বিয়ে – অতনু বর্মণ

রবি ঠাকুর প্রিয়নাথ সেনকে নিজের বিয়ের নেমন্তন্ন জানিয়ে যে চিঠি লিখেছিলেন তার মাথায় লিখিত ছিল – ‘আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়’। বিয়ে এমনই এক লঘু রসের সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে বাঙালি মানসে। খ্যাতিমান থেকে অখ্যাত সকলের কাছেই বিয়ে এক অনিবার্য রসিকতা। আমার এক বন্ধু বলেছিলেন – ‘ভাই হে আর যাই কর, বিয়ে কর না’। বন্ধুকে বলেছিলাম, ‘নিজে তাহলে বিয়ে করলে কেন’? উত্তরে বন্ধুবর কাঁচুমাঁচু মুখে বলেছিলেন – ‘আর করব না’।

দাশুরায় সেই কবে গান বেঁধেছিলেন – ‘সংসার রাঙা ফলে ভুলিও না আর। মিছে মায়া ভুমণ্ডলে অসার অপার’। ছেলেবেলায় সংস্কৃত পণ্ডিত জিজ্ঞেস করেছিলেন উদ্বাহন শব্দটির অর্থ কি? কিছু না ভেবেই বলেছিলাম – গলায় দড়ি। উদ্বন্ধন শব্দটির সঙ্গে হয়তো মিল পেয়েছিলাম। পরে অবশ্য জেনেছি উদ্বাহন মানে বিয়ে। এইরকমই আর একটি শব্দ আছে – পাত্রসাৎ। শব্দটিকে আমার আত্মসাৎ শব্দের যমজ ভাই বলে মনে হয়। বরং পাণিপীড়ন শব্দটিকেই যথেষ্ট অর্থবহ মনে হতে পারে বিয়ের সার্থক প্রতিশব্দ হিসাবে। অবশ্য পীড়ন শব্দটি আছে বলেই। তবু বিয়ের ফুল ফোটে। প্রজাপতির নির্বন্ধে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানায় মোক্ষম ভুক্তভোগী ছেলে-মেয়ের বাপ। এসো, তোমরা খেয়ে-দেয়ে এই নবদম্পতির ভবিতব্যটিকে পোক্ত করে যাও। মালাবদল হয়, কোন কোন সম্প্রদায়ে মালার বদলে কণ্ঠিবদল। তারা বরং অনেক প্র্যাকটিক্যাল। ফুলকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলানোর বদলে তারা শুকনো কাঠিকে সে দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। গাঁটছড়া বাঁধা হয়। শুরু হয় গাঁটে গাঁটে বহনের যন্ত্রণা। ঘর বাঁধে মিঞা আর জরু।

আগে বাঙালি জীবনে বিয়ের অনুষঙ্গ ছিল ঘটক বিজড়িত। ঘটকালি ছিল বড় মজাদার পেশা। সেইসব ঘটকরা চিরকালই বাংলা সাহিত্যে কমিক চরিত্রের ভূমিকা পালন করে এসেছেন। মুকুন্দর চণ্ডীমঙ্গল থেকে এই সেদিন পর্যন্ত ঘটক ছিল সাহিত্যের অনিবার্য চরিত্র। তাঁরা আর নেই। ফাঁসুড়েদের আর প্রয়োজন হয় না, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা স্বয়ং জাটিঙ্গার পাখির মতো বিবাহানলে ঝাঁপ দেয়। ঘটকের মতো কত শব্দই যে বাতিল হয়ে গেল ও যাচ্ছে বাঙালির জীবন থেকে। পাকা কথা, পাটিপত্র, আশীর্বাদ, যোটক বিচার, আইবুড়োভাত, ননদ পুঁটুলি ইত্যাদি শব্দ ধীরে ধীরে আরও অপরিচিত হবে নতুন প্রজন্মের কাছে। বাঙালির বিবাহকেন্দ্রিক সংস্কৃতি পরিবর্তমান। নতুন নতুন শব্দাগমন কয়েক দশকের মধ্যে জায়গা দখল করেছে। যথা – ক্যাটারার, পার্লার, বিউটিশিয়ান, রেজিস্টার, ডেকোরেটর, লাইটম্যান, ম্যাট্রিমনি ডট কম ইত্যাদি ইত্যাদি। নামবদল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মালাবদলটি একই আছে। ফলত এ সেই ‘ফুটা পাত্রে জল ঢালা দিবারাত্রে। বৃথা চেষ্টা তেষ্টা ‍মেটাবার’।

তবুও বিয়ে নিয়ে বাঙালির ইয়ের অন্ত নেই। প্রেম করে বিয়ে নাকি বিয়ে করে প্রেম – এই উত্তরটি জানার জন্য প্রাণ হাঁকুপাঁকু করে। যদিও দুটোই প্রায় সমান সমান। আমাদের প্রাণকেষ্টবাবু যেমন বলেছিলেন – ‘তুমি দিব্যি ছিলে, একটা সাপ এসে তোমাকে ছোবল দিল – এটা হল সম্বন্ধ করে বিয়ে, আর সাপটা দিব্যি ছিল, তুমি তার লেজে পা দিয়ে ছোবল খেলে – এটা হল প্রেম করে বিয়ে। যেভাবেই কর না কেন, করেছ তো বাপু বিয়েই’।

বাঙালি জানে এককথায় বিয়ে হয় না। অন্তত সম্বন্ধ করে বিয়ে তো নয়ই। কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে অথবা বিজ্ঞাপন দেখে প্রথমে লিস্ট বানানও। চিঠি অথবা ফোনাফুনি। তারপর দেখাদেখি। পছন্দ হলে পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে হবু কনে বা বরের চাল-চলন নিয়ে চিরুনি-তদন্ত। ইদানীং আবার এর পরে হবু পাত্র-পাত্রীর একটু-আধটু ঘোরাঘুরিও যুক্ত হয়েছে। একে অপরকে চিনে নাও, জেনে-বুঝে নাও বাপু তারপর সিদ্ধান্ত নিও। পরে কিচাইন হলে যেন বাপ-মা’কে শাপশাপান্ত না করতে পারে তার যথোপযুক্ত প্রিকশান নেওয়া। সব দিক দেখেশুনে বিয়ে তো হয় কিন্তু তাতেই কি সব সমস্যা মেটে, বরং সমস্যা বাড়ে। আমার এক লেখক বন্ধু বলেছিলেন – ‘তুমি তোমার বউকে কতটা ভালবাস, তার ওপর বিবাহিত জীবনের সুখ-শান্তি নির্ভর করে না, তুমি যাদেরকে বিয়ে করলে না, নির্ভর করে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর’। কত ধুমধামের বিয়ে যে শেষ পর্যন্ত ৪৯৮ ঘাটের জল খেয়ে হাজতে ঢোকে তার কোনও পরিসীমা নেই।

আসলে বিয়ে হল অনেকটা তিন-পায়ে দৌড়ের সমগোত্রীয়। বাঁধা পা দু’টো একসঙ্গে আগে ফেলতে হয়। এক ছন্দে দৌড়তে পারলে দিব্যি দৌড়বে, কোনও ঝামেলা নেই। যে যার মতো দৌড়তে গেলেই হুমড়ি খাবে দু’জনেই। সুতরাং হয় নিয়ম মেনে পা ফেলে ছোটো, নয়তো দড়িটা খুলে ফেলে যে যার নিজের পথে হাঁটো। অবশ্য আজকাল বিয়ে না করেও একসঙ্গে থাকা যায়, যার পোশাকি নাম লিভ টুগেদার। সে কাসুন্দি অন্য একদিন ঘাঁটা যাবে, আপাতত দেখুন আজকের ডাকে কোনও বিয়ের চিঠি এল কি না। মানুষ বংশ রক্ষার জন্য বিয়ে করে কিন্তু নেমন্তন্ন রক্ষার জন্য যে বাঁশটা দেয় সেটা আগে সামলান। নিদেনপক্ষে ৫০০ টাকার নিচে কি গিফ্ট দেওয়া যায়!

টুইটারে বিয়ে!

বন এখন প্রযুক্তি নির্ভর। তাহলে বিয়েটাই বা কেন আটকে থাকবে সেকেলে পদ্ধতিতে। তাই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করেই আইপ্যাডে টুইটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন তুরস্কের ইস্তাম্বুল নগরীর এক যুগল।   দুজনের হাতে দুই আইপ্যাড। বিয়ের সাজে পাশাপাশি বসে আছে বর আর কনে। এরপর আইপ্যাডে বিয়ের প্রতিশ্র“তি বাক্যে টুইট করে বিয়ের কাজটি সেরে নিয়েছেন তারা। এটিই বিশ্বে টুইটারে প্রথম বিয়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ বিয়ের বর হচ্ছেন ইস্তাম্বুলের উসকুদার এলাকার জেনগিজান জেনিক ও কনে জানদাল চেলিক। বর জেলিক একটি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইটের স্যোসাল মিডিয়া এডিটর বলে জানিয়েছে তুরস্কের দৈনিক ‘মিল্লিয়েত ’।

আর সাধারণত স্থানীয় ধর্ম গুরুরাই বিয়ে পরিচালনা করে থাকেন। কিন্তু এ বিয়েতে এক্ষেত্রেও ছিল ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাদের বিয়ে পরিচালনা করেছেন উসকুদারের মেয়র মুস্তফা কারা। কারা তাদের টুইট করে জিজ্ঞাসা করেন তারা কি নিজেদের আইনগতভাবে স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চায়? তারপর ‘আমি রাজি’ এই বলে পাল্টা টুইট করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন জেনিক ও চেলিক। এরপর চেলিকের হাতে বিয়ের সনদ তুলে দিয়ে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন মেয়র।  ইস্তাম্বুলের একটি হোটেলে সোমবার অনুষ্ঠিত এ বিয়েতে হাজার হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবাই এলসিডি মনিটরে বিয়ের আনুষ্ঠানিতা উপভোগ করেন। সুত্রঃ বিডি নিউজ ২৪

ক্যানসারের দাওয়াই বিয়ে!

ক্যানসার মরণব্যাধি হিসেবেই পরিচিত। ব্যয়বহুল চিকিত্সা আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই কাটাতে হয় ক্যানসার-আক্রান্ত ব্যক্তিকে। তবে ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন একটি জাদুকরী ওষুধের সন্ধান দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের মতে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, ক্যানসার মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্যানসার-আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিবাহিতদের দীর্ঘদিন বাঁচার সম্ভাবনা অবিবাহিতদের তুলনায় অনেক বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন এই গবেষকেরা।

২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ১৬৮ জন রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। এর মাধ্যমে দেখা গেছে, যাঁরা বিবাহিত, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশ অবিবাহিতদের তুলনায় প্রায় তিন বছর বেশি বাঁচেন। ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘদিন বাঁচার জন্য প্রয়োজন নিয়মমাফিক জীবনযাপন, পর্যাপ্ত চিকিত্সা-ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় যত্ন।
ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকদের মতে, এটাই ব্যাখ্যা করে বিবাহ কীভাবে ক্যানসার মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণা দলের প্রধান এলিজাবেথ নিকোলাস বলেছেন, ‘বৈবাহিক অবস্থা ক্যানসার মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। কেন এমনটা হয়, সেটা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা কঠিন। কিন্তু আমাদের গবেষণা থেকে দেখা গেছে, সামাজিক সহায়তা ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বাস করি, যে রোগীরা ভালো সামাজিক যত্নআত্তি পাবেন, তাঁরা ক্যানসার মোকাবিলা করে বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারবেন।’

ক্যানসার মোকাবিলার জন্য নতুন ওষুধ খুঁজে বের করার পাশাপাশি সামাজিক সহযোগিতা কীভাবে এই মরণব্যাধি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেই বিষয়ে গবেষণা হওয়াও জরুরি বলে মনে করেন নিকোলাস। এএনআই।

ঠোঁটের পরিচর্যা

ঠোঁট হবে আকর্ষণীয়, এটাই সবার কাম্য। কিন্তু ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় চামড়া ওঠা, ফাটাভাব ও কালচে হওয়া খুবই নিয়মিত সমস্যা। ঠোঁট মিউকাস মেমব্রেন দ্বারা আবৃত। ঠোঁটের ত্বক খুবই নরম ও সেনসেটিভ। ঠোঁটে কোনও তেলগ্রন্থি’ থাকে না। তাই বাইরের আবহাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা ঠোঁটের জন্য বেশ কঠিন। ঠাণ্ডা-গরম, সূর্যরশ্মি, দূষণ সবই ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ঠোঁট কামড়ানো বা জিভ দিয়ে ঠোঁট বারবার ভেজানোও ক্ষতিকর।

অপ্রয়োজনীয় প্রসাধন:
অপ্রয়োজনীয় প্রসাধন ঠোঁটকে শুষ্ক করে তোলে। সাময়িক সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রসাধন ব্যবহার করবেন না।

টুথপেস্ট:
টুথপেস্ট আমাদের ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে দু’বেলা। তাই যথাযথ টুথপেস্ট ব্যবহার না করলে ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে।

লিপস্টিক:
লিপস্টিকের কারণে ঠোঁটে অ্যালার্জি ও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। তাই আপনার ঠোঁটে যে কোম্পানির লিপস্টিক কোনও প্রতিক্রিয়া করবে না, সেটাই ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে দামী কোম্পানির লিপস্টিক ব্যবহার করা ভালো।

লিপ বাম ও চ্যাপস্টিক:
ফাটা ঠোঁটের জন্য লিপ বাম ও চ্যাপস্টিক প্রয়োজন। এটা ঠোঁট কোমল ও মসৃণ করে। তবে অতি সুগন্ধিযুক্ত ও রসযুক্ত চ্যাপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।

সাবান:
ঠোঁটের ত্বক সংবেদনশীল বলেই ঠোঁটে সাবান দেবেন না। চোখের চারপাশ এবং ঠোঁটে সাবান ব্যবহার করলে ক্ষতি হয়।

ধুমপান:
ধুমপান ঠোঁটের ত্বকের ক্ষতি করে ও কালচেভাব আনে।

ভিটামিন বি এর অভাব:
ভিটামিন বি এর অভাবে ঠোঁট ফেটে যেতে পারে ও ঠোঁটের কোণে ঘা হতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

ত্বকের অসুখ:
ত্বকের অসুখ যেমন একজিমা, অ্যালার্জি ইত্যাদির কারণেও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। এতে চিকিৎসার প্রয়োজন।

শুষ্ক ঠোঁটের যত্ন:
ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ইমোলিয়েন্ট, পেট্রোলিয়াম জেলি, কোল্ডক্রিম ইত্যাদি ঠোঁটে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
– যথাযথ লিপস্টিকও কিন্তু ঠোঁটের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে। তবে এক্ষেত্রে লিপস্টিকের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ভিটামিনসমৃদ্ধ ও অয়েলবেসড লিপস্টিক ঠোঁটের জন্য ভালো। তবে লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটের ক্ষতি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
– প্রয়োজনে যে টুথপেস্ট ব্যবহার করছেন তা বদলে ফেলুন। লক্ষ্য রাখবেন, সাদা রঙের টুথপেস্ট সাধারণত ভালো হয় ঠোঁটের জন্য।
– সাবান ও ফেসওয়াশ ঠোঁটে লাগাবেন না।
– সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
– পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন ব্যবহার করুন। যতক্ষণ বাড়িতে থাকবেন ঠোঁটে ভেসলিন লাগাবেন। এছাড়া সূর্যমুখী তেল ঠোঁটের জন্য খুব ভালো। এটা দিনে কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ভেসলিন লাগাতে ভুলবেন না।
– ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে ভেজাবেন না বা ঠোঁট কামড়াবেন না।
– ঠোঁটের মেকআপ ওঠাবার জন্য তুলোয় ভেসলিন লাগিয়ে আলতো ঘসে তুলবেন। কখনও লিপস্টিক লাগানো অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন না।
– ভিটামিন, প্রচুর সবুজ শাক-সবজি ও ফল খাবেন।
– বিশেষ সমস্যা হলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন

তথ্যঃ স্বাস্থ্য বাংলা

ত্বক যখন তৈলাক্ত

একটুতেই ত্বক তেলতেলে হয়ে যায়। কখনো কখনো দেখা দেয় ব্রণের উপদ্রব। এমন সমস্যা তৈলাক্ত ত্বকে বেশি। সমস্যা নিয়ে বসে থাকলে তো হবে না। সমাধানও আছে।রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘তৈলাক্ত ত্বকে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। তবে এ ধরনের ত্বকের সুবিধা হলো সহজে বয়সের ছাপ পড়ে না। আর যেসব সমস্যা হয় সঠিকভাবে পরিষ্কার করলে অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।’ তৈলাক্ত ত্বকের যত্নের কথা জানিয়েছেন তিনি।

মুখের যত্ন:
তৈলাক্ত ত্বকে লোমকূপ বড় হয়ে যায়। তেল জমে সেসব বন্ধ হয়ে ব্রণও ওঠে। তাই প্রতিদিন ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। বাড়িতে বসেই ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। শসার রস তৈলাক্ততা দূর করতে খুবই কার্যকর। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে শসার রস দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। এ ছাড়া স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে এর সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিলেই হবে। যাঁদের মধুতে অ্যালার্জি নেই, তাঁরা সামান্য মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন এই মিশ্রণে। সপ্তাহে দুই দিন এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হবে। ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস দূর হয়ে যাবে। খেয়াল রাখতে হবে, ব্রণ থাকলে স্ক্রাব করা যাবে না।

অন্যান্য প্যাক:
শসার রসের সঙ্গে কর্নফ্লাওয়ার বা লাল আটা মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি মুখে ও গলায় ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। লোমকূপ বড় দেখানোর সমস্যা হলে একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে। এ জন্য ডিমের সাদা অংশ মুখে লাগিয়ে এরপর টিস্যু পেপার চেপে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ধীরে ধীরে টিস্যু পেপার তুলে পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে ফেলুন। ত্বকে টানটান ভাব চলে আসবে। নিয়মিত ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা) জেল দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা যেতে পারে। ত্বকের জন্য এটি অনেক উপকারী। দিনে তিনবারের বেশি ফেসওয়াশ বা ক্লেনজার ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রসাধন থেকে শুরু করে ফেসওয়াশ—সব হতে হবে তেলমুক্ত।

চুলের যত্নে:
তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীদের মাথার ত্বকও তেলতেলে হয়। ময়লা জমে বেশি। নিয়মিত যাঁদের বাইরে বের হতে হয়, তাঁরা প্রতিদিন মৃদু ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। তা না হলে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন শ্যাম্পু করা উচিত। অনেক সময় তৈলাক্ত ত্বকের চুলেও রুক্ষতা দেখা দেয়। তখন কন্ডিশনার দিতে পারেন। অন্য সময় এটি ব্যবহার করার দরকার নেই। সপ্তাহে এক দিন নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে চুলে মালিশ করুন। এরপর তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে চেপে নিয়ে সেটি মাথায় ১০ মিনিট পেঁচিয়ে রাখুন। এতে চুলের গোড়া মজবুত হবে। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

হাত-পায়ের যত্নে:
শসার রস, গাজরের রস, চালের গুঁড়া, দুধ ও এক চা-চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। সপ্তাহে অন্তত দুইবার হাত-পায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে এই প্যাক।

মৃতের কাছ থেকে বিয়ের প্রস্তাব!

বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বের শিল্প-সাহিত্যে গল্পগাথার শেষ নেই। প্রিয় মানুষকে বিয়ের বন্ধনে বাঁধতে বিভিন্ন অদ্ভুত ও আশ্চর্য উপায়ে প্রস্তাব পেশ করার নজির আছে সব সমাজেই। কিন্তু, সম্প্রতি এক রাশিয়ান যুবক যা করেছেন, তাতে সবার আক্কেল গুড়ুম। প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে নিজে মরে যাওয়ার অভিনয় করে ঝালাই করে নিয়েছেন তাঁর প্রতি প্রেমিকার আস্থা ও ভালোবাসা ঠিক কী পরিমাণ।

জি নিউজের এক খবরে বলা হয়, অ্যালেক্সি বাইকভের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিয়ের পর তাঁর প্রেমিকা ইরিনা কলোকভের সঙ্গে পুরো জীবন কাটানোর আগে এটা পরীক্ষা করে নেওয়া, ইরিনা তাঁকে সত্যি কতটা ভালোবাসেন। এ জন্য ৩০ বছর বয়সী অ্যালেক্সি একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, একজন স্টান্টম্যান ও একজন মেকাপ শিল্পীকে ভাড়া করেন। তাঁরা সবাই মিলে পথের পাশে একটি ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ সাজান। ওই জায়গায়ই অ্যালেক্সি ও ইরিনার দেখা করার কথা ছিল। সেখানে শিল্পী-পরিচালকেরা গাড়ি দুর্ঘটনায় অ্যালেক্সির মৃত্যুর দৃশ্য মঞ্চায়ন করেন।

ইরিনা তাঁদের আগে থেকে ঠিক করা ওই স্থানে গেলে দেখতে পান, দুর্ঘটনাকবলিত একটি গাড়ি আর কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের ছোটাছুটি। তিনি বলেন, ‘ওখানে পৌঁছেই আমি দেখি রক্তভেজা অ্যালেক্সির দেহ রাস্তায় পড়ে আছে। একজন প্যারামেডিক আমাকে জানান, ও মারা গেছে। আমি সেখানেই কান্নায় ভেঙে পড়ি।’ যখন ইরিনা এভাবে কাঁদছিলেন, তখন অ্যালেক্সি উঠে এসে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ইরিনা সে প্রস্তাব মেনেও নেন। গত সপ্তাহে তাঁরা বিয়ে করেছেন।

সুত্রঃ প্রথম আলো

ঐতিহাসিক রায়
বিবাহবহির্ভূত সন্তান সম্পত্তির উত্তরাধিকারী

গত বছরের ৩১ মার্চ একটি যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রিভানাসিদ্ধাপা ও অন্যান্য বনাম মালিক অর্জুন ও অন্যান্য ২০১১ মামলার রায়ে বলা হয়, ‘আইনগত বিবাহবহির্ভূত সন্তান বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে এবং পিতামাতার অর্জিত ও পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।’ আপিল বিভাগের এ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ (বৃহত্তর বেঞ্চ) বরাবর মামলার নথিপত্র প্রেরণ করা হয়। যে ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এ রায় প্রদান করেন, তার সূত্রপাত ঘটে ভারতের কর্ণাটকে। মামলার বাদীপক্ষে ছিলেন মালিক অর্জুনের প্রথম স্ত্রী ও তাঁর দুই সন্তান আর বিবাদীপক্ষে ছিলেন মালিক অর্জুন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তান। বাদীপক্ষ পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত যৌথ অংশীদারি সম্পত্তিতে তাদের অংশ দখলের দাবিতে কর্ণাটকের বিচারিক আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে। মামলায় বাদীপক্ষ দাবি করে, তিনি বিবাদীর বৈধ স্ত্রী এবং তাঁর দুই সন্তানসহ বিবাদীর সঙ্গে অংশীদারি সম্পত্তির অংশীদার। সেই সঙ্গে তিনি আরো দাবি করেন যে বিবাদীর দ্বিতীয় বিবাহ অবৈধ। কারণ তাঁর প্রথম বিবাহ বর্তমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ ও তাঁদের সন্তানের জন্ম হয়েছে, যার ফলে তারা অংশীদারি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে না।

কর্ণাটকের বিচারিক আদালত বাদীর দাবির পক্ষে রায় প্রদান করে বলেন, বিবাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানরা অবৈধ। কারণ প্রথম স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় বিবাদী দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে বাদীপক্ষ দাবীকৃত সম্পত্তির অংশীদার এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানরা ওই সম্পত্তির অংশীদার নন। বিবাদীপক্ষ অর্থাৎ মালিক অর্জুন ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তান ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। উচ্চ আদালত বিচারিক আদালতের রায়ের বিপরীতে হিন্দু বিবাহ আইন ১৯৫৫-এর ১৬(৩) ধারা উল্লেখ করে বলেন, বিবাহবহির্ভূত সন্তান বৈধ সন্তান হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যৌথ পারিবারিক সম্পত্তির অংশ দাবি করতে পারবেন। এ রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাদীপক্ষ অর্থাৎ মালিক অর্জুনের প্রথম স্ত্রী ও তাঁর সন্তানরা হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম আপিল করেন। আপিলের রায়ে বলা হয়, যেহেতু দ্বিতীয় বিবাহ ও তাঁর সন্তানরা অবৈধ, সেহেতু অবৈধ সন্তানরা ‘জন্মসূত্রে’ যৌথ অংশীদারি সম্পত্তির অধিকারী নন। সন্তানরা শুধু পিতা-মাতার অর্জিত সম্পত্তির অধিকারী হবেন। আদালত সেই সঙ্গে আরো বলেন, বিবাদীর দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানরা পিতার মৃত্যুর পর সম্পত্তির অংশীদার হবেন। ওই প্র্রেক্ষাপটে বিবাদীপক্ষ অর্থাৎ মালিক অর্জুনের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানরা আপিল বিভাগে বর্তমান দ্বিতীয় আপিলটি করেন। রায়ে বিচারক জি এস সিংভি ও এ কে গাঙ্গুলি ঘোষণা করেন, ‘আইনগত বিবাহবহির্ভূত সন্তান বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হবেন এবং পিতা-মাতার অর্জিত ও পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।’ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ (২ নম্বর আদালত) যেসব পর্যবেক্ষণ ও আইনের বিধানের পরিপ্রেক্ষিতে রায় প্রদান করেন তা হলো : পূর্ববর্তী আদালতগুলো হিন্দু বিবাহ আইনের ১৬(৩) ধারাকে অনেক সংকীর্ণ অর্থে দেখেছেন। ১৯৭৬ সালে হিন্দু বিবাহ আইনে ১৯৫৫-এর ১৬ ধারা সংশোধিত হয়। সংশোধিত ১৬(১) ও (২) ধারায় বিবাহবহির্ভূত সন্তানকে বৈধ সন্তানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৬(৩) ধারায় উলি্লখিত ‘সম্পত্তি’ অর্জিত, না শরিক, না পৈতৃক সম্পত্তি তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ১৬(৩) ধারা অনুযায়ী সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে বিবাহবহির্ভূত কোনো সন্তানের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। এর পরও এ ধারার একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশোধিত ১৬ অনুযায়ী বিবাহবহির্ভূত সন্তান বৈধ সন্তানের মতো পিতা-মাতার জীবদ্দশায় পৈতৃক বা অংশীদারি সম্পত্তির অংশ দাবি করতে পারেন না। কেবল পিতার মৃত্যুর পর তা দাবি করতে পারেন।

রায়ে আদালত হিন্দু বিবাহ আইন সংশোধনের দর্শনগত দিকটিও ব্যাখ্যা করেন। তাতে বলা হয়, সমাজে অতীতে যা অবৈধ ছিল বর্তমানে তা বৈধ হতেও পারে। কারণ সামাজিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বৈধতার ধারণা এগিয়ে যায়। আর আইনের কাজ হচ্ছে সমাজের এই পরিবর্তনগুলো সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা। এ ক্ষেত্রেও বলা যায়, পিতা-মাতার সম্পর্ক আইন দ্বারা অনুমোদিত নাও হতে পারে, কিন্তু সন্তানের জন্মকে পিতা-মাতার স্বাধীন সম্পর্কের ভিত্তিতে দেখতে হবে এবং এ ধরনের সম্পর্কের ভিত্তিতে জন্মগ্রহণকারী সন্তান বৈধ সন্তানের মতো অধিকার ভোগ করবে। পাশাপাশি ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা আছে, প্রত্যেক ব্যক্তি মর্যাদা, অবস্থান ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমান অধিকার পাবে। সংবিধানের ৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদে আরো বলা আছে, রাষ্ট্র কর্তৃক আইন তৈরির সময় সংবিধানে উলি্লখিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৩৯(ঙ) ও ৩০০(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, আইন দ্বারা কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তির অধিকারবঞ্চিত করা যাবে না। সুত্রঃ কালের কন্ঠ

প্লাস্টিক সার্জারি কি ?

এক ধরনের শল্য চিকিৎসার নাম প্লাস্টিক সার্জারি। এই চিকিৎসার ফলে জন্মগত বা কোনো দুর্ঘটনায় বিকৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাইরের চেহারা পরিবর্তন করা যায়। মুখে বসন্তের দাগ বা অন্য কোথাও কাটা, পোড়া এসবের খুঁত স্বচ্ছন্দে প্লাস্টিক সার্জারি করে দূর করা যায়। আপনারা গন্নাকাটা রোগী বোধহয় দেখেছেন। সাধারণত এদের ওপরের ঠোঁটের এক জায়গায় কাটা থাকে। প্লাস্টিক সার্জারিতে এমন চমৎকার মেরামত হয়ে যায়, আর ধরার উপায় থাকে না।

দেহের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য যে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয় তাকে প্রসাধনিক শল্যচিকিৎসা (পড়ংসরপ ংঁৎমবৎু অথবা নবধঁঃু ংঁৎমবৎু) বলে। মুখে বসন্তের দাগ বা কুঁচকানো চামড়া এসবই দূর করা যেতে পারে।

চোখের পাতা, ঠোঁট, নাক সব কিছুই প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্যে পরিবর্তন করা যায়। কয়েক হাজার বছর আগে ভারতবর্ষেও প্লাস্টিক সার্জারির প্রচলন ছিল। সেকালে কিছু অপরাধীর নাক কেটে সাজা দেওয়া হত। প্লাস্টিক সার্জনরা ঝটপট গাল বা অন্য কোথাও থেকে চামড়া কেটে সেখানে বসিয়ে দিয়ে নতুন আস্ত নাক গড়ে তুলতে পারতেন। বর্তমান যুগে প্লাস্টিক সার্জারি অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরম্ভ হয়েছে। কিন্তু প্লাস্টিক সার্জারি কিভাবে করা হয় তা কি কেউ জানেন? যে জায়গাটা মেরামত করা দরকার ঠিক সেই আকারের চামড়া শরীরের অন্য এক জায়গা থেকে কেটে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়। এর জন্য দুই পরত মাত্র চামড়া নেওয়া হয়, যাতে তাদের কোষ চটপট বেড়ে ওঠে আক্রান্ত জায়গাটা বেমালুম সারিয়ে তুলতে পারে। আজকাল যে কোনো বড় শহরের সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে প্লাস্টিক সার্জারির সুযোগ রয়েছে। নিছক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্যও দলে দলে লোক প্লাস্টিক সার্জারির সাহায্য নেন।

তালাক, একে-অপরের বিরুদ্ধে মামলা ও তার ফলাফল

আইনের ভাষায় তালাক হচ্ছে ‘বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করা অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একত্রে বসবাস করা উভয়ের পক্ষেই বা যে কোন এক পক্ষের সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে তারা নির্দিষ্ট উপায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।’

সুমির (ছদ্ম নাম) দাম্পত্য জীবনে এমনটিই ঘটেছিল। অবশেষে তিনি তার স্বামীকে তালাক প্রদান করেন। কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া ছিল। সেই অধিকারের ভিত্তিতে সুমী স্থানীয় কাজি অফিস থেকে তালাকের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তালাকনামা স্বামীর বরাবর পাঠিয়ে দেন। কিন্তু স্বামীর বসবাসরত স্থানীয় চেয়ারম্যান অফিসে পাঠানো হয়নি কোনো তালাকের কপি। সুমীর এ বিষয়টি জানা ছিল না। স্থানীয় কাজি অফিস থেকেও পাঠানো হয়নি কোনো কপি।

কিন্তু আইন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ একে অপরকে তালাক দিতে চাইলে তাকে যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্রই সম্ভব স্থানীয় ইউপি/পৌর/সিটি মেয়রকে লিখিতভাবে তালাকের নোটিশ দিতে হবে এবং তালাক গ্রহীতাকে উক্ত নোটিশের নকল প্রদান করতে হবে। চেয়ারম্যান/মেয়র নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তালাক বলবৎ হবে না। কারন নোটিশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান/মেয়র সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোষ বা সমঝোতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সালিশী পরিষদ গঠন করবে এবং উক্ত সালিশী পরিষদ এ জাতীয় সমঝোতার (পুনর্মিলনের) জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই  অবলম্বন করবে।

সুমী তালাকনামায় যেদিন স্বাক্ষর করেন, সেদিন থেকে পার হয়ে যায় দুই মাস। এর মানে ৯০ দিন ইদ্দতকাল পালন হতে হলে আর মাত্র এক মাস অপেক্ষা করতে হবে। সুমীর স্বামী আইনি দুর্বলতার সুযোগে এরই মধ্যে সুমীকে তার কাছে ফিরে পেতে পারিবারিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলাটির নাম দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলা। এই মূল মামলাটি করার এক সপ্তাহ পর সুমীর স্বামী একই আদালতে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন এই মর্মে যে, সুমী যাতে অন্য কোথাও বিয়ে না করতে পারেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সুমী ও তার বাবাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আপত্তি দাখিলের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে তাদের ঠিকানায়  সমন পাঠিয়ে দেয়।

সমন হাতে পেয়ে সুমীর চেহারায় দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। তার বাবাও হয়ে পড়ে বিধ্বস্ত। কারন এক মাসে দুটি সমন তারা পান। একটি দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলার লিখিত জবাব দাখিলের জন্য, আরেকটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আপত্তি দাখিলের জন্য।

দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলায় বিবাদী করা হয়েছে তিনজনকে। প্রথম বিবাদী সুমীর বাবা, দ্বিতীয় বিবাদী তার মা এবং তৃতীয় বিবাদী সুমী নিজে। আরজিতে সুমীর স্বামীর অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে জোর করে তালাক দিতে বাধ্য করেছেন তার বাবা। এখন তিনি তাকে নিয়ে ঘর করতে চান। কিন্তু সুমীর ভাষায়, তার স্বামী দুশ্চরিত্রের লোক। নানাভাবে অত্যাচার করত। বাইরে মদ আর নারী নিয়ে ব্যস্ত থাকত। জুয়া খেলত। স্ত্রী আর তার মেয়ের প্রতি কোনো খেয়াল রাখত না। এমন পাষণ্ড আর নির্দয় লোকের সঙ্গে ঘর করার চেয়ে একা থাকা ভালো-এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বাধ্য হয়ে তাকে তাকে তালাক দিই।

সুমী যাতে অন্য কোথাও বিয়ে না করতে পারেন এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনে সুমীর স্বামীর অভিযোগ ‘বিবাদীগণ পরস্পর যোগসাজশে অন্যায় ও বেআইনিভাবে ৩ নম্বর বিবাদীকে অর্থাৎ তার স্ত্রীকে ইদ্দতকালীন সময়ের মধ্যেই অন্যত্র পুনঃবিবাহ দেওয়ার জোর অপতৎপরতায় লিপ্ত হইয়া জনৈক চাকুরীজীবী পাত্র নির্বাচন করিয়া ফেলিয়াছেন এবং যেকোন সময় তার স্ত্রীকে উক্ত পাত্রের সহিত বেআইনীভাবে পুনঃবিবাহ সংঘটন করিতে পারেন।’

কিন্তু আইনের প্রশ্ন হচ্ছে, পারিবারিক আদালতে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন চলে কি না। মকবুল মাজেদ বনাম সুফিয়া খাতুন মামলায় (৪০ ডিএলআর ৩০৫, এইচসিডি) মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত এরকম যে, ১৯৮৫ সালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা হয়। পারিবারিক আদালতের অধ্যাদেশে করা সর্বপ্রথম মামলাটিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এতে স্বামী তাঁর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করে। আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদন অগ্রাহ্য করেন। পরে জেলা জজ আদালতে আপিল করা হলে আপিল নামঞ্জুর হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ তার রায়ে বলেন, ‘পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশে ২০ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা প্রয়োগ যোগ্য নয়।

অবশেষে সুমীর স্বামীর দায়ের করা মামলাটির শুনানি হলো। আদালত আদেশ দিলেন, ‘ইদ্দতকাল পর্যন্ত অর্থাৎ ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইতে পারিবে না এ মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর।’  সাধারণত আইন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ প্রেরণের পর ইদ্দতকাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না। এ সময় অন্যত্র বিয়ে করার ক্ষেত্রে আইনে নিষেধ আছে। আদালত ইদ্দতকাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ আইনের কার্যকারিতা আরও পাকাপোক্ত করলেন।

এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে মূল মামলাটির অর্থাৎ দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলাটির কী হবে?’  সহজেই বলা যায়, মূল মামলার জবাব দিতে হবে। মামলায় লড়তে হবে। শুনানিতে সুমী আদালতে উপস্থিত হয়ে বললেন, কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে তার তালাক প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া আছে। তিনি স্বেচ্ছায় এবং স্বজ্ঞানে তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। আর তিনি তার স্বামীর ঘর করতে চান না। বিজ্ঞ আদালত ওই দিনই মামলাটি খারিজ করে দিলেন। আইনত সুমীর মেয়েটি সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত মায়ের হেফাজতেই থাকবে।

১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনে অত্যন্ত— সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কি কি কারণে একজন স্ত্রী আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবে।

কারণগুলো হলোঃ

১. চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে।
২. দুই বৎসর স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে ব্যর্থ হলে।
৩. স্বামীর সাত বৎসর কিংবা তার চেয়েও বেশী কারাদ- হলে।
৪. স্বামী কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিত তিন বছর যাবৎ দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে।
৫. বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে।
৬. স্বামী দুই বৎসর ধরে পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে।
৭. বিবাহ অস্বীকার করলে। কোন মেয়ের বাবা বা অভিভাবক যদি ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেন, তাহলে মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারে, তবে যদি মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সর্ম্পক (সহবাস) স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনি কোন বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে।
৮. স্বামী ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লংঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে।
৯. স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে।

উপরে যে কোন এক বা একাধিক কারণে স্ত্রী আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে। অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব স্ত্রীর। প্রমাণিত হলে স্ত্রী বিচ্ছেদের পক্ষে ডিক্রি পেতে পারে, আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি দেবার পর সাত দিনের মধ্যে একটি সত্যায়িত কপি আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবে।

১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যান নোটিশকে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ হিসেবে গণ্য করে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিবে এবং চেয়ারম্যান যেদিন নোটিশ পাবে সে দিন থেকে ঠিক নব্বই দিন পর তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

স্বামীর আদালত স্বীকৃত নিষ্ঠুর ব্যবহার সমূহ

ক) অভ্যাসগতভাবে স্ত্রীকে আঘাত করলে বা নিষ্ঠুর আচরণ করলে, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়লেও, তার জীবন শোচনীয় করে তুলেছে এমন হলে।
খ) স্বামী খারাপ মেয়ের সাথে জীবনযাপন করলে।
গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করলে।
ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করলে।
ঙ) স্ত্রীকে ধর্মপালনে বাধা দিলে।
চ) একাধিক স্ত্রী থাকলে সকলের সাথে সমান ব্যবহার না করলে।
ছ) এছাড়া অন্য যে কোন কারণে (যে সকল কারণে মুসলিম আইনে বিয়ের চুক্তি ভঙ্গ করা হয়)।

লেখকঃ সাপ্তাহিক ‘সময়ের দিগন্ত’ পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক ও আইনজীবী জজ কোর্ট, কুষ্টিয়া।

লিখেছেনঃ অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক

ব্যাঙের বিয়ে

ব্যাঙ্গা ব্যাঙ্গির বিয়া কুলা মাথায় দিয়া ও ব্যাঙ্গ পানি আন গিয়া /খালও নাই পানি, বিলও নাই পানি/ আসমান ভাইঙ্গা পড়ে ফোটা ফোটা পানি/ আম পাতা দিয়া দিলাম ছানি জাম পাতা দিয়া দিলাম ছানি/ তেও (তবু) পড়ে মেঘের (বৃষ্টির) পানি……. গানটি সুর করে গাইছেন কিশোরী ও মহিলারা। বাড়িটিতে উৎসবের আমেজ। গ্রামের নানা বয়সী লোকজনের ভিড়, বাড়ির এক পাশে চলছে রান্না-বান্না। ছেলেমেয়েরা ছোটাছুটি করছে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া লোকজনও বাড়িটিতে কী হচ্ছে এক নজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছে।

হাওর পারের জামলাবাজ গ্রামে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। কী হচ্ছে_এমন প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল গ্রামের নির্মল সরকারের বাড়িতে ব্যাঙের বিয়ে হচ্ছে। বাড়িতে রান্না হচ্ছে, গ্রামবাসী ও অতিথিদের জন্য। ব্যাঙের বিয়ে দিলে বৃষ্টি হয় এ বিশ্বাস থেকেই এমন আয়োজন। সাজানো হয়েছে বিয়ের আসর। মাঝখানে দুটি গর্তে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে একটি নারী ও একটি পুরুষ ব্যাঙ। সেখানে আম পাতা ও জাম পাতার পানি দিয়ে গোসল করিয়ে বিয়ে দেওয়া হলো ব্যাঙ দুটিকে। পুরুষ ব্যাঙের অভিভাবক ছিলেন রোকেয়া বেগম (৪২) এবং নারী ব্যাঙের অভিভাবক মালা রানী দাশ (৩৫)।

কবে থেকে এ ধরনের বিয়ের সংস্কৃতি চলে আসছে এ বিষয়ে কেউই সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি। তবে জানা যায় , বহুকাল ধরেই মাঘ ও ফাল্গুন মাসে বৃষ্টি না হলে হাওরপারের গ্রামগুলোতে ব্যাঙের বিয়ে দেওয়া হয়। কারণ এ সময় হাওরের বুকজুড়ে থাকে ধান আর ধান। হাওরপারের গ্রামবাসীর ধারণা ব্যাঙের বিয়ে হলে বৃষ্টি হবে এবং তাদের ধান উৎপাদন ভালো হবে। বিয়ে দেখতে আসা মধ্য তাহিরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম (৯৮) জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই ব্যাঙের বিয়ে দেখে আসছেন এবং মেয়েদের সঙ্গে তাঁরাও তখন এতে অংশ নিতেন। এখন বৃষ্টি হলে হাওরে লাগানো ধানের উৎপাদন ভালো হবে। হাওরাঞ্চলে প্রচলিত অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে গেলেও বৃষ্টির জন্য ব্যাঙের বিয়ে অনুষ্ঠানটি এখনো টিকে আছে।

প্রচণ্ড তাপদাহে পুড়ছে গাইবান্ধার মাঠ-ঘাট। ভরা বর্ষাকালেও বৃষ্টির দেখা নেই। ফেটে চৌচির শস্য ক্ষেত। কৃষক বাবার বিষন্ন মুখ দেখে কিশোর-কিশোরীরা আয়োজন করে ব্যাঙের বিয়ের। তাদের বিশ্বাস ব্যাঙের বিয়ে দিলেই বৃষ্টি নামবে অঝোর ধারায়। ক্ষেত জুড়ে ফলবে শস্য। গাইবান্ধার মেঘডুমুর গ্রামে এই বিয়েকে ঘিরে শুরু হয় উৎসর আমেজ। লাল নীল কাগজে সাজানো চারদিক। গায়ে হলুদের আয়োজনে যেতে ব্যস্ত কিশোরীরা। হলুদ শাড়ি, সাজগোজ সবই চলছে। কলাগাছ পুঁতে তৈরি বিয়ের আসর। প্রদীপ থেকে শুরু করে পান, সুপারী, দূর্বা ঘাস, মিষ্টিসহ বিয়ের সব উপকরণই প্রস্তুত।

বৃষ্টির আশায় ব্যাঙের বিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে গ্রামীণ সমাজের এক প্রাচীন রীতি। সেই রীতিতেই আগের দিন ধরে রাখা দু’টি ব্যাঙকে রং লাগিয়ে সাজানো হয়। ব্যাঙ ও বৃষ্টির ছড়া কেটে দেয়া হয় বিয়ে । সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে পকুরে ছেড়ে দেয়া হয় নব দম্পতিকে। ব্যাঙ দম্পতি জলাশয়ে সাঁতার কাটে, আর তীরে বসে কিশোর কিশোরীরা ভাবে এবার বৃষ্টি হবে।  বিয়ের দিন, তার পরও ওদের মধ্যে দেখা যায়নি কোনো উত্তেজনা! কিন্তু গ্রামের সবাই উৎসুক হয়েই হাজির হয়েছিল বিয়েতে। রীতিমাফিক পূজা-অর্চনাও হয়েছে। ভারতের টাকহাটপুর গ্রামের বাসিন্দারা বিয়েতে বর-কনের সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য নয়, প্রার্থনা করেছেন বৃষ্টির জন্য! বিয়ের পাত্র-পাত্রী দুটি কোলা ব্যাঙ!

সম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে একটি এলাকায় ২৫০ মানুষ মিলে দিয়েছে ব্যাঙের বিয়ে৷ কারণ তারা ধরণীতে চায় বৃষ্টির ছোঁয়া৷ বিয়ের ‘‘বর-কনে”কে আনা হয়েছে ঢাকা থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম থেকে৷ গ্রামবাসীরা এই বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলো৷কারণ অনেকদিন ধরে সে অঞ্চলে বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছিলো৷সে গ্রামের স্কুল শিক্ষক নূর মোহাম্মদ জানান ‘‘তিনি ঐ বিয়ের অনুষ্ঠানে একজন অতিথি ছিলেন৷ ছেলে-বুড়ো, নারী সব মিলে সেখানে ২৫০ মানুষ অংশগ্রহণ করে৷ তারা সেখানে নাচে-গানে মুখর হয়ে উৎসবে মেতে উঠেছিলো৷ অতিথিদের ভাত-ডাল, মাছ, গরুর মাংস এবং মিঠাই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়৷ ‘‘বর-কনে” এক ধরনের বিশেষ বিয়ের পোশাক পরেছিল৷ গ্রামবাসী সবাই মিলে তাদের আশীর্বাদ জানিয়েছে৷ তারপর ‘‘বর-কনে”কে ছেড়ে দিয়েছে পাশের একটি পুকুরে”৷ তিনি আরো জানান, ‘‘সেদিন রাতে সে অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে৷ তাঁর বিশ্বাস এই বৃষ্টি সেই বিয়ের কারণেই হয়েছে”৷ ছড়া কবিতায় ব্যাঙের বিয়ের কথা শোনা থাকলেও বাস্তবে এমন বিয়ের কথা অবশ্য প্রথমবারের মতোই জানা গেল৷