fbpx

ত্বকের ঘষা-মাজা

শুধু সাজই তো যথেষ্ট নয়। ত্বকের নিয়মিত যত্নও নিতে হবে। আর এই যত্নের একটা অংশ হলো ঘষা-মাজা, অর্থাৎ স্ক্রাবিং।
ত্বক পরিষ্কারের অন্যতম পদ্ধতি হলো স্ক্রাবিং করা। এর মাধ্যমে ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যায়। উজ্জ্বলতা বেড়ে যায় ত্বকের। তবে ত্বকের ধরন বুঝে স্ক্রাবিং করতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
সপ্তাহে অন্তত এক দিন মুখসহ সারা শরীর স্ক্রাবিং করা উচিত। এতে একদিকে ত্বক পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে শরীর-মন ঝরঝরে থাকে। রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ভালো কোনো রূপচর্চা কেন্দ্রে গিয়েও স্ক্রাবিং করাতে পারেন। তখন ১৫ দিনে একবার করা যেতে পারে। কিউবেলার রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা আরমান বলেন, তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রবণতা থাকে। তাই ব্রণ থাকলে স্ক্রাবিং করা যাবে না। এতে ব্রণের প্রকটতা বেড়ে যাবে। নাক-কপালে ব্রণ না থাকলে শুধু সেই অংশটুকু স্ক্রাবিং করলেই হবে। তাতেও কাজ হবে।
বাজারে ত্বকের ধরন অনুযায়ী নানা ধরনের স্ক্রাব পাওয়া যায়। কোনোটা শুধু মুখের জন্য, কোনোটা হাত-পা আবার কিছু আছে পুরো শরীর স্ক্রাবিংয়ের জন্য। তবে ভালো মানের স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের পর ত্বকে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
হাতের কাছে যেসব উপাদান পাওয়া যায় সেসব দিয়েও স্ক্রাবিং করা যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন আলস্য দূর করে একটুখানি ইচ্ছা-আগ্রহ।
হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা ঘরে বসে স্ক্রাব করার বিভিন্ন প্যাক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য:
কাঁচা হলুদের পেস্টের সঙ্গে চালের গুঁড়া, দুধ, মধু ও জলপাই তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া বেসনের সঙ্গে গ্লিসারিন, গোলাপজল, জলপাই তেল মিশিয়েও প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ডিমের কুসুম (হলুদ অংশ), ১ টেবিল চামচ বেসন ও দুধের প্যাক বেশ কার্যকর।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য:
বেসন, শসার রস ও গাজরের রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকে নাকে ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডসের প্রবণতা দেখা যায়। এসব দূর করতে ডিমের সাদা অংশ নাকে ম্যাসাজ করে এর ওপর টিস্যু চেপে ২০ মিনিট রাখতে হবে। এরপর এক টানে তুলে ফেলতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য:
সয়াবিন পাউডার, দুধের সর, কাঁচা হলুদ, গাজরের রস ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি শুষ্ক ত্বকের মৃত কোষ যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি উজ্জ্বলতাও বাড়ায়।

মিশ্র ত্বকের জন্য:
মিশ্র ত্বকে শুধু টি-জোন অর্থাৎ নাক-কপালই তৈলাক্ত হয়। ডিমের সাদা অংশ, মধু, দুই-তিন ফোঁটা লেবুর রস, দুধের সর এবং ওটমিল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে হবে।

সংবেদনশীল ত্বকের জন্য:
সয়াবিন গুঁড়া, দুধ ও মধু এই ধরনের ত্বকের জন্য ভালো।

এসব প্যাক পুরো শরীরেও ব্যবহার করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে, স্ক্রাব ব্যবহারের পর আলতোভাবে ত্বক মালিশ করতে হবে। ত্বক পরিষ্কারের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো(নকশা/১৯-০৩-২০১৩)

ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে পুরুষ

বিবাহিত নারীর সঙ্গে অনুচিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা পুরুষের জীবনে বিরল নয়। তাঁরা প্রতিবেশী বা অন্য কারও স্ত্রীর প্রতি ঘটনাচক্রে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক তৈরি থেকে পুরুষেরা সাধারণত বিরত থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অবস্থিত মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএমএসএল) একদল গবেষকের দাবি, সম্ভবত মানসিক গঠনের কারণেই তাঁরা বন্ধুর প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকেন।

ইউএমএসএল কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্ক ফিনের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণের তারতম্য নিয়ে গবেষণা করেন। মানসিক অবস্থাভেদে পুরুষের শরীরে এই হরমোন নিঃসরণে তারতম্য হয়। হিউম্যান নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য প্রেমিকা বা শত্রুর স্ত্রীর সান্নিধ্যে অবস্থানকালে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে অবস্থানকালে টেস্টোস্টেরন নিঃসরণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। এমনকি সুযোগ পেলেও বন্ধু এবং বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট রাখার স্বার্থে অনুচিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া থেকে পুরুষ নিজেকে সংযত রাখেন। গোটা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়।

গবেষকদের দাবি, মানুষের প্রকৃতিগত এই বিশ্বস্ত মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জাতিসংঘ বা ন্যাটোর মতো সংগঠনও মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে।
সূত্রঃ প্রথম আলো (ঢাকা, সোমবার,২৫ মার্চ ২০১৩,)

 

কন্টাক্ট লেন্স

কন্টাক্ট লেন্স কি?

কন্টাক্ট লেন্স বলতে আমরা সাধারনত ডিসপোজেবল সফট কন্টাক্ট লেন্স কেই বুঝি। কেউ কেউ কন্টাক্ট লেন্স ইউজ করে ফ্যাশন এর জন্য। আবার কেউ কেউ চোখের প্রব্লেম এর জন্য। ফ্যাশনাবল লেন্স বলতে কালার লেন্স এর কথা বলা হচ্ছে। এটা মুহূর্তেই আপনার চোখের রং বদলে দিবে। আজ আপনার চোখ নীল সাগরের মত, তো কাল আবার হ্যাজেল এর মত। কিংবা পরশু ঘোলা ঘোলা।

আর অপ্টিকাল সমস্যার জন্য যে লেন্স ব্যবহার করা হয়, সেগুলাতে পাওয়ার থাকে। বাংলাদেশে চক্ষু সমস্যার জন্য ডাক্তারেরা সাধারনত স্বচ্ছ লেন্স দিয়ে থাকেন। কারন কালার পাওয়ার যুক্ত লেন্স বাংলাদেশে ভালো ব্র্যান্ড এর পাওয়া যায় না। আর সেগুলা ঠিক সফট আর থাকে না যা আপনার চোখের উপর স্ট্রেস ফেলে। ফলে চোখ গরম হয়ে যায় ২-৩ ঘণ্টা পর ই।

লেন্স পরতে যা যা লাগবেঃ

১– লেন্স (দুই চোখের জন্যই)
২– সল্যুশন (এটা একটা তরল যার মাঝে লেন্স ভিজিয়ে রাখতে হয়)
৩– লেন্স বক্স (বক্স এর মাঝে লেন্স সল্যুশন এ ভিজিয়ে রাখতে হয়)
লেন্স কেনার সময় ই এগুলা সব দিয়ে দেয়া হয়।

ডিসপোজেবল সফট কন্টাক্ট লেন্স এর ব্যাবহার বিধিঃ

লেন্স পরা খুব ই সোজা। প্যাকেট খলার পর লেন্স টি বাম হাতের তালুতে রাখুন। এবার, কিছুটা সল্যুশন ঐ লেন্স এর উপর নিন। ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে লেন্স টি পরিস্কার করুন। সতর্ক থাকবেন, লেন্স টি যেন ছিঁড়ে না যায়। এবার লেন্স টি ডান হাতের তর্জনী তে নিন এবার বান হাত দিয়ে টেনে চোখটিকে বড় করুন আর লেন্স টিকে ভিতরে বসিয়ে দিন ডান হাত দিয়ে। শেষ হলে কয়েকবার চোখ বন্ধ করুন আর খুলুন। এভাবে দুচোখেই লেন্স পরুন।

লেন্স পড়ার আগে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে লেন্স টি সোজা আছে কিনা। লেন্স এর দুইটা পার্শ্ব। কোনটা সোজা কিভাবে বুঝবেন? প্রথমে লেন্স টিকে তরজনির উপর রাখুন।  কোনা গুলো যদি উঁচু হয়ে থাকে তাহলে লেন্স সোজা আছে। আর যদি একটু ঝুলে থাকে, তাহলে লেন্স উল্টা।

একটানা এক সপ্তাহের বেশি লেন্স বক্স এ ইউজ না করে ফেলে রাখলে, মাঝে মাঝে সল্যুশন পালটাতে হয়।অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, ডান চোখের লেন্স ডান বক্স এ, আর বাম চোখের লেন্স বাম বক্স এ রাখতে হবে। লেন্স বক্স এর উপর বাম ডান লেখা থাকে সাধারনত। ডিসপোজেবল সফট কন্টাক্ট লেন্স সাধারনত সকালে পরতে হয় আবার রাতে খুলে রাখতে হয়। এভাবে প্রতিটি লেন্স ২ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। এক প্যাকেট এ প্রতি চোখের ছয়টা করে লেন্স থাকে।

কোন ব্র্যান্ড এর লেন্স কিনবেনঃ

১. johnson and johnson (বাংলাদেশে যেগুলা পাওয়া যায়,তার মাঝে এটাই বেস্ট )
২. acuvue
৩.bausch + lomb
৪.biofinity
৫. dailies
৬. fresh look
৭. air optix
৮. igel
৯. aqua flexi
এছাড়াও আরও অনেক ব্র্যান্ড আছে। কিন্তু ডাক্তার আপনাকে johnson and johnson ই নিতে বলবে।

কোথায় পাওয়া যাবেঃ

আপনার চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছেই পাবেন। তবে দাম একটু বেশি লাগবে । নিজে কিনতে চাইলে নিচে্র যেকোনোটিতে যেতে পারেন।

১-আমেরিকান অপটিকসঃ ১২০/১, আউটার সারকুলার রোড, মগবাজার, ঢাকা। ফোনঃ- ৯৩৫৮৮৭৯।

২-আনিকা মনিকা অপটিকসঃ ল্যান্ড মার্ক সপিং সেন্টার; গূলশান-২,ঢাকা। ফোনঃ-৯৮৮৪০৪৪।

৩-বসুন্ধরা অপটিকসঃ লেভেল#৫; ব্লক-ডি; বসন্ধরা সিটি, ঢাকা। ফোনঃ-৮১২১৯৭৫।

ব্যাঙের বিয়ে

ব্যাঙ্গা ব্যাঙ্গির বিয়া কুলা মাথায় দিয়া ও ব্যাঙ্গ পানি আন গিয়া /খালও নাই পানি, বিলও নাই পানি/ আসমান ভাইঙ্গা পড়ে ফোটা ফোটা পানি/ আম পাতা দিয়া দিলাম ছানি জাম পাতা দিয়া দিলাম ছানি/ তেও (তবু) পড়ে মেঘের (বৃষ্টির) পানি……. গানটি সুর করে গাইছেন কিশোরী ও মহিলারা। বাড়িটিতে উৎসবের আমেজ। গ্রামের নানা বয়সী লোকজনের ভিড়, বাড়ির এক পাশে চলছে রান্না-বান্না। ছেলেমেয়েরা ছোটাছুটি করছে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া লোকজনও বাড়িটিতে কী হচ্ছে এক নজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছে।

হাওর পারের জামলাবাজ গ্রামে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। কী হচ্ছে_এমন প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল গ্রামের নির্মল সরকারের বাড়িতে ব্যাঙের বিয়ে হচ্ছে। বাড়িতে রান্না হচ্ছে, গ্রামবাসী ও অতিথিদের জন্য। ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হয় এ বিশ্বাস থেকেই এমন আয়োজন। সাজানো হয়েছে বিয়ের আসর। মাঝখানে দুটি গর্তে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে একটি নারী ও একটি পুরুষ ব্যাঙ। সেখানে আম পাতা ও জাম পাতার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে বিয়ে দেওয়া হলো ব্যাঙ দুটিকে। পুরুষ ব্যাঙের অভিভাবক ছিলেন রোকেয়া বেগম (৪২) এবং নারী ব্যাঙের অভিভাবক মালা রানী দাশ (৩৫)।

কবে থেকে এ ধরনের বিয়ের সংস্কৃতি চলে আসছে এ বিষয়ে কেউই সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি। তবে জানা যায় , বহুকাল ধরেই মাঘ ও ফাল্গুন মাসে বৃষ্টি না হলে হাওরপারের গ্রামগুলোতে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয়। কারণ এ সময় হাওরের বুকজুড়ে থাকে ধান আর ধান। হাওরপারের গ্রামবাসীর ধারণা ব্যাঙের বিয়ে হলে বৃষ্টি হবে এবং তাদের ধান উৎপাদন ভালো হবে। বিয়ে দেখতে আসা মধ্য তাহিরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম (৯৮) জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই ব্যাঙের বিয়ে দেখে আসছেন এবং মেয়েদের সঙ্গে তাঁরাও তখন এতে অংশ নিতেন। এখন বৃষ্টি হলে হাওরে লাগানো ধানের উৎপাদন ভালো হবে। হাওরাঞ্চলে প্রচলিত অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে গেলেও বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে অনুষ্ঠানটি এখনো টিকে আছে।

প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ছে গাইবান্ধার মাঠ-ঘাট। ভরা বর্ষাকালেও বৃষ্টির দেখা নেই। ফেটে চৌচির শস্য ক্ষেত। কৃষক বাবার বিষন্ন মুখ দেখে কিশোর-কিশোরীরা আয়োজন করে ব্যাঙের বিয়ের। তাদের বিশ্বাস ব্যাঙের বিয়ে দিলেই বৃষ্টি নামবে অঝোর ধারায়। ক্ষেত জুড়ে ফলবে শস্য। গাইবান্ধার মেঘডুমুর গ্রামে এই বিয়েকে ঘিরে শুরু হয় উৎসর আমেজ। লাল নীল কাগজে সাজানো চারদিক। গায়ে হলুদের আয়োজনে যেতে ব্যস্ত কিশোরীরা। হলুদ শাড়ি, সাজগোজ সবই চলছে। কলাগাছ পুঁতে তৈরি বিয়ের আসর। প্রদীপ থেকে শুরু করে পান, সুপারী, দূর্বা ঘাস, মিষ্টিসহ বিয়ের সব উপকরণই প্রস্তুত।

বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে গ্রামীণ সমাজের এক প্রাচীন রীতি। সেই রীতিতেই আগের দিন ধরে রাখা দু’টি ব্যাঙকে রং লাগিয়ে সাজানো হয়। ব্যাঙ ও বৃষ্টির ছড়া কেটে দেয়া হয় বিয়ে । সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে পকুরে ছেড়ে দেয়া হয় নব দম্পতিকে। ব্যাঙ দম্পতি জলাশয়ে সাঁতার কাটে, আর তীরে বসে কিশোর কিশোরীরা ভাবে এবার বৃষ্টি হবে।  বিয়ের দিন, তার পরও ওদের মধ্যে দেখা যায়নি কোনো উত্তেজনা! কিন্তু গ্রামের সবাই উৎসুক হয়েই হাজির হয়েছিল বিয়েতে। রীতিমাফিক পূজা-অর্চনাও হয়েছে। ভারতের টাকহাটপুর গ্রামের বাসিন্দারা বিয়েতে বর-কনের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য নয়, প্রার্থনা করেছেন বৃষ্টির জন্য! বিয়ের পাত্র-পাত্রী দুটি কোলা ব্যাঙ!

সম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে একটি এলাকায় ২৫০ মানুষ মিলে দিয়েছে ব্যাঙের বিয়ে৷ কারণ তারা ধরণীতে চায় বৃষ্টির ছোঁয়া৷ বিয়ের ‘‘বর-কনে”কে আনা হয়েছে ঢাকা থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম থেকে৷ গ্রামবাসীরা এই বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলো৷কারণ অনেকদিন ধরে সে অঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছিলো৷সে গ্রামের স্কুল শিক্ষক নূর মোহাম্মদ জানান ‘‘তিনি ঐ বিয়ের অনুষ্ঠানে একজন অতিথি ছিলেন৷ ছেলে-বুড়ো, নারী সব মিলে সেখানে ২৫০ মানুষ অংশগ্রহণ করে৷ তারা সেখানে নাচে-গানে মুখর হয়ে উৎসবে মেতে উঠেছিলো৷ অতিথিদের ভাত-ডাল, মাছ, গরুর মাংস এবং মিঠাই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়৷ ‘‘বর-কনে” এক ধরনের বিশেষ বিয়ের পোশাক পরেছিল৷ গ্রামবাসী সবাই মিলে তাদের আশীর্বাদ জানিয়েছে৷ তারপর ‘‘বর-কনে”কে ছেড়ে দিয়েছে পাশের একটি পুকুরে”৷ তিনি আরো জানান, ‘‘সেদিন রাতে সে অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে৷ তাঁর বিশ্বাস এই বৃষ্টি সেই বিয়ের কারণেই হয়েছে”৷ ছড়া কবিতায় ব্যাঙের বিয়ের কথা শোনা থাকলেও বাস্তবে এমন বিয়ের কথা অবশ্য প্রথমবারের মতোই জানা গেল৷

বিয়ে বলে কথাঃ শাকিল ফারুক

লাঠালাঠিতে হারাতে পারলেই সিলেটে বিয়েবাড়িতে ঢুকতে পারত বরপক্ষ। খুলনায় বিয়ের গেটে আজও হয় ইংরেজি তর্কযুদ্ধ। বাঙালি বিয়েতে এরকম কত কিছু যে হয় তা বলে শেষ করার নয়। তবু যতটা বলা যায় ততটা নিয়ে এবারের স্পটলাইটঃ

এও তাহলে সম্ভব! কত না অদ্ভুত কাজ করে থাকে মানুষ! তাই বলে তিন দিন কনের বাড়ির সামনে তাঁবু খাটিয়ে বসে থাকা! তবে যার মুখ থেকে ঘটনাটি জানা গেল, তার দাবি, ঘটনার পুরোটাই সত্য। কথকের মামার বিয়ের ঘটনা। বরযাত্রী নিয়ে তাঁরা বিয়ের দিন কনের বাড়িতে হাজির হয়েছেন। বাড়ির গেটেই তাঁদের পথ আটকে দাঁড়াল একদল লোক। তাদের হাতে লাঠি। বরপক্ষ এ ঘটনায় বিচলিত হলো না। কারণ তারাও তৈরি হয়ে এসেছে। লাঠি হাতে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলো তারা। শুরু হয়ে গেল লাঠালাঠি। তবে তা কোনো পূর্বশত্রুতার জের ধরে নয়, রীতি অনুযায়ী!  সিলেটে তখন নাকি বিয়ের রীতিই ছিল এমন। কনেপক্ষের লাঠিয়ালদের হারাতে পারলে তবেই কনেবাড়িতে ঢুকতে পারবে বরপক্ষ, নইলে না।

তো কথকের মামাপক্ষ প্রথম দিন কনেপক্ষকে হারাতে পারল না বলে তাদেরকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলো না। কিন্তু বরপক্ষ নাছোড়বান্দা। বিয়ে না হলে যে মান থাকে না। তাই ফিরে না গিয়ে তারা তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিল কনেবাড়ির বাইরে। সেখানে টানা তিন দিন অবস্থান করে, একাধিকবার চেষ্টার পরে কনেপক্ষের লাঠিয়ালদের হারিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করল। তার পরই সম্পন্ন হয়েছিল বিয়ে। অবাক হওয়ার মতো হলেও, ঘটনাটিকে অবিশ্বাস করার উপায় নেই। আনন্দ-উল্লাসের প্রকাশ তো কখনো-সখনো একটু অদ্ভুত ধরনের হয়ে থাকে। আর বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে সেটা আরো বর্ণিল আর বিচিত্র হয়ে উঠতে পারে।

সব সমাজেই বিয়ের প্রচলন আছে। তবে রীতিনীতির কারণে সমাজভেদে বিয়ের ধরন হয় বিভিন্ন রকমের। মুসলমানদের বিয়ে হয় কনের বাড়িতে কাজির মাধ্যমে। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ে। কনের বাড়িতে মাঙ্গলিক আচারানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বৌদ্ধদের রীতিও অনেকটা সে রকমেরই। ধর্মীয় শ্লোকের মাধ্যমে বিয়ে করানো হয় তাদের। আর খ্রিস্টানদের বিয়ে হয় চার্চে ফাদারের মাধ্যমে।

 তবে শুধু ধর্মীয় কারণে নয়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আর উদ্যাপনে ভিন্নতা দেখা যায় অঞ্চলভেদেও। এক্ষেত্রে প্রথমেই চলে আসে ঢাকাই বিয়ের কথা। কোনো অনুষ্ঠান উদ্যাপনে ঢাকাবাসীর তুলনা মেলা ভার। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বদলে গেলেও, ঢাকাই বিয়ে এখনো ব্যাপক বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিয়ে অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঢাকাইয়ারা করে থাকে নানা আয়োজন। প্রস্তাব দেওয়া, কনে পছন্দ করাসহ আর সব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বিয়ের আগে ‘পানচিনি’র আয়োজন করা হয়। এতে সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকেন পেশাজীবী ঘটকরা। তাদের বলা হয় ‘মোতাসা’। পানচিনি অনুষ্ঠানের ফল সন্তোষজনক হলে দিনক্ষণ আর লেনদেন বিষয় নিশ্চিত করার জন্য আয়োজন করা হয় মোতাসা-রাই বা ‘পাকাকথা’ অনুষ্ঠানের। এসব অনুষ্ঠানে মুখরোচক সব খাবারের আয়োজন থাকে।

এই ভূরিভোজনপর্বকে ঢাকাইয়া ভাষায় বলা হয় ‘খাস আপ্যায়ন’। বিয়ের কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত হয় ‘হলদি’ বা ‘তেলাই’। গোসলের আগে বর ও কনের গায়ে হলুদবাটা দিয়ে শরীর মার্জন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। আত্দীয়স্বজনের অংশগ্রহণ ও গান-বাজনার মধ্য দিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বর ও কনের বাড়িতে আলাদাভাবে তেলাইয়ের আয়োজন হয়ে থাকে। বরপক্ষের লোক মিষ্টি ও নানা উপাচার নিয়ে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন। আর কনেপক্ষের লোক উপস্থিত হন বরপক্ষের বাড়িতে। উপাচারের মধ্যে অবশ্যই থাকে দুটি বড় মাছ। একটি বরের প্রতীক, অন্যটি কনের। বরের প্রতীক মাছটির মুখে গুঁজে দেওয়া হয় একটি সিগারেট। আর কনে-মাছটির মুখ ঢেকে দেওয়া হতো একটুকরো কাপড় দিয়ে। যে মাছ কাটে, তার জন্য উপহারস্বরূপ মাছের ভেতর দেওয়া হয় টাকা। হলুদপর্ব শেষ হলেই শুরু হয় রং ছিটানোর খেলা।

এরপর বর ও কনের বাড়িতে আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় ‘আইবুড় ভাত’ নামের অনুষ্ঠান। একে ‘কুমারী ভাত’ও বলা হয়। আইবুড় মানে অবিবাহিত অবস্থায় নিজের বাড়িতে বর বা কনের শেষ খাওয়া। এ পর্বেও থাকে প্রচুর খাবারদাবারের আয়োজন। তারপর আসে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আগে কার্ড ছেপে দাওয়াত পাঠানোর রেওয়াজ ছিল না। বিয়ের দাওয়াত দেওয়া হতো লবঙ্গ উপহার দিয়ে। প্রচলন ছিল না কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করারও। তাই গলির মোড়ে বা এলাকার মসজিদে বিয়ের কাবিননামা লেখার কাজ সারা হতো। এরপরই খাওয়াদাওয়া, উপহার প্রদান আর আতসবাজি ফোটানোর উৎসব। বিয়ের পরও আরো মাসখানেক রয়ে যায় এ উৎসবের আমেজ। বিয়ের পর কনের পিতৃগৃহে বর আর কনের বেড়াতে যাওয়াকে বলা হয় ফিরোল্টা’ (ফির+উল্টা)। এর মানে, বিয়ের পর আবার আগের মতো কনের বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়া। সাম্প্রতিককালে কোনো কোনো আচার-প্রথা হারিয়ে যেতে থাকলেও অধিকাংশই এখনো টিকে আছে।

সিলেট অঞ্চলের বিয়েতেও বর্ণাঢ্য আয়োজন দেখা যায়। বিয়ের দিন গীত-গান এবং ‘ধামাইল’ নামের একটি মেয়েলি অনুষ্ঠানের আয়োজন বিশেষভাবে সিলেটী বৈশিষ্ট্য। বর ও কনের বাড়ি সাজানো হয় আড়ম্বরপূর্ণভাবে। বিয়ের দিন বর ও কনের বাড়িতে যে গীত হয় তাতে বাড়ির মেয়েরা দলবদ্ধ হয়ে অংশ নেয়। সিলেটের বেশ কিছু জনপ্রিয় আঞ্চলিক বিয়ের গান রয়েছে। সেসব গানের সঙ্গে সব বাড়ির নারীরাই পরিচিত। তাই গীতের সঙ্গে প্রায় সবাই গলা মেলাতে পারে। এসব গীতের মাধ্যমে কখনো বর-কনেকে আকাশে উঠিয়ে দেন গায়করা, পরক্ষণেই হয়তো মাটিতে নামিয়ে আনেন। গীতের তালে তালে নারীরা তুলে ধরেন বরের মেজাজ, কনের চালচলন।

ধামাইলও একটি মজার আয়োজন। এর আয়োজক ও দর্শক উভয়ই হচ্ছে নারী। এখানে পুরুষের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। মেয়েরা শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে পা দিয়ে মাটিতে তাল ঠুকে হাতে তালি দিয়ে বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে নানা ধরনের গান গায়। এগুলো ধামাইল গান। এছাড়া বর-কনেকে নিয়ে লেখা কবিতা বা ছড়া ছাপিয়ে একটি সংকলন প্রকাশের রেওয়াজ রয়েছে। একে বলা হয় উপহার। এসব সংকলনের নাম দেয়া হয় সুখের বাসর, ঘি চমচম, মিলন বার্তা ইত্যাদি। আর লেখাগুলো হয় কৌতুকপূর্ণ ও রসে ভরপুর। রসালো আয়োজন রয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের বিয়েতেও। তবে সেটা অবশ্য পিঠার রসে রসালো। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর গীতের তালে তালে বর-কনেকে নিজেদের বাড়িতে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এতে ব্যবহৃত হয় ক্ষীর ও আন্ধাষা। আন্ধাষা হচ্ছে রাজশাহীর জনপ্রিয় মিষ্টি পিঠা, যা তেলে ভেজে বানানো হয়। এ ক্ষীর আর আন্ধাষা পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে তৈরি করে পাঠানো হয় বর-কনের বাড়িতে। মিষ্টি খাওয়ানোর এ অনুষ্ঠানকে বলা হয় থুবড়া। থুবড়া অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় আঞ্চলিক গীত। গীতের সঙ্গে মিষ্টিমুখে মেতে ওঠে সবাই।

 বিয়েতে লাঠিযুদ্ধের প্রচলন সিলেটে আর না থাকলেও, খুলনা অঞ্চলে দেখা যায় বর আর কনেপক্ষের মধ্যকার অন্য রকম এক যুদ্ধ। এটি হচ্ছে বাকযুদ্ধ। তাও আবার বাংলা ভাষায় নয়, পুরোপুরি ইংরেজিতে। খুলনায় বিয়ের নিজস্বতা হচ্ছে এই ইংরেজি তর্কযুদ্ধ। বাড়ির গেটে বরপক্ষকে আটকে কনেপক্ষের লোকজন ইংরেজিতে কথোপকথন শুরু করে। তার জবাবে বরপক্ষকেও কথা বলতে হয় ইংরেজিতে। এ কথপোকথনে শেষ পর্যন্ত যে পক্ষ আর তর্ক চালিয়ে যেতে পারে না, তারা পরাজিত হয়। একপক্ষ অন্য পক্ষকে লজ্জা দেওয়ার জন্যই এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

চট্টগ্রামের বিয়েও বেশ বিচিত্র ও বর্ণাঢ্য। বিয়ের প্রাথমিক কার্যকলাপ অন্যান্য অঞ্চলের মতোই সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের আগে আয়োজন করা হয় ‘বউ জোড়নি’ নামের একটি অনুষ্ঠান। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বর ও কনের মধ্যে আলাপ-সালাপ করিয়ে দেয়া। এ জন্য বউ জোড়নি অনুষ্ঠানে কনেকে সাজিয়ে বরের সামনে উপস্থিত করা হয়। চট্টগ্রামের আরেকটি বিচিত্র আয়োজন হচ্ছে ‘ঘরজামাই বিয়া’। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিয়ের পর বরের কনের বাড়িতে থেকে যাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এ বিয়েকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ঘরজামাই বিয়া।

তথ্য সংগ্রহ
গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা; আনু মোস্তফা, রাজশাহী; আবদুর রহমান, সিলেট;
রফিকুল ইসলাম, বরিশাল; রাজীব নন্দী, চট্টগ্রাম।

বিয়েঃ হার্টের কার্যকর ওষুধ !

বিয়েতে কি লাভ? এমন প্রশ্নের জবাবে বিবাহিতরা বলেন, করেই দেখ না। তারপরও যারা চিন্তিত বিয়ে করা নিয়ে তাদের জন্যই সুখবর। গবেষকরা বলছেন, হার্টের শক্তিশালী ওষুধ বিয়ে। সমপ্রতি দ্য জার্র্নাল অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল বিহেভিয়ার-এ প্রকাশিত হয়েছে এক গবেষণা প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, হার্টের বাইপাস সার্জারির পর তিন মাস পর্যন্ত বিবাহিতদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অবিবাহিতদের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তাছাড়া এই তিন মাস আক্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি সার্জারির পর পাঁচ বছর পর্যন্ত বিবাহিতদের হার্টের সুরক্ষামূলক প্রভাব কার্যকর থাকে। গবেষণাটির মূল গবেষক ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী এলেন ইডলার বলেন, সার্জারি পরবর্তী সঙ্কটজনক সময়ে বিবাহিতদের সারভাইভ করার অনুপাত একটা নাটকীয় ব্যাপার। এলেন আরও বলেন, বিয়েটা এক্ষেত্রে একটি সফল অনুঘটক। রোগী পুরুষ হোক বা মহিলা এতে কোন ভেদাভেদ নেই। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সর্বোপরি অবিবাহিতদের মৃত্যুর অনুপাত বিবাহিতদের চেয়ে দ্বিগুণ। গবেষণায় স্বাস্থ্য সঙ্কটের সময় স্বামী-স্ত্রী’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা তুলে ধরা হয়।

এলেন বলেন, এক্ষেত্রে স্ত্রী’র মতো স্বামীও ভাল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এতে উল্লেখ করা হয়, বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দীর্ঘজীবন পাওয়ার উপায় হিসেবে স্বীকৃত ১৮৫৮ সাল থেকে। ওই সময় উইলিয়াম ফার প্রমাণ করেছিলেন, ফ্রান্সে কম বয়সে মারা যাওয়ার প্রবণতা রোধ করছিল বিয়ে। গবেষণাটিতে বলা হয়- বিধবা, চিরকুমার ও ডিভোর্সিদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি। এলেন বলেন, আমরা ৫শ’ সার্জারি ও ইমারজেন্সি রোগীর উপর গবেষণা করে এটি তৈরি করেছি। কেন বিয়ে সঙ্কটময় মুহূর্তের ঝুঁকি কমিয়ে আনে তাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়, বিবাহিতরা সার্জারিতে অনেক বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যায়। যা অবিবাহিতরা পারে না। ব্যথা সহ্য করা, আরাম ছেড়ে কষ্ট তুলে নেয়া ও সার্জারি সম্পর্কে দুশ্চিন্তার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে- বিবাহিতরাই ইতিবাচক জবাব দেয়। এতে বলা হয়, অবিবাহিতরা সার্জারির পর ৫ বছরের মধ্যে ৭০ ভাগ পর্যন্ত মারা যায়।

যেটা বিবাহিতদের ক্ষেত্রে অনেক কম। এতে বিবাহিত জুটিদের মধ্যে ধূমপান কম হওয়ার কথাও বলা হয়। যেটা একটা উপকারী দিক। সব শেষে পরামর্শ দেয়া হয় বিষয়টি যখন হার্ট সংক্রান্ত, বিয়েই হবে শক্তিশালী ওষুধ। এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে বিয়ে করবেন নাকি তাড়াতাড়ি মরবেন?

বিবাহ ও পারিবারিক জীবনে দাম্পত্য সমস্যার কারণ ও ধরণ

বিবাহ হলো একটা জটিল বাস্তবতা।তাই দাম্পত্য জীবন একেবারে সম্পূর্ন সমস্যা ও সংকটমুক্ত নয়।দাম্পত্য জীবনের চলমান বাস্তবতা চোরের মত যে কোন সময় ইচ্ছা অনিচ্ছা সত্ত্বেও যে কোন সমস্যা প্রবেশ করতে পারে।সমাজবিজ্ঞানীদের মতে দাম্পত্য সমস্যা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রুপে এর আবির্ভাব ঘটে।দাম্পত্য সমস্যা মূলত সৃষ্টি হয় দুজনের প্রয়োজনের চাহিদা থেকে।অর্থাৎ একজনের ও প্রয়োজনের চাহিদার সাথে অন্যজনের প্রয়োজনের চাহিদার মধ্যে সংঘর্ষ।

এই লেখায় মূলত দাম্পত্য সমস্যার কারণ ও ধরণ গুলো উল্লেখ করা হলোঃ

কারণ গুলো হলো বাহক অর্থাৎ যার জন্য সমস্যাগুলো দাম্পত্য জীবনে আসে,আর ধরণ গুলো এর হাবভাব অর্থাৎ এর রকম ও গুরুত্ব হিসেবে এর প্রভাব।

ক) সমস্যার কারণঃ এটাকে আমরা সমস্যার agent বলতে পারি।অর্থাৎ যার বা যাদের দ্বারা এই সমস্যার সৃষ্টি বা কারণ। দাম্পত্য সমস্যার পিছনে ৩ রকমের agent রয়েছে। তাহলো- ১) ব্যক্তি নিজে  ২।বিবাহের মূল উপাদানে এবং ৩। বাইরের বা পারিপার্শ্বিক কারণ।

১) ব্যক্তি নিজে কারণঃ বিবাহ একজন পুরুষ এবং একজন নারীর দাম্পত্য বন্ধন। স্বামী স্ত্রী উভয়ে এক হলেও তারা নিজস্ব বৈশিষ্ঠে ও স্বতন্ত্র জীবনবোধ নিয়ে সমৃদ্ধ।এখানে ব্যক্তি হিসেবে স্বামী স্ত্রী নিজেরাই দাম্পত্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

যেমন-স্বামী স্ত্রীর শারীরিক কারণঃ
শারীরিক দীর্ঘকালীন রোগ ব্যাধি,অসুস্থ্যতা, শারীরিক দূর্বলতা, শারীরিক অক্ষমতা, ছোঁয়াছে রোগ, মানসিক বিকারগ্রস্থতা, ট্রমাটীক, সাইকিক, নিয়োরটিক, সিজোফ্রেনিক ,এলকোহলিক, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি।

ব্যক্তিত্বঃ অন্তর্মূখী
যেমনঃ ঘরকোনা, চাপা স্বভাব, হীনমন্য, সন্দেহবাটিক, সংকীর্ণচেতা, নিঃসঙ্গ ও নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ। আবার অন্যদিকে বহির্মূখী যেমন- অতিরিক্ত হৈহুল্লুর স্বভাব, সময় জ্ঞানের অভাব, বাইরে বাইরে সময় কাটানো, বন্ধু সার্কেল নিয়ে আড্ডা মারা, দায়িত্বজ্ঞান হীনতা ইত্যাদি।

দুর্বল ব্যক্তিত্বঃ পরনির্ভরশীলতা সিদ্ধান্তহীনতা, দায়িত্ব নেওয়ার অক্ষমতা, অন্যের কথায় কান দেওয়া, গোপনীয়তা রক্ষা না করার দুর্বলতা, মেরুদন্ডহীন হীনমণ্য, আস্থার অভাব, খুঁতখঁতে স্বভাব, নিজস্বতা রক্ষা করার দুর্বল মানসিকতা, সন্দেহপ্রবণ ইত্যাদি।

ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বঃ আত্ন-অহমিকা, ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুন্ন করা, দমনীয় ভাব, নমনীয়তার অভাব, কতৃত্বপরায়ণতা, অতিরিক্ত মেজাজ ও আবেগ প্রবণতা, গ্রহণশীলতার অভাব, প্রবল আত্ন-মর্যাদা বোধ, স্বার্থপরতা, পেশী শক্তি প্রয়োগ প্রবণতা, অস্বচ্ছলতা, গোয়াতুর্মি ভাব, অনাস্থা আপোষহীন মানসিকতা, জেদ, জবাবদিহিতার ভাব, দোষ খোঁজার মানসিকতা ইত্যাদি।

২।বিবাহের মূল উপাদানঃ দুজন নর-নারীর পারস্পারিক সন্মতির বিনিময়ই বিবাহ।সন্মতির মধ্যে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেটাই বিবাহের মূল উপাদান।আর দাম্পত্য জীবনে বিবাহ প্রতিশ্রুতি এই উপাদানের অনুপস্থিতি এবং এর অভাবই দাম্পত্য সমস্যার কারণ।

যেমন- ভালবাসার অভাব, বিশ্বাস ও বিশ্বস্ততার অভাব, যৌনাচার,বহুগামিতা, দৈহিক যৌন সম্পর্কে অক্ষমতা, পুরুষত্বহীনতা, সমকামিতা, যৌনবিকৃতি, পাশবিকতা, যৌন মিলনের অনিহা এবং এড়িয়ে চলা, সন্তান দানে অক্ষমতা, দায়িত্বজ্ঞানহীন ভবঘুরে, ভুল সঙ্গী নির্বাচন।

৩।পারিপার্শ্বিক কারণঃ এখানে বাইরের কোন শক্তি বা তৃতীয় কোন শক্তি বা পক্ষ পারিপার্শ্বিক কোন এজেন্ট দাম্পত্য সমস্যার কারণ হয়ে আসে।এর মধ্যে পিতা, মাতা, ভাই বোন, শশুর শাশুড়ি, দেবর ননদ, ননাশ, কোন মিথ্যা গুজব, অন্যের পক্ষপাতিত্য মনোভাব, অন্যের অতিরিক্ত আবেগ সোহাগ, ঈর্ষা প্রতিহিংসা, মদ-নেশা। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, বেকারত্ব চাকুরী পেশা, অসৎ ব্যবসা, মোবাইল, ফেসবুক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, অসততা, অতীত টেনে আনা রকমারি, বশ করা চাকুরীর তাগিদে দূরে অবস্থান।

খ) সমস্যার ধরণঃ

এই দাম্পত্য সমস্যার যে কারণগুলো রয়েছে এইগুলোর আবার গুরুত্বের মাপকাঠিতে তিন রকম এর পর্যায় বা ধরণ রয়েছে।

এই গুলো হলো –
ক।মৌলিক সমস্যা, ২।অ-মৌলিক সমস্যা ও ৩।অযৌক্তিক বা বিরক্তিকর সমস্যা।

১।মৌলিক সমস্যাঃ বিবাহের যে মূল ভিত্তি এবং দাম্পত্য সম্পর্কে (Basic Problem) যে মূলশক্তি এবং নীতি তার মধ্যে যে দুর্বলতা এবং অভাবই হলো এই মৌলিক সমস্যা।আর যখন এই মূলভিত্তি এবং শক্তি দুর্বলতা প্রকটভাবে দাম্পত্য সম্পর্কে সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন দাম্পত্য জীবনটাকে ভয়ানক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।তখন সেটা দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য বড় হুমকিস্বরুপ হয়ে দাঁড়ায়।বিবাহের মূল হলো পারস্পারিক ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা, একতা ও সম্পূর্ণ আত্ন-দান।পরস্পরের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মর্যাদাদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা পারস্পারিক দাম্পতিক দায়িত্বশীলতায় স্বচ্ছলতা এবং সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দান।

এক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর পারস্পারিক ভালোবাসার অভাব,অবিশ্বস্ততা, পর-পুরুষ পর নারীতে আসক্তি,সম্পর্কে বহুগামিতা,ব্যভিচার,শারিরিক দুর্বলতা অক্ষমতা,শারীরিক যৌন সম্পর্ক গড়তে ব্যর্থতা এবং অনীহা, যৌন বিকৃতি এবং সমকামিতা, একেবারেই ভুল সঙ্গী নির্বাচন, মানসিক বিকার গ্রস্থতা, ব্যক্তিত্বে দুর্বলতা, পরনির্ভরশীলতা, সন্দেহবাতিকতা এবং দায়িত্ব কর্তব্যে উদাসীনতা এবং অবহেলা, প্রতারণা, অসততা, নেশাসক্তি।

২।অ-মৌলিক সমস্যাঃ এটা মূলে কোন সমস্যা নয় যা দাম্পত্য সম্পর্ক নষ্ট করে দেওয়া বা শেষ করে দিতে পারে তবে এটা প্রতিদিনের সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি অস্থিরতা এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যায়।

যেমন-মদ-নেশা, শারীরিক মানসিক নির্যাতন, সবকিছুতে সামান্য কিছুতে উত্তেজনা-রাগারাগি, অধৈর্য ও তর্কাতর্কি, দুর্বল ব্যক্তিত্ব, গুজবে বিশ্বাস করা, সময় সমর্থন না দেওয়া, টাকা পয়সা বেতনভাতার অস্বচ্ছতা, পেশাগত গোপনীয়তা, মিথহ্যাচার, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ও বাড়াবাড়ি, অভাব-অর্থ সংকট ও বেকারত্ব, যৌন সম্পর্কে স্বার্থপরতা এবং অবিবেক হওয়া,স্বামী বিদেশে থেকে স্ত্রী সন্তান্দের জন্য টাকা না পাঠানো, স্বামী স্ত্রীর কাজ ও মর্যাদার লড়াই, ব্যক্তিত্বের সংঘাত দ্বন্দ্ব, অসামাজিক কার্যকলাপ, অর্থনৈতিক জীবন ও ব্যবসা।

৩।বিরক্তিকর সমস্যাঃ

এই সমস্যা সচরাচর দাম্পত্য জীবনে সম্পর্কে এবং পরিবারে একটু না একটু লেগেই থাকে বা স্বামী স্ত্রীর উভয়ের অসচেতনতার জন্য বা ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে।এইগুলি হলো বিরক্তিকর সমস্যা যা সয়ে যায়, আবার সময় সময় মাথা গরম করে আবার অবান্তর জ্বালান্তর সৃষ্টি করে।

যেমন- ছোট ছোট বিষয়ে খুঁত ধরা, পরস্পরকে appreciate না করা, সময়মত কিছু না করা, সময় না দেওয়া, পক্ষাবলম্বন করা, যার যার বাবা মার পক্ষে কথা বলা, ঠিক সময়ে ঘরে না ফেরা, একে অন্যের সমন্ধে এবং তাদের পরিবার নিয়ে খোঁচা মেরে কথা বলা, সময়মত বাজার না করা, মোবাইলে লুকিয়ে বা এড়িয়ে কথা বলা, দাম্পত্য যৌন সম্পর্কে পরস্পরকে না বোঝা, মিথ্যা কথা বলা, কাজের সঠিক মূল্যায়ন না করা, পরস্পরের কাজের খোঁজ খবর না রাখা, অসুস্থতায় খেয়াল না করা, পরস্পরের যত্নে খেয়ালে ঘাটতি, সংসারের প্রয়োজনে বেখেয়ালীপনা, নেশায় বদ অভ্যাস, জেদ,কথা ও আচরনে রুক্ষতা,পরস্পর কথা বন্ধ করে দেওয়া, রান্না-বান্নার ব্যাপারে বিরুপ মন্তব্য করা, পরস্পর চাহিদা পূরনে খেয়ালীপনা এবং অনীহা,গুজবে কান দিয়ে ভুল বুঝা,অতীত টেনে আনা, স্বামী স্ত্রির কথা অন্যকে বলে দেয়া, কোন ঘটানা লুকানোর চেষ্টা,সন্তান না হওয়ার ব্যাপারে পরস্পরকে দোষারোপ করা, প্রয়োজনে ডাক্তারের কাছে না যাওয়া, বৌ শাশুড়ি ও শুশুরের মধ্যে আন্তরিকভাবে গ্রহন না করার জের, অহেতুক সন্দেহ, কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার অধৈর্য হওয়া,অতিরিক্ত পীড়াপীড়ি, অন্যেরটা দেখে তুলনা করা, সংসার স্রোতে নতুনত্বের অভাব, বিনোদনের অভাব, সংসারে অভাব, গায়ে হাত তোলা, পারিবারিক কড়াকড়ি নিয়ম, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রন করা, অবহেলার কারণে এই সব বিরক্তিকর সমস্যাগুলি বড় আকার ধারণ করতে পারে।

আবার অন্যদিকে উভয়ের সচেতনতা, প্রয়োজনীয় আন্তরিক পদক্ষেপ এবং পারস্পরিক ক্ষমা,সহনশীলতার মধ্য দিয়ে অনেক মৌলিক গুরুতর সমস্যারও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।

ডঃ ফাদার মিন্টু এল, পালমা

সরকারী ঘটক!

একটি ভবনে অপেক্ষমাণ নারীদের জটলা। সবাই অধীর আগ্রহে ক্ষণ গুনছেন, কখন পড়বে ডাক। তাঁদের জড়ো হওয়ার কারণ একটাই—নতুন জীবনে প্রবেশ অর্থাত্ বিয়ে করা। এখানে অপেক্ষমাণ নারীরা বিধবা ও স্বামীপরিত্যক্ত। তাঁদের জন্য নতুন জীবনের এ কর্মসূচি চালু করেছে নাইজেরিয়ার কানু অঞ্চলের শরিয়া পুলিশ। স্থানীয় ভাষায় ‘হিসবা’ হিসেবে পরিচিত এ পুলিশ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে অনেকটা ঘটকের। এসব নারীর যোগ্য পুরুষের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানোই তাদের প্রধান কাজ। পুলিশের উদ্যোগে বিয়ে পড়ানোর খবরটি জানিয়েছে ডন নিউজ। পুলিশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, তাঁদের এমন উদ্যোগের ফলে বিয়ের মাধ্যমে শান্তি এবং বিয়ের পরে তাঁদের মধ্যে ভালোবাসা আসবে। কর্মকর্তাদের আশা, অস্থিরতাপূর্ণ এই এলাকায় শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানাতে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাঁদের দাবি, পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হলেও বিভিন্ন নারী স্বেচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন তাঁদের কর্মসূচিতে।

 ‘হিসবা’ তথা ঘটক পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নবহানি ওসমান বলেন, কানুর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মা-বাবার যথাযথ পরিচর্যা ছাড়া শিশুরা সহিংসতা ও চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে। তিনি আরও বলেন, সত্ বাবার মাধ্যমে হলেও ওই শিশুরা একধরনের আশ্রয় খুঁজে পাবে। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে কি না, তা বোঝা না গেলেও বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। জানা যায়, সাহারা মরুভূমির নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে আয়োজিত বিবাহ একটি সাধারণ বিষয়। তবে পুলিশের পরিচালনায় এ ধরনের উদ্যোগ একেবারেই নতুন।

 জানা গেছে, পুলিশের উদ্যোগকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো। সঙ্গী খুঁজতে চাওয়া নারীদের জন্য বিনামূল্যে এইচআইভি ভাইরাস পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছে ভয়েস অব উইডোস, ডিভোর্সেস অ্যান্ড অরফ্যানস অব নাইজেরিয়া (ভাওয়ান) নামের এমনই সংস্থাগুলো। বিয়ে করতে ইচ্ছুকদের এ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরুষকে নারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাব দেওয়া হয়, বিয়ে করতে ইচ্ছুকদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। কারণ এলাকায় দেনমোহরের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পুরুষই বিয়ে করতে সাহস পান না।

নিঃসঙ্গ জীবন বয়ে আনে হতাশা

বর্তমান কর্মব্যস্ত পৃথিবীতে যারা একাকী বসবাস করেন তাদের হতাশায় ভোগার আশঙ্কা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ফিনিশ গবেষকরা। গবেষণায় বলা হয়, নিঃসঙ্গ নারীদের জন্য বাসস্থানের পরিবেশ এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে সামাজিক আনুকূল্যের অভাব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জরিপে দেখা যায়, গত তিন দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলোতে একা বসবাসকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রতি তিনটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যসংখ্যা মাত্র একজন। একা বসবাসকারীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার জন্য কোনো না কোনো ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সক্রিয় একটি সংস্থা। জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জার্নাল ‘বায়োমেড সেন্ট্রাল’ এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয় বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিবিসি।

এ গবেষণায় ফিনল্যান্ডের ৩ হাজার ৪ শ’ ৭১ জন হতাশাগ্রস্ত মানুষের মানসিক মন্দা রোধে ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এদের মধ্যে ১ হাজার ৬শ’ ৯৫ জন পুরুষ ও ১ হাজার ৭শ’ ৭৬ জন নারী। তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করার পর দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারীদের তুলনায় একা বসবাসকারীদের মধ্যে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

গবেষক দলের প্রধান ড. লরা পুলক্কি-রাবাক বলেন, এ ধরনের গবেষণাগুলোতে সাধারণত ঝুঁকিগুলো খুব পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পায় না। এমনকি এদের মধ্যে কতজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বাইরে আছে তাও পরিষ্কার নয়। তবে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারীদের জন্য বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকায় তারা মানসিক ও সামাজিক সহযোগিতা পায় বলে তাদের মধ্যে হতাশাগ্রস্ত হওয়ার প্রবণতা কম দেখা দেয়। আর আলোচনা না করতে পারার কারণেই বেশি হতাশায় ভোগেন একা বসবাসকারীরা।

সুত্রঃ- দৈনিক ইত্তেফাক

গোপনীয়তা নীতি

Bibahabd.com আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা সম্পর্কে দৃঢ়প্রতীজ্ঞ। এই গোপনীয়তার বিবৃতি বিবাহবিডির সকল ইউজারদের জন্য প্রযোজ্য।  অনুগ্রহপূর্ব  বিস্তারিত জানতে নিচের শর্তাবলী গুলো মনোযোগ সহ পড়ুন।

  • বিবাহবিডি ডট কম  ওয়েবসাইটটি প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা এবং পুরুষ বয়সদের জন্য প্রযোজ্য। যেখানে মহিলাদের জন্য ১৮ বছর বয়স ও পুরুষদের জন্য ২১, তবে বিবাহবিডি ডট কম কতৃপক্ষ ও বিয়ের জন্য প্রস্তুত মানসিক ভাবে প্রস্তুত শিক্ষিত ও অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী  পাত্রের প্রোফাইলই একটিভ করবে।
  • বিবাহবিডি ডট কম   প্রোফাইল একটিভ করতে অবশ্যই পাত্র/পাত্রীর একজন বৈধ অভিভাবকের সাথে মৌখিক ভাবে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে তার প্রোফাইল একটিভ করবে।

কাভারেজ এর ব্যাপ্তি:

  • বিবাহবিডি ডট কম তার ব্যবহারকারীর সকল তথ্য সম্পূর্ন ভাবে সংরক্ষন করবে যা হবে নিরাপদ।
  • আপনার প্রোফাইল প্রদত্ত বায়োডাটা গুলো বিবাহবিডি কর্তৃক ভেরিফাইড ইউজারগনই কেবল দেখতে পারবে।
  • কোন ইউজার আপনার সাথে যোগাযোগ করার পূর্বেই আপনি মোবাইলে / ইমেইলে সংবাদ পাবেন
  • বিবাহবিডির কোন  ইউজার চাইলে আপনাকে ব্লক করতে পারে।
  • বিবাহবিডির কেবল মাত্র পেইড মেম্বার গন তাহার সাথে যোগাযোগের সম্পূর্ন তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারবে  যেমন ( ইমেইল, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, ফোন নাম্বার, অভিভাবকের ফোন নাম্বার

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ:

  • বিবাহবিডি আপনার উপযুক্ত পাত্র/পাত্রীর তথ্য যাচাই করে তারপর তাদের প্রোফাইল এক্টিভ করবে। যেন আপনি আপনার পছন্দের পাত্র/পাত্রীর সাথে নিজেই অথবা আপনার অভিভাবকের মাধ্যমে পারিবারিক ভাবে যোগাযোগ করতে পারেন।
  • কেবল মাত্র প্রিমিয়াম মেম্বারগনই নিজে থেকে পছন্দের পাত্র/পাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।
  • বিবাহবিডি কখনোই কোন তৃতীয় পক্ষ, অথবা  ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোন ধরনের মার্কেটিং এর জন্য আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন – ফোন নাম্বার, ইমেইল ইত্যাদি বিক্রী বা ভাড়া দিবেনা। কেন না বিবাহবিডি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তায় আপনার সাথে চুক্তি বদ্ধ
  •  আমরা প্রতারণামূলক নিবন্ধীকরণের এড়ানোর জন্য ও আমাদের সাইটের নিজস্ব নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে ও আমাদের সার্ভারে সমস্যা চিহ্নিত করার লক্ষ্য আপনার আইপি ঠিকানা (সাংখ্যিক কোড যে আপনার ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযুক্ত পিসি চিহ্নিত করা) আপনার IP ঠিকানা, আপনার ব্রাউজার এবং ব্রাউজার সেটিংস সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষন করি। 
  • বিবাহবিডি আপনার সাহায্যে ২৪ ঘণ্টা ৭ দিনই আপনাকে ফোনে / ইমেইলে সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার:

  • বিবাহবিডি নিজস্ব কোন তথ্য যেমন অফার, ডিস্কাউন্ট, বিশেষ কোন সুবিধা, নতুন ফিচার কিংবা সেবা মূল্যে বৃদ্ধি ও মূল্য হ্রাস সংক্রান্ত তথ্য আপনার কাছে পৌছে দিতে আপনার ইমেইল আইডি / ফোন নাম্বারে আপনাকে লিখিত এস এম এস বা ভয়েস এস এম এস অথবা কোন কাষ্টমার সাপোর্ট সরাসরি আপনার সাথে কথা বলতে পারে।
  • আপনি বিবাহবিডিটে লগিন করে আপনা নিউওজ লেটারে সেটিংস পরিবর্তন করতে সক্ষম  হবেন।
  • আপনি কেবল প্রিমিয়াম মেম্বারশীপে পদার্পন করার পরই অন্যান্য ব্যবহার কারীদের সাথে যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তাছাড়া কোন প্রিমিয়াম মেম্বার চাইলে আপনার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে অবশ্য তার আগেই বিবাহবিডি আপনাকে ইমেইল অথবা এস এম এস এ আপনাকে সংবাদ জানিয়ে দিবে।
  • আপনি চাইলে আপনার প্রোফাইল ডি এক্টিভেট করে দিতে পারবেন।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অফ কন্ট্রোল:

  • আপনি যতদিন না নিজে থেকে  চাইবেন ততদিন বিবাহবিডি ডট কম আপনার প্রোফাইল এক্টিভ রাখবে। আপনি যখনই চাইবেন আপনার প্রোফাইল বিবাহবিডি ডট কম থেকে অপসারন করতে, ইমেইল অথবা ফোনে রিকোয়েষ্ট করার পর বিবাহবিডী ডট কম তা নিশ্চিত ভাবে অপসারন করবে এবং ইমেইলে আপনাকে তা জানিয়ে দিবে।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা:

  • Bibahabd.com আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা রক্ষা দৃঢ়প্রতীজ্ঞ। আমরা আপনার তথ্য, উভয় অনলাইন এবং অফলাইন রক্ষা প্রতি সতর্কতা গ্রহণ করি।
  • আমরা আমাদের ক্ষমতা অনুয়ায়ী সব থেকে ফোটোগ্রাফ অপব্যবহার রোধ করার জন চেষ্ঠা করি। এছাড়াও ফোটোগ্রাফ ডাউনলোড করা বা কপি করার অনুমতি দেয় না, আমরা Bibahabd.com লোগো সহ সকল ছবিতে watermarked জুড়ে দেই। যা অবৈধ ভাবে ছবি ব্যবহারে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
  • যদি আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদেরকে ইমেইল করুন

পরিবর্তনসমূহ এই বিবৃতি থেকে:

Bibahabd.com থেকে পর্যায়ক্রমে এই বিবৃতির পর্যালোচনা করে কিভাবে আমরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত করা হয় তা আপনি উত্সাহ দেয়.

আপডেট অথবা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা:

 আমাদের ডাটাবেস থেকে সার্বজনীন ও প্রাইভেট তথ্য অথবা অপসারণ করতে পারবেন। যেমন আর্থিক তথ্য একটি আর্থিক লেনদেন ও নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা নিবন্ধীকরণের সময় কিন্তু পরিবর্তিত ব্যবহারকারী দ্বারা করা সম্ভব নয় অথবা সরিয়ে প্রক্রিয়ার সময় জমা হিসাবে বেসরকারী তথ্য

বন্ধুর ইমেইল:

আপনি চাইলে আপনার কোন বন্ধুকে আমাদের সেবা সম্পর্কে জানাতে পারেন। যার একটি অপশন বিবাহবিডিতে রয়েছে।

যোগাযোগের তথ্য:
Bibahabd.com গোপনীয়তা এই বিবৃতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য স্বাগত জানায়। আপনার যদি মনে হয় যে আমরা এই বিবৃতি থেকে আপনি আপনার কোন প্রশ্নের জবাব পাচ্ছেন না তাহলে , টেলিফোন, ইমেইল অথবা পোষ্ট আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:

BIBAHABD.COM
হাউজ # ৩৬২/১ (৩য় তলা)
ডি,আই,টি  রোড পূর্ব রামপুরা – ঢাকা ১২১৯
ফোনঃ ০১৯২২১১৫৫৫৫, ০২-৯৩৩১১৭২