বিবাহবিডি ডট কম আসছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে

আগত বিয়ের মৌসুমকে মাথায় রেখে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর ২০১৮, বন্দর নগরী চট্রগ্রামে Violet Incorporation তৃতীয় বারের মতো  আয়োজন করতে যাচ্ছে তিনদিন ব্যাপী “The Grand Wedding Expo” অন্যান্যদের সাথে Wedding Expo তে ৪৪ ও ৪৫ নং স্টলে থাকছে বাংলাদেশী ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব পোর্টাল বিবাহবিডি ডট কম ।

তিনদিন ব্যাপী এই মেলায় প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বাসিরা সরাসরি বিবাহবিডি ডট কম এর স্টল থেকে সকল সেবা এবং বিস্তারিত সেবা বিষয়ক তথ্য জানতে পারবেন।  বিবাহবিডি ডট কম এর পক্ষ থেকে Wedding Expo পরিদর্শনের জন্য ‘Radisson Blue Chittagong Bay View’ এর Mezbaan Hall এ সবাইকে আমন্ত্রন জানানো হচ্ছে।

বিবাহবিডি ডট কম “The Grand Wedding Expo” উপলক্ষ্যে চট্রগ্রামের ইউজারদের জন্য সকল মেম্বারশীপ প্যাকেজে  ২৫% ছাড় ঘোষনা করেছে যা  স্টলে ভিজিট করে নেয়া যাবে।

আপনি কেনো এখনো সঙ্গীহীন!

আপনি কেনো এখনো সঙ্গীহীন? একা থাকাটা কোন মানুষিক অসুখ না।  এ সম্পর্কে আমাদের দেশের প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, “একা থাকাটা কোন দুর্বলতা নয়, একা থাকতে পারাটা যোগ্যতা।  কারন সবাই একা থাকতে পারেনা।”  আপনি একা আছেন এর অর্থ হচ্ছে সঠিক সঙ্গীর অপেক্ষায় আছেন।  মিলিয়ে দেখুন তো এই চমৎকার বিষয় গুলো আপনার একাকীত্বের কারন গুলোর সাথে মিলে কি না –

আপনি আপনার প্রাক্তনের প্রতি এখনো দুর্বলঃ  মানুষ সহজে অতীত ভুলতে পারে না, সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন কিন্তু ভালোবাসার মানুষটাকে ভুলতে পারছেন না এরকম হলে আপনি কখনই সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না।  অতীতকে ভুলে আপনাকে বর্তমানকে গ্রহণ করতে হবে।

সরলতাঃ আপনি হয়ত অনেক সরল স্বভাবের মানুষ। ভাবছেন একারণে আপনাকে কেউ পছন্দ করবে না, এটা ভুল।  আপনার জন্য অবশ্যই কেউ না কেউ আছে যে আপনার সরলতাকে আপন করে নিবে।

আদর্শ সঙ্গীর অপেক্ষায়ঃ  আদর্শ সঙ্গী পাওয়াটা সৌভাগ্যের বিষয়। তবে আদর্শ সঙ্গীর অপেক্ষাই থেকে বেশী সময় নষ্ট করাটাও ঠিক না।  যদি মনে করেন শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলে আদর্শ সঙ্গীর দেখা পাবেন তাহলে ভুল হবে।  কারন মানুষ কখন ১০০ ভাগ সঠিক হয় না, ভালো মন্দ মিলিয়ে মানুষ।

আহত মনঃ অতীতের সম্পর্ক থেকে অনেক বেশী দুঃখ পেয়ে মন ভেঙ্গে গিয়েছে? এজন্য অন্য সম্পর্কে জড়াতে চান না ? তাহলে ভুল করছেন কারন সব মানুষ সমান হয় না। নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে সঠিক সঙ্গী বেছে নিন।

আবেগ প্রবণতার অভাবঃ যার মনে আপনার জন্য ভালো লাগা আছে সে চাইবে আপনার সাথে একান্তে সময় কাটাতে, মনের কথাগুলো জানাতে, কিন্তু আপনি এরকম কিছুই অনুভব করেননা এবং বিষয় গুলো এড়িয়ে চলেন, এরকম আবেগ হীনতা আপনাকে সঙ্গীহীন করে রাখতে পারে।

অধিক চিন্তার ফলঃ অনেকে সঙ্গী নির্বাচনে অনেক ভাবনা চিন্তা করে সময় নষ্ট করে।  সব সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে সময় একবার চলে গেলে ফিরে পাওয়া যায়না। সময় থাকতে সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করে নিঃসঙ্গ জীবন থেকে মুক্তি নিতে হবে।  জীবনকে পরিপূর্ণ উপভোগ করতে হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সঠিক মানুষটাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে বেছে নিন।

‘উই টক’ চর্চায় বাড়বে সম্পর্কের সুস্থতা

দুজন ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক ভাবে এক হলেই কোন সম্পর্কের সুচনা হয় ।বিবাহিত দম্পতি অথবা প্রেমিক যুগল সব ক্ষেত্রে সম্পর্কের সুস্থতা না থাকলে সম্পর্কে ধরতে পারে ফাটল।  সম্পর্ক সুস্থ রাখতে অনেক বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় এবং অনেক বিষয় চর্চা করতে হয়, তবেই সম্পর্ক হয় মধুর।  গবেষণায় দেখা যায় যে ‘আমি’ ও ‘তুমি’ এই শব্দের পরিবর্তে যদি ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় তবে অনেক সমস্যার সমাধান আপনা আপনি হয়ে যায়।

‘আমি’ ও ‘তুমি’ এই শব্দের পরিবর্তে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করাকে ‘উই টক’ বলে।  ‘উই টক’ এর অনুশীলন বৃদ্ধি করলে সম্পর্কের মনযোগটা ও বৃদ্ধি পায়।  ৫,৩০০০ মানুষের উপর ত্রিশটি পরীক্ষা চালিয়ে এই গবেষণা দাঁড় করানো হয়।  এর মাঝে অর্ধেক প্রেমিক প্রেমিকা এবং বাকি অর্ধেক বিবাহিত ছিলেন।  এই গবেষণায় যে তথ্য গুলোর উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয় তা হলো- তাদের সম্পর্ক, আচারন, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং তারা একে অন্যের প্রতি কতটা যত্নশীল ।

গবেষনায় অংশগ্রহণকারীরা সকলে স্বীকার করেছে যে ‘উই টক’ তাদের কাজে লেগেছে এবং উপকৃত হয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে, জীবন সঙ্গীর প্রভাব বিদ্যমান। এ প্রভাব দেখা যায় আমাদের কাজে, চিন্তায় ও আচারনে।  ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্স থিওরি’ দ্বারা এই প্রভাবকে বোঝানো হয়।  এই থিওরি অনুসারে, বিপদের সময় সেই সকল দম্পতিরা সফল হয় যারা একে অন্যের প্রতি ভালো চিন্তা ও কাজ করে এবং যত্নশীল হয়।  কোন কাজ সঙ্গীরা আমি করছি, না বলে আমরা করছি এবং আমরা কোন সমস্যার সমাধান করছি, এধরণের কথাটা বলা বেশী উপকারী।

দম্পতিদের মধ্যে ভরসার স্থান তখন বেশী হয়, যখন ‘আমরা’ ও ‘আমাদের’ শব্দগুলো বেশী ব্যবহৃত হয়।যে কোন সমস্যার সমাধান করা উভয়ের সমান দায়িত্ব, একসাথে মিলে সব দায়িত্ব পালন করতে হবে।।  কোন কোন ক্ষেত্রে ‘উই টক’ হিতে বিপরীত হতে পারে।  অনেক সময় সঙ্গীরা একে অন্যের বদ অভ্যাস রপ্ত করে ফেলতে পারে।  আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের সুস্থতা বিবেচনায় সঙ্গীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা মূল্যায়ণ করতে হবে।  যেকোন সম্পর্ক, সেটা দাম্পত্য কিংবা ভালোবাসার যুগল হক, দুজনকে এক হয়ে সকল বিপদ মোকাবেলা করতে হবে।  তাহলেই সম্পর্ক হবে সার্থক।

সম্পর্কের অস্বস্তিকর মুহুর্তগুলো এড়ানোর কিছু প্রন্থা

দুজন মানুষ যখন কোনো সম্পর্কে জড়ান, তখন তারা একে অপরের কাছে অনেক কিছুই আশা করেন। আর এর ব্যাপ্তয় ঘটলেই দুজনের মধ্যে চলে রাগ কিংবা অভিমান। অনেক সময় তর্ক কিংবা কথা কাটাকাটি চলাকালেও এমনটা হতে পারে। যদি শুরুতেই সঙ্গীর এই অভিমান ভাঙানো না যায় তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কে এর খারাপ প্রভাব পড়ে। পরবর্তীতে এটি সম্পর্ক ভাঙনেরও কারণ হতে পারে।  কাজেই শুরুতেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে নেয়াই ভালো। এক্ষেত্রে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে করতে পারেন কিছু কাজ-

মুখে বলি ভালোবাসি:  ভালোবাসি কথাটির গভীরতা অনেক। ভালোবাসার অনুভূতির কথা প্রকাশ না করলে ভালোবাসা হয়ে যায় এক তরফা, বেশী দেরি না করে খুব দ্রুত বলে ফেলতে হবে মনের কথাটা, অন্যথায় হারিয়েও ফেলতে পারেন আপনার মনের মানুষটাকে।মন দেওয়া নেওয়ার পর ভালোবাসার সম্পর্ক যখন অনেকটা গভীর হতে থাকে তখন সব জড়তা ভেঙ্গে একে অন্যকে ভালবাসি কথাটা মুখে বলে জানান দিতে থাকি কিন্তু প্রতি উত্তরে যদি ধন্যবাদ বা নীরবতা আসে, তাহলে বিচলিত হবেননা এবং কোন রকম অস্বস্তিভাব দেখাবেন না। নীরব থাকা মানে আপনার সঙ্গী আপনাকে ভালোবাসেনা তা নয় কারন আপনি জানেন আপনার সঙ্গী আপনাকে কতটা ভালোবাসে।

অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে পরিবারের সাথে পরিচয়ঃ  প্রেম করছি বাসার কেউ দেখে না ফেলে, চুরি করে প্রেম করলে পরিবারের কেউ দেখে ফেললে খুব অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এরকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে হলে আমদের উচিৎ পরিবারের সদস্যের সাথে সঙ্গীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এবং জড়তা ভেঙ্গে ফেলা।

নতুন সম্পর্ক বনাম প্রাক্তনঃ  বর্তমান ভালোবাসার সম্পর্কে অনেক সময় প্রাক্তন সম্পর্কের সামনে অস্বস্থিতে পড়তে হয়। যুগল যখন কোন লোকালয়ে তাদের একান্ত সময় কাটায় হঠাৎ প্রাক্তনের সাথে দেখা হয়ে যেতে পারে এসময় বিচলিত ও অস্থির না হয়ে, খুব সহজ ভাবে বিষয়টিকে গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখবেন কোন সম্পর্ক মিথ্যা দিয়ে হয়না। অতীত সম্পর্কে সবটায় জানিয়ে রাখতে হবে বর্তমানকে।

অনিচ্ছাকৃত অপমানঃ সব সম্পর্কে খুঁটিনাটি সমস্যা হয়, ঠিক তেমনি ভালোবাসার সম্পর্কে মধ্যেও হয়। কোন বিষয়ে যখন কোন যুগলেরা কথা কাটাকাটি করে অবশ্যই মুখ ফস্কে এমন কোন কথা বলবেননা যেটা সঙ্গীকে অপমানিত করে। যদি এরকম কোন অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়, আমাদেরকে তখনই ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে এবং পরে এই বিষয়ে আলোচনা করা যাবেনা।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতাঃ  বর্তমানের জনপ্রিয় অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রেমিক যুগলরা বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে থাকে, এক্ষেত্রে এমন কোন ছবি পোস্ট করা উচিৎ না যা অন্যের জন্য কোন অস্বস্থির কারন হয়ে দাড়ায়। এসকল মাধ্যম গুলো ব্যবহারে হতে হবে আধিক সতর্ক।

আমাদের সবার উচিত জীবনের প্রতি আস্থা রাখা,  সমাজ, জীবন, পারিপার্শ্বিকের প্রতি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়ুন। সব কিছু ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে শিখুন। সম্পর্কে যতই টালমাটাল পরিস্থিতি আসুক, ইতিবাচক থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনও পরিস্থিতি অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করবেন না। স্বামী যদি কোনওদিন ভালো করে কথা না বলেন তার মানেই যে উনি আপনার ব্যাপারে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তা মোটেই নয়! স্বামীর জায়গা থেকেও বিভিন্ন পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। দু’জনে দু’জনের পাশে থাকলে বহু দুঃসময়ই পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব।

বিবাহঃ পারিবারিক নাকি প্রেমের, কোনটা ভালো!

বিয়ে হলো সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দুটি বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়।  বিয়ের মাধ্যমে নারী ও পুরুষ তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু করে।  আর তাই বিয়ে যুগ যুগ ধরে মঙ্গলজনক ও ঐতিহ্যবাহী বন্ধন হিসেবে মনে করা হয়।   পারিবারিক ও প্রেমের দু’ভাবে বিয়ে হয়ে থাকে। অচেনা অজানা মানুষ নাকি পূর্ব পরিচিত ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধলে সুখী হওয়া যায়? এ নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক।  অনেকে মনে করে বাবা-মা বা অভিভাবকের মনোনীত পাত্র-পাত্রী বিয়ে করলে তাদের আশীর্বাদে সুখী হওয়া যায়। আবার অনেকে মনে করেন নিজেদের পছন্দে বিয়ে করলে দাম্পত্য সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো থাকে।

সাম্প্রতিক কালে কিছু গবেষনায় উঠে এসেছে, প্রেমের বিয়ে গুলোর চাইতে পারিবারিক মাধ্যমে আয়োজিত বিয়ে গুলোর স্থায়ীত্ব বেশী হয়ে থাকে, আবার বিচ্ছেদের পরিমাণটাও হয় কম।  যদিও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নীরব সহিংসতার শিকার ঘটনা গুলো পারিবারিক রক্ষনশীলতায় অপ্রকাশিতই রয়ে যায়।   আসুন দেখি পারিবারিক বিয়ে ও প্রেমের বিয়ে নিয়ে তুলনামূলক কিছু বিশ্লেষন  –

অপরিপূর্ণতা ও  প্রত্যাশা

প্রেমের বিয়ের চায়তে পারিবারিক বিয়ে গুলতে জীবন সঙ্গীদের মধ্যে প্রত্যাশার পরিমাণ একদম কম থাকে কারন পারিবারিক বিয়ে গুলোতে বর কনে একে অন্যের মধ্যে তেমন কোন বোঝাপড়া থাকেনা ফলে একে অন্যের উপর প্রত্যাশা ও কম থাকে। ফলে বিয়ের পর ও প্রত্যাশা না পুরনের কারনে কোন সমস্যার সৃষ্টি হয়না এবং দ্বন্দ ও কম হয়।

সামঞ্জস্যতার বিচার

পারিবারিক ভাবে নির্ধারিত বিয়ে গুলো সম্পূর্ণ সামাজিক মর্যাদা ও বংশ সহ সকল বিষয়ের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করা হয় । সমসামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন পরিবারের মধ্যকার সম্পর্ক হয় দীর্ঘস্থায়ী, অপর পক্ষে ভালোবাসার সম্পর্কের বিয়েতে বংশ মর্যাদার পরিবর্তে শুধু ভালবাসাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বেশী, কথায় বলে প্রেম অন্ধ হয়।

সঠিক সঙ্গী নির্বাচনে পরিবারের অবদান

জীবন সঙ্গী নির্বাচন করা সহজ কোন কাজ নয় । নিজের জীবন সঙ্গী খুজে বের করা মুখের কথা নয়। পারিবারিক  ভাবে নির্ধারিত বিয়েতে এই ঝামেলা একদমই থাকে না কারন পরিবারের সদস্যরা এই দায়িত্ব পালন করে থাকেন এবং তারা সবাই মিলে একজন আদর্শ সঙ্গী খুজে বের করেন। ফলে পারিবারিক বিয়ের পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনে সম্পূর্ণ পরিশ্রম পরিবারের সদস্যরা বহন করে এবং সানন্দে করে ।

বিয়ে শুধু দুজন মানুষের না, বরং দুটি পরিবারের সম্পর্ক

পারিবারিক ভাবে নির্ধারিত  বিয়ে কোন একটা নির্দিষ্ট সম্পর্ককে না বুঝিয়ে অনেক গুলো সম্পর্কের ভিত্তিকে বোঝায়। এরকম সম্পর্ক গুলতে কোন দম্পত্তির মধ্যে যদি কোন মতো বিরোধ হয় তখন পরিবারের সবায় মিলে বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থা করে, দুজনের মধ্যকার সম্পর্ক জোড়া দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। পরিবার এই সমস্যাকে একান্ত নিজের সমস্যা বলে মনে করে।

ভালোবাসার পাগলামি

প্রেমের বিয়েতে জীবনসঙ্গী একে ওপরের প্রতি যে ভালোবাসার টান অনুভব করে পারিবারিক বিয়েতে টানটা কম হয় এবং আকর্ষণ ও কম থাকে। পারিবারিক বিয়ে গুলোতে ভালোবাসার পাগলামিটা কম থাকে। পারিবারিক বিয়েতে ভালোবাসার পাগলামি তখন সৃষ্টি হয় যখন একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে।

বিচ্ছেদের বিভীষিকা

পারিবারিক বিয়েতে সব দম্পত্তিরা সুখী হবে এমন কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। এসকল বিয়ের ক্ষেত্রেও দম্পত্তিদের মধ্যে অসুস্থ সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে পরিবার তাদের সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তালাক বা বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, অভিভাবক মনে করে তালাকের মতো সিদ্ধান্তে মানুষ জানাজানি হলে তাদের সম্মানহানী হবে, ফলে তারা যেকোন পরিস্থিতিতে তালাকের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনা। এমন অবস্থায় বিবাহিত দম্পত্তিরা না পারে সুখে সংসার করতে না পারে এ সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেতে। তাদের জীবন হয়ে পরে বিভীষিকাময়।

সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি দূরে রাখবেন যেভাবে

সকলের অভিমান, অনুরাগ সমস্তই জমা হয় প্রিয়জনের নামে।  সম্পর্কে প্রাধান্য বেশি থাকে বলে ভুল বোঝাবুঝির ভয়টাও থাকে বেশি।  বিশেষ করে দুইজন দুই জায়গায় থাকলে ভুল বোঝাবুঝির মাত্রাটা যেন বেড়ে যায়।  কাছে থাকলে একটুখানি ঠোঁটের হাসিতে, চোখের চাহনিতে যে কথা বোঝানো যায়, দূরে থাকলে তা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর তাইতো একটি ইতিবাচক বিষয়ও নেতিবাচক হতে সময় লাগে না।  কিন্তু এই ভুল বোঝাবুঝিকে বাড়তে দিলেই মুশকিল।  সেখান থেকে জন্ম নিতে পারে আরো বড় দূরত্বের। সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে তাকে দূর করার প্রচেষ্টাও।  আর সেক্ষেত্রে যত্নশীল হতে হবে উভয়পক্ষকেই।

ভুল স্বীকার অবশ্যই করতে হবে: ভুলটা যদি আপনারই হয়, এবং আপনি তা অনুধাবন করতে পারেন তবে দ্রুতই নিজের ভুলটা স্বীকার করে নিন। যদি ঝগড়া করার ইচ্ছা থাকে তবে আপনি তা জীবনের শেষদিন পর্যন্ত চালিয়ে নিতে পারবেন, কারণ ঝগড়ায় ইন্ধনের অভাব হয় না। তাই ভালোবাসার সম্পর্কটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইলে নিজেকে সবসময় পুরোপুরি নির্দোষ ভাবা বন্ধ করুন। যদি সত্যিই ভুল করে থাকেন তবে তা স্বীকার করে নিন। ভুল বোঝাবুঝি আর থাকবে না।

সরি বলা চর্চা করতে হবে : সম্পর্কে যে সমস্যাটি কাঁটার মতো বিঁধে থাকে সেটি হলো ‘ইগো’। এই এক ইগোর জন্য কত সম্পর্ক মুকুলেই ঝরে যায়, তুমুল ভালোবাসা লুকিয়ে রেখে ভালোবাসাহীনতার অভিনয় করে যেতে হয়! তাই ভুলটি আপনার হোক বা না হোক, ইগো ঝেড়ে ফেলে একবার ‘সরি’ বলেই দেখুন। ছোট্ট একটি শব্দ দিয়ে যার সমাধান করা যায়, তা অযথাই দীর্ঘায়িত করলে কারোই লাভ হবে না।

বোঝাবুঝিকে বাড়তে না দেয়া : ভুল বোঝাবুঝিকে বাড়তে সময় দেয়া নয়, পরস্পরকে সময় দেয়া। যখন দূরে থেকে আর সমস্যার সমাধান করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না তখন কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করুন। একটি দিন বা অন্তত একটি বিকেল পরস্পরকে সময় দিন। প্রিয় মানুষের চোখের দিকে তাকালে আর কোনো মিথ্যাই পাত্তা পাবে না। ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে প্রতিষ্ঠা হবে ভালোবাসার।

দূরত্ব ঘোচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বিশেষ কোনো উপহার। সেইসঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিও মুখ লুকিয়ে পালাবে! তাই ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে রাখতে প্রিয় মানুষটিকে প্রিয় কোনো উপহার কিনে দিতে পারেন।  সুত্রঃ সময়ের কন্ঠস্বর

কেমন হবে বিয়ের আগে ও পরের আচরণ

বিয়ের আগের ও পরের আচরণ বর-কনের পরবর্তী জীবনে প্রভাব বিস্তার করে।  তাই দুজনই সতর্ক থাকুন। ভেবেচিন্তে একে অপরের সঙ্গে আচরণ করুন।

কী করবেন আর করবেন না, জানাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহমেদ তুষার –

বিয়ের পর প্রায়ই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নানা রকম কষ্ট, যন্ত্রণা কিংবা অসন্তুষ্টি দেখা যায়।  অথচ একটু সচেতন হলেই অশান্তি দূর করে সাংসারিক জীবনে বসন্তের রং ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।  বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব সাধারণ কিন্তু অতি প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো একটু জেনে নেওয়া যাক।-

বিয়ের আগে:
বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীরা ছোটবেলা থেকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে রাখা আদর্শ বা পারফেক্ট পাত্র বা পাত্রী খুঁজতে থাকে। জেনে রাখা দরকার যে পৃথিবীর কেউই পারফেক্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থানের কথা মাথায় রেখে প্রত্যাশার একটা ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে পাত্র-পাত্রী খোঁজা ভালো। পাত্র-পাত্রী খোঁজার সময় তাদের ব্যক্তিত্ব, পেশাগত কাজের ধরন, পারিবারিক সংস্কৃতি ও রীতিনীতি জানা প্রয়োজন।

দেখতে যাওয়া :
বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীকে দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। পাত্র-পাত্রীর নিজেদেরও পরিচিত হয়ে নেওয়াটা দরকার। কিন্তু বারবার দেখতে এলে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। বিয়ের পরও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। ছবি দেখে ও খোঁজখবর নিয়ে পছন্দ হলে কোনো রেস্টুরেন্ট বা মার্কেটে পাত্রীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখা করুন এবং স্বাভাবিক সামাজিক কথাবার্তা বলে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন।

সব দিক থেকে পছন্দ হলেই শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্র-পাত্রীর বাসায় যাওয়া উচিত। পাত্র বা পাত্রীকে দেখতে গিয়ে এমন কোনো প্রশ্ন বা মন্তব্য করবেন না, যা তার জন্য অপমানজনক। কোনো তথ্য জানতে হলে কৌশলী হোন।

বিয়ে ঠিক হলে: 
বিয়ে ঠিক হলে পাত্র-পাত্রী নিজেদের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে নিতে পারলে ভালো। একই সঙ্গে উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অন্তত ফোনে হলেও কথা বলে সম্পর্কগুলো সহজ করে নেওয়া যেতে পারে। এ সময় সততার সঙ্গে তথ্যর আদান-প্রদান করা উচিত। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী তার ভাবী স্ত্রী বা স্বামীকে একজন আদর্শ স্ত্রী বা স্বামী হিসেবে কল্পনা করতে পছন্দ করে। শ্বশুর-শাশুড়িসহ সবাই তাকে আদর করবে, সবার সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক থাকবে। মনে রাখতে হবে, আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য থাকবে।

কারণ কেউই সব দিক থেকে আদর্শ নয়। অন্যদিকে তাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কাও কাজ করতে থাকে। মেয়েদের মধ্যে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেমন হবে, তাদের সঙ্গে মানাতে পারবে কি না, স্বামী তাকে বুঝবে কি না, এ ছাড়া তার প্রিয় পরিবেশ ছেড়ে যেতে হবে—এটার একটা কষ্ট তার মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে। বিয়ের আগে ও পরে পাত্র-পাত্রীর একে অপরের আশঙ্কাগুলো বুঝে তাকে আশ্বস্ত ও সহায়তা করা উচিত।

বিয়ের দিন কনেকে ঠাট্টা নয়: 
বিয়ের দিন ঠাট্টা বা ঠকানোর বিষয়টি পুরনো প্রচলন। ঠকানোর বিষয়টি অন্যদের ওপর তেমন প্রভাব বিস্তার না করলেও কনের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। কনে অনেক মানসিক চাপ, আশঙ্কার মধ্যে থাকে এবং তাকেই নতুন পরিবেশে যেতে হয়। এ কারণে তার মনের অবস্থা নাজুক থাকে। তাই সামান্য পিনের খোঁচা বুলেটের চেয়েও বেশি ব্যথিত করে। এটার প্রভাব মেয়েটির মনের অজান্তেই দীর্ঘদিন থেকে যায়। এ জন্য বিয়ের দিন প্রথম দেখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বউয়ের সঙ্গে ঠাট্টা না করে সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বললে তার সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিয়ের পর:
বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীকে আরো বেশি করে অনুভব করে এবং স্বামীও তার মতো করে প্রচণ্ড আবেগ দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করুক—এটা প্রত্যাশা করে। অনেকে এই আবেগকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে করে বিরক্ত হয়। অন্যদিকে সামাজিক কারণেই স্বামীকে অনেক দায়িত্ব নিতে হয়—স্ত্রীকে সম্মানজনক অবস্থায় রাখতে হবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে ইত্যাদি। ফলে স্ত্রী মনে করে, স্বামী তাকে আর আগের মতো ভালোবাসে না।

এ সময় সন্দেহের সুপ্ত বীজ উপ্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ছেলেটি যে মেয়েটিকে ভালোবাসে না তা নয়, কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারে না অথবা প্রকাশ করার প্রয়োজন অনুভব করে না। হয়তো স্ত্রী-সন্তানদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার জন্যই সে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এ সময় স্বামীর উচিত স্ত্রীর আবেগকে বোঝার চেষ্টা করা এবং স্ত্রীকে যথাসম্ভব সময় দেওয়া। একই সঙ্গে স্ত্রীরও বোঝা উচিত স্বামীর ব্যস্ততার অর্থ ভালোবাসা কমে যাওয়া নয়, এই পরিশ্রমের উদ্দেশ্য তাদের ভালো রাখার প্রচেষ্টা।

নবদম্পতি ও যৌথ পরিবার: 
যৌথ পরিবারে অনেক সময় দম্পতিরা একান্তে সময় কাটানো বা একটু কাছাকাছি আসতে কুণ্ঠা বোধ করে। ফলে তাদের মানসিক চাহিদা পূর্ণ হয় না। বরং এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। স্বামী হয়তো বাইরে গিয়ে অস্বস্তি কিছুটা কমিয়ে ফেলতে পারে, কিন্তু স্ত্রীর মধ্যে দিনে দিনে অস্বস্তিটা জমাট বাঁধতে থাকে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই অস্বস্তি সংযুক্ত হয়ে যায়। ফলে মেয়েটির মনের অজান্তেই পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিরক্তিবোধ তৈরি হতে থাকে।

একান্ত সময়গুলোতে যাতে সে অবাধে সারা দিনের আবেগ প্রকাশ করতে পারে, সেই সুযোগ দিতে হবে। তার আবেগের প্রতি অতিপ্রতিক্রিয়াশীলতা দেখানোর প্রয়োজন নেই, বরং তার আবেগকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যৌথ পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত নবদম্পতিকে কিছুটা সময় একান্তে কাটানোর সুযোগ দেওয়া। মেয়েটি যাতে এই পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারে, এ বিষয়ে তাকে সহায়তা করা।

স্ত্রী ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা:
বিয়ের পর ছেলেটিকে যে শক্ত কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় তা হচ্ছে স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্য, বিশেষত মায়ের মধ্যে ব্যালান্স করা। ছেলেটির জন্য মা ও স্ত্রী তার দুই হাতের মতো; কোনোটিই তার বেশি আপন বা পর নয়। একইভাবে সে মা ও স্ত্রী উভয়েরই ভালোবাসার পাত্র, দুজনই তার কাছ থেকে যথেষ্ট মনোযোগ প্রত্যাশা করে, যা খুবই স্বাভাবিক। তাই ছেলেটিকে এ ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে এবং কাউকে কষ্ট না দিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।

জীবনধারার পরিবর্তন:
বিয়ের পর ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই তার লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হয়। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় দেওয়া কমে যায় এবং খাওয়া, ঘুমসহ জীবনের নানা উপাদান নতুন মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করতে হয়। এ ক্ষেত্রে উভয়কেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে। খরচের হাত কিছুটা সীমিত করতে হয়। তবে মনে রাখা দরকার, হঠাৎ করে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা কঠিন। এ জন্য তাকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত এবং উন্নতি হলে উৎসাহিত করা উচিত।

বিয়ের পর ভালো সম্পর্ক রাখতে করণীয়:

♦ মনে রাখুন, বিয়ে হলেই অবধারিতভাবে ভালোবাসা থাকবে তা নয়। ভালোবাসা তৈরি ও রক্ষার জন্য সব সময় স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই ভূমিকা রাখতে হয়।
♦ নতুন জীবনের সঙ্গে আপনার লাইফস্টাইলটা অ্যাডজাস্ট করে নিন। যেকোনো সম্পর্কই ছাড় প্রত্যাশা করে।
♦স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে আনন্দদায়ক কিছু করুন; যেমন—দূরে বেড়াতে যাওয়া, একসঙ্গে হাঁটা, মার্কেটে যাওয়া। আপনার কোনটাতে ভালো লাগবে তা আপনার সঙ্গীকে বলুন এবং তারটিকেও গুরুত্ব দিন।
♦ সঙ্গীর ভালো কাজের সত্যিকারের প্রশংসা করুন।
♦ মাঝে মাঝে উপহার দিন, সারপ্রাইজ দিন এবং সৃজনশীল কিছু করুন, যাতে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়।
♦ মনের মধ্যে কষ্ট বা ভালো লাগা তৈরি হলে তা ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করুন এবং সঙ্গী প্রকাশ করলে তার স্বীকৃতি দিন। রাগ সঠিকভাবে প্রকাশ করুন। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে পছন্দনীয় কোনো নামে ডাকুন।
♦ পরিবারে কোনো সমস্যা তৈরি হলে খোলামেলা আলোচনা করে সমাধান করুন। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো দুজনে মিলে আলোচনা করে নিন।
♦ উভয় পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন এবং পরস্পরকে খোঁচা মেরে কথা বলা এড়িয়ে চলুন।
♦নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া একে অপরকে সন্দেহ করা এড়িয়ে চলুন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো বারবার মনে করিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গীকারগুলো রক্ষা করুন এবং তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করুন।

সুত্রঃ ইন্টারনেট

প্রাধান্য দিতে হবে ইতিবাচক আবেগ ও বিবেককে

আবেগ ও বিবেক ছোট ছোট দুটি শব্দ, কিন্তু এর পরিধি ব্যাপক। প্রত্যেক মানুষের জীবনে আবেগ ও বিবেক এ দুটি সত্তা কমবেশি বিরাজ করছে। আবেগের সংজ্ঞা দেওয়া খুব সহজ নয়। অনেকে আবেগকে অনুভূতির সমর্থক বলে ধরে নেয়। কিন্তু আবেগ মানসিক আর অনুভূতি শারীরিক ও মানসিক—দুটোই হয়ে থাকে। শারীরিকভাবে বলতে গেলে মসৃণ পেশি এবং বিভিন্ন গ্রন্থির কারণে শরীরের অন্তর্নিহিত পরিবর্তনই হলো আবেগ বা অনুভূতি। সামগ্রিকভাবে চেতনার যে অংশ অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তাকে আবেগ বলা হয়। মানুষের অজান্তেই আবেগ তড়িত্ গতিতে প্রবেশ করে। আবেগ থাকতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত হওয়া জীবনের জন্য অমঙ্গল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনের শক্তি হিসেবে কাজ করে আবেগ। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা সম্মুখ সমর মোকাবিলার চেয়েও কঠিন। যে সব আবেগ মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখে তা হলো—অতিরিক্ত ভালোবাসা, হতাশা, রাগ, হিংসা বা ঈর্ষা, লোভ-লালসা ইত্যাদি। আবেগ কারো বেশি কারো কম। সবাই বোঝে, আবেগের বশীভূত হয়ে কোনো কাজ করা ঠিক নয়। তবু মানুষেরা আবেগকেই কাছে টেনে নেয়। এর মাধ্যমে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আবেগ থেকে অস্থিরতা বাড়ে যা মানসিক অশান্তিসহ ক্রোধের দিকে ধাবিত করে। যার শেষ পরিণাম অমঙ্গল বা নেতিবাচক।

নানা রকম মানুষের মধ্যে সুখ, ভয়-ভীতি, রাগ, দুঃখ-কষ্ট-বেদনাসহ অসংখ্য রকমের আবেগ বিদ্যমান। ‘মাটিভেশন অ্যান্ড ইমোশন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত বেলজিয়ামের লিউভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা মতে, মানুষের যে কোনো আবেগ অন্যান্য যে কোনো আবেগের চেয়ে দুঃখের আবেগ ২৪০গুণ বেশি সময় স্থায়ী হয়।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সবার এক নয়। জ্ঞানের পরিচয় দিয়ে এর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নারীদের আবেগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘তরুণী মেয়েদের আবেগ হঠাত্ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না।’ (যখন নামিবে আঁঁধার [২০১২] : পৃষ্ঠা ৯-১০)। ব্যক্তিবিশেষে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যে ব্যক্তি যত বেশি বাস্তবতার মুখোমুখি সে তত বেশি সমস্যার সমাধান দিতে পারে। কারণ বাস্তবতার আলোকে বিবেক পরিচালিত হয়। আবেগ দিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আর বাস্তবতার নিরিখে বিবেক দিয়ে সমস্যার সমাধান ও সফলতার পথ বেশি। আবেগ কাজের দিকে ধাবিত করে আর বিবেক উপসংহারের দিকে ধাবিত করে। নিয়ন্ত্রিত আবেগ ও সুস্থ বিবেক সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। শুধু আবেগ দিয়ে সফলতা আসে না।

ভালো বই পড়া মানসিক অশান্তি ও হতাশা দূর করার চমত্কার পদ্ধতি। সঠিক সিদ্ধান্তের পথে সবচেয়ে বেশি বাধা দেয় অতিরিক্ত আবেগ। আবেগ সেখানে উত্তম যেখানে তার প্রয়োজন। আবেগ আমাদের পরম বন্ধু কখনো আবার পরম শত্রু। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ধরনের আবেগ নিয়েই মানুষ বেড়ে ওঠে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হতে হলে বিবেকের মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ আবদুল কাহহার, সুত্রঃ ইত্তেফাক

ভালোবাসা, সম্পর্ক ও বিশ্বাস

যে কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে।  এমন কি কোন কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও।  আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালবাসা। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হচ্ছে ভালবাসার সম্পর্ক। ভালবাসার কাঁধে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে একেকটি সম্পর্ক। আর তাতে আস্তর হিসেবে প্রলেপ পরে বিশ্বাসের আর অনুভূতির। এভাবেই জুড়ে থাকে ভালবাসা জগত-সংসারে। ভালবাসা, যা কখনও লুকিয়ে রাখা যায় না। যদিও সময় ও পরিবেশের ক্ষেত্রে এর প্রকাশভঙ্গি একরকম হয় না। এটি হলো একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহির্প্রকাশ। খুবই আশ্চর্য লাগে যখন দেখা যায় এই ভালবাসার জন্য কেউ তার পরিবার পরিজন ত্যাগ করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে। ভালবাসার শক্তি আসলে অপরিসীম।  তা না হলে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কিভাবে ত্যাগ করা যায়!

বর্তমানে এটি এখন খুব বেশি মাত্রায় লক্ষণীয় যে ভালবাসার গভীরতা আজ আর আগের মতো নেই।  যেটুকু ভালবাসা দেখা যায় তাও নিজের স্বার্থের জন্য।  বয়ফ্রেন্ড কিংবা গার্লফ্রেন্ড থাকা আজ একটা স্ট্যাটাস।  ফলস্বরূপ ভালবেসে বিয়ে করে অতি দ্রুত বিচ্ছেদ হওয়া যেন অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। ঠিক কোথায় যেন আমরা সবাই ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি।  যেখানে আমাদের ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা সব হারিয়ে যাচ্ছে।  তাই তো ইংরেজ সাহিত্যিক উইলিয়াম শেকসপিয়ার যথার্থই বলেছিলেন, ‘সবাইকে ভালবাস, বিশ্বাস করো অল্প কয়েকজনকে।’

আজ কালকার প্রেমে পড়ার কাহিনী শুনলে দেখে যায় তারা কখনও মনের বিবেচনায় একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। তাদের প্রেমে পড়ার ইতিহাস থেকে দেখা যায় কেউ কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছে সেখানে প্রথম দেখাতেই প্রেম। কিংবা একই সঙ্গে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে সেই থেকেই প্রেম। কিংবা অপরিচিত মোবাইল থেকে মেসেজ/ভয়েস শুনে প্রেম। কিংবা সামান্য আকর্ষণ থেকে জন্ম নেয় ভালবাসা যা সত্যিকার অর্থে দীর্ঘস্থায়ী নয়।  সত্যিকারের ভালবাসা আসলে এভাবে গড়ে ওঠে না।  সে তো অনেক সাধনা ও ত্যাগের ফল। আর এখন এ ত্যাগ ও সাধনা স্থানে স্থান করে নিয়েছে অনেকের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে। এমনকি নির্মম বর্বরতার খবরও শোনা গিয়েছে।  স্বার্থসিদ্ধির চরম অভিব্যক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি। যার ফলে টিকে থাকছে না কোন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে। সম্পর্ক তৈরি করা যত না সহজ, সেটি রক্ষা করা তারচেয়ে অনেক বেশি কঠিন। ছোট একটি ভুলই একটি সম্পর্ক শেষ করে দেয়। আর সম্পর্কের এ টানাপোড়েনে দু’পক্ষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সেটি মূলত মানসিক দিক দিয়ে।

ভালবাসার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস।  কারণ সত্যিকারের ভালবাসায় বিশ্বাসের কোন কমতি থাকে না।  প্রেমে পড়া কিংবা প্রেম করা যতটা সহজ, প্রেমের সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখা কিংবা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ততটা সহজ নয়।  শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাস।  যখন একজন ভেবে নেন যে তার সঙ্গী ঠিক তার মতো করে ভাবছেন, তবে সম্পর্ক হয় দীর্ঘস্থায়ী।  আর উল্টোটা হলেই তৈরি হতে থাকে অভিমানের পাহাড়।  কিন্তু দিনের পরে দিন এ রকম চলতে থাকলে, কয়েকদিন বাদে দেখা যায় যে, সম্পর্কের মধ্যে চলে আসে দূরত্ব।  আর এই দূরত্ব থেকেই সৃষ্টি হয় সম্পর্কে ভাঙ্গন।

তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন শ্রদ্ধাবোধ এবং মতামতের গুরুত্ব দেয়া ও পছন্দ-অপছন্দের খোঁজখবর রাখা। এগুলো সম্পর্ককে আরও বেশি গভীর করে তোলে। তাই ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে যতটা সম্ভব ভাল ব্যবহার করাই শ্রেয়। এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে এগুলো যেন কৃত্রিম না হয়। সবকিছুর উৎসস্থল যেন হয় আন্তরিকতা। মনে রাখতে হবে, আদর্শিক দিকে মিল থাকলে ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়, একে অন্যের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয়। একটা সুনির্দিষ্ট ধারণা প্রতিষ্ঠিত করলে দু’জনের আপ্রাণ চেষ্টা ভালবাসার গভীরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। একটি সম্পর্ক চারা গাছের মতো।  সেই গাছকে যেমন যত করে বড় করে তুলতে হয়, ঠিক তেমনি সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটু যত, বিশ্বাস এবং অনেকখানি ভালবাসার প্রয়োজন হয়।

ভালবাসাহীন পৃথিবীতে কেউই চায় না বাঁচতে।  সবাই চায় একটুখানি ভালবাসা যেখানে আস্থা, আবেগ, আর বিশ্বাস নতুন করে প্রাণে জোয়ার যোগাবে। জীবনে দুঃখ আসবে, দুর্দশা আসবে, বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে কিন্তু তাতে কি! ভালবাসার শক্তি সব বাধা ভেঙ্গে দেবে।  শেখাবে নতুন করে বাঁচতে। তাই আমাদের উচিত সঙ্কীর্ণ ভালবাসাকে আকাশের মতো উদার করে কার্পণ্যতাকে দূর করা। বিখ্যাত লেখক ডেল কার্নেগী লিখেছিলেন, ‘পৃথিবীতে ভালবাসার একটি মাত্র উপায় আছে… সে হলো প্রতিদানের আশা না করে ভালবেসে যাওয়া।’ আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আদর্শিক মনোভাব এবং সৎ চিন্তা করা।

পুরুষের বিয়ের ভয়, যদি স্বাধীনতা হারাতে হয়!

অনেক পুরুষই আছেন,যাদের কাছে বিয়ে মানে হচ্ছে এক নারীর সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়া,সংসার বা জীবনে থিতু হওয়া তাদের জন্য জরুরী নয়। এক নারীতে তুষ্ট হতে পারেন না তারা,মনে করেন বিয়ে করলেই বহুগামী জীবনের সকল আনন্দে ছন্দপতন চলে আসবে। তাছাড়া পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা এমনিতেই আছে যে বিয়ে করা মানেই ব্যক্তি স্বাধীনতা হারানো,বাড়তি দায়িত্ব নেয়া। অনেকে আবার মা-বউয়ের ঝগড়ার কথা ভেবেও বিয়েতে ভয় পান।

পুরুষেরা কি ভয় পায় বিয়ে করতে? এমন প্রশ্ন হয়তো অনেকের মনেই জাগতে পারে! কৈশোরে কিংবা তারুণ্যে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় হয়তো অনেকেই বিয়ের ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। অথবা বেশ আক্ষেপ করেও বলেন যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাবা মা বিয়ে দিচ্ছে না কিংবা তার মনের ইচ্ছা বুঝতে চাইছে না। কিন্তু যখন সত্যিকার জীবনে বিয়ের বয়স হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের প্রতি দেখা দেয় অনীহা। শুধু তাই নয়, দেখা যায় যে অনেক দিনের প্রেম থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ককে বিয়ের নাম দিতে ভয় পাচ্ছেন তারা। বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন রকম ভয় সৃষ্টি হয়ে আছে পুরুষ মনে। বিয়ের জন্য যেন নিজেকে কোনো ভাবেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে উঠতে পারেন না তারা। ব্যাপারটা শুনতে মজার মনে হলেও আসলে মোটেই মজার নয়। বিয়ে সম্পর্কে কিছু অকারণ ভীতির কারণে অনেক পুরুষেরই জীবন একটা পর্যায়ে এসে থমকে গেছে। কিংবা ভালোবাসার মেয়েটির সাথে সম্পর্ক এগুচ্ছে না সামনের দিকে। আসুন, জেনে নেই সেই কারণ গুলো।

এক নারীতে তুষ্ট হতে না পারা:  আজকাল এমন অনেক পুরুষই আছেন, যাদের কাছে বিয়ে মানে হচ্ছে কেবলই একজন নারীর সাথে সারা জীবন কাটিয়ে দেয়া, সংসার বা জীবনে থিতু হওয়া তাদের জন্য জরুরী নয়। এবং এই ব্যাপারটি তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। এ ধরনের পুরুষেরা বহুগামী ও একজন নারীকে ভালোবেসে তার সাথে সংসার যাপন তাদের জন্য অসম্ভব একটি ব্যাপার। এরা মনে করেন বিয়ে মানেই তার বহুগামী জীবনের সকল আনন্দে একটা ছন্দপতন চলে আসবে। ফলে বিয়েকে রীতিমত আতংকের দৃষ্টিতে দেখেন তারা।

স্বাধীনতা হারানো: পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা হলো বিয়ে করা মানেই ব্যক্তি স্বাধীনতা হারানো। নিজের জন্য আলাদা ভাবে সময় দেয়া, যখন যেখানে খুশি যাওয়া, যা ইচ্ছে করা ইত্যাদি স্বাধীনতা হারানোর ভয়ে পুরুষরা বিয়ে করতে পিছু হটেন।

বাড়তি দায়িত্ব নেয়া: বিয়ে করা মানেই আরেকটি মানুষদের দায়িত্ব নেয়া। স্ত্রীর দেখাশোনা, খরচ, সঙ্গ দেয়া, সুবিধা অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখা ইত্যাদি দায়িত্ব নিতে হয় পুরুষকে। আর বিয়ের কিছুদিন পরেই সংসারে আসে নতুন অতিথি। তখন দায়িত্ব আরো বাড়ে। সেই সঙ্গে খরচ এবং চিন্তাও বাড়ে। তাই এক সাথে এতো দায়িত্ব নিতে স্বাভাবিক ভাবেই পুরুষরা ভয় পায় এবং বিয়ের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়।

বিয়ের খরচ: ইদানিং সময়ে বিয়ে মানেই অনেক বেশি চাকচিক্য ও বড় পরিসরের অনুষ্ঠানিকতা। দামী কাপড়, প্রচুর স্বর্ণালংকার, অনেক অতিথি, লাখ টাকা দিয়ে হল ভাড়া নেয়া, হানিমুনে দেশের বাইরে যাওয়া ইত্যাদি ছাড়া যেন সমাজে মুখ রাখাই দায় হয়ে গিয়েছে। আর সেই সঙ্গে আছে দামী ওয়েডিং ফটোগ্রাফারকে দিয়ে ছবি তুলিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোডের প্রতিযোগীতা। এতো এতো খরচ সামলাতে গিয়ে যে কোনো পুরুষকেই হিমসিম খেতে হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে স্বল্প বেতনের চাকরী করে এতো খরচ সামলানো অসম্ভব একটি ব্যাপার। আর তাই বিয়ের প্রতি ভয় ও অনীহা জন্মে যায়।

মা-বউয়ের ঝামেলা:  বিয়ে করে ঘরে বউ নিয়ে এলে অনেক পরিবারেই নানান রকম ঝামেলা দেখা যায়। কখনো বউ অন্যায় আচরণ করে, আবার কখনো নিজের মা বউয়ের প্রতি অন্যায় আচরণ করে। এই নিয়ে সংসারে শুরু হয় নানান রকম অশান্তি।  তার উপর পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সাথে নানান রকম মনোমালিন্য তো হয়েই থাকে অহরহ। আর এসব সমস্যার সমাধান করার দায়িত্বটা এসে পড়ে পুরুষটির ঘাড়েই। তাই এতো ঝামেলার কথা চিন্তা করেও বিয়ে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকেই।

স্ত্রীর প্রতারনার ভয়:  যেসব পুরুষরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাউকে প্রতারিত হতে দেখেছে কিংবা নিজে প্রেমের সম্পর্কে প্রতারিত হয়েছে তারা বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বরং তাদের মনে বিয়ে সম্পর্কে এক অজানা ভয় সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন বিয়ের পর স্ত্রী প্রতারণা করবে আর এই ভয়েই বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

বন্ধু হারানো: দিন ভর বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, রাত করে ঘরে ফেরা এই তো জীবন! কিন্তু বিয়ের পর জীবনটা কি এমন থাকে? আবার এমনও দেখা যায় যে এক বন্ধু বিয়ে করে সংসার পাতল কি পাতল না, অন্য বন্ধুরা তাকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা শুরু করে দেয়। অনেক বন্ধু মহলে বিবাহিত বন্ধুকে নিয়ে নানান রকম হাসি ঠাট্টাও হয় যা অনেকেই সহজ ভাবে নিতে পারেন না। সবমিলিয়ে বিয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেকেই।

বিয়ের কথা শুনে কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করাটাও স্বাভাবিক।  তবে এটা অতিরিক্ত পর্যায়ে গেলে সেটা মাসসিক ব্যাধিতে রুপ নেয়, এব্যাপারে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুনঃ  বিয়েতে ভয়, আপনার গ্যামোফোবিয়া তো নয়!

সুত্রঃ প্রিয় লাইফ