তাহলে সম্পর্ক টিকে কাদের?

যুগল তো অনেক ধরনের আছে, তাহলে সম্পর্ক টিকে কাদের? অধ্যাপক ব্রায়ান ওগোলস্কির মতে –

কাপলদের ৪টি বিভাগে ভাগ করা যায়। নাটকীয়, সর্বদা মনোমালিন্য লেগে থাকে এমন, সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ে খুব অ্যাক্টিভ এবং পার্টনার ফোকাসড বা সঙ্গীকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন যাঁরা।

কোন যুগলই একদম নিখুঁত নয়। একটি সম্পর্কের পরিচালনার উপর বিবেচিত হয় সম্পর্ক কতদূর স্থায়িত্ব হবে। বর্তমান বিশ্বে যেমন বাড়ছে ডিভোর্সের হার তেমনি দেখা যাচ্ছে যুগলদের সম্পর্কের বিভিন্ন ধরণ। জানা যাক তাহলে সম্পর্ক টিকে কোন যুগলদেরঃ

নাটকীয় যুগল-

মনোমালিন্য লেগে থাকা যুগল-

যদিও সম্পর্কে মনোমালিন্যে হওয়া জরুরী এতে প্রেম-ভালোবাসা বাড়ে, তবে ঘন ঘন মনোমালিন্যে সম্পর্কে তিক্ততাও নিয়ে আসে। মনোমালিন্য লেগে থাকা যুগলদের মধ্যে মতের অনেক অমিল থাকে। বারংবার ঝগড়া বা মনোমালিন্যে হলেও ভালোবাসার টানে এ ধরনের যুগলদের মধ্যে অনেকের সম্পর্ক টিকে যায় আবার অনেকে টিকিয়ে রাখতে পারেনা। তবে গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ১৭ শতাংশ।

সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ে খুব অ্যাক্টিভ যুগল- এ যুগলরা মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ন্ত্রনের চেয়ে লোক দেখানো প্রেম-ভালোবাসাতে ব্যস্ত থাকে। এরা সম্পর্কের চেয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের প্রতি বেশী বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে। ফলে এরা খারাপ পরিস্থিতিতে সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেননা। সম্পর্কের প্রতি সৎ থাকলেও আন্তরিকতা কমই থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ১৯ শতাংশ।

পার্টনার ফোকাসড বা সঙ্গীকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন যাঁরা-এ ধরনের যুগলদের সম্পর্ক বেশীদিন দীর্ঘস্থায়ী হয়। কারন এরা নিজের চেয়ে সঙ্গীর প্রতি সর্বদা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, খারাপ পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধারন করেন, এদের নিজেদের বোঝাপড়া ভালো থাকে তাই ভরসার সাথে এরা দীর্ঘকাল জীবন অতিবাহিত করতে পারেন। গবেষণা অনুযায়ী, এ যুগলদের সংখ্যা ৩০ শতাংশ।

গবেষণা প্রমাণ করে যে,

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আস্থা ও প্রতিশ্রুতি।

‘পার্টনার ফোকাসড জীবনসঙ্গী’ খুঁজে পেতে ভরসা করতে পারেন বিবাহবিডি ডট কম কে। বিবাহবিডির ওয়েব পোর্টালে রেজিষ্ট্রেশন করে পাঁচ সহস্রাধিক প্রোফাইল থেকে পছন্দের মানুষটিকে বেছে নেয়ার সুযোগ পাবেন আপনিও। যদি সিরিয়াস হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চিন্তে রেজিষ্ট্রেশন করুন।

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে দ্বিধা

উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অনেকেই এক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দে ভুগে থাকেন। দেখা যায় ছোট-বড় যে কোন বিষয়ে অনেকেই নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন না অথবা দীর্ঘ সময় নেন, আবার অনেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহনে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকেন যা সব ক্ষেত্রে ঠিক নয়।

এমন দ্বিধা কাটিয়ে না উঠার জন্য ব্যক্তি সর্বদা সম্মুখীন হন জটিল পরিস্থিতির। তেমনি জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কাজ করে সিদ্ধান্তহীনতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই যে দ্বিধাগুলোতে ভোগেনঃ

– নিখুঁত সঙ্গী খোঁজার প্রবণতা।

– নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা অর্থাৎ হীনম্মন্যতায় ভোগা।

– নিজের পছন্দের প্রতি অনাস্থা তাই সর্বক্ষেত্রে অন্যের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল থাকা।

– অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ে সঙ্গী খুঁজার প্রবনতা।

– অন্যের ত্রুটি ধরার মানসিকতা বা খুঁতখুঁতে স্বভাব।

– বিচ্ছেদের ভয়।

সঙ্গী বাছাইয়ে দ্বিধা দূর করবেন যেভাবে –

আপনি কি বিয়ের বিষয়ে সত্যি সিরিয়াসঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কি বিয়ের জন্য সত্যি সিরিয়াস? উত্তর যদি হয় হ্যাঁ, এবার খেয়াল করুন আপনি কি বিয়ের জন্য পুরোপুরি ভাবে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক দিক থেকে প্রস্তুত। আপনি এ বিষয়গুলো নিয়ে যদি প্রস্তুত থাকেন তাহলে আপনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জানুন কেন বিয়ে করছেনঃ

বিয়ের বয়স হয়েছে, জৈবিক চাহিদার জন্য বিয়ে, একাকীত্ব দূর করতে, বৃদ্ধ বাবা মায়ের সেবা করতে বা সামাজিক নিয়ম এসব এক পক্ষ চিন্তা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিবেন না। জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের পূর্বে সচেতন হন যে আপনি কেন বিয়ে করছেন। বিয়ে মানে দুজন ব্যক্তির জীবন অন্তর্নিহিত হবে একই সুতোয়। তাই কি কি পরিস্থিতি সামনে আসবে আর কিভাবে দুজন মিলে জীবন পরিচালনা করবেন সে দিকগুলো ভেবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন।

উপদেশ গ্রহন করুন তবে বুঝেশুনেঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে আপনি কারো উপদেশ গ্রহন করতেই পারেন তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যেমনঃ সে যেন আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হন। উপদেশ নেয়ার সময় আপনার পছন্দ-অপছন্দ, মতামত বা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন, বেশী মানুষের উপদেশ গ্রহন করতে যাবেন না।

আবেগি মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নিজেকে বা অন্যকে কষ্ট দিবেন নাঃ

মানুষের মন সহজাতভাবেই আবেগি কিন্তু জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করুন। কেবল রুপ, গুণ অথবা ঐশ্বর্য এসব দেখে যেমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন করা উচিত নয় তেমনি প্রতিষ্ঠিত নয় অথবা আপনার সাথে বা আপনার পরিবারের সাথে মানানসই নয় এরকম ব্যক্তি কেউ জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহন না করাই ভালো।

নিখুঁত নয়, সঙ্গী হবে উপযোগীঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিখুঁত ব্যক্তি খুঁজতে থাকি আমরা, আর প্রধান ভুলটা এখানে কেননা পৃথিবীতে নিখুঁত কোন মানুষ হয়না।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাড়াহুড়ো নয়ঃ

তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গেলে, অনেক যৌক্তিক চিন্তা মাথা থেকে বের হয়ে এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত ভুল হলে অনেক সময় আফসোস করতে হয়। তাই জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হোক ভেবে চিন্তে ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নিয়ে।

বিচ্ছেদের ভয় কে জয় করুনঃ

আপনার সিদ্ধান্ত যদি আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথে মানানসই হয় তাহলেই আপনি বিচ্ছেদের ভয় কে জয় করতে পারবেন। তাই এমন জীবনসঙ্গী বাছাই করুন যেন সারাজীবন মানানসই হয়।

জীবনের পথে দুজনের ভাবনা খাপে খাপে মিলে না গেলে দাম্পত্যে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়াটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সুখী দাম্পত্যের জন্য অর্থ-বিত্ত বা অন্য কিছুর চাইতে পছন্দের একটি মানুষ সবচাইতে বেশি জরুরী।

বিবাহবিডি ডট কম

উচ্চ শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠিত হবার পরেও যদি আপনি অথবা আপনার পরিবারের কোন সদস্য উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধান না পাওয়ায় কারনে বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে থাকেন তবে আপনার জন্যই অনলাইন বেইজ ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস বিবাহবিডি ডট কম।

অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ঘরে বসেই আপনি চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রীদের প্রোফাইল (ছবি সহ বায়োডাটা) দেখে পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি নিজেরাই যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন এবং তা অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

যে ধরনের প্রোফাইল পাবেনঃ

৮৪ টি প্রফেশন ক্যাটাগরীর, যেকোন শিক্ষাগত যোগ্যতার, যেকোন ধর্মাবলম্বী – গোত্র কিংবা কাষ্টের, যেকোন বয়সের অবিবাহিত, ডিভোর্স – বিধবা – বিপত্নীক, বাংলাদেশের যেকোন জেলার অধিবাসী, এবং বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী। তাছাড়াও বিবাহবিডিতে রয়েছে কিছু ষ্পেশাল সার্চ ক্যাটাগরী যেমন – ডিসেবেলীটিস সার্চ (শারীরিক বা স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধকতা আছে এমন), সিঙ্গেল ফাদার / মাদার সার্চ ( ডিভোর্স কিংবা বিধবা/বিপত্নীক ও সন্তান আছে এমন )।

কেন বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেনঃ

জীবন একটাই আর একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য চাই একজন সুন্দর মনের মানুষ। অসংখ্য প্রোফাইল দেখে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছাতে নিজেই বিবাহবিডিতে প্রোফাইল করুন, নিজেই খুঁজুন এবং নিজেরাই পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। এতে লোক জানাজানির ঝামেলা যেমন নেই তেমনি খরচ ও অনেক কম।

জমকালো আয়োজনে বিয়ে! আসলে প্রয়োজন কতটুকু?

বর্তমানে বাংলাদেশে শহুরে বিয়ের অনুষ্ঠান যেন মানুষের মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ বিয়েতে কে কত বেশি জমকালো আয়োজন করতে পারে, অর্থ ব্যয় করতে পারে, তার যেন প্রতিযোগিতা চলে আজকাল৷ কিন্তু এর প্রয়োজন আসলে কতটা?

মূল কথায় যাওয়ার আগে আসুন আজ থেকে এক বা দুই দশক পিছিয়ে যাই৷ ৮০ বা ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে মুসলিম বা হিন্দু বিবাহ ছিল আজকের অনুষ্ঠান থেকে অনেকটাই ভিন্ন৷ সেসময় বিয়েতে প্রধান অতিথি হতেন আত্মীয়স্বজন, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব৷ যাঁদের ছাদ আছে বা বড় উঠোন- মুসলিম বিয়েতে হলুদ থেকেই শুরু হতো বিয়ের অনুষ্ঠান৷

আজকের মতো উপটান দিয়ে হলুদ তখন দেয়া হতো না৷ রীতি মতো কাঁচা হলুদ বাঁটা হতো, সঙ্গে হত গীত – ‘‘হলুদ বাটো, মেহেদি বাটো…”৷

একদিকে গান চলছে, অন্যদিকে কাঁচা হলুদ ও মেহেদি পাতা বাটা হচ্ছে৷ চারপাশে হাসির ফোয়ারা, সেইসাথে আনন্দের লহর৷ আর হলুদে হতো রং খেলা৷ একে অপরকে রাঙিয়ে আনন্দ হতো দ্বিগুণ৷

এরপর ছাদে বা পাশের বড় কোনো মাঠে সামিয়ানা টাঙিয়ে বিয়ের দিন হতো প্রীতিভোজ৷ উপহার দেয়া হতো নব দম্পতির সাংসারিক জীবনে যা প্রয়োজন, তেমন আসবাব৷ কনের প্রসাধনও ছিল সাধারণ৷

হলুদে গাছ থেকে ফুল ছিড়ে তা দিয়ে সাজ৷ সাধারণ সুতি বা জামদানি শাড়ি৷ বিয়ের দিন বেনারশি শাড়ি, একটু স্নো পাউডার, চোখে কাজল৷ আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের মধ্যে যে ভালো সাজাতে জানেন, তাঁর ওপরই পড়ত কনেকে সাজানোর ভার৷

বিয়েতে এই যে আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সমাগম, তাঁরা কিন্তু নিজেরাই কাজ ভাগ করে নিতেন৷ এমনকি কোমরে গামছা বেঁধে তাঁরা নেমে পড়তেন খাওয়ার পরিবেশনের কাজও৷

ফলে যে পরিবারে মেয়ের বিয়ে তাঁদের ওপর চাপ অনেক কমে যেত৷ বিয়েতে অর্থ খরচের বাহুল্যো তেমন চোখে পড়ত না৷ অথচ আনন্দের কোনো কমতি ছিল না৷ প্রতিটির মেয়েরই জীবনে সাধ থাকে বিয়ের দিনটিতে তাঁকে যেন রাজরানীর মতো লাগে৷ তখনকার সেই সাজে মেয়েটি কিন্তু তৃপ্ত ছিল৷ তাঁর স্বপ্ন ভঙ্গ হতো না

কিন্তু গত দই দশকে বদলে গেল চিত্র৷ বাংলাদেশের শহরগুলোতে গড়ে উঠল অনেক ভবন৷ গড়ে উঠল অ্যাপার্টমেন্ট৷ আগের মতো জায়গা পাওয়া না যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হলো কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে৷ সেটা অবশ্য হতেই পারে৷

কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়৷ হিন্দি সিরিয়াল ও বলিউডের প্রভাবে অনেক উচ্চবিত্তরা শুরু করলেন নতুন এক সংস্কৃতি৷ হলদি নাইট, মেহেন্দি নাইট শুরু হয়ে গেল৷

ডিজে আনা হতে লাগলো৷ প্রচুর খরচ হতে শুরু হলো বিয়েতে৷ কে কার চেয়ে বেশি পারে৷ হিন্দু বিয়েতেও একই অবস্থা৷ আগে হিন্দু বিয়েতে হলুদ দিয়ে মেয়েকে গোসল করানো হতো৷

এখন হলুদে আলাদা অনুষ্ঠান হয়, মেহেদি পড়ানো হয়৷ আর পার্লারে যাওয়া যেন বাধ্যতামূলক৷ কেবল কনে নয়, বর এবং দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই৷ তার ওপর হলুদে হিন্দি গানের সাথে রাতভর নাচ তো আছেই৷ ডিজিটাল অগ্রগতির কারণে এই সংস্কৃতি কেবল শহরে নয়, এখন ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রামেও৷

প্রশ্ন হলো,

এতে করে কি আনন্দের মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে? মনে হয় না৷ কেননা বর্তমানে আমন্ত্রিত অনেককেই হয়ত বর-কনে চেনেন না৷ তাছাড়া এত অর্থ ব্যয়ের প্রতিযোগিতায় অনেক বাবা-মা নিঃস্ব হয়ে যান৷ নিজের কন্যা বা পুত্রের মুখের দিকে চেয়ে তারা, মানে তাঁদের বুকের ধন যা দাবি করে – তাই উজার করে দিতে চান তাঁরা৷

কিন্তু এর কোনো প্রয়োজন আছে কি? নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছোট করে চমৎকার একটি বিয়ের আয়োজন কি কারো মর্যাদা বা আভিজাত্যে আঘাত হানে? কত গরু-খাসি কাটা হলো, কত মানুষ আমন্ত্রিত হলো, বিয়ের পর সে হিসাব কে রাখে?

বরং ..

কাছের ও পছন্দের মানুষের আশীর্বাদটাই যে সবচেয়ে প্রয়োজন৷ আর বাবা-মা যদি সত্যিই ধনী হন, তবে তো জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখা যায় আরও বড়, আরও ভালো কাজের মধ্য দিয়ে! সুত্র: DW

শয়নকালীন কিছু অভ্যাস দাম্পত্যে প্রশান্তি নিশ্চিত করে

আপনার শোবার ঘরের পরিবেশ আপনারই বদভ্যাসে আচ্ছন্ন নয় তো? কিছু বদঅভ্যাস থাকে যা গুরুত্ব না দেয়ার ফলে এ অভ্যাসগুলো দ্বারা সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ট্রিনের মনোবিজ্ঞানী লি ল্যান্ড বলেন- দুজন মানুষ যদি শূন্যতা অনুভব করেন, তখন পারস্পরিক খেয়াল রাখা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে কম সাড়া দেন। নিঃসন্দেহে বলা যায়, কম ঘুম হলে মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও সম্পর্কে চিড় ধরতে দেখা যায়।

ঘুমের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞরা বলেন-

বিছানায় যাওয়ার আগের অভ্যাসগুলো দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। তাই দাম্পত্যে সুখী হতে চাইলে আপনার প্রাক-শয়নকালীণে যে কাজ গুলো করবেন না-

তাই দাম্পত্যে সুখী হতে চাইলে আপনার প্রাক-শয়নকালীণে যে কাজ গুলো করবেন না-

কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন নাঃ

বর্তমানে যে চিত্রটি সবচেয়ে বেশী দম্পতীদের শোবার ঘরে দেখা যায় তা হল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা। যেমন- ইন্টারনেট ব্রাউজিং, অফিসের কাজ, বই পড়া বা নিজের পছন্দের অনুষ্ঠান দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকা ইত্যাদি।

যোগাযোগ হবে খোলামেলাঃ

একই ছাদের নিচে যার সাথে থাকছেন তাকে বলার মত অজস্র কথা তৈরি হয় প্রতিদিনই কিন্তু আপনি তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করছেন তো? সারাদিন ব্যস্ততার পর ক্লান্তি থাকা অথবা ইন্টারনেটে নিজেকে ব্যস্ত রাখার ফলে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে কথোপকথন প্রয়োজনের তুলনায় কম বলছেন। তাই আপনাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ কমছে ও পরস্পরকে কম জানছেন যা আপনাদের সম্পর্ক নড়বড় অবস্থানে নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ উইন্টার্স বলেন- দাম্পত্য জীবনে পিলোটক বা ঘনিষ্ঠ আলাপ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুজনের মধ্যে আলোচনার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। উষ্ণতা আর স্নেহে ভরা ওই সময়টুকু পরবর্তী দিনের মেজাজ ঠিক করে দেয়। সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সুজান উইন্টারের মতে- দাম্পত্যে আদর-সোহাগের মাধ্যমে বন্ধন তৈরি হয়। বেডরুমের অভ্যাসগুলো ভালো হলে দুজনের অন্তরঙ্গতা বাড়ে। এটি সুখী দাম্পত্যের লক্ষণ। এই রোমান্টিক সম্পর্ককে অবহেলা করলে ধীরে ধীরে সম্পর্কের বাঁধন আলগা হতে শুরু করে।

দুজন একই সময় ঘুমাতে যাবেনঃ

একই সাথে ঘুমাতে যাওয়ার ফলে পরস্পরের মধ্যে আবেগজনিত সম্পর্ক বাড়ে যা দাম্পত্যে জীবণ মধুর রাখে।

থেরাপিস্ট জ্যানি ইনগ্রাম বলেছেন- আপনার সময়সূচী যদি একই সাথে মিলে যায় তবে একই সময়ে বা তার চারপাশে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রায়শই টিভি বা ইন্টারনেটের কারণে দম্পতিরা আলাদা সময়ে বিছানায় যাওয়ার রীতিতে পড়ে যান।

শোবার ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখুনঃ

আপনার শোবার ঘরের পরিবেশ আপনাদের মনের উপর প্রভাব ফেলে এটি আপনাদের দাম্পত্যে সম্পর্কেও ভূমিকা রাখে। অবাক হচ্ছেন তাই তো? শোবার ঘরের পরিবেশ যদি অগোছালো থাকে তখন কিন্তু মন মেজাজে মন্দা কাজ করে আবার সুন্দর পরিবেশ মনকে প্রফুল্লও রাখে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ঘরের পরিবেশ সুন্দর ও গোছালো রাখুন।

আলাদা ঘুমানো বিষয়টি এড়িয়ে চলুনঃ

সম-সাময়িক দূরত্ব বা রাগ-অভিমান সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়। কিন্তু দীর্ঘকালীন সঙ্গীর থেকে আলাদা ঘুমানো দাম্পত্যে সম্পর্কে হিতের বিপরীতে কাজ করে।

মনোবিজ্ঞানী র‍্যাচেল সুসম্যান বলেন- দুজন আলাদা সময় ঘুমাতে যাওয়া ইতিবাচক হতে পারে। কারণ, প্রত্যেকে আলাদা সময় পায় এবং ভালো ঘুমাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই পৃথক থাকার বিষয়টি যেন দুজনের মধ্যে দূরুত্ব না বাড়ায়।

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ঝগড়া থেকে বিরত থাকুনঃ

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ঝগড়া হবে এরকম আলোচনায় কেউ যাবেন না। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মন শান্ত থাকবে এরকম কিছু করুন। ঝগড়া বা অভিমান হতে পারে এরকম বিষয়ের আলোচনার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করুন।

কার্ট স্মিথ মনে করিয়ে দেন যে- বিছানায় যাওয়ার আগে অবশ্যই ঝগড়া করা যাবে না। ঝগড়া কখনো সমাধানের পথ দেখায় না। তার উপর রাগ নিয়ে যখন ঘুমাতে যাবেন তখন আপনার চোখে ঘুম আসবে না এবং পরের দিন খুব বাজে কাটবে। যা আপনাদের সম্পর্কের জন্য মোটেও ভালো হবে না।

সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করবেন যেভাবে

সারা বিশ্বে বিচ্ছেদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমান যুগে দম্পতিরা বিচ্ছেদের জন্য বেশ তাড়াতাড়ি প্রস্তুতি গ্রহন করেন। সম্পর্কে জড়িয়েই তা টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট সময় একে অপরকে দিতে চান না। দাম্পত্য সম্পর্ককে বিচ্ছেদের মুখোমুখি না করে বরং দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সম্পর্ক গড়তে প্রয়োজন একে অন্যের প্রতি বুঝাপড়া।

সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই –

সঙ্গীকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন –

দাম্পত্যে কলহ মাঝে মধ্যেই ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একে অপরের প্রতি যখন ঘন ঘন দোষারোপ করে তখনই সম্পর্কে কলহ বিরাজ করতে থাকে। পরস্পর দোষগুলো ছাড় দিন তাহলে সম্পর্কে কলহও কমে যাবে।

সঙ্গীকে স্পর্শে রাখুন –

স্পর্শ পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। সম্পর্কের বয়স অনেকদিন হয়ে গেলও সঙ্গীকে নিজের স্পর্শে রাখুন। যেমন- পাশাপাশি হাঁটছেন সঙ্গীর হাত জড়িয়ে রাখুন, সম্পর্কের বয়স বাড়লেও রোমান্টিক আচরণ করুন।

স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে সম্পর্কের উন্নয়ন করুন –

সম্পর্কে একে অপরের প্রতি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ জাগাতে পারলে সমস্যাগুলো অনেকাংশে লাঘব হয়। কেবল সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সম্পর্ক ধরে রাখতে যাবেন না। সঙ্গীর আপনার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এমন আচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক কে উন্নত করুন।

ক্ষমা করুন –

ভুল সবাই করে, এটি জীবনের একটি শীতল কঠিন ঘটনা। যদি সঙ্গীর প্রতি যত্নবান হন তবে তার ভুলের জন্য ক্ষমা করতে আপনাকে শিখতে হবে। একে অপরের প্রতি ক্ষোভকে ধরে রাখা কোনও সম্পর্কের জন্য মঙ্গল বয়ে আনেনা। তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অবশ্যই ক্ষমা করা শিখতে হবে।

ইচ্ছের বিকাশ করুন –

সম্পর্কে কেবল একপক্ষের ইচ্ছা কে প্রাধান্য দিবেন না। দুজন আলাদা ব্যক্তি, দুজনার ইচ্ছাও আলাদা তাই সম্পর্ক কে সম্পর্কের অবস্থানে রেখে নিজস্ব ইচ্ছেগুলো পূরণ করুন ও একে অপরের ইচ্ছেকে সমর্থন করতে শিখুন।

প্রতিযোগিতা করবেন না –

সম্পর্ক কোন খেলা নয়। সম্পর্ক দুজন ব্যক্তির মাঝে পবিত্র বন্ধন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে অনেক বিষয় বিসর্জন দিতে হবে। এর মধ্যে প্রধান হল সঙ্গীর প্রতি হিংসাত্মক আচরণ আনবেন না এতে সম্পর্ক প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে চলে যায়।

আপনার সূক্ষ্ম গুণাবলীগুলো চর্চা করুন –

এমন গুণাবলী নিয়ে কাজ করুন যা আপনাকে আরও ভাল ব্যাক্তি করে তোলে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি করা সহজ – কারণ আনুগত্য, করুণা এবং বিশ্বাসের মতো এই গুণগুলি অনুশীলনের সুযোগ সর্বদা থাকে আর এ গুণগুলো সম্পর্কের সুন্দর রুপ প্রদান করে।

একে অপরকে উৎসাহিত করুন –

সম্পর্কে আছেন বলে কেবল সম্পর্ক নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন না। আপনার নির্দিষ্ট কাজ করা বা নতুন জিনিস চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকবেন না। আপনি আপনার সঙ্গীর কাজগুলোতে উৎসাহিত করুন এবং তার কাছ থেকে উৎসাহ পাওয়ার বিষয়টি তৈরি করুন এতে পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা বেড়ে উঠবে।

সঙ্গীর প্রশংসা করুন –

আপনার জীবনসঙ্গীর ভালো দিক ও গুনের জন্য তার সামনেই তার প্রশংসা করুন। আপনার জন্য উপহার বা রান্না করলে তাকে ধন্যবাদ দিন। দাম্পত্য সম্পর্কে প্রশংসা বিষয়টি অবশ্যই থাকা উচিত।

ভিনাস্ট্রাফোবিয়া – সুন্দরী নারীতে ভয়

মিস্টার জাবের, একটি বড় কোম্পানিতে কর্মরত। চাকরীর সুবাদে অসংখ্য মানুষের সাথে কথা বলা, ওঠা-বসা থাকলেও শুধুমাত্র সুন্দরী নারীর সামনে গেলে বেশ ইতস্ততবোধ করেন। তার সামনে কোন সুন্দরী নারী থাকলে কথা বলতে গেলে তার মুখ শুকিয়ে যায় বা কথা এলোমেলো হয়ে যায়।

পছন্দের মানুষটিকে বারবার কাছে পেয়েও কখনোই মনের কথা বলতে পারেননি, অনেক প্রস্তুতির পরও ফুলের তোড়া ফেরত নিয়ে এসেছেন। এমনকি বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়েও একই সমস্যা পাত্রীর সামনে তার হাত-পা কাঁপতে থাকে অথবা স্নায়ুগতি কমে যায়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের শরাপন্ন হলে জানা যায় যে, জাবের সাহেব ভিনাস্ট্রাফোবিয়া রোগে আক্রান্ত।

ফোবিয়া মানে হল ভয় আর ভিনাস্ট্রাফোবিয়া হল সুন্দরী নারীদের প্রতি ভয়। এ ফোবিয়ার নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবী ভেনাস থেকে তবে খুব অল্প সংখ্যক পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়।

কারনঃ

– পূর্বে সুন্দরী মেয়ের সাথে কোন খারাপ অভিজ্ঞতার ফলে। যেমন- যেকোন কারনে হৃদয়ভঙ্গ হওয়া, জনসম্মুখে অপমানিত হওয়া, বিবাহ বা প্রেমের বিচ্ছেদ ইত্যাদি।

– জেনেটিক বা বংশগত কারণে।

– পারিবারিকভাবে বেড়ে উঠার পরিবেশগত কারনে।

– ছোটবেলায় সুন্দরী শিক্ষকের কড়া শাসনের অভিজ্ঞতার ফলে সবাইকে কঠোর মনে হতে পারে।

লক্ষণঃ

সুন্দরী নারীর প্রতি স্বাভাবিক ভাবে সবারই এক আলাদা আকর্ষণ কাজ করে। দূর থেকে সুন্দরী নারী কে দেখতে ভালো লাগলেও কাছে গেলে ভয় পান অনেক পুরুষই। ব্যাপারটি অদ্ভুত হলেও সত্যি যে অনেক পুরুষ সুন্দরী নারীদের প্রচণ্ড ভয় পান।

– সুন্দরী নারীকে দেখলে অতিরিক্ত ঘামতে থাকা।

– তাদের সামনে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া।

– হার্ট বিট অনিয়মিত হওয়া।

– কথা বলার সময় মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা কথা এলোমেলো হতে থাকা।

– সুন্দরী নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা অথবা চোখে মুখে অনীহাবোধ ফুটে ওঠা। – তাদের পাশে বসলে অথবা কথা বলার সময় হাত পা কাঁপা।

– সুন্দরী মেয়েদের থেকে সর্বদা দূরে থাকার চেষ্টা করা।

– স্নায়ুগতি কমে যাওয়া।

করণীয়ঃ

– মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নিকট থেকে বিভিন্ন থেরাপি নেয়া যেতে পারে। যেমনঃ টকিং থেরাপি, এক্সপোজার থেরাপি।

– চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করলে এই ফোবিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে- কিছু সংখ্যক পুরুষ সুন্দরী নারীর পাশে পাঁচ মিনিট বসলেই নাকি পুরুষের মধ্যে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়৷ যা শরীরে কোর্ট্রিসল নামক বিশেষ হরমোনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় আর বিপত্তি সেখানেই৷ এই হরমোনের বাড়তি প্রবাহ আবার হৃদযন্ত্রের নানা রোগের জন্য দায়ী৷

আমাদের প্রত্যহ পাঠকদের মধ্যে নিশ্চয় হয়তো এমন কেউ নেই যদি থেকে থাকেন অবশ্যই বিয়ের আগে দ্রুত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায়

ইউকিপিডিয়ার মতে পরকীয়া (ইংরেজি: Adultery বা Extramarital affair বা Extramarital sex) হল বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকান্ড। মানবসমাজে এটি লঘু বা গুরুভাবে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য পাশ্চাত্য আধুনিক সমাজে এর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলেও এটি আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয় না, তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরকীয়াকারী ব্যক্তির বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারেন।

তবে কিছু ইসলামি রাষ্ট্রসমূহে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা হল পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদন্ড প্রদান। মনোচিকিৎসায় একথা স্বীকৃত যে, পিতামাতার পরকীয়া সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর এবং সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সন্তানের মানসিক বিষন্নতার ও আগ্রাসী মনোভাবের জন্ম দেয়। এছাড়া পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে পরকীয়া প্রভাব রাখে ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড অ্যাডোলসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন –

“মনোদৈহিক ও সামাজিক কারণে মানুষ পরকীয়ায় জড়ায়। প্রথমে আসে দৈহিক বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কে অতৃপ্তি থেকে অনেকে এ সম্পর্কে জড়ায়। সেক্স মানুষের একটি শরীরবৃত্তীয় চাহিদা। যদি স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবন দুর্বল হয়, তাহলে অপর ব্যক্তির প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে। কারো মধ্যে যদি DRD4 জিনের উপস্থিতি বেশি হয়, তাঁদেরও পরকীয়া বা বাড়তি সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা থাকতে পারে।

অনেক সময় মানসিক সমস্যার কারণেও মানুষ পরকীয়ায় জড়াতে পারে। যাঁদের মধ্যে বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার আছে, তাঁদের পরকীয়ার সম্পর্কে জড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। তাঁরা কোনো কিছুর মধ্যে স্থিরতা খুঁজে পায় না।

সঙ্গীর উদাসীনতা ও দূরত্বের কারণেও অনেক সময় মানুষ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী বাস্তবতার কারণে, কাজের কারণে হয়তো দূরে চলে যায়। তখন তাঁদের মধ্যে পরকীয়ার আগ্রহ বাড়ে। অনেক সময় পশ্চিমা সংস্কৃতির ধাঁচ নিজেদের মধ্যে আনতে চায়, তখন পরকীয়া বাড়ে। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব, দূরত্ব ইত্যাদির জন্যও অন্যের প্রতি আগ্রহ, আসক্তির ঘটনা ঘটে”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজির আহম্মদ তুষার বলেন –

“প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে পরকীয়ার বিষয়টি চলে আসছে। উন্নয়ন ও মঙ্গলের কথা চিন্তা করে মানুষ একগামী। তবে মানুষ মূলত বহুগামী। পরকীয়াতে যেকোনো একজনকে বিবাহিত হতে হবে অথবা দুজনই বিবাহিত থাকতে পারেন”।

মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায় –

এ বিষয়ে তানজির আহম্মদ বলেন – “এক ধরনের প্রয়োজন বা চাহিদার কারণে মানুষ পরকীয়ায় জড়ায়। অনেক সময় শারীরিক প্রয়োজন থাকে। আর্থিক প্রয়োজন থাকে। স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্যও কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়ায়। অনেক সময় মানসিক প্রয়োজন থাকে। আবার কিছু বিষয় শেয়ার করতে করতে অনেকে একসময় পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়।

অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে, আবার অনেক সময় অবস্থার কারণেও হয়তো পরকীয়ায় জড়ায়। হতে পারে একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে গেল। একপর্যায়ে হয়তো ভালো লেগে গেল। তখনও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আবার দীর্ঘসময় একসঙ্গে কাটাতে কাটাতে, বন্ধুত্ব থেকেও অনেক সময় পরকীয়া হয়ে যায়। অনেকে শখ থেকেও পরকীয়ায় জড়ায়।

অন্য আরেকটি শরীর কেমন, একে জানার একটি আগ্রহ থাকে। অনেকে আবার ভাবে, ‘ওরা কি সুখী! এই মানুষটির সঙ্গে থাকতে পারলে হয়তো আমার অনেক সুখ লাগত।’ এ থেকেও অনেকে ওই ব্যক্তির প্রতি আগ্রহ অনুভব করে। অনেক সময় মিডিয়াও পরকীয়ার প্রবণতা তৈরি করে। বিভিন্ন ধরনের পর্নোসাইট দেখে পরকীয়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। আসলে অধিকাংশ মানুষেরই একটি বাড়তি চাহিদা থাকে। তবে সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়মনীতির কারণে এ সম্পর্কে জড়ায় না। অনেকে কিছু সুবিধা আদায়ের জন্য পরকীয়া করে জানিয়ে তিনি বলেন, হয়তো আর্থিক সাহায্য পাবে এ সম্পর্কে জড়ালে, এমন ভাবনা থেকেও কেউ কেউ পরকীয়ায় জড়ায়”।

সাইকোলজিস্ট ইশরাত জাহান বীথি বলেন –

“পরকীয়ার পেছনে জড়ানোর একটি বড় কারণ হলো শূন্যতা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যখন শূন্যতা তৈরি হয়, তখন আরেকজন সেখানে প্রবেশ করে। হয়তো স্বামী বা স্ত্রীর আর আগের মতো করে কথা বলে না বা আদর করে না। যত্ন কম নেয়। এই বিষয়গুলোর কারণে অন্যের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। স্বামী-স্ত্রী দূরে থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে। মেয়েদের বিয়ের আগে হয়তো যৌন চাহিদা তেমন থাকে না। বিয়ের পর তাঁরা বুঝতে পারে বিষয়টি। শুধু যৌনতায় অংশগ্রহণ নয়, কথাবার্তায়ও বিষয়টি থাকতে হয়। তখন যদি অন্য কেউ সেই কথাগুলো শোনায়, তাহলে তাঁর প্রতি আগ্রহ কাজ করে।

শারীরিক গঠন এ ব্যাপারে কাজ করতে পারে। কিছু কিছু ছেলে চিকন স্বাস্থ্যের মেয়ে পছন্দ করে। আবার কিছু কিছু ছেলে হয়তো একটু স্থুল স্বাস্থ্যের মেয়ে পছন্দ করে। সন্তান হওয়ার পর অনেক মেয়ে স্থুল হয়ে যায়। এতে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে। আবার নারীর বেলায়ও অনেকে হয়তো খুব হ্যান্ডসাম ছেলে পছন্দ করে, যা হয়তো তাঁর স্বামীর সঙ্গে মেলে না।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোট ছোট চাওয়াগুলো হয়তো পূরণ হচ্ছে না। হয়তো স্ত্রী চাঁদ দেখতে পছন্দ করে, স্বামী সেটিকে বিলাসিতা মনে করে। এ রকম সময় অন্য কেউ যখন সেই জায়গায় আসে, তখন নির্ভরতা বেড়ে যায়। আবার অনেকে ভাবে, আমি তো একসঙ্গে দুটোকেই ব্যালেন্স করছি। তাই আমি এমন একটি সম্পর্ক করতেই পারি।

আবার অনেকে মনে করেন, স্বামী বা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও খুব ভালো একজন বন্ধু অথবা বান্ধবী থাকতে পারে। যার সঙ্গে মানসিক শেয়ারিং ও শারীরিক সম্পর্ক—দুটো বিষয়ই থাকতে পারে। এটা দোষের কিছু নয়। কারণ, বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনো প্রতিজ্ঞা নেই। যে কেউ যেকোনো সময় হয়তো এখান থেকে সরে আসতে পারে। একে অনেকে পরকীয়া বলে মনে করে না।

আবার অনেকে বিবাহবিচ্ছেদের পর বৈবাহিক সম্পর্কে জড়াতে চায় না। বিবাহিত কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে নিজের চাওয়াগুলো পূর্ণ করতে চায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক ও শারীরিক প্রয়োজন মেটানোর বিষয়টিই এখানে মুখ্য হয়। এসব ভাবনা ব্যক্তিকে পরকীয়ার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে বলেই মনে করেন ইশরাত শারমীন রহমান।”

বিয়ে করুন যথা সময়ে, এর স্বাস্থ্যগত সুফল অনেক!

বিয়ের কথাটা শুনলেই কেমন যেন লাগে। চিন্তার বিষয়, বয়স হয়েছে তো! সে যাই হোক। বিয়ে করুন উপযুক্ত সময়ে। কারণ বিয়ে করার স্বাস্থ্যগত সুফল অনেক! কি ধরণের সুফল থাকতে পারে বিয়ে করার পর?

কেউ যদি মনে করে থাকেন বিয়ে করার কারণে আপনার মৃত্যুর দিন তাড়াতাড়ি ঘনিয়ে আসবে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। কারণ ২০১৩ এর এক রিসার্চে দেখা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তারা বিবাহিত অথবা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মধ্যে যারা আছে তাদের তুলনায় তাড়াতাড়ি মারা যায়। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে জীবনসঙ্গী মানুষকে আবেগ অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়, সামাজিকভাবে একত্রে রাখে, মানসিকভাবে সমর্থন দেয়, যার সব কিছুই সুস্থ স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন।

মানসিক চাপ কম থাকে :

যদিও মাঝে মাঝে ঝগড়া লাগে তারপরও তার উপস্থিতি আপনার মনে এক ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে দিবে। মানুষ যখন কোন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে তখন শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই স্ট্রেস হরমোন বিবাহিতের চেয়ে অবিবাহিতদের শরীরে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত পরিমাণে মানসিক চাপ শরীরে সমস্যার জন্ম দেয়, বিশেষ করে হজমের সমস্যার সৃষ্টি করে। রিসার্চে জানা গেছে স্ট্রেস হরমোন বিবাহিতদের শরীরে সেরকম ভাবে ক্ষতি করতে পারে না কিন্তু অবিবাহিতদের শরীরে নানা সমস্যার বাসা তৈরি করে।

হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনা হ্রাস পায়:

ভালোবাসা হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা বিবাহিত অথবা কোন সম্পর্কের মাঝে আছে তাদের হার্ট-অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা নিঃসঙ্গ মানুষের চেয়ে কম। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে সঙ্গীর নিবিড় সঙ্গ এবং নতুন পরিবারের নতুন সব আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু- বান্ধবের সাথে ভালো বন্ধনের কারণে হার্ট-অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। কারণ পরিবারের সাথে থাকলে মানুষ উৎফুল্ল থাকে। মনে কোন মানসিক চাপ থাকলে তা শেয়ার করতে পারে। এতে মনের উপর চাপ কম পড়ে।

বিয়ে শরীরের হাড় মজবুত করে। অবাক হচ্ছেন? আসলেও তাই। বিয়ে শরীরের হাড় শক্ত করে এবং বিভিন্ন হাড়ের রোগের ঝুঁকি কমায়। বিয়ে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব ঠিক রেখে হাড়ের এক ধরণের রোগ “অস্টিওপরোসিস” হওয়ার ঝুঁকি কমায়। একজন ভালো জীবনসঙ্গী পত্নীর মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে হাড়কে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই সুখী দাম্পত্য জীবন মহিলাদের হাড়ের খনিজ ঘনত্ব ঠিক রাখার জন্য জরুরী।

অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হওয়া:

কেউ যখন আপনার পাশে সারাক্ষণ থেকে আপনার পরিচর্যা করবে তখন আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু আপনি যখন একা থাকবেন সে ক্ষেত্রে আপনার সুস্থ হতে অনেক সময় লেগে যাবে। কারণ তখন আপনার সব কাজগুলো আপনার নিজেরই করতে হবে। এছাড়াও আপনি যখন কার সান্নিধ্যে থাকবেন তখন বেঁচে থাকার একটা কারণ খুঁজে পাবেন। এক্ষেত্রে জীবন সঙ্গী আপনার বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।

অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমে:

জীবনে কতবার আপনি আপনার জীবনসঙ্গীকে আকস্মিক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করেছে? গবেষণায় দেখা গেছে তালাক প্রাপ্ত মহিলা এবং পুরুষেরা বিবাহিতদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বেশি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। গবেষকদের মতে বিয়ে দুটি মানুষকে পাশাপাশি রাখে এবং এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণামের হাত থেকে রক্ষা করে।

বিষণ্ণতা কমায়:

একাকীত্বের কারণে অথবা অন্য সমস্যার কারণেও মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগতে পারে। আর মানুষ যখন হতাশায় ভুগে তখন কি পরিমাণ মানসিক বিপর্যয় ঘটছে তার নিজের, তা সে বুঝতে পারে না। কারণ বিষণ্ণতার প্রথম উপসর্গ হচ্ছে আত্ম-উপলব্ধির হ্রাস পাওয়া। তাই বিষণ্ণতাকে সনাক্ত করতে এবং দূর করতে প্রয়োজন একজন সঙ্গীর। যে সব সময় আপনার সাথে থাকবে, যার সাথে আপনি সবকিছু শেয়ার করতে পারবেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়:

২০১৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল মানুষ মরণ ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল তাদের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ এর বেশি মানুষ আরোগ্য লাভ করতে সক্ষম হত যদি তারা বিবাহিত হত। এই সাফল্যের হার কেমোথেরাপির থেকেও বেশি। একটি স্বাভাবিক স্থিতিশীল সম্পর্কই প্রথম ধাপের ক্যান্সার সনাক্ত করতে পারে। আর এই বন্ধনই ক্যান্সারের সাথে লড়ে সুস্থ হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়। একজন উপর্যুক্ত সঙ্গিনী তার সঙ্গীকে খারাপ এবং জীবনের জন্য ঝুঁকিকর কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে। যেমনঃ মদ্যপান, মাদক সেবন ইত্যাদি।

স্মৃতিভ্রংশ প্রবণতা কমায়:

যদি জীবনে এমন সঙ্গী থাকে যার কাছে গেলে মনে শান্তি আসে তাহলে বার্ধক্য কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে যারা তালাকপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় বিয়ে করে নি তাদের স্মৃতি শক্তি নষ্ট হওয়ার প্রবণতা প্রায় তিন গুন বেশি হয় এবং যারা মাঝ বয়সে বিধবা হওয়ার পর আর বিয়ে করেনি তাদের স্মৃতিভ্রংশ প্রবণতা ছয়গুণ বেড়ে যায়। গবেষকরা বলেন বিবাহিত এবং সারাজীবন মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে পাশাপাশি থাকলে মন প্রফুল্ল থাকে এবং স্মৃতি শক্তি কম হ্রাস পায়।

বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্তি:

সুখী দম্পতিদের কখনো টাইপক-২ ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, ফাইব্রোমাইলজিয়া মত অসুখ হতে দেখা যায় না। যেকোনো জিনিস নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে উপর খারাপ ভাবে প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে হলে সুখী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা অতীব জরুরী।

কেমন জীবনসঙ্গী খুঁজবেন?

বিয়ে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নতুন জীবন শুরু করতে জীবনসঙ্গীর কিছু দিক অবশ্যই যাচাই করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত এবং তাড়াহুড়া একেবারেই না। আসুন দেখি কোন দিক গুলো অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

জীবনসঙ্গী খুঁজার ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার কাছাকাছি বা সমপরিমাণ কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নিবেন। অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা কম শিক্ষা এরকম কাউকে নিয়ে ভাবেন না।

বয়সের পার্থক্যঃ

যাকে জীবনসঙ্গী বানাবেন ভাবছেন তার বয়সের সাথে আপনার বয়সের দূরত্ব কম বা বেশী না হয় এ বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। পারিবারিক মতামতঃ যারা পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজছেন তারা পরিবারের মতামত বুঝে সিদ্ধান্ত নিন এতে করে পরিবারের সাথে আপনার জীবনসঙ্গীর সম্পর্ক ভালো থাকবে।

পেশাঃ

জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে ব্যক্তির আর আপনার পেশা কি তা দেখে নিন। ভবিষ্যতে দুজন পেশাগত বিষয়ের দিকগুলো মানিয়ে নিতে পারবেন কি না এ বিষয়টি অবশ্যই খেয়ালে রাখবেন।

পারিবারিক কালচার ও আর্থিক অবস্থাঃ

পারিবারিক কালচার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই পরিবারেরে মধ্যে সম্পর্কের আন্তরিকতা বাড়ে বা থাকে, যদি পারিবারিক কালচারগত বিষয়ে সামঞ্জ্যসতা থাকে। দুই পরিবারের পারিবারিক আর্থিক অবস্থার সামঞ্জস্য কতটুকু এ বিষয়টি দেখুন।

ব্যক্তির আচরণঃ

যাকে জীবনসঙ্গী বানাবেন ভাবছেন শুধু তার গুনের প্রশংসা বা সৌন্দর্য না দেখে তার আচরনের প্রতিও খেয়াল রাখুন। আপনি একজন ব্যক্তির সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেই বুজতে পারবেন তার আচরণগত কোন সমস্যা আছে কিনা বা তার কোন অভ্যাস যা আপনার পরে পছন্দ নাও হতে পারে।

দায়িত্ববান ও কর্মক্ষমঃ

একটি নতুন সংসার শুরু করতে নারী-পুরুষ দুজনের ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একজন দায়িত্ববান ও কর্মিক হবেন আরেকজন উদাসীন তা হলে সংসার শুরু হবে অশান্তি দিয়ে। তাই জীবনসঙ্গী বাছাইয়ে এ গুনাবলি আছে কিনা যাচাই করে নিন।

শারীরিক বিষয়ঃ

যাকে বিয়ে করবেন তার শারীরিক গঠন আপনার সাথে মানায় কি না খেয়াল রাখুন। ব্যক্তি স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিন।

মানসিক প্রস্তুতিঃ

যাকে বিয়ে করতে চাচ্ছেন সে কি বিয়ের জন্য মানসিকভাবে তৈরি কিনা তা বোঝার চেষ্টা করুন। যদি সে বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে তাহলে ভাবতে পারেন।

জীবনসঙ্গী খুঁজার ক্ষেত্রে গুণবতী,সুন্দরী বা ছেলের অবস্থান বিষয়গুলো যাচাই করা ছাড়াও অনেক বিষয় রয়েছে যা আমরা দেখা প্রয়োজন মনে করি না। ফলে বিয়ের পর সংসারের অধ্যায় শুরু হয় ঝামেলা দিয়ে। তাই জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ বিষয়গুলো প্রত্যেকের খেয়াল রাখা উচিত।