করার সময় কিছুটা ভীতি, কিছুটা উত্তেজনা কাজ করে সে জন্য। প্রেমে পড়ার বিষয়টিও অনেকটা এ রকম। কারণ প্রথম প্রেমের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ভীতি থাকে, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, সে নিয়ে সংশয় থাকে। উদ্বেগ হচ্ছে প্রেমের সবচেয়ে বড় অংশ। বিশেষ করে প্রথম প্রেমের ক্ষেত্রে।’

অ্যারন আরো বলেন,বেশির ভাগ প্রথম প্রেম হয় বয়ঃসন্ধিকালে। যখন প্রবলভাবে হরমোনের পরিবর্তন হয়, পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। মোট কথা, সব মানুষের জীবনেরই সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর সে কারণেই এই সময় হওয়া প্রেমের প্রভাব অনেক গভীরভাবে পড়ে জীবনে।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট কলেজের মনোবিজ্ঞানী জেফারসন সিংগার বলেন, অধিকাংশ মানুষের ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কে ‘মেমোরি বাম্প’ বা ‘আকস্মিক স্মৃতি’র একটি বিষয় থাকে। আকস্মিক স্মৃতির বিষয়টি যাঁদের থাকে তাঁরা অধিক স্মৃতিকাতর বা স্মৃতি রোমন্থন করেন।  এ কারণেই ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সের সময় প্রথমবারের মতো অভিজ্ঞতা করা জিনিস স্মৃতিতে ফিরে আসে, মনের পর্দায় ভেসে ওঠে বারবার।

সিংগার আরো বলেন, প্রথম প্রেমের স্মৃতি অনেক সময় আবার সুখকর হয় না। অধিক রোমাঞ্চকর, সহিংস হলে আরও বিপদ ঘটতে পারে। জীবনের ওই উত্থান-পতনের দিনগুলোর কথা মনে হলে হতাশা আসতে পারে।

আসলে প্রথম প্রেমের সাথে জড়িত কিছু স্মৃতি মনের মাঝে এমন ভাবে গেঁথে যায়, যা সারাজীবন কেটে গেলেও ভুলা যায় না।
আবার অনেক সময় এমনও হয়, আপনি হয়ত বিবাহিত জীবনে সুখী হতে পারছেন না, তখন হঠাৎ আপনার মনে হতে পারে অতীত জীবনেই প্রিয় মানুষটির কথা। সেই সাথে মনে হতে পারে ‘তার সঙ্গে ঘর বাধলেও মনে হয় সুকি হতাম’। এই ভাবনা থেকেই আপনি আপনার প্রথম প্রেমটি ভুলতে পারছেন না।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ন্যান্সি কালিস বহু বছর পর মিলিত হওয়া জুটিদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, স্মৃতি রোমন্থনে প্রতিবার ভালো লাগার অভিজ্ঞতাটাই নতুন বলে মনে হয়। দুজনের কাছেই ভালো লাগা-ভালোবাসা বলে মনে হয়। কালিস তাঁর গবেষণালব্ধ ফল উল্লেখ করে বলেন, প্রথম প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে আবার যখন তাঁরা একসঙ্গে হয় তাঁদের সম্পর্কের বাঁধন ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখে।

এমন নানা কারণে মানুষ তার জীবনের প্রথম প্রেম ভুলতে পারে না। তবে বর্তমানে যারা বিবাহিত তাদের জন্য একটি উপদেশ থাকবে-আর সেটি হলো সবসময় মনে করবেন সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যেই করেন। মনেমনে ভাবুন আপনার ভালবাসার মানুষটি সঙ্গে আপনি যদি ঘর বাধতেন তাহলে এখনকার মতো হয়তো এত সুখি কিংবা এত দুঃখি না হয়ে অন্য কিছুতো হতে পারতো। সৃষ্টিকর্তা তখন বড় কোন বিপদ-আপদও দিতে পারতো।তাই যেটা স্মৃতি হয়ে গেছে সেটাকে স্মৃতি হিসেবে রেখে জীবনকে যাপন করতে শেখেন। দেখবেন আপনার যাপিত জীবনের মাঝে আপনি হয়তো একদিন ঠিক খুঁঁজে পেয়েছেন সেই মানুষটির ছোঁয়া, যাকে আপনি ভালবাসতেন।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ, এম টি নিউজ, এন টি ভি বিডি

সঙ্গী আপনাকে বিয়ে করতে আগ্রহী তো?

ভালোবাসার সম্পর্ক ইদানিং যেন ছেলেখেলা হয়ে গিয়েছে।  যে যার ইচ্ছা মত সম্পর্ক ভাঙছে এক মুহূর্তে, আবার পর মুহূর্তেই নতুন কারো সাথে গড়ছে। মুখে যে যতই ভালোবাসার কথা বলুক, প্রতারনা করার বেলায় সেসব কথা মনেই থাকছে না কারো।  অনেকেই বিয়ে করে ঘর বাঁধার আশায় সঙ্গীকে বিশ্বাস করে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন ভালোবাসার জন্য। কিন্তু সেই বিশ্বস্ত সঙ্গীটিই সুযোগ বুঝে তাঁকে একা ফেলে রেখে সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলছে। তাহলে কিভাবে বুঝবেন আপনার সঙ্গী সাথে আপনার সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে কিনা? আসুন জেনে নেয়া যাক কয়েকটি উপায়ঃ

১) আপনার সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা : যেকোনো বিষয়ই হোক, আপনাকে জানানো, আপনার সঙ্গে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা, বিয়ের পরে কী করবে, কী করবে না, এগুলো বলা মানেই সঙ্গীটি আপনাকে বিয়ে করতে আগ্রহী।

২) বেশির ভাগ সময়ই বিয়ে নিয়ে কথা বলা :  কথার মাঝে বেশির ভাগ সময়ই বিয়ে নিয়ে কথা বলা একটা ভালো লক্ষণ। যে বিয়ের কথা বারবার বলে, সে অবশ্যই আপনাকে বিয়ে করার চিন্তা করছে।

৩) পরিবারের সঙ্গে মত বিনিয়ম করতে চাওয়া :  সে হঠাৎ করেই তার পরিবারের সঙ্গে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এমনকি আপনার পরিবারের সঙ্গেও পরিচয় হতে চাইছে। এমন আচরণ করলে বুঝবেন সে আপনাকে নিয়ে খুবই সিরিয়াস।

৪) গোপন কথাগুলো প্রকাশ করছে : তার মনে যেসব কথা গোপন ছিল একটা একটা করে সেগুলো সে আপনাকে বলে দিচ্ছে। এর মানে জীবনসঙ্গী হিসেবে সে মনে মনে আপনাকে বেছে নিয়েছে।

৫) সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা ক্রমশ বাড়ছে :  দিন দিন আপনার প্রতি তার ভালোবাসা ক্রমশ বেড়েই চলছে। ভালোবাসার কোন হিসাব হয় না। তবে কোন পুরুষ যখন সত্যি সত্যিই কোন নারীর সঙ্গে নিজের জীবন কাটাতে চান, হুট করেই তখন তাদের মাঝে একটি ম্যাচিউরিটি চলে আসে। আর এটাই আপনাকে বুঝাতে সাহায্য করবে যে তিনি আসলে বিয়ের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস।

৬) সঙ্গীর সম্মানকে প্রাধান্য দেন :  পুরুষ যখন কোন নারীকে বিয়ে করতে চায়, তখন তিনি সারা পৃথিবীর সামনে সেই নারীর সম্মানকে উঁচু রাখার চেষ্টা করেন। কখনো এমন কিছু বলেন না বা করেন না, যাতে প্রেমিকার অসম্মান হয়।

৭) সব বিষয়ে মাথা ঘামান :  পুরুষেরা যখন বিয়ে করতে চান, তখন তার ব্যাপারে খুব রক্ষণশীল আচরণ দেখিয়ে থাকেন। প্রেমিকার পোশাক থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব পর্যন্ত সকল বিষয়েই প্রেমিক মাথা ঘামাতে শুরু করেন। এতে বুঝতে হবে সে বিয়ে করতে চাইছে।

৮) আপনার সবকিছুতে তার আকর্ষণ:  আপনার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবকিছুতেই তার জানার আগ্রহ অনেক বেশি। এর মানে নিশ্চয়ই আপনাকে নিয়ে সে বিয়ের পরিকল্পনা করছে।

৯) আপনার বিষয়ে অনেক বেশি যত্নশীল :  আপনি সামান্য অসুস্থ হলে আপনার প্রেমিক অস্থির হয়ে যায়, আপনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সে চিন্তিত থাকে, এর মানে সে আপনাকে অনেক ভালোবাসে। আপনাকে হারাতে চায় না। আপনাকে বিয়ে করতে চায় বলেই সে আপনাকে হারাতে চায় না।

১০) সন্তান নিয়ে কথা বলা :  অনেকেই প্রেমের সময় সন্তান নিয়ে টুকটাক কথা বলে। যে আপনাকে বিয়ে করতে চায় না, সে কখনোই ভবিষ্যৎ সন্তান নিয়ে কথা বলবে না।  সূত্র: সংগৃহিত

সঙ্গীর মান ভাঙাবেন কিভাবে !

যে মানুষটি মনের সবচেয়ে কাছে, যে মানুষটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আমরা, তাঁর সাথেই কিন্তু মান-অভিমান হয় সবচেয়ে বেশি! মনে করে দেখুন তো, তাঁর অবজ্ঞা, তাঁর একটুখানি অবহেলা কতখানি কষ্ট দেয় আপনাকে। একই ব্যাপার কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনার অবহেলা, আপনার তাচ্ছিল্য কতটা কষ্ট দেয় তাঁকে।মাঝে মাঝে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ভালোবাসার মানুষটির সাথে রাগারাগি হয়, হয় মান অভিমান।ভালোবাসার মানুষটি অভিমান করে থাকলে কোনো কিছু যেন ভালো লাগেনা। আর তাঁর মনে যে অভিমানের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা দূর করার কথা নিয়েও আপনার দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।মান-অভিমানের তিক্ততা দূর করে সম্পর্কটা আবার মধুর করে তুলতে চাই বাড়তি কিছুর ছোঁয়া। আহামরি কিছু নয়, বরং আপনার সামান্য আন্তরিকতা আর ছেলেমানুষিতেই সম্পর্কটা হয়ে উঠতে পারে আগের চাইতেও মধুর। ভালোবাসায় একটুখানি ছেলেমানুষি,একটুখানি পাগলামি করাই যায়। বয়স যাই হোক,ভালোবাসা তো কখনো পুরনো হয় না।জেনে নিন ভালোবাসার মানুষটির মান সহজেই ভাঙিয়ে ফেলার কিছু উপায় সম্পর্কে।

‘সরি’ বলুন:মন থেকে বলুন ‘সরি’ এ এমন এক শব্দ যা আপনার গলার স্বর, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সব কিছুতেই প্রতিফলিত হয়। তাই মন থেকে ‘সরি’ বলছেন কিনা, তা বুঝতে পারেন কাছের মানুষ। তাই ‘সরি’ বলুন ইগো ঝেড়ে, দ্বিধা সরিয়ে। আন্তরিকতার পরশ যেন মিশে থাকে আপনার ‘সরি’-তে।

দেরি করবেন না: সমস্যা বাসি করবেন না। এটাই সুখী সম্পর্কের অন্যতম চাবিকাঠি। খুচখাচ ঝগড়া জীবনের সঙ্গেই স্বাভাবিক হয়ে যায় ঠিকই। কিন্তু কিছু মুশকিল বেয়াড়া। তা সরাতে খাটতে হয়। আর এই খাটনিতে দেরি করলে তার আর দাম থাকে না। তাই আপনার তরফেও কিছু ভুল হয়েছে বুঝলে সঙ্গীর এগোনোর অপেক্ষা না করে আগে ‘সরি’ বলুন।

ইগো ছাড়ুন: ‘ইগো’ নামের মারাত্মক বোধ অকারণে স্থান-কাল-পাত্র ভুলে আমাদের পথ আগলে দাঁড়ায়। তাই সরি বলতে যাওয়ার আগে রাস্তা আটকে দিন ইগো’র। ভালোবাসলে কখনো ‘নত’ হতেই হয়। তাতে লজ্জা থাকে না, বরং কাছের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে হয়ে ওঠা যায় আরও প্রিয়। না বুঝলে বুঝবেন, ভালোবাসায় গলদ আছে।

আলিঙ্গন করুন: ভালোবাসার মানুষটির মান ভাঙ্গাতে আলিঙ্গনের বিকল্প নেই। তাই ভালোবাসার মানুষটির মান ভাঙ্গাতে তাকে আলিঙ্গন করে ভালোবাসা প্রকাশ করুন। আপনার ভালোবাসার উষ্ণতায় নিমিষেই গলে যাবে তার মন।

চিঠি লিখুন: আপনি তাঁকে কতটা ভালোবাসেন, তাঁর জন্য কতটা ভাবেন, তাঁকে কষ্ট দিয়ে আপনি নিজে কতটা কষ্টে আছেন এসব লিখে ফেলুন এক টুকরো কাগজে। তারপর চিঠিটা গুঁজে দিন তাঁর হাতে। চিঠিটা পড়ার পর তিনি দেবেন তাঁর শ্রেষ্ঠ হাসিটা!

চিঠি/কার্ড পোস্ট করুন:তাঁর মন আরো ভালো করতে, তাঁকে আরো চমকে দিতে আপনার চিঠিটা পোস্ট করুন ডাকে বা কুরিয়ার করুন তাঁর ঠিকানায়। অথবা পাঠাতে পারেন আপনার অনুভূতি লিখে কোনো কার্ড। তিনি না খুশি হয়ে কোথায় যাবেন! আজকালকার যুগে ডাকে একটা চিঠি পাওয়া রীতিমত সারপ্রাইজ বৈকি।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিন:তারুণ্যের সম্পর্কে ফেসবুকে খুব চমৎকার একটা স্ট্যাটাস দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করাটাও কিন্তু হতে পারে মান ভাঙানোর একটি চমৎকার কৌশল। মিষ্টি কিছু কথা বলে দিয়ে দিন না চমৎকার একটি স্ট্যাটাস। সাথে লিখে দিন প্রিয় গানের কয়েকটি লাইন। দেখবেন সে রাগ করে থাকতেই পারবে না।

চকলেট উপহার দিন:তাঁর প্রিয় চকলেট তাঁকে উপহার দিন। চকলেটের মিষ্টতা আপনাদের সম্পর্কের তিক্ততাকে দূর করে দেবে। আর হ্যা, সাথে ‘ভালোবাসি’ লেখা একটা কার্ড দিতে ভুলবেন না যেন! বিশেষ করে প্রেমিকার মান ভাঙাতে প্রেমিকদের তরফ থেকে এই চকলেট থেরাপি সর্বদাই কাজ করে।

গান গেয়ে শোনান:ব্যাপারটা একটু সিনেমাটিক হয়ে গেলেও তাঁর জন্য গান গেয়ে উঠুন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি ছেলেমানুষী মনে হলেও কাজে কিন্তু দেবে! আপনার হেঁড়ে গলায় গান শুনে তিনি মন খারাপ ভুলে হেসেও ফেলতে পারেন।

শপিং করতে নিয়ে যান:কেনাকাটা করিয়ে মান ভাঙানো কিন্তু দারুণ একটা আইডিয়া! সারপ্রাইজ গিফট তো আপনি দিয়েই থাকেন, এবার তাঁকে নিয়ে শপিংয়ে চলে যান। তাঁর পছন্দমতো জিনিস তাঁকে কিনে দিন। এই উপায় কাজ দেবেই! একসাথে দুজনে ঘুরতে ঘুরতে দেখবেন অভিমান কোথায় উড়ে গেছে!

ভালবাসুন: সব সময় কেবল ‘সরি’-তে মন না উঠলে, ঝগড়া মেটাতে গিয়ে দেখা হলেই সরি-র বদলে চওড়া হাসুন। এতে আপনার আন্তরিকতা সামনে আসবে। ভালোবাসার প্রকাশ থাকুক আপনার আচরণে। চাইলে নিরালায় একান্তে সময় কাটান। দু’-একটা কাছের ছোঁয়াচ থাকুক না, ক্ষতি কি! দেখবেন, ‘সরি’ না বলেও কেমন কাজ হয়েছে।
সূত্র: দেশ বিদেশে, স্বাধীনবাংলা ২৪, প্রিয়.কম

সম্পর্কটি ভালোবাসা নাকি মোহ!

ভালোবাসা আসলে কী? কেনইবা সবাই একটুখানি ভালোবাসার ছোঁয়া পেতে এতটা কাঙ্গাল, এতটা আকুল? কী এমন ম্যাজিক ভালোবাসায়? কবিতা, গল্প, গান কিংবা উপন্যাসে লেখকরা ভালোবাসার মানে আবিষ্কারের প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন, করছেন অহর্নিশ।  যুতসই ‘অনুবাদ’ মিলছে কোথায়?  ভালোবাসা আসলে তবে কী মোহ, মরীচিকা! ভালোবাসা নামের সেই রহস্যের মায়াজালে বন্দী হয়েছেন খেলার জগতের অনেক তারকারাই। ভালোবাসা রঙে রঙিন হয়ে ওঠা সেই সব তারকাদের ভুবনে চলুন ডুব দিয়ে আসি…

‘ভালোবাসা অনেকটা হাওয়ার মতো! আপনি দেখতে পারবেন না, কিন্তু ঠিকই অনুভব করতে পারবেন!’  একটি সুন্দর আকর্ষণীয় মানুষ।  সে ছেলে মেয়ে উভয় হতে পারে।  তাকে দেখে কারও খুব ভালোলাগতে পারে, তার সৌন্দর্য ব্যক্তিত্বে কেউ পাগল হতে পারে।  এমনটি অনেকের হতে পারে।  তাকে দেখে মনে ভালোলাগা, প্রেমভাব জাগ্রত হতে পারে।  তার প্রতি মোহ, মায়া অনেক কিছু হয়, যখন সেই কাঙি্ক্ষত মানুষটি তার আবেদনে সারা দেয়, কাছে আসে যখন সে সারা দেয় প্রথম প্রথম খুব ভালোলাগে তাকে, তার সঙ্গে কাটানো সময়কে।  কিন্তু মন থেকে আসলে কোনো রকম সংযোগ হয় না।  মানুষটি সৌন্দর্য রূপ চেহারা তা আকর্ষণ করলেও মানুষটির সুন্দর মন আছে কি না সেটা আর জানা সুযোগ বুঝা হয় না।  কোনো সম্পর্ক শুধু সৌন্দর্য আকর্ষণে খুব বেশিদিন সম্পর্কটা মন থেকে টিকে থাকে না। সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্য আকর্ষণ কমতে থাকে, আবার কারও শুধুই দেখতে ভালোলাগে বা সবাইকে আমার জীবনে সুন্দর কেউ আছে, হয়তো সেটা দেখাতে কারও ভালোলাগে।

কিন্তু মন থেকে মানুষটি জন্য কোনো ভালোবাসা সৃষ্টি হয় না, প্রেমভাব যেটা জেগে উঠে সেটা মোহ, মায়াতে সাময়িক।  বিয়ের পরেও সেই ভালোবাসা মোহো মায়া বেঁচে থাকে অনেকে কিছু বছর, তারপর সব কিছু শূন্যতায় ভরে যায়।  কাছের প্রিয় মানুষটিকে তখন ভালোলাগে না, ভালোবাসা তো সেখানে বন্দী মতো থাকে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে, বিশেষ উপলক্ষে।  সম্পর্কটাও ফুলের মতো একদিন বাসি হয়ে যায় কারও কাছে, মন থেকে সম্পর্ক তা কখনো সৃষ্টি হয় না বলে সম্পর্কটা একদিন শেষ হয়ে যায় আবেদন ধরে রাখতে না পেরে।  শুধু সম্পর্কটা সংসারের প্রয়োজনে অভ্যাস আচরণে নামমাত্র টিকে থাকে।

মানুষ আসলে এমনই, ভালোবাসার জন্য মানুষ কত কী করে! গানের ওই লাইনটাই বোধ হয় সত্য, ‘ভালোবাসা ছাড়া কেউ বাঁচে কী’। আবার অনেকে ভালোবাসাটা কী সেটা ঠিকঠাক বুঝতেই পারি না।  অথচ মনের মনে পুষে রাখি রাজ্যের ভালোবাসা।  নির্মলেন্দু গুণ যেমনটা লিখেছেন –
‘আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য ।
বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত।’
মন থেকে সেই মানুষটি সঙ্গে যদি সম্পর্কের সুতো তা গাঁথা হয়, তাহলে সে সম্পর্ক তা শুধুই সৌন্দর্য আকর্ষণে টিকে থাকে না, সম্পর্ক তা ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্বে আজীবন টিকে থাকে।  কাছের মানুষ হয়ে বেঁচে থাকে।  কোনো রকম সম্পর্কের নাম ছাড়াও মন আত্মার হৃদয়ের এক অদৃশ্য জালে সম্পর্ক তা বেঁচে থাকে, মনের কাছে, পাশেই থাকে।   সুত্রঃ  প্রিয় ডট কম ও ইত্তেফাক