প্রাধান্য দিতে হবে ইতিবাচক আবেগ ও বিবেককে

আবেগ ও বিবেক ছোট ছোট দুটি শব্দ, কিন্তু এর পরিধি ব্যাপক। প্রত্যেক মানুষের জীবনে আবেগ ও বিবেক এ দুটি সত্তা কমবেশি বিরাজ করছে। আবেগের সংজ্ঞা দেওয়া খুব সহজ নয়। অনেকে আবেগকে অনুভূতির সমর্থক বলে ধরে নেয়। কিন্তু আবেগ মানসিক আর অনুভূতি শারীরিক ও মানসিক—দুটোই হয়ে থাকে। শারীরিকভাবে বলতে গেলে মসৃণ পেশি এবং বিভিন্ন গ্রন্থির কারণে শরীরের অন্তর্নিহিত পরিবর্তনই হলো আবেগ বা অনুভূতি। সামগ্রিকভাবে চেতনার যে অংশ অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত তাকে আবেগ বলা হয়। মানুষের অজান্তেই আবেগ তড়িত্ গতিতে প্রবেশ করে। আবেগ থাকতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত হওয়া জীবনের জন্য অমঙ্গল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনের শক্তি হিসেবে কাজ করে আবেগ। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা সম্মুখ সমর মোকাবিলার চেয়েও কঠিন। যে সব আবেগ মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখে তা হলো—অতিরিক্ত ভালোবাসা, হতাশা, রাগ, হিংসা বা ঈর্ষা, লোভ-লালসা ইত্যাদি। আবেগ কারো বেশি কারো কম। সবাই বোঝে, আবেগের বশীভূত হয়ে কোনো কাজ করা ঠিক নয়। তবু মানুষেরা আবেগকেই কাছে টেনে নেয়। এর মাধ্যমে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আবেগ থেকে অস্থিরতা বাড়ে যা মানসিক অশান্তিসহ ক্রোধের দিকে ধাবিত করে। যার শেষ পরিণাম অমঙ্গল বা নেতিবাচক।

নানা রকম মানুষের মধ্যে সুখ, ভয়-ভীতি, রাগ, দুঃখ-কষ্ট-বেদনাসহ অসংখ্য রকমের আবেগ বিদ্যমান। ‘মাটিভেশন অ্যান্ড ইমোশন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত বেলজিয়ামের লিউভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা মতে, মানুষের যে কোনো আবেগ অন্যান্য যে কোনো আবেগের চেয়ে দুঃখের আবেগ ২৪০গুণ বেশি সময় স্থায়ী হয়।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সবার এক নয়। জ্ঞানের পরিচয় দিয়ে এর আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ নারীদের আবেগ সম্পর্কে বলেছেন, ‘তরুণী মেয়েদের আবেগ হঠাত্ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না।’ (যখন নামিবে আঁঁধার [২০১২] : পৃষ্ঠা ৯-১০)। ব্যক্তিবিশেষে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যে ব্যক্তি যত বেশি বাস্তবতার মুখোমুখি সে তত বেশি সমস্যার সমাধান দিতে পারে। কারণ বাস্তবতার আলোকে বিবেক পরিচালিত হয়। আবেগ দিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আর বাস্তবতার নিরিখে বিবেক দিয়ে সমস্যার সমাধান ও সফলতার পথ বেশি। আবেগ কাজের দিকে ধাবিত করে আর বিবেক উপসংহারের দিকে ধাবিত করে। নিয়ন্ত্রিত আবেগ ও সুস্থ বিবেক সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। শুধু আবেগ দিয়ে সফলতা আসে না।

ভালো বই পড়া মানসিক অশান্তি ও হতাশা দূর করার চমত্কার পদ্ধতি। সঠিক সিদ্ধান্তের পথে সবচেয়ে বেশি বাধা দেয় অতিরিক্ত আবেগ। আবেগ সেখানে উত্তম যেখানে তার প্রয়োজন। আবেগ আমাদের পরম বন্ধু কখনো আবার পরম শত্রু। ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ধরনের আবেগ নিয়েই মানুষ বেড়ে ওঠে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হতে হলে বিবেকের মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

লিখেছেনঃ মুহাম্মদ আবদুল কাহহার, সুত্রঃ ইত্তেফাক