বিবাহিত জীবনেও একাকীত্ব বোধ হয় কেন

বিয়ের পরেও কেন মানুষ একাকীত্বে ভোগে! বিষয়টি সত্যি অবাক করার মতো। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও প্রায় ৪০ ভাগ দম্পতি একাকীত্বে ভোগে। আপাত দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবনে একাকীত্ব বলতে আমরা বুঝি সঙ্গীর মৃত্যু, অসুস্থতার কারনে বা বিচ্ছেদের কারনে একা হয়ে পড়াকে।

অপরপক্ষে আপনার সঙ্গী যখন আপনার পাশে থাকার পরেও দুজনের মানসিক যোগাযোগের দূরত্ব সৃষ্টি হয় ও মনের চাহিদার অপূর্ণতা থাকবে তখন একাকীত্ব বোধ করবেন। বেশীর ভাগ সময়ে আমরা আমাদের আবেগের অভাবটা বুঝতে পারিনা, শুধু মনে হয় কোন কিছুর অভাব হচ্ছে বা খালি খালি লাগছে। একাকীত্ব বোধের পিছনে কিছু আবেগ কাজ করে ও কিছু মানসিক চাহিদার অভাব বোধ হয়।  যে মানসিক চাহিদার অভাবে সঙ্গী থাকা সত্ত্বেও একাকীত্ব বোধ হয়,  কিছু বিষয় মাথায় থাকলে দাম্পত্যের একাকীত্ব এড়ানো সম্ভব  –
 
১।  দুজন দুজনকে শুনতে ও বুঝতে হবে  ২।  একে অন্যকে প্রশংসা করতে হবে   ৩।  সব দায়িত্ব পালন করতে হবে   ৪।  একে অন্যকে মূল্যায়ন করতে হবে
৫।  সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে  ৬।  প্রেম ও ভালোবাসার মাঝে পরিপূর্ণতা থাকতে হবে  ৭।  একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে
 
এই মানসিক চাহিদা গুলোর অভাব হলে দুজন মানুষ একসাথে থাকলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব থাকে অনেক। যখন কোন সম্পর্কে বেশী মাত্রায় মানসিক দ্বন্দ্ব, কোন প্রকার আসক্তি বা নেশা, অবিশ্বাস কাজ করে তখন মানসিক চাহিদা গুলো পেছনে পড়ে যায়। এমনটা স্বামী, স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।  স্বামী কিংবা স্ত্রী কেউ যদি অন্য কিছুতে আসক্ত থাকে যেমন খুব বেশী কাজের নেশা, কেনাকাটার নেশা তবে তারা সঙ্গীর চাইতে আসক্তির বিষয়কে বেশী প্রাধান্য দেয় তখন সঙ্গীর একাকীত্ব বেড়ে যায়।  
 
বিয়ের পর স্বামী, স্ত্রী একে অন্যের সঙ্গী হয়ে থাকতে হবে, খেয়াল করতে হবে যেন একাকীত্ব সম্পর্কের ভেতর অনুপ্রবেশ না করে।
 
 

অনলাইন মাধ্যমে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে

MASLOW এর চাহিদা অনুক্রম আনুসারে ভালোবাসা মানুষের মৌলিক চাহিদার গুলোর একটি। নিকট অতীতে এই চাহিদা মেটাতে অর্থাৎ জীবন সঙ্গী নির্বাচনের জন্য নির্ভর করতে হতো পরিবার, আত্মীয় স্বজনের উপর অথবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের মাধ্যমে অথবা ঘটকের মাধ্যমে এবং সঙ্গী নির্বাচন করতেন আমাদের অভিভাবকেরা।  আধুনিক সময়ে আমরা আমাদের জীবন সঙ্গী নিজেই খুজে নেই, আর মাধ্যম হিসাবে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থান অথবা অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহৃত হয়।

বর্তমানে অনলাইন ম্যাট্রিমনিয়াল পোর্টাল / ওয়েবসাইট খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  ২০১৬ সালের একটা জরিপে দেখা গিয়েছে বাৎসরিক প্রায় ১.৬ মিলিয়ন মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। বর্তমানের মুঠো ফোন গুলোতে হাজারো ডেটিং ও বিয়ে প্রাসঙ্গিক অ্যাপ আছে যে গুলোর ব্যবহার করে খুব সহজে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যাবহার করে নিজের খেয়াল খুশী আনুসারে। নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় বা কথা বলাটা অনেকে শুধু মজা হিসাবে নেয়। এজন্য সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম গুলো ব্যবহারে খুব সতর্ক হতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশেও সঙ্গী খোঁজ করার ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম গুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এর মধ্যে বিবাহবিডি ডট কম খুব জনপ্রিয় একটি অনলাইন মাধ্যম, এই মাধ্যমটির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কেননা বিবাহবিডি পাত্র/পাত্রী ও তাদের গার্ডিয়ান ভেরীফিকেশনের পাশাপাশি – একাডেমিক, জব/ বিজনেস আইডেন্টিটি, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, এনআইডি ও ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেশন ভেরিফাই সহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট ভেরিফাই করার পর প্রোফাইল একটিভ করে।

প্রতিনিয়ত অনলাইন মাধ্যম গুলোর ব্যাবহার যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে হঠকারীদের সংখ্যাও যাদের উদ্দেশ্য শুধু ব্যবহারকারীদের ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা। অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদেরকে যে বিষয় গুলো জেনে নেওয়া উচিৎ, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো –

মিথ্যা তথ্য প্রদানঃ  নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে অনেকে নানা ধরনের মিথ্যা / তথ্য গোপন করে তথ্য প্রদান করে থাকেন।  অনলাইন মাধ্যম গুলোতে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়।  গ্লোবাল রিসার্চ এজেন্সির একটা গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ ভাগ ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে তারা প্রোফাইলে নিজ সম্পর্কে মিথ্যা বর্ননা দিয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে মেয়েরা বেশী মিথ্যা তথ্য দেয় বিশেষ করে মিথ্যাটা তাদের ছবি সম্পর্কিত হয়।  ছেলেদের ক্ষেত্রে এই মিথ্যা তথ্য তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে হয়।

অসামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে: জীবন সঙ্গী খুঁজে পেতে, ভালোবাসার মানুষের অনুসন্ধানে অনেকে অনলাইন মাধ্যম গুলোর উপর নির্ভরশীল হয়, এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অনেক অসাধু ব্যক্তি তাদের অসৎ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে চায়। যেমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা শুধু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সঙ্গী খুঁজতে অনলাইন মাধ্যম গুলোকে ব্যবহার করে, এদের কে চিনে নিতে হবে।  ছেলেদের মধ্যে এই প্রবণতাটা বেশী।

প্রতারক চক্র : অনলাইন মাধ্যম গুলো ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে যেমন সঙ্গী নির্বাচন সহজ হয়েছে তেমনি অসাধু প্রতারক চক্রের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।  এই চক্রগুলো অনেক সময় ভালোবাসার মানুষ সেজে আপনার কাছ থেকে বিভিন্ন পার্সেল পাঠানোর নাম করে কিংবা বিভিন্ন ধরনের লোভে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে, অনেকে সুযোগ ব্যবহার করে অন্যায় দাবী করে থাকে, অনেক রকম বিপদেও ফেলতে পারে।  এদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

সম্পর্কের স্থায়িত্ব কালঃ  অনলাইন মধ্যমে পরিচয় হয়েছে এরকম সম্পর্কের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তবে দেখা করেনা এবং বাস্তবে যারা সম্পর্কে যায় তাদের বেশীর ভাগ প্রথম বছরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।  বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমে পরিচিতদের সংখ্যা তুলনামূলক একটু বেশী, তবে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বিবাহিত সুখী দম্পতির সংখ্যাও কিন্তু কম না।

অনলাইন মাধ্যম গুলোতে খুব সহজে অনেককে পাওয়া যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বেশী থাকে ফলে মানুষের বাছবিচার করার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।  মাধ্যম যেটাই হোক  জীবন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে তা না হলে আমরা সঠিক জীবন সঙ্গী খুঁজে পাবো না।

কিছু কথাঃ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কহীন বিবাহিত জীবন!

এখনো পৃথিবীর অনেক দেশে বিবাহিত নারীরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র স্বামীর একতরফা আকাঙ্খার কারনেই শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য হয়, আর এতে অস্বীকৃতি জানালে  অনেক সময় সহ্য করতে হয় নানা মানসিক গঞ্জনা।  কখনো আবার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়।  ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্ব প্রথম বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে আইন পাস করা হয়। এই আইন পাসের আগে যুক্তরাষ্ট্রেও বিবাহিত নারীদের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ক্ষেত্রে স্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্যই দেয়া হত না।

প্রতিটা দাম্পত্য জীবনে পরিপূর্ন সম্পর্কের জন্য চাই স্বাস্থ্যকর শারীরিক সম্পর্ক, শারীরিক সম্পর্কহীন বিবাহিত জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন জরিপ, বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে এবং বিভিন্ন মতবাদ প্রকাশিত হয়েছে।  এ বিষয়ে ফিলোসফির অধ্যাপক- Mark D. White এর মতধারা হুবহু তুলে ধরা হলো,

We rarely, if ever talk, about the ethics of a spouse refusing to have sex with the other for years. Because we see sex as something that must be consented to, we are loathe to say a husband or wife “owes” the other sex, yet few people don’t want and expect a healthy sex life when they say “I do.”

শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন নৈতিক কারনে বছর ধরে একে অন্যকে বঞ্চিত করছে, এ বিষয়ে আমরা কোন আলোচনাো করতে চাই না।  কারন আমরা শারীরিক সম্পর্কটাকে বাধ্যতামূলক মনে করি, শারীরিক সম্পর্কটা স্বামী ও স্ত্রীর একে অন্যের প্রতি হক। এ কথাটা বলতেও অনীহা দেখায়, অনেকে আবার মুখে সুস্থ শারীরিক সম্পর্কের কথা বললেও, তারা  ব্যাক্তি জীবনে সেটা অনুসরণ করেন না।  

অসুস্থ শারীরিক সম্পর্কের কারনে দম্পতিরা যে সমস্যা গুলো ভোগ করেন, আলোচনা করা হলোঃ

  • স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে মানসিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।
  • স্বামী, স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে অনেক সময় তৃতীয় পক্ষ চলে আসার সুযোগ থাকে।
  • স্বামী, স্ত্রীর যে কারো বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • দম্পতির মধ্যে কলহ বৃদ্ধি পেতে থাকে, নানা সমস্যার সৃষ্টি হয় ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

দাম্পত্য জীবনে সুস্থ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে স্বামী ও স্ত্রীকে যে বিষয় গুলো অনুসরণ করা উচিৎ – 

  • স্বামী বা স্ত্রী কেউ কাউকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোড় না করা।
  • একে অন্যের মন বুঝতে হবে, পরস্পরের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।
  • দুজন কে এক সাথে একান্ত সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে, তখন পারস্পারিক বোঝাপড়া দৃঢ় হবে।
  • সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় পক্ষের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না, যত কঠিন সময়ই আসুক না কেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সময় দিতে হবে।
  • যদি মনে হয় কোন শারীরিক সমস্যা বোধ হচ্ছে, প্রয়োজনে মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে এবং এক্ষেত্রে একে অন্যের পাশে থাকতে হবে।

বিবাহিত বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া একটা অনৈতিক কাজ।  একটা সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর, আর যদি সে বিশ্বাস ভেঙ্গে যায় তবে সম্পর্কের আস্থাটা আর থাকে না।  একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্যই  বিশ্বস্ত সম্পর্ক ও সুস্থ যৌন সম্পর্ক অতি আবশ্যক।

৯০ ভাগ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী ৪ টি মানবীয় আচরণ

সব দম্পতিদের মাঝেই কিছু না কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং খুব স্বাভাবিক নিয়মেই তা আবার সমাধানও হয়ে যায়।  কিন্তু কিছু সমস্যা যখন প্রচন্ড তীব্রতায় পৌছে যায় তখন দাম্পত্ব্য ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়।  এক্ষেত্রে ৯০ ভাগ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী মানুষের কিছু মানবীয় আচরণ। মূলত ৪ টি আচরণকে বিশেষ ভাবে দায়ী করা হয় আর সেগুলো হলো  –

অভিযোগ করা: কিছু কিছু মানুষ আছে কারনে অকারনে তারা শুধু অভিযোগ করতে থাকে, এটা খুব খারাপ একটা স্বভাব।  এই ধরনের আচরণের কারনে দাম্পত্য কলহ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ। কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ না জেনে কারো উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়াটা একটি অন্যায়। বিচ্ছেদ এড়াতে না জেনে সঙ্গীকে কোনো অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বদমেজাজ: মানসিক চাপের মুখে হয় মানুষ ভেঙ্গে পড়ে না হয় চড়ে ওঠে।  যারা খুব সহজে তাদের আবেগ দ্বারা তাড়িৎ হয় তারা সহজে রেগে যায়।  যে সব মানুষ খুব বেশী রেগে যায় বা কথায় কথায় রেগে যায়, তারা খুব সহজে যেকোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেনা।  আর বিবাহ বিচ্ছেদের মত  সিদ্ধান্ত নেয়ার অন্যতম একটি কারন হচ্ছে বদমেজাজ।  বিচ্ছেদ এড়াতে মেজাজ নিয়ন্ত্রনে রাখার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাগ করে খুব দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবেনা,  রাগের মাথায় গুরুত্বপূর্ন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া কখনোই সঠিক না।

অযোগ্য মনে করা: প্রতিটা মানুষ ভিন্ন মানবীয় বৈশিষ্ট্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, দাম্পত্য জীবনে যদি এক সঙ্গী অন্য সঙ্গীকে তার অযোগ্য বলে মনে করেন তবে সে তার সঙ্গীকে অপমান করছে। এই ধরনের আচরনের কারনে সঙ্গীর মনে গভীর দাগ কাটে, খুব কষ্ট পেতে থাকে মনে মনে।  কোন মানুষের উচিৎ না এরকম আচরণ করা, কারো মনে কষ্ট দেওয়া।  এরকম আচরনের কারনে ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। বিচ্ছেদ এড়াতে আমাদের উচিৎ হবে আমাদের মন মানসিকতার উন্নয়ন করা। সঙ্গীকে তার প্রাপ্ত সঠিক মর্যাদা দেওয়া।

একাত্মতার অভাব: সুখি দাম্পত্যের পিছনে যে বিষয়টি বেশী কাজে লাগে, সেটি হচ্ছে এক মত হওয়া।  যে সকল দম্পতিরা বেশীর ভাগ বিষয়ে একমত প্রকাশ করে তাদের মধ্যে সম্পর্কটা হয় চমৎকার। বিপরীত হলে সহজে ভেঙ্গে যায় সম্পর্ক।  বিচ্ছেদ এড়াতে আমাদেরকে এই আচরণগুলো অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

দাম্পত্য জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাত্মতা আনতে হবে। বিচ্ছেদের হাজারো কারন হতে পারে তবে আচরণগত যে কারন গুলো রয়েছে সেগুলো আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সম্পর্কের বিষাক্ততা এড়াতে সবাইকে আচরণে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।  আপনি আপনার সম্পর্কটাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তা নির্ভর করে আপনার নিজের উপর।  যত্ন করলে সম্পর্ক কখনো ভেঙ্গে যায় না।  তাই আসুন আমরা আমাদের সম্পর্কে যত্নশীল হই।  যার কোন বিকল্প নেই।

সত্যিই কি ভালোবাসতে শুরু করেছেন ?

সম্পর্ক শুরুর প্রথম পর্যায়ে সাধারনত আমরা একটা গোলক ধাঁধার ভেতর থাকি। আমাদের মনটা কি চাইছে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা।  নিজের অনুভূতিগুলো নিজের কাছেই অপরিচিত মনে হতে থাকে।   আসলেই কি ভালোবাসা অনুভব করছেন নাকি শুধুই আকর্ষণ কাজ করছে, বিষয়টা অবশ্যই বুঝতে হবে তা না হলে ভুল সিদ্ধান্তের কারনে পরে কষ্ট পেতে হতে পারে।  মনোবিজ্ঞানীরা ‘Focused on Heterosexual Relationships’  গবেষণার মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছেন, যে প্রশ্নের উত্তর আপনাকে সাহায্য করবে আপনার মনের অনুভূতির সঠিক ব্যাখ্যা দিতে।

ইদানিং বিশেষ ধরনের মানুষিক চাপ অনুভব করছেন?

কারো সাথে নতুন সম্পর্কের শুরু করেছেন এতে যদি আপনার মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে তবে ধরে নিতে হবে এই সম্পর্কটা ভালোবাসার সম্পর্কে রুপ নিতে পারে।  কেননা চিকিৎসা বিজ্ঞানে উল্লেখ আছে মানুষ ভালোবাসলে তার স্ট্রেস হরমোন লেভেল বৃদ্ধি পায়।  আপনি যদি বেশী চিন্তা করেন, বেশী অস্থির থাকেন বা একটু ঘোরে থাকেন তবে ধরে নিতে হবে আপনার স্ট্রেস হরমোন লেভেল বৃদ্ধি পেয়েছে, মানে আপনি ভালোবাসা অনুভব করছেন।

হঠাৎ নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন?

মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন তার পছন্দের মানুষটির ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সাধারণ চরিত্রের বাইরে নতুন ধরনের কিছু করার চেষ্টা করে।  যেমন নতুন নতুন রেস্তরাঁতে নতুন ধরনের খাবার টেস্ট করা, ঘুরতে যাওয়া, তাকে মুগ্ধ করার বিভিন্ন প্রয়াসের পাশাপাশি বৈচিত্রতা আসে জীবন যাপনে ও চিন্তায় ।

সঙ্গী সম্পর্কে বেশী বেশী তথ্য সংগ্রহ করছেন?

আপনি যদি আপনার সঙ্গী সম্পর্কে অনেক বেশী কিছু জানার চেষ্টা করছেন তার মানে আপনি তার সাথে অনেক দূর যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।  এটাই ভালোবাসা।

“I Love You”  বলতে মনে ইচ্ছা জাগলে?

মুখে ভালোবাসি কথাটা বলতে সবার জড়তা আসে। আর যখন বোধ করবেন আপনি এই “I Love You” কথাটা বলতে কোন জড়তা বোধ করছেন না, তাহলে আপনি ভালোবাসতে শুরু করেছেন।   ‘Heterosexual’ গবেষণায় বলা হয়েছে ভালোবাসি কথাটা প্রথম বলতে পুরুষরা বেশী আগ্রহী হয়।

আপনার আবেগ কি খুব বেশী তীব্র হচ্ছে?

অস্থির মনের মানুষ গুলো কোন সম্পর্কে জড়ালে এইটা নিয়ে নিজেকে বার বার প্রশ্ন করে থাকে, নিশ্চিত হবার জন্য।  যারা বেশী আবেগ প্রবণ তাদের জন্য ভালোবাসার আবেগ গুলো আলাদা করাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়।  এই ধরনের আবেগপ্রবণ মানুষরা ভালোবাসতে শুরু করলে তার আবেগ তাদের আবেগ তীব্র থেকে তীব্র হয়।

আপনি যার প্রতি দুর্বল তার কাছ থেকে আপনার অনুভূতি গুলো কি ফিরে পাচ্ছেন ?

আপনি যদি একজন মেয়ে হয়ে থাকেন এবং ভালোবাসা অনুভব করে থাকেন, তবে আপনার অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে চেষ্টা করবেন।  গবেষণায় দেখা গেছে মেয়েরা তাদের আবেগকে ছেলেদের তুলনাই বেশী নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

আপনি কি তার সাথে সময় কাটাতে খুব বেশী আগ্রহী?

ভালোবাসা অনুভবের শুরুর দিকে আমাদের মস্তিষ্কের dopamine  অংশ প্রতিক্রিয়া করে।  এই অংশকে ‘প্রতিদানের অংশ’ বলে । এই প্রতিক্রিয়ার ফলে বার বার ভালোলাগার মানুষটাকে দেখতে মন চায়, তার সাথে সময় কাটাতে আগ্রহ বোধ করে।ভালোবাসার সম্পর্কের সুচনা এভাবে হয়।

ভালোবেসে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুরুষ মনস্তত্ব

প্রকৃতির নিয়মে দুজন মানুষ ভালোবেসে সারা জীবন এক সাথে থাকতে চায়, নানা প্রতিকূল কারনে এই ভালোবাসার সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।  আলাদা হয়ে যায় ভালোবাসার মানুষ দুজনের পৃথিবীটা।  বিচ্ছেদের কারনে সমস্যায় পড়তে হয় দুজনকে, সাথে তাদের সন্তাদেরকেও।  ভালোবাসার বিয়ের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন একটা কাজ।বিচ্ছেদের কারনে ভালোবাসা গুলো ধীরে ধীরে মিথ্যা হতে থাকে।  মনের ভেতর অস্থিরতা বেড়ে যায়, না যায় ভালোবাসার মানুষটার সাথে থাকা, না যায় দূরে থাকা, এ এক বিচিত্র অনুভূতি। একজন পুরুষও বিবাহ বিচ্ছেদের কারনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়।  সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা তাদেরকে মোকাবেলা করতে হয়।  এই সমস্যা গুলোর কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

১।  বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও মন থেকে প্রাক্তন স্ত্রীকে সহজে ভুলতে পারেনা, কারণ একটা সময় ছিলো তাকে ছাড়া সে থাকতে পারতো না।  স্মৃতি দ্বারা তাড়িত হতে থাকে সারাক্ষণ।

২।  দৈনন্দিন জীবন যাপনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বেশীর ভাগ পুরুষ বিয়ের আগে মা ও বিয়ের পরে স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল থাকে, বিচ্ছেদের ফলে তাকে পড়তে হয় চরম সমস্যায় ।

৩।  প্রাকৃতিক ভাবে মানুষের শারীরিক কিছু চাহিদা থাকে, চিকিৎসাবিদ্যায় উল্লেখ আছে পুরুষদের শারীরিক চাহিদা পূরণ না হলে বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধায় পড়তে হয়, এতে মানুষিক চাপ বাড়ে, অসুবিধা গুলো মেয়েদের তুলনাই ছেলেদের বেশী হয়।  বিচ্ছেদের কারনে এ বিষয়ে পুরুষরা অনেক অসুবিধা ভোগ করে।

৪।  যখন একটা পরিবারের মধ্যে মানুষ থাকে তখন তার জীবন যাপনটা থাকে সুশৃঙ্খল কিন্তু বিচ্ছেদের কারনে এটা ব্যহত হয়।  বিশেষ করে পুরুষদের।

৫।  বিচ্ছেদের কারনে যাদের সন্তান আছে সে সকল বাবাদের অনেক কষ্ট সহ্য কতে হয়।  যদি সন্তান বাবার কাছে থাকে তবে, বাচ্চার যত্ন নেওয়া, অফিস করা, সব মিলিয়ে বাবারা চরম বিপদে পড়ে ।

৬।  বিচ্ছেদের পর ছেলেরা বন্ধু মহলে সহজ ভাবে মিশতে পারে না।  মানুষিক ভাবে নিজেকে ছোট বোধ করে।

৭। ভালোবেসে বিয়ে করে বিচ্ছেদ হলে, ছেলেদেরকেও পরিবারের সদস্য দ্বারা নানা ভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়।  মানুষিক ও মনের চাপ বেড়ে যায়।

৮।  ভালোবাসার স্মৃতি সহজে ভুলে থাকা যায়না ফলে বিচ্ছেদের পরে নতুন সম্পর্কে জড়াতে ছেলেদের অনেক সময় খুব কঠিন মনে হয়।  মানুষের জীবন চক্রটা অনেক বিচিত্র, অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত মনের বিরুদ্ধে গ্রহণ করতে হয়।

একক মায়েরা কেমন জীবনসঙ্গী আশা করেন!

আমাদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়।  বিচ্ছেদের কারণ গুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়।  কারণ যেটাই হোক বিচ্ছেদের কারনে একটা সংসার ভেঙ্গে যায়, এটায় বাস্তবতা।  তাই বলে জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায় না, সময়ের সাথে জীবনকে চালিয়ে নিতে হয়। আমাদের দেশে অনেক মেয়েরা বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকছে এবং একা হাতে সন্তান লালন পালন করছে। আমেরিকতে প্রায় ৪৫% শতাংশ একক মা সন্তান লালন পালন করে। এই সংখ্যা বাংলাদেশে একদম কম না।

একা জীবন কাটানো খুব সহজ না, তাই তারা নতুন করে জীবন কে সাজাতে চেষ্টা করে। নতুন জীবনে প্রবেশের সময় একক মায়েরা অনেক বিষয়কে মাথায় রাখে, সঙ্গী নির্বাচনে তারা অনেক বেশী সতর্ক থাকে।  আপনি যদি একক মা হয়ে থাকেন তবে, সঙ্গীর ভিতরে যে বিষয় গুলো লক্ষ্য করবেন, তার একটা অংশ তুলে ধরার প্রয়াস করা হলো।

আপনার সময়কে গুরুত্ব যে দেবেঃ  যেহেতু আপনি আপনার বেশীর ভাগ সময় আপনার সন্তানকে দিচ্ছেন, এ বিষয়টা বুঝে যে ব্যক্তি আপনার কাছে তার জন্য সময় আশা করবে, আসলেই সে আদর্শ সঙ্গী হবে।

সন্তানের স্থানঃ  একক মায়ের কাছে তার পৃথিবী জুড়ে তার সন্তান থাকে।  আপনার জীবনে যে নতুন মানুষটাকে আশা করছেন তার কাছে যদি আপনার সন্তানের একটা বিশেষ স্থান থাকে।  স্থানটা যদি সে ভালোবাসা দিয়ে তৈরী করে নেয়, তবে মানুষটা আপনাকে বুঝবে।

মানুষিক স্বস্থিঃ বিচ্ছেদের পর একজন মাকে তার সন্তানকে নিয়ে অনেক বাঁধা বিপত্তি পার করতে হয়। অনেক বড় সংগ্রাম করতে হয়।  সামাজিক নানা প্রতিকূল অবস্থার কারনে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়।মানুসিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ে, জীবনটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এই কঠিন সময়ে যে বিশেষ মানুষটা আপনাকে সম্পূর্ণ সস্থির স্থান করে দেবে, সেই আদর্শ জীবন সঙ্গী হবে।

প্রাক্তনের সাথে সম্পর্কঃ  সন্তানের কারনে বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তনের সাথে একটা যোগাযোগ রাখতে হয়, এই বিষয়টাকে আপনার নতুন সঙ্গী যদি খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করে তবে ব্যক্তিটি আপনার সকল সমস্যাকে সহজ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আচরণঃ  যে ব্যক্তি আপনার মন বুঝে আপনার সাথে আচরণ করবে, আপনার মন খারাপ থাকলে আপনাকে হাঁসাবে, দুঃখে আপনার পাশে থাকবে । আপনার সাথে ও আপনার সন্তানের সাথে খুব সুন্দর ব্যবহার করবে, আপনাকে আপনার সন্তানের সামনে কখনো ছোট করবেনা। আপনাকে ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মান করবে। এরকম মানুষ আদর্শ জীবন সঙ্গী।

প্রাক্তনকে নিয়ে মাথা না ঘামানোঃ  কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি অতীত ঘটনাকে নিয়ে বর্তমান সম্পর্ক নষ্ট করবেনা। যে কথায় কথায় আপনার অতীত নিয়ে নানান কথা শুনাবে, সে ব্যক্তি আপনার যোগ্য না।

দায়িত্ববোধঃ  যে আপনার সকল দায়িত্ব কে নিজের দায়িত্ব মনে করবে এমনকি আপনার সন্তানের দায়িত্বও নিতে পিছুপা হবেনা, এরকম মানুষ পাওয়াটা একটা আশীর্বাদ।

মনোযোগঃ  যে ব্যক্তির মনোযোগ শুধু আপনি হবেন না, সাথে আপনার সন্তানও থাকবে এবং জীবনে এগিয়ে যাবে আপনার সাথে, আপনাকে ছাড়া নয়।  সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে আপনাদের সম্পর্কটা কিভাবে সফল হবে তার উপর। এরকম ব্যক্তির উপর ভরসা করা যায়। জীবনে একবার ঘটে যাওয়া ঘটনা বার বার ফিরে যেন না আসে, এজন্য কোন সিদ্ধান্ত খুব তাড়াহুড়া করে নেওয়া যাবে না। সময় দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সে কি এখনো আপনার প্রতি দুর্বল!

ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে মনটাও ভেঙ্গে যায়, অব্যক্ত কষ্ট সহ্য করতে হয়। একটা ভালোবাসার সম্পর্ক অনেক কারনে ভেঙ্গে যেতে পারে। তবে সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে ভালোবাসা শেষ হয়ে যায় না।  সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরেও মানুষ ভালোবাসার আবেগ দ্বারা তাড়িত হতে থাকে, প্রাক্তনের অনেক আচরণ বলে দেয় তার মনে আপনার অবস্থানের কথা।  আপনি কি ভাবে বুঝবেন আপনার প্রাক্তন এখনো আপনাকে মনে মনে চায়, এ সম্পর্কে চমৎকার কিছু বিষয় –

যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়াঃ  আপনার প্রাক্তন যদি নানা কারন দেখিয়ে এখনো আপনার সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যায়, তবে বুঝবেন সে আপনাকে এখনো চায়।

আচরণে সংশোধন:  যে সকল আচারন জনিত কারনে আপনাদের সম্পর্ক সমাপ্ত হয়েছে, যদি দেখেন আপনার প্রাক্তন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আচারনে পরিবর্তন এনেছে, তবে নিশ্চিত আপনার প্রতি তার ভালোবাসা এখনো রয়েছে।

বিচ্ছেদের কারন নিয়ে বারবার কথা বলার চেষ্টা:  আপনার প্রাক্তন যদি আপনার সাথে বারবার বিচ্ছেদের কারন নিয়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে, এতে বোঝায় সম্পর্কটি আবার সে চায়।

অন্য কাউকে সময় দিতে অনীহা: যদি দেখেন আপনার প্রাক্তন অন্য কারো সাথে সময় কাটাতে চায় না, এর অর্থ তার মনে এখনো আপনার জন্য ভালোবাসা বিদ্যমান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আপনাকে অনুসরণ: যদি লক্ষ্য করেন আপনার প্রাক্তন আপনাকে সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আগের তুলনাই বেশী আনুসরন করছে, তবে আপনার প্রতি সে এখনো দুর্বল এজন্য আপনাকে লক্ষ্য করছে।

আপনাকে খুশি করার চেষ্টা : আপনার মন ভালো করার জন্য বা আপনার ভালো হয় এমন কোন কাজ যদি আপনার প্রাক্তন সম্পর্ক ভাঙ্গার পরেও করে থাকে, তবে আপনার জন্য তার মনে ভালোবাসা এখনো জীবিত আছে। সত্যিকারেরে ভালোবাসা পেয়ে হারিয়ে ফেলা যাবেনা, তাহলে হবে চরম বোকামি।  কারণ সত্যিকারেরে ভালোবাসা সব সময় পাওয়া যায় না।

ছেলেরা যে গুন গুলো রূপ থেকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

প্রতিটা মেয়ে তার সঙ্গীর মনের রানী হয়ে থাকতে চায়, অনেকের ধারনা ছেলেরা সুন্দর চেহারার মেয়েদেরকে বেশি পছন্দ করে, ধারনাটি সম্পূর্ণ ঠিক না। বেশির ভাগ ছেলেরা মেয়েদের রূপে নয় গুণে মুগ্ধ হয়। সকল মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনি কোন শো-পিস না, আচারনগত গুন আপনার আসল সৌন্দর্য। মেয়েদের যে আচরণ গুলো তার সঙ্গীর মনে দৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করে, সে চমৎকার বিষয় গুলো তুলে ধরা হলোঃ

জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা: আমাদের জীবনে ভালো সময় যেমন আসে, খারাপ সময় তেমনি আসে। ভালো সময়ে সবাই পাশে থাকে, কিন্তু খারাপ সময় কেউ থাকেনা। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর কঠিন সময়টাতে তার পাশে থাকেন তবে কঠিন সময়টা কিছুটা হলেও সহজ মনে হবে।

বিশ্বাসের মর্যাদা: পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্ক সম্পূর্ণ হয়না। আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি তখনি বেশী আশ্বস্থ হবে যখন আপনি তার বিশ্বাস ভাঙতে দেবেন না। কখনো এমন কোন ভুল কাজ করবেন না যেটার প্রভাব আপনাদের সম্পর্কের উপর পড়ে। আপনার প্রতি আপনার সঙ্গীর যে বিশ্বাস আছে তার মর্যাদা অক্ষুন্য রাখুন।

ভাষার মিষ্টতা: মানুষ তার মুখের ভালো ভাষা দিয়ে যে কারো মন জয় করতে পারে। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলার সময় মিষ্টি করে কথা বলেন তাহলে আপনার জন্য তার মনে গভীর স্থান তৈরি হবে। ছেলেরা তার সঙ্গীর মধ্যে এধরনের গুণ আশা করে।

সঙ্গীর জীবনের লক্ষ্যকে নিজের মনে করা: কথায় আছে প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন নারী থাকে।আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে তার সাফল্য অর্জনের পথে থাকেন তবে মনে রাখবেন আপনি হবেন তার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ।

আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার সময় মনোবলের যোগান: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, প্রতিটি ছেলে শিক্ষাজীবন পার করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে চাকরি বা ব্যবসা শুরু করে, তবে পথটা এত সহজ না। আপনি যদি এই কঠিন সময়টাতে তার পাশে থেকে উৎসাহিত করেন তবে আপনি সঙ্গী হিসাবে আদর্শ।

মানুষ তার আচারনকে পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু চেহারা পরিবর্তন করতে পারেনা। আমাদের উচিৎ সঙ্গীর সাথে সব সময় সৎ আচারন করা।

ভালোবাসার বিশ্বাসঘাতকতায় করনীয়

কালের এক অশুভ চিহ্নের নাম বিশ্বাসঘাতকতা।  ভালোবাসায় বিশ্বাসঘাতকতার আঘাত হয় অনেক গভীর।  সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি দ্বারা মানুষ জানতে ও বুঝতে পারে অযোগ্য মানুষকে সে ভালোবেসেছিল।  ইদানীং কালে বিশ্বাসঘাতকতার প্রবণতা বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।  যদি কেউ কখনো তার নিজকৃত ভুল বুঝতে পারে তখন উচিৎ মাথা নত করে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া।  আপনার সঙ্গী যদি আপনার বিশ্বাসে আঘাত করে তাহলে, ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য আপনি সঙ্গীর সাথে কেমন আচারন করবেন সেগুলো সম্পর্কে কিছু চমৎকার বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।

১।  মন থেকে বিষয়টিভুলে যেতে হবে অনেক সময় মানুষ ভুল করে ফেলে আবার ভুলটা বুঝতে পারে, তখন আমাদের উচিৎ সঙ্গীকে ক্ষমা করে বিষয়টি ভুলে যাওয়া এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়া। যদিও ক্ষমা করাটা অনেক কঠিন একটা সিদ্ধান্ত, জীবনে ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক সময় অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় শুধু ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য ।

২।   সঙ্গীকে লাঞ্ছিত করা যাবেনা আপনি যদি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে থাকেন এবং সঙ্গীকে ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন, তবে তাকে এই বিষয়টি বার বার মনে করিয়ে দিয়ে অপমানিত করা যাবেনা এতে করে আপনাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরো নাজুক হয়ে যেতে পারে।  জনসম্মুখে সঙ্গীকে উচ্চস্বরে বকাবকি করবেন না, কারন এতে আপনি নিজেই ছোট হবেন।

৩।  নতুন করে বিশ্বাস গোছানো একবার বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে নতুন করে বিশ্বাস করাটা অনেটা অসম্ভব কাজ, এজন্য একে অন্যকে সময় দিতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে বোঝাপড়া করে নিতে হবে।  একটা ঝড়ের পর নতুন করে ঘর বাঁধার মতো সম্পর্কের বিশ্বাসটাকে সুন্দর করে বাঁধতে হবে।

৪।  সঙ্গীর ভালো দিকটাকে প্রাধান্য দিন সব মানুষের ভালো, খারাপ দুদিক থাকে।  কোনো কারনে যদি আপনি সঙ্গী দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতার স্বীকার হয়ে থাকেন, মনে রাখবেন আপনার সঙ্গীর আরো অনেক ভালো দিক আছে, শুধু একটা অপরাধের জন্য তাকে সম্পূর্ণ খারাপ ভাবা ঠিক হবেনা।

অবশ্য এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীকে তার ভুল শুধরাতে হবে। অনেক সময় জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন ভাবে গ্রহণ করতে হয়। আর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনেকটা ভালোবাসার তাগিদে।  আমাদের সবাইকে একটা বিষয়ে চর্চা করতে হবে, বিষয়টি হচ্ছে ভালোবাসার মানুষটাকে কোন ভাবে কষ্ট দেওয়া যাবেনা এবং তার বিশ্বাস নষ্ট করা যাবেনা।