স্বামী-স্ত্রী’র বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

যারা প্রেম না করে বিয়ে করছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স, উচ্চতা ও বেতন একটি বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।  শরীর কাঠামো বা ফিগারেরে রয়েছে গোল্ডেন অনুপাত।  এ কথাটি শুধু শরীরের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।  স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভর করে দু`জনের উচ্চতা, বয়স ও বেতনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে যারা প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তাদের কথা আলাদা।  তারা হয়তো চাইলেও আর কোনো মানদণ্ডে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিচার করবেন না। কিন্তু যারা প্রেম না করে বিয়ে করছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স, উচ্চতা ও বেতন একটি বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।  চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর এসব বিষয়ে ব্যবধান কেমন হওয়া উচিত?

সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে লিখিত একটি প্রবন্ধে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।  প্রবন্ধে শুধু বয়সের ব্যবধানের কথা বলা হয়েছে তা নয়, দু`জনের উচ্চতা ও বেতনের ব্যবধান এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর সাথে সুসম্পর্ক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

বয়সের ব্যবধান: প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের আদর্শ ব্যবধান ধরা হয় ৩ বছরকে। সাধারণত মেয়েরা মনের দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে একটু আগেই পরিপক্কতা লাভ করে।  আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক মিল থাকাটা জরুরি। তাই মনে করা হয় যে, স্বামী যদি স্ত্রীর চেয়ে ৩ বছরের বড় হয় তবে দু`জনের মানসিক পরিপক্কতা সমান হবে।  তা ছাড়া, ৩ বছর বড় হলে স্বামী একটু আগে পড়ালেখা শেষ করে কোনো একটা পেশা বেছে নেবে এবং নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাবে।  এটাও বয়সের ব্যবধান ৩ রাখার একটা কারণ। এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, কিশোর বয়সে মেয়েদের মানসিক বিকাশ ছেলেদের তুলনায় দ্রুত হয়।  কিন্তু ২০ থেকে ৩০ বছর সময়কালটায় এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

উচ্চতার অনুপাত: প্রথমে স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার আদর্শ উচ্চতার বিষয়টি জানা যাক। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উচ্চতার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবধান হচ্ছে ১২ সেন্টিমিটার। অর্থাত্‍ স্বামী বা প্রেমিককে হতে হবে ১২ সেন্টিমিটার বেশি লম্বা।  কেন? কারণ, এতে নাকি পরস্পরকে আলিঙ্গন করা ও চুমু খাওয়ায় সুবিধা হয়।  এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মেয়ে সাধারণত নিজেকে সযত্নে রক্ষা করতে চান।  স্বামী বা প্রেমিকের উচ্চতা বেশি হলে, তিনি অনেক বেশি নিরাপদবোধ করেন। আসলে ছেলেদের উচ্চতা সাধারণতভাবে মেয়েদের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে ১০ সেন্টিমিটার বেশি হলে, দেখতে সুন্দর লাগে; মানানসই মনে হয়।  এই ব্যবধান দু`পক্ষের লিঙ্গ পরিচয়কেও আরও স্পষ্ট করে তোলে। স্বামী বা প্রেমিককে তখন অনেক বেশি ম্যানলি মনে হয় এবং স্ত্রী বা প্রেমিকাকে আরও বেশি কমনীয় ও সুন্দর লাগে। উচ্চতার ব্যবধানটি অতিরিক্ত হলে দেখতে ভালো দেখায় না।

বেতনের অনুপাত: বেতন বা আয়ের ব্যাপারটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোন কোন জরিপ অনুসারে, স্বামীর বেতন বা আয় স্ত্রীর দেড় গুণ হলে ভালো।  এতে পরিবারের সুখের সূচক বাড়ে।  আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামী ও স্ত্রী দু`জনই চাকরি করেন বা আয় করেন।  তবে ঐতিহ্যবাহী ধারণার প্রভাবে অনেকের মতামতা এমন যে, পরিবারে স্বামীর আর্থিক দায়িত্ব বেশি বহন করা উচিত। তাই স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর আয় বেশি হওয়া আবশ্যক বলেই অনেকে মনে করেন। এতে এক দিকে স্বামীর মুখ রক্ষা হবে, অন্যদিকে স্ত্রীর নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।  তবে, এ ব্যবধান যত বেশি হবে তত ভালো।

শ্বশুর-শ্বাশুড়ী প্রসঙ্গ: আজকালকার ছেলে-মেয়েরা প্রবীণদের সঙ্গে বসবাস করতে চান না। অথচ বাবা মা`র যত্নে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক দম্পতি নিজেদের মতো করে থাকতে চান; গড়তে চান নিজস্ব একটা ভূবন। যেখানে অন্য কেউ থাকবে না। তারা চান, তাদের বিবাহিত জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে।  এই চাওয়াটা ঠিক। কিন্তু পিতা-মাতা বা শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর যত্ন নেওয়ার গুরুত্বও তাদের বুঝতে হবে। তারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে সন্তান বড় করেছেন।  তাই পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।  তাহলে কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে পিতা-মাতা বা শ্বশুর-শ্বাশুড়ী তাদের প্রয়োজনে ছেলেমেয়েকে কাছে পান।

মানুষটাকে কি ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী হবার যোগ্য !

যখন কারো প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখন কিছু আচার আচারন, ভাব বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে বোঝা যায় –  আপনি আপনার সঙ্গীকে কি পরিমাণ ভালোবাসেন এবং তার বিপরীতে কি পরিমাণ সাড়া তার কাছ থেকে পাচ্ছেন এবং তা বিয়ের বন্ধনের জন্য যথেষ্ট কিনা । একই ভাবে কিছু বিষয় লক্ষ্য করলে সহজেই বোঝা যায় যে,  আপনার সম্পর্কটি বিয়ের মত একটি সিরিয়াস সিদ্ধান্তে যাওয়ার মত পরিপক্ষতা পেয়েছে  কি না।  যাকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার কথা ভাবছেন সে আপনার জন্য সঠিক মানুষ কি না।  এবং  মানুষটাকে ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করবেন কি না –

ভবিষ্যৎ কল্পনাঃ আপনি যখন কারো প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন তখন তাকে নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবন কল্পনা করতে শুরু করেন, ঠিক রূপকথার গল্পের মতো। এরকম ভাবনা গুলোর সৃষ্টি হয় মানুষের হরমোনের ক্রিয়ার ফলে এবং প্রতিটা মানুষের মনে এরকম কল্পনা আসে।  যদিও সব ভালোবাসার সম্পর্ক বিয়ের পিঁড়ি পর্যন্ত যায় না।  আপনি যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে সারা জীবনের সঙ্গী হিসাবে পেতে চাইবেন তখন অবশ্যই বাস্তবতাকে বিবেচনা করবেন শুধু কল্পানায় ভেসে যাবেন না।

সঙ্গীর মতামতঃ যখন দুজন মানুষ একে অন্যকে পাগলের মত ভালোবেসে এক হয়ে যায় এর অর্থ এই নয় যে তারা আদর্শ জীবন সঙ্গী হবে।  বিয়ে বিষয়টা খুব পরিষ্কার মাথায় বিবেচনা করা উচিৎ। একটা স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তখন তৈরি হবে তখনই, যখন আপনার সঙ্গীকে আপনি সমর্থন করবেন।  যদিও অনেক ক্ষেত্রে আপনাদের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে।

ক্ষমা করাঃ যে কোন সম্পর্কের শুরুতে সঙ্গীর কোন দোষ বা ত্রুটি আমাদের চোখে পড়ে না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে হয়তো আমাদের সঙ্গী আমাদের মনে কষ্ট দিতে পারে, এমন কোন ঘটনা ঘটাতে পারে যেটা আমরা ভাবতেও পারি না।  যখন সঙ্গীর এই দোষ গুলো ক্ষমা করতে প্রস্তুত থাকবো, তখনই ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করবো।  অবশ্য এই ক্ষেত্রে বড় কোন অপরাধ কে বিশেষ ভাবে বিবেচনা করবো, ক্ষমার অযোগ্য দোষকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কে স্থান দিনঃ সকল মানুষ তাদের চিন্তা চেতনায় আলাদা হয়, দুজন মানুষ একে অন্যকে ভালোবাসলেও তাদের ভাবনা, স্বপ্ন অথবা ইচ্ছা গুলো আলাদা হতে পারে।  যদি ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন তবে এই ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য কে সম্মান দিতে হবে।

প্রতিক্রিয়া আপনার পরিমাপকঃ জীবন সঙ্গী নির্বাচনে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া করচ্ছেন।  ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার আচরণকে লক্ষ্য করলে আপনি নিজেই বুঝবেন সম্পর্কটা বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে কিনা।  যদি সম্পর্কটা নিয়ে বেশী খুঁতখুঁত করেন তবে সম্পর্কটাকে বিয়ে পর্যন্ত না নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ভালোবাসলে মন থেকে ভালোবাসতে হবে, তা না হলে পরিণতিটা বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে না। ভালোবাসা ছাড়া যেমন কোন বিয়ে অপূর্ণ থাকে, ঠিক তেমনি সঠিক মানুষ ছাড়া ভালোবাসাও অপূর্ণ থেকে যায়।

বিয়ের পরে ভালোবাসা কি আগের মত সতেজ থাকে!

রোমান্সের ব্যাপারে আমরা খোলামেলা আলোচনা না করলেও, আমরা সবাই স্বীকার করি যে দাম্পত্য সুখের জন্য রোমান্সের গুরুত্ব অনেক। যারা নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বিয়ের প্রথম দিনের যে অনুভূতিটা পাচ্ছেন ঠিক প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পর্যন্ত সেই একই রকম অনুভূতি পাওয়ার জন্য সম্পর্ককের যত্ন করতে হবে, বিষয়টা বলতে যতটা সহজ, মেনে চলা বেশ কঠিন।

বিয়ে করা মানে ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাওয়া নয়।  বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে সতেজ রাখাটা দম্পতি দুজনের উপরই নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বিয়ের পর কিছু সময় পার হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনের রোমান্স কমতে থাকে।  বিশেষ করে বিয়ের পর বাবা, মা হওয়ার পর এই প্রবণতা বেশী বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। এরকম অবস্থা সৃষ্টিতে সঙ্গী একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকে।

বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে জীবিত রাখতে রোমান্স কে কি ভাবে কাজে লাগাবেন সে বিষয়ে ছোট একটা আলোচনা করা হলোঃ

বিয়ের পরের ডেটিং :  বিয়ের আগে যেভাবে একে অন্যের সাথে সময় কাটাতেন ঠিক বিয়ের পরেও চেষ্টা করবেন অন্তত মাসে একবার হলেও দুজনে বাহিরে কোথাও একান্ত সময় কাটাতে এতে করে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা উচ্ছল থাকবে।

উপহার দিনঃ  সঙ্গীকে কোন কারন ছাড়াই প্রায়ই উপহার দিয়ে চমকে দিন এতে সঙ্গী অনেক খুশী থাকবে।  ফলে দুজনের মধ্যের ভালোবাসা অটুট থাকে।

সঙ্গীকে প্রশংসা করুনঃ আপনার জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তার প্রশংসা করুন যেমন- দিন শেষে স্ত্রীকে তার সারা দিনের কাজের জন্য প্রশংসা করতে পারেন, সাথে বলতে পারেন যে তাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে পেয়ে আপনি অনেক গর্বিত। এরকম প্রশংসা সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় এক সাথে কাটানঃ সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরে দুজন একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে রাখবেন একসাথে সময়টা কাটানোর, এই সময়টা গল্প করে বা নিজেদের পছন্দের কোন গেম খেলে কাটাতে পারেন।

ঘর সাঁজানোর জন্য দুজনে মিলে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ নিজেদের শোবার ঘর নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করুন, পরিকল্পনা অনুসারে দুজনে মিলে কাজ করুন এতে একসাথে সময় কাটানো হবে মনও প্রফুল্য থাকবে, ভালোবাসার বৃদ্ধি হবে।

ছোট খাটো মনোমালিন্যতা কে মজার ছলে উড়িয়ে দেওয়াঃ দম্পতিদের মধ্যে যদি কোন মনোমালিন্যতা সৃষ্টি হয় তবে বিভিন্ন মজা ছলে বিষয়টাকে স্বাভাবিক করতে হবে।আরো অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে সহজে বিবাহিত জীবনের রোমান্স কে সারা জীবন একই রকম রাখা যায়, তবে চেষ্টাটা দুজনকে সমান ভাবে করতে হবে। একতরফা চেষ্টায় ভালোবাসা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে টিকে থাকেনা।

সম্পর্ক সুস্থ রাখতে ক্রোধ থেকে দূরে থাকুন!

চরম অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের কারনে যে কোন সম্পর্কের মধ্যে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।  রাগ করে যখন সঙ্গী আপনার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করে তখন পৃথিবীটায় শূন্য মনে হতে থাকে।  প্রথমত ভালোবাসার মানুষের এরকম রুপ দেখলে মনটায় ছোট হয়ে যায়, আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে পড়ে। নিজের ভালোবাসার উপর সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে।

যখন আপনার ভালোবাসার সঙ্গী আপনার সাথে ক্রোধপূর্ণ আচরণ করে তখন সেই মানুষটাকে একেবারে অচেনা মনে হয়, মনের ভেতর কষ্ট পাহাড় বাঁধে।এই কষ্টটা কারো সাথে ভাগ করে নেওয়া যায় না, নিজের মনে নিরব রক্তক্ষরণ হয়। এ ধরনের আচারন যদি পুনঃ পুন হতে থাকে তবে ভালোবাসা কমতে থাকে অনেক সময় ভালোবাসা শেষ হয়ে সম্পর্কটায় ভেঙ্গে যায়।

কিভাবে ক্রোধকে কমিয়ে মায়া বাড়াবেন তার কিছু উপায় আলোচনা করা হলোঃ

হঠাৎ রেগে গেলে উত্তর দেওয়ার আগে ১০ পর্যন্ত গুনুনঃ  যদি হঠাৎ রেগে যান তবে সাথে সাথে উত্তর না দিয়ে কিছুটা সময় গ্রহণ করুন, মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন, এর ফলে কথা গুলো সতর্ক ভাবে বলতে সময় পাবেন,  পরবর্তীতে নিজের কথার জন্য নিজেকে অনুতাপ করতে হবে না।

নিজেকে সঙ্গীর স্থানে রাখুনঃ সবসময় সঙ্গীর স্থানে নিজেকে রেখে দেখবেন, রেগে আপনি সঙ্গীর সাথে যে ব্যবহার করেন, তার স্থানে আপনি থাকলেও একই অভিজ্ঞতা আপনার হবে।  কিছুটা হলেও কষ্টটা অনুভব করতে পারবেন।

মনোযোগ সহকারে শুনতে চেষ্টা করুনঃ  সঙ্গী রেগে যে কথা গুলো আপনার উদ্দেশ্যে বলে, কথা গুলো যদি সঙ্গীকে হুবহু তাকে শুনান তবে সে বুঝতে পারবে তার কথা গুলো কতটা তিক্ত ছিলো।  মনোযোগ সহকারে সঙ্গীর কথা গুলো শুনুন ।

ভালোবাসার ছোঁয়াঃ যখন দেখবেন সঙ্গী রেগে যাচ্ছে, তখন তাকে জড়িয়ে ধরুন, আদর করুন অথবা যারা বিবাহিত তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন এতে করে সঙ্গীদের মধ্যকার ভালোবাসার আবেগ বৃদ্ধি পায় সব রাগ অভিমান চলে যায়।

সঙ্গীর প্রতি মায়া বৃদ্ধি করুনঃ  প্রতিদিন সময় করে আপনার সঙ্গীর চোখে চোখ রাখুন, তাকে বোঝার চেষ্টা করুন, তার প্রতি মায়া বৃদ্ধি করুন। আপনার প্রতি তার অনুভূতি গুলোকে বোঝার চেষ্টা করুন।  মায়া যতো বাড়বে ভালোবাসাও ততো বাড়বে অপরদিক থেকে সম্পর্কের ক্রোধের পরিমাণও অনেক কমে যাবে।  রাগ বা ক্রোধ এক প্রকার মানবীয় আবেগ, ক্ষোভ থেকে সৃষ্টি হয়।  সব মানুষের ভেতরে ক্রোধ থাকে তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, এই ক্রোধটা যেন সম্পর্কের মাঝে এসে না পড়ে।  ভালোবাসার সম্পর্ক দীর্ঘ স্থায়ী করতে হলে সঙ্গী একে অন্যকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।

সম্পর্ক বাঁচাতে প্রয়োজন বোঝাপড়া!

সম্পর্ক গুলোকে বুঝতে হলে মানুষটার অভিমানের ভাষা গুলো বুঝতে হবে।  কেউ যদি রাতে না খেয়ে বলে খিদে নেই তাহলে নিজে একা খেয়ে বাতি বন্ধ করে ঘুমিয়ে যাবার অর্থ হল আপনি তার অভিমানের ভাষা বোঝেননি।  সে হয়ত ভেবেছিল , তার খিদে নেই শুনে আপনি তার প্রতি একটু মনোযোগী হবে।  সে হয়ত চেয়েছিল আজ আপনি তাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিবেন। সে এমন ভাবে বলেছে ‘আমি তোমাকে বুঝতে চাই’ যার সারমর্ম হল, সে আসলে আপনাকে বুঝতে চায় না।

প্রতিউত্তরে আপনি অসংখ্যবার বলে গেছেন, ‘তুমি তাকে বুঝতে চাও না’ এই যে তুমি তাকে বুঝতে চাও না,ব্যাকটির শেষ শব্দের এই ‘ না’ টা সে আসলেই বুঝে উঠতে পারেনি। সে জানলোই না, এই ‘ না’ এর ভেতরে কত লাইন অভিমান আর আক্ষেপ ছিল।  আপনাকে একটু খেয়াল রাখতে হবে আপনার কতটুকু সে মেনে নিয়েছে আর কতটুকু মন থেকে নিয়েছে। মেনে নিতে নিতে এক সময় দেখবেন মানুষটা শুধুই মেনে নিচ্ছে, এর হৃদয়ে আর কোন ‘মন’ অবশিষ্ট নেই।

সম্পর্কে যাবার আগে আপনি হয়ত একটা মোহে ছিলেন, তার সব কিছুই ভাললাগা টাইপ একটা ঐশ্বরিক ব্যাপার।  সম্পর্কে আসার আগে আপনাকে এইটুকু পার্থক্য বুঝতেই হবে, প্রেম এবং ভালোবাসা এক জিনিস না।  প্রেম অনেকটা চঞ্চল প্রকৃতির। একটা সাদামাটা গানের লাইনে হেলুসিনেশন চলে আসে।  প্রেমের রসয়ানে পাগলামি আছে। একটা পাগল মানুষের ভেতরে ঢুকে মানুষটাকে দিয়ে সারারাত প্রিয়তমার বাসার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে।  সব থেকে সাংঘাতিক ব্যাপার হল, প্রেম অনেক সময় ভালো না বাসলেও ভালোবাসার চেষ্টা করে!

ভালোবাসা স্থির। সে মানুষটার সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়।  সে টিনএইজের প্রথম প্রেমের মত পাগলামি করে না; তবে সে পাগলের মতই ভালোবাসে।’ আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এটা আসলে বলবার বিষয় না।  ভন্ড এবং প্রতারকরাও বলে, বরংচ বেশিই বলে।  এটা করে দেখাতে হয়।  সম্পর্ক গুলো কেমন হবার কথা ছিল সেটা আমাদের চোখের দিকে তাকালেই আঁচ করা যায়।

আত্মসম্মানবোধ বাড়ান ভালোবাসার সম্পর্ক দৃঢ় হবে!

ইতিবাচক আত্মসম্মানবোধ যে কোন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আত্মসম্মানবোধ মানুষের আবেগময় আচরণ যা দ্বারা ভালোবাসার সম্পর্কের ভারসাম্যতা রক্ষা হয় খুব সুন্দর ভাবে।  আত্মসম্মানবোধ বা আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধির জন্য একজন সঠিক জীবন সঙ্গীর ভূমিকা অনেক বেশী।

আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে কিভাবে ভালোবাসার সম্পর্কের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি করা যায় ?

সঙ্গীদের একে অন্যকে দোষারোপ, সমালোচনা, অভিযোগ এবং লজ্জা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবেঃ  ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি সঙ্গী একে অন্যকে লাগাতার নানা কারনে দোষারোপ কিংবা অভিযোগ করতে থাকে তবে তাদের মধ্যে লজ্জা বা সংকোচবোধ বৃদ্ধি পায়, এরকম ঘটনা যদি পুনঃপুন হয় তবে, তাদের মন ছোট হতে শুরু করে। এতে আত্মসম্মানবোধ কমে যায় ও হীনমন্যতার সৃষ্টি হয় ফলে ভালোবাসাও কমতে থাকে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই চর্চা গুলোকে বন্ধ রাখতে হবে।

যে যেমন তাকে সেভাবে গ্রহণ করতে হবেঃ যদি ধরি কোন দম্পতির মধ্যে স্ত্রীর পছন্দ ঘর খুব গুছিয়ে রাখা অপরদিকে স্বামী চায় প্রয়োজন অনুসারে ঘরের জিনিস গুলোকে রাখতে। পছন্দের এরকম অমিল থাকলে একে অন্যের স্বভাব পরিবর্তন না করে দুজনকে একটা মধ্যবর্তী স্থানের সমাধান বেছে নিতে হবে, যেন সম্পর্কের মধ্যে কোন ঝামেলা প্রবেশ না করতে পারে।

একে অন্যকে উৎসাহিত করাঃ সঙ্গী একে অন্যকে মূল্যায়নের জন্য তাদের কাজের প্রশংসা করা উচিৎ এতে করে নিজ নিজ মনের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, শুধু আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি নয় এইটা ভালোবাসা প্রকাশের একটা ভালো মাধ্যমও বটে।

ত্রুটি গুলোকে গ্রহণ করাঃ পৃথিবীর কোন মানুষ ১০০ ভাগ সঠিক হয় না,  মানুষের মধ্যে ভুল বা ত্রুটি থাকবেই। ঠিক একই ভাবে আমাদের সঙ্গীদেরও অনেক রকম ত্রুটি থাকতে পারে,আমাদেরকে সঙ্গীর ত্রুটি গুলোকেও গ্রহণ করতে হবে। ভালোবাসতে হলে সঙ্গীর সম্পূর্ণটা ভালোবাসতে হবে, শুধু ভালোটা নয় । এতে সঙ্গীর হীনমন্যতা বোধ কমে যায়, আত্মসম্মানবোধ দৃঢ় হয় ফলে সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

মনের ভালোবাসাকে জাগ্রত রাখতে আমাদের মনের আবেগ গুলোকে সঠিক ভাবে চালনা করলে খুব সুন্দর ফলাফল পাওয়া যায় এতে সম্পর্ক গুলো অটুট থাকে।

“আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা” – উক্তিটির বাস্তবিক ব্যাখ্যা কি?

ভালোবেসে কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারছেন না? কোন সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অনেক চেষ্টা করছেন কিন্তু বিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন ? মন থেকে কাউকে ভালোলাগতে শুরু করেছে কিন্তু তাকে বিশ্বাস করতে না পারাটা একটা মানসিক চাপ।  বিশ্বাস করতে না পারাটা একটা কঠিন মানসিক অবস্থা।  ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নানা কারনে মনে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে।  সাধারণত যে বিষয় গুলো এই মানসিক অবস্থার জন্য দ্বায়ী থাকে, সে বিষয় গুলোর কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।

  • একক বাবা অথবা মায়ের সংসারে যদি সন্তান বেড়ে ওঠে, তাদের মধ্যে অবিশ্বাসের প্রবণতা বেশী থাকে।
  • স্কুল, কলেজে বন্ধুদের দ্বারা কোন কারনে বিশ্বাস নষ্ট হলে।
  • মাদকের আসক্তির কারনেও মানসিক ভাবে অবিশ্বাসের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের তাদের সঙ্গীদের প্রতি অসৎ আচরণ দেখে বিশ্বাস নড়বড়ে হতে পারে।
  • কেউ যদি সঙ্গী দ্বারা একবার প্রতারণার স্বীকার হয়, পরবর্তীতে আর কারো প্রতি সহজে বিশ্বাস আসেনা।

বিশ্বাস ভালোবাসার সম্পর্কের ভিত্তি:

ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রথম যে বিষয়টি খুব শক্ত ভূমিকা রাখে সেটি হচ্ছে বিশ্বাস।  আপনি যার কাছে নিজের মনের কথা, নিজের সব স্বপ্ন কোন সংকোচ ছাড়ায় বলতে পারবেন, শুধু সেই মানুষটাকে বিশ্বাস করতে পারবেন, এইটা মানসিক স্বস্থির একটা স্থান।  এই স্বস্থি যদি কোন সম্পর্কে না থাকে তবে সম্পর্কটি স্থায়ী হয় না।  অনেক সময় বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে আমরা মুষড়ে পড়ি বা কোন ক্ষেত্রে কষ্টকে ঝেড়ে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়।  অনেকে আবার নিজ মানসিকতাকে একটা অবস্থানে নিয়ে যায় যেখান থেকে কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারে না। ভালোবাসার সম্পর্কে অবিশ্বাসের অবস্থানের কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে আসতে পারে, প্রশ্নগুলো হতে পারে এরকমঃ

প্রশ্নঃ আমি কিভাবে কাউকে বিশ্বাস করবো?
প্রশ্নঃ কিভাবে বুঝবো যাকে ভালোবাসছি সে নিরাপদ ?
প্রশ্নঃ পরিবার ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস করা ঠিক কি না?

নিজের মধ্যে কিভাবে বিশ্বাসকে গড়ে তুলতে পারবেন: –

১।  মানুষের ভালো ও খারাপ উভয় দিক গ্রহণ করতে হবে।
২।  “As soon as you trust yourself, you will know how to live.” — Johann Wolfgang von Goethe অর্থাৎ নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে, জীবন যাপন সহজ হবে।
৩।  নিজের আবেগকে বুঝতে হবে।
৪।  কাউকে বিশ্বাস করতে অন্যের মতামত গ্রহণ না করে নিজের মনের কথা শুনুন।
৫।  সব সময় ভাবতে হবে পৃথিবী একটা নিরাপদ স্থান ।
৬।  আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে হবে ।
৭।  তীব্র আবেগ গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে ।

“আমি কাউকে বিশ্বাস করিনা”- এই অবিশ্বাসের অবস্থান থেকে একমাত্র আপনি নিজে পারেন বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে।  আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, খুব বিচার বিবেচনার মাধ্যমে ভালোবাসার মানুষটাকে আপন করে নিতে।

বিবাহিত জীবনেও একাকীত্ব বোধ হয় কেন

বিয়ের পরেও কেন মানুষ একাকীত্বে ভোগে! বিষয়টি সত্যি অবাক করার মতো। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও প্রায় ৪০ ভাগ দম্পতি একাকীত্বে ভোগে। আপাত দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবনে একাকীত্ব বলতে আমরা বুঝি সঙ্গীর মৃত্যু, অসুস্থতার কারনে বা বিচ্ছেদের কারনে একা হয়ে পড়াকে।

অপরপক্ষে আপনার সঙ্গী যখন আপনার পাশে থাকার পরেও দুজনের মানসিক যোগাযোগের দূরত্ব সৃষ্টি হয় ও মনের চাহিদার অপূর্ণতা থাকবে তখন একাকীত্ব বোধ করবেন। বেশীর ভাগ সময়ে আমরা আমাদের আবেগের অভাবটা বুঝতে পারিনা, শুধু মনে হয় কোন কিছুর অভাব হচ্ছে বা খালি খালি লাগছে। একাকীত্ব বোধের পিছনে কিছু আবেগ কাজ করে ও কিছু মানসিক চাহিদার অভাব বোধ হয়।  যে মানসিক চাহিদার অভাবে সঙ্গী থাকা সত্ত্বেও একাকীত্ব বোধ হয়,  কিছু বিষয় মাথায় থাকলে দাম্পত্যের একাকীত্ব এড়ানো সম্ভব  –
 
১।  দুজন দুজনকে শুনতে ও বুঝতে হবে  ২।  একে অন্যকে প্রশংসা করতে হবে   ৩।  সব দায়িত্ব পালন করতে হবে   ৪।  একে অন্যকে মূল্যায়ন করতে হবে
৫।  সহযোগিতার মনোভাব থাকতে হবে  ৬।  প্রেম ও ভালোবাসার মাঝে পরিপূর্ণতা থাকতে হবে  ৭।  একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে
 
এই মানসিক চাহিদা গুলোর অভাব হলে দুজন মানুষ একসাথে থাকলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব থাকে অনেক। যখন কোন সম্পর্কে বেশী মাত্রায় মানসিক দ্বন্দ্ব, কোন প্রকার আসক্তি বা নেশা, অবিশ্বাস কাজ করে তখন মানসিক চাহিদা গুলো পেছনে পড়ে যায়। এমনটা স্বামী, স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।  স্বামী কিংবা স্ত্রী কেউ যদি অন্য কিছুতে আসক্ত থাকে যেমন খুব বেশী কাজের নেশা, কেনাকাটার নেশা তবে তারা সঙ্গীর চাইতে আসক্তির বিষয়কে বেশী প্রাধান্য দেয় তখন সঙ্গীর একাকীত্ব বেড়ে যায়।  
 
বিয়ের পর স্বামী, স্ত্রী একে অন্যের সঙ্গী হয়ে থাকতে হবে, খেয়াল করতে হবে যেন একাকীত্ব সম্পর্কের ভেতর অনুপ্রবেশ না করে।
 
 

অনলাইন মাধ্যমে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে

MASLOW এর চাহিদা অনুক্রম আনুসারে ভালোবাসা মানুষের মৌলিক চাহিদার গুলোর একটি। নিকট অতীতে এই চাহিদা মেটাতে অর্থাৎ জীবন সঙ্গী নির্বাচনের জন্য নির্ভর করতে হতো পরিবার, আত্মীয় স্বজনের উপর অথবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের মাধ্যমে অথবা ঘটকের মাধ্যমে এবং সঙ্গী নির্বাচন করতেন আমাদের অভিভাবকেরা।  আধুনিক সময়ে আমরা আমাদের জীবন সঙ্গী নিজেই খুজে নেই, আর মাধ্যম হিসাবে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থান অথবা অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহৃত হয়।

বর্তমানে অনলাইন ম্যাট্রিমনিয়াল পোর্টাল / ওয়েবসাইট খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।  ২০১৬ সালের একটা জরিপে দেখা গিয়েছে বাৎসরিক প্রায় ১.৬ মিলিয়ন মানুষ স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে। বর্তমানের মুঠো ফোন গুলোতে হাজারো ডেটিং ও বিয়ে প্রাসঙ্গিক অ্যাপ আছে যে গুলোর ব্যবহার করে খুব সহজে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যাবহার করে নিজের খেয়াল খুশী আনুসারে। নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় বা কথা বলাটা অনেকে শুধু মজা হিসাবে নেয়। এজন্য সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম গুলো ব্যবহারে খুব সতর্ক হতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশেও সঙ্গী খোঁজ করার ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যম গুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এর মধ্যে বিবাহবিডি ডট কম খুব জনপ্রিয় একটি অনলাইন মাধ্যম, এই মাধ্যমটির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কেননা বিবাহবিডি পাত্র/পাত্রী ও তাদের গার্ডিয়ান ভেরীফিকেশনের পাশাপাশি – একাডেমিক, জব/ বিজনেস আইডেন্টিটি, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, এনআইডি ও ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেশন ভেরিফাই সহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট ভেরিফাই করার পর প্রোফাইল একটিভ করে।

প্রতিনিয়ত অনলাইন মাধ্যম গুলোর ব্যাবহার যতো বৃদ্ধি পাচ্ছে সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে হঠকারীদের সংখ্যাও যাদের উদ্দেশ্য শুধু ব্যবহারকারীদের ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা। অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদেরকে যে বিষয় গুলো জেনে নেওয়া উচিৎ, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো –

মিথ্যা তথ্য প্রদানঃ  নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে অনেকে নানা ধরনের মিথ্যা / তথ্য গোপন করে তথ্য প্রদান করে থাকেন।  অনলাইন মাধ্যম গুলোতে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে এই প্রবণতা দেখা যায়।  গ্লোবাল রিসার্চ এজেন্সির একটা গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ ভাগ ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে তারা প্রোফাইলে নিজ সম্পর্কে মিথ্যা বর্ননা দিয়ে থাকেন, এক্ষেত্রে মেয়েরা বেশী মিথ্যা তথ্য দেয় বিশেষ করে মিথ্যাটা তাদের ছবি সম্পর্কিত হয়।  ছেলেদের ক্ষেত্রে এই মিথ্যা তথ্য তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে হয়।

অসামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে: জীবন সঙ্গী খুঁজে পেতে, ভালোবাসার মানুষের অনুসন্ধানে অনেকে অনলাইন মাধ্যম গুলোর উপর নির্ভরশীল হয়, এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে অনেক অসাধু ব্যক্তি তাদের অসৎ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে চায়। যেমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা শুধু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সঙ্গী খুঁজতে অনলাইন মাধ্যম গুলোকে ব্যবহার করে, এদের কে চিনে নিতে হবে।  ছেলেদের মধ্যে এই প্রবণতাটা বেশী।

প্রতারক চক্র : অনলাইন মাধ্যম গুলো ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে যেমন সঙ্গী নির্বাচন সহজ হয়েছে তেমনি অসাধু প্রতারক চক্রের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।  এই চক্রগুলো অনেক সময় ভালোবাসার মানুষ সেজে আপনার কাছ থেকে বিভিন্ন পার্সেল পাঠানোর নাম করে কিংবা বিভিন্ন ধরনের লোভে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে, অনেকে সুযোগ ব্যবহার করে অন্যায় দাবী করে থাকে, অনেক রকম বিপদেও ফেলতে পারে।  এদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

সম্পর্কের স্থায়িত্ব কালঃ  অনলাইন মধ্যমে পরিচয় হয়েছে এরকম সম্পর্কের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ বাস্তবে দেখা করেনা এবং বাস্তবে যারা সম্পর্কে যায় তাদের বেশীর ভাগ প্রথম বছরে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।  বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনলাইন মাধ্যমে পরিচিতদের সংখ্যা তুলনামূলক একটু বেশী, তবে অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে বিবাহিত সুখী দম্পতির সংখ্যাও কিন্তু কম না।

অনলাইন মাধ্যম গুলোতে খুব সহজে অনেককে পাওয়া যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বেশী থাকে ফলে মানুষের বাছবিচার করার প্রবণতা বেশী দেখা যায়।  মাধ্যম যেটাই হোক  জীবন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে তা না হলে আমরা সঠিক জীবন সঙ্গী খুঁজে পাবো না।

কিছু কথাঃ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কহীন বিবাহিত জীবন!

এখনো পৃথিবীর অনেক দেশে বিবাহিত নারীরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শুধুমাত্র স্বামীর একতরফা আকাঙ্খার কারনেই শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য হয়, আর এতে অস্বীকৃতি জানালে  অনেক সময় সহ্য করতে হয় নানা মানসিক গঞ্জনা।  কখনো আবার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়।  ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্ব প্রথম বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে আইন পাস করা হয়। এই আইন পাসের আগে যুক্তরাষ্ট্রেও বিবাহিত নারীদের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ক্ষেত্রে স্ত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্যই দেয়া হত না।

প্রতিটা দাম্পত্য জীবনে পরিপূর্ন সম্পর্কের জন্য চাই স্বাস্থ্যকর শারীরিক সম্পর্ক, শারীরিক সম্পর্কহীন বিবাহিত জীবন সম্পর্কে বিভিন্ন জরিপ, বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে এবং বিভিন্ন মতবাদ প্রকাশিত হয়েছে।  এ বিষয়ে ফিলোসফির অধ্যাপক- Mark D. White এর মতধারা হুবহু তুলে ধরা হলো,

We rarely, if ever talk, about the ethics of a spouse refusing to have sex with the other for years. Because we see sex as something that must be consented to, we are loathe to say a husband or wife “owes” the other sex, yet few people don’t want and expect a healthy sex life when they say “I do.”

শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন নৈতিক কারনে বছর ধরে একে অন্যকে বঞ্চিত করছে, এ বিষয়ে আমরা কোন আলোচনাো করতে চাই না।  কারন আমরা শারীরিক সম্পর্কটাকে বাধ্যতামূলক মনে করি, শারীরিক সম্পর্কটা স্বামী ও স্ত্রীর একে অন্যের প্রতি হক। এ কথাটা বলতেও অনীহা দেখায়, অনেকে আবার মুখে সুস্থ শারীরিক সম্পর্কের কথা বললেও, তারা  ব্যাক্তি জীবনে সেটা অনুসরণ করেন না।  

অসুস্থ শারীরিক সম্পর্কের কারনে দম্পতিরা যে সমস্যা গুলো ভোগ করেন, আলোচনা করা হলোঃ

  • স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে মানসিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।
  • স্বামী, স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে অনেক সময় তৃতীয় পক্ষ চলে আসার সুযোগ থাকে।
  • স্বামী, স্ত্রীর যে কারো বিবাহ বহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • দম্পতির মধ্যে কলহ বৃদ্ধি পেতে থাকে, নানা সমস্যার সৃষ্টি হয় ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

দাম্পত্য জীবনে সুস্থ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে স্বামী ও স্ত্রীকে যে বিষয় গুলো অনুসরণ করা উচিৎ – 

  • স্বামী বা স্ত্রী কেউ কাউকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য জোড় না করা।
  • একে অন্যের মন বুঝতে হবে, পরস্পরের অনুভূতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।
  • দুজন কে এক সাথে একান্ত সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে, তখন পারস্পারিক বোঝাপড়া দৃঢ় হবে।
  • সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় পক্ষের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া যাবে না, যত কঠিন সময়ই আসুক না কেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সময় দিতে হবে।
  • যদি মনে হয় কোন শারীরিক সমস্যা বোধ হচ্ছে, প্রয়োজনে মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে এবং এক্ষেত্রে একে অন্যের পাশে থাকতে হবে।

বিবাহিত বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া একটা অনৈতিক কাজ।  একটা সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর, আর যদি সে বিশ্বাস ভেঙ্গে যায় তবে সম্পর্কের আস্থাটা আর থাকে না।  একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য অবশ্যই  বিশ্বস্ত সম্পর্ক ও সুস্থ যৌন সম্পর্ক অতি আবশ্যক।