দেরিতে বিয়ে হলে যেসব মানসিক সমস্যায় ভোগেন নারীরা

একটি নির্দিষ্ট বয়সের মাঝে বিয়ে না হলে বেশিরভাগ নারীই কিছু না কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। এমনকি যারা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারী, তাদের মাঝেও লক্ষ্য করা যায় কিছু কিছু ব্যাপার। কারো কারো মাঝে প্রায়সই কাজ করে অতিরিক্ত ঈর্ষা, সামাজিক চাপ, কখনও ভীষন একাকীত্ব। সব মিলিয়ে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। জেনে নিন এমন কিছু সমস্যা সম্পর্কে, যেগুলো তৈরি হয় বিয়ে দেরিতে হলে। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা গেলে সেটা থেকে বের হয়ে আসাও সহজ।

একাকীত্ব থেকে বিষণ্ণ হয়ে যাওয়া : সমবয়সী সকল বোন বা বান্ধবীদের বিয়ে হয়ে গেছে, আর স্বভাবতই বিয়ের পর সকলেই নিজের পৃথিবী নিয়ে একটু বেশিই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এক্ষেত্রে যার বিয়ে হয়নি, তিনি হয়ে পড়েন একলা। প্রিয় বোন বা বান্ধবীদের খুব একটা কাছে পান না, কাটানো হয় না ভালো সময়। সবমিলিয়ে বিষণ্ণ হয়ে পড়েন, আর সেই বিষণ্ণতা থেকেই মনের মাঝে জন্ম নেয় হতাশা ও শূন্যতা। আর এই বোধ থেকে বের হয়ে আসার সেরা উপায় হচ্ছে নতুন বন্ধু-বান্ধব তৈরি করা, যার কাছে আপনার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে।
নিজেকে অযোগ্য মনে করা : সমবয়সী সকলে নিজের জীবন সঙ্গী পেয়ে গেছেন, আপনি হয়তো বারবার চেষ্টা করেও পারছেন না। হয়তো প্রেম সফল হয়নি কিংবা পরিবার থেকে চেষ্টা করেও ফল হচ্ছে না। বিশেষ করে আমাদের দেশে পাত্রী দেখাবার প্রক্রিয়াটা খুব অপমানজনক। এক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হবার পর নিজেকে অনেকেই অযোগ্য মনে করতে শুরু করেন। এত অযোগ্য যে, কোনো ছেলেরই তাকে পছন্দ হচ্ছে না। এমনটা ভাবা মানে অকারণেই নিজেকে ছোট করা। মনে রাখবেন, কোনো পুরুষের আপনাকে পছন্দ হয়নি মানেই আপনি অযোগ্য নন। এটা নিয়ে কষ্ট পাবার কিছু নেই। সম্ভব হলে ঘটা করে পাত্রী দেখার আয়োজনটা এড়িয়ে যান, অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।
খুব কাছের বোন বা বান্ধবীর প্রতিও ঈর্ষা হওয়া: এটাও খুব সাধারণ একটা আবেগ। আমরা মানুষ, এমনটা হতেই পারে আমাদের সাথে। খুব কাছের বোন বা বান্ধবীটি হয়তো এখন আর আপনাকে সেভাবে সময় দিতে পারেন না, নিজের সংসার নিয়েই ব্যস্ত ও সুখী। এমন অবস্থায় ঈর্ষার একটা বোধ খোঁচা দিতেই পারে আপনাকে। এক্ষেত্রে নিজেকে বিষয়টা বোঝান। প্রথমত এটা ভাবুন যে তার জীবনে মোটেও আপনার গুরুত্ব কমেনি। আর দ্বিতীয়ত, একদিন আপনারও এমন চমৎকার একজন জীবনসঙ্গী হবে, তাই মন খারাপের কিছুই নেই।
বিয়ে করার জন্য তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নিজেকে হাস্যকর করে ফেলা : অনেক নারীই এই কাজটি করে ফেলেন নিজের অজান্তেই। আর তা হল, একটি বিয়ে করার জন্য “ডেস্পারেট” হয়ে যান। ক্রমাগত সামাজিক ও পারিবারিক চাপ থেকে এটা হয়। মনের মাঝে ক্রমাগত ঘুরতে থাকে যে “বয়স পার হয়ে যাচ্ছে”! আর এই পার হয়ে যাওয়া বয়সকে টেক্কা দিতে একজন জীবনসঙ্গীর জন্য আকুল হয়ে ওঠেন অনেকেই। বারবার ঘটকের কাছে যাওয়া, অফিসে বা পরিচিত মহলে নিজেকে পাত্রী হিসাবে উপস্থাপন ইত্যাদি করতে গিয়ে নিজেকে হাসি ও করুণার পাত্রে পরিণত করে ফেলেন তারা। আপনিও কি এমন করছেন? তাহলে জেনে রাখুন, এসব করে কেবল সামাজিক মর্যাদাতেই খাটো হচ্ছেন আপনি। এসবে তেমন কোনো ফল নেই।
চাপের মুখে ভুল মানুষকে বেছে নেওয়া : ক্রমাগত পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক নারীই ভুল মানুষটিকে বেছে নেন বিয়ের জন্য। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, যাকে সামনে পেলাম, তাকেই বিয়ে করে ফেললাম। কিংবা যে রাজি হল, তাকে পছন্দ না হলেও বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া। অনেকেই এই ব্যাপারটিকে ভালোবাসা ভেবে নিজেকে শান্তনাও দিতে চান। আবার অনেকে পরিবারকে খুশি করার জন্য নিজেকে রীতিমত চাপ দিয়ে বিয়েতে রাজি করায়। এই ভুলটি কখনও করবেন না। একটাই জীবন এবং এই জীবনে একটি ভুল বিয়ে আপনার অশান্তি কমাবে না বরং বাড়বে।
আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা : যে সমাজে একজন মেয়ের সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করে তার স্বামী ও সংসারের স্ট্যাটাসের ওপরে এবং সঠিক সময়ে বিয়ে না হলে মেয়েটি হয়ে ওঠে সকলের চক্ষুশূল, সেই সমাজে বিয়েতে দেরি হলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। যখন ক্রমাগত নিজের কাছের মানুষেরাই বলতে থাকে যে “তুমি এত অযোগ্য যে পাত্র জোটে না”, তখন অনেক নারীই নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন আর ক্রমশ গুটিয়ে নিতে থাকেন জীবন থেকে। ভুলেও এই কাজটি করবেন না। জীবন আপনার। আর আপনার জীবনে মাথা উঁচু করে আপনাকেই বাঁচতে হবে।

আদর্শ জীবনসঙ্গী বিষয়টি আসলে কি?

বিভিন্ন বই পুস্তকে, সিনেমার গল্পে  একটা বিষয় ঘুরে ঘুরে আসে, সেইটা হচ্ছে একজন  আদর্শ জীবন সঙ্গী বা সোলমেটের বিষয়টি। বেশীর ভাগ গল্পের কেন্দ্রে থাকে এই সোলমেট বা আদর্শ জীবন সঙ্গী, বাকী গল্পটা প্রবর্তিত হয় তাকে ঘিরে ,এই ধরনের কাহিনী বা গল্প দ্বারা আমরা বাস্তব জীবনে অনুপ্রাণিত হয়। আমাদের মধ্যে একটা ধারনার সৃষ্টি হয় যে, একদিন এক রাজকুমার আমাদের জীবনে আসবে,এসে পুরা জীবনটায় বদলে দেবে, জীবনটাকে পরিপূর্ণ করে তুলবে।

কিন্তু বাস্তবে কি এইটা সম্ভব?আসলেই কি একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব অন্য আরেক জনের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তোলা? এই ধারনাটি সম্পূর্ণ ঠিক না, কারন এতো বড় পৃথিবীতে বিশেষ একজন মানুষকে খুঁজে বের করা আসলেই অনেক কঠিন একটা কাজ।

তাহলে মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমরা কি ভালোবাসার মানুষের সন্ধান করা বন্ধ করে দিবো?

বিষয়টা আসলে এমন দাড়ায়, আমাদের যদি ধারনা থাকে যে আমাদের একজন সুনির্ধারিত জীবন সঙ্গী আছে তবে তাকে খুঁজে বের করার আগ্রহ বেড়ে যাবে। যদি বিশেষ কেউ না থাকে তবে ভালোবাসার অনুভূতি আর সাধারণ ভালো লাগার মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে না। তখন মনে হবে যদি বিশেষ কেউ না থেকে থাকে তবে খুঁজে লাভটা কি?

আদর্শ জীবন সঙ্গী বা সোলমেট ছাড়া ভালোবাসা শব্দটি একে বারে অর্থহীন, যদিও বাস্তবের ভালোবাসা, কল্পনার জগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কারন, বাস্তবে আমরা যাকে ভালোবেসে সম্পূর্ণ জীবনটা তার সাথে কাটাতে চায়, সেই সম্পর্কটা গড়ে তুলতে আমাদেরকে অনেক ভালো-খারাপ অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, করতে হয় অনেক সমঝোতা, দিতে হয় অনেক ত্যাগ। শুধু ব্যাক্তিটা কে খুঁজে পেলে হয় না।

বাস্তবমুখী ভালোবাসাঃ বয়স যখন কম থাকে তখন চোখে থাকে রঙ্গিন স্বপ্ন, তখন কাউকে ভালো লাগলে মনে হয় এই বুঝি আমার স্বপ্নের মানুষ, কিন্তু বাস্তবে সেটা না ও হতে পারে। সত্যিকারের ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী হয় না কিংবা কাউকে সাময়িক ভালোলাগা নয়। বাস্তবে সত্যিকারের ভালোবাসা হচ্ছে একে অন্যকে খেয়াল করা, বাহ্যিক সৌন্দর্য দ্বারা প্রভাবিত হয় না, সম্পর্ক যতোয় পুরানো হোক না কেন ভালোবাসার পরিমাণ একই রকম থেকে যায়, এরকমটা কেবল সত্যিকারের ভালোবাসায় হয়। দুই জন মানুষের একে অন্যের প্রতি প্রবল টান, এক সাথে থাকার ইচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি, এগুলো সত্যিকারের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আদর্শ জীবন সঙ্গী বা সোলমেট আমাদের প্রত্যেকের জীবনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সত্যিকারের ভালোবাসার সার্থকতা যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

স্বামী-স্ত্রী’র বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

যারা প্রেম না করে বিয়ে করছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স, উচ্চতা ও বেতন একটি বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।  শরীর কাঠামো বা ফিগারেরে রয়েছে গোল্ডেন অনুপাত।  এ কথাটি শুধু শরীরের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।  স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভর করে দু`জনের উচ্চতা, বয়স ও বেতনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে যারা প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তাদের কথা আলাদা।  তারা হয়তো চাইলেও আর কোনো মানদণ্ডে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিচার করবেন না। কিন্তু যারা প্রেম না করে বিয়ে করছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স, উচ্চতা ও বেতন একটি বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।  চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর এসব বিষয়ে ব্যবধান কেমন হওয়া উচিত?

সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে লিখিত একটি প্রবন্ধে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।  প্রবন্ধে শুধু বয়সের ব্যবধানের কথা বলা হয়েছে তা নয়, দু`জনের উচ্চতা ও বেতনের ব্যবধান এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর সাথে সুসম্পর্ক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

বয়সের ব্যবধান: প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের আদর্শ ব্যবধান ধরা হয় ৩ বছরকে। সাধারণত মেয়েরা মনের দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে একটু আগেই পরিপক্কতা লাভ করে।  আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক মিল থাকাটা জরুরি। তাই মনে করা হয় যে, স্বামী যদি স্ত্রীর চেয়ে ৩ বছরের বড় হয় তবে দু`জনের মানসিক পরিপক্কতা সমান হবে।  তা ছাড়া, ৩ বছর বড় হলে স্বামী একটু আগে পড়ালেখা শেষ করে কোনো একটা পেশা বেছে নেবে এবং নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাবে।  এটাও বয়সের ব্যবধান ৩ রাখার একটা কারণ। এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, কিশোর বয়সে মেয়েদের মানসিক বিকাশ ছেলেদের তুলনায় দ্রুত হয়।  কিন্তু ২০ থেকে ৩০ বছর সময়কালটায় এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

উচ্চতার অনুপাত: প্রথমে স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার আদর্শ উচ্চতার বিষয়টি জানা যাক। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উচ্চতার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবধান হচ্ছে ১২ সেন্টিমিটার। অর্থাত্‍ স্বামী বা প্রেমিককে হতে হবে ১২ সেন্টিমিটার বেশি লম্বা।  কেন? কারণ, এতে নাকি পরস্পরকে আলিঙ্গন করা ও চুমু খাওয়ায় সুবিধা হয়।  এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মেয়ে সাধারণত নিজেকে সযত্নে রক্ষা করতে চান।  স্বামী বা প্রেমিকের উচ্চতা বেশি হলে, তিনি অনেক বেশি নিরাপদবোধ করেন। আসলে ছেলেদের উচ্চতা সাধারণতভাবে মেয়েদের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে ১০ সেন্টিমিটার বেশি হলে, দেখতে সুন্দর লাগে; মানানসই মনে হয়।  এই ব্যবধান দু`পক্ষের লিঙ্গ পরিচয়কেও আরও স্পষ্ট করে তোলে। স্বামী বা প্রেমিককে তখন অনেক বেশি ম্যানলি মনে হয় এবং স্ত্রী বা প্রেমিকাকে আরও বেশি কমনীয় ও সুন্দর লাগে। উচ্চতার ব্যবধানটি অতিরিক্ত হলে দেখতে ভালো দেখায় না।

বেতনের অনুপাত: বেতন বা আয়ের ব্যাপারটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোন কোন জরিপ অনুসারে, স্বামীর বেতন বা আয় স্ত্রীর দেড় গুণ হলে ভালো।  এতে পরিবারের সুখের সূচক বাড়ে।  আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামী ও স্ত্রী দু`জনই চাকরি করেন বা আয় করেন।  তবে ঐতিহ্যবাহী ধারণার প্রভাবে অনেকের মতামতা এমন যে, পরিবারে স্বামীর আর্থিক দায়িত্ব বেশি বহন করা উচিত। তাই স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর আয় বেশি হওয়া আবশ্যক বলেই অনেকে মনে করেন। এতে এক দিকে স্বামীর মুখ রক্ষা হবে, অন্যদিকে স্ত্রীর নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।  তবে, এ ব্যবধান যত বেশি হবে তত ভালো।

শ্বশুর-শ্বাশুড়ী প্রসঙ্গ: আজকালকার ছেলে-মেয়েরা প্রবীণদের সঙ্গে বসবাস করতে চান না। অথচ বাবা মা`র যত্নে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক দম্পতি নিজেদের মতো করে থাকতে চান; গড়তে চান নিজস্ব একটা ভূবন। যেখানে অন্য কেউ থাকবে না। তারা চান, তাদের বিবাহিত জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে।  এই চাওয়াটা ঠিক। কিন্তু পিতা-মাতা বা শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর যত্ন নেওয়ার গুরুত্বও তাদের বুঝতে হবে। তারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে সন্তান বড় করেছেন।  তাই পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।  তাহলে কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে পিতা-মাতা বা শ্বশুর-শ্বাশুড়ী তাদের প্রয়োজনে ছেলেমেয়েকে কাছে পান।

মানুষটাকে কি ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী হবার যোগ্য !

যখন কারো প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখন কিছু আচার আচারন, ভাব বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে বোঝা যায় –  আপনি আপনার সঙ্গীকে কি পরিমাণ ভালোবাসেন এবং তার বিপরীতে কি পরিমাণ সাড়া তার কাছ থেকে পাচ্ছেন এবং তা বিয়ের বন্ধনের জন্য যথেষ্ট কিনা । একই ভাবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা যায় যে,  আপনার সম্পর্কটি বিয়ের মত একটি সিরিয়াস সিদ্ধান্তে যাওয়ার মত পরিপক্ষতা পেয়েছে  কি না।  যাকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার কথা ভাবছেন সে আপনার জন্য সঠিক মানুষ কি না।  এবং  মানুষটাকে ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করবেন কি না –

ভবিষ্যৎ কল্পনাঃ আপনি যখন কারো প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তখন তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন কল্পনা করতে শুরু করেন, ঠিক রূপকথার গল্পের মতো। এরকম ভাবনা গুলোর সৃষ্টি হয় মানুষের হরমোনের ক্রিয়ার ফলে এবং প্রতিটা মানুষের মনে এরকম কল্পনা আসে।  যদিও সব ভালোবাসার সম্পর্ক বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত যায় না।  আপনি যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে সারা জীবনের সঙ্গী হিসাবে পেতে চাইবেন তখন অবশ্যই বাস্তবতাকে বিবেচনা করবেন শুধু কল্পানায় ভেসে যাবেন না।

সঙ্গীর মতামতঃ যখন দুজন মানুষ একে অন্যকে পাগলের মত ভালোবেসে এক হয়ে যায় এর অর্থ এই নয় যে তারা আদর্শ জীবন সঙ্গী হবে।  বিয়ে বিষয়টা খুব পরিষ্কার মাথায় বিবেচনা করা উচিৎ। একটা স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তখন তৈরি হবে তখনই, যখন আপনার সঙ্গীকে আপনি সমর্থন করবেন।  যদিও অনেক ক্ষেত্রে আপনাদের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে।

ক্ষমা করাঃ যে কোন সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর কোন দোষ বা ত্রুটি আমাদের চোখে পড়ে না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে হয়তো আমাদের সঙ্গী আমাদের মনে কষ্ট দিতে পারে, এমন কোন ঘটনা ঘটাতে পারে যেটা আমরা ভাবতেও পারি না।  যখন সঙ্গীর এই দোষ গুলো ক্ষমা করতে প্রস্তুত থাকবো, তখনই ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করবো।  অবশ্য এই ক্ষেত্রে বড় কোন অপরাধ কে বিশেষ ভাবে বিবেচনা করবো, ক্ষমার অযোগ্য দোষকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কে স্থান দিনঃ সকল মানুষ তাদের চিন্তা চেতনায় আলাদা হয়, দুজন মানুষ একে অন্যকে ভালোবাসলেও তাদের ভাবনা, স্বপ্ন অথবা ইচ্ছা গুলো আলাদা হতে পারে।  যদি ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন তবে এই ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কে সম্মান দিতে হবে।

প্রতিক্রিয়া আপনার পরিমাপকঃ জীবন সঙ্গী নির্বাচনে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া করচ্ছেন।  ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার আচরণকে লক্ষ্য করলে আপনি নিজেই বুঝবেন সম্পর্কটা বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা।  যদি সম্পর্কটা নিয়ে বেশী খুঁতখুঁত করেন তবে সম্পর্কটাকে বিয়ে পর্যন্ত না নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভালোবাসলে মন থেকে ভালোবাসতে হবে, তা না হলে পরিণতিটা বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে না। ভালোবাসা ছাড়া যেমন কোন বিয়ে অপূর্ণ থাকে, ঠিক তেমনি সঠিক মানুষ ছাড়া ভালোবাসাও অপূর্ণ থেকে যায়।

বিয়ের পরে ভালোবাসা কি আগের মত সতেজ থাকে!

রোমান্সের ব্যাপারে আমরা খোলামেলা আলোচনা না করলেও, আমরা সবাই স্বীকার করি যে দাম্পত্য সুখের জন্য রোমান্সের গুরুত্ব অনেক। যারা নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বিয়ের প্রথম দিনের যে অনুভূতিটা পাচ্ছেন ঠিক প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পর্যন্ত সেই একই রকম অনুভূতি পাওয়ার জন্য সম্পর্ককের যত্ন করতে হবে, বিষয়টা বলতে যতটা সহজ, মেনে চলা বেশ কঠিন।

বিয়ে করা মানে ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাওয়া নয়।  বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে সতেজ রাখাটা দম্পতি দুজনের উপরই নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বিয়ের পর কিছু সময় পার হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনের রোমান্স কমতে থাকে।  বিশেষ করে বিয়ের পর বাবা, মা হওয়ার পর এই প্রবণতা বেশী বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। এরকম অবস্থা সৃষ্টিতে সঙ্গী একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকে।

বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে জীবিত রাখতে রোমান্স কে কি ভাবে কাজে লাগাবেন সে বিষয়ে ছোট একটা আলোচনা করা হলোঃ

বিয়ের পরের ডেটিং :  বিয়ের আগে যেভাবে একে অন্যের সাথে সময় কাটাতেন ঠিক বিয়ের পরেও চেষ্টা করবেন অন্তত মাসে একবার হলেও দুজনে বাহিরে কোথাও একান্ত সময় কাটাতে এতে করে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা উচ্ছল থাকবে।

উপহার দিনঃ  সঙ্গীকে কোন কারন ছাড়াই প্রায়ই উপহার দিয়ে চমকে দিন এতে সঙ্গী অনেক খুশী থাকবে।  ফলে দুজনের মধ্যের ভালোবাসা অটুট থাকে।

সঙ্গীকে প্রশংসা করুনঃ আপনার জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তার প্রশংসা করুন যেমন- দিন শেষে স্ত্রীকে তার সারা দিনের কাজের জন্য প্রশংসা করতে পারেন, সাথে বলতে পারেন যে তাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে পেয়ে আপনি অনেক গর্বিত। এরকম প্রশংসা সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় এক সাথে কাটানঃ সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরে দুজন একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে রাখবেন একসাথে সময়টা কাটানোর, এই সময়টা গল্প করে বা নিজেদের পছন্দের কোন গেম খেলে কাটাতে পারেন।

ঘর সাঁজানোর জন্য দুজনে মিলে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ নিজেদের শোবার ঘর নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করুন, পরিকল্পনা অনুসারে দুজনে মিলে কাজ করুন এতে একসাথে সময় কাটানো হবে মনও প্রফুল্য থাকবে, ভালোবাসার বৃদ্ধি হবে।

ছোট খাটো মনোমালিন্যতা কে মজার ছলে উড়িয়ে দেওয়াঃ দম্পতিদের মধ্যে যদি কোন মনোমালিন্যতা সৃষ্টি হয় তবে বিভিন্ন মজা ছলে বিষয়টাকে স্বাভাবিক করতে হবে।আরো অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে সহজে বিবাহিত জীবনের রোমান্স কে সারা জীবন একই রকম রাখা যায়, তবে চেষ্টাটা দুজনকে সমান ভাবে করতে হবে। একতরফা চেষ্টায় ভালোবাসা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে টিকে থাকেনা।

সম্পর্ক সুস্থ রাখতে ক্রোধ থেকে দূরে থাকুন!

চরম অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের কারনে যে কোন সম্পর্কের মধ্যে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।  রাগ করে যখন সঙ্গী আপনার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করে তখন পৃথিবীটায় শূন্য মনে হতে থাকে।  প্রথমত ভালোবাসার মানুষের এরকম রুপ দেখলে মনটায় ছোট হয়ে যায়, আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। নিজের ভালোবাসার উপর সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে।

যখন আপনার ভালোবাসার সঙ্গী আপনার সাথে ক্রোধপূর্ণ আচরণ করে তখন সেই মানুষটাকে একেবারে অচেনা মনে হয়, মনের ভেতর কষ্ট পাহাড় বাঁধে।এই কষ্টটা কারো সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় না, নিজের মনে নিরব রক্তক্ষরণ হয়। এ ধরনের আচারন যদি পুনঃ পুন হতে থাকে তবে ভালোবাসা কমতে থাকে অনেক সময় ভালোবাসা শেষ হয়ে সম্পর্কটায় ভেঙ্গে যায়।

কিভাবে ক্রোধকে কমিয়ে মায়া বাড়াবেন তার কিছু উপায় আলোচনা করা হলোঃ

হঠাৎ রেগে গেলে উত্তর দেওয়ার আগে ১০ পর্যন্ত গুনুনঃ  যদি হঠাৎ রেগে যান তবে সাথে সাথে উত্তর না দিয়ে কিছুটা সময় গ্রহণ করুন, মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন, এর ফলে কথা গুলো সতর্ক ভাবে বলতে সময় পাবেন,  পরবর্তীতে নিজের কথার জন্য নিজেকে অনুতাপ করতে হবে না।

নিজেকে সঙ্গীর স্থানে রাখুনঃ সবসময় সঙ্গীর স্থানে নিজেকে রেখে দেখবেন, রেগে আপনি সঙ্গীর সাথে যে ব্যবহার করেন, তার স্থানে আপনি থাকলেও একই অভিজ্ঞতা আপনার হবে।  কিছুটা হলেও কষ্টটা অনুভব করতে পারবেন।

মনোযোগ সহকারে শুনতে চেষ্টা করুনঃ  সঙ্গী রেগে যে কথা গুলো আপনার উদ্দেশ্যে বলে, কথা গুলো যদি সঙ্গীকে হুবহু তাকে শুনান তবে সে বুঝতে পারবে তার কথা গুলো কতটা তিক্ত ছিলো।  মনোযোগ সহকারে সঙ্গীর কথা গুলো শুনুন ।

ভালোবাসার ছোঁয়াঃ যখন দেখবেন সঙ্গী রেগে যাচ্ছে, তখন তাকে জড়িয়ে ধরুন, আদর করুন অথবা যারা বিবাহিত তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন এতে করে সঙ্গীদের মধ্যকার ভালোবাসার আবেগ বৃদ্ধি পায় সব রাগ অভিমান চলে যায়।

সঙ্গীর প্রতি মায়া বৃদ্ধি করুনঃ  প্রতিদিন সময় করে আপনার সঙ্গীর চোখে চোখ রাখুন, তাকে বোঝার চেষ্টা করুন, তার প্রতি মায়া বৃদ্ধি করুন। আপনার প্রতি তার অনুভূতি গুলোকে বোঝার চেষ্টা করুন।  মায়া যতো বাড়বে ভালোবাসাও ততো বাড়বে অপরদিক থেকে সম্পর্কের ক্রোধের পরিমাণও অনেক কমে যাবে।  রাগ বা ক্রোধ এক প্রকার মানবীয় আবেগ, ক্ষোভ থেকে সৃষ্টি হয়।  সব মানুষের ভেতরে ক্রোধ থাকে তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, এই ক্রোধটা যেন সম্পর্কের মাঝে এসে না পড়ে।  ভালোবাসার সম্পর্ক দীর্ঘ স্থায়ী করতে হলে সঙ্গী একে অন্যকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।

সম্পর্ক বাঁচাতে প্রয়োজন বোঝাপড়া!

সম্পর্ক গুলোকে বুঝতে হলে মানুষটার অভিমানের ভাষা গুলো বুঝতে হবে।  কেউ যদি রাতে না খেয়ে বলে খিদে নেই তাহলে নিজে একা খেয়ে বাতি বন্ধ করে ঘুমিয়ে যাবার অর্থ হল আপনি তার অভিমানের ভাষা বোঝেননি।  সে হয়ত ভেবেছিল , তার খিদে নেই শুনে আপনি তার প্রতি একটু মনোযোগী হবে।  সে হয়ত চেয়েছিল আজ আপনি তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিবেন। সে এমন ভাবে বলেছে ‘আমি তোমাকে বুঝতে চাই’ যার সারমর্ম হল, সে আসলে আপনাকে বুঝতে চায় না।

প্রতিউত্তরে আপনি অসংখ্যবার বলে গেছেন, ‘তুমি তাকে বুঝতে চাও না’ এই যে তুমি তাকে বুঝতে চাও না,ব্যাকটির শেষ শব্দের এই ‘ না’ টা সে আসলেই বুঝে উঠতে পারেনি। সে জানলোই না, এই ‘ না’ এর ভেতরে কত লাইন অভিমান আর আক্ষেপ ছিল।  আপনাকে একটু খেয়াল রাখতে হবে আপনার কতটুকু সে মেনে নিয়েছে আর কতটুকু মন থেকে নিয়েছে। মেনে নিতে নিতে এক সময় দেখবেন মানুষটা শুধুই মেনে নিচ্ছে, এর হৃদয়ে আর কোন ‘মন’ অবশিষ্ট নেই।

সম্পর্কে যাবার আগে আপনি হয়ত একটা মোহে ছিলেন, তার সব কিছুই ভাললাগা টাইপ একটা ঐশ্বরিক ব্যাপার।  সম্পর্কে আসার আগে আপনাকে এইটুকু পার্থক্য বুঝতেই হবে, প্রেম এবং ভালোবাসা এক জিনিস না।  প্রেম অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির। একটা সাদামাটা গানের লাইনে হেলুসিনেশন চলে আসে।  প্রেমের রসয়ানে পাগলামি আছে। একটা পাগল মানুষের ভেতরে ঢুকে মানুষটাকে দিয়ে সারারাত প্রিয়তমার বাসার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে।  সব থেকে সাংঘাতিক ব্যাপার হল, প্রেম অনেক সময় ভালো না বাসলেও ভালোবাসার চেষ্টা করে!

ভালোবাসা স্থির। সে মানুষটার সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়।  সে টিনএইজের প্রথম প্রেমের মত পাগলামি করে না; তবে সে পাগলের মতই ভালোবাসে।’ আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এটা আসলে বলবার বিষয় না।  ভন্ড এবং প্রতারকরাও বলে, বরংচ বেশিই বলে।  এটা করে দেখাতে হয়।  সম্পর্ক গুলো কেমন হবার কথা ছিল সেটা আমাদের চোখের দিকে তাকালেই আঁচ করা যায়।

আত্মসম্মানবোধ বাড়ান ভালোবাসার সম্পর্ক দৃঢ় হবে!

ইতিবাচক আত্মসম্মানবোধ যে কোন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আত্মসম্মানবোধ মানুষের আবেগময় আচরণ যা দ্বারা ভালোবাসার সম্পর্কের ভারসাম্যতা রক্ষা হয় খুব সুন্দর ভাবে।  আত্মসম্মানবোধ বা আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধির জন্য একজন সঠিক জীবন সঙ্গীর ভূমিকা অনেক বেশী।

আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে কিভাবে ভালোবাসার সম্পর্কের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি করা যায় ?

সঙ্গীদের একে অন্যকে দোষারোপ, সমালোচনা, অভিযোগ এবং লজ্জা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবেঃ  ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি সঙ্গী একে অন্যকে লাগাতার নানা কারনে দোষারোপ কিংবা অভিযোগ করতে থাকে তবে তাদের মধ্যে লজ্জা বা সংকোচবোধ বৃদ্ধি পায়, এরকম ঘটনা যদি পুনঃপুন হয় তবে, তাদের মন ছোট হতে শুরু করে। এতে আত্মসম্মানবোধ কমে যায় ও হীনমন্যতার সৃষ্টি হয় ফলে ভালোবাসাও কমতে থাকে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই চর্চা গুলোকে বন্ধ রাখতে হবে।

যে যেমন তাকে সেভাবে গ্রহণ করতে হবেঃ যদি ধরি কোন দম্পতির মধ্যে স্ত্রীর পছন্দ ঘর খুব গুছিয়ে রাখা অপরদিকে স্বামী চায় প্রয়োজন অনুসারে ঘরের জিনিস গুলোকে রাখতে। পছন্দের এরকম অমিল থাকলে একে অন্যের স্বভাব পরিবর্তন না করে দুজনকে একটা মধ্যবর্তী স্থানের সমাধান বেছে নিতে হবে, যেন সম্পর্কের মধ্যে কোন ঝামেলা প্রবেশ না করতে পারে।

একে অন্যকে উৎসাহিত করাঃ সঙ্গী একে অন্যকে মূল্যায়নের জন্য তাদের কাজের প্রশংসা করা উচিৎ এতে করে নিজ নিজ মনের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, শুধু আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি নয় এইটা ভালোবাসা প্রকাশের একটা ভালো মাধ্যমও বটে।

ত্রুটি গুলোকে গ্রহণ করাঃ পৃথিবীর কোন মানুষ ১০০ ভাগ সঠিক হয় না,  মানুষের মধ্যে ভুল বা ত্রুটি থাকবেই। ঠিক একই ভাবে আমাদের সঙ্গীদেরও অনেক রকম ত্রুটি থাকতে পারে,আমাদেরকে সঙ্গীর ত্রুটি গুলোকেও গ্রহণ করতে হবে। ভালোবাসতে হলে সঙ্গীর সম্পূর্ণটা ভালোবাসতে হবে, শুধু ভালোটা নয় । এতে সঙ্গীর হীনমন্যতা বোধ কমে যায়, আত্মসম্মানবোধ দৃঢ় হয় ফলে সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

মনের ভালোবাসাকে জাগ্রত রাখতে আমাদের মনের আবেগ গুলোকে সঠিক ভাবে চালনা করলে খুব সুন্দর ফলাফল পাওয়া যায় এতে সম্পর্ক গুলো অটুট থাকে।

জীবন একটা উপহার যারা বুঝে তারাই সুখী!

জীবন একটা উপহার।  কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে কতোজন জীবনকে এভাবে দেখেন? সংখ্যাটা খুব কম। যারা জীবনকে একটা উপহার হিসেবে ভাবতে পারেন তারাই প্রকৃত সুখী। আমরা যখন কোনো উপহার পাই তখন কী করি? খুব যত্ন করে রাখি উপহারটা, তাই তো? তাহলে জীবনের বেলায় কী করা উচিত? যে উপহারটা আর কখনো পাবো না সেটাকে তো সবটুকু চেষ্টা দিয়ে ভালো রাখার চেষ্টা করা উচিত।

লালনফকির আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এমন মানবজনম আর কি হবে?’ না, প্রিয় পাঠক, এই জীবন আর ফিরে আসবে না। তাই মনীষীগণ এই জীবনের সর্বোত্তম ব্যবহারের উপর বারবার গুরুত্বারোপ করে গেছেন। আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না কী করে এর সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হয়। কী করে জীবনের অসুখগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনতে হয়। তাই এই মূল্যবান জীবনের নির্মম অপচয় ঘটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। জীবনের অসুখগুলো চিনে নিয়ে প্রতিরোধ করা গেলে একটা অনিন্দ্য যাপন খুবই সম্ভব।

সময় বয়ে যায়ঃ

‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’, কথাটি সবাই জানি। কিন্তু মানি কয়জন? সময় খুব দ্রুত চলে যায়, দিনগুলো বছরে পরিণত হয়। আমরা সর্বদা গন্তব্য নিয়ে ভাবি। কিন্তু কোত্থেকে শুরু করতে হবে সেটাই ভুলে যাই। শুরু না করলে তো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অতীত আর ভবিষ্যতকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বঞ্চিত করা হয় বর্তমানকে। একটু সময় নিয়ে ভাবুন, বর্তমানই সত্য। এই একটুখানি সময়ই হয়তো বদলে দেবে আপনার জীবন বদলে দেবে।

সুখ নামের অচিন পাখিঃ

প্রতিদিন ভুল করার অসংখ্য সুযোগ আসে।চারিদিকে বিভিন্ন ভাঁওতাবাজির খপ্পড়ে পড়ে আমরা প্রায়শই ভুল করে থাকি। আপনার বাইরের পরিবেশকে যদি প্রধান করে তোলেন তাহলে সুখপাখি কখনো আপনার কাছে ধরা দেবে না। নিজের ভিতরে ডুব দিয়ে দেখুন সুখ আছে সেখানেই। কেবল চিনে নেয়ার অপেক্ষা। যদি আপনি সুখ খুঁজে না নিতে পারেন তবে আপনি নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত হতে পারবেন না। সুখ একটি পরিচর্যার বিষয় যা বেশিরভাগ মানুষই জানে না।

সবাই নেশাগ্রস্থঃ

আমরা প্রায় সবাই কোনো না কোনো নেশায় আসক্ত। আমরা কেবল চাই আর চাই। ভাবি বুঝি বেশি জিনিস ভোগ করলে বেশি সুখ পাওয়া যাবে। বাজে নেশাগুলো যে অসুখের আরও গভীরে নিয়ে যায় তা বুঝি না। কেমন হয় যদি বাজে নেশাগুলোকে ভালো নেশাগুলো দিয়ে পাল্টে দেয়া যায়?

ভুলে যাওয়াঃ

আপনি যদি এই লেখাটি পড়তে পারেন তাহলে ধরা যাবে যে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। মানে আপনি অন্যদের তুলনায় ভাগ্যবান।কারণ আপনি তথ্যগুলো জানতে পারছেন। তবে এটা ভেবে খুশি হওয়ার কারণ নেই যে নিজেকে না জেনে আপনি অনেক পাণ্ডিত্য অর্জন করলেই সুখী হতে পারবেন। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবুন জীবন আপনাকে কতো সুযোগ দিয়েছে তাই ভেবে।

সমস্যাগুলো গুরুতর নয়ঃ

আমরা কতো ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে মন খারাপ করে থাকি। হয়তো আপনি এই মুহূর্তে কোনো একটি কাজ না করতে পারার জন্য মেজাজ খারাপ করে আছেন। কিন্তু একবারও ভেবেছেন যে এই পৃথিবীর সমস্যাগুলোর কাছে আপনার সমস্যা কতো তুচ্ছ? বৈষ্ণিক উষ্ণতা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, এইডস্, ক্যান্সারের মতো সমস্যাগুলো নিয়ে পৃথিবী চলছে অনায়াসেই। সুতরাং নিজের সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে পৃথিবীর সমস্যাগুলো নিরসনে নিজের অঙ্গীকার নিশ্চিত করুন।

কৃতজ্ঞতাঃ

‘ধন্যবাদ’ শব্দটা কতোটুকু পছন্দ করি আমরা? প্রতিদিন কতোবার উচ্চারণ করি? কতোবার কৃতজ্ঞ হই? জীবনের কাছ থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করা উচিত নয়, যদি না কৃতজ্ঞতা থাকে। ‘ধন্যবাদ’ শব্দটি মনে করিয়ে দেবে আপনি কতোটা ভাগ্যবান। প্রকৃতির নিয়মই হলো যা পাবে তা শতোগুণে ফিরিয়ে দেবে। এবার ভাবুন সমৃদ্ধি চান না নিঃস্বতা!

ভুলে যাওয়া ভালোবাসাঃ

আমরা কতোটা স্বার্থপর ভেবে দেখুন। সবসময় কেবল নিজের কথাই চিন্তা করি। সারাক্ষণ অভিযোগ করতে থাকি যে কেউ ভালোবাসে না,যত্ন নেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। ভুলে যাই প্রতিনিয়ত ভালোবাসায় ঋদ্ধ হচ্ছি। বাবা-মা, বন্ধু, সঙ্গী, সহকর্মী, এমনকি সেই দোকানদার যার কাছ থেকে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়। ভালোবাসা না পেলে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তা যেখান থেকেই আসুক না কেনো। তাই এটা কখনোই ভুলে যাওয়া সমীচীন নয়। তাহলে ভালোবাসাও আপনাকে ভুলে যাবে অচিরেই।

সম্ভাবনাঃ

প্রতিটি মানুষ সম্ভাবনাময়। সবাই মিলে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। এভাবে দক্ষতাও অর্জন করা যায়। চারিদিকে এত প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদেরকে কতো নিঃস্ব ভাবি! কেউ কারও সম্ভাবনা খুঁজে দেয় না, নিজেরটা আবিষ্কার করতে হয় নিজেকেই। তাই নিজের সাথে থাকা উচিত সবচেয়ে ভালো বোঝাপড়া। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমই সম্ভাবনাকে সফলতায় পরিণত করে।

একটি সঠিক সিদ্ধান্তঃ

একটি সঠিক সিদ্ধান্ত জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। এটি সাহায্য করবে অহেতুক দ্বিধা। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত করে দেবে আপনার জীবন। এটি সবসময়ই সঠিক যদি আত্মবিশ্বাস থাকে। এটি আপনার জন্য অপেক্ষমান সেরা উপহারটি এনে দেবে আপনার কাছে।

বাদ পড়া কষ্টময়ঃ

বাদ পড়া মেনে নেয়া যায় না। মেনে নেয়া যায় না ‘না’ শব্দটি। ভেবে দেখুন সাফল্যগুকে কতোগুলো ‘না’ কে পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছুতে হয়। এটাকে একটা ইঙ্গিত হিসেবে দেখুন। এখন যে ‘না’ টি শুনছেন সেটা সামনের কোনো সাফল্য বয়ে আনবে। সুতরাং একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরাজিতরা হাল ছেড়ে দেয়, জয়ীরা নয়। প্রতিটা বিষয় থেকে শেখার আছে। বাদ পড়াটাও তেমন একটা শিক্ষা যদি আপনি শিখতে পারেন।

দুর্ঘটনার ভয়ঃ

দুর্ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। তবে সুখী জীবনের জন্য এটা খুব দরকার।  প্রত্যেকের জীবনেই দুর্ঘটনা ঘটে।  এটি জীবনেরই একটা অংশ। জীবনকে সহজভাবে দেখলে সহজ লাগবে, আর কঠিনভাবে দেখলে কঠিন। দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরী। নিচের কাজগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে-

– মেডিটেশন
– মানসিক চাপকে উপেক্ষা
– কৃতজ্ঞতা
– ভালো মানুষ হওয়া
– মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো

জীবনের অসুখগুলোকে চিনতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু যদি না চেনা যায় তবে? একটু একটু করে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকবে না। অসুখগুলোকে সুখে পরিণত করার চাবিকাঠি আপনার হাতেই। আপনিই নির্ধারণ করবেন সুখের গুরুত্ব।

“আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা” – উক্তিটির বাস্তবিক ব্যাখ্যা কি?

ভালোবেসে কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছেন না? কোন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অনেক চেষ্টা করছেন কিন্তু বিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন ? মন থেকে কাউকে ভালোলাগতে শুরু করেছে কিন্তু তাকে বিশ্বাস করতে না পারাটা একটা মানসিক চাপ।  বিশ্বাস করতে না পারাটা একটা কঠিন মানসিক অবস্থা।  ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নানা কারনে মনে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে।  সাধারণত যে বিষয় গুলো এই মানসিক অবস্থার জন্য দ্বায়ী থাকে, সে বিষয় গুলোর কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।

  • একক বাবা অথবা মায়ের সংসারে যদি সন্তান বেড়ে ওঠে, তাদের মধ্যে অবিশ্বাসের প্রবণতা বেশী থাকে।
  • স্কুল, কলেজে বন্ধুদের দ্বারা কোন কারনে বিশ্বাস নষ্ট হলে।
  • মাদকের আসক্তির কারনেও মানসিক ভাবে অবিশ্বাসের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের তাদের সঙ্গীদের প্রতি অসৎ আচরণ দেখে বিশ্বাস নড়বড়ে হতে পারে।
  • কেউ যদি সঙ্গী দ্বারা একবার প্রতারণার স্বীকার হয়, পরবর্তীতে আর কারো প্রতি সহজে বিশ্বাস আসেনা।

বিশ্বাস ভালোবাসার সম্পর্কের ভিত্তি:

ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রথম যে বিষয়টি খুব শক্ত ভূমিকা রাখে সেটি হচ্ছে বিশ্বাস।  আপনি যার কাছে নিজের মনের কথা, নিজের সব স্বপ্ন কোন সংকোচ ছাড়ায় বলতে পারবেন, শুধু সেই মানুষটাকে বিশ্বাস করতে পারবেন, এইটা মানসিক স্বস্থির একটা স্থান।  এই স্বস্থি যদি কোন সম্পর্কে না থাকে তবে সম্পর্কটি স্থায়ী হয় না।  অনেক সময় বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে আমরা মুষড়ে পড়ি বা কোন ক্ষেত্রে কষ্টকে ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়।  অনেকে আবার নিজ মানসিকতাকে একটা অবস্থানে নিয়ে যায় যেখান থেকে কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারে না। ভালোবাসার সম্পর্কে অবিশ্বাসের অবস্থানের কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে আসতে পারে, প্রশ্নগুলো হতে পারে এরকমঃ

প্রশ্নঃ আমি কিভাবে কাউকে বিশ্বাস করবো?
প্রশ্নঃ কিভাবে বুঝবো যাকে ভালোবাসছি সে নিরাপদ ?
প্রশ্নঃ পরিবার ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস করা ঠিক কি না?

নিজের মধ্যে কিভাবে বিশ্বাসকে গড়ে তুলতে পারবেন: –

১।  মানুষের ভালো ও খারাপ উভয় দিক গ্রহণ করতে হবে।
২।  “As soon as you trust yourself, you will know how to live.” — Johann Wolfgang von Goethe অর্থাৎ নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে, জীবন যাপন সহজ হবে।
৩।  নিজের আবেগকে বুঝতে হবে।
৪।  কাউকে বিশ্বাস করতে অন্যের মতামত গ্রহণ না করে নিজের মনের কথা শুনুন।
৫।  সব সময় ভাবতে হবে পৃথিবী একটা নিরাপদ স্থান ।
৬।  আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে হবে ।
৭।  তীব্র আবেগ গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে ।

“আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা”- এই অবিশ্বাসের অবস্থান থেকে একমাত্র আপনি নিজে পারেন বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে।  আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, খুব বিচার বিবেচনার মাধ্যমে ভালোবাসার মানুষটাকে আপন করে নিতে।