জীবন সঙ্গী নির্বাচনের কিছু উপায়

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সঠিক জীবন সঙ্গী নির্বাচনের গুরত্ব অনেক। বিয়ের পর কখনও যেন এমনটা মনে না হয় যে, জীবন সঙ্গী আপনার জন্যে সঠিক নয়। তাই সময় থাকতেই জেনে নিন, সঠিক জীবন সঙ্গী নির্বাচনের কিছু উপায়।

এমন কেউ যার সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ:

যে খুব সহজেই সবার সঙ্গে গল্প বা কথা বলতে পারেন, যাকে খুব সহজে আপনার মনের কথা বলতে পারেন, যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন এমন মানুষ নির্বাচন করা উচিত। এতে করে অনেক কথা বলতে এবং অনেক কাজ সহজে করতে পারবেন আপনি; অবশ্যই এটা আনন্দের।

আগ্রহ এবং গুণসম্পন্ন:

যিনি নিজের আগ্রহ এবং শখের বিষয় আপনাকে জানাবে এবং তার ভালোলাগার অনেক কিছু্ই আপনারও ভালো লাগবে। তবে এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তার সব ভালো লাগার সঙ্গে আপনার সব ভালো লাগা নাও মিলতে পারে। কিন্তু কিছু ভালো লাগা অবশ্যই মিলতে হবে।  যখন আপনি কারো সঙ্গে জীবন কাটানোর সীদ্ধান্ত নেবেন তখন অবশ্যই আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে, আপনারা দুজন একই ধরনের কাজে আনন্দ পান কি না।

সঙ্গীর মেধা যাচাই করুন:

যদি আপনি স্থীর স্বভাবের হন এবং আপনার সঙ্গী কথা এবং কাজে আপনার থেকে অনেক বেশি এগিয়ে থাকেন তবে সেটা আপনার বৈবাহিক জীবনে ক্ষতির কারণ হতে পারে। আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে, দুজনের মতের মিল কতটুকু রয়েছে? মতের মিল দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

মান বজায় রাখা:

জীবন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার এবং আপনার পরিবারের মান-মর্যাদার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্যাটাসের অমিল হলে যদিও খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে, আপনার সঙ্গী যেন আপনার সমাজের বাইরের না হয়।

একে অন্যকে সম্মান দিতে হবে:

এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জীবন কাটানো সম্ভব নয় যে আপনাকে, আপনার স্বপ্ন এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে সম্মান দেয় না। তাই এমন জীবন সঙ্গী নির্বাচন করুন, যিনি আপনাকে এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে সম্মান করেন।

বিশ্বাসযোগ্য:

এমন কাউকে নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাকে আপনি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন। একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা না থাকলে সুখী বৈবাহিক জীবন-যাপন একেবারেই অসম্ভব।

একসঙ্গে সময় কাটাতে হবে:

একই ধরনের শখ বা আগ্রহ থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একে অন্যকে সময় দেয়াটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ রাখবেন, আপনার সঙ্গী আপনাকে সময় দিতে কতটা আগ্রহী এবং আপনাকে সময় দিতে ভালোবাসে কি না।  এর পাশাপাশি দুই জনে বোঝাপড়া বা সমঝোতার মধ্যে থাকলে এবং একে অন্যকে বুঝে চললে সর্বোপরি সুখী দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্ভব।

দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি

দাম্পত্য জীবনে আনন্দের জন্য নিজেদের কিছু কিছু ভাললাগার বিষয় তৈরি করে নিতে হয়।  ব্যবসায়-কাজের ফাঁকে আমার স্ত্রীর পছন্দের কোন একটি জায়গায় বেড়াতে যাওয়া বা আমার পছন্দের কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া পারস্পরিক বোঝাপড়ায় অনেক বেশি সহায়ক হয়।

একসঙ্গে চমৎকার কোন রোমান্টিক সিনেমা দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে উৎযাপন করতে পারেন ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক ভালবাসার মধ্য দিয়ে।   আর স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসাটার ভিত্তিটা কয়েক দিন বা কয়েক মাসে গড়ে উঠেনা।  দাম্পত্য সম্পর্কটা হলো চারা গাছের মত যাকে বড় করতে হয় পরম যত্নে, এবং পরিপূর্ন হয় ধীরে ধীরে।  একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, সহনশীলতার মাধ্যমেই ভালবাসার এই চর্চা করা সম্ভব।  সংসারে স্বামী ছাড়াও থাকতে পারে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ। এক সঙ্গে থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।   সংসারে সুখের জন্য কোন কাজই কেবল ছেলেদের জন্য নয়, আবার কোনটাই কেবল মেয়েদের জন্য নয়; পরিবারের নারী-পুরুষের সমন্বিত কাজেই সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। স্বামী-স্ত্রী দুজন যেহেতু ভিন্ন দুটি পরিবার থেকে এসে একসঙ্গে বসবাস করছে; তাই দু’জনের মধ্যে কিছু অমিল থাকতেই পারে।  কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে হয়ত দুজন কিছুতেই একমত হতে পারছে না।  সে ক্ষেত্রে যার যার মত প্রকাশের ক্ষেত্রে যেমন স্বাধীনতা থাকবে তেমনি স্বামী বা স্ত্রীর মতামতের প্রতি আপনাকে হতে হবে শ্রদ্ধাশীল।

দাম্পত্যে যা যা করবেন:

১।  একজন আরেকজনকে প্রতিদিন অন্তত একবার করে বলুন আমি তোমাকে ভালবাসি! বিয়ের পর কখনই এই কথা বলেননি ভাবছেন তো কি হয়েছে! সাহস করে মন খুলে স্ত্রীকে বা স্বামীকে বলুন না প্লিজ। দেখবেন আপনার দাম্পত্য জীবনে আনন্দ কি পরিমাণ বেড়ে গেছে।
২।  ছোটখাটো ভুলেও ক্ষমা চেয়ে নিন।আবার ছোটখাটো ভুলকে ক্ষমা করতেও দিধা করবেন না। তাতে কেউ কারও কাছে ছোট হয়ে যাবেন না। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জন্ম নেবে এবং একে অন্যকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা তৈরি হবে।
৩।  একে অন্যকে ধন্যবাদ দিন। প্রতিদিনই ছোট-বড় অনেক কাজে দম্পতিরা একে অন্যের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রতিবারই স্ত্রীকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানান।
৪।  প্রশংসা করুন। আপনার স্বামী বা স্ত্রী নিশ্চয়ই কিছু না কিছু গুণে গুণান্বিত। তার গুণগুলো খুঁজে বের করুন। সময় পেলেই তার গুণের প্রশংসা করুন।
৫।  চমকে দিন প্রিয় মানুষটিকে পছন্দের একটি জিনিস উপহার দিয়ে। চেষ্টা করুন সঙ্গীকে বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে চমকে দিয়ে আনন্দের উৎস বাড়াতে। কিছুই করার না থাকলে বেড়িয়ে আসুন নদীর ধারে কিংবা লেকের পারে।
৬।  সন্তানের ভাল-মন্দ যে কোন বিষয়ে দুজনের দায়িত্ব স্বীকার করে নিন। একে অন্যের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেবেন না।

দাম্পত্যে বিরত থাকুন:

১।  সঙ্গীকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকুন। সবার সামনে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সমালোচনা করবেন না। প্রয়োজনে একান্তে বলুন।
২।  একে অপরের কাছে বেশি কিছু আশা না করাই ভাল।  সঙ্গীর সীমাবদ্ধতাকে সহজে মেনে নিন।
৩।  বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে গিয়ে স্ত্রী বা স্বামীকে বঞ্চিত করবেন না।
৪।  আপনার সঙ্গী পছন্দ করেন না এমন কাজ তাকে দিয়ে করাতে যাবেন না।  এতে দাম্পত্য জীবনে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।
৫।  দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা হতে পারে এমন বিষয় এড়িয়ে চলুন।

লজ্জা সরিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলা দরকার

নারীরা পুরুষের তুলনায় একটু বেশিই আবেগী থাকেন এটি নতুন কিছু নয়। অনেক সময়েই নারীরা নিজেদের উপরে দোষ চাপিয়ে নিয়ে নিজেকে দোষী ভেবে অপরাধী ভাবেন, লজ্জিত হন, যেখানে সত্যিকার অর্থেই তার কোনো ভুল ছিল না এবং ভুল হয় নি। তারপরও নারীসুলভ আচরণে কিছু কাজ করে অনেক বেশি লজ্জিত থাকেন নারীরা যা একেবারেই উচিত নয়। সুতরাং, নারীদেরকে বলছি, এইধরনের কাজ করে লজ্জিত হয়ে নিজেকে ছোটো করা বা গুটিয়ে রাখার কোনোই অর্থ নেই।

১. সঙ্গীর উপহার পছন্দ না হলে তা সরাসরি বলে দেয়া
আপনার পছন্দ অপছন্দ থাকতেই পারে, তাই যদি সঙ্গীর দেয়া উপহার পছন্দ না হয়ে থাকে তাহলে সরাসরি বলে দিলে আসলেই কোনো ক্ষতি নেই। বরং এতে সঙ্গী পরবর্তী সময়ে আপনার পছন্দের ব্যাপারটি মাথায় রাখতে পারবেন।

২. নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেয়া
নিজের সংসার, শত কাজ কর্ম, পরিবার সব কিছু নিয়ে যদি একেবারে হাঁপিয়ে ওঠেন তাহলে নিজের জন্য সময় বের করে নিন। নিজে একাকী একটু সময় কাটালে পরিবারের প্রতি আগের মতোই কর্তব্য পালনে উৎসাহী হবেন। যদি একটানা একইভাবে শুধু পরিবারকে সময় দিয়ে যান তাহলে কিন্তু একসময় বিরক্তি এসে যেতে পারে। তাই নিজের জন্য একটু সময় বের করে নেয়ার ব্যাপারে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

৩. নিজের বাবা-মাকে শ্বশুর-শাশুড়ির চাইতেও বেশি ভালবাসলে
এটি প্রাকৃতিকভাবেই নির্ধারিত। যদি আপনার মনে হয়ে আপনি নিজের বাবা-মাকেই বেশি ভালোবাসেন এবং তা নিয়ে লজ্জিত হন যে শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশি অনেক বেশি প্রাধান্য দিতে পারছেন না, তার সত্যিই কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার যা কর্তব্য তাই পালন করে যান, আপনার মন আপনার নিজের বাবা-মাকেই বেশি ভালোবেসে যাবে, ঠিক যেমনটি আপনার সঙ্গী তার বাবা-মাকে বাসেন। লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

৪. নিজের বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কিছু গোপন ব্যাপার থাকলে
একজন মানুষের সাথে পুরো জীবন কাটিয়ে দেবেন তার মানে এই নয় যে আপনার একান্ত আপন বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কোনো গোপন কিছুই থাকতে পারবে না। হ্যাঁ, এটি সত্যি যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো গোপনীয়তা না থাকাই ভালো, কিন্তু নিজের বন্ধুবান্ধবের সব গোপন তথ্য তো নিশ্চয়ই জানিয়ে দেয়া উচিত নয়। সুতরাং এইসকল ব্যাপার গোপন থাকলে নিজেকে দোষী ভাবার বা লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

৫. সঙ্গীর কিছু ব্যাপার শুধরে নিতে বলা
বিয়ে বা সম্পর্ক তখনই মজবুত হয় যখন দুপক্ষ থেকে কম্প্রোমাইজের ব্যাপারটি আসে। সুতরাং আপনি যদি নিজে ঠিক থেকে সঙ্গীর কিছু ব্যাপার শুধরে নিতে বলেন এতে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কিছু নেই এবং আপ্নারফ লজ্জা পাওয়ারও কিছু নেই।

৬. সঙ্গীর চাইতেও উঁচু পজিশনে নিজের ক্যারিয়ার থাকা
এই ব্যাপারটি নারীদের চাইতেই বেশি ভাবিয়ে তোলে পুরুষকে। যদি নিজের সঙ্গিনী তার থেকে উপরের পজিশনে থাকে তাহলে অনেক পুরুষই তা নিয়ে লজ্জিত থাকেন। এতে করে নিজেকে দোষী ভেবে লজ্জা পেতে থাকেন নারীরাও। কিন্তু আপনার যোগ্যতা, আপনার পরিশ্রমের সফলতার জন্য লজ্জা পাওয়ার আসলেই কি কিছু আছে? না। তাই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

সেই হবে সত্যিকারের সঙ্গী

সত্যিকারের ভালোবাসা কে না চায়? চায় মনের মতো সঙ্গী। প্রতিকূলতায় যে সঙ্গী তার জন্য লড়বে, বিপদে থাকবে পাশে। যার হাত ধরে নির্ভয়ে পথ হাঁটা যায়, কল্পনায় সেই আদর্শ সঙ্গীর একটা রূপ মনে ঠিক করে নেয়। কঠিন সময়েও যে হাত কখনো ছুটে যাবে না। যে সঙ্গী কথা শুনবে, দুয়ার খুলে অপেক্ষায় থাকবে। কল্পনার সেই ভবিষ্যতে সঙ্গীর সম্পর্ক কেমন হবে, অনুভূতিসহ সবকিছু মিলিয়ে একটা চিত্র মনে তৈরি হয়। চাওয়া-পাওয়ার, দিকনির্দেশনা ও প্রত্যাশা বাড়ে। কিন্তু কোথায় সেই আদর্শ সঙ্গী?

সঠিক সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় অনেকেই সময় পার করেন। যাওবা সঙ্গী মেলে, অনেক ক্ষেত্রেই মনের মতো করে পাওয়া যায় না। কল্পনার সঙ্গে অনেক ফারাক থাকে। ফলে মেনে নিতে পারেন না। সম্পর্ক ভেঙে যায়। যাঁর অস্তিত্ব নেই, সেই আদর্শ সঙ্গীকে খুঁজতে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঠিক সঙ্গীর মধ্যে নিঃস্বার্থ, যত্নশীল, স্নেহপূর্ণ ও সহজাত গুণাবলি থাকবে—এমন বিষয়টি নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো। কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকতে নাও পারে। ভালোবাসার মানুষটি নিখুঁত হবে—এমন প্রত্যাশা রাখা ঠিক নয়। একেবারে নিখুঁত সঙ্গী পাওয়ার জন্য নিজের ওপর জোর খাটানো ঠিক নয়। কল্পনার চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গীর সবকিছুতেই মিল থাকবে তা নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেকে অপেক্ষা করেন জীবনে এমন মানুষ আসবে, যে তার মূল্যবোধকে প্রতি মুহূর্তে ধরে রাখবে, প্রতিদিন মায়ের কাছে ফোন করে খোঁজখবর নেবে, অনেক সময় দেবে, স্বপ্নের কথা বলবে। কিন্তু সব গুণ কি সবার থাকে?

তাই সত্যিকারের সঙ্গী, মানে নিখুঁত ও তালিকায় থাকা সব মানদণ্ড পূরণ করার ব্যক্তি নয়। সত্যিকারের সঙ্গী সব সময় পরিপাটি নাও হতে পারে। অগোছালো কিন্তু সুন্দর ভালোবাসার মানুষ হতে পারে। পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে যে মানুষ আঘাত দেবে না, বরং অতীতকে ভুলে যেতে সাহায্য করবে, সে–ই প্রকৃত সঙ্গী। চলচ্চিত্রে চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে শতভাগ নিখুঁত সঙ্গী চাওয়া ঠিক নয়। সত্যিকারের সঙ্গী চলচ্চিত্রের কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মিলবে না। বরং মানানসই বা পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠার চেষ্টা যে করে সে প্রকৃত সঙ্গী হয়ে ওঠে।

প্রকৃত ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে হতাশা, ঝগড়াঝাঁটি, বিতর্ক, আপস, বিরক্তি এবং ভুল বোঝাবুঝি ঘটতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রতিমুহূর্তে স্বার্থহীনভাবে চিন্তা করা দুজনের মধ্যে সম্ভব হয় না। প্রকৃত আদর্শ মানুষ কেউই নয়, এ কথা মেনে নিতে হবে। প্রত্যাশা আর চাওয়া-পাওয়ার কল্পনাতে বাঁধ দিতে পারলেই সুসম্পর্ক থাকবে। পূর্ণাঙ্গ নিখুঁত মানুষ খোঁজার আশা বাদ দিয়ে যে আপনার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করতে পারবে, সেই হবে সত্যিকারের সঙ্গী।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট,প্রথম আলো

ভালোবাসার জৈবিক ভিত্তি

সেক্সের জৈবিক মডেলকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর একটি ড্রাইভ হিসাবে মনে করা হয় যা অত্যধিক ক্ষুধা বা তৃষ্ণার মতো। হেলেন ফিশার প্রেম বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। প্রেমের অভিজ্ঞতাকে তিনি তিনটি আংশিক ওভারল্যাপিং পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন: উদাহরণস্বরূপ, লালসা, আকর্ষণ, এবং সংযুক্তি। কামনা হল যৌন বাসনা পূরণ করার জন্য এক ধরনের অনুভূতি।  রোমান্টিক আকর্ষণ মূলত নির্ধারণ করে কোন ব্যক্তির সঙ্গী কতটা আকর্ষণীয় তার উপর । তাছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে, যেমন, একি সাথে একটি বাড়িতে অবস্থান করা, পিতামাতার প্রতি কর্তব্য, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুভূতিগুলিও জড়িত থাকে। এই তিনটি রোমান্টিক শৈলীগুলির সাথে নিউরাল সার্কিটগুলি, নিউরোট্রান্সমিটার এবং তিনটি আচরণগত নিদর্শন সংযুক্ত সব সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করে ।

কামনা হল যৌন বাসনার প্রাথমিক ধাপ যা টেসটোসটাইন এবং এস্ট্রোজেনের মতো রাসায়নিক পদার্থ বর্ধিত ত্যাগ করে। এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।  আকর্ষণ আরও individualized এবং রোমান্টিক হয় একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীর জন্য, যার মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র লালসা বিকশিত হয়।  স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষ মূলত প্রেমে পড়ে যখন তার মস্তিষ্ক নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সেটের রাসায়নিক পদার্থ ত্যাগ করে। উদাহরণস্বরূপ, নিউরোট্রান্সমিটার হরমোন, ডোপামিন, নোরপাইনফ্রাইন, এবং সেরোটোনিন এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে ।  amphetamine একি ধরনের পদার্থ ত্যাগ করে যার ফলে মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, হার্টের কম্পনের হার বৃদ্ধি পায় , ক্ষুধা এবং ঘুম হ্রাস পায়, এবং উত্তেজনা বেড়ে যায় । গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পর্যায় সাধারণত দেড় থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

যেহেতু কামনা এবং আকর্ষণ এর পর্যায়গুলিকে অস্থায়ী বলে মনে করা হয়, তাই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য একটি তৃতীয় পর্যায় প্রয়োজন। সংযুক্তি হল এক ধরনের বন্ধন যার কারণে সম্পর্ক অনেক বছর এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সংযুক্তি সাধারণভাবে বিবাহ বা শিশু জন্মদান করার মত অঙ্গীকারগুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাছাড়া পারস্পরিক বন্ধুত্ব বা পছন্দের বিষয়গুলি ভাগ করে নেয়ার কারণেও সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে স্বল্পমেয়াদী সম্পর্কের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্র বেশি পরিমাণে রাসায়নিক অক্সিটোসিন এবং ভাসপ্রেসিন নির্গত হয়। এনজো ইমানুয়েল এবং তার সহকর্মীরা রিপোর্ট করেন যে প্রোস্টেট অণুটি স্নায়ু বৃদ্ধিকারক ফ্যাক্টর (এনজিএফ) নামে পরিচিত, যখন লোকেরা প্রথম প্রেমে পড়ে তখন তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে, কিন্তু এক বছর পর তারা আবার পূর্ববর্তী স্তরে ফিরে আসে।  – সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

সঙ্গী বিষণ্ণতায় ভুগলে কি করবেন?

সঙ্গী বিষণ্ণতায় ভুগলে সম্পর্কে টানাপোড়ন হতে পারে – তবে এর থেকে পরিত্রানও সম্ভব।  এই প্রবন্ধে আমরা বিষণ্ণ সঙ্গীর সঙ্গে জীবন স্বাভাবিক করার ৫টি উপায় নিয়ে আলোচনা করব।   যখন একজন ব্যাক্তি গুরুতর বিষণ্ণতায় ভোগেন, তার কাছের মানুষগুলো সবচাইতে বেশি আক্রান্ত হয় এবং তাদের প্রতিদিন এগুলো নিয়ে কষ্ট সহ্য করতে হয়। তবে বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষটির সঙ্গীটি সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। আসলেই বিষণ্ণতা সম্পর্কের টানাপোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, এজন্যে সঙ্গীটির কিছু কৌশল আয়ত্ত করা প্রয়োজন যেন তিনি এই দুরাবস্থার মোকাবেলা করতে পারেন এবং সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে পারেন।   মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের থেকে বিষণ্ণ সঙ্গীর সঙ্গে জীবন স্বাভাবিক করার ৫টি উপায় দেয়া হলঃ

নিজেকে বোঝান যে আপনার সঙ্গীটি আপনার দলেই আছেন

যখন একজন ব্যাক্তি গুরুতর বিষণ্ণতায় ভোগেন, তার কাছের মানুষগুলো সবচাইতে বেশি আক্রান্ত হয় এবং তাদের প্রতিদিন এগুলো নিয়ে কষ্ট সহ্য করতে হয়। এটি স্বাভাবিক, কেননা আমরা আমাদের কাছের মানুষগুলোর কাছে সবচাইতে সত্য এবং অকপট থাকতে পারি। বন্ধু বান্ধব এবং সমাজের অন্যান্যদের সামনে আমরা এক ধরনের মুখোশ পড়ে থাকি এবং মন ভাল থাকার অভিনয় করি।

যদিওবা এই আচরন স্বাভাবিক, তবুও একজন বিষণ্ণ মানুষের সঙ্গে জীবনাতিপাত করলে মনে হতে পারে সে তার সবচেয়ে খারাপ আচরনগুলো আপনার জন্যে রেখে দেন। এটি অবশ্য অনেকাংশে সত্যি। তারা আসলে সত্যিকারে যেমনটি অনুভব করছেন, তা আপনার সামনে তারা প্রকাশ করেন। তবে আপনার জন্যে ব্যাপারটা অতটা সুখকর নাও হতে পারে।

যদি আপনি মনে করেন যে তাদের অসুস্থতাটা অন্যায়ভাবে আপনার ওপর চাপানো হচ্ছে, তবে মনে রাখবেন, আপনি এবং আপনার সঙ্গীটি একই দলে আছেন। তিনি কখনই আপনাকে দুঃখ দিতে বা দূরে ঠেলে দিতে চান না। বরং তিনি আশা করেন যে আপনি তাকে গ্রহন করে নিবেন – তিনি যেমনই থাকুক না কেন। এমনও হতে পারে যে আরোগ্য লাভের জন্যে তারা আপনার সাহায্যও চাইছেন – যা হল আমাদের পরবর্তী বিষয়।

আপনার সঙ্গীকে ভাল হয়ে উঠতে সাহায্য করুন

এই প্রসঙ্গের ভেতরে ঢোকার আগে আমাদের বুঝতে হবে যে একজন বিষন্ন সঙ্গীকে সাহায্য করে এবং তাদের সামর্থ করার মধ্যে সূক্ষ্ম বিভেদ আছে। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার কারনে, তিনি যেন একই পথে চলতে থাকার বাহানা না পান বা চিকিৎসা না নিয়ে তার বিষন্নতা জিইয়ে রাখার কোনও ছুতা না মিলে। এভাবেই কো-ডিপেন্ডেন্সি তৈরি হয় এবং অনেকদিন ধরে বিষণ্ণতা জিইয়ে থাকার একটি কারনও এই কো-ডিপেন্ডেন্সি।

তবে আপনার সঙ্গীকে মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্যে সাহায্য করা এবং তাকে সামর্থ করা একই ব্যাপার নয়। আদতে, তা অনেকটাই উল্টো। তাদের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহন করতে উৎসাহিত করা এবং তাদের দুর্বল মুহূর্তে পাশে থাকার মাধ্যমে আপনি তাদের আরোগ্য লাভের যাত্রায় সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তাকে সময়মত ওষুধ খেতে মনে করিয়ে দেয়া বা পরামর্শকের কাছে সময়মত যাওয়ার কথা বলাতেই তার সাহায্য করা হতে পারে।

সব কথা গায়ে মাখবেন না

যখন আপনার সঙ্গীটি উত্তেজিত হয়ে কিছু বলছেন, আপনার মনে রাখতে হবে তার কোনও কথাই গায়ে মাখা যাবে না। যদিওবা মনে হতে পারে সে আপনাকে চরম ঘৃনা করে, এটি আসলে সত্য নয়।

বিষণ্ণতার একটি বড় উপসর্গ হল, বাস্তব সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা। জীবনকে এক দুর্বিসহ দাসত্ব মনে হতে পারে আর সবকিছুই বাস্তবের চেয়েও বেশী খারাপ মনে হতে পারে। আপনার সঙ্গীকে এই মনোভাব অসাড় করে ফেলতে পারে। আপনার সঙ্গে বাইরে বেড়াতে যাবার, সুন্দর সময় কাটাবার এমনকি কথা বলার শক্তি বা ইচ্ছা তার চলে যেতে পারে।

এটি আপনার বা আপনাদের সম্পর্কের কারনে হচ্ছে না বরং তারা যেই অসুস্থতায় ভুগছেন তার কারনে হচ্ছে। মনে রাখবেন, বিষণ্ণতায় ভোগা এবং সম্পর্কে অসুখী হওয়া দুটি ভিন্ন ব্যাপার – যদিওবা সর্বদা এটি মনে নাও হতে পারে।

তাদের সময় দিন, খারাপ মুহুর্তগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে

কোনও কোনও দিন অন্য দিনের তুলনায় খারাপ হতে পারে, সবচেয়ে খারাপ দিনগুলি একেবারেই অসহ্য মনে হতে পারে। এরকম সময়ে আপনার প্রয়োজন তাকে কিছু সময় দেয়া, যেন খারাপ মুহুর্তগুলো তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেন। এটা বোঝার চেষ্টা করুন যে তারা ঘুম থেকে উঠেই হতাশ অনুভব করতে থাকেন এবং এই মনোভাবের জন্যে আবার নিজেকে দুষতে থাকেন। এসব দিনগুলোতে বিছানা থেকে ওঠাই চরম কষ্টের হতে পারে।

খারাপ দিনগুলোতে আপনার সঙ্গী হয়ত সারাদিন বিছানায় শুয়ে বা সোফায় বসে টিভি দেখেই কাটাতে পারেন। যদিও আপনি যানেন এটি তাদের জন্যে ভাল না – তবুও বুঝতে চেষ্টা করুন, হয়ত এর চেয়ে বেশি তার পক্ষে আর করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আপনার তাকে সময় দেয়া প্রয়োজন, যেন তিনি এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেন।

তার কাজের তিরস্কার না করে সে যেমন, তেমনিভাবে তাকে ভালবাসা আর গ্রহন করে নেয়াই এসময়ে তাকে সাহায্য করার সবচেয়ে ভাল উপায়। আপনার এই কাজগুলো করা এবং না করার কারনে আপনার সঙ্গী সুস্থ হতে পারেন অথবা আরও খারাপ অবস্থায় চলে যাওয়ার কারন হতে পারে।

নিজের কাজের সীমা নির্ধারন করুন

এটা ঠিক যে, আপনি আপনার সঙ্গীর আরোগ্যের জন্যে যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত। তবে সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি বেশি সময় এবং পরিশ্রম তার আরোগ্যের পেছনে ব্যয় করেন, তবে এক সময়ে আপনার এটি দুর্বিসহ লাগতে পারে। আরও বেশি সময় চালিয়ে গেলে আপনার এটি তীব্র বিরক্তিকরও লাগতে পারে।

আপনার অবস্থান এবং ব্যাক্তিগত বাধ্যবাধতার উপর আপনার সীমা নির্ভর করবে। যেমন – আপনি তাকে প্রতিদিনের ওষুধ খেতে মনে করিয়ে দিতে পারেন কিন্তু তারা আসলে খাচ্ছে কিনা তা আপনি তদারক করবেন না, সেটা হবে আপনার সীমা। কেননা, সময়মত ওষুধ খাওয়া তাদের কর্তব্য – আপনার নয়।

তেমনিভাবে, দুই সপ্তাহে কমপক্ষে একবার আপনি অন্য বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাবেন, যদিওবা আপনার সঙ্গী হয়ত বাড়িতে থাকতেই গো ধরে বসে আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আপনার সঙ্গীকে কিছু সীমা নির্ধারন করে দেয়া এবং পরবর্তীতে সেগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা।

আপনার সঙ্গীকে চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করুন

আপনার সঙ্গীটিকে যেভাবে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন তা হল তাদের চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করা। মুলত, বিষণ্ণতা মস্তিষ্কের রসায়নের সমস্যা। আপনার সঙ্গীটি আহত হলে যেমন আপনি তাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতেন, তেমনিভাবে বিষন্নতার জন্যেও তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া জরুরী। তার আরোগ্য হবার সময়টাতে ধৈর্য্য ধারন করে এবং তার পাশে থেকে তাকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে আপনি সাহায্য করতে পারেন।


দি কেবিন ঢাকা মানসিক সুস্থতার চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে বিশেষায়িত যেখানে বিশেষ বস্তুর প্রতি এবং প্রক্রিয়া আসক্তি উভয়ের উপর এবং পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার নানা দিক যেমন উদ্বেগ, বিষন্নতা, অনুভুতির বৈকল্য, ব্যক্তিত্বের বৈকল্য/রোগ এবং ব্যক্তি ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে না চলতে পারার রোগ ইত্যাদির উপর গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশে এইরকম প্রতিষ্ঠান এই প্রথম। দি কেবিন ঢাকা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাদার চিকিৎসা প্রদানকারীদের  দ্বারা ক্লায়েন্টদের মানসিক সুস্থতার জন্য আধুনিক এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করেন। দি কেবিন ঢাকা বিনামূল্যে প্রাথমিকভাবে ফোনে মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করে থাকে।  আপনি বা আপনার সঙ্গী বিষন্নতায় ভুগলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে পারেন।  এই প্রক্রিয়াটি শুরু করতে ক্লিক করে  যোগাযোগ করুন।

জাদুকর ভালোবাসা

কিছুদিন ধরেই কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে সম্পর্কটা। কোনো কিছুই আর ভালো লাগছে না ইদানিং। আর তাই কয়েক দিন ধরেই ভাবছেন কিভাবে ভালোবাসার সম্পর্কটাকে আরো ‘আনন্দময়’ করে তোলা যায়। দুজনের প্রেমের সম্পর্কটাকে আরো একটু সুন্দর করে তোলার জন্য এবং ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে তোলার জন্য কি করা যায় তাই ভাবছেন এখন।

ভালোবাসার সম্পর্কটাকে ‘জাদুময়’ করে তোলা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। বেশ সহজ কিছু কাজের মাধ্যমেই দুজনের সম্পর্কটাকে করে তুলতে পারেন জাদুকরী।  যে কাজগুলো করতে আমরা ভুলে যাই, কখনো কখনো সেই ছোট্ট কাজগুলোই ভালোবাসাকে করে তোলে দারুণ আকর্ষণীয়। আসুন জেনে নেয়া যাক “জাদুকর ভালোবাসা” তৈরী করার কিছু কৌশল সম্পর্কে।

প্রতিদিন আলিঙ্গন
আলিঙ্গন ভালোবাসাকে করে তোলে ‘প্রাণবন্ত’।  প্রতিদিন আপনার সঙ্গীকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করে রাখুন। অন্তত ১০ সেকেন্ড ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে রাখুন তাকে। এতে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং ভালোবাসা হয়ে উঠবে ‘ম্যাজিক্যাল’।

সঙ্গীর জন্য সপ্তাহে  বিশেষ একটি দিন
সবারই কাজের ব্যস্ততা থাকে। কিন্তু তাই বলে ব্যস্ততার অজুহাত কি সঙ্গীকে দেয়া যায় সবসময়? প্রতিদিনই তো ব্যস্ততার অজুহাতে সঙ্গীর ফোন ধরা হয় না কিংবা দেখা করা হয় না। সপ্তাহের ছুটির দিনটি তো দেয়াই যায় সঙ্গীকে তাই না? যারা পুরো সপ্তাহ ব্যস্ত থাকেন তাঁরা সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে চাইতে সপ্তাহে অন্তত একটি দিন সঙ্গীকে সময় দিন। সেই দিন দুজনে মিলে রোমান্টিক ডিনার করুন অথবা দূরে কোথাও ঘুরতে যান। তাহলে দুজনের সম্পর্ক হয়ে উঠবে ‘ম্যাজিক্যাল’।

ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিন
আপনাদের সম্পর্ক যতই পুরান হোক সঙ্গীকে ভালোবাসার কথা জানাতে কখনই কার্পণ্য করা উচিত না। অনেকেই মনে করেন প্রেমের সম্পর্ক পুরনো হয়ে গেলে ‘ভালোবাসি’ কথাটা না বললেও চলে। কিন্তু নেই ধারণা ভুল। ভালোবাসার সম্পর্কে ‘ম্যাজিক’ ধরে রাখতে চাইতে চিরকালই সঙ্গীকে ভালোবাসার কথা জানানো উচিত।

সারপ্রাইজ দিন
সঙ্গীকে মাঝে মাঝেই সারপ্রাইজ দেয়া উচিত। সারপ্রাইজ শুধু বিশেষ দিনেই দিতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। যে কোনো সময়েই হঠাৎ করে চমকে দিতে পারেন আপনার সঙ্গীকে। সেটা হতে পারে ছোট্ট কোনো উপহার, পছন্দের খাবার রান্না করা অথবা রোমান্টিক যে কোনো কিছু।

নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন
ভালোবাসার সম্পর্কের ‘ম্যাজিক’ অনেকটাই নির্ভর করে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার উপর। প্রেমের সম্পর্কের শুরুতে মানুষ নিজের প্রতি যতটা যত্নশীল থাকে ততটা অনেকদিনের পুরনো সম্পর্কে থাকে না। কাঙ্খিত মানুষটির সাথে সম্পর্ক হয়ে গিয়েছে বলে কি নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই? অবশ্যই আছে। সঙ্গীর জন্য নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন। সঙ্গির পছন্দের আকর্ষণীয় সুগন্ধি ব্যবহার করুন সবসময়। তাহলে ভালোবাসার সম্পর্কটা থাকবে ‘ম্যাজিক্যাল’।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন
আপনি যদি আপনার সম্পর্কটাকে ‘ম্যাজিক্যাল’ করতে চান তাহলে অবশ্যই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ আপনার সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে যাবে যদি হুট হাট আপনি রেগে যান এবং সঙ্গীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেন কখনো। তাই সব সময় চেষ্টা করুন নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার।

নিজেকে প্রানবন্ত রাখুন
সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময় চেষ্টা করুন প্রাণবন্ত থাকার। স্বতস্ফুর্ত ভালোবাসায় দুজনের সম্পর্কটা খুব সহজেই ‘ম্যাজিক্যাল’ হয়ে উঠবে। তাই সঙ্গীর সাথে কাটানো সময় গুলো যেন দুজনের হাসি, আড্ডায় প্রানবন্ত থাকে সেই চেষ্টা করুন। মাঝে মাঝে কিছু নির্দোষ পাগলামীও সম্পর্কে নিয়ে আসে ‘জাদু’।

সময় দিন সঙ্গীকে

নাগরিক জীবন।  নাভিশ্বাস দৌড়।  কর্মক্ষেত্র-পরিবার।  ব্যস্ততা।  একফুটো অবকাশের দেখা মেলা ভার।  নিত্য ব্যস্ততার এই সময়ে আলাদা করে সময় মেলে কী দুজনকে দেয়ার। আর এরই ফাকফোঁকরে দূরত্ব নামক শব্দটি জায়গা করে নেয় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে।  অনেকে হয়তো টেরই পান না দূরত্বের এই উপস্থিতি। তাই ঘোচাতে হবে এই দূরত্বটাকে।  সময় দিতে হবে দুজন দুজনকে।

নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, নতুন অভ্যাস।  হাজার আলোর সম্ভাবনা আর আশা নিয়ে সুখ সাগরে ভাসতে ভাসতে মনটাকে মাঝেমধ্যেই হোঁচট খেতে হচ্ছে।  বিয়ের পরে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেই কিছুটা পরিবর্তন অবশ্যই আসে।  আগের সেই অদম্য উচ্ছল জীবনে কোথাও যেন একটু ইতস্তত ভাব ক্ষণিকের জন্য হলেও জেগে ওঠে।  সত্যি কথা হলো, বিয়ের আগে যেভাবে চলা যেত বিয়ের পর কী সেই একই গতিতে চলা সম্ভব? এখানে নতুন দায়িত্ববোধের একটা ব্যাপার আপনাআপনিই এসে জড়িয়ে যায়।  অনেকের মনেই ভাবনা থাকে—বিয়ের পরে মানিয়ে নিতে পারব তো? আমাকে মানিয়ে নিতে পারবে তো সে? কেমন হবে তার চালচলন? বিয়ের পরে আমার উপরে আমার কর্তৃত্ব ফলাবে না তো? এমন নানা ধরনের আশঙ্কাই মনের কোণে উঁকিঝুঁকি দেয় তখন। এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান সঙ্গীকে সময় দেওয়া। সুখী দাম্পত্যজীবন চাইলে বিয়ের পরে সংসারজীবনে স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত।

একটা ঘটনা বলা যাক।  মিতু আর নিলয়ের নতুন বিয়ে হয়েছে।  ভীষণ ব্যস্ত দম্পতি ওরা।  একজন কর্পোরেট অফিসের উচ্চ পদস্থ অফিসার।  আরেকজন ব্যবসা চালায়।  একজনের যখন কাজের অবসর মেলে আরেকজন তখন অফিসের কাজে বিদেশ সফরে ব্যস্ত থাকে।  মাঝে মাঝে সহকর্মীদেরই স্বামী বা স্ত্রীর থেকে বেশি আপন মনে হয় ওদের। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যকার দূরত্বটা যেন বেড়েই চলেছে।

যেখানে মিতু-নিলয় দম্পতিদের মতো স্বামী বা স্ত্রীর একজন বা দু’জনই চাকরি করেন সেখানে দু’জনার ব্যস্ততা থাকবে, ব্যস্ততার মধ্যে একটা ফারাকও থাকবে।  ব্যস্ততাকে দাম্পত্যের নিত্যসঙ্গী ধরে নিয়েই নিজেদের জন্য সময় বের করার প্ল্যানিং করুন।  দাম্পত্য যদি আপনার প্রায়োরিটি হয় তাহলে আপনি সফল হবেনই।  মনে করে দেখুন তো বিয়ের আগের দিনগুলো কেন একে অপরকে ভালো লেগেছিল।  হয়তো তার উদার মন, খোলা হাসি ভালো লাগত।  সেই পুরোনো ভালোলাগাগুলোই ধরে রাখার চেষ্টা করুন কিংবা রিক্রিয়েট করুন। সপ্তাহান্তে দু’জনে চলে যান ভালোলাগে এমন কোনো জায়গায়। সঙ্গে বন্ধুবান্ধব কাউকে নেবেন না।  সংসারী আলাপ বাদ দিয়ে এদিন হবে শুধুই আড্ডা। স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো কথা ঘুরেফিরে আসবে।  তখন ভালোলাগা মুহূর্তগুলো শেয়ার করতে ভুলবেন না।  স্বামী যখন ট্রাভেল করছেন তখন মাঝে মাঝে তার সঙ্গী হতে পারেন। পুরোটা না হোক কিছুটা সময় তো একসাথে কাটবে।  নিজের লম্বা ট্যুর থাকলে স্বামীকেও সাথে নিন।  সন্ধ্যেটা একটু স্পেশাল করে প্ল্যান করুন।  সুস্বাদু ডিনার, সুন্দর কোনো গিফট আর লং ড্রাইভ—সম্পর্কের সুতোটাকে আরও মজবুত করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দাম্পত্য জীবনে কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময়ের খুব প্রয়োজন।  তাহলে অনেক ব্যস্ততার মধ্যে পুরনো সেই দিনের মতো এখনও ভালোবাসার রেশ থাকে সম্পর্কে।  সম্পর্কে ভালোবাসা রাখতে দুজন দুজনকে দিতে হবে সময়।  করতে হবে শ্রদ্ধা।

একটুকু সময় নিজেদের

সারা সপ্তাহেই ব্যস্ততা। এর মধ্যেও দুজন দুজনের জন্য খানিকটা সময় রাখতেই পারেন।  অফিস থেকে ফেরার পথে স্বামী-স্ত্রী কোনো কফি শপে গিয়ে কফিতে চুমুক দিতে দিতে কিছু মুহূর্ত কাটাতে পারেন। তখন সংসারের হালচাল, সন্তানের ভবিষ্যৎ কিংবা অফিসের সমস্যাগুলো ছাপিয়ে নিজেদের জন্য একটু সময় দিন। গুণগত সময় মানেই পরিবারের জন্য একান্ত কিছু সময়, যে সময়টুকুতে সব ধরনের সমস্যা দূরে সরিয়ে শুধু ভালোবাসার আবেশে থাকবেন দুজন।

দূরত্ব বুঝতে হবে

অনেকে তো বুঝতেই পারেন না, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলাফলে কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ কিংবা ভার্চুয়াল জগতের হাতছানি। এটি যেন না হয়। হাজারো কাজের মধ্যে একটি দিন বেছে নিন। সেই দিনে স্বামী-স্ত্রী বাইরে ঘুরতে যেতে পারেন। রাতে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতে পারেন। অল্প আয়োজনে রিকশায়ও আইসক্রিম খেতে খেতে গল্প করতে পারেন।  ছুটির দিনে কোথাও বেড়াতে না গেলেও সঙ্গীর সঙ্গে বাড়িতে বসে সিনেমা দেখতে পারেন। বন্ধুদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করতে পারেন।

কোয়ালিটি টাইম কথা

শুধু স্ত্রী একাই কোয়ালিটি টাইম নিয়ে ভাববেন, তা নয়। পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য দুজনেরই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষ করে স্বামীদের। তারা অনেক সময় মনে করেন, সব দায়িত্ব শুধু স্ত্রীদেরই। বিষয়টি তেমন হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ ভাবেন, দামি উপহার কিংবা কেনাকাটার টাকা দিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ। বরং স্ত্রীকে হঠাৎ তার প্রিয় কোনো ফুল, বই বা ছোট্ট কিছু দিয়ে অবাক করে দিতে পারেন। ব্যস্ততার মধ্যেও যে তাকে মনে রেখেছেন, এতেই স্ত্রী খুশি হবেন। কাজ তো থাকবেই, তবুও অফিস থেকে ফিরে একসঙ্গে এক কাপ চা তো খাওয়াই যায়।

শ্রদ্ধা থাকুক পারস্পরিক

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে শ্রদ্ধা! অবাক হতে পারেন। এটা তো শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক নয় রে বাবা।  কিন্তু মনে রাখতে হবে শ্রদ্ধাতে-ই শ্রাদ্ধ হয় না সম্পর্কের।  সঙ্গীকে সময় দিচ্ছেন, তার মনের চাওয়া-পাওয়াকে শ্রদ্ধা করেই তো ঘড়ির কাঁটার কাছ থেকে আপনার এই সময় ছিনিয়ে নেয়া।  তাই সবসময় শ্রদ্ধা থাকুক পারস্পরিক।

সম্পর্কটা থাক সতেজ
দম্পতি; হোক সে নতুন বা পুরোনো, সম্পর্ক হতে হবে সব সময়ই সতেজ।  স্নিগ্ধতায় ভরা।  মধুময়।  স্বামী কাজে ব্যস্ত।  দৈনিক আট ঘণ্টা অফিস শেষে বাসায় পৌঁছাতে আরও দেরি।  স্ত্রী সারা দিন বাসায় একা। টিভি দেখা, ম্যাগাজিন পড়া, ফোনে কিছুটা সময় কাটানো। তার পরও কিছু করার নেই।  সবাই ব্যস্ত।  এত ব্যস্ততার মধ্যে একাকিত্ব কাটানোর জন্য আপনি ফেসবুককে সঙ্গী করে নিলেন। ক্রমেই আপনার একাকিত্ব কেটে যেতে থাকল। স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, চ্যাটিং করছেন, অন্যের স্ট্যাটাস ও ছবিতে লাইক করছেন, কমেন্টস করছেন—মনের ভাব বিনিময় হচ্ছে। বন্ধুত্ব গাঢ় হতে থাকল। এরপর সম্পর্ক শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ থাকল না। ক্যাফে, শপিং মলে আড্ডাও চলে।  এখন স্বামীর অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেন না, কিন্তু একটা সময় যদি স্বামীর মনে খটকা লাগে বা নিজেই যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন, তবে এই নতুন সম্পর্কের কী নাম দেবেন?
এ ধরনের সমস্যায় কি বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরবে আর নতুন সম্পর্ক অটল হয়ে থাকবে? অযথা সন্দেহের আবর্তে স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব কি বাড়তেই থাকবে?

দুজনে মিলে যা করতে পারেন
স্ত্রী যখন তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে চান, তখন তাঁকে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। এই স্বাধীনতা তাঁকে দিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় স্বামী যদি একটু সময় বের করে স্ত্রীকে দেন। সময় অল্প হলেও আন্তরিকতা থাকলে বা কোয়ালিটি সময় দিলে স্ত্রীর মনে স্বামীকে নিয়ে আর খারাপ লাগা থাকবে না। কাজের ফাঁকে ছুটি নিয়ে কোথাও একবেলার জন্য ঘুরে আসতে পারেন। সব সময় যে কারণ ধরেই যেতে হবে এমন নয়, অকারণ পাগলামিতে অভিমানের বরফ গলে যায়।  আর ব্যস্ততার মাঝেও ফেসবুকে নিজেরা চ্যাটিং করতে পারেন।  নিজেদেরও সময় দিন। ঘরের মধ্যে নিত্যদিনের সংসারসঙ্গীর সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের খানিক সময়ের ভাববিনিময় আরও প্রাণময় করবে দুজনকে।

সচেতন থাকুন
নিজের মনের অগোচরে যদি কোনো নতুন ‘বিশেষ’ সম্পর্ক উঁকি দেয় বা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে প্রথমেই তা সামলে নিন। ফেসবুকসহ অন্য সব যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম প্রতারণা বাড়ছেই।   ফেসবুকে অনৈতিক নানা প্রস্তাবও পেতে পারেন বন্ধুদের কাছ থেকে। ইদানীং দেশেও এ চক্র সক্রিয়। মানবমনের আকাঙ্ক্ষা বড় বিচিত্র। মনে রাখতে হবে, এই চক্রগুলো সক্রিয় আমাদের নানা গোপন আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরেই। এসব বিষয় সব সময় মাথায় রাখতে হবে।  স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও আন্তরিক হতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে । ক্ষণিকের ভুলে যেন সারা জীবন কষ্ট পোহাতে না হয়।  স্বামী-স্ত্রী পরস্পর খোলাখুলি আলাপ করতে পারেন।

যা কখনোই করবেন না
সংসার মধুময় বন্ধন। এ ধরনের ফেসবুক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্মল বন্ধুত্বের সীমা কখনোই যেন অতিক্রম না করে।   জীবন চলার পথে পুরোনো কোনো ঘনিষ্ঠতম বন্ধুর সঙ্গে আবার আলাপ-পরিচয় হতেই পারে। এ নিয়ে আবেগের বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেবেন না। সহজভাবে নিন। ওই বন্ধুর কথা আপনার জীবনসঙ্গীকেও জানান। আড়াল করার দরকার নেই। বন্ধুকে বন্ধু হিসেবেই রাখুন।   ফেসবুক হোক আর ই-মেইলেই হোক, কোনো ধরনের বিব্রতকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে দ্রুত সঙ্গীকে জানান। দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন।
আপত্তিকর ছবিসংবলিত কোনো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এলে সেটা এড়িয়ে যান। এটাই সর্বোত্তম পথ।   যেসব একাউন্ট থেকে আপত্তিকর ছবি, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হয়, সেগুলো পরিহার করুন।

ট্রেডিশনাল ঘটক বনাম বিবাহবিডি ডট কম

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও নারীর জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হচ্ছে ‘বিবাহ’ এবং দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রতিটি মানুষের থাকে বিভিন্ন রকম আশা ও স্বপ্ন। একটি বিয়ে শুধু দুজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তৈরী করে দুটি পরিবারের মধ্যে সামাজিক বন্ধন। তাই একটি পরিবার সামাজিক ভাবে আরেকটি পরিবারের সাথে বন্ধন তৈরীর পূর্বে অনেক হিসেব নিকেশ করে থাকে।  এজন্য সঠিক ও যোগ্য পাত্র/পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবার নিজেদের চাহিদাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে বারংবার, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত আবেগ বা আপোসকামীতা বয়ে আনতে পারে দুটি জীবনে অসহনীয় যন্ত্রনা ।

পরিবারের কোন সদস্যের বিয়ের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী নির্বাচনে আমরা সাধারনত সাহায্য নিয়ে থাকি নির্ভরযোগ্য কোন মাধ্যমের। কখনো তা নিকট আত্মীয়, কখনো প্রফেশনাল ঘটক, আবার কখনো প্রযুক্তি নির্ভর অনলাইন ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব পোর্টালের।

প্রশ্ন হচ্ছে সম-সাময়িক বিবেচনায় ঘটক কিংবা ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব পোর্টাল বিবাহবিডি ডট কমের মধ্যে কোনটি বেশী গ্রহন যোগ্য, আস্থাশীল এবং দ্রুততর? বিবাহবিডি উপস্থাপন করছে এমনই তুলনামূলক কিছু তথ্য যা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়ক হবে।

আসুন দেখি একটি তুলনা মূলক পার্থক্য –

১।  নিবন্ধনঃ


ঘটক: একজন শহরের প্রফেশনাল ঘটকের কাছে পাত্র-পাত্রীর বায়োডাটা জমা দেয়ার সময় নিবন্ধন ফী হিসাবে প্রথমেই এককালীন ফী দিতে হয় যা ক্ষেত্র বিশেষে ৩ থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি ডট কম মূলত পাত্র-পাত্রী খোঁজার ও সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি করা একটি অনলাইন বেইজ সার্চ ইঞ্জিন। এখানে রেজিষ্ট্রেশন সম্পূর্ন ফ্রী। যে কেউ বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে সহজেই ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রফেশন, প্রোফাইল ভ্যারিফিকেশন এর উপর ভিত্তি করে বিবাহবিডি একটি ইউজার গ্রেড নিশ্চিত করে তারপরই প্রোফাইল এক্টিভেট করে এবং ৩ দিনের ফ্রী ট্রায়াল মেম্বারশীপ প্রদান করে, যেনো ব্যবহারকারী লগিন করে পছন্দের প্রোফাইল গুলো দেখে সহজেই বাছাই করতে পারে।

২।  পছন্দ ও যোগাযোগঃ


ঘটক: এক জন ঘটকের কাছে নিবন্ধন পরবর্তীতে প্রতিবার পাত্র-পাত্রীর সন্ধান ও মুখোমুখি সাক্ষাতের জন্য আপনাকে গুনতে হবে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।  ফলে আপনি চাইলেও সময় ও অর্থের কথা ভেবে খুব বেশী যাচায় বাছাই করার সুযোগ পাবেন না।  এক্ষেত্রে আপনার পছন্দের ব্যাপারে ঘটকের উপরই নির্ভর করতে হবে।  নিত্যনতুন বায়োডাটা দেখতে ও নিজেরাই পাত্র-পাত্রী কিংবা অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার কোন সুযোগ ঘটকের কাছ থেকে পাওয়া যায় না।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি পাত্র পাত্রীর মধ্যে কোন রকমের মধ্যস্থতা করে না। এখানে আপনি নিজেই ঘরে বসেই কম্পিউটারে/মোবাইলে বিবাহবিডির ডাটাবেইজের সর্বশেষ সংগ্রহিত/ এক্টিভেট করা প্রোফাইল গুলো দেখে পাত্র-পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এজন্য বিবাহবিডিতে রয়েছে ৪ টি সহজলভ্য বিভিন্ন মেয়াদী মেম্বারশীপ প্যাকেজ। যার মাধ্যমে পাত্র-পাত্রীর পরিবার একে অন্যের সাথে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করতে পারে।

৩।  বায়োডাটা সংগ্রহ ও ব্যাপ্তিঃ


ঘটক: একজন ট্রেডিশনাল ঘটক নির্দিষ্ট একটি এলাকা/মহল্লার মধ্য সীমিত তথ্য নিয়ে তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে থাকে এবং অতি সনাতন পদ্ধতিতে।

বিবাহবিডি ডট কম:  বিবাহবিডি সম্পূর্ন অনলাইন ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করে। তাই বিশ্বের যেকোন দেশ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে  পাত্র-পাত্রী বা অভিভাবকেরা প্রোফাইল দেখে নিজেরাই সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।  তাই এর ব্যাপ্তি বিশ্বব্যাপী এবং তা সমকালীন একটি আধুনিক সেবা।

৪।  বায়োডাটার তথ্য যাচাই ও সত্যতাঃ


ঘটক: প্রফেশনাল ঘটকের কাছে যে বায়োডাটা থাকে তা কতটুকু গ্রহনযোগ্য, তার সত্যতা নিয়ে আপনার সংশয় থাকতে পারে।  এবং একজন ঘটক কখনোই তার গ্রাহক প্রদত্ত বায়োডাটা গুলোর ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব নেয় না।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি প্রোফাইল এক্টিভেট/সক্রিয় করার পূর্বে নিজস্ব কাষ্টমার সাপোর্ট টিম দ্বারা তা ভেরিফাই করে এবং পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার তারপরই একটি প্রোফাইল একটিভ করে।  এক্ষেত্রে প্রোফাইল ভেরিফিকেশনের  জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র / জন্ম নিবন্ধন / একাডেমিক সার্টিফিকেট/ প্রবাসীদের জন্য ভিসা, পাসপোর্ট / ডিভোর্সদের জন্য ডিভোর্স সার্টিফিকেট যাচাই করন বিবাহবিডিতে বাধ্যতামূলক।

৫।  প্রোফাইল সার্চ ও ম্যাচমেকিং :


ঘটক: সাধারনত একজন ঘটক তার কাছে থাকা সীমিত বায়োডাটার মধ্যেই আপনার সঙ্গী খুঁজার জন্য আপনাকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে থাকে এবং এতে ক্ষেত্র বিশেষে ভুল সঙ্গী বাছায়ের সম্ভাবনা থাকে।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডিতে আপনি আপনার পছন্দের প্রফেশন, পাত্র-পাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা, আর্থিক অবস্থা, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান অবস্থান, বর্ন, গোত্র, ধর্ম সহ ১৮ টি সার্চ ক্যাটাগরীর মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী কাংখিত সংঙ্গীকে সহজেই খুঁজতে সক্ষম হবেন।  তাছাড়া আপনার প্রদত্ত সঙ্গী বাছাইয়ের বিবরন ( পার্টনার প্রেফারেন্স) এর সাথে মিলিয়ে বিবাহবিডি সার্চ ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডাটাবেইজের সেই সব প্রোফাইল খুঁজে আপনার সামনে এক নিমিষেই হাজির করে।

৬।   বিবাহ ঠিক হলে সার্ভিস চার্জঃ


ঘটক: একজন ঘটকের মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদনের পর আপনাকে মোটা অংকের চুক্তি ভিত্তিক অর্থ প্রদান করতে হয়, যা ২০ হাজার থেকে কখনো লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বিবাহবিডি ডট কম: বিবাহবিডি থেকে আপনি জীবন সঙ্গীখোঁজে পাবার পর বিবাহবিডি আপনার কাছে কখনোই কোন সার্ভিস চার্জ দাবি করবেনা। বরংচ বিবাহবিডিতে আপনার সাকসেস ষ্টোরী শেয়ার করলে বিবাহবিডিই অাপনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আপনার ঠিকানায় গিফট পাঠাবে।

সম্মানিত পাঠক, আশাকরি আপনারা উপরোক্ত অালোচনা ও পার্থক্য গুলো থেকে সহজেই সঠিক বিষয়টি অনুধাবন করে নিজেরাই যথাযথ সিদ্ধান্তে উপনিত হতে সক্ষম হবেন।

পারিবারিক বিয়ে বনাম প্রেমের বিয়ে

দৃশ্য ১ঃ  রাত ৯ টা।  রুমা একা বসে অপেক্ষা করছে শাহেদের জন্য। এরই মধ্যে ৫ বার ফোন দেয়া হয়ে গেছে অথচ শাহেদ ফোন ধরেওনি বা কলব্যাক করেনি।  অথচ বিয়ের আগে শাহেদ এমন ছিল না।  টানা ৩ বছরের প্রেম তারপর বিয়ে। তখন তো প্রতি আধাঘন্টায় একবার ফোন করত।  বিয়ের পর সব কেমন যেন আলাদা।

দৃশ্য ২ঃ  রুপম এক বন্ধুর বাড়ীতে। অনেকদিন পর পুরনো বন্ধুরা সব এক সাথে হয়েছে। চুটিয়ে তাস খেলা হচ্ছে।  কিন্তু রুপম একটু বিরক্ত সাথীর ওপর। একটু পর পর কল দিয়ে যাচ্ছে। অথচ রুপম আগেই বলেছিল আজ বাসায় ফিরতে দেরী হবে, তারপরও ফোন দেয়ার কি মানে। বিয়ের আগে ৪ বছর যেমন করত এখন কি তেমন করার কোন মানে হয়। বন্ধুদের সাথে একটু শান্তিতে সময় কাটাতে দিবে না।

দৃশ্য ৩ঃ একবছর হল তিথির সংসার কিন্তু আজো সে কবির কে বুঝতে পারলো না। না ভালোবাসার বিয়ে না।  দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে।  তিথি আগেই ঠিক করে রেখেছিল যে অনেক ত্যাগ করতে হবে, কিন্তু এই একবছরে সম্পর্ক এক ইঞ্চিও উন্নতি হয়নি। এখন ভাবে বিয়ের আগে প্রেম থাকা বা অন্তত পরিচয় থাকাটা খুব জরুরী।

দৃশ্য ৪ লিখলাম না কারন এটাই আলোচনার বিষয়।  কোন ধরনের বিয়ে ভালো, প্রেমের বিয়ে না পারিবারিক? এই প্রশ্নটা শুধু আমার না, বরং আরো অনেকের। রীতিমত বই লিখে ফেলা হয়েছে। বেশীর ভাগ মানুষ মনে করে (সারাবিশ্বের) যে প্রেম করে বিয়ে করাটা নিরাপদ। তাতে জেনে, শুনে, বুঝে একজনকে বিয়ে করা যায়।  কিন্তু লাখ টাকা দামের প্রশ্ন হলো তাহলে প্রেমের বিয়েতে বিচ্ছেদের হার পারিবারিক বিয়ের দশগুন বেশী কেন?

প্রেমেরবিয়ে ছেলে এবং মেয়ে পস্পরকে চেনা ও জানার অধিক সুযোগ এবং স্বাধীনতা দেয়। তারা পস্পরকে অনেকদিন ধরে জানে বোঝে, পস্পরের শক্তি এবং দুর্বলতা সমন্ধে নিশ্চিত হয় এবং তারপর তারা ঘর বাঁধার কথা ভাবে। তাই স্বাভাবিক ভাবে বিয়ের পরের জীবনে তারা এইভাবে চলতে পারে এবং যে কোন সমস্যা, বিপদে আপদে পাশে দাড়াতে পারে। পস্পরের পছন্দ অপছন্দ সমন্ধে জানা থাকায় সেভাবে মেনে চলতে কোন সমস্যা হয়না। তাই তারা খুব সহজেই মানিয়ে চলতে পারে। তাই বিবাহিত জীবন তাদের জন্য স্বর্গীয় প্রমানিত হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরোই আলাদা।

পক্ষান্তরে, পারিবারিক বিয়ের প্রেক্ষাপট পুরো আলাদা।  ছেলে মেয়ে পস্পরকে ভালোভাবে চেনেনা জানেনা। তারা সব সময় দ্বিধার মধ্যে থাকে।  কারন, জানে না কার কোনটা ভালো লাগবে, কোনটা লাগবে না। কে কি পছন্দ করে আর কোনটা করে না। তাই একে অন্যকে সাহায্য সহযোগীতা করতে সমস্যা হওয়ার কথা।  বিবাহিত জীবন কাদের কাছে যন্ত্রণার আরেক নাম হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব তা বলে না, অন্ততঃ পরিসংখ্যান।

এ বিষয়ে সমাজ বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট সহ বহু লোক বহু কথা বলেছে এবং তাদের কথা গুলো আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মনে হয়েছে।  তাদের মতে সফল বিয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন দুইটা বিষয় হল ত্যাগ এবং অভিযোজন ক্ষমতা। প্রেমের বিয়েতে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের চাহিদা অত্যন্ত বেশী থাকে এবং চাহিদা ও প্রাপ্তির মধ্যে যে ব্যাপক দুরত্ব দেখা দেয় তা দূর করার সামর্থ্য তাদের থাকে না। যার পরিনতি সম্ভাব্য বিচ্ছেদে গড়ায়।  পক্ষান্তরে, পারিবারিক বিয়েতে চাহিদা সর্বনিম্নস্তরে থাকে যে কারনে অপ্রাপ্তির বেদনা সহসাই আসেনা। প্রেমের বিয়ে এবং পারিবারিক বিয়ের কিছু সম্ভাব্য বিশ্লেষন নিম্নরূপ।

ভালোবাসা কি? মস্তিস্কের নিউরনে কিছু রাসাযনিক বিক্রিয়া। প্রকৃতিকে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে, যার জন্য তার দরকার নতুন প্রাণ।  তাই যখনি মানব সম্প্রদায় সেই সক্ষমতা লাভ করে তার ভেতর সেই বিক্রিয়া শুরু হয়। তাই আমরা সিনেমার মত অপেক্ষা করতে শুরু করি সঠিক মানুষটির জন্য। কিন্তু জীবন সিনেমা নয় তাই মানুষটি সঠিক কিনা সহসাই বুঝতে পারিনা, কারন মস্তিস্কের সেই রাসায়নিক বিক্রিয়া।  আমার এই লেখার মূল উদ্দেশ্য পারিবারিক বিয়ের সাফল্যের রহস্য কারন তার মূলেই আছে প্রেমের বিয়ের ব্যর্থতার কারন।

পারিবারিক বিয়ের সপক্ষে ও বিপক্ষে কিছু কথাঃ

সপক্ষেঃ
১) আধুনিক পারিবারিক বিয়েতে সঠিক পাত্র খুজে বের করার জন্য সম্ভাব্য সকল বিষয় বিবেচনা করা হয়। ছেলে বা মেয়ে কি করে, ছেলে ও মেয়ের পরিবার, শিক্ষা, অর্থ, সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা, চরিত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। যার ফলে জুটির সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
২) যেকোন সমস্যা, বিপদে আপদে তারা পরিবারের পুরো সহযোগীতা পায়, যার ফলে সম্পরক সহজে ভেঙ্গে পড়েনা।
৩) ছেলে এবং মেয়ের পরিবারের ভেতর আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিল থাকার কারনে তাদের অভিযোজন করতে বা মানিয়ে নিতে সুবিধা হয়।
৪) এ ধরনের বিয়ে তখনি হয় যখন ছেলে ও মেয়ে বিয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে।

বিপক্ষেঃ
১) জোর করে বিয়ে দেয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটে, যার পরিনতি ভয়ঙ্কর হয়।
২) অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বিয়ে দেয়া হয় যা অসুখী দাম্পত্য জীবনের সূত্রপাত ঘটায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজনের বিয়েতে সাফল্যের হার ৯৫% যেখানে প্রেমের বিয়েতে যা ৪৫-৫০%।

পারিবারিক বিয়েতে কি মেয়েদের অসম্মান করা হয়?
হয়তো, তবে প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে পশ্চিমা মেয়েদের যে পরিমান কষ্ট করতে হয় তার তুলনায় অনেক কম। কারন পশ্চিমা ছেলেরা মেয়ের শিক্ষা, গুন, যোগ্যতা কিছুই দেখে না।  শুধু দেখে মেয়ের ফিগার কেমন। পশ্চিমে তাই মোটা মেয়েদের বিয়ে হয়না।  মেয়েরা প্রচুর পরিশ্রম করে নিজেদের ফিগার ঠিক রাখার জন্য।  আমাদের সমাজে মেয়ের চোখ, নাক, দাঁত দেখে ঠিক ই কিন্তু এটাও ঠিক যে সেই সাথে মেয়ের গুন, শিক্ষা, পরিবার দেখেও বিয়ে হয়।  এখানে তা হয় না।  শরীর সব কথার শেষ কথা।  এখানে ছেলেরা মেয়েদের টীজ করে না ঠিক ই তবে তাদের শরীর নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলে যা আজো আমরা বলতে পারিনা।  কারন এটাই এখানে স্বাভাবিক।

পারিবারিক বিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের সম্মান, সামাজিক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তবে পারিবারিক বিয়ে কখনোই সুখী বিবাহিত জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করেনা। তবে এটাই অত্যধিক সফল।

বিবাহ বিচ্ছেদের কারন সমূহঃ
বিবাহ পরবর্তী জীবনে যে পরিবর্তন আসে না সহজে মানুষ মেনে নিতে পারেনা। কারন প্রেমের সময় মানুষের ভেতর যে আবেগ কাজ করে তা আস্তে আস্তে কেটে যেতে শুরু করে এবং বাস্তবতার নিরীখে পরস্পরকে বিচার করতে শুরু করে যা তাদের আগের নিরীক্ষার সাথে মেলেনা। শারীরিক ভালোবাসা বাস্তবের প্রয়োজনের কাছে পরাজিত হতে শুরু করে।  তাছাড়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মানুষ দুটি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক পটভূমির, যা তাদের অভিযোজন করতে বেশ কষ্ট হয়।  প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষ বিশ্বাস করে যে তাদের ভালোবাসা যেকোন পাহাড় পাড়ি দিতে পারবে কিন্তু বাস্তবে তারা পস্পরকে নতুন করে চিনতে শুরু করে এবং প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তির বিশাল ঘাটতি তাদের দ্রুত মাটিতে নেমে আস্তে বাধ্য করে।

কিন্তু পারিবারিক বিয়েতে আভিযোজন করতে সুবিধা হয় কারন তারা প্রায় এক ই পরিবেশে মানুষ, তাছাড়া তাদের ভেতর পরস্পরকে চেনার এবং জানার যে প্রয়োজন কাজ করে তা তাদের ত্যাগ এবং অতিরিক্ত আকাংক্ষার ঘুড়িতে লাগাম দেয়। তারা পস্পরের ভুল ত্রুটি গুলোকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারে। বিয়ের আগে ও পরের তুলনায় যেতে পারে না।

কিছু কারন:
১. বিয়ের আগের এবং পরের জীবনে যে পার্থ্যক্য তার সাথে মানিয়ে নিতে না পারা।
২. প্রেমের বিয়েতে ছেলে এবং মেয়ের প্রায় সমবয়সী হয়। তাদের মানসিক বয়স সমান হয়না। তাই অনেক ক্ষেতে দেখা যায় ছেলেটি বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।
৩. প্রেমের বিয়েতে যৌনতা বড় ভূমিকা রাখে। দেখা যায় তারা এই প্রযোজন পূরনে দ্রুত বিয়ে করে ফেলে যখন তারা সংসার করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
৪. ভিন্ন সামাজিক পরিবেশের মানুষ তখন অন্যের পরিবেশে অসচ্ছন্দ বোধ করা শুরু করে। ফলে পরিবারের সাথে দূরত্ব সৃ্টি হয় যার পরিনতিতে নিসঙ্গতা এবং দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব।
৫. সঙ্গীকে ধোঁকা দেয়া বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারন। স্বামী বা স্ত্রীর বাইরে মানুষের একাধিক মানসিক বা শারীরিক সম্পরক থাকতে পারে। আমাদের দেশে এ ব্যাপারে কোন পরিসংখ্যান নেই, তারমানে আমরা এমন না তা ভাবার কোন কারন নেই। যারা এ ব্যাপারে পরিসংখ্যান আছে তা শুনলে বেশ ভয় পাবার কথা। আমেরিকার ৯০% মানুষ পরকীয়া প্রেমে বিশ্বাসী যাদের মধ্যে ৩৭% পুরুষ এবং ২২% মেয়ে তাদের সঙ্গীকে ধোঁকা দেয়। যুক্তরাজ্য এবং কানাডার পরিসংখ্যান প্রায় এক ই।

উপমহাদেশে বিবাহবিচ্ছেদ বৃদ্বির কারন সমূহঃ
আমাদের উপমহাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কত বেড়েছে তা ঠিক বলতে পারব না তবে গত দশকের চেয়ে তা প্রায় ৯% বেড়েছে। কারন গুলো মোটামুটিঃ
১. বিবাহবিচ্ছেদের সামাজিক গ্রহন যোগ্যতা বৃদ্ধিঃ আমাদের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ কে এখন স্বাবাভিক ভাগে গ্রহন করতে শুরু করেছে, তাই আগে যারা শুধু সমাজের কথা চিন্তা করে কষ্টকর জীবন টিকিয়ে রাখতো তারা তা না করে ভেঙ্গে দিচ্ছে যা আমাদের সমাজ ব্যবস্থার উন্নতি একটি ভালো লক্ষন।
২. মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাঃ মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, যে কারনে তারা অসুখী দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখতে উৎসাহী নয়।
৩. নিসঙ্গতাঃ যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরায় মানুষ এখন অনেক বেশী নিসঙ্গ আর বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তাদের পস্পরকে সময় দিতে ব্যর্থতা।  যার পরিনতি বিবাহ বিচ্ছেদ।
৪. বিয়ের ব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনঃ বিয়ের ব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে যার ফলে বিয়ে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যো্গ নিতে অনেকেই অনুৎসাহী।
৫. কর্মজীবি স্বামী-স্ত্রীঃ স্বামী স্ত্রী উভয়েই কাজ করার কারনে তারা পস্পরকে সময় দিতে পারে না, তাছাড়া সংসারের কাজের দায়িত্ব ভাগাভাগিতে অনীহা।  অফিসের কাজের ব্যাপক চাপ যা প্রভাব দাম্পত্য জীবনে যার পরিনতি ঝগড়া, কলহ এবং বিচ্ছেদ।
৬. পেশাগত প্রতিদ্বন্দীতাঃ পেশাগত প্রতিদ্বন্দীতা বিবাহ বিচ্ছেদের বড় কারন যেটা মূলতঃ শহর এলাকায় দেখা যায়। তবে সবচেয়ে প্রকট পশ্চিমে। ছেলেরা সাধারনত তাদের চেয়ে বেশী আয় করে এমন মেয়ের সাথে সংসার করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না এবং মেয়েরা তাদের চেয়ে নিম্ন আয় করে এমন ছেলেকে স্বামী হিসেবে সম্মান করতে পারে না। যার কারনে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ আয়ের মেয়েরা সারাজীবন সংসার করতে পারে না।

সারা বিশ্বে বিবাহ বিচ্ছেদের হার ঃ
MAP:
Divorce Rates Around The World  By Pamela Engel, May 25, 2014
বিজনেস ইন্সাইডার ডট কম এর প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিভোর্সের কারনঃ

বিবাহবিডি ডট কম, সম্প্রতি “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ নির্নয়” শিরোনামে প্রশ্ন ভিত্তিক একটি জরিপ পরিচালনা করে।  এতে অংশ গ্রহন করেন ৪১২ জন।  যার মধ্যে ছিলেন দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছ্যেদ নেয়া ১০৪ জন ব্যাক্তি।   উক্ত জরিপের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশী বিভাগীয় ও জেলা শহরে বসবাসকারীদের মাঝে যা যথাক্রমে বিভাগীয় শহরে ৪৯.০৩ % ও জেলা শহরে ৩৫.৫% ।

এবং উচ্চ শিক্ষিত নাগরিকদের মাঝেই বিচ্ছেদের প্রবনতা উল্লেখযোগ্য হারে বেশী – যা উচ্চতর ডিগ্রী ৪৯.৪২%, স্নাতক / সম্মান / সমসমান ৩৬.৫৮% , উচ্চ মাধ্যমিক বা সম সমান ৯.২% ।  জরিপে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ৫৮.৬৫% চাকুরীজীবি ও ২০.১৯% ব্যবসায়ী তাছাড়াও  ৪.৮১% প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন।  যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা মধ্যবিত্ত ৭২.১২ %,  নিম্ন মধ্যবিত্ত ১৭.৩% , উচ্চ বিত্ত ৪.৮% ও নিম্ন বিত্ত ৭.৭৬% ।

জরিপে অংশগ্রহনকারী (৪১.৪% যৌথ পরিবার, ৫৯% একক পরিবার থেকে আসা ) ডিভোর্স ব্যাক্তিদের প্রশ্ন করা হয় কিভাবে তাদের সংগীর সাথে পরিচয়ের সুত্রপাত (বিয়ের সম্মন্ধ) হয়েছিলো।  এর মধ্যে,  ৩০.৭৬% এর পরিচয় হয় নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে, ২৫ % এর পরিচয় হয় ট্রেডিশনাল ঘটকের সাহায্যে, ও ৪৩.৩% প্রেম ঘটিত পরিচয় ও অনলাইন ম্যাট্রিমনি বা স্যোশাল মিডিয়ায় পরিচয় হয় মাত্র ১.৯২% ।

অংশগ্রহন কারী ৪৬% মনে করেন সঙ্গীর সাথে বয়সের পার্থ্যক্য ৫ বছরের কম হওয়া ভাল আর ৩১% মনে করেন সঙ্গীর সাথে বয়সের পার্থ্যক্য ১০ বছরের বেশী হওয়া উচিত নয়।  তবে বেশীর ভাগ অংশগ্রহন কারীই মনে করেন, অতিরিক্ত বয়সের পার্থ্যক্য বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারন নয়।

জরীপে অংশগ্রহনকারীদের প্রশ্ন করা হয় – কোন বিষয় গুলো আপনার সাথে ঘটলে আপনি একেবারেই সহ্য করবেন না, প্রয়োজনে বিচ্ছেদ চাইতে পারেন এর প্রতি উত্তরে উঠে আসে প্রধান ৮ টি বিষয় –

১) পরকীয়া ২) ক্রমাগত ভুল বুঝাবুঝি ও দুরত্ব বৃদ্ধি ৩) সংসারে কাজ কর্মে তীব্র অনিহা, সঙ্গীকে যথাযথ মূল্যায়ন না করা ৪) আসক্তি (মাদক / নারী / পরপুরুষ / জুয়া) ৫) মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন ৬) সঙ্গীর প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ প্রবনতা ৭) স্বামী বা স্ত্রীর পরিবার হতে দুর্ব্যবহার বা অবমূল্যায়ন ৮) সঙ্গীর একঘেয়ে স্বভাব বা একক কর্তৃত্ব পরায়নতা।   তাছাড়াও সন্তান ধারনে অক্ষমতা বা সন্তান ধারনে সঙ্গীর দ্বিমত পোষণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম / ভারতীয় টিভি সিরিয়াল বা বিদেশী সংস্কৃতির অতিরিক্ত প্রভাব বা আসক্তির মত বিয়য়গুলোও জরিপে উঠে আসে।

জরীপে অংশগ্রহনকারীদের কাছে সর্বশেষ জানতে চাওয়া হয় কোন ৫টি বিষয় বিচ্ছেদ এড়াতে পারে বলে আপনি মনে করেন? এর মধ্যে ৫ টি বিষয় ক্রমান্বয়ে যে বিষয় গুলো ঊঠে আসে –

১) একে অপরকে সম্মান করা ২) সঙ্গীর সাথে বিশ্বস্ত থাকা ৩) আপস করার মানসিকতা ৪) সঙ্গীর সাথে মিথ্যাচার না করা ৫) সঙ্গীকে কখনো অবজ্ঞা বা অবহেলা না করা।


বিবাহবিডি ডট কম এর জরিপ তথ্যঃ

বিবরন সকল অংশগ্রহনকারী  (৪১২ জন) ডিভোর্স গ্রহনকারী (১০৪ জন)
অংশগ্রহন কারী পুরুষ – ৭৬.৫%
নারী-  ২৩.৫%
পুরুষ – ৭৮.৪৫%
নারী-  ২১.৫৫%
অংশগ্রহনকারীদের বয়স ১৮-২৪ বছর = ৬.২%
২৫-৩৫ বছর = ৬৪.৯%
৩৬-৫৫ / এর অধিক =  ২৮.৯%
১৮-২৪ বছর = ৩৮.৪৬%
২৫-৩৫ বছর = ৫২.৮৮%
৩৬-৫৫ / এর অধিক =  ৮.৬৫%
অংশগ্রহনকারীদের অবস্থান ৬১.৫ % বিভাগীয় শহরে
২৩.২% জেলা শহরে
১১.৮% উপজেলা শহরে
৩.৫% ইউনিয়ন / গ্রামে
৪৯.০৩ % বিভাগীয় শহরে
৩৫.৫% জেলা শহরে
১৩.৪৬% উপজেলা শহরে
১.৯২% ইউনিয়ন / গ্রামে
অংশগ্রহনকারীদের
শিক্ষাগত যোগ্যতা
৪৪.৩% উচ্চতর ডিগ্রী
৪১.৯% স্নাতক / সম্মান / সমসমান
৯.৯% উচ্চ মাধ্যমিক সম সমান
৩.৯% উচ্চ মাধ্যমিক এর নীচে
৪৯.৪২% উচ্চতর ডিগ্রী
৩৬.৫৮% স্নাতক / সম্মান / সমসমান
৯.২% উচ্চ মাধ্যমিক সম সমান
৪.৮% উচ্চ মাধ্যমিক এর নীচে
অংশগ্রহনকারীদের
বৈবাহিক অবস্থা
৫০.৪ % বিবাহিত
২২% অবিবাহিত
২৫.৭% ডিভোর্স
১.৯% বিধবা / বিপত্নীক
১০০% ডিভোর্স
অংশগ্রহনকারীদের
পেশা
৫৯.২% চাকুরীজীবি
১৬.৬% ব্যবসায়ী
১৩.১% বেকার ( নারী)
৮.৬% অধ্যয়নরত
২.৬% প্রবাসে কর্মরত
৫৮.৬৫% চাকুরীজীবি
২০.১৯% ব্যবসায়ী
১৫.৩৮% বেকার
০.৯৬% অধ্যয়নরত
৪.৮১% প্রবাসে কর্মরত
অংশগ্রহনকারীদের
পরিবারের ধরন
৬৫.৪% একক পরিবার
৩৪.৬% যৌথ পরিবার
৪১.৪% যৌথ পরিবার
৫৯% একক পরিবার
অংশগ্রহনকারীদের
আর্থিক অবস্থা
৭৩.৭ % মধ্য বিত্ত
২০.৬% নিম্ন মধ্যবিত্ত
৪.৬% উচ্চ বিত্ত
১.১% নিম্ন বিত্ত
৭২.১২ % মধ্য বিত্ত
১৭.৩% নিম্ন মধ্যবিত্ত
৪.৮% উচ্চ বিত্ত
৭.৭৬% নিম্ন বিত্ত
আপনি কি মনে করেন আর্থিক অসচ্ছলতা  বিবাহবিচ্ছেদের একটি কারন ৬০.৮% এ প্রশ্নে একমত নয়
৩৯.২% মনে করেন আর্থিক অসচ্ছলতা বিবাহবিচ্ছেদের একটি কারন হতে পারে
৫৮.৮% এ প্রশ্নে একমত নয়
৪১.২% মনে করেন আর্থিক অসচ্ছলতা বিবাহবিচ্ছেদের একটি কারন হতে পারে
জীবন সংগীর সাথে পরিচয়ের সুত্রপাত নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে ২৭.১%
ঘটকের সাহায্যে ১৩.৭ %
প্রেম ঘটিত ৩৭.৪%
অনলাইনে পরিচয়ঃ ৩.৪%
অবিবাহিত / প্রযোজ্য নয় ১৮.৪%
নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে ৩০.৭৬%
ঘটকের সাহায্যে ২৫ %
প্রেম ঘটিত ৪৩.৩%
অনলাইনে পরিচয়ঃ ১.৯২%
জরীপে অংশগ্রহনকারীদের প্রশ্ন করা হয় – কোন বিষয় গুলো আপনার সাথে ঘটলে আপনি একেবারেই সহ্য করবেন না , প্রয়োজনে বিচ্ছেদ চাইতে পারেন। এর উত্তরে যে ৮ টি বিষয়  উঠে আসে (ক্রমানুসারে)
১) পরকীয়া
২) ক্রমাগত ভুল বুঝাবুঝি ও দুরত্ব বৃদ্ধি
৩) সংসারে কাজ কর্মে তীব্র অনিহা, সঙ্গীকে যথাযথ মূল্যায়ন না করা
৪) আসক্তি (মাদক / নারী / পরপুরুষ / জুয়া)
৫) মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন
৬) সঙ্গীর প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ
৭) স্বামী বা স্ত্রীর পরিবার হতে দূর্ব্যবহার / অবমূল্যায়ন
৮)সঙ্গীর একঘেয়ে স্বভাব বা একক কর্তৃত্ব পরায়নতা
এর উত্তরে যে ৮ টি বিষয় উঠে আসে (ক্রমানুসারে)
১) পরকীয়া
২) ক্রমাগত ভুল বুঝাবুঝি ও দুরত্ব বৃদ্ধি
৩) সংসারে কাজ কর্মে তীব্র অনিহা, সঙ্গীকে যথাযথ মূল্যায়ন না করা
৪) আসক্তি (মাদক / নারী / পরপুরুষ / জুয়া)
৫) মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন
৬) সঙ্গীর প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ
৭) স্বামী বা স্ত্রীর পরিবার হতে দূর্ব্যবহার / অবমূল্যায়ন
৮)সঙ্গীর একঘেয়ে স্বভাব বা একক কর্তৃত্ব পরায়নতা
সঙ্গীর সাথে অতিরিক্ত বয়সের পার্থক্য বিচ্ছেদের কোন কারন হতে পারে ১৫.৩%  হ্যাঁ, মনে করি
৫৬.৯% না মনে করিনা
২৭.৮% অতিরিক্ত বয়সের পার্থক্য বিচ্ছ্যেদের কারন হতেও পারে
২৪.৩%  হ্যাঁ, মনে করি
৫৩.৯% না মনে করিনা
১৭.৮% অতিরিক্ত বয়সের পার্থক্য বিচ্ছ্যেদের কারন হতেও পারে
আপনার মতে সঙ্গীর সাথে বয়সের পার্থক্য কেমন হওয়া ভালো ২ বছরের বেশী নয় – ৭.৬%
৫ বছরের কম – ৫২.১%
১০ বছরের বেশী নয় – ৩৫.৫%
সমবয়সী হলে ভাল মনে করি – ৪.৬%
২ বছরের বেশী নয় – ৮.৬৫%
৫ বছরের কম – ৪৬%
১০ বছরের বেশী নয় – ৩১%
সমবয়সী হলে ভাল মনে করি-  ১৪%
আপনি কি মনে করেন – সন্তান ধারনে সঙ্গীর দ্বিমত পোষণ কি দাম্পত্য কলহের একটি কারন, যা বিচ্ছেদ পর্যন্ত পৌছাতে পারে? হ্যাঁ, মনে করি ৫১.৭%
না, মনে করি না ৪৮.৩%
হ্যাঁ, মনে করি ৫৮.২%
না, মনে করি না ৪১.৮%
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভারতীয় টিভি সিরিয়াল বা বিদেশী সংস্কৃতির অতিরিক্ত প্রভাব বা আসক্তি কি দাম্পত্য অশান্তি – ক্ষেত্র বিশেষে বিচ্ছেদের কারন হতে পারে? হ্যাঁ, হতে পারে ৭৪.২%
না, মনে করি না ২৫.৮%
হ্যাঁ, হতে পারে ৬২.৯%
না, মনে করি না ৩৭.১%
কোন ৫টি বিষয় বিচ্ছেদ এড়াতে পারে বলে আপনি আপনি মনে করেন? উত্তর গুলো ক্রমানুসারেঃ
একে অপরকে সম্মান করা
সঙ্গীর সাথে বিশ্বস্ত থাকা
আপস করার মানসিকতা
সঙ্গীর সাথে মিথ্যাচার না করা
সঙ্গীকে কখনো অবজ্ঞা না করা
উত্তর গুলো ক্রমানুসারেঃ
একে অপরকে সম্মান করা
সঙ্গীর সাথে বিশ্বস্ত থাকা
আপস করার মানসিকতা
সঙ্গীর সাথে মিথ্যাচার না করা
সঙ্গীকে কখনো অবজ্ঞা না করা

কোনটি ভালো?
এটা নির্ভর করে প্রতিটা মানুষের নিজস্বতার ওপর।  যে যেটা বিশ্বাস করে তার সেটা করাই ভালো।  তবে প্রেম করে বিয়ে না করলে আমি সুখী হবনা বা পরিবারের মতে বিয়ে করলেই সুখী হব এমনটা ভাবা ঠিক না।

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেন, যে মানুষের জীবন সঙ্গী বেছে নিতে হলে একটু ভেবে চিন্তে নেয়ায় ভালো।  শুধু আবেগের বশে কিছু করা ঠিক না। আমি সব কিছু মেনে নিতে পারব, কিন্তু বিয়েতে আমি ই সব কিছু না। কারন সঙ্গীর ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে যা এতো সহজ না।
আয়োজনের বিয়েতে মূলত দুটো পরিবার এক হয়, পক্ষান্তরে প্রেমের বিয়েতে দুজন্ মানুষ। আমাদের আমরা দুজন শুনতে যতই রোমান্টিক শোনাক না কেন বাস্তবে পরিনতি খুব কম ক্ষেত্রেই ভালো হয়। কারন প্রেম আর সংসার এই দুই পুরো ভিন্ন বিষয়। কারন তখন মাথার উপর থাকে দায়িত্বের বিশাল বোঝা।

অসফল বিয়ের ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ নয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাদের সন্তানেরা। এ ক্ষেত্রে তারা যদি বিচ্ছেদ ঘটায় বা না ঘটায় যেতাই করুক তাদের সন্তানদের এর কুফল ভোগ করতে হয়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তাদের সন্তানেরা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ে, কিংবা বিয়ের ব্যাপারে তাদের মনোভাব ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পূর্ব বা পশ্চিম উভয় ক্ষেত্রেই এটা সঠিক। আমরা প্রগতিগতভাবে অনেক এগিয়ে গেছি কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি। তাই বিয়ের ব্যাপারে আমাদের আরো বেশী সচেতন হওয়া প্রয়োজন।  নিরেট আবেগ বা শুধুই স্বার্থের কারনে বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নেয়ে উচিত না। কারন যখন আমরা বুঝতে শুরু করি ততদিনে অনেক বেশী দেরী হয়ে যায়।

তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া, বিজনেস ইন্সাইডার, ও বিভিন্ন ব্লগ ১