মনের রসায়ন ও বিয়ে

মনস্তত্ত্বের কথা হবে, এদিকে ফ্রয়েডের কথা আসবে না, তা কি হয়? তবে এক্ষেত্রে একটা মজার উদ্ধৃতি দেওয়া যাক! মেয়েদের প্রতি হালকা কটাক্ষ আছে এখানে। আসলে শুধু এই দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই বিয়ের ব্যাপারটা সমাজের প্রেক্ষিতে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়ে এসেছে। বহু যুগের শিকড়, সুতরাং একবারে তো সবটা উপড়ে ফেলা যাবে না। এই উপমহাদেশে বিয়ের মনস্তত্ত্ব ছেলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকখানিই আলাদা হয়ে গিয়েছে, তার কারণও সেই প্রোথিত মানসিকতা। দু-তিন দশক আগেও সাধারণভাবে বিয়ে মানে একজন পুরুষের সঙ্গিনী প্রয়োজন, যাঁর সঙ্গে সমাজস্বীকৃত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে, সন্তানধারণে সক্ষম হবেন এবং স্বামীর সঙ্গে যিনি পরিবার পরিজনেরও দেখভাল করবেন। উলটোদিকে একটি মেয়ে বড় হয়, উপযুক্ত স্ত্রী, মা এবং পুত্রবধূ হওয়ার জন্য। মানসিকতার গঠনও হতে থাকে সেরকমই। এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে দেশের একটি বিশেষ অংশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে। সমাজের অনেক স্তরে না হলেও মোটামুটি শিক্ষার আলো যেসব অংশে সঠিকভাবে পৌঁছেছে, সেখানে বিয়ের প্রধান স্তম্ভ এখন পারস্পরিক সমঝোতা, বর ও কনের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া। আমরাও আলোচনা বরং এখান থেকেই শুরু করি।

বিয়ে ও সমাজ

সমাজ শুধু বিয়ে নয়, আরও অনেক সম্পর্কেই হস্তক্ষেপ করে। সমাজ যে কোনও সম্পর্কেরই একটা নিয়ম বেঁধে দিতে চায়। যেমন, স্বামী বা স্ত্রী-র সম্পর্ক, পিতামাতার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, ভাই ও বোনের সম্পর্ক এবং এরকম আরও নানা সম্পর্কের সমীকরণে একটা মাপকাঠি ঠিক করে দিতে চায় সমাজ। বিয়ে তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সমাজের বাঁধা ছকে চলি বলেই সেটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রথমেই মনে রাখা দরকার যে, কোনও সামাজিক চাপ হিসেবে বিয়েতে রাজি হলে মুশকিল। মন থেকে তেমন সায় নেই, এদিকে একটি বিশেষ বয়সে পৌঁছেছি বলে এবং সকলে বলছে বলে আমাকে বিয়ে করে নিতে হবে, এমনটা যেন না হয়। বিয়ে করব বলে যদি মনস্থির করেন, তা হলে কিছুটা পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা ও কিছুটা মানসিক পরিণতির সাহায্য নিয়ে বুঝে নিতে হবে, বিয়ে করার সঙ্গে-সঙ্গে কী কী জিনিস জীবনের সঙ্গে জুড়তে চলেছে। প্রয়োজন হলে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে নিন। তিনিও বিয়ে করতে পুরোপুরি মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না, সেটাও জানা দরকার। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে থাকবেন, না স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকবেন, সেই প্রস্তুতিও বিয়ের আগে নেওয়াই বোধহয় ভাল। যে কোনও সম্পর্ক তৈরি করা উচিত, তা টিকিয়ে রাখার জন্যই। সেই আত্মবিশ্বাস নিজের আছে কিনা, যাচাই করে দেখা দরকার।

বিয়ের আগের পরিস্থিতি

কেউ ভালবেসে বা দীর্ঘ পরিচিতির পরে বিয়ে করেন, কেউ কমদিনের পরিচয়ে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিয়ের আগে অন্যের পরিবারকে কতখানি জেনে নেওয়া দরকার। শারীরিক কারণে কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা আজকাল আমরা সকলেই করি। ভবিষ্যতে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আনার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন তো আছেই। তা ছাড়াও অন্যের পরিবারের সকলের সঙ্গে মিশলে মনের দিক থেকেও একধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে। সবসময় যে তা ১০০ শতাংশ বোঝা যায়, তা নয়। কিন্তু আন্দাজ করা যেতে পারে। যাঁরা বিবাহ করবেন বলে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যায় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ও মনের জোর রয়েছে যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। অনেক কাপলই আছেন, যাঁরা পরস্পরের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু যাঁদের ক্ষেত্রে দ্বিধা কাজ করে, তাঁরা একবার পরস্পরের পারিবারিক দিকটাও দেখে নিতে পারেন। কতটা মানিয়ে নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, তা জানা থাকলে উভয়েরই ভাল।

শারীরিক সম্পর্ক ও বিয়ে

এখনও আমাদের দেশের অধিকাংশ কাপলের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক ঘটে না। ফলে জানা সম্ভব হয় না ফিজ়িক্যাল কম্প্যাটিবিলিটি কীরকম হতে পারে। এটা এমন একটা বিষয় যে, আগে থেকে আলোচনা করেও কোনও লাভ হয় না। ফলে এক্ষেত্রে বিয়ের পরে যদি সব ঠিকঠাক না থাকে, তা হলে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে। তবে এই নিয়ে চাপ নেওয়ারও কিছু নেই। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যাঁরা আছেন, তাঁরা এই বিষয়ে নিজেদের বুঝে নিতে পারেন। নতুনদের ক্ষেত্রে কম্প্যাটিবিলিটি ক্লিক না করলে নিজেদের বোঝাপড়ার দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

বিয়ে ও লিভ-ইন

বিয়ে ও দীর্ঘদিনের স্থায়ী লিভ-ইন সম্পর্কের খুব বেশি তফাত নেই, কিছু আইনি জটিলতা ছাড়া। কারণ সমাজ ও পরিপার্শ্ব সিরিয়াস সহবাসকেও প্রাধান্য দেয়। সম্পর্ক ভেঙে গেলে দু তরফেই মানসিক ও সামাজিকভাবে একইরকম হ্যাংওভার থেকে যায়। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ডিভোর্সের ব্যাপারটা সবসময় মসৃণ হয় না। লিভইন-এ সেই ‘ঝামেলা’ নেই। তবে আমাদের দেশে এখনও লিভ-ইন কাপল বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন মূলত দুটো কারণে। প্রথমত এখনও বাড়ির লোকেরা দীর্ঘদিনের লিভ-ইন মেনে নিতে পারেন না। একটা চাপ সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয়ত লিভ-ইন অবস্থায় সন্তানধারণের ব্যাপারে সমাজ এখনও ততটা প্রস্তুত নয়। সন্তানের পরিচয়কে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেও অনেকেই শেষপর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

সবশেষে বলে রাখা ভাল, পুরো আলোচনা করা হয়েছে সাধারণ কিছু পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। বিয়ে অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ক। সুতরাং তার মনস্তাত্ত্বিক আলোচনাও ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে, কেস টু কেসে সেটা আলাদাও হয়ে যায়। তাই নিজেদের সমস্যা দুজন বিবাহযোগ্য মানুষই তাঁদের মানসিক পরিণতি দিয়ে সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারবেন। সেইমতোই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সম্পর্কে প্রনয় আছে কিন্তু বন্ধুত্ব নেই; কি করবেন?

প্রণয় ও বন্ধুত্ব আলাদা দুটি শব্দ হলেও একটি সম্পর্কে এর দুটির উপস্থিতি এক সাথে থাকা খুব জরুরী। আপনার সঙ্গীকে আপনি ভালোবাসেন, তার সব দিক খেয়াল রাখছেন, একই ছাদের নিচে দুজন বাস করছেন, কিন্তু একে অপরের কাছে মন খুলে সব কথা বলছেন না বা বলতে পারেন না। এটি আপনাদের সম্পর্কের মাঝে জটিলতা আনতে পারে। স্বামী-স্ত্রী বন্ধুত্বের রূপ হয় অন্য রকম। তাই আপনাকে আগে বুঝতে হবে বন্ধুত্ব কার সাথে কি রকম হবে। পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব, বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব আর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সাথে বন্ধুত্ব এক নয় কেননা সম্পর্ক গুলো আলাদা।

সম্পর্কে প্রনয় ও বন্ধুত্ব বজায় রাখতে যা করা উচিৎঃ

একে অপরের পছন্দ সম্পর্কে জানুন, অনেকটা আইস ব্রেকিং গেম এর মত একে অপরকে ব্যাক্তিগত ভালো লাগা খারাপ লাগা নিয়ে প্রশ্ন করুন।

দুজন ব্যাক্তির ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ থাকতেই পারে এটাই স্বাভাবিক; এতে হতাশ হবার কিছু নেই। একে অন্যের পছন্দকে শ্রদ্ধা করুন, নিজের পছন্দকে অন্যের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

স্বামী স্ত্রী’র নিজেদের ব্যাক্তিগত বিষয় গুলো অন্য কারও সাথে শেয়ার করবেন না।

নিজেদের ভালো মুহূর্ত গুলোর গল্প আপনার সঙ্গীকে মনে করিয়ে দিন।

আপনার অনেক স্মৃতি হয়ত আপনার সঙ্গী ভুলে যেতে পারেন তাই মনে করিয়ে দিতে আপনি ডায়েরি লিখতে পারেন, হতে পারে সেটি কবিতা কিংবা ছোট গল্প চাইলে আদি নিয়মের মত চিঠি লিখে বা চিরকুট লিখে তাকে উপহার দিতে পারেন।

ভালোমন্দ বোঝাপড়া নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নিবেন পরিবারকে বা বন্ধুবান্ধব দিয়ে নিজের স্ত্রী বা স্বামী কে বোঝাতে যাবেন না।

দুজন ব্যাক্তির উচিৎ একে অপরকে জানা এবং প্রতিদিন জানতে চাওয়া। নিজেদের বারংবার জানতে চাওয়ার মাঝে গড়ে উঠবে বন্ধুত্ব আর যেটা থাকা চাই সেটা হল – বন্ধুত্বের শ্রদ্ধাবোধ।

কেন বিবাহবিডিতে জীবনসঙ্গী খুঁজবেন!

বিয়ে একটি অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। মনে করা হয় দুটি মানুষের এই বন্ধন জন্ম জন্মান্তরের। সামাজিক নিয়মে এ বন্ধনে আবদ্ধ হয় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ। বিয়ে শুধু দুজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তৈরী করে দুটি পরিবারের মধ্যে সামাজিক বন্ধন।

বিয়ে নিয়ে মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই থাকে নানান আশা ও স্বপ্ন, থাকে উত্তেজনা, চিন্তা দুশ্চিন্তা ও ভাবনা। আবার বিয়ের ব্যাপারে অনেকেই মানুষিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে না। এর প্রধান ও অন্যতম কারন হলো পছন্দ মত যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে না পাওয়া।

দীর্ঘ ১ যুগের বেশী সময় ধরে আমরা এই সমস্যাটির সহজ ও দ্রুত সমাধান দিচ্ছি – বাংলাদেশী ও প্রবাসীদের জন্য সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক ২৪ ঘন্টা কল সেন্টার সার্ভিস নিয়ে সর্বোক্ষনিক সেবা নিশ্চিত করছে বিবাহবিডি ডট কম সার্ভিস টিম।

বিবাহবিডি ডট কম একটি অনলাইন বেইজড সার্ভিস ওয়েব পোর্টাল। এ পোর্টালের সদস্য হয়ে আপনি নিশ্চিত খুঁজে পেতে পারেন আপনার পছন্দমত যোগ্য জীবনসঙ্গী।

আসুন জানি যে কারনে বিবাহবিডিতে পাত্রপাত্রী খুঁজবেনঃ- বিবাহবিডি সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিবাহবিডি ডট কম আপনার পছন্দমত পাত্রপাত্রী খুঁজে দিতে সহায়তা করবে।

বিবাহবিডি পোর্টালে লগ ইন করে পছন্দের প্রফেশন, পাত্র-পাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা / এলাকা ভিত্তিক, প্রবাসী, বৈবাহিক অবস্থা (যেমন – অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা অথবা বিপত্নীক), ধর্ম, গোত্র, বর্ণ সহ ১৮ টি সার্চ ক্যাটাগরীর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী আপনার কাংখিত সংঙ্গীকে সহজেই খুঁজে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।

বিবাহবিডি প্রোফাইল এক্টিভেট/সক্রিয় করার পূর্বে নিজস্ব কাষ্টমার সাপোর্ট টিম তা তিন স্থরের ভেরিফাই করে ।

পাত্র-পাত্রীর প্রোফাইল ভেরিফিকেশনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম নিবন্ধন / একাডেমিক সার্টিফিকেট/ প্রবাসীদের জন্য ভিসা, পাসপোর্ট / ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেট যাচাই করে বিবাহবিডিতে একটি প্রোফাইল একটিভ করা হয় যার ফলে আপনি একজন পাত্র/পাত্রী পরিচয় বিষয়ক সঠিক তথ্য পাবেন।

বিবাহবিডি ডট কম এর ব্যাপ্তি বিশ্বব্যাপী এবং এটি সমকালীন একটি আধুনিক সেবা। তাই বিশ্বের যেকোন দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাত্র-পাত্রী বা অভিভাবকগন প্রোফাইল দেখে নিজেরাই সরাসরি পাত্র/পাত্রী বা কাংখিত প্রোফাইলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিবাহবিডি থেকে আপনি জীবন সঙ্গী্র খোঁজ পাবার পর বিবাহবিডি আপনার কাছে কখনোই কোন সার্ভিস চার্জ দাবি করবেনা। বরংচ বিবাহবিডিতে আপনার সাক্সেস ষ্টোরী শেয়ার করলে বিবাহবিডিই আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার ঠিকানায় গিফট পাঠাবে।

সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোন তথ্য ও সাপোর্টের জন্য ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই হট লাইন ইউজার সাপোর্ট প্রস্তুত থাকে ।

আপনি বিবাহবিডিতে প্রোফাইল রেজিষ্ট্রেশন করার আগেই জানতে পারবেন আপনার চাহিদা অনুযায়ী কতজন সম্ভাব্য পাত্র পাত্রী বিবাহবিডিতে রয়েছে।তাই আপনার অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য যদি পাত্র/পাত্রী খুঁজে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে রেজিষ্ট্রেশন করুন। বিবাহবিডি ডট কম একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ওয়েব পোর্টাল ২৪ ঘন্টা / ৭ দিনই হট লাইন ইউজার সাপোর্ট প্রস্তুত থাকে।

লাভ বম্বিং

সঙ্গীর কাছ থেকে মনোযোগ পেতে কে না ভালবাসেন! ভাবুন তো, প্রেমের শুরুর দিকেই যদি কেউ রোজ আপনাকে দামি দামি উপহার দিয়ে মন ভোলান তাহলে আপনার কাছেও সম্পর্কটা বড্ড রঙিন ঠেকবে এটাই স্বাভাবিক। হিরের নেকলেস, দামি রেস্তরাঁয় খাওয়ানো, লং ড্রাইভে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি যতরকমের উপায় আছে আপনাকে ইমপ্রেস করার তার মোটামুটি সবক’টাই করে ফেলেছেন আপনার সঙ্গী। আপনিও প্রথম দিন থেকেই তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ। তবে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আসল খোলসটা উপলব্ধি করতে শুরু করেন আপনি। প্রাথমিক বিমুগ্ধতা কাটিয়ে তখন উন্মোচিত হয় সম্পর্কের তিক্ত রূপ। ডেটিংয়ের দুনিয়ায় এই নতুন ট্রেন্ডের নাম হল লাভ বম্বিং!

প্রথমদিকে আপনার মন জুগিয়ে চলে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করাই হয়তো আপনার সঙ্গীর উদ্দেশ্য। একেবারে আপনার মনের মতো হয়ে উঠতে ঠিক যেমন যেমন আচরণ করা দরকার, তিনি সেগুলোই করছেন। সবসময়ই আপনার কাছাকাছি, পাশাপাশি থাকছেন। আপনার ছোটবড় সব বিষয়ে বড্ড বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। আবার খরচ করে দামি উপহার দিতেও দ্বিধা করছেন না। আর সবকিছুই এত দ্রুত ঘটছে যে আপনি উলটোদিকের মানুষটাকে পরখ করে দেখার অবকাশটুকুও পাচ্ছেন না। আর ক্রমেই তাঁর উপর বাড়ছে আপনার নির্ভরশীলতা।

‘পারফেক্ট পার্টনার’ পেয়ে গেছেন ভেবে আপনিও নিজের শরীর-মন উজাড় করে দিচ্ছেন। এই পর্যন্ত ঠিকঠাক চললেও, কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো আপনার সঙ্গী আপনার এই অত্যধিক নির্ভরশীলতা ও আবেগের সুযোগ নেবেন। অনেকক্ষেত্রেই অনেকে উলটোদিকের মানুষটিকে সচেতনভাবেই ‘লাভ বম্বড’ করেন।

প্রাথমিক ভালবাসার পর্ব পেরিয়ে গেলে তখন তাঁরা আর আগের সঙ্গীর প্রতি অনুরক্ত থাকেন না। অনেকে তো আবার সম্পর্কের কোনও অস্তিত্বই স্বীকার করেন না! আগে থেকে তা বোঝা খুবই মুশকিল। কিন্তু যখন বুঝতে পারলেন তখন হয়তো আপনি এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন যে তখন আপনার জায়গা কোনও মনোবিদের চেম্বারে! ডেটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য একে অপরকে আরও ভালভাবে চেনা। কিন্তু সেই ডেটিং পিরিয়ডেই যদি পার্টনারের কিছু কিছু আচরণে সন্দেহ হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

প্রথমদিকে ভালবাসার ভান করলেও যদি দেখেন দিনে দিনে তিনি আপনার জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছেন, তাঁর ইচ্ছেটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি তাহলে সতর্ক হোন।যদি আপনার পার্টনার সারাদিনই আপনাকে প্রেম নিবেদন করতে থাকেন, আপনার সম্পর্কে সবসময়ই খুব ভাল ভাল কথা বলেন বা দামি উপহার দেন, তাহলেও একটু ভেবে দেখুন।প্রথম প্রথম আপনার মন জুগিয়ে চললেও কিছুদিন পরেই আপনার কাছ থেকে নানারকম সাহায্য বা অনুরূপ ব্যবহার তিনি প্রত্যাশা করতে পারেন। না দিলে অনেকসময় অশান্তিও হয়। লাভ বম্বাররা আপনাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিও করতে পারে।

আবার একইসঙ্গে সায়কলজিকাল অ্যবিউজ়ও এর একটা বড় দিক। আপনি পরিবারের লোক বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে তা অনেক লাভ বম্বারেরই পছন্দ হয় না। এই পজ়েসিভনেস যদিও প্রায়শই নকল হয়!আজকের যুগে অনেকেই ডেটিংয়ের নামে নিছকই টাইমপাস করতে চায়। দীর্ঘকালীনসম্পর্ক বা বিয়ের কথা ভাবেই না। তাই, প্রথম থেকেই পার্টনারকে চেনার চেষ্টা করুন। তাঁর আবেগ, তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা ইত্যাদি সময় নিয়ে যাচাই করুন।

মানবিক সম্পর্ক

মানুষ সর্বদা দলবদ্ধ ও সামাজিক জীব। তাই আসঙ্গ লিপ্সা মানুষের আজন্মের অভিলাষ। একাকিত্বে মানুষের যন্ত্রনা অনেকগুণ বেড়ে যায় এবং মানুষ ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য মানুষ একের পর এক সম্পর্ক গড়তে থাকে। তবে সম্পর্কগুলি মানুষের মধ্যে চিরস্থায়ী নয়, মানুষ সম্পর্ক ভাঙ্গে আবার নতুন করে গড়ে তোলে। এভাবে ভাঙ্গা গড়ার স্রোতধারাই জীবনের বহমানতা এবং চির সত্য।

আসলে সম্পর্কগুলি বহতা নদীর মত, সে কখনও সুমধুর তালে বয়ে যেতে থাকে আবার মাঝে মাঝে বাঁক নেয়। তাই জীবনের ঘাঁটে ঘাঁটে এর পরিবর্তন সাধিত হয়। আবার কখনও নতুনত্বের বিচিত্র রূপ নিয়ে সে আপন গতিতে বয়ে চলে। এই বয়ে চলার মধ্যে কোন কোন ঘাঁটে থাকে সংস্কারের জোয়ার আবার কোন কোন ক্ষেত্রে জীবনের জোয়ার। আবার সম্পর্ক প্রবাহের বুকে কখনও সোনার তরী ভেসে বেড়ায় যেখানে তরিখানা অসংখ্য ধনে ভরে থাকে আবার কখনও সেখানে হতাশার ছবিচিত্র জেগে থাকে। এটা মানুষে মানুষে সম্পর্কের স্বাভাবিক রূপ। জন্ম থেকেই মানুষের জীবনের আকাশে সম্পর্কগুলি মেঘের মত এসে এসে জমা হতে থাকে, তার মধ্যে কোন সম্পর্কে কার আগ্রহ বেশি তা দিয়ে তৈরি হয় তাঁর জীবনের গল্প।

প্রথমে ঘর থেকেই সম্পর্কগুলির পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়। তারপর বিশাল পৃথিবী জুড়ে মানুষের সম্পর্ক কখনও ভেঙ্গে যায় আবার কখনও জেগে থাকে। কারণ মানুষ সবার আগে পারিবারিক তারপর সামাজিক । তবে যে সম্পর্ক জেগে থাকে নতুন করে তার পরিবর্তন সাধিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। যদি তার পরিবর্তন না ঘটে তাহলে সে মৃত হয়ে যায়, যে মৃত সম্পর্ক নিয়ে মানুষ চিরদিন ধরে বেঁচে থাকতে পারেনা। কারণ ক্রমাগত বদলের মধ্য দিয়ে মানুষ বর্তমান থেকে ভবিষ্যতে যায়। এই বদলের মধ্যেই থাকে সম্পর্ক ভাঙ্গা গড়ার মন্ত্র, আবার কখনও কখনও প্রয়োজন। জীবনের একটা সময় প্রায় সকল মানুষই পার করে যখন সম্পর্ককে সে স্বার্থের কারনে টিকিয়ে রাখে, আবার কখনও অভ্যাসের কারনে, কখনও কখনও মনুষ্যত্বের কাঁধে ভর করে রক্তের বন্ধনে সম্পর্ক টিকে থাকে।

কখনও কখনও মানব চরিত্রে মনুষ্যত্ব ও ভালবাসা দ্বৈত রূপে প্রকাশিত হয়। দেখা যায় মানুষের ভালোবাসার আকুতি দু-একটা সম্পর্কে থাকলেও অধিকাংশ সম্পর্কেই ভালোবাসা ক্ষণিকের জন্য জন্মে আবার তা আকস্মিক ভাবেই শেষ হয়েও যায়। তাই ভালবাসাহীন সম্পর্কের মাঝে থাকে লেফট রাইট করার প্রবণতা যা মানুষকে অনেকটা একঘেয়ে করে রাখে এবং সুযোগ পেলেই যে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। আবার কখনও তা জেগে থাকে  শুধুমাত্র মনুষ্যত্বের কারণে এই টিকে থাকা সম্পর্কের কোন কোন ক্ষেত্রে দায় থাকে কিন্তু দায়িত্ববোধ সেখানে অনুপস্থিত। এ থেকে প্রমাণিত হয় মানুষের ভালবাসার সম্পর্কটি গড়ে ওঠে ক্ষণিকের জন্য। যখন কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষকে দীর্ঘ মেয়াদী ভালোবাসায় আপ্লূত করে রাখে তখনই মানুষ হয়ে ওঠে অতিমানব।

মানুষের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করাই মানবিকতার লক্ষণ। তাই সম্পর্ক সবসময়ই মানবিক হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে আমরা মনে করি। পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবই ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কের সোপান, সব সম্পর্কই ভাঙতে পারে আবার সব সম্পর্কই নতুন করে মানুষ গড়তে পারে। তবে সম্পর্কের একটি মেয়াদ থাকে। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন ও পরিবর্তিত রূপে মানুষ মানুষের কাছে আসতে সক্ষম, নাহলে মানবিক সম্পর্ক মরে যায়। মরে যাওয়া সম্পর্ককে কেউ নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে পারে না, কেবল পরিবর্তনের ভেতর দিয়েই আবার মরে যাওয়া সম্পর্কটি নতুন প্রভাতের মত এসে মানুষের চোখে আলো দেয়, আশা দেয়। আসলে আমরা পরিবর্তনশীলতায় বিশ্বাসী। জীবন ও আশা পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল, যেখানে পরিবর্তন নেই সে জায়গাটি মানুষ বাদ দিয়ে সামনে চলে যায় অন্যকোনদিকে, যেখানে মানুষ পরিবর্তনের জোয়ার অনুভব করে। অপরিবর্তনীয় জায়গাটি অচলায়তনের মত একা পড়ে থাকে যাকে মানুষ কখনই কামনা করে না।

মানুষ আশা নিয়ে বেঁচে থাকে। আশা সমাজ জীবনকে পূর্ণ করে তুলতে পারে। বেঁচে থাকার আশা জীবনকে করে গতিশীল, মোহময়। পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার আকুতিই মানুষে মানুষে সম্পর্ক সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য। সম্পর্কগুলো আবর্তিত ও পরিবর্তিত হতে থাকে মানব সমাজের সাংস্কৃতিক নিয়মে। সম্পর্ক নানা কারণে পরিবর্তিত হতে পারে । যেমন বাংলাদেশে যে মেয়ের বিয়ে হয়না সে বাবার বাড়ির মমত্ব হারিয়ে ফেলে, কারণ বিয়ে হওয়া মানে তার প্রতিষ্ঠা পাওয়া। আর মেয়েটি প্রতিষ্ঠা পায়নি বলেই এই কঠিন সত্য তার সম্মুখে এসে হাজির হয়। যদিও ধীর গতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার নিয়মের পরিবর্তন ঘটছে কিন্তু সব সমাজে সব দেশে এখনও এই নিয়ম বলবত আছে, মানে পরিবর্তন ঘটেনি। যে পরিবারটিতে তার জন্ম হয়েছিল সময়ের স্রোতে তার চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেছে। সময় এবং সম্পর্ক একই সুত্রে ঘূর্ণয়মান, একে অতিক্রম করা যায়না। আর সম্পর্কের বাঁক এভাবেই ঘুরে মরে।

সম্পর্ক কখনও মধুর হয়, কখনও দ্বন্দ্বময় হয়, কখনও আধিপত্যময়, কখনও শত্রুতা মূলক হয়, আবার কখনও বন্ধুত্বের হাতছানিতে অসম্ভব সুন্দর হয়ে যায়। আধিপত্য মানব জীবনের এবং সম্পর্কের আর একটি বিষয়। মানুষ বেঁচে থাকার মধ্যে চায় একটি সুন্দর সম্পর্কের ভীত। পরিবার যদি আধিপত্য প্রধান হয় তবে বেঁচে থাকার মধ্যে সুখের বদলে তিক্ততা দর্শনীয় হয়ে ওঠে বেশি। আধিপত্যের রূপ বিভিন্ন ধারায় মানুষের মধ্যে বাসা বাঁধে। যেমন স্বামী আধিপত্য বিস্তার করে স্ত্রীর উপর। পিতা মাতা উভয়ের আধিপত্য সন্তানের উপর। সন্তানের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত দুর্বল লোকটির উপর। অর্থাৎ সবল মানুষটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল লোকটির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। তবে এই আধিপত্য বিস্তারের মধ্যেও কখনও ভালবাসা থাকে যেমন সন্তানের প্রতি মানুষের ভালবাসা অমোঘ।

এভাবে যতদিন মানুষ একের উপর অন্যে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে ততদিনই সম্পর্ক একটি করে নাম নিয়ে টিকে থাকে। যখন সময়ের পরিবর্তনে একের প্রতি অন্যের আধিপত্য ম্লান হয়ে আসে তখন সম্পর্কটাও ফিকে হয়ে আসতে থাকে। আধিপত্যও ফিকে হয় সময় ও জীবনের পরিবর্তনের সাথে, তারপর মানুষ দূরে সরে যেতে  থাকে। একে বলা যেতে পারে আধিপত্যময় সম্পর্ক।

গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এই আধিপত্যময় সম্পর্কের মধ্যে একটি স্বার্থের স্পষ্ট রেখা ফুটে থাকে। যে মানুষ কাউকে সম্পর্কের দ্বারা নির্ভরশীল করে রাখে সে আধিপত্যের মালিক, আর যে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য, সমাজের জন্য কারো উপর নির্ভর করে থাকে, তখনকার সময়ের জন্য সে অপেক্ষাকৃত দুর্বল। দুজনেরই সম্পর্কটা সেই সময়ের জন্য মূলত স্বার্থের কারনে টিকে থাকে।

স্বার্থ ছাড়া সম্পর্ক হয়না। যেমন মা বাবার সাথে মানুষের সম্পর্ক থাকে উভয়ের স্বার্থের সম্পর্ক। কথাটা শুনে অনেকেই চমকে যাবে। বলবে মা বাবার চেয়ে নিঃস্বার্থ সম্পর্ক হয়না, এর মধ্যে কোন স্বার্থের ব্যাপার নেই, কিন্তু আসলে তা নয়। আমরা দেখেছি বাবা মায়ের সন্তানদের মধ্যে যে বেশি প্রতিভাবান তাঁর প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি। এটা স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ, কারণ ঐ সন্তানটি তাঁদেরকে সমাজের প্রশংসা ও প্রতিষ্ঠা এনে দেয়। এক কথায় মা বাবা সন্তানকে লালান পালন করার কারণ হল নিজের ছায়া তারা সন্তানের মধ্যে দেখতে পায় এবং একটি শিশুকে মানুষ করে তোলার মধ্যে একটি নির্মল আনন্দ অনুভুব করে। এটা মানব সত্তার একটি বৈশিষ্ট্য এবং এক ধরণের স্বার্থ। আর সন্তান অসহায় অবস্থায় মা বাবার কাছে যে আশ্রয় পায় তেমন নির্ভরশীলতার আশ্রয় পৃথিবীর কোথাও নেই। কিন্তু সন্তান বড় হয়ে একসময় নিজের জীবনের চাপে মা বাবা থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যেতে থাকে। তারপর এক সময় বাবা মার আবেদন ফুরিয়ে যেতে থাকে তখন কেবল ভালবাসা দিয়ে আর মানবতা দিয়ে অনেকেই সেই সম্পর্ককে সৌন্দর্য মণ্ডিত করে রাখতে পারেনা। এটা একধরনের স্বার্থপরতা।

সময় অনুসারে সম্পর্কের রূপের ভিন্নতা প্রকাশ পায়। এমনতর ভিন্নতাই বলে দেয় কোনটি মানুষের স্বার্থ আর কোনটি নিঃস্বার্থ সম্পর্ক। নিঃস্বার্থ সম্পর্ককে খুঁজে মরা যায় কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না। হয়তো যেখানে পূর্ণ মানুষের বাস সেখানে পাওয়া যেতে পারে। যেমন মানুষ জানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শ্রেষ্ঠ, একে অন্যকে ছাড়া জীবনের পথে চলতে পারে না। এ সম্পর্কটি মূলত ভালবাসার সম্পর্ক। অথচ স্বার্থান্ধ মানুষেরা এটাকে প্রথার মধ্যে বেঁধে ফেলেছে। তাই স্বামীর আধিপত্য স্ত্রীর উপর এমন ভাবে বর্তে থাকে যা অনেক সময় স্ত্রী গ্রহণ করতে পারে না। স্ত্রীর বেঁচে থাকার স্বার্থ সেই সম্পর্কের মধ্যে নিহিত থাকে বলে স্ত্রী পায় স্বামীর কাছে সংসারে ভালভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। এই নিশ্চয়তা যদি রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারে তাহলে বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় মানুষের সংস্কারগুলি পাল্টে যেতে থাকে আর ঘন ঘন বিবাহ বিচ্ছেদ দেখা দিতে থাকে। কারন তখন স্ত্রীকে আর স্বামী নামক প্রভুর দায় মেনে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। যা মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, যেখানে স্বামীস্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্কের কোন দায় থাকেনা, আর সেখানেই পাওয়া যায় প্রকৃত সম্পর্কের বিষয়টি। আবার যে সম্পর্কগুলো নির্দ্বিধায় মৃত্যু পর্যন্ত টিকে থাকে সেখানে ভালবাসাও থাকে এবং স্বার্থও থাকে। ভালবাসা মানে একের প্রতি অন্যের প্রকৃত প্রেম ও নির্ভরতা বেশি থাকে, আর স্বার্থ মানে দুজন দুজনার কাছে এত অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন তারা মনে করতে থাকে এত সহমর্মিতা হয়ত পৃথিবীর আর কোথাও নেই। যখন মানুষ একের প্রতি অপরে গভীর মমতা ও স্বচ্ছন্দ নির্ভরতার আবেদন অনুভব করে এবং একে অন্যের উপস্থিতি জীবনের জন্য অনিবার্য বলে মনে করতে থাকে তখন সম্পর্কটি হয়ে যায় সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার অভিপ্রায়। তবে বিয়ের ভুমিবিস্তারে স্বামীস্ত্রীর সম্পর্কের সাথে পরবর্তী প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাই মূলত মানুষের কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়, তাই ভালোবাসার সম্পর্কের চেয়ে দৈহিক সম্পর্কটাই হয়ে যায় মুখ্য। দেহকে ঘিরেই তখন ভালবাসা জন্ম নেয়। আসলে দৈহিক সম্পর্কই হল মানব সমাজ টিকিয়ে রাখার একটি ব্যবস্থা। মানব ধারা টিকে থাকার জন্যই মানুষের জৈবিক সম্পর্ক যা সকল যুক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিতে পৃথিবীতে টিকে থাকে এবং সমাজকে টিকিয়ে রাখে। তাই সম্পর্কটি জটিল হলেও এই সম্পর্কটি মানব সমাজের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও আকাঙ্ক্ষিত।  বন্ধুত্ব একটা মধুর সম্পর্কের দিক নির্দেশক। যে সম্পর্কটি শুরু হয় সমমনা দুটি মানুষের একই রকম ভাবনার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের ধারায় দুটি মানুষ আর সমমনা থাকেনা, বিভিন্ন কারণে বন্ধু দুজন এক সময় দুরকম ভাবতে শুরু করে। তখন বন্ধুত্বের সম্পর্কটি পানসে হয়ে যায় এবং তা ভেঙ্গে যেতে বাধ্য হয়। কারণ বন্ধুত্বের কংকাল বহন করা মানুষের কাছে ভীষণ ভাবে ওজন দায়ক ও অসহনীয় মনে হতে থাকে। মানুষ বিশ্বাস করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্বার্থহীন সম্পর্ক। কখনও কখনও তা হলেও  সকল ক্ষেত্রে তা নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে স্বার্থই হয়ে ওঠে বন্ধুত্বের মুখ্য বিষয়। সে ক্ষেত্রে যতক্ষণ স্বার্থ থাকে ততক্ষণই সম্পর্ক থাকে তারপর অন্য কোথাও মানুষ বন্ধুত্বের হাতটি বাড়ায়। যার কারণে বন্ধুত্বের সম্পর্ক একসময় ভেঙ্গে যায় আবার নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এভাবে সম্পর্ক গুলি আপন গতিতে ও অস্তিত্বে একজন থেকে আর একজনে ক্রমাগত ভাবে প্রবাহিত হয়। এই সম্পর্ক প্রবাহকে মানব প্রবাহের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। সম্পর্ক প্রবাহিত হয় বলেই পৃথিবীতে মানব ধারা টিকে আছে। পৃথিবীর মানব ধারার মধ্যে সম্পর্ক যেমনি গুরুত্বপূর্ণ তেমনি স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বার্থান্ধতা কোনক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা দুর্বল মানুষের প্রতি সবল মানুষের অন্যায় করার অভিসন্ধি। যদি এক শ্রেণী ক্রমাগত লাঞ্ছিত হতে থাকে তাহলে সেখানে ধীরে ধীরে শত্রুতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে । মানুষে মানুষে শত্রুতার সম্পর্ক কখনও কাম্য নয়।

পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই মানবিক সম্পর্ক রক্ষা করতে হয়।  আর সম্পর্কের জন্যই মানুষের চরিত্রে মানবিকতা বেশি বেশি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দুইপক্ষকেই মানবিক হতে হয় এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট হতে হয়। একপক্ষ সম্পর্কের ব্যাপারে নির্বিকার থাকলে আর একপক্ষ সেই সম্পর্ককে ধরে রাখে না । মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে সম্পর্কটি নতুনত্ব পায়, কিন্তু যদি পরস্পরের প্রতি কোন শ্রদ্ধাবোধ না থাকে তখন মানবিক সম্পর্কটিও ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে থাকে। সম্পর্কগুলির সর্বদাই পরিচর্যা প্রয়োজন। পরিচর্যা ছাড়া কোন সম্পর্কই টিকে থাকতে পারেনা। পরিচর্যার মাধ্যমেই মানবিক সম্পর্ক টিকে থাকে। মানবিক সম্পর্কই  মানুষের একমাত্র সাধনা। নির্লিপ্ততা কোন সম্পর্কের ধারক নয়। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে মানুষের জীবন ধারার পরিবর্তন হয় এবং তার সাথে সাথে মানুষের সম্পর্কগুলোরও পরিবর্তন ঘটিয়ে সে বেঁচে থাকে। পরিবর্তন মানুষকে নেশার মত আকৃষ্ট করে। তাইতো আধুনিক জীবনের সম্পর্কগুলো পরিবর্তিত হয়ে সুন্দর ও মানবিক রূপ গ্রহণ করুক এটাই মানুষের কাম্য।

লিখেছেনঃ রোজানা নাসরীন, টরন্টো

প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসা কি ও কত প্রকার

আপনি একজন কে ভালোবাসেন কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা কি তা আপনি নিজেই জানেন না। অথচ সে মানুষটি হতে পারে আপনার বান্ধবী, সহকর্মী, দুরের কেউ অথবা আপনার স্বামী বা স্ত্রী।  আপনি এই ফিচারটি পড়ে  আপনি আপনাদের মধ্যে সম্পর্কটির কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটা খুব সহজেই বুঝতে সক্ষম হবেন এবং সম্পর্কটির মাঝে কিসের খাটতি রয়েছে তাও নিরুপম করতে পারবেন খুব সহজেই।   একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন প্রকৃত ভালোবাসা ও পরিপূর্ণ প্রেম আসুন সেটাই একটু আলোচনা করি যা আমাদের সারাজীবন কাজে লাগবে –

সাইকোলোজিষ্ট ষ্টার্নবার্গ  এর “ট্রায়াংগুলার থিওরী অফ লাভ”  এর মতে –

মানুষের ভালোবাসাকে একটি ট্রায়াংগেল বা  ত্রিভুজ আকারে ভাগ করেছেন যেখানে ৩ টি উপাদান থাকে যা হলো –

১) আবেগ আসক্তি বা আকর্ষন Passion
২) অন্তরঙ্গতা Intimacy
৩) প্রতিশ্রুতি Commitment

আর “ট্রায়াংগুলার থিওরী অফ লাভ”  অনুযায়ী ভালোবাসা ৮ প্রকারের হয়ে থাকে আসুন দেখি সেগুলো কি কি –

১) None Love – ভুমিকাহীন ভালোবাসা
– যে সম্পর্কে কোন আবেগ নেই, অন্তরঙ্গতা ও প্রতিশ্রুতি নেই সেই সম্পর্কে ভালোবাসার কোন ভূমিকাই নেই তাই হলো Non Love । যেমন – একজন অপর জনকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে ভালবাসার প্রস্তাব দিলো অপরজন তা প্রত্যাখান করে ফিরিয়ে দিলো । যার ফলশ্রুতিতে যে যার মত নিজেদের গন্তব্যে ফিরে গেলো এটাই হলো ভুমিকাহীন ভালোবাসা বা None Love ।

২) Liking Love –  পছন্দের ভালবাসাঃ

এ ধরনের ভালোবাসার সম্পর্কে মধ্যে অন্তরঙ্গতা বা Intimacy আছে। এখানে অন্তরঙ্গতা বা Intimacy বলতে বুঝানো হচ্ছে দুজনেই পাশাপাশি সহবস্থান করে কিন্তু আবেগ বা কোন প্রতিশ্রুতি নেই এমন সম্পর্ক গুলো Liking Love হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেমন – সহপাঠি বা সহকর্মীদের মাঝে অনেক সময় একে অন্যকে পছন্দ করে এক সাথে পড়ছে বা কাজ করছে প্রায়সই ভালো মন্দ অনেক কিছুই শেয়ার করছে কিন্তু তাদের মাঝে কোন প্রকার প্রতিশ্রুতি নেই।  আবার একটি সম্পর্ক গঠনের জন্য যে আবেগটুকু দরকার তাও নেই। শুধু অন্তরঙ্গতা Intimacy টুকুই রয়েছে এটাই Liking Love ।

৩) Infatuated love প্রফুল্লতম ভালোবাসা :
এই ধরনের ভালোবাসায় প্রচন্ড আবেগ Passion আসক্তি বা আকর্ষন কাজ করে অথচ অন্তরঙ্গতা এবং কোন প্রতিশ্রুতি নেই। এই ভালোবাসার ধরনটিকে বুঝাতে একটি কেইস ষ্টাডি উল্লেখ করা যাক –

একজন বিবাহিত নারী যার কিনা ৩ বছরের একটি সন্তান আছে, স্বামী চাকুরীতে ব্যস্ত থাকায় যথাযথ ভাবে স্ত্রীকে সময় দিতে পারেন না, হঠাৎ করেই ঐ মহিলার সাথে একজন ভদ্রলোকের ফোনে পরিচয় ঘটে। পুরুষটি অন্য শহরে থাকায় ফোনেই প্রতিদিন কথাবার্তা হয়। এভাবে কথা বলতে বলতে ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে পৌছে গেলো এখন প্রতিদিন ঐ পুরুষটির সাথে ফোনে কথা না বললে তার ভালো লাগে না বরং অস্থিরতা কাজ করে। একসময় বাড়ির সবাই তা জেনে গেলে তার মোবাইলটি নিয়ে নেয়া হয়। তারপরও সে লুকিয়ে আরেকটি ফোন কিনে তার সাথে কথা চালিয়ে যেতে থাকে। এমন সম্পর্ক গুলোকেই বলা হয় Infatuated love বা প্রফুল্ল প্রেম যেখানে অন্তরঙ্গতা ও প্রতিশ্রুতি কোনটায় নেই অথচ আবেগ, আসক্তি বা আকর্ষণের পরিমানটা অনেক তীব্র।

৪) Empty Love শূন্য ভালোবাসাঃ
এই ভালোবাসার ধরনটি Infatuated love বা প্রফুল্ল ভালোবাসার ঠিক উল্টো এখানে অন্তরঙ্গতা আছে, প্রতিশ্রুতিও আছে কিন্তু একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা নেই, আসক্তি বা আকর্ষন নেই।। শূন্য ভালোবাসার একটা উদাহারন দেয়া যাক –

আগেকার দিনের মত এযুগেও এখনো কিছু বিয়ে হয় যারা আগে থেকে কেউ কাউকে চিনতো না, জানতো না – কিন্তু বিয়ে হয়েছে। তারমানে একসঙ্গে থাকতে হবে আমৃত্যু পর্যন্ত। এখানে একজন আরেকজন কে ভালো লাগছেনা, বনিবনা হচ্ছে না, মানসিক ও শারিরিক সম্পর্কেও কেউ কারো উপযুক্ত না অথচ এসম্পর্কে এসব ভাবারও কোন সুযোগ নেই। ব্যাপারটা এমন যে, বিয়ে হয়েছে মানেই সঙ্গী যেমনই হোক তার সাথেই বাকী জীবন কাটাতে হবে। এধরনের সম্পর্ক গুলো Empty Love শূন্য ভালোবাসার আওতাধীন।

৫) Romantic love রোমাঞ্চকর (ভাব বিলাসী) ভালোবাসাঃ   

রোমান্টিক ভালোবাসায় দুজনের মাঝে প্রবল আবেগ আসক্তি বা আকর্ষন থাকে আবার অন্তরঙ্গতা বা Intimacy ও থাকে । একে অন্যের সাথে অনেক কিছুই শেয়ার করে । দুজনের মধ্যে একে অপরের প্রতি যৌন আকর্ষণ ও উদ্দীপনাও থাকে কিন্তু যা থাকেনা যেটা হলো প্রতিশ্রুতি বা Commitment । যেহেতু এধরনের সম্পর্ক কিংবা ভালোবাসায় কেউ কারো সাথে প্রতিশ্রুতিবন্ধ নয় তাই এমন সম্পর্কে নতুন করে কারোজীবনে কেউ এলে – যদি তাকে ভীষন ভালোলাগে, তাহলে তারা যে যার মত সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে যায় কেননা এই ধরনের সম্পর্কে কোন প্রতিশ্রুতি বা Commitment একেবারেই থাকেনা।

৬) Companionate love সহচর ভালোবাসাঃ

এ ধরনের ভালোবাসা হলো অনেকটা বন্ধুর মত এখানে একে অন্যের সাথে সবকিছুই শেয়ার করে, একজনের প্রয়োজনে আরেকজনকে সবসময় পাশে পায়। যে কথাটাগুলো স্বামী বা স্ত্রীকে বলা যায়না সেটাও তার সাথেও শেয়ার করে। এ ধরনের সম্পর্কে একেবারেই আবেগ বা আকর্ষন থাকে না আবার অন্তরঙ্গতা বা Sexual Intimacy ও থাকে না । এইধরনের সম্পর্কগুলোই সহচর ভালোবাসা বা Companionate love ।

৭) Fatuous Love নিষ্ঠুর প্রেমঃ
এই ধরনের ভালোবাসায় একজন আরেকজনের সাথে কোন কিছুই শেয়ার করে না, এমন কি কথাও হয় না কিন্তু বড্ড আবেগ ও আকর্ষন বা আসক্তি কাজ করে।  আসক্তির পরিমান এতই বেশী থাকে যা থেকে মনে হতে পারে সারাজীবনের জন্য কেউ একজন বড্ড প্রতিশ্রুতিবন্ধ। প্রচলিত ভাষায় একতরফা ভালোবাসার মত একটা ব্যাপার। এখানে কোনধরনের অন্তরঙ্গতা Intimacy একেবারেই নেই। তাই প্রতিশ্রুতি Commitment এর তো কোন উদাহারনই আসেনা ।

৮) Consummate Love ভালোবাসা বা পরিপূর্ন প্রেমঃ

আমরা সবাই সাধারনত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালোবাসা বা পরিপূর্ন প্রেমটাই চাই।  বিশ্বখ্যাত সাইকোলোজিষ্ট ষ্টার্নবার্গ এর  ট্রায়াংগুলার থিওরী অফ লাভ এর মতে -একটি পরিপূর্ণ প্রেম ও ভালোবাসায় –

১) আবেগ ও আকর্ষন  ২) অন্তরঙ্গতা  ৩) প্রতিশ্রুতি  এই তিনটি উপাদানই সমান ভাবে থাকবে। এবং একজন আরেকজনের সুখে দুখে, সময়ে অসময়ে, সারা জীবন একে অন্যের পাশে থাকার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং দুজনের মধ্যে বুঝাপড়ার ব্যাপারটাও চমৎকার ভাবে সন্নিবেশিত থাকবে।

সম্মানিত পাঠক আপনি এখন উপরে ৮ প্রকার ভালোবাসা ও সম্পর্কের বিভাজন থেকে আপনার সম্পর্কটি কোন ধাপে আছে সেটা সহজেই নিরুপম করতে পারবেন এবং সম্পর্কটির ভবিষ্যত নিয়ে নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।  লেখাটি ভালো লাগলে অন্যকে জানাতে শেয়ার করুন ।  বিবাহবিডি ডট কম।

বিয়ের পর অ্যডজাস্টমেন্ট

বিয়ের পর জীবনের একটা সম্পূর্ণ নতুন পর্ব শুরু হয়। জীবনে নতুন মানুষটি ও তার পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে থাকার সূত্রপাতও এখন থেকেই। নতুন কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে বই কী! অনেকে হিমশিম খেয়ে দিশেহারাও হয়ে পড়েন। তাঁদের জন্য রইল অ্যাডজাস্টমেন্ট সম্পর্কে কয়েকটি জরুরি টিপস।

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হোক বা লাভ ম্যারেজ বিয়ের পর সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে বই কী! নতুন শ্বশুরবাড়ি আর নিজের ছোটছোট অভ্যাস, ইচ্ছে, পছন্দ, এই দুয়ের মধ্যে সেতু তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই একটু সমস্যায় পড়ে যান। তবে একটু অ্যাডজাস্টমেন্ট আর বুদ্ধি করে চললে দেখবেন সহজেই অ্যাডপ্ট করে নিতে পারছেন।

বিয়ের পর টাইম ম্যানেজমেন্ট একটা বড় চ্যালেঞ্জ। শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়ির মধ্যে ব্যালেন্স করে চলুন। বিয়ের পরপর কিছুদিন একে ওপরকে সময় দেওয়া খুব জরুরি। তা লাভ ম্যারেজ বা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ যাই হোক না কেন। নতুন সম্পর্কের ভিত দৃঢ় করতে  এবং এতে ওপরকে আরও ভাল ভাবে চিনে নেওয়ার জন্য এই সময়টা খুব জরুরি। তাই বলে বিয়ের পর হ্যজব্যান্ড যদি কোনও একটা উইকঅনেড ওঁর বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতে চায় তাতে বাধা দেবেন না। দেখুন, সোশাল লাইফ তো আপনাদের দু’জনেরই আছে। বিয়ে হয়ে গিয়েছে মানেই সব কিছু বদলে গেল এমন তো নয়। কখনও কখনও টাইম বের করে আপনিও আপনার বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে ঘুরে আসুন।

একসঙ্গে থাকতে গেলে দাম্পত্যে নানারকম সমস্যা আসতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। তাই তাঁর বেড়ে ওঠা, পরিবার, রুচিবোধ, ধ্যানধারণা, অভ্যাসগুলো আপনার থেকে আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই তাঁকে তাঁর মতো করেই গ্রহণ করুন। নিজেদের মধ্যে সমস্যা হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসুন। নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সঙ্গীর দিকটাও বোঝার চেষ্টা করুন।

বিয়ের পর নতুন সংসারে কিছু দায়িত্ব নিন। সংসারের কাজে সবাই হাত লাগলে, ফ্যামিলি বন্ডিংও  দৃঢ় হয়। যদি আপনি স্বামীর সঙ্গে একা থাকেন তাহলে কে কী কাজ করবেন নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিন। দু’জনের সংসারে দায়িত্ব তো দু’জনের উপরই বর্তায়। যেমন ধরুন, উইকএন্ডে ঘর সাফ করার প্ল্যান হলে ঠিক করে নিন কে কোনটা করবেন। কিংবা একসঙ্গেও কোনও একটা কাজ করতে পারেন। একে অপরকে সাহায্য করুন। হালকা মিউজ়িক চালিয়ে গল্প করতে করতে কাজ করে করুন। দেখবেন এতে আপনারা কাজটাকে এনজয় করবেন।

নিজেরদের মধ্যে রোম্যান্স বজায় রাখুন। রোজ দেখা হওয়ায় কাছের মানুষ অনেকটা চেনা হয়ে যায়। এটাকে বোরডম ভাববে না। বরং দেখুন প্রতিদিনই একটু একটু করে আপনারা একে অপরের সঙ্গে আরও বেশি কমফর্টেবল হয়ে উঠবেন।  মাঝে মধ্যে ডেটে যান। একে অপরকে সারপ্রাইজ় করুন। অফিস ফেরত ছোট কোনও উপহার নিয়ে যান। একসঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান। অফিসের কাজ বাড়িতে নিয়ে যাবেন না। ওই সময়টুকু একে অপরেকে দিন। ফোন বা সোশাল সাইটে সময় না কাটিয়ে নিজেরা গল্প করুন।

শ্বশুরবাড়িতে চেষ্টা করুন স্বাভাবিক থাকতে। আপনি তো এখন এই পরিবারেরই একজন, তাই আপনি যেরকম সেরকম ভাবেই থাকুন। শাশুড়িকে সব কাজে সাধ্যমত সাহায্য করুন। শাশুড়ির কাছ থেকে জেনে নিন স্বামী এবং পরিবারের সবাই কী কী খেতে ভালবাসেন। সেই ডিশগুলো হঠাৎ একদিন রান্না করে খাইয়ে সবাইকে সারপ্রাইজ় দিতে পারেন। অফিস থেকে ফিরে কিংবা ডিনার টেবলে সবাই একসঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান। সারাদিন কী হল গল্প করুন। আপনারা যদি আলাদা থাকেন তাহলে চেষ্ট করুন দিনে একবার ফোন করে খোঁজ নিতে। কখনও কখনও উইকএন্ডে একসঙ্গে বেড়াতে যান কিংবা লাঞ্চ বা ডিনার করুন। এতেই সুন্দর সম্পর্ক বজায় থাকবে।

আলিঙ্গনের মানে

প্রেমের উষ্ণতা বোঝাতেই হোক বা বন্ধুত্বের গভীরতা…আলিঙ্গন বরাবরই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তাই, শুধুমাত্র দু’টি মানুষের শারীরিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যেই এর গুরুত্বকে সীমিত রাখলে চলবে না! সম্পর্ক যাই হোক না কেন, পারস্পরিক বিশ্বাস, ভরসা, আত্মীয়তা—সবই ফুটে ওঠে এই বিশেষ কাজটির মাধ্যমে!

বিয়ার হাগ: একে অপরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতার পরিচায়ক এই আলিঙ্গনটি ‘ডেডলক হাগ’ বলেও পরিচিত। সাধারণত কাছের কোনও মানুষকে দূরে সরে না যাওয়ার আকুতি ফুটে ওঠে এর মধ্যে দিয়ে। সঙ্গীকে হারানোর ভয় বা এক ধরনের ইনসিকিউরিটিও থাকে কিছু ক্ষেত্রে। তবে সম্পর্ক মজবুত হলেও যে এরকম ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গন করতে পারবেন না, এমনটা নয়!

পোলাইট হাগ: সাধারণত ঝগড়ার পরে বা কোনও কারণে সঙ্গী যদি আপনার সঙ্গে কমফর্টেবল বোধ না করেন, তাহলে এরকম আলিঙ্গন হতে পারে। এতে দু’জনের শরীরের মধ্যে কিছুটা জায়গা ফাঁকা থাকে, অর্থাৎ দু’জনে শারীরিকভাবে অতটাও ঘনিষ্ঠ হন না। আলিঙ্গনের সময় সঙ্গী যদি এরকম দায়সারা আচরণ করেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন।

স্ট্যান্ড-স্টিল হাগ: সাধারণত এক্ষেত্রে, একজন সঙ্গী যতটা প্যাশনের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন, উলটোদিকের মানুষটি ততটাই শীতল, শান্ত। তিনি আলিঙ্গনের জন্য হাতটুকুও তোলেন না! অর্থাৎ, পারস্পরিক আদানপ্রদানের বড্ড অভাব। এর কারণ অবশ্য বাইরে থেকে বোঝা দুর্বোধ্য। তবে আপনার সঙ্গী হয়তো এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না যে পুরোপুরি সম্পর্কের মধ্যে থাকা উচিত কি না!

ইন্টিমেট হাগ: এর আক্ষরিক অর্থ নিশ্চয়ই আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না! দু’জনেরই গভীর আবেগ আর আই কনট্যাক্ট এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। শারীরিক ঘনিষ্ঠতার থেকেও এক্ষেত্রে চোখে চোখ রেখে ভালবাসা ব্যক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাডি হাগ: সঙ্গীকে একপাশ থেকে আলিঙ্গন করলে বা কাঁধের এক দিক থেকে হাত রাখলে বোঝা যায় যে শুধুমাত্র রোম্যান্স নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভরসার জায়াগা আপনাদের মধ্যে রয়েছে। আর আপনারা একে অপরের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ও বটে!

প্যাম্পারড হাগ: সঙ্গীর কপালে আলতো চুমু বা পিঠে হাত রাখা! মূলত আপনার কেয়ারিং স্বভাবেরই প্রতিফলন বলা চলে একে। সাধারণত বয়স্ক মানুষেরাও কম বয়সিদের স্নেহের বশে এরকমটা করে থাকেন।

ব্যাক হাগ: সঙ্গীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরাই এরকম আলিঙ্গনের বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমেও কিন্তু নিরাপত্তার আশ্বাস ব্যক্ত করা সম্ভব। দু’পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়াও যে মজবুত, তাও বোঝা যায়।    

সম্পর্কে দূরত্ব …

ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক যদি স্বাচ্ছন্দে চলতে থাকে, সেটা যথেষ্ট শান্তির। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পর্কে শুরু হতে পারে টানাপোড়েন। সেটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে যথেষ্ট খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার নিজের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা যেকোনোভাবেই সম্পর্কে দুরত্ব চলে আসতে পারে। এই অবস্থাকে বাড়তে দিলে হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হবে, বিচ্ছেদও হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, আপনার হাতেই আছে এই সমস্যার সমাধান। সেটা কীভাবে তা জেনে নিন:

নিজের ভুল স্বীকার করা

ভুল যে কারোই হতে পারে। আর আপনার ভুলেই যদি সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে সেটা স্বীকার করে নিন। ভুল চেপে রেখে বসে থাকবেন না। তাতে সমস্যা সমাধান হবে না। আর নিজের ভুল চেপে অযাচিত ঝগড়া করাটাও মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আর ঝগড়া করলে আশেপাশের লোকজন আপনাকে ইন্ধনও দিতে পারে, তাতে সমস্যা আরও ডালপালা মেলবে। তাই ভালোবাসার সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে = নিজেকে একদম নির্দোষ না ভেবে ভুল স্বীকার করে মিটমাট করে ফেলুন।

সরি বলতে শিখুন

ভালোবাসার সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো ইগো। এই ইগোর জন্য কত সম্পর্কই যে নষ্ট হয়ে গেছে, তার হিসাব নেই। কোনো একটা সমস্যা হলে আপনি ভাবেন যে আমি আগে থেকে কেন সরি বলবো। প্রত্যাশা করতে থাকেন যে সঙ্গী কখন সরি বলবে। এইরকম ইগো ধরে বসে থাকবেন না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলে ইগো ঝেড়ে ফেলে সরি বলতে শিখুন। এতে করে দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

সময় দিন

অনেক সময়ে সম্পর্কের দুরত্ব বাড়তে বাড়তে সমস্যার তৈরি হয়। এই দূরে থেকে যখন আর সমস্যার সমাধান করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়না তখন কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করুন। একটি দিন বা অন্তত একটি বিকেল পরস্পরকে সময় দিন। সম্ভব হলে কিছু ভালোলাগার কথা বলুন তাকে। চেষ্টা করুন তার মনকে বুঝতে। এতে করে দেখবেন ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে ভালোবাসা ফিরে আসবেই।

উপহার দিন প্রিয় কিছু

যেকোনো মানুষই ছোটখাট কোনো উপহার পেলে আনন্দ পেয়ে যায়। আর সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব কমাতে হলে বিশেষ কোনো উপহার হতে পারে দারুণ কোনো উপায়। সেইসঙ্গে এর ফলে ভুল বোঝাবুঝিও চলে যাবে। তাই ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে রাখতে প্রিয় মানুষটিকে প্রিয় কোনো উপহার কিনে দিতে পারেন।

অন্য কারো সঙ্গে আলোচনা

আপনার সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। নিজে থেকে হয়তো ঠিক করতে পারছেন না, খারাপ বোধ হচ্ছে। আপনার কথার হয়ত প্রাধান্য থাকছে না। এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের সাহায্য নিতে পারেন। যার সঙ্গে আপনাদের উভয়েরই ভালো বোঝাপড়া আছে তাঁকে সমস্যার কথা খুলে বলতে পারে। সে হয়তো কোনো সমাধান দিতে পারে। আপনার না বলতে পাড়া কথাগুলো সঙ্গীকে বলতে পারে। এতে রাগ অভিমাব কমবে, দুরত্ব কমবে।

প্রথম দেখা, প্রথম কথা

যাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, তাঁকে কোনওদিন দেখেননি! কিছুই জানেন না তাঁর ব্যাপারে। মনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বশে রেখে বরং উপভোগ করুন মুহূর্তগুলোকে।  গল্পগুজবের ফাঁকে চিনে নিন পরস্পরকে। এটাই ব্লাইন্ড ডেট-এর সার্থকতা সেখানেই।

সম্পূর্ণ অচেনা-অজানা একজন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ।  অবশ্য এ আবার যে-সে সাক্ষাৎ নয়, একেবারে ব্লাইন্ড ডেট! তবে ব্লাইন্ড ডেট-এর সঙ্গে আর পাঁচটা ডেট-এর তফাৎ হল, এক্ষেত্রে আপনি উলটোদিকের মানুষটির ব্যাপারে কিছুই জানেন না।  মনের মধ্যে এক ধরনের চাপা উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করাই দায়! সাধারণত, বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতরাই আয়োজন করেন এ ধরনের ডেট।  তবে, ডেটিংয়ে পৌঁছে আপনার অনুভূতি কীরকম হবে, সে নিশ্চয়তা কেউই দিতে পারবেন না! তা বলে কি ব্লাইন্ড ডেটে যাবেন না? অন্তত একবার তো এরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতেই পারেন। শুধু মাথায় রাখুন কয়েকটি বিষয়:

  • কোনও প্রত্যাশা নিয়ে যাবেন না। যদি ভাবেন আপনার স্বপ্নের মানুষটিকে আপনি খুঁজে পাবেন, তাহলে আশাহত হতে পারেন।  আপনার প্রিন্স চার্মিংয়ের কথা ভেবেছেন আর বাস্তবের মানুষটি একেবারে আলাদা হতে পারে।
  • কথাবার্তার শুরুতেই উলটোদিকের মানুষটার সম্পর্কে কোনও ধারণা তৈরি করে ফেলবেন না। কারও ব্যাপারে সম্যক ধারণা তৈরি করতে একটা ব্লাইন্ড ডেট মোটেও যথেষ্ট নয়। তবে গল্পগুজবের মাধ্যমে একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি হয়েই যাবে।  তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিন ভবিষ্যতে আবার এই লোকটির
  • সঙ্গে দেখা করবেন কি না। মনে রাখবেন, প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু ইন্টারেস্টিং এলিমেন্ট থাকে। সেই ছোট ছোট দিকগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করুন।
  •  যদি মনে হয় একেবারে ভুল লোকের সঙ্গে ডেটিং করে দিনটাই মাটি হয়ে গেল, তাহলেও আফশোস করবেন না। খাওয়াদাওয়া, ড্রিংক উপভোগ করুন।  আগে থেকেই ঠিক করে নিন কোনও নতুন রেস্তরাঁয় যাবেন, কোনও নতুন ডিশ ট্রাই করবেন।  যদি খুব বোরিং লাগে, তাহলে সংক্ষিপ্ত কথায় সেরে ফেলুন।
  • একেকজন মানুষের ব্যক্তিত্ব একেক রকমের।  হতেই পারে যে উলটোদিকের মানুষটির সঙ্গে
  • প্রেম সম্ভব নয়। কিন্তু তিনি অন্য নানা বিষয়ে বেশ খোঁজখবর রাখেন। তাহলে সেই বিষয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করে তোলার সুযোগটা হারাবেন না যেন।  বন্ধুত্ব রাখা যেতেই পারে।
  •  অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করে ফেলবেন না। আর সেন্স অফ হিউমার বজায় রাখা দু’পক্ষের জন্যই জরুরি।