শরীর কেন্দ্রিক দাম্পত্য কতটুকু সুখের!

শিরোনামের কথাগুলো উল্টো করে বলি, ‘কেবল শরীর দিয়ে কি দাম্পত্য হয়?’  উত্তর হচ্ছে, ‘না, হয় না।’ কেবল শরীর দিয়ে দাম্পত্য হয় না।  দাম্পত্যে শরীরটা একটা অংশ বটে, কিন্তু সম্পর্কের সবটুকু শরীর কেন্দ্রীক নয়।   এই শরীরকে সবটুকু ভাবতে গেলেই তৈরি হয় যত গোলযোগ।  আমাদের সমাজে প্রায়ই দাম্পত্য সম্পর্ক শরীর থেকে শুরু হয়।  অল্প বয়সের আকর্ষণকে আমরা প্রায়ই প্রেম ভেবে ভুল করি, সেই ভুলে আবার ভুল একজন মানুষকে বিবাহের বন্ধনে বেঁধেও ফেলি। অন্যদিকে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে পরিবারই আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয় সঙ্গী। বিয়ের আয়োজন হয়, বিয়ে হয়, সংসার হয়, শরীরের সম্পর্কও হয়। তারপর আসে মনের জানাশোনার পালা, তারপর তৈরি হয় দাম্পত্য।

এই মনকে জানতে-শুনতে গিয়ে যদি মনের মিলটাই না হয়, তখন? তখনই শুরু হয় টানাপোড়েন, জীবনের দেহজুড়ে পাওয়া, না পাওয়ার দীর্ঘ হিসাব-নিকেশ। সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ, যন্ত্রণাময় কাটাকুটি।  অনেকেই ভাবতে পারেন, ‘এক ছাদের নিচে থাকছি, ছেলেপুলে হয়েছে, সংসার আছে, নিয়মিত যৌন সম্পর্ক হচ্ছে – দাম্পত্যে আর কী চাই?’
সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটাই কিন্তু ভুলে গেলেন।  সেটা হলো মনের মিল।  দাম্পত্য সম্পর্কে মনের মিলটাই কিন্তু সবার আগে চাই।

একটা বয়সের পর শরীরের পাশাপাশি মনেরও একটা চাহিদা তৈরি হয়, তীব্র একটা দাবি তৈরি হয়। বয়স যত বাড়ে, সেই দাবিটিও তত বাড়ে।  আর সেই দাবি যদি পাশের মানুষটি পূরণ করতে না পারে, দাম্পত্যে তখন সংঘাত অবধারিত।  তখন শুরু হয় জীবনজুড়ে কাটাকুটির অঙ্ক আর সম্পর্কের যন্ত্রণাময় ব্যবচ্ছেদ।   কারো কারো সম্পর্ক মোড় নেয় পরকীয়ার দিকে।  নিজের দাম্পত্যে যা নেই, সেটাই পাওয়ার আশার কেউ কেউ হাত বাড়ান অন্যদিকে।

অনৈতিক কিছু সম্পর্কে জড়িয়ে গিয়ে আরও এলোমেলো হয়ে যায় সম্পর্কের সুতো।   সত্যি বলতে কী, শরীর আর মন কিন্তু প্রায়ই আলাদা হয়ে যায়।  বিশেষ করে তখন, যখন আমরা ধরে নিই দাম্পত্যের অর্থ কেবল যৌন সম্পর্কের বৈধতা কিংবা সন্তান জন্ম দেওয়ার আয়োজন।  এসবের বাইরে দাম্পত্য অনেক বড় কিছু।  দাম্পত্য মানে বন্ধুত্ব, দাম্পত্য মানে এই বিশাল বড় পৃথিবীতে নিজের একটি ছোট দুনিয়া। সেই দুনিয়ায় আমি, আমরা নিরাপদ, যেখানে সবাই আপন।

মা-বাবার পর নিজের স্বামী বা স্ত্রীই জগতে সবচেয়ে আপন।  সবচাইতে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এই মানুষটির সাথেই তৈরি হয় আমাদের, জীবনসঙ্গীর সাথেই আমরা পার করি জীবনের একটি বিশাল অংশ। তাহলে ভাবুন তো, সেই মানুষটির সাথে মনের মিল না হলে কি চলে? যার সাথে জীবন কাটাচ্ছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারো সাথে মনের মিল করার চেষ্টা করলে কি কখনো সুখী হতে পারবেন?

উত্তর হচ্ছে, ‘না, পারা যাবে না।’  সম্পর্কের পৃথিবীর কিছু নিজস্ব সমীকরণ আছে, সেই সমীকরণ মানতে হয়।  দাম্পত্যে যদি সুখী হতে হয়, তাহলে সুযোগ করে দিতে হবে শরীর-মনের যুগপৎ সহাবস্থানের। সঙ্গীকে করে নিতে হবে আত্মার আত্মীয়, এমন কেউ যার সাথে বিনিময় করা যায় নিজের সব আবেগ ও অনুভূতি।

কেবল সাথে থাকাই দাম্পত্য নয়, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে পাশে থাকাটাই সত্যিকারের সম্পর্কের নীতি।  সব বন্ধনের সীমা ছাড়িয়ে কেবল মনের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটাই আসল দাম্পত্য। মনের বন্ধন সঠিক হলে তারপর শরীর আসবে, সংসার আসবে। সুখের সাথে সন্ধি করে কেটে যাবে জীবন।

তবে, শেষে গিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠতে পারে, ‘শরীর আর মন কি সত্যিই আলাদা? শরীর আর মনকে কি আলাদা করা যায়?’ যায় হয়তো! মাঝে মাঝে আমরা এমন কারো সাথে থাকি, যার সাথে আমাদের মন থাকে না। মাঝে মাঝে মন এমন কারো কাছে থাকে, যার পাশে শরীর যেতে পারে না।
কারণ, এই এক মানবজীবনে শরীর আর মন একসুরে, একই ছন্দে বারবার বেজে ওঠে না। কেবল একজনের জন্যই হয়তো সমগ্র অস্তিত্ব একসাথে সাড়া দেয়। আর সেই একজনকেই হয়তো আমরা আমরা ‘মনের মানুষ’ বলি।  সুত্রঃ  প্রিয় ডট কম

দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবছেন? আইন কি বলে আগে জানুন

জীবনের উত্থান পতনে যদি আবার বিয়ে করার প্রয়োজন হয় তখন কি চাইলেই আপনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন? উত্তর হচ্ছে, আইন অনুযায়ী এক স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করা যাবে না। তবে কারও যদি স্ত্রী বর্তমান থাকাকালে আরেকটি বিয়ে করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাঁকে তাঁর বর্তমান স্ত্রী যে এলাকায় বসবাস করছেন, সেই এলাকার সালিসি পরিষদের কাছে আরেকটি বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ এবং এই বিয়েতে বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি রয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র দুই পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে সালিসি পরিষদ গঠন করে থাকেন।

সালিসি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিয়েই কেবল দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে। সালিসি পরিষদে যদি বর্তমান স্ত্রী অনুমতি প্রদান না করেন, তাহলে কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। আবার সালিসি পরিষদকেও নির্দিষ্ট কিছু বিষয় বিবেচনা করে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি প্রদান করতে হবে।

যেমন: ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্যজীবন সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি। কোনো কারণে যদি স্ত্রী পৃথক থাকতে চান বা আলাদা বসবাস করেন সে ক্ষেত্রেও স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। তবে কোনো কারণে যদি স্ত্রী ঘরে আর না ফেরেন এবং দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অনুমতিও প্রদান না করেন, তাহলে আইনসম্মতভাবে তালাক কার্যকর করার পরই পুনরায় বিয়ে করতে হবে।

শাস্তি
যে ব্যক্তি সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করেন, তিনি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ (৫) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত বিনা শ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এ জন্য প্রথম স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে ফৌজদারি আদালতে মামলা করতে হবে। আবার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে যদি আগের বিয়ের কথা গোপন করেন তাহলেও দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠিন শাস্তি পেতে হবে।

স্ত্রীকে অধিকারবঞ্চিত করা যাবে না
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রী সম্পূর্ণ মোহরানার টাকা দাবি করতে পারেন। স্বামী সম্পূর্ণ মোহরানার টাকা পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য। বর্তমান স্ত্রীকে কাবিননামায় তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হলে সরাসরি নতুবা আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে প্রথম স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাবেন। কোনোভাবেই স্বামীর ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না। আবার দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেললে দ্বিতীয় স্ত্রীকেও তাঁর মোহরানাসহ যাবতীয় আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। উভয় পক্ষের সন্তানসন্ততিকেও প্রাপ্য ভরণপোষণ দিতে হবে। সব সন্তানই ভবিষ্যতে সমানভাবে উত্তরাধিকারীর সব অধিকার লাভ করবে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে দ্বিতীয় বিয়েটি অবৈধ হয়ে যাবে না। কিন্তু স্বামীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

লেখক: শুভ্র সিনহা রায়, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো

অসম বয়সের সম্পর্কে যে সমস্যা গুলো হতে পারে

প্রেম, ভালোবাসা বা বিয়ে যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের থেকে বয়সে ছোট হবে, এমনটাই ভাবে সবাই। কারণ বয়সের ধারণাটি আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থাই তৈরি করে দিয়েছে।  নিজের থেকে বয়সের থেকে অনেক বড় এমন একজন নারী বা পুরুষের প্রেমে যে কেউই পড়তে পারেন, তাকে ভালোবাসতে পারেন, এমনকি বিয়েও করতে পারেন। কিন্তু আমাদের সমাজ ও পরিবার এমন ‘অসম’ বয়সের সম্পর্ক সহজে মেনে নিতে চায় না। এমনকি বয়সের পার্থক্যের কারণে ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও সমস্যা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, এ ধরনের সম্পর্কে দুজনকেই নানা ধরনের সামাজিক বা পারিবারিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়। তবে তিনি মনে করেন, বয়সের ব্যবধান যদি অনেক বেশি হয়, অর্থাৎ ১০-১৫ বছরের ব্যবধান হলে সোশ্যাল, বায়োলজিক্যাল বা ডেমোগ্রাফিক্যাল সব ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।

আসলে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্কটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাই সমাজ বলি আর পরিবার বলি, কোথাও এই অসম সম্পর্কটি গ্রহণযোগ্য হয়নি।  তবে অধ্যাপক রহমান মনে করেন, যদি এই সম্পর্কটি দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে হয় তাহলে খুব বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয় না। যদি তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো থাকে।  জেনে নিন এ ধরনের অসম বয়সের সম্পর্কে কী ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং তার সমাধান কী :

সমস্যা-১
স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বয়স বেশি হলে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। ফলে উভয়ের মধ্যেই মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এই মানসিক চাপ যেমন দুজনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে, তেমনি এর কারণে সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে।

সমাধান 
সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হলে তা উত্তরণের চেষ্টা করুন। সঙ্গীর সাথে বেশি সময় কাটান।

সমস্যা ২ 
আমাদের পরিবারগুলো এখনো গতানুগতিক সম্পর্কের বাইরে বেরোতে পারেনি। খুব কম পরিবারই আছে যারা এমন বিয়ে সহজেই মেনে নেয়। পরিবারের  সদস্যরা এ সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো ধরনের সহযোগিতাই করেন না।

সমাধান 
পরিবারকে চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন যে আপনারা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। যেকোনো সম্পর্কে প্রয়োজন ভালো বোঝাপড়া, শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ। এখানে বয়স কোনো মুখ্য বিষয় নয়। একসময় না একসময় পরিবার মেনে নেবেই।

সমস্যা ৩ 
স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্যের কারণে মানসিক বয়সের পার্থক্যও দেখা দেয়। এই মানসিক বয়সের পার্থক্যের কারণে মাঝে মাঝেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব হতে পারে,  হতে পারে ভুল বোঝাবুঝিও।

সমাধান 
একে অপরের চিন্তাভাবনা,  মতামত,  সিদ্ধান্ত ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিন। সমস্যা হলে খোলাখুলি আলোচনা করুন।

সমস্যা ৪ 
সাধারণত ৩০-৩৫ বছরের পরেই গর্ভধারণের ব্যাপারটি মেয়েদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। তাই স্ত্রীর বয়স বেশি হলে তা আরো বেশি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সমাধান 
বিয়ের আগে বা বিয়ের পরপরই ঠিক করে নিন যে আপনারা সন্তান কবে নিতে চান।  বেশি দেরি না করাটাই ভালো।

সমস্যা ৫ 
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হলে একটা সময়ে গিয়ে যৌনজীবনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এর ফলে দাম্পত্য সম্পর্কে কলহ সৃষ্টি হয়।

সমাধান 
শারীরিক সম্পর্কে একে অপরের মধ্যে সমঝোতার দরকার রয়েছে। এ ব্যাপারে ধৈর্য ও সহনশীলতারও প্রয়োজন। তাই দুজনের মতামতকেই প্রাধান্য দিন।  সুত্রঃ এন টি ভি

নারী সঙ্গীকে উচ্ছল রাখতে পারে যে কথা গুলো বলবেন

ভালোবাসার সম্পর্ক গভীর করে তুলতে চাইলে একে অপরের খেয়াল খুশির ওপর অনেকটা লক্ষ্য রাখতে হয়। যারা বুদ্ধিমান তারা এই কাজটিই ভালোমতো করে থাকেন। একে অপরের পছন্দের প্রতি নজর রাখা, একে অপরের সাথে ভালো করে মানিয়ে চলা এই সবই ভালোবাসাকে গভীর করে তোলে। আরও একটি জিনিস রয়েছে যা অনেক বেশি মধুর করে তোলে, তা হলো মধুর কথাবার্তা। মুখের সামান্য মিষ্টি কথায় অনেকেরই মন অনেক ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের। মেয়েরা এই জিনিসটি অনেক বেশি পছন্দ করেন।  

মেয়েরা চান তার প্রেমিক বা স্বামী তার প্রশংসা করুন, তার সাথে বসে কিছু কথা বলুন। আর সামান্য কিছু মিষ্টি মধুর কথাতেই অনেক বেশি খুশি হয়ে যান অনেক নারী। এসবের বাইরেও কিছু কিছু কথা রয়েছে যা নারীরা ভালোবাসার পুরুষটির কাছ থেকে শুনতে খুব পছন্দ করেন। তাদের কাছে এই কথাগুলোর মূল্য অনেক বেশি। পুরুষের মুখের এই কথাগুলোর মাধ্যমে নিজের গুরুত্বটা বুঝে নেন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক মেয়েরা তাঁর ভালোবাসার পুরুষের কাছ থেকে কোন কোন কথা শুনতে ভালোবাসেন।

তোমাকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে: কম বেশি সব মেয়েরাই প্রশংসা শুনতে বেশ পছন্দ করেন। আর মেয়েরা এতো কষ্ট করে সাজগোজ এবং দারুণসব পোশাক-আশাক পরেন শুধুমাত্র তার পছন্দের মানুষটির কাছ থেকে একটু প্রশংসা শুনতে। এটা বাদে তাদের এতো সব কষ্ট করার কোনো কারণ নেই। তাই শুধুমাত্র ‘তোমাকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে’ এই কথাটি মেয়েদের কাছে অনেক পছন্দের।

তুমি আমার জীবনের প্রথম নারী: যদিও এই কথাটি অনেকেই মিথ্যা বলে থাকেন এবং অনেক মেয়েই তা জানেন যে পুরুষটি মিথ্যা বলছে। তারপরও এই কথাটি শুনতে বেশীরভাগ মেয়েই পছন্দ করেন। অনেক মেয়েই এই কথাটি সত্য মিথ্যার ঊর্ধ্বে রেখে নিজেকে পছন্দের মানুষটির কাছে সকলের থেকে আলাদা ভাবতে থাকেন।

তুমি অনেক ভালো মা হতে পারবে: প্রতিটি মেয়েরই মনে মাঝে লুকোনো থাকে সুখী পরিবারের একটি চিত্র। যখন একটি ছেলে তাকে এই কথা বলেন তখন মেয়েরা নিজেকে অনেক বেশি আলাদা ধরণের গুণসম্পন্ন ভাবেন। ছেলেদের এই কথায় মেয়েরা ভাবেন তাদের গুণ সম্পর্কে তার প্রিয় মানুষটি বেশ ভালো করেই অবগত আছেন। এতে করে মেয়রা বোঝেন তার পছন্দের মানুষটি তাকে বেশ ভালোই বোঝেন। আর তাই মেয়েদের এই কথাটি শুনতে এতো ভালো লাগে।

এই সম্পর্কে তুমি কী মনে কর?: অনেক মেয়েই চান তার প্রিয় মানুষটি তার মতামতের গুরুত্ব দিন। হয়তো মেয়েটি আপনার মতামতকেই প্রাধান্য দেবেন কিন্তু আপনি যখন তার মতামত জানতে চাইবেন তখন সে মনে মনে অনেক খুশি হবেন। অনেক মেয়ের কাছেই এইটুকু অনেক বড় একটি ব্যাপার।

তুমি তো জানোই আমি কী ভাবি: অনেক সময় ছেলেরা হয়তো কিছু লুকোনোর জন্য এই কথাটি বলে থাকেন। কিন্তু এই কথাটির মূল্য মেয়েদের কাছে অনেক বেশি। যখন একটি ছেলে তার সঙ্গিনীকে বলেন ‘তুমি তো জানোই আমি কি ভাবি’ তখন মেয়েটি মনে মনে ভাবেন তার প্রিয় মানুষটি তাকে তার সাথে সব কিছু শেয়ার করেন বলেই এই কথাটি বলেন। এই কথাটি শুনলে অনেক মেয়েই খুশি হয়ে যান।

আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি: অনেকেই আছেন যারা মনে করেন আমি তাকে ভালোবাসি এবং সে আমাকে ভালোবাসে তাই এর মাঝে প্রকাশ করার মতো কিছু নেই। কিন্তু মেয়েরা ভাবেন ঠিক তার উল্টোটা। মেয়েরা চান তার প্রিয় মানুষটি তাকে কতোটা ভালোবাসেন তা তিনি মুখে প্রকাশ করুন। ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি মেয়েরা ছেলেদের মুখ থেকে শুনতে অনেক বেশি ভালোবাসেন।  সুত্রঃ সময়কণ্ঠস্বর

বিবাহবিডির ১০ বছরে পদার্পন

বাংলাদেশ, আমাদের এই বিশাল জনগোষ্টির দেশে প্রতিবছর যেমন বাড়ছে জনসংখ্যা তেমনি ব্যাস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। আধুনিক জীবনে “সময়” হয়ে উঠেছে এক দূর্লভ বস্তু। সময়ের স্বল্পতা আমাদের মাঝে তৈরী করেছে যোগাযোগহীনতা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা।  এদেশের ১৮ থেকে ৬০ বছরের সাড়ে আট কোটি মানুষের মাঝে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লক্ষ মানুষ বিবাহযোগ্য।  প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে।  প্রাচীন যে পদ্ধতিতে এতদিন বিয়ের পাত্রপাত্রী নির্বাচন করা হতো ক্রমশই তা হয়ে পড়ছে জটিল, ব্যয়বহুল, সময় সাপেক্ষ এবং সর্বোপরি অনিরাপদ।

শুধু বাংলাদেশের নয় সমস্ত বিশ্বের বিবাহযোগ্য এই সাড়ে তিন কোটিরও বেশী বাংলাদেশীদের জীবন বৃত্তান্ত  একটি মাত্র ডাটাবেইজের আওতায় নিয়ে আশার স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮ সালের পহেলা বৈশাখ প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব পোর্টাল বিবাহবিডি ডট কম ।

প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১০ বছরে বিশ্বের ৭০ টি দেশের অর্ধ লক্ষের ও বেশী পরিবার গঠনের মূল ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করেছে এই ম্যাট্রিমনিয়াল পোর্টাল বিবাহবিডি ডট কম; বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েব সার্ভিস বিবাহবিডি বিশ্বাস করে – All Marriages are made in haven .  প্রত্যেক মানুষের জন্যই রয়েছে একজন যোগ্য জীবনসঙ্গী, শুধু খুঁজে পেতে হয় সেই কাংখিত জীবন সঙ্গীটিকে।  বিবাহবিডি ডট কম তার সুবিশাল ডাটাবেইজে ধারন করে রেখেছে সাড়ে তিন লক্ষ্যের ও বেশী প্রার্থী।  নতুন জীবন শুরু করার এই পদক্ষেপে বিবাহবিডি আপনার সঙ্গী হতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত।

বিবাহবিডি ডট কম সাপোর্ট টিম – ২০১৮

বিবাহবিডি জীবনসঙ্গী খোঁজার প্রাচীন ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ কাজটিকে আধুনিক, নিরাপদ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে।  একজন আগ্রহী পাত্রপাত্রী বিবাহবিডির সাথে যুক্ত হন ফ্রী রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে।  এসময় বিবাহবিডির দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা সরাসরি ফোন কলের মাধ্যমে প্রার্থীর তথ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা হয়।

এক্ষেত্রে মাল্টিপল ভেরিফিকেশনের জন্য গার্ডিয়ান ভেরিফিকেশন এবং এনআইডি, এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন পেপার্স, জব আইডেন্টিটি ইত্যাদির ভেরিফিকেশনের পর পাত্রপাত্রীকে বিবাহবিডির নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা হয়।  এই ফ্রী রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে তিন দিনের ট্রায়াল পর্বে প্রার্থী বিবাহবিডির কার্যক্রম, সার্ভিস, ও নির্ভর যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।  অতঃপর পাত্র পাত্রী নিজেই চাহিদা মত “ডায়মন্ড, পার্ল, রুবী ও অনিক্স” এই চারটি মেম্বারশীপের যেকোন একটি বেছে নিতে পারেন।

একজন মেম্বার তার জীবনসঙ্গী খুঁজতে বিবাহবিডির যাচাইকৃত প্রোফাইল ডাটাবেইজ থেকে জেলা, ধর্ম, পেশা, শিক্ষা, উচ্চতা, ও পারিবারিক তথ্য সহ ৩৫ টির ও বেশী আলাদা আলাদা সার্চ অপশনের মাধ্যমে কাংখিত সঙ্গীকে খুঁজতে পারেন।

ভিন্ন ধর্মালম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টির সদস্যদের জন্য নিজ নিজ গোত্র, বর্ন এবং ভাষাভাষী সঙ্গী খুজতে রয়েছে ভিন্ন সার্চ ক্যাটাগরী।

যেহেতু বিবাহবিডির মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশে বসবাসরত জনগোষ্টীই নয় বিশ্বের ৭০ টির ও অধিক দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরাও যুক্ত তাই বিবাহবিডির কাষ্টমার সার্ভিস সেবা ও সাপোর্ট ব্যবস্থা ৩৬৫ দিন ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে।

আপনি বিশ্বের যে স্থানেই অবস্থান করুন না কেন এসএমএস ও ইমেইল এর মাধ্যমে যেকোন আপডেট অথবা কোন আগ্রহী প্রার্থীর যোগাযোগের ইচ্ছা মূহুর্তেই আপনাকে জানিয়ে দেয়া হয়।  আধুনিক এই ব্যস্ত সময়ে বিবাহবিডির এই সাপোর্ট ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজ।

জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করা ছাড়াও বিবাহবিডি ডট কম তার সম্মানিত সদস্যদের আরো কিছু বাড়তি সেবা প্রদান করে থাকে।  যার প্রথমটি হলো – “ফিজিক্যাল ইনকোয়ারি” যখন একজন মেম্বার ওপরজনকে উপযুক্ত মনে করেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপে আরো তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চান তখন বিবাহবিডি ডট কম তাদের অভিজ্ঞ টিমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও সংগ্রহিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করনে সাহায্য করে থাকে।  বিবাহবিডি ডট কম বিশ্বাস করে শুধু তথ্য নয়, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাই  খুঁজে পেতে সাহায্য করে একজন সঠিক জীবন সঙ্গী।

দ্বিতীয় সেবা “লিগ্যাল সার্ভিস”।  বিবাহবিডি ডট কম প্রয়োজনবোধে তার নিজস্ব আইনজীবিদের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ প্রদান করে থাকে।  ইমেগ্রেশন ইষ্যু, মিক্স ম্যারেইজ ও এডপশন ল এর মত বিষয় গুলোতে বিবাহবিডির আইনি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে।

কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে ডিভোর্স, সেপারেটেড, সিংগেল মাদার, সিঙ্গেল ফাদার, বিধবা, বিপত্নীক, ও শারিরিক প্রতিবন্ধকতা আছে এমন সদস্যদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে বিবাহবিডির দক্ষ টিম বিশেষ সেবা প্রদান করে থাকে।

২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই দীর্ঘ ১০ বছর চলার পথে বিবাহবিডি ডট কম সারা বিশ্বে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশী পরিবারকে সেবা দিতে পেরে গর্বিত।  কমিউনিটি সার্ভিসে বিশেষ অবদানের জন্য বিবাহবিডি ২০১৭ সালে বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি এওয়ার্ড অর্জন করেছে।

 

বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড – ২০১৭ (community and inclusion ) গ্রহন করছেন বিবাহবিডি ডট কম এর সিইও জি,এম ফ্রেজার

বিবাহবিডি তার কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে ২০১৯ সালে প্রতিটি উপজেলায় এজেন্ট নিয়োগ, বিশ্বের ৭০ টির ও বেশী দেশে প্রতিনিধি তৈরী সহ দেশের সর্ববৃহৎ অনলাইন ভিত্তিক বিয়ে বাজার তৈরীর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

আপনার ভবিষ্যত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে নিশ্চিত, নিরাপদ ও আধুনিক প্রক্রিয়ার নাম বিবাহবিডি ডট কম।
বিবাহবিডি ডট কম ওয়েব পোর্টাল টি আজই ভিজিট করুন ও ফ্রী রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যেমে যুক্ত হোন আমাদের সাথে।  বিবাহবিডি ডট কম – রিয়েলাইজিং ড্রিমস!

#বিবাহবিডি ব্লগ  #বিবাহবিডি ফেইসবুক পেইজ

পুরুষের যে আচারন গুলোতে মুগ্ধ হয় নারীরা

নারী কিংবা পুরুষ যাই হোন না কেন উভয়ের বিশেষ কিছু গুণ থাকা একান্ত প্রয়োজন।  আপনার কাজে-কর্মের দক্ষতায় গুণে আপনি হতে পারেন অন্যদের চেয়ে আলাদা। তাই একজন মানুষ যদি অনেক গুণে গুণান্বিত হন তবে তিনি অনেক দূর এগিয়ে যাবেন।  বেশিরভাগ নারীরাই কিন্তু বুদ্ধিমতি হয়।  তারা পুরুষদের গুণ দেখেই সাধারণত প্রেম ও বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।  নারীদের দেখে পুরুষেরা যেমন আকর্ষণ অনুভব করে, ঠিক তেমনি পুরুষদেরও কিছু আচরণ আছে যা দেখে নারীরা আকর্ষণ অনুভব করে।  আসুন জেনে নিই পুরুষদের যেসব গুণ নারীদের নজর কাড়ে।

ধৈর্যশীল
ধৈর্যশীল পুরুষদের বরাবরই পছন্দ করেন নারীরা।  নারীদের আকৃষ্ট করতে চাইলে আপনার প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। কাছের মানুষের কাছে খোজ নিলেই জানতে পারবেন নারীরা সাধারণত যে সকল পুরুষদের পছন্দ করে তারা অনেক ধৈর্যশীল হয়।

মন খুলে হাসি
একজন পুরুষকে মন খুলে হাসতে জানতে হবে। বিশেষ করে তার রসবোধ থাকা খুবই জরুরি। বেরসিক পুরুষদের সব সময়ই অপছন্দ করে নারীরা। এছাড়া কীভাবে আপনি তাকে হাসাতে পারবেন এজন্য নারীরা অপক্ষোয় থাকেন।

অগ্রিম পরিকল্পনা
যেসব পুরুষেরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পরিকল্পনা করতে পারে, তাদের নারীরা অনেকে বেশি পছন্দ করে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিকল্পনা থাকাটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে, তাদেরকে মেয়েরা বেশি পছন্দ করে।

শারীরিক গঠন
একজন পুরুষের শারীরিক গঠন খুবই প্রয়োজন।  যারা নিজেকে ফিট রাখে না, তাদের নারীরা খুব একটা পাত্তা দেয় না। শারীরিক গঠন বা চেহারা সবই জন্মগত, কিন্তু এর পরিচর্যা আপনাকেই করতে হবে। তাই পছন্দের মেয়েটিকে জীবনসঙ্গী করতে চাইলে নিজের প্রতি যত্নশীল হন।

আত্মবিশ্বাসী হওয়া নারীদের কাছে প্রিয় হতে হলে আত্মবিশ্বাসী হওয়া খুবই জরুরি। কারণ নারীরা আত্মবিশ্বাসী পুরুষদের বেশি পছন্দ করে। সামান্য নার্ভাসনেস ভালোই লাগে; কিন্তু এটি যদি মাত্রাতিরিক্ত হয়, তাহলে নারীরা খুবই বিরক্ত হয়।

স্মার্ট হওয়া
একজন পুরু।ষকে অবশ্যই স্মার্ট হতে হবে। আপনার সঙ্গে সে অনেক জায়গায় যাবে, সেখানে যদি আপনি পরিপাটি না থাকেন, তাহলে সে বিরক্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে।

যে কারণে বহু সফল মানুষই ব্যক্তিগত জীবনে অসুখী

বহু মানুষই নানা কারণে নিজেকে অসুখী বলে মনে করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি যদি কর্মক্ষেত্রে সফলতা না পান, কোনো কারণে আশাভঙ্গ হয়, কোনো কাজের সঠিক সমাধানে পৌঁছাতে না পারেন কিংবা শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় থাকেন তাহলে এমনটা হতে পারে।  তবে বাস্তবতা হলো, সবকিছু থাকার পরেও বহু মানুষ নিজেকে অসুখী বলে মনে করেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে আইএনসি।  আপনার যদি কোনো বিষয়ে ঘাটতি থাকে তাহলে নিজেকে অসুখী মনে হতে পারে। কিন্তু বহু মার্কিনির মাঝে দেখা যাচ্ছে সবকিছু থাকার পরও তারা অসুখী। অন্যদিকে বহু মানুষ রয়েছে যাদের কোনো কিছুই নেই। তার পরেও তাদের মনে সুখের ছড়াছড়ি। কিন্তু এর কারণ কি?

একজন মানুষ আর্থিকভাবে নিরাপত্তা পাওয়া, পেশাগত জীবনে সফলতা পাওয়া কিংবা পারিবারিক জীবনে নির্ঝঞ্ঝাট হওয়ার পরও যে সুখী হবেন, এমনটা ভাবার কারণ নেই। কারণ সুখের বিষয়টি অনেকটা আপেক্ষিক। আর এতে বহু মানুষকেই দেখা যায় নিজেকে অসুখী হিসেবে ভেবে নিতে।    সম্প্রতি মানুষের মনের এ সুখের তারতম্যের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিজনেস প্রফেসর রাজ রঘুনাথায়ন। তিনি তার অনুসন্ধান একটি বইতে তুলে ধরেছেন, যার নাম ‘ইফ ইউ আর সো স্মার্ট, হোয়াই আরনট ইউ হ্যাপি?’ তিনি তার জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা তুলে ধরেছেন এ বইতে।

আপনার সাফল্যের মাপকাঠি কী?
অনেকেই নিজের মনের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন না। এক্ষেত্রে আপনি উদ্যোক্তা কিংবা পেশাজীবী যাই হন না কেন, জানা থাকা উচিত আমরা কোনো কোনো বিষয়ে খুবই ভালো। সত্যিকার সুখী হওয়ার জন্য আমাদের এ ভালো বিষয়টির প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া উচিত। আর উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের সব সময়েই নানা দক্ষতা ও অর্জন করতে দেখা যায়। তারা এসব বিষয়ে সাধারণত ভালো হন। তার পরেও তারা সন্তুষ্ট হন না এবং আরও ভালো করার জন্য অসন্তুষ্টিতে ভোগেন।

কিন্তু কেন এ অসন্তুষ্টি? কারণ তারা নিজেদের যে পাল্লায় মাপেন তা ভুল। বহু মানুষই সামাজিক তুলনা করেন তাদের অর্জন বিষয়ে, যা সত্যিই একটি ভয়ঙ্কর বিষয়। এ বিষয়ে রঘুনাথায়ন বলেন, আপনি সব সময়েই সাফল্যকে সবচেয়ে বড় কোনো ব্যক্তির সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করেন। এতে অসন্তুষ্টি বেড়ে যায়। কিন্তু আপনার বেতন যদি অনেকখানি বেড়ে যায় তাহলেও আপনি তা এক মাস, দুই মাস বা ছয় মাস পর্যন্ত সন্তুষ্ট থাকেন। তারপর আপনার আরও বেশি বেতনের চাহিদা তৈরি হয়। আর এভাবেই সুখের মাত্রা কমে যায়। এ কারণে সাফল্য মাপার মাপকাঠিটি নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন।

সাফল্য নয় কর্তৃত্ব মাপুন
সাফল্যের বাহ্যিক লক্ষণগুলোর পেছনে আপনি যতই দৌড়াবেন তা ততই আপনাকে বোকা বানাবে। তাই সাফল্যের গতানুগতিক ধ্যান-ধারণা বাদ দিয়ে তাকে কিছুটা ভিন্নভাবে মাপতে হবে। এক্ষেত্রে সাফল্য নয় কর্তৃত্ব মাপাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন নিজেকে অন্য মানুষদের সঙ্গে মাপা বাদ দিবেন তখনই আপনার এ অবস্থা পরিবর্তিত হবে। এতে আপনার মনের সুখের মাত্রা বাড়বে। এ বিষয়ে রঘুনাথায়ন বলেন, আপনি যদি অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করেন তাহলে কোনো বিষয়ের দিকে নিজের দৃষ্টি নিবদ্ধ করার ক্ষমতা কমে যায়। এতে আপনার সাফল্য কমে যায়। নিজের সত্যিকার অর্জনের বদলে অর্থ কিংবা সম্পত্তি অর্জনের দিকে মনোযোগ তৈরি হয়। এছাড়া অন্যকে অনুকরণের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু আপনি যখন আরও দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাইবেন তখন বিষয়টি পাল্টে যাবে। তাই এ গবেষকের মতে নিজের কর্তৃত্ব বাড়িয়ে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর অর্থ কিংবা প্রতিপত্তি স্বাভাবিকভাবেই আসবে।  সুত্রঃ ডেইলি সান

দাম্পত্য জীবনের টানপোড়ন

একজন মেয়ের স্বামীর ভালবাসা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তার পরিবারকে আপন করে নেয়া।  হাতেগুনা দু’একজন ছাড়া মোটামুটি সব মেয়েই এটা বুঝে। তাই বিয়ের পর সাধারণত খুব কম মেয়েই স্বামীর মা-বাবা কে পর ভাবে।  বিয়ে কেন্দ্রিক পারিবারিক সমস্যাগুলো যা চোখে পরে তার মধ্যে একটা মূল সমস্যা হল, স্বামীর পরিবারকে স্ত্রীর আপন করে না নেওয়া।  কিন্তু অনেক সময় ব্যাপারটির উল্টোটাও ঘটে। আমরা ছেলের পরিবারের সদস্যরাই অনেক সময় তাদেরকে পর ভাবতে বাধ্য করি।  উঠতে বসতে, পদে পদে ভুল ধরে, দোষ বের করে তাদের এমনভাবে অপদস্থ করি যে আমাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধার বোধটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।

দেরি করে বাসায় ফেরা স্বামীকে কে রাতে সময় দেওয়ার পর সকালে উঠেই সবার জন্য রাস্তা রেডি করতে বা ঘুম থেকে উঠতে আধা ঘণ্টা বিলম্ব হলেই মহারাণী খেতাব দিয়ে খোঁটা দেওয়া, মেয়ের বাড়ির লোকদের নিয়ে কটু কথা বল- এগুলো হরহামেশাই আমরা করি।  আবার স্বামীর কাছে বেয়াদব বউ, অকর্মা বউ ইত্যাদি বলে এমনভাবে তার কান ভারী করে দেই যে বউয়ের প্রতি তার আগ্রহই নষ্ট হয়ে যায়।   এটার ধারাবাহিকতাও খুব খারাপ।  এর ফলে দাম্পত্য জীবনে টানপোড়ন সৃষ্টি হয়। এমনকি বাহিরের নারীদের প্রতি পর্যন্ত তখন আসক্ত হয়।

একজনকে অপদস্থ করতে গিয়ে, ছোট করতে গিয়ে নিজের পরিবারের সদস্য হয়ে আমরা নিজেরাই আরেকজন সদস্যের জীবন এভাবে নষ্ট করি।  একজন মানুষ যে জায়গাতেই থাক না কেন, সে সব সময় একজন ভরসার মানুষ খুঁজে পেতে চায়। একজন মেয়ের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে সেই ভরসার জায়গা হয় তার বাবা, আর বিয়ের পর হয় স্বামী।  কিন্তু কোন কারণে যদি সেই ভরসার জায়গাটাও নষ্ট হয়ে যায়, তার মত হতভাগ্য আর কারো হয় না।

আমাদের পুরুষদের জীবন অনেক কঠিন। সব কিছু ম্যানেজ করে চলতে হয়। সন্তান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়, স্বামী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।  দুটো দায়িত্ব ভিন্ন হলেও গুরুত্ব একই। মাকে কখনো বউয়ের সাথে আর বউকে কখনো মা’র সাথে তুলনা করতে হয় না। এই জিনিসটা অনেকেই করে। যখনই তুলনা করা শুরু হয়, তখন থেকেই অশান্তি শুরু হয়।

মা-বাবার প্রতি আমাদের দায়িত্বটা জন্মগত। এটা অবশ্যই পালন করতে হবে, নতুবা এর জন্য পরকালে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।  স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব হল অর্পিত, যা আমরা নিজেরাই নিজের উপর চাপিয়ে নেই। যে মেয়েকে নিজের ইচ্ছেয় ঘরে আনা হয়, তার দায়িত্বও যদি সঠিকভাবে না পালন করা হয়, তাহলে এর জন্যও আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

বিয়ের পর একজন মেয়ের পরম সাহসই হল তার স্বামী।  স্বামীই হল একজন মেয়ের গর্ব, পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন, তার পরম ভরসার জায়গা।  সেই ভরসাটুকু বজায় রাখাও আমাদের দায়িত্ব।   Source- Dr. Taraki Hasan Mehed

এক তরফা প্রেম নেশার মত, বিচ্ছেদের থেকেও যন্ত্রণাদায়ক!

আপনাকে ভালোবাসে না, অথচ আপনি তাকে মন-প্রাণ উজার করে ভালোবাসেন। হ্যা, এটা কে একতরফা ভালোবাসা বলে। কিন্তু তার ভালোবাসা পাবেন এই আশায় কতদিন আপনি একা একা অপেক্ষা করবেন?

বুকের সীমাহীন ভালোবাসার মূল্যায়ন না পেয়ে হাজারো প্রকৃত প্রেমিক প্রেমিকার হৃদয় ভাঙার গল্প রয়েছে। কিন্তু সেই কাঙ্খিত মানুষটি যদি একটু গুরুত্ব দিত তা হলে কত জীবনই না বদলে যেত। এ অভাবেই থেকে যায় একটি হৃদয়ের প্রতি অপর একটি হৃদয়ের একতরফা ভালোবাসা।  চাইলেও কাঙ্খিত ব্যক্তিকে ভুলে যাওয়া যায় না। সত্যি বলতে সম্ভব হয় না। কী করেই বা সম্ভব, মনের মন্দির তো তার ফিরে আশার প্রদীপ জ্বেলে অপেক্ষায় থাকে।  আর সেজন্যই একটি মানুষের হাজারো অবহেলা সয়েও তবুও তার জন্য অপেক্ষা করা।  কিন্তু এভাবে কতদিন অপেক্ষা করা যায়?

প্রথমেই বলা হয়েছে একতরফা প্রেম/ভালোবাসা কাকে বলে। তবে এধরণের প্রেমে পড়া কী উচিত বা এমনটা হলে কীভাবে নিজেকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনা যায়? এপ্রশ্ন অগুণিত মানুষের।

একতরফা প্রেমে কী কখনো হৃদয় ভাঙে?
এমন প্রশ্ন প্রসঙ্গে ভারতের মনোবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক-বিশেষজ্ঞ প্রিতি সাইনি জানিয়েছেন, মূলত হৃদয় ভাঙা বলতে সেটাই বুঝায় যেখানে দু পক্ষের স্বীকৃতিতে প্রেম হয়েছিল। কিন্তু কোনো কারণে তা চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায় না। আবার একতরফা ভালোবাসাতেও এটা সত্য। এখানে তো একজনের ক্ষেত্রে অবশ্যই। যেখানে আপনার অনুভূতি ছিল কিন্তু তা প্রকাশ পায়নি বা প্রকাশ পেলেও স্বীকৃতি পায়নি। কখনো কখনো এই একতরফা ভালোবাসার অনিশ্চয়তার জন্যই কষ্টের কারণ বেড়ে যায়।  হয়তো কাঙ্খিত ব্যক্তি এক সময়ে ভালোবাসা বুঝতে পারবে, স্বীকৃতি দিবে- এ আশা মন থেকে দূর করা উচিত।  যে কারণে হৃদয় ভাঙার কারণ প্রত্যাখান নয়।  আর স্বীকৃতি না পাওয়াটা হতাশায় থেকে যায়।

সময় প্রয়োজন:
যে আপনাকে ভালোবাসে না তাকে ভালোবাসা এক প্রকার আসক্তি বা নেশার মত। যেখানে আপনার ভালোবাসার কোনো স্বীকৃতি নেই সেখানে প্রত্যাখান হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। অযথাই কল্পনা করে তাকে নিয়ে স্বপ্ন না দেখা উত্তম। এতে করে কষ্টের কারণ বেড়ে যায়। ভুল মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার অ্যভাস পরিহার করার জন্য এখনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, যদি আপনিও একতরফা ভালোবাসায় আসক্ত হয়ে থাকেন। কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে, হোক। তবুও ভালো।

যেভাবে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে:
মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে।  তাও সম্ভব না হলে সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ফলে ভুল করেও সেই মানুষটির কথা আর মনে পড়বে না।  কষ্টের কারণও বাড়বে না। আর যদি বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন তাহলে উত্তম হয়। বাস্তবতায় কখনো কোনো আবেগ পৌঁছাতে পারে না। এখানে শুধুই বিবেকবোধ কাজ করে। খুব সহজেই নিজেকে মুক্ত করে সফলতার নতুন পথে পরিচালিত করা যায়।

কী করবেন যখন দাম্পত্য জীবনে স্বামী বা স্ত্রী উদাসীন

বাইরে থেকে দেখলে সব ঠিক আছে।  সংসার, সন্তান, পরিবার, ভালোবাসা সবকিছুকেই অন্যরা মনে করছে পরিপাটি। কিন্তু বেডরুমের দরজার ওপাশে স্বামী বা স্ত্রী কেউ একজন হয়ে পড়ছেন উদাসীন। আগের সেই ভালোবাসা নেই, আন্তরিকতা নেই, যৌন সম্পর্ক নেই, পরস্পরের সাথে সেই আবেগীয় বিনিময় নেই, কেবল রোবটের মত চলছে যেন জীবনটা। এমন অবস্থায় কী করবেন আপনি?

১)  প্রথমেই আপনাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে যে জীবন সঙ্গী এমন আচরণ কেন করছেন? একেক দম্পতির ক্ষেত্রে একেকটি কারণ থাকতে পারে, তবে কারণ অবশ্যই থাকে। তবে মূল কারণ হচ্ছে দাম্পত্য একঘেয়ে বা বোঝা মনে হওয়া কিংবা কোন কিছু নিয়ে বিরাট মনোমালিন্যের কারণে এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া।

২) মনোমালিন্যই যদি কারণ হয়ে থাকে, তবে আপনি নিজে থেকেই চেষ্টা করুন মিটিয়ে ফেলতে। যা হবার তা হয়ে গিয়েছে, সেটা নিয়ে এভাবে আঁকড়ে ধরে বসে থাকলে হবে না।  হয়তো আপনার স্বামী বা স্ত্রী সেটা আঁকড়ে ধরে বসে আছেন, এখন আপনিও একই কাজ করলে মুশকিল।

৩) দাম্পত্য একঘেয়ে হয়ে পড়াটা খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা। একইসাথে কয়েক বছর কেটে যাবার পর প্রত্যেকটি মানুষের কাছেই সংসার জীবন ভীষণ বোরিং মনে হতে শুরু করে। পরস্পরকে পেয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় জীবনের হাজারো বাস্তবতার চাপ, আর সেগুলোর ভিড়ে হারিয়ে যান আপনাদের আবেগ ও অনুভব। তবে দাম্পত্যে একঘেয়েমি থেকেই কিন্তু জন্ম নেয় পরকীয়া ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। তাই এক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। নিজের সঙ্গীকে ঘিরে রাখুন ভালোবাসায়।

৪) আপনাদের ঝিমিয়ে পড়া সম্পর্কে আবারও রোমান্স ফিরিয়ে আনতে নতুন কিছু করুন।  নিজের লুক বদলে ফেলা থেকে শুরু করতে পারেন।  বিয়ের পর প্রায় সবাই-ই নিজের খেয়াল রাখা ছেড়ে দেন।  মুটিয়ে যান, সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেন, নিজের স্টাইল বা ফ্যাশন সেন্স মেইনটেইন করেন না অনেকেই। এই ব্যাপারটি যে কত বড় ভুল, এটা কেউ বোঝেন না। নিজের প্রিয় মানুষটির চোখে সুন্দর থাকাটাই তো সবচাইতে জরুরী, তাই না? আপনার নতুন লুক সঙ্গীর আগ্রহ ফিরিয়ে আনবেই।  নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।  হয়ে উঠুন ফিট ও স্মার্ট, ফিরে পাবেন নিজের আকর্ষণ।

৫) এমন কিছু কাজ করুন যেগুলো আগে কখনো করতেন না।  দুজনে মিলেই করুন। কিংবা করুন তারুণ্যের সেই ছেলে মানুষী। যৌন জীবনেও থ্রিল ফিরিয়ে আনতে করতে পারেন নানান রকম অ্যাডভেঞ্চার, স্বাদ নিন নতুন নতুন যৌন আচরণের।  এতে দাম্পত্যে ফিরে আসবে নতুনত্ব।  সম্পর্কে নতুন আনন্দ যোগ হলে যৌন জীবনও ফিরে পাবে গতি।

৬) সঙ্গী যৌন শীতলতা দেখালে তাঁকে বুঝুন। এটা বোঝার চেষ্টা করুন যে তিনি কেন শীতলতা দেখাচ্ছেন। কাজের চাপে তিনি কি মারাত্মক ক্লান্ত থাকেন সারাদিন, স্ট্রেস আছে ভীষণ বা কিছু নিয়ে অশান্তি কিংবা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন? কারণগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান করতে চেষ্টা করুন। ভালোবাসা ফিরে আসলে যৌন সম্পর্কও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

৭) সঙ্গী মূল্য দিক বা না দিক, তাঁকে প্রতিনিয়ত নানান ভাবে বোঝান যে আপনি তাঁকে কত ভালোবাসেন।  মাঝে মাঝে বলেও ফেলুন।  আপনার ভালোবাসার প্রকাশ যেন তাঁকে ঘিরে থাকে সারাক্ষণ।  দেখবেন, সঙ্গীর উদাসীনতা দূর হয়ে যাবেই। তিনি উদাসীন বলে আপনি কখনো গাল ফুলিয়ে থাকবেন না।

৮) তাঁর পছন্দের কাজগুলো তাঁর জন্য করুন, জীবনে একটা শান্তির আবহাওয়া ধরে রাখতে চেষ্টা করুন, সঙ্গীর কাজ ভাগ করে নিয়ে তাঁকে একটু আরাম দিন। যখন তিনি রিল্যাক্স করার সুযোগ পাবেন, তখন আপনাকে ভালোবাসারও সুযোগ পাবেন। একই সাথে ঘরদোরের সাজসজ্জাও বদলে ফেলুন। মনের ওপরে ভালো প্রভাব ফেলে।

৯) নিজেদের একান্ত নিরিবিলি সময় কোন ভাবেই বিসর্জন দেবেন না। সকাল কিংবা বিকালে নিরিবিলি এক কাপ চা, এক সাথে টিভি বা মুভি দেখা, নিয়ম করে বেড়াতে যাওয়া, এক সঙ্গে পছন্দের কিছু করা ইত্যাদি কাজগুলো যে দাম্পত্যে আনন্দ ধরে রাখতে কত কার্যকর আপনি কল্পনাই করতে পারবেন না। দাম্পত্য শীতল হয়ে গেলে কেবল দুজনে দূরে কোথাও একটা লম্বা সময় বেড়াতে যাওয়া খুবই কাজে দেয়।

১১) সময়ের সাথে দাম্পত্যের ধরণ বদলে যায় আর এটাই স্বাভাবিক।  সঙ্গী একটু দূরে সরে গিয়েছেন বলেই যে তিনি যে আপনাকে ভালোবাসে না কিংবা পরকীয়ায় জড়িয়েছেন, এমন ভাবনা বাদ দিন।  চেষ্টা করুন সম্পর্কটিকে ফিরে পাবার, আরেকবার নতুন করে প্রেমে ফেলের চেষ্টা করুন তাঁকে।  প্রয়োজনে কাউন্সিলরের সাহায্যও নিতে পারেন।  সূত্র: প্রিয় লাইফ