বরকে পর করে দিচ্ছেন নাতো?

বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনটির মূল ভিত্তি হল স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা, সম্মান, মনোযোগ, একে অন্যের প্রতি যত্নশীলটা, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে মানিয়ে চলা, দায়িত্বশীলতা এবং আর্থিক, মানসিক ও জৈবিক চাহিদা পূরণ।

বিয়ের কিছুদিন স্বভাবতই অনেক আবেগ, মুগ্ধতা ও রোমান্স বিরাজ করে। সবকিছুতেই এক রকমের অদ্ভুত ভালোলাগার অনুভূতির ছোঁয়া পাওয়া যায়। কিন্তু এই মোহটা কিছুদিন পর থেকেই বিলুপ্ত হওয়া শুরু হয় যদি সম্পর্কে কোন নতুনত্ব না থাকে। তাই সম্পর্ক ভালো ও সুস্থ রাখতে সর্বদা সচেতন থাকা অতি আবশ্যক।

বর্তমান আধুনিক সময়ে অনেক স্ত্রী চাকুরি করেন। আমাদের সমাজ এখনো পুরুপুরি আধুনিক হতে পারেনি, এখনো কিছু কিছু ব্যাপারে অনেক রক্ষনশীল মানসিকতা বহন করছে। যেমন- মেয়েরা যত বড় চাকুরিই করুক না কেন রান্না-বান্না ও সংসার সামলানো মেয়েকেই করতে হবে, ছেলেরা করলে যেন তা অনেক বড় পাপ কাজ বলে গণ্য হবে।  তাই চাকুরিজীবি মেয়েদের উপর থাকে চাকুরি ছাড়াও রান্না-বান্না ও সংসার সামলানোর সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য।  সবকিছু সামলিয়েও মেয়েদের আরেকটা বড় দায়িত্ব হল স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখা। তার ছোট ছোট ব্যাপারে যত্নশীল থাকা, সকল চাওয়া পূরণ করা যাতে তার জীবনে কোন অপ্রাপ্তি বা অপূর্ণতা না থাকে। কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ভালোবাসা, আদর, মনোযোগ না পেলেই স্বামীর ভালোবাসা, ভালোলাগা, আকর্ষণ সব ধীরে ধীরে কমতে থাকে যা ভবিষ্যতে সংসারে অশান্তি বা পরকীয়ার মত ঘটনার সূত্রপাত হয়। তাই বরের প্রতি সবসময় যত্নশীল থাকা অতি জরুরি।

আবার, বর্তমান সময়ে মানুষ তার সন্তানের প্রতি আগের থেকে অনেক বেশি উদ্বেগী ও যত্নশীল হয়ে গেছে। সন্তানের ছোট ছোট চাহিদা পূরণের জন্য বিশেষ করে মায়েরা অনেক বেশি সচেষ্ট। এর মাঝে অনেকেই ভুলে যায় তার আরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল তার বরের প্রতি। বর যখন এত সময় ধরে তার বউ এর কাছ থেকে সবটা মনোযোগ ও যত্ন পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন হুট করে না পাওয়াটা অনেক বেশি অপ্রত্যাশিত হয়ে যায় যা তার অনুভূতিতে অন্যরকম খারাপ একটা প্রভাব ফেলার একটা সম্ভাবনা থাকে। যেমন- সন্তানের কারণে তার আর আগের মত মনে বাসনা হলেই স্ত্রীর কাছে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া, আগের মত রোমান্স না করতে পারা ধীরে ধীরে শারীরিক দুরত্বের তৈরি করে।

বর বাসায় ফেরার পরে আগের মত বরের দিকে খেয়াল না রাখা, তার দৈনন্দিন বাইরের নানাবিধ কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা না করা, কোন দুশ্চিন্তা থাকলে তা ভাগ না করা, তাদের গল্পের বিষয় শুধু বাচ্চাটির দুধ, ডায়াপার, বাচ্চাটি নতুন কি কাজ করেছে, বাচ্চাটির আর কি কি লাগবে এইসব বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকলে মোট কথা বাচ্চার ব্যাপারে ওভার পসেসিভ থেকে বরকে গুরুত্ব না দিলে মানসিকভাবেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়।

যতকিছু হোক না কেন সর্বদা স্বামীর প্রতি এক প্রকার নজরদারি বহাল রাখতেই হয়। বাচ্চা হলেই সাধারণত মেয়েরা একটু মোটা হয়ে যায় বা চেহারার যত্ন নেয়ার সময় না পাওয়ায় চেহারাও নষ্ট হয়ে যায় এইসবের প্রতি যত্নশীল থাকতে হবে। কারণ সৌন্দর্যটাও স্বামীর মন যোগাতে অনেকাংশে প্রভাব ফেলে। সবকিছুর পরেও বরকে তার মত করে সময় দিতে হবে, তার কাজের প্রশংসা করতে হবে, তাকে মুগ্ধ করে এমন কিছু করা, তার সাথে টিভি দেখা, ঘুরতে যাওয়া, বিশেষ দিনগুলো তার সাথে উদযাপন করার মাধ্যমে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে হবে। অন্যথায়, বর একাকীবোধ করা থেকে অনেক খারাপ কিছুতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারে। আর একবার শারীরিক ও মানসিকভাবে দুরত্ব তৈরি হয়ে গেলে তা দূর করতে অনেক সময় ও শ্রম লেগে যায় তাই শুরু থেকেই সচেতন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সঙ্গীকে একটু ছাড় দিন এতে বাড়বে ভালোবাসা

স্বামী ও স্ত্রী অথবা প্রেমিক ও প্রেমিকা ভিন্ন দুইজন মানুষ, ভিন্ন পরিবার ও পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠা তাই দুইজন একে অন্যের থেকে ভিন্ন হবে এটাই খুব স্বাভাবিক। সুতরাং দুইজনের সব পছন্দ অপছন্দ মিলানো টা নেহায়েত বোকামি ছাড়া আর কিছু না। সহনশীলতার সাথে নিজের অবস্থান থেকে একে অন্যকে বোঝার চেষ্টা করাটাই শ্রেয়।

একটা মানুষ যখন জীবনের অনেকগুলো বছর তার মত করে অতিবাহিত করে একটা সময় পর প্রেম বা বিয়ে নামক একটা বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন সম্পর্ক বা বিয়ের অন্তরালে অনেক সময়ই তার সঙ্গীটি তার প্রতি অতি আবেগে বা অধিকারবোধ ফলাতে গিয়ে সঙ্গীটির পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব থেকে তাকে দূরে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিছু ক্ষেত্রে তা সফল হয় কিছু ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় সমস্যার। অতিরিক্ত সবকিছুই খারাপ বলে একটা প্রবাদ খুবই প্রচলিত। কথাটির সত্যতা যাচাই করার কোন অবকাশ নেই। ভালোবাসার মানুষটাকে যত্ম করা বা হারানোর একটা ভয় মানুষের মধ্যে কাজ করাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয় তাই সঙ্গীটি কোন কোন বন্ধুর সাথে মিশছে, কোথায় কোথায় যাচ্ছে, কি কি করছে খোঁজ রাখাটা অপর সঙ্গীর কাজ হলেও তা করতে হবে অতি সুক্ষভাবে যাতে সঙ্গী কিছুতেই বুঝতে না পারে। সম্পর্ক  অনেক আবেগময় আর কিছুটা বাস্তবিক এটা মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

কোন মানুষই নিখুঁত হয় না তাই সঙ্গীর দোষগুলোকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে ইতিবাচকভাবে নিয়ে সেগুলোর প্রশংসা করলে সঙ্গী্র ভালোলাগা থেকে সম্পর্কটাও আরো জোরালো হয়। কোন কিছুতে মতের অমিল হলে ঝগড়া না করে তার সাথে কথা বলা উচিৎ। সমাধান না হলে তার চিন্তানুযায়ী ভেবে সমাধান খুজে বের করা অথবা নিজেকে তার মত করে কিছুটা মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটার ফলাফল ভালো হয়।

সঙ্গীদের পরস্পরকে এবং পরস্পরের পরিবারকে জানার ও বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সঙ্গীকে নিজের কাছে আগলে না রেখে তার পরিবারের সাথে সময় কাটানোর মত সুযোগ দিতে হবে। এতে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের শ্রদ্ধার সাথে সাথে বাড়বে ভালোবাসাটাও। বর্তমান প্রতিযোগিতার সময়ে মানুষ তার ক্যারিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। সুন্দর একটা ভবিষ্যত স্বপ্নকে ঘিরে অনেকেই অতি ব্যস্ততায় দিন যাপন করছে। তাই সঙ্গীকে কাঙ্খিত পর্যাপ্ত সময় দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সঙ্গীর অনেক অভিমান ও অভিযোগের জন্ম নেয়। এমতাবস্থায় একটু বোঝা উচিৎ যে সঙ্গী যা করছে তা তাদের ভালোর জন্যই করছে। অভিযোগের পরিবর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে ব্যাপারটা হয় আরও সুখময়। অপরদিকে সঙ্গীরও উচিৎ তার ব্যস্ততার মাঝে একটু সময় বের করে তার সঙ্গীটিকে সময় দেয়া।

ছোটখাট এইসব ছাড়ের মাধ্যমেই ভালোবাসার গভীরতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ভালোবাসার মানুষটার প্রতি অতি আবেগ ও যত্ম থেকে তৈরি হয় এক প্রকারের দ্বায়বদ্ধতা যা অনেক সময় ধংসাত্মকও হতে পারে। সব মানুষের নিজেস্ব যে একটা পরিসর থাকে তাতে তাকে একটু ছেড়ে দিলে স্বস্তির সাথে সাথে বাড়বে আপনার প্রতি তার মুল্যবোধও। যেমন সঙ্গীর কোন সময় ইচ্ছে হতেই পারে কিছুটা সময় একা থাকার। ফোন বা যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার। এতে রাগ না করে জোরপূর্বক আদায় না করে তাকে একটু সময় দিন। দেখবেন সম্পর্কের দ্বায়বদ্ধতা মধুরতায় পরিণত হবে। আবার কোন কারণে আপনার সঙ্গীর মেজাজ খারাপ থাকলে সেক্ষেত্রে তাকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন নয়তো চুপ থেকে তাকে নিজেকে সামলানোর সময় দিন। মেজাজ ঠান্ডা হলে সে নিজেই আপনার সাথে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মানুষ মাত্রই ভুল করবে আর সেটা শোধরানোর দায়িত্বও সঙ্গীর কিন্তু সেটা কখনোই কারো সামনে করে তাকে অপমান করা যাবে না। এতে নিজেদের বোঝাপড়ায় ফাটল তৈরি হবে। আরও কিছু ব্যাপার যেমন মাঝে মাঝে সঙ্গীকে খুশি করার জন্য তাকে দেখতে ভালো না লাগলেও সেটা প্রকাশ না করে প্রয়োজনে তাকে সুন্দর লাগার মিথ্যা প্রশংসা করে তাকে ভালো অনুভূতি দিতে পারেন। কোন বিশেষ দিন ভুলে যাওয়া কখনোই কারো ভালবাসার মাপকাঠি হতে পারে না তাই সেগুলো ধরে না রেখে তাকে সেটা মনে করে দিয়ে নিজেই সেটা উদযাপন করা শুরু করুন দেখবেন সঙ্গীটিরও ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।

দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দক্ষতা ও শিক্ষা প্রয়োজন

সম্প্রতি প্রথম আলোতে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যে দেশে দিন দিন তালাকের হার বাড়ছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে নারীরা অধিক হারে তালাকের আবেদন করছেন এবং ঢাকায় গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন করা হচ্ছে। প্রতিটি মানুষ জীবনে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন—এক হচ্ছে তাঁর সন্তান ও দ্বিতীয় হচ্ছে তাঁর দাম্পত্যজীবন। আমরা সবাই চাই একটি নিরাপদ, সুখী, মর্যাদাপূর্ণ দাম্পত্যজীবন। প্রতিটি

বিয়ের প্রাক্কালে সবার মনে এই প্রার্থনা থাকে, ‘আজীবন আমরা একত্রে থাকব’। কিন্তু সবার মনের এই আশা পূরণ হয় না।

মনে রাখা ভালো, প্রেম বা বিয়ের প্রথম দিকের ‘ভালোবাসার উন্মাদনার’ উচ্ছ্বাস বড়জোর দুই বছর থাকে। তার মানে এই নয় যে ভালোবাসা ফুরিয়ে গেছে বা ভুল মানুষকে পছন্দ করেছি। ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট অবস্থা নয়, এটি একটি কর্ম, জীবন দক্ষতা—যা প্রতিনিয়ত প্রদর্শন করতে হয় এবং চর্চা করতে হয়।

তালাকের অনেক কারণ রয়েছে। তবে তালাকের আবেদনে কাজিরা স্বামী বা স্ত্রী বা অভিভাবকদের কতগুলো গৎবাঁধা বুলি বা অভিযোগনামা বলে দেন সেখানে উল্লেখ করতে। গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে তালাকের জন্য বহুবিধ কারণকে দায়ী করা হয়। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে দাম্পত্যজীবনে দুজনের মধ্যে ‘কার্যকর পারস্পরিক যোগাযোগ ভেঙে পড়া’ এবং দাম্পত্যজীবনে ইতিবাচক ‘বিনিয়োগের’ অভাব ।

এ ছাড়া রয়েছে পরকীয়া প্রেম বা দাম্পত্যে অবিশ্বস্ততা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মাদকাসক্তি, যৌন সমস্যা, মূল্যবোধের বড় ধরনের অমিল, শ্বশুরপক্ষের লোকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, আর্থিক বা সামাজিক দায়িত্ব গ্রহণে অবহেলা, যৌতুক-বিষয়ক জটিলতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ও অনৈতিক ব্যবহার, প্রতিশোধপ্রবণতা, বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে নিরন্তর অপর পক্ষের বিরুদ্ধে বদনাম করে যাওয়া, সন্তানদের কায়দা করে নিজ পক্ষে নিয়ে অপর পক্ষকে জব্দ করার চেষ্টা, অযত্ন, অবহেলা, পরিত্যক্ত করে রাখা ইত্যাদি।

তবে যে ‘যোগাযোগ ঘাটতি বা বৈকল্যের’ কথা বলেছি, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। দাম্পত্যে চার ধরনের যোগাযোগ-সমস্যা দেখা দিতে পারে—

১. আত্মসমর্পণ বা বিরোধিতা থেকে বিরত থাকা— তিক্ততার একপর্যায়ে এক পক্ষ বা উভয় পক্ষ এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে তারা আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে, সমঝোতায় আসতে চেষ্টাই করে না। তারা পারস্পরিক ঘৃণা, অবজ্ঞায় সব ধরনের যোগাযোগ এড়িয়ে চলে—ভাবখানা এমন, এসব নিয়ে আলোচনা বৃথা। ফলে তীব্র ক্ষোভ, বিরক্তি, অসন্তুষ্টি জমতে থাকে ও ধীরে ধীরে বিষণ্নতায় ভুগতে থাকে।

২. নিশ্চল বা নির্বাক হওয়া— এ ক্ষেত্রে তারা কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে ‘বিলম্বিত’ করার পন্থা নেয় বা স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলে। ফলে নিজেদের মধ্যে বরফাচ্ছাদিত একটি দেয়াল তৈরি হয়। তাদের মধ্যে দিন দিন উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

৩. পালিয়ে বেড়ানো— নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা অন্য দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে নিজকে ব্যস্ত রাখতে চায়। এভাবে তারা একে অপর থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে, কেউ মাদকাসক্ত হয়, কেউ পর্নো দেখে, কেউ সারাক্ষণ কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আবার কেউবা ‘কাজপাগল’ হয়ে সারাক্ষণ অফিস বা ব্যবসাস্থলে দিন গুজরান করে।

৪. সংঘাত, প্রতিযোগিতা বা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হওয়া— এটি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয়। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী সব সময় একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা, বদনাম করতে থাকে; অনবরত অভিযোগ, নালিশ করতে থাকে; খুঁটিনাটি বিষয়েও সারাক্ষণ ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকে; তর্ক-বিবাদ তাদের দৈনন্দিন কাজ; এমনকি মৌখিকভাবে গালাগালি করে অপর পক্ষকে পরাস্ত করতে না পেরে হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ মারামারিতে কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ‘ছাড়’ দিতে রাজি নয়—তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা যে করেই হোক ‘জিততে’ হবে।  প্রায় প্রতিদিন তাদের এ রকম খণ্ডযুদ্ধ চলতে থাকে ও তাদের উভয়ের মধ্যে ‘ভয়ংকর’ সব প্রতিশোধস্পৃহা জাগতে থাকে (সেটি তালাক দেওয়া থেকে, মামলা, হামলা এমনকি খুনখারাবি কিংবা আত্মহত্যা)।

তবে এ রকম বেদনাদায়ক চিত্রের পাশাপাশি সুখী দাম্পত্যজীবনের উদাহরণও অসংখ্য রয়েছে। এঁরা তেমন কোনো সমস্যা ছাড়াই সুখী ও আনন্দিত সংসার জীবন যাপন করছেন। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ, দুজনই জিতবে (উইন-উইন) তেমন একটি কার্যকর, গঠনমূলক যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।

যোগাযোগ একটি দক্ষতার ব্যাপার। তাই সবাই এটি অর্জন করতে পারে। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ড. সুসান হেইটলার তাঁর পাওয়ার অব টু বইয়ে লিখেছেন কীভাবে দাম্পত্য-সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় । তিনি দম্পতিদের তিনটি ‘এল’ দক্ষতা অর্জন করতে বলেন। সেগুলো হলো লিসেন, লাভ ও লার্ন।

লিসেন অর্থাৎ মনোযোগ দিয়ে শোনা। খুঁত, ত্রুটির দিকে দৃষ্টি না দিয়ে অপর পক্ষ কী বলতে চাচ্ছে, তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।  প্রথমে অন্য পক্ষের ক্ষোভ, অভিযোগ, নালিশ সহমর্মিতার সঙ্গে শুনতে হবে। পরে ঠান্ডা মাথায় ও সুকৌশলে ভিন্নমত থাকলে তা বুঝিয়ে বলতে হবে।

লাভ অর্থাৎ ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসাকে মাঝে মাঝে রিচার্জ করতে হয়, নবায়ন করে নিতে হয়। ভালোবাসা মানে সঙ্গীর প্রতি উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি ছুড়ে দেওয়া। প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উষ্ণতা ছড়িয়ে দিন—সমর্থন, উৎসাহ প্রদান, ক্ষমা চেয়ে নেওয়া, সেবাযত্ন, কোমল কণ্ঠে ভালোবাসার কথা বলা, জড়িয়ে ধরা। আমার চেম্বারে এক নারী রোগী স্বামীর বিরুদ্ধে অনুযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদিন ভালোবাসলে কী হয়? প্রতিদিন আবেগ থাকলে ক্ষতি কী? এর জন্য তো কোনো টাকাপয়সা লাগে না স্যার।’

লার্ন অর্থাৎ শিখতে হবে। দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে হলে কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হয়। আমরা কেউ মায়ের পেট থেকে এগুলো শিখে আসি না। জীবন থেকে এগুলো শিখে নিতে হবে ও চর্চা করতে হবে। এগুলো নিজে ব্যবহার করে দেখুন অন্য পক্ষের আচরণে ও নাটকীয় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

পরিশেষে বলব, ‘হয় আমার পথে চলো, না হয় রাস্তা মাপো’—এ রকম মনোভাব পরিহার করে পারস্পরিক আনুগত্য মেনে নিলে দাম্পত্যজীবন হবে অনেক সহজ।

মো. তাজুল ইসলাম |
অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা
সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

প্রেম অথবা দাম্পত্য সম্পর্কে যে ভুলগুলো করবেন না

ভালোবাসি কথাটি বলা খুব সহজ হলেও এর ওজন কিন্তু অনেক বেশি। তাই শুধু ভালোবাসি বললেই কিন্তু সব কাজ শেষ হয়ে যায় না। কিন্তু তা বাস্তবে কতজন পারে? তাই বলে যারা পারেন তারা জয়ী আর যারা পারেন না তাঁদের হার এমনটা ভাবা হয়তো ভুল হবে। জীবনে প্রেম ও দাম্পত্য সম্পর্কে খুটিনাটি বিষয় নিয়ে মন কষাকষি হতেই পারে। তার মানে এই নয় যে যে সম্পর্কে ইতি টানতে হবে। কিন্তু অনেকেই তাঁদের সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান যা হয়তো কখনোই ভুলে যাওয়া উচিত না। চলুন তাহলে জেনে নিই সেই সেই বিষয়গুলি সম্বন্ধে।

অযথা বিষয় টেনে আনাঃ

মানুষ বলে কথা! আমরা এমন অনেকেই আছি যারা সম্পর্ক চলাকালীন সময়ে এমন এমন কিছু ব্যাপার নিয়ে কথা বলি যা নিয়ে আসলে কথা বলার কোন প্রয়োজনই নেই। আর এমন ধরনের কথা গুলো বলার সময়েই দেখা যায় মতে অমিল আর তখনই সম্পর্কে দেখা দেয় সমস্যা।

ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করে দেয়াঃ

মানুষ হিসেবে আমরা সবাই-ই কোন না কোন ক্ষেত্রে অন্য রকম। কেন বা কী কারণে আমরা কোন কাছের মানুষের ভুলকে ক্ষমা করতে পারিনা ও নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতেও পারিনা তা আমরা অনেকেই জানিনা। হয়তো খুব কষ্ট পাই আমরা, তাই ক্ষমাও করতে পারিনা এবং নিজের ইগোর কারণে ক্ষমা চাইও না। কিন্তু সম্পর্ককে সুন্দর ভাবে এগিয়ে নিতে হলে ক্ষমাশীল হওয়া খুব প্রয়োজন ও নিজের কোন ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়াও প্রয়োজন। এই বিষয়টি ভুলে গেলে চলবেনা।

অন্যকে নিয়ে গসিপ করাঃ

নারী কিংবা পুরুষ আমরা কম বেশি অনেকেই অন্যদের নিয়ে একজনের সাথে আরেক জন গসিপ করতে খুব ভালোবাসি। কিন্তু একবার চিন্তা করেও দেখুন আপনি যখন আপনার সঙ্গীর সাথে অন্য কাউকে নিয়ে গসিপ করবেন তখন আপনার সঙ্গী আপনাকে কেমন ভাবতে পারে? কিংবা ধরুন আপনারা দুজনে মিলেই অন্য কাউকে নিয়ে গসিপ করছেন যখন নিজেরা আলদা থাকবেন তখন একবার ভেবে দেখবেন এই বিষয়টি আপনাদের সম্পর্কের জন্য কতটা খারাপ। তাই অন্য কে নিয়ে কিছু বলার আগে নিজেকে নিয়ে ভাবুন।

নিজের ব্যক্তিত্বকে ভুলে যাওয়াঃ

সম্পর্ক আপনার যেমনই হোক কখনো নিজের ব্যক্তিত্বকে ভুলে যাবেন না। নিজের জায়গায় নিজেকে সৎ রাখুন। আপনার ব্যক্তিত্বকে নিজের কাছে এমন ভাবে আগলে রাখুন যেন কোন ভুল আপনাকে ছুঁয়ে যেতে না পারে।

কঠোর না হওয়াঃ

সম্পর্কে আমরা কেমন যেন কঠোর হয়ে যাই মাঝে মাঝে। কারণ জীবনে হয়তো এমন কিছু ঘটনা ঘটে থাকে যার কারণে হয়তো অনেকেই তাঁদের সঙ্গীর সাথে খুব কঠোর হয়ে থাকেন। কিন্তু মনে রাখা ভাল সম্পর্কে কখনোই কঠোরতা চলেনা। কারণ লেবু যতই কচলাবেন ততই তেতো রস বের হবে। তাই কঠোরতাকে ভুলে গিয়ে মনকে নরম রাখুন।

সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শুনাঃ  

সম্পর্কে অনেক পরিচিত একটি সমস্যা হল, সঙ্গী কী বলছে তা ঠিক মত না শোনা। আমরা অনেকেই আছি যারা শুধু বলতেই পছন্দ করি কিন্তু শুনতে পছন্দ করিনা। কিন্তু একে অপরকে কী বলছে কেন বলছে তা অবশ্যই মনযোগ দিয়ে শোনা উচিত।

অত্যধিক আশা করা থেকে বিরত থাকাঃ

কোন কিছুর আশা নিয়ে কি আর সম্পর্ক চলে বলুন? নিশ্চয়ই না। যখন কোন সম্পর্কে আপনি শুধু আশাই করে যাবেন তখন সেই সম্পর্ক কীভাবে ভাল থাকবে বলুন? তাই কোন কিছু আশা করার বদলে যতটা পারুন নিজের কাজটা করুন তাতেই সুখ বেশি। কিন্তু আমরা কেমন যেন মাঝে মাঝে খুব স্বার্থপর হয়ে যাই। সম্পর্কটা ‘দেয়া ও নেয়া’ টাইপের হয়ে যায়। কিন্তু এই ধরনের সম্পর্ক গুলোই কখনো টিকে থাকেনা।

মস্তিষ্কে মাদক ও প্রেমের অনুভূতি!

কথায় বলে, প্রেমের নেশা। প্রেমে পড়তে কে না ভালবাসে? উঠতি কৈশোর বা যৌবনে মানুষ আচমকাই প্রেমে পড়ে যায়। কারো লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট, তো কারও আবার কিছুটা সময় সেই বিশেষ মানুষের সঙ্গে কাটানোর পর মনে হয় – ‘প্রেমে পড়েছি’। কিন্তু সব কিছুর মোদ্দা কথা একটাই- ভালবাসা। সবাই বলে, প্রেমে পড়া ভাল। সব কিছু সমস্যার সবচেয়ে ভাল ওষুধ প্রেম। কিন্তু গবেষণা বলছে, প্রেম নাকি মাদকের মতো। একবার পড়লে ছাড়া মুশকিল।

ভাবতেই পারেন, এ আর নতুন কথা কী? যুগ যুগ ধরে তো তাই চলছে। যে মানুষ একবার প্রেমে পড়ে, সে বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই তো সম্পর্কে ভাঙন ধরলেও, তা থেকে মুক্তি পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। তবেই ভোলা যায় পুরনো প্রেমিক বা প্রেমিকাকে। ভুল নয়। কিন্তু এসব তো কথার কথা। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ-সহ একথা কখনও কাউকে বলতে শোনা গিয়েছে কি? অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন প্রেম তো মনের ব্যাপার। প্রেমের সঙ্গে ব্রেনের সম্পর্ক কী? সম্পর্ক আছে। অন্তত বিজ্ঞানীরা তেমনই প্রমাণ করেছেন। আর গবেষণা করে তাঁরা যে রহস্য আবিষ্কার করেছেন, তা জানতে পারলে চক্ষু চড়কগাছ হবে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মাদক নিলে মস্তিষ্কের যে অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, প্রেম করলেও ঠিক একই জায়গায় প্রভাব পড়ে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন ছাত্রছাত্রীর উপর এই গবেষণা চালানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে আটজন মহিলা ও সাতজন পুরুষ। তাদের ছবি, সঙ্গী-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তারপরই উঠে আসে এই বিস্ময়কর তথ্য।

দেখা যায়,  কেউ যদি সম্পর্ক নিয়ে কষ্টে থাকে, তবে তাকে তার প্রিয়জনের ছবি দেখালে, ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ঠিক পেনকিলারের মতো। শুধু তাই নয়। তাদের ব্রেন স্ক্যান করেও এক অদ্ভুত জিনিস দেখা গিয়েছে। যদি কোনও মানুষ মাদক নেয়, তবে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশে তার প্রভাব পড়ে। এক্ষেত্রেও ঠিক তাই। মানুষের অনুভূতি- যেমন প্রেম বা আবেগ মস্তিষ্কের সেই বিশেষ অংশকেই প্রভাবিত করে। পর্যবেক্ষণে এও দেখা গিয়েছে, মানুষের কষ্ট যদি মারাত্মক হয় তবে প্রিয়জনের ছবি দেখলে তা ১২ শতাংশ পর্যন্ত লাঘব হয়। আর কষ্ট যদি ততটা তীব্র না হয়, তাহলে ৪৫ শতাংশ পর্যন্তই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এই প্রিয়জনের ছবি অবশ্যই প্রেমিক বা প্রেমিকার। অন্য কোনও প্রিয়জনের ছবি দেখালে মস্তিষ্কের সেই বিশেষ জাদু প্রভাব সক্রিয় হবে না। সুতরাং, প্রেমে থাকুন, ভালো থাকুন।

বিয়ে নিয়ে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা

জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এই তিনটি বিষয় নিয়ে নাকি মানুষের জীবন। তবে জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে মানুষ যতটা না ভাবে, বিয়ে নিয়ে তারও অধিক ভেবে থাকে। আর এই বিয়ে বা বিবাহিত সম্পর্ক নিয়ে একেকজনের ভাবনা একেক রকম। কেউ বিয়ে বিষয়টা ইতিবাচক হিসেবে দেখে কেউ বা নেতিবাচক। বিয়েটা কারো কাছে ভয়ের কারণ, আবার কারো কাছে উপভোগ্য। সবকিছুই নির্ভর করছে বিয়ের সম্পর্কটির ব্যাপারে কে কতটা শ্রদ্ধাশীল, দায়িত্বশীল এর ওপর। তাই বিবাহিত জীবন কেমন হবে তা নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রী দুজনের ওপর। তবে তাদের অবশ্যই জানতে হবে বিয়ে নিয়ে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা।

বিয়ে নিঃশর্ত ভালোবাসার নিশ্চয়তা দেয় নাঃ
মানুষ ২৪ ঘণ্টাই একে-অপরের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে না। কিছু সময় থাকে যখন ভালোবাসা উপলব্ধি করা যায় না। কেননা, তখন হয়তো ভালোবাসা উপলব্ধি করার সময় নয়। এটাই বিয়ে, ভালোবাসা নয়। তবু তারা বিবাহিত।

বিয়ে সব সমস্যা সমাধান করবে নাঃ
কিছু দম্পতি অনেক সময়ই মনে করে বিয়ের পর অন্য ব্যক্তিরা তাদের সব সমস্যা ঠিক করে দেবে, তাদের সুখী করবে, পুরোপুরি সমর্থন যোগাবে, তাদের সব কাজ উপভোগ করবে এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা দেবে এটি একদমই ভুল ধারণা। আর আপনি যদি এসব বিশ্বাস করে বিয়েতে জড়ান তাহলে মনে রাখবেন আপনার জন্য কষ্ট অপেক্ষা করছে।

স্বাভাবিক বিয়ে বলতে কিছু নেইঃ
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোনটা ভালো, কোনটা স্বাভাবিক, কোনটা গ্রহণযোগ্য বা নয় তা বিয়ের ক্ষেত্রে আদর্শ মানদণ্ড বলতে কিছু নেই। বিয়ের পর কী করা উচিত, কী উচিত নয় তা কেউই বলে দিতে পারে না। এটাই পুরোই আপনার দায়িত্ব কীভাবে বিবাহিত সম্পর্কটা রক্ষা করবেন বা চালিয়ে নিবেন। কারো কাছ থেকেই আপনি এ বিষয়ে সঠিক উত্তর পাবেন না। তাই জানতে না চাওয়াটাই ভালো।

বিবাহিত সম্পর্ককে সফল করতে একাধিক ব্যক্তির প্রয়োজনঃ
একটি বিবাহিত সম্পর্ক উন্নয়নে বন্ধু এবং পরিবারের বিশেষ সমর্থনের দরকার রয়েছে। একটি বৈবাহিক সম্পর্ক সফল করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারো না কারো হস্তক্ষেপের দরকার হয়। সবসময় নিজেদের ব্যপারে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে নেই।

ত্যাগ বা ছাড় দেয়া গুরুত্বপূর্ণ অংশঃ
ভালোবাসা কিংবা বিবাহিত যে সম্পর্কই হোক না কেনো ত্যাগ বা ছাড় দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আবার ত্যাগ বা ছাড় দেয়া কোনো কাজে দেবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না বিবাহিত সম্পর্কটি আপনার কাছে গুরুত্ব না পাচ্ছে। আপনি কখন ঝগড়া করবেন, কখন চুপ থাকবেন এটা বোঝাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

উপযুক্ত সঙ্গী বাছাই করুন ভেবে চিন্তে আবেগে নয়!

ভালো খারাপ সব মিলিয়েই মানুষ। তবে সঙ্গী নির্বাচনে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। এসব গুণ সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। কখন কাকে ভালো লাগবে বা কার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠবে তা আগে থেকে বলা যায় না। তবে কাউকে ভালোলাগলেই তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে বরং কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। সম্পর্ক-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত সেগুলো এখানে জানানো হল।

মানসিক পরিপক্কতা: ‘নো ওয়ান ইজ পারফেক্ট’। একদম নিখুঁত মানুষ খুঁজতে গিয়ে আপনি নিজেই হতাশ হয়ে পড়বেন। তাই নিখুঁত মানুষ না খুঁজে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং তা সাদরে গ্রহণ করতে পারে এমন মানসিক পরিপক্কতা সম্পন্ন সঙ্গী খুঁজে বের করুন। যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এবং সম্পর্ককে মানসিকভাবে গুরুত্ব দিতে পিছপা হয় না। এমন মানুষই উপযুক্ত সঙ্গী।

সততা: সত্য কথা অনেক সময় কষ্ট দিতে পারে। সম্পর্কে সৎ থাকাটা খুব জরুরি। যখন তখন মিথ্যা বলে এমন মানুষের চেয়ে যে আপনার সঙ্গে সবসময় সত্য কথা বলে এমন মানুষকেই সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করা ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে সৎ নয় এবং যাদের বন্ধন দুর্বল তারা একে অপরের সঙ্গে মিথ্যা বলে।

সংবেদনশীল: যার সঙ্গে জীবনের অনেকটা সময় কাটাতে চান তাকে অবশ্যই আপনার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। আপনার প্রয়োজন, অনুভূতি সব কিছুর প্রতিই সংবেদনশীল হতে হবে। আপনার প্রতি মনোযোগ নেই এমন মানুষের সঙ্গে বাকিটা জীবন কাটানোর চিন্তা করবেন না। সম্পর্ক উন্নয়নে পুরুষের ক্ষেত্রে এটা দুর্লভ এবং অসাধারণ একটা গুণ।

অনুরক্ততা: জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া সম্পর্ক রক্ষার একটা পথ। এতে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক আকর্ষণ সম্পর্কের জন্য জরুরি। তাই এমন মানুষ খুঁজে বের করুন, যে নির্দ্বিধায় আপনার প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে।

সম্মান করা: সঙ্গীকে সম্মান করা সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে। এমন সঙ্গী নির্বাচন করুন, যে আপনাকে মানুষ হিসেবে এবং মতামত ও কর্মজীবনকে শ্রদ্ধা করে। পাশাপাশি আপনি যেভাবে জীবনযাপন করছেন সেটা নিয়ে যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে।

শীতকালে বিয়ের হিড়িক পড়ে কেন!

সাধারণত শীতকাল এলেই বিয়ের হিড়িক পড়ে যায়। এজন্যে শীতকালকে বলা হয়ে থাকে বিয়ের মওসুম। শীতের সময় দিন ছোট হলেও এ মওসুমে বিয়ে করার রয়েছে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা। তাই শীতকালে বিয়ে সাদী বেশি হবার কারণ ও সুযোগ সুবিধা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

অতিরিক্ত বাজার করতে হবে না: শীত এলেই অনেকের ঠোঁট ফাটার সমস্যা হয়, আবার কারও বাতের ব্যারাম চেইত্তা যায়, অনেকের প্রেসার দিনে একশোবার আপ-ডাউন করে। আর সেই কারণে অনেক মানুষই বেশি খেতে পারে না। আর বেশি খেতে না পাড়া মানে আপনার বাড়তি বাজারের টাকাটা বেচে গেল।

মৌসুমী ফল কেনার টেনশন নেই: গরম কালের মতো শীতে আম, লিচুর অতো বাম্পার ফলন নেই, তাই ফল কেনার ঝামেলাও নেই। একান্ত দরকার হলে ফল নয় বরং বাম্পার সবজি ফুলকপি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে চলে যান। এত বড় সাইজের ফুল পেয়ে কার না মন ভালো হয়? পছন্দ না হলেও সমস্যা নেই রান্না করে খেয়ে ফেলা যাবে।

কারেন্ট বিল বেঁচে যায়: শীতকালে এমনিতেই ফ্যান চলে না, তার ওপর নতুন বউ ঘরে থাকলে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর একটা তাড়া থাকে বলে গুজব আছে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমানো মানে, সব লাইট-টিভি বন্ধ। আর সেই কারণে আপনার বিলটাও কম আসবে। বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

এনার্জি: দাওয়াত, খাওয়া-দাওয়া, প্যান্ডেল- কতো কাজই না করতে হয় বিয়েতে! ৪-৫ দিনের ধকল। সবাই মিলে হাত লাগিয়ে সারতে হয়। রাত জাগা, প্রভৃতি উৎপাতে এনার্জি খরচ হয় বিস্তর। তাই শীতই সই। শীতে অনেক কাজ করলেও এনার্জিতে ঘাটতি দেখা যায় না।

সাজগোজের ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ: এ দেশের যা আবহাওয়া, শীত বাদে বাকি সময়টায় মেকআপ লাগিয়ে সাজলে মুশকিল। ঘেমেনেয়ে গলে গলে পড়ে সব সাজ। তাই কনের সাজ হোক বা বরের, শীতে যেমন খুশি সাজো, কুছ পরোয়া নেহি। বর-কনে ছাড়া বাকিরাও বিয়েবাড়ির সাজের আনন্দ নিতে পারে চুটিয়ে।

কত ফুল, কত ডেকরেশন: সকৃত্রিম ফুলের প্রয়োজনও হয় না শীতকালে। ডালিম, রজনীগন্ধা, অর্কিড, গাঁদা, গোলাপ, জুঁই – সব টাটকা টাটকা পাওয়া যায় হাফ দামে। এবেলা সাজালে ওবেলায় পচে যায় না।

যত খুশি খাও: অম্বল হবে না। এমনিতেই শীতে হজমশক্তির বৃদ্ধি ঘটে। তাই ফিশফ্রাই, রোগানজোশ, বিরিয়ানি, পোলাও সবই এক থাকায় গপগপিয়ে সাবাড় করা যায় বিনা দ্বিধায়। তা ছাড়া, শীতকালীন কিছু বিশেষ খাবার ওঠে, যেমন গুড়, কমলা লেবু। সে সব খাওয়া দাওয়াকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়।

হানিমুনের চার্ম: বিয়ের পর খুব বেড়ানো যায়। রোদের তাপ নেই। ক্লান্তি নেই। বরের হাত ধরে নতুনের স্বাদটা ভালোই উপভোগ করা যায় শীতে।

কোনো ভুল ছিল কি! এমন প্রশ্ন মনে উঁকি দিচ্ছে?

দ্বিধান্বিত মনের কারণে পড়াশোনা ও নিজের জীবনে যেন সময় দিতে পারছেন না দুজনে। হতাশা ভর করে সময় গুনে যাচ্ছেন ।  যেকোনো সম্পর্কের শেষের সময়টুকুতে আমরা ভেঙে পড়ি। দোষ-ত্রুটি আর ব্যর্থতাকে ধারণ করে জীবনকে অবসাদময় করে তুলি, যা আসলে ঠিক নয়। সম্পর্কচ্ছেদে মন খারাপ হতেই পারে, কিন্তু সেই মন খারাপ কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যাবে না। নিজের  জীবন বিকাশের জন্য সামনে পা বাড়াতে হবে। আপনি যদি নিজের মনকে বুঝতে পারেন, তাহলে যেকোনো দ্বিধা কাটিয়ে সামনে যেতে পারবেন। সম্পর্কচ্ছেদ নিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিৎ।

দোষ-ত্রুটি নিয়ে ভাববেন নাঃ

সম্পর্কচ্ছেদের পরে আমরা সবচেয়ে বেশি ভাবি কার দোষ কিংবা কে দায়ী। মনের সঙ্গে লড়াই করে আমরা ব্যর্থতার জন্য কারণ খুঁজে বের করি। নানা কারণেই সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু তাই বলে দোষ-ত্রুটি খুঁজে নেতিবাচক আচরণ করবেন না। দোষ-ত্রুটি মনে আসতে পারে, তা কাটিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই কিন্তু জীবন।

এগিয়ে যেতে হবেঃ

যত দিনের সম্পর্ক থাকুক না কেন, কিংবা যত গভীর সম্পর্ক থাকুক না কেন, আপনাকে এগোতেই হবে। আপনি যদি অতীতের কথা ভাবতে থাকেন, তাহলে আরও বেশি হতাশাগ্রস্ত হবেন, কষ্ট পাবেন। রাতের পর রাত জেগে অতীতের সুন্দর সময়ের কথা ভাবলে আপনি আপনার বর্তমানকে নষ্ট করবেন। বর্তমান নষ্ট হলে কি আর দারুণ ভবিষ্য তৈরির সুযোগ থাকে, বলুন।

নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া থাকতে হয়ঃ

সম্পর্কচ্ছেদ মানেই কিন্তু ব্যর্থতা নয়। নিজের মনের সঙ্গে কথা বলুন। নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন। এমন অবস্থায় আপনিই কিন্তু আপনার সবচেয়ে বড় সহায়। সম্পর্ক ভেঙে নিজেকে অপরাধী কিংবা দোষী ভেবে নিজেকে ছোট ভাবা ঠিক নয়। জীবনে অন্য সব সাফল্য-ব্যর্থতার মতোই সম্পর্কচ্ছেদকে ভাবুন।

ক্ষমা করতে শিখুনঃ

বিচ্ছেদের পর আমরা নিজেকে ক্ষমা করি না, নিজেই যেন নিজের শত্রু হয়ে যাই। আবার যে মানুষটিকে ভালোবাসতাম, তাকেও অপরাধী হিসেবে কল্পনা করতে থাকি, যা মোটেও ঠিক নয়। ওপাশের মানুষটিকে ক্ষমা করে, নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে নতুন করে সামনে পা বাড়াতে শিখুন।

নিজের পায়ের ওপর দাঁড়াতে শিখুনঃ

বিচ্ছেদের পরে নিজেকে একাকী ভাবা শুরু করি আমরা। বন্ধুবান্ধব ও পরিবার থেকেও বেশ দূরে সরে যাই। এ সময়টায় নিজেকে নতুন করে চেনার চেষ্টা করুন। অতীতের গোলকধাঁধায় নিজেকে আটকে রাখবেন না। নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করুন।

নিজেকে শ্রদ্ধা করুনঃ

সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরে নিজেকে ছোট আর দুর্বল মনে হয়। এটা কখনো ভাববেন না। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, নিজেকে কখনো অসম্মান করবেন না।

দৃঢ় চিন্তা করতে শিখুনঃ

সম্পর্ক থাকাকালীন ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক ভাবনা ভাবি আমরা, আর বিচ্ছেদ হলেই বিরহ। সম্পর্কের সমীকরণ ভেঙে গেলেও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনবেন না। সব সময় ইতিবাচক ও সৃজনশীল ভাবনায় মনকে ব্যস্ত রাখুন।

নারীর মন, নারীর যত চাওয়া

আকাশের রং আর নারীর মন নাকি ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায়! এ কথা হয়তো পুরুষেরাই প্রচার করেছেন। কিন্তু এমন ধারণার নেপথ্যে রয়েছে একজন পুরুষের কাছে নারী কখন কী চান, তার উত্তর খুঁজে না পাওয়ার রহস্য। উত্তর মিলুক বা না মিলুক চিরদিনই পছন্দের নারীর মন পেতে পুরুষেরা মরিয়া হয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন। তবে আশার কথা হলো দুনিয়াজুড়েই পুরুষের কাছে নারীর চাওয়া এবং পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে কিছু সাধারণ মিল আছে।

মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুরুষের কাছে নারীর কয়েকটি সাধারণ চাওয়ার তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।

সুপারম্যান: নারীর স্বপ্নের পুরুষ: সব সময়ই তাঁর নিরাপত্তা চান নারী। নারীর চাওয়া, তাঁর পুরুষ-সঙ্গীটি সুপারম্যানের মতো তাঁকে আগলে রাখুক, তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক। তাই পুরুষের উচিত, তাঁর নারী-সঙ্গীর সব বিপদ-আপদে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসা, পাশে থাকা। নারী-সঙ্গীকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া যে, সে থাকতে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

সুঘ্রাণেও নিজস্বতা: বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, কোনো বিশেষ ব্র্যান্ডের সুগন্ধি ব্যবহারের পর পুরুষের কাছে ছুটে আসে কত নারী! বিজ্ঞাপনগুলো বেশ নাটকীয় হলেও এ ধারণার বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। এমন সুগন্ধি বা ঘাম-প্রতিরোধক ব্যবহার করুন, যা আপনার সঙ্গে যায়। বিশেষ করে নারী-সঙ্গীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের দিন কোনোভাবেই সুগন্ধি ব্যবহার করা নিয়ে পরীক্ষা চালানো ঠিক হবে না। বন্ধুর দারুণ সুগন্ধিটি আপনার সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে সচেতন ও সতর্ক হন।


চমক আর চমক: 
চমক পেতে পছন্দ করেন নারীরা। এ চমক হতে পারে বই, তাকে নিয়ে লেখা কবিতা, হাতে লেখা প্রেমপত্র, একগুচ্ছ ফুল, চকলেট কিংবা কোনো আকর্ষণীয় উপহার। চমকের ক্ষেত্রে সংখ্যা বা দামি উপহার দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং সঙ্গীর মন বুঝে তাকে বিস্মিত করতে পারাটাই আসল কাজ।


সততাই সর্বোত্তম: 
কথায় বলে, সততাই সর্বোত্তম পন্থা। সম্পর্কের সব পর্যায়েই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। বাস্তবতা যতই তিক্ত হোক না কেন, সবকিছুতেই পুরুষের কাছ থেকে নারী-সঙ্গী সততা আশা করেন। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে মিথ্যা ও অসততা। তাই এ দুটি বাজে অভ্যাস পুরোপুরি পরিহার করুন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্য কথায় বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে আপনি সঙ্গীর বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন।


শারীরিক কাঠামো: 
যে যা-ই বলুক না কেন; স্বাস্থ্যবান, সবল, সুঠাম-দেহী ও লম্বা পুরুষের প্রতি অনেক নারীরই দুর্বলতা থাকে। নারী চান, তাঁর প্রিয় মানুষটি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও সুদর্শন হোক। এটা নিয়ে তিনি গর্ববোধ করেন। তাই শরীরের যত্ন নিন। পুরুষেরা নিজেকে সুস্থ ও সবল রাখুন।


পোশাক-পরিচ্ছদ: 
ব্যক্তিত্ব ও রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটায় পোশাক-পরিচ্ছদ। মার্জিত, জুতসই ও রুচিশীল পোশাক-পরিচ্ছদে অভ্যস্ত পুরুষকে নারীরা গুরুত্ব দেন। নারীরা চান, তাঁর পুরুষ-সঙ্গীটি সব সময় পরিপাটি থাকুক। এ কারণে প্রিয়ার মন জয়ে সব সময় রুচিশীল পোশাক পরুন। মানানসই ফ্যাশন অনুসরণ করুন।


চুল: 
আধুনিক পোশাক পরেও চুলের সেকেলে স্টাইলের জন্য একজন পুরুষ পিছিয়ে যেতে পারেন। চুলের স্টাইলও রুচি ও ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। চেহারা, শারীরিক গঠন ও পোশাকের সঙ্গে চুলের মানানসই স্টাইল পুরুষকে নজরকাড়া করে তুলতে পারে। নারীকে মুগ্ধ করে টানতে পারে কাছে। সঙ্গীর খাপছাড়া স্টাইলের চুল নারীর একদমই অপছন্দ। নারী তাঁর পুরুষ-সঙ্গীর চুলের স্টাইলে পুরুষত্বের বহিঃপ্রকাশ খুঁজে পান।

রান্নার জাদু: নারী-সঙ্গীকে কোনো দামি রেস্তোরাঁয় নিয়ে যেতে পারেন, পারেন দামি সব খাবার খাওয়াতে। কিন্তু কোনো পুরুষ যদি নিজ হাতে পছন্দের কোনো খাবার রান্না করে উপস্থাপন করেন, তা নারী-সঙ্গীকে এতটাই মুগ্ধ করবে যে ওই মুহূর্তের কথা কখনোই ভুলবেন না তিনি। সুত্রঃ প্রথম আলো