ওথেলো সিনড্রম – ভালোবাসা থেকে জন্মানো ঈর্ষা জনিত একটি রোগ

সম্পর্কে নিত্য সমস্যাঃ আপনি যদি বিপরীত লিঙ্গের কোন বন্ধুর সাথে কথা বলছেন, মেলা মেশা করছেন, আপনার কাছের বিপরীত লিঙ্গের মানুষটা এই আচরণ বা বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারছে না। সারাক্ষণ ছোট ছোট ব্যাপার নিয়ে সন্দেহ করে। যা আসলে আপাতত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে বিকৃত মস্তিষ্ক ছাড়া আর কিছুই না। সে আপনাকে ভালোবাসে। স্বাভাবিক ভাবেই অন্য লিঙ্গকে সে ঈর্ষা করবে। তবে তা অতিরঞ্জিত হয়ে যায়। সে আপনাকে নিয়ে ভয়ে থাকে।  হারানোর ভয়।

মনোবিজ্ঞানীরারা যা বলেনঃ  মনোবিজ্ঞানে ভালোবাসার সাথে ঈর্ষার একটি সম্পর্ক আছে।  “অতিরঞ্জিত ঈর্ষা ও অতিমাত্রায় সন্দেহবাতিক কে তারা একটি রোগ বলে। যে রোগের নাম ‘ওথেলো সিনড্রম`

ওথেলো সিনড্রোম আসলে কীঃ  স্ত্রীর সতীত্বের প্রতি সন্দেহ থেকে এবং সেগুলো বিশ্বাস করাকেই ‘ওথেলো সিনড্রোম’ বলে। সাধারণত পুরুষরা এই রোগে বেশি ভোগেন। তবে অনেক মহিলার মধ্যেও ‘ওথেলো সিনড্রোম’ দেখা যায়। নামটি এসেছে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক ‘ওথেলো’ থেকে। ওথেলো সিনড্রোমের রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। নিজেকে সবসময় সুস্থ মনে করেন। নিজের ধারণাটিকে প্রবলভাবে বিশ্বাস করেন। এই মিথ্যা অলীক বিশ্বাসের কারণে অনেক সময় এসব রোগী তাদের স্ত্রীকে হত্যা পর্যন্ত করেন।

বিদেশে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নরহত্যা করার জন্য জেলে গেছেন এমন লোকের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই ‘ওথেলো সিনড্রোম’-এর রোগী। বিভিন্ন কারণে এই রোগ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা, সিজোফ্রেনিয়া, মদে আসক্তি প্রভৃতি। এ ছাড়া কিছু শারীরিক অসুখের কারণেও ‘ওথেলো সিনড্রোম’ হতে পারে। যেমন মস্তিষ্কে টিউমার, এন্ডোক্রাইন ও বিপাক ক্রিয়ার ত্রুটি প্রভৃতি।

রোগের উপসর্গ : স্ত্রীর সতীত্বের প্রতি তীব্র সন্দেহবোধ হলো রোগের প্রধান উপসর্গ। রোগী মনে করেন, তার স্ত্রী গোপনে অন্য পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন। স্ত্রী যদি সামান্য সাজগোজ করেন, তাহলে রোগী মনে করেন গোপন প্রেমিকের জন্যই এই সাজগোজ। এ নিয়ে রোগী সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এক ধরনের ক্রোধ তার মধ্যে কাজ করে। সামান্য কথাতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তার বন্ধুদেরও সন্দেহের চোখে দেখেন। তার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে।  খাবারের প্রতি অনীহা আসে। স্ত্রীর অসততা প্রমাণ করার জন্য গোপনে স্ত্রীর প্রতি নজর রাখেন। স্ত্রীর কাপড়-চোপড় গোপনে পরীক্ষা করেন।  গোপনে স্ত্রীর ডায়েরি ও কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন। স্ত্রীর নামে কোনো চিঠি এলে তা সরিয়ে ফেলেন। পড়ে দেখতে চান তা কার লেখা। অনেক সময় স্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য লোক নিয়োগ করেন।

বাসায় ফোন থাকলে মাঝে মধ্যেই ফোন করে দেখেন স্ত্রী বাসাতেই আছে কি-না।  ফোন এনগেজড থাকলে তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়।  রোগীর মধ্যে প্রচ ঈর্ষার জন্ম নেয়। কথায় কথায় স্ত্রীকে মারধর করেন। রোগীর নিজের মধ্যে কোনো সততার বালাই থাকে না। তার নিজের যৌন অসততার প্রতিফলন তার স্ত্রীর মধ্যেই দেখেন।  স্ত্রীর চারিত্রিক কল্পিত অসততার কথা আত্মীয়-স্বজনকে বলেন।  পদে পদে স্ত্রীকে হেয় করতে চান। স্ত্রী অপমানিত হলে মনে মনে খুশি হন। স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করেন। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করতে চান। রোগী নিজেকে সবসময় অপূর্ণ মনে করেন। তার বিশ্বাস জন্মায় যে, স্ত্রী তার অর্জিত টাকা-পয়সা অবৈধ প্রণয়ের পেছনে খরচ করে তাকে নিঃস্ব করতে চায়। এসব চিন্তা করে তার স্ত্রীকে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। দুশ্চিন্তায় রোগীর স্বাস্থ্যহানি ঘটে। অনিদ্রা দেখা দেয়। মদে বা অন্য নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন।  স্ত্রী সন্তান প্রসব করলে সেই সন্তানকে অবৈধ মনে করে তাকেও তিনি নির্যাতন করে থাকেন। স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘৃণা জমে উঠতে থাকে।

অনেকেই বলে থাকেন এ রোগের চিকিৎসা কি? আসলে, ‘ওথেলো সিনড্রোম’ চিকিৎসা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।  চিকিৎসক স্ত্রী ও স্বামী দু’জনের সঙ্গে পৃথক পৃথক কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন। দাম্পত্য জীবনের বিস্তারিত বিবরণ জানাটা অপরিহার্য। রোগীর বিশ্বাসের ভিত্তি এবং স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে হবে। রোগীকে বিশেষ মাত্রায় অ্যান্টি সাইকোটিক ওষুধের পাশাপাশি ‘বিহেভিয়ার থেরাপি’ প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। রোগীর অন্য কোনো অসুখ আছে কি-না, তাও ভালোমতো দেখতে হবে। সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো তাকে বোঝানো যে আপনি হারাবেন না। ভালোবেসে বুঝান। তাকে সাহায্য করুন।  লিখেছেনঃ নুসরাত জাহান জেরী, সুত্র নববার্তা

সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়ান কখনোই সম্পর্ক ভাঙ্গবে না

সারাজীবন একজন সঙ্গীকে পাশে পাওয়ার জন্য মানুষ সম্পর্ক তৈরি করে।  যাতে এই ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়া যায়।  কিন্তু এই সম্পর্কই যদি দুর্বল হয় তাহলে তো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মত কঠিনত্ব হয়ে যায়।  দেখা যায় ছোট ছোট বিষয়ে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তবে একটু চেষ্ঠা করলেই সম্পর্ক জোরালো করা সম্ভব। সম্পর্ককে জোরালো ও দৃঢ়তা বাড়াতে অবশ্যই কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রশংসা কখনো বন্ধ করবেন নাঃ  কেউ যখন আপনার প্রশংসা করে, তখন আপনার কেমন লাগে? নিশ্চয়ই শুনতে খুব ভালো লাগে। তেমনি আপনি আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করে দেখুন সে কতটা আপনার উপর খুশি হয়েছে, যা আপনি ভাবতেই পারবেন না। আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করলে আপনি কখনই ছোট হবেন না বরং আপনার সম্পর্কটা আরো দৃঢ়তা পাবে।

ভালোবাসার প্রকাশ থাকুক সারা জীবনঃ  ছোট্ট উপহার, ভালোবাসি বলা, সবসময় সকল প্রয়োজনে পাশে থাকা ইত্যাদি ভালোবাসার এই প্রকাশগুলো প্রতিদিন সম্পর্ককে মজবুত করে তোলে। তাই কখনো কার্পণ্য করবেন না ভালোবাসা প্রকাশে। বিয়ের আগে যেমন ভালোবেসেছিলেন তেমনি বিয়ের পরও একই ভালোবাসা রাখুন।

শুধু সঙ্গীকে নয়, ভালোবাসুন সঙ্গীর সঙ্গে জড়িত সবাইকেঃ  সঙ্গীকে ভালোবাসবেন এর বাইরে কিছু বলার থাকে না। তবে সঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোকেও ভালোবাসুন। যেমন- তার পরিবারের সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। এতে আপনার সঙ্গী খুশি হবে এবং আপনার সম্পর্কের উপর বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হবে। আর বিশ্বাস থাকলে সম্পর্ক মজবুত থাকে।

নিজেকে সুন্দর রাখুনঃ  দেখা যায় যখন প্রথম পরিচয় হয় অর্থাৎ সম্পর্কটা যখন নতুন নতুন তখন আপনি খুব সুন্দরভাবে সেজে কিংবা খুব স্মার্ট হয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু সম্পর্ক যখন খুব গভীর হয় বা পুরাতন হয়ে যায় তখন আপনি আর তা করছেন না। স্টাইল কিংবা নিজেকে সুন্দর দেখাবার দিকে মনযোগ দেন না। এটা ভীষণ ভুল একটি কাজ। নিজেকে দেখতে সুন্দর লাগলে সঙ্গীরও ভালো রাখে, একই সঙ্গে মনও থাকে ভালো। আর অতি অবশ্যই সঙ্গীর চোখেও বজায় থাকে আপনার আকর্ষণ। আর তা না হলে, আপনার সঙ্গী আপনার দিকে আর নজর পড়ছে না। তাই যত সম্ভব নিজেকে সুন্দর রাখুন।

স্বাস্থ্যকর সুসম্পর্ক চাইলে ব্যস্ততার মধ্যেই সঙ্গীকে সময় দিতে

সঙ্গীকে খুশি রাখার উপর নির্ভর করে একটি সম্পর্কের স্থায়ীত্ব ও সুখী জীবন।  একে অন্যের উপর খুশী না থাকলে সহজে সম্পর্কে ভাঙ্গন আসে, সম্পর্ক আস্থাহীন হয়ে পরে। অনেক কারণেই সঙ্গীকে হারাতে হয় তবে ভাঙনের পেছনে মূলত কাজ করে এই অখুশি থাকাই।   প্রেম নিয়ে অনেকের মধ্যে আবার ভ্রান্ত ধারণা আছে। কেউ মনে করে দামি উপহার কিংবা ভালো রেস্টুরেন্টে না খাওয়ালে ভালোবাসা টিকে না। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। ব্যস্ততাপূর্ণ এই জীবনে কাছের মানুষের সঙ্গে একটু সময় কাটানো কিংবা সামান্য স্পর্শতেই প্রকাশ পেতে পারে ভালোবাসা। কিছু সাধারণ কাজেই সহজে সঙ্গী খুশি হবে এবং ভালোবাসাও বাড়বে বহু গুণ।

# ছবি তুলুন কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়ার জন্য নয়। নিজেদের স্মৃতি হিসেবে রাখুন। এই ছবিই যখন দেখবেন তখন ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্ত বার বার ফিরে আসবে।

# সবসময় মাথায় রাখবেন, আপনার ক্যারিয়ারই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার কাজও গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার কথাগুলোও মন দিয়ে শুনুন।

# সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন ব্যবহার থেকে দূরে রাখুন। সঙ্গীর কথা শুনুন। কথা বলার সময় ফোন সঙ্গে রাখলে আপনার সঙ্গীর মনে হতেই পারে, আপনি তার কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

# নিজের কাজ-কর্মের কথা শেয়ার করুন। দিন যতটাই খারাপ যাক, সঙ্গীকে বলুন। এতে সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে। তাকে বোঝান তিনিও আপনার নিত্য জীবনের অঙ্গ।

# সঙ্গীকে কতটা ভালবাসেন, তা একটি চিরকুটে লিখে রাখুন। এমন জায়গায় রাখুন, যাতে তার চোখে পড়ে। এতে সে আচমকা খুশি হবে।  সঙ্গীকে নিয়ে একসঙ্গে সিনেমা দেখুন।

# ডেটে যান। প্রেম করছেন কিংবা বিয়ে করে ফেলেছেন বলে ডেট করতে ভুলে যাবেন না। আর ডেটে যাওয়ার সময় অবশ্যই পরিপাটি হয়ে বের হবেন।

# সম্ভব হলে সঙ্গীর কর্মক্ষেত্রে ফুল পাঠান। এতে তিনি যেমন সারপ্রাইজড হবেন, তেমনই তার ভালো লাগবে। আর তার ফল আপনিই পাবেন।

# তার পছন্দের গানের তালিকা তৈরি করুন। কখনো কোনো অনুষ্ঠানে বা সুযোগ পেলে সেই গান তাকে উপহার দিন। এতে রোমান্স বাড়বে।

# সম্পর্কের জন্য বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ন, আস্থাহীন সম্পর্ক টিকে থাকে না। সঙ্গীকে বিশ্বাস করুন তার কথার মূল্যায়ন আপনাদের সুন্দর জীবনের স্বার্থেই করা উচিত।

# এই রান্না করার বিষয়টি কিন্তু নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। নারীরা তার সঙ্গীর পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়ালেই আপনার সঙ্গী অনেক বেশি খুশি থাকবেন। পুরুষেরাও এই কাজটি করতে পারেন। তবে পুরুষেরা যদি পছন্দের খাবার নাও রাঁধতে পারেন তারপরও সঙ্গীকে সারপ্রাইজ করতে কিছু রান্না করে সামনে এনে দিলেই সঙ্গিনী অনেক খুশি হয়ে যাবেন।

# কোনো উপলক্ষ থাকলে তো একে অপরকে উপহার দেয়াই হয়। কিন্তু এর বাইরেও সঙ্গীর কথা মনে করে ছোট্ট কিছু নিয়ে এলেন, তাকে সারপ্রাইজ করে দিলেন, এতেও সঙ্গী অনেক বেশি খুশি হবে। এর জন্যও অনেক খরচ করার প্রয়োজন নেই। একটি ফুল বা ছোট্ট একটি কার্ডই যথেষ্ট।  সুত্রঃ বিডি লাইফ ষ্টাইল

নারী-পুরুষের যৌন অধিকার বনাম বৈষম্যমূলক আইন!

একজন নারী যে কারও সাথে যে কোনও ধরণের যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।  নারীর এ যৌনতায় আইনে কোথাও কোনও বাঁধা নেই। নারীকে দণ্ড দেওয়ার কোন বিধানও বাংলাদেশের আইনে নেই।  আবার পুরুষের ক্ষেত্রেও যৌন সম্পর্ক স্থাপনে আইনগত কোন বাঁধা নেই।

বলা আছে, যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক কুমারী, বিধবা এবং বিবাহ বিচ্ছেদে একা হয়ে যাওয়া নারীর সাথে সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে।  নারী-পুরুষের এ যৌনতায় আইনে বাঁধা নেই কিন্তু সমাজে বাঁধা আছে, ধর্মে বাঁধা আছে, লালিত মনস্তত্ত্ব ও মূল্যবোধে বাঁধা আছে।  সেকারণে, সমাজে যৌনতার চৌর্যবৃত্তি অনেক বেশি। তবে পৃথিবীর অনেক দেশেই নর-নারীর যৌন সম্পর্ক একেবারেই জৈবিক, স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত ব্যাপার। সেখানে যৌনতা মানুষের মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত।

ভারতের সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি এ কে সিক্রি ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলোচনা সভায় বলেন মহিলার যৌন অধিকারের অর্থই হল তার পছন্দের পুরুষের সঙ্গে তিনি যৌন মিলন করবেন, তাকে তার স্বামী হতেই হবে, এমন কোনও মানে নেই। তিনি বলেন, একজন মহিলার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে তার গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি। তিনি তার নিজের শরীরের সঙ্গে কী করবেন আর কী করবেন না তা সর্ম্পূণ নির্ভর করছে সেই নারীর ওপর। এটা নারীর শরীর, তাই অধিকারও তারই।

পৃথিবীর সকল দেশেই যৌনতার সীমানা সেখানকার আইন, সামাজিকতা ও সাংস্কৃতিক বোধের দ্বারা নির্ধারিত। তবে সীমানাটি কোথাও বিস্তৃত, কোথাও সংকীর্ণ। যৌনতার ক্ষেত্রে অতি প্রাচীনকাল থেকে গড়ে ওঠা একটি সীমানা হচ্ছে বিয়ে। যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মেয়ের বয়স ১৮ আর ছেলের বয়স ২১ আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা থেকে পাই যে, ১৬ বছর বয়স যে কোন মেয়ের বিবাহের জন্য বিবেচনাযোগ্য একটি বয়স। পাশাপাশি ১৬-১৮ বছর বয়সের নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যৌন মিলনকে এ আইন স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আমাদের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট হানিফ সেখ বনাম আছিয়া বেগম মামলা, যা ৫১ ডিএলআরের ১২৯ পৃষ্ঠায় এবং অন্য একটি মামলায়, যা ১৭ বিএলটিএর ২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, ১৬ বছরের অধিক কোনো মেয়েকে যদি কোনো পুরুষ বিয়ের প্রলোভন দিয়ে যৌনকর্ম করে তা হলে তা ধর্ষণের নামান্তর হবে না।

কোনও পুরুষ যদি ১৪ বছর কিংবা ১৪’র অধিক বয়সের কোনও নারীর সাথে (পারস্পরিক সম্মতিতে) যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তাকে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে না। তবে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তাকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে। কারণ ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও নারী যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দিতে পারে না। দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী স্ত্রী ব্যাতিত ১৪ বৎসরের কম বয়স্ক কোনও নারীর সাথে তার সন্মতিক্রমেও যৌনকর্ম করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হয়।

উপরের দুটি আইন বিশ্লেষণে আমরা যা পাই তাহলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দেবার বয়স ১৬ বছর। আর দণ্ডবিধি অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স পূর্ণ হলে একটি মেয়ে কোনও পুরুষকে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য সম্মতি দিতে পারে। অথচ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী নারীর ১৮ বছরের আগে বিয়ে করার অধিকার নেই।

একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগ্রন্থ সে দেশের সংবিধান। আমাদের সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। আবার ২৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্র বৈষম্যমূলক বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারে।

এদিকে ১৮ বছর বয়সী যে কোন নারী পুরুষ সাবালক-সাবলিকা হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম উঠছে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন, নিজের মতামত প্রকাশ করছেন। অথচ জীবন সঙ্গী নির্বাচনে পুরুষের বয়স হতে হচ্ছে ২১ বৎসর।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় বিয়ের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য ব্যাভিচারকে দুস্কর্ম এবং অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে, “কোনও লোক যদি, অপর কোনও নারীর স্বামীর বিনা সম্মতিতে যৌনসঙ্গম করে, এরূপ যৌনসঙ্গম ধর্ষণের অপরাধ না হলে, সে লোক ব্যাভিচার করেছে বলে পরিগণিত হবে। এর জন্য ওই পুরুষকে যেকোনও বর্ণনার কারাদণ্ডে (যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে) বা জরিমানা দণ্ডে বা উভয় দণ্ডে শাস্তিযোগ্য হবে। এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকটির পরকীয়া কিংবা দুষ্কর্মের সহায়তাকারিণী হিসেবে শাস্তিযোগ্য হবে না”। 

পরকীয়ার অপরাধ শুধু পুরুষের জন্য, নারীর জন্য নয়।  আবার নারী যদি অবিবাহিতা বা বিধবা হয় তাহলে পুরুষও কোনও শাস্তি পায় না।  কারণ এক্ষেত্রে মামলার বাদী হওয়ার মত কেউ থাকেনা।

তবে মহামান্য লাহোর হাইকোর্ট বলেছেন, অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক যদি দীর্ঘদিন ধরে একত্রে বসবাস করে তাহলে বলা যাবে না যে, তারা ব্যাভিচারের অপরাধ করেছে। (পিএলডি ১৯৬২, ৫৫৮)।

দণ্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের মধ্যে বিয়ের বয়স নিয়ে বিরোধ আছে। এ বিরোধের ফলে একটি মেয়েকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন, প্রেমঘটিত কারণে কোনও কিশোরী যদি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তার প্রেমিককে বিয়ে করে তবে মেয়ের অভিভাবক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উক্ত প্রেমিক এবং তার অভিভাবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ বা ধর্ষণ অথবা উভয় ধরনের মামলা করে এ অজুহাতে যে, তাদের মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক। বয়স প্রমাণের জন্য কোনও সনদপত্রের আইনগত বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ও এর প্রয়োগ নেই বিধায় মেয়ে যদি প্রাপ্তবয়স্কও হয় তবুও এ ধরনের মামলা করার সুযোগ আছে।

মামলা হবার পর মেয়েটিকে নিয়ে তার অভিভাবক, পুলিশ এবং তার প্রেমিক পক্ষের লোকজনদের মধ্যে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। এর পরিণতিতে মেয়েটিকে প্রায়শঃ নিরাপদ হেফাজতের নামে জেলখানায় যেতে হয়। স্বেচ্ছায় বাল্যবিবাহকারী কিংবা বাল্যবিবাহের শিকার একটি মেয়ে যতকাল প্রাপ্তবয়স্কা না হবে তত কাল তাকে নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য জেলে রাখার আদেশ দিতে পারে আদালত। এর ফলে হাজার হাজার মেয়ে দিনের পর দিন জেল খাটছে। 

আবার পুরুষের বিয়ে করার অধিকার তৈরি হয় ২১ বছরে। তবে কম বয়সে বিয়ে করলেও ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরুষকে জেলে থাকতে হয় না। অথচ অল্প বয়সে কোনও মেয়ের বিয়ে হলে যতদিন না তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয় ততদিন সেই মেয়েটিকে জেলে থাকতে হয়। মানুষ এখানে আইন মানতে চায় না। কিন্তু সমাজ বাস্তবতাকে মানে।

ধর্মীয় বিশ্বাস বলছে, তুমি যদি যৌনতা চাও তবে বিয়ে কর। বয়স কোনও বিষয় নয়। সুরা নিসা বলছে ‘ শিশুরা যখন স্বপ্নে বীর্যপাত করে তখন তাদের শৈশব অতিক্রম করে সাবালকের সীমায় পৌছে যায়।’

আমাদের আইন, রাষ্ট্র, সংবিধান ও সামাজিক আচরণে আজব সব বৈপরীত্য! পৃথিবীর তাবৎ সহানুভূতি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতি; সাহিত্যে, কলায়, রসবোধে, জীবনের সর্বত্র কিশোর প্রেমকে উপজীব্য করা হচ্ছে; তরুণ মনস্তত্ব ও মূল্যবোধকে প্রেমের প্রতি সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অথচ নরনারীর প্রেমবোধের বিজ্ঞানকেই অস্বীকার করা হচ্ছে। অবৈজ্ঞানিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আইনে মানুষকে বেঁধে ফেলার উপকার ও অপকারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য আইনজ্ঞ বিজ্ঞজনদের প্রতি অনুরোধ রইল।

সর্বশেষ রাষ্ট্রযন্ত্রের সমীপে নিবেদন এই,
যে আইন মানবাধিকার রক্ষা করতে পারে না, যে আইন মানুষকে স্বাধীনতা বঞ্চিত করে, যে আইন সংবিধান সমুন্নত রাখতে পারে না, সেই আইন আর যাই হোক নারী-পুরুষের অধিকার ও সুবিধা-অসুবিধা রক্ষা করতে সক্ষম এ কথা বিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক অবকাশ নেই। কাজেই মানবিকতার দিক দিয়ে হলেও এ আইনের শীঘ্রই সংশোধনের প্রয়োজন। খুব অবাক হই, আমরা কীভাবে মানবিকতা ভুলতে বসেছি।

একুশ শতকের দোরগোড়ায় যেখানে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে মহাকাশেও পা বাড়িয়েছি, সেখানে আজও নারী-পুরুষের অধিকার, তাদের ইচ্ছাকে বেঁধে রেখে দিয়েছি। যৌনতাকে এখনও আমরা মানবিকতার চোখে দেখি না, এটা খুবই কঠোর বাস্তব।

লেখক: সিরাজ প্রামাণিক
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, গবেষক ও আইন গ্রন্থ প্রণেতা।  
সুত্রঃ lawyersclubbangladesh

একজন চমৎকার স্বামী হতে কি লাগে !

সম্পর্ক তো সবারই হয়, কিন্তু সেই সম্পর্কে মধুরতা আছে কতজনের? এই মধুরতা নিজ থেকে আসে না, এই মধুরতা কেবল স্ত্রীর চেষ্টা থেকেও আসে না। বরং সুখের দাম্পত্য গড়ে তুলতে অনেক ক্ষেত্রেই স্বামীর ভূমিকা স্ত্রীর চাইতে বেশি।  স্বামী কেবল নিজেকে অর্থ উপার্জনের মেশিন ভাবলেই চলবে না, বরং স্ত্রী ও সংসারে দিতে হবে সমান মনোযোগ। আজকাল অসংখ্য নারী চাকরি বা ব্যবসা করেন, কর্মজীবনে ব্যস্ততা তাদেরও আছে।  তাই কর্মজীবনের বাহানায় স্ত্রীকে অবহেলা করার দিন ফুরিয়েছে।

আপনাকে নিয়ে স্ত্রীর অভিযোগের শেষ নেই? কিংবা সংসারে শান্তি রক্ষা করতে চান সবসময়ে? এই ফিচারটি তবে আপনারই জন্য! জেনে নিন কিছু দারুণ টিপস।

পরিকল্পনা করুনঃ বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলে পুলে হয়ে গেছে, তাই বলে ফুরিয়ে গেছে দাম্পত্য? একদমই নয়। বরং এখনই সম্পর্কের পেছনে অধিক সময় দিতে হবে। স্ত্রী এমন কেউ নয় যে চিরকাল আপনার সাথে থাকতে বাধ্য। ভালোবাসা ও যত্ন না পেলে তার মনও অন্যদিকে চলে যেতেই পারে, তাই না? তাই কেবল জীবন নিয়ে পরিকল্পনা না করে সম্পর্ক নিয়েই করুন। কীভাবে দুজনে ভালো সময় কাটাবেন, কোথায় বেড়াতে যাবেন, কী উপহার দেবেন, কী বলবেন ইত্যাদি নিয়ে ভাবাও জরুরী। কারণ আমরা তাঁকে নিয়েই ভাবি, যে আমাদের জন্যে বিশেষ।

প্রতিদিন জানুনঃ সম্পর্কের একটা ভিত্তি থাকে। আর সেই ভিত্তি হচ্ছে ভালোবাসা। তাই প্রতিদিন সেই ভালোবাসার ভিত্তি স্পর্শ করুন। তাঁকে জানান যে ভালোবাসেন। তার সাথে কথা বলুন। তিনি কেমন আছেন জানতে চান। নিজের কোথাও তাঁকে জানান।

সংসারের দায়িত্বে আপনার ভূমিকা কী? সংসার স্ত্রীর একার নয়, আপনারও। সমস্ত বড় সিদ্ধান্তগুলো দুজনে একসাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন। যেসব ব্যাপারে আপনি একাই সিদ্ধান্ত নিতেন, সেগুলোতে স্ত্রীকে ডাকুন। যেসব কাজ স্ত্রী একাই করেন, সেগুলোতে আপনি সাহায্য করুন।

বুঝতে শিখুন একটি বিশেষ ব্যাপার : মানুষ কোন মেশিন নয় যে আজীবন একই রকম চলবে। মাঝে মাঝে সকল মানুষেরই একটু বিশ্রাম দরকার হয়, রোজকার জীবন থেকে একটু ব্রেকের প্রয়োজন হয়। এই ব্রেক আমাদেরকে সম্পর্ক পরিচালনা করতে উজ্জীবিত করে থাকে। তাই, নিজের যখন অবসর চাই বুঝতে শিখুন। সঙ্গী কখন অবসর চাইছে সেটাও বুঝে নিন আর সেই সময়ে তাঁকে একটু নিজের মত থাকতে দিন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কেউ ছোট হয় না :  তিনি আপনার জীবনে আছে বলেই জীবন সুন্দর, সংসার সুন্দর, আপনার জীবন চমৎকার ভাবে চলছে। বিষয়টি যদি এমন হয়ে থাকে তবে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলবেন না। ভালোবাসার মানুষকে যত ধন্যবাদ জানাবেন, সম্পর্ক তত সুন্দর হতে উঠবে।

কিছু নিয়ম জরুরী: রোজকার কাজে কিছু নিয়ম মেনে চলাই উচিৎ। যেমন ধরুন, শাওয়ার শেষে টাওয়েল আপনি বিছানাতেই ফেলে রাখেন। কী দরকার বলুন তো? একটু কষ্ট করে বারান্দায় মেলে দিন কিংবা নিজের জুতগুলো গুছিয়ে রাখুন।

কীভাবে আপনাদের সংসার চলবে সেই বিষয়ে কিছু নিয়ম দুজনে একসাথে বসে তৈরি করে নিন আর সেগুলো মেনে চলুন। অনেক সমস্যাই সহজ হয়ে যাবে।

একজন চমৎকার স্বামী হয়ে ওঠার চর্চাটি প্রতিদিনের, একদিন দুদিনে তা ফুরিয়ে যায় না। তাই প্রতিদিন করুন সম্পর্কের চর্চা। 

স্পর্শ বিহীন দাম্পত্য জীবন ভয়ংকর!

যৌনতাবিহীন বিবাহিত জীবন যাপনকারীর সংখ্যা বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে।  খোদ কামসূত্রের দেশ ভারতেও এনিয়ে জরিপে দেখা যায় ট্রেন্ড পশ্চিমাদের পথেই।  ২০০৪ সালের জরিপে বিবাহিত দম্পতিদের ৩৭ শতাংশের সপ্তাহে একবারের বেশি যৌনমিলনের অভিজ্ঞতা হলেও সংখ্যাটি এখন কমে ২০ এর নিচে নেমেছে।

আমেরিকায় ১৯৯৪ সালের এক জরিপে দেখা গিয়েছিল ২ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি বিগত এক বছরে একবারও সেক্স করেননি।  আর ২০ শতাংশ আমেরিকান বিবাহিত দম্পতি বছরে ১০ বারের কম সেক্স করেছেন।  বাংলাদেশের বিবাহিতদের যৌন জীবনের কি অবস্থা সেটা অবশ্য জানা যায় না।

তবে অর্থনৈতিক সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, সামাজিক অস্থিরতা, মিডিয়ায় নেতিবাচক সংবাদের প্রভাব সহ বিভিন্ন কারনে যেমন – প্রত্যহ  পানি, বিদ্যুৎ সঙ্কট,  অধিক পরিশ্রম সহ বিভিন্ন কারনে মানুষের স্বাভাবিক যৌনতায় প্রভাব পড়ে।

ভারতে সেক্সবিহীন বিবাহিত জীবন যাপনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বলা হয়- ভারতীয় এখনকার তরুণরা মনে করে শারীরিক মিলন কোনো জরুরি বিষয় নয়। বিশেষ করে বিত্তের পেছনে ছুটে বেড়ানো দম্পতিদের কাছে অনেক বেশি দরকারি হলো অফিসের প্রমোশন, বড় ব্যবসা, বসকে খুশি করা, অফিসের গাদা গাদা কাজ করা, দামী গাড়ি কেনা, ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়া, সন্তানকে দামি স্কুলে পড়ানো এবং সেগুলো নিয়ে গল্প করা।

দিনে এতো বেশি কাজের তালিকা তাদের থাকে যে দিনের শেষে তালিকার শেষ দিকে থাকা সেক্স ঘুমের মধ্যেই চলে যায়! এই ধরনের বিবাহিতদের জীবনে যে সেক্স নিয়ে অতৃপ্তি নেই তাও আবার বলা যাবে না। যেকারণে ভারতের জরিপ থেকে দেখা যায় তুলনামূলকভাবে কম ব্যস্ত জীবনের জয়পুরে যৌনজীবনের তৃপ্তি যেখানে ৭৪ শতাংশ সেটা দিল্লীতে মাত্র ১২ শতাংশ।

অনেকে আবার মনে করেন সেক্স হলো রাজা বাদশাহ শেখ আর অলস মানুষদের জন্য। কেউ কেউ অলস শব্দের প্রতি আপত্তি জানিয়ে বলে থাকেন বেকার মানুষদের জন্য হলো সেক্স! তাদের যুক্তি হলো- সেক্স করার জন্য যে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটা কর্মজীবী মানুষের জন্য কঠিন।

যারা ঢাকার রাস্তায় ৫ ঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে থেকে ৮ ঘণ্টা অফিস করে বাড়িতে ফেরেন তারা এই দলের সঙ্গে সহমত পোষণ করবেন বৈকি। কিন্তু দার্শনিক টাইপের পুরুষরা মনে করেন, একজন সফল পুরুষের পেছনে যেমন একজন নারীর অনুপ্রেরণা থাকে তেমনি নারী তৎপর হলে পুরুষ সেক্সে আগ্রহ বোধ করে।

অনেকে আবার বলতে চান বিয়ে তো ভালোবাসার জন্য। সেক্সের জন্য নয়। বিবাহিত জীবনে আবার সেক্স ছাড়া শুধুমাত্র ভালোবাসা কিভাবে হয় সেনিয়ে আরেকপক্ষ কথা বলে থাকেন। এর একটি জবাব বোধহয় এমন যে, বিয়ে আর ভালোবাসা যেমন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত তেমনি সেক্সও।

তবে গবেষকগণ দেখেছেন যে, বিয়ের তিন বছর পরে বিবাহিত জীবনে সেক্সের ভূমিকার পতন ঘটে! এজন্য অবশ্য দম্পতিদের মধ্যে একে অন্যকে দোষারোপ করার প্রবণতাও দেখা যায়।

কেউ কেউ নিজেদের জীবনের ব্যস্ততার কথা বলেন। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়ে থাকেন, এক ঘরে দিনের পর দিন না থেকে বরং সম্ভব হলে বউকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে কিংবা নিজে বাড়ি ছেড়ে ঘুরে আসলে বিবাহিত জীবনে সেক্সের ভূমিকা বাড়তে পারে। অর্থাৎ শেয়ার বাজারের পতন না ঠেকানো গেলেও বিবাহিত জীবনে সেক্সের পতনের সমাধান আছে!

বাচ্চা কাচ্চা সেক্স জীবনে কিছুটা রাশ টানতে সহায়তা করে! অনেক ভাবেই এটা হয়। শহুরে জীবনে অনেকসময় বাচ্চা বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকে। আবার ছোট শিশুকে সামলানোর ধাক্কা সামলিয়ে সেক্স করার মতো মানসিকতা আর থাকে না!

এখন যে কারণটা বলব সেটা বেশ নতুন ধরনের! ফ্যান্টাসির নষ্ট প্রভাব! টিভি চ্যানেল আর ইন্টারনেটের কল্যাণে যেসব যৌন ছবি দেখে থাকেন দম্পতিরা তারা ব্যক্তিগত জীবনেও তেমন কিছু করতে চান যা বাস্তবসম্মত নয়, কিন্তু বিবাহিত জীবনের যৌন জীবনে তার প্রভাব পড়ে থাকে। ফ্যান্টাসির জগতে থাকার ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষরা এগিয়ে। ফলে তাদের দিক থেকে সেক্সে অনীহা তৈরি হয়। যার প্রভাব বিবাহিত জীবনে পড়ে থাকে।

সুখী দম্পতিরা: সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের সুস্বাস্থ্য, বিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে ও সংসারে সুখ-শান্তি অব্যহত রাখতে কী করা উচিত তা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্ত্রীকে খুশি রাখতে মাসে অন্তত ১১ বার মিলিত হওয়া উচিত দম্পতিদের।  কারণ, সমীক্ষা বলছে মাসে চার থেকে পাঁচবার মিলিত হওয়া দম্পতিদের মধ্যে এক ধরনের অসুখি ভাব বিরাজ করে।  সেই তুলনায় সুখী দম্পতিরা মাসে অন্তত ১১ বার মিলিত হন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রথম দুই বছর কেটে যাওয়ার পর দম্পতিদের জীবন খানিকটা থমকে যায়। বিয়ের পর যে উদ্দামতার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী মিলিত হন, সেই জোশ থাকে না। কিন্তু এটি একেবারেই করা উচিত নয়। দম্পতিদের মধ্যে খুনসুটি ও রোম্যান্স আগের মতোই থাকা উচিত।

সাইকোথেরাপিস্ট গ্যারি নুম্যান বলছেন, ‘রোজকার একঘেয়ে জীবনযাপন, বিল মেটানো, সন্তানের অসুস্থতা, কম ঘুমের কারণে এমনিতেই স্বামী-স্ত্রীর মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া মেটাতে মিলন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।’

সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের সুস্বাস্থ্য, বিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে ও সংসারে সুখ-শান্তি অব্যহত রাখতে কী করা উচিত তা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্ত্রীকে খুশি রাখতে মাসে অন্তত ১১ বার মিলিত হওয়া উচিত দম্পতিদের। কারণ, সমীক্ষা বলছে মাসে চার থেকে পাঁচবার মিলিত হওয়া দম্পতিদের মধ্যে এক ধরনের অসুখি ভাব বিরাজ করে। সেই তুলনায় সুখী দম্পতিরা মাসে অন্তত ১১ বার মিলিত হন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রথম দুই বছর কেটে যাওয়ার পর দম্পতিদের জীবন খানিকটা থমকে যায়। বিয়ের পর যে উদ্দামতার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী মিলিত হন, সেই জোশ থাকে না। কিন্তু এটি একেবারেই করা উচিত নয়। দম্পতিদের মধ্যে খুনসুটি ও রোম্যান্স আগের মতোই থাকা উচিত।

সাইকোথেরাপিস্ট গ্যারি নুম্যান বলছেন, ‘রোজকার একঘেয়ে জীবনযাপন, বিল মেটানো, সন্তানের অসুস্থতা, কম ঘুমের কারণে এমনিতেই স্বামী-স্ত্রীর মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া মেটাতে মিলন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।’

সুখে থাকার উপায়: কথায় বলে—পুরুষ মানুষ দুই প্রকার।  জীবিত আর বিবাহিত।  সত্যিই কি বিয়ের পর পুরুষের সুখ চলে যায়? তাঁদের মন বিষিয়ে ওঠে? কিন্তু উপায় কী। হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন, বিবাহিত কিংবা দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখে থাকা যায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ‘সম্পর্ক’ বিশেষজ্ঞ টি তাশিরো বলেছেন, আপনি যদি অসাধারণ কাউকে পেতে চান, তাহলে আপনার জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়বে।

তাশিরো তাঁর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, যদি একটি ঘরের মধ্যে মধ্যম মান, আয়, চেহারা ও উচ্চতার ১০০ জন পুরুষ থাকেন, তাহলে সেখানে মাত্র ১৩ জন বিবাহযোগ্য পুরুষ পাওয়া যাবে। আর যদি কেউ ওই ১০০ জনের মধ্য থেকে আকর্ষণীয়, ছয় ফুট লম্বা কিংবা ৮৭ হাজার ডলার আয় করা কোনো পুরুষকে খোঁজেন, তাহলে মাত্র একজন পুরুষের দেখা মিলবে।

আর কৌতুকবোধসম্পন্ন, দয়ালু, এমনকি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে এমন পুরুষের সন্ধান করা হয়, তাহলে ১০০ জন পুরুষের মধ্যে একজনই পাওয়া অসম্ভব। ভড়কে গেলেন। ভাবছেন কাকে নিয়ে সংসার সাজাবেন? বিবাহিত জীবনে সুখে থাকবেন কীভাবে?

তাশিরোর যুক্তি হলো—টাকা-পয়সা, সৌন্দর্য বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে পারে না। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। তাঁর মতে, একটি ভালোবাসাময় সুখী বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবার মধ্যে যে গুণটি থাকা প্রয়োজন, তা হলো—আন্তরিকতা। আন্তরিক বলতে তিনি এমন কাউকে বুঝিয়েছেন, যিনি হবেন বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাসযোগ্য, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমাশীল, উদার ও ধৈর্যশীল।

অন্য আরেক দল গবেষক মনে করে, ভালোবাসাই একজন নারী ও একজন পুরুষের মাঝে হূদয়ের অটুট বন্ধন তৈরি করে দেয়। তৈরি করে সাংসারিক বন্ধন। ভালোবাসা ব্যতীত কোনো সাংসারিক কিংবা দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজন শূন্য, ফাঁকা।

একজন সুন্দর মনের ও সুন্দর গুণের স্ত্রী সংসারকে তাঁর নিজের আলোয় আলোকিত করে তুলতে পারেন। সাজিয়ে তুলতে পারেন সংসার জীবনকে সুখের স্বর্গীয় বাগানের মতো করে। তবে এই কাজের জন্য দরকার প্রেমিক স্বামীর স্ত্রীর প্রতি ঐকান্তিক মায়া-মমতা ও সুগভীর ভালোবাসা। এই ভালোবাসা থাকলে দেখবেন, বিবাহিত জীবনে সুখ কাকে বলে!

চাই আন্তরিকতা: টাকা-পয়সা, সৌন্দর্য বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে পারে না। দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আন্তরিকতা। বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাসযোগ্য, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমাশীল, উদার ও ধৈর্যশীল গুণগুলো সংসার টিকিয়ে রাখতে সাহয্যে করে।

ভালোবাসাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হৃদয়ের অটুট বন্ধন। যা সাংসারিক বন্ধন তৈরি করে। ভালোবাসা ছাড়া কোনো সাংসারিক দাম্পত্য জীবন সুখী হতে পারে না। তাই দুজন দুজনের প্রতি মায়া-মমতা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে কল্পনা করা যায় না।  তাই যত বিপত্তি আসুক না কেন দুজন দুজনকে বুঝতে হবে। ছাড় দিতে হবে। আর ভালোবাসা থাকতে হবে। দেখবেন দাম্পত্য জীবনে সুখ কাকে বলে।

আসুন জেনে নেই দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার আরো কিছু উপায়:

১. মনের মিল: দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের মিল। মনের মিল না থাকলে সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায় না। আর সবসময় মনের মিল না-ও হতে পারে। তাই বলে অন্য কারও তুলনা টেনে আনবেন না। এতে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারেন সঙ্গী। যে কোনো সমস্যায় দুজনে খোলাখুলি কথা বলুন। পরস্পরের পছন্দ–অপছন্দও জেনে নিন এবং গুরুত্ব দিন দেখবেন সুখেই কাটছে সংসার।

২. জোর করবেন না: আপনার স্ত্রীকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় জোর করবেন না বা কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। অনেকেই মুখ ফুটে নিজের চাহিদার কথা বলতে পারেন না। ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলুন। বুঝে নিন ঠিক কী চান তিনি।

৩. বিশেষ দিনে উপহার: বিশেষ দিন যেমন, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন। এই দিন গুলোতে বিশেষ আয়োজন রাখতে পারেন। এছাড়া উভয়ে নিজেদের উপাহার দিতে পারেন। এত সংসার হবে আনন্দময়।

৪. ভুল বোঝাবুঝি: সংসার জীবনে ভুল বোঝাবুঝি, ঝগড়া হতে পারে। নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করুন। ততে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। আর মনের মধ্যে কষ্ট চেপে রাখবেন না। এতে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস কমে যায়।

৫. সঙ্গীর পছন্দকেও গুরুত্ব দিন: স্বামী বা স্ত্রী দুজন দুজনের পছন্দের গুরুত্ব দিন। সব সময় নিজেকে নিয়ে ভাববেন না।  ব্যস্ত থাকলেও, কাজের মধ্যে সময় বের করে খবর নিন। ভালোবাসা যেন শরীরসর্বস্ব না হয়। বরং মন জয় করুন।

৬. সপ্তাহে একদিন ঘুরতে যান: দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার অন্য আরেকটি উপায় হচ্ছে ঘুরে বেড়ানো। কারণ সারা সপ্তাহ কাজ করে মন ও শরীর ঠিক রাখতে এবং রোমাঞ্চ করেত সঙ্গীর সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারেন। একসঙ্গে কোথাও যাওয়ার হলে, বারবার দেরি করার অভ্যাস ছাড়ুন। এতে তিক্ততা তৈরি হয়।

৭. হঠাৎ পরিবর্তন: হঠাৎ আপনার স্বভাব হোক বা সাজগোজ যাই হোক না কেন, জোর করে কিছু পাল্টে ফেলার চেষ্টা করবেন না। আরোপিত কোনো কিছুই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এত করে সংসারের শান্তি নষ্ট হয়। তাই সবকিছুর মধ্যে সংযত ভাব আনুন।  সুত্রঃ প্রিয় ডট কম, দেহঘড়ি 

সঙ্গীর অভাবে যাদের বিয়ে হচ্ছেনা

আপনার পরিবারের অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা অথবা বিপত্নীক সদস্যের জন্য পছন্দের প্রফেশনের উপযুক্ত সঙ্গীই খুঁজে পাবেন।  আর এর জন্য আপনাকে অনলাইনে বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব সাইট ভিজিট করে একটি ফ্রী রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে বায়োডাটা তৈরী করতে হবে।  এরপরই আপনি ঘরে বসে বিবাহবিডির ডাটাবেজের সকল বায়োডটা দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোর সাথে সরাসরি নিজেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।  এটা খুবই সহজ প্রন্থা; তাছাড়া বিবাহবিডির সেবা ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই।  যে কোন সময় চাইলেই আমাদের সাথে ফোনে কথা বলতে পারেন।  তাই নিশ্চিন্তে লগিন করার জন্য আমরা আপনাকে সম্পূর্ন আশ্বস্ত করছি।  প্রয়োজনে যেকোন জিজ্ঞাসার জন্য  উল্লেখ্য  (+88)0961 22 11 555, 88 01944 115555,  88 01922 115555 নাম্বারগুলোতে কল করে আমাদের সেবা সম্পর্কে জানুন ।  অথবা একটু সময় নিয়ে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ন ফিচারটি পড়ুন –

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনি অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহবিডি ডট কম। এখানে অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ঘরে বসেই আপনি চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ  ৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স – বিধবা – বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী।  তাছাড়াও বিবাহবিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার  সার্চ (ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন)।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ  জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।   প্রথমেই দেখে নিন কোন কোন প্রফেশনের কত জন পাত্র/পাত্রী এই মূহুর্তে বিবাহবিডিতে রয়েছে।
লিংকে ক্লিক করুন 


এই অডিওটি আপনাকে আমাদের সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।


যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ও ইজি সার্চ  অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে। 


কিভাবে বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করবেন: আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে
লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন।   অথবা বিস্তারিত জানতেঃ ০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


নীচের উল্লেখিত ভিডিওটি দেখলে বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা পাওয়া যাবে -

কোন কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে সমস্যায় পড়লে বিবাহবিডির কাষ্টমার সাপোর্ট আপনাকে ২৪/৭ দিনই হেল্প করার জন্য প্রস্তুত আছে আপনি ফোনে (০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫) সাহায্য নিতে পারেন।

আপনার রেজিষ্ট্রেশন টি সম্পূর্ন হয়ে গেলে বিবাহবিডির একজন কাষ্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ আপনার প্রদত্ত তথ্যগুলো ফোনে রিভিও করে আপনাকে ৩ দিনের জন্য বিবাহবিডিতে ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ দিবে ও বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা দিবে।

৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপে আপনি বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে বাছাই (Add To Favorite ) করে পরবর্তীতে আপনার সাধ্য অনুযায়ী মেম্বারশীপ কিনে পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌছাতে সক্ষম হবেন।


বিবাহবিডি ডট কমের বুকলেট বা  সেবা বিষয় পুস্তিকা (PDF) ডাউনলোড  করুন ।

পাঠকের সুবিধার্থে বিবাহবিডির সরাসরি কয়েকটি সার্চ রিজাল্টের লিংক নিম্নে দেয়া হলোঃ


Support Center:

BIBAHABD.COM
HOUSE: 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE, DHAKA-1219.  Hotline : +88 0961 22 11 555,  88 019 22 11 5555


বিবাহবিডি ডট কম অফিস লোকেশন 

সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে বারবার, তবে শুধরান নিজেকেই!

একাকী জীবন কাটানো সত্যিই কি কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব? উত্তরটা না বলবেন অনেকে! কারণ, মানুষ সামাজিক জীব।  যে সব সময়ই নিজের আশেপাশে সঙ্গী খোঁজেন। নিজের সুখ দুঃখগুলো ভাগ করে নেওয়া যায় এমন মানুষ খুঁজতে থাকেন মনের অজান্তেই।  কিন্তু সমস্যা হলো প্রত্যেকটি মানুষ সঠিক সময়ে নিজের পাশে কাউকে খুঁজে পান না। হয়তো কোনো মানুষ পেয়ে থাকেন, আবার কেউ পান না।

কিন্তু এর কারণ কী? নিজের পছন্দের এবং মনের মানুষটি অনেকেই কেন পান না তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? কিছু খারাপ অভ্যাস রয়েছে তা একজন মানুষকে অন্য মানুষের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি আপনি নিজের পছন্দের মানুষটি খুঁজে পেয়ে না থাকেন তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করুন। দেখুন তো, আপনার মধ্যে এই বদঅভ্যাসগুলো রয়েছে কিনা। আর যদি থেকে থাকে তাহলে একাকী জীবন কাটাতে না চাইলে অভ্যাসগুলো আজই ত্যাগ করুন।

অতিরিক্ত মাত্রায় আত্মকেন্দ্রীক: আপনি নিজে কী চান, আপনার নিজের স্বপ্ন, আপনার নিজের ইচ্ছা সব কিছু যদি আপনার নিজের ইচ্ছে মতো পেতে চান? তবে আপনাকে একাকীই জীবনটা পার করতে হবে। মানুষের নিজের ইচ্ছা অবশ্যই থাকা উচিৎ এবং স্বপ্ন পূরণের চেষ্টাও করা উচিৎ। কিন্তু তা যদি পছন্দের মানুষের ইচ্ছের একেবারেই গুরুত্ব না দিয়ে হয় তবে কারুর পক্ষেই হয়তো আপনার সঙ্গে থাকা সম্ভব হবে না। তাই একাকী জীবন কাটাতে না চাইলে সঙ্গীর ইচ্ছেটাকেও গুরুত্ব দিতে শিখুন।

নিজেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবাটা থামান:  একটি সম্পর্কে দুজনের গুরুত্ব সমান হতে হয়, তবেই সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। আপনার মনোভাব যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনিই সর্বেসর্বা এবং সব কিছুতে আপনারই গুরুত্ব অনেক বেশি, তবে আপনাকে জীবনকে পস্তাতে হবে। সম্পর্ক দুজনের মধ্যে হয়, সুতরাং গুরুত্ব এখানে দুজনেই পাবেন। নিজেকে সব কিছু ভাবা এই ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করুন।

স্বার্থপরতা ও অবিবেচকের মতো আচরণ: সব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিজেরটা দেখলে চলে না। আপনি যেই হোন না কেন এবং আপনার সঙ্গে অন্য একজনের যে ধরণের সম্পর্কই থাকুক না কেন বন্ধু, ভালোবাসার সম্পর্ক এমনকি আত্মীয়ের সম্পর্ক আপনি যদি সব সময় নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে অবিবেচকের মতো আচরণ করেন তবে সেই দিন বেশি দূরে নেই যদি আপনি নিজের পাশে কাউকে পাবেন না। মাঝে মাঝে অন্যের জন্য বিনা স্বার্থে কাজ করে দেখুন, মানুষের ভালোবাসা পাবেন।

‘আমি সারাজীবন একলাই থাকব’- এই ধরনের চিন্তা: আপনি যখন নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে এই কথাটি বলবেন তখন আপনি নিজে থেকেই হেরে যাবেন। নিজের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা রাখুন। কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবনে একজন আসবেই যিনি তাঁর একাকীত্ব দূর করবেন। কিন্তু আপনি যদি ভেবে বসে থাকেন আপনি সারাজীবন একলাই থেকে যাবেন তাহলে আপনার মনে মানুষটি আপনার পাশে থাকলেও আপনার চোখে পড়বে না, এবং সত্যিই আপনাকে একাকী জীবন পার করতে হতে পারে।

খুব বেশি খুঁতখুঁতে হওয়া:  আপনি যদি কথায় কথায় খুঁত বের করেন এবং খুব বেশি পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারটি ঘাটতে থাকেন তবে আপনাকে একাকী জীবন কাটাতে হবে। আপনার জীবনসঙ্গী পছন্দের ব্যাপারে খুব নাক উঁচু স্বভাবের হলে আপনি কাউকেই পছন্দ করতে পারবেন না। এবং সময় চলে গেলে আফসোস করতে হবে। আবার পছন্দের মানুষটির খুব বেশি ভুল ধরলেও আপনি তাকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলবেন। তাই একাকী জীবন পার না করতে চাইলে খুঁতখুঁতে স্বভাবটা কমিয়ে ফেলুন। ছাড় দিতে শিখুন। জীবন সুখের হবে।

সঙ্গী পারফেক্ট কিনা বুঝবেন কিভাবে!

আসলে ‘পারফেক্ট’ বলে কোনো বিষয় নেই।  ভালোমন্দ মিলিয়েই মানুষ। তারপরও কিছু বিষয় খেয়াল করে সম্পর্ক শুরু করলে সেটা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সম্পর্ক বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, কাউকে ভালোবাসতে হলে আগে দেখুন সে আপনাকে আসলেই ভালোবাসে কিনা। আর তা বোঝার জন্য রয়েছে কিছু বিষয়।

সে আপনাকে মেলে ধরবে : যদি সে আপনাকে সবার সামনে ছোট করে বা আপনাকে বোকা বানিয়ে মজা পায় তবে সে আপনার জন্য নয়। মাঝে মধ্যে মজা করর কিছু বলা অন্য বিষয়। তবে সে যদি আপনার মধ্যে যে কোনো বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাস’ তৈরি করে বা আশপাশে থেকে আপনার মধ্যে উন্নত ভাব তৈরি করতে পারে তাহলে তাকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে না : যে সম্পর্কের শুরুতেই আপনার কিছু বিষয় বদলাতে বলবে সে আসলে কখনও আপনাকে ভালোবাসবে না। আপনার বন্ধু কে হবে, কী পোশাক পরবেন, কোনো শখের বিষয় ছাড়তে বললে বা যে কাজ করতে ভালো লাগে সেটা তার ভালো লাগে না বলে ছাড়তে বললে বুঝতে হবে সে আপনার জন্য নয়। তাকেই ভালোবাসুন যে আপনাকে পরিবর্তন করে নয় বরং আপনি যা সেভাবেই আপনাকে চায়।

উৎসাহদাতা : আপনার যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেবে সে। চাকরির ইন্টারভিউ থেকে শুরু করে যেকোনো কাজ যেন ভালো হয় সেটার জন্য সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। আর যখন কাজটা হয়ে যাবে সেই সবচেয়ে বেশি খুশি হবে।  হতে পারে কোনো বোর্ড গেইম খেলার সময় সেই আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।  তবে সে সবসময় চাইবে আপনি জয়লাভ করুন।

প্রশংসা করা : সে যদি ভালো নৃত্য করে, ভালো গান করে, শিল্পসাহিত্য সম্পর্কে অনেক জ্ঞান বা কোনো গুন আপনাকে মুগ্ধ করে— যেটাই হোক না কেনো তার যে কোনো বিষয়ে প্রশংসা করবেন। এ রকম হলে সেই আপনার ভালোবাসার মানুষ।

ছাড় দেয়া : কিছু মানুষ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। তবে যে আপনার মধ্যে কোনো প্রকার খারাপ বোধ তৈরি না করে আপনার আবেগ বুঝে ‘স্পেস’ দেবে বুঝতে হবে সে আপনাকে আসলেই ছাড় দিচ্ছে।  একইভাবে তাকেও আপনার ছাড় দিতে হবে। ফলে যখন আবার দুজন একসঙ্গে থাকবেন তখন আরও বেশি দুজন অন্তরঙ্গ হতে পারবেন। আর এরকম মানুষকে ভালোবাসতে দ্বিধা করবেন না।

সরাসারি প্রকাশ : অনেক ভালো সম্পর্কের মধ্যে কিছু বিষয় খারাপ লাগতেই পারে। আর সেসব বিষয় নিয়ে যদি সঙ্গীর সঙ্গে আলাপ করতে কোনো দ্বিধা বোধ না করেন তবে সেই আপনার জন্য ভালোবাসার মানুষ।  একইভাবে সেও আপনার কোনো বিষয় নিয়ে অভিযোগ করতে পারে, আর বিস্ময়কর হলেও সত্যি সেটা শুনে আপনার খারাপ লাগবে না বরং নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করবেন। তাই  দেরি না করে, এই মানুষকেই ভালোবাসুন।

হাসাতে সাহায্য করবে : হাসতে কে না চায়। তবে যে মানুষটা আপনার মুখে হাসি ফোটাবে সে অবশ্যই একজন ভালোবাসার মানুষ হতে পারে। মানুষের জীবনে অনেক ঝামেলা আসে। আর সে রকম সময়ে যদি সে আপনার মুখে হাসি ফুটিয়ে পৃথিবীটাকে উজ্জ্বল করে দেয় তবে সেই মানুষকে ভালোবাসাই যায়।

সে আপনার জন্য করে : শারীরিক সম্পর্কই সব নয়। তারপরও এটা একটা বিষয়। যদি দেখেন বিশেষ সময়ে আপনি অন্য কাউকে নয়, তার কাছ থেকেই সমস্ত আকর্ষণ পেতে চাচ্ছেন আর সেও সেটা অনুভব করছে তবে তাকে দূরে রাখার কোনো মানে হয় না।

আপস করা : সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকবেই। আর সেগুলো আলোচনা করে ছাড় দিয়ে ঠিক করাও যায়। ভালোবাসার সম্পর্কে দুজন দুজনের ক্ষেত্রে আপস করতে হবে। আপসবিহীন সম্পর্ক সামনের দিকে যেতে পারে না।

প্রাক্তন ও তার দেয়া কষ্ট একেবারেই ভুলে যেতে হবে

ভালোবাসা ব্যাপারটি দীর্ঘস্থায়ী হলেও ভালোবাসার পাত্র-পাত্রীরা সবসময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না। চলার পথে আজকে যে মানুষটিকে অনেক বেশি ভালোবাসছেন আপনি, দুদিন পরে সেই হয়তো হয়ে উঠবে আপনার কষ্টের কারণ। এটা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার ক্ষেত্রেই নয়, সত্যি জাগতিক আর সব সম্পর্কের বেলায়ও।   কিন্তু কারো দেয়া কষ্টকে নিয়ে পড়ে থাকলে তো জীবন চলবেনা। আর তাই আর সবার মতন কাছের মানুষের দেয়া কষ্টকে ভুলতে হবে আপনাকেও। এগিয়ে যেতে হবে সামনে। কিন্তু কী করে ভুলে যাবেন আপনি এতদিন ভালোবেসে আসা খুব আপন আর প্রিয় মানুষটিকে? জেনে নিন ভালোবাসার মানুষটিকে দ্রুত ভুলে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক কিছু উপায়।

আদর্শ খুঁজুনঃ  প্রতারণা কিংবা ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে দূরে চলে আসবার কষ্টটা আপনার একার বলে মনে হলেও বাস্তবে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই কষ্টের পথটা ধরে হেঁটেছেন, হাঁটছেন এবং হাঁটবেনও।   সাইকোলজি টুডে অনুসারে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মতে নিজের পছন্দের মানুষের কাছ থেকে আমরা ইচ্ছাশক্তি নিজের ভেতরে নিয়ে নিতে পারি। আর তাই এমন কোনো আদর্শ ব্যক্তিকে খুঁজুন যে প্রতারণা কিংবা এমন হাজারো কষ্টের ভেতর দিয়ে গিয়েও উঠে দাঁড়িয়েছে।

থেমে তো যায়নি, বরং এতটা শক্তি নিয়ে এগিয়ে গেছে যে তাকে ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলোকেই পস্তাতে হয়েছে পরবর্তীতে। চারপাশে না পেলে দেখুন বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবন আর নিজেকে তাদের জায়গায় দাঁড় করিয়ে এগিয়ে যান সামনে।

নতুন আগ্রহ তৈরি করুনঃ নেশা শব্দটা নেতিবাচক শুনতে হলেও আপনার ভালোবাসার মানুষটির প্রতি আপনার দুর্বলতার কারণ কিন্তু এটাই। আর তার প্রতি এই নেশাকে কাটিয়ে উঠতে নতুন কোনো নেশাকে আপন করে নিন। তবে সেটা মাদক কিংবা হঠাৎ করে বেছে নেয়া কোনো মানুষ নয়।  নতুন কোনো শখ, লেখালেখি, সমাজকল্যাণ।

ফেলে আসা নানারকম কাজ যেমন- রান্না, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ছবি আঁকা- এসব কিছুকে আপন করে নিন। নতুন কোনো লক্ষ্যকে খুঁজে নিন। কোনো কিছু নেই এমন ভাবটা ফেরত এলে সেই নতুন লক্ষ্যকে নিয়ে মেতে উঠুন, এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছে সাইকোলজি টুডে।

নিজের প্রতি যত্ন নিনঃ মানসিক চাপ মানুষের ভেতরে হতাশা, অস্থিরতা, উদ্বিগ্নতা তৈরি করে। ফলে মানুষ একটা খুঁটির আশ্রয় চায়। অনেকটা ভেসে যাওয়া মানুষের একটা খড়কুটো আঁকড়ে ধরবার মতন। আর এটাকেই মনোবিজ্ঞানীরা বলে- কনট্যাক্ট কমফোর্ট।

এ সময় সম্পর্কের বাজে দিকগুলো মাথায় না এসে প্রাধান্য পায় ভালো সময়গুলো। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে আগের সময়টাতে। পেতে ইচ্ছে করে আগের যত্ন কিংবা ভালোবাসাটা। আর এই সমস্যা থেকে দূরে যেতে চেষ্টা করুন মানুষের সঙ্গে মিশতে। বন্ধুদের আড্ডায় যেতে। বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে। নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করুন যে আপনার যত্ন নেয়ার আরো অনেকে আছে।

হোয়াইট বিয়ার এফেক্টঃ মনোবিজ্ঞানীদের মতে একজন মানুষ সিগারেট ছাড়তে চাইলে সেটা তাকে আরো বেশি ধরে বসে, চকলেটে আসক্ত কেউ কম খেতে চাইলে আরো বেশি চকলেটের প্রতি মোহ বাড়ে তার। আর এসবের কারণ হচ্ছে এই হোয়াইট বিয়ার এফেক্ট।  সাদা ভাল্লুককে যতটাই নেই মনে করা হোক সেটা আরও বেশি মনের ভেতরে চলে আসে।

ঠিক তেমনি ভুলতে চাইছেন এমন কাউকেও অতিরিক্ত সময় ভোলার চেষ্টা করলে তাকে আরো বেশি মনে পড়ে। তাই হঠাৎ করে কাউকে জোর করে ভুলতে চেষ্টা করবেন না। যদি ভুলতে চাওয়া মানুষটির কথা মনে পড়েই যায় তাহলে একদমই চিন্তায় পড়বেন না। কারণ এটা খুবই স্বাভাবিক। চিন্তা না করে নিজের আর সব কাজ ঠিকঠাকভাবে করতে থাকুন আর কি কারণে সেই মানুষটিকে ভুলতে চাইছেন আপনি সেই বাজে অভিজ্ঞতাটির কথা মনে করুন।

নিজেকে সময় দিনঃ সাইকোলজিকাল সায়ন্স জার্নালে অনুসারে আমাদের জীবন থেকে ভালোবাসার মানুষগুলোর প্রত্যাখ্যান আমাদের হৃদপিন্ডের গতিকে কমিয়ে দেয়। সায়েন্টিফিক অ্যামেরিকান মতে এই কষ্টটা কেবল আমাদের মনের নয়, শরীরেরও।

কেবল খুব ভালোবাসার মানুষই নয়, অচেনা কারো কাছ থেকে পাওয়া বাজে ব্যবহারও আমাদের মস্তিষ্কের কিছু স্থানে আঘাত করে আর শরীরের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করে ব্যথা। তাই খুব বেশি তাড়াহুড়ো না করে নিজেকে সময় দিন। শরীর আর মনকে সুস্থ হতে দিন। বাকি সব এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।  সুত্রঃ বিডি লাইভ