fbpx

সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, পাত্র পাত্রী

ডিভোর্স / বিচ্ছেদ বা দূর্ঘটনায় অকাল মৃত্যুর পর বিভিন্ন বয়সের প্রতিষ্ঠিত অনেক ব্যাক্তি সন্তান সহ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।

এমন নিঃসঙ্গতার যন্ত্রনা কেবল তারাই ( সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, পাত্র পাত্রী) উপলব্ধী করেন যারা এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন।

তারা না পারছেন এই যন্ত্রনাগুলো অন্যকে বলতে বুঝাতে –
না পারেন নিজেকে পুনরায় প্রস্তুত করতে। আর এই ধরনের মানুষদের জন্য যোগ্যসঙ্গী খুঁজে পাওয়াও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে।

বিবাহবিডি’তে রয়েছে এমন –
হাজারো  সিঙ্গেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, পাত্র পাত্রী, একক অভিভাবক  পাত্র পাত্রীর প্রোফাইল।

প্রত্যেকের সামাজিক ষ্টেটাস, পারিবারিক মূল্যবোধ, নিজস্ব চাহিদা ও পছন্দেও রয়েছে ভিন্নতা।

সিঙ্গেল মাদার


আমরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি –
আপনার পরিবারে বা পরিচিতদের মাঝে যদি এমন কেউ থেকে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চিতে বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করতে বলুন।

আমরা কনফিডেন্সের সাথে বলতে চাই, চাহিদা অনুযায়ী অবশ্যই সঠিক সঙ্গী বিবাহবিডি আপনাকে নিশ্চিত করবে।

শুধু বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করুন
অথবা আমাদের ফোন করে আপনার চাহিদার কথা বলুন।

বিবাহবিডি ডট কম
Hotline : +88 01922 115555, 88 01944 115555 , 88 019 71 24 2242
IP Phone : +(88) 0961 22 11 555  Office land : 02-4729-1212



হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ । বিবাহবিডি

সম্ভ্রান্ত ও উচ্চ শিক্ষিত বাংলাদেশী হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ পেতে বিবাহ বিডি’র রয়েছে সমৃদ্ধ ডাটাবেইজ।

পরিবারের প্রিয় সদস্যটির জন্য উপযুক্ত হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ না পাওয়ায় কারনে
বিয়ের ব্যাপারে যদি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন –
তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহ বিডি ডট কম

ঘরে বসেই পাত্র পাত্রীর খোঁজ অনলাইনে

চাহিদা অনুযায়ী পাত্র পাত্রীদের ছবি সহ বায়োডাটা দেখে পাত্র পাত্রী বা অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে নিশ্চিন্তে প্রোফাইল করুন।

বিবাহবিডি ডট কম, দীর্ঘ ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশী পরিবারগুলোকে অনলাইন / অফলাইন সেবা নিশ্চিত করে আসছে।

হিন্দুধর্মাবলম্বী পাত্রপাত্রী

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ
১৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন  গোত্র কিংবা কাষ্টের, হিন্দু পাত্রপাত্রীর খোঁজ পাওয়া যাবে –

ব্রাহ্মণ পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
ভট্ট/ভট্টাচার্য্য, মুখোপাধ্যায়/মুখার্জী, বন্দ্যোপাধ্যায়/ব্যানার্জী, গঙ্গোপাধ্যায়/গাঙ্গুলী, চট্টোপাধ্যায়/চ্যাটার্জী, উপাধ্যায়

গোস্বামী, চক্রবর্তী, লাহিড়ী, মিশ্র, মৈত্র, বাগচী, সান্যাল, ভাদুড়ী, ঘোষাল, তেওয়ারি/ত্রিবেদী, মৌলিক, কাঞ্জিলাল, শাস্ত্রী, আচার্য্য, শর্মা ।

বণিক পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
ধর, দ্ত্ত, মন্ডল/মণ্ডল, দে, শীল, নন্দী, মল্লিক, আঢ্য, কুন্ডু, পোদ্দার, বসাক, সাহা, বণিক, বড়াল, সেন, লাহা, রাহা

কায়স্থ  পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
দেব, চাকী, কর, মিত্র, নন্দী, দে, ধর, দত্ত, গুহ, পাইন, বসু/বোস, ঘোষ, বিশ্বাস, মণ্ডল/মন্ডল, উকিল, মল্লিক, পাল, ভঞ্জ, মজুমদার

সিংহ, চৌধুরী, সরকার, করণ, রায়, সুর, চন্দ, কুন্ডু, আইচ, দাস

মাহিষ্য পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
দাস, বিশ্বাস, মন্ডল/মণ্ডল, সিংহ, চৌধুরী, অধিকারী, গোস্বামী, কবিরাজ, ওঝা, উকিল, পুরকায়স্থ, তরফদার, আদক, সাঁতরা, ভৌমিক, প্রামাণিক

সরকার, রায়, মজুমদার, মল্লিক, মাইতি, জানা, বেরা, ধাড়া, গিরি, মান্না, দিন্দা, কারক, সামন্ত, হাজরা

ভূ-স্বামী পাত্র পাত্রী । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
মুন্সী, মণ্ডল, চাকলাদার, তালুকদার, রায় বাহাদুর, চৌধুরী, ঠাকুর, প্রধান, মল্লিক, রায়চৌধুরী, দস্তিদার, খাস্তগীর, সরকার, বর্ধন, মহলানবীশ, মজুমদার, দেওয়ান

নমঃশূদ্র বা নমঃস্বেজ । পদবীসমূহ নিম্নরুপঃ
ভক্ত, দাস, বাসফোর, মল্লবর্মণ, বর্মণ/বর্মা, মুচি/চর্মকার, ঘোষ, মোদক, শীল, দেববর্মা, হালদার, বিশ্বাস, রাজবংশী

পেশা হিসেবে পদবীঃ
কানুনগো, কারিগর, কর্মকার, ঘটক, গোঁসাই, পালাকার, নাগ (শাঁখারী), ভাঁড়, শোলাকার, মালাকার, ঘরামী, মিস্ত্রী, সূত্রধর/সুতার, পাঁটিকার

বাড়ৈ, হাজরা, হালদার, মাঝি, মালী, পাখাধরা, কার্য্যী, দেওরী, ওঝা, পটুয়া, পাটোয়ারি, ডাকুয়া, পাল, বৈদ্য, গুণ, পাজা, গদগদ,বালা জলদাস জলধর, বড়াল, সাহানী / সোহানী, বর, খাঁ, রং, সাউদ, গায়েন, ব্রজবাসী, মহন্ত

যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা, বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৮০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী। 

তাছাড়াও বিবাহ বিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন
– ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন)
– সিঙ্গেল ফাদার / সিঙ্গেল মাদার  সার্চ
( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ
জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন

নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে –

ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ও ইজি সার্চ  অপশন –
যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে।

আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে রেজিষ্ট্রেশন করুন। 
অথবা বিস্তারিত জানতেঃ

বিবাহবিডি ডট কম
HOUSE # 02 (3rd Floor) BLOCK: G,
SOUTH BANASREE MAIN ROAD, DHAKA-1219

Hotline: +88 01922 115555, 88 01944 115555, 88 019 71 24 2242
Customer Care: + (88) 0961 22 11 555 Office: 02-4729-1212

Hindu Marriage Media | Bibahabd

Bibahabd is a Best Hindu marriage media or Bangladesh Hindu Matrimony service provider –

Who provides online and offline matchmaking service to find a suitable partner / Bride Groom for marital relationship.

Login to find Bibahabd Hindu Marriage Media for Hindu Never Married, Divorce, widowed Bride Groom. You will find Barisal, Chittagong, Dhaka, Khulna, Mymensingh, Rajshahi, Rangpur, and Sylhet or

– NRB Muslim, Hindu, Buddhist, Christian Bride Groom for Arranged Marriage. The categories set down by colonial administrators persist today.

There are now more than 3,000 Hindu castes in all over the world, and an even greater number of sub-castes.

Here are six of the most significant:

Best Hindu marriage media in Bangladesh | Bangladesh Hindu Matrimony
  • Hindu Brahmins Bride Groom
    The highest of all the castes, and traditionally priests or teachers, Brahmins make up a small part of the population. The British colonial authorities gave Brahmins influential clerical jobs. They now dominate the key positions in science, business and government.
  • Hindu Kshatriyas Bride Groom
    Meaning “protector[s] of the gentle people,” Kshatriyas were traditionally the military class. They are now predominantly a land-owning caste and are diminished in power.
  • Hindu Vaishyas Bride Groom : A caste that is influential in trade, the Vaishyas were traditionally cattle-herders, agriculturalists, artisans and merchants. They are now associated with the middle-class and social advancement and make up around one fifth of Bangladeshis Hindu population.
  • Hindu Shudras Bride Groom : The lowest of the four ancient social classes, or Varnas-, the Shudras were considered so low as to be prohibited from the study of the “Vedas,” the earliest texts of sacred literature. Shudras are now con-sidered to be a “scheduled caste”
  • Hindu Adivasi Bride Groom : The term is used to refer to a collection of ethnic and tribal groups regarded as Bangladeshi’s aboriginal Hindu people. More than 95 per cent of Adivasis live in rural areas. Sixty-eight per cent do not reach high school.
  • Hindu Dalits Bride Groom : The word “Dalit,” derived from Sanskrit, means “ground,” “suppressed” or “crushed.” Considered the lowliest people of all the castes, Dalits are typically associated with Occupations regarded as ritually impure, such as those involving waste or carcasses. They are a people traditionally regarded as “untouchable.”

The platform Bibahabd allows members to search, communicate, interact and finally find the right person for them or their loved ones.

We at Bibahabd believe that marriages are made in heaven and we only intend in realizing those dreams. It is a site for the generation of today and the future.

Bibahabd is founded on the main objective to provide its members with a secured environment and expanded opportunities in finding their potential life partners thus helping them in making the right choice.

ডিভোর্স বিবাহ বিচ্ছেদ Divorce । গল্প

ডিভোর্সের ২৫ বছর পর নিজের প্রাক্তন স্বামীকে নিজের বৃদ্ধাশ্রমে দেখে চমকে গেলাম ।

কিছু বুঝতে পারছিনা। এতোবছর পর মানুষটাকে এভাবে দেখতে হবে তা একদম অকল্পনীয় ছিলো।লোকটা একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। দেখতে বড্ড অসহায় লাগছে।

নিজের মধ্যে সংকোচ করছে তার সামনে যাবো কি যাবো না।অনেকটা জড়তা নিয়ে শেষ পর্যন্ত তার সামনে গিয়ে দাড়ালাম।সামনে দাঁড়ানোর পরও লোকটার কোনো ভাবের পরিবর্তন হলো না, বুঝতে অসুবিধা হলোনা, যে সামনে থাকা মানুষটা চোখে দেখতে পায় না।

২৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে আমার সাথে বিয়ে হয়েছিলো সত্যজিৎ এর। বেশ ভালোই চলছিলো আমাদের সংসার।যৌথ হওয়াতে পুরো পরিবার একসাথে থাকতাম।শান্ত স্বভাবের হওয়াতে সবার সাথে আমার সম্পর্ক খুব ভালোই ছিলো।

আমাকে সবাই ভালোবাসতো। বিয়ের প্রায় দুই বছর অতিক্রম হওয়ার পরও যখন আমাদের সন্তান হচ্ছিল না তখন আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে বিভিন্ন চাপ দিতে লাগলো।অবশেষে রিপোর্ট থেকে জানতে পারি, আমি কখনো মা হতে পারবেনা। এরপর শুরু হয় শ্বশুড় বাড়ির বিভিন্ন মানসিক যন্ত্রণা।

তবুও নিশ্চুপ ছিলাম কারণ আমার পাশে আমার ভালোবাসার মানুষ সত্যজিৎ ছিলো।কিন্তু সুখ নামক বস্তু হয়তো সবসময় সয় না।আমার ক্ষেত্রেও তার বিপরীত কিছু হলো না।পরিবারের চাপে সতজিৎ ও আমার থেকে দূরত্ব নিয়ে নিলো।তবুও নিজেকে মানাতাম যে মানুষটা মনের কষ্টে হয়তো এমন করছে।শ্বশুর বাড়িতে থাকাটা যখন অনেকটা যন্ত্রণাদায়ক হয়ে গেলো তখন ঠিক করলাম কিছুদিন বাপের বাড়িতে গিয়ে উঠবো এতে হয়তো পরিবেশ কিছুটা শান্ত হবে।

ডিভোর্স বাংলাদেশ

যেদিন রাতে সত্যজিৎ কে বাপের বাড়ির কথা জানালাম সেদিন রাতে তার কোনো উত্তর পেলামনা।কিন্তু আগেরকার সময়ে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বল্লে তার মুখটা কালো হয়ে যেতো,এবারে তার মধ্যে তেমন পরিবর্তন হলোনা।বাপেরবড়ি যাওয়ার প্রায় তিনদিন বাদে একটা কুরিয়ার এলো যাতে লেখা আছে সত্যজিৎ এর বিয়ের কথা আর আমাদের ডিভোর্সের পেপার।

চিঠি আর ডিভোর্স পেপারটা হাতে নিয়েই আমার পুরো মাথা ফাঁকা হয়ে গেলো ।বুঝতে বাকি রইলো না পুরে বিষয়টা বহুদিন আগে থেকে পরিকল্পিত। শুধু আমার বের হওয়ার অপেক্ষায় ছিলো।

যার জন্য এতো কষ্ট আর অপমান সইয়ে ছিলাম সেই যখন পাশকেটে চলে গেলো তখন নিজেকে পুরো একা মনে হলো।ভাবলাম ঐ বাড়ি গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করবো,প্রতিবাদ করবো কিন্তু মনে হলো যার জন্য ও বাড়িতে যাবো সেই তো আমাকে চায় না তাই গিয়ে লাভ কি!!!

ডিভোর্স পেপারে সাইন করে পাঠিয়ে দিলাম।ডিভোর্স পেপার পাঠানোর পর তার সাথে আর কখনো দেখা বা যোগাযোগ হয়নি কারণ আমি নিজেই সবটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

ক্ষণে ক্ষণে মনে হতো আমার মতো নিঃসন্তান, স্বামী ত্যাগী মানুষের পৃথিবীতে না থাকা শ্রেয় কিন্তু একটা সময় বুঝতে পারলাম নিজের জন্য না হলেও অন্যের জন্য বাঁচতে হবে।নিজের মতো ভুক্তভোগী নারীদের জন্য বাঁচতে হবে।বাঁচতে হবে ওসব শিশুদের জন্য যারা পরিচয়হীন হয়ে বেঁচে আছে এ পৃথিবীতে। পেছনে ফেলে আসা মানুষগুলোর প্রতি কোনো অভিযোগ রইলোনা। ।

মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম,
সমাজের তাদের জন্য কাজ করবো যারা নিজেদের ত্রুটির জন্য পরিবার পরিজনের কাছে আঘাতপ্রাপ্ত।অতীতকে ভুলে, কঠোর পরিশ্রমে একদিন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলাম।স্থাপিত করলাম এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, বিধবা নারীদের জন্য বিভিন্ন কাজের ব্যবস্থা করেলাম।। আমার মতো যে সকল নারী এ সমাজে অবহেলিত, মানসিক আঘাতে জর্জরিত তাদের জন্য কিছু করতে পারাটাকে নিজের জন্য অনেক সৌভাগ্যের মনে হলো। অসুস্থ আর অস্বাভাবিক লাগছে সত্যজিৎ কে।

আমি নাহয় তার আপন ছিলাম না তাই আমাকে ছাড়তে তার হৃদয় কাঁপেনি তাহলে যারা তার আপন ছিলো তারা কেনো তাকে এখানে রেখে গেলো?? একজন সার্ভেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, ওনাকে এখানে কে এনেছে?

উত্তরে সে জানায়, সন্তানরা সবাই বিদেশ থাকে কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না তাই আশ্রমে রেখে গিয়েছে।দীর্ঘশ্বাস ফেল্লাম আর মনে মনে চিন্তা করলাম, একসময় নিঃসন্তান হওয়ায় সত্যজিৎ আমাকে ছেড়েছিলো আর আজ সে সন্তানরাই তাকে বৃদ্ধাশ্রমে ছেড়ে গেলো।এটাই হয়তো প্রকৃতির খেলা!

ডিভোর্স কেন হয় ?

ইশতিয়াক আর সোনিয়া। দুজনই ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। ছিলেন ব্যাচমেট। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়িয়ে শেষমেশ সফল পরিণতি। একজন একটা মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে কাজ করছেন বেশ ক বছর হল। আর সোনিয়া আছেন একটা ব্যাংকে। পরিবারে আর্থিক টানাপড়েন নেই। সমস্যা সময় নিয়ে।

ইশতিয়াকের মিটিং থাকলে ফিরতে রাত হয়। সেখানে সোনিয়া আগেই ফিরে বসে থাকেন মনমরা হয়ে। আর বাসায় এসে ইশতিয়াকের গভীর রাত অবধি অফিসের কাজ করার জন্য সোনিয়ার তো পর্বতসমান ক্ষোভ। অন্যদিকে কাজের ফাঁকে ইশতিয়াক হয়ত ফোন দিয়েছেন সেনিয়াকে। কিন্তু অফিসে এত ব্যস্ত সময় কাটে যে সোনিয়া হাই-হ্যালোর বেশি কথাই বলতে পারেন না। এসব নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছে তাদের মধ্যে।  সম্পর্কটাও কেমন যেন একেবারেই থমকে গেছে। তবে কি ডিভোর্সে এর সমাপ্তি?

অপরদিকে চল্লিশোর্ধ রায়হান সাহেবের প্রমোশন হচ্ছে না পাঁচ বছর।বসের সাথে ঝামেলা। সন্তানেরা বড় হচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চাহিদাও বাড়ছে।রায়হান সাহেবের উপায় কী? এমনকি স্ট্রেস সামলাতে না পেরে ইদানীং স্ত্রীর গায়ে হাতও তুলছেন। ফলে স্ত্রী সন্তানসহ আলাদা হয়ে যাবেন বলে সরাসরি বলে দিয়েছেন। আইনী পরিভাষায় যা ডিভোর্স।

মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় ডিভোর্সের পেছনের কিছু কারণ উঠে এসেছে। আর্থ-সামাজিক কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত আর্থ-সামাজিক ইস্যু পরিমাপের পদ্ধতি হল শিক্ষা আর উপার্জন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণত উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত দম্পতিরা তাদের আবেগ, সময়, পার্টনারের আত্মকেন্দ্রিকতা, অসামঞ্জস্যতা, ভালোবাসার অভাব ইত্যাদির সাথে আপস করে না এবং শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যায়।

অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক মাপকাঠিতে নিজের সারিতে যারা রয়েছে তাদের বিচ্ছেদের কারণগুলো কখনও আর্থিক, কখনও নির্যাতন, কখনও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক অথবা মাদকাসক্তি।

বিবাহবিচ্ছেদের আরও কিছু ব্যবহারিক নির্ধারক রয়েছে। কে কত বছর বয়সে বিয়ে করেছে, সাংসারিক জীবন কত বছরের কিংবা সন্তানের সংখ্যা বা সন্তানের বয়স। সাধারণত অল্প বয়সের বিয়ে সাংসারিক জীবনের আয়ু বাড়ায়। এখানে বিচ্ছেদের ঝুঁকি থেকে যায়। কারণ হিসেবে গবেষকেরা যে বিষয়গুলোকে সামনে এনেছেন সেগুলো হল, মানসিক অপরিপক্বতা, অস্থায়ী চাকরি ইত্যাদি। এছাড়া অল্প বয়সে লাইফ পার্টনারকে বুঝেই বা ওঠা যায় কতটুকু?

ফলে তুলনামূলক পরিণত বয়সে বিয়ে অনেক জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় আমরা খুব দ্রুত দম্পতিদের ডিভোর্সের পথ বেছে নিতে দেখি। এর পেছনে যেসব করণ রয়েছে বলে মনে করা যায় সেসব হল, পার্টনারদের মাঝে পারস্পরিক মৌলিক সামঞ্জস্য আবিষ্কারে ব্যর্থ হওয়া, মূল্যবোধের সংঘাত এবং ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব।

আবার দীর্ঘসময় দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা মানুষদের যে ডিভোর্স হচ্ছে না তা নয়। সেক্ষেত্রে কারণগুলোও ভিন্ন। যেমন, সন্তান প্রতিপালনে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে জীবনের সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একসময় হতাশায় ভোগা, সম্পর্কের মাঝে কোন নতুনত্ব খুঁজে না পেয়ে একচক্রে ঘুরপাক খেতে খেতে ইদানীং অনেক দীর্ঘ সংসার ভেঙে যাচ্ছে। পাশ্চাত্যের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও এমন ঘটনা হরহামেশা ঘটছে।

এছাড়া লাইফ পার্টনার ব্যতীত গোপন অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ডিভোর্সের মূল কারণগুলোর একটা বড় অংশজুড়ে। এর সাথে শারীরিক নির্যাতনও রয়েছে কারণ হিসেবে। গবেষণায় এসেছে, স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রথম।

উক্ত বিষয়গুলো পাশ্চাত্যের গবেষণায় দেখা গেছে। আবার বাংলাদেশেও ডিভোর্সের কারণ হিসেবে এগুলোই উল্লেখযোগ্য। সম্পর্কের অবনতি আমাদের কারোরই কাম্য নয়, তেমনই অনেকে সামাজিকভাবে অথবা অর্থনৈতিক টানাপড়েনের ভয়ে কষ্টকর একটা সামাজিক সম্পর্কের জের টেনে বেড়ায়-সেটাও কাঙ্ক্ষিত নয়।

বিয়ে ভেঙে যাওয়া মানে ভালোবাসা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এর মানে একজন আরেকজনকে আর ঘৃণা না করা। অনেকেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুশোচনায় ভোগে অথবা একটি অবাঞ্ছিত সম্পর্ক বয়ে নিয়ে কষ্টে থাকে। তাই এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবার সাথে পরামর্শ এবং সব ধরণের পরিস্থিতি বিবেচনা করা অনেক জরুরী।

লিখেছেনঃ  এ্যানি বাড়ৈ | সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলর, আপন

হিন্দু বিবাহরীতি

হিন্দু বিবাহ দুটি ব্যক্তি (বেশিরভাগই পুরুষ এবং মহিলা) চূড়ান্ত অনন্তকাল ধরে সমন্বিত করে, যাতে তারা ধর্ম (দায়িত্ব / কর্তব্য), আর্থ (অর্থ) এবং কাম অনুসরণ করতে পারে। এটি স্ত্রী বা স্ত্রী হিসাবে দুটি ব্যক্তির একটি ইউনিয়ন এবং জীবন্ত ধারাবাহিকতা দ্বারা স্বীকৃত। হিন্দু ধর্মে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য গতানুগতিক রীতি অনুসরণ করে না। প্রকৃতপক্ষে, বিবাহ সম্পূর্ণরূপে বা বৈধ হিসাবে বিবেচিত হয় এমনকি বিবাহ দুটি আত্মার মধ্যে হয় এবং এটি শরীরের বাইরে। এটি দুটি পরিবারকে একসাথে যোগ দেয়। অনুকূল রঙগুলি এই উপলক্ষে সাধারণত লাল এবং সোনার হয়।

হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, বিবাহে ছেলে মেয়েটির সমস্ত পালন পোষণের দ্বায়িত্ব নেয় এবং মেয়েটি তাদের সংসারের খেয়াল রাখার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে। এইভাবে তারা দুই আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে নিজেদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যায়।

বিবাহের লক্ষ হল সংসার ও সন্তানের লালনপালন করে বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য একই সময়ে বাইরে থেকে দরকারী জিনিস উপার্জন করে আনা আর ঘরের ভেতরে সংসারের কাজ সামলাতে হয়। যেহেতু একজন মানুষ একই সময়ে এই দুটো কাজ করতে পারে না তাই দুটো কাজ দুজনের মধ্যে বন্টিত বয়ে যায়।

যেহেতু পুরুষ বেশি বলবান হয় প্রাকৃতিকভাবেই আর মেয়েরা কোমল প্রকৃতির হয় এবং তাদের গর্ভে সন্তান জন্ম নেয় তাই বাইরে থেকে সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস উপার্জনের দ্বায়িত্ব পুরুষ নেয় আর ঘরে সংসারের দেখাশোনার দ্বায়িত্ব স্ত্রী নেয়। এইরকমভাবে হলেই সংসার সুস্হভাবে বেড়ে ওঠে ও সন্তানের সুন্দর দেখাশোনার মাধ্যমে বিবাহে বংশবিস্তারের উদ্দেশ্য সফল হয়।

হিন্দু বিবাহ
হিন্দু বিবাহের পাত্র পাত্রী

দুইজনের মধ্যে ভালবাসা থাকলেই এই কাজগুলো বাধাহীনভাবে সম্পন্ন হয় কিন্তু দুইজনের মাঝে তৃতীয় কেউ আসলে সেই দুইজনের ভালবাসায় ফাটল তৈরী হয়।আর তাতে আগের কাজগুলো করার দ্বায়িত্ববোধ মন থেকে মিটতে শুরু করে। কষ্ট-হিংসার সৃষ্টি হয়।তাতে সংসারের ক্ষতি হয় যার ফলে সন্তানেরও পালন ঠিকভাবে হতে পারে না। আর এখানেই বিবাহের উদ্দেশ্য বিফল হয়ে যায়।এতে পরকীয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে তাই বিয়ের উদ্দেশ্যকে রক্ষা করতেই বিয়ে শুধু দুইজনের মাঝেই হয়।

বিয়ের ব্যবস্থা করণ প্রক্রিয়াঃ

পুরোহিতের সাহায্যে মিলিত হওয়ার জন্য পুত্র / কন্যার জাতকাম বা জনম কুন্ডালির (জন্মের সময় জ্যোতিষশাস্ত্রীয় চার্ট) ব্যবহার সাধারণ, তবে সর্বজনীন নয় তামিল ভাষায় ‘জোথিদার’ বা উত্তর ভারতের তেলুগুতে ‘পান্থুলু বা সিদ্ধন্তী’ নামে পরিচিত ব্রাহ্মণের কাছ থেকেও অভিভাবকরা পরামর্শ নিয়ে থাকেন, যাদের বিবাহ করার জন্য অনেক লোকের বিবরণ রয়েছে। মিথিলাতে ব্রাহ্মণদের মতো কিছু সম্প্রদায় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা বজায় রাখা বংশবৃত্তীয় রেকর্ড (“পজ্ঞিকা”) ব্যবহার করে।

জাতকাম বা কুণ্ডলি জন্মের সময় নক্ষত্র এবং গ্রহের স্থানের উপর ভিত্তি করে আঁকা হয়। যে কোনও ম্যাচের সর্বাধিক পয়েন্ট ৩৬ এবং ম্যাচের নূন্যতম পয়েন্ট ১৮ হতে পারে। ১৮ বছরের কম বয়সী পয়েন্টগুলির সাথে যে কোনও মিলই সুরেলা সম্পর্কের জন্য একটি শুভ মিল হিসাবে বিবেচিত হয় না তবে তারা এখনও বিবাহ করতে পারে এমন লোকদের উপর এটি উদারভাবে নির্ভর করে। যদি দুটি ব্যক্তি (পুরুষ ও মহিলা) এর জ্যোতিষীয় চার্টটি পয়েন্টগুলিতে প্রয়োজনীয় প্রান্তিকতা অর্জন করে তবে সম্ভাব্য বিবাহের জন্য আরও আলোচনা বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাকে একে অপরের সাথে কথা বলার এবং বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়। একবার চুক্তি হয়ে গেলে তার পরে বিবাহের জন্য একটি শুভ সময় বেছে নেওয়া হয়।

আট ধরণের বিবাহ

হিন্দু ধর্ম অনুসারে আটটি ভিন্ন ধরনের বিবাহ রয়েছে। সকলেরই ধর্মীয় অনুমোদন নেই।

আট প্রকার বিবাহ সমূহ:

  1. ব্রহ্ম বিবাহ – ব্রহ্ম বিবাহ হ’ল বেদে শিখেছিলে এবং নিজের দ্বারা নিমন্ত্রিত নেক আচরণের লোকের সাথে কন্যার বিবাহ হয়। একটি ব্রহ্ম বিবাহ হল যেখানে একটি ছেলে তার ছাত্রী বা ব্রহ্মাচার্য শেষ করে একবার বিয়ে করতে সক্ষম হয়। ব্রহ্ম বিবাহ আট ধরনের হিন্দু বিবাহের মধ্যে সবচেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থান। ছেলের বাবা-মা যখন কোনও মহিলা খোঁজেন, তারা তার পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা করতেন, তবে মেয়ের বাবা তার ছেলেকে নিশ্চিত করতে যে তার ছেলের সাথে বিয়ে করতে চায় সে বেদের জ্ঞান রাখে। এই বিষয়গুলিই যৌতুকের ব্যবস্থা নয়, ব্রহ্ম বিবাহের ভিত্তি তৈরি করে। এই ধরনের বিবাহে যৌতুক পাপ হিসাবে বিবেচিত হয়।
  2. দৈব বিবাহ – যে ধরনের বিবাহকে নিকৃষ্ট বলে মনে করা হয় কারণ এটি নারীত্বকে হ্রাস করে। এখানেই মহিলার পরিবার তার বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। যদি তিনি উপযুক্ত বর না পান, তবে তিনি এমন জায়গাগুলির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন যেখানে পরিবার পুরোহিতের মাধ্যমে ম্যাচ মেকিংয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল যারা যথাযথভাবে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে, পারফরম্যান্সের সময়। এটাই ছিল প্রচলিত রয়্যালস অনুসারী এবং মিত্র ও শত্রুদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রাচীন কালে প্রচলিত ছিল।
  3. অর্শ বিবাহ – একটি আরশার বিবাহ হয় যেখানে মেয়েটিকে ঋষির সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। কিছু গরুর বিনিময়ে কনে দেওয়া হত। অগস্ত্য সেই অনুসারে লোপামুদ্রকে বিয়ে করেছিলেন। রাজারা প্রায়শই ঋষিদের অস্বীকার করতে পারেননি যাদের এমন ক্ষমতা ছিল এবং সমাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাই মহাভারতের অসংখ্য গল্প যা এই অনুশীলনের চিত্রিত করে।
  4. প্রাজাপাত্য বিবাহ – প্রজাপতি হল যখন কোনও মেয়ের বাবা তাকে বরকে বিয়ে করে, শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করে এবং তাদের সম্বোধন করে: ‘তোমরা উভয়ই এক সাথে তোমার দায়িত্ব পালন করুক’। ব্রহ্মার বিবাহের বিপরীতে, প্রজাপাত্য বিবাহই কনের পিতা কনের সন্ধানে যান, যদিও এই বিষয়টি পিতামাতার নিখুঁত কনের সন্ধানের মতো ভাল বলে বিবেচিত হয় না। এছাড়াও, আরশা বিয়ের মত, আর্থিক লেনদেনগুলি প্রজাপাত্য বিবাহের অংশ নয়।
  5. গন্ধর্ব বিবাহ – একজন মেয়ের এবং তাঁর প্রেমিকের স্বেচ্ছাসেবী মিলনকে গন্ধর্ব বিবাহ বলে। যখন ‘প্রেম’ বিবাহের কথা আসে তখন এটি গন্ধর্ব বিবাহই সর্বাধিক মিল। এখানেই একজন বর এবং তার কনে তাদের পিতামাতার জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই বিবাহ করতে পারে। এই হল কিভাবে দুশ্যন্ত বিয়ে করে শকুন্তলাকে। এটি ডেটিংয়ের মতো নয়। এখানে নববধূ এবং বর কোনও পদক্ষেপের আগে কোনও ব্যক্তি, প্রাণী, গাছ, উদ্ভিদ বা দেবতার উপস্থিতিতে মানত করে।
  6. অসুর বিবাহ – আসুর বিবাহ হল যখন বর পাত্রী প্রথম মেয়ের সাথে তার নিজের ইচ্ছামত সম্পদ অর্জন করার পরে পাত্রী এবং তার আত্মীয়স্বজনদের কাছে ধন-সম্পদ অর্জন করে। এটিই অসুর বিবাহ যা অন্য ধরনের বিবাহ থেকে নিজেকে আলাদা করে তোলে। এটি এমন একটি বিবাহ যেখানে পাত্রী কনের সাথে প্রায়শই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না এবং কিছুটা অস্বাভাবিকতাও অর্জন করতে পারে তবে পাত্রীর পিতৃপুরুষের লোভ বা বাধ্যতামূলকভাবে বরের ইচ্ছা এবং ধনসম্পদ এটিকে দিতে পারে। সর্বদা এই ধরনের বিবাহকে নীচু বিবেচনা করা হত। আধুনিক সময়ে এটি অগ্রহণযোগ্য কারণ এটি অনেকটা শেল্ফের বাইরে পণ্য কেনার মতো এবং সাধারণ ভারতীয় আইনের বিরুদ্ধে।
  7. রাক্ষস বিবাহ – রক্ষাসা বিবাহ হ’ল এক গৃহকর্তার সাথে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণের সাথে জড়িত থাকার পরে বিবাহ হয় যা কাজাক এবং উজবেক সংস্কৃতিতে এখনও প্রচলিত রীতি অনুসারে হত্যা করা বা আহত করা হয়েছে। বর কনের পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য করবে, তাদের পরাস্ত করবে এবং কনেকে তার সাথে বিবাহের জন্য রাজি করানোর জন্য দূরে নিয়ে যাবে। বল প্রয়োগের কারণে এই বিবাহটি আধুনিক পার্লেন্সে মূলত ধর্ষণ করা হয় এবং এটি কখনই সঠিক বলে বিবেচিত হয় না – তাই এটি যুক্ত করা নামী রক্ষাসহ নামটি রাখে। এটি মানুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে এটি একটি অপরাধ। সুভদ্রার সাথে অর্জুনের বিবাহটি দেখতে দেখতে তৈরি হয়েছিল তবে বাস্তবে এটি একটি গন্ধর্ব বিবাহ ছিল কারণ তাদের উভয়েরই প্রেম ছিল এক অগ্রণী এবং তাদের মধ্যে সুভদ্রার ভাই শ্রীকৃষ্ণের সম্মতি ছিল যিনি বলরামকে মতভেদ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এই সাবটারফিউজকেই প্রস্তাব করেছিলেন।
  8. পৈশাচ বিবাহ – যখন চুরি করে কোনও মানুষ ঘুমন্ত, নেশা বা মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিত কোনও মেয়েকে প্ররোচিত করে, তখন তাকে পয়শাচ বিবাহ বলে। এটি মনুস্মৃতিতে একটি ভিত্তি এবং পাপ কাজ হিসাবে নিন্দা করা হয়। আধুনিক যুগে একে ডেট রেপ বলা হয় এবং বেশিরভাগ সভ্য দেশে এটি একটি অপরাধ।

হিন্দু বিবাহ এবং রীতিনীতি প্রকারভেদ
ঐতিহাসিকভাবে বৈদিক বিবাহ ছিল হিন্দু বিবাহ রীতিনীতিগুলির কয়েকটি ভিন্ন ধরনের কিন্তু প্রেমের বিবাহ ঐতিহাসিক হিন্দু সাহিত্যেও দেখা গিয়েছিল এবং বিভিন্ন নামে যেমন গন্ধর্ব বিভা নামে বর্ণনা করা হয়েছে। কিছু দরিদ্র বৈষ্ণব সম্প্রদায়গুলিতে এখনও কাঁথি-বাদল নামে প্রচলিত রীতি রয়েছে যা কৃষ্ণা প্রতিমার সামনে একাকীত্বের একান্ত সরল রূপ হিসাবে পুঁতির মালা বিনিময়, গ্রহণযোগ্য প্রেম বিবাহের এক রূপ হিসাবে বিবেচিত।

পুরানো হিন্দু সাহিত্যেও এলোপমেন্টের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ভগবান কৃষ্ণ স্বয়ং রুক্মিনীর সাথে ঘোড়ার রথে যাত্রা করলেন। লেখা আছে যে রুক্মিনীর পিতা তাঁর ইচ্ছের বিপরীতে তাকে শিশুপালের সাথে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন। রুকিমিনী কৃষ্ণকে চিঠি পাঠিয়েছিল যে স্থান ও সময় তাকে তুলে নেবে।

বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের দ্বারা প্রতীকী অনুষ্ঠান অনুসরণ করা
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিবাহিত হিন্দু মহিলারা বিভিন্ন রীতিনীতি অনুসরণ করে। প্রায় সিদুর মঙ্গললসূত্র এবং চুড়ি এক বিবাহিত নারী লক্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিছু কিছু জায়গায়, বিশেষ করে মধ্যে পূর্ব ভারতে, পরিবর্তে তারা শুধুমাত্র করা সিঁদুর চুল বিভাজিকা উপর, একজোড়া পরিধান শঙ্খ চুড়ি (শঙ্খ), লাল চুড়ি (পাল) এবং বাঁ হাত একটি লোহার বালা তাদের স্বামী যখন জীবিত. দক্ষিণ ভারতে, বিবাহিত মহিলার একটি থালি এবং রূপার টো-রিং নামক একটি স্বতন্ত্র দুলের সাথে নেকলেস পরতে পারেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় দু’জনকেই স্বামী তাকে ধরিয়ে দেয়। থালীর দুলটি কাস্টম-ইন এবং এটির নকশা পরিবার থেকে পরিবারে আলাদা।

এছাড়াও এই, বিবাহিত মহিলা তার কপাল নামক একটি লাল সিঁদুর ডট পরেন কুমকুম এবং (যখনই সম্ভব) তার চুল এবং চুড়ি ফুল। মধ্যযুগীয় সময়ে একজন বিবাহিত মহিলা তার স্বামী মারা গেলে এই সমস্ত ছেড়ে দেওয়ার জন্য উত্সাহিত হত। এটি এখন আর অনেক প্রগতিশীল সম্প্রদায়ের অনুশীলন নয়। কাশ্মীরি তিহ্যে মহিলারা উপরের কানের মাধ্যমে একটি ছোট সোনার চেইন (চেইন থেকে ঝুলানো একটি ছোট সোনার ষড়জাকার পুঁতিযুক্ত) পরেন যা বিবাহিত হওয়ার লক্ষণ। কুমার উত্তরাখণ্ডের বিবাহিত মহিলাটি পিচোদা নামে একটি হলুদ কাপড় পরেন। আসল বিবাহে, হিন্দু নববধূরা উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরেন। একটি লাল শাড়ি বা লেঙ্গা সাধারণত কনে পরেন, তিনি এমনকি একাধিক পোশাক পরতে পছন্দ করতে পারেন। প্রথমটি হ’ল তিনি তার পরিবার থেকে পোশাক পরে এসেছিলেন এবং দ্বিতীয়টি তিনি তার স্বামী এবং তাঁর পরিবার তাঁকে দিয়েছিলেন এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অর্ধপথে রূপান্তরিত হতে পারেন।

আধুনিকতা
অনেক লোক বিশ্বাস করেন যে সাজানো বিবাহ ভারতে বিবাহের প্রচলিত রূপ; তবে প্রেম বিবাহ একটি আধুনিক রূপ, সাধারণত শহরাঞ্চলে। প্রেমের বিবাহটি বিবাহিত ব্যবস্থার চেয়ে পৃথক যে পিতা-মাতার পরিবর্তে এই দম্পতি তাদের নিজের সঙ্গী বেছে নেয়। হিন্দু ধর্মের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থের বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে, রোমান্টিক প্রেমের বিবাহ যা প্রাচীন কালে গৃহীত হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ মহাভারতের গল্পে দুশায়ন্ত এবং শকুন্তলা । কোথাও কোথাও কোথাও, সাজানো বিবাহগুলি প্রাধান্য পেয়েছিল এবং প্রেমের বিবাহগুলি অগ্রহণযোগ্য বা কমপক্ষে ভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, কিছু ইতিহাসবিদরা বিশ্বাস করেন যে এটি বিদেশী আগ্রাসনের সময়কালে হয়েছিল। কিছু প্রেমের বিবাহ সত্ত্বেও, বেশিরভাগ হিন্দু বিবাহের ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে, যদিও সম্ভাব্য দম্পতিরা সাধারণত ঐতিহাসিকভাবে এই ম্যাচের চেয়ে বেশি এজেন্সি রাখেন।

কেন বিবাহবিডিতে জীবনসঙ্গী খুঁজবেন!

বিয়ে একটি অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। মনে করা হয় দুটি মানুষের এই বন্ধন জন্ম জন্মান্তরের। সামাজিক নিয়মে এ বন্ধনে আবদ্ধ হয় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ। বিয়ে শুধু দুজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তৈরী করে দুটি পরিবারের মধ্যে সামাজিক বন্ধন।

বিয়ে নিয়ে মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই থাকে নানান আশা ও স্বপ্ন, থাকে উত্তেজনা, চিন্তা দুশ্চিন্তা ও ভাবনা। আবার বিয়ের ব্যাপারে অনেকেই মানুষিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে না। এর প্রধান ও অন্যতম কারন হলো পছন্দ মত যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে না পাওয়া।

দীর্ঘ ১ যুগের বেশী সময় ধরে আমরা এই সমস্যাটির সহজ ও দ্রুত সমাধান দিচ্ছি – বাংলাদেশী ও প্রবাসীদের জন্য সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক ২৪ ঘন্টা কল সেন্টার সার্ভিস নিয়ে সর্বোক্ষনিক সেবা নিশ্চিত করছে বিবাহবিডি ডট কম সার্ভিস টিম।

বিবাহবিডি ডট কম একটি অনলাইন বেইজড সার্ভিস ওয়েব পোর্টাল। এ পোর্টালের সদস্য হয়ে আপনি নিশ্চিত খুঁজে পেতে পারেন আপনার পছন্দমত যোগ্য জীবনসঙ্গী।

আসুন জানি যে কারনে বিবাহবিডিতে পাত্রপাত্রী খুঁজবেনঃ- বিবাহবিডি সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিবাহবিডি ডট কম আপনার পছন্দমত পাত্রপাত্রী খুঁজে দিতে সহায়তা করবে।

বিবাহবিডি পোর্টালে লগ ইন করে পছন্দের প্রফেশন, পাত্র-পাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা / এলাকা ভিত্তিক, প্রবাসী, বৈবাহিক অবস্থা (যেমন – অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা অথবা বিপত্নীক), ধর্ম, গোত্র, বর্ণ সহ ১৮ টি সার্চ ক্যাটাগরীর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী আপনার কাংখিত সংঙ্গীকে সহজেই খুঁজে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।

বিবাহবিডি প্রোফাইল এক্টিভেট/সক্রিয় করার পূর্বে নিজস্ব কাষ্টমার সাপোর্ট টিম তা তিন স্থরের ভেরিফাই করে ।

পাত্র-পাত্রীর প্রোফাইল ভেরিফিকেশনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম নিবন্ধন / একাডেমিক সার্টিফিকেট/ প্রবাসীদের জন্য ভিসা, পাসপোর্ট / ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেট যাচাই করে বিবাহবিডিতে একটি প্রোফাইল একটিভ করা হয় যার ফলে আপনি একজন পাত্র/পাত্রী পরিচয় বিষয়ক সঠিক তথ্য পাবেন।

বিবাহবিডি ডট কম এর ব্যাপ্তি বিশ্বব্যাপী এবং এটি সমকালীন একটি আধুনিক সেবা। তাই বিশ্বের যেকোন দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাত্র-পাত্রী বা অভিভাবকগন প্রোফাইল দেখে নিজেরাই সরাসরি পাত্র/পাত্রী বা কাংখিত প্রোফাইলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিবাহবিডি থেকে আপনি জীবন সঙ্গী্র খোঁজ পাবার পর বিবাহবিডি আপনার কাছে কখনোই কোন সার্ভিস চার্জ দাবি করবেনা। বরংচ বিবাহবিডিতে আপনার সাক্সেস ষ্টোরী শেয়ার করলে বিবাহবিডিই আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার ঠিকানায় গিফট পাঠাবে।

সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোন তথ্য ও সাপোর্টের জন্য ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই হট লাইন ইউজার সাপোর্ট প্রস্তুত থাকে ।

আপনি বিবাহবিডিতে প্রোফাইল রেজিষ্ট্রেশন করার আগেই জানতে পারবেন আপনার চাহিদা অনুযায়ী কতজন সম্ভাব্য পাত্র পাত্রী বিবাহবিডিতে রয়েছে।তাই আপনার অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য যদি পাত্র/পাত্রী খুঁজে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে রেজিষ্ট্রেশন করুন। বিবাহবিডি ডট কম একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ওয়েব পোর্টাল ২৪ ঘন্টা / ৭ দিনই হট লাইন ইউজার সাপোর্ট প্রস্তুত থাকে।

শর্ত : বিয়ের পর বউ চাকরি করতে পারবে না

বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। আধুনিক প্রতিষ্ঠিত ছেলেটি চান ভালো মেয়ে, সুন্দর, বনেদি পরিবার ও শিক্ষিত। আর মেয়েটি যদি মেধাবী হন, তা হলে তো ষোলোকলা পূর্ণ। তবে শর্ত একটি, বিয়ের পর বাড়ির বউ চাকরি করতে পারবে না। আধুনিকতার মুখোশের আড়ালে এমন সংকীর্ণতা অনেক পাত্র ও তাঁর পরিবারের মধ্যে দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতায় সফল মেয়েটি অনেক সময় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবারের কথা ভেবে অনাকাঙ্ক্ষিত অশান্তি এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত মেয়েরা নেন। বিয়ের পর স্বামী চান না বলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকেন অনেকেই। স্বামী বা শ্বশুরবাড়িকে খুশি করলেও নিজের ভেতরে গুমরে কেঁদে মরেন তাঁরা। নারীর ক্ষমতায়ন, আধুনিকতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা কপচানো অনেক পুরুষই বাস্তবে কর্মজীবী স্ত্রী পছন্দ করেন না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অরিনের বিয়ের কথা চলছে। একজনের সঙ্গে বিয়ের পাকা কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়নি। রুচিশীল শিক্ষিত ছেলেটিকে অরিনের ভালো লেগেছিল। কিন্তু বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে ছেলেটি শর্ত দিয়ে বসলেন—বিয়ের আগেই অরিনকে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। কেননা, তাঁর বউ চাকরি করলে লোকে নাকি ভাববে, ভরণ-পোষণ দিতে পারছেন না। এমন হাস্যকর যুক্তি মেনে না নিতে পারায় বিয়েটা শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল। এ বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় নাকি এখন অনেক বিয়ের কথাই বেশি দূর এগোচ্ছে না। হতাশ হয়ে অরিনের মা-বাবা মনে করেন, এই সামান্য শর্ত মানলে কী এমন ক্ষতি হতো!বিয়ের পর চাকরি ও সংসার কি একসঙ্গে সামলাতে পারবে? সন্তান হলে তাকে কাজের লোকের কাছে বড় হতে হবে। সারা দিন কাজ শেষে বউ বাড়ি ফিরবে। তখন পরিবারকে সময় দিতে চাইবে না। আর চাকরি করলে বউ বশে থাকে না। নিজের স্ত্রী চাকরি করার বিপক্ষে এসব যুক্তি দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ছেলে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, ভালো মেয়েরা চাকরি করেন না।

ছেলেদের এসব যুক্তির সঙ্গে মেয়েরা কি একমত? ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন হুমায়রা (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর আমি চাকরি ছেড়ে দেব। আমার সন্তান একা বড় হবে, এটি চাই না। এতে আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকবে না কিংবা ব্যক্তিত্বে প্রভাব পড়বে, এমনটি মনে করি না। সুন্দরভাবে সংসার করাও একটি শিল্প।’

তা হলে এত দূর পড়াশোনা করার কোনো মূল্যই থাকবে না! বিয়ে নামের সামাজিক বন্ধন স্বপ্ন পূরণে বাধা দেবে, এটি মানতে পারেন না নৌশিন। তিনি মনে করেন, ভালো বোঝাপড়া থাকলে সংসার ও চাকরি—দুটোই সামলানো সম্ভব। এখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই ছাড় দিতে হবে। পরস্পরকে সহনশীল হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর যে ছেলে কোনো মেয়ের স্বপ্ন ও কাজকে শ্রদ্ধা না করবে, তিনি স্বামী হিসেবে কতটা ভালো হবেন, এ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। হুমায়রা আর নৌশিনের বাইরেও আছেন অনেকে। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সেটা নিতে হবে মেয়েটিকেই। মেয়েটি যদি সবকিছু ঠিকঠাক সামলাতে পারে তা হলে সমস্যা কিসের!

অনেক সময় মেয়ের অভিভাবকেরাও চান, এই সামান্য ছাড় দিলে কী হয়? চাকরির জন্য সংসার টিকবে না, এটি তাঁরা মেনে নিতে পারেন না। ফলে মেয়ের মতামত গুরুত্ব পায় না তাঁদের কাছে। ব্যতিক্রমও আছেন কেউ কেউ। সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের তিন মেয়েই কর্মজীবী। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ের কথা চলছে। তিনি ভাবতেও পারেন না, তাঁর মেয়েরা কখনো চাকরি ছেড়ে দেবেন। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মা-বাবা পাশে থাকলে মেয়েরা সব পারে। আমার তিন মেয়ে চাকরি করে। এটি কত বড় গর্বের, তা বোঝানো যাবে না। পাত্রপক্ষ কিছু বলার আগেই বড় দুই মেয়ের বিয়ের সময় আমি উল্টো শর্ত দিয়েছিলাম, বিয়ের পর মেয়েকে চাকরি করতে দিতে হবে।’

অভিভাবকদের বুঝতে হবে, মেয়ে স্বাবলম্বী হলে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন। হতেই পারে বিয়ের পর স্বামীকে কোনো কারণে সাহায্য করতে হলো। তার চেয়ে বড় কথা, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী ঘরে বসে না থেকে কাজ করলে পরিবার থেকে দেশ—সবার জন্যই ভালো। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে ছেলেদেরই। চাকরিজীবী স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। শুধু মুখে মুখে আধুনিক না হয়ে কাজেও দেখাতে হবে।

রাতারাতি সবার মানসিকতার পরিবর্তন হবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনও জরুরি। নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করতে হলে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তাঁর সঙ্গে একমত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি জানান, ছেলেদের এই মনোভাব নারীর জন্য ইতিবাচক নয়; বরং বিবাহিত জীবনেও অনেকখানি ঝুঁকি রয়ে যায়।বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে হলেও অনেক সময় মেয়েদের এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাবোধ অন্যতম একটি কারণ। বিয়ের পর সন্তানের মা হওয়ার পর বাড়িতে কোনো লোক না থাকলে, অফিসে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র না থাকলে তখন সাধারণভাবে মাকেই চাকরি ছাড়ার কথা বলে সবাই।ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেই পরিবেশ বাড়ির সদস্যদের বা প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।

-তৌহিদা শিরোপা

পারিবারিক আইন, ডিভোর্স ও অন্যান্য

পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুটো ভিন্ন চরিত্রের একসাথে জীবন পার করে দেওয়া সহজ না। মানিয়ে চলাই তাদের প্রিলিমিনারি সামাজিক শিক্ষা। মানিয়ে নিতে না পারলেও একে অপরকে ছেড়ে যাওয়া মুখের কথা নয়। আবার কিছু আইনী প্রক্রিয়াও রয়ে যায়। বদলে যাওয়া সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন হ্য় সামাজিক ও আইনি সাহায্য। এসবের ঠিকুজি জানতেই ড.শাহনাজ হুদার মুখোমুখি লুক।

লুক: বাংলাদেশের মুসলিম আইনে তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর অধিকার কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: আমাদের দেশের মুসলিম আইন অনুযায়ী, তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর অধিকার স্ত্রীদের চেয়ে বেশি।কিন্তু এটা বলা যাবে না যে, তালাক দেওয়া কেবল স্বামীর অ্যাবসল্যুট রাইট। তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে কিছু আই্নগত প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। নোটিশ প্রদান, সালিশ-বোর্ডের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা, নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া আমাদের আইনে স্বামীর তালাক দেওয়ার অধিকারকে নিকাহনামার ১৯ নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে খর্ব করা সম্ভব। ১৯ নং অনুচ্ছেদের যথাযথ প্রয়োগের জন্য নিকাহ রেজিষ্ট্রারদের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা দরকার। দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদটিকে অবহেলা করে রেজিষ্ট্রাররা শুধ না শব্দটি লিখেই চলে যায়।

লুক: এই একই আইনে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অধিকার কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: এ দেশে মুসলিম আইনে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর অধিকার অনেকখানি খর্ব করা হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে, দীর্ঘদিন স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে, স্বামী নপুংসক হলে ইত্যাদি কারণে স্ত্রী স্বামীকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিতে পারে। এছাড়া নিকাহনামায় যদি স্ত্রীকে তালাকে তাওফিজের অধিকার দেওয়া হয়, তাহলে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবে।

লুক: তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীর কী কী অধিকার রয়েছে?

শাহনাজ হুদা: স্বামী স্ত্রীকে তিন মাসের ভরণপোষণ ও মোহরানার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

লুক: তিন মাসের ভরণপোষণ কি স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন?

শাহনাজ হুদা: এটা কোনভাবেই স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট না। কিছু মুসলিম দেশে এই বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন মিশরে, স্বামী যদি স্ত্রীকে কোন উপযুক্ত কারণ না দেখিয়ে তালাক দেয়, তাহলে একবছরের ভরণপোষণ দিতে হয়। আবার কিছু দেশে স্ত্রীর পুনর্বিবাহ কিংবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দিতে হয়।

লুক: বর্তমান সময়ে নারীর সমান অধিকারের কথা বলা হয়। সমান অধিকারের কথা বিবেচনা করলে স্ত্রীর ভরণপোষণের যৌক্তিকতা কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: এক্ষেত্রে সমান অধিকারের কথা বললে আরো অনেক আইন পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার দিতে হবে। কারণ, পিতা-মাতার মৃত্যুর পর মেয়েরা ছেলের অর্ধেক সম্পত্তি পায়। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির যে পরিমাণ পায়, স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী তার দ্বিগুণ পায়। এগুলো পরিবর্তন করার সাথে সাথে নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যদি এই পরিবর্তনগুলো করতে পারি, তাহলেই স্ত্রীর স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ কেন পাবে, এই প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারি। অন্যথায় নয়।

লুক: বিভিন্ন দেশ যেমন মিশরে কোর্টের অনুমতি ছাড়া স্ত্রীকে তালাক দেয়া সম্ভব না। বাংলাদেশে এরকম আইনের দ্বারা তালাকের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব? হলে কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: কোর্টের অনুমতি নিয়ে তালাক দিতে হলে এর অপব্যবহার অনেকখানি রোধ করা সম্ভব।কিন্তু এক্ষেত্রে দেশের মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন হতে হবে। যেটা এ মুহুর্তে বাংলাদেশে কষ্টসাধ্য ব্যাপার। প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আমাদের অধিকাংশ লোকজন কোর্টে যাবে না।এবং তালাক না দিয়েই স্ত্রীকে রেখে চলে যাবে। এতে স্ত্রী ভরণপোষণও পাবে না আবার পুনরায় বিয়ে করার বৈধতাও পাবে না। আরেকটি বড়ো কারণ হলো, বাংলাদেশের বেশিরভাগ কোর্টের অ্যাকসেস টু জাস্টিস কতোটুকু, তা নিয়েই প্রশ্ন আছে।

লুক: বাংলাদেশে কিছুদিন থেকে গ্রামের তুলনায় শহরে স্ত্রী কর্তৃক তালাকের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

শাহনজ হুদা: অতীতে গ্রামে তালাকের পরিমাণ বেশি ছিলো। বর্তমানের গ্রামের তুলনায় শহর এলাকার স্ত্রীরা বেশি তালাক দিচ্ছে।তালাকের ইতিবাচক দিক হলো, স্বামীর সংসারে অপমান অবহেলা সহ্য করার চেয়ে পৃথক হয়ে যাওয়াই নারীর জন্য ভালো। নারীদের মাঝে সামাজিক সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির কারণে পৃথক থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছে। যা পরে তালাকে রূপ নিচ্ছে।

লুক: বিদ্যমান মুসলিম আইন পুরোপুরি কার্যকর করে তালাকের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার রক্ষা করা কতটুকু সম্ভব?

শাহনাজ হুদা: আমি মনে করি, পুরোপুরি না হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নারীর অধিকাংশ অধিকারই সংরক্ষণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তালাকের পদ্ধতি, যেমন সালিশি-বোর্ড গঠন, বোর্ডের কাছে উপযুক্ত কারণ দর্শানো, নোটিশ দেওয়া, ৯০ দিন অপেক্ষা করা- এগুলোর নিশ্চয়তা প্রদানের সাথে সাথে যারা এগুলো ভঙ্গ করবে তাদের বিচারের আওতায় আনলে অহেতুক তালাকের পরিমান অনেকখানি হ্রাস পাবে।

আমাদের বিদ্যমান আইন কার্যকর করার সাথে সাথে আমরা যদি সোশ্যাল প্র্যাকটিস চেঞ্জ করতে পারি তাহলে তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের অধিকাংশ অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব।

লুক: বাংলাদেশে অভিন্ন পারিবারিক আইন চালুর ক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি?

শাহনাজ হুদা: ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশে অভিন্ন আইন চালুর পক্ষপাতী। কিন্তু, বাস্তবিক অর্থে এ মুহুর্তে এটা চালু করা অনেকখানি অসম্ভব। এটা চালু করতে গেলে মুসলিম-হিন্দু-খ্রীষ্টান, সকল ধর্মের অধিকাংশ পারিবারিক আইন পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যা দেশের ধর্মীয় জনগোষ্ঠি সহজে মেনে নেবে না। অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করতে গেলে আমাদের শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

লুক: বাংলাদেশের হিন্দু আইনে তালাকের ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?

শাহনাজ হুদা: বাংলাদেশের হিন্দু আইনে শুধু ১৯৪৬ সালের নারীর পৃথক বসবাসের অধিকার আইন দ্বারা বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব। যদিও ভারতে ১৯৫৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পৃথক আইন করা হয়, যার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব। বাংলাদেশের হিন্দু আইন সংস্কারের জন্য অনেকবার সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু, ধর্মীয় নেতাদের আপত্তির কারণে তা আজও  কার্যকর করা সম্ভব হয় নি। তবে, বর্তমানে হিন্দু স্বামী-স্ত্রীরা এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজেরা তালাক নিচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

লুক: তালাক পরবর্তী সময়ে সন্তানের কাস্টডি কেমন হওয়া উচিত?

শাহনাজ হুদা: বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পিতাই সন্তানের গার্ডিয়ান। কিন্তু, ছেলেসন্তানের বয়স সাত বছর এবং মেয়ে সন্তানের পিউবার্টির পূর্ব পর্যন্ত কাস্টডিয়ান হবে মা। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে কোর্টের অনেক ডিসক্রিয়েশনাল পাওয়ার আছে। কোর্ট সন্তানদের কাস্টডি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেষ্ট ইন্টারেষ্ট অব দ্যা চাইল্ড বিবেচনা করবে। আর সন্তান যদি মতামত দেয়ার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে কোর্ট তার মতামত বিবেচনা করবে। এক্ষেত্রে আমি বলতে চাই, পারিবারিক আইনের সব ব্যাপারে কোর্ট যদি কাস্টডি নির্ধারণের মতো বেষ্ট ইন্টারেষ্ট বিধি বিবেচনা করে তাহলে সব ব্যাপারই সহজভাবে সমাধান সম্ভব।

তালাকের মতো স্পর্শকাতর এমনভাবে আইন প্রনয়ন করতে হবে, যাতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়। কেউ যেন কাউকে হয়রানি করতে না পারে। একটা বিষয় আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, অনেক সাধ করে দুজন মানুষ ঘর বাঁধে। এটা ভেঙে যাওয়া কম কষ্টের না। তাই এমন কোন রিএ্যাকটিভ বা উস্কানিমূলক কিছুকরা উচিত হবে না যাতে অহেতুক তালাক বৃদ্ধি পায়।

লুক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

শাহনাজ হুদা: ধন্যবাদ লুক।

# লুকের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন নোমান হোসাইন ও আলাল আহমেদ

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ৯ আলামত

কে না চায় সুখী দাম্পত্য! কিন্তু সবার জীবনে কি আর সেই সুখ মেলে! তুচ্ছ থেকে শুরু করে গুরুতর নানা বিষয় নিয়ে বিষিয়ে ওঠে অনেক দম্পতির জীবন। খুবই অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক নানা ঘটনা ঘটতে থাকে, যার ফলাফল নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদ। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে সাধারণত যে ধরনের আলামত দেখা দেয়, সম্প্রতি তা প্রকাশ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে। নয়টি আলামতের কথা রয়েছে সেখানে।

অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। কথার আঘাতে একে অন্যকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। স্ত্রী তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের একদমই সহ্য করতে পারেন না। ঠিক একই আচরণ লক্ষ করা যায় স্বামীর মধ্যেও।

তুচ্ছ কারণে ঝগড়া
ঝগড়া করার জন্য তুচ্ছ নানা কারণ খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সামান্য কোনো অভিযোগ পেলেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে উদ্যত হন তাঁরা। একটা পর্যায়ে তাঁরা একে অন্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। স্বামী কিংবা স্ত্রী ঘর থেকে বের হলে একদমই ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে না তাঁদের। এসব সমস্যার কোনো সমাধানও তাঁরা দেখতে পান না।

মতের অমিল

স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল প্রকট আকার ধারণ করে। যৌথভাবে কোনো সিদ্ধান্তই তাঁরা নিতে পারেন না। দুজনই যাঁর যাঁর অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজের মতামত ঠিক কি না, তা ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো যুক্তির আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা অনুভব করেন না। মূলত ইগো সমস্যার কারণেই এমনটা হয়। একপক্ষ মনে করতে থাকে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করছে অপর পক্ষ। একে অন্যকে স্বার্থপর বলেও ভাবতে শুরু করেন তাঁরা।

গোপন ঈর্ষা

মনের অজান্তেই চুপিসারে ঈর্ষা নামের বিষবাষ্প ঢুকে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে। সঙ্গীর ওপর থেকে আস্থা পুরোপুরি উঠে যায়। একটা পর্যায়ে একে অন্যকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেন তাঁরা।

আত্মকেন্দ্রিকতা

স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ স্বার্থের বাইরে আর কিছুই ভাবতে পারেন না। নিজেকে উপেক্ষিত ও অনাহূত বলে মনে করতে থাকেন তাঁরা। সংসারকে আর নিজের বলে মনে হয় না। একটা সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘আমাদের’ বলে আর কিছু থাকে না। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠেন দুজনই। এটা খুবই ভয়ংকর একটি বিষয়।

প্রতারণা

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী কিংবা স্ত্রীর কেউ একজন প্রতারণার আশ্রয় নেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তাঁদের কেউ কেউ।  নিশ্চিতভাবেই এটা বিয়ে এবং পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু

স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা উবে যায়। আর যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হলেও সেখানে কোনো রকম আবেগ কাজ করে না। যৌনতাকে পুরোপুরি যান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া বলে মনে হয় তাঁদের কাছে। অথচ দাম্পত্য জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টা

সমস্যা সমাধানের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন না স্বামী কিংবা স্ত্রী। তাঁরা হাল ছেড়ে দেন। একে অন্যের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ান তাঁরা। একটা পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরং সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টায় মেতে ওঠেন তাঁরা। পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত কবে হবে, সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনতে থাকেন। সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার ইচ্ছে থেকেই তাঁরা এমনটা করেন।

যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া 

পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন স্বামী ও স্ত্রী। যে দাম্পত্যে একটা সময়ে কথার ফুলঝুরি ঝরত, সেখানে ভর করে আশ্চর্য এক নীরবতা। তাঁরা কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং একে অন্যের ছায়াও মাড়ান না। কোনো দম্পতির মধ্যে এমন আলামত দেখা যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ফেরার আর কোনো পথ নেই। নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তাঁরা।

সুত্রঃ প্রথম আলো