৯০ ভাগ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী ৪ টি মানবীয় আচরণ

সব দম্পতিদের মাঝেই কিছু না কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং খুব স্বাভাবিক নিয়মেই তা আবার সমাধানও হয়ে যায়।  কিন্তু কিছু সমস্যা যখন প্রচন্ড তীব্রতায় পৌছে যায় তখন দাম্পত্ব্য ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়।  এক্ষেত্রে ৯০ ভাগ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী মানুষের কিছু মানবীয় আচরণ। মূলত ৪ টি আচরণকে বিশেষ ভাবে দায়ী করা হয় আর সেগুলো হলো  –

অভিযোগ করা: কিছু কিছু মানুষ আছে কারনে অকারনে তারা শুধু অভিযোগ করতে থাকে, এটা খুব খারাপ একটা স্বভাব।  এই ধরনের আচরণের কারনে দাম্পত্য কলহ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ। কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ না জেনে কারো উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়াটা একটি অন্যায়। বিচ্ছেদ এড়াতে না জেনে সঙ্গীকে কোনো অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বদমেজাজ: মানসিক চাপের মুখে হয় মানুষ ভেঙ্গে পড়ে না হয় চড়ে ওঠে।  যারা খুব সহজে তাদের আবেগ দ্বারা তাড়িৎ হয় তারা সহজে রেগে যায়।  যে সব মানুষ খুব বেশী রেগে যায় বা কথায় কথায় রেগে যায়, তারা খুব সহজে যেকোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেনা।  আর বিবাহ বিচ্ছেদের মত  সিদ্ধান্ত নেয়ার অন্যতম একটি কারন হচ্ছে বদমেজাজ।  বিচ্ছেদ এড়াতে মেজাজ নিয়ন্ত্রনে রাখার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাগ করে খুব দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবেনা,  রাগের মাথায় গুরুত্বপূর্ন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া কখনোই সঠিক না।

অযোগ্য মনে করা: প্রতিটা মানুষ ভিন্ন মানবীয় বৈশিষ্ট্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, দাম্পত্য জীবনে যদি এক সঙ্গী অন্য সঙ্গীকে তার অযোগ্য বলে মনে করেন তবে সে তার সঙ্গীকে অপমান করছে। এই ধরনের আচরনের কারনে সঙ্গীর মনে গভীর দাগ কাটে, খুব কষ্ট পেতে থাকে মনে মনে।  কোন মানুষের উচিৎ না এরকম আচরণ করা, কারো মনে কষ্ট দেওয়া।  এরকম আচরনের কারনে ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। বিচ্ছেদ এড়াতে আমাদের উচিৎ হবে আমাদের মন মানসিকতার উন্নয়ন করা। সঙ্গীকে তার প্রাপ্ত সঠিক মর্যাদা দেওয়া।

একাত্মতার অভাব: সুখি দাম্পত্যের পিছনে যে বিষয়টি বেশী কাজে লাগে, সেটি হচ্ছে এক মত হওয়া।  যে সকল দম্পতিরা বেশীর ভাগ বিষয়ে একমত প্রকাশ করে তাদের মধ্যে সম্পর্কটা হয় চমৎকার। বিপরীত হলে সহজে ভেঙ্গে যায় সম্পর্ক।  বিচ্ছেদ এড়াতে আমাদেরকে এই আচরণগুলো অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

দাম্পত্য জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাত্মতা আনতে হবে। বিচ্ছেদের হাজারো কারন হতে পারে তবে আচরণগত যে কারন গুলো রয়েছে সেগুলো আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সম্পর্কের বিষাক্ততা এড়াতে সবাইকে আচরণে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।  আপনি আপনার সম্পর্কটাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তা নির্ভর করে আপনার নিজের উপর।  যত্ন করলে সম্পর্ক কখনো ভেঙ্গে যায় না।  তাই আসুন আমরা আমাদের সম্পর্কে যত্নশীল হই।  যার কোন বিকল্প নেই।

সত্যিই কি ভালোবাসতে শুরু করেছেন ?

সম্পর্ক শুরুর প্রথম পর্যায়ে সাধারনত আমরা একটা গোলক ধাঁধার ভেতর থাকি। আমাদের মনটা কি চাইছে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা।  নিজের অনুভূতিগুলো নিজের কাছেই অপরিচিত মনে হতে থাকে।   আসলেই কি ভালোবাসা অনুভব করছেন নাকি শুধুই আকর্ষণ কাজ করছে, বিষয়টা অবশ্যই বুঝতে হবে তা না হলে ভুল সিদ্ধান্তের কারনে পরে কষ্ট পেতে হতে পারে।  মনোবিজ্ঞানীরা ‘Focused on Heterosexual Relationships’  গবেষণার মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছেন, যে প্রশ্নের উত্তর আপনাকে সাহায্য করবে আপনার মনের অনুভূতির সঠিক ব্যাখ্যা দিতে।

ইদানিং বিশেষ ধরনের মানুষিক চাপ অনুভব করছেন?

কারো সাথে নতুন সম্পর্কের শুরু করেছেন এতে যদি আপনার মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে তবে ধরে নিতে হবে এই সম্পর্কটা ভালোবাসার সম্পর্কে রুপ নিতে পারে।  কেননা চিকিৎসা বিজ্ঞানে উল্লেখ আছে মানুষ ভালোবাসলে তার স্ট্রেস হরমোন লেভেল বৃদ্ধি পায়।  আপনি যদি বেশী চিন্তা করেন, বেশী অস্থির থাকেন বা একটু ঘোরে থাকেন তবে ধরে নিতে হবে আপনার স্ট্রেস হরমোন লেভেল বৃদ্ধি পেয়েছে, মানে আপনি ভালোবাসা অনুভব করছেন।

হঠাৎ নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন?

মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন তার পছন্দের মানুষটির ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সাধারণ চরিত্রের বাইরে নতুন ধরনের কিছু করার চেষ্টা করে।  যেমন নতুন নতুন রেস্তরাঁতে নতুন ধরনের খাবার টেস্ট করা, ঘুরতে যাওয়া, তাকে মুগ্ধ করার বিভিন্ন প্রয়াসের পাশাপাশি বৈচিত্রতা আসে জীবন যাপনে ও চিন্তায় ।

সঙ্গী সম্পর্কে বেশী বেশী তথ্য সংগ্রহ করছেন?

আপনি যদি আপনার সঙ্গী সম্পর্কে অনেক বেশী কিছু জানার চেষ্টা করছেন তার মানে আপনি তার সাথে অনেক দূর যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।  এটাই ভালোবাসা।

“I Love You”  বলতে মনে ইচ্ছা জাগলে?

মুখে ভালোবাসি কথাটা বলতে সবার জড়তা আসে। আর যখন বোধ করবেন আপনি এই “I Love You” কথাটা বলতে কোন জড়তা বোধ করছেন না, তাহলে আপনি ভালোবাসতে শুরু করেছেন।   ‘Heterosexual’ গবেষণায় বলা হয়েছে ভালোবাসি কথাটা প্রথম বলতে পুরুষরা বেশী আগ্রহী হয়।

আপনার আবেগ কি খুব বেশী তীব্র হচ্ছে?

অস্থির মনের মানুষ গুলো কোন সম্পর্কে জড়ালে এইটা নিয়ে নিজেকে বার বার প্রশ্ন করে থাকে, নিশ্চিত হবার জন্য।  যারা বেশী আবেগ প্রবণ তাদের জন্য ভালোবাসার আবেগ গুলো আলাদা করাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়।  এই ধরনের আবেগপ্রবণ মানুষরা ভালোবাসতে শুরু করলে তার আবেগ তাদের আবেগ তীব্র থেকে তীব্র হয়।

আপনি যার প্রতি দুর্বল তার কাছ থেকে আপনার অনুভূতি গুলো কি ফিরে পাচ্ছেন ?

আপনি যদি একজন মেয়ে হয়ে থাকেন এবং ভালোবাসা অনুভব করে থাকেন, তবে আপনার অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়া জানতে চেষ্টা করবেন।  গবেষণায় দেখা গেছে মেয়েরা তাদের আবেগকে ছেলেদের তুলনাই বেশী নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

আপনি কি তার সাথে সময় কাটাতে খুব বেশী আগ্রহী?

ভালোবাসা অনুভবের শুরুর দিকে আমাদের মস্তিষ্কের dopamine  অংশ প্রতিক্রিয়া করে।  এই অংশকে ‘প্রতিদানের অংশ’ বলে । এই প্রতিক্রিয়ার ফলে বার বার ভালোলাগার মানুষটাকে দেখতে মন চায়, তার সাথে সময় কাটাতে আগ্রহ বোধ করে।ভালোবাসার সম্পর্কের সুচনা এভাবে হয়।

একক মায়েরা কেমন জীবনসঙ্গী আশা করেন!

আমাদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়।  বিচ্ছেদের কারণ গুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়।  কারণ যেটাই হোক বিচ্ছেদের কারনে একটা সংসার ভেঙ্গে যায়, এটায় বাস্তবতা।  তাই বলে জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায় না, সময়ের সাথে জীবনকে চালিয়ে নিতে হয়। আমাদের দেশে অনেক মেয়েরা বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকছে এবং একা হাতে সন্তান লালন পালন করছে। আমেরিকতে প্রায় ৪৫% শতাংশ একক মা সন্তান লালন পালন করে। এই সংখ্যা বাংলাদেশে একদম কম না।

একা জীবন কাটানো খুব সহজ না, তাই তারা নতুন করে জীবন কে সাজাতে চেষ্টা করে। নতুন জীবনে প্রবেশের সময় একক মায়েরা অনেক বিষয়কে মাথায় রাখে, সঙ্গী নির্বাচনে তারা অনেক বেশী সতর্ক থাকে।  আপনি যদি একক মা হয়ে থাকেন তবে, সঙ্গীর ভিতরে যে বিষয় গুলো লক্ষ্য করবেন, তার একটা অংশ তুলে ধরার প্রয়াস করা হলো।

আপনার সময়কে গুরুত্ব যে দেবেঃ  যেহেতু আপনি আপনার বেশীর ভাগ সময় আপনার সন্তানকে দিচ্ছেন, এ বিষয়টা বুঝে যে ব্যক্তি আপনার কাছে তার জন্য সময় আশা করবে, আসলেই সে আদর্শ সঙ্গী হবে।

সন্তানের স্থানঃ  একক মায়ের কাছে তার পৃথিবী জুড়ে তার সন্তান থাকে।  আপনার জীবনে যে নতুন মানুষটাকে আশা করছেন তার কাছে যদি আপনার সন্তানের একটা বিশেষ স্থান থাকে।  স্থানটা যদি সে ভালোবাসা দিয়ে তৈরী করে নেয়, তবে মানুষটা আপনাকে বুঝবে।

মানুষিক স্বস্থিঃ বিচ্ছেদের পর একজন মাকে তার সন্তানকে নিয়ে অনেক বাঁধা বিপত্তি পার করতে হয়। অনেক বড় সংগ্রাম করতে হয়।  সামাজিক নানা প্রতিকূল অবস্থার কারনে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়।মানুসিক অবস্থা ভেঙ্গে পড়ে, জীবনটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। এই কঠিন সময়ে যে বিশেষ মানুষটা আপনাকে সম্পূর্ণ সস্থির স্থান করে দেবে, সেই আদর্শ জীবন সঙ্গী হবে।

প্রাক্তনের সাথে সম্পর্কঃ  সন্তানের কারনে বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তনের সাথে একটা যোগাযোগ রাখতে হয়, এই বিষয়টাকে আপনার নতুন সঙ্গী যদি খুব স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করে তবে ব্যক্তিটি আপনার সকল সমস্যাকে সহজ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আচরণঃ  যে ব্যক্তি আপনার মন বুঝে আপনার সাথে আচরণ করবে, আপনার মন খারাপ থাকলে আপনাকে হাঁসাবে, দুঃখে আপনার পাশে থাকবে । আপনার সাথে ও আপনার সন্তানের সাথে খুব সুন্দর ব্যবহার করবে, আপনাকে আপনার সন্তানের সামনে কখনো ছোট করবেনা। আপনাকে ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মান করবে। এরকম মানুষ আদর্শ জীবন সঙ্গী।

প্রাক্তনকে নিয়ে মাথা না ঘামানোঃ  কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তি অতীত ঘটনাকে নিয়ে বর্তমান সম্পর্ক নষ্ট করবেনা। যে কথায় কথায় আপনার অতীত নিয়ে নানান কথা শুনাবে, সে ব্যক্তি আপনার যোগ্য না।

দায়িত্ববোধঃ  যে আপনার সকল দায়িত্ব কে নিজের দায়িত্ব মনে করবে এমনকি আপনার সন্তানের দায়িত্বও নিতে পিছুপা হবেনা, এরকম মানুষ পাওয়াটা একটা আশীর্বাদ।

মনোযোগঃ  যে ব্যক্তির মনোযোগ শুধু আপনি হবেন না, সাথে আপনার সন্তানও থাকবে এবং জীবনে এগিয়ে যাবে আপনার সাথে, আপনাকে ছাড়া নয়।  সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে আপনাদের সম্পর্কটা কিভাবে সফল হবে তার উপর। এরকম ব্যক্তির উপর ভরসা করা যায়। জীবনে একবার ঘটে যাওয়া ঘটনা বার বার ফিরে যেন না আসে, এজন্য কোন সিদ্ধান্ত খুব তাড়াহুড়া করে নেওয়া যাবে না। সময় দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সে কি এখনো আপনার প্রতি দুর্বল!

ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে মনটাও ভেঙ্গে যায়, অব্যক্ত কষ্ট সহ্য করতে হয়। একটা ভালোবাসার সম্পর্ক অনেক কারনে ভেঙ্গে যেতে পারে। তবে সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে ভালোবাসা শেষ হয়ে যায় না।  সম্পর্ক শেষ হওয়ার পরেও মানুষ ভালোবাসার আবেগ দ্বারা তাড়িত হতে থাকে, প্রাক্তনের অনেক আচরণ বলে দেয় তার মনে আপনার অবস্থানের কথা।  আপনি কি ভাবে বুঝবেন আপনার প্রাক্তন এখনো আপনাকে মনে মনে চায়, এ সম্পর্কে চমৎকার কিছু বিষয় –

যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়াঃ  আপনার প্রাক্তন যদি নানা কারন দেখিয়ে এখনো আপনার সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যায়, তবে বুঝবেন সে আপনাকে এখনো চায়।

আচরণে সংশোধন:  যে সকল আচারন জনিত কারনে আপনাদের সম্পর্ক সমাপ্ত হয়েছে, যদি দেখেন আপনার প্রাক্তন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আচারনে পরিবর্তন এনেছে, তবে নিশ্চিত আপনার প্রতি তার ভালোবাসা এখনো রয়েছে।

বিচ্ছেদের কারন নিয়ে বারবার কথা বলার চেষ্টা:  আপনার প্রাক্তন যদি আপনার সাথে বারবার বিচ্ছেদের কারন নিয়ে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে, এতে বোঝায় সম্পর্কটি আবার সে চায়।

অন্য কাউকে সময় দিতে অনীহা: যদি দেখেন আপনার প্রাক্তন অন্য কারো সাথে সময় কাটাতে চায় না, এর অর্থ তার মনে এখনো আপনার জন্য ভালোবাসা বিদ্যমান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আপনাকে অনুসরণ: যদি লক্ষ্য করেন আপনার প্রাক্তন আপনাকে সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে আগের তুলনাই বেশী আনুসরন করছে, তবে আপনার প্রতি সে এখনো দুর্বল এজন্য আপনাকে লক্ষ্য করছে।

আপনাকে খুশি করার চেষ্টা : আপনার মন ভালো করার জন্য বা আপনার ভালো হয় এমন কোন কাজ যদি আপনার প্রাক্তন সম্পর্ক ভাঙ্গার পরেও করে থাকে, তবে আপনার জন্য তার মনে ভালোবাসা এখনো জীবিত আছে। সত্যিকারেরে ভালোবাসা পেয়ে হারিয়ে ফেলা যাবেনা, তাহলে হবে চরম বোকামি।  কারণ সত্যিকারেরে ভালোবাসা সব সময় পাওয়া যায় না।

ভালোবাসার বিশ্বাসঘাতকতায় করনীয়

কালের এক অশুভ চিহ্নের নাম বিশ্বাসঘাতকতা।  ভালোবাসায় বিশ্বাসঘাতকতার আঘাত হয় অনেক গভীর।  সঙ্গীর বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি দ্বারা মানুষ জানতে ও বুঝতে পারে অযোগ্য মানুষকে সে ভালোবেসেছিল।  ইদানীং কালে বিশ্বাসঘাতকতার প্রবণতা বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।  যদি কেউ কখনো তার নিজকৃত ভুল বুঝতে পারে তখন উচিৎ মাথা নত করে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া।  আপনার সঙ্গী যদি আপনার বিশ্বাসে আঘাত করে তাহলে, ভালোবাসা টিকিয়ে রাখার জন্য আপনি সঙ্গীর সাথে কেমন আচারন করবেন সেগুলো সম্পর্কে কিছু চমৎকার বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো।

১।  মন থেকে বিষয়টিভুলে যেতে হবে অনেক সময় মানুষ ভুল করে ফেলে আবার ভুলটা বুঝতে পারে, তখন আমাদের উচিৎ সঙ্গীকে ক্ষমা করে বিষয়টি ভুলে যাওয়া এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়া। যদিও ক্ষমা করাটা অনেক কঠিন একটা সিদ্ধান্ত, জীবনে ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক সময় অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় শুধু ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য ।

২।   সঙ্গীকে লাঞ্ছিত করা যাবেনা আপনি যদি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়ে থাকেন এবং সঙ্গীকে ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন, তবে তাকে এই বিষয়টি বার বার মনে করিয়ে দিয়ে অপমানিত করা যাবেনা এতে করে আপনাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরো নাজুক হয়ে যেতে পারে।  জনসম্মুখে সঙ্গীকে উচ্চস্বরে বকাবকি করবেন না, কারন এতে আপনি নিজেই ছোট হবেন।

৩।  নতুন করে বিশ্বাস গোছানো একবার বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে নতুন করে বিশ্বাস করাটা অনেটা অসম্ভব কাজ, এজন্য একে অন্যকে সময় দিতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে বোঝাপড়া করে নিতে হবে।  একটা ঝড়ের পর নতুন করে ঘর বাঁধার মতো সম্পর্কের বিশ্বাসটাকে সুন্দর করে বাঁধতে হবে।

৪।  সঙ্গীর ভালো দিকটাকে প্রাধান্য দিন সব মানুষের ভালো, খারাপ দুদিক থাকে।  কোনো কারনে যদি আপনি সঙ্গী দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতার স্বীকার হয়ে থাকেন, মনে রাখবেন আপনার সঙ্গীর আরো অনেক ভালো দিক আছে, শুধু একটা অপরাধের জন্য তাকে সম্পূর্ণ খারাপ ভাবা ঠিক হবেনা।

অবশ্য এক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীকে তার ভুল শুধরাতে হবে। অনেক সময় জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন ভাবে গ্রহণ করতে হয়। আর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনেকটা ভালোবাসার তাগিদে।  আমাদের সবাইকে একটা বিষয়ে চর্চা করতে হবে, বিষয়টি হচ্ছে ভালোবাসার মানুষটাকে কোন ভাবে কষ্ট দেওয়া যাবেনা এবং তার বিশ্বাস নষ্ট করা যাবেনা।

আপনি কেনো এখনো সঙ্গীহীন!

আপনি কেনো এখনো সঙ্গীহীন? একা থাকাটা কোন মানুষিক অসুখ না।  এ সম্পর্কে আমাদের দেশের প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, “একা থাকাটা কোন দুর্বলতা নয়, একা থাকতে পারাটা যোগ্যতা।  কারন সবাই একা থাকতে পারেনা।”  আপনি একা আছেন এর অর্থ হচ্ছে সঠিক সঙ্গীর অপেক্ষায় আছেন।  মিলিয়ে দেখুন তো এই চমৎকার বিষয় গুলো আপনার একাকীত্বের কারন গুলোর সাথে মিলে কি না –

আপনি আপনার প্রাক্তনের প্রতি এখনো দুর্বলঃ  মানুষ সহজে অতীত ভুলতে পারে না, সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন কিন্তু ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলতে পারছেন না এরকম হলে আপনি কখনই সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না।  অতীতকে ভুলে আপনাকে বর্তমানকে গ্রহণ করতে হবে।

সরলতাঃ আপনি হয়ত অনেক সরল স্বভাবের মানুষ। ভাবছেন একারণে আপনাকে কেউ পছন্দ করবে না, এটা ভুল।  আপনার জন্য অবশ্যই কেউ না কেউ আছে যে আপনার সরলতাকে আপন করে নিবে।

আদর্শ সঙ্গীর অপেক্ষায়ঃ  আদর্শ সঙ্গী পাওয়াটা সৌভাগ্যের বিষয়। তবে আদর্শ সঙ্গীর অপেক্ষাই থেকে বেশী সময় নষ্ট করাটাও ঠিক না।  যদি মনে করেন শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে আদর্শ সঙ্গীর দেখা পাবেন তাহলে ভুল হবে।  কারন মানুষ কখন ১০০ ভাগ সঠিক হয় না, ভালো মন্দ মিলিয়ে মানুষ।

আহত মনঃ অতীতের সম্পর্ক থেকে অনেক বেশী দুঃখ পেয়ে মন ভেঙ্গে গিয়েছে? এজন্য অন্য সম্পর্কে জড়াতে চান না ? তাহলে ভুল করছেন কারন সব মানুষ সমান হয় না। নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে সঠিক সঙ্গী বেছে নিন।

আবেগ প্রবণতার অভাবঃ যার মনে আপনার জন্য ভালো লাগা আছে সে চাইবে আপনার সাথে একান্তে সময় কাটাতে, মনের কথাগুলো জানাতে, কিন্তু আপনি এরকম কিছুই অনুভব করেননা এবং বিষয় গুলো এড়িয়ে চলেন, এরকম আবেগ হীনতা আপনাকে সঙ্গীহীন করে রাখতে পারে।

অধিক চিন্তার ফলঃ অনেকে সঙ্গী নির্বাচনে অনেক ভাবনা চিন্তা করে সময় নষ্ট করে।  সব সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে সময় একবার চলে গেলে ফিরে পাওয়া যায়না। সময় থাকতে সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করে নিঃসঙ্গ জীবন থেকে মুক্তি নিতে হবে।  জীবনকে পরিপূর্ণ উপভোগ করতে হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সঠিক মানুষটাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে বেছে নিন।

‘উই টক’ চর্চায় বাড়বে সম্পর্কের সুস্থতা

দুজন ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক ভাবে এক হলেই কোন সম্পর্কের সুচনা হয় ।বিবাহিত দম্পতি অথবা প্রেমিক যুগল সব ক্ষেত্রে সম্পর্কের সুস্থতা না থাকলে সম্পর্কে ধরতে পারে ফাটল।  সম্পর্ক সুস্থ রাখতে অনেক বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় এবং অনেক বিষয় চর্চা করতে হয়, তবেই সম্পর্ক হয় মধুর।  গবেষণায় দেখা যায় যে ‘আমি’ ও ‘তুমি’ এই শব্দের পরিবর্তে যদি ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় তবে অনেক সমস্যার সমাধান আপনা আপনি হয়ে যায়।

‘আমি’ ও ‘তুমি’ এই শব্দের পরিবর্তে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করাকে ‘উই টক’ বলে।  ‘উই টক’ এর অনুশীলন বৃদ্ধি করলে সম্পর্কের মনযোগটা ও বৃদ্ধি পায়।  ৫,৩০০০ মানুষের উপর ত্রিশটি পরীক্ষা চালিয়ে এই গবেষণা দাঁড় করানো হয়।  এর মাঝে অর্ধেক প্রেমিক প্রেমিকা এবং বাকি অর্ধেক বিবাহিত ছিলেন।  এই গবেষণায় যে তথ্য গুলোর উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয় তা হলো- তাদের সম্পর্ক, আচারন, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং তারা একে অন্যের প্রতি কতটা যত্নশীল ।

গবেষনায় অংশগ্রহণকারীরা সকলে স্বীকার করেছে যে ‘উই টক’ তাদের কাজে লেগেছে এবং উপকৃত হয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে, জীবন সঙ্গীর প্রভাব বিদ্যমান। এ প্রভাব দেখা যায় আমাদের কাজে, চিন্তায় ও আচারনে।  ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্স থিওরি’ দ্বারা এই প্রভাবকে বোঝানো হয়।  এই থিওরি অনুসারে, বিপদের সময় সেই সকল দম্পতিরা সফল হয় যারা একে অন্যের প্রতি ভালো চিন্তা ও কাজ করে এবং যত্নশীল হয়।  কোন কাজ সঙ্গীরা আমি করছি, না বলে আমরা করছি এবং আমরা কোন সমস্যার সমাধান করছি, এধরণের কথাটা বলা বেশী উপকারী।

দম্পতিদের মধ্যে ভরসার স্থান তখন বেশী হয়, যখন ‘আমরা’ ও ‘আমাদের’ শব্দগুলো বেশী ব্যবহৃত হয়।যে কোন সমস্যার সমাধান করা উভয়ের সমান দায়িত্ব, একসাথে মিলে সব দায়িত্ব পালন করতে হবে।।  কোন কোন ক্ষেত্রে ‘উই টক’ হিতে বিপরীত হতে পারে।  অনেক সময় সঙ্গীরা একে অন্যের বদ অভ্যাস রপ্ত করে ফেলতে পারে।  আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের সুস্থতা বিবেচনায় সঙ্গীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা মূল্যায়ণ করতে হবে।  যেকোন সম্পর্ক, সেটা দাম্পত্য কিংবা ভালোবাসার যুগল হক, দুজনকে এক হয়ে সকল বিপদ মোকাবেলা করতে হবে।  তাহলেই সম্পর্ক হবে সার্থক।

সম্পর্কের অস্বস্তিকর মুহুর্তগুলো এড়ানোর কিছু প্রন্থা

দুজন মানুষ যখন কোনো সম্পর্কে জড়ান, তখন তারা একে অপরের কাছে অনেক কিছুই আশা করেন। আর এর ব্যাপ্তয় ঘটলেই দুজনের মধ্যে চলে রাগ কিংবা অভিমান। অনেক সময় তর্ক কিংবা কথা কাটাকাটি চলাকালেও এমনটা হতে পারে। যদি শুরুতেই সঙ্গীর এই অভিমান ভাঙানো না যায় তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে এর খারাপ প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে এটি সম্পর্ক ভাঙনেরও কারণ হতে পারে।  কাজেই শুরুতেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নেয়াই ভালো। এক্ষেত্রে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে করতে পারেন কিছু কাজ-

মুখে বলি ভালোবাসি:  ভালোবাসি কথাটির গভীরতা অনেক। ভালোবাসার অনুভূতির কথা প্রকাশ না করলে ভালোবাসা হয়ে যায় এক তরফা, বেশী দেরি না করে খুব দ্রুত বলে ফেলতে হবে মনের কথাটা, অন্যথায় হারিয়েও ফেলতে পারেন আপনার মনের মানুষটাকে।মন দেওয়া নেওয়ার পর ভালোবাসার সম্পর্ক যখন অনেকটা গভীর হতে থাকে তখন সব জড়তা ভেঙ্গে একে অন্যকে ভালবাসি কথাটা মুখে বলে জানান দিতে থাকি কিন্তু প্রতি উত্তরে যদি ধন্যবাদ বা নীরবতা আসে, তাহলে বিচলিত হবেননা এবং কোন রকম অস্বস্তিভাব দেখাবেন না। নীরব থাকা মানে আপনার সঙ্গী আপনাকে ভালোবাসেনা তা নয় কারন আপনি জানেন আপনার সঙ্গী আপনাকে কতটা ভালোবাসে।

অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে পরিবারের সাথে পরিচয়ঃ  প্রেম করছি বাসার কেউ দেখে না ফেলে, চুরি করে প্রেম করলে পরিবারের কেউ দেখে ফেললে খুব অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এরকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে হলে আমদের উচিৎ পরিবারের সদস্যের সাথে সঙ্গীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এবং জড়তা ভেঙ্গে ফেলা।

নতুন সম্পর্ক বনাম প্রাক্তনঃ  বর্তমান ভালোবাসার সম্পর্কে অনেক সময় প্রাক্তন সম্পর্কের সামনে অস্বস্থিতে পড়তে হয়। যুগল যখন কোন লোকালয়ে তাদের একান্ত সময় কাটায় হঠাৎ প্রাক্তনের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে এসময় বিচলিত ও অস্থির না হয়ে, খুব সহজ ভাবে বিষয়টিকে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখবেন কোন সম্পর্ক মিথ্যা দিয়ে হয়না। অতীত সম্পর্কে সবটায় জানিয়ে রাখতে হবে বর্তমানকে।

অনিচ্ছাকৃত অপমানঃ সব সম্পর্কে খুঁটিনাটি সমস্যা হয়, ঠিক তেমনি ভালোবাসার সম্পর্কে মধ্যেও হয়। কোন বিষয়ে যখন কোন যুগলেরা কথা কাটাকাটি করে অবশ্যই মুখ ফস্কে এমন কোন কথা বলবেননা যেটা সঙ্গীকে অপমানিত করে। যদি এরকম কোন অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, আমাদেরকে তখনই ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে এবং পরে এই বিষয়ে আলোচনা করা যাবেনা।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতাঃ  বর্তমানের জনপ্রিয় অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রেমিক যুগলরা বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে থাকে, এক্ষেত্রে এমন কোন ছবি পোস্ট করা উচিৎ না যা অন্যের জন্য কোন অস্বস্থির কারন হয়ে দাড়ায়। এসকল মাধ্যম গুলো ব্যবহারে হতে হবে আধিক সতর্ক।

আমাদের সবার উচিত জীবনের প্রতি আস্থা রাখা,  সমাজ, জীবন, পারিপার্শ্বিকের প্রতি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়ুন। সব কিছু ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে শিখুন। সম্পর্কে যতই টালমাটাল পরিস্থিতি আসুক, ইতিবাচক থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনও পরিস্থিতি অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করবেন না। স্বামী যদি কোনওদিন ভালো করে কথা না বলেন তার মানেই যে উনি আপনার ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তা মোটেই নয়! স্বামীর জায়গা থেকেও বিভিন্ন পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। দু’জনে দু’জনের পাশে থাকলে বহু দুঃসময়ই পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব।

বিবাহঃ পারিবারিক নাকি প্রেমের, কোনটা ভালো!

বিয়ে হলো সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দুটি বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়।  বিয়ের মাধ্যমে নারী ও পুরুষ তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করে।  আর তাই বিয়ে যুগ যুগ ধরে মঙ্গলজনক ও ঐতিহ্যবাহী বন্ধন হিসেবে মনে করা হয়।   পারিবারিক ও প্রেমের দু’ভাবে বিয়ে হয়ে থাকে। অচেনা অজানা মানুষ নাকি পূর্ব পরিচিত ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধলে সুখী হওয়া যায়? এ নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক।  অনেকে মনে করে বাবা-মা বা অভিভাবকের মনোনীত পাত্র-পাত্রী বিয়ে করলে তাদের আশীর্বাদে সুখী হওয়া যায়। আবার অনেকে মনে করেন নিজেদের পছন্দে বিয়ে করলে দাম্পত্য সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো থাকে।

সাম্প্রতিক কালে কিছু গবেষনায় উঠে এসেছে, প্রেমের বিয়ে গুলোর চাইতে পারিবারিক মাধ্যমে আয়োজিত বিয়ে গুলোর স্থায়ীত্ব বেশী হয়ে থাকে, আবার বিচ্ছেদের পরিমাণটাও হয় কম।  যদিও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নীরব সহিংসতার শিকার ঘটনা গুলো পারিবারিক রক্ষনশীলতায় অপ্রকাশিতই রয়ে যায়।   আসুন দেখি পারিবারিক বিয়ে ও প্রেমের বিয়ে নিয়ে তুলনামূলক কিছু বিশ্লেষন  –

অপরিপূর্ণতা ও  প্রত্যাশা

প্রেমের বিয়ের চায়তে পারিবারিক বিয়ে গুলতে জীবন সঙ্গীদের মধ্যে প্রত্যাশার পরিমাণ একদম কম থাকে কারন পারিবারিক বিয়ে গুলোতে বর কনে একে অন্যের মধ্যে তেমন কোন বোঝাপড়া থাকেনা ফলে একে অন্যের উপর প্রত্যাশা ও কম থাকে। ফলে বিয়ের পর ও প্রত্যাশা না পুরনের কারনে কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়না এবং দ্বন্দ ও কম হয়।

সামঞ্জস্যতার বিচার

পারিবারিক ভাবে নির্ধারিত বিয়ে গুলো সম্পূর্ণ সামাজিক মর্যাদা ও বংশ সহ সকল বিষয়ের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করা হয় । সমসামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের মধ্যকার সম্পর্ক হয় দীর্ঘস্থায়ী, অপর পক্ষে ভালোবাসার সম্পর্কের বিয়েতে বংশ মর্যাদার পরিবর্তে শুধু ভালবাসাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশী, কথায় বলে প্রেম অন্ধ হয়।

সঠিক সঙ্গী নির্বাচনে পরিবারের অবদান

জীবন সঙ্গী নির্বাচন করা সহজ কোন কাজ নয় । নিজের জীবন সঙ্গী খুজে বের করা মুখের কথা নয়। পারিবারিক  ভাবে নির্ধারিত বিয়েতে এই ঝামেলা একদমই থাকে না কারন পরিবারের সদস্যরা এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং তারা সবাই মিলে একজন আদর্শ সঙ্গী খুজে বের করেন। ফলে পারিবারিক বিয়ের পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে সম্পূর্ণ পরিশ্রম পরিবারের সদস্যরা বহন করে এবং সানন্দে করে ।

বিয়ে শুধু দুজন মানুষের না, বরং দুটি পরিবারের সম্পর্ক

পারিবারিক ভাবে নির্ধারিত  বিয়ে কোন একটা নির্দিষ্ট সম্পর্ককে না বুঝিয়ে অনেক গুলো সম্পর্কের ভিত্তিকে বোঝায়। এরকম সম্পর্ক গুলতে কোন দম্পত্তির মধ্যে যদি কোন মতো বিরোধ হয় তখন পরিবারের সবায় মিলে বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থা করে, দুজনের মধ্যকার সম্পর্ক জোড়া দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। পরিবার এই সমস্যাকে একান্ত নিজের সমস্যা বলে মনে করে।

ভালোবাসার পাগলামি

প্রেমের বিয়েতে জীবনসঙ্গী একে ওপরের প্রতি যে ভালোবাসার টান অনুভব করে পারিবারিক বিয়েতে টানটা কম হয় এবং আকর্ষণ ও কম থাকে। পারিবারিক বিয়ে গুলোতে ভালোবাসার পাগলামিটা কম থাকে। পারিবারিক বিয়েতে ভালোবাসার পাগলামি তখন সৃষ্টি হয় যখন একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে।

বিচ্ছেদের বিভীষিকা

পারিবারিক বিয়েতে সব দম্পত্তিরা সুখী হবে এমন কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। এসকল বিয়ের ক্ষেত্রেও দম্পত্তিদের মধ্যে অসুস্থ সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে পরিবার তাদের সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তালাক বা বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, অভিভাবক মনে করে তালাকের মতো সিদ্ধান্তে মানুষ জানাজানি হলে তাদের সম্মানহানী হবে, ফলে তারা যেকোন পরিস্থিতিতে তালাকের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনা। এমন অবস্থায় বিবাহিত দম্পত্তিরা না পারে সুখে সংসার করতে না পারে এ সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেতে। তাদের জীবন হয়ে পরে বিভীষিকাময়।

সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি দূরে রাখবেন যেভাবে

সকলের অভিমান, অনুরাগ সমস্তই জমা হয় প্রিয়জনের নামে।  সম্পর্কে প্রাধান্য বেশি থাকে বলে ভুল বোঝাবুঝির ভয়টাও থাকে বেশি।  বিশেষ করে দুইজন দুই জায়গায় থাকলে ভুল বোঝাবুঝির মাত্রাটা যেন বেড়ে যায়।  কাছে থাকলে একটুখানি ঠোঁটের হাসিতে, চোখের চাহনিতে যে কথা বোঝানো যায়, দূরে থাকলে তা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর তাইতো একটি ইতিবাচক বিষয়ও নেতিবাচক হতে সময় লাগে না।  কিন্তু এই ভুল বোঝাবুঝিকে বাড়তে দিলেই মুশকিল।  সেখান থেকে জন্ম নিতে পারে আরো বড় দূরত্বের। সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে তাকে দূর করার প্রচেষ্টাও।  আর সেক্ষেত্রে যত্নশীল হতে হবে উভয়পক্ষকেই।

ভুল স্বীকার অবশ্যই করতে হবে: ভুলটা যদি আপনারই হয়, এবং আপনি তা অনুধাবন করতে পারেন তবে দ্রুতই নিজের ভুলটা স্বীকার করে নিন। যদি ঝগড়া করার ইচ্ছা থাকে তবে আপনি তা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত চালিয়ে নিতে পারবেন, কারণ ঝগড়ায় ইন্ধনের অভাব হয় না। তাই ভালোবাসার সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইলে নিজেকে সবসময় পুরোপুরি নির্দোষ ভাবা বন্ধ করুন। যদি সত্যিই ভুল করে থাকেন তবে তা স্বীকার করে নিন। ভুল বোঝাবুঝি আর থাকবে না।

সরি বলা চর্চা করতে হবে : সম্পর্কে যে সমস্যাটি কাঁটার মতো বিঁধে থাকে সেটি হলো ‘ইগো’। এই এক ইগোর জন্য কত সম্পর্ক মুকুলেই ঝরে যায়, তুমুল ভালোবাসা লুকিয়ে রেখে ভালোবাসাহীনতার অভিনয় করে যেতে হয়! তাই ভুলটি আপনার হোক বা না হোক, ইগো ঝেড়ে ফেলে একবার ‘সরি’ বলেই দেখুন। ছোট্ট একটি শব্দ দিয়ে যার সমাধান করা যায়, তা অযথাই দীর্ঘায়িত করলে কারোই লাভ হবে না।

বোঝাবুঝিকে বাড়তে না দেয়া : ভুল বোঝাবুঝিকে বাড়তে সময় দেয়া নয়, পরস্পরকে সময় দেয়া। যখন দূরে থেকে আর সমস্যার সমাধান করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না তখন কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করুন। একটি দিন বা অন্তত একটি বিকেল পরস্পরকে সময় দিন। প্রিয় মানুষের চোখের দিকে তাকালে আর কোনো মিথ্যাই পাত্তা পাবে না। ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে প্রতিষ্ঠা হবে ভালোবাসার।

দূরত্ব ঘোচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বিশেষ কোনো উপহার। সেইসঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিও মুখ লুকিয়ে পালাবে! তাই ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে রাখতে প্রিয় মানুষটিকে প্রিয় কোনো উপহার কিনে দিতে পারেন।  সুত্রঃ সময়ের কন্ঠস্বর