শর্ত : বিয়ের পর বউ চাকরি করতে পারবে না

বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। আধুনিক প্রতিষ্ঠিত ছেলেটি চান ভালো মেয়ে, সুন্দর, বনেদি পরিবার ও শিক্ষিত। আর মেয়েটি যদি মেধাবী হন, তা হলে তো ষোলোকলা পূর্ণ। তবে শর্ত একটি, বিয়ের পর বাড়ির বউ চাকরি করতে পারবে না। আধুনিকতার মুখোশের আড়ালে এমন সংকীর্ণতা অনেক পাত্র ও তাঁর পরিবারের মধ্যে দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতায় সফল মেয়েটি অনেক সময় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবারের কথা ভেবে অনাকাঙ্ক্ষিত অশান্তি এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত মেয়েরা নেন। বিয়ের পর স্বামী চান না বলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকেন অনেকেই। স্বামী বা শ্বশুরবাড়িকে খুশি করলেও নিজের ভেতরে গুমরে কেঁদে মরেন তাঁরা। নারীর ক্ষমতায়ন, আধুনিকতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা কপচানো অনেক পুরুষই বাস্তবে কর্মজীবী স্ত্রী পছন্দ করেন না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অরিনের বিয়ের কথা চলছে। একজনের সঙ্গে বিয়ের পাকা কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়নি। রুচিশীল শিক্ষিত ছেলেটিকে অরিনের ভালো লেগেছিল। কিন্তু বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে ছেলেটি শর্ত দিয়ে বসলেন—বিয়ের আগেই অরিনকে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। কেননা, তাঁর বউ চাকরি করলে লোকে নাকি ভাববে, ভরণ-পোষণ দিতে পারছেন না। এমন হাস্যকর যুক্তি মেনে না নিতে পারায় বিয়েটা শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল। এ বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় নাকি এখন অনেক বিয়ের কথাই বেশি দূর এগোচ্ছে না। হতাশ হয়ে অরিনের মা-বাবা মনে করেন, এই সামান্য শর্ত মানলে কী এমন ক্ষতি হতো!বিয়ের পর চাকরি ও সংসার কি একসঙ্গে সামলাতে পারবে? সন্তান হলে তাকে কাজের লোকের কাছে বড় হতে হবে। সারা দিন কাজ শেষে বউ বাড়ি ফিরবে। তখন পরিবারকে সময় দিতে চাইবে না। আর চাকরি করলে বউ বশে থাকে না। নিজের স্ত্রী চাকরি করার বিপক্ষে এসব যুক্তি দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ছেলে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, ভালো মেয়েরা চাকরি করেন না।

ছেলেদের এসব যুক্তির সঙ্গে মেয়েরা কি একমত? ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন হুমায়রা (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর আমি চাকরি ছেড়ে দেব। আমার সন্তান একা বড় হবে, এটি চাই না। এতে আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকবে না কিংবা ব্যক্তিত্বে প্রভাব পড়বে, এমনটি মনে করি না। সুন্দরভাবে সংসার করাও একটি শিল্প।’

তা হলে এত দূর পড়াশোনা করার কোনো মূল্যই থাকবে না! বিয়ে নামের সামাজিক বন্ধন স্বপ্ন পূরণে বাধা দেবে, এটি মানতে পারেন না নৌশিন। তিনি মনে করেন, ভালো বোঝাপড়া থাকলে সংসার ও চাকরি—দুটোই সামলানো সম্ভব। এখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই ছাড় দিতে হবে। পরস্পরকে সহনশীল হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর যে ছেলে কোনো মেয়ের স্বপ্ন ও কাজকে শ্রদ্ধা না করবে, তিনি স্বামী হিসেবে কতটা ভালো হবেন, এ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। হুমায়রা আর নৌশিনের বাইরেও আছেন অনেকে। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সেটা নিতে হবে মেয়েটিকেই। মেয়েটি যদি সবকিছু ঠিকঠাক সামলাতে পারে তা হলে সমস্যা কিসের!

অনেক সময় মেয়ের অভিভাবকেরাও চান, এই সামান্য ছাড় দিলে কী হয়? চাকরির জন্য সংসার টিকবে না, এটি তাঁরা মেনে নিতে পারেন না। ফলে মেয়ের মতামত গুরুত্ব পায় না তাঁদের কাছে। ব্যতিক্রমও আছেন কেউ কেউ। সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের তিন মেয়েই কর্মজীবী। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ের কথা চলছে। তিনি ভাবতেও পারেন না, তাঁর মেয়েরা কখনো চাকরি ছেড়ে দেবেন। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মা-বাবা পাশে থাকলে মেয়েরা সব পারে। আমার তিন মেয়ে চাকরি করে। এটি কত বড় গর্বের, তা বোঝানো যাবে না। পাত্রপক্ষ কিছু বলার আগেই বড় দুই মেয়ের বিয়ের সময় আমি উল্টো শর্ত দিয়েছিলাম, বিয়ের পর মেয়েকে চাকরি করতে দিতে হবে।’

অভিভাবকদের বুঝতে হবে, মেয়ে স্বাবলম্বী হলে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন। হতেই পারে বিয়ের পর স্বামীকে কোনো কারণে সাহায্য করতে হলো। তার চেয়ে বড় কথা, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী ঘরে বসে না থেকে কাজ করলে পরিবার থেকে দেশ—সবার জন্যই ভালো। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে ছেলেদেরই। চাকরিজীবী স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। শুধু মুখে মুখে আধুনিক না হয়ে কাজেও দেখাতে হবে।

রাতারাতি সবার মানসিকতার পরিবর্তন হবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনও জরুরি। নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করতে হলে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তাঁর সঙ্গে একমত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি জানান, ছেলেদের এই মনোভাব নারীর জন্য ইতিবাচক নয়; বরং বিবাহিত জীবনেও অনেকখানি ঝুঁকি রয়ে যায়।বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে হলেও অনেক সময় মেয়েদের এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাবোধ অন্যতম একটি কারণ। বিয়ের পর সন্তানের মা হওয়ার পর বাড়িতে কোনো লোক না থাকলে, অফিসে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র না থাকলে তখন সাধারণভাবে মাকেই চাকরি ছাড়ার কথা বলে সবাই।ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেই পরিবেশ বাড়ির সদস্যদের বা প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।

-তৌহিদা শিরোপা

তরুণদের বিয়ে ভীতি

পুরুষের বিয়ে ভীতি। শুনতে নিশ্চয়ই অবাক করার মত কথা। হ্যাঁ, আজকাল তরুণদের একটা বড় অংশের বিয়ে ভীতি রয়েছে। আর এই বিয়ে ভীতির কারণ অর্থ-বিত্তের অভাব, বেকারত্ব, শারীরিক অসুস্থতা, পাত্রী অপছন্দ, নতুন জীবনে পদার্পণ বা দাম্পত্য আতংক এসব কিছুই নয়। বিয়ে ভীতিতে আক্রান্ত তরুণ-যুবকদের বৃহত্তর অংশ মনে করে তাদের জীবন শেষ হয়ে গেছে। তারুণ্য-যৌবনে শরীরের ওপর অত্যাচার-অবিচার, ক্ষেত্রবিশেষে মাদক সেবন এবং নারীর সংস্পর্শে এলে নিজের নিষ্ক্রীয়তার অভিজ্ঞতা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যৌনজীবন নিয়ে ভুল ধারণা এবং মানসিক সমস্যা এবং কিছু কিছু মেয়েদের অতিরিক্ত জ্ঞান তরুণদের বিয়ে ভীতির প্রধান কারণ। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা নেই তা বলা যাবে না। তবে ডাক্তারদের চেম্বারে আসা বিয়ে ভীতিতে আক্রান্ত তরুণদের শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগেরই কোন শারীরিক সমস্যা নেই। গত ছয়মাসে আমার চেম্বারে আসা বিয়ে ভীতিতে আক্রান্ত শতাধিক তরুণ ও যুবকের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় শতকরা ৮০ ভাগের কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা নেই।

শতকরা ৫ ভাগের প্রয়োজনীয় কিছু হরমোনের ঘাটতি রয়েছে যা চিকিৎসাযোগ্য, শতকরা ১০ ভাগের শরীরে প্রয়োজনীয় শুক্রাণুর অভাব রয়েছে (আলগেস পাকিস), শতকরা ২/৩ ভাগের শরীরে কোন শুক্রাণু নেই (অ্যাজোসপারসিযঅ)। এছাড়া শতকরা যে ২০ ভাগের কিছু কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা অন্ততঃ ৫ ভাগের যৌন সমস্যা (ইম্পোর্টেন্স) রয়েছে। এ তথ্য আন্তর্জাতিক গবেষণা তথ্যের সঙ্গে সঙ্গাতিপূর্ণ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমাদের দেশের তরুণরা অধিক সুঠাম ও সক্ষম। তবুও তরুণদের বিয়ে ভীতি কেন। এসব তরুণদের কাছে চেম্বারে আমি পাঁচটি প্রশ্ন করে থাকি। কেমন করে তারা বুঝতে পেয়েছে তারা ফুরিয়ে গেছে বা শারীরিক যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের এই ধারণার পিছনে কোন বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে কি? শারীরিক শক্তি ফিরিয়ে কোন ওষুধ সেবন করেছে কি, ইত্যাদি ইত্যাদি। তরুণ-যুবকদের বিচিত্র সব জবাব, অভিজ্ঞতা, এসব তুলে ধরার কোন ইচ্ছা আমার নেই। এছাড়া রোগীর গোপন তথ্য প্রকাশ মেডিক্যাল এথিকস অবমাননার পর্যায়ে পড়ে। তাই এসব নিয়ে দীর্ঘ বর্ণনার কোন ইচ্ছে নেই। তবে এ কথাটি সত্য, তরুণদের বিয়ে ভীতির কারণের পিছনে যেমন অজ্ঞতা, মানসিক সমস্যা এবং তরুণদের একটি বড় অংশের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেতিবাচক হওয়ায় (যার শতকরা ৯৯ ভাগ বিয়ের পর ঠিক হয়ে যায়) বিভ্রান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি একশ্রেণীর তথাকথিত যৌন সমস্যা চিকিৎসক নামধারীদের অজ্ঞতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে তরুণদের যৌন ভীতি বেড়ে যাচ্ছে। বিয়ে করেনি এমনসব তরুণদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেক্স স্টিমুল্যান্ট ট্যাবলেট দেয়া হয়। ফলে এসব তরুণরা মনে করে তাদের নিশ্চয়ই যৌন সমস্যা রয়েছে। এতে তরুণদের সাময়িক শারীরিক ফিটনেস বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এমনকি একাধিক তরুণ অকপটে শিকার করেছেন ডাক্তারের দেয়া যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছেন। এসব বিয়ে ভীতি বা যৌন ভীতিতে আক্রান্তদের বেশির ভাগের প্রায় একই মন্তব্য যতদিন ট্যাবলেট সেবন করেন ততদিন ভালো থাকেন। ওষুধ সেবন শেষ তো সবশেষ। অথচ এসব তরুণের শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগই শারীরিকভাবে সুস্থ এবং কেবলমাত্র যথাযথ কাউন্সিলিং করতে পারলে কোন প্রকার যৌন উত্তেজক ওষুধ ছাড়াই তরুণদের বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে আমি আগেও বলেছি শুধু বাংলাদেশের তরুণদেরই বিয়ে ভীতি এবং যৌন ভীতি বেশি। এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেবো। আমি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে চর্ম ও যৌন রোগের ওপর পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার সময় সিঙ্গাপুর ডিএসসি ক্লিনিকে কিছুদিন অবজারভার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেই। প্রচুর বাংলাদেশী তরুণ আসতো এ ক্লিনিকে। সিঙ্গাপুর ডিএসসি ক্লিনিক বাংলাদেশের যেকোন প্রাইভেট হাসপাতালের চেয়ে বড় কেবলমাত্র যৌন রোগীদের চিকিৎসা করা হয় এই ক্লিনিকে। আমি দেখেছি সিঙ্গাপুরে চাকরিরত বাংলাদেশী তরুণরাও নানা ভুল ধারণার কারণে নানা ধরনের যৌন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব তরুণের অনেকেরই যৌন জীবন নিয়েও রয়েছে নানা বিভ্রান্তি। কয়েকমাস আগে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের অন্যতম চিকিৎসক ডাঃ শক্তির সঙ্গে আমার পূর্ব নির্ধারিত মিটিং ছিল। তিনি একাধিকবার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যা হোক, ডাঃ শক্তি যৌন সমস্যার রোগীদের চিকিৎসা করেন। বাংলাদেশ থেকে বেশকিছু রোগী যায় ব্যাংকক হাসপাতালে। ডাঃ শক্তি আমাকে প্রায় একই রকম তথ্য দিলেন। বাংলাদেশী রোগীদের শারীরিক বা যৌন সমস্যার চেয়ে মানসিক সমস্যাই বেশি।

থাক এসব কথা। তরুণদের বিয়ে ভীতি আসলে মোটেও শারীরিক সমস্যার কারণে হয় না। যৌবনে অধিকাংশ পুরুষই কিছু অনাকাঙ্খিত অভ্যাসের শিকার হয়। এর জন্য শরীরের যৌন শক্তি শেষ হয়ে যাবে এটা নিতান্তই ভুল ধারণা। শরীরে যৌন শক্তি নামে আলাদা কোন শক্তি নেই। শারীরিক সুস্থতা, সুঠাম দেহ, মানসিক প্রশান্তি থাকলে এবং পরস্পরের সুন্দর সম্পর্কও সমঝোতা থাকলে প্রাত্যহিক জীবনের অন্যসব কাজের মত দাম্পত্য জীবনও সুখের হতে পারে। তাই বিয়ে ভীতির কারণে তরুণদের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করা উচিত নয়। এছাড়া এজন্য অযথা ডাক্তারের চেম্বারে যাবারও কোন দরকার নেই। তবে বিয়ের পর যদি কোন শারীরিক সমস্যা থাকে এবং এ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশংকা তৈরি হয় তখন যেকোন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। যদি ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে তা আবশ্যই চিকিৎসায় ভালো হয়। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা-ওষুধ ছাড়াই কাউন্সিলিং তরুণদের বিয়ে ভীতি দূর এবং বিবাহ পরবর্তী জীবন সুন্দর হতে পারে।

লেখকঃ ডাঃ মোড়ল নজরুল ইসলাম,
চুলপড়া, যৌন সমস্যা ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং লেজার এন্ড কসমেটিক্স সার্জন

সিঙ্গেল মাদার ও কিছু ক্রাইসিস

এমন অনেক মা আছেন, যারা সিঙ্গেল মাদার হিসেবে সন্তানকে পালন করেন। তারা কেউ বিধবা, কেউ বা ডিভোর্সি। তবু সন্তানকে বড় করার জন্য তাদের একাই হয়ে উঠতে হয় সন্তানের বাবা-মা দুই-ই। এইখানে মায়ের দায়িত্ব সরু দড়ির ওপর দিয়ে চলার মতোই কঠিন। বাবার মতো কঠিন হয়ে শাসন করতে হয়, মায়ের মতো স্নেহ দিয়ে আবার সে দুঃখ ভুলিয়ে দিতে হয়। বাবার মতো বাইরের দুনিয়া থেকে সন্তানকে আড়াল করতে হয়। আবার মায়ের মতো পরিবারের ভেতরের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে হয়, যাতে সন্তানের পরিবার চালনার এবং পরিবারের একজন হয়ে ওঠার দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

এই বিশেষ ধরনের সম্পর্কে নানা রকম সংকটই তৈরি হতে পারে। যেমন, কেবলমাত্র মায়ের সঙ্গেই বড় হয়ে ওঠার ফলে পরবর্তীকালে দুজনের মধ্যে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি এলে অনেক সময়ই সন্তান সহ্য করতে পারে না। মা তার একাকিত্ব ভোলার জন্য কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতেই পারেন। কখনো দ্বিতীয়বার বিয়ে করার জন্য সঙ্গী হিসেবে কোনো পুরুষকে নির্বাচন করতেই পারেন।

সেক্ষেত্রে সন্তান তার ওপর অভিমানী হয়ে উঠতে পারে। সে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে। আবার দেখা যায়, ক্রাইসিসটা শুরু হয় সম্পূর্ণ উলটো দিক থেকেও। হয়তো সন্তানই বড় হওয়ার পর যৌবনের স্বাভাবিক ধর্মে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলো, এক্ষেত্রে মা সহ্য করতে পারেন না সে মানুষটিকে। তার মনে হতে থাকে সন্তান আর তার রইলো না। কখনো মা-সন্তান পরস্পর এতটাই ওতপ্রোত হয়ে ওঠেন যে, দুজনের কাছেই সম্পর্কটা শ্বাসরোধকারী হয়ে ওঠে।

সম্পর্কে ‘ব্রিদিং স্পেস’ হারিয়ে যায়। আবার সন্তানকে পক্ষিমাতার মতো ডানায় আড়াল করতে অভ্যস্ত মা কখনো কখনো খেয়াল করে না, ছোট্ট সন্তানটি কখন বড় গেছে! এবার তাকে কিছুটা স্বাধীনতা দেয়া উচিত, তার চাহিদা ও মতামতকে আর ছোট বলে উপেক্ষা করা উচিত নয়। কখনো আবার ঘর ও বাইরের দায়িত্ব দুটোই একা হাতে সামলাতে গিয়ে সন্তানকে একটু বেশিই প্রশ্রয় দিয়ে ফেলেন সিঙ্গেল মাদার কিংবা সন্তানের মনোজগতের নানা পরিবর্তনের দিকে তেমন খেয়াল রাখতে পারেন না। অর্থাত্‍ রাশ বেশি আলগা অথবা বেশি কঠিন হয়ে পড়ার দুরকম ভয়ই থেকে যায় সিঙ্গেল মাদারদের ক্ষেত্রে।

কী করবেন

– ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে আপনার একাকিত্ব, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগ বুঝতে দিন ভালো করে। দেখবেন সে ধীরে ধীরে সহমর্মী হয়ে উঠবে। – খেয়াল রাখবেন আপনার আর ওর সম্পর্কে যেন অকারণ কুয়াশা বা ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি হয়।

– সন্তানকে শুধু শাসন বা শুধুই প্রশ্রয় দেবেন না। আচরণে একটা ভারসাম্য রাখুন।

– প্রথম থেকেই চেষ্টা করুন সন্তানের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করার।

– সন্তানকে স্নেহমমতায় ঘিরে নিরাপদে রাখুন, তবে নির্ভরশীল বা মুখাপেক্ষী করে রাখবেন না। ওর যেন স্বাধীন চিন্তা, মতামত ও সত্‍সাহস গড়ে ওঠে। পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সে যেন ভয় না পায়।

– আপনার প্রতিটি আচরণের যুক্তি ও উদ্দেশ্য যেন সন্তান বুঝতে পারে এবং সেটাকে সম্মান করতে পারে।

– মনে রাখবেন, সন্তান আপনার হলেও সে আপনার পুতুল নয়। সম্পূর্ণ আলাদা একজন মানুষ। 

তথ্যসূত্র: তাহমিনা জামান, শিশু বর্ধন ও পারিবারিক সম্পর্ক, ২০০৯ | priyo.com

নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে ও বংশগত রোগের ঝুঁকি

বিশ্বব্যাপী প্রায় এক বিলিয়ন জনগোষ্ঠীতে নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিবাহের চল রয়েছে, যেখানে প্রতি তিনটি বিয়ের একটি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে হয়ে থাকে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, ইরান ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিকটাত্মীয়ের মধ্যে এ ধরনের বিয়ে বেশি ঘটে। এসব বিয়ে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি হয়, তাতে বাল্যবিবাহের আধিক্যও বেশি।

প্রথম পর্যায়ের বা ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভ মানে আপন চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে। আর দ্বিতীয় বা সেকেন্ড ডিগ্রি রিলেটিভ মানে বাবা বা মায়ের চাচাতো, মামাতো, খালাতো বা ফুফাতো ভাইবোনের সন্তানদের মধ্যে বিয়ে। এই দুই ধরনের কাজিন ম্যারেজের কারণে জন্ম নেওয়া সন্তানের মধ্যে নানা বংশগত রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। বিশেষত জিনবাহিত বংশধারার রোগগুলোর প্রকোপ এতে বাড়ে।

অসুস্থ জিনগুলোর কার্বন কপি যখন মা-বাবা দুই বাহক থেকে সন্তানে বাহিত হয়, তখন তা তীব্র আকারে প্রকাশ পায়। নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের কারণে সন্তানের যেসব ঝুঁকি বাড়ে তা হলো:

১. গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব
২. শারীরিক ত্রুটিসংবলিত শিশুর জন্ম স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হয়
৩. প্রথম বছর বয়সে শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু
৪. হঠাৎ অজানা কারণে শিশুমৃত্যু
৫. যথাযথভাবে শিশু বৃদ্ধি না হওয়া
৬. শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা
৭. মৃগী রোগ
৮. অজানা রোগ
৯. নানা রকমের রক্তরোগ যেমন সিকেল সেল ডিজিজ ও বিটা থ্যালাসেমিয়া।

বাংলাদেশে এমনিতেই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক বেশি, হিমোগ্লোবিন ই ডিজিজের বাহকও কম নয়। নিকটাত্মীয়ের বিয়েতে এ ধরনের রোগ নিয়ে সন্তান জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
যেসব পরিবারে জন্মগত বিভিন্ন রোগের ইতিহাস আছে, সেখানে আত্মীয় বিয়ের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিত। সুত্রঃ প্রথম আলো

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নারীর ওপুরুষের আবেগের ভিন্নতা

ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি নিঃসঙ্গতায় ভোগেন

চার দেয়ালের মধ্যে কেউ একা আবার কেউ চারিদিকে শত কোলাহলের মধ্যেও একা। কেউ সবার থেকে দূরে থেকে একা আবার কেউ হাজার পাওয়ার ভিড়েও একা। মানুষের এই একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা একটি জটিল প্রক্রিয়া। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নিঃসঙ্গতা মানেই একা সম্পর্ক বা একা একা হয়ে যাওয়া নয়, বরং এটি মনের এমন একটি একা উপলদ্বি যা আমাদের মনকে বাইরের সব কিছু থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা যে কোন বয়সের মানুষকে গ্রাস করতে পারে। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিশোর বা তরুণদের চেয়ে কিশোরী বা তরুণীদের মধ্যে একাকীত্বে ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস’ এর জরিপে উঠে এসেছে, ব্রিটেনের প্রতি দশজন তরুণ বয়সীর একজন একাকীত্বে ভোগেন। গবেষণা অনুযায়ী, একাকীত্বকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে ধরে নেয়া হয় বলে তরুণ বয়সীরা এটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মনে করে। অনেক তরুণই নিজের একাকীত্বকে লুকানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নেয় এবং ভালো থাকার অভিনয় করে।

পরিসংখ্যান সংস্থাটির মতে, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের শতকরা ১১ ভাগ প্রায়শ:ই নিঃসঙ্গ বোধ করে এবং শতকরা ৩৪ ভাগ মাঝেমধ্যে নিঃসঙ্গ বোধ করে। আর একাকীত্বে ভুগতে থাকা এই তরুণ বয়সীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। কী কারণে মানুষের মধ্যে একাকীত্ব বোধ তৈরি হয় – সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে এই গবেষণায়।

গবেষণা অনুযায়ী, একাকীত্বে ভোগার অন্যতম প্রধান কারণ কিশোর ও তরুণ বয়সের বয়:সন্ধির সময়কালীন বিভিন্ন পরিবর্তন। প্রাথমিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুলে ওঠার সময়, মাধ্যমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ওঠার সময় এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় নিঃসঙ্গতা বোধ করার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট শহর বা গ্রামে বাস করা তরুণদের চেয়ে শহরে বেড়ে ওঠা তরুণদের নিঃসঙ্গতায় ভোগার প্রবণতা বেশি। এছাড়া আর্থিকভাবে অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল পরিবারের তরুণদের একাকী বোধ করার আশঙ্কা বেশি থাকে। অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, প্রিয়জনের মৃত্যু বা অপমানের শিকার হলেও একাকীত্ব বোধ তৈরি হয়। আর সমাজের মানুষের কাছে একাকী হিসেবে পরিচিত হতে চাওয়ার ভয়ও মানুষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার জালে আটকে ফেলে।

সমাজের মানুষের কাছ নিঃসঙ্গ হিসেবে পরিচিত হওয়া বিব্রতকর একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর ফলে মানুষ ঐ ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে অনাকর্ষণীয় বা মানুষের অপছন্দের চরিত্র হিসেবে মনে করতে পারে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগের অন্যতম একটি উপায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু অনেকেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নেয় নিজের একাকীত্ব লুকানোর মাধ্যম হিসেবে। গবেষণার অংশ নেয়া অনেকের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকৃত বন্ধুত্ব নয় বরং সৌজন্যমূলক বাক্যালাপ হয়ে থাকে।

যার ফলে নিজেদের অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে তরুণ বয়সীরা। এবছরে একাকীত্ব নিয়ে বিবিসি বিবিসি পরিচালিত এক জরিপে সারা পৃথিবী থেকে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয় এবং জরিপে অংশ নেয়া ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের শতকরা ৪০ ভাগ প্রায়:শ বা প্রতিনিয়তই নিঃসঙ্গ বোধ করে। সুত্রঃ বিবিসি, ইত্তেফাক

পাত্র বাছাইয়ে নারীদের যেমন পুরুষ পছন্দ

একজন মানুষের গুণাগুণ মাপার শর্টকাট কোন যন্ত্র নেই । সৎ ও আদর্শবান মানুষ হতে হলে কী কী গুণাবলী থাকা দরকার এ বিষয়ে হাজারো মন্তব্য পাওয়া যাবে। তারপর যখন আরো একটু বিস্তারিত ভাবে জানতে চাইবেন যে, একজন পুরুষের মধ্যে কী কী গুণাবলী থাকা উচিৎ; সেখানেও নানান মন্তব্য পাওয়া যাবে। একজন পুরুষ যেমন একজন সুন্দরী, শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্ববান নারী পছন্দ করেন।  তেমনি একজন নারীও চান তার সঙ্গীটি সৎ, ব্যক্তিত্ববান এবং বিশ্বস্ত হবেন।

পৃথিবীতে সমস্ত গুণাবলীর ভাণ্ডার নিয়ে কোনো পুরুষই জন্মায়নি।  সবদিক থেকে গুণাবলীসম্পন্ন পুরুষ সঙ্গী মেলা ভার। কিছু মৌলিক জিনিস আছে যেগুলো নারী-পুরুষের চাওয়ার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে পাওয়ার মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য আছে।  সবার দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু এক নয়। আপনার চোখে যা সুন্দর অন্যের চোখে তা তেমন সুন্দর নাও হতে পারে।  নারীর পছন্দ, অপছন্দ চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদির বিস্তর সন্ধান করেছেন গবেষকরা।  অনাবৃত রয়েছে অনেক রহস্য।

অস্ট্রেলিয়ান মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড মনে করেন, মেয়েদের মন পুরুষদের চেয়ে অনেক পরিষ্কার থাকে। আর সে কারণে মেয়েরা তাদের মনটাকে ঘন ঘন বদলান। আবার তাদের অনেক প্রিয় বিষয় আছে যা তারা একেবারেই বদলান না।

একজন নারী সঙ্গী বা পাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন গুণাগুণ যাচাই করেন তারই কিছুটা –

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ পাত্র নির্বাচনের জন্য অনেক তোড়জোড় দিয়েই শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা হয়। কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে ক্যারিয়ার জড়িত থাকে। সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পাত্র না হলে এবং ভালো ক্যারিয়ার না থাকলে পাত্রীর বাবা মা বিয়ে দিতে চান না। কিন্তু বর্তমান ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ক্যারিয়ার ভিত্তিক চিন্তা ভাবনা, যোগ্যতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতটাও দেখা উচিত।

সঠিক বয়সের পার্থক্য: আজকাল অনেকে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। সমবয়েসি কিংবা পাত্রী বড়ও বিয়ে করে থাকেন। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পাত্রের পাত্রীর চাইতে ৩-৫ বছরের বয়সের পার্থক্য থাকা উচিত। কারণ সাইকোলজিস্টদের মতে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ম্যচিউরিটি একটু দেরিতে আসে।

শারীরিক সুস্থতা: অনেকেই শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য, বয়স, ক্যারিয়ারের কারণে পাত্র পছন্দ করে ফেলেন। কিন্তু বয়সের আগে শারীরিক সুস্থতা নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত। এর মানে এই নয় যে সাধারণ বিষয় ধরে বসে থাকা উচিত। ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পাত্র/পাত্রীর সুস্থতার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ন।

মানবিক গুণাবলী: মানুষটির মানবিক মূল্যবোধ কতোটা ভালো তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। কারণ নিজের চাইতে ছোটো এবং পজিশনের ছোটো মানুষের প্রতি তার আচরণ খারাপ হলে তার মানসিক এবং মানবিক মূল্যবোধ না থাকারই কথা। এবং এই ধরণের মানুষের সাথে সংসার পাতা যায় না।

ব্যক্তিত্ববান : আপনি দেখতে আকর্ষণীয় নাও হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিত্ববান তো হতে পারেন। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষদের নারীরা বেশি পছন্দ করে থাকেন। কারণ ব্যক্তিত্ববান পুরুষ সঙ্গীর পাশাপাশি অন্যের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম।

সৎ এবং বিশ্বস্ত : সঙ্গী সৎ এবং বিশ্বস্ত হবে এমনটা প্রতিটি নারী আশা করেন। তারা চান সঙ্গী যেন অবশ্যই সৎ ও স্মার্ট হয়।  নারীরা সততার মাপকাঠিতে পুরুষকে সবার আগে যাচাই করেন তার বিশ্বস্ততা। এ ক্ষেত্রে সবসময় আপনার সঠিক অবস্থানটাই জানান। এতে তার মধ্যে বিশ্বস্ততা তৈরি হবে।

পরিপক্ষ ও শান্ত স্বভাবের : লক্ষ্য করে দেখুন তিনি কতোটা খোলা মানসিকতার মানুষ। কারণ মানসিকতা যদি ছোটো হয় তাহলে আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতায় তিনি হস্তক্ষেপ করবেন এবং আপনার ওপর কারণে অকারনে সন্দেহের দৃষ্টি দেবেন। তাই এই ধরণের মানুষ নির্বাচন করে বসবেন না। সাধারণত নারীদের মানসিক পরিপূর্ণতা পুরুষের আগে আসে। নারীরা চান তার পুরুষ সঙ্গীটি যেন মানসিকভাবে পরিপক্ক এবং শান্ত স্বভাবের হন। ভালোবাসার ক্ষেত্রে আবেগ প্রকাশ করেন এবং একইসঙ্গে সাহস করে সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা থাকে। এক কথায় নারীরা তার সঙ্গীর ওপর নির্ভর করতে পছন্দ করেন। তাই মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা পুরুষের সঙ্গ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

কিছুটা হলেও হাসিখুশি মেজাজের: অনেকেই আছেন অনেক গম্ভীর মেজাজের হয়ে থাকেন কিন্তু তার মধ্যে কিছুটা হলেও রসবোধ থাকে। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থেই একেবারে গম্ভীর তাদের সাথে সংসার করা এবং সময় কাটানো বেশ কঠিন।

আপনার সাথে মনের মিল: বিয়ের আগেই দেখে নিন আপনাদের মধ্যে মিলটা কতোখানি। আপনারা কি একই ধরণের চিন্তা করেন কিনা বা একই আদর্শে বিশ্বাসী কিনা। কারণ একজন অনেক খোলামেলা মনের অধিকারী হয়ে নিচু মনমানসিকতার মানুষের সাথে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

সত্যবাদী : নারীরা সত্যবাদী পুরুষদের বেশি পছন্দ করেন। যদি দীর্ঘ সম্পর্কে জড়াতে চান সঙ্গিনীর সঙ্গে কখনো সত্য গোপন করবেন না। অথবা কোনো কিছু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সঙ্গিনীকে বিব্রত করবেন না। আপনি অপছন্দনীয় কিছু একটা করে ফেললেও তা লুকোনো হবে আপনার জন্যে আরো বড় ভুল। কারণ আপনার দোষের যদি কোনো কিছু থাকে তা সত্যি করে বলাটাকে মেয়েরা আরো বেশি পছন্দ করেন। তাই নারীদের সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পাত্র কতটুকু সত্যবাদী তা পরখ করে নেয়াই শ্রেয়।

আর্থিক নিরাপত্তা: প্রতিটি নারীই কর্মঠ সঙ্গী পছন্দ করেন, এযুগে উচ্চ শিক্ষিত অনেক নারীই কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন,  তারপর ও বেশীর ভাগ নারীই চান নিজের জীবন সঙ্গী অবশ্যই কর্মঠ হবেন।  তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক নারীই সঙ্গী বাছাইয়ে সরকারী চাকুরীজীবীদের বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।  আবার শহরের বেড়ে উঠা সচ্ছল ও উচ্চ শিক্ষিত নারীদের মাঝে উন্নত দেশে প্রতিষ্ঠিত অথবা প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী, বহুজাতিক কোম্পানীর চাকুরীজীবীদের পছন্দের প্রধান্য লক্ষ্য করা যায়।  আবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে খুব বেশী চাহিদা না থাকলেও শিক্ষিত ও কর্মক্ষম পুরুষ তাদের প্রথম পছন্দ হয়, হোক সে সরকারী, বেসরকারী চাকুরে কিংবা প্রবাসী; সেখানে আর্থিক নিরাপত্তার বিয়য়টি ব্যাপক প্রাধান্য পায়। এজন্য কর্মক্ষম, স্বাবলম্বী ও ব্যাক্তিত্ববান একজন পুরুষই প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

পোশাকে রুচিশীল : বিশেষজ্ঞদের মতে, রুচিহীন পোশাকের পুরুষদের কোনো কিছুই মেয়েদের আকর্ষণ করে না। সাধারণত চলতি ফ্যাশন নারীদের কাছে প্রিয়। তাই একটু ফ্যাশনেবল থাকতে হবে। ভালো পোশাকই আপনার রুচির পরিচায়ক।

চুলে স্টাইলিশ : চুলের ভালো একটা কাটিং আপনার চেহারা বদলে দেবে অনেকখানি। চেহারার আদলের সঙ্গে মানানসই চুলের ছাঁট নারীদের কাছে আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে। তাদের সামনে আপনার উপস্থিতির ওপর চুলের ছাঁট অনেক গুরুত্ব রাখে।

কথা বলার স্টাইল : আপনার স্টাইলেই কথা বলুন। অন্যকে একদম নকল করবেন না। কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু কথা একদম বলবেন না। বারবার যেন আঞ্চলিকতার টান কথার মাঝে চলে না আসে। শুদ্ধ সহজ ও সাবলীল ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালোভাবে কথা বলতে জানলে আপনার সঙ্গিনী শুধু আপনার কথা শোনার প্রতীক্ষায় থাকবেন।

উপহার দেয়া : মেয়েরা হঠাৎ করে পছন্দনীয় গিফট পেয়ে চমকে যেতে মারাত্মক ভালোবাসেন। চকোলেট, সুন্দর কথা লেখা গিফট কার্ড বা ফুল এগুলোর কথা নিশ্চয় সবাই জানেন। আরো কি কি জিনিস রয়েছে তাদের পছন্দের তালিকায় সেগুলো কৌশলী হয়ে জেনে নিতে হবে। তাকে হঠাৎ করে সুসজ্জিত কিছু একটা উপহার দিয়ে চমকে দেয়া খুব পছন্দ করেন। দেখবেন, আপনার কাছ থেকে এমনই একটা গিফট আশা করেছিলেন আপনার সঙ্গিনী।

কেউই চান না তার বিবাহবিচ্ছেদ হোক। মানুষ যখন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তখন সারাজীবন একসাথে একই ছাদের নিচে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু একে অপরকে বুঝতে না পারা এবং ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের কারণে হয়তো বিবাহের সম্পর্কে টানাপোড়নের সৃষ্টি হয়। এবং বেশি টানাপোড়নের কারণে অনেক সময় না চাইতেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তাই বিয়ের আগেই ভাবুন। পাত্র  পছন্দের সময় মাথায় রাখুন ভবিষ্যতের ব্যাপারগুলো। পাত্র পছন্দ হলেও মিলিয়ে দেখুন তার কিছু গুণ রয়েছে কিনা যা ভবিষ্যতে আপনাদের দাম্পত্যজীবন সুখী করে তুলবে।

ভালোবাসা কি গাছে ধরে?

আমরা প্রতিনিয়ত এই যে ভালোবাসার কথা বলি, সেই ভালোবাসা আসলে কি? অনেকে আবার এই ভালোবাসা নিয়ে আক্ষেপ করে বলে ” ভালোবাসা কি গাছে ধরে?” ভালোবাসার সহস্র দোলাচলে এমন প্রশ্ন আপনার মনে তৈরি হতেই পারে। আর এর উত্তর সবাই একদিন না একদিন খোঁজে। ভালোবাসা হচ্ছে মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোনো মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা।তবে ভালোবাসা অনেকসময় আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসে।অনেকে ভালোবেসে বিয়ে করে আবার অনেকের বিয়ের আগেই ভালোবাসা ভেঙ্গে যায়। কথায় আছে বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই নাকি ফিকে হয়ে যায় ভালোবাসা। তাই বলে ভালোবাসা প্রকাশ বন্ধ করে দেবেন না। দুজন মানুষের মাঝে সম্পর্ক বা ভালোবাসা গাছের মতই তারও প্রতিনিয়ত যত্ন দরকার;  মনে রাখবেন ভালোবাসাই হতে পারে আজীবন সম্পর্ক ধরে রাখার চাবিকাঠি। নিজের কাছের মানুষকে কখনোই কেউ হারাতে চায় না। তবুও ছোট ছোট কিছু ভুলে হারিয়ে যায় ভালোবাসা। তখন দাম্পত্যজীবনে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই জেনে নিন  দাম্পত্যজীবনের গাছে ভালোবাসা ধরাতে হলে কি কি যত্ন করতে হবে।

ভালোবাসার স্পর্শ : ভালোবাসা গাছের মতো, যত যত্ন করা যাবে ততই বাড়বে। ভালোবাসার স্পর্শে ডালপালা মেলে ফলে-ফুলে ভরে যায়, আর অযত্নে যায় শুকিয়ে। অনেক দম্পতি মনে করেন, ‘ভালোই তো আছি, আবার ভালোবাসা দেখাতে হবে কেন? অথচ ভালোবাসা দেখালে দাম্পত্যজীবন হতে পারে মধুময়। ঠিক গাছের মতোই যত্ন নিন। হঠাৎ করেই ফুল বা ছোটখাটো উপহার দিয়ে আপনার প্রিয়া বা প্রিয়তমকে দিন চমকে।

মিলেমিশে কাজ করা : মিলেমিশে কাজ করলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই একধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়। এতে দুজনের বোঝাপড়াও ভালো থাকে। প্রায়ই দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনে একসঙ্গে বাইরে থেকে ফিরলেন। কিন্তু খাবার তৈরি বা সংসারের অন্য কাজে লেগে গেলেন স্ত্রী। আর স্বামী টিভি চালিয়ে বসলেন সোফায়। এমনটা না করে বরং সংসারের কাজকর্ম দু’জনে মিলেমিশে শেষ করে, পরে একসঙ্গে দু’জন মিলে টিভি দেখুন বা গল্প করুন। সারাদিন কে কী করলেন একে অপরকে জানান।

প্রশংসা : অনেকদিন একসঙ্গে থাকার ফলে সব কিছুই কেমন যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন পোশাক বা হেয়ারস্টাইলে আপনার সঙ্গীকে সুন্দর লাগছে এ কথা বলতে একদম সংকোচ করবেন না। আসলে এমন ছোটখাটো প্রশংসার ‘এফেক্ট’ কিন্তু অনেক বড় হয়। অর্থাৎ ‘প্রশংসা ছোট, তবে তার এফেক্ট বড়’।

স্বীকৃতি : সব মানুষই মাঝে মাঝে তার কাজের স্বীকৃতি চায়, এমনকি সংসারের কাজের ক্ষেত্রেও। তাই মাঝে মধ্যে একে অপরকে সে কথা জানান। আরো রোমান্টিক হয়, যদি কথাটা জানানো যায় ছোট্ট একটি ‘নোট’ লিখে অথবা এসএমএস-এর মাধ্যমে। দেখবেন পরের দিন কাজের আগ্রহ তো বাড়বেই, তার সঙ্গে আপন মানুষটিকে মনে হবে আরো কাছের।

ত্রুটি বড় করে না দেখা : একসঙ্গে থাকতে গেলে অনেক সময় ছোটখাটো অভ্যাসগুলো অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন হয়তো সব সময় মোজা খুলে বিছানায় রেখে দেন। অপরজন টুথপেস্টের ঢাকনা লাগাতে যান ভুলে। অনেক পরিবারে এ সব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা ঝগড়া শুরু হয়। তাই এসব বিষয়গুলো এড়িয়ে চললে জীবন কিন্তু অনেক মধুর হতে পারে।

ভালোবাসার মানুষটির শখ : মাঝে মাঝে কখনো নিজেরা একসঙ্গে এমন কিছু করুন, যাতে অন্য ধরনের গল্প বা আলোচনা হতে পারে। একসঙ্গে সাইকেল চালাতে বা হাঁটতে যেতে পারেন। খোলা আকাশের নিচে প্রাণ খুলে হাসতে বা কথা বলতে পারেন। একে অপরের সঙ্গে সব কিছু ভাগাভাগি করার নামই যে বন্ধুত্ব, আর সেটাই তো দীর্ঘ ও সুখী দাম্পত্যের আসল কথা।

রাগ পুষে রাখতে নেই : রাগ, অভিমান ছাড়া কি দাম্পত্য জীবন মধুর হয়? রাগ, দুঃখ, অভিমান তো থাকবেই। কিন্তু তাই বলে রাগ যেন বেশিক্ষণ না থাকে। দিনের শেষে রাগ ভুলে অপরের কাছে এগিয়ে যান। রাগ বা মান ভাঙানোর উত্তম সময় সেটা। তা না হলে দু’জনকেই হয়তো না ঘুমিয়ে সারাটা রাত কাটাতে হবে যার প্রভাব পড়বে পরবর্তীতেও।

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধানঃ প্রভাব ও পরিণতি

বিয়ে সমাজ স্বীকৃত উপায়ে নারী ও পুরুষ একই যোগসুত্রে মিলিত হয়ে স্বীয় জৈবিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সৃষ্টির মাধ্যম। এই বিয়ের স্থায়িত্ব ও গভীরতা পারস্পরিক মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক সাম্যাবস্থাসহ পারিপার্শ্বিক পরিবেশগত নিয়ামকের উপর নির্ভরশীল। বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিয়ে বলতে নারী পুরুষের বয়সের পার্থক্য, শিক্ষা ও সম্পদের পার্থক্যকে বোঝায়। স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কে বয়স অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য দ্বারা সাধারণত তাদের সম্পর্কের মধ্যকার বোঝাপড়া নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল তিন হাজার মানুষের উপর একটা জরিপ চালায় এবং তথ্য প্রকাশ করে যা হলো – স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য কম হওয়া উচিত। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হয় এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বতা বৃদ্ধি পায়। আর বয়সের পার্থক্য বেশি হলে বিচ্ছেদের হারও বেশি হয়।

মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সির রিচার্চ এসিষ্টেন্ট রেন্ডাল ওলসন এর মতে, স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান যদি ১ বছর হয়, তাহলে তাদের বিচ্ছেদের সম্ভাবনা সমবয়সী স্বামী-স্ত্রীর তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি, যদি ৫ বছর হয় তাহলে এই সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ, ১০ বছর হলে ৩৯ শতাংশ, ২০ বছর হলে ৯৫ শতাংশ বেশি হয়। তিনি বয়সের পার্থক্য ৩০ বছর হলে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ১৭২ শতাংশ বেশি বলেও উনার বক্তব্যতে ব্যক্ত করেন।

বিচ্ছেদের হার কমাতে সন্তান ধারন ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিয়ের আগেই যদি প্রথম সন্তান হয়, তাহলে বিয়ে ভাঙার সম্ভাবনা সন্তানবিহীন দম্পতির থেকে ৫৯ শতাংশ কমে যায়।  আর যদি বিয়ের পরে সন্তান হয় তাহলে এই সম্ভাবনা ৭৬ শতাংশ কমে যায়।  এতে বলা যায়, সন্তান বেশি থাকলে দম্পতির সুখের পরিমাণের সম্ভাবনাও বেশি হয়। গবেষণায় আরও বলা হয়, একই স্তরের শিক্ষার দম্পতির থেকে ভিন্ন স্তরের শিক্ষার দম্পতির বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ৪৩ শতাংশ বেশি থাকে। আবার, দুই বছর একসাথে থাকলে দম্পতির বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ৪৩ শতাংশ আর ১০ বছর একসাথে থাকলে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে লিখিত একটি প্রবন্ধে বলা হয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের আদর্শ ব্যবধান ধরা হয় ৩ বছরকে।  স্বামী যদি স্ত্রীর চেয়ে ৩ বছরের বড় হয় তবে দু জনের মানসিক পরিপক্কতা সমান হবে এবং নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাবে।  তবে ২০ থেকে ৩০ বছর সময়কালটায় এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

২০১৭ সালের মার্চে বাংলাদেশের অনলাইন ম্যাট্রিমনি সাইট, বিবাহবিডি ডট কম “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ নির্নয়” শিরোনামে প্রশ্ন ভিত্তিক একটি জরিপ পরিচালনা করে।  এতে অংশ গ্রহন করেন ৪১২ জন।  যার মধ্যে ছিলেন দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ নেয়া ১০৪ জন ব্যক্তি।

অংশগ্রহন কারী ৪৬% মনে করেন সঙ্গীর সাথে বয়সের পার্থ্যক্য ৫ বছরের কম হওয়া ভাল আর ৩১% মনে করেন সঙ্গীর সাথে বয়সের পার্থ্যক্য ১০ বছরের বেশী হওয়া উচিত নয়।  তবে বেশীর ভাগ অংশগ্রহনকারীই মনে করেন, অতিরিক্ত বয়সের পার্থক্য বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারন নয়।

উপরের জরিপ থেকে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী বিয়ের ক্ষেত্রে ৫ বছরের বেশি বয়সের ব্যবধান পছন্দ করে না। অনেকেই আবার সমবয়সীও বেশি পছন্দ করে।

সমবয়সী দম্পতি আর বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতির আচার-আচরণে থাকে বিস্তর তফাৎ। বেশি বয়সের পার্থক্য দম্পতিদের মধ্যে তৈরি করে মানসিক শূণ্যতার। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছু বিবেচনার সাথে সাথে বয়সের ব্যাপারটাও খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সংসারের দায়-দায়িত্ব কি শুধুই স্ত্রীর, স্বামীর নয়?

সংসার হল এক ধরণের সামাজিক চুক্তি যেখানে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই বিয়ের মাধ্যমে একে অন্যের উপর কিছু দায়িত্ব ও আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে একটা বন্ধনে আবদ্ধ হয়। একটা সংসার শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী নয় বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন সকলকে নিয়ে গঠিত হয়।

আমাদের বর্তমান সমাজে অনেকই নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করে থাকে। কিন্তু আসলেই কি তারা আধুনিক? যদি তাই হয়, তাহলে এখনো সংসারের সব দায়-দায়িত্ব শুধুমাত্র ঘরের বউ এর কেন ধরা হয়? ছেলেরা বাইরে থেকে অর্থ উপার্জন করে এনে নিজের উপর অর্পিত সব দায়িত্ব সুসম্পন্ন হয়ে গেছে ভেবে নাক উঁচিয়ে বসে থাকে। ঘরের বউটা যে তার বর ও পরিবারের নাশতা বানানো দিয়ে সকাল শুরু করে সারাদিন এর ওর সকল প্রয়োজন  মেটাতে মেটাতে নিজের সব ভুলে গিয়ে আবার রাতে স্বামীর চাহিদা মেটাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে আছে তার দিকে ছেলেদের ঠিক কতটা খেয়াল আছে? সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে ছেলেরা বাইরে কাজ করে থাকে আর মেয়েরা সেই ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে আবার ঘুমানো পর্যন্ত  একটানা কাজ করে আর যে মেয়েরা চাকুরি করে তারা বাইরে ও ঘরে সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তার দিকে কয়জন নজর দিচ্ছে?

স্বামীরা চাইলেই পারে তার স্ত্রীর কাজে একটু সাহায্য করতে। শুধু অর্থ উপার্জন নয়, সংসার সামলানোতে স্ত্রীকে একটু সাহায্য করাও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যেমন- সংসারের কিছু কাজের সিদ্ধান্ত নিতে স্বামী তার স্ত্রীকে সাহায্য করতে পারে। যদিও মেয়েরা ছেলেদের থেকে পারিবারিক ও সাংসারিক সিদ্ধান্তগুলো বেশি ভালো নিয়ে থাকে। টুকিটাকি কিছু কাজ যেমন- বাচ্চাকে পড়ানো, অফিসে যাওয়ার সময় বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যাওয়া, বাবা-মাকে ওষুধ খাওয়ানো, তাদের কিছু লাগবে কিনা তার খেয়াল রাখা, নিজের কাজের দায়িত্ব যেগুলো নিজেরই করা সম্ভব তা স্ত্রীর করার জন্য বসে না থেকে নিজেই করে ফেলা, রাতে বিছানাটা গোছানো, মশারি টাঙ্গানো, ঘুমাতে যাওয়ার আগে দরজা ও লাইট, ফ্যান চেক করে ঘুমানো, বোতলে পানি ঢালা ইত্যাদি কাজ বর চাইলেই করতে পারে।

ঘরের বউটা সারাদিন ধরে সবার খেয়াল রাখে তাই বর যদি একটু তার বউ এর  দিকে খেয়াল রাখে তাহলে বউটার মন অনেক ভাল ও ফুরফুরে থাকে। আর বউ এর মন ভালো থাকলে সংসারটাও সুন্দর ও সুখী হয়। স্ত্রীকে খুশি রাখতে স্বামী মাঝে মধ্যে বিশেষ কিছু উপহার দিতে পারে আর সেটা যদি হয় স্ত্রীর পছন্দের কিছু তাহলেতো কথাই নেই। এছাড়া স্বামী মাঝে মাঝে স্ত্রীকে দূরে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যেতে পারে। এতে স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোর সাথে সাথে বোঝাপড়াও আরো ভালো হবে।

নারীরা জন্মগতভাবে শারীরিক দিক থেকে তুলনামূলক পুরুষের থেকে একটু দুর্বল হয়। তাই স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাথে সবসময় সুমধুর ভাষায় কোমল করে কথা বলা। স্বামী-স্ত্রীর নিবিড় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্বামীকে একটু যত্মশীল হওয়া দরকার। স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বুঝে তারপর মনের বাসনা প্রকাশ করা উচিত। এতে সম্পর্ক মধুর হওয়ার সাথে সাথে বাড়বে পরস্পরের ভরসা ও নির্ভরতা। স্ত্রীর অন্যান্য কিছু কাজ যেমন- রান্না, সাজসজ্জা, আচরণ ইত্যাদি ব্যাপারগুলোতে প্রশংসা করা উচিত এতে করে স্ত্রী খুশি থাকবে আর কথায় আছে মন ভালোতো সব ভাল।

সুতরাং বলা যায়, সংসারে স্বামীর একটু শ্রম দেয়ায় বেড়ে যাবে পরস্পরের নির্ভরতা, দায়িত্বশীলতা, অধিকারবোধ ও শ্রদ্ধা। ফলশ্রুতিতে স্বামী ও স্ত্রী মিলে সংসারটাকে অতি সহজে পরিপূর্ণ ও স্বার্থক করতে সক্ষম হবে।