ডিজিটাল ডিটক্স

মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যেতে বসেছে সম্পর্কের ভাষা? তৈরি হচ্ছে কমিউনিকেশন গ্যাপ? সম্পর্কের চৌহদ্দি থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরিয়ে রাখুন প্রযুক্তিকে। বিশেষ আলোচনা।

ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল ফোন…আমাদের জীবনযাপনের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে এগুলো। কাজের জগতে এদের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না তা নিঃসন্দেহ। কিন্তু সেই কাজের জগৎ পেরিয়ে গ্যাজেট যখন ঢুকে পড়ে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, তখন সম্পর্কগুলোও গ্যাজেটের ভারে কিছুটা আড়াল হয়ে যায় বই কী! এমন অনেক দম্পতিই চোখে পড়ে যাঁরা হয়তো ঘটা করে ‘ডেট’-এ বেরিয়েছেন, বা সারাদিনের শেষে নিজেদের মতো করে একান্তে সময় কাটানোর ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু তাঁদের সেই মহার্ঘ্য একান্ত মুহূর্তেও তো বাধ সাধছে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ। পাশাপাশি বসে নিঃশব্দে দু’জনে কাজ করে যাচ্ছেন কম্পিউটারে। বা চ্যাট করে চলেছেন দুূরের কোনও বন্ধুর সঙ্গে। এ দৃশ্য মোটেও বিরল নয়! যন্ত্রের চাপে কোথাও স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে কথাবার্তা, প্রেমালাপ। অভ্যেসের বশে না চাইলেও হাত চলে যায় ফোনের দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনবরত স্ক্রোল করে চলেন আপনি।

ডিজিটাল দুনিয়া কোথাও বাস্তবের কমিউনেকশনের বিরোধী হয়ে গেলে সম্পর্কে কিছুটা প্রভাব তো পড়বেই। তাই, এ ধরনের ডিজিটাল জগতে বুঁদ হয়ে থাকা যুগলদের জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল ডিটক্সের। একে অপরের প্রতি আকর্ষণ যেন প্রযুক্তির কারণে হারিয়ে না যায়, তাই এই প্রচেষ্টা। প্রথমেই আপনার সঙ্গীর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ কমিয়ে দিন। তাঁকে ফ্রেন্ড লিস্টে রাখতে পারেন। তবে সামনাসামনি কথা না বলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যাট করার কোনও অর্থ নেই! একে অপরের ছবিতে লাইক বা কমেন্টসও যথাসম্ভব কমিয়ে দিন। ধীরে ধীরে দেখবেন এটি আপনার অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গেছে। বাড়িতে কোনও বিষয় নিয়ে মন কষাকষি হলে আলোচনার মাধ্যমেই তা সমাধান করুন। মোবাইলে চ্যাটিং অ্যাপে ঝগড়া করবেন না। নিজেদের জন্য রোজ কিছুটা সময় বার করুন।

ওই নির্দিষ্ট সময়টুকুতে মোবাইল সাইলেন্ট মোডে দিয়ে রাখতে পারেন। খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনও ফোন না এলে বাকি ফোন ধরারই প্রয়োজন নেই। সাধারণত বেশিরভাগ দম্পতিই সারাদিন কাজের শেষে রাতে কিছুটা অবসর পান। কিন্তু রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ল্যাপটপ বা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটিতে ব্যস্ত থাকায় সেই অবসরটুকুও কাজে লাগে না। এই সময়টুকু অন্তত চেষ্টা করুন প্রযুক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখতে। কমিউনিকেশন যে কোনও সম্পর্কের মূল ভিত্তি। কোথাও বেড়াতে গেলে কয়েকদিন অন্তত মোবাইলের ব্যবহার কমান। ক’দিন পরেই তো আবার সেই চেনা জগতে ফিরতে হবে। তার আগের সময়টুকু না হয় নিজেদের মতো করেই কাটালেন। তবে এই ডিটক্স পিরিয়ড কতদিন চলবে, তা নির্ভর করবে আপনাদের উপরেই। প্রথম প্রথম ডিজিটাল জগৎকে একেবারে দূরে সরিয়ে রাখতে না পারলে ল্যাপটপে একসঙ্গে কোনও সিনেমা দেখুন। বা মোবাইলে একসঙ্গে গান শুনুন। সুত্রঃ সানন্দা

নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে ও বংশগত রোগের ঝুঁকি

বিশ্বব্যাপী প্রায় এক বিলিয়ন জনগোষ্ঠীতে নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিবাহের চল রয়েছে, যেখানে প্রতি তিনটি বিয়ের একটি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মধ্যে হয়ে থাকে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, ইরান ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিকটাত্মীয়ের মধ্যে এ ধরনের বিয়ে বেশি ঘটে। এসব বিয়ে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বেশি হয়, তাতে বাল্যবিবাহের আধিক্যও বেশি।

প্রথম পর্যায়ের বা ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভ মানে আপন চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে। আর দ্বিতীয় বা সেকেন্ড ডিগ্রি রিলেটিভ মানে বাবা বা মায়ের চাচাতো, মামাতো, খালাতো বা ফুফাতো ভাইবোনের সন্তানদের মধ্যে বিয়ে। এই দুই ধরনের কাজিন ম্যারেজের কারণে জন্ম নেওয়া সন্তানের মধ্যে নানা বংশগত রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। বিশেষত জিনবাহিত বংশধারার রোগগুলোর প্রকোপ এতে বাড়ে।

অসুস্থ জিনগুলোর কার্বন কপি যখন মা-বাবা দুই বাহক থেকে সন্তানে বাহিত হয়, তখন তা তীব্র আকারে প্রকাশ পায়। নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের কারণে সন্তানের যেসব ঝুঁকি বাড়ে তা হলো:

১. গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব
২. শারীরিক ত্রুটিসংবলিত শিশুর জন্ম স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হয়
৩. প্রথম বছর বয়সে শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু
৪. হঠাৎ অজানা কারণে শিশুমৃত্যু
৫. যথাযথভাবে শিশু বৃদ্ধি না হওয়া
৬. শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা
৭. মৃগী রোগ
৮. অজানা রোগ
৯. নানা রকমের রক্তরোগ যেমন সিকেল সেল ডিজিজ ও বিটা থ্যালাসেমিয়া।

বাংলাদেশে এমনিতেই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক বেশি, হিমোগ্লোবিন ই ডিজিজের বাহকও কম নয়। নিকটাত্মীয়ের বিয়েতে এ ধরনের রোগ নিয়ে সন্তান জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
যেসব পরিবারে জন্মগত বিভিন্ন রোগের ইতিহাস আছে, সেখানে আত্মীয় বিয়ের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিত। সুত্রঃ প্রথম আলো

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নারীর ওপুরুষের আবেগের ভিন্নতা

ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি নিঃসঙ্গতায় ভোগেন

চার দেয়ালের মধ্যে কেউ একা আবার কেউ চারিদিকে শত কোলাহলের মধ্যেও একা। কেউ সবার থেকে দূরে থেকে একা আবার কেউ হাজার পাওয়ার ভিড়েও একা। মানুষের এই একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা একটি জটিল প্রক্রিয়া। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, নিঃসঙ্গতা মানেই একা সম্পর্ক বা একা একা হয়ে যাওয়া নয়, বরং এটি মনের এমন একটি একা উপলদ্বি যা আমাদের মনকে বাইরের সব কিছু থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই একাকীত্ব বা নিঃসঙ্গতা যে কোন বয়সের মানুষকে গ্রাস করতে পারে। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিশোর বা তরুণদের চেয়ে কিশোরী বা তরুণীদের মধ্যে একাকীত্বে ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ‘অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস’ এর জরিপে উঠে এসেছে, ব্রিটেনের প্রতি দশজন তরুণ বয়সীর একজন একাকীত্বে ভোগেন। গবেষণা অনুযায়ী, একাকীত্বকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে ধরে নেয়া হয় বলে তরুণ বয়সীরা এটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মনে করে। অনেক তরুণই নিজের একাকীত্বকে লুকানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নেয় এবং ভালো থাকার অভিনয় করে।

পরিসংখ্যান সংস্থাটির মতে, ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের শতকরা ১১ ভাগ প্রায়শ:ই নিঃসঙ্গ বোধ করে এবং শতকরা ৩৪ ভাগ মাঝেমধ্যে নিঃসঙ্গ বোধ করে। আর একাকীত্বে ভুগতে থাকা এই তরুণ বয়সীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। কী কারণে মানুষের মধ্যে একাকীত্ব বোধ তৈরি হয় – সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে এই গবেষণায়।

গবেষণা অনুযায়ী, একাকীত্বে ভোগার অন্যতম প্রধান কারণ কিশোর ও তরুণ বয়সের বয়:সন্ধির সময়কালীন বিভিন্ন পরিবর্তন। প্রাথমিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুলে ওঠার সময়, মাধ্যমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ওঠার সময় এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় নিঃসঙ্গতা বোধ করার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট শহর বা গ্রামে বাস করা তরুণদের চেয়ে শহরে বেড়ে ওঠা তরুণদের নিঃসঙ্গতায় ভোগার প্রবণতা বেশি। এছাড়া আর্থিকভাবে অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল পরিবারের তরুণদের একাকী বোধ করার আশঙ্কা বেশি থাকে। অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, প্রিয়জনের মৃত্যু বা অপমানের শিকার হলেও একাকীত্ব বোধ তৈরি হয়। আর সমাজের মানুষের কাছে একাকী হিসেবে পরিচিত হতে চাওয়ার ভয়ও মানুষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার জালে আটকে ফেলে।

সমাজের মানুষের কাছ নিঃসঙ্গ হিসেবে পরিচিত হওয়া বিব্রতকর একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর ফলে মানুষ ঐ ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে অনাকর্ষণীয় বা মানুষের অপছন্দের চরিত্র হিসেবে মনে করতে পারে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগের অন্যতম একটি উপায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু অনেকেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নেয় নিজের একাকীত্ব লুকানোর মাধ্যম হিসেবে। গবেষণার অংশ নেয়া অনেকের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকৃত বন্ধুত্ব নয় বরং সৌজন্যমূলক বাক্যালাপ হয়ে থাকে।

যার ফলে নিজেদের অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে তরুণ বয়সীরা। এবছরে একাকীত্ব নিয়ে বিবিসি বিবিসি পরিচালিত এক জরিপে সারা পৃথিবী থেকে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয় এবং জরিপে অংশ নেয়া ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের শতকরা ৪০ ভাগ প্রায়:শ বা প্রতিনিয়তই নিঃসঙ্গ বোধ করে। সুত্রঃ বিবিসি, ইত্তেফাক

উপযুক্ত সঙ্গী বাছাই করুন ভেবে চিন্তে আবেগে নয়!

ভালো খারাপ সব মিলিয়েই মানুষ। তবে সঙ্গী নির্বাচনে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। এসব গুণ সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। কখন কাকে ভালো লাগবে বা কার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠবে তা আগে থেকে বলা যায় না। তবে কাউকে ভালোলাগলেই তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে বরং কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। সম্পর্ক-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত সেগুলো এখানে জানানো হল।

মানসিক পরিপক্কতা: ‘নো ওয়ান ইজ পারফেক্ট’। একদম নিখুঁত মানুষ খুঁজতে গিয়ে আপনি নিজেই হতাশ হয়ে পড়বেন। তাই নিখুঁত মানুষ না খুঁজে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং তা সাদরে গ্রহণ করতে পারে এমন মানসিক পরিপক্কতা সম্পন্ন সঙ্গী খুঁজে বের করুন। যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এবং সম্পর্ককে মানসিকভাবে গুরুত্ব দিতে পিছপা হয় না। এমন মানুষই উপযুক্ত সঙ্গী।

সততা: সত্য কথা অনেক সময় কষ্ট দিতে পারে। সম্পর্কে সৎ থাকাটা খুব জরুরি। যখন তখন মিথ্যা বলে এমন মানুষের চেয়ে যে আপনার সঙ্গে সবসময় সত্য কথা বলে এমন মানুষকেই সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করা ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে সৎ নয় এবং যাদের বন্ধন দুর্বল তারা একে অপরের সঙ্গে মিথ্যা বলে।

সংবেদনশীল: যার সঙ্গে জীবনের অনেকটা সময় কাটাতে চান তাকে অবশ্যই আপনার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। আপনার প্রয়োজন, অনুভূতি সব কিছুর প্রতিই সংবেদনশীল হতে হবে। আপনার প্রতি মনোযোগ নেই এমন মানুষের সঙ্গে বাকিটা জীবন কাটানোর চিন্তা করবেন না। সম্পর্ক উন্নয়নে পুরুষের ক্ষেত্রে এটা দুর্লভ এবং অসাধারণ একটা গুণ।

অনুরক্ততা: জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া সম্পর্ক রক্ষার একটা পথ। এতে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক আকর্ষণ সম্পর্কের জন্য জরুরি। তাই এমন মানুষ খুঁজে বের করুন, যে নির্দ্বিধায় আপনার প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে।

সম্মান করা: সঙ্গীকে সম্মান করা সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে। এমন সঙ্গী নির্বাচন করুন, যে আপনাকে মানুষ হিসেবে এবং মতামত ও কর্মজীবনকে শ্রদ্ধা করে। পাশাপাশি আপনি যেভাবে জীবনযাপন করছেন সেটা নিয়ে যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে।

জীবন একটা উপহার যারা বুঝে তারাই সুখী!

জীবন একটা উপহার।  কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে কতোজন জীবনকে এভাবে দেখেন? সংখ্যাটা খুব কম। যারা জীবনকে একটা উপহার হিসেবে ভাবতে পারেন তারাই প্রকৃত সুখী। আমরা যখন কোনো উপহার পাই তখন কী করি? খুব যত্ন করে রাখি উপহারটা, তাই তো? তাহলে জীবনের বেলায় কী করা উচিত? যে উপহারটা আর কখনো পাবো না সেটাকে তো সবটুকু চেষ্টা দিয়ে ভালো রাখার চেষ্টা করা উচিত।

লালনফকির আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এমন মানবজনম আর কি হবে?’ না, প্রিয় পাঠক, এই জীবন আর ফিরে আসবে না। তাই মনীষীগণ এই জীবনের সর্বোত্তম ব্যবহারের উপর বারবার গুরুত্বারোপ করে গেছেন। আমরা বেশিরভাগ মানুষই জানি না কী করে এর সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হয়। কী করে জীবনের অসুখগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন আনতে হয়। তাই এই মূল্যবান জীবনের নির্মম অপচয় ঘটে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। জীবনের অসুখগুলো চিনে নিয়ে প্রতিরোধ করা গেলে একটা অনিন্দ্য যাপন খুবই সম্ভব।

সময় বয়ে যায়ঃ

‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না’, কথাটি সবাই জানি। কিন্তু মানি কয়জন? সময় খুব দ্রুত চলে যায়, দিনগুলো বছরে পরিণত হয়। আমরা সর্বদা গন্তব্য নিয়ে ভাবি। কিন্তু কোত্থেকে শুরু করতে হবে সেটাই ভুলে যাই। শুরু না করলে তো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অতীত আর ভবিষ্যতকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে বঞ্চিত করা হয় বর্তমানকে। একটু সময় নিয়ে ভাবুন, বর্তমানই সত্য। এই একটুখানি সময়ই হয়তো বদলে দেবে আপনার জীবন বদলে দেবে।

সুখ নামের অচিন পাখিঃ

প্রতিদিন ভুল করার অসংখ্য সুযোগ আসে।চারিদিকে বিভিন্ন ভাঁওতাবাজির খপ্পড়ে পড়ে আমরা প্রায়শই ভুল করে থাকি। আপনার বাইরের পরিবেশকে যদি প্রধান করে তোলেন তাহলে সুখপাখি কখনো আপনার কাছে ধরা দেবে না। নিজের ভিতরে ডুব দিয়ে দেখুন সুখ আছে সেখানেই। কেবল চিনে নেয়ার অপেক্ষা। যদি আপনি সুখ খুঁজে না নিতে পারেন তবে আপনি নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত হতে পারবেন না। সুখ একটি পরিচর্যার বিষয় যা বেশিরভাগ মানুষই জানে না।

সবাই নেশাগ্রস্থঃ

আমরা প্রায় সবাই কোনো না কোনো নেশায় আসক্ত। আমরা কেবল চাই আর চাই। ভাবি বুঝি বেশি জিনিস ভোগ করলে বেশি সুখ পাওয়া যাবে। বাজে নেশাগুলো যে অসুখের আরও গভীরে নিয়ে যায় তা বুঝি না। কেমন হয় যদি বাজে নেশাগুলোকে ভালো নেশাগুলো দিয়ে পাল্টে দেয়া যায়?

ভুলে যাওয়াঃ

আপনি যদি এই লেখাটি পড়তে পারেন তাহলে ধরা যাবে যে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন। মানে আপনি অন্যদের তুলনায় ভাগ্যবান।কারণ আপনি তথ্যগুলো জানতে পারছেন। তবে এটা ভেবে খুশি হওয়ার কারণ নেই যে নিজেকে না জেনে আপনি অনেক পাণ্ডিত্য অর্জন করলেই সুখী হতে পারবেন। নিজেকে ভাগ্যবান ভাবুন জীবন আপনাকে কতো সুযোগ দিয়েছে তাই ভেবে।

সমস্যাগুলো গুরুতর নয়ঃ

আমরা কতো ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে মন খারাপ করে থাকি। হয়তো আপনি এই মুহূর্তে কোনো একটি কাজ না করতে পারার জন্য মেজাজ খারাপ করে আছেন। কিন্তু একবারও ভেবেছেন যে এই পৃথিবীর সমস্যাগুলোর কাছে আপনার সমস্যা কতো তুচ্ছ? বৈষ্ণিক উষ্ণতা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, এইডস্, ক্যান্সারের মতো সমস্যাগুলো নিয়ে পৃথিবী চলছে অনায়াসেই। সুতরাং নিজের সমস্যাগুলোকে বড় করে না দেখে পৃথিবীর সমস্যাগুলো নিরসনে নিজের অঙ্গীকার নিশ্চিত করুন।

কৃতজ্ঞতাঃ

‘ধন্যবাদ’ শব্দটা কতোটুকু পছন্দ করি আমরা? প্রতিদিন কতোবার উচ্চারণ করি? কতোবার কৃতজ্ঞ হই? জীবনের কাছ থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করা উচিত নয়, যদি না কৃতজ্ঞতা থাকে। ‘ধন্যবাদ’ শব্দটি মনে করিয়ে দেবে আপনি কতোটা ভাগ্যবান। প্রকৃতির নিয়মই হলো যা পাবে তা শতোগুণে ফিরিয়ে দেবে। এবার ভাবুন সমৃদ্ধি চান না নিঃস্বতা!

ভুলে যাওয়া ভালোবাসাঃ

আমরা কতোটা স্বার্থপর ভেবে দেখুন। সবসময় কেবল নিজের কথাই চিন্তা করি। সারাক্ষণ অভিযোগ করতে থাকি যে কেউ ভালোবাসে না,যত্ন নেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। ভুলে যাই প্রতিনিয়ত ভালোবাসায় ঋদ্ধ হচ্ছি। বাবা-মা, বন্ধু, সঙ্গী, সহকর্মী, এমনকি সেই দোকানদার যার কাছ থেকে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়। ভালোবাসা না পেলে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তা যেখান থেকেই আসুক না কেনো। তাই এটা কখনোই ভুলে যাওয়া সমীচীন নয়। তাহলে ভালোবাসাও আপনাকে ভুলে যাবে অচিরেই।

সম্ভাবনাঃ

প্রতিটি মানুষ সম্ভাবনাময়। সবাই মিলে সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। এভাবে দক্ষতাও অর্জন করা যায়। চারিদিকে এত প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদেরকে কতো নিঃস্ব ভাবি! কেউ কারও সম্ভাবনা খুঁজে দেয় না, নিজেরটা আবিষ্কার করতে হয় নিজেকেই। তাই নিজের সাথে থাকা উচিত সবচেয়ে ভালো বোঝাপড়া। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমই সম্ভাবনাকে সফলতায় পরিণত করে।

একটি সঠিক সিদ্ধান্তঃ

একটি সঠিক সিদ্ধান্ত জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। এটি সাহায্য করবে অহেতুক দ্বিধা। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত করে দেবে আপনার জীবন। এটি সবসময়ই সঠিক যদি আত্মবিশ্বাস থাকে। এটি আপনার জন্য অপেক্ষমান সেরা উপহারটি এনে দেবে আপনার কাছে।

বাদ পড়া কষ্টময়ঃ

বাদ পড়া মেনে নেয়া যায় না। মেনে নেয়া যায় না ‘না’ শব্দটি। ভেবে দেখুন সাফল্যগুকে কতোগুলো ‘না’ কে পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছুতে হয়। এটাকে একটা ইঙ্গিত হিসেবে দেখুন। এখন যে ‘না’ টি শুনছেন সেটা সামনের কোনো সাফল্য বয়ে আনবে। সুতরাং একে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পরাজিতরা হাল ছেড়ে দেয়, জয়ীরা নয়। প্রতিটা বিষয় থেকে শেখার আছে। বাদ পড়াটাও তেমন একটা শিক্ষা যদি আপনি শিখতে পারেন।

দুর্ঘটনার ভয়ঃ

দুর্ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। তবে সুখী জীবনের জন্য এটা খুব দরকার।  প্রত্যেকের জীবনেই দুর্ঘটনা ঘটে।  এটি জীবনেরই একটা অংশ। জীবনকে সহজভাবে দেখলে সহজ লাগবে, আর কঠিনভাবে দেখলে কঠিন। দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরী। নিচের কাজগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে-

– মেডিটেশন
– মানসিক চাপকে উপেক্ষা
– কৃতজ্ঞতা
– ভালো মানুষ হওয়া
– মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো

জীবনের অসুখগুলোকে চিনতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু যদি না চেনা যায় তবে? একটু একটু করে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই থাকবে না। অসুখগুলোকে সুখে পরিণত করার চাবিকাঠি আপনার হাতেই। আপনিই নির্ধারণ করবেন সুখের গুরুত্ব।

৯০ ভাগ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী ৪ টি মানবীয় আচরণ

সব দম্পতিদের মাঝেই কিছু না কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং খুব স্বাভাবিক নিয়মেই তা আবার সমাধানও হয়ে যায়।  কিন্তু কিছু সমস্যা যখন প্রচন্ড তীব্রতায় পৌছে যায় তখন দাম্পত্ব্য ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়।  এক্ষেত্রে ৯০ ভাগ বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দায়ী মানুষের কিছু মানবীয় আচরণ। মূলত ৪ টি আচরণকে বিশেষ ভাবে দায়ী করা হয় আর সেগুলো হলো  –

অভিযোগ করা: কিছু কিছু মানুষ আছে কারনে অকারনে তারা শুধু অভিযোগ করতে থাকে, এটা খুব খারাপ একটা স্বভাব।  এই ধরনের আচরণের কারনে দাম্পত্য কলহ ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ। কোন বিষয়ে সম্পূর্ণ না জেনে কারো উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়াটা একটি অন্যায়। বিচ্ছেদ এড়াতে না জেনে সঙ্গীকে কোনো অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

বদমেজাজ: মানসিক চাপের মুখে হয় মানুষ ভেঙ্গে পড়ে না হয় চড়ে ওঠে।  যারা খুব সহজে তাদের আবেগ দ্বারা তাড়িৎ হয় তারা সহজে রেগে যায়।  যে সব মানুষ খুব বেশী রেগে যায় বা কথায় কথায় রেগে যায়, তারা খুব সহজে যেকোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেনা।  আর বিবাহ বিচ্ছেদের মত  সিদ্ধান্ত নেয়ার অন্যতম একটি কারন হচ্ছে বদমেজাজ।  বিচ্ছেদ এড়াতে মেজাজ নিয়ন্ত্রনে রাখার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাগ করে খুব দ্রুত কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবেনা,  রাগের মাথায় গুরুত্বপূর্ন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া কখনোই সঠিক না।

অযোগ্য মনে করা: প্রতিটা মানুষ ভিন্ন মানবীয় বৈশিষ্ট্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, দাম্পত্য জীবনে যদি এক সঙ্গী অন্য সঙ্গীকে তার অযোগ্য বলে মনে করেন তবে সে তার সঙ্গীকে অপমান করছে। এই ধরনের আচরনের কারনে সঙ্গীর মনে গভীর দাগ কাটে, খুব কষ্ট পেতে থাকে মনে মনে।  কোন মানুষের উচিৎ না এরকম আচরণ করা, কারো মনে কষ্ট দেওয়া।  এরকম আচরনের কারনে ভেঙ্গে যায় অনেক সংসার। বিচ্ছেদ এড়াতে আমাদের উচিৎ হবে আমাদের মন মানসিকতার উন্নয়ন করা। সঙ্গীকে তার প্রাপ্ত সঠিক মর্যাদা দেওয়া।

একাত্মতার অভাব: সুখি দাম্পত্যের পিছনে যে বিষয়টি বেশী কাজে লাগে, সেটি হচ্ছে এক মত হওয়া।  যে সকল দম্পতিরা বেশীর ভাগ বিষয়ে একমত প্রকাশ করে তাদের মধ্যে সম্পর্কটা হয় চমৎকার। বিপরীত হলে সহজে ভেঙ্গে যায় সম্পর্ক।  বিচ্ছেদ এড়াতে আমাদেরকে এই আচরণগুলো অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

দাম্পত্য জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণে একাত্মতা আনতে হবে। বিচ্ছেদের হাজারো কারন হতে পারে তবে আচরণগত যে কারন গুলো রয়েছে সেগুলো আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সম্পর্কের বিষাক্ততা এড়াতে সবাইকে আচরণে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।  আপনি আপনার সম্পর্কটাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তা নির্ভর করে আপনার নিজের উপর।  যত্ন করলে সম্পর্ক কখনো ভেঙ্গে যায় না।  তাই আসুন আমরা আমাদের সম্পর্কে যত্নশীল হই।  যার কোন বিকল্প নেই।

ভালোবেসে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুরুষ মনস্তত্ব

প্রকৃতির নিয়মে দুজন মানুষ ভালোবেসে সারা জীবন এক সাথে থাকতে চায়, নানা প্রতিকূল কারনে এই ভালোবাসার সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।  আলাদা হয়ে যায় ভালোবাসার মানুষ দুজনের পৃথিবীটা।  বিচ্ছেদের কারনে সমস্যায় পড়তে হয় দুজনকে, সাথে তাদের সন্তাদেরকেও।  ভালোবাসার বিয়ের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন একটা কাজ।বিচ্ছেদের কারনে ভালোবাসা গুলো ধীরে ধীরে মিথ্যা হতে থাকে।  মনের ভেতর অস্থিরতা বেড়ে যায়, না যায় ভালোবাসার মানুষটার সাথে থাকা, না যায় দূরে থাকা, এ এক বিচিত্র অনুভূতি। একজন পুরুষও বিবাহ বিচ্ছেদের কারনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়।  সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন সমস্যা তাদেরকে মোকাবেলা করতে হয়।  এই সমস্যা গুলোর কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।

১।  বিচ্ছেদ হওয়ার পরেও মন থেকে প্রাক্তন স্ত্রীকে সহজে ভুলতে পারেনা, কারণ একটা সময় ছিলো তাকে ছাড়া সে থাকতে পারতো না।  স্মৃতি দ্বারা তাড়িত হতে থাকে সারাক্ষণ।

২।  দৈনন্দিন জীবন যাপনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বেশীর ভাগ পুরুষ বিয়ের আগে মা ও বিয়ের পরে স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল থাকে, বিচ্ছেদের ফলে তাকে পড়তে হয় চরম সমস্যায় ।

৩।  প্রাকৃতিক ভাবে মানুষের শারীরিক কিছু চাহিদা থাকে, চিকিৎসাবিদ্যায় উল্লেখ আছে পুরুষদের শারীরিক চাহিদা পূরণ না হলে বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধায় পড়তে হয়, এতে মানুষিক চাপ বাড়ে, অসুবিধা গুলো মেয়েদের তুলনাই ছেলেদের বেশী হয়।  বিচ্ছেদের কারনে এ বিষয়ে পুরুষরা অনেক অসুবিধা ভোগ করে।

৪।  যখন একটা পরিবারের মধ্যে মানুষ থাকে তখন তার জীবন যাপনটা থাকে সুশৃঙ্খল কিন্তু বিচ্ছেদের কারনে এটা ব্যহত হয়।  বিশেষ করে পুরুষদের।

৫।  বিচ্ছেদের কারনে যাদের সন্তান আছে সে সকল বাবাদের অনেক কষ্ট সহ্য কতে হয়।  যদি সন্তান বাবার কাছে থাকে তবে, বাচ্চার যত্ন নেওয়া, অফিস করা, সব মিলিয়ে বাবারা চরম বিপদে পড়ে ।

৬।  বিচ্ছেদের পর ছেলেরা বন্ধু মহলে সহজ ভাবে মিশতে পারে না।  মানুষিক ভাবে নিজেকে ছোট বোধ করে।

৭। ভালোবেসে বিয়ে করে বিচ্ছেদ হলে, ছেলেদেরকেও পরিবারের সদস্য দ্বারা নানা ভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়।  মানুষিক ও মনের চাপ বেড়ে যায়।

৮।  ভালোবাসার স্মৃতি সহজে ভুলে থাকা যায়না ফলে বিচ্ছেদের পরে নতুন সম্পর্কে জড়াতে ছেলেদের অনেক সময় খুব কঠিন মনে হয়।  মানুষের জীবন চক্রটা অনেক বিচিত্র, অনেক সময় অনেক সিদ্ধান্ত মনের বিরুদ্ধে গ্রহণ করতে হয়।

ছেলেরা যে গুন গুলো রূপ থেকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

প্রতিটা মেয়ে তার সঙ্গীর মনের রানী হয়ে থাকতে চায়, অনেকের ধারনা ছেলেরা সুন্দর চেহারার মেয়েদেরকে বেশি পছন্দ করে, ধারনাটি সম্পূর্ণ ঠিক না। বেশির ভাগ ছেলেরা মেয়েদের রূপে নয় গুণে মুগ্ধ হয়। সকল মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনি কোন শো-পিস না, আচারনগত গুন আপনার আসল সৌন্দর্য। মেয়েদের যে আচরণ গুলো তার সঙ্গীর মনে দৃঢ় অবস্থান সৃষ্টি করে, সে চমৎকার বিষয় গুলো তুলে ধরা হলোঃ

জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা: আমাদের জীবনে ভালো সময় যেমন আসে, খারাপ সময় তেমনি আসে। ভালো সময়ে সবাই পাশে থাকে, কিন্তু খারাপ সময় কেউ থাকেনা। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর কঠিন সময়টাতে তার পাশে থাকেন তবে কঠিন সময়টা কিছুটা হলেও সহজ মনে হবে।

বিশ্বাসের মর্যাদা: পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্ক সম্পূর্ণ হয়না। আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি তখনি বেশী আশ্বস্থ হবে যখন আপনি তার বিশ্বাস ভাঙতে দেবেন না। কখনো এমন কোন ভুল কাজ করবেন না যেটার প্রভাব আপনাদের সম্পর্কের উপর পড়ে। আপনার প্রতি আপনার সঙ্গীর যে বিশ্বাস আছে তার মর্যাদা অক্ষুন্য রাখুন।

ভাষার মিষ্টতা: মানুষ তার মুখের ভালো ভাষা দিয়ে যে কারো মন জয় করতে পারে। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলার সময় মিষ্টি করে কথা বলেন তাহলে আপনার জন্য তার মনে গভীর স্থান তৈরি হবে। ছেলেরা তার সঙ্গীর মধ্যে এধরনের গুণ আশা করে।

সঙ্গীর জীবনের লক্ষ্যকে নিজের মনে করা: কথায় আছে প্রত্যেক সফল পুরুষের পেছনে একজন নারী থাকে।আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে তার সাফল্য অর্জনের পথে থাকেন তবে মনে রাখবেন আপনি হবেন তার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ।

আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার সময় মনোবলের যোগান: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, প্রতিটি ছেলে শিক্ষাজীবন পার করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে চাকরি বা ব্যবসা শুরু করে, তবে পথটা এত সহজ না। আপনি যদি এই কঠিন সময়টাতে তার পাশে থেকে উৎসাহিত করেন তবে আপনি সঙ্গী হিসাবে আদর্শ।

মানুষ তার আচারনকে পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু চেহারা পরিবর্তন করতে পারেনা। আমাদের উচিৎ সঙ্গীর সাথে সব সময় সৎ আচারন করা।

‘উই টক’ চর্চায় বাড়বে সম্পর্কের সুস্থতা

দুজন ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক ভাবে এক হলেই কোন সম্পর্কের সুচনা হয় ।বিবাহিত দম্পতি অথবা প্রেমিক যুগল সব ক্ষেত্রে সম্পর্কের সুস্থতা না থাকলে সম্পর্কে ধরতে পারে ফাটল।  সম্পর্ক সুস্থ রাখতে অনেক বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় এবং অনেক বিষয় চর্চা করতে হয়, তবেই সম্পর্ক হয় মধুর।  গবেষণায় দেখা যায় যে ‘আমি’ ও ‘তুমি’ এই শব্দের পরিবর্তে যদি ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় তবে অনেক সমস্যার সমাধান আপনা আপনি হয়ে যায়।

‘আমি’ ও ‘তুমি’ এই শব্দের পরিবর্তে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করাকে ‘উই টক’ বলে।  ‘উই টক’ এর অনুশীলন বৃদ্ধি করলে সম্পর্কের মনযোগটা ও বৃদ্ধি পায়।  ৫,৩০০০ মানুষের উপর ত্রিশটি পরীক্ষা চালিয়ে এই গবেষণা দাঁড় করানো হয়।  এর মাঝে অর্ধেক প্রেমিক প্রেমিকা এবং বাকি অর্ধেক বিবাহিত ছিলেন।  এই গবেষণায় যে তথ্য গুলোর উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয় তা হলো- তাদের সম্পর্ক, আচারন, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য এবং তারা একে অন্যের প্রতি কতটা যত্নশীল ।

গবেষনায় অংশগ্রহণকারীরা সকলে স্বীকার করেছে যে ‘উই টক’ তাদের কাজে লেগেছে এবং উপকৃত হয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে, জীবন সঙ্গীর প্রভাব বিদ্যমান। এ প্রভাব দেখা যায় আমাদের কাজে, চিন্তায় ও আচারনে।  ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্স থিওরি’ দ্বারা এই প্রভাবকে বোঝানো হয়।  এই থিওরি অনুসারে, বিপদের সময় সেই সকল দম্পতিরা সফল হয় যারা একে অন্যের প্রতি ভালো চিন্তা ও কাজ করে এবং যত্নশীল হয়।  কোন কাজ সঙ্গীরা আমি করছি, না বলে আমরা করছি এবং আমরা কোন সমস্যার সমাধান করছি, এধরণের কথাটা বলা বেশী উপকারী।

দম্পতিদের মধ্যে ভরসার স্থান তখন বেশী হয়, যখন ‘আমরা’ ও ‘আমাদের’ শব্দগুলো বেশী ব্যবহৃত হয়।যে কোন সমস্যার সমাধান করা উভয়ের সমান দায়িত্ব, একসাথে মিলে সব দায়িত্ব পালন করতে হবে।।  কোন কোন ক্ষেত্রে ‘উই টক’ হিতে বিপরীত হতে পারে।  অনেক সময় সঙ্গীরা একে অন্যের বদ অভ্যাস রপ্ত করে ফেলতে পারে।  আবার অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের সুস্থতা বিবেচনায় সঙ্গীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা মূল্যায়ণ করতে হবে।  যেকোন সম্পর্ক, সেটা দাম্পত্য কিংবা ভালোবাসার যুগল হক, দুজনকে এক হয়ে সকল বিপদ মোকাবেলা করতে হবে।  তাহলেই সম্পর্ক হবে সার্থক।