ছোট নীড়েই আনন্দ

বাড়িটা ছোট।  ঘরগুলোও তেমন খোলামেলা নয়। দুটো শোবার ঘর, খাওয়ার ঘর, বসার ঘর, রান্নাঘর আর এক চিলতে বারান্দা।নতুন দম্পতিদের সংসার শুরু হয় সাধারণত এ রকম বাড়ি বা ফ্ল্যাট দিয়েই। ঘর সাজানোর বাজেটও সাধারণত সীমিত হয়। পছন্দ হলেই কিছু কিনে ফেলা যায় না। সঞ্চয় করে প্রয়োজনীয় আসবাবগুলো কেনা হয় একটু একটু করে। তবে ভালোবাসা আর রুচির স্পর্শে এই ছোট্ট নীড়েই গুছিয়ে তুলতে পারেন আপনার সংসার। বিয়ের মৌসুম শেষ হলো মাত্র। এবার সংসার শুরু করার পালা। অনেকেই বিয়ের পর স্বতন্ত্রভাবে সংসার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। উল্টোটাও হয়। যেটাই হোক নতুন বাসস্থানটি সাজানো নিয়ে ভালো লাগা থাকে দুজনের মধ্যেই। মাত্র সংসার শুরু করেছেন রাহানুমা হারুন। পুরোপুরি এখনো বাড়ি গুছিয়ে তুলতে পারেননি। সকালে স্বামী-স্ত্রী দুজনই ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে সন্ধ্যার পরই কেনাকাটা শুরু হয়। ‘কেনাকাটার তালিকায় প্রথমেই আছে খাট, আয়না, খাওয়ার টেবিল, সোফা। এরপর কিনব ফ্রিজ। উপহার হিসেবে অনেক বাসনকোসন পেয়েছি। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া এখন এগুলো আর কিনব না। তবে সবকিছুর শুরুতে প্রথমেই দুজনের পরিকল্পনা করে নেওয়াটা জরুরি’, বলেন রাহানুমা হারুন।

খোলামেলা পরিবেশ:
ছোট ঘর, শুনলেই মন খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছে করে চারপাশের দেয়ালটাকে আরেকটু সরিয়ে দিতে। দেয়াল না পিছিয়েও ঘরকে বড় দেখানো যাবে ইচ্ছে করলেই। স্থপতি মো. শওকত রাব্বি চৌধুরী জানালেন সে রকমই কিছু পদ্ধতির কথা। ছোট ঘরকে বড় দেখানোর জন্য খাটো ও হালকা আসবাব ব্যবহার করতে পারেন।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত আসবাব না কেনাই ভালো। বাড়ির মধ্যে কোনো কোনা অথবা কলাম থাকলে সে ক্ষেত্রে কিছুটা জায়গা নষ্ট হয়। ইতিবাচকভাবে দেখলে এতে কিছুটা জায়গাও বের হয়। এই জায়গাটুকুতে শেলফ বানিয়ে তাতে বিভিন্ন জিনিস রাখার পরামর্শ দিলেন মো. শওকত রাব্বি চৌধুরী। নিচু উচ্চতার চেয়ারের জন্য সর্বনিম্ন তিন ফুটের চেয়ার বানাতে বা কিনতে পারেন। উচ্চতা এর কম হলে বসার সময় স্বস্তি নাও পেতে পারেন।

নিচু উচ্চতার খাটে আপনার শোবার ঘরকে বড় দেখাবে। এ ছাড়া মেঝেতে ম্যাট্রেস পেতে শোবার ব্যবস্থাও করতে পারেন। বিছানার দুপাশে টেবিল ল্যাম্পও ভালো লাগবে।ছোট ঘরে হলুদ, কমলা, উজ্জ্বল নীল রংগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই রঙগুলো আলো প্রতিফলিত

করে, ফলে ঘর বড় দেখায়। চাইলে রঙের বদলে ওয়াল ম্যাটও ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই এ বিষয়ে যাঁরা পারদর্শী তাঁদের সাহায্য নিতে হবে। কারণ ওয়াল ম্যাট দেয়ালে লাগানোর সময় বাতাস ঢুকে গেলে পরবর্তী সময়ে সমস্যা তৈরি হবে। এ ছাড়া ভালো মানের প্লাস্টিক পেইন্ট ব্যবহারে ঘরে চকচকে ভাব আসে। এটাতেও আপনার ঘর দেখতে বড় লাগবে বলে জানান মো. শওকত রাব্বি চৌধুরী ।

নান্দনিক বাসন:
সারা দিন ব্যস্ততার মধ্যে একসঙ্গে বসে সময় কাটানো হয় না অনেকেরই। সকালের চা কিংবা রাতের খাওয়ার সময়টায়ই যা একটু গল্প করা হয়। এ কারণে খাবার পরিবেশনের পাত্রগুলো যদি একটু নান্দনিক নকশার হয় তাহলে তা মন ভালো রাখার মন্ত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।ক্লে ইমেজের স্বত্বাধিকারী রেহানা আক্তার জানান, ‘সাধারণত নতুন দম্পতিরা একসঙ্গে সবকিছু কেনেন না। একটু একটু করে প্রয়োজনমতো বাসন কিনে নিয়ে যান। ক্লে ইমেজে দম্পতিদের জন্য ডিনার সেট, নাশতা খাওয়ার সেট, চা খাওয়ার সেট পাওয়া যায়। বিশেষ কিছু রং ব্যবহার করি আমরা নতুন সংসারকে রঙিন করে তোলার জন্য। তাঁরা চাইলে বাসনের একদিকে আমরা তাঁদের নামও লিখে দিই।’

খাবারের বাসনগুলো দৃষ্টিনন্দন হলে পরবর্তী সময়ে এগুলো অন্য কাজেও ব্যবহার করা যায়। যেমন প্লেট পুরোনো হয়ে গেলে টবের নিচে রাখতে পারেন। ঠিক একইভাবে কাপের হাতল ভেঙে গেলে সেটিকে টব কিংবা রান্নাঘরে চামচ রাখার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

কম বাজেটেই ষোলো আনা:
নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লাগবে, এমনটি নয়। একটু পরিকল্পনা করে নিলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। নতুন দম্পতিদের দেশীয় জিনিসের প্রতি কিছুটা আকর্ষণ থাকে। কাঠের আসবাবের থেকে এগুলোর দামও কিছুটা কম হয়ে থাকে।কাঠের আসবাবের বদলে বিভিন্ন বোর্ডের তৈরি আসবাব ব্যবহার করা যায়।এ ক্ষেত্রে বেতের আসবাব, রট আয়রনের আসবাব, হোগলা পাতার তৈরি আসবাবও রুচিশীল পরিবেশ তৈরি করবে।

ডেকর ইডের আসবাব ডিজাইনার তৌহিদা হক জানান, ‘মানুষের জীবনযাত্রা ও রুচির পরিবর্তনে বদলে গেছে বাড়ি সাজানোর ধরনও। বাড়ি সাজানোর সময় শুধু প্রয়োজন ছাড়াও একটু সৌন্দর্যের ছোঁয়া সবাই চায়। অনুষঙ্গগুলো রুচিকর হলে তা বাড়ির পরিবেশে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলবে।’হোগলা পাতার তৈরি আসবাবগুলো একসঙ্গে দুটি কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন। দম্পতিদের জন্য ডেকোর ইডেতে আছে মিনি প্রিক্স সোফাসেট। এতে আছে একটি দুই সিট, একটি এক সিটের সোফা এবং একটি সেন্টার টেবিল। এর নিচের অংশে ড্রয়ার

 

বানিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া মোড়া, বেবি চেয়ার, অটোমান চেয়ারগুলো নতুন সংসারের জন্য সাশ্রয়ী ও উপযুক্ত বলে জানান তৌহিদা হক।

দেশীয় উপকরণে তৈরি টেবিল ল্যাম্প, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, ঝুড়ি, শো-পিস দামেও কম হবে, দেখতেও ভালো লাগবে। এগুলোর ফাঁকফোকর দিয়ে ছোট গাছ বা মানিপ্ল্যান্ট রাখার পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা। দেয়ালে পেইন্টিং ঝোলাতে পারেন। তবে সেটি আপনার ঘরের অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে যাচ্ছে কি না, সেটি খেয়াল করবেন। ঘরের বিভিন্ন কোনায় রাখা টেবিল ল্যাম্পের আলো মায়াবী ও রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি করে। দেয়ালে আয়নাও লাগাতে পারেন। আয়নার প্রতিফলনে ঘরকে কিছুটা বড় লাগে। প্রয়োজনীয় চাবি রাখার জন্য দেয়ালেই ব্যবস্থা রাখুন।

স্নানঘরের নান্দনিকতা:
স্নানঘর ছোট হোক কিংবা বড়, তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যদি জায়গা থাকে তাহলে ছোট গাছ রাখুন। প্রাণবন্ত ভাব আসবে। ছোট মোমদানি কিংবা দু-একটি শো-পিসও রাখতে পারেন। বেসিনের বা তাকের ওপর জায়গা না হলে দেয়ালেও কোনো কিছু ঝোলাতে পারেন। এতে করে বৈচিত্র্য তৈরি হবে। শাওয়ার কার্টন ব্যবহার করলে সব জায়গায় পানি ছড়িয়ে যাবে না। মেঝেতে ম্যাট্রেস রাখতে পারলে ভালো, ভেজা জায়গায় পা পিছলে পড়ার ভয় থাকবে না। মেঝে সব সময় শুকনা রাখার চেষ্টা করুন।বাথরুমের সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ও অন্যান্য প্রসাধনী রাখার পাত্রের সেট পাওয়া যায়। চাইলে দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কিনে নিতে পারেন। ছোট-বড় কয়েক আকৃতির তোয়ালে রাখুন। কোনোটি হাত মোছার জন্য, কোনোটি গোসলের পর ব্যবহারের জন্য।

বাড়তি একটু জায়গা:
বাড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় একটি ঘর বেশি পেলে মনের মতো করে সাজান। সেটাকে টিভি দেখার ঘর কিংবা পড়ার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। নিচু বিছানা, উজ্জ্বল নকশার শতরঞ্জি, নিচু চেয়ার, অনেক কুশন দিয়ে বৈচিত্র্য তৈরি করতে পারেন। তবে একটি ঘরের সব আসবাব নিচু হলে দেখতে ভালো লাগবে না। উঁচু আসবাবগুলো পেছনে বা দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে রাখুন। নিচু আসবাবগুলো সামনের দিকে রাখুন। সারা দিন পরে যেখানে নিজেদের মতো করে কাটানো যাবে একান্ত কিছু মুহূর্ত। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার জন্যও কিন্তু এমন একটি ঘরের কথাই প্রথমে মনে আসবে।

উজ্জ্বলতা বাড়াতে:
নতুন দম্পতির বাড়িতে রঙের ছটা না থাকলে দেখতে কিছুটা বেমানান লাগে। বাড়িতে উজ্জ্বলতা আনার কিছু জন্য কিছু পদ্ধতির কথা জানালেন এথনিকার স্বত্বাধিকারী নাসিরা মানসুর। উজ্জ্বল রঙের শতরঞ্জি, পর্দা, কুশন ব্যবহারে ঘরে বৈচিত্র্য আসবে। প্রিন্ট করা সুতির পর্দা ব্যবহার করলে ঘরে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারবে। একরঙা পর্দা ব্যবহার করলে প্রিন্ট করা কুশন কভার পছন্দ করুন। উল্টোটাও করতে পারেন। শোবার ঘরের কোনায় সম্ভব হলে ছোট একটা বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। না হলে শতরঞ্জির ওপরেও অনেক রঙের কুশন রাখা যায়। এতে করে বাড়তি বসার জায়গাও হবে, কিছুটা ভিন্নতাও আসবে।

– রয়া মুনতাসীর

ব্যায়ামের সময়

আমরা আগের তুলনায় নিজেদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং সুন্দর ফিগারের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। আমরা জানি সু-স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার কোনো বিকল্প নেই। তবে ব্যস্ততা আমাদের জীবনে এভাবে জড়িয়ে রয়েছে যে মাত্র একঘণ্টা সময় খুঁজে বের করাও কঠিন।

সকালে অফিসের জন্য অনেকেই ব্যায়াম করার সুযোগ পাই না। অফিস থেকে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। বাড়ি ফিরে আবার কত কাজ…ব্যায়াম করার সময় নেই। জানি এইতো বলবেন, কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে কিছুটা সময় বের করতেই হবে।

কীভাবে? জেনে নিন:

সকাল

অনেকে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই ব্যায়াম শুরু করেন। তবে এসময় ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। কারণ এক্সারসাইজের জন্য শরীরে যথেষ্ট পরিমানে এনার্জি থাকা প্রয়োজন
সময়ের অভাব থাকলে ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টা পর হালকা জগিং বা মর্নিং ওয়ার্ক করুন
ঘুম থেকে ওঠার পর ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কয়েক ঘণ্টা পর ব্যায়াম করুন
মনে রাখবেন কখনোই খালি পেটে ব্যায়াম করা যাবে না

বিকেল

ব্যায়াম করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে দুপুরের পর বিকেলে। মানে ঘুম থেকে ওঠার ৬ ঘণ্টা পর এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে
যাদের ভারী এক্সারসাইজের পরিকল্পনা রয়েছে তারা দিনের বেলার যেকোনো একটি সময় বেছে নিন
লাঞ্চ করার পর বসে না থেকে হালকা হাঁটুন।

সন্ধ্যা

বাড়ি ফেরার পথে কিছুটা পথ হেঁটেই অাসুন
হাঁটার সময় খেয়াল রাখবেন যেন ১০ মিনিটে ১ কিলোমিটার পথ যেতে পারেন
সন্ধ্যা বেলা এক্সারসাইজ করতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে অবশ্যই এক্সারসাইজ করার আগে রিল্যাক্স করুন। যাতে এক্সারসাইজ করার সময় ক্লান্ত ভাব না থাকে।
যোগব্যায়াম করার জন্য সন্ধ্যা সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
এসময় আপনি ট্রেডমিল বা সাইক্লিংও করতে পারেন

শারীরিক ক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন, ব্যাক পেইন বা শ্বাসকষ্ট থাকলে সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না। তাই ব্যায়াম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো খাবার এবং জীবন যাপনের সঠিক পদ্ধতিগুলোও মেনে চলুন।

এখন শীতে অনেকেই ব্যাডমিন্টন খেলছেন তাদের আলাদা করে ব্যায়াম না করলেও চলে। ভারী ব্যায়াম করতে হলে অবশ্যই অনেক সময় নিয়ে ওয়ার্ম আপ করে নিন। নিয়মিত ব্যায়াম করে সুস্থ থাকুন…

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

ওকে সময় দিচ্ছেন তো?

কাজ তো থাকবেই, তবু দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরকে সময় দেওয়া জরুরি। আধুনিক জীবনে ‘কোয়ালিটি টাইম’-এর কথা উচ্চারিত হচ্ছে বারবার। অর্থাৎ, কতটা সময় দিলাম, তার চেয়েও বড় কীভাবে সময় দিলাম…

ব্যস্ত জীবন। ব্যস্ত দিন। স্বামী-স্ত্রী দুজনরেই দম ফেলার অবকাশ নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুজন দুদিকে। স্বামী তো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস নিয়েই ব্যস্ত। ওদিকে ভোরে সন্তানদের স্কুলের জন্য তৈরি করে দিয়ে স্ত্রীও অফিসমুখী। শুধু কর্মজীবী স্ত্রীই নন, গৃহিণীর কাজের পরিমাণও কোনো অংশে কম নয়। ভোর থেকে শুরু হয় তাঁর কর্মযজ্ঞ। এই ব্যস্ততার মধ্যে কখন যে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর থেকে খানিকটা দূরে সরে গেছেন, টেরও পাননি। দিনের পর দিন একসঙ্গে থাকলেও শেষ কবে খুনসুটিতে মেতেছিলেন, মনে করতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দাম্পত্য জীবনে কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময়ের খুব প্রয়োজন। তাহলে অনেক ব্যস্ততার মধ্যে পুরোনো সেই দিনের মতো এখনো ভালোবাসার রেশ থাকে সম্পর্কে। ১০ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকার চেয়ে এক ঘণ্টার গুণগত সময় অনেক বেশি কার্যকর সম্পর্কের বুনটে।

কাজের বাইরে একান্তে

সারা সপ্তাহেই ব্যস্ততা। এর মধ্যেও দুজন দুজনের জন্য খানিকটা সময় রাখতেই পারেন। অফিস থেকে ফেরার পথে স্বামী-স্ত্রী কোনো কফি শপে গিয়ে কফিতে চুমুক দিতে দিতে কিছু মুহূর্ত কাটাতে পারেন। তখন সংসারের হালচাল, সন্তানের ভবিষ্যৎ কিংবা অফিসের সমস্যাগুলো ছাপিয়ে নিজেদের জন্য একটু সময় দিন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোরশেদা বেগমের মতে, গুণগত সময় মানেই পরিবারের জন্য একান্ত কিছু সময়, যে সময়টুকুতে সব ধরনের সমস্যা দূরে সরিয়ে শুধু ভালোবাসার আবেশে থাকবেন দুজন। তখন পরস্পরের প্রতি অভিযোগগুলো তুলবেন না। তাহলে দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা মাথা চাড়া দেবে না।

এই দিন তোমার-আমার

মনে হতেই পারে, কেন প্রয়োজন কোয়ালিটি টাইম? এই তো বেশ ভালো আছি। সংসারের জন্যই তো কাজ করছি। স্বামী-সন্তানের দেখভাল করেই তো জীবন কাটিয়ে দিলাম। তবুও কোথায় যেন বেদনার সুর বাজে। অনেকে তো বুঝতেই পারেন না যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলাফলে কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যায় দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ কিংবা ভার্চুয়াল জগতের হাতছানি। এটি যেন না হয়। হাজারো কাজের মধ্যে একটি দিন বেছে নিন। সেই দিনে স্বামী-স্ত্রী বাইরে ঘুরতে যেতে পারেন। রাতে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতে পারেন। অল্প আয়োজনে রিকশায়ও আইসক্রিম খেতে খেতে গল্প করতে পারেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার বিটপী দাশ সব সময় চেষ্টা করেন পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটাতে। ছুটির দিনে কোথাও বেড়াতে না গেলে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে বাড়িতে বসে সিনেমা দেখেন। বন্ধুদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেন। তিনি বলেন, ‘কাজের বাইরে আসলে পুরো সময়টা আমার স্বামী-সন্তানের জন্য বরাদ্দ। সন্ধ্যার চা এবং রাতের খাবার সব সময় স্বামীর সঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করি। এই সময়টুকু না দিলে পারিবারিক বন্ধন মজবুত থাকে না।’

এগিয়ে আসতে হবে স্বামীকেও

শুধু স্ত্রী একাই কোয়ালিটি টাইম নিয়ে ভাববেন, তা নয়। পারস্পরিক সম্পর্কের জন্য দুজনেরই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে, বিশেষ করে স্বামীদের। তাঁরা অনেক সময় মনে করেন, সব দায়িত্ব শুধু স্ত্রীদেরই। বিষয়টি তেমন হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ ভাবেন, দামি উপহার কিংবা কেনাকাটার টাকা দিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ; বরং স্ত্রীকে হঠাৎ তাঁর প্রিয় কোনো ফুল, বই বা ছোট্ট কিছু দিয়ে অবাক করে দিতে পারেন। ব্যস্ততার মধ্যেও যে তাঁকে মনে রেখেছেন, এতেই স্ত্রী খুশি হবেন। কাজ তো থাকবেই, তবুও অফিস থেকে ফিরে একসঙ্গে এক কাপ চা খেলে ক্ষতি কী?

প্রাধান্য দিন সঙ্গীর পছন্দকে

সবচেয়ে প্রাধান্য দিতে হবে সঙ্গীর ছোট ছোট পছন্দকে। খুব সূক্ষ্ম ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিলে দাম্পত্য জীবন সুখকর হয়ে উঠবে। পারস্পরিক ভুল বোঝাঝুঝি বড় আকার ধারণ করে না, এমনটাই মনে করেন ব্র্যাক ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তাহনিয়্যাত আহমেদ। সঙ্গীকে সব সময় বুঝিয়ে দিতে হবে, আপনার জীবনে তাঁর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পর্যাপ্ত সময় না দিলে তিনি একাকিত্ববোধে ভুগতে পারেন। পরিস্থিতি এমন হওয়ার আগেই দিনের একটি সময় সঙ্গীর জন্য বরাদ্দ রাখুন।

তৌহিদা শিরোপা

বিভিন্ন দেশে বিয়ের মজার রীতি

কোন কোন সমাজের বিয়ের রীতি অন্য সমাজের বিপরীত। কোনো সমাজের বিয়ের রীতি আবার আরেক সমাজে হাসির উদ্রেক করে। বেশ মজাও দেয়। সে রকমই কয়েকটি দেশের মজার বিয়ের রীতি এখানে তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ:

বাংলাদেশে ঘটক ছেলের পক্ষ থেকে মেয়ের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মেয়ের পক্ষ হয়েও ছেলের বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে আসেন।আমাদের দেশে ঘটকদের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে পরস্পরের কাছে আকর্ষণীয়, সুদর্শন ও যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা।

পেশাদার ও শখের- এ দুই শ্রেণীর ঘটক দেখা যায় বাংলাদেশে। পেশাদার ঘটকরা প্রতিটি ঘটকালির জন্য নির্দিষ্ট অর্থ ও দ্রব্যসামগ্রী গ্রহণ করে থাকেন। আর শখের ঘটকালি হচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রয়োজনে ঘটকের দায়িত্ব পালন করা।বাংলাদেশে বিয়ের অতীত রীতিনীতি বিষয়ে চীনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই। এ জন্য একটি ঘটনা বলা যেতে পারে-

তখন শীতকাল, পিঠা আর টাটকা সবজি খাওয়ার জন্য একবার প্রত্যন্ত এক গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যাই। ঘটনাক্রমে সেদিনই ওই বাড়িতে মেয়ে দেখার জন্য ছেলের পক্ষের লোকজন আসেন।সবাই মেয়ে দেখার অপেক্ষায় আছেন। অবশেষে মেয়েটি শাড়ি পরে ঘোমটা দিয়ে এসে দাঁড়ালো। ছেলেপক্ষ থেকে তাকে হাঁটতে বললেন। মেয়েটি হাঁটলো। ঘোমটা খুলে চুল দেখাতে বলা হলে চুল দেখালো।

এরপর ছেলেপক্ষ তাকে হাসতে বললো। কোরান থেকে কিছু সুরা পাঠ করতে বলার পর হাত ও পায়ের নখ দেখাতে বলা হলো। মেয়েটিও একে একে সব করে দেখালো। অবশেষে ছেলেপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মেয়ের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিলো।এই পুরো দৃশ্য পাত্র উপভোগ করলো ও তার আত্মীয়দের কাছে বিয়ের সম্মতি প্রকাশ করলো।

চীন:

চীনের ইতিহাস সুদীর্ঘ। বিস্তীর্ণ তাদের ভূখণ্ড। তাই, চীনের বিভিন্ন জায়গায় বিয়ের আচার ও রীতিনীতিও ভিন্ন। তবে মূল বিষয়গুলো প্রায় একই রকম।প্রাচীন চীনে একটি বিয়ের মোট ৬টি অনুষ্ঠান হতো। এগুলোর মধ্যে আছে মেয়ে পক্ষকে যৌতুক দেওয়া, বিয়ের বাগদান, ভোজ ইত্যাদি। সেসময় একটি ছেলে যদি এক মেয়েকে পছন্দ করতো, তাহলে তিনি মেয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ঘটককে পাঠাতেন।

সেখানকার ঘটক দু’পক্ষের নাম, বয়স, পারিবারিক অবস্থা ইত্যাদি তথ্য দু’পক্ষকে জানিয়ে দিতো। দু’পক্ষ মোটামুটি রাজি হলে ঘটক মেয়েপক্ষের বাড়িতে ছেলেপক্ষকে যাওয়ার দিন নির্ধারণ করে দিতো।ছেলেপক্ষ মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে দেখা ছাড়াও মেয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও মেয়ের চরিত্র, মেজাজ-মর্জি যাচাই করে নিতো। তবে বিয়ের আগে মেয়েপক্ষ ছেলের বাড়িতে যেতো না।

বিয়ের দিন নিয়ে চীনের আরো কিছু মজার রীতিনীতি আছে। যেমন: বিয়ের দিন কনে লাল পোশাক পরে। বর্তমানে অবশ্য অনেক কনে পাশ্চাত্যের অনুকরণে সাদা রংয়ের লম্বা স্কার্ট পরেন। শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় কনেকে কাঁদতে হয়।কনের বিদায়ের সময় বাবা-মাও চোখের জলে বুক ভাসায়। চীনের কোনো কোনো অঞ্চলে স্বামীর ঘরে প্রবেশের আগে কনেকে আগুন জ্বালানো একটি গামলা পার হতে হয়।এ রীতির অর্থ হলো, সব অমঙ্গল আগুনে পুড়ে যাক ও নতুন দম্পতির জীবন আগুনের মতো উজ্জ্বল হোক।

ফ্রান্স:

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রেমময় দেশগুলোর একটি হচ্ছে ফ্রান্স। সাদা রং ফ্রান্সের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান রং। সাজগোজের অলংকার, ফুল, কনের কাপড় সবই সেখানে সাদা হয়ে থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, ফরাসিদের চোখে বিয়ে হচ্ছে শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক।

ব্রিটিশ:

বিয়ে সর্বদাই পবিত্র হওয়া উচিত। আর তাই পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ-রীতির বিয়ে অনুষ্ঠানে কনে পদ্মফুল হাতে রাখে। ব্রিটিশদের চোখে এই ফুল সৌভাগ্যের প্রতীক।ব্রিটিশদের বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত দুপুরে আয়োজিত হয়। তাদের বিয়ের কেক তৈরিতে হরেক রকম ফল ব্যবহার করা হয়। এ কেককে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়।

জার্মানি:

জার্মানরা খুব শান্ত প্রকৃতির বলে ধারণা করা হলেও বিয়ে নিয়ে তাদেরও উন্মাদনার শেষ নেই। তাদের বিয়েতে বিশেষ পার্টির আয়োজন করা হয়। এই পার্টিতে বর ও কনেকে কেন্দ্র করে নানা মজা করা হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হচ্ছে, নাচতে নাচতে আনন্দের সঙ্গে থালা-বাসন ছুঁড়ে ফেলা।আবার যদি স্বামী স্ত্রীকে দেখতে চায়, তাহলে স্ত্রীর বন্ধুকে ঘুষ দেওয়ার মতো টাকা দিতে হয়। নইলে স্ত্রীকে দেখার অনুমোদন দেয় না বন্ধুরা।

গ্রিস:

গ্রিসের বিয়ের রীতিনীতিকে খুব সুস্বাদু একটি মিষ্টি রীতি বলা যেতে পারে। সেখানে কনেরা নিজের হাত মোজার ভেতরে কিছু মিষ্টি ক্যান্ডি রাখে। এ ব্যতিক্রমী কাণ্ডের কারণ, নিজের বিবাহিত জীবনকে আরো মিষ্টিময় করে তোলা। এছাড়া গ্রিকরা ঐতিহ্যবাহী রাউন্ড ডান্সের গোলাকার নৃত্যের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়।

রাশিয়া:

রাশিয়ার বিয়ের অনুষ্ঠানে যে শব্দ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, তা হলো ‘তিক্ত’। অনুষ্ঠানে যদি কেউ উচ্চস্বরে বলে, “তিক্ত, তিক্ত”, তাহলে সবাই একসঙ্গে তিক্ত বলবে। আর স্বামী ও স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে গভীরভাবে চুমু খাবে।এরপর যতবার অতিথিদের মধ্য থেকে উচ্চস্বরে তিক্ত, তিক্ত বলা হবে, ততবার দম্পতিকে মিষ্টি চুমু দিয়ে অতিথিদের প্রতি সাড়া দিতে হবে।অন্তত দশ-বারো বার চুমু খেলে তবেই অতিথিরা সন্তুষ্ট হয়। কারণ, রুশদের ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর চুমু মদের তিক্ততাকেও মিষ্টি করতে পারে!

রহমত উল্যাহ

পরকীয়া

বিয়ের পর দুই বছর পাড় হয়ে হয়েছে শাহেদ-প্রিয়ার, ভালোই চলছে সবকিছু। এরই মধ্যে সেদিন সকালে শাহেদের মোবেইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন এলো অপরিচিত একটি নম্বর থেকে। প্রিয়া দেখলো শাহেদ ফোনটি রিসিভ করছে না। প্রিয়া ভাবলো হয়তো শাহেদের অফিসের কোনো ফোন…

সে প্রতিদিনের মতো শাহেদের বাইরে যাওয়ার জোগার করতে ব্যস্ত হয়ে গেল। সব ঠিকঠাক, হঠাৎ প্রিয়া লক্ষ্য করে সে যখন অন্য ঘরে থাকে তখন শাহেদ যেন কার সঙ্গে কথা বলে। তাকে দেখে দ্রুত ফোনটি কেটে দেয়, প্রিয়া জানতে চায় কার ফোন ছিল? উত্তর দিতে কেমন যেন গলা কেঁপে ওঠে শাহেদের। সে একবার বলে অফিসের ফোন তো আরেকবার বলে বন্ধুর। এটা বলে যখন বুঝতে পারে কিছু একটা লুকাচ্ছে এটা প্রিয়া বুঝতে পারছে, সে তখন রেগে যায়। আর তাকে অবিশ্বাস করা হচ্ছে বলে উল্টো প্রিয়াকেই বকা দেয়।

প্রিয়া শাহেদকে কখনো এই রূপে দেখেনি। এতো বিশ্বাস, ভালোবাসা, একসাথে অনেক কিছু করার স্বপ্ন সবই তাহলে মিথ্যা হতে চললো…তার সুখের সংসার এভাবে ভেঙ্গে যাবে? প্রিয়ার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। তারপর প্রিয়া খোঁজ নিয়ে জানে বর্ষা নামের একটি মেয়ের সঙ্গে শাহেদ নিয়মিত ফোনে কথা বলে, মাঝে মাঝে দেখাও করে। এটা জানার পরে শাহেদ সম্পর্কে আর কিছু জানার মতো মানসিক অবস্থা প্রিয়ার ছিল না…

আমরা নিশ্চিন্তে আমাদের স্বামী, স্ত্রী, ভাইবোন আর সন্তানদের বিশ্বাস করি। আমরা দেখি নিয়মিত তারা কাজের জন্য বের হচ্ছে সময় মতো ফিরেও আসছে কিন্তু আসলে তারা অন্য রকম অসামাজিক কোনো কাজে জড়িয়ে পড়ছে কিনা তার কি খোঁজ রাখছি?

পরিবারের একজনের এধরনের পরকীয়ার সম্পর্ক ধ্বংস করে দিতে পারে ব্যক্তি এবং পারিবারিক বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার সম্পর্ককে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিথ্যা মোহের বশবর্তী হয়ে পরকীয়ার মতো একটি সামাজিক ব্যাধিতে আক্রান্ত না হয়ে, বিবাহিত জীবনকে আরও সুন্দর এবং সুখী হতে যে বিষয়গুলোর আমাদের চর্চা করতে হবে:

সততা

সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূল স্তম্ভ হচ্ছে সততা। প্রতিটি সম্পর্কের বিষয়ে সততা দেখাতে হবে। একজনকে অন্যজনের অনেক কাছে নিয়ে আসবে যখন সে বলতে পারবে,‘যাই হোক তুমি আমার সম্পর্কে সত্যটাই জানবে’।

ক্ষমা

একদিনে কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। কোনো ভুল হলে প্রথমেই সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ার চিন্তা না করে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।

বোঝাপড়া

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া থাকাটা খুব জরুরি।

বিশ্বাস

এমন কিছু কখনো করা যাবে না যাতে করে দুজের মধ্যে বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। শুধুমাত্র অবিশ্বাসই একটি সম্পর্ক ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সময় কাটানো

একসঙ্গে সময় কাটাতে আগ্রহী হতে হবে। দুজনের একান্ত সময়টুকু আনন্দময় করে তুলতে নতুন নতুন পরিকল্পনা করতে হবে।

বন্ধুত্ব

‘বিয়ের আগে আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম’। তো, বিয়ের পরে কী হলো? বিয়ের পর সম্পর্কটাকে আরও মজবুত করতে চাই দুজনের নিবিড় বন্ধুত্ব।

ধৈর্য

দাম্পত্য জীবনের পুরো সময়টাই হানিমুন মুডে থাকতে পারবো…এটা ভাবলে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হতে পারে। দুঃসময় আসতে পারে, এমন অবস্থায় ভেঙ্গে না পড়ে ধৈর্য ধরতে হবে।এক বিয়েতে বিশ্বাস এক সঙ্গীর সঙ্গেই সারাজীবন কাটানোর জন্য মনস্থির করতে হবে।

ভালোবাসা

সব সম্পর্কের মূলে থাকে ভালোবাসা। সঙ্গীর জন্য ভালোবাসা থাকতে হবে এবং সেই ভালোবাসার প্রকাশও করতে হবে।তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এরকম অনেক বিষয় নিয়েই সন্দেহ দেখা দেয়, যেগুলোর হয়তো তেমন বাস্তব প্রমাণ নেই। তাই সন্দেহ করার আগে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলে বা খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন।

আমরা কখনোই চাই না সুখের সংসার কোনো সন্দেহে ভেঙ্গে যাক। কিন্তু এটাও হওয়া উচিৎ নয় যে দিনের পর দিন একজনকে ঠকিয়ে অপরাধী পার পেয়ে যাবে।

সুত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪ 

বিয়ের সাজে

বিয়ের সাজ পরিকল্পনার আগে একটা থিম ভেবে নিতে পারেন। আর তার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন শাড়ি, গয়না ও অন্য অনুষঙ্গ। যেমন, কেউ হয়তো বেছে নিলেন আদি ঢঙের সাজ, আবার কেউ চান এর সঙ্গে আধুনিকতা।

তবে মূল ভাব যেমনই হোক বিয়ের সাজ-পোশাক—সবকিছুতে থাকা চাই সামঞ্জস্য। সাজ-পোশাকে চড়া নয়, বরং স্নিগ্ধ ভাব থাকা ভালো। মেকআপ আর পোশাকের চাকচিক্যে কনের আসল সৌন্দর্য যেন হারিয়ে না যায়।

লেখা: রুহিনা তাসকিন

কন্টাক্ট লেন্স

কন্টাক্ট লেন্স কি?

কন্টাক্ট লেন্স বলতে আমরা সাধারনত ডিসপোজেবল সফট কন্টাক্ট লেন্স কেই বুঝি। কেউ কেউ কন্টাক্ট লেন্স ইউজ করে ফ্যাশন এর জন্য। আবার কেউ কেউ চোখের প্রব্লেম এর জন্য। ফ্যাশনাবল লেন্স বলতে কালার লেন্স এর কথা বলা হচ্ছে। এটা মুহূর্তেই আপনার চোখের রং বদলে দিবে। আজ আপনার চোখ নীল সাগরের মত, তো কাল আবার হ্যাজেল এর মত। কিংবা পরশু ঘোলা ঘোলা।

আর অপ্টিকাল সমস্যার জন্য যে লেন্স ব্যবহার করা হয়, সেগুলাতে পাওয়ার থাকে। বাংলাদেশে চক্ষু সমস্যার জন্য ডাক্তারেরা সাধারনত স্বচ্ছ লেন্স দিয়ে থাকেন। কারন কালার পাওয়ার যুক্ত লেন্স বাংলাদেশে ভালো ব্র্যান্ড এর পাওয়া যায় না। আর সেগুলা ঠিক সফট আর থাকে না যা আপনার চোখের উপর স্ট্রেস ফেলে। ফলে চোখ গরম হয়ে যায় ২-৩ ঘণ্টা পর ই।

লেন্স পরতে যা যা লাগবেঃ

১– লেন্স (দুই চোখের জন্যই)
২– সল্যুশন (এটা একটা তরল যার মাঝে লেন্স ভিজিয়ে রাখতে হয়)
৩– লেন্স বক্স (বক্স এর মাঝে লেন্স সল্যুশন এ ভিজিয়ে রাখতে হয়)
লেন্স কেনার সময় ই এগুলা সব দিয়ে দেয়া হয়।

ডিসপোজেবল সফট কন্টাক্ট লেন্স এর ব্যাবহার বিধিঃ

লেন্স পরা খুব ই সোজা। প্যাকেট খলার পর লেন্স টি বাম হাতের তালুতে রাখুন। এবার, কিছুটা সল্যুশন ঐ লেন্স এর উপর নিন। ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে লেন্স টি পরিস্কার করুন। সতর্ক থাকবেন, লেন্স টি যেন ছিঁড়ে না যায়। এবার লেন্স টি ডান হাতের তর্জনী তে নিন এবার বান হাত দিয়ে টেনে চোখটিকে বড় করুন আর লেন্স টিকে ভিতরে বসিয়ে দিন ডান হাত দিয়ে। শেষ হলে কয়েকবার চোখ বন্ধ করুন আর খুলুন। এভাবে দুচোখেই লেন্স পরুন।

লেন্স পড়ার আগে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে লেন্স টি সোজা আছে কিনা। লেন্স এর দুইটা পার্শ্ব। কোনটা সোজা কিভাবে বুঝবেন? প্রথমে লেন্স টিকে তরজনির উপর রাখুন।  কোনা গুলো যদি উঁচু হয়ে থাকে তাহলে লেন্স সোজা আছে। আর যদি একটু ঝুলে থাকে, তাহলে লেন্স উল্টা।

একটানা এক সপ্তাহের বেশি লেন্স বক্স এ ইউজ না করে ফেলে রাখলে, মাঝে মাঝে সল্যুশন পালটাতে হয়।অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, ডান চোখের লেন্স ডান বক্স এ, আর বাম চোখের লেন্স বাম বক্স এ রাখতে হবে। লেন্স বক্স এর উপর বাম ডান লেখা থাকে সাধারনত। ডিসপোজেবল সফট কন্টাক্ট লেন্স সাধারনত সকালে পরতে হয় আবার রাতে খুলে রাখতে হয়। এভাবে প্রতিটি লেন্স ২ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। এক প্যাকেট এ প্রতি চোখের ছয়টা করে লেন্স থাকে।

কোন ব্র্যান্ড এর লেন্স কিনবেনঃ

১. johnson and johnson (বাংলাদেশে যেগুলা পাওয়া যায়,তার মাঝে এটাই বেস্ট )
২. acuvue
৩.bausch + lomb
৪.biofinity
৫. dailies
৬. fresh look
৭. air optix
৮. igel
৯. aqua flexi
এছাড়াও আরও অনেক ব্র্যান্ড আছে। কিন্তু ডাক্তার আপনাকে johnson and johnson ই নিতে বলবে।

কোথায় পাওয়া যাবেঃ

আপনার চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছেই পাবেন। তবে দাম একটু বেশি লাগবে । নিজে কিনতে চাইলে নিচে্র যেকোনোটিতে যেতে পারেন।

১-আমেরিকান অপটিকসঃ ১২০/১, আউটার সারকুলার রোড, মগবাজার, ঢাকা। ফোনঃ- ৯৩৫৮৮৭৯।

২-আনিকা মনিকা অপটিকসঃ ল্যান্ড মার্ক সপিং সেন্টার; গূলশান-২,ঢাকা। ফোনঃ-৯৮৮৪০৪৪।

৩-বসুন্ধরা অপটিকসঃ লেভেল#৫; ব্লক-ডি; বসন্ধরা সিটি, ঢাকা। ফোনঃ-৮১২১৯৭৫।

বিয়ে নিয়ে আয়োজন

দেখে মনে হচ্ছিল, কারও বুঝি বিয়ে। ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলের হলরুমের বাইরে শুধু ফুল আর ফুল। ফুলে মোড়া তোরণ, ফুলের ছোট থাম। একপাশে পালকি নিয়ে অপেক্ষমাণ বেহারা। হলঘরে পা বাড়িয়ে থমকে যেতে হলো আরেকবার। পাক্কা পাঁচটি বিয়ের মঞ্চ, কোনোটা কালো পর্দায় নীলচে তারার খই ফুটিয়েছে, কোনোটা রাজকীয় লালে মেখেছে সোনালি আবির। একপাশে ফুলের কুঞ্জ, আরেক পাশে ডানা মেলা প্রজাপতি। হঠাৎ দেখি, কনেরা এসে পড়েছে। আরে, সব দেখি লাক্স সুন্দরী! রাখি, সামিয়া, সামিহা, প্রসূন আর বিপাশা। ঘটনা কী? উত্তর মিলল পন্ডসের রঙিন ব্যানার দেখে। ওহ্, আয়োজন তা হলে শুধু কনেদের নিয়ে।১৭ অক্টোবর। বিয়ের মৌসুম সামনে রেখে শুরু হলো পন্ডসের আয়োজন ‘বিউটিফুল ব্রাইড’। পন্ডস এই অনুষ্ঠান শুরু করল বিউটি স্যালন ম্যাজিক মিরর-এর সহযোগিতায়। এক দিনের আয়োজনে আরও ছিল নিউ জড়োয়া হাউস, সানজানা আর ওয়েডিং ডায়েরির অংশগ্রহণ।

শুরু হতে চলল বিয়ের মৌসুম। শীতও এসে পড়ল বলে। এই তো সময় ত্বক আর নিজেকে নিয়ে ভাবার। ইউনিলিভার বাংলাদেশের বিপণন ব্যবস্থাপক মাহাতাব হোসেন বলেন, ‘বিয়ে মানেই রোমান্সের সেরা সময়। এ জন্য তো শুধু এক দিনের যত্ন হলেই হয় না। প্রয়োজন একটু বেশি সময়ের বিশেষ যত্ন। একই মতের কারণে ম্যাজিক মিররের মাধ্যমে আমাদের এই আয়োজন। উদ্দেশ্য একটাই, প্রত্যেক বাঙালি কনেকে সুন্দর করে তোলা।’

ম্যাজিক মিররের প্রধান মেকআপ শিল্পী ফারজানা হালিম হাই বলেন, এক দিনের মেকাপে সুন্দর কনে হওয়া যায় বটে, কিন্তু নিজেকে সুন্দর রাখতে প্রয়োজন ত্বক ও চুলের নিয়মিত যত্ন। কনে মানে নিজেকে রঙের আড়ালে ঢেকে ফেলা নয়, ছিমছাম মেকআপে নিজেকে ফুটিয়ে তোলাই আসল। সে জন্য একই রূপ বিশেষজ্ঞের সাহায্যে বিয়ের অন্তত এক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানের বিয়ের মঞ্চ, ফুলসজ্জাসহ আয়োজনের ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা ওয়েডিং ডায়েরির প্রধান প্রীত রেজা বলেন, একই আয়োজনে একই সমান্তরালে সবার হাঁটার লক্ষ্য একটাই। মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনকে রঙিন করে তোলা। আর স্বপ্নপূরণের এই দিনের টুকরো টুকরো ছবি তুলে আনে ওয়েডিং ডায়েরিপাঠক, এই মৌসুমে আপনিও যদি এমন স্বপ্ন দেখেন, তা হলে প্রস্তুতি নিন এখন থেকেই।

-খাদিজা ফাল্গুনী

যুক্তরাজ্যে অবিবাহিত যুগলের সংখ্যা বাড়বে

২০৫০ সালের দিকে যুক্তরাজ্যে বিবাহিত যুগলের চেয়ে অবিবাহিত যুগলের সংখ্যা হবে বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে আজ সোমবার এ কথা বলা হয়।যুক্তরাজ্যের সামাজিক ন্যায়বিচার কেন্দ্রের (সিজেএস) প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল মধ্য ও ধনিক শ্রেণীর পরিবারগুলোতে বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে; কিন্তু স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোতে বিয়ের প্রবণতা এখন ৫০ শতাংশের কম।

‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিবাহিত যুগলের পরিবারের সংখ্যা হবে তুলনামূলকভাবে কম।সিজেএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবার গুলোর ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। ২০১০ সালে ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়, পরিবারের স্থায়িত্ব বাড়াতে সরকার বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে; কিন্তু পরিবারের ভাঙনের পরিধি ও মূল্য এসবের তুলনায় অনেক বেশি।প্রতিবেদনে বলা হয়, জনকল্যাণ ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার যেমন দ্রুত ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে, পরিবারগুলো শক্তিশালী করতে তেমন পরিষ্কার ও সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা নেয়নি।

-Prothom alo

সঙ্গীকে সন্দেহ!

সন্দেহ একটা কঠিন এবং ভয়ংকর অসুখ—সুখী এবং স্বাভাবিক জীবনকে বিনষ্ট করার ছোট্ট একটা মহাষৌধ, সন্দেহ মনে একবার ঝেঁকে বসলে পারিবারিক জীবন তছনছ হয়ে যায়,শেষ পর্যন্ত ছাড়াছাড়ি অব্দি গড়িয়েও যায়-রায়হান আর তনিমার বিয়ের বয়স প্রায় পাঁচ বছর। প্রেমের বিয়ে, সুখেই কাটছিল দিন। একদিন রাতে পড়ার ঘরে বসে ফোনে কথা বলছে রায়হান। তনিমা ঢুকতেই তাড়াহুড়ো করে ফোন রেখে দিল। কিছুটা অপ্রস্তুত। তনিমা জিজ্ঞেস করল, কার সঙ্গে কথা হচ্ছিল? রায়হানের শুকনো জবাব, এই তো এক বন্ধুর সঙ্গে। তনিমা মোবাইল ফোনটা কেড়ে নিয়ে ডায়াল লিস্ট দেখে বুঝল, অপর প্রান্তের মানুষটা রায়হানের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের এক সহপাঠিনী। তার সঙ্গে রায়হানের হয়তো সম্পর্ক তৈরি হতে পারত। সেই পুরোনো ঈর্ষার মেঘ সন্দেহের বৃষ্টি ঝরাল তনিমার হূদয়ে। এ ঘটনার জের ধরে শুরু হলো নিত্য কলহ, মান-অভিমান। সুখী দম্পতির ঘরে অসুখি বাতাস।বিষয়টির সমাপ্তি টানতে রায়হান-তনিমা দুজনকেই সেবার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হয়েছিল। তাঁর নিবিড় পরামর্শে শেষ পর্যন্ত সুখ ফিরেছিল দুজনের সংসারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রওশন জাহান বললেন, ‘দাম্পত্যে কিছুদিন গড়ানোর পর এ রকম ছোটখাটো খটোমটো লাগতেই পারে। কিন্তু দুজন মিলে কীভাবে সেসব সামাল দেওয়া যাচ্ছে, সেটাই আসল।’ তাঁর মতে, রায়হান যদি তনিমার কাছে খুলে বলত, কার সঙ্গে কথা বলছে, তা হলেই আর জটিলতার সূত্রপাত হতো না। তনিমার মধ্যে হয়তো কিছুটা ঈর্ষা জাগত, কিন্তু তা আকাশকুসুম কল্পনায় গিয়ে ঠেকত না।

রওশন জাহান বললেন, ‘দিনে দিনে আমাদের জীবনযাত্রা জটিল হয়ে উঠছে, সেই সঙ্গে দাম্পত্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।’ সুখশান্তি আর বোঝাপড়া ঠিক রাখতে তিনি কিছু পরামর্শও দিলেন:

.দুজনের মধ্যেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকা দরকার। দরকার নিজেকে সংবরণ করতে পারার ক্ষমতা।
পরস্পরের মতামত, যুক্তিগুলো মন দিয়ে শোনা বা প্রাধান্য দেওয়ার অভ্যাসও থাকা চাই। যে বিষয়ে কথা হচ্ছে, সে বিষয়েই থাকুন। অন্য বিষয় টেনে এনে তিক্ততার জন্ম দেবেন না।
 রাগকে ‘না’ বলুন। রাগ থেকেই দাম্পত্যের যত জটিলতার সৃষ্টি হয়। আর তুচ্ছ বিষয় থেকে জন্ম নেয় বড় কোনো বিপর্যয়।
একটি বেসরকারি হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের পরামর্শক নাদিরা সুলতানা বলছিলেন দাম্পত্যের বিবিধ সমস্যা নিয়ে। ব্যক্তিত্বের সংঘাত, পছন্দ বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য (সন্তানের ভালোমন্দ বিষয়ে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা বা সন্দেহ), ক্যারিয়ার নিয়ে সমস্যা (কোনো একজন হয়তো অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী), জীবনের অতিরিক্ত চাহিদা, অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি সমস্যা নিয়েই তাঁর কাছে আসেন বেশির ভাগ দম্পতি। এ ক্ষেত্রে পরামর্শগুলো হয় এমন:
 কথাবার্তা বা মেলামেশায় উদারতা বজায় রাখা
 সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা বজায় রাখা
 সঙ্গীর প্রতি অভিযোগের আঙুল তোলার আগে নিজের সীমাবদ্ধতা বা দোষত্রুটিগুলো মূল্যায়ন করা, নিজেকে কোথায় কতটা পাল্টানো দরকার তা বুঝতে শেখা
 ছোটখাটো সমস্যাকে বড় করে না দেখ
 দুজন মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবেই, তবে সেসব অমিলের মধ্যেই খুঁজতে হবে মিলগুলো, উপভোগ করতে হবে জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই।
হাজারটা প্রতিবন্ধকতা দাম্পত্যে আসতেই পারে। কিন্তু একটু চেষ্টা করলেই এই সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা নির্ভর করে চর্চার ওপর। তাই কিছু জিনিসের চর্চা করলে দাম্পত্যে বিবাদ এড়িয়ে চলা সম্ভব।
 সঙ্গীকে ভালোবাসার কথা বলুন কারণে-অকারণে। এই বিষয়টি কিন্তু তার মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। সেই সঙ্গে ছোট্ট স্পর্শও হতে পারে হাজারটা কঠিন শব্দের বিকল্প। আমাদের দেশে এর চল নেই। প্রকাশ্যে আমরা সন্তানকেও আদর করতে সংকোচ করি, সেখানে সঙ্গী তো দূরের কথা। ধরুন, হাত ধরে রাস্তা পার হলেন। অফিসে যাওয়ার সময় কপালে একটা ছোট্ট চুমু…। এই স্পর্শে অন্য কিছু নয় বরং সম্পর্কের গভীরতা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
 ছোটখাটো মিথ্যে কথা বললে এমন কিছু দোষ নেই, যদি দাম্পত্যজীবনে সুখ থাকে। স্বামী একটা শাড়ি নিয়ে এসেছেন, সেটা খুব বেশি পছন্দ না হলেও তাঁকে বলুন ভালো লেগেছে। স্ত্রী খুব আগ্রহ নিয়ে রান্না করেছেন, খেতে বেশি ভালো না লাগলেও প্রশংসা করুন। এতে কোনো ক্ষতি নেই বরং দাম্পত্যে এমন ব্যবহার প্রয়োজনীয়।
 কোনো একটা কিছু মনের মধ্যে চেপে নিয়ে বসে থাকার দরকার কী? বরং খুলে বলুন। আলোচনা করুন। স্পষ্টবাদী হয়ে উঠুন। স্পষ্ট করে বলুন। বোঝান কী চান। কী সমস্যা। দেখবেন সমাধান হাতের কাছেই আছে।
 আজকাল সবাই অনেক ব্যস্ত। কথা বলার অবকাশই নেই। আর এ থেকেই শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি। সময় বের করুন কথা বলার, নিজেকে ব্যক্ত করার। প্রয়োজনে ঘরের বাইরে চলে যান। রোজকার তেল-নুনের হিসাব বাদ দিয়ে কী বই পড়লেন, কোন সিনেমাটা দেখা যায়, তা নিয়েই আলোচনা করুন।
 ঝগড়া হবেই—এমনটা সবাই বলে থাকেন। যদি হয়, তবে সে ক্ষেত্রেও মাথা ঠান্ডা রাখুন। পরে পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে বুঝিয়ে বলুন, প্রতিবাদ করুন।
কিন্তু একদমই চুপ করে যাবেন না। অনেকে চুপ করে যান। একেবারেই। পরেও কোনো কথা বলেন না। সেটা কিন্তু বিরাট ভুল। মনে রাখতে হবে, এ রকম চুপ করে যাওয়া যেমন ঠিক না, তেমনি নিজেদের সমস্যায় তৃতীয় ব্যক্তির (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছাড়া) হস্তক্ষেপ যেন না হয়। কখনোই সম্পর্কের তিক্ততা অন্যের সামনে প্রকাশ করবেন না।
 কোনো বন্ধুর জন্য দাম্পত্যে সমস্যা বাড়াবেন না। বন্ধু ও জীবনসঙ্গী দুজনের স্থান ভিন্ন। এই বিষয়টি নিজেও মনে রাখবেন এবং সঙ্গীকেও বুঝিয়ে দেবেন।
 সঙ্গীকে বিশ্বাস করাই সম্পর্কের ভিত। একে অপরের বিষয়ে জানাটাও জরুরি।
তাই কী করছেন-না করছেন, পরস্পরকে জানান। এতে বিশ্বাস বাড়বে। না হলে নির্ভেজাল ঘটনাকেও জটিল মনে হবে।

-ফারহানা আলম