মনের রসায়ন ও বিয়ে

মনস্তত্ত্বের কথা হবে, এদিকে ফ্রয়েডের কথা আসবে না, তা কি হয়? তবে এক্ষেত্রে একটা মজার উদ্ধৃতি দেওয়া যাক! মেয়েদের প্রতি হালকা কটাক্ষ আছে এখানে। আসলে শুধু এই দেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই বিয়ের ব্যাপারটা সমাজের প্রেক্ষিতে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়ে এসেছে। বহু যুগের শিকড়, সুতরাং একবারে তো সবটা উপড়ে ফেলা যাবে না। এই উপমহাদেশে বিয়ের মনস্তত্ত্ব ছেলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকখানিই আলাদা হয়ে গিয়েছে, তার কারণও সেই প্রোথিত মানসিকতা। দু-তিন দশক আগেও সাধারণভাবে বিয়ে মানে একজন পুরুষের সঙ্গিনী প্রয়োজন, যাঁর সঙ্গে সমাজস্বীকৃত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে, সন্তানধারণে সক্ষম হবেন এবং স্বামীর সঙ্গে যিনি পরিবার পরিজনেরও দেখভাল করবেন। উলটোদিকে একটি মেয়ে বড় হয়, উপযুক্ত স্ত্রী, মা এবং পুত্রবধূ হওয়ার জন্য। মানসিকতার গঠনও হতে থাকে সেরকমই। এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে দেশের একটি বিশেষ অংশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে। সমাজের অনেক স্তরে না হলেও মোটামুটি শিক্ষার আলো যেসব অংশে সঠিকভাবে পৌঁছেছে, সেখানে বিয়ের প্রধান স্তম্ভ এখন পারস্পরিক সমঝোতা, বর ও কনের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া। আমরাও আলোচনা বরং এখান থেকেই শুরু করি।

বিয়ে ও সমাজ

সমাজ শুধু বিয়ে নয়, আরও অনেক সম্পর্কেই হস্তক্ষেপ করে। সমাজ যে কোনও সম্পর্কেরই একটা নিয়ম বেঁধে দিতে চায়। যেমন, স্বামী বা স্ত্রী-র সম্পর্ক, পিতামাতার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, ভাই ও বোনের সম্পর্ক এবং এরকম আরও নানা সম্পর্কের সমীকরণে একটা মাপকাঠি ঠিক করে দিতে চায় সমাজ। বিয়ে তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সমাজের বাঁধা ছকে চলি বলেই সেটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রথমেই মনে রাখা দরকার যে, কোনও সামাজিক চাপ হিসেবে বিয়েতে রাজি হলে মুশকিল। মন থেকে তেমন সায় নেই, এদিকে একটি বিশেষ বয়সে পৌঁছেছি বলে এবং সকলে বলছে বলে আমাকে বিয়ে করে নিতে হবে, এমনটা যেন না হয়। বিয়ে করব বলে যদি মনস্থির করেন, তা হলে কিছুটা পারিপার্শ্বিক অভিজ্ঞতা ও কিছুটা মানসিক পরিণতির সাহায্য নিয়ে বুঝে নিতে হবে, বিয়ে করার সঙ্গে-সঙ্গে কী কী জিনিস জীবনের সঙ্গে জুড়তে চলেছে। প্রয়োজন হলে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে নিন। তিনিও বিয়ে করতে পুরোপুরি মানসিকভাবে প্রস্তুত কি না, সেটাও জানা দরকার। বিয়ের পর পরিবারের সঙ্গে থাকবেন, না স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকবেন, সেই প্রস্তুতিও বিয়ের আগে নেওয়াই বোধহয় ভাল। যে কোনও সম্পর্ক তৈরি করা উচিত, তা টিকিয়ে রাখার জন্যই। সেই আত্মবিশ্বাস নিজের আছে কিনা, যাচাই করে দেখা দরকার।

বিয়ের আগের পরিস্থিতি

কেউ ভালবেসে বা দীর্ঘ পরিচিতির পরে বিয়ে করেন, কেউ কমদিনের পরিচয়ে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিয়ের আগে অন্যের পরিবারকে কতখানি জেনে নেওয়া দরকার। শারীরিক কারণে কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা আজকাল আমরা সকলেই করি। ভবিষ্যতে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আনার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন তো আছেই। তা ছাড়াও অন্যের পরিবারের সকলের সঙ্গে মিশলে মনের দিক থেকেও একধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকে। সবসময় যে তা ১০০ শতাংশ বোঝা যায়, তা নয়। কিন্তু আন্দাজ করা যেতে পারে। যাঁরা বিবাহ করবেন বলে স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যায় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ও মনের জোর রয়েছে যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। অনেক কাপলই আছেন, যাঁরা পরস্পরের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু যাঁদের ক্ষেত্রে দ্বিধা কাজ করে, তাঁরা একবার পরস্পরের পারিবারিক দিকটাও দেখে নিতে পারেন। কতটা মানিয়ে নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, তা জানা থাকলে উভয়েরই ভাল।

শারীরিক সম্পর্ক ও বিয়ে

এখনও আমাদের দেশের অধিকাংশ কাপলের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক ঘটে না। ফলে জানা সম্ভব হয় না ফিজ়িক্যাল কম্প্যাটিবিলিটি কীরকম হতে পারে। এটা এমন একটা বিষয় যে, আগে থেকে আলোচনা করেও কোনও লাভ হয় না। ফলে এক্ষেত্রে বিয়ের পরে যদি সব ঠিকঠাক না থাকে, তা হলে বিয়ের সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে। তবে এই নিয়ে চাপ নেওয়ারও কিছু নেই। দীর্ঘদিনের সম্পর্কে যাঁরা আছেন, তাঁরা এই বিষয়ে নিজেদের বুঝে নিতে পারেন। নতুনদের ক্ষেত্রে কম্প্যাটিবিলিটি ক্লিক না করলে নিজেদের বোঝাপড়ার দিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

বিয়ে ও লিভ-ইন

বিয়ে ও দীর্ঘদিনের স্থায়ী লিভ-ইন সম্পর্কের খুব বেশি তফাত নেই, কিছু আইনি জটিলতা ছাড়া। কারণ সমাজ ও পরিপার্শ্ব সিরিয়াস সহবাসকেও প্রাধান্য দেয়। সম্পর্ক ভেঙে গেলে দু তরফেই মানসিক ও সামাজিকভাবে একইরকম হ্যাংওভার থেকে যায়। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ডিভোর্সের ব্যাপারটা সবসময় মসৃণ হয় না। লিভইন-এ সেই ‘ঝামেলা’ নেই। তবে আমাদের দেশে এখনও লিভ-ইন কাপল বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন মূলত দুটো কারণে। প্রথমত এখনও বাড়ির লোকেরা দীর্ঘদিনের লিভ-ইন মেনে নিতে পারেন না। একটা চাপ সৃষ্টি করেন। দ্বিতীয়ত লিভ-ইন অবস্থায় সন্তানধারণের ব্যাপারে সমাজ এখনও ততটা প্রস্তুত নয়। সন্তানের পরিচয়কে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেও অনেকেই শেষপর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

সবশেষে বলে রাখা ভাল, পুরো আলোচনা করা হয়েছে সাধারণ কিছু পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। বিয়ে অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ক। সুতরাং তার মনস্তাত্ত্বিক আলোচনাও ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে, কেস টু কেসে সেটা আলাদাও হয়ে যায়। তাই নিজেদের সমস্যা দুজন বিবাহযোগ্য মানুষই তাঁদের মানসিক পরিণতি দিয়ে সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারবেন। সেইমতোই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিচ্ছেদের পর ফের নতুন সম্পর্ক

বিচ্ছেদের পর ফের সম্পর্ক গড়ার জন্য কেউ আপনার দরজায় কড়া নাড়তেই পারে। কিন্তু আপনি প্রস্তুত তো? দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর পুনরায় সম্পর্কে জড়াতে অনেকেই সংশয়ে ভুগে থাকেন। কিছু বিষয় আপনাকে নতুন সম্পর্কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে –

#অভ্যাস#পরিত্যাগ

আপনার হয়তো কিছু বদভ্যাস আছে যা দ্বারা আপনি পূর্বের সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা আপনার প্রতি আপনার সঙ্গী বিরক্ত ছিল। সে অভ্যাসগুলো খুঁজে বের করুন ও পরিবর্তন করুন।

#নিজেকে_জানুন

আপনাকে কেউ ভালো রাখবে এরকম চিন্তা করে সম্পর্কে জড়াবেন না। অন্য কেউ কখনও আপনাকে ভাল রাখতে পারে না। নিজেকে নিজের ভালো রাখতে হয়।

#অতীত

অতীতের যে কোন বিষয়ের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি কে যেমন তুলনা করতে যাবেন না তেমনি প্রাক্তনের সাথে বর্তমান ব্যক্তিকেও তুলনা করবেন না।

#বিশ্বাস

স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছেদের ফলে নতুন কাউকে বিশ্বাস করা আপনার পক্ষে কঠিন হতে পারে। তার মানে সবাই যে আপনার বিশ্বাস নষ্ট করবে এমন ধারণা দূর করুন। সবাইকে একই পাল্লায় মাপা উচিত নয়।

#ধারণা#নয়#ব্যক্তির#কথাকে#গুরুত্ব#দিন

অতীত সম্পর্ক থেকে নানান অভিজ্ঞতা হয় সবারই। কিন্তু এ অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান পরিস্থিতির ধারনা যাচাই করে থাকেন অনেকেই, এতে করে কিন্তু নতুন সঙ্গীর সাথে আপনার ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে। তাই ধারণা থেকে নয় সঙ্গীর কথাকে গুরুত্ব দিন।

#সম্পর্কে#ভবিষ্যত#অঙ্কন#করতে#যাবেন #না

একটি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কেমন যাবে বা কি হবে এসব চিন্তায় মগ্ন হবেন না, তাহলে সম্পর্কে আপনি ভালো-খারাপ পরিস্থিতিগুলো সামলাতে পারবেন না।

#তাড়াহুড়ো#করবেন#না

বিচ্ছেদ হয়েছে বলে একাকীত্ব দূর করতে চট করেই নতুন সম্পর্কে জড়াবেন না। সময় নিন, স্বচ্ছ ও সততার সাথে নতুন কাউকে ভাবুন।

আপনি কি পুনরায় বিবাহ সম্পর্কে আবদ্ধ হতে #জীবনসঙ্গী #খুঁজছেন? আপনি যদি #ডিভোর্স/ #বিধবা/ বিপত্নীক #জীবনসঙ্গী খুঁজে থাকেন তাহলে আজই রেজিস্ট্রেশন করুন #বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টালে। রেজিস্ট্রেশন করার পর আমাদের সার্ভিস টিম আপনার সকল সত্যতা যাচাই করে আপনার প্রোফাইল একটিভ করলে, আপনি সুযোগ পাবেন বিবাহবিডির সকল ভেরিফাই করা প্রোফাইল থেকে আপনার পছন্দমত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে।

কর্মজীবি নারী ও ডিভোর্স

মিতা আর আসিফ।  প্রতিষ্ঠিত, সফল।  ১০ বছরের বিবাহিত জীবনে আসে নি সন্তান। গত দুই বছরে বদলে গেছে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ। হারিয়ে গেছে প্রেম। দাম্পত্য কেবল হয়ে গেছে রোজকার রুটিনমাফিক নাশতা বানানো কিংবা অফিসে যাবার মতো একঘেয়ে। সেক্সুয়াল আর্জ কিংবা এক্সাইটমেন্টও নেই আগের মতো। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললো মিতা। এভাবে নয়। নতুন করে জীবন শুরু করবে সে, আসিফকে ছাড়াই।

আরেকটি গল্প।  আবির ও সুমী দুজনেই ব্যবসায়ী। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে।বিয়ের দুই বছরের মধ্যে সুমী গর্ভধারণ করলো। ধীরে ধীরে সুমী বুঝতে পারলো তার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে আবির।  আবিরের অভিযোগ সুমীর মেজাজ নিয়ে। অসম্ভব জেদি, একরোখা মেয়ে। তার চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব। প্রথমে ভালোবাসার তোড়ে এসব অভিযোগ গুরুত্ব পায় নি। কিন্তু আবির ধীরে ধীরে সুমীকে দূরে সরিয়ে দিতে শুরু করলো। সুমীর শারীরিক কিছু সমস্যাও ছিলো যা তাকে কখনো কখনো দুর্বল করে দিতো। ধীরে ধীরে সুমী আরো অসুস্থ হয়ে পড়লো যার তার গর্ভের সন্তানের বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। মাত্র সাত মাস বয়সে সন্তানটি মৃত্যুবরণ করে। মানসিক যন্ত্রণায় সুমী ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো। তার কিছুদিন পরেই ডিভোর্স লেটার পাঠায় আবির।

এধরণের ঘটনা এখন অহরহ দেখা যায় আমাদের সমাজে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরো চিত্রটি আরো ব্যাপক। এই লেখাটি কর্মজীবি মহিলাদের ডিভোর্স সংক্রান্ত।

বাংলাদেশে ডিভোর্সকে এখনো ভীষণ নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। তাই বলে ডিভোর্স থেমে নেই। কর্মজীবি মহিলাদের ডিভোর্সের পেছনের কারণগুলো পর্যালোচনা করলেই কিছু বিষয়কে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

বর্তমানে মেয়েদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আত্মোন্নয়নের ব্যাপারে তারা অত্যন্ত সচেতন। একজন কর্মজীবি নারী তার কর্মস্থলে একজন পুরুষের সমান লয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর তাই যখন সে দেখতে পাচ্ছে, পরিবারে তার স্বামী তাকে মূল্যহীন বলে মনে করছে, তখনই শুরু হচ্ছে দ্বন্দ্ব।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একজন উপার্জনক্ষম নারী ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন হয়। তার নিজস্ব মর্যাদাবোধ ও বিশ্বাস গড়ে উঠে। এই বিশ্বাসে আঘাত একজন মানুষ হিসেবে তার জন্য মেনে নেয়া কঠিন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এখনো আমাদের সমাজে ডিভোর্সকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। তাই নারীরা অনেকসময় নিজের চাওয়া পাওয়াকে উপেক্ষা করে সংসার টিকিয়ে রাখতে চায়। শারীরিক মানসিক নির্যাতন সহ্য করে জীবন অতিবাহিত করে।

ডিভোর্সকে যদি আরো গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে চাই, হয়তোবা আরো অনেক কারণ বেরিয়ে আসবে। এখন প্রশ্ন হলো, ডিভোর্স কি দোষের কিছু? বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই ধরে নেয়া হয়, এই মানুষটির সাথে সারাজীবন অতিবাহিত করতে হবে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই দুটি ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা দুটি মানুষের মূল্যবোধ, বিশ্বাস সবকিছুই দুইরকম। সাধারণত দেখা যায়, যেসব বিয়ে হাই কনফ্লিক্ট ম্যারেজ, তাদের মধ্যে ডিভোর্সের হার সবচেয়ে বেশি। আসুন এবার একটু গভীরে চিন্তা করি। একটু অভাব হলেই আমরা ভাবি, এই সম্পর্ক আমাকে কী দিচ্ছে? আমার কাছে সমাজ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ না আমি? যদি সমাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে নিজেকে প্রশ্ন করি, এই সমাজ আমাকে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী কী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আবার একইভাবে কী কী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডিভোর্স ঠিক না বা ডিভোর্স খারাপ , এই বার্তাগুলো আমার বার্তা না আমার সমাজ বা অভিভাবকের বার্তা?

সকল প্রশ্নের একই উত্তর আসে আমার কাছে। একমাত্র আমিই পারি আমার জীবনকে গড়ে তুলতে। সেক্ষেত্রে সম্পর্ক একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যখন দুটি মানুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের এধরণের কোন চিন্তা থাকে না যে, এই বিয়ের সম্পর্ক কখনো ডিভোর্সে গড়াতে পারে। কিন্তু যখন দুজনের মধ্যে মতোবিরোধ তুঙ্গে ওঠে, একসাথে থাকা দুঃসহ হয়ে যায়, তখন হয়তো এ দম্পতি ডিভোর্সের চিন্তা করে।

একজন নারীর পক্ষে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়াটা আমাদের সমাজে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। আবার যদি সন্তান থাকে তবে সমস্যার গভীরতা আরো বেশি। নারীরা অনেক সময় নিজেকে দোষী বলে মনে করে। সমাজের বিদ্রুপ কর্মজীবি নারীদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। নিজের উপর ভরসা রাখুন। কর্মজীবন আপনাকে সিদ্ধান্ত নেয়া শিখিয়েছে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন। নিজেকে দোষী ভাবার কোন কারণ নেই।

ডিভোর্স একটি মানসিক আঘাত

দাম্পত্য সম্পর্কের উপর একটি বড়ো আঘাত এটা বহন করা খুব কঠিন। এ সময় একজন রাগ, ক্ষোভ , একা থাকার অনিশ্চয়তা, ভয়, অপরাধবোধে ভোগে। অন্যকে বিশ্বাসঘাতক মনে করার প্রবণতা, নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিরতা, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাও খুব স্বাভাবিক।

অনেকক্ষেত্রে এর বিপরীত অর্থাৎ মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির এক দৃষ্টান্ত হিসেবে ডিভোর্সকে দেখা হয়।

বিবাহবিচ্ছেদের পর জীবন হতে পারে ভীষণ কষ্টসাধ্য। প্রত্যেকটি মেয়ের নিজের জীবন বিশেষ করে বিবাহিত জীবন নিয়ে একটি পরিকল্পনা থাকে। এই পরিকল্পনায় একজন কর্মজীবি নারী কী কী বিষয় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন সেটা যদি দেখি তবে প্রথমেই বলা যায়, ঘটনাটিকে মেনে নেয়া। মেনে নেওয়া যে, আমি এখন কারও স্ত্রী নই। বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা শোক পালনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী করার অর্থ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা। প্রয়োজন নতুন জীবন মেনে নেয়া। নতুন আশা জাগ্রত করা।  ডিভোর্স কেবল বিচ্ছেদ নয়, এটা নতুন জীবনের আভাসও।

কর্মজীবি নারীর করণীয়

এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে গমনের যে মানসিক চাপ তা থেকে নিজেকে একটু সরিয়ে আনার জন্য একজন কর্মজীবি নারী যা করতে পারেন:

  • প্রথমত, নিজের আবেগগুলোকে প্রাধান্য দেয়া। আবেগের সাথে থাকা। নিজের কষ্টগুলো অনুভব করা। কী হচ্ছে তাতে মনোযোগ দেয়া। নিজের সাথে নিজে কথা বলা।
  • নিজের শরীরের যত্ন নেয়া। শারীরিক ব্যায়াম বা কাজে ব্যস্ত থাকলে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, রাগসহ সকল নেতিবাচক অনুভূতি থেকে দূরে থাকা যায়।
  • নিজের পছন্দ অনুযায়ী সময় কাটানো। গল্পের বই পড়া, বিশ্রাম নেয়া, ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুর সাথে সময় কাটানো। সর্বোপরি ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন মানুষের সাথে সময় কাটানো।
  • অফিসে বা বাসায় যে সমস্যাগুলো আয়ত্বের বাইরে, তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার কিছু নেই। খুব গভীরে ঢুকে নিজের কষ্ট বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
  • খুব দ্রুত বা তাড়াহুড়ো করে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকা। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। একজন কর্মজীবি নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত শক্তিশালী।
  • সর্বোপরি একজন কাউন্সেলরের সাথে দেখা করার বিষয়টি মাথায় রাখা যেতে পারে। একজন কাউন্সেলর ব্যক্তির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে আত্মনির্ভলশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারেন।

সবশেষে বলতে চাই, ডিভোর্স অর্থ পরিবর্তন। ডিভোর্স একটি জীবনে কোনো না কোনোভাবে পরিবর্তন আনে। বিশ্বাস রাখুন নিজের উপর। আপনিই পারবেন, জীবনের সকল কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করতে। একজন কর্মজীবি নারী হিসেবে বলতে পারি, কর্ম আমাদের আত্মনির্ভরশীল ও আত্মসচেতন করে তোলে। কর্মজীবি নারীদের সহযোগীতা লাভের নেটওয়ার্ক অন্য নারীদের তুলনায় শক্তিশালী। কাজেই এই নেটওয়ার্ক থেকে ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন মানুষগুলো হতে পারে আপনার শক্তির উৎস। অথবা আপনার কাজই হতে পারে আপনার শক্তির উৎস।কাজেই ডিভোর্স কখনো একজন কর্মজীবি নারীকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সে এগিয়ে যাবেই। সমাজ বিবাহবিচ্ছেদকে নেতিবাচক চোখে দেখলেও আপনিই পারে জীবনকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে নতুনভাবে সাজাতে। একজন নারী হিসেবে আপনার দক্ষতাকে আরও তীক্ষ্ণ করতে।

লিখেছেন: সুমাইয়া আনোয়ার
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ , সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর এবং লেকচারার হিসেবে কর্মরত

বিবাহবিডি ডট কম দিচ্ছে ফ্রী ১ মাস পাত্র/পাত্রী খুঁজার সুযোগ

ম্যাট্রিমনিয়াল সার্ভিস Bibahabd.com বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশী পাত্র/পাত্রী খুঁজার অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েব সাইট।  বিগত ৮ বছর ধরে আমরা পাত্রপাত্রী খুঁজ ও সরাসরি একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করার সুবর্ণ সুযোগটি দিয়ে আসছি। আমাদের রয়েছে বৃহৎ  একটি ভেরিফাইড ডাটাবেইজ।  যেকোন বিবাহযোগ্য পাত্রপাত্রী অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে নিজেদের প্রফেশন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী অসংখ্য প্রোফাইল থেকে পছন্দের পাত্রপাত্রী অথবা তাদের অভিভাবকের সাথে নিজেরাই সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।

২৫ শে আগষ্ট থেকে আমরা সকল নতুন ইউজারদের জন্য ১ মাসের সম্পূর্ন ফ্রী ব্রাউজিং এক্সেস ঘোষনা করছি, সে সুযোগ পেতে একজন ইউজার কে তার প্রোফাইল ভেরীফিকেশনের সময় অবশ্যই যেকোন একটির (NID/ Passport/ জন্ম নিবন্ধন/ একাডেমিক সার্টিফিকেট) স্কেন কপি দিলেই কেবল সেই সুযোগটি মিলবে।

আর এ সুযোগটি চলবে ২৫ শে আগষ্ট থেকে ২৫ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ।  বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.bibahabd.com অথবা কল করুনঃ ০১৯২২১১৫৫৫৫

আত্মবিশ্বাসী মানুষ যেভাবে চিনবেন

আত্মবিশ্বাস আর প্রেরণা একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দুয়ের সম্মিলনেই সফলতা আসে জীবনে। কিন্তু আমাদের সমাজে গোমড়া মুখে ঘুরে বেড়ানো মানুষেরও অভাব নেই। এদের ভিড়ে আত্মবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা কম হলেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আত্মবিশ্বাসীদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। সেসব দেখে চিনে নিতে পারেন আপনার আশপাশের আত্মবিশ্বাসীদের। পাশাপাশি নিজের জীবনে সেসবের চর্চায় আপনিও হয়ে উঠুন আত্মবিশ্বাসী। উইম্যানেটলি ডটকম এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে জানিয়েছে।

শরীরী ভাষা
অনেকেই আছেন যাঁরা সামনে থাকা মানুষটির সঙ্গে কোনো বাক্যবিনিময় ছাড়াই তাঁর সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যান। আত্মবিশ্বাসীরা অন্যদের প্রভাবিত করেন তাঁদের শরীরী ভাষার মাধ্যমে। তাঁরা সাধারণত স্থির স্বভাবের। হাঁটাচলাই করুন বা বসেই থাকুন, তাঁদের শরীরী ভঙ্গিমা দেখেই অন্যরা বুঝতে পারবেন তাঁর বিশেষত্ব। এক দল লোকের মধ্য থেকে সহজেই তাঁকে আলাদা করতে পারবেন আপনি। আত্মবিশ্বাসীরা যখন যার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন।

সংক্রামক হাসি
আত্মবিশ্বাসী মানুষ জীবনের সব মুহূর্তেই ইতিবাচক থাকেন। এরা খুব একটা ভেঙে পড়েন না। ভালো অনুভূতি এবং নিজের জীবনের হাসি-আনন্দও তাঁর চারপাশে থাকা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন আত্মবিশ্বাসীরা। এমনকি অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বললেও এঁরা নিজের আত্মবিশ্বাসটাকে ওই মানুষটির মধ্যে ছড়িয়ে দেন। খুব বেশি মাত্রায় আত্মবিশ্বাসীরা অপরিচিত লোকদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, হাসতে পারার ক্ষমতাই তাঁদের ইতিবাচক জীবনযাপনে সাহায্য করে। তাই হাসি-খুশি থাকুন। চারপাশের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করুন। দেখবেন ভেতর থেকে ভালো লাগা কাজ করছে এবং ভালো থাকতে পারছেন।

তাঁরা অন্যের মনে ব্যথা দেন না
আত্মবিশ্বাসী মানুষ আরেকজন মানুষের নেতিবাচক দিক নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। কারণ তাঁরা নিজেদের নিয়েই থাকেন। বরং তাঁরা প্রিয়জনকে সহযোগিতা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কারোর ব্যাপারে কথা বলার সময় অনেক হিসাব করে কথা বলেন। পেশাগত জীবনই হোক বা ব্যক্তিজীবন, আত্মবিশ্বাসীরা নিজের কাজের বিষয়ে সব সময় মনোযোগী থাকেন।

যোগাযোগের সূতিকাগার
এটা সত্যি যে অপরিচিত কারোর সঙ্গে কথা বলতে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসীরা এ বিষয়ে উল্টো পথের যাত্রী। তাঁরা মনে করেন, অপরিচিতদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন, নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হলে কিংবা কথা বললে নতুন কোনো কাজ সম্পর্কে জানা যেতে পারে। তাই নতুন কারোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর প্রয়োজনে তাঁরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

ভিন্ন কিছু করা
আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি অনেক সময় এমন কিছু করেন যেটা অন্যদের চোখে স্বাভাবিক মনে না-ও হতে পারে। মূল কথা, তিনি আসলে নতুন কিছু করতে মোটেও ভয় পান না। জীবনের জটিল কোনো সময়ে তিনি ভেঙে না পড়ে এমন কিছু করেন যেটি তাঁকে সফলতা এনে দেয়। আত্মবিশ্বাসী মানুষ জানেন এটি অস্বাভাবিক, তবে তিনি এ-ও জানেন, তিনিই সেরা!

অন্যকে মূল্যায়ন করা
নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করতে হলে আত্মবিশ্বাসী মানুষজন যা করেন সেটির চর্চা করুন। আত্মবিশ্বাসীরা অন্য কেউ ভালো কিছু করলে সেটির বাহবা দিতে ভুল করেন না। অন্যের কাজের মূল্যায়ন তাঁরা ঠিকভাবেই করেন।

হাসি মুখে প্রশংসা গ্রহণ
আত্মবিশ্বাসী মানুষ কেউ প্রশংসা করলে হাসি মুখেই তা বরণ করেন। এটি তাঁর স্বভাবে থাকা বন্ধুসুলভ আচরণের প্রকাশ। অনাকাঙ্ক্ষিত কারও কাছ থেকে প্রশংসা পেলে হাসি মুখে সেটা নিতে না পারলেও এ জন্য ধন্যবাদ জানাতে ভোলেন না।

সংগ্রহীত পোষ্ট
সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, লিংক

হারানো সুর ফিরে পাওয়া

বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন। স্ত্রী-পুরুষের সম্পর্কের একটি স্বীকৃত কাঠামো যা বংশধারা ও অধিকার বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালক করে। বিয়ে যেহেতু একটি সম্পর্কের বন্ধন, সব সম্পর্কের মতো বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি এর মূল ভিত্তি। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও নির্ভরশীলতা এই বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।ভালোবাসাই এই বন্ধনের চালিকাশক্তি। এই বন্ধনের সফলতা নির্ভর করে ফলপ্রসূ যোগাযোগের উপর। এই যোগাযোগ প্রতিনিয়ত ঘটছে এবং সকল সম্পর্কের মতো বিয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অবধারিত সত্য।

সম্পর্কের প্রথম দিকে ভালোবাসার আবেগ মনের জানালায় একটি রঙিন পর্দা টাঙিয়ে দেয়। ভালোলাগা এবং ভালোবাসাটাই প্রধান হয়ে দেখা দেয়। বাকি সবকিছু তুচ্ছ মনে হয়।

দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে অবস্থানের ফলে আবেগের সেই রঙিন পর্দায় সময়-অসময়ে বাস্তবতার দোলা লাগে। সাংসারিক টানপড়েনে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মিলাতে গিয়ে কল্পনার মানুষটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। কল্পনার মানুষটার সাথে সত্যিকার রূপের অমিল প্রকাশিত হয়। যে মানুষটা ভালোবাসার হাত ধরে সুখের নীড় রচনা শুরু করেছিল, সে যেন হয়ে ওঠে সবচেয়ে অচেনা।

প্রাত্যহিক জীবনে একসাথে চলার পথে কখনও কখনও ছন্দপতন খুবই স্বাভাবিক। দুটি ভিন্ন পরিবার ও পরিবেশে বড় হওয়া দুজন মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য, চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। এই পার্থক্য উপলব্ধি করে দুজনের মিলের জায়গাটি লালন করা এবং অমিল কমিয়ে আনার ইচ্ছা ও চেষ্টাই বৈবাহিক উদ্দেশ্যকে সফল করে তোলে।

বিয়ের সৌন্দর‌্য নির্ভর করে মুক্ত আলোচনা, পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ ও উভয়ের মধ্যে সুস্থ সীমারেখা, সব বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে না ফেলা, উভয়ের চাহিদার প্রতি সমান গুরুত্ব দেয়ার উপর। এ ক্ষেত্রে দাম্পত্য কাউন্সেলিং প্রিয় মানুষটার অজানা দিকগুলো বুঝে নিয়ে নতুন করে বিয়ের বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে শেখায়। তালাকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।সেখানে এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।

  • শুধু সঠিকভাবে যোগাযোগ কৌশল শিখলেই বৈবাহিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত মোকাবেলা করা সম্ভব না। বরং সুখী বৈবাহিক জীবনের জন্য কার কী প্রয়োজন সেদিকে লক্ষ্য রাখাই দাম্পত্য কাউন্সেলিং সেবার প্রাথমিক ধাপ।
  • বেশিরভাগ দম্পতির সব কথার শেষ কথা, আমি তাকে খুব ভালোবাসি। হারানো সুরটা ফিরে পেতে দুজন দুজনের অবস্থান থেকে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
  • কী কারণে বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে এতদিন কোন শক্তিগুলো দুজনকে একসাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছে তা খুঁজে বের করা। পার্থক্য না মিলকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা দুজনের মধ্যে তৈরী করার ক্ষেত্রে দাম্পত্য কাউন্সেলিং সাহায্য করে।

দুটি ভিন্ন ব্যক্তির অভ্যাস ও চাহিদা ভিন্ন। উভয়ের চাওয়া-পাওয়ার সুক্ষ্ণ হিসাব-নিকাশ সম্পর্ককে খারাপ দিকেই নিয়ে যায়। এই ভিন্ন ব্যক্তিকে আপন করে নেওয়ার জন্য দুজনের আনন্দ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিলে তা সংসার জীবনে শান্তি আনতে সাহায্য করে।

এর জন্য করণীয় যা কিছু তার দায়িত্ব নিজে বহন করার মানসিকতা তৈরী ও সীমারেখা অনুধাবন করে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠাতে হবে। পারস্পরিক সম্মানবোধ ও সহনশীলতা দাম্পত্যজীবনে সুখ আনতে সাহায্য করে। একইভাবে তা হারানো সম্পর্ক ফিরে পেতেও সাহায্য করে। অন্য অনেক ক্ষেত্রের মতো সম্পর্ক রক্ষায়ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার দরকার হয়। নিজের জায়গা থেকে প্রত্যেকে উদ্যোগ নিলে দাম্পত্য সুখ নতুন করে উপলব্ধি করা সম্ভব।

লিখেছেনঃ

ড. শাহীন ইসলাম
মনোবিজ্ঞানী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন

সন্তানের উপর বিচ্ছেদের প্রভাব

বিবাহবিচ্ছেদ একজোড়া নারী-পুরুষ আর সেই সাথে তাদের সন্তানদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যে কারণেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হোক না কেন, শিশু সন্তানটির উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।অত্যন্ত সচেতনতা, পারদর্শিতা আর অগাধ ভালোবাসা ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমেই শিশুর মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, হতাশা, অনিশ্চয়তা দূর করে তার সুস্থ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হয়। তা না হলে এর বিরূপ প্রভাব থেকে সারা জীবনেও হয়ত সে বের হতে পারবে না, তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমস্যা থেকে যাবে এবং পরবর্তী জীবনে অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী করবে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয় সাধারণত খুব সহজে সম্পাদিত হয় না, এর কিছু পূর্বগামী ঘটনা থাকে যেগুলো মোটেও সুখকর না। এই অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর সাক্ষী কিন্তু ছোট্ট শিশুটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহ, মানোমালিন্য, শারীরিক নির্যাতন, কান্নাকাটির মতো অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুটিকে যেতে হয়।বাড়ির ছোট শিশু এসব দেখে বাড়ির আবহ বুঝতে পারে। সরাসরি মা-বাবার কলহ না দেখেও মা-বাবার চেহারা, প্রকাশভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি দেখে তাদের রাগ, ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট বুঝতে পারে। আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে, বাচ্চারা কিছু বোঝে না। প্রকৃতপক্ষে শিশুরা সবই বোঝে আর তারা তাদের নিজেদের মতো করে বিষয়টি বুঝে নেয়। অনেক স্বামী স্ত্রী সন্তানদের সামনেই পরস্পরের প্রতি কটূক্তি, গালাগালি, হাতাহাতি করে থাকে কিংবা শিশুটিকে ঘটনার সাক্ষী রাখে। এর সবই শিশুসন্তানটির উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বড়রা অনেক সময়ই নিজেদের স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার করে যা অত্যন্ত অনুচিত।

একজন শিশুর পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বড়দের মতো নয়। সে সব বোঝে, তবে নিজের মতো করে। তাই পরিস্থিতির সাথে নিজের মতো করে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করে। অনেক সময় ছোট ঘটনা তার মধ্যে বড় অনিশ্চয়তা তৈরী করে। সামান্য উদ্বেগ তার মধ্যে বিশাল ভীতির সঞ্চার করে। এর সবকিছু নিয়ে শিশুটি খুব নাজুক পরিস্থিতিতে থাকে। মা কিংবা বাবার মৌখিক আশ্বাসও তাকে নিরুদ্বেগ রাখতে পারে না। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে যেসব সমস্যা থাকে তা হলঃ

  • নিজেকে গুটিয়ে নেয়া
  • পারিবারের বাইরের লোকের সামনে লজ্জা পাওয়া, মিথ্যা বলা
  • মা বা বাবাকে (বা যার সাথে শিশুটি এখন থাকে )হারিয়ে ফেলার ভয়, অনিশ্চয়তার অনুভূতি
  • বিষন্ণতা
  • নিজের চাহিদার কথা না বলা
  • আগের তুলনায় চুপচাপ হয়ে যাওয়া
  • অস্থিরতা প্রকাশ করা বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
  • পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো
  • বাবা-মা অথবা নিজেকে দোষারোপ করা
  • নেশা করা বা অপরধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়া
  • আচরনগত বৈকল্যের শিকার হওয়া

বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এমন পরিবারের বিভিন্ন বয়সী শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণা থেকে দেখা যায়, ৭-৮ বছরের শিশুদের মাঝে দুঃখবোধ, মনমরা ভাব, হারানোর অনুভূতি- সেই সাথে ভয় আর অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। একই সাথে তারা নিজেদের পরিত্যক্ত ও অবাঞ্ছিত ভাবে।৯-১০ বছর বয়সী শিশুরা রাগান্বিত বোধ করে। কারণ তারা নিজেদের অবহেলিত, বঞ্চিত এবং একাকী মনে করে। অপরদিকে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা রাগ, লজ্জা, মনখারাপ ইত্যাদি বোধ করে।

৫ বছরব্যাপী আরেকটি গবেষণাঃ জরিপে অংশগ্রহণ করেছে এমন শিশুদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানিয়েছে তারা এখন সুখী।২৯ শতাংশ মোটামুটি মানিয়ে চলছে। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, তারা এখনও বিষন্ণতায় ভুগছে। এ ধরণের বহু গবেষণায় শিশুদের বিবাহবিচ্ছেদের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ক্ষেত্রে তার সাথে বেশি সময় কাটান। তার হতাশা, দুঃখ ও ভয় বোঝার চেষ্টা করুন। বাস্তবসম্মতভাবে মোকাবেলার উপায় শেখান। শিশু মা-বাবার (যিনি শিশুর সাথে থাকেন না ) অভাব অনুভব করছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করুন।কারণ শিশু হয়ত আপনাকে হারানোর ভয়ে অথবা আপনি কষ্ট পাবেন এ চিন্তা থেকে তার সত্যিকারের অনুভূতি আড়াল করে রেখেছে। তাকে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তার জন্য সে দায়ী নয়। কারণ ছোট শিশুরা অনেক সময় ভেবে থাকে যে, তার কারণেই এমনটি ঘটেছে। কখনোই শিশুর সামনে তার মা-বাবা সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। এতে শিশুরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করে এবং দিশেহারা হয়ে পড়ে। সম্ভব হলে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তা আমাদের মধ্যে, তুমি আমাদের সন্তান, আমরা তোমাকে ভালোবাসি। একসাথে না থাকলেও। অনেক সময় যে পরিবারে শিশুটি রয়েছে সেখানে মা-বাবার প্রসঙ্গ কঠোরভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এতে শিশুর মধ্যে মা-বাবা সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসা থাকলেও সে ভয়ে কোন কিছু বলতে পারে না। তাই তার মনে কোনো প্রশ্ন এলে তা যেন অবলীলায় জিজ্ঞেস করতে পারে-এরকম পরিবেশ বজায় রাখুন।

শিশুটির বাবা (অথবা মা )নেই।তাই তাকে বেশি বেশি খেলনা দেওয়া বা এধরণের আচর থেকে বিরত থাকুন। বস্তুর চেয়ে বড় তার আবেগ-অনুভূতির সঙ্গী হওয়া, তাকে আশ্বস্ত করা এবং এই কষ্টকর অনুভূতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করা।

বাবা-মা যে-ই থাকুক না কেন, শিশুর মানসিক সহয়তার জন্য তার পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বা কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের সহায়তা নিতে হবে।

মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এ ধরণের শিশুদের প্রতি আমাদের সচেতনতা, ভালোবাসা ও সহায়তা তাদের হতাশা, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ, একাকীত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবার সাহস ও মনোবল জোগাবে।

লিখেছেনঃ

মেহজাবীন হক
প্রফেসর, 
এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সন্তানের অভিভাবকত্ব

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন কারণে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে সন্তানেরা কার কাছে থাকবে বা কে হবে তাদের অভিভাবক- এই প্রশ্ন দেখা দেয়। মুসলিম পারিবারিক আইনে সন্তানের অভিভাবকত্ব (বিলায়াত ) এবং সন্তানের জিম্মাদারি (হিজানাত ) দুটি বিষয়কে আলাদা আইনগত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।অর্থাৎ মুসলিম আইনে অভিভাবকত্ব এবং জিম্মাদারি দুটি আলাদা বিষয়। আবার হিন্দু পারিবারিক আইনে বিষয়টি ভিন্ন।

মুসলিম আইনে সন্তানের অভিভাবকত্ব ও জিম্মাদারি

বাংলাদেশের প্রায় সব পারিবারিক আইনেই সন্তানের প্রকৃত আইনগত অভিভাবক (লিগাল গার্ডিয়ান )থাকেন পিতা। মুসলিম পারিবারিক আইনে সন্তানের জিম্মাদারির (কাস্টডি )অধিকার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়ের হাতে থাকে।শিশুসন্তানের দেখাশোনার বিষয়ে (জিম্মাদারির ক্ষেত্রে )সবচেয়ে বড় অধিকারী হলেন মা। তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্তানের জিম্মাদার হয়ে থাকেন; কিন্তু কখনও অভিভাবক হতে পারেন না। এই সময়কাল হল ছেলেসন্তানের ক্ষেত্রে ৭ বছর আর মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল পয্যন্ত। অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে বা স্বামী মারা গেলে ছেলেসন্তান ৭ বছর পয্যন্ত এবং মেয়েসন্তান বয়ঃসন্ধিকাল পয্যন্ত মায়ের হেফাজতে থাকবে, এটাই আইন । এক্ষেত্রে মায়ের অধিকার সর্বাগ্রে স্বীকৃত।

সাধারণত সুন্নি হানাফি আইনের অধীনে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সন্তানের হেফাজতের কোনো অধিকার মায়ের থাকে না। তবে পরে আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, শুধু নাবালক থাকাকালেই নয়, সন্তানের কল্যাণার্থে নির্দিষ্ট বয়সের পরও মায়ের জিম্মাদারিত্বে সন্তান থাকতে পারে। যদি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সন্তান মায়ের হেফাজতে থাকলে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক হবে, তার কল্যাণ হবে এবং স্বার্থরক্ষা হবে-সেক্ষেত্রে আদালত মাকে ওই বয়সের পরও সন্তানের জিম্মাদার নিয়োগ করতে পারেন।আবু বকর সিদ্দিকী বনাম এসএমএ বকর ৩৮ ডিএলআরের মামালায় এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে, মনে রাখতে হবে, মুসলিম আইনে মা সন্তানের আইনগত অভিভাবক নন; কেবল জিম্মাদার বা হেফাজতকারী।

মায়ের অবর্তমানে শিশুর জিম্মাদারি নিকটাত্মীয়দের কাছে চলে যাবে। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ক্রমধারা অবলম্বন করা হবে। মায়ের অবর্তমানে নাবালক শিশুর হেফাজতকারী পর্যায়ক্রমে হবেন মায়ের মা (নানি, নানির মা যত উপরের দিকে হোক ), পিতার মা (দাদি, দাদির মা যত উপরের দিকে হোক ), পূর্ণ বোন (পিতা মাতা একই ), বৈপিত্রেয় বোন (মা একই কিন্তু বাবা ভিন্ন), আপন বোনের মেয়ে (যত নিচের দিকে হোক ), বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে (যত নিচের দিকে হোক ), পূর্ণ খালা (যত উপরের দিকে হোক ), বৈপিত্রেয় খালা (যত উপরের দিকে হোক ), পূর্ণ ফুপু (যত উপরের দিকে হোক ) । উল্লেখিত আত্মীয়রা কেবল ক্রমানুসারে একজনের অবর্তমানে বা অযোগ্যতার কারণে অন্যজন জিম্মাদারিত্বের অধিকারী হবেন।

কিছু কারণে মা সন্তানের জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেনঃ ১. নীতিহীন জীবনযাপন করলে ২. সন্তানের প্রতি অবহেলা করলে ৩. দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে ৪. বিয়ে থাকা অবস্থায় বাসার বসবাসস্থল থেকে দূরে অবস্থান করলে ৫. ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করলে ৬.যদি সন্তানের পিতাকে তার জিম্মায় থাকা অবস্থায় দেখতে না দেয়।

স্মর্তব্য, আদালতের আদেশ ছাড়া সন্তানের জিম্মাদারের অধিকার থেকে মাকে বঞ্চিত করা যায় না।

মা বা অন্য নারী আত্মীয়দের অবর্তমানে শিশুর জিম্মাদার হতে পারেন যারা, তারা হলেনঃ বাবা, বাবার বাবা (যত উপরের দিকে হোক ), আপন ভাই, রক্তের সম্পর্কে ভাই, আপন ভাইয়ের ছেলে, রক্তের সম্পর্কের ভাইয়ের ছেলে, বাবার আপন  ভাইয়ের ছেলে, বাবার রক্তের সম্পর্কের ভাইয়ের ছেলে। মনে রাখতে হবে, েএকজন পুরুষ আত্মীয় নাবালিকার জিম্মাদার কেবল তখনই হতে পারবেন যখন তিনি ওই নাবালিকার নিষিদ্ধস্তরের আত্মীয় হন।

সন্তানের সম্পত্তির দায়িত্ব

আমরা আগেই জেনেছি, সন্তানের অভিভাবক হচ্ছেন পিতা। তবে মুসলিম আইনে কোনো নাবালক শিশুর সম্পত্তির তিন ধরণের অভিভাবক হতে পারে। আইনগত অভিভাবক, আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক এবং কার্যত অভিভাবক। আইনগত অভিভাবকেরা হলেন, বাবা, বাবার ইচ্ছাপত্রে (উইল )উল্লেখিত ব্যক্তি, বাবার বাবা (দাদা ), বাবার বাবার ইচ্ছাপত্রে (উইল ) উল্লেখিত ব্যক্তি।

উল্লেখিত আইনগত অভিভাবকেরা কিছু জরুরী কারণে নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি অথবা বন্ধক দিতে পারেন। ওই সন্তানের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য তার অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি অথবা বন্ধক দিতে পারেন। কিংবা নাবালকের ভরণপোষণ, উইলের দাবি, ঋণ, ভূমিকর পরিশোধ ইত্যাদির জন্য একজন আইনগত অভিভাবক নিচের একবা একাধিক কারণে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন। যেমন: ক. ক্রেতা দ্বিগুণ দাম দিতে প্রস্তুত খ. স্থাবর সম্পত্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ. সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে।

নাবালককে রক্ষার জন্য আেইনগত অভিভাবক বা আদালক নিযুক্ত অভিভাবক না হয়েও যেকেউ নাবালকের অভিভাবক হিসেবে কাজ করতে পারেন। বাস্তবে এরকম যিনি অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন তিনিই হলেন কার্যত অভিভাবক। তবে তিনি কোন অবস্থাতেই সম্পত্তির স্বত্ব, স্বার্থ বা অধিকার হস্তান্তর করতে পারবেন না।

হিন্দু পারিবারিক আইনে অভিভাবকত্ব

মুসলিম আইনের মতো এখানে সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং জিম্মাদারিকে আলাদা আইনগত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। হিন্দু আইনে ৩ ধরণের অভিভাবক স্বীকৃত। ক.স্বাভাবিক অভিভাবক খ.বাবা কর্তৃক উইলদ্বারা নিযুক্ত অভিভাবক গ.গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট ১৮৯০ অনুযায়ী আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক। এছাড়া কার্যত অভিভাবক হিসেবেও অভিভাবক দেখা যায়। হিন্দু আইনে পিতা একমাত্র প্রকৃত ও স্বাভাবিক অভিভাবক। এবং পিতার জীবিত অবস্থায় অন্যকেউ অভিভাবক হতে পারে না। কিন্তু, সন্তানের মঙ্গল ও শিক্ষার জন্য পিতা ইচ্ছা করলে অন্য কারও উপর নাবালকের দায়িত্ব দিতে পারেন। আবার প্রয়োজনে ইচ্ছা করলে তিনি এই দায়িত্ব ফিরিও নিতে পারেন। বাবার অবর্তমানে মা নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক, কিন্তু বাবা যদি উইল করে অন্য কাউকে নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত করেন, তাহলে মা অপেক্ষা সেই ব্যক্তির দাবি অগ্রগণ্য হবে। মা-বাবা কেউ না থাকলে প্রয়োজনে আদালত নাবালকের নিকটবর্তী আত্মীয়দের মধ্য থেকে একজনকে অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন। নাবালকের বয়স ২১ হয়ে গেলে সে সাবালক হয়ে যায় এবং তখন আর তার কেনো অভিভাবক প্রয়োজন হয় না। আদালত অভিভাবক নিযুক্তির সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেবেনঃ ক.নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক মৃত্যুকালে যদি অভিভাবক নিয়োগের ব্যাপারে কোন ইঙ্গিত দিয়ে যায় তা; খ.নাবালক যদি তার বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন হয় তবে সেক্ষেত্রে তার মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কোন হিন্দু নাবালকের সম্পত্তির জন্য আদালত যদি অভিভাবক নিযুক্ত করে তবে সে অভিভাবক আদালতের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক বা হস্তান্তর করতে পারে না এবং তা কেনার অধিকারও নেই।

খ্রিষ্টান আইনে সন্তানের অভিভাবকত্ব

খ্রিষ্টান ধর্মে অভিভাবকত্ব নির্ধারণ হয় দুইভাবে: বিবাহবিচ্ছেদ বা জুডিশিয়াল সেপারেশনের মাধ্যমে এবং গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্টের মাধ্যমে। সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালতের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে সন্তানের কল্যাণ। অর্থাৎ বাবা অথবা মা, কার কাছে থাকলে সন্তানের লালন পালন বেশি ভালো হবে। সুতরাং সন্তানের ভালো থাকাই সর্বোচ্চ বিবেচনার বিষয়।

এছাড়া আরও দুটি বিষয় সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে। প্রথমত, সন্তানের ধর্ম। খ্রিষ্টান পারিবারিক আইন অনুযায়ী সন্তানের প্রকৃত অভিভাবক পিতা। ফলে সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও পিতার ধর্মবিশ্বাসেই তাকে বড় করতে হবে এমনকি মায়ের ধর্মবিশ্বাস ভিন্ন হলেও। মা যদি সন্তানকে বাবার ধর্মবিশ্বাসে বড় করতে ব্যর্থ হন তাহলে তিনি অভিভাবকত্ব হারাতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালো না হয় তাহলে সন্তানের লালনপালন, ভরণপোষণ, প্রতিপালন, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদিতে ব্যাঘাত ঘটবে বলে যদি আদালত মনে করেন, তাহলে আদালতও সন্তানের পিতামহকেই গুরুত্ব দেবে। এক্ষেত্রে পিতামহের আর্থিক অবস্থা মায়ের চেয়ে স্বচ্ছল হতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে গঠিত পারিবারিক আদালতে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের নাগরিক সন্তানের অভিভাবকত্ব বিষয়ে মামলা করতে পারবেন।

লিখেছেনঃ

এডভোকেট লায়েকুজ্জামান মোল্লা
সিনিয়র এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

ভরণপোষণের অধিকার

মিতুর বিয়ে হয়ে পেরিয়ে গেছে বছর তিনেক। বিয়ের পরপরই জানা গিয়েছিলো স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের গ্রাস থেকে স্বামীকে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেছে মিতু। লাভ হয় নি। এরইমধ্যে কোল জুড়ে এসেছে একটি সন্তান।

সন্তান জন্মানোর পর স্বামী মিতুকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কোনো ভরণপোষণ এমনকি একমাত্র সন্তানের জন্যও কোন টাকা পাঠায় না। মিতু লেখাপড়া তেমন একটা করে নি যে চাকরী করবে। আবার বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। নিজের এবং সন্তানের ভরণপোষণের জন্য এখন কী উপায় খুঁজবে সে? আইনে তার ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত করা রয়েছে। মুসলিম আইনে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, মা-বাবা, যারা আর্থিকভাবে অসমর্থ, তাদের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে বিয়ে বর্তমান থাকা অবস্থায় ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার লাভ করে। ছেলেসন্তান সাবালক না হওয়া পর্্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান বিয়ে না হওয়া পয্যন্ত বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ লাভের দাবিদার। ছেলেসন্তান সাত বছর পয্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান বিয়ে না হওয়া পয্যন্ত যদি মায়ের কাছে কিংবা মায়ের মা অর্থাৎ নানির কাছে থাকে, তবু বাবা তার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

এছাড়া পঙ্গু, অক্ষম, পাগল এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী সাবালক সন্তানও বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাবে। তবে সন্তান যদি অন্যায়ভাবে বাবার সাথে থাকতে অস্বীকার করে কিংবা যে শিশু নিজস্ব সম্পত্তির আয় থেকে নিজের ভরণপোষণ করতে সক্ষম, তার ভরণপোষণ দিতে বাবাকে বাধ্য করা যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বসবাস করলেও স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। যেমন, স্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেনমোহর পরিশোধ না করলে, স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে, স্বামী যদি অভ্যাসগতভাবে খারাপ ব্যাবহার করেন, দীর্ঘকাল স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামী দূরে থাকলে ও অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয়বিয়ে করলে।

ভরণপোষণের পরিমাণ স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ও আর্থিক সঙ্গতির উপর নির্ভর করে। অনেক সময় নিকাহনামায় লেখা থাকে ভরণপোষণ হিসেবে স্বামী কতোটাকা মাসিক দেবেন। সাধারণ অবস্থায় স্বামী তার নিজ গৃহেই স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান দিয়ে থাকে। আইনসঙ্গত বা যুক্তিযুক্ত কারণে যখন স্ত্রী আলাদা বসবাস করে, তখন স্বামী নগদ অর্থ দ্বারা ভরণপোষণ জোগাবে।

আইনসম্মত স্বামী যদি স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেয়, তাহলে পারিবারিক আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়। ১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ অধিকার রয়েছে। সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবাও আদালতের মাধ্যমে ভরণপোষণ পাওয়ার জন্য মামলা করতে পারেন।

এছাড়া ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী খরপোশ দাবি করে স্বামীর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে আবেদন করতে পারেন। আবেদন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান স্ত্রী ও স্বামী উভয়পক্ষের পছন্দমতো একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে সালিস-পরিষদ গঠন করবেন। সালিস-পরিষদ স্ত্রীর দাবির যৌক্তিকতা যাচাই করে ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত এবং সেই মোতাবেক একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবে।

স্বামী স্ত্রী আলাদা থাকলে ভরণপোষণ

স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বসবাস করেন, তবে, স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকবেন না। তবে, বিবাহিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী আলাদাভাবে বসবাস করা স্বত্ত্বেও কয়েকটি ক্ষেত্রে ভরণপোষণ পেতে পারেন।

স্বামী যদি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক দেনমোহরের দাবি অস্বীকার করেন; স্বামী বর্বর বার নিষ্ঠুর আচরণ করেন, স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। এছাড়া স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে বার রক্ষিতা রাখলে স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন এবং তারপরও স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ দাবি করার অধিকার রাখেন।

বিয়েবিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ

বিয়েবিচ্ছেদের পরও কিছুদিন স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হন। যেদিন থেকে বিচ্ছেদ কার্কর হয় সেদিন থেকে ৯০ দিন (এসময়কে ইদ্দত বলা হয়)পয্যন্ত স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হন। {হেফজুর রহমান বনাম শামসুন্নাহার বেগম ৪ এমএলআর (অউ ) (১৯৯৯ )}

কোনো স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে মামলা দায়ের করার আগের সময়ের জন্য অথবা বিয়েবিচ্ছেদের আগে যে সময় স্বামী ভরণপোষণ দেয় নি সে সময়ের জন্যও ভরণপোষণ চাইতে পারেন। সিরাজুল ইসলাম বনাম হেলেনা বেগম (৪৮ উখজ )মামলায় আদালত বলেন, স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণের বিষয়ে আদালতের ডিক্রি জারি করার বিচারিক ক্ষমতা আছে।

হিন্দু আইনে ভরণপোষণ

হিন্দু আইনে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে:

একজন হিন্দুর কোন সম্পত্তি না থাকলেও সে তার নাবালক ছেলে, অবিবাহিত মেয়ে ও বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য। দায়ভাগামতে, বাবা সাবালক ছেলেকে ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য নন।

কর্তা যৌথ পরিবারের সকল পুরুষ, তাদের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের ভরণপোষণে আইনত বাধ্য। একজন মৃত ব্যক্তি যাদের ভরণপোষণে বাধ্য ছিলো, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধীকারীরাও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তাদের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।

বিয়ে না হওয়া পয্যন্ত বাবা তার কন্যা সন্তানের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। বাবার অবর্তমানে কন্যার ভরণপোষণ বাবার সম্পত্তি হতে চলতে থাকবে। অক্ষমতা বা অযোগ্যতা হেতু কেউ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে অক্ষম ব্যক্তির বাবা ও বাবার অবর্তমানে বাবার উত্তরাধীকারী যথাযোগ্য ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

১৯৪৬ সালের বিবাহিত হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী অসতী না হলে বা অন্য ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম থেকে বহিস্কৃত না হলে সে তার জীবনকালে স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।

১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী, নিম্নোক্ত কারণ সমূহের উদ্ভব হলে একজন বিবাহিত নারী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক থেকেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী:

  • স্বামী যদি এমন কোন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে যা সে তার স্ত্রীর কাছ থেকে পায় নি
  • স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এমন পয্যায়ের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কার ভয় রয়েছে
  • স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তাকে পরিত্যাগ করে
  • স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পূনরায় বিয়ে করে
  • স্বামী যদি ধর্মান্তরিত হয়
  • স্বামী যদি ঘরেই কোন উপপত্নী রাখে অথবা অভ্যাসগতভাবে উপপত্নীর সাথে বসবাস করে
  • অন্যান্য যৌক্তিক কারণ

স্বামীর মৃত্যুকালীন পৃথক সম্পত্তি বা স্বামীর সহ-অংশীদারী সম্পত্তি থেকে একজন বিধবা স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। স্বামীর মৃত্যুকালীন সময়ে পৃথক বসবাস করলেও তার এ অধিকার বজায় থাকে। অসৎ উদ্দেশ্য ব্যতীত স্বামীগৃহ ত্যাগ না করলে সে বকেয়া ভরণপোষণও পাওয়ার অধিকারী।

খ্রিষ্টান আইনে ভরণপোষণ

১৮৬৯ সালের ডিভোর্স অ্যাক্টের ৩৭ নং ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদের পর থেকে স্থায়ীভাবে ভরণপোষণ পেতে পারে। এছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মে সন্তান ভরণপোষণের কথাও বলা হয়েছে। পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামী বা পিতার। বিয়ে বর্তমান থাকাকালীন অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দেবেন। মা-বাবার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সন্তানের ভরণপোষণের প্রশ্নটি আদালতের এখতেয়ারাধীন। সন্তানের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, আর্থিক সামর্থের বিবেচনায় আদালত রায় দেবেন, কী পরিমাণ ভরণপোষণ সন্তানদের দেবেন। এই আইন অনুযায়ী, জেলা আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করতে হয়।

উল্লেখ্য, অবহেলিত সন্তানরা ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৮৮ ধারার অধীনে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পিতাকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য মামলা করতে পারে। এক্ষেত্রে সব ধর্মের সন্তানেরা তা পারবে।

লিখেছেনঃ

লোকমান বিন নূর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর

বিবাহবিডিতে চলছে T20 ভ্যালেন্টাইন অফার

বাংলাদেশী লিডিং ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েবপোর্টাল বিবাহবিডি ডট কম ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষ্যে  ডায়মন্ড ও পার্ল মেম্বারশীপে ২৫% ছাড় ঘোষনা করেছে। সেই সাথে যে সকল পাত্র/পাত্রী ১৬ মার্চ এর মধ্যে নিজেদের জীবন সঙ্গী বিবাহবিডি থেকে নিশ্চিত করবে তাদের মধ্যে প্রথম ৫ জোড়া জুটির জন্য বিবাহবিডির পক্ষ থেকে  রয়েছে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য  T20 বিশ্বকাপের টিকেট।

১ম ও ২য় জুটিকে ফাইনালের টিকেট, ৩য় ও ৪র্থ জুটিকে ভারত -পাকিস্থান ও ৫ম জুটিকে  উদ্ভোদনী ম্যাচের টিকেট প্রদান করা হবে। বিস্তারিত জানতে 24/7:  ০১৯২২১১৫৫৫৫ বিবাহবিডি ডট কমে রেজিষ্ট্রেশন করতে ক্লিক করুনঃ www.bibahabd.com