ভালোবাসা দিয়েই ভালোবাসা আদায় করে নিতে হয়!

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ “ভালোবাসা”। ভালোবাসা মূলত সাধনার বিষয়। আপনি যত বড় সাধক হবেন তত সফল হবেন। আপনি আজ উজাড় করে দিবেন পরবর্তীতে এর পরিমাণ উত্তম কিছু পাবেন এটাই প্রকৃতির ধর্ম। প্রকৃতির এ নিয়ম যদি আপনি বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে হতাশায় না ভুগে ভালোবাসা দিয়েই ভালোবাসা আদায় করে নিন।

প্রত্যাশা রাখবেন নাঃ কি পেলাম, কতটুকু পেলাম এ নিয়ে হিসেব-নিকাশ করবেন না। মানুষ বেশী কষ্ট পায় যখন সে মনে প্রত্যাশা রাখে।

তার প্রিয়জন হনঃ আপনি তখনই একজন মানুষের প্রিজন হতে পারবেন যখন আপনার সঙ্গ তার ভালো লাগবে। তাই সম্পর্কে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলন।

স্বার্থপর হবেন নাঃ ভালোবাসার বিষয়ে স্বার্থ থাকতে নেই আর প্রকৃত ভালোবাসয় স্বার্থপরতা নেই ।

বিশ্বস্ত হনঃ যে কোন সম্পর্কে বিশ্বাস অতি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন কারো বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন তার কাছে আপনার চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকবে না। সে আপনার কাছেই আসবে বার বার।

প্রয়োজন হবার চেষ্টা করুনঃ তার প্রয়োজন হওয়ার জন্য অবশ্যই ব্যক্তির কাজে সহযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন, এর ফলে আপনাদের বোঝাপড়া বিষয়টি মজবুত হবে। প্রয়োজন থেকেই কিন্তু প্রিয়জন হওয়া সম্ভব।

ছাড় দিনঃ সম্পর্কে তখনই ফাটল ধরে বা ব্যক্তি অপছন্দের কারন হয়ে যায় যখন সম্পর্কে ছাড় দেয়ার বিষয়টি থাকে না। হারাবার ভয় হবেই এটাই স্বাভাবিক। পোষা পাখির মত আটকে রাখবেন না। মানুষটি যদি আপনাকে ভালোবাসে যে যতদুরেই যাক আপনার কাছে ফিরবেই।

ঈর্ষাঃ ব্যক্তিকে ভালোবাসেন আর মনে ঈর্ষা জন্মাবে না তা আসলে হয় না, তবে এর পরিমাণ যেন তীব্র না হয়। কারন অতিরিক্ত ঈর্ষাবোধ একটি রোগ ও সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়।

হতাশা হবেন নাঃ চিন্তা করুন তো; দিন গড়িয়ে যেমন রাত আসে তেমনি রাত পেরিয়ে আবার ভোর হয়! তাই আজ যা কিছু করবেন সময় আপনাকে ফলাফল দিবেই তাই হতাশ হবেন না।

ভালো লাগা বা সম্পর্ক বিষয়টি চট করে হয়ে গেলেও ভালোবাসা তৈরি হয় ধীরে ধীরে। ভালোবাসা গড়ে উঠে পরস্পরের বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে। সম্পর্ক আছে কিন্তু ভালোবাসা নেই বা একপক্ষের অনুভূতি এ বিষয়টি অনেক সম্পর্কেই দেখা যায়। আর এ সম্পর্ক গুলো প্রতিনিয়ত হতাশায় ভুগে, অতঃপর কারো কারো ক্ষেত্রে হয়ে যায় বিচ্ছেদ।

ভালোবাসা নিয়ে ‘ টমাস ফুলার বলেছেন -ভালোবাসতে শিখুন, ভালোবাসা দিতে শিখুন তাহলে আপনার জীবনে ভালোবাসার অভাব হবে না।

সখি ভালোবাসা কারে কয়!

ভালোবাসা মানুষের মনের এক অদ্ভুত অনুভূতি। ভালোবাসার আরেক নাম কেউ কেউ প্রেম ও বলে থাকেন। যখন কেউ ভালোবাসা অনুভূতি অনুভব করে তার মনের উপর বিশেষ পরিবর্তন ঘটে। ভালোবাসা বা প্রেম একটি মানবিক আবেগ তবে যুগের সাথে ভালোবাসার ধরন ও বহিঃপ্রকাশের বেশ ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

ভালোবাসার প্রকৃত কোন সংজ্ঞা নেই তবে রয়েছে নানান বিতর্ক ও মতামত। পৃথিবীতে এমন কোনো কবি বা সাহিত্যিক নেই যিনি ভালোবাসা নিয়ে কিছু সৃষ্টি করেননি, কবি রফিক আজাদের মতে-

“ভালোবাসা মানে দু’জনের পাগলামি,পরস্পরকে হৃদয়ের কাছে টানা;ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া,বিরহ-বালুতে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি”

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও খুঁজেছেন ভালোবাসার প্রকৃত উত্তর তাই তো লিখেছিলেন –

‘তোমরা যে বল দিবস-রজনী, ভালোবাসা, ভালোবাসা, সখী ভালোবাসা কারে কয়? সে তো কেবলই যাতনা নয়।’

ভালোবাসা কাল্পনিক নির্মলেন্দু গুণের কবিতার মতোই-

‘হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে মন বাড়িয়ে ছুঁই’।

লেখক সমরেশ বসুর মতে – ভালবাসা। কী কঠিন! ভালবাসা, কী যে নিষ্ঠুর আর কী বিচিত্র তাঁর সংবেদ!

বাংলা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নারী-পুরুষের মনে গড়ে উঠা ভালোবাসা ও প্রেম নিয়ে অসংখ্য মতামত দিয়েছেন তার গল্প, উপন্যাস গুলোতে তার মতে –

“ভালোবাসাবাসির ব্যাপারটা হাততালির মতো। দুটা হাত লাগে। এক হাতে তালি বাজে না। অর্থাৎ একজনের ভালোবাসায় হয় না।

ভালোবাসা কি? এ অনুভূতি কেন হয় বা কেমন? এ প্রশ্ন জীবনে একবার হলেও মনে জাগেনি বা জানতে চায়নি এমন মানুষ পাওয়া সম্ভব নয়। শুধু কবি-সাহিত্যিকগন নয় মনোবিজ্ঞানীগন ও বিজ্ঞানীরাও গবেষণা করেছেন মানব মনের ভালোবাসা নামক অনুভূতি নিয়ে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন ব্যক্তি অন্য কারও প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক মোট চার মিনিট ৯০ সেকেন্ড সময় নেয়। গবেষকরা এটাও দেখেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির কিছু বিষয় বিবেচনা করে। তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ হলো তার অঙ্গভঙ্গি বা বাহ্যিক রূপ, ৩৮ শতাংশ কণ্ঠস্বর ও কথা বলার ভঙ্গি এবং মাত্র ৭ শতাংশ তাদের মূল বক্তব্য শোনে।

যুক্তরাষ্ট্রের রটার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেলেন ফিসার জানান -প্রেমের তিনটি স্তর রয়েছে। এই তিনটি স্তরের প্রতিটি স্তরই ভিন্ন ভিন্ন হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়।

স্তরগুলো হলো- ভালোবাসার ইচ্ছে, আকর্ষণ ও সংযুক্তি।

ভালোবাসা হলো পার্থিব জীবনের এক বিস্ময়কর অনুভূতি। যা আছে বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দরতম ও টিকে আছে।

ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা না থাকলেও রয়েছে কিছু বৈশিষ্ট্যঃ

ভালোবাসা কখনও পারফেক্ট হয় না। ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি ভালো খারাপ সব জেনেও কারও সঙ্গ ভালো লাগা।

নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ভালো লাগা মানুষটিকে মনে করা।

ভালো লাগার মানুষটিকে না পেলে হয়তো জীবনের কোন অর্থ নেই এরকম অনুভূতি হবে।

বিপরীত স্বভাবের মানুষের প্রতি ভালোবাসা বা প্রেম জন্মাতে পারে।

ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টিশীল তাই চিন্তা – চেতনার উন্মোচন ঘটতে পারে।

ভালোবাসার মানুষকে অন্য কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে দেখলে ঈর্ষাবোধ সৃষ্টি হবে।

ভালো লাগার মানুষটিকে বার বার কল্পনা করা বা তার উপস্থিতি অনুভব করা।

মনে ভালোবাসা জন্মালে সহজাত ভাবে ব্যাক্তিকে আগের চেয়ে আরো বেশি আকর্ষণীয় এবং প্রফুল্ল দেখাবে।

ভালোবাসার মানুষটির সাথে বার বার দেখা করার বা কাছে যাওয়ার অজুহাত খোঁজা।

হয়তো কোন ব্যাক্তির মাঝে বিশেষ কোন মুগ্ধতা নেই তবুও প্রবল আকর্ষণ অনুভব করা।

ভালোবাসার উল্টো পিঠে যাতনা জেনেও ভালোবাসতে ইচ্ছে করা।

ভালোবাসা কোন সময় কেন্দ্রিক থাকেনা আবার ভালোবাসা একদিন এর জন্যও হয় না। প্রতিদিন একটু একটু করে বা দীর্ঘ সময় ধরে এটি বিরাজ করতে পারে।

যে কোন বিষয়কে পরোয়া না করে, চক্ষুলজ্জা ডিঙ্গিয়ে কাউকে নিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে প্রবল ইচ্ছা বা ভাবনা মনে জাগে তাই ভালোবাসা।

কারও প্রতি সহানুভূতি বা শ্রদ্ধাবোধও ভালোবাসার একটি অন্যতম লক্ষণ।

ভালোবাসার নেই কোন সংজ্ঞা, চিত্র বা পরিমাপ। কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মনের কনে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে যে অনুভূতিগুলো নাড়া দেয় তাই ভালোবাসা। তবে শুধু ভালবাসলেই হয় না এ ভালোবাসা ধরে রাখতে পরিচর্চার প্রয়োজন।

কথায় আছে –

ভালোবাসার বাগানে সম্পর্কগুলো হলো এক একটি জীবন্ত গাছ আর সেই বাগানের মালী হিসেবে নিজেকে বসিয়ে দিয়ে গাছগুলোর পরিচর্যা করলেই ভালোবাসা সুগন্ধ ছড়াতে থাকবে আপনার চারপাশে। তাই ভালোবাসার যত্ন নিতে হয়। গাছে পানি না দিলে যেমন গাছটি মরে যায়, ভালোবাসার যত্ন না নিলে ভালোবাসাও মরে যায়!

ভালোবাসার পরিচর্চা

ভালোবাসা হৃদয়ের একটি অনুভূতি। ভালোবাসা মানে দূরে থেকেও কাছে থাকার অনুভব করা। কখনও কখনও সময়ের কোন ঠাসায় পরে ভালোবাসার রুপের পরিবর্তন ঘটে। মনে সংকোচ জাগে ভালোবাসার মানুষটি বোধ হয় আর আগের মত নেই বা ভালোবাসছে না। তাই প্রয়োজন ভালোবাসার পরিচর্চার। সঙ্গীর কাছে থেকেও যদি মনে হয় মানুষটি দূরে। তাহলে কিছু বিষয়ে সতর্ক হবেন যে আপনাদের মধ্যে ঘটছে কি না।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেনঃ

ছোটখাটো ভুল গুলোতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে না পারা। আগে হয়ত দুজন মানিয়ে নিতেন কিন্তু এখন আর ইচ্ছে হয় না।

অহেতুক ঝগড়া। কারনে অকারনে দুজনার বার বার ঝগড়া হওয়া।

কটু কথা বলা অর্থাৎ শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়া। হয়ত দুজন দুজনার ইচ্ছে কে আগে যেমন প্রাধান্য দিতেন এখন তা আপনি বা আপনার সঙ্গী করছেন না।

সঙ্গীর ভালো লাগা কিছু করতে আপনারও ভালো লাগতো বা তার জন্য শপিং করতে ভালো লাগতো। এখন আর সে অনুভূতিগুলো কাজ না করা।

ব্যাস্ততায় তার সঙ্গ বা কথা আপনার বিরক্ত লাগে। অথবা আপনার সঙ্গী ব্যাস্ততা কে আপনার চেয়ে প্রাধান্য দিচ্ছে।

দুজন কোথাও ঘুরতে বের হলেন কিন্তু আপনার বা আপনার সঙ্গীর মন উদাসীন থাকছে।

আগের মত বোঝাপড়া হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আপনার সব বিষয়ে সে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করছে অথবা আপনি করছেন।

সঙ্গীর সাথে সময় কাটাতে গিয়ে যদি আপনার মনে হয়, কোন কাজের পিছনে সময় দিলে ভালো হতো অথবা সঙ্গী কাজকে আপনার চেয়ে প্রাধান্য দিচ্ছে।

যদি আপনার সাথে অন্যের রুপ বা গুনের তুলনা করতে থাকে অথবা আপনার মনে তার থেকে অন্যের রুপ বা গুন ভালো লাগতে থাকে।

ছোট বা বড় যে দোষ হোক যদি সঙ্গীর মানসিক বা শারীরিক শাস্তি দেয়ার মন-মানসিকতা বার বার কাজ করে। উপরিউক্ত বিষয়গুলো যদি আপনাদের মধ্যে ঘটতে থাকে তাহলে আপনাদের ভালোবাসার পরিচর্চার প্রয়োজন।

যেভাবে পরিচর্চা করবেনঃ

সঙ্গীর সাথে খোলামেলা আলোচনা করে নিন যে আপনাদের সম্পর্কে পরিবর্তন ঘটছে ও ভালোবাসার পরিচর্চা করা দরকার।

সঙ্গীর সাথে আগের চেয়েও বেশী সময় কাটান।

ব্যাস্ততা কে এড়িয়ে চলুন সঙ্গী কে নয়।

নতুন পরিবেশে অথবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় ঘুরে আসুন।

সারপ্রাইজ কিছু করতে পারেন যেমন- গিফট দিতে পারেন, ঘরের ডেকরেশন পরিবর্তন করতে পারেন, সঙ্গীর পছন্দের খাবার রান্না করতে পারেন, এক সাথে সিনেমা দেখতে পারেন, শপিং করতে পারেন ইত্যাদি।

সঙ্গীর ভালোলাগা বিষয়গুলো প্রাধন্য দিন। তখন সেও আপনার ভালো লাগার বিষয়ে পুনরায় আগ্রহী হয়ে উঠবে।

হয়ত আপনার সঙ্গীর কোন বিষয় আপনার ভালো লাগছে না একেবারেই চুপ থাকুন তবুও কটু কথা বা তাকে ছোট করে কোন কথা বলবেন না।

সঙ্গীর ভুলের জন্য ক্ষমা করুন। কোনোভাবেই মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করবেন না।

আমাদের যেমন নিজেদের শারীরিক ও মানসিক চর্চার দরকার হয় ও আমরা করে থাকি। তেমনি দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার পরিচর্চা করা অবশ্যই প্রয়োজন। ভালোবাসা ঠিক রঙ বদলায় না রঙ বদলায় সময় আর আমাদের উচিৎ নিজেদের সমঝোতায় এসে ভালোবাসার পরিচর্চা করা।

ভালোবাসা কি গাছে ধরে?

আমরা প্রতিনিয়ত এই যে ভালোবাসার কথা বলি, সেই ভালোবাসা আসলে কি? অনেকে আবার এই ভালোবাসা নিয়ে আক্ষেপ করে বলে ” ভালোবাসা কি গাছে ধরে?” ভালোবাসার সহস্র দোলাচলে এমন প্রশ্ন আপনার মনে তৈরি হতেই পারে। আর এর উত্তর সবাই একদিন না একদিন খোঁজে। ভালোবাসা হচ্ছে মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোনো মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা।তবে ভালোবাসা অনেকসময় আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসে।অনেকে ভালোবেসে বিয়ে করে আবার অনেকের বিয়ের আগেই ভালোবাসা ভেঙ্গে যায়। কথায় আছে বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই নাকি ফিকে হয়ে যায় ভালোবাসা। তাই বলে ভালোবাসা প্রকাশ বন্ধ করে দেবেন না। দুজন মানুষের মাঝে সম্পর্ক বা ভালোবাসা গাছের মতই তারও প্রতিনিয়ত যত্ন দরকার;  মনে রাখবেন ভালোবাসাই হতে পারে আজীবন সম্পর্ক ধরে রাখার চাবিকাঠি। নিজের কাছের মানুষকে কখনোই কেউ হারাতে চায় না। তবুও ছোট ছোট কিছু ভুলে হারিয়ে যায় ভালোবাসা। তখন দাম্পত্যজীবনে একঘেয়েমি চলে আসে। তাই জেনে নিন  দাম্পত্যজীবনের গাছে ভালোবাসা ধরাতে হলে কি কি যত্ন করতে হবে।

ভালোবাসার স্পর্শ : ভালোবাসা গাছের মতো, যত যত্ন করা যাবে ততই বাড়বে। ভালোবাসার স্পর্শে ডালপালা মেলে ফলে-ফুলে ভরে যায়, আর অযত্নে যায় শুকিয়ে। অনেক দম্পতি মনে করেন, ‘ভালোই তো আছি, আবার ভালোবাসা দেখাতে হবে কেন? অথচ ভালোবাসা দেখালে দাম্পত্যজীবন হতে পারে মধুময়। ঠিক গাছের মতোই যত্ন নিন। হঠাৎ করেই ফুল বা ছোটখাটো উপহার দিয়ে আপনার প্রিয়া বা প্রিয়তমকে দিন চমকে।

মিলেমিশে কাজ করা : মিলেমিশে কাজ করলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই একধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়। এতে দুজনের বোঝাপড়াও ভালো থাকে। প্রায়ই দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনে একসঙ্গে বাইরে থেকে ফিরলেন। কিন্তু খাবার তৈরি বা সংসারের অন্য কাজে লেগে গেলেন স্ত্রী। আর স্বামী টিভি চালিয়ে বসলেন সোফায়। এমনটা না করে বরং সংসারের কাজকর্ম দু’জনে মিলেমিশে শেষ করে, পরে একসঙ্গে দু’জন মিলে টিভি দেখুন বা গল্প করুন। সারাদিন কে কী করলেন একে অপরকে জানান।

প্রশংসা : অনেকদিন একসঙ্গে থাকার ফলে সব কিছুই কেমন যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, নতুন পোশাক বা হেয়ারস্টাইলে আপনার সঙ্গীকে সুন্দর লাগছে এ কথা বলতে একদম সংকোচ করবেন না। আসলে এমন ছোটখাটো প্রশংসার ‘এফেক্ট’ কিন্তু অনেক বড় হয়। অর্থাৎ ‘প্রশংসা ছোট, তবে তার এফেক্ট বড়’।

স্বীকৃতি : সব মানুষই মাঝে মাঝে তার কাজের স্বীকৃতি চায়, এমনকি সংসারের কাজের ক্ষেত্রেও। তাই মাঝে মধ্যে একে অপরকে সে কথা জানান। আরো রোমান্টিক হয়, যদি কথাটা জানানো যায় ছোট্ট একটি ‘নোট’ লিখে অথবা এসএমএস-এর মাধ্যমে। দেখবেন পরের দিন কাজের আগ্রহ তো বাড়বেই, তার সঙ্গে আপন মানুষটিকে মনে হবে আরো কাছের।

ত্রুটি বড় করে না দেখা : একসঙ্গে থাকতে গেলে অনেক সময় ছোটখাটো অভ্যাসগুলো অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন হয়তো সব সময় মোজা খুলে বিছানায় রেখে দেন। অপরজন টুথপেস্টের ঢাকনা লাগাতে যান ভুলে। অনেক পরিবারে এ সব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অযথা ঝগড়া শুরু হয়। তাই এসব বিষয়গুলো এড়িয়ে চললে জীবন কিন্তু অনেক মধুর হতে পারে।

ভালোবাসার মানুষটির শখ : মাঝে মাঝে কখনো নিজেরা একসঙ্গে এমন কিছু করুন, যাতে অন্য ধরনের গল্প বা আলোচনা হতে পারে। একসঙ্গে সাইকেল চালাতে বা হাঁটতে যেতে পারেন। খোলা আকাশের নিচে প্রাণ খুলে হাসতে বা কথা বলতে পারেন। একে অপরের সঙ্গে সব কিছু ভাগাভাগি করার নামই যে বন্ধুত্ব, আর সেটাই তো দীর্ঘ ও সুখী দাম্পত্যের আসল কথা।

রাগ পুষে রাখতে নেই : রাগ, অভিমান ছাড়া কি দাম্পত্য জীবন মধুর হয়? রাগ, দুঃখ, অভিমান তো থাকবেই। কিন্তু তাই বলে রাগ যেন বেশিক্ষণ না থাকে। দিনের শেষে রাগ ভুলে অপরের কাছে এগিয়ে যান। রাগ বা মান ভাঙানোর উত্তম সময় সেটা। তা না হলে দু’জনকেই হয়তো না ঘুমিয়ে সারাটা রাত কাটাতে হবে যার প্রভাব পড়বে পরবর্তীতেও।

ভালোবাসার জৈবিক ভিত্তি

সেক্সের জৈবিক মডেলকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর একটি ড্রাইভ হিসাবে মনে করা হয় যা অত্যধিক ক্ষুধা বা তৃষ্ণার মতো। হেলেন ফিশার প্রেম বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। প্রেমের অভিজ্ঞতাকে তিনি তিনটি আংশিক ওভারল্যাপিং পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন: উদাহরণস্বরূপ, লালসা, আকর্ষণ, এবং সংযুক্তি। কামনা হল যৌন বাসনা পূরণ করার জন্য এক ধরনের অনুভূতি।  রোমান্টিক আকর্ষণ মূলত নির্ধারণ করে কোন ব্যক্তির সঙ্গী কতটা আকর্ষণীয় তার উপর । তাছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে, যেমন, একি সাথে একটি বাড়িতে অবস্থান করা, পিতামাতার প্রতি কর্তব্য, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুভূতিগুলিও জড়িত থাকে। এই তিনটি রোমান্টিক শৈলীগুলির সাথে নিউরাল সার্কিটগুলি, নিউরোট্রান্সমিটার এবং তিনটি আচরণগত নিদর্শন সংযুক্ত সব সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করে ।

কামনা হল যৌন বাসনার প্রাথমিক ধাপ যা টেসটোসটাইন এবং এস্ট্রোজেনের মতো রাসায়নিক পদার্থ বর্ধিত ত্যাগ করে। এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।  আকর্ষণ আরও individualized এবং রোমান্টিক হয় একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীর জন্য, যার মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র লালসা বিকশিত হয়।  স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষ মূলত প্রেমে পড়ে যখন তার মস্তিষ্ক নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সেটের রাসায়নিক পদার্থ ত্যাগ করে। উদাহরণস্বরূপ, নিউরোট্রান্সমিটার হরমোন, ডোপামিন, নোরপাইনফ্রাইন, এবং সেরোটোনিন এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে ।  amphetamine একি ধরনের পদার্থ ত্যাগ করে যার ফলে মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, হার্টের কম্পনের হার বৃদ্ধি পায় , ক্ষুধা এবং ঘুম হ্রাস পায়, এবং উত্তেজনা বেড়ে যায় । গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পর্যায় সাধারণত দেড় থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

যেহেতু কামনা এবং আকর্ষণ এর পর্যায়গুলিকে অস্থায়ী বলে মনে করা হয়, তাই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য একটি তৃতীয় পর্যায় প্রয়োজন। সংযুক্তি হল এক ধরনের বন্ধন যার কারণে সম্পর্ক অনেক বছর এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সংযুক্তি সাধারণভাবে বিবাহ বা শিশু জন্মদান করার মত অঙ্গীকারগুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাছাড়া পারস্পরিক বন্ধুত্ব বা পছন্দের বিষয়গুলি ভাগ করে নেয়ার কারণেও সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে স্বল্পমেয়াদী সম্পর্কের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্র বেশি পরিমাণে রাসায়নিক অক্সিটোসিন এবং ভাসপ্রেসিন নির্গত হয়। এনজো ইমানুয়েল এবং তার সহকর্মীরা রিপোর্ট করেন যে প্রোস্টেট অণুটি স্নায়ু বৃদ্ধিকারক ফ্যাক্টর (এনজিএফ) নামে পরিচিত, যখন লোকেরা প্রথম প্রেমে পড়ে তখন তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে, কিন্তু এক বছর পর তারা আবার পূর্ববর্তী স্তরে ফিরে আসে।  – সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

সংসারের রসায়ন

প্রাচীন যুগের প্রারম্ভে জনৈক উদ্দালকের শিশুপুত্র উজ্জীবন একদিন সন্ধ্যায় খেলা শেষে বাড়ি ফিরে এসে তার মাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। বাবা উদ্দালক বিষণ্ন মনে বারান্দার খুঁটি ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। উজ্জীবন বারবার তার বাবাকে প্রশ্ন করল—মা কোথায়? আমাকে বলো, আমার মা কোথায়? উদ্দালক হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন এবং মেঝেতে ধপাস করে বসে পড়লেন। পুত্র পিতার প্রতি মারমুখী হয়ে উঠল—সত্যি করে বলো, আমার মা কোথায়…?

উদ্দালক দুই হাঁটুর মধ্যে থুতনি রেখে ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন—তোর মাকে কতগুলো অচেনা লোক এসে ধরে নিয়ে গেছে। সাত বছর বয়সী উজ্জীবন বলল—কেন?

—ওদের মধ্যে একজন তোর মাকে খুব পছন্দ করত।

—তা কেন হবে বাবা? তুমি ওদের বাধা দিলে না কেন? মাকে ধরে রাখলে না কেন?

—ওকে ধরে রাখার কোনো অধিকার আমার নেই। এত বছর আমার সঙ্গে থেকেছে। তোর জন্ম হয়েছে, কিন্তু আইনত ও আমার কেউ নয়। ও যে আমার স্ত্রী

—এ রকম প্রমাণ আমি দিতে পারিনি। কারণ আমাদের তো বৈধ কোনো সম্পর্ক ছিল না।

জনশ্রুতি রয়েছে উদ্দালকের সেই ছেলেই বড় হয়ে একদিন সমাজে নর-নারীর সম্পর্কের বৈধতা—অর্থাৎ বিবাহের প্রথাটি চালু করে। পরবর্তী সময়ে সভ্যতার ঊষালগ্নে এসে এক ধরনের যুক্তি দ্বারা তাড়িত হয়ে নৃবিজ্ঞানীরা বিয়ে সম্পর্কিত একটি বিশ্বজনীন তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কোনো কোনো নৃবিজ্ঞানী এই তত্ত্ব নির্মাণে মনোবিজ্ঞান, দৈহিক নৃবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞানের সাহায্য নেন। আবার কেউ কেউ এর একটি নিরেট সামাজিক ব্যাখ্যাও দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন।

বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব কিছু চিন্তা-ভাবনা। তারপর আসে পারিবারিক সদস্যদের সহযোগিতা এবং পরামর্শ।

বিয়ের আগেই দেখা দরকার দুই পক্ষের পারিবারিক সমতা, ক্ষমতা এবং পাত্রপাত্রী দুজনের ব্যক্তিত্ব আর যোগ্যতার মাপকাঠি সঠিক বিন্দুতে রয়েছে কি না। সেটি বয়স হতে পারে, শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে পারে, আবার বাহ্যিক সৌন্দর্যও হতে পারে। ভবিষ্যতে এ দুটি পরিবারের মধ্যে কোনো রকম সম্মান-শ্রদ্ধার ঘাটতি দেখা দেবে না তো? বংশ মর্যাদা নিয়ে কেউ কারও ওপর খড়্গ তুলবে না তো? তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বনিবনা না হলেও দুজনে দুজনের প্রতি বিশ্বাস, বোঝাপড়া এবং ভালোবাসা থাকলে কোনো অশুভ শক্তি তাদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে পারবে না। বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য শুধু দায়সারা সংসার করাটাই শেষ কথা নয়।

বিবাহিত জীবনকে সার্থক-সুন্দর এবং মধুময় করে তোলার উপায় হচ্ছে তিনটি:

এক. শ্রদ্ধা, পরস্পরের প্রতি।

দুই. বিশ্বাস, দুজন দুজনকেই।

তিন. ভালোবাসা, একে অপরের প্রতি। এর সঙ্গে কর্তব্যবোধটিকেও সংযুক্ত করতে চাই। সন্দেহ একটি সাংঘাতিক অসুখ। ক্যানসারের মতো। এটিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলে দিতে হবে। কান কথা শোনা আরেকটি অসুখ—যক্ষ্মার মতো। আমরা দেখেছি, একটি মেয়ে কখনোই সংসার এবং সন্তান ছেড়ে পালাতে চায় না। যতই অত্যাচারী স্বামী থাক তার ঘরে। কিন্তু পরকীয়া করে এমন স্বামীকে কোনো মেয়েই মেনে নিতে পারে না।

সদ্য বিবাহিত একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেটে গেলেন এবং তার মা, বোন এবং ভাগনি জামাইয়ের জন্য ঈদের জামা-কাপড় কিনে ১০ টাকার চীনাবাদাম চিবাতে চিবাতে রিকশায় চেপে বাড়িতে এলেন এবং স্ত্রীকে বললেন—ওগুলো সব সুন্দর করে প্যাকেট করে রেখে দাও, কাল গিয়ে দিয়ে আসব। অল্পবয়সী স্ত্রীর তখন মনের অবস্থা কী রকম হতে পারে? রাগ, দুঃখ, নাকি অভিমান? মাত্র তিন দিন বাকি ঈদের। বিয়ের পর এই প্রথম ঈদ বলে কথা!

প্রিয় পাঠক ভাবতে পারেন—দূর! এ-ও কি হতে পারে? নাকি হয়? চল্লিশ বছর আগে হয়েছিল। এ আমার চোখের দেখা। সবার প্রতি কর্তব্য পালন করবে আর স্ত্রীর প্রতি করবে না—এটা তো নির্বোধের কাজ। স্বামীর পক্ষের আত্মীয়স্বজন এলে পোলাও-মাংস রান্না করার হুকুম আসবে আর স্ত্রীর পক্ষের কেউ এলে যদি কোনো স্বামী বলেন—কী চায় এই অসময়? কেন এসেছে জিজ্ঞেস করে বিদায় করো। তাহলে কোনো স্ত্রী তাঁর স্বামীকে শ্রদ্ধা করবে? এবং এভাবেই কিন্তু মন ভাঙতে ভাঙতে ঘর ভাঙার চিন্তা আসে। তিক্ততার সৃষ্টি হয় তুচ্ছ কারণেই। তাই মন থেকে ক্ষুদ্রতা এবং তুচ্ছতাকে সরিয়ে রাখতে হবে ভালো থাকার জন্য।

স্ত্রী যদি কখনো কখনো স্বামীর চেয়ে একটু বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়ে ওঠেন—তখন স্বামীর উচিত তাকে সম্মান করা। প্রশংসা করা কিংবা আনন্দিত হওয়া। এর উল্টোটা হলেই সংসারে অশান্তি আসে। অযোগ্য স্বামীরাই আস্ফাালন করেন বেশি। তাঁরা ভাবেন বউকে দাবিয়ে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের একটি উক্তি মনে পড়ে যায়—‘প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে বড়াই। জেন মনে তাহার তখন বিধির সঙ্গে লড়াই।’ সংসারের বয়স যত বাড়ে; সন্তান যত বড় হবে। বাবা-মার সম্পর্কটা ততই পোক্ত এবং বিশ্বস্ত হওয়ার কথা। তবেই তো ছেলেমেয়েরা বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।

একজন স্ত্রীকেও বুঝতে হবে তাঁর স্বামীর সার্বিক ক্ষমতা কতটুকু—সে অনুযায়ী তাঁর চাহিদা থাকতে হবে। অমুকের স্বামীর অত বড় বাড়ি, দামি গাড়ি এসব উদাহরণ দিয়ে স্বামীকে বিব্রত করা ঠিক নয়। স্বামীর বিশ্বাস এবং ভালোবাসার কাছে অন্য কিছুর প্রয়োজন কিন্তু মূল্যহীন।

ছেলেমেয়েরা যখন বড় হয়ে যায়, ওঁরা নিজেরা নিজেদের সংসার সন্তান-স্ত্রী নিয়ে একটি স্বতন্ত্র জগৎ গড়ে নেন এবং এটিই স্বাভাবিক। বয়সী বাবা-মার খোঁজখবর তাঁদের পক্ষে সব সময় নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। সব ক্ষেত্রে ওঁদের দোষারোপও করা যায় না। বৃদ্ধ বয়সে নিজেরা নিজেদের কাছে আন্তরিক হতে হবে। একজন রোগাক্রান্ত হলে অন্যজনের দেখাশোনা করার মানসিকতা থাকতে হবে। কিন্তু মধ্য বয়স থেকে যদি দুজনে দুজনের প্রতি বিরূপ মনোভাব নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু সমূহ বিপদ। কে কাকে দেখবে।

তাই দুজন দুই ঘরে দুই প্রান্তে না থেকে একবার এসে হাতটা ধরুন। মাথায় হাত রাখুন। কিংবা সেই চল্লিশ বছর আগের একটি সুন্দর স্মৃতির কথা ভাবুন। একজন আর একজনকে বুঝতে চেষ্টা করুন। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য একজন অন্যজনের কাছে ক্ষমা চাওয়া কোনো অপমান নয়—নিজেকে ছোট করাও নয়। বরং একে অন্যের কাছে বিশুদ্ধ হওয়া, ভবিষ্যতে এ রকম ভুল আর হবে না। এ মনোভাব ব্যক্ত করা উচিত। মনে রাখা উচিত, একরোখা গোঁয়ার্তুমির জন্য যেন ঘর ভেঙে না যায়। মনের ঝড় থেকে ঘরের ভাঙন ঠেকাতে হবে যে!

লেখক:নাসরীন নঈম
Prothom Alo