fbpx

জীবনসঙ্গী খুঁজতে বিবাহ বিডি

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনার  অথবা  পরিবারের প্রিয় সদস্যটির জন্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস | জীবনসঙ্গী খুঁজতে বিবাহ বিডি ডট কম

ঘরে বসেই ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে  চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ
৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স,  বিধবা, বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী।  তাছাড়াও বিবাহ বিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার  সার্চ ( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ
জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

প্রথমেই দেখে নিন কোন কোন প্রফেশনের কত জন পাত্র/পাত্রী এই মূহুর্তে বিবাহবিডিতে রয়েছে।  লিংকে ক্লিক করুন 


এই অডিওটি আপনাকে আমাদের সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।


যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ইজি সার্চ  অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে। 


আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে
লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন   
অথবা বিস্তারিত জানতেঃ
০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


নীচের উল্লেখিত ভিডিওটি দেখলে বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা পাওয়া যাবে –

কোন কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে সমস্যায় পড়লে বিবাহবিডির কাষ্টমার সাপোর্ট আপনাকে ২৪/৭ দিনই হেল্প করার জন্য প্রস্তুত আছে আপনি ফোনে (০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫) সাহায্য নিতে পারেন।

আপনার রেজিষ্ট্রেশন টি সম্পূর্ন হয়ে গেলে বিবাহবিডির একজন কাষ্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ আপনার প্রদত্ত তথ্যগুলো ফোনে রিভিও করে আপনাকে ৩ দিনের জন্য বিবাহবিডিতে ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ দিবে ও বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা দিবে।

৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপে আপনি বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে বাছাই (Add To Favorite ) করে পরবর্তীতে আপনার সাধ্য অনুযায়ী মেম্বারশীপ কিনে পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌছাতে সক্ষম হবেন।


পাঠকের সুবিধার্থে বিবাহবিডির সরাসরি কয়েকটি সার্চ রিজাল্টের লিংক নিম্নে দেয়া হলোঃ


Support Center:

BIBAHABD.COM
HOUSE: 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE, DHAKA-1219.
Hotline : +88 0961 22 11 555,  88 019 22 11 5555


বিবাহবিডি ডট কম অফিস লোকেশন 

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয় বিয়ের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার জন্য হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এতে বিবাহ নিবন্ধনের বিষয়টি ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের আবেদন ও পদ্ধতি:
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয়ভাবে বিয়ের পর, বিয়ে যে স্থানে হবে, সেই এলাকার নিবন্ধকের কাছে নিবন্ধন করতে হবে। বর-কনে যৌথ স্বাক্ষর বা টিপসই দিয়ে নিবন্ধনের জন্য লিখিত আবেদন করবে। আবেদনের সঙ্গে বর-কনের পাসপোর্ট আকারের বা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ ছবি সংযুক্ত করতে হবে। তবে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের জন্য হিন্দু পুরুষের বয়স ২১ বছর এবং হিন্দু মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। অন্য কোন আইনে যাই থাকুক না কেন, ২১ বছরের কম বয়সী কোনো হিন্দু পুরুষ বা ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো হিন্দু মেয়ে বিয়ে করলে তা নিবন্ধনযোগ্য হবে না। অতএব, আবেদনের সময় বয়স প্রমান করে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র সাথে রাখতে হবে।

নিবন্ধক কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে আবেদনকারী প্রত্যাখ্যানের ৩০ দিনের মধ্যে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল সম্পর্কে জেলা রেজিস্ট্রারের আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ফি: বিধিমালা অনুযায়ী প্রতি বিয়েতে নিবন্ধন ফি লাগবে এক হাজার টাকা। এই ফি পরিশোধ করবে বরপক্ষ। বিয়ে-সংক্রান্ত নথির হুবহু নকল পাওয়ার জন্য ১০০ টাকা ফি দিতে হবে।

হিন্দু  বিবাহ রেজিস্ট্রেশন আইন জানতে ক্লিক করুন
http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_all_sections.php?id=1105

হিন্দু বিবাহ ও বিবাহ-বিচ্ছেদ: কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ

সামাজিক নানা ধরণের সমস্যায় আমরা বিপর্যস্ত। এর মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যা ও বিবাহ-বিচ্ছেদ সুস্থ সমাজ চেতনার পথে অন্যতম বাধা। প্রকৃত আইন না জানার জন্য অনেকেই এই সমস্যায় খুবই বিব্রত হয়ে পড়েন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে হিন্দু বিবাহ ও বিবাহের বিচ্ছেদ নিয়ে কিছু আইনী পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

প্রশ্ন: হিন্দু বিবাহ আইন কবে পাশ হল?
উত্তর: ১৯৫৫ সালের মে মাসে এই আইন চালু হয় এবং সংশোধিত হয় ২০১২ ।

প্রশ্ন: সাধারণত এই আইন কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
উত্তর: হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, ব্রাহ্ম ও আর্য সমাজভুক্ত সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য।

প্রশ্ন: হিন্দুমতে বিবাহ অনুষ্ঠানের কোনও অপরিহার্য অঙ্গ আছে কি?
উত্তর: বিবাহের জন্য প্রচলিত রীতিনীতি পালন করাটা আবশ্যক। সাধারণত হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এই বিবাহের অনুষ্ঠান শুরু হয়; অগ্নিসাক্ষী রেখে সপ্তপদী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহ শেষ হয়।

প্রশ্ন: হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী বিয়ের দুপক্ষকেই (পাত্র ও পাত্রী) কি হিন্দু হতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী উভয় পক্ষকেই, অর্থাত্ পাত্র ও পাত্রীকে অবশ্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতে হয়।

প্রশ্ন: হিন্দু মতে বিবাহের জন্য রেজিস্ট্রি (Registry) করা কি অবশ্যই প্রয়োজন?
উত্তর: না, রেজিস্ট্রি না হলেও বিবাহ অসিদ্ধ হয় না। তবে রেজিস্ট্রেশনটা হয়ে থাকলে পরে অনেক ক্ষেত্রে তা কাজে লাগে। যেমন, ভারতবর্ষের বাইরে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক স্থাপনের জন্য রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের দরকার হয়। হিন্দুমতে বিবাহটি রেজিস্ট্রি করার উদ্দেশ্য হল, হিন্দুমতে যে বিবাহটা হয়েছে – তা পরে প্রমাণ করার জন্য নথিভুক্ত করা।

প্রশ্ন: যখন দুপক্ষই হিন্দু-ধর্মাবলম্বী হয়, সেক্ষেত্রে অন্য কোনও আইন অনুযায়ী কি বিবাহ সম্ভব?
উত্তর: স্পেশাল ম্যারেজ এক্ট অনুযায়ী এই বিবাহ হতে পারে। আবার হিন্দুমতে বিবাহটা স্পেশাল ম্যারেজ এক্টের আইনে রেজিস্ট্রি করা যেতে পারে। তবে এই স্পেশাল ম্যারেজ এক্টে বিবাহ করতে হলে বিবাহের অন্তত ২ মাস আগে লাইসেন্স প্রাপ্ত বিবাহ-রেজিস্ট্রারের কাছে নির্দিষ্ট একটি ফর্ম ভর্তি করে আবেদনপত্র সহ সেটি জমা করতে হয়।

প্রশ্ন: হিন্দুমতে বিবাহ করতে বয়সের কি কিছু বিধি নিষেধ আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এই আইনে সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে যে, পুরুষদের ক্ষেত্রে বিবাহযোগ্য বয়স হল একুশ (২১) বছর এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে আঠারো (১৮) বছর। যেহেতু এই বয়সে পুরুষ ও মহিলা সাবালক ও সাবালিকা হয়ে যাচ্ছেন, তাই বিবাহের জন্য ওঁদের বাবা-মা বা অভিভাবকদের অনুমতির কোনও প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন: হিন্দুমতে বিবাহের পরে যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মতের মিল না হয়, কিংবা একসঙ্গে তাঁদের পক্ষে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে আইনত তাঁরা কি করতে পারেন?
উত্তর: যদি এমন হয় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতের মিল হচ্ছে না বা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অসুবিধা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে তাঁরা জুডিশিয়াল সেপারেশনের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন। আদালত ওঁদের এই আবেদন যথোপযুক্ত ও যুক্তিসংগত মনে করলে, বিবাহ-বিচ্ছেদ না করেও আদালতের মাধ্যমে দুপক্ষের আলাদা হয়ে থাকার বিধান আছে। অনেক সময়ে দেখা যায় যে, দু-পক্ষ আলাদা থাকার ফলে নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো বুঝতে পেরে আবার একসাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু যদি দেখা যায় যে, এক বছর আলাদা থাকা সত্বেও স্বামী-স্ত্রীর মতপার্থক্য কমছে না ও তার মীমাংসার কোনও সম্ভাবনা নেই, সে ক্ষেত্রে যে-কোনও পক্ষ আদালতের কাছে বিবাহ-বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) জন্য আবেদন করতে পারেন।

প্রশ্ন: জুডিশিয়াল সেপারেশন হয়ে যাবার পর কি কোনও পক্ষ আবার বিবাহ করতে পারেন?
উত্তর: জুডিশিয়াল সেপারেশন চলাকালীন কেউ বিবাহ করতে পারেন না, কারণ আইনের চোখে তখনও তাঁরা স্বামী ও স্ত্রী। সেপারেশন হবার পর এক বছরের মধ্যেও যদি দুপক্ষের মিল না হয়, তাহলে আদালতের কাছে বিবাহ-বিচ্ছেদের (ডিভোর্স) জন্য আবেদন করা যায়। আদালত তা মঞ্জুর করলে, তার পর বিবাহ করার কোনও বাধা থাকে না।

প্রশ্ন: আইনের ভাষায় অসিদ্ধ বিবাহ বলতে কি বোঝায়?
উত্তর : যে সব বিবাহ আইনানুযায়ী হয় নি, তাই অসিদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, যদি পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ বিবাহিত হন এবং তাঁর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত অবস্থায় থাকেন, তাহলে তার নতুন বিবাহটা অসিদ্ধ বলে গণ্য করা হবে। আরেকটা উদাহরণ, সম্পর্কের বিচারে পাত্র ও পাত্রী যদি সপিণ্ড হন বা অন্য কোনও নিষিদ্ধ সম্পর্কের (প্রহিবিটেড রিলেশনশিপ) আওতায় পরেন, তাহলে সেই বিয়ে অসিদ্ধ বলে গণ্য করা হবে।

প্রশ্ন: সপিণ্ড ও নিষিদ্ধ সম্বন্ধ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন।
উত্তর : নিষিদ্ধ সম্পর্ক বলতে বোঝায় মামা, পিসি, বিমাতা, ঠাকুমা, ইত্যাদি। এই রকমের আত্মীয়দের মধ্যে যদি বিবাহ হয়, তাহলে তা অসিদ্ধ হবে। সপিণ্ডর সাধারণ অর্থ হল যেক্ষেত্রে দুজনে একই পূর্ব-পুরুষকে পিণ্ড দান করেন। তবে ঠিক কারা সপিণ্ড সম্পর্কের মধ্যে পড়েন আইনে সেটি পরিষ্কার ভাবে উল্লেখিত হয়েছে।

প্রশ্ন: বিবাহ-বিচ্ছেদের কতদিন পরে আবার বিবাহ করা যায়?
উত্তর :সাধারণভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ মঞ্জুর হবার পর আপীল দায়ের করার সময় পেরিয়ে গেলেই যে কোনও পক্ষ আবার বিবাহ করতে পারেন।

প্রশ্ন: স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কি তাঁরা আবার নতুন করে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হতে পারেন?
উত্তর : হ্যাঁ, পারেন।

প্রশ্ন: বিবাহ বিচ্ছেদের পর মহিলারা বা সন্তানরা কি স্বামীর পদবী ব্যবহার করতে পারেন?
উত্তর : বিবাহ-বিচ্ছেদকারিণী মহিলা চাইলে তাঁর বাবার পদবী ব্যবহার করতে পারেন। মহিলার সন্তানরা তাদের বাবার পদবী ব্যবহার করতে পারবে।

প্রশ্ন: যদি কোনও স্বামী বিবাহ বিচ্ছেদ চান, সেক্ষেত্রে তিনি কি তাঁর স্ত্রীর ভরণপোষণ করতে বা তাঁকে খোরপোষ দিতে বাধ্য?
উত্তর : স্ত্রীর নিজস্ব রোজগার না থাকলে, আদালতে আবেদন করে তিনি খোরপোষ পেতে পারেন। কিন্তু স্ত্রীর পর্যাপ্ত পরিমানে নিজস্ব রোজাগার থাকলে কিংবা তিনি আইনের চোখে দুশ্চরিত্রা বলে প্রমাণিত হলে, স্বামী ভরণপোষণ দিতে বাধ্য হবেন না। একই আইন পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাত্, স্বামীর রোজগার না থাকলে, তিনি তাঁর রোজগেরে স্ত্রীর কাছ থেকে ভরণপোষণের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।

প্রশ্ন: স্বামী ও স্ত্রীর যদি শিশু সন্তান এবং সাবালক সন্তান থাকে, সেক্ষেত্রে বিবাহ-বিচ্ছেদের পর সন্তানরা কার কাছে থাকবে?
উত্তর : বাচ্চারা বাবা অথবা মা – যে-কোনও একজনের কাছে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে দু-পক্ষের মধ্যে যদি মতান্তর হয়, তাহলে আদালত এই ব্যাপারে রায় দেবে। আইনের বিধানে সাধারণত ছয় বছর পর্যন্ত বাচ্চারা মায়ের কাছে থাকতে পারে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে শিশু-সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণের ভার বাবাকেও দেওয়া হয়। ক্ষেত্রবিশেষ বলতে মায়ের পুনর্বিবাহ-ঘটিত সমস্যা বা তাঁর চরিত্রহীনতা, অথবা মাতৃগৃহের পরিবেশ শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিবেচিত হওয়া, ইত্যাদি, বোঝাচ্ছে।

প্রশ্ন: যাদি সন্তানরা মায়ের কাছে থাকেন, সেক্ষেত্রে বাবা কি বাচ্চাদের ভরণপোষণের জন্য টাকা দিতে বাধ্য? দিতে হলে, কতদিন পর্যন্ত তিনি তা দেবেন?
উত্তর : হ্যাঁ, বাবা সন্তানদের জন্য খরচ দিতে বাধ্য। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে এই ভরণপোষণ চলবে তারা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত। মেয়েদের ক্ষেত্রে তাদের বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত।

প্রশ্ন: বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা কি কি কারণে করা যায়?
উত্তর: অনেক কারণেই বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য মামলা করা যায়। যেমন, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের দুর্ব্যবহার অভিযোগ থাকলে, অথবা দুবছরের বেশি অন্য পক্ষ কর্তৃক পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলে, বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য মামলা আনা যেতে পারে। তবে এ দুটি ছাড়াও আরও অনেক কারণের ভিত্তিতে বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা আনা যেতে পারে।

প্রশ্ন: বিবাহ-বিচ্ছেদ মামলা কোন আদালতে আনা যায়?
উত্তর: বিবাহ-বিচ্ছেদের সংক্রান্ত মামলা ডিস্ট্রিক্ট জজ-এর কাছে দায়ের করা যায়। বর্তমানে পারিবারিক আদালতে এই ধরণের মামলা দায়ের করতে হয়।

প্রশ্ন: মিউচিয়াল কনসেণ্ট বলতে কি বোঝায়?
উত্তর : যখন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মতের এতো অমিল যে, তাঁদের পক্ষে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না, তখন দুজনে মিলিত ভাবে আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য। তবে বিবাহের এক বছরের মধ্যে এই আবেদন করা যায় না।

হিন্দু বিবাহ রেজিষ্টারঃ
দেশের প্রত্যেকটি উপজেলা / থানায় সরকার একজন করে হিন্দু বিবাহ রেজিষ্টার নিযুক্ত করেছেন।  যাদের তথ্য জেলা প্রশাসকের ওয়েব সাইটে রাখা হচ্ছে।  
22

কেন বিবাহবিডিতে জীবনসঙ্গী খুঁজবেন!

বিয়ে একটি অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। মনে করা হয় দুটি মানুষের এই বন্ধন জন্ম জন্মান্তরের। সামাজিক নিয়মে এ বন্ধনে আবদ্ধ হয় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ। বিয়ে শুধু দুজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তৈরী করে দুটি পরিবারের মধ্যে সামাজিক বন্ধন।

বিয়ে নিয়ে মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই থাকে নানান আশা ও স্বপ্ন, থাকে উত্তেজনা, চিন্তা দুশ্চিন্তা ও ভাবনা। আবার বিয়ের ব্যাপারে অনেকেই মানুষিক ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে না। এর প্রধান ও অন্যতম কারন হলো পছন্দ মত যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে না পাওয়া।

দীর্ঘ ১ যুগের বেশী সময় ধরে আমরা এই সমস্যাটির সহজ ও দ্রুত সমাধান দিচ্ছি – বাংলাদেশী ও প্রবাসীদের জন্য সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক ২৪ ঘন্টা কল সেন্টার সার্ভিস নিয়ে সর্বোক্ষনিক সেবা নিশ্চিত করছে বিবাহবিডি ডট কম সার্ভিস টিম।

বিবাহবিডি ডট কম একটি অনলাইন বেইজড সার্ভিস ওয়েব পোর্টাল। এ পোর্টালের সদস্য হয়ে আপনি নিশ্চিত খুঁজে পেতে পারেন আপনার পছন্দমত যোগ্য জীবনসঙ্গী।

আসুন জানি যে কারনে বিবাহবিডিতে পাত্রপাত্রী খুঁজবেনঃ- বিবাহবিডি সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই বিবাহবিডি ডট কম আপনার পছন্দমত পাত্রপাত্রী খুঁজে দিতে সহায়তা করবে।

বিবাহবিডি পোর্টালে লগ ইন করে পছন্দের প্রফেশন, পাত্র-পাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা / এলাকা ভিত্তিক, প্রবাসী, বৈবাহিক অবস্থা (যেমন – অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা অথবা বিপত্নীক), ধর্ম, গোত্র, বর্ণ সহ ১৮ টি সার্চ ক্যাটাগরীর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী আপনার কাংখিত সংঙ্গীকে সহজেই খুঁজে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।

বিবাহবিডি প্রোফাইল এক্টিভেট/সক্রিয় করার পূর্বে নিজস্ব কাষ্টমার সাপোর্ট টিম তা তিন স্থরের ভেরিফাই করে ।

পাত্র-পাত্রীর প্রোফাইল ভেরিফিকেশনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম নিবন্ধন / একাডেমিক সার্টিফিকেট/ প্রবাসীদের জন্য ভিসা, পাসপোর্ট / ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেট যাচাই করে বিবাহবিডিতে একটি প্রোফাইল একটিভ করা হয় যার ফলে আপনি একজন পাত্র/পাত্রী পরিচয় বিষয়ক সঠিক তথ্য পাবেন।

বিবাহবিডি ডট কম এর ব্যাপ্তি বিশ্বব্যাপী এবং এটি সমকালীন একটি আধুনিক সেবা। তাই বিশ্বের যেকোন দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাত্র-পাত্রী বা অভিভাবকগন প্রোফাইল দেখে নিজেরাই সরাসরি পাত্র/পাত্রী বা কাংখিত প্রোফাইলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিবাহবিডি থেকে আপনি জীবন সঙ্গী্র খোঁজ পাবার পর বিবাহবিডি আপনার কাছে কখনোই কোন সার্ভিস চার্জ দাবি করবেনা। বরংচ বিবাহবিডিতে আপনার সাক্সেস ষ্টোরী শেয়ার করলে বিবাহবিডিই আপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার ঠিকানায় গিফট পাঠাবে।

সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোন তথ্য ও সাপোর্টের জন্য ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই হট লাইন ইউজার সাপোর্ট প্রস্তুত থাকে ।

আপনি বিবাহবিডিতে প্রোফাইল রেজিষ্ট্রেশন করার আগেই জানতে পারবেন আপনার চাহিদা অনুযায়ী কতজন সম্ভাব্য পাত্র পাত্রী বিবাহবিডিতে রয়েছে।তাই আপনার অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য যদি পাত্র/পাত্রী খুঁজে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে রেজিষ্ট্রেশন করুন। বিবাহবিডি ডট কম একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ওয়েব পোর্টাল ২৪ ঘন্টা / ৭ দিনই হট লাইন ইউজার সাপোর্ট প্রস্তুত থাকে।

শর্ত : বিয়ের পর বউ চাকরি করতে পারবে না

বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছে। আধুনিক প্রতিষ্ঠিত ছেলেটি চান ভালো মেয়ে, সুন্দর, বনেদি পরিবার ও শিক্ষিত। আর মেয়েটি যদি মেধাবী হন, তা হলে তো ষোলোকলা পূর্ণ। তবে শর্ত একটি, বিয়ের পর বাড়ির বউ চাকরি করতে পারবে না। আধুনিকতার মুখোশের আড়ালে এমন সংকীর্ণতা অনেক পাত্র ও তাঁর পরিবারের মধ্যে দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতায় সফল মেয়েটি অনেক সময় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবারের কথা ভেবে অনাকাঙ্ক্ষিত অশান্তি এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত মেয়েরা নেন। বিয়ের পর স্বামী চান না বলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকেন অনেকেই। স্বামী বা শ্বশুরবাড়িকে খুশি করলেও নিজের ভেতরে গুমরে কেঁদে মরেন তাঁরা। নারীর ক্ষমতায়ন, আধুনিকতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার কথা কপচানো অনেক পুরুষই বাস্তবে কর্মজীবী স্ত্রী পছন্দ করেন না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অরিনের বিয়ের কথা চলছে। একজনের সঙ্গে বিয়ের পাকা কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়েটা হয়নি। রুচিশীল শিক্ষিত ছেলেটিকে অরিনের ভালো লেগেছিল। কিন্তু বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত করার আগে ছেলেটি শর্ত দিয়ে বসলেন—বিয়ের আগেই অরিনকে চাকরি ছেড়ে দিতে হবে। কেননা, তাঁর বউ চাকরি করলে লোকে নাকি ভাববে, ভরণ-পোষণ দিতে পারছেন না। এমন হাস্যকর যুক্তি মেনে না নিতে পারায় বিয়েটা শেষ পর্যন্ত ভেঙে গেল। এ বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় নাকি এখন অনেক বিয়ের কথাই বেশি দূর এগোচ্ছে না। হতাশ হয়ে অরিনের মা-বাবা মনে করেন, এই সামান্য শর্ত মানলে কী এমন ক্ষতি হতো!বিয়ের পর চাকরি ও সংসার কি একসঙ্গে সামলাতে পারবে? সন্তান হলে তাকে কাজের লোকের কাছে বড় হতে হবে। সারা দিন কাজ শেষে বউ বাড়ি ফিরবে। তখন পরিবারকে সময় দিতে চাইবে না। আর চাকরি করলে বউ বশে থাকে না। নিজের স্ত্রী চাকরি করার বিপক্ষে এসব যুক্তি দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ছেলে। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, ভালো মেয়েরা চাকরি করেন না।

ছেলেদের এসব যুক্তির সঙ্গে মেয়েরা কি একমত? ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন হুমায়রা (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, ‘বিয়ের পর আমি চাকরি ছেড়ে দেব। আমার সন্তান একা বড় হবে, এটি চাই না। এতে আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা থাকবে না কিংবা ব্যক্তিত্বে প্রভাব পড়বে, এমনটি মনে করি না। সুন্দরভাবে সংসার করাও একটি শিল্প।’

তা হলে এত দূর পড়াশোনা করার কোনো মূল্যই থাকবে না! বিয়ে নামের সামাজিক বন্ধন স্বপ্ন পূরণে বাধা দেবে, এটি মানতে পারেন না নৌশিন। তিনি মনে করেন, ভালো বোঝাপড়া থাকলে সংসার ও চাকরি—দুটোই সামলানো সম্ভব। এখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই ছাড় দিতে হবে। পরস্পরকে সহনশীল হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর যে ছেলে কোনো মেয়ের স্বপ্ন ও কাজকে শ্রদ্ধা না করবে, তিনি স্বামী হিসেবে কতটা ভালো হবেন, এ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। হুমায়রা আর নৌশিনের বাইরেও আছেন অনেকে। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সেটা নিতে হবে মেয়েটিকেই। মেয়েটি যদি সবকিছু ঠিকঠাক সামলাতে পারে তা হলে সমস্যা কিসের!

অনেক সময় মেয়ের অভিভাবকেরাও চান, এই সামান্য ছাড় দিলে কী হয়? চাকরির জন্য সংসার টিকবে না, এটি তাঁরা মেনে নিতে পারেন না। ফলে মেয়ের মতামত গুরুত্ব পায় না তাঁদের কাছে। ব্যতিক্রমও আছেন কেউ কেউ। সরকারি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের তিন মেয়েই কর্মজীবী। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ের কথা চলছে। তিনি ভাবতেও পারেন না, তাঁর মেয়েরা কখনো চাকরি ছেড়ে দেবেন। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মা-বাবা পাশে থাকলে মেয়েরা সব পারে। আমার তিন মেয়ে চাকরি করে। এটি কত বড় গর্বের, তা বোঝানো যাবে না। পাত্রপক্ষ কিছু বলার আগেই বড় দুই মেয়ের বিয়ের সময় আমি উল্টো শর্ত দিয়েছিলাম, বিয়ের পর মেয়েকে চাকরি করতে দিতে হবে।’

অভিভাবকদের বুঝতে হবে, মেয়ে স্বাবলম্বী হলে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন। হতেই পারে বিয়ের পর স্বামীকে কোনো কারণে সাহায্য করতে হলো। তার চেয়ে বড় কথা, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী ঘরে বসে না থেকে কাজ করলে পরিবার থেকে দেশ—সবার জন্যই ভালো। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে ছেলেদেরই। চাকরিজীবী স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। শুধু মুখে মুখে আধুনিক না হয়ে কাজেও দেখাতে হবে।

রাতারাতি সবার মানসিকতার পরিবর্তন হবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়। সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনও জরুরি। নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করতে হলে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তাঁর সঙ্গে একমত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি জানান, ছেলেদের এই মনোভাব নারীর জন্য ইতিবাচক নয়; বরং বিবাহিত জীবনেও অনেকখানি ঝুঁকি রয়ে যায়।বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে হলেও অনেক সময় মেয়েদের এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাবোধ অন্যতম একটি কারণ। বিয়ের পর সন্তানের মা হওয়ার পর বাড়িতে কোনো লোক না থাকলে, অফিসে শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র না থাকলে তখন সাধারণভাবে মাকেই চাকরি ছাড়ার কথা বলে সবাই।ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সেই পরিবেশ বাড়ির সদস্যদের বা প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে।

-তৌহিদা শিরোপা

পাত্র বাছাইয়ে নারীদের যেমন পুরুষ পছন্দ

একজন মানুষের গুণাগুণ মাপার শর্টকাট কোন যন্ত্র নেই । সৎ ও আদর্শবান মানুষ হতে হলে কী কী গুণাবলী থাকা দরকার এ বিষয়ে হাজারো মন্তব্য পাওয়া যাবে। তারপর যখন আরো একটু বিস্তারিত ভাবে জানতে চাইবেন যে, একজন পুরুষের মধ্যে কী কী গুণাবলী থাকা উচিৎ; সেখানেও নানান মন্তব্য পাওয়া যাবে। একজন পুরুষ যেমন একজন সুন্দরী, শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্ববান নারী পছন্দ করেন।  তেমনি একজন নারীও চান তার সঙ্গীটি সৎ, ব্যক্তিত্ববান এবং বিশ্বস্ত হবেন।

পৃথিবীতে সমস্ত গুণাবলীর ভাণ্ডার নিয়ে কোনো পুরুষই জন্মায়নি।  সবদিক থেকে গুণাবলীসম্পন্ন পুরুষ সঙ্গী মেলা ভার। কিছু মৌলিক জিনিস আছে যেগুলো নারী-পুরুষের চাওয়ার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে পাওয়ার মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য আছে।  সবার দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু এক নয়। আপনার চোখে যা সুন্দর অন্যের চোখে তা তেমন সুন্দর নাও হতে পারে।  নারীর পছন্দ, অপছন্দ চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদির বিস্তর সন্ধান করেছেন গবেষকরা।  অনাবৃত রয়েছে অনেক রহস্য।

অস্ট্রেলিয়ান মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েড মনে করেন, মেয়েদের মন পুরুষদের চেয়ে অনেক পরিষ্কার থাকে। আর সে কারণে মেয়েরা তাদের মনটাকে ঘন ঘন বদলান। আবার তাদের অনেক প্রিয় বিষয় আছে যা তারা একেবারেই বদলান না।

একজন নারী সঙ্গী বা পাত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন গুণাগুণ যাচাই করেন তারই কিছুটা –

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ পাত্র নির্বাচনের জন্য অনেক তোড়জোড় দিয়েই শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখা হয়। কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার সাথে ক্যারিয়ার জড়িত থাকে। সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পাত্র না হলে এবং ভালো ক্যারিয়ার না থাকলে পাত্রীর বাবা মা বিয়ে দিতে চান না। কিন্তু বর্তমান ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ক্যারিয়ার ভিত্তিক চিন্তা ভাবনা, যোগ্যতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতটাও দেখা উচিত।

সঠিক বয়সের পার্থক্য: আজকাল অনেকে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। সমবয়েসি কিংবা পাত্রী বড়ও বিয়ে করে থাকেন। কিন্তু স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী পাত্রের পাত্রীর চাইতে ৩-৫ বছরের বয়সের পার্থক্য থাকা উচিত। কারণ সাইকোলজিস্টদের মতে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ম্যচিউরিটি একটু দেরিতে আসে।

শারীরিক সুস্থতা: অনেকেই শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য, বয়স, ক্যারিয়ারের কারণে পাত্র পছন্দ করে ফেলেন। কিন্তু বয়সের আগে শারীরিক সুস্থতা নিয়ে সচেতন হওয়া উচিত। এর মানে এই নয় যে সাধারণ বিষয় ধরে বসে থাকা উচিত। ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পাত্র/পাত্রীর সুস্থতার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ন।

মানবিক গুণাবলী: মানুষটির মানবিক মূল্যবোধ কতোটা ভালো তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। কারণ নিজের চাইতে ছোটো এবং পজিশনের ছোটো মানুষের প্রতি তার আচরণ খারাপ হলে তার মানসিক এবং মানবিক মূল্যবোধ না থাকারই কথা। এবং এই ধরণের মানুষের সাথে সংসার পাতা যায় না।

ব্যক্তিত্ববান : আপনি দেখতে আকর্ষণীয় নাও হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিত্ববান তো হতে পারেন। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষদের নারীরা বেশি পছন্দ করে থাকেন। কারণ ব্যক্তিত্ববান পুরুষ সঙ্গীর পাশাপাশি অন্যের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম।

সৎ এবং বিশ্বস্ত : সঙ্গী সৎ এবং বিশ্বস্ত হবে এমনটা প্রতিটি নারী আশা করেন। তারা চান সঙ্গী যেন অবশ্যই সৎ ও স্মার্ট হয়।  নারীরা সততার মাপকাঠিতে পুরুষকে সবার আগে যাচাই করেন তার বিশ্বস্ততা। এ ক্ষেত্রে সবসময় আপনার সঠিক অবস্থানটাই জানান। এতে তার মধ্যে বিশ্বস্ততা তৈরি হবে।

পরিপক্ষ ও শান্ত স্বভাবের : লক্ষ্য করে দেখুন তিনি কতোটা খোলা মানসিকতার মানুষ। কারণ মানসিকতা যদি ছোটো হয় তাহলে আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতায় তিনি হস্তক্ষেপ করবেন এবং আপনার ওপর কারণে অকারনে সন্দেহের দৃষ্টি দেবেন। তাই এই ধরণের মানুষ নির্বাচন করে বসবেন না। সাধারণত নারীদের মানসিক পরিপূর্ণতা পুরুষের আগে আসে। নারীরা চান তার পুরুষ সঙ্গীটি যেন মানসিকভাবে পরিপক্ক এবং শান্ত স্বভাবের হন। ভালোবাসার ক্ষেত্রে আবেগ প্রকাশ করেন এবং একইসঙ্গে সাহস করে সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা থাকে। এক কথায় নারীরা তার সঙ্গীর ওপর নির্ভর করতে পছন্দ করেন। তাই মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা পুরুষের সঙ্গ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

কিছুটা হলেও হাসিখুশি মেজাজের: অনেকেই আছেন অনেক গম্ভীর মেজাজের হয়ে থাকেন কিন্তু তার মধ্যে কিছুটা হলেও রসবোধ থাকে। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থেই একেবারে গম্ভীর তাদের সাথে সংসার করা এবং সময় কাটানো বেশ কঠিন।

আপনার সাথে মনের মিল: বিয়ের আগেই দেখে নিন আপনাদের মধ্যে মিলটা কতোখানি। আপনারা কি একই ধরণের চিন্তা করেন কিনা বা একই আদর্শে বিশ্বাসী কিনা। কারণ একজন অনেক খোলামেলা মনের অধিকারী হয়ে নিচু মনমানসিকতার মানুষের সাথে সংসার টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

সত্যবাদী : নারীরা সত্যবাদী পুরুষদের বেশি পছন্দ করেন। যদি দীর্ঘ সম্পর্কে জড়াতে চান সঙ্গিনীর সঙ্গে কখনো সত্য গোপন করবেন না। অথবা কোনো কিছু মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সঙ্গিনীকে বিব্রত করবেন না। আপনি অপছন্দনীয় কিছু একটা করে ফেললেও তা লুকোনো হবে আপনার জন্যে আরো বড় ভুল। কারণ আপনার দোষের যদি কোনো কিছু থাকে তা সত্যি করে বলাটাকে মেয়েরা আরো বেশি পছন্দ করেন। তাই নারীদের সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পাত্র কতটুকু সত্যবাদী তা পরখ করে নেয়াই শ্রেয়।

আর্থিক নিরাপত্তা: প্রতিটি নারীই কর্মঠ সঙ্গী পছন্দ করেন, এযুগে উচ্চ শিক্ষিত অনেক নারীই কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন,  তারপর ও বেশীর ভাগ নারীই চান নিজের জীবন সঙ্গী অবশ্যই কর্মঠ হবেন।  তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক নারীই সঙ্গী বাছাইয়ে সরকারী চাকুরীজীবীদের বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।  আবার শহরের বেড়ে উঠা সচ্ছল ও উচ্চ শিক্ষিত নারীদের মাঝে উন্নত দেশে প্রতিষ্ঠিত অথবা প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী, বহুজাতিক কোম্পানীর চাকুরীজীবীদের পছন্দের প্রধান্য লক্ষ্য করা যায়।  আবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ক্ষেত্রে খুব বেশী চাহিদা না থাকলেও শিক্ষিত ও কর্মক্ষম পুরুষ তাদের প্রথম পছন্দ হয়, হোক সে সরকারী, বেসরকারী চাকুরে কিংবা প্রবাসী; সেখানে আর্থিক নিরাপত্তার বিয়য়টি ব্যাপক প্রাধান্য পায়। এজন্য কর্মক্ষম, স্বাবলম্বী ও ব্যাক্তিত্ববান একজন পুরুষই প্রাধান্য পেয়ে থাকে।

পোশাকে রুচিশীল : বিশেষজ্ঞদের মতে, রুচিহীন পোশাকের পুরুষদের কোনো কিছুই মেয়েদের আকর্ষণ করে না। সাধারণত চলতি ফ্যাশন নারীদের কাছে প্রিয়। তাই একটু ফ্যাশনেবল থাকতে হবে। ভালো পোশাকই আপনার রুচির পরিচায়ক।

চুলে স্টাইলিশ : চুলের ভালো একটা কাটিং আপনার চেহারা বদলে দেবে অনেকখানি। চেহারার আদলের সঙ্গে মানানসই চুলের ছাঁট নারীদের কাছে আপনাকে আকর্ষণীয় করে তুলবে। তাদের সামনে আপনার উপস্থিতির ওপর চুলের ছাঁট অনেক গুরুত্ব রাখে।

কথা বলার স্টাইল : আপনার স্টাইলেই কথা বলুন। অন্যকে একদম নকল করবেন না। কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু কথা একদম বলবেন না। বারবার যেন আঞ্চলিকতার টান কথার মাঝে চলে না আসে। শুদ্ধ সহজ ও সাবলীল ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালোভাবে কথা বলতে জানলে আপনার সঙ্গিনী শুধু আপনার কথা শোনার প্রতীক্ষায় থাকবেন।

উপহার দেয়া : মেয়েরা হঠাৎ করে পছন্দনীয় গিফট পেয়ে চমকে যেতে মারাত্মক ভালোবাসেন। চকোলেট, সুন্দর কথা লেখা গিফট কার্ড বা ফুল এগুলোর কথা নিশ্চয় সবাই জানেন। আরো কি কি জিনিস রয়েছে তাদের পছন্দের তালিকায় সেগুলো কৌশলী হয়ে জেনে নিতে হবে। তাকে হঠাৎ করে সুসজ্জিত কিছু একটা উপহার দিয়ে চমকে দেয়া খুব পছন্দ করেন। দেখবেন, আপনার কাছ থেকে এমনই একটা গিফট আশা করেছিলেন আপনার সঙ্গিনী।

কেউই চান না তার বিবাহবিচ্ছেদ হোক। মানুষ যখন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তখন সারাজীবন একসাথে একই ছাদের নিচে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু একে অপরকে বুঝতে না পারা এবং ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের কারণে হয়তো বিবাহের সম্পর্কে টানাপোড়নের সৃষ্টি হয়। এবং বেশি টানাপোড়নের কারণে অনেক সময় না চাইতেও বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তাই বিয়ের আগেই ভাবুন। পাত্র  পছন্দের সময় মাথায় রাখুন ভবিষ্যতের ব্যাপারগুলো। পাত্র পছন্দ হলেও মিলিয়ে দেখুন তার কিছু গুণ রয়েছে কিনা যা ভবিষ্যতে আপনাদের দাম্পত্যজীবন সুখী করে তুলবে।

যোগ্য জীবন সঙ্গী খুঁজতে বিবাহবিডি

বিবাহবিডি ডট কম:  ঘরে বসেই অনলাইনে পাত্র পাত্রী খুঁজে পছন্দের পাত্রপাত্রী কিংবা অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার সবচেয়ে সহজতর প্রন্থা।  আর এই সেবাটি বিবাহবিডি দিয়ে আসছে ২০০৯ সাল থেকে।  আপনার শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে  ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই  প্রস্তুত আছে।  এ সেবাটি সম্পূর্ন অনলাইন বেইজ  এবং  শত ভাগ সেলফ সার্ভিস।  অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে নিজের মত করে প্রফেশন, এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পাত্র-পাত্রীর প্রোফাইল গুলো দেখে সহজেই শর্ট লিষ্ট করে সরাসরি পাত্র-পাত্রী বা তাঁদের অভিভাবকের সাথে  নিজেরাই যোগাযোগ করতে পারবেন এবং তা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই।

তাছাড়াও বিবাহবিডিতে আপনার অথবা আপনার পরিবারের নিবন্ধিত সদস্যের প্রোফাইলটি দেখে আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী (পার্টনার প্রেফারেন্স দেখে) পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকেরাও আপনাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।

ভিডিও টি দেখুনঃ

কেন  বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেন ?

  • বিবাহবিডি সম্পূর্ন একটি সেলফ সার্ভিস। যেখানে পাত্র-পাত্রী কিংবা অভিভাবকেরা অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ৩ দিনের ট্রায়াল মেম্বারশীপ নিয়ে, নিজেরাই পাত্রপাত্রীর প্রোফাইল দেখে বাছাই করেন এবং পরবর্তীতে পছন্দের পাত্র-পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করে থাকেন।
  • বিবাহবিডি ইউজার সাপোর্ট টিম (24/7) প্রতিটি প্রোফাইলের পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবককে তথ্য সম্পূর্ন রুপে যাচাই করে এক্টিভ করে।
  • এনআইডি, পাসপোর্ট, জব আইডি ও ডিভোর্সদের ক্ষেত্রে ডিভোর্স সার্টিফিকেট ভেরিফাইড প্রোফাইল
  • প্রফেশন অনুযায়ী, অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • প্রবাসী প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • বাংলাদেশের যে কোন জেলার প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • প্রবাসী / নিদৃষ্ট কোন দেশের বসবাসরত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • নিদৃষ্ট ধর্ম, গোত্র, কাষ্ট অনুযায়ী পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • ষ্পেশাল কেইস ( সিঙ্গেল ফাদার, সিঙ্গেল মাদার)  পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • ডিজেবেলিটি (পরিবারের কারো শারীরিক (অধিক/ আংশিক) প্রতিবন্ধকতা আছে ) পাত্র/পাত্রী খুঁজতে

বিবাহবিডিতে আসা প্রোফাইল গুলো যাচাই হয় কিভাবে?

  • বিবাহবিডি ডট কম  আছে (২৪/৭ দিন) এক্সপার্ট কাষ্টমার সাপোর্ট টিম। একটি প্রোফাইল আসার সাথে সাথেই আমাদের কাষ্টমার সাপোর্ট প্রোফাইলটিকে  বেশ কিছু পন্থায় যাচাই করে থাকে এবং পাত্র-পাত্রী ও অভিভাবকের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলে তার প্রদত্ত প্রত্যেকটি তথ্য সম্পূর্ন নিশ্চিত হয়ে তারপরই একটি প্রোফাইল এক্টিভ করে।

বিবাহবিডিতে প্রোফাইল প্রোফাইল করতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন?

  • বিবাহবিডি ডট কম ছেলেদের ক্ষেত্রে  শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ব্যাচেলর ডিগ্রী সহ চাকুরীজীবি বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত।
  • ডিভোর্স/ বিধবা কিংবা অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ইন্টারমিডিয়েট।

৩ দিন ফ্রী মেম্বারশীপের মেয়াদ কালীন সময়ে আপনি বিবাহবিডির সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে (শর্টলিষ্ট/ ফেভারিট) করে নিতে পারবেন।

কিভাবে পছন্দের কারো সাথে যোগাযোগ করবেন ?
বিবাহবিডি ডট কমের  রয়েছে  ৪ টি প্যাকেজ।  অনিক্স, রুবী, পার্ল, ডায়ামন্ড।  এই চারটি প্যাকেজের যে কোন একটি কিনে আপনি পছন্দের যে কারো সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন ।

কোন প্যাকেজের কি কি সুবিধা ?
প্যাকেজ অনুযায়ী আপনি সয়ংক্রিয় ভাবে যোগাযোগের তথ্য পাবেনঃ
অনিক্স মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৪৫ দিন,  রুবী মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৯০ দিন, পার্ল মেম্বারশীপ – মেয়াদ ১৮০ দিন, ডায়ামন্ড মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৩৬০ দিন

যোগাযোগের তথ্যঃ  
পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবকের ফোন নাম্বার, ইমেইল আইডি,  বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা।

প্রাইভেসী ফিচারঃ
আপনি প্রাইভেসী ফিচার অন করে আপনার যোগাযোগের তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারবেন।  আপনি না চাইলে কোন ইউজার আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না।

 বিবাহবিডির মুড অফ পেমেন্ট কি? কিভাবে সার্ভিস কেনা যায় ।

  • আপনার যদি ইন্টারনেশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে পেপল এর কার্ড কিংবা একাউন্ট থেকে থাকে অথবা
  • বিশ্বের যেকোন দেশ থেকে আপনার ভিসা, মাষ্টার কার্ড দিয়ে আপনি  অনলাইনেই সার্ভিস কিনতে সক্ষম ।
  • বাংলাদেশের ডাচবাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনেই সার্ভিস কেনা যায়।
  • আমাদের ৩ টি অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট আছে সে গুলোতে সরাসরি ডিপোজিট করে আপনি সার্ভিস কিনতে পারবেন –  ব্যাংক গুলো
    ১)  ডাচ বাংলা ব্যাংক  ২) ব্র্যাক ব্যাংক  ৩) ব্যাংক এশিয়া
  • মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ এর মাধ্যমে এখন খুব সহজেই পেমেন্ট করা যায়

বিবাহবিডি ডট কম সার্ভিস সম্পর্কে যেকোন তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ www.bibahabd.com অথবা ০১৯২২১১৫৫৫৫

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ৯ আলামত

কে না চায় সুখী দাম্পত্য! কিন্তু সবার জীবনে কি আর সেই সুখ মেলে! তুচ্ছ থেকে শুরু করে গুরুতর নানা বিষয় নিয়ে বিষিয়ে ওঠে অনেক দম্পতির জীবন। খুবই অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক নানা ঘটনা ঘটতে থাকে, যার ফলাফল নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদ। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে সাধারণত যে ধরনের আলামত দেখা দেয়, সম্প্রতি তা প্রকাশ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে। নয়টি আলামতের কথা রয়েছে সেখানে।

অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। কথার আঘাতে একে অন্যকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। স্ত্রী তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের একদমই সহ্য করতে পারেন না। ঠিক একই আচরণ লক্ষ করা যায় স্বামীর মধ্যেও।

তুচ্ছ কারণে ঝগড়া
ঝগড়া করার জন্য তুচ্ছ নানা কারণ খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সামান্য কোনো অভিযোগ পেলেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে উদ্যত হন তাঁরা। একটা পর্যায়ে তাঁরা একে অন্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। স্বামী কিংবা স্ত্রী ঘর থেকে বের হলে একদমই ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে না তাঁদের। এসব সমস্যার কোনো সমাধানও তাঁরা দেখতে পান না।

মতের অমিল

স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল প্রকট আকার ধারণ করে। যৌথভাবে কোনো সিদ্ধান্তই তাঁরা নিতে পারেন না। দুজনই যাঁর যাঁর অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজের মতামত ঠিক কি না, তা ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো যুক্তির আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা অনুভব করেন না। মূলত ইগো সমস্যার কারণেই এমনটা হয়। একপক্ষ মনে করতে থাকে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করছে অপর পক্ষ। একে অন্যকে স্বার্থপর বলেও ভাবতে শুরু করেন তাঁরা।

গোপন ঈর্ষা

মনের অজান্তেই চুপিসারে ঈর্ষা নামের বিষবাষ্প ঢুকে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে। সঙ্গীর ওপর থেকে আস্থা পুরোপুরি উঠে যায়। একটা পর্যায়ে একে অন্যকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেন তাঁরা।

আত্মকেন্দ্রিকতা

স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ স্বার্থের বাইরে আর কিছুই ভাবতে পারেন না। নিজেকে উপেক্ষিত ও অনাহূত বলে মনে করতে থাকেন তাঁরা। সংসারকে আর নিজের বলে মনে হয় না। একটা সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘আমাদের’ বলে আর কিছু থাকে না। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠেন দুজনই। এটা খুবই ভয়ংকর একটি বিষয়।

প্রতারণা

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী কিংবা স্ত্রীর কেউ একজন প্রতারণার আশ্রয় নেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তাঁদের কেউ কেউ।  নিশ্চিতভাবেই এটা বিয়ে এবং পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু

স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা উবে যায়। আর যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হলেও সেখানে কোনো রকম আবেগ কাজ করে না। যৌনতাকে পুরোপুরি যান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া বলে মনে হয় তাঁদের কাছে। অথচ দাম্পত্য জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টা

সমস্যা সমাধানের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন না স্বামী কিংবা স্ত্রী। তাঁরা হাল ছেড়ে দেন। একে অন্যের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ান তাঁরা। একটা পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরং সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টায় মেতে ওঠেন তাঁরা। পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত কবে হবে, সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনতে থাকেন। সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার ইচ্ছে থেকেই তাঁরা এমনটা করেন।

যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া 

পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন স্বামী ও স্ত্রী। যে দাম্পত্যে একটা সময়ে কথার ফুলঝুরি ঝরত, সেখানে ভর করে আশ্চর্য এক নীরবতা। তাঁরা কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং একে অন্যের ছায়াও মাড়ান না। কোনো দম্পতির মধ্যে এমন আলামত দেখা যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ফেরার আর কোনো পথ নেই। নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তাঁরা।

সুত্রঃ প্রথম আলো

তরুণী পাত্রী চাই!

বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই সাধারণ কিছু বিষয় বিবেচনায় আনে। সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে বিবেচনার বিষয়গুলোও আলাদা হয়। মেয়েদের কাছ থেকে একটি অভিযোগের সুর প্রায়ই শোনা যায়, একটি ছেলের চেহারা বা বয়স যেমনই হোক না কেন, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকেরই প্রধান মাপকাঠি থাকে চেহারার সৌন্দর্য এবং অপেক্ষাকৃত অল্প বয়স। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু ছেলেদেরই দোষ দিলে চলবে না।  অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদেরও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন বা শিক্ষাগত যোগ্যতা যা-ই থাকুক না কেন, সঙ্গীর পেশাগত প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিই তারা প্রাধান্য দেয়।  কিন্তু প্রশ্ন আসে এসব বিবেচ্য বিষয়গুলো দাম্পত্যজীবনের একট দীর্ঘ পথ সুন্দরভাবে চলার জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। যে মেয়েটি তার চমৎকার মানসিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনাবোধের কারণে দারুণ একজন পথ চলার সঙ্গী হতে পারত, শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই কি সে উপেক্ষিত হবে? অথবা যে ছেলেটির দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, অনুভূতিশীল মন এবং দায়িত্ববোধ একজন নারীকে একটি সুন্দর দাম্পত্যজীবন দিতে পারে। কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতার বিবেচনায় সে কি এ ক্ষেত্রে কম বিবেচিত হবে?

একটি সফল দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক আকর্ষণ, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের দৃঢ় ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের প্রথম দিকে পরস্পরের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে এবং কাছে আসতে এই আকর্ষণের গুরুত্ব একেবারে উপেক্ষা করা যায়না। অপরিচিত দুজন নর-নারীর মধ্যে তাদের বাহ্যিক ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য (যেমন—সৌন্দর্য, বয়স, বাচনভঙ্গি, এমনকি আর্থিক অবস্থান, ক্ষমতা ইত্যাদি) আকর্ষণ তৈরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতিদিনের জীবনে এবং দীর্ঘ পথ চলায় এই আকর্ষণ ক্রমেই ফিরে হয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মায়া এবং নিবিড় বন্ধুত্ব একটি আনন্দময় সম্পর্কের অন্যতম নির্ধারক হয়ে ওঠে। ফলে প্রথম দিকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো ম্লান হয়ে পরস্পরের মানসিক গঠনে মিল, দুজনের চিন্তা ও অনুভূতি বুঝতে পারা, মানসিক চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদিই মুখ্য হয়ে ওঠে এবং তাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভিত মজবুত হয়।

অনেক ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন আসে, বয়সের কতটুকু ব্যবধান একটি সফল সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজন? মনোবিজ্ঞানে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। মানসিক গঠনে মিল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে শুধু বয়স বা অন্য কিছুর ব্যবধান বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।তবে সম্পূর্ণ অপরিচিত নারী-পুরুষ যখন একটি বিয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে বয়সের অতিরিক্ত ব্যবধান বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।এটাও দেখা যায়, অনেক সময় ছেলেদের বয়স যথেষ্ট বেশি হলে পাত্রী হিসেবে কম বয়সের মেয়েদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। যদিও ইদানীং অনেক ছেলের মধ্যেই এ ধরনের মনোভাবের পরিবর্তন দেখা যায়।দাম্পত্যজীবন নারী-পুরুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ নতুন জীবনে তার সঙ্গীটি কেমন হবে এবং কীভাবে মানিয়ে নেবে তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে তাদের ভালো থাকা, মন্দ থাকা। সুতরাং, প্রথাগত ভাবনা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে সজীব মানসিক গঠন, জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির মিল, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রতি আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় শুধু বাহ্যিক ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগী না হয়ে তার ভাবনাচিন্তা, রুচি ইত্যাদি জানার চেষ্টা জরুরি।

  • কম বয়স প্রাধান্য দেওয়ার নানা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে।  যেমন: জৈবিক আকর্ষণ বিবেচনায় রেখে। সেখানে মানসিক আকর্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়।
  • সন্তান ধারণের বিষয় মাথায় রেখে।
  • অল্প বয়সের মেয়েদের সঙ্গে পরিবার ও নিজের ব্যক্তিত্বের সংঘাত কম হওয়ার প্রত্যাশায়।
  • সম্পর্কের মধ্যে নিজের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ রাখার ইচ্ছা।
  • পারিবারিক চাপ।
  • সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব।


এসব বিবেচনা এলেও তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ও সফল দাম্পত্য সম্পর্কের সহায়ক সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক সময়ই বয়সের ব্যবধান বেশি হলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়।  যেমন –

  • পুরুষেরা তাদের বেশি বয়স নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে।
  • বয়সের সঙ্গে আমাদের মানসিক গঠন ও মানসিক চাহিদা-সম্পর্কিত বলে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার ফলে মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
  •  বেশি বয়স অনেকের মধ্যে সম্পর্কজনিত নিরাপত্তাহীনতা বোধ তৈরি করতে পারে। যা থেকে স্ত্রীর প্রতি অহেতুক সন্দেহ, অধিক নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা এবং দাম্পত্য অশান্তি দানা বাঁধতে পারে।
  • ক্ষেত্রবিশেষে কম বয়সের মেয়েদের মানসিক গঠন অপরিপক্ব থাকে। ফলে দাম্পত্যজীবনের নতুনত্ব ও শ্বশুরবাড়ির ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

লেখক: মেখলা সরকার
সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ
সুত্রঃ নকশা

ভালো স্বামী হতে হলে…

কথায় আছে পুরুষ দুই প্রকার। জীবিত ও বিবাহিত। এই কথাটির সঙ্গে আমার দ্বিমত আছে। কেননা বিয়ের পরে স্বামীরা কি মরে যায়? নাকি নতুন জীবন পায়? আমার তো মনে হয়, পুরুষের আসল জীবন শুরু হয় বিয়ের পরে। একটি সুন্দর-সুখী এবং গোছানো জীবন হতে পারে যদি তিনি উপযুক্ত কাউকে জীবনসঙ্গী করতে পারেন। তাই বিয়ে করা মানে একজন পুরুষের ‘মৃত্যু’, এটা কোনোভাবেই সত্য নয়।

এখন আসি বিয়ের পরে কী করে ভালো স্বামী হওয়া যা —সে বিষয়ে । আমরা যেমন আশা করি একটা ভালো বউ পাওয়ার, তেমনি বউরাও তো আশা করেন ভালো স্বামী পাওয়ার। বিয়ের পরে বউয়ের কথা সব সময় শুনলে এবং বউয়ের কথায় ওঠাবসা করলেই কেবল ভালো স্বামী হওয়া যাবে, এ ধারণাও সঠিক নয়।ভালো স্বামী হওয়ার জন্য এমনটা হওয়ার দরকার নেই। কারণ, ভালো স্বামী হয়ে থাকার দীর্ঘ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা আমার আছে। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বউয়ের কথায় উঠবস করা মোটেই ভালো স্বামীর লক্ষণ নয়। এটা ‘গৃহপালিত’ স্বামী হওয়ার লক্ষণ। মজার ব্যাপার হলো, ভালো স্বামী হওয়া কিন্তু সহজ ব্যাপার না। এটার জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। হা হা হা।

এখানে একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, বিয়ের পর স্ত্রী তাঁর সবকিছু ছেড়ে নতুন একটি পরিবারে যোগ দেন। তাঁর নিজের ঘর, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন এমনকি প্রতিদিনের অভ্যাসও ত্যাগ করতে হয়। উল্টোদিকে নতুন বরকে কিছুই ছাড়তে হয় না। না পরিবার, না আত্মীয়স্বজন। তাই স্ত্রীর মানিয়ে নেওয়ার একটা ব্যাপার আছে। সে জন্য স্ত্রীর দিকে সবার আগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে স্বামীকেই।

শুধু তা-ই নয়, প্রথম দিকে সব ছেড়ে আসার কষ্টটা যেন সে টের না পায় এ জন্য তাকে মানসিক সহযোগিতাটুকু স্বামীকেই দিতে হবে। এখানেই শেষ নয়, স্বামীকে নিজের পরিবার দেখার পাশাপাশি স্ত্রীর বাবা-মার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে স্ত্রী খুশি হবে। আর শ্বশুর-শাশুড়ির দিকে খেয়াল রাখাটা স্বামীর জন্য এমন কঠিন বা দুঃসাধ্য কাজ না।

সংসার শুরু করার পর একজনকে আরেকজনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। শুধু স্বামী-স্ত্রী কেন, যেকোনো সস্পর্কের মধ্যে শ্রদ্ধা না থাকলে সমস্যা দেখা দেবেই। স্বামী-স্ত্রী মানেই একটা শ্রদ্ধাহীন সম্পর্ক, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

একই সঙ্গে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে বউয়ের মতামত নেওয়াটা জরুরি। কারণ, সংসার চালানো সহজ ব্যাপার নয়। এটা যথেষ্ট শ্রমসাধ্য এবং কঠিন কাজ। আমরা যতই মেয়েদের বাড়ির কাজগুলো সহজ ভাবি তা আদতে সহজ নয়। আর কোনো কারণে যদি স্ত্রীর মতামত পছন্দ না হয় তাহলে তাঁকে বুঝিয়ে বলাই ভালো। আশা করছি বুঝিয়ে বললে যেকোনো স্ত্রীই বুঝবে। আমার স্ত্রীর মতো।

আর দিনের শেষে বা সপ্তাহে অথবা মাসে স্বামীর উচিত হবে একান্তে স্ত্রীকে কিছুটা সময় দেওয়া। এটি একেকজন একেকভাবে নিজের মতো করে দেবেন। এটা স্ত্রীর পাওনা কিন্তু! কারণ দিনের কাজ শেষে তিনিও আশা করেন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটাতে। শুধু তা-ই নয়, আমি মনে করি মাসে বা বছরে অন্তত একবার হলেও স্ত্রী বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাইরে কোথায় ঘুরতে যাওয়া উচিত।আর হ্যাঁ, ঝগড়ার ব্যাপারে আমার দু-একটি কথা আছে। সুখী-সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য ঝগড়া খুব জরুরি।কারণ, ঝগড়া হলে সম্পর্কে ভালোবাসার মাত্রাটা বেড়ে যায়। ঝগড়ার পরে একে অপরের প্রতি টান তৈরি হয়। মোটকথা ভালোবাসা বেড়ে যায় অনেকখানি।

ভালো স্বামী হওয়ার জন্য এখন আমি দুটি টিপস দিই। একটি হলো, স্বামীদের ছাড় দেওয়ার মনমানসিকতা। এটা হতেই হবে, এটা করতেই হবে এ ধরনের চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে। না হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা দেখা দেবে। আরেকটা হলো ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে। মানে সব ধরনের সম্পর্কের দিকে খেয়াল রেখে সমন্বয় করে চলতে হবে। বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে চললে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেবে না।

পরিশেষে একটা প্রবাদ মনে করিয়ে দিই, ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।’ প্রবাদটা ঠিক তবে এটাও সত্যি, যদি গুণবান পতি থাকে তাঁর সনে। অর্থাৎ শুধু একজনের গুণে একটা সংসার সুখের হয় না। স্বামীরও অবদান থাকতে হয়। একজন ভালো স্বামীর সেই অবদান রাখার গুণটি থাকেই।

লিখেছেনঃ হাবিবুল বাশার সুমন ক্রিকেটার
সূত্র  ঃ প্রথম আলো

অনলাইনের সম্পর্ক বেশি টেকসই

বিবাহিতদের মধ্যে যারা অনলাইন ব্যবহার করেন তারা অপেক্ষাকৃত বেশি সুখী এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক চমৎকারভাবে টিকে থাকে। আর অনলাইনের পরিবর্তে যারা গতানুগতিকভাবে সামাজিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল তা স্কুল বা কোনো অনুষ্ঠানে হোক তাদের চেয়ে অনলাইনের সম্পর্ক রাখে এমন জুটি টেকসই হয় বেশি। অšত্মত অনলাইনের সম্পর্ক রাখে এমন জুটি যারা অনলাইন ব্যবহার করেন না তাদের চেয়ে ২৫ ভাগ বেশি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হন।

২০ হাজার দম্পতি যারা গত ২০০৫ থেকে ২০১২ সালে বিয়ে করেছেন তাদের অধিকাংশই বলেছেন, অনলাইনে তারা যে শুধু বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তা নয়, বরং তারা তাদের কাছের মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে অনলাইনকেই পছন্দ করেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়ার জেসটল্ট রিসার্চের গবেষকদের কাছে তারা বলেন, তাদের অনেকেরই প্রথম পরিচয় হয়েছে অনলাইনে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এ্যাকাডেমি অব সাইন্সের জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে সামাজিক কোনো অনুষ্ঠান, বার, ক্লাব বা বিয়ে শাদীতে কারো সঙ্গে দেখা হবার চেয়ে শলাপরামর্শ এখন অনেকে অনলাইনে সেরে নিচ্ছেন। দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে অনলাইনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে অনলাইন ডেটিং এখন বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে।

অনলাইনে দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, চ্যাট রুম, অনলাইন কমিউনিটিস, মাল্টি প্লেয়ার গেম, মেইলে যোগাযোগ রাখছেন সার্বক্ষণিকভাবে।

অনলাইনে দম্পতিরা নিজেদের সম্পর্কে বিয়ের আগে বি¯ত্মারিত জানতে পারে বলে তাদের বিয়ে টেকসই হচ্ছে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও এধরনের অনলাইনের ওপর নির্ভরশীলতা অন্যান্য দেশেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে ইন্টারনেট এখন বিশ্বমাত্রিক হয়ে উঠেছে। তবে ইউরোপের মধ্যে ব্রিটিশরা সবচেয়ে বেশি অনলাইন নির্ভর জাতি হিসেবে পরিচিত।

এমনকি অনলাইনে যারা যোগাযোগ রাখে তারা সাক্ষাতে যোগাযোগের ইচ্ছে প্রকাশ করেন বেশি। কারণ তাদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান হয় বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে এ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে গত বছর ব্রিটেনে অšত্মত ৫৭ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ডেটিংএ অভ্য¯ত্ম ছিল যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ২২ ভাগ হারে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট বা অনলাইন ব্যবহার করার ঝোঁক সবচেয়ে বেশি।

Amadershomoy.com