কেমন হবে বিয়ের আগে ও পরের আচরণ

বিয়ের আগের ও পরের আচরণ বর-কনের পরবর্তী জীবনে প্রভাব বিস্তার করে।  তাই দুজনই সতর্ক থাকুন। ভেবেচিন্তে একে অপরের সঙ্গে আচরণ করুন।

কী করবেন আর করবেন না, জানাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহমেদ তুষার –

বিয়ের পর প্রায়ই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নানা রকম কষ্ট, যন্ত্রণা কিংবা অসন্তুষ্টি দেখা যায়।  অথচ একটু সচেতন হলেই অশান্তি দূর করে সাংসারিক জীবনে বসন্তের রং ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।  বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব সাধারণ কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো একটু জেনে নেওয়া যাক।-

বিয়ের আগে:
বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীরা ছোটবেলা থেকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে রাখা আদর্শ বা পারফেক্ট পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে থাকে। জেনে রাখা দরকার যে পৃথিবীর কেউই পারফেক্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে প্রত্যাশার একটা ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে পাত্র-পাত্রী খোঁজা ভালো। পাত্র-পাত্রী খোঁজার সময় তাদের ব্যক্তিত্ব, পেশাগত কাজের ধরন, পারিবারিক সংস্কৃতি ও রীতিনীতি জানা প্রয়োজন।

দেখতে যাওয়া :
বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীকে দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। পাত্র-পাত্রীর নিজেদেরও পরিচিত হয়ে নেওয়াটা দরকার। কিন্তু বারবার দেখতে এলে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। বিয়ের পরও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। ছবি দেখে ও খোঁজখবর নিয়ে পছন্দ হলে কোনো রেস্টুরেন্ট বা মার্কেটে পাত্রীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখা করুন এবং স্বাভাবিক সামাজিক কথাবার্তা বলে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন।

সব দিক থেকে পছন্দ হলেই শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্র-পাত্রীর বাসায় যাওয়া উচিত। পাত্র বা পাত্রীকে দেখতে গিয়ে এমন কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য করবেন না, যা তার জন্য অপমানজনক। কোনো তথ্য জানতে হলে কৌশলী হোন।

বিয়ে ঠিক হলে: 
বিয়ে ঠিক হলে পাত্র-পাত্রী নিজেদের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে নিতে পারলে ভালো। একই সঙ্গে উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত ফোনে হলেও কথা বলে সম্পর্কগুলো সহজ করে নেওয়া যেতে পারে। এ সময় সততার সঙ্গে তথ্যর আদান-প্রদান করা উচিত। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী তার ভাবী স্ত্রী বা স্বামীকে একজন আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী হিসেবে কল্পনা করতে পছন্দ করে। শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবাই তাকে আদর করবে, সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক থাকবে। মনে রাখতে হবে, আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য থাকবে।

কারণ কেউই সব দিক থেকে আদর্শ নয়। অন্যদিকে তাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কাও কাজ করতে থাকে। মেয়েদের মধ্যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেমন হবে, তাদের সঙ্গে মানাতে পারবে কি না, স্বামী তাকে বুঝবে কি না, এ ছাড়া তার প্রিয় পরিবেশ ছেড়ে যেতে হবে—এটার একটা কষ্ট তার মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে। বিয়ের আগে ও পরে পাত্র-পাত্রীর একে অপরের আশঙ্কাগুলো বুঝে তাকে আশ্বস্ত ও সহায়তা করা উচিত।

বিয়ের দিন কনেকে ঠাট্টা নয়: 
বিয়ের দিন ঠাট্টা বা ঠকানোর বিষয়টি পুরনো প্রচলন। ঠকানোর বিষয়টি অন্যদের ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার না করলেও কনের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। কনে অনেক মানসিক চাপ, আশঙ্কার মধ্যে থাকে এবং তাকেই নতুন পরিবেশে যেতে হয়। এ কারণে তার মনের অবস্থা নাজুক থাকে। তাই সামান্য পিনের খোঁচা বুলেটের চেয়েও বেশি ব্যথিত করে। এটার প্রভাব মেয়েটির মনের অজান্তেই দীর্ঘদিন থেকে যায়। এ জন্য বিয়ের দিন প্রথম দেখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বউয়ের সঙ্গে ঠাট্টা না করে সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বললে তার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিয়ের পর:
বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীকে আরো বেশি করে অনুভব করে এবং স্বামীও তার মতো করে প্রচণ্ড আবেগ দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করুক—এটা প্রত্যাশা করে। অনেকে এই আবেগকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে করে বিরক্ত হয়। অন্যদিকে সামাজিক কারণেই স্বামীকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়—স্ত্রীকে সম্মানজনক অবস্থায় রাখতে হবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে ইত্যাদি। ফলে স্ত্রী মনে করে, স্বামী তাকে আর আগের মতো ভালোবাসে না।

এ সময় সন্দেহের সুপ্ত বীজ উপ্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ছেলেটি যে মেয়েটিকে ভালোবাসে না তা নয়, কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারে না অথবা প্রকাশ করার প্রয়োজন অনুভব করে না। হয়তো স্ত্রী-সন্তানদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্যই সে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এ সময় স্বামীর উচিত স্ত্রীর আবেগকে বোঝার চেষ্টা করা এবং স্ত্রীকে যথাসম্ভব সময় দেওয়া। একই সঙ্গে স্ত্রীরও বোঝা উচিত স্বামীর ব্যস্ততার অর্থ ভালোবাসা কমে যাওয়া নয়, এই পরিশ্রমের উদ্দেশ্য তাদের ভালো রাখার প্রচেষ্টা।

নবদম্পতি ও যৌথ পরিবার: 
যৌথ পরিবারে অনেক সময় দম্পতিরা একান্তে সময় কাটানো বা একটু কাছাকাছি আসতে কুণ্ঠা বোধ করে। ফলে তাদের মানসিক চাহিদা পূর্ণ হয় না। বরং এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। স্বামী হয়তো বাইরে গিয়ে অস্বস্তি কিছুটা কমিয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু স্ত্রীর মধ্যে দিনে দিনে অস্বস্তিটা জমাট বাঁধতে থাকে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই অস্বস্তি সংযুক্ত হয়ে যায়। ফলে মেয়েটির মনের অজান্তেই পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিরক্তিবোধ তৈরি হতে থাকে।

একান্ত সময়গুলোতে যাতে সে অবাধে সারা দিনের আবেগ প্রকাশ করতে পারে, সেই সুযোগ দিতে হবে। তার আবেগের প্রতি অতিপ্রতিক্রিয়াশীলতা দেখানোর প্রয়োজন নেই, বরং তার আবেগকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যৌথ পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত নবদম্পতিকে কিছুটা সময় একান্তে কাটানোর সুযোগ দেওয়া। মেয়েটি যাতে এই পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারে, এ বিষয়ে তাকে সহায়তা করা।

স্ত্রী ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা:
বিয়ের পর ছেলেটিকে যে শক্ত কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় তা হচ্ছে স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষত মায়ের মধ্যে ব্যালান্স করা। ছেলেটির জন্য মা ও স্ত্রী তার দুই হাতের মতো; কোনোটিই তার বেশি আপন বা পর নয়। একইভাবে সে মা ও স্ত্রী উভয়েরই ভালোবাসার পাত্র, দুজনই তার কাছ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ প্রত্যাশা করে, যা খুবই স্বাভাবিক। তাই ছেলেটিকে এ ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে এবং কাউকে কষ্ট না দিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।

জীবনধারার পরিবর্তন:
বিয়ের পর ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই তার লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হয়। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় দেওয়া কমে যায় এবং খাওয়া, ঘুমসহ জীবনের নানা উপাদান নতুন মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতে হয়। এ ক্ষেত্রে উভয়কেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে। খরচের হাত কিছুটা সীমিত করতে হয়। তবে মনে রাখা দরকার, হঠাৎ করে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা কঠিন। এ জন্য তাকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত এবং উন্নতি হলে উৎসাহিত করা উচিত।

বিয়ের পর ভালো সম্পর্ক রাখতে করণীয়:

♦ মনে রাখুন, বিয়ে হলেই অবধারিতভাবে ভালোবাসা থাকবে তা নয়। ভালোবাসা তৈরি ও রক্ষার জন্য সব সময় স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই ভূমিকা রাখতে হয়।
♦ নতুন জীবনের সঙ্গে আপনার লাইফস্টাইলটা অ্যাডজাস্ট করে নিন। যেকোনো সম্পর্কই ছাড় প্রত্যাশা করে।
♦স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে আনন্দদায়ক কিছু করুন; যেমন—দূরে বেড়াতে যাওয়া, একসঙ্গে হাঁটা, মার্কেটে যাওয়া। আপনার কোনটাতে ভালো লাগবে তা আপনার সঙ্গীকে বলুন এবং তারটিকেও গুরুত্ব দিন।
♦ সঙ্গীর ভালো কাজের সত্যিকারের প্রশংসা করুন।
♦ মাঝে মাঝে উপহার দিন, সারপ্রাইজ দিন এবং সৃজনশীল কিছু করুন, যাতে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়।
♦ মনের মধ্যে কষ্ট বা ভালো লাগা তৈরি হলে তা ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করুন এবং সঙ্গী প্রকাশ করলে তার স্বীকৃতি দিন। রাগ সঠিকভাবে প্রকাশ করুন। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে পছন্দনীয় কোনো নামে ডাকুন।
♦ পরিবারে কোনো সমস্যা তৈরি হলে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধান করুন। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দুজনে মিলে আলোচনা করে নিন।
♦ উভয় পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন এবং পরস্পরকে খোঁচা মেরে কথা বলা এড়িয়ে চলুন।
♦নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া একে অপরকে সন্দেহ করা এড়িয়ে চলুন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো বারবার মনে করিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করুন এবং তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করুন।

সুত্রঃ ইন্টারনেট

প্রাধান্য দিতে হবে ইতিবাচক আবেগ ও বিবেককে

আবেগ ও বিবেক ছোট ছোট দুটি শব্দ, কিন্তু এর পরিধি ব্যাপক। প্রত্যেক মানুষের জীবনে আবেগ ও বিবেক এ দুটি সত্তা কমবেশি বিরাজ করছে। আবেগের সংজ্ঞা দেওয়া খুব সহজ নয়। অনেকে আবেগকে অনুভূতির সমর্থক বলে ধরে নেয়। কিন্তু আবেগ মানসিক আর অনুভূতি শারীরিক ও মানসিক—দুটোই হয়ে থাকে। শারীরিকভাবে বলতে গেলে মসৃণ পেশি এবং বিভিন্ন গ্রন্থির কারণে শরীরের অন্তর্নিহিত পরিবর্তনই হলো আবেগ বা অনুভূতি। সামগ্রিকভাবে চেতনার যে অংশ অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তাকে আবেগ বলা হয়। মানুষের অজান্তেই আবেগ তড়িত্ গতিতে প্রবেশ করে। আবেগ থাকতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত হওয়া জীবনের জন্য অমঙ্গল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনের শক্তি হিসেবে কাজ করে আবেগ। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা সম্মুখ সমর মোকাবিলার চেয়েও কঠিন। যে সব আবেগ মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখে তা হলো—অতিরিক্ত ভালোবাসা, হতাশা, রাগ, হিংসা বা ঈর্ষা, লোভ-লালসা ইত্যাদি। আবেগ কারো বেশি কারো কম। সবাই বোঝে, আবেগের বশীভূত হয়ে কোনো কাজ করা ঠিক নয়। তবু মানুষেরা আবেগকেই কাছে টেনে নেয়। এর মাধ্যমে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আবেগ থেকে অস্থিরতা বাড়ে যা মানসিক অশান্তিসহ ক্রোধের দিকে ধাবিত করে। যার শেষ পরিণাম অমঙ্গল বা নেতিবাচক।

নানা রকম মানুষের মধ্যে সুখ, ভয়-ভীতি, রাগ, দুঃখ-কষ্ট-বেদনাসহ অসংখ্য রকমের আবেগ বিদ্যমান। ‘মাটিভেশন অ্যান্ড ইমোশন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত বেলজিয়ামের লিউভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা মতে, মানুষের যে কোনো আবেগ অন্যান্য যে কোনো আবেগের চেয়ে দুঃখের আবেগ ২৪০গুণ বেশি সময় স্থায়ী হয়।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সবার এক নয়। জ্ঞানের পরিচয় দিয়ে এর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নারীদের আবেগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘তরুণী মেয়েদের আবেগ হঠাত্ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না।’ (যখন নামিবে আঁঁধার [২০১২] : পৃষ্ঠা ৯-১০)। ব্যক্তিবিশেষে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যে ব্যক্তি যত বেশি বাস্তবতার মুখোমুখি সে তত বেশি সমস্যার সমাধান দিতে পারে। কারণ বাস্তবতার আলোকে বিবেক পরিচালিত হয়। আবেগ দিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আর বাস্তবতার নিরিখে বিবেক দিয়ে সমস্যার সমাধান ও সফলতার পথ বেশি। আবেগ কাজের দিকে ধাবিত করে আর বিবেক উপসংহারের দিকে ধাবিত করে। নিয়ন্ত্রিত আবেগ ও সুস্থ বিবেক সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। শুধু আবেগ দিয়ে সফলতা আসে না।

ভালো বই পড়া মানসিক অশান্তি ও হতাশা দূর করার চমত্কার পদ্ধতি। সঠিক সিদ্ধান্তের পথে সবচেয়ে বেশি বাধা দেয় অতিরিক্ত আবেগ। আবেগ সেখানে উত্তম যেখানে তার প্রয়োজন। আবেগ আমাদের পরম বন্ধু কখনো আবার পরম শত্রু। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ধরনের আবেগ নিয়েই মানুষ বেড়ে ওঠে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হতে হলে বিবেকের মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ আবদুল কাহহার, সুত্রঃ ইত্তেফাক

ভালোবাসা, সম্পর্ক ও বিশ্বাস

যে কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে।  এমন কি কোন কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও।  আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালবাসা। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হচ্ছে ভালবাসার সম্পর্ক। ভালবাসার কাঁধে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে একেকটি সম্পর্ক। আর তাতে আস্তর হিসেবে প্রলেপ পরে বিশ্বাসের আর অনুভূতির। এভাবেই জুড়ে থাকে ভালবাসা জগত-সংসারে। ভালবাসা, যা কখনও লুকিয়ে রাখা যায় না। যদিও সময় ও পরিবেশের ক্ষেত্রে এর প্রকাশভঙ্গি একরকম হয় না। এটি হলো একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহির্প্রকাশ। খুবই আশ্চর্য লাগে যখন দেখা যায় এই ভালবাসার জন্য কেউ তার পরিবার পরিজন ত্যাগ করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে। ভালবাসার শক্তি আসলে অপরিসীম।  তা না হলে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কিভাবে ত্যাগ করা যায়!

বর্তমানে এটি এখন খুব বেশি মাত্রায় লক্ষণীয় যে ভালবাসার গভীরতা আজ আর আগের মতো নেই।  যেটুকু ভালবাসা দেখা যায় তাও নিজের স্বার্থের জন্য।  বয়ফ্রেন্ড কিংবা গার্লফ্রেন্ড থাকা আজ একটা স্ট্যাটাস।  ফলস্বরূপ ভালবেসে বিয়ে করে অতি দ্রুত বিচ্ছেদ হওয়া যেন অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। ঠিক কোথায় যেন আমরা সবাই ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি।  যেখানে আমাদের ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা সব হারিয়ে যাচ্ছে।  তাই তো ইংরেজ সাহিত্যিক উইলিয়াম শেকসপিয়ার যথার্থই বলেছিলেন, ‘সবাইকে ভালবাস, বিশ্বাস করো অল্প কয়েকজনকে।’

আজ কালকার প্রেমে পড়ার কাহিনী শুনলে দেখে যায় তারা কখনও মনের বিবেচনায় একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। তাদের প্রেমে পড়ার ইতিহাস থেকে দেখা যায় কেউ কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছে সেখানে প্রথম দেখাতেই প্রেম। কিংবা একই সঙ্গে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে সেই থেকেই প্রেম। কিংবা অপরিচিত মোবাইল থেকে মেসেজ/ভয়েস শুনে প্রেম। কিংবা সামান্য আকর্ষণ থেকে জন্ম নেয় ভালবাসা যা সত্যিকার অর্থে দীর্ঘস্থায়ী নয়।  সত্যিকারের ভালবাসা আসলে এভাবে গড়ে ওঠে না।  সে তো অনেক সাধনা ও ত্যাগের ফল। আর এখন এ ত্যাগ ও সাধনা স্থানে স্থান করে নিয়েছে অনেকের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে। এমনকি নির্মম বর্বরতার খবরও শোনা গিয়েছে।  স্বার্থসিদ্ধির চরম অভিব্যক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। যার ফলে টিকে থাকছে না কোন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে। সম্পর্ক তৈরি করা যত না সহজ, সেটি রক্ষা করা তারচেয়ে অনেক বেশি কঠিন। ছোট একটি ভুলই একটি সম্পর্ক শেষ করে দেয়। আর সম্পর্কের এ টানাপোড়েনে দু’পক্ষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সেটি মূলত মানসিক দিক দিয়ে।

ভালবাসার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস।  কারণ সত্যিকারের ভালবাসায় বিশ্বাসের কোন কমতি থাকে না।  প্রেমে পড়া কিংবা প্রেম করা যতটা সহজ, প্রেমের সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখা কিংবা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ততটা সহজ নয়।  শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাস।  যখন একজন ভেবে নেন যে তার সঙ্গী ঠিক তার মতো করে ভাবছেন, তবে সম্পর্ক হয় দীর্ঘস্থায়ী।  আর উল্টোটা হলেই তৈরি হতে থাকে অভিমানের পাহাড়।  কিন্তু দিনের পরে দিন এ রকম চলতে থাকলে, কয়েকদিন বাদে দেখা যায় যে, সম্পর্কের মধ্যে চলে আসে দূরত্ব।  আর এই দূরত্ব থেকেই সৃষ্টি হয় সম্পর্কে ভাঙ্গন।

তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন শ্রদ্ধাবোধ এবং মতামতের গুরুত্ব দেয়া ও পছন্দ-অপছন্দের খোঁজখবর রাখা। এগুলো সম্পর্ককে আরও বেশি গভীর করে তোলে। তাই ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে যতটা সম্ভব ভাল ব্যবহার করাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে এগুলো যেন কৃত্রিম না হয়। সবকিছুর উৎসস্থল যেন হয় আন্তরিকতা। মনে রাখতে হবে, আদর্শিক দিকে মিল থাকলে ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়, একে অন্যের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়। একটা সুনির্দিষ্ট ধারণা প্রতিষ্ঠিত করলে দু’জনের আপ্রাণ চেষ্টা ভালবাসার গভীরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি সম্পর্ক চারা গাছের মতো।  সেই গাছকে যেমন যত করে বড় করে তুলতে হয়, ঠিক তেমনি সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটু যত, বিশ্বাস এবং অনেকখানি ভালবাসার প্রয়োজন হয়।

ভালবাসাহীন পৃথিবীতে কেউই চায় না বাঁচতে।  সবাই চায় একটুখানি ভালবাসা যেখানে আস্থা, আবেগ, আর বিশ্বাস নতুন করে প্রাণে জোয়ার যোগাবে। জীবনে দুঃখ আসবে, দুর্দশা আসবে, বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে কিন্তু তাতে কি! ভালবাসার শক্তি সব বাধা ভেঙ্গে দেবে।  শেখাবে নতুন করে বাঁচতে। তাই আমাদের উচিত সঙ্কীর্ণ ভালবাসাকে আকাশের মতো উদার করে কার্পণ্যতাকে দূর করা। বিখ্যাত লেখক ডেল কার্নেগী লিখেছিলেন, ‘পৃথিবীতে ভালবাসার একটি মাত্র উপায় আছে… সে হলো প্রতিদানের আশা না করে ভালবেসে যাওয়া।’ আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আদর্শিক মনোভাব এবং সৎ চিন্তা করা।

পুরুষের বিয়ের ভয়, যদি স্বাধীনতা হারাতে হয়!

অনেক পুরুষই আছেন,যাদের কাছে বিয়ে মানে হচ্ছে এক নারীর সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়া,সংসার বা জীবনে থিতু হওয়া তাদের জন্য জরুরী নয়। এক নারীতে তুষ্ট হতে পারেন না তারা,মনে করেন বিয়ে করলেই বহুগামী জীবনের সকল আনন্দে ছন্দপতন চলে আসবে। তাছাড়া পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা এমনিতেই আছে যে বিয়ে করা মানেই ব্যক্তি স্বাধীনতা হারানো,বাড়তি দায়িত্ব নেয়া। অনেকে আবার মা-বউয়ের ঝগড়ার কথা ভেবেও বিয়েতে ভয় পান।

পুরুষেরা কি ভয় পায় বিয়ে করতে? এমন প্রশ্ন হয়তো অনেকের মনেই জাগতে পারে! কৈশোরে কিংবা তারুণ্যে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় হয়তো অনেকেই বিয়ের ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। অথবা বেশ আক্ষেপ করেও বলেন যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাবা মা বিয়ে দিচ্ছে না কিংবা তার মনের ইচ্ছা বুঝতে চাইছে না। কিন্তু যখন সত্যিকার জীবনে বিয়ের বয়স হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের প্রতি দেখা দেয় অনীহা। শুধু তাই নয়, দেখা যায় যে অনেক দিনের প্রেম থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ককে বিয়ের নাম দিতে ভয় পাচ্ছেন তারা। বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন রকম ভয় সৃষ্টি হয়ে আছে পুরুষ মনে। বিয়ের জন্য যেন নিজেকে কোনো ভাবেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে উঠতে পারেন না তারা। ব্যাপারটা শুনতে মজার মনে হলেও আসলে মোটেই মজার নয়। বিয়ে সম্পর্কে কিছু অকারণ ভীতির কারণে অনেক পুরুষেরই জীবন একটা পর্যায়ে এসে থমকে গেছে। কিংবা ভালোবাসার মেয়েটির সাথে সম্পর্ক এগুচ্ছে না সামনের দিকে। আসুন, জেনে নেই সেই কারণ গুলো।

এক নারীতে তুষ্ট হতে না পারা:  আজকাল এমন অনেক পুরুষই আছেন, যাদের কাছে বিয়ে মানে হচ্ছে কেবলই একজন নারীর সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়া, সংসার বা জীবনে থিতু হওয়া তাদের জন্য জরুরী নয়। এবং এই ব্যাপারটি তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। এ ধরনের পুরুষেরা বহুগামী ও একজন নারীকে ভালোবেসে তার সাথে সংসার যাপন তাদের জন্য অসম্ভব একটি ব্যাপার। এরা মনে করেন বিয়ে মানেই তার বহুগামী জীবনের সকল আনন্দে একটা ছন্দপতন চলে আসবে। ফলে বিয়েকে রীতিমত আতংকের দৃষ্টিতে দেখেন তারা।

স্বাধীনতা হারানো: পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা হলো বিয়ে করা মানেই ব্যক্তি স্বাধীনতা হারানো। নিজের জন্য আলাদা ভাবে সময় দেয়া, যখন যেখানে খুশি যাওয়া, যা ইচ্ছে করা ইত্যাদি স্বাধীনতা হারানোর ভয়ে পুরুষরা বিয়ে করতে পিছু হটেন।

বাড়তি দায়িত্ব নেয়া: বিয়ে করা মানেই আরেকটি মানুষদের দায়িত্ব নেয়া। স্ত্রীর দেখাশোনা, খরচ, সঙ্গ দেয়া, সুবিধা অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখা ইত্যাদি দায়িত্ব নিতে হয় পুরুষকে। আর বিয়ের কিছুদিন পরেই সংসারে আসে নতুন অতিথি। তখন দায়িত্ব আরো বাড়ে। সেই সঙ্গে খরচ এবং চিন্তাও বাড়ে। তাই এক সাথে এতো দায়িত্ব নিতে স্বাভাবিক ভাবেই পুরুষরা ভয় পায় এবং বিয়ের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।

বিয়ের খরচ: ইদানিং সময়ে বিয়ে মানেই অনেক বেশি চাকচিক্য ও বড় পরিসরের অনুষ্ঠানিকতা। দামী কাপড়, প্রচুর স্বর্ণালংকার, অনেক অতিথি, লাখ টাকা দিয়ে হল ভাড়া নেয়া, হানিমুনে দেশের বাইরে যাওয়া ইত্যাদি ছাড়া যেন সমাজে মুখ রাখাই দায় হয়ে গিয়েছে। আর সেই সঙ্গে আছে দামী ওয়েডিং ফটোগ্রাফারকে দিয়ে ছবি তুলিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোডের প্রতিযোগীতা। এতো এতো খরচ সামলাতে গিয়ে যে কোনো পুরুষকেই হিমসিম খেতে হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে স্বল্প বেতনের চাকরী করে এতো খরচ সামলানো অসম্ভব একটি ব্যাপার। আর তাই বিয়ের প্রতি ভয় ও অনীহা জন্মে যায়।

মা-বউয়ের ঝামেলা:  বিয়ে করে ঘরে বউ নিয়ে এলে অনেক পরিবারেই নানান রকম ঝামেলা দেখা যায়। কখনো বউ অন্যায় আচরণ করে, আবার কখনো নিজের মা বউয়ের প্রতি অন্যায় আচরণ করে। এই নিয়ে সংসারে শুরু হয় নানান রকম অশান্তি।  তার উপর পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সাথে নানান রকম মনোমালিন্য তো হয়েই থাকে অহরহ। আর এসব সমস্যার সমাধান করার দায়িত্বটা এসে পড়ে পুরুষটির ঘাড়েই। তাই এতো ঝামেলার কথা চিন্তা করেও বিয়ে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকেই।

স্ত্রীর প্রতারনার ভয়:  যেসব পুরুষরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাউকে প্রতারিত হতে দেখেছে কিংবা নিজে প্রেমের সম্পর্কে প্রতারিত হয়েছে তারা বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বরং তাদের মনে বিয়ে সম্পর্কে এক অজানা ভয় সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন বিয়ের পর স্ত্রী প্রতারণা করবে আর এই ভয়েই বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

বন্ধু হারানো: দিন ভর বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, রাত করে ঘরে ফেরা এই তো জীবন! কিন্তু বিয়ের পর জীবনটা কি এমন থাকে? আবার এমনও দেখা যায় যে এক বন্ধু বিয়ে করে সংসার পাতল কি পাতল না, অন্য বন্ধুরা তাকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা শুরু করে দেয়। অনেক বন্ধু মহলে বিবাহিত বন্ধুকে নিয়ে নানান রকম হাসি ঠাট্টাও হয় যা অনেকেই সহজ ভাবে নিতে পারেন না। সবমিলিয়ে বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেকেই।

বিয়ের কথা শুনে কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করাটাও স্বাভাবিক।  তবে এটা অতিরিক্ত পর্যায়ে গেলে সেটা মাসসিক ব্যাধিতে রুপ নেয়, এব্যাপারে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুনঃ  বিয়েতে ভয়, আপনার গ্যামোফোবিয়া তো নয়!

সুত্রঃ প্রিয় লাইফ 

ওথেলো সিনড্রম – ভালোবাসা থেকে জন্মানো ঈর্ষা জনিত একটি রোগ

সম্পর্কে নিত্য সমস্যাঃ আপনি যদি বিপরীত লিঙ্গের কোন বন্ধুর সাথে কথা বলছেন, মেলা মেশা করছেন, আপনার কাছের বিপরীত লিঙ্গের মানুষটা এই আচরণ বা বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারছে না। সারাক্ষণ ছোট ছোট ব্যাপার নিয়ে সন্দেহ করে। যা আসলে আপাতত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে বিকৃত মস্তিষ্ক ছাড়া আর কিছুই না। সে আপনাকে ভালোবাসে। স্বাভাবিক ভাবেই অন্য লিঙ্গকে সে ঈর্ষা করবে। তবে তা অতিরঞ্জিত হয়ে যায়। সে আপনাকে নিয়ে ভয়ে থাকে।  হারানোর ভয়।

মনোবিজ্ঞানীরারা যা বলেনঃ  মনোবিজ্ঞানে ভালোবাসার সাথে ঈর্ষার একটি সম্পর্ক আছে।  “অতিরঞ্জিত ঈর্ষা ও অতিমাত্রায় সন্দেহবাতিক কে তারা একটি রোগ বলে। যে রোগের নাম ‘ওথেলো সিনড্রম`

ওথেলো সিনড্রোম আসলে কীঃ  স্ত্রীর সতীত্বের প্রতি সন্দেহ থেকে এবং সেগুলো বিশ্বাস করাকেই ‘ওথেলো সিনড্রোম’ বলে। সাধারণত পুরুষরা এই রোগে বেশি ভোগেন। তবে অনেক মহিলার মধ্যেও ‘ওথেলো সিনড্রোম’ দেখা যায়। নামটি এসেছে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের নাটক ‘ওথেলো’ থেকে। ওথেলো সিনড্রোমের রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে চান না। নিজেকে সবসময় সুস্থ মনে করেন। নিজের ধারণাটিকে প্রবলভাবে বিশ্বাস করেন। এই মিথ্যা অলীক বিশ্বাসের কারণে অনেক সময় এসব রোগী তাদের স্ত্রীকে হত্যা পর্যন্ত করেন।

বিদেশে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নরহত্যা করার জন্য জেলে গেছেন এমন লোকের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই ‘ওথেলো সিনড্রোম’-এর রোগী। বিভিন্ন কারণে এই রোগ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা, সিজোফ্রেনিয়া, মদে আসক্তি প্রভৃতি। এ ছাড়া কিছু শারীরিক অসুখের কারণেও ‘ওথেলো সিনড্রোম’ হতে পারে। যেমন মস্তিষ্কে টিউমার, এন্ডোক্রাইন ও বিপাক ক্রিয়ার ত্রুটি প্রভৃতি।

রোগের উপসর্গ : স্ত্রীর সতীত্বের প্রতি তীব্র সন্দেহবোধ হলো রোগের প্রধান উপসর্গ। রোগী মনে করেন, তার স্ত্রী গোপনে অন্য পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন। স্ত্রী যদি সামান্য সাজগোজ করেন, তাহলে রোগী মনে করেন গোপন প্রেমিকের জন্যই এই সাজগোজ। এ নিয়ে রোগী সবসময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এক ধরনের ক্রোধ তার মধ্যে কাজ করে। সামান্য কথাতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তার বন্ধুদেরও সন্দেহের চোখে দেখেন। তার মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে।  খাবারের প্রতি অনীহা আসে। স্ত্রীর অসততা প্রমাণ করার জন্য গোপনে স্ত্রীর প্রতি নজর রাখেন। স্ত্রীর কাপড়-চোপড় গোপনে পরীক্ষা করেন।  গোপনে স্ত্রীর ডায়েরি ও কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন। স্ত্রীর নামে কোনো চিঠি এলে তা সরিয়ে ফেলেন। পড়ে দেখতে চান তা কার লেখা। অনেক সময় স্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার জন্য লোক নিয়োগ করেন।

বাসায় ফোন থাকলে মাঝে মধ্যেই ফোন করে দেখেন স্ত্রী বাসাতেই আছে কি-না।  ফোন এনগেজড থাকলে তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়।  রোগীর মধ্যে প্রচ ঈর্ষার জন্ম নেয়। কথায় কথায় স্ত্রীকে মারধর করেন। রোগীর নিজের মধ্যে কোনো সততার বালাই থাকে না। তার নিজের যৌন অসততার প্রতিফলন তার স্ত্রীর মধ্যেই দেখেন।  স্ত্রীর চারিত্রিক কল্পিত অসততার কথা আত্মীয়-স্বজনকে বলেন।  পদে পদে স্ত্রীকে হেয় করতে চান। স্ত্রী অপমানিত হলে মনে মনে খুশি হন। স্ত্রীকে নানাভাবে নির্যাতন করেন। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করতে চান। রোগী নিজেকে সবসময় অপূর্ণ মনে করেন। তার বিশ্বাস জন্মায় যে, স্ত্রী তার অর্জিত টাকা-পয়সা অবৈধ প্রণয়ের পেছনে খরচ করে তাকে নিঃস্ব করতে চায়। এসব চিন্তা করে তার স্ত্রীকে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। দুশ্চিন্তায় রোগীর স্বাস্থ্যহানি ঘটে। অনিদ্রা দেখা দেয়। মদে বা অন্য নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন।  স্ত্রী সন্তান প্রসব করলে সেই সন্তানকে অবৈধ মনে করে তাকেও তিনি নির্যাতন করে থাকেন। স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘৃণা জমে উঠতে থাকে।

অনেকেই বলে থাকেন এ রোগের চিকিৎসা কি? আসলে, ‘ওথেলো সিনড্রোম’ চিকিৎসা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।  চিকিৎসক স্ত্রী ও স্বামী দু’জনের সঙ্গে পৃথক পৃথক কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন। দাম্পত্য জীবনের বিস্তারিত বিবরণ জানাটা অপরিহার্য। রোগীর বিশ্বাসের ভিত্তি এবং স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে হবে। রোগীকে বিশেষ মাত্রায় অ্যান্টি সাইকোটিক ওষুধের পাশাপাশি ‘বিহেভিয়ার থেরাপি’ প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। রোগীর অন্য কোনো অসুখ আছে কি-না, তাও ভালোমতো দেখতে হবে। সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হলো তাকে বোঝানো যে আপনি হারাবেন না। ভালোবেসে বুঝান। তাকে সাহায্য করুন।  লিখেছেনঃ নুসরাত জাহান জেরী, সুত্র নববার্তা

সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়ান কখনোই সম্পর্ক ভাঙ্গবে না

সারাজীবন একজন সঙ্গীকে পাশে পাওয়ার জন্য মানুষ সম্পর্ক তৈরি করে।  যাতে এই ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়া যায়।  কিন্তু এই সম্পর্কই যদি দুর্বল হয় তাহলে তো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মত কঠিনত্ব হয়ে যায়।  দেখা যায় ছোট ছোট বিষয়ে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তবে একটু চেষ্ঠা করলেই সম্পর্ক জোরালো করা সম্ভব। সম্পর্ককে জোরালো ও দৃঢ়তা বাড়াতে অবশ্যই কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রশংসা কখনো বন্ধ করবেন নাঃ  কেউ যখন আপনার প্রশংসা করে, তখন আপনার কেমন লাগে? নিশ্চয়ই শুনতে খুব ভালো লাগে। তেমনি আপনি আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করে দেখুন সে কতটা আপনার উপর খুশি হয়েছে, যা আপনি ভাবতেই পারবেন না। আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করলে আপনি কখনই ছোট হবেন না বরং আপনার সম্পর্কটা আরো দৃঢ়তা পাবে।

ভালোবাসার প্রকাশ থাকুক সারা জীবনঃ  ছোট্ট উপহার, ভালোবাসি বলা, সবসময় সকল প্রয়োজনে পাশে থাকা ইত্যাদি ভালোবাসার এই প্রকাশগুলো প্রতিদিন সম্পর্ককে মজবুত করে তোলে। তাই কখনো কার্পণ্য করবেন না ভালোবাসা প্রকাশে। বিয়ের আগে যেমন ভালোবেসেছিলেন তেমনি বিয়ের পরও একই ভালোবাসা রাখুন।

শুধু সঙ্গীকে নয়, ভালোবাসুন সঙ্গীর সঙ্গে জড়িত সবাইকেঃ  সঙ্গীকে ভালোবাসবেন এর বাইরে কিছু বলার থাকে না। তবে সঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোকেও ভালোবাসুন। যেমন- তার পরিবারের সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। এতে আপনার সঙ্গী খুশি হবে এবং আপনার সম্পর্কের উপর বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হবে। আর বিশ্বাস থাকলে সম্পর্ক মজবুত থাকে।

নিজেকে সুন্দর রাখুনঃ  দেখা যায় যখন প্রথম পরিচয় হয় অর্থাৎ সম্পর্কটা যখন নতুন নতুন তখন আপনি খুব সুন্দরভাবে সেজে কিংবা খুব স্মার্ট হয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু সম্পর্ক যখন খুব গভীর হয় বা পুরাতন হয়ে যায় তখন আপনি আর তা করছেন না। স্টাইল কিংবা নিজেকে সুন্দর দেখাবার দিকে মনযোগ দেন না। এটা ভীষণ ভুল একটি কাজ। নিজেকে দেখতে সুন্দর লাগলে সঙ্গীরও ভালো রাখে, একই সঙ্গে মনও থাকে ভালো। আর অতি অবশ্যই সঙ্গীর চোখেও বজায় থাকে আপনার আকর্ষণ। আর তা না হলে, আপনার সঙ্গী আপনার দিকে আর নজর পড়ছে না। তাই যত সম্ভব নিজেকে সুন্দর রাখুন।

নারী-পুরুষের যৌন অধিকার বনাম বৈষম্যমূলক আইন!

একজন নারী যে কারও সাথে যে কোনও ধরণের যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।  নারীর এ যৌনতায় আইনে কোথাও কোনও বাঁধা নেই। নারীকে দণ্ড দেওয়ার কোন বিধানও বাংলাদেশের আইনে নেই।  আবার পুরুষের ক্ষেত্রেও যৌন সম্পর্ক স্থাপনে আইনগত কোন বাঁধা নেই।

বলা আছে, যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক কুমারী, বিধবা এবং বিবাহ বিচ্ছেদে একা হয়ে যাওয়া নারীর সাথে সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে।  নারী-পুরুষের এ যৌনতায় আইনে বাঁধা নেই কিন্তু সমাজে বাঁধা আছে, ধর্মে বাঁধা আছে, লালিত মনস্তত্ত্ব ও মূল্যবোধে বাঁধা আছে।  সেকারণে, সমাজে যৌনতার চৌর্যবৃত্তি অনেক বেশি। তবে পৃথিবীর অনেক দেশেই নর-নারীর যৌন সম্পর্ক একেবারেই জৈবিক, স্বাভাবিক এবং প্রত্যাশিত ব্যাপার। সেখানে যৌনতা মানুষের মানবাধিকার হিসেবে বিবেচিত।

ভারতের সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি এ কে সিক্রি ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলোচনা সভায় বলেন মহিলার যৌন অধিকারের অর্থই হল তার পছন্দের পুরুষের সঙ্গে তিনি যৌন মিলন করবেন, তাকে তার স্বামী হতেই হবে, এমন কোনও মানে নেই। তিনি বলেন, একজন মহিলার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে তার গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি। তিনি তার নিজের শরীরের সঙ্গে কী করবেন আর কী করবেন না তা সর্ম্পূণ নির্ভর করছে সেই নারীর ওপর। এটা নারীর শরীর, তাই অধিকারও তারই।

পৃথিবীর সকল দেশেই যৌনতার সীমানা সেখানকার আইন, সামাজিকতা ও সাংস্কৃতিক বোধের দ্বারা নির্ধারিত। তবে সীমানাটি কোথাও বিস্তৃত, কোথাও সংকীর্ণ। যৌনতার ক্ষেত্রে অতি প্রাচীনকাল থেকে গড়ে ওঠা একটি সীমানা হচ্ছে বিয়ে। যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মেয়ের বয়স ১৮ আর ছেলের বয়স ২১ আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা থেকে পাই যে, ১৬ বছর বয়স যে কোন মেয়ের বিবাহের জন্য বিবেচনাযোগ্য একটি বয়স। পাশাপাশি ১৬-১৮ বছর বয়সের নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যৌন মিলনকে এ আইন স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আমাদের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট হানিফ সেখ বনাম আছিয়া বেগম মামলা, যা ৫১ ডিএলআরের ১২৯ পৃষ্ঠায় এবং অন্য একটি মামলায়, যা ১৭ বিএলটিএর ২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, ১৬ বছরের অধিক কোনো মেয়েকে যদি কোনো পুরুষ বিয়ের প্রলোভন দিয়ে যৌনকর্ম করে তা হলে তা ধর্ষণের নামান্তর হবে না।

কোনও পুরুষ যদি ১৪ বছর কিংবা ১৪’র অধিক বয়সের কোনও নারীর সাথে (পারস্পরিক সম্মতিতে) যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তবে তাকে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে না। তবে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে তাকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হতে হবে। কারণ ১৪ বছরের কম বয়সী কোনও নারী যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দিতে পারে না। দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৫ অনুযায়ী স্ত্রী ব্যাতিত ১৪ বৎসরের কম বয়স্ক কোনও নারীর সাথে তার সন্মতিক্রমেও যৌনকর্ম করলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য হয়।

উপরের দুটি আইন বিশ্লেষণে আমরা যা পাই তাহলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দেবার বয়স ১৬ বছর। আর দণ্ডবিধি অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স পূর্ণ হলে একটি মেয়ে কোনও পুরুষকে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য সম্মতি দিতে পারে। অথচ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী নারীর ১৮ বছরের আগে বিয়ে করার অধিকার নেই।

একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনগ্রন্থ সে দেশের সংবিধান। আমাদের সংবিধানের ২৮ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন। আবার ২৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্র বৈষম্যমূলক বিশেষ বিধান প্রণয়ন করতে পারে।

এদিকে ১৮ বছর বয়সী যে কোন নারী পুরুষ সাবালক-সাবলিকা হিসেবে ভোটার তালিকায় নাম উঠছে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন, নিজের মতামত প্রকাশ করছেন। অথচ জীবন সঙ্গী নির্বাচনে পুরুষের বয়স হতে হচ্ছে ২১ বৎসর।

দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় বিয়ের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য ব্যাভিচারকে দুস্কর্ম এবং অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে, “কোনও লোক যদি, অপর কোনও নারীর স্বামীর বিনা সম্মতিতে যৌনসঙ্গম করে, এরূপ যৌনসঙ্গম ধর্ষণের অপরাধ না হলে, সে লোক ব্যাভিচার করেছে বলে পরিগণিত হবে। এর জন্য ওই পুরুষকে যেকোনও বর্ণনার কারাদণ্ডে (যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে) বা জরিমানা দণ্ডে বা উভয় দণ্ডে শাস্তিযোগ্য হবে। এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকটির পরকীয়া কিংবা দুষ্কর্মের সহায়তাকারিণী হিসেবে শাস্তিযোগ্য হবে না”। 

পরকীয়ার অপরাধ শুধু পুরুষের জন্য, নারীর জন্য নয়।  আবার নারী যদি অবিবাহিতা বা বিধবা হয় তাহলে পুরুষও কোনও শাস্তি পায় না।  কারণ এক্ষেত্রে মামলার বাদী হওয়ার মত কেউ থাকেনা।

তবে মহামান্য লাহোর হাইকোর্ট বলেছেন, অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক যদি দীর্ঘদিন ধরে একত্রে বসবাস করে তাহলে বলা যাবে না যে, তারা ব্যাভিচারের অপরাধ করেছে। (পিএলডি ১৯৬২, ৫৫৮)।

দণ্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের মধ্যে বিয়ের বয়স নিয়ে বিরোধ আছে। এ বিরোধের ফলে একটি মেয়েকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন, প্রেমঘটিত কারণে কোনও কিশোরী যদি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তার প্রেমিককে বিয়ে করে তবে মেয়ের অভিভাবক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উক্ত প্রেমিক এবং তার অভিভাবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ বা ধর্ষণ অথবা উভয় ধরনের মামলা করে এ অজুহাতে যে, তাদের মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক। বয়স প্রমাণের জন্য কোনও সনদপত্রের আইনগত বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ও এর প্রয়োগ নেই বিধায় মেয়ে যদি প্রাপ্তবয়স্কও হয় তবুও এ ধরনের মামলা করার সুযোগ আছে।

মামলা হবার পর মেয়েটিকে নিয়ে তার অভিভাবক, পুলিশ এবং তার প্রেমিক পক্ষের লোকজনদের মধ্যে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। এর পরিণতিতে মেয়েটিকে প্রায়শঃ নিরাপদ হেফাজতের নামে জেলখানায় যেতে হয়। স্বেচ্ছায় বাল্যবিবাহকারী কিংবা বাল্যবিবাহের শিকার একটি মেয়ে যতকাল প্রাপ্তবয়স্কা না হবে তত কাল তাকে নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য জেলে রাখার আদেশ দিতে পারে আদালত। এর ফলে হাজার হাজার মেয়ে দিনের পর দিন জেল খাটছে। 

আবার পুরুষের বিয়ে করার অধিকার তৈরি হয় ২১ বছরে। তবে কম বয়সে বিয়ে করলেও ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরুষকে জেলে থাকতে হয় না। অথচ অল্প বয়সে কোনও মেয়ের বিয়ে হলে যতদিন না তার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয় ততদিন সেই মেয়েটিকে জেলে থাকতে হয়। মানুষ এখানে আইন মানতে চায় না। কিন্তু সমাজ বাস্তবতাকে মানে।

ধর্মীয় বিশ্বাস বলছে, তুমি যদি যৌনতা চাও তবে বিয়ে কর। বয়স কোনও বিষয় নয়। সুরা নিসা বলছে ‘ শিশুরা যখন স্বপ্নে বীর্যপাত করে তখন তাদের শৈশব অতিক্রম করে সাবালকের সীমায় পৌছে যায়।’

আমাদের আইন, রাষ্ট্র, সংবিধান ও সামাজিক আচরণে আজব সব বৈপরীত্য! পৃথিবীর তাবৎ সহানুভূতি ঢেলে দেওয়া হচ্ছে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতি; সাহিত্যে, কলায়, রসবোধে, জীবনের সর্বত্র কিশোর প্রেমকে উপজীব্য করা হচ্ছে; তরুণ মনস্তত্ব ও মূল্যবোধকে প্রেমের প্রতি সহানুভূতিশীল করে গড়ে তোলা হচ্ছে। অথচ নরনারীর প্রেমবোধের বিজ্ঞানকেই অস্বীকার করা হচ্ছে। অবৈজ্ঞানিক ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আইনে মানুষকে বেঁধে ফেলার উপকার ও অপকারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য আইনজ্ঞ বিজ্ঞজনদের প্রতি অনুরোধ রইল।

সর্বশেষ রাষ্ট্রযন্ত্রের সমীপে নিবেদন এই,
যে আইন মানবাধিকার রক্ষা করতে পারে না, যে আইন মানুষকে স্বাধীনতা বঞ্চিত করে, যে আইন সংবিধান সমুন্নত রাখতে পারে না, সেই আইন আর যাই হোক নারী-পুরুষের অধিকার ও সুবিধা-অসুবিধা রক্ষা করতে সক্ষম এ কথা বিশ্বাস করার কোনো যৌক্তিক অবকাশ নেই। কাজেই মানবিকতার দিক দিয়ে হলেও এ আইনের শীঘ্রই সংশোধনের প্রয়োজন। খুব অবাক হই, আমরা কীভাবে মানবিকতা ভুলতে বসেছি।

একুশ শতকের দোরগোড়ায় যেখানে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে মহাকাশেও পা বাড়িয়েছি, সেখানে আজও নারী-পুরুষের অধিকার, তাদের ইচ্ছাকে বেঁধে রেখে দিয়েছি। যৌনতাকে এখনও আমরা মানবিকতার চোখে দেখি না, এটা খুবই কঠোর বাস্তব।

লেখক: সিরাজ প্রামাণিক
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী, গবেষক ও আইন গ্রন্থ প্রণেতা।  
সুত্রঃ lawyersclubbangladesh

একজন চমৎকার স্বামী হতে কি লাগে !

সম্পর্ক তো সবারই হয়, কিন্তু সেই সম্পর্কে মধুরতা আছে কতজনের? এই মধুরতা নিজ থেকে আসে না, এই মধুরতা কেবল স্ত্রীর চেষ্টা থেকেও আসে না। বরং সুখের দাম্পত্য গড়ে তুলতে অনেক ক্ষেত্রেই স্বামীর ভূমিকা স্ত্রীর চাইতে বেশি।  স্বামী কেবল নিজেকে অর্থ উপার্জনের মেশিন ভাবলেই চলবে না, বরং স্ত্রী ও সংসারে দিতে হবে সমান মনোযোগ। আজকাল অসংখ্য নারী চাকরি বা ব্যবসা করেন, কর্মজীবনে ব্যস্ততা তাদেরও আছে।  তাই কর্মজীবনের বাহানায় স্ত্রীকে অবহেলা করার দিন ফুরিয়েছে।

আপনাকে নিয়ে স্ত্রীর অভিযোগের শেষ নেই? কিংবা সংসারে শান্তি রক্ষা করতে চান সবসময়ে? এই ফিচারটি তবে আপনারই জন্য! জেনে নিন কিছু দারুণ টিপস।

পরিকল্পনা করুনঃ বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলে পুলে হয়ে গেছে, তাই বলে ফুরিয়ে গেছে দাম্পত্য? একদমই নয়। বরং এখনই সম্পর্কের পেছনে অধিক সময় দিতে হবে। স্ত্রী এমন কেউ নয় যে চিরকাল আপনার সাথে থাকতে বাধ্য। ভালোবাসা ও যত্ন না পেলে তার মনও অন্যদিকে চলে যেতেই পারে, তাই না? তাই কেবল জীবন নিয়ে পরিকল্পনা না করে সম্পর্ক নিয়েই করুন। কীভাবে দুজনে ভালো সময় কাটাবেন, কোথায় বেড়াতে যাবেন, কী উপহার দেবেন, কী বলবেন ইত্যাদি নিয়ে ভাবাও জরুরী। কারণ আমরা তাঁকে নিয়েই ভাবি, যে আমাদের জন্যে বিশেষ।

প্রতিদিন জানুনঃ সম্পর্কের একটা ভিত্তি থাকে। আর সেই ভিত্তি হচ্ছে ভালোবাসা। তাই প্রতিদিন সেই ভালোবাসার ভিত্তি স্পর্শ করুন। তাঁকে জানান যে ভালোবাসেন। তার সাথে কথা বলুন। তিনি কেমন আছেন জানতে চান। নিজের কোথাও তাঁকে জানান।

সংসারের দায়িত্বে আপনার ভূমিকা কী? সংসার স্ত্রীর একার নয়, আপনারও। সমস্ত বড় সিদ্ধান্তগুলো দুজনে একসাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন। যেসব ব্যাপারে আপনি একাই সিদ্ধান্ত নিতেন, সেগুলোতে স্ত্রীকে ডাকুন। যেসব কাজ স্ত্রী একাই করেন, সেগুলোতে আপনি সাহায্য করুন।

বুঝতে শিখুন একটি বিশেষ ব্যাপার : মানুষ কোন মেশিন নয় যে আজীবন একই রকম চলবে। মাঝে মাঝে সকল মানুষেরই একটু বিশ্রাম দরকার হয়, রোজকার জীবন থেকে একটু ব্রেকের প্রয়োজন হয়। এই ব্রেক আমাদেরকে সম্পর্ক পরিচালনা করতে উজ্জীবিত করে থাকে। তাই, নিজের যখন অবসর চাই বুঝতে শিখুন। সঙ্গী কখন অবসর চাইছে সেটাও বুঝে নিন আর সেই সময়ে তাঁকে একটু নিজের মত থাকতে দিন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কেউ ছোট হয় না :  তিনি আপনার জীবনে আছে বলেই জীবন সুন্দর, সংসার সুন্দর, আপনার জীবন চমৎকার ভাবে চলছে। বিষয়টি যদি এমন হয়ে থাকে তবে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলবেন না। ভালোবাসার মানুষকে যত ধন্যবাদ জানাবেন, সম্পর্ক তত সুন্দর হতে উঠবে।

কিছু নিয়ম জরুরী: রোজকার কাজে কিছু নিয়ম মেনে চলাই উচিৎ। যেমন ধরুন, শাওয়ার শেষে টাওয়েল আপনি বিছানাতেই ফেলে রাখেন। কী দরকার বলুন তো? একটু কষ্ট করে বারান্দায় মেলে দিন কিংবা নিজের জুতগুলো গুছিয়ে রাখুন।

কীভাবে আপনাদের সংসার চলবে সেই বিষয়ে কিছু নিয়ম দুজনে একসাথে বসে তৈরি করে নিন আর সেগুলো মেনে চলুন। অনেক সমস্যাই সহজ হয়ে যাবে।

একজন চমৎকার স্বামী হয়ে ওঠার চর্চাটি প্রতিদিনের, একদিন দুদিনে তা ফুরিয়ে যায় না। তাই প্রতিদিন করুন সম্পর্কের চর্চা। 

সঙ্গীর অভাবে যাদের বিয়ে হচ্ছেনা

আপনার পরিবারের অবিবাহিত, ডিভোর্স, বিধবা অথবা বিপত্নীক সদস্যের জন্য পছন্দের প্রফেশনের উপযুক্ত সঙ্গীই খুঁজে পাবেন।  আর এর জন্য আপনাকে অনলাইনে বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব সাইট ভিজিট করে একটি ফ্রী রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে বায়োডাটা তৈরী করতে হবে।  এরপরই আপনি ঘরে বসে বিবাহবিডির ডাটাবেজের সকল বায়োডটা দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোর সাথে সরাসরি নিজেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন।  এটা খুবই সহজ প্রন্থা; তাছাড়া বিবাহবিডির সেবা ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই।  যে কোন সময় চাইলেই আমাদের সাথে ফোনে কথা বলতে পারেন।  তাই নিশ্চিন্তে লগিন করার জন্য আমরা আপনাকে সম্পূর্ন আশ্বস্ত করছি।  প্রয়োজনে যেকোন জিজ্ঞাসার জন্য  উল্লেখ্য  (+88)0961 22 11 555, 88 01944 115555,  88 01922 115555 নাম্বারগুলোতে কল করে আমাদের সেবা সম্পর্কে জানুন ।  অথবা একটু সময় নিয়ে বিস্তারিত জানতে সম্পূর্ন ফিচারটি পড়ুন –

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনি অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহবিডি ডট কম। এখানে অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ঘরে বসেই আপনি চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ  ৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স – বিধবা – বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী।  তাছাড়াও বিবাহবিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার  সার্চ (ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন)।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ  জীবন একটাই  আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।  এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।   প্রথমেই দেখে নিন কোন কোন প্রফেশনের কত জন পাত্র/পাত্রী এই মূহুর্তে বিবাহবিডিতে রয়েছে।
লিংকে ক্লিক করুন 


এই অডিওটি আপনাকে আমাদের সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।


যারা দাম্পত্য জীবনে সেপারেটেড আছেন কিংবা ইতিমধ্যে ডিভোর্স নিয়েছেন, তাদের জন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে – ম্যারিটাল ষ্টেটাস সার্চ ও ইজি সার্চ  অপশন যেখানে খুব সহজেই ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক, সেপারেটেড সহ [সিংগেল ফাদার] , [সিংগেল মাদার] প্রোফাইল গুলো ক্যাটাগরী অনুযায়ি সুবিন্যস্ত রয়েছে। 


কিভাবে বিবাহবিডিতে রেজিষ্ট্রেশন করবেন: আপনি যদি বিয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হয়ে থাকেন তবে
লিংকে ক্লিক করে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করুন।   অথবা বিস্তারিত জানতেঃ ০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫  এ কল করুন ২৪/৭ 


নীচের উল্লেখিত ভিডিওটি দেখলে বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা পাওয়া যাবে -

কোন কারনে রেজিষ্ট্রেশন করতে সমস্যায় পড়লে বিবাহবিডির কাষ্টমার সাপোর্ট আপনাকে ২৪/৭ দিনই হেল্প করার জন্য প্রস্তুত আছে আপনি ফোনে (০১৯২২ ১১ ৫৫৫৫) সাহায্য নিতে পারেন।

আপনার রেজিষ্ট্রেশন টি সম্পূর্ন হয়ে গেলে বিবাহবিডির একজন কাষ্টমার সাপোর্ট এক্সিকিউটিভ আপনার প্রদত্ত তথ্যগুলো ফোনে রিভিও করে আপনাকে ৩ দিনের জন্য বিবাহবিডিতে ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ দিবে ও বিবাহবিডির সার্ভিস সম্পর্কে পূর্নাঙ্গ ধারনা দিবে।

৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপে আপনি বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে বাছাই (Add To Favorite ) করে পরবর্তীতে আপনার সাধ্য অনুযায়ী মেম্বারশীপ কিনে পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করে যথাযথ সিদ্ধান্তে পৌছাতে সক্ষম হবেন।


বিবাহবিডি ডট কমের বুকলেট বা  সেবা বিষয় পুস্তিকা (PDF) ডাউনলোড  করুন ।

পাঠকের সুবিধার্থে বিবাহবিডির সরাসরি কয়েকটি সার্চ রিজাল্টের লিংক নিম্নে দেয়া হলোঃ


Support Center:

BIBAHABD.COM
HOUSE: 02 (3rd Floor) BLOCK: G, SOUTH BANASREE, DHAKA-1219.  Hotline : +88 0961 22 11 555,  88 019 22 11 5555


বিবাহবিডি ডট কম অফিস লোকেশন 

সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে বারবার, তবে শুধরান নিজেকেই!

একাকী জীবন কাটানো সত্যিই কি কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব? উত্তরটা না বলবেন অনেকে! কারণ, মানুষ সামাজিক জীব।  যে সব সময়ই নিজের আশেপাশে সঙ্গী খোঁজেন। নিজের সুখ দুঃখগুলো ভাগ করে নেওয়া যায় এমন মানুষ খুঁজতে থাকেন মনের অজান্তেই।  কিন্তু সমস্যা হলো প্রত্যেকটি মানুষ সঠিক সময়ে নিজের পাশে কাউকে খুঁজে পান না। হয়তো কোনো মানুষ পেয়ে থাকেন, আবার কেউ পান না।

কিন্তু এর কারণ কী? নিজের পছন্দের এবং মনের মানুষটি অনেকেই কেন পান না তা কি একবার ভেবে দেখেছেন? কিছু খারাপ অভ্যাস রয়েছে তা একজন মানুষকে অন্য মানুষের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি আপনি নিজের পছন্দের মানুষটি খুঁজে পেয়ে না থাকেন তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করুন। দেখুন তো, আপনার মধ্যে এই বদঅভ্যাসগুলো রয়েছে কিনা। আর যদি থেকে থাকে তাহলে একাকী জীবন কাটাতে না চাইলে অভ্যাসগুলো আজই ত্যাগ করুন।

অতিরিক্ত মাত্রায় আত্মকেন্দ্রীক: আপনি নিজে কী চান, আপনার নিজের স্বপ্ন, আপনার নিজের ইচ্ছা সব কিছু যদি আপনার নিজের ইচ্ছে মতো পেতে চান? তবে আপনাকে একাকীই জীবনটা পার করতে হবে। মানুষের নিজের ইচ্ছা অবশ্যই থাকা উচিৎ এবং স্বপ্ন পূরণের চেষ্টাও করা উচিৎ। কিন্তু তা যদি পছন্দের মানুষের ইচ্ছের একেবারেই গুরুত্ব না দিয়ে হয় তবে কারুর পক্ষেই হয়তো আপনার সঙ্গে থাকা সম্ভব হবে না। তাই একাকী জীবন কাটাতে না চাইলে সঙ্গীর ইচ্ছেটাকেও গুরুত্ব দিতে শিখুন।

নিজেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাবাটা থামান:  একটি সম্পর্কে দুজনের গুরুত্ব সমান হতে হয়, তবেই সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। আপনার মনোভাব যদি এমন হয়ে থাকে যে আপনিই সর্বেসর্বা এবং সব কিছুতে আপনারই গুরুত্ব অনেক বেশি, তবে আপনাকে জীবনকে পস্তাতে হবে। সম্পর্ক দুজনের মধ্যে হয়, সুতরাং গুরুত্ব এখানে দুজনেই পাবেন। নিজেকে সব কিছু ভাবা এই ধরনের অভ্যাস ত্যাগ করুন।

স্বার্থপরতা ও অবিবেচকের মতো আচরণ: সব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিজেরটা দেখলে চলে না। আপনি যেই হোন না কেন এবং আপনার সঙ্গে অন্য একজনের যে ধরণের সম্পর্কই থাকুক না কেন বন্ধু, ভালোবাসার সম্পর্ক এমনকি আত্মীয়ের সম্পর্ক আপনি যদি সব সময় নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করে অবিবেচকের মতো আচরণ করেন তবে সেই দিন বেশি দূরে নেই যদি আপনি নিজের পাশে কাউকে পাবেন না। মাঝে মাঝে অন্যের জন্য বিনা স্বার্থে কাজ করে দেখুন, মানুষের ভালোবাসা পাবেন।

‘আমি সারাজীবন একলাই থাকব’- এই ধরনের চিন্তা: আপনি যখন নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে এই কথাটি বলবেন তখন আপনি নিজে থেকেই হেরে যাবেন। নিজের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা রাখুন। কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবনে একজন আসবেই যিনি তাঁর একাকীত্ব দূর করবেন। কিন্তু আপনি যদি ভেবে বসে থাকেন আপনি সারাজীবন একলাই থেকে যাবেন তাহলে আপনার মনে মানুষটি আপনার পাশে থাকলেও আপনার চোখে পড়বে না, এবং সত্যিই আপনাকে একাকী জীবন পার করতে হতে পারে।

খুব বেশি খুঁতখুঁতে হওয়া:  আপনি যদি কথায় কথায় খুঁত বের করেন এবং খুব বেশি পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারটি ঘাটতে থাকেন তবে আপনাকে একাকী জীবন কাটাতে হবে। আপনার জীবনসঙ্গী পছন্দের ব্যাপারে খুব নাক উঁচু স্বভাবের হলে আপনি কাউকেই পছন্দ করতে পারবেন না। এবং সময় চলে গেলে আফসোস করতে হবে। আবার পছন্দের মানুষটির খুব বেশি ভুল ধরলেও আপনি তাকে ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলবেন। তাই একাকী জীবন পার না করতে চাইলে খুঁতখুঁতে স্বভাবটা কমিয়ে ফেলুন। ছাড় দিতে শিখুন। জীবন সুখের হবে।