যে ভুলগুলো দাম্পত্য জীবনে অশান্তি কারণ হয়

দুজন মানুষ হৃদয়ের টানে কাছে আসে, একজন আরেকজনকে ভালোবাসে। তৈরি হয় সুন্দর একটা সম্পর্ক। ভালোবাসার সম্পর্কই গড়ায় বিয়ের সম্পর্কের দিকে। ফলে পরিণয়ের পরিণতি হয় সুন্দর একটা সংসার। তবে সব সময়েই কি ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হয় না! তাই বলে তো জীবন থেমে থাকে না। মানুষ বিয়ে করে অন্য কাউকে করে যেতে থাকে সংসার। সেই সংসার যে সুখের হয় না, তাও নয়। সুখের হয় এবং অনেক সময় এ ভাবনাও মনে উঁকি দিয়ে যায় যে, এ মানুষটিই আমার জন্য “পারফেক্ট”! কিন্তু প্রেমের সময় করা কিছু ভুল কেড়ে নিতে পারে আপনার সংসারের শান্তি। ছারখার করে দিতে পারে আপনার সুখের জীবন। এটা যে শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকা ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করলে হবে তা নয়, ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ে করলেও হতে পারে! প্রেম চলাকালীন অবস্থায় আপনার করা কিছু ভুলের মাশুল আপনাকে দিতে হতে পারে সারাটা জীবন। তাই প্রেমের সময়ে করা কোন ভুলগুলো আপনার বিবাহিত জীবনে ডেকে আনতে পারে অশান্তি, তা জেনে নিনঃ

১. শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোঃ পৃথিবীর কোনো ধর্মই বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ককে সমর্থন করে না।  সকল ধর্মেই এ বিষয়ে রয়েছে কড়া নিষেধ। ধর্মীয়মতে, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ অনৈতিক।  যখন বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক হয়, তা মনের ভেতর সূক্ষ্ম পাপবোধ প্রবেশ করিয়ে দেয়। ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ের পরও তা মনের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে থাকে।  আর তাছাড়া এটা চরিত্রের ওপর একটা দাগও বটে! তাই আবেগের তোড়ে ভেসে গিয়ে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে না জড়ানোই উচিত হবে। আর যদি ভালোবাসার মানুষটির সাথে বিয়ে না হয়ে অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়, তাহলে পাপবোধের বোঝা আপনাকে বয়ে বেড়াতে হবে সারাটা জীবন। মনে খচখচ করতে থাকবে, আপনি প্রতারণা করেছেন আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে।

২. পরিবার বা বন্ধুদের কাছে প্রেমিক/প্রেমিকার দুর্নাম করাঃ ভালোবাসার সম্পর্কে টানাপোড়েন হতে পারে। হতে পারে মান-অভিমান, মনোমালিন্য, ঝগড়াও। যাই হোক না কেন, ভুলেও নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকা সম্পর্কে কোনো কটু কথা আপনার পরিবারের কাউকে বা বন্ধুদের বলবেন না। এমনকি তাঁর কোনো দোষ বা দুর্বলতার কথাও বলবেন না। কারণ বিয়ের পর আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার কানে এসব কথা কোনো না কোনোভাবে পৌঁছবেই। আর তখন তৈরি হবে সংসারে অশান্তি। এসব কারণে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙে পর্যন্ত যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। প্রচন্ড রেগে গেলেও নিজেকে সামলে নিন এবং প্রেমিক বা প্রেমিকার নামে দুর্নাম করা থেকে বিরত থাকুন।

৩. অগ্রিম অর্থনৈতিক আশ্বাস দেয়াঃ এ বিষয়টি মূলত ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনার প্রেমিকাকে এমন কোনো অর্থনৈতিক আশ্বাস দেবেন না, যা আপনার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। অনেক সময় আবেগের বশে বলে ফেলা কথা বা প্রতিশ্রুতি হয়তো পরবর্তীতে রাখার মতো অবস্থা থাকে না। ফলে বিয়ের পরে মেয়েদের আশা ভঙ্গ হয় এবং তাঁরা স্বামীদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে। আবার অনেক মেয়ে দেখা যায় এই অর্থনৈতিক আশ্বাস শুনে লোভে পড়ে বিয়েতে আগ্রহী হয়ে ওঠে, যা অবশ্যই একজন পুরুষের কাম্য নয়।

৪. নিজের পারিবারিক ব্যাপারে সত্য গোপন করাঃ যে মানুষটিকে আপনি ভালোবাসেন, বিয়ে করতে চান, তাঁর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে আপনার পরিবার সম্পর্কে জানার। আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে আপনার পরিবার সম্পর্কিত সব তথ্য জানান, কোনো কিছুই গোপন করবেন না। কারণ বিয়ের পর তিনি যদি গোপন কিছু জানতে পারেন, তাহলে তা সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আপনি হয়ে উঠবেন তাঁর অবিশ্বাসের পাত্র। অনেকের পরিবারেই অনেক সমস্যা থাকতে পারে। যেমন কারো বাড়িতে বিমাতা রয়েছে, কারো বাবা-মা ডিভোর্সড, কারো ভাই, বোন, মা বা বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ ইত্যাদি। পরিবারে এমন কোনো ব্যাপার থাকলে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে তা অবশ্যই জানান। এসব বিষয় গোপন করলে তা আপনার বিবাহ-পরবর্তী জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াবে।

৫. প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করাঃ অনেকের জীবনে একের অধিক প্রেম আসে। আপনার বর্তমান প্রেমের সম্পর্কের আগেও হয়তো আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ব্যাপারটি বর্তমান ভালোবাসার মানুষটির কাছে গোপন না করাই ভালো। অনেকেরই প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে যোগাযোগ থাকে বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। বিয়ের আগ পর্যন্ত ব্যাপারটি ঠিক আছে। কিন্তু বিয়ের পর ব্যাপারটি সংসারে আগুন লাগানোর জন্য যথেষ্ট। স্বামী বা স্ত্রী এ নিয়ে আপনাকে খোটা দিতেই পারে। এ ব্যাপারটি থেকে ঘটতে পারে দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত। তাই নতুন সম্পর্কে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। আর বিয়ের পরে তা যেন অবশ্যই না থাকে। এতে আপনারই মঙ্গল।

৬. বন্ধুদের অতিরিক্ত সময় দেয়াঃ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে কার না ভালো লাগে! তবে তা অভ্যাস বা আসক্তির পর্যায়ে যেন না চলে যায়। কারণ প্রেমের সম্পর্কের সময়েও আমরা বন্ধুদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি, কিন্তু বিয়ের পর তা আর সম্ভব হয় না। কিন্তু আপনি যদি এই অভ্যাসটি ধরে রাখতে চান, তাহলে সাংসারিক জীবনে অশান্তি আসবেই আসবে! কোনো স্বামী বা স্ত্রী চাইবেন না যে আপনি তাঁকে ছাড়া অন্য কোথাও অঢেল সময় ব্যয় করতে থাকেন। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। তাছাড়া প্রেমের সময়ে বেশি আড্ডাবাজ প্রকৃতির পুরুষকে অনেক নারীই আদর্শ স্বামী মনে করেন না, তাই বিয়ে প্ল্যান মাথায় থাকলে আড্ডাবাজ স্বভাবটা আস্তে আস্তে বদলে ফেলুন।  সূত্র:প্রিয়.কম

দাম্পত্যে স্যোশাল মিডিয়ার বিরূপ প্রভাব ও প্রতিকার

প্রযুক্তির এক বড় উপহার বর্তমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো।  সোশ্যাল মিডিয়া নিঃসন্দেহে মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব ঘোচানোর জন্য অনবদ্য একটি মাধ্যম।  হারিয়ে যাওয়া পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যেমন পুনর্মিলনের সুযোগ করে দেয়, তেমনই কর্মসূত্রে বা অন্য কোনও প্রয়োজনে দূরে চলে যাওয়া মানুষের সঙ্গেও তৈরি করে সংযোগ। যারা পরিবার ছেড়ে কাজের বা পড়াশোনার জন্য দূরে থাকছেন, তাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা একরকম অক্সিজেনের মতোই প্রয়োজনীয়।  দিন শেষে একবার স্বজনদের দেখতে পাবার জন্য বা তাদের খোঁজ নেবার জন্য এছাড়া আর যে কোনো উপায়ই নেই।কিন্তু অনেক সময়ে কাছের মানুষের সঙ্গে আমাদের দূরত্বও তৈরি করে।

দাম্পত্যজীবনে খুবই সাধারণ কিছু সমস্যা হলো অপর্যাপ্ত সময়, বন্ধুবান্ধবকে সময় দেয়া, অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসা ইত্যাদি। এমন নাজুক একটি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বিভিন্নভাবে আরও বেশি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। চলুন দেখা যাক সাধারণ কিছু অভিযোগ।

ফেসবুকে অধিক সময় কাটানো:  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফেসবুক।  সারাদিন ক্লাস, কাজ বা অফিসের ফাঁকে, ঘুমাতে যাবার আগে অথবা ঘুম থেকে উঠেও কখনও প্রথম কাজটাই হয় নিউজফিড একবার চেক করে দেখা। ‘Computer in Human Behavior’ এর একটি  গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডিভোর্সের সাথে ফেসবুকের বেশ নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ২.১৮%-৪.৩২% বিয়েতে ছাড়াছাড়ি হবার পিছনে ফেসবুকের অত্যধিক ব্যবহারই দায়ী। এ গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন, তারা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দম্পতির চেয়ে ১১% বেশি সুখী হয়ে থাকেন।

সন্দেহপ্রবণতা:  অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দাম্পত্য জীবনে সন্দেহের হার বাড়ায়। লুকিয়ে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ফোন চেক করা, মেসেজ চেক করা, এমনকি অফিসিয়াল মেইলগুলো চেক করার মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। অনেক দম্পতিই একজন আরেকজনের সাথে মন খুলে কথা বলতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে তারা একাই এই বিষয়গুলো নিয়ে ভুক্তভোগী হন।কেউ কেউ বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। সবসময় পরামর্শের ফলাফল ভালো হয় না। তাই অনেক দম্পতিই টিকে থাকতে পারেন না অথবা শুধুমাত্র সামাজিকতা রক্ষার খাতিরে একসঙ্গে অসুখী হয়েও বসবাস করে থাকেন।

গোপনীয়তা:  দুর্ভাগ্যবশত অনেকেই তার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কাছে খুব কাছের বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু বা বান্ধবীর কথা গোপন করে যান।  যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা যোগাযোগ রাখলেও মেসেজ বা ফোনকল এর লিস্ট বাসায় পৌঁছানোর আগেই মুছে ফেলেন। কখনও হঠাৎ করেই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সামনে বেজে ওঠে মুঠোফোন এবং ভেসে ওঠে অনাকাঙ্ক্ষিত নামটি। এটা নিয়েই এককথা- দু’কথায় পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। অথচ হয়ত তারা শুধু খুব ভালো বন্ধুই ছিলেন। এমন একটা সম্পর্কের কারণেও ভেঙ্গে যায় সংসার অথবা প্রশ্ন ওঠে যেকোনো একজনকে বেছে নেয়ার।

স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার অনেকের কাছে এখন অন্যান্য কাজের চেয়েও জরুরি হয়ে পড়েছে। এক দুই মিনিট পর পর ফেসবুকের নিউজফিড চেক করা, ইন্সট্রাগ্রামে আপলোড করার জন্য রোজ ছবি তোলা, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করা, এমনকি পত্রিকা পড়ে খোঁজ নেয়ার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো খবর নেয়াটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

এই বিষয়গুলো অপরজনের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়। বারবার এভাবে কারণে-অকারণে ফোনের কাছে ছুটে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু এবং সন্দেহজনক হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেকেই রাত জেগে ফেসবুক, টুইটার, স্কাইপে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের সাথে যোগাযোগ করে থাকেন। এই ব্যাপারটি যখন কোনো একটা সময় সঙ্গী বা সঙ্গিনীর চোখে পড়ে তখন তার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে পাসওয়ার্ডের মতো ব্যক্তিগত জিনিস তার হাতে তুলে দেয়া ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না।এরপরেও ঘটনা শেষ হয় না। যখনই মনে একটু সন্দেহ উঁকি দেয় তখন অপরজনের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ভাইবারে একটা ঢুঁ মেরে আসাই হয়ে যায় নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। এসবের ভিড়ে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।

অসমাধানযোগ্য সমস্যাঃ অনেক সময় সাধারণ কোনো ঝগড়ার ডালপালাও গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায় এবং এমন এমন কিছু কারণ উঠে আসে যা হয়ত আপনি কখন ভাবেননি। এসব কারণে তিক্ততার সৃষ্টি হয় অনেক বেশি। একপক্ষ হয়ত ভাবছেন এটুকু বিষয় নিয়ে কেমন করে এতগুলো কথা আপনাকে শুনতে হলো, আবার অপরপক্ষ ভাবেন কিভাবে আপনি তার সাথে এমনটি করতে পারলেন। যার যার জায়গায় নিজেকে সঠিক মনে করে সৃষ্টি হয় অসমাধানযোগ্য সমস্যার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সত্যিকার অর্থেই আমাদের জীবন আরও সহজ করে তুলেছে। কিন্তু এই মাধ্যম যখন আমাদের বাস্তব জীবন থেকেও বেশি গুরুত্ব পায় তখনই শুরু হয় ঝামেলা।

কিছু বাড়তি অভ্যাস আপনাকে এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে:

  • গল্পের বই পড়ুন। বই পড়লে সাধারণত সামাজিক মাধ্যমের দিকে ঝোঁক কমে আসে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কিছুটা মন খারাপ হলেও আপনার পুরানো বদভ্যাস থেকে সরে আসতে দেখে অবশ্যই তার কষ্ট ম্লান হয়ে যাবে।
  • ফোনে এলার্ম দিন। মনে মনে ঠিক করুন এলার্ম না বেজে ওঠা পর্যন্ত আপনি কোনোমতেই মুঠোফোনের কাছে যাবেন না।
  • গান শুনুন। একটানা কাজ করলে শরীর এবং মন দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন বিরতি হিসেবে ফেসবুক স্ক্রল না করে একটা পছন্দমত গান শুনে ফেলুন।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যখন আপনার সমস্যা তখন ফোনের মাধ্যমেই আপনার সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। এখন কিছু অ্যাপ এসেছে যেগুলো আপনাকে নির্দেশনা দিয়ে আপনার আসক্তি কমিয়ে আনবে প্রায় শূন্যে। এমনই কিছু অ্যাপ হলো Forest, Checky, Unplug, Onward ইত্যাদি।এগুলো আপনাকে সময় বেঁধে দিয়ে বা মজার মজার কুইজ এবং ধাঁধা দিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে এমনভাবে ব্যস্ত করে ফেলে যে আপনি আপনার ফোন ধরার চেষ্টাও করবেন না।

আমাদের জীবনে যখন প্রযুক্তি ছিলো না তখনও আমাদের পাশে আমাদের পরিবার ছিল। “মানুষ সামাজিক জীব” কথাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে নয়, বরং বাস্তবিক অর্থে প্রয়োগের মাধ্যমেই সত্যি হয়ে উঠুক।  সুত্রঃ রোয়ার মিডিয়া

বিয়ে করুন যথা সময়ে, এর স্বাস্থ্যগত সুফল অনেক!

বিয়ের কথাটা শুনলেই কেমন যেন লাগে। চিন্তার বিষয়, বয়স হয়েছে তো! সে যাই হোক।  বিয়ে করুন উপযুক্ত সময়ে। কারণ বিয়ে করার স্বাস্থ্যগত সুফল অনেক! কি ধরণের সুফল থাকতে পারে বিয়ে করার পর?

কেউ যদি মনে করে থাকেন বিয়ে করার কারণে আপনার মৃত্যুর দিন তাড়াতাড়ি ঘনিয়ে আসবে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। কারণ ২০১৩ এর এক রিসার্চে দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তারা বিবাহিত অথবা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মধ্যে যারা আছে তাদের তুলনায় তাড়াতাড়ি মারা যায়। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে জীবনসঙ্গী মানুষকে আবেগ অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়, সামাজিকভাবে একত্রে রাখে, মানসিকভাবে সমর্থন দেয়, যার সব কিছুই সুস্থ স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন।

মানসিক চাপ কম থাকে :  যদিও মাঝে মাঝে ঝগড়া লাগে তারপরও তার উপস্থিতি আপনার মনে এক ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে দিবে। মানুষ যখন কোন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে তখন শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই স্ট্রেস হরমোন বিবাহিতের চেয়ে অবিবাহিতদের শরীরে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চাপ শরীরে সমস্যার জন্ম দেয়, বিশেষ করে হজমের সমস্যার সৃষ্টি করে। রিসার্চে জানা গেছে স্ট্রেস হরমোন বিবাহিতদের শরীরে সেরকম ভাবে ক্ষতি করতে পারে না কিন্তু অবিবাহিতদের শরীরে নানা সমস্যার বাসা তৈরি করে।

হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা হ্রাস পায়:  ভালোবাসা হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা বিবাহিত অথবা কোন সম্পর্কের মাঝে আছে তাদের হার্ট-অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা নিঃসঙ্গ মানুষের চেয়ে কম। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে সঙ্গীর নিবিড় সঙ্গ এবং নতুন পরিবারের নতুন সব আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু- বান্ধবের সাথে ভালো বন্ধনের কারণে হার্ট-অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। কারণ পরিবারের সাথে থাকলে মানুষ উৎফুল্ল থাকে। মনে কোন মানসিক চাপ থাকলে তা শেয়ার করতে পারে। এতে মনের উপর চাপ কম পড়ে।

বিয়ে শরীরের হাড় মজবুত করে।  অবাক হচ্ছেন? আসলেও তাই। বিয়ে শরীরের হাড় শক্ত করে এবং বিভিন্ন হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমায়। বিয়ে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব ঠিক রেখে হাড়ের এক ধরণের রোগ “অস্টিওপরোসিস” হওয়ার ঝুঁকি কমায়। একজন ভালো জীবনসঙ্গী পত্নীর মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে হাড়কে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই সুখী দাম্পত্য জীবন মহিলাদের হাড়ের খনিজ ঘনত্ব ঠিক রাখার জন্য জরুরী।

অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হওয়া:  কেউ যখন আপনার পাশে সারাক্ষণ থেকে আপনার পরিচর্যা করবে তখন আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু আপনি যখন একা থাকবেন সে ক্ষেত্রে আপনার সুস্থ হতে অনেক সময় লেগে যাবে। কারণ তখন আপনার সব কাজগুলো আপনার নিজেরই করতে হবে। এছাড়াও আপনি যখন কার সান্নিধ্যে থাকবেন তখন বেঁচে থাকার একটা কারণ খুঁজে পাবেন। এক্ষেত্রে জীবন সঙ্গী আপনার বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।

অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমে:  জীবনে কতবার আপনি আপনার জীবনসঙ্গীকে আকস্মিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছে? গবেষণায় দেখা গেছে তালাক প্রাপ্ত মহিলা এবং পুরুষেরা বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বেশি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। গবেষকদের মতে বিয়ে দুটি মানুষকে পাশাপাশি রাখে এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণামের হাত থেকে রক্ষা করে।

বিষণ্ণতা কমায়:  একাকীত্বের কারণে অথবা অন্য সমস্যার কারণেও মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগতে পারে। আর মানুষ যখন হতাশায় ভুগে তখন কি পরিমাণ মানসিক বিপর্যয় ঘটছে তার নিজের, তা সে বুঝতে পারে না। কারণ বিষণ্ণতার প্রথম উপসর্গ হচ্ছে আত্ম-উপলব্ধির হ্রাস পাওয়া। তাই বিষণ্ণতাকে সনাক্ত করতে এবং দূর করতে প্রয়োজন একজন সঙ্গীর। যে সব সময় আপনার সাথে থাকবে, যার সাথে আপনি সবকিছু শেয়ার করতে পারবেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়:  ২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল মানুষ মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল তাদের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ এর বেশি মানুষ আরোগ্য লাভ করতে সক্ষম হত যদি তারা বিবাহিত হত। এই সাফল্যের হার কেমোথেরাপির থেকেও বেশি। একটি স্বাভাবিক স্থিতিশীল সম্পর্কই প্রথম ধাপের ক্যান্সার সনাক্ত করতে পারে। আর এই বন্ধনই ক্যান্সারের সাথে লড়ে সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। একজন উপর্যুক্ত সঙ্গিনী তার সঙ্গীকে খারাপ এবং জীবনের জন্য ঝুঁকিকর কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে। যেমনঃ মদ্যপান, মাদক সেবন ইত্যাদি।

স্মৃতিভ্রংশ প্রবণতা কমায়:  যদি জীবনে এমন সঙ্গী থাকে যার কাছে গেলে মনে শান্তি আসে তাহলে বার্ধক্য কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে যারা তালাকপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় বিয়ে করে নি তাদের স্মৃতি শক্তি নষ্ট হওয়ার প্রবণতা প্রায় তিন গুন বেশি হয় এবং যারা মাঝ বয়সে বিধবা হওয়ার পর আর বিয়ে করেনি তাদের স্মৃতিভ্রংশ প্রবণতা ছয়গুণ বেড়ে যায়। গবেষকরা বলেন বিবাহিত এবং সারাজীবন মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে পাশাপাশি থাকলে মন প্রফুল্ল থাকে এবং স্মৃতি শক্তি কম হ্রাস পায়।

বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্তি: সুখী দম্পতিদের কখনো টাইপক-২ ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, ফাইব্রোমাইলজিয়া মত অসুখ হতে দেখা যায় না।  যেকোনো জিনিস নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে উপর খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে হলে সুখী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা অতীব জরুরী।  সূত্র: উর্বশী, জাগো নিউজ । 

সঙ্গী আপনাকে “নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ” করলে কি করবেন!

বাড়িতে-অফিসে-আড্ডায় আপনার চেনা অন্তত একজন আছেই যিনি অন্যকে ছোট করে মজা পান।  যিনি সারাক্ষণ আপনাকে, আপনার মত ও পথকে ভুল প্রমাণ করে আনন্দ পান।  রোগটির নাম গালভারি। ‘ নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ – এই নামটির সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষের পরিচয় থাকার কথাও নয়। কিন্তু বাড়িতে-অফিসে-আড্ডায় আপনার চেনা অন্তত একজন আছেই যিনি অন্যকে ছোট করে মজা পান।  যিনি সারাক্ষণ আপনাকে, আপনার মত ও পথকে ভুল প্রমাণ করে আনন্দ পান।  আপনার মতটি বদলে ফেলার জন্যে মরিয়া হয়ে সর্বসমক্ষে আপনাকে হেয় করা থেকে শুরু করে থ্রেট, ব্ল্যাকমেল সবই করতে পারে।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনি আপনার আশেপাশের সেই লোকটিকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন। হয়তো আপনার প্রিয় জীবনসঙ্গীই। হ্যাঁ এই বিশেষ চরিত্রের লোকেরা ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ এই রোগের শিকার। নিজেকে বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে, এখুনি সতর্ক হন। জানুন এই রোগের খুঁটিনাটি। বুঝে নিন, কীভাবে মোকাবিলা করবেন এই অবাঞ্ছিত উপদ্রবের।

আন্তর্জাতিক মনোশ্চিকিৎসক ডারিন ল্যান্সারের মতে, ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ অসুখের প্রধাণ উপসর্গ ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’। থেকে থেকে নিজেকে উৎকর্ষের পাহাড়ে চড়িয়ে অন্যেকে হেয় করা। এরা এমন আচরণ করেন আসলে উলটো দিকের মানুষকে ডমিনেট বা নিয়ন্ত্রণ করার তীব্র বাসনায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন আসলে নিজের হীনমন্যতাকে লুকোতেই এরা এই আত্মম্ভরী, সুপিরিয়র ইমেজ তৈরি করে রাখেন।

সাইকোলজি টুডে নামক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েব জার্নালে ডারিন ল্যান্সার দেখিয়েছেন এই ধরনের মানুষজনের সঙ্গে মেশার সময় আমরা প্রায়ই এই ভুলগুলো করে ফেলি-

১. আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের ব্যখ্যা করে বোঝাতে চাই আমাদের যুক্তি-ভাবনা, এতে অপমানের, আক্রমণের পথ আরও প্রশস্ত হয়।
২. অনুরোধ উপরোধেও কাজ হয় না, কেননা দু্র্বলতম জায়গায় আঘাত করা নার্সিসিস্টিক ডিসঅর্ডারের বড় লক্ষণ।
৩. নিজের সমলোচনাও এই ধরনের অ্যাবিউজাররা নিতে পারেন না।
৪. একজন অ্যাবিউজারের কাছে কখনওই কেউ পারফেক্ট হন না।  ফলে অনুতাপ করেও লাভ নেই।  সেক্ষেত্রে, কীভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে এই ধরনের সমস্যা থেকে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেনঃ 
১. অ্যবিউজকে অ্যালাও করলে নিজের আত্মসম্মান নষ্ট হয়।  কাজেই ওই বর্মটি তৈরি করতে হবে যাতে অ্যাবিউজার সহজে আক্রমণের সুযোগ না পান।
২. প্রয়োজনে বাউন্ডারি তৈরি করুন।
৩. যৌনতায় না করা, ব্যক্তিগত বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা সকলের মৌলিক অধিকার।  এ বিষয়ে অ্যাবিউজারের লাগামছাড়া হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন না।
৪. ‘করছি’, ‘ভেবে দেখছি’, এই ধরনের বক্তব্য এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে।  এই বাক্যগুলি আক্রমণের মুখে প্রতিরোধ হিসেবে ভাল।
৫. কতগুলি ক্ষেত্রে সম্পর্কের শক্তি নিহিত থাকে। চেষ্টা করুন সেই দিকগুলিকে উর্বর করতে, তাহলে সম্পর্কটি বাঁচবে, অন্য মানুষটিও নিজের ভুলটি বুঝতে পারবেন।
৬. প্রয়োজন বুঝলে কাউন্সেলারের সাহায্য নিন।

আমরা সবাই দোষগুণেই গড়া।  কাজেই অসুস্থ প্রিয়জনকে দূরে ঠেলে দেওয়া যায় না।  আবার এও মনে রাখার, সম্পর্কটি যেন তার কাছেও মূল্যবান হয়।

সূত্র: এবেলা

মেয়েদের যে বৈশিষ্ট গুলো ছেলেরা পছন্দ করে

বিয়ের পর নানা ধরণের অশান্তি লেগেই থাকে এই রকম দৃশ্য অনেকের সংসারেই দেখা যায়।  কিন্তু তখন তো আর কিছু করার উপায় থাকে না।  তাই বিয়ের বিষয়ে খুব সাবধাণতা অবলম্বন করা দরকার।জীবন সঙ্গী বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে কোন ছাড় না দেয়াই ভাল। বরং দেখেশুনে সঙ্গী বাছাই করাই শ্রেয়। কারণ বিয়ের ক্ষেত্রে অনুমান সঠিক হয় না। যেমন মেয়েরা অনুমান করে যে তাকে যত সুন্দর দেখাবে, ছেলেরা তাকে তত পছন্দ করবে। অনুমানটি অনেকাংশে সত্যি, কিন্তু সৌন্দর্য ছাড়াও আরও অনেক কিছু আছে যা ছেলেরা পছন্দ করে।  আর একজন ছেলেই ভালোভাবে জানে– একজন মেয়ের কোন কোন বৈশিষ্ট্যগুলো তার ভাল লাগে ।

এখানে কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হল-যা ছেলেরা পছন্দ করে –

সরলতা : ছেলেরা সাধারণত সহজ–সরল মেয়েকে পছন্দ করে। যদিও ছেলেরা খুব ভাবুক/ফ্যাশনেবল মেয়েদের সঙ্গে মেশে এবং তাদের প্রতি অনেক উৎসাহী হয় তবুও তাদের সঙ্গে প্রেম করে না বা প্রেম করলেও তা শুধু মাত্র সময় কাটানোর জন্য করে। কারণ প্রত্যেকটি ছেলেই চায়– তার প্রেমিকা বা বউ খুবই সহজ সরল হবে। মেয়েদের যেমন সহজাত চাওয়া- তার স্বামী বা প্রেমিক অনেক স্মার্ট এবং সুপুরুষ হবে তেমনি এটাও ছেলেদের একটি সহজাত চাওয়া এবং স্বভাব।

নিরবতা এবং কোমলতা : ছেলেরা সাধারণত সেইসব মেয়েকে অনেক বেশি পছন্দ করে যারা বেশিরভাগ সময় নিরব ও চুপচাপ থাকে। অনেক আস্তে আস্তে কথা বলে, অনেক নরম স্বভাবের। যেসব মেয়ে চিল্লা-পাল্লা বা লাফ-ঝাপ করে বেড়ায় তাদের ছেলেরা পছন্দ করে না।

ফ্রেন্ডলীনেস ও হাসিখুশি ভাব : নরম স্বভাবের মানে এই নয় যে কারো সঙ্গে কথা বলে না। নরম স্বভাবের মানে হলো কারো সঙ্গে গায়ে পরে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে না, কিন্তু কেউ যদি নিজে থেকে এসে কিছু জিজ্ঞেস করে তবে অবশ্যই বলে। অর্থাৎ মিশুক কিন্তু গায়ে পড়া নয়। এটা ছেলেদের একটি স্বভাব যে -যেসব মেয়েরা তাদের সঙ্গে গায়ে পরে কথা বলতে আসে, তাদের তার তেমন গুরুত্ব দেয় না।

শিক্ষা : একটা সময় ছিল যখন মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারটি ছেলেদের পছন্দের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখত না। কিন্তু, যুগের পরিবর্তনে শিক্ষা ছেলেদের পছন্দের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক।

স্মার্টনেস : ছেলেরা স্মার্ট মেয়েদের পছন্দ করে। স্মার্ট মানে যে ভীষণ ভাব নিয়ে চলতে হবে তা নয়, স্মার্ট মানে কাজে-কর্মে স্মার্ট। অর্থাৎ তাকে যে কাজটি করতে দেয়া হয়, সে কাজটিই সে বুদ্ধি দিয়ে সুন্দর করে গুছিয়ে করে।

সততাঃ মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে সত্যি কথা বলে না এবং কথা দিয়ে কথা রাখে না, ছলনা করে– ছেলেরা সাধারণত এটাই ভাবে। তাই যেসকল মেয়ে তাদের কথায় কাজে সৎ এবং কথা দিয়ে কথা রাখে ছেলেরা তাদেরকে বেশি পছন্দ করে।

অন্যের প্রতি যত্নবান : ছেলেরা এমন একজনকে মনের মানুষ হিসেবে চায় যে তাকে অসুস্থতার সময়, বিপদের সময়, যত্ন নেবে, আদর করবে। তাই যেসকল মেয়েরা অন্যের সেবা করার ব্যাপারে উৎসাহী এককথায় মমতাময়ী, তাদেরকে ছেলেরা অগ্রাধীকার দেয় বেশি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা : পরিষ্কার –পরিচ্ছন্ন মানুষকে সবাই পছন্দ করে, ছেলেরাও এর ব্যতিক্রম নয়। অপরিষ্কার অধিক সুন্দরী মেয়ের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কম সুন্দরী মেয়েরও দাম বেশি।

চারিত্রিক বিশুদ্ধতা : উপরের সবকিছুর থেকে এটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ।  আপনার রুপ, গুণ, মেধা সবই বিফলে যাবে যদি আপনার চারত্রিক বিশুদ্ধতা রক্ষিত না থাকে। একটা ছেলের কাছে সবকিছুর থেকে একটা মেয়ের চরিত্র সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র : নতুন সময়

বিচ্ছেদ হয়ে গেছে কিন্তু প্রাক্তন সঙ্গীকে ভুলতে পারছেন না!

নিজেদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তবুও আপনার প্রাক্তন সঙ্গীর জন্য কষ্ট হচ্ছে? আপনি সবসময় তার সম্পর্কে ভেবেই যাচ্ছেন? সে কিভাবে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতো, কিভাবে হাসতো, তার স্পর্শ এসব ভুলে যেতে পারছেন না? হ্যাঁ, কেউ আপনার জীবন জুড়ে বেশী সময় থাকলে তাকে ভুলে যাওয়া দুই একদিনে সম্ভব নয়।  সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হল যে, কেউ যদি আপনার সাথে প্রতারণা করে তাহলে সেই সব স্মৃতিগুলোকে কবর দেওয়া আরোও কষ্টকর। মানসিকভাবে শান্তিতে থাকতে চাইলে, প্রাক্তনকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

এক্ষেত্রে যেসব কাজ করতে পারেন: 
প্রাক্তন সঙ্গীর ছবি এবং পোস্ট দেখা বন্ধ করুন।  ফেসবুকে তাকে আনফ্রেন্ড করুন।  প্রত্যেকটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে ব্লক করুন।  তার বাড়ির পাশ দিয়ে চলাচল বন্ধ করুন। তার ম্যাসেজের রিপ্লাই দেয়া বন্ধ করুন।  আপনার ফোনবুক থেকে তার নাম্বার ডিলেট করে দিন।

আপনার বন্ধুদের সাথে তার সম্পর্কে কথা বলা বন্ধ করুন।  আপনার বন্ধুদের গুরুত্ব দিন, সময় দিন।  এগুলো আপনার জন্য কঠিন হতে পারে এবং আপনি ব্যর্থও হতে পারেন। তাই আপনাকে কঠিন চেষ্টা করতে হবে।  কেবল সময়েই আপনাকে ভালো রাখতে পারে।  তাই সেসব কষ্টদায়ক আবেগ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন।

নিজের মনকে অন্য কিছুতে পূরণ করুন এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। অলস মন আপনাকে বিষন্নতা দেবে।  তাই জিমে যেতে পারেন।  নিজেকে আকর্ষনীয় করুন।  বন্ধুদের কাছে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনার পরামর্শ নিন।  এ কাজগুলো আপনাকে সেসব চিন্তা থেকে দুরে রাখবে।

সব পরিস্থিতিতে নিজেকে শক্ত রাখুন।  আপনি সেই সম্পর্ক থেকে কি অভিজ্ঞতা নিয়েছেন সে সম্পর্কে ভাবুন।  আপনার প্রাক্তন সঙ্গীর উপর ফোকাস করবেন না, নিজেকে ফোকাস করুন।  এই সময়টা আপনার একাকীত্বের সময়।  একাকীত্বের অভিজ্ঞতা নিন।  ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে ভাবুন।   প্রাক্তনের খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করুন।  যদি ভুল করে প্রাক্তন সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েই ফেলেন, তাহলে নিজেকে বকা দিন।

তাড়াহুড়া করে ভুল সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?

হয়তো নতুন নতুন ভালো লাগছে কাউকে। দুজনের আলাপ-পরিচয় হয়েছে, মন বোঝার চেষ্টা চলছে, কয়েকবার বাইরে বেড়াতেও গিয়েছেন। এই ব্যাপারটাকেই সহজ ভাষায় ডেট করা বা ডেটিং বলে। ডেটিং হছে সম্পর্ক শুরু করার আগের ধাপ। জানেন কি, অসংখ্য ভুল সম্পর্ক তৈরি হবার পেছনে একমাত্র কারণ হচ্ছে ডেটিং-এর সময় তাড়াহুড়া করা। কারণ এতে ভালো করে কিছু ভেবে দেখার আগেই সম্পর্ক হয়ে যায় এবং এক সময়ে সেই সম্পর্কই সর্বনাশ ডেকে আনে। সম্পর্ক হুট করে ভেঙে দেয়ার জিনিস যেমন নয়, তেমনই হুট করে তৈরি করার ব্যাপারও নয়। সম্পর্ক তৈরি করা চাই সময় নিয়ে, আস্তে আস্তে। যে সম্পর্ক যতটা সময় নিয়ে শুরু হবে, তার টিকে থাকার সম্ভাবনাও ততটাই বেশি।

কীভাবে বুঝবেন তাড়াহুড়া হচ্ছে কিনা? জানিয়ে দিচ্ছি কিছু লক্ষণ। এই ১০টি লক্ষণ মিলে গেলে বুঝবেন যে প্রেমের শুরুতে ভীষণ তাড়াহুড়ো করছেন আপনি এবং এখনই তা বন্ধ করা উচিৎ।  নতুবা শেষ হবে আপনার মন ভাঙার মধ্যে দিয়ে!

নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য আপনি প্রেম চান: হয়তো কিছুদিন আগেই অন্য একটা সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে আপনার জীবনে। কিংবা হয়তো একা থাকতে থাকতে বিয়ে করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন আপনি। যদি কেবল এই কারণেই সম্পর্ক করতে চান কারণ আপনি নিঃসঙ্গ, তাহলে বুঝতে হবে তাড়াহুড়া করে ভুল সম্পর্কে জড়াতে চলেছেন অচিরেই।

ঘনঘন মেসেজ আদান-প্রদান চলছে: আপনি একটু পর পরই তাঁকে মেসেজ দিচ্ছেন বা কল করছেন।  তিনি কখনো জবাব দিচ্ছেন, কখনো দিচ্ছেন না। অর্থ একটাই, আগ্রহ আপনার তরফ থেকে অত্যন্ত বেশি। এবং এতটা আগ্রহ দেখালে সেই সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত না টেকার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা প্রত্যেক মানুষেরই খানিকটা প্রাইভেসি প্রয়োজন আছে। দুই পক্ষের মাঝে সমান সমান আগ্রহ থাকলে তবেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়।

অল্প দিনেই কিছু আর গোপন নেই : সম্পর্কের শুরুতেই সবকিছু পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেয়া ভালো। কিন্তু সেটার অর্থ এই নয় যে নিজের বা পরিবারের ব্যাপারে সকল তথ্য বা দুর্বলতা প্রকাশ করে দিতে হবে। যেমন, আপনার পিতা কী কাজ করেন সেটা আপনি বলতে পারেন, কিন্তু আপনার পিতার কাছে কী পরিমাণ অর্থ আছে সেটা বলা অনুচিত। সম্পর্কের শুরুতেই এই অন্ধ বিশ্বাস ভালো নয়।

তাঁকে নিয়ে প্রায় সারাদিন কাটাচ্ছেন : সারাদিন তার সাথে চ্যাট বা কথা হচ্ছে, ঘন ঘন দেখা করতে যাচ্ছেন অথবা তার আথেই সারাক্ষণ থাকা হচ্ছে? জেনে নিন, সম্পর্কের শুরুতেই আসলেই খুব তাড়াহুড়া করছেন আপনি। এমন আচরণে সঙ্গীর চোখে নিজের মুল্যও কমিয়ে দিচ্ছেন।

একতরফা ‘ভালবাসি’:   সঙ্গী এখনও আপনাকে কিছু জানান নি, কিন্তু আপনি নিজেই ‘ভালবাসি’ বলে ফেলেছেন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন সাজাতে শুরু করে দিয়েছেন।  এতে সঙ্গীর সম্মতি আছে কিনা, সেটা নিয়েও বিশেষ ভাবছেন না আপনি। অবস্থা যদি এমন হয়ে থাকে, নিজের লাগাম টেনে ধরার সময় হয়েছে আপনার।

নেগেটিভ ব্যাপারগুলো আমলে নিচ্ছেন নাঃ সঙ্গীর ভালো না লাগার ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবছেন না আপনি, এসবের সাথে জীবন কাটাতে গেলে কী হবে সেটা নিয়েও ভাবছেন না। সমস্ত ভালো না লাগার ব্যাপারগুলো দেখেও না দেখার ভান করছেন? জেনে রাখুন, এভাবে সম্পর্ক তৈরি হলে পরিণতি হবে খুব খারাপ।

বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেনঃ সম্পর্ক এখনও শুরুও হয়নি, আপনি ভাবছেন কীভাবে বিয়েতে তাঁকে রাজি করানো যায়। কীভাবে পরিবারকে রাজি করাবেন, বিয়ে কীভাবে হবে, সন্তান কয়জন নেবেন ইত্যাদি ভাবতে শুরু করেছেন। এমনকি বন্ধুদেরকেও এসব বলে ফেলেছেন আপনি, বিভোর আছেন সুখ স্বপ্নে। ব্যাপার যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়ে গেছে নিশ্চিত।

যত দ্রুত সম্ভব যৌন সম্পর্ক চানঃ আপনার মনে হয় যত দ্রুত সম্ভব যৌন সম্পর্ক করে ফেলা উচিত। শারীরিক সম্পর্ক হয়ে গেলেই সঙ্গী আর আপনাকে ছেড়ে যাবেন না, এমনটাই মনে করেন আপনি। সত্যি কি তাই? তাহলে অবশ্যই সম্পর্কের শুরুতে অতিরিক্ত তাড়াহুড়া করছেন আপনি।

তার বাসায় যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেনঃ প্রেম এখনও শুরু হয়নি, কিন্তু আপনি তার বাসায় যেতে চান। তার পরিবারের সাথে পরিচিত হতে চান এবং এই কারণে তাঁকে চাপও দিচ্ছেন। মনে হতে পারে, এতে ভুল কী আছে? তাহলে জেনে রাখুন, পরিবারের কাছে আপনাকে নেয়ার মতন হলে তিনি নিজেই নেবেন। এটা সেই সম্মান, যা জোর করে আদায় করার মাঝে কোন সার্থকতা নেই।

তাঁকে বদলে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছেনঃ আপনি তাঁকে বদলে ফেলতে চান এখনই। হয়তো সিগারেট ছেড়ে দিতে বলছেন, কিংবা বাঁধা দিচ্ছেন পছন্দ মত পোশাক পরিধানে। তার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কথা বলছেন, ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাচ্ছেন। কাউকে চাপ দিয়ে বদল করে সম্পর্কের নাম ভালোবাসা নয়। বরং কেউ আপনার জন্য নিজ থেকে নিজেকে সংশোধন করাই ভালোবাসা। আর সেটার জন্য প্রয়োজন সময়।

নতুন সম্পর্কের শুরুতে তাড়াহুড়া আপনাকে আবারও মন ভাঙার দিকেই নিয়ে যাবে। তাই ধৈর্য রাখুন। ভালোবাসা যদি আসার থাকে, সেটা ঠিক আসবে।  সঠিক সময়ে সঠিক সম্পর্কই সুখ আনবে, তাড়াহুড়া নয়।   উৎস –প্রিয়.কম

সম্পর্ক রক্ষায় বৈজ্ঞানিক উপায়

পারিবারিকভাবে হোক বা প্রেম করে- উভয় ক্ষেত্রেই ডিভোর্সের পরিমাণ আশঙ্কাজনক।  রেস্টুরেন্টে বসে কয়েক ঘণ্টার প্রেমালাপ বা সপ্তাহে দু’দিন ঘোরাঘুরি করা আর বিয়ের পর এক ছাদের নিচে থাকার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। যতই পূর্ব পরিচিত হোক না কেন, বিয়ের পরই একজন মানুষকে গভীরভাবে চেনা যায়।  কেউই শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারছে না যে, কোনো দম্পতির কখনই ডিভোর্স হবে না।  যেকোনো সময় যে কারো ডিভোর্স হতে পারে, জনমনে এ ধরনের একটি শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  ২০১৫ সালে শুধুমাত্র ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনেই ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে মোট ৩,৫৩০টি!

দাম্পত্য জীবনে যারা একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, সঙ্গীর উপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তারা সুখী হতে পারে না। অন্যদিকে পারিবারিকভাবে হওয়া বিয়ের ক্ষেত্রে দু’জন অপরিচিত মানুষের স্বভাবগত পার্থক্যের পাশাপাশি পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক, সত্য গোপন করা, সন্দেহ প্রবণতা, বোঝাপড়ার অভাব, অনীহা কিংবা ভয়ের কারণে শারীরিক সম্পর্ক উপভোগ না করা বিবাহ-বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।কারণগুলো জানা থাকলে ডিভোর্সের দিকে ধীরে ধীরে এগোনো দম্পতিরা চাইলে হয়তো তাদের সম্পর্কটা রক্ষা করতে পারবেন।

সঠিক সময়ে বিয়ে করা: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ২৭-৩০ বছরের মধ্যে বিয়ে করেন তাদের দাম্পত্য জীবন তুলনামূলক বেশি মজবুত ও স্থায়ী হয়ে থাকে। অন্যদিকে যারা টিনএজ (১৩-১৯ বছর) বা ৩২+ বয়সে বিয়ে করে তাদের ডিভোর্সের হার বেশি। বিশেষ করে কম বয়সে বিবাহ বন্ধনে যারা আবদ্ধ হয় তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বয়সে বেশি ফারাক থাকলে সেটাও ডিভোর্সের দিকে ঠেলে দেয়। যেসব দম্পতির বয়সের পার্থক্য ১ বছর তাদের ডিভোর্সের হার ৩ শতাংশ। বয়সের পার্থক্যটা পাঁচ বছরে দাঁড়ালে ১৮ শতাংশ এবং ১০ বছর হলে ৩৯ শতাংশ দম্পতির বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়ে থাকে।

পেশা গত সচ্চলতা :  ১৯৭৫ সালের পরে হওয়া বিয়েগুলোর উপর গবেষণা করে অ্যালেকজান্ড্রা কিলওয়্যাল্ড দেখেছেন, যাদের স্বামী ফুল-টাইম কাজ করে তাদের ডিভোর্সের হার ২.৫ শতাংশ। অন্যদিকে যাদের স্বামী ফুল-টাইম কাজ করে না তাদের ডিভোর্সের হার ৩.৩ শতাংশ।শুনতে খারাপ লাগলেও গবেষণা এটাই বলছে যে, কলেজ গ্রাজুয়েট দম্পতিদের চেয়ে হাই স্কুল না পেরোনো দম্পতিদের মাঝে ডিভোর্সের হারটা প্রায় দ্বিগুণ। কারণ স্বল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের উপার্জন কম হওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। আর যেখানে পদে পদে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়, সেখানে সাধারণত ভালোবাসাময় সুখী দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। ফলাফল বিবাহ-বিচ্ছেদ।

নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা: ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষক গটম্যান ও অন্যান্য গবেষকরা ‘ওরাল হিস্টোরি ইন্টারভিউ’ নামের একটি সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেন। সেখানে দম্পতিদেরকে তাদের দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলতে দেয়া হয়। দম্পতিদের কথা পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা ভবিষ্যদ্বাবাণী দিতে সক্ষম হয়েছিলেন কোন কোন দম্পতি ডিভোর্সের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  ২০০০ সালে জার্নাল অব ফ্যামেলি সাইকোলজি-তে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। ৯৫ জন নবদম্পতির ‘ওরাল হিস্টোরি ইন্টারভিউ’ নিয়ে সেগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে কোন কোন দম্পতির বৈবাহিক বন্ধন কতটা মজবুত কিংবা দুর্বল।

সঙ্গীর প্রতি নেতিবাচক ভাব প্রদর্শন:  মনোবিজ্ঞানী জন গটম্যান ডিভোর্সের পেছনে চারটি প্রধান কারণকে দায়ী করেছেন। যে দম্পতিদের মাঝে এই চারটি বিষয় উপস্থিত থাকে, তাদের ডিভোর্স হওয়ার সম্ভাবনা অত্যধিক।

১. সঙ্গীকে ছোট করে দেখা, অবজ্ঞা করা। ২. সঙ্গীর স্বভাব-চরিত্রের ব্যাপারে লাগাতার সমালোচনা করা।৩. দাম্পত্য জীবনের কোনো সংকটে বা কঠিন পরিস্থিতে নিজেকে সবসময় নির্যাতিত কিংবা ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা।৪. একে অন্যের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়া।

বাড়াবাড়ি রকমের রোমান্টিকতা:  বৈবাহিক জীবনের শুরুতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটু বাড়তি উচ্ছ্বাস, আগ্রহ কাজ করে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন সমস্যা সৃষ্টি করে। মনোবিজ্ঞানী টেড হিউসটন ১৬৮ জন দম্পতিকে তাদের বিয়ের পর থেকে টানা ১৩ বছর নজরে রেখেছিলেন। বিভিন্ন সময় দম্পতিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে ইন্টারপার্সনাল রিলেশনস অ্যান্ড গ্রুপ প্রসেস জার্নালে একটি পেপার প্রকাশ করেন। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্য যে, যাদের দাম্পত্য জীবনের শুরুতে তুলনামূলক কম ‘হলিউড রোমান্স’ থাকে, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক মজবুত হয়।”

বাদানুবাদে নীরবতা : ২০১৩ সালে জার্নাল অব ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামেলিতে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সমস্যার সমাধান না করে এ ধরনের নীরবতা পালন বা কথা বলতে না চাওয়ার স্বভাবটা দাম্পত্য জীবনকে ডিভোর্সের দিকে ঠেলে দেয়। প্রায় সাড়ে ৩৫০ নব-দম্পতির সাক্ষাৎকারের ‍উপর ভিত্তি করে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে কমিউনিকেশন মনোগ্রাফ জার্নালে আরেকটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব দম্পতির একজন কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেয়ে বিনিময়ে সঙ্গীর কাছ থেকে নীরবতা পায়, তারা দাম্পত্য জীবনে খুব একটা সুখী নয়।

গবেষক পল শ্রড বলেন, স্বামী-স্ত্রী দু’জনই একে অপরকে সৃষ্ট সমস্যার জন্য একে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে নয়, সমস্যার সমাধানের জন্য কে কতটা অবদান রাখার চেষ্টা করছে সেদিকে নজর দেয়া উচিত। পরস্পরের যদি সম্মান ও শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ন রেখে দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার জন্য খোলামেলাভাবে কথা বলা জরুরি।

সূত্র: সংগৃহিত

গোপন কথা কাকে বলবেন, আর কাকে বলবেন না

একসঙ্গে বাস করলে কারো না কারো সাথে বন্ধুত্ব করতেই হয়।  আর বন্ধুত্বের প্রথম শর্ত বিশ্বাস।  কিন্তু সেই বিশ্বাসের মর্যাদা কি সবাই দেয়? তাই বলে কী কাউকে বিশ্বাস করবেন না?  কিন্তু কাউকে না কাউকে তো বিশ্বাস করতেই হয়।  বিশ্বাস করে ভাগাভাগি করে নিতে হয় নিজের কিছু একান্ত গোপন কথা।  এ কারণেই কাউকে না কাউকে খুঁজেন নিজের মনের কথা বলার জন্য।  কিন্তু আজকাল কাউকে বিশ্বাস করে কোনাে কথা বলা মানেই যেচে বিপদ ডেকে আনা।

আজকাল মানুষ অনেক বেশি স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক।  সকলেই যেন আরেকজনের দোষ-ত্রুটি আর দুর্বলতা খুঁজে বেড়ান।  আর তাই কারো সাথে নিজের গোপন কথা ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে একটু সাবধান থাকাটাই শ্রেয়।  অন্তত ছয়টি শর্ত মনে রেখে গোপন কথা বলুন।

এক— প্রথমেই চেষ্টা করুন গোপন কথাটা কেবল নিজের কাছেই রাখার।  কেননা একটা কথা মনে রাখবেন, যে কথা আপনি নিজে গোপন রাখতে পারেন না। সে কথা অন্যের কাছে বলে গোপন রাখতে বললে তিনি তা করবেন কীভাবে। তাই নিজের গোপন কথা চাইলে আপনার নোটবুকেও লিখে রাখতে পারেন।

দুই— কিন্তু একান্তই যদি কাউকে গোপন কথা বলতেই হয়, তাহলে খুব আপন কাউকে বলুন।  যে আপনার কাছের মানুষ।  খুব কাছের মানুষ।  যাকে আপনি বিশ্বাস করেন। যার সাথে আপনার মতের বেশ মিল এবং ঝগড়া হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।  যেন আপনার সাথে ঝগড়া হলে আপনার গোপন কথা ফাঁস করে না দেয়।  যত আপন মানুষই হোক, সম্পর্ক কখনো না কখনো বদলে যেতেই পারে।  তাই এমন কাউকে বেছে নিন, যিনি কখনো আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেন নি বা নেবেন না।

তিন— আপনার কি এমন কোন আপনজন বা বন্ধু আছে, যে আপনার সুখ-দুঃখের সাথী। বিপদের সময় পাশে থাকেন, কখনো আপনার প্রতি যার ভালোবাসায় কোনো খাদ দেখতে পান নি, তার ওপরে আস্থা রাখুন।  কারণ বিপদেই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়।  সুখের পায়রা টাইপের বন্ধুকে কখনো নিজের গোপন কথা বলবেন না ।

চার— একটু খেয়াল করে দেখুন, যাকে বিশ্বাস করে নিজের গোপন কথা বলতে চাচ্ছেন, তিনি মানুষটা কেমন? তিনি কি অন্যের গোপন কথা এসে আপনাকে বলেন? আর বলেন তোমাকেই বললাম আর কাউকে বলো না।  তাহলে জেনে রাখুন, এই মানুষটি আপনার গোপন কথাও আরেকজনকে বলে বেড়াবে। এবং একই কথা বলবে। আর তাই, যত আপনই হোক না কেন এমন চরিত্রের মানুষকে নিজের ব্যক্তিগত কথা ভুলেও কখনই বলবেন না।  এরা খুব ভয়ঙ্কর। এদের কাজই অন্যের কথা শোনা ও সবাইকে বলে বেড়ানো। এদের থেকে সাবধান।

পাঁচ— এমন কাউকে নিজের গোপন কথা জানাবেন না, যার সাথে আপনার কোনো না কোনো স্বার্থ জড়িত।  স্বার্থে কখনো আঘাত লাগলে তিনি যেই হোক না কেন সেই তথ্য আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন।

ছয়— কখনো কারো ওপর রাগ বা অভিমান করে এমন কিছু বলে বসবেন না, যেটা পরে আপনার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  রাগের মাথায় কারো সাথে নিজের গোপন প্রসঙ্গ আলোচনা না করাই ভালো।  কারণ রাগের মাথায় আমরা এমন অনেক কিছু বলে ফেলি যেটা হয়তো পুরোপুরি সঠিক নয়।

যে কারণে কিছু বিয়ে থেকে ভালবাসা হারিয়ে যায়

“প্রেম ধরে রাখার চেয়ে প্রেমে পড়া অনেক বেশি সহজ বলে মনে হয়।” —ড. ক্যারেন কাইজার।  ভালবাসা নেই এমন বিয়ের সংখ্যা যে খুব দ্রুত বেড়ে চলেছে, তা দেখে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ বিয়ে হল এক জটিল মানব সম্পর্ক আর অনেকেই কোনরকম প্রস্তুতি না নিয়েই বিয়ে করে ফেলে।  ড. ডিন এস. ইডেল বলেন, “ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আমরা যে গাড়ি চালাতে জানি, তা কিছুটা হলেও দেখাতে হয় কিন্তু বিয়ের লাইসেন্স শুধু নাম সই করলেই পাওয়া যায়।”

এই কারণেই, অনেক বিয়ে সফল ও সুখী হলেও বেশ কিছু সংখ্যক বিয়েতে সমস্যা দেখা দেয়। বর বা কনে অথবা দুজনেই অনেক আশা নিয়ে বিয়ে করে কিন্তু এই সম্পর্ককে চিরদিন টিকিয়ে রাখার জন্য যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দরকার, তা তাদের থাকে না।

ড. হ্যারি রিস বলেন, “লোকেরা যখন প্রথমবারের মতো ঘনিষ্ঠ হয় তখন তারা পরস্পরের কাছ থেকে মনে অনেক জোর পায়।” তারা প্রত্যেকে মনে করে যে তাদের সঙ্গীই হল “পৃথিবীতে একমাত্র ব্যক্তি, যে তাদের মতো করেই সমস্ত কিছু দেখে থাকে। কিন্তু, এইরকম অনুভূতি কখনও কখনও হারিয়ে যায় আর তখন তা বিয়ের অনেক ক্ষতি করতে পারে।” তবে, খুশির বিষয় হল যে অনেক বিয়েতেই এমনটা হয় না। কিন্তু আসুন আমরা সংক্ষেপে কয়েকটা বিষয় দেখি, যে কারণে কিছু বিয়ে থেকে ভালবাসা হারিয়ে যায়।

স্বপ্নভঙ্গ —“আমি এইরকমটা চাইনি” অনেক সিনেমা, বই এবং জনপ্রিয় গানগুলোতে ভালবাসার এক কাল্পনিক ছবি আঁকা হয়। তাই, একটা ছেলে ও মেয়ে যখন বিয়ে করার চিন্তা নিয়ে মেলামেশা করে তখন তারা মনে করে তাদের স্বপ্ন বুঝি সত্যি হচ্ছে কিন্তু বিয়ের কিছু বছর পর বুঝতে পারে যে তারা এমন স্বপ্ন দেখেছে, যা কখনোই সত্যি হবার নয়! বিয়ে যদি রূপকথার প্রেমকাহিনীর মতো তাদের স্বপ্নকে সত্যি না করে, তাহলে সফল হতে পারে এমন এক বিয়েকেও তখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে হতে পারে।  অবশ্য, বিয়েতে কিছু চাওয়াপাওয়া থাকা যুক্তিসংগত। যেমন স্বামী বা স্ত্রীর কাছ থেকে ভালবাসা, মনোযোগ ও সমর্থন চাওয়া ভুল নয়। কিন্তু, দেখা যায় যে এই চাওয়াগুলোও অনেক সময় পূরণ হয় না।

অমিল —“কোন কিছুতেই আমাদের মিল নেই” সাধারণত বিয়ের পর স্বামীস্ত্রীদের বুঝতে সময় লাগে না যে তাদের একজনের সঙ্গে আরেকজনের অতটা মিল নেই যতটা আছে বলে বিয়ের আগে মেলামেশা করার সময় তাদের মনে হয়েছিল।

ড. নিনা এস. ফিল্ডস লেখেন, “বিয়ে স্বামীস্ত্রীদের সেই সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রকাশ করে দেয়, যা বিয়ের আগে তারা নিজেরাও জানত না।” তাই, বিয়ের পরে কিছু দম্পতি হয়তো বলতে পারে যে তাদের মধ্যে একেবারেই কোন মিল নেই। ড. আ্যরোন টি. বেক বলেন, “যদিও কিছু দম্পতির রুচি ও ব্যক্তিত্বের মধ্যে সামান্য মিল খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু বেশির ভাগ লোকেরাই এমন কাউকে বিয়ে করে যাদের রীতিনীতি, অভ্যাস এবং আচরণ তাদের চেয়ে একেবারে আলাদা।” আর অনেক দম্পতিরাই জানে না যে এই অমিলগুলোকে কীভাবে দূর করা যায়।

ঝগড়া-বিবাদ—“আমরা সবসময় ঝগড়া করি” স্বামীস্ত্রীর মধ্যে মতের অমিল হবেই।  কিন্তু প্রশ্ন হল যে, কীভাবে তা মিটমাট করা যায়? ড. ড্যানিয়েল গোলম্যান লেখেন, ‘এক আদর্শ বিয়েতে স্বামীস্ত্রীরা একে অন্যের দোষত্রুটিগুলো খোলাখুলিভাবে বলতে পারে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় যে, তারা প্রচণ্ড রেগে গিয়ে খুবই খারাপভাবে অভিযোগ করে, যা তাদের জীবনসাথির চরিত্রকে ছোট করে।” যখন এইরকমটা হয়, তখন কথাবার্তা যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে ওঠে যেখানে নিজ নিজ মতামতকে একরোখাভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং ভাষা যোগাযোগের মাধ্যম না হয়ে বরং অস্ত্র হয়ে ওঠে।  বিশেষজ্ঞদের একটা দল বলেন: “নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এমন ঝগড়া-বিবাদের একটা খারাপ দিক হল যে, সেখানে স্বামীস্ত্রী এমন কিছু বলে ফেলে, যা তাদের বিয়ের ভিতকে নড়বড়ে করে দেয়।”

উদাসীনতা—“আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি” বলা হয়ে থাকে যে ভালবাসার বিপরীত শব্দ ঘৃণা নয় বরং উদাসীনতা।

সত্যি বলতে কী, ঝগড়া-বিবাদের মতো উদাসীনতাও বিয়েকে ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, কিছু স্বামীস্ত্রীরা ভালবাসা নেই এমন বিবাহিত জীবনের সঙ্গে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তারা এই অবস্থা পরিবর্তনের সমস্ত আশাই ছেড়ে দিয়েছে।