বর্ষাকালীন অফার

দীর্ঘ দিন ধরেই কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ঘরে বসেই অনলাইনে পাত্র-পাত্রী খোঁজার সুবিধা দিয়ে আসছে বিবাহবিডি ডটকম।  ইতিমধ্যে যাঁদের প্রোফাইলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা প্রোফাইল এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় আছে, তাঁদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিবাহবিডি।
১ থেকে ১০ জুনের মধ্যে প্রোফাইল সক্রিয় ও সম্পূর্ণ করলে ১০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে বিবাহবিডির সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মুঠোফোনে নোটিফিকেশন-সুবিধাও পাবেন তাঁরা।

দৈনিক প্রথম আলোঃ ০১-০৬-২০১৩ লিংক

স্বাস্থ্যকর ভালোবাসা

প্রকৃত অর্থে ভালোবাসার কোনো মৌসুম নেই, নির্দিষ্ট কোনো দিন বা মাসও নেই। ভালোবাসার অনুভব যে কারও মনে সঞ্চারিত হতে পারে যেকোনো সময়। সর্বব্যাপী এই ভালোবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকা বা কবি-সাহিত্যিকদেরই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু নয়, বিজ্ঞানী ও গবেষকদেরও এর প্রতি রয়েছে প্রবল আগ্রহ। তবে তাঁদের আগ্রহের কারণটা ভিন্ন এবং বলতে পারেন নন-রোমান্টিকও। মানব স্বাস্থ্যের ওপর ভালোবাসার প্রভাবই তাঁদের প্রধান ঔত্সুক্য। তাঁদের গবেষণালব্ধ ফল ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য উদ্দীপকই বটে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভালোবাসা স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। তবে এখানে ভালোবাসা বলতে আকর্ষণের প্রাথমিক উদ্দামতা, মোহগ্রস্ততা বা কেবল নর-নারীর আদিম প্রেমকে বোঝানো হচ্ছে না; ভালোবাসা বলতে অন্তরঙ্গ ও উপভোগ্য একটি স্থায়ী সম্পর্কের ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ভালোবাসার ইতিবাচক প্রভাব বুঝতে গবেষণা করা হচ্ছে বিবাহিত ব্যক্তিদের ওপর। অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী দম্পতিরা দীর্ঘায়ু হন; তাঁদের হার্ট অ্যাটাক ও ক্যান্সার হওয়ার হারও অসুখী দম্পতি বা অবিবাহিত ব্যক্তিদের চেয়ে কম। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত মহিলাদের হূদরোগ, লিভার সিরোসিস ও আত্মহত্যাজনিত কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা একাকী ব্যক্তিদের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। অন্যদিকে একাকী পুরুষদের এই আশঙ্কা সুখী বিবাহিত ব্যক্তিদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন আনলিমিটেড লাভ-এর গবেষক ইসথার এম স্টার্নবার্গ বলেন, যেকোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসোল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। এই কর্টিসোল দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ভালোবাসা সেই চাপ কমাতে সাহায্য করে। ফলে কমে যায় কর্টিসোল নিঃসরণও। ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকেরাও ভালোবাসার রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতার বিষয়টি সমর্থন করেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যানডেস পার্ট বলেন, স্থিতিশীল, দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার বন্ধন শরীরে এনডরফিন নামের এক ধরনের রাসায়নিকের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এনডরফিন আবার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রাকৃতিক ঘাতক কোষের পরিমাণ বাড়ায়।

প্রগাঢ় ভালোবাসা বার্ধক্য বিলম্বিত করে, যৌবনের স্থায়িত্ব বাড়ায়। ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক হার্টম্যাথ ইনস্টিটিউট স্বেচ্ছায় ভালোবাসা অনুভবের এক অনুশীলন উদ্ভাবন করে এবং গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সেই অনুশীলনটি করায়। নিয়মিত অনুশীলনের ছয় মাসের মাথায় বার্ধক্যরোধী হরমোন হিসেবে পরিচিত ডিহাইড্রোএপিএন্ড্রোস্টেরন বা ডিএইচইএ হরমোনটি তাদের দেহে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায় এবং নয় মাসের মাথায় তা ৯০ শতাংশ বাড়ে।

হূদ-স্বাস্থ্যের ওপরও ভালোবাসার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। ১০ হাজার বিবাহিত পুরুষের ওপর এক গবেষণা চালান আমেরিকান গবেষকেরা। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো হূদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে জীবনযাপন করছিলেন তাঁরা। ফলে হূদরোগের কারণে বুকে তীব্র ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি ছিল সবারই। তাঁদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলে ছিলেন সেই সব পুরুষ, যাঁরা স্ত্রীর সত্যিকারের ভালোবাসায় সিক্ত। অন্যদিকে যাঁরা মনে করতেন স্ত্রীরা তাঁদের ভালোবাসেন না, তাঁরা ছিলেন দ্বিতীয় দলে। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দলের পুরুষদের মধ্যে ওই ধরনের তীব্র বুকে ব্যথা হওয়ার হার ছিল প্রথমোক্ত দলের প্রায় দ্বিগুণ।

২০০৭ সালে হিউম্যান কমিউনিকেশন রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ভালোবাসার অনুভূতি কেবল কাগজে লেখার মাধ্যমেই কমানো যায় হূদরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোলেস্টেরল! পাঁচ সপ্তাহব্যাপী গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন তিনবার ২০ মিনিট করে তাঁদের ভালোবাসার মানুষটিকে উদ্দেশ করে মনের অভিব্যক্তি লিখতে বলা হয়। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, তাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে গিয়েছিল উল্লেখযোগ্য হারে।

এমনকি কেবল ভালোবাসা-জড়ানো নিবিড় আলিঙ্গনও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনায় পরিচালিত এক গবেষণায় অংশ নেওয়া যুগলেরা প্রথমে পাশাপাশি বসে গল্প করেন, এরপর গভীর ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেন একে অন্যকে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, মহিলাদের ক্ষেত্রে কর্টিসোল হরমোন এবং রক্তচাপ দুই-ই হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে নারী-পুরুষ উভয়েরই শরীরে বন্ধনের হরমোন বলে পরিচিত অক্সিটোসিনের নিঃসরণ বেড়েছে। সাইকোসোমাটিক মেডিসিন জার্নালে এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

শারীরিক বেদনা উপশমেও ভালোবাসার ভূমিকা রয়েছে। এমআরআই পরীক্ষায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের যে অংশ ব্যথার অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, সুখী দম্পতিদের সেই অংশ অধিক কার্যকর হয়ে থাকে। প্রায় সোয়া লাখ ব্যক্তির ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বিবাহিত ব্যক্তিদের মাথা ব্যথা, কোমর ব্যথা-জাতীয় উপসর্গ অবিবাহিতদের চেয়ে কম হয়। প্রকৃত ভালোবাসা জীবনকে সুখময় করে, মানসিক চাপ মোকাবিলা সহজ করে, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমায়, কমায় মাদকাসক্তির আশঙ্কাও।

ভালোবাসার যে স্বাস্থ্যকর একটা দিক আছে, তা জেনে হয়তো প্রেমিক-প্রেমিকারা আনন্দিতই হচ্ছেন। ভালোবাসা হতে পারে বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান বা সহপাঠী-সহকর্মীর প্রতি। এমনকি পোষা জীবটির প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসাও আপনাকে দিতে পারে স্বাস্থ্যগত সুবিধাটুকু। তাই ভালোবাসুন। ভালোবাসুন আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনীকে, আপনার আত্মীয়-বন্ধু-পরিজনকে, ভালোবাসুন মানুষ এবং সৃষ্টির সব জীবকে। ভালোবাসুন এবং সুস্থ থাকুন।

প্রেমে পুরুষের চেয়ে নারী বেশি সুখী

নারী-পুরুষ প্রেম করে। কিন্তু প্রেম করে কে বেশি সুখী—নারী না পুরুষ। এ নিয়ে হয়তো বলা কঠিন। তবে নতুন সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রেমে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি সুখী।  সম্প্রতি ব্রেনেডেন হেল্থ যুক্তরাজ্যের দুই হাজার নারী-পুরুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছে।

সমীক্ষায় পুরুষদের তাঁদের বেতন, পদোন্নতি, শারীরিক গঠন, বাহ্যিক প্রকাশ, অর্থের উৎস, চাকরির নিরাপত্তা, অন্যের কাছে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা—এই সাতটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়।  আর নারীদের তাঁদের প্রেম, পরিবার, দাম্পত্য জীবন,  স্বাস্থ্য ও বসবাসের স্থান – এই পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

প্রথম আলো 

যুবক থেকে শুরু করে বয়ষ্ক-ফুরফুরে, সতেজ থাকতে

উষ্কোখুষ্কো চেহারা, শরীর থেকে ঘামের গন্ধ আসছে। এমন লোকরে সামনে পড়লে কার ভালো লাগে? তাই তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকা প্রয়োজন। বাজারে পুরুষের জন্য নানা ধরনের প্রসাধন পাওয়া যায়। এই যেমন শেভিং জেল, শেভিং ক্রিম বা ফোম, ডিওডোরেন্ট ও সুগন্ধি। এসব প্রসাধনের ব্যবহার একদিকে আপনাকে সতেজ রাখবে, অন্যদিকে ব্যক্তিত্বও বাড়িয়ে তুলবে। তবে কেনার আগে ভালো মানের প্রসাধন বেছে নিতে হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, এসব প্রসাধন আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কি না।

নির্ঝঞ্ঝাট শেভিংয়ের জন্য জেল

তরুণদের এখন শেভিংয়ের জন্য শেভিং জেলই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শেভিং জেল পাওয়া যায়। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ডি মোর্শেদ নিয়মিতই ব্যবহার করেন শেভিং জেল। তিনি জানান, সকালবেলা উঠে প্রায় প্রতিদিনই ক্লাস করতে হয়। নিয়মিত শেভের জন্য ফোম, ক্রিমের তুলনায় জেল বেশ কার্যকর। দাড়ি কাটার সময় জেল ব্যবহারের জন্য দাড়ির গোড়া দ্রুত নরম হয়ে যায়। যার কারণে খুব সহজেই দ্রুত শেভ করা যায়।

শেভিং ক্রিম ও ফোম

যুবক থেকে শুরু করে বয়ষ্ক—বেশির ভাগের শেভের জন্য পছন্দ শেভিং ফোম। একটু ফোমেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে শেভ করা যায় বলেই শেভিং ফোম বেছে নেন কেউ কেউ। তবে ফোম, জেল বা ক্রিম—যা-ই হোক না, গোসলের সময় শেভিং করা ভালো।

আফটার শেভের ব্যবহার

শেভের আগে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিলে দাড়ি নরম হয়ে যায়। পুরো দাড়িতে ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে শেভিং জেল, ফোম ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে। দাড়ি কাটার সময় রেজারের ব্লেড নিচের দিকে টানবেন, কখনোই ওপরের দিকে টানবেন না। ওপরের দিকে টানলে দাড়ির গোড়া উপড়ে আসার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া দাড়ির গোড়ায় গোটা বা ত্বক কেটে যেতে পারে। বারবার এভাবে শেভ করলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়।

ছেলেদের সৌন্দর্য সেবা প্রতিষ্ঠান মেনস কেয়ারের স্বত্বাধিকারী

জাবেদ হোসেন জানান, আফটার শেভ লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকতে হবে। বাজারে প্রচলিত স্পিরিটযুক্ত আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করলে গালে দাগ পড়ে যায়, দাড়ির গোড়া ফুলে যায়। এ ক্ষেত্রে মেনথলযুক্ত অ্যান্টিসেপটিক আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের ত্বকে অ্যালকোহল ও লেবুযুক্ত আফটার শেভিং ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো। অনেকের শেভের পর ত্বকে র‌্যাশ হয়। তাঁরা আফটার শেভ লোশন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

গরমে ঘাম প্রতিরোধে

গরমে কারও কারও অতিরিক্ত ঘাম হয়। আর তা থেকে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এ জন্য ব্যবহার করতে পারেন ডিওডোরেন্ট। গোসলের পরপরই ব্যবহার না করে কিছু সময় পর শুকনা শরীরে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। গরমে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে ঘামের কারণে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করা যায়।

সতেজ থাকতে সুগন্ধি

সুগন্ধির কথা বললেই শুধু মেয়েদের কথা ভেবে নেন অনেকেই, এই ধারণা ভুল। বাজারে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সুগন্ধি পাওয়া যায়। কেনার সময় বিষয়টি মাথায় রাখলেই হবে। পারফিউম বা কোলন—যেকোনোটি পুরুষরা বেছে নিতে পারেন। সাধারণত পারফিউমের গন্ধটা একটু কড়া হয়ে থাকে। তুলনামূলকভাবে মৃদু গন্ধের হয়ে থাকে কোলন। ফলে অনুষ্ঠান ছাড়া পুরুষরা সব সময়ের জন্য কোলনই বেছে নিতে পারেন।

জাহিদ হোসাইন খান

মা আগে না বউ আগে

একজন নতুন দোকান দিয়েছেন। দোকানের নাম কী হবে, তা নিয়ে দেখা দিল সংকট। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি নাম রাখলেন ‘মায়ের দোয়া স্টোর’। মাকে গিয়ে বললেন, ‘তোমার কথা মাথায় রেখেই এমন নাম দিলাম।’ এরপর বউয়ের কাছে গিয়ে বললেন, ‘শুনছ, তোমার ছেলেমেয়েদের কথামতো নাম রাখলাম মায়ের দোয়া।’শুনে মাও খুশি। বউও খুশি।বাস্তবে এমন দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান একটু কষ্ট-কল্পনাই বটে। চিরায়ত বউ-শাশুড়ি দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে যে মানুষটার প্রাণ ত্রাহি ত্রাহি, তিনি একই সঙ্গে মায়ের পুত্র এবং বউয়ের স্বামী। মায়ের সঙ্গে তাঁর নাড়িছেঁড়া সম্পর্ক—অবিচ্ছেদ্য ও চিরন্তন। আর বউয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা নির্ভরতার—চিরকালীন ও আমৃত্যু। তাঁর কাছে দুটো সম্পর্কই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দুই প্রজন্মের এই দুই নারীর বিরোধ যদি চরমে ওঠে, তাহলে তার মাঝখানে পড়ে ‘অসহায়’ মানুষটার অবস্থা আক্ষরিক অর্থেই ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’। কপাল ভালো হলে, কখনো মেলে দারুণ সমাধান। কখনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে হাবুডুবু।ছোটবেলা থেকেই যে ছেলে মায়ের আঁচল কিংবা মায়ের হাতের রান্না ছাড়া কিছু বুঝতই না, বিয়ের পরে সেই ছেলে হঠাৎ করেই ‘স্ত্রৈণ’। মায়ের এটা মেনে নেওয়া কঠিন। মানুষ তো সে, রোবট তো আর না।মায়ের মনে থাকে, আহা, ছেলেটা বুঝি পর হয়ে যাচ্ছে। আর ছেলে যদি মায়ের কথা বেশি বলে বউ ফুঁসতে থাকে, দেখেছ, মা এখনো ছেলেকে কবজা করে রেখেছে। দিন যায়, ক্ষোভ বাড়ে, জন্ম নেয় ঝামেলা। কোনো ঘটনায় ছেলে যদি মায়ের পক্ষ নেয়, বউয়ের মুখজুড়ে অন্ধকার। আর বউয়ের পক্ষ নিলে মায়ের মনে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস। কই যাই!

নাট্যব্যক্তিত্ব সারা যাকের প্রথম আলোর ক্রোড়পত্র ‘নকশা’-তে সুবন্ধু সমীপেষু বিভাগে পাঠকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা অনেক বেশি ঘরকেন্দ্রিক। ঘরের ক্ষমতা ধরে রাখতে, মা আর বউ দুজনেরই ভরসা ছেলে। ব্যাপারটা এমন, ছেলে যাঁর পক্ষে, জয় যেন তাঁরই। তবে আশার কথা হচ্ছে, আজকাল বউ-শাশুড়ি দুজনই বাইরে কাজ করেন। এ কারণে তাঁদের বোঝাপড়ার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। ঘরের বাইরে আজকাল এত বেশি চাপ সামলাতে হয় যে বাড়ি ফিরে শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্বার্থে ছোটখাটো বিষয়গুলোতে আপনাআপনি সমঝোতা হয়ে যায়। আরও একটা-দুটো প্রজন্ম পরে হয়তো সমস্যাটা এত বেশি প্রকট থাকবে না।’

রায়হান ইসলাম বিয়ে করেছেন সাত বছর হলো। মা, বউসহ বেশ ভালোভাবেই তাঁর দিন কেটে যাচ্ছে। তাঁর মতে, ছেলে যদি বুদ্ধিমান হয়, তাহলে বিয়ের পরও সে মায়ের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক চালিয়ে যাবে। এতে পরিবারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা তৈরি হবে না। ঘরে বউ আসার আগে মায়ের সঙ্গে পরামর্শও করে নেওয়া যেতে পারে, যাতে নতুন সদস্যের কোনো সমস্যা না হয়। এতে মায়ের মনে হবে, ছেলের নতুন জীবনেও তাঁর কিছু অবদান আছে। আবার বউও খুশি হবে তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে স্বামী যদি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রওশন জাহান বলেন, একসঙ্গে থাকতে গেলে খটোমটো লাগবেই। সব সময় তো আর মনমানসিকতা এক রকম থাকে না। ক্ষমা, ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা বাড়লে ছোটখাটো বিষয় কখনোই বড় হয়ে উঠবে না। মাকে বুঝতে হবে, বিয়ের পরে ছেলের আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বউকেও বুঝতে হবে, ছেলের কাছে মায়ের কিছু চাওয়া-পাওয়া আছে। সেই দায়িত্বটা পালনে ছেলের সঙ্গে তাঁকেও সহযোগিতা করা উচিত। তাহলে সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে।

তবে মূল দায়িত্বটা অবশ্যই ছেলের। তাকে অবশ্যই প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কিংবা সে কোনো দিকে কান না দিয়ে নিজের মতোও থাকতে পারে। কোনো একদিকে না হেললেই হলো। ছেলেকে বুঝতে হবে, মা তো আছেই, বউয়ের প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে। যেহেতু তিনি অচেনা একটি পরিবারে এসেছেন নিজের পরিবার ছেড়ে।

মা যদি ছেলেকে নিজের পছন্দের কিছু বানিয়ে খাওয়াতে চান, তাহলে ছেলের উচিত বউকে অন্য কিছু তৈরি করতে উৎসাহিত করা। মা ও বউয়ের মধ্যে কে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্বচ্ছন্দ, সেটা শুরুতেই ঠিক করে নেওয়া দরকার। এতে দুজনই নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে সচেতন হবেন। কিছু কিছু কাজ একদমই করা ঠিক নয়। তা হলো, একজন সম্পর্কে অন্যকে মন্দ কথা বা নালিশ, রাগ, ক্রোধ, ক্ষোভ প্রকাশ না করা। অধিকারবোধ নিয়েই যেহেতু সব গোলমাল, তাই দুটো সম্পর্ককেই সম্মান করলে, সচেতন থাকলে টানাপোড়েন কম হবে। কারণ, একজনের অধিকারবোধের প্রকাশ আরেকজনের মনে ঈর্ষা জাগিয়ে তোলে।

ফারহানা আলম

বিয়ের পর মধুচন্দ্রিমায়

বিয়ে যেন মহাযজ্ঞ। কাজের কোনো শেষ নেই। বিয়ের দিন ধার্য হওয়ার পর থেকে শুরু হয় ধকল। তা যেন গিয়ে শেষ হয় বিয়ের দিনে। বিয়ের পর সবার নিস্তার মিললেও নবদম্পতির নিস্তার নেই। প্রেমের বিয়েই হোক কিংবা সম্বন্ধের বিয়েই হোক, বিয়ে নিয়ে বাড়তি একটা মানসিক চাপ থাকে বর-কনে দুজনেরই। আর কনেকে যেহেতু নতুন একটি পরিবারে যেতে হয়, ফলে তাঁর চাপের পরিমাণ বরের থেকে বেশি থাকে। এই চাপমুক্ত হতে আর দুজনের একান্তে কিছু সময় কাটানোর জন্য মধুচন্দ্রিমায় যাওয়া যেতে পারে।

তিন বছর চুটিয়ে প্রেম করেছেন অভি-সাবরিনা। এরপর বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এই দম্পতি বিয়ের পরই ছুটে গেছেন কক্সবাজারে। তাঁরা বলেন, বিয়ের আগের কয়েকটি দিন ছিল অন্য রকম। একদিকে বিয়ের আনন্দ, অন্যদিকে এত বড় আয়োজনের বিশাল চাপ। সব মিলিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই ছিলাম। সংসার-জীবনে প্রবেশ করার আগে সব অস্থিরতা ও চাপ দূর করতেই কক্সবাজারে যাওয়া। এখন মনে হয়, ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

বিয়ের পর নতুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়া হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই বোঝাপড়ার প্রাথমিক দিকটি উন্মোচন করে মধুচন্দ্রিমা। প্রেমের বিয়েতে আগে থেকেই চেনাজানার সুযোগ থাকে। কিন্তু পারিবারিকভাবে সম্মত বিয়ের ক্ষেত্রে এই সুযোগ মেলে না। মিললেও সেটি যথেষ্ট নয়। আর আমাদের দেশে নতুন পরিবেশে নবদম্পতি নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ কম পান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলরুবা আফরোজ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশের পারিবারিক কাঠামোতে বিয়ের পর একজন নারীকে নতুন পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। ফলে নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানোর আগে মেয়েটি একান্তে কয়েকটা দিন স্বামীর সঙ্গে কাটালে তাঁর মানসিক প্রশান্তি আসবে। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বোঝাপড়া, নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ জানার জন্য মধুচন্দ্রিমা বেশ কাজের।’

প্রায় ১০ বছর হতে চলল রুবিনা খান-গাজী বিজয় আহমেদের দাম্পত্যজীবন। প্রেমের বিয়ে হলেও দুজনেই পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্য বিয়ের পরপরই ঘুরতে যাওয়াকে গুরুত্ব দেন। বিয়ের পর নিজেকে প্রকাশ করার জন্য মধুচন্দ্রিমার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তাঁরা। তাই তো এখন সময় পেলেই এই দম্পতি নিজেদের আরও বুঝতে ঘুরতে যান।ভাবনাচিন্তা বাদ দিয়ে সামর্থ্য থাকলে বিয়ের পর চলে যান মধুচন্দ্রিমায়। পরস্পরের পছন্দ, ভালো লাগা, কে কতটা ঘুমকাতুরে, কার কী ধরনের খাবার পছন্দ—সব মিলিয়ে পারস্পরিক মনের ভাব আদান-প্রদানের জন্য মধুচন্দ্রিমার বিকল্প নেই। তবে বেরিয়ে পড়ার আগে আবহাওয়া আর বাজেট বিবেচনা করে কোন জায়গায় যাবেন, তা আলোচনা করে নিন। আর যাঁরা মধুচন্দ্রিমায় যেতে পারেননি, তাঁদেরও মন খারাপের কিছু নেই। ইচ্ছা থাকলে এখনই সঙ্গীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।

-জাহিদ হোসাইন খান

ত্বকের ঘষা-মাজা

শুধু সাজই তো যথেষ্ট নয়। ত্বকের নিয়মিত যত্নও নিতে হবে। আর এই যত্নের একটা অংশ হলো ঘষা-মাজা, অর্থাৎ স্ক্রাবিং।
ত্বক পরিষ্কারের অন্যতম পদ্ধতি হলো স্ক্রাবিং করা। এর মাধ্যমে ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যায়। উজ্জ্বলতা বেড়ে যায় ত্বকের। তবে ত্বকের ধরন বুঝে স্ক্রাবিং করতে হবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
সপ্তাহে অন্তত এক দিন মুখসহ সারা শরীর স্ক্রাবিং করা উচিত। এতে একদিকে ত্বক পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে শরীর-মন ঝরঝরে থাকে। রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ভালো কোনো রূপচর্চা কেন্দ্রে গিয়েও স্ক্রাবিং করাতে পারেন। তখন ১৫ দিনে একবার করা যেতে পারে। কিউবেলার রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা আরমান বলেন, তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রবণতা থাকে। তাই ব্রণ থাকলে স্ক্রাবিং করা যাবে না। এতে ব্রণের প্রকটতা বেড়ে যাবে। নাক-কপালে ব্রণ না থাকলে শুধু সেই অংশটুকু স্ক্রাবিং করলেই হবে। তাতেও কাজ হবে।
বাজারে ত্বকের ধরন অনুযায়ী নানা ধরনের স্ক্রাব পাওয়া যায়। কোনোটা শুধু মুখের জন্য, কোনোটা হাত-পা আবার কিছু আছে পুরো শরীর স্ক্রাবিংয়ের জন্য। তবে ভালো মানের স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের পর ত্বকে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
হাতের কাছে যেসব উপাদান পাওয়া যায় সেসব দিয়েও স্ক্রাবিং করা যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন আলস্য দূর করে একটুখানি ইচ্ছা-আগ্রহ।
হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা ঘরে বসে স্ক্রাব করার বিভিন্ন প্যাক নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য:
কাঁচা হলুদের পেস্টের সঙ্গে চালের গুঁড়া, দুধ, মধু ও জলপাই তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এটি সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া বেসনের সঙ্গে গ্লিসারিন, গোলাপজল, জলপাই তেল মিশিয়েও প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ডিমের কুসুম (হলুদ অংশ), ১ টেবিল চামচ বেসন ও দুধের প্যাক বেশ কার্যকর।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য:
বেসন, শসার রস ও গাজরের রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকে নাকে ব্ল্যাক হেডস ও হোয়াইট হেডসের প্রবণতা দেখা যায়। এসব দূর করতে ডিমের সাদা অংশ নাকে ম্যাসাজ করে এর ওপর টিস্যু চেপে ২০ মিনিট রাখতে হবে। এরপর এক টানে তুলে ফেলতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য:
সয়াবিন পাউডার, দুধের সর, কাঁচা হলুদ, গাজরের রস ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি শুষ্ক ত্বকের মৃত কোষ যেমন পরিষ্কার করে, তেমনি উজ্জ্বলতাও বাড়ায়।

মিশ্র ত্বকের জন্য:
মিশ্র ত্বকে শুধু টি-জোন অর্থাৎ নাক-কপালই তৈলাক্ত হয়। ডিমের সাদা অংশ, মধু, দুই-তিন ফোঁটা লেবুর রস, দুধের সর এবং ওটমিল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে হবে।

সংবেদনশীল ত্বকের জন্য:
সয়াবিন গুঁড়া, দুধ ও মধু এই ধরনের ত্বকের জন্য ভালো।

এসব প্যাক পুরো শরীরেও ব্যবহার করতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে, স্ক্রাব ব্যবহারের পর আলতোভাবে ত্বক মালিশ করতে হবে। ত্বক পরিষ্কারের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
সূত্রঃ প্রথম আলো(নকশা/১৯-০৩-২০১৩)

ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে পুরুষ

বিবাহিত নারীর সঙ্গে অনুচিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা পুরুষের জীবনে বিরল নয়। তাঁরা প্রতিবেশী বা অন্য কারও স্ত্রীর প্রতি ঘটনাচক্রে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক তৈরি থেকে পুরুষেরা সাধারণত বিরত থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অবস্থিত মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএমএসএল) একদল গবেষকের দাবি, সম্ভবত মানসিক গঠনের কারণেই তাঁরা বন্ধুর প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকেন।

ইউএমএসএল কলেজ অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্ক ফিনের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণের তারতম্য নিয়ে গবেষণা করেন। মানসিক অবস্থাভেদে পুরুষের শরীরে এই হরমোন নিঃসরণে তারতম্য হয়। হিউম্যান নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য প্রেমিকা বা শত্রুর স্ত্রীর সান্নিধ্যে অবস্থানকালে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে অবস্থানকালে টেস্টোস্টেরন নিঃসরণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। এমনকি সুযোগ পেলেও বন্ধু এবং বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট রাখার স্বার্থে অনুচিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া থেকে পুরুষ নিজেকে সংযত রাখেন। গোটা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়।

গবেষকদের দাবি, মানুষের প্রকৃতিগত এই বিশ্বস্ত মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জাতিসংঘ বা ন্যাটোর মতো সংগঠনও মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে।
সূত্রঃ প্রথম আলো (ঢাকা, সোমবার,২৫ মার্চ ২০১৩,)

 

বধূ মিছে রাগ কোরো না

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে মান-অভিমান হবেই, আবার মান ভাঙাতেও হবে। ছোট ছোট সমস্যা যেন বড় আকার ধারণ না করে।আটটার দিকে বাড়ি ফিরেই ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন স্বামী। একের পর এক ফোন সেরে ল্যাপটপ নিয়ে বসা। ওদিকে মুখ থমথমে স্ত্রীর। সারা দিন পর দেখা, একটু হাসিমুখে কথাও বলা হলো না। এতই ব্যস্ততা!ছুটির দিন দুপুরে বসার ঘরে জেঁকে বসে আছে স্বামীর বন্ধুরা। স্বামীকে বারবার ইশারা করেও লাভ হচ্ছে না। ওঠার নাম নেই। একটা ছুটির দুপুর মাটি হয়ে যাবে তাহলে! ব্যস, স্ত্রীর মুখ অন্ধকার।

কিংবা মায়ের পরামর্শ ছাড়া স্ত্রী যেন চলতেই পারছেন না, তাই বলে দুজনের সব কথাই গিয়ে বলতে হবে মাকে? স্বামীর মনে অভিমানের ছায়া।খরচ বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছেন দুজনই, তাই বলে একটা দিনও কি একটু ভালো রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া যাবে না। এই নিয়ে মতান্তর, শেষমেশ দুজনের কথা বন্ধ।

ছোট ঘটনা, বড় অভিমান। তুচ্ছ কথা-কাটাকাটি থেকে বড় ঝগড়া। কয়েক মিনিটের ঝগড়াতেই আপন এ মানুষকে মনে হতে পারে খুব দূরের কেউ। আর এসবের জের অনেক দূর পর্যন্তও গড়ায়। হয়তো মনে হতে পারে, একটু ঝগড়া হয়েছে এ আর এমন কী। কিন্তু সময়মতো মিটিয়ে না ফেলে তা জিইয়ে রাখা মোটেও উচিত নয়। হয়তো আবার কথা বলা শুরু হলো দুজনের। কিন্তু মনের কোণে একটু ক্ষোভ রয়েই গেল। এভাবেই মেঘের ওপর মেঘ জমে দুজনের জীবনে ফেলতে পারে কালো ছায়া।

‘যত বড় ঝগড়া-ই হোক। সঙ্গী কিন্তু আপনার জীবনের একটা বড় অবলম্বন। একটু অভিমান হয়েছে। তিনি ই কিন্তু আবার আপনার সমর্থনে সারা দুনিয়ার সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত।’ বলেন মনোয়ারা চৌধুরী। শিক্ষকতা পেশায় আছেন তিনি। আর তাঁর স্বামী এস আর চৌধুরী কাজ করছেন গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের মেডিকেল অ্যাডভাইজার হিসেবে। ৪৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে অভিমান, ঝগড়া হয়েছে অনেকবার। কিন্তু কোনোবারই তা মিটে যেতে বেশি সময় লাগেনি বলে জানালেন।ঝগড়া হয়েছে, কথা বন্ধ। এটা যেন দাম্পত্যের অলিখিত নিয়ম।রাগ হলে কে আগে মান ভাঙাতে আসে? সানজিদা আহমেদের (ছদ্মনাম) উত্তর—‘অবশ্যই আমি।

কথা বলা বন্ধ করে আবার নিজেই শুরু করে দিই। আমার এসব মান-অভিমানের পালা সাধারণত ঘটে রাতে ঘুমানোর আগে। সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হতেই আবার শেষ।’আর স্ত্রী রাগ করলে হেঁড়ে গলায় গান ধরাটাকে বেশ ভালো উপায় বলেই মানেন আহসান হাবীব (ছদ্মনাম)। আর এ ক্ষেত্রে ‘তোমার জন্য মরতে পারি ও সুন্দরী…’ এমন লাইনগুলোই নাকি ভালো। ‘গান ধরলে ও প্রথমে একটু রাগ রাগ ভাব করে। তার পরই হেসে ফেলে। ব্যস ঝগড়া শেষ। আমি বলি, আর কোনো দিন এমন হবে না। ও বলে, তুমি তো বারবারই এমন বলো, তার পরও একই কাজ করো। আমি আর কী বলব, বলি, আমি তো এমনই।’ বললেন তিনি।কে আগে মান ভাঙাবে? এগিয়ে আসা একটু কঠিনই বটে। মনোয়ারা চৌধুরী মনে করেন, এ ক্ষেত্রে ছেলেদের এগিয়ে আসাই ভালো। ‘মেয়েরা এমনিতেই একটু বেশি অভিমানী হয়। আবার অল্পতেই খুশি হয়ে যায়।  ঝগড়ার মুহূর্তটা জিইয়ে না রেখে স্বামী যদি একটু নরম হন, তাহলেই তো হলো।’

দুজনের ঝগড়ায় ভালো কোনো বন্ধু, কাছের আত্মীয়রাও মিটমাটের উদ্যোগ নিতে পারেন। আর সন্তানেরা তো বড় একটা ভূমিকা রাখেই। নিজে হয়তো স্যরি বলতে পারছেন না। সন্তানকেই বলতে পারেন মান ভাঙানোর ব্যবস্থা নিতে। তারা হয়তো সবাইকে নিয়ে আয়োজন করে ফেলতে পারে চমৎকার একটা পার্টি আবার পছন্দের কোনো কিনে আপনার তরফ থেকে উপহার দিতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার জানান, একজন রেগে গেলে অবশ্যই অন্যজনকে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। আর যে কারণেই মতান্তর হোক, তা নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করে মতের অমিলটা দূর করতে হবে। তবে ঠিক সেই মুহূর্তেই নয়, বরং পরে দুজনই যখন শান্ত হবেন, তখন আলোচনা করা উচিত। এ নিয়ে কথা না বললে তা চাপা ক্ষোভ হিসেবে জমা হতে পারে, যা পরে সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে।তবে নিজেদের ঝগড়ার কথা কাকে বলব আর কাকে বলব না সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই আবার এর সুযোগ নিতে পারে।

যা নিয়েই মতান্তর হোক আদতে তো সেটা মান-অভিমানের দিকেই গড়ায়। আর তা যেন সেখানেই শেষ হয়ে যায়। এর বেশি যাতে না যেতে পারে এদিকে খেয়াল রাখতে হবে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই।

রাগ কিভাবে নিয়ন্ত্রনে রাখবেন এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডাঃ মেখলা সরকার

ছিপছিপে শরীর শুষ্ক ত্বক!

কম খেয়ে ওজন তো কমালেন, ত্বক আর চুলের দিকে নজর আছে তো? না খেয়ে শুকনো মুখটায় লাবণ্যের কমতি মনে হচ্ছে? কিংবা হাত দিলেই মুঠোভর্তি চুল উঠে আসছে না তো?

চটজলদি মেদ ঝরাতে গিয়ে অনেকেই দিনের পর দিন আধপেটা খেয়ে থাকেন। কখনো আবার না খেয়ে থাকেন দীর্ঘ সময়। অনেক দিন ধরে এমন চলতে থাকলে শরীরের ওজন হয়তো খানিকটা কমে ঠিকই। কিন্তু অন্যান্য অঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির ছাপ পড়ে যায়। সেটা কেমন হতে পারে, জানতে চেয়েছিলাম বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পথ্য ও পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের কাছে। তিনি বলেন, ‘খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়ে ওজন কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য আমরা পেতে চাই। কিন্তু কখনো দেখা যায় তার উল্টোটা ঘটছে। এমন অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল ও ত্বক।’

এ অবস্থা থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, সে সম্পর্কেও জানালেন শামছুন্নাহার নাহিদ—
বিশেষ কোনো ডায়েট অনুসরণ করার সময় পানি আর পানীয়-জাতীয় খাবার খেতে হবে বেশি করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি, এ, ই এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ সবুজ, হলুদ, কমলা ও সাদা রঙের শাকসবজি ও ফল খেতে হবে প্রতিদিন।
ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ ফল ত্বকের কোষ মেরামত করে ত্বককে সতেজ করে তোলে। আর এটা খাদ্যতালিকায় না রাখলে ত্বক ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যায়। এ ধরনের কয়েকটি ফল হলো আপেল, কলা, জাম, খেজুর, আঙুর, পেঁপে ইত্যাদি।
আঁশযুক্ত শাকসবজি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। ত্বককে সতেজ ও সুস্থ রাখবে এ সবজিগুলো।
ডায়েট করার সময় নিয়ম করে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুম খুব জরুরি। এ সময় ঘুমের ব্যাঘাতে চেখের নিচে কালি পড়তে শুরু করে।
আর রাত জেগে দিনে ঘুমালে ওজন কমানো কিন্তু কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে শরীর তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যও হারায়।
ওজন কমাতে চাইলে খেতে হবে সুষম খাদ্য। আর কত ক্যালরি খাওয়া হলো তার হিসাব রাখতে হবে। ওজন কমাতে প্রয়োজন সঠিক মানের, প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ কিন্তু কম ক্যালরিযুক্ত সুষম খাদ্যের।
তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকা থেকে মাছ, মাংস, ডাল, ডিম, দুধ, দই, ঘোল ও ছানা একদম ঝেড়ে না ফেলে খেতে হবে হিসাব করে।

কী ধরনের ক্ষতি হয়:

খাদ্যতালিকায় আমিষের অভাবে চুল ঔজ্জ্বল্য হারায়। চুলের আগা ফাটতে শুরু করে। চুল পড়তেও পারে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ খাবার না থাকলে চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়।

অন্যদিকে ভিটামিন ই চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে আর ভিটামিন সি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু খাদ্যতালিকায় এগুলো না থাকলে ঠিক উল্টোটা ঘটে।

এ ছাড়া ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও লাবণ্যহীন হয়ে যায়, চোখের নিচে কালি পড়ে এবং ত্বকে বলিরেখা পড়তে শুরু করে

সিদ্ধার্থ মজুমদার