যুবক থেকে শুরু করে বয়ষ্ক-ফুরফুরে, সতেজ থাকতে

উষ্কোখুষ্কো চেহারা, শরীর থেকে ঘামের গন্ধ আসছে। এমন লোকরে সামনে পড়লে কার ভালো লাগে? তাই তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকা প্রয়োজন। বাজারে পুরুষের জন্য নানা ধরনের প্রসাধন পাওয়া যায়। এই যেমন শেভিং জেল, শেভিং ক্রিম বা ফোম, ডিওডোরেন্ট ও সুগন্ধি। এসব প্রসাধনের ব্যবহার একদিকে আপনাকে সতেজ রাখবে, অন্যদিকে ব্যক্তিত্বও বাড়িয়ে তুলবে। তবে কেনার আগে ভালো মানের প্রসাধন বেছে নিতে হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, এসব প্রসাধন আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কি না।

নির্ঝঞ্ঝাট শেভিংয়ের জন্য জেল

তরুণদের এখন শেভিংয়ের জন্য শেভিং জেলই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শেভিং জেল পাওয়া যায়। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ডি মোর্শেদ নিয়মিতই ব্যবহার করেন শেভিং জেল। তিনি জানান, সকালবেলা উঠে প্রায় প্রতিদিনই ক্লাস করতে হয়। নিয়মিত শেভের জন্য ফোম, ক্রিমের তুলনায় জেল বেশ কার্যকর। দাড়ি কাটার সময় জেল ব্যবহারের জন্য দাড়ির গোড়া দ্রুত নরম হয়ে যায়। যার কারণে খুব সহজেই দ্রুত শেভ করা যায়।

শেভিং ক্রিম ও ফোম

যুবক থেকে শুরু করে বয়ষ্ক—বেশির ভাগের শেভের জন্য পছন্দ শেভিং ফোম। একটু ফোমেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে শেভ করা যায় বলেই শেভিং ফোম বেছে নেন কেউ কেউ। তবে ফোম, জেল বা ক্রিম—যা-ই হোক না, গোসলের সময় শেভিং করা ভালো।

আফটার শেভের ব্যবহার

শেভের আগে হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিলে দাড়ি নরম হয়ে যায়। পুরো দাড়িতে ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে শেভিং জেল, ফোম ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে। দাড়ি কাটার সময় রেজারের ব্লেড নিচের দিকে টানবেন, কখনোই ওপরের দিকে টানবেন না। ওপরের দিকে টানলে দাড়ির গোড়া উপড়ে আসার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া দাড়ির গোড়ায় গোটা বা ত্বক কেটে যেতে পারে। বারবার এভাবে শেভ করলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়।

ছেলেদের সৌন্দর্য সেবা প্রতিষ্ঠান মেনস কেয়ারের স্বত্বাধিকারী

জাবেদ হোসেন জানান, আফটার শেভ লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকতে হবে। বাজারে প্রচলিত স্পিরিটযুক্ত আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করলে গালে দাগ পড়ে যায়, দাড়ির গোড়া ফুলে যায়। এ ক্ষেত্রে মেনথলযুক্ত অ্যান্টিসেপটিক আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের ত্বকে অ্যালকোহল ও লেবুযুক্ত আফটার শেভিং ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো। অনেকের শেভের পর ত্বকে র‌্যাশ হয়। তাঁরা আফটার শেভ লোশন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

গরমে ঘাম প্রতিরোধে

গরমে কারও কারও অতিরিক্ত ঘাম হয়। আর তা থেকে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এ জন্য ব্যবহার করতে পারেন ডিওডোরেন্ট। গোসলের পরপরই ব্যবহার না করে কিছু সময় পর শুকনা শরীরে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন। গরমে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে ঘামের কারণে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করা যায়।

সতেজ থাকতে সুগন্ধি

সুগন্ধির কথা বললেই শুধু মেয়েদের কথা ভেবে নেন অনেকেই, এই ধারণা ভুল। বাজারে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সুগন্ধি পাওয়া যায়। কেনার সময় বিষয়টি মাথায় রাখলেই হবে। পারফিউম বা কোলন—যেকোনোটি পুরুষরা বেছে নিতে পারেন। সাধারণত পারফিউমের গন্ধটা একটু কড়া হয়ে থাকে। তুলনামূলকভাবে মৃদু গন্ধের হয়ে থাকে কোলন। ফলে অনুষ্ঠান ছাড়া পুরুষরা সব সময়ের জন্য কোলনই বেছে নিতে পারেন।

জাহিদ হোসাইন খান

মন্তব্য করুন