প্রেমের অনুভূতিতে শারীরিক প্রতিক্রিয়া

‘প্রেম যে কাঁঠালের আঠা, লাগলে পরে ছাড়ে না।’ সত্যি প্রেমের অনুভূতি এক অদ্ভুত অনুভূতি।  প্রেমে পড়লেও জ্বালা আবার এর স্বাদ না নিলেও যেন মন ভরে না! আর এ কারণে জীবনে একবারের মতো হলেও প্রেমে পড়েনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া আসলেই মুশকিল।  প্রেমে পড়ার অসাধারণ এই অনুভূতিটা সব মানুষই পেতে চায়।  পৃথিবীর তাবড় তাবড় স্নায়ুচিকিৎসকরা এই নিয়ে অনেকদিন ধরেই গবেষণা করে চলেছেন।  খুঁজে পেয়েছেন আশ্চর্য কিছু তথ্য।

মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিবর্তিত হয়ে যায়:  একথা সত্যি যে মানুষ প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন আসে। এবং পরিবর্তন আসে বলেই উলটে যায় চেনা পৃথিবী। চূড়ান্ত যুক্তিবাদী ব্যক্তিও অসঙ্গত আচরণ করতে পারেন। গম্ভীর ব্যক্তির ঠোঁটেও ফুটে উঠে হাসি। ব্যবহারের দিক থেকেও একজন মানুষ আমূল পালটে যেতে পারেন। হয়ে উঠতে পারে ব্যাকুল, ভীত এবং অস্থির। সদ্য প্রেমে পড়েছেন এমন ব্যক্তির মস্তিষ্ক স্ক্যান করে অনেক তথ্য জানতে পেরেছেন নিউরোলজিস্টরা। জানা যায়, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কের সামনের দিকের অংশ, অর্থাৎ ফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজ করা বন্ধ করে দেয়।এই অংশটি মানুষের বোধ-বুদ্ধি, বিচার-বিবেচনা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলত, প্রেমে পড়লে প্রথমেই মানুষ বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়। ঠিক-ভুল বিচারবোধ হারায়। আরও বেশি হারায় যদি, প্রেমিক/প্রেমিকার ফটো দেখানো হয়। ক্ষণিকের জন্য মানুষের ফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

লন্ডন ইউনিভার্সিটি অব কলেজের নিউরো-এসথেটিক্সের প্রফেসর সেমির জেকির মতে, ‘ভালোবাসার মানুষের ফটো দেখালে মানুষের মস্তিষ্কের বেশকিছু অংশ যেমন অ্যাকটিভ হয় ওঠে, ঠিক তেমনই ক্ষণিকের জন্য মানুষের ফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এমনটা আরও বেশি হতে পারে হঠাৎ কোনও মানুষের প্রেমে পড়লে। ব্যক্তি সৎ, না অসৎ, কেমন মানুষ, আর বিচার করার মতো অবস্থা থাকে না। তাই অনেক সময় ভুল ব্যক্তির প্রেমে পড়ে মানুষ। তারপর সারাজীবন অশান্তি ভোগ করে। মস্তিষ্কের এমআরআই স্ক্যান রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, মস্তিষ্কের যে অংশগুলি ভয় ও নেতিবাচকতা নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলিও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যে কারণে প্রেমে পড়লে মানুষ অনেকবেশি হাসিখুশি হয়ে ওঠে। নেতিবাচক ধারণাগুলি পুরোপুরিভাবে মুছে যায় মন থেকে।

শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে: বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এক ধরণের হরমোন আমাদের মনে উত্তেজনা ছড়ায় আর তার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ওইসব ঘটে৷ প্রেমে পড়লে যে হরমোনের জন্য মন এত উতলা হয়-সেগুলো সম্পর্কে জানা যাক: প্রেমে পড়লে দেহ-মনে যেসব প্রতিক্রিয়া হয় তার জন্য দায়ী টেস্টোস্টেরন নামের এক হরমোন৷ কেউ বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি আকৃষ্ট হলে টেস্টোস্টেরন বাড়তে শুরু করে৷ প্রেমের ওই প্রাথমিক ধাপেই দেখা দেয় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপার মতো উপসর্গগুলো৷ দেখা গেছে, প্রেমে পড়া মানুষের দেহে অন্য সব মানুষের তুলনায় টেস্টোস্টেরন অনেক বেশি থাকে।  প্রেমের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে নেমে পড়ে ডোপামিন৷ এই হরমোন-এর অন্য নাম, ‘সুখের হরমোন’৷ শুধু প্রেমে পড়লেই যে এই হরমোন ক্রিয়াশীল হয় তা কিন্তু নয়, কোকেন বা সিগারেটের নেশা করলেও ডোপামিন উজ্জীবিত হয় ৷ এ কারণেই অনেকে বলেন, প্রেমে পড়া আর নেশা করা একই। সেরোটোনিন নামে এক ধরণের হরমোন আছে যা আমাদের মনের আনন্দ আর আবেগকে স্থির রাখে ৷ প্রেমে পড়লে সেরোটোনিন কমে যায় ৷ ফলে প্রেমিক-প্রেমিকার আবেগ সংবরণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে ৷ তারা তখন ভালোবাসার মানুষটিকে ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারেনা ৷

ক্ষুধা কমে যায়: প্রেমের যে পর্যায়ে বুক ধড়ফড় করে, হাত ঘামায় তখন অ্যাড্রেনালিন নামের একটা হরমোনও খুব বেড়ে যায় ৷ এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষুধা কমে যায়৷ কম খাওয়া-দাওয়া করার ফলে শরীর দ্রুত ভেঙে পড়তে থাকে ৷ প্রেমে পড়ার তিন-চার মাস পর সাধারণত সম্পর্কে একটা স্থিতি আসে ৷ তখন শুরু হয় আরেক হরমোন অকসিটোসিনের কাজ ৷ এই হরমোনের কারণে দু-জনের সম্পর্কটা আরেও ঘনিষ্ঠ হয় ৷ প্রেমিক-প্রেমিকা যখন চুম্বন করেন, তখনও দুজনের শরীরে অকসিটোসিন তৈরি হয় ৷ আর এভাবেই দুজন দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পথে এগিয়ে যান ৷

ঘুম কম হয়: প্রেমে পড়লে কমপক্ষে একঘণ্টা কমে যায় রাতের ঘুম। একটি সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে এই তথ্য। জার্নাল অফ অ্যাডোলেসেন্ট হেলথে প্রকাশিত হয়েছিল গবেষণাটি। আর তার কারণ হল, রাতে ঘুমাতে গেলেই প্রিয় মানুষটির কথা সবচাইতে বেশি মনে পড়তে থাকে এবং শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। ফলে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হতে পারে না শরীর এবং ঘুমাতে দেরি হয়ে যায়।

শরীরের নানান ব্যথা কমে যায়:  স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অফ মেডিসিনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, প্রেমে পড়লে মানুষের শরীরের নানান ধরনের ব্যাথা সেরে যায়। ভালোবাসা মস্তিষ্কের নিউরাল রিসেপটরের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ব্যাথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। তাই ভালোবাসাকে বিজ্ঞানীরা ব্যথার ওষুধ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ভুলোমন: প্রেমে পড়লে সব কিছু ভুলে যাওয়া শুরু হয়৷ আর তার জন্য দায়ী হল অক্সিটসিন হরমোন। প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে অক্সিটসিন হরমোন উৎপন্ন হয়, যা স্মৃতিশক্তি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। আর তাই মানুষ কিছুটা অন্যমনষ্ক এবং ভুলোমনা হয়ে যায় প্রেমে পড়লে। স্বাদ বেশি লাগে: প্রেমে পড়লে নাকি খাবারের স্বাদও বেশি লাগে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি গবেষণায় দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, যারা নতুন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে তাদের কাছে সব খাবারের স্বাদই অন্যদের তুলনায় একটু বেশিই লাগছে।  সূত্র: সংগ্রহিত

দাম্পত্য সম্পর্কের অশনি সংকেত গুলো জেনে রাখুন

বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ দুজন মানুষের মাঝে খুব সহজেই ফাটলের সৃষ্টি করতে পারে কিছু কিছু বিষয়। এর মাঝে একটি হলো শারীরিক সম্পর্ক। আপাতদৃষ্টিতে এ বিষয়টি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও সেক্স থেরাপিস্টরা জানিয়েছেন, সুস্থ যৌন জীবন বিবাহিত জীবনের জন্য খুবই জরুরি।  তারা এমন কিছু লক্ষণের কথা বলেছেন, যা দম্পতির মাঝে দেখা দিলে বুঝতে হবে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।  এ লক্ষণগুলো গুলোকে বিশেষজ্ঞগন দাম্পত্য সম্পর্কের অশনি সংকেত হিসাবে চিহ্নিত করেন —

দম্পতির মাঝে শারীরিক সম্পর্ক নেই: সেক্স থেরাপিস্ট সারি কুপার জানিয়েছেন, বছরে ১০ বারের কম যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হন এমন সম্পর্ককে ‘সেক্সলেস রিলেশনশিপ’ বলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে গভীর দূরত্ব সৃষ্টি হয়। অনেক সময় তারা শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো কথাই বলেন না। ফলে তাদের মাঝে দূরত্ব বাড়তেই থাকে। একটা সময়ে সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় থাকে না।

দুজনের মাঝে একজন কোনো আকর্ষণ বোধ করেন না: সঙ্গী তার প্রতি কোনো আকর্ষণ বোধ করছেন না—এমন ভাবনাটা সাধারণত সম্পর্ক তেতো করে তুলতে যথেষ্ট, জানিয়েছেন সেক্স থেরাপিস্ট লরি ওয়াটসন। বিশেষ করে নারীর জন্য এ ব্যাপারটি বেশি প্রযোজ্য।

সম্পর্কে অবিশ্বাসের সূচনা : পরকীয়া বর্তমানে অপরিচিত কোনো বিষয় নয়। অনেক সময়ই পরকীয়া করতে গিয়ে সঙ্গীর হাতে ধরা পড়েন অনেকে। এতে বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় ও শ্রম দিতে হয়। অনেক সময়ে যৌন জীবনে অসন্তুষ্টি থেকেই পরকীয়ার পথে পা বাড়ান বিবাহিত মানুষ। এদিক থেকে বোঝাপড়ার অভাব মেটাতে পারলেই কেবল অবিশ্বাস দূর করা সম্ভব হয়।

সম্পর্কের মাঝে কোনো শারীরিক আকর্ষণ নেই: লম্বা সময় একত্রে জীবন কাটানোর জন্যই মানুষ বিয়ে করে। এ ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি আকর্ষণবোধ না করলে সম্পর্ক টেকে না, বলেন সেক্স থেরাপিস্ট মৌসুমি ঘোষ।

অসুস্থতার কারণে দূরত্ব তৈরি হয় : যৌন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে দম্পতির মাঝে দূরত্ব তৈরি হয়। এ ছাড়া মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের সহায়তা ছাড়াও দম্পতিদের পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা জরুরি। নয়তো এই অসুস্থতার অজুহাতে সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।  সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

বিয়েতে ভয়, আপনার গ্যামোফোবিয়া তো নয়!

কৈশোরে কিংবা তারুণ্যে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় হয়তো অনেকেই বিয়ের ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। আবার অনেকে আক্ষেপ করেও বলেন যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাবা মা বিয়ে দিচ্ছে না কিংবা তার মনের ইচ্ছা বুঝতে চাইছে না।  কিন্তু যখন সত্যিকার জীবনে বিয়ের বয়স হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের প্রতি দেখা দেয় অনীহা। শুধু তাই নয়, দেখা যায় যে অনেক দিনের প্রেম থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ককে বিয়ের নাম দিতে ভয় পাচ্ছেন তারা। বিয়ের জন্য যেন নিজেকে কোনো ভাবেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে উঠতে পারেন না তারা।

বিয়ে করতে ভয় পাওয়ার বিষয়টিকে ‘গ্যামোফোবিয়া’ বলে।  বিয়ের কথা শুনে কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করাটাও স্বাভাবিক।  তবে বিয়ের নাম শুনলেই যারা দৌড়ের ওপর থাকেন, তারা গ্যামোফোবিয়ায় ভুগতে পারেন।  যাদের মনে বিয়ের ভয় জেঁকে বসে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, অবশ্যই তাদেরকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তবে যারা বিয়ের কথা শুনে কেবল আতঙ্ক বোধ করছেন, তারা কিছুটা মানসিক জোর পেলেই বিয়েতে রাজি হবেন।

গ্যামোফোবিয়া কী? : বিয়ের বন্ধন ও স্থায়ী সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার ভয়ই মূলত গ্যামোফোবিয়া।  গ্রিক শব্দ গ্যামো অর্থ বিয়ে ও ফোবিয়া মানে ভয়।   গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে বৈবাহিক সম্পর্ককে কখনো সরল জীবনযাপনের হুমকিস্বরূপ মনে হয়।  এছাড়াও সম্পূর্ণ নতুন একটি মানুষের সঙ্গে বসবাস ও তার পরিবার মানিয়ে চলাকেও তারা সহজভাবে নিতে পারেন না।

কারণ:  সাধারণত যেকোন ফোবিয়ার কারণ হচ্ছে বাইরের উদ্দীপক ও তার মানসিক প্রভাব।  যেমন, অতীতের আঘাতমূলক ঘটনা। আবার এ ভয় জেনেটিক কারণেও হতে পারে। অল্প বয়সে বিভিন্ন সম্পর্কজনিত জটিলতাও এই ফোবিয়ার কারণ হতে পারে।   ধারণা করা হয় বংশগতি, জিন ও মস্তিষ্কের রসায়ন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্মিলনে ফোবিয়া তৈরি হয়।

লক্ষণ:  ভয়ের মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। তাই গ্যামোফোবিয়ার লক্ষণগুলোও আলাদা। যেমন—প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, ভয় ও আতঙ্কগ্রস্ত থাকা। অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস, ঘেমে যাওয়া, হৃদপিণ্ডের উর্ধ্বগতি, গলা শুকিয়ে আসা, কাঁপুনি ইত্যাদি।

প্রতিকার : বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোবিয়ার সবচেয়ে উপযোগী চিকিৎসা হচ্ছে সম্মোহন বা হাইপোথেরাপি, মনোবিজ্ঞানির সাথে পরামর্শ (সাইকোথেরাপি) ও নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং (অবচেতন মন যদি নেতিবাচক হয়ে থাকে তবে তাকে রিপ্রোগ্রাম করবার জন্য দরকার সচেতনতার সাথে নিজস্ব উপলব্ধি, দৃষ্টিভংগী এবং আবেগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া)।   সাইকোলজির কিছু বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করে নিজের মনের অবচেতন প্রক্রিয়াকে গাইড করা সম্ভব।

বিয়ের ভয় কাটানোর কয়েকটি পরামর্শ জেনে নিন:

বিয়ে ফিল্ম নয়: অনেকে হলিউড বা বলিউডের চলচ্চিত্রে বড় বড় বিয়ের আয়োজন দেখে আতঙ্কিত থাকেন। মনে রাখতে হবে, বিয়ে মানে চলচ্চিত্রের দৃশ্য নয়। বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়েকে দেখুন। এটি জীবনের স্বাভাবিক অংশ। অতি কাল্পনিক বা অতি জাঁকজমকের কিছু নয়। বাস্তবতা মেনে যাঁরা বিয়ের কথা ভেবেছেন, তাঁদের ভয় কেটে গেছে।

অযৌক্তিক ভীতি নয়: বিয়ে নিয়ে অনেকেই অতিরিক্ত ভয়ে থাকেন। মনে সন্দেহ তৈরি হয়। আস্থাহীনতায় ভুগতে থাকেন। বিয়ের বিরুদ্ধে যত পয়েন্ট আছে, সব এক জায়গায় করুন। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখুন। একসময় মনে হবে, বিয়ের বিরুদ্ধে কারণগুলোর কোনো অর্থই নেই।

নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন: অনেক সময় দেখা যায়, যার বিয়ে তাঁর খবর নেই, পাড়া–পড়শির ঘুম নেই। অনবরত বিয়ের কথা বলে মনে আতঙ্ক তৈরি করে। আপনার একাকী জীবন নিয়ে যারা বেশি উদ্বেগ দেখায়, তাদের এড়িয়ে যান। বিয়ে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করুন।  মনে রাখুন, বিয়ে সম্পূর্ণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী করা ভালো।

সঙ্গীর ওপর আস্থা রাখুন: আপনার যদি পছন্দের কেউ থাকে, তবে বিয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। বিয়ে সম্পর্কে কোনো ভয় থাকলে আলোচনা করে দেখতে পারেন। সহানুভূতিশীল সঙ্গী আপনার পাশে দাঁড়াবে এবং বিয়ের ভয় কাটাতে সাহায্য করবে।

নিজেকে গুছিয়ে নিন: যাঁরা বিয়ে করতে ভয় পান, তাঁরা নিজেকে আগে গোছগাছ করে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। একা কোথাও ছুটি কাটাতে যেতে পারেন। একা অনেকটা সময় কাটিয়ে সঙ্গীর অনুভব করেন কি না, বুঝতে চেষ্টা করুন। যদি একা সময় কাটানো কষ্টকর বোধ হতে থাকে, তবে বিয়ে করে ফেলুন।

স্বাভাবিক হোন: অতীতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বেদনা থাকতে পারে। অনেকে প্রতারণার ঘটনায় বিয়েতে বিতৃষ্ণায় ভুগতে পারেন। যদি এ ধরনের ঘটনা জীবনে থাকে, তবে বাস্তববাদী ও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুন। সম্পর্কসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আঘাত আসতে পারে। অতীতের কষ্ট ভুলে যান, নতুন সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে মেনে নিন।

বাস্তবতা মানুন: অনেকে ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ভেবে বিয়ের দিকে যেতে ভয় পান। অপেক্ষায় সময় কাটান। অনেকে অপেক্ষা করেন বিশেষ কারও জন্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো মানুষ সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়। কল্পনার ‘হিরো’ বাস্তবের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।

উন্মুক্ত মন: যারা ইতিবাচক কথা বলে এবং যারা সংসারজীবনে সফল, তাদের কাছে কথা শুনুন। নেতিবাচক ও বাজে কথায় কান দেবেন না। নিজে ইতিবাচক থাকুন ও মন উন্মুক্ত রাখুন। আপনার মনের খোলা জানালায় শান্তির সুবাতাস বয়ে যাবে।

সূত্র : সংগৃহিত

বিয়ের আগে সঙ্গীর সম্পর্কে যা জানা জরুরি

সংসার মানে গোলাপের বিছানা নয়; সেখানে কাঁটার খোঁচাও খেতে হয়। আবার এমন করা যাবে না যে ঝড় আসবে বলে ঘর বাঁধব না। বরং শক্ত করে বাঁধব। ঝড়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকব আপন জনের পাশে। সে জন্য একটা খসড়া পরিকল্পনা আন্তত থাকা চাই। সঠিক পরিকল্পনাতেই বদলে যায় অনেক কিছু। সংসারযাত্রার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বুঝেশুনে চলতে হয়।  মাথা খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু ভালোবাসায় সংসার টেকে না; সঙ্গীকে ভালোবাসার পাশাপাশি স্মার্টনেসও দেখাতে হয়। এক্ষেত্রে দুজনকেই একটু মানিয়ে নিয়ে চলতে হয়। বিপত্তি বাঁধে তখনই যখন দুজনের কোনো একজন সম্পর্কে ছাড় দিতে না চায়! আপনি তার সঙ্গে কতটা মিলেমিশে থাকতে পারবেন তা জানা যাবে কিছু বিষয়ে খেয়াল করলেই। সম্ভব হলে তার বিষয়ে জেনে নিন-

বয়স: বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। আবার মেয়েদের বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়াসহ ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে মেয়েদের ত্রিশ বছরের পর প্রথম বাচ্চা নেয়াটা খুবই ঝুঁকির কারণ হয়ে যায়। তবে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হলেও বেশ কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যায়। অল্পবয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণটা খুবই ঝুঁকির। তাই বিয়ের জন্য ছেলেমেয়ের উভয়ের বয়স বিবেচনা করাটা খুব জরুরি একটি বিষয়। বিয়ের পাত্র পাত্রী দুজনেই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ছেলের বয়স মেয়ের বয়সের থেকে ৪/৫ বছর বেশি হলে ভালো।

সম্মতি : বিয়েতে ছেলের সম্মতি আছে কি না জেনে নেয়াটা যেমন জরুরী একই ভাবে মেয়ের সম্মতি আছে কি না সে বিষয়ে ছেলেরও জানা দরকার।

আয়ের উৎস : পাত্র বা পাত্রীর কর্মক্ষেত্রে খোঁজ নিন, তার উপার্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। তিনি কোনও অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত কি না বা তার আয়ের উৎস যথাযথ কি না সে ব্যাপারে খোঁজখবর করুন। অনেক সময় ছেলে কম বেতন পেলেও তা বাড়িয়ে বলা হয়। আবার কর্মক্ষেত্রে পদমর্যাদা ছোট হলে তা-ও গোপন করা হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে একই ব্যাপার ঘটতে পারে। বিয়ের পূর্বে নিজের আর্থিক সচ্ছলতার দিকটিও বেশ ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত।

বিশেষ কোন রোগ আছে কি না:  আমাদের সমাজে এর তেমন প্রচলন না-হলেও বিয়ের আগেই ছেলে এবং মেয়ের মেডিক্যাল টেস্ট করা জরুরি। এইডস, হেপাটাইটিস বা কোনও যৌন রোগ আছে কি না, তা জানা খুবই দরকার। যাতে তাঁর সঙ্গী সেই রোগে আক্রান্ত না-হয়। তাই বিয়ের আগে মেডিক্যাল টেস্টের প্রয়োজন আছে। বিশেষ কিছু রোগ বংশগতির মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে বিস্তার করে। এর মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, মাসকুলার ডিসট্রফি (মাংসপেশীতে একধরনের দুর্বলতা), স্নায়ুর বিশেষ কয়েকটি অসুখ, (মৃগী রোগ), অ্যাজমা, গ্লুকোমা ইত্যাদি। এসব রোগের যাবতীয় পরীক্ষা বিয়ের আগেই করে নেয়া উচিৎ। আর সেজন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন বিয়ে পরবর্তী সতর্কতা বিষয়ে।

ব্লাডগ্রুপ :  স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। কিন্তু স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয়, তাহলে স্ত্রীকেও পজেটিভ ব্লাড গ্রুপের একজন হতে হবে। স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হলে পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।। একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের নারীর সাথে একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষের বিয়ে হওয়াটা নিরাপদ।।

পরিকল্পনা আলোচনা করে নিতে পারেন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা করুন। এতে বিয়ের পরে সংসার, ক্যারিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে সমস্যা কম হবে। সম্ভব হলে বাচ্চা কবে নিতে চান এ ব্যাপারেও কথা বলুন। এছাড়াও আপনারা বিয়ের পর যৌথ পরিবারে থাকবেন, নাকি আলাদা থাকবেন, তাও বিয়ের আগে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।কোথায় থাকবেন, কারও কর্ম নিয়ে কারও সমস্যা আছে কি না? তাও জেনে নিন।

সে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বিয়ের আগে ভালো করে খেয়াল করুন সে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়ে কোনো দ্বিধা থাকলে বিয়ে না করাটাই ভালো।

সঙ্গীর পরিবার: বিয়ের আগে সঙ্গীর পরিবারের সঙ্গে একবার হলেও দেখা করে নিন। তাহলে বিয়ের কথা শুরুর হওয়ার আগে আপনি বুঝতে পারলেন তাঁরা কেমন ধরনের মানুষ। এতে সব কথাবার্তা মানাতে সহজ হবে।

আপনাকে কতটুকু সম্মান করে: প্রতিটি সম্পর্কে সম্মান থাকাটা খুবই জরুরি। তাই বিয়ের আগে ভালো করে খেয়াল করুন সে আপনাকে কতটুকু সম্মান দিচ্ছে। এই বিষয়ে ঘাটতি থাকলে সংসারে কখনোই সুখী হতে পারবেন না। আপনার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয় কি না যে বিয়ের আগে আপনার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়, সে বিয়ের পরও দেবে। তাই এমন মানুষকে চোখ বন্ধ করে বিয়ে করে ফেলুন। আর এমনটা যদি না হয়, তাহলে ভাবুন, ভাবুন, আরো ভাবুন ।

ঝগড়া কীভাবে সামলায়: ঝগড়া হওয়ার পর সে বিষয়টাকে কীভাবে সামলে নেয়, ভালো করে খেয়াল করুন। যদি দেখেন আপনার ওপর সব দোষ চাপিয়ে নিজে ভালো সাজে, তাহলে তাকে বিয়ে করাটা ঠিক হবে না। কারণ বিবাহিত জীবনেও সে এমনটাই করবে। ভালবাসা আর ক্ষমা এই দুটি জিনিষের কাছে পৃথিবীর অনেক যুক্তি ম্লান হয়ে যায়। বেঁচে থাকে পথ চলা। যারা নতুন বিয়ে করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইল।  সূত্র: সংগৃহিত

সঙ্গীর বয়স বেশী হলে কি কি সমস্যা হতে পারে

স্বামী স্ত্রীর মধ্যেকার সম্পর্কটি শুধু সম্পর্কের বেড়াজালের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, সব কিছু ছাপিয়ে জীবনের অংশ হয়ে উঠে তা।  অন্য সব সম্পর্কের মত জন্মসুত্রে পাওয়া নয় এই সম্পর্ক।  অনেক জেনে বুঝে, বিচার করে তবেই আপন করে নেয়া হয় কাউকে।  তাই অন্য যেকোনো মানুষের থেকে বেশি আপন হয় এই মানুষটি।  শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মেলবন্ধন ঘটে এই সম্পর্কে।

স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপারে অনেকটাই উদার হয়েছে আমাদের সমাজ। । তারপরও কিছু ব্যাপার মনোভব এখনও রয়ে গেছে আগের মতই, যা হয়তো সেভাবে মেনে নেবার প্রবনতা গড়ে উঠেনি।  যেমন আপনার সঙ্গিনী যদি আপনার থেকে বয়সে বড় হন তবে মানুষ আর কিছু না হোক অন্তত একবার হলেও ঘুরে আপনার দিকে তাকাবে।

আসলে বিধিনিষেধ এসেছে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে। কিছু “মেডিক্যাল কন্ডিশনও” প্রভাব ফেলে এই সম্পর্কের উপরে।সেক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিবে পারে মানিয়ে চলার ক্ষেত্রে।  আসুন জেনে নিই এমন কিছু সমস্যার কথা, যখন সঙ্গিনী বা স্ত্রী হন বয়সে বড়।

লোকের নিন্দা :
স্ত্রী বা প্রেমিকা যখন বয়সে বড় হন তখন প্রথমেই যে ব্যাপারটির মুখোমুখি হতে হয় লোকজনের নিন্দা। প্রেমিকযুগল বা স্বামী-স্ত্রীর দিকে বাঁকা চোখে তাকান অনেকেই। হতে হয় অবজ্ঞার স্বীকার, হেয় করে অনেকেই। অনেকে পুরুষটিকে এমন কথাও বলে যে, সে বয়সে বড় নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে বা বিয়ে করে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করেছে।

যে যাই বলুক না কেন, এটা মনে রাখবেন যে আপনাদের ভালোবাসাই আপনাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর এই শক্তি পরাস্ত করে দিতে পারে সব কিছুকেই। তাই লোকের কথায় কান না দিয়ে একে অপরের প্রতি আস্থা রাখুন।

বন্ধুবান্ধবের কটুক্তি :
সবচেয়ে বেশি অসহায় লাগে যখন এমন পরিস্থিতিতে বন্ধুরাও পাশে থাকে না। বরং তারাও করে চলে কটুক্তি। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য নিয়ে অনেকে আড়ালে, এমনকি সামনাসামনিও ঠাট্টা করে থাকে। বন্ধুদের এমন আচরণ মনে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট।

এমন বন্ধুদের এড়িয়ে চলাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ তারা আপনাদের সম্পর্কে অশান্তি সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই করবে না। বরং যারা আপনাদের সমস্যাগুলো বুঝবে, পাশে দাঁড়াবে বন্ধুত্ব রক্ষার জন্য তাদেরকেই বেছে নিন।

পরিবারের অসহযোগিতা :
সঙ্গিনীর বেশি বয়স নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি থাকে পরিবারের। পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো ধরনের সহযোগিতাই করেন না। খুব কম পরিবারই আছে যারা এমন বিয়ে সহজেই মেনে নেয়। আমাদের সমাজের পরিবারগুলো এখনো গতানুগতিক সম্পর্কের বাইরে বেরোতে পারেনি। তাই পরিবারের সদস্যরা যে সমস্যা করবে, এটাই স্বাভাবিক।

পরিবার যে সহযোগিতা করবে না, বিয়ের সময়েই এটা মাথায় রাখুন। তাহলে কষ্ট কম পাবেন। পরিবারে চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন যে আপনারা একে অপরকে কতখানি চান। এক সময় না এক সময় পরিবার মেনে নেবেই। পরে ধীরে ধীরে পারিবারিক সব সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

চেহারায় বয়সের ছাপ :
স্ত্রী যখন স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় হবেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই স্ত্রীর চেহারায় বয়সের ছাপ আগে পড়বে। অনেকেই এটা নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। অনেক পুরুষই তখন স্ত্রীকে লোকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সংকোচবোধ করেন। আবার অনেক নারী স্বামীর সাথে কোথাও যেতে চান না। ফলে পরস্পরের মধ্য একটা টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়ে যায়।

চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। সম্পর্ক গড়ে তোলার সময়ে এ জিনিসটা মাথায় না থাকলেও পরবর্তীতে এটা সমস্যার সৃষ্টি করে। এই সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে আসুন, একজন আরেকজনের পাশে থাকুন। কারণ আপনাদের সম্পর্কে ভালোবাসাটাই মুখ্য, বয়স বা চেহারা নয়।

মানসিক চাপ :
স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্যের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যার ফলে উভয়ের মধ্যেই মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নারীর মনে তা গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে সে নিজেকে দোষী ভাবা শুরু করে। এই মানসিক চাপ যেমন দুজনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে, তেমনি এর কারণে সম্পর্ক ভেঙেও যেতে পারে।  পরস্পরের সাথে অধিক সময় কাটান। একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করুন। দূরত্ব সৃষ্টি হলেও তা উত্তরণের চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ম্যারেজ কাউন্সিলারের সহায়তা নিন।

যৌনজীবনে সমস্যা :
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হলে একটা সময়ে গিয়ে যৌনজীবনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। কারণ নারী-পুরুষের শারীরিক চাহিদা এক রকম হয় না। বিশেষ করে নারীদের বয়স বেড়ে গেলে তাদের শারীরিক চাহিদা দিন দিন কমে যায়। অপরদিকে পুরুষদের শারীরিক চাহিদা অনেক বয়স পর্যন্ত বহাল থাকে।  এখানেও একে অপরের মধ্যে সমঝোতার প্রয়োজন। কারণ শারীরিক ব্যাপারটি এমন একটি বিষয়, যা সহজে এড়ানো যায় না। তাই এ ব্যাপারে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন হয়।

গর্ভধারণে সমস্যা :
নারীর জীবনে গর্ভধারণ করা অতি স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সাধারণ ৩৫ বছরের পরেই গর্ভধারণের ব্যাপারটি মেয়েদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। তাই বিয়ের আগে বা বিয়ের পর পরই ঠিক করে নিন যে আপনারা সন্তান কবে নিতে চান। বেশি দেরি না করাটাই ভালো। কেননা স্ত্রীর বয়স বেশি হলে তা আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

সমঝোতার সমস্যা :
সমবয়সী দুজন ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে মেয়ের মানসিক বয়স ছেলের চেয়ে দু বছরের বেশি হয়। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য বেশি হলে মানসিক বয়সের পার্থক্য আরো বেশি হবে। এই মানসিক বয়সের পার্থক্যের কারণে মাঝে মাঝেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতার অভাব হতে পারে, হতে পারে ভুল বোঝাবুঝিও। অনেক সময় স্ত্রীকে মনে হতে পারে অনেক বেশি পরিপক্ব আর স্বামীকে মনে হতে পারে অনেক বেশি ছেলেমানুষ। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রেও হতে পারে অমিল। বিয়ের প্রথম দিকে তেমন কোনো সমস্যা না থাকলেও পরবর্তীতে এসব সমস্যা বাড়তে থাকে।

একে অপরের চিন্তাভাবনা, মতামত, সিদ্ধান্ত ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিন। সমস্যা হলে খোলাখুলি আলোচনা করুন। একে অপরেয প্রতি আস্থা রাখলে আশা করা যায় সকল সমস্যা উতরে যাবে।

তবে সবারই যে এমন সমস্যা হবে এমন কোন কথা নেই। কিছু মানুষের সমস্যার কারণে ঢালাওভাবে কাউকে বিচার করা ঠিক নয়। যদি নিয়মিত চর্চা করেন কিছু বিষয় তবে আপনার কাছে বয়সের পার্থক্য মনে হবে শুধুমাত্র একটি সংখ্যা।  যেমন –

• যে কোন দরকারে সাহায্য নিতে পারেন আপনার স্ত্রীর। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে আপনাদের যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে।
• আপনাদের বেড়ে উঠার সময় ও পরিবেশ ভিন্ন। তাই ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এই ব্যাপারটি আপনাদের সন্তানের জন্য হয়ে উঠবে আশীর্বাদস্বরূপ। তাদের জবনে নানান বৈচিত্র্যের সমাগম ঘটবে, ফলে পরবর্তীতে তা তাদের জীবন গড়তে সহায়তা করবে।
• স্ত্রী বয়সে বড় বলেই সর্বদা স্বামীর উপরে হুকুম খাটাবার চেষ্টা করবেন না। তাতে সমস্যা কেবল বাড়বেই। মনে রাখবেন যে দাম্পত্যে সকলেই সমান। কেউ বড় বা ছোট নয়।
• লোকে কি বলবে এই ভয়ে অনেক দম্পতিই সামাজিকতা এড়িয়ে চলেন এইসব ক্ষেত্রে। তেমনটা মোটেও করবেন না। মনে রাখবেন, পরস্পরের জন্য ভালবাসাই আপনাদের সম্পর্কের সৌন্দর্য।

মনে রাখবেন বয়স যাই হোক না কেন, প্রেমিক প্রেমিকা বা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সত্যিকারের ভালবাসা থাকলে এসব সমস্যাগুলো কেবল বড় বড় বুলি হিসেবেই গণ্য হবে। আসল কথা হল স্ত্রী আপনার থেকে যতই বয়সে বড় হন না কেন পারস্পারিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধ থাকলে সম্পর্ক হয়ে যাবে অটুট। হয়তো আপনাদের আন্তরিকতা বদলে দিবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকেও।   Source : bissoy.com

প্রিয় পুরুষটির কানে কানে বলুন …

প্রশংসা শুনতে নারীরা অনেক বেশী ভালোবাসেন, কিন্তু তাঁরা প্রশংসা করেন কি? যদি মনে করে থাকেন যে পুরুষেরা প্রশংসা শুনতে চান না, তাহলে খুবই ভুল করছেন আপনি। বরং পুরুষেরা তার সঙ্গিনীর মুখ থেকে কিছু বিশেষ কথা শোনার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আর যখন এই বাক্যগুলোই সঙ্গিনী তাঁকে নিয়মিত বলেন, প্রেমিকা বা স্ত্রীর জন্য পুরুষের ভালোবাসা অনেকটা বেড়ে যায় তখন। ভালোবাসার সম্পর্কটিকে করে তুলতে চান অনেক বেশী মধুর? প্রিয় পুরুষের কানে কানে বলুন এই কথা গুলো।

১) তিনি একটা চমৎকার কিছু করলে মন খুলে উচ্ছসিত হতে তার প্রশংসা করুন আর দেখুন মুখটা কেমন আলোকিত হয়ে উঠেছে তাঁর।
২) প্রিয় পুরুষকে প্রায়ই জানান যে তাঁর প্রেমিকা বা স্ত্রী হতে পেরে আপনি গর্বিত।
৩) তিনি দিনশেষে বাড়ি ফিরে এলে জানান যে আপনার খুব ভালো লাগছে তাঁকে কাছে পেয়ে।
৪) তাঁকে কখনো জানাতে ভুলবেন না যে আপনি তাঁকে চোখ বুঝে বিশ্বাস করেন ও ভরসা করেন।
৫) “আমি জানি তুমি সবসময় ঠিক কাজটি করবে”- এই একটি কথা আপনার পুরুষকে অসাধ্যও সাধন করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
৬) যত যাই হোক, আপনি যে সর্বদা তাঁর পাশে আছেন সে কথা জানাতে ভুলবেন না।
৭) তাঁর আশ্রয়ে যে আপনি নিরাপদ অনুভব করেন, স্বস্তি অনুভব করেন- সেটাও তাঁকে জানাবেন প্রায়ই।
৮) নিজে ভুল করলে সেটা স্বীকার করুন আর খুব মিষ্টি করে বলুন যে “আমি তোমাকে বুঝতে ভুল করেছিলাম”।
৯) “স্যরি” বলতে শিখুন। মেয়েরা সাধারণত স্যরি বলতে চান না। আর তাই নারীর দুঃখপ্রকাশ পুরুষের কাছে কোন ভালোবাসার বাক্যের চাইতে কম নয়।
১০) স্বামীকে প্রায়ই জানাবেন যে তাঁকে বিয়ে করে আপনি কতটা সুখী।
১১) যে কোন ব্যাপারেই স্বামীর মতামতকে গুরুত্ব দিন। তাঁকে জানান যে তাঁর মতামত কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে।
১২) স্বামীকে মূল্যায়ন করুন, তাঁর ভালোবাসার ও কাজের সঠিক মূল্যায়ন প্রকাশ করতে যা যা বলতে হয় বলুন।
১৩)তিনি একজন ভালো বাবা বা কোন একদিন ভালো বাবা হবেন, সেটা জানাতেও ভুল্বেন না।
১৪) ক্ষমা করতে শিখুন আর সেটা সুন্দর করে প্রকাশ করতেও।
১৫) সর্বোপরি, সুন্দর করে ভালোবাসি বলতে শিখুন। কেবল “আই লাভ ইউ” নয়, এমন ভাবে ভালোবাসি বলুন যেন তা প্রিয় মানুষটির মন পর্যন্ত পৌঁছে

সূত্রঃ ডেইলীলাইফস্টাইল 

সুসম্পর্কের জন্য চাই ‘কাডলিং’ বা ‘আলিঙ্গন’

ভালোবাসা ও ভালোলাগার কোন দিন নেই৷ তবু্ও ভ্যালেন্টাইন উইকে একটি বিশেষ দিন রাখা হয়েছে শুধু মাত্র আলিঙ্গনের জন্য, ‘আলিঙ্গন দিবস’। আর সে আলিঙ্গনটি হতে পারে প্রিয় মানুষ, প্রিয় প্রাণীটির সঙ্গেও।  যখন মন খারাপ থাকে, কারো সঙ্গ পেতে ইচ্ছে করে তখন নিশ্চয়ই আমরা চাই প্রিয় মানুষটিকে জড়িয়ে ধরে একাকিত্ব কাটিয়ে উঠতে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষকে আলিঙ্গন করলে, এমনকি পোষা প্রাণী এমনকি টেডি বিয়ারকেও জড়িয়ে ধরলে স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষে মানুষে আলিঙ্গন এমনকি সামান্য স্পর্শ প্রয়োজন সার্বিক মানসিক ও ইমোশনাল ভালো থাকার জন্য।  বিশেষ করে আলিঙ্গন মনোগত বিকাশ উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা উজ্জীবিত করে, স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল মান কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

কাউকে জড়িয়ে ধরার ফলে সম্পর্ক আরও গাঢ় ও সুন্দর হয় বলে মনে করা হয়।  বিশেষজ্ঞরাও বলছেন,

সুসম্পর্কের জন্য চাই ‘কাডলিং’ বা ‘আলিঙ্গন’।  সম্পর্কে নৈকট্য ভীষণভাবেই জরুরি। একে অপরকে অনুভব করার মধ্যে দিয়েই প্রাণ পায় সম্পর্ক। সম্পর্কে স্পর্শের গুরুত্ব তাই অপরিসীম। ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেক সময় সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কে এতোই দূরত্ব তৈরি করে নেই, যে পাশাপাশি দুজন মানুষ হয়তো বাস করছি, কিন্তু কেউ হয়তো কারও স্পর্শও পাচ্ছে না। এতে দুজনের সম্পর্কে দূরত্ব আরও বাড়ছে আর হালকা হচ্ছে মনের বাঁধনও। বাড়তি সময় পাচ্ছেন না, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় প্রিয় মানুষটিকে একটু কাছে নিয়ে বিদায় বলুন, সারাদিন এই ভালোলাগা ঘিরে রাখবে দুজনকেই। এবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে একটু ভালোবাসার ছোঁয়ায়ই তাকে ওয়েলকাম করুন। সারাদিনের কাজ শেষে মুভি দেখতে বসেছেন, মাথাটা তার কাঁধে রাখতেই পারেন। গুড মর্নিং আর গুড নাইট বলার অভ্যাস না থাকলে আজ থেকেই শুরু করুন, প্রিয়জন দূরে থাক বা কাছে, ভালোবাসার একটু ছোঁয়া যেন সে অনুভব করে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন…পুরো বছর, সারা জীবন।

সুসম্পর্কের জন্য ‘কাডলিং’ বা ‘আলিঙ্গন’ প্রয়োজনয়ীতার পেছনে বেশকিছু যুক্তি দিয়েছেন গবেষকরা। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে সেই যুক্তি সকল তুলে ধরা হল-
১। ‘কাডলিং’ আপনার মনকে খুশি রাখে।  সম্পর্কে ইতিবাচক এনার্জি দেয়।
২। ‘কাডলিং’ ব্যথা, যন্ত্রণারও উপশম ঘটায় এবং মানসিক চাপ কমায়।
৩।  পার্টনারের সঙ্গে বন্ডিংকে আরও পাকা করে।
৪।  ‘কাডলিং’য়ের ফলে সবাই নিজেকে নিরাপদ অনুভব করে।
৫।  সম্পর্কে মনোমালিন্য কমে।
৬।  উষ্ণতা সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটিয়ে বৈচিত্র্য আনে।
৭। ‘কাডলিং’-এর মাধ্যমে আপনি যে তাকে বিশ্বাস করেন, তা কথায় না বলেও বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব।

এই সবদিক বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘কাডলিং’ আপনাকে আরও হাসিখুশি ও স্বাস্থ্যবান করে তোলে। যা আপনাকে একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
সুত্রঃ সংগ্রহিত 

আপনার সঙ্গী কি আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে?

আপনার সঙ্গী কি আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছেন? বিষয়টা বুঝলেও তা পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে না আপনার কাছে? অথচ কোন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সঙ্গীর প্রতিনিয়তই স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে যাচ্ছে।  তাই দিনের শেষে সঙ্গীকে দোষারোপ করায় মন খারাপ হচ্ছে আপনারই।

এমন পরিস্থিতিতে ভালবাসা, পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ একটু একটু করে কমতে শুরু করে ঠিকই। তাই মন ভাঙার আগেই জেনে রাখুন কীভাবে বুঝবেন আপনি প্রতারিত হচ্ছেন।

১. অন্য কোন নারীর সঙ্গে আপনার সঙ্গী যদি বেশিরভাগ সময়ই ফোনে কিংবা চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার আপনার নিশ্চয়ই আছে। হাতে-নাতে ধরা পড়লে সাধারণত পুরুষরা বলে দেন ওই মহিলারই তাঁর প্রতি আকর্ষণ আছে। সে-ই সামনে থেকে এগিয়ে এসে কথাবার্তা বলে চলেছে। আর সামান্য বন্ধু ভেবে ভদ্রতার খাতিরেই তিনি কথা বলছেন। এমনটা হলে আপনার মনে সন্দেহ না হওয়ার কোনও কারণ নেই। পার্টনারের সেই মহিলার প্রতি সামান্য দুর্বলতা না থাকলে তিনি কখনওই গার্লফ্রেন্ড থাকতে বেশিরভাগ সময়টা মহিলাকে দিতেন না।

২. আপনি নিজের কাজে ব্যস্ত। আর সেই ফাঁকে নতুন বান্ধবীর সঙ্গে সিনেমা দেখা অথবা শপিং সারছেন আপনারই বয়ফ্রেন্ড। এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে উল্টো কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে আপনাকেই! বলা হচ্ছে, তাঁর অবসর সময়টা তিনি আপনার সঙ্গেই কাটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনি ব্যস্ত থাকাতেই তা আর হয়নি। তাই অগত্যা নতুন বান্ধবীর সঙ্গেই জুটি বাঁধতে হল। পার্টনারের থেকে এমন উত্তর পেলে একটু নজর রাখুন।

৩. ‘এতো পজেসিভ হওয়ার কিছু হয়নি। তুমি একটু বেশিই ভাবছ।’ বয়ফ্রেন্ড এবং গার্লফ্রেন্ড, উভয়ই এই অজুহাত আমরা প্রায় শুনে থাকি। নতুন বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরাঘুরি-খেতে যাওয়া, গল্প করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সাফাই দেওয়া শুরু হয়। আর তারপর অতিরিক্ত সন্দেহ করার জন্য দোষ গিয়ে পড়ে পার্টনারের ঘাড়েই। অনেক গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড একটু সন্দেহের উদ্রেক হয় ঠিকই, তবে যদি সম্পর্কে তৃতীয় কোনও মানুষের গন্ধ পান, সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকাটাই শ্রেয়।

৪. শুধু ফোনে কথা বলা বা চ্যাটিং পর্যন্তই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকে না। নতুন বান্ধবীর সঙ্গে মাঝে-মধ্যেই গোপনে দেখা-সাক্ষাৎও চালু রাখতে পারে আপনার সঙ্গী।  আপনি জিজ্ঞেস করলে অজুহাত দেন, বন্ধুর সঙ্গে কফি খেতে গিয়েছিলেন। তখনই বুঝবেন অ্যালার্ম বেজে গিয়েছে।  এবার চোখ খোলার পালা।

৫. ইদানীং সঙ্গীর মধ্যে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন? তাঁর কথা বার্তা, হাব-ভাব, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে, অমনোযোগিতা চোখে পড়ার মতো কোনও পরিবর্তন? কিংবা আপনার সঙ্গে একটু গা-ছাড়া ব্যবহার করছেন! তার মানে আপনাদের জীবনে হয়তো তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

মনে রাখবেন, যে সঙ্গী অন্যকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে মিথ্যে অজুহাত দিতে পারেন, তিনি কিন্তু নতুন জনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়তে পারেন আপনার অজান্তেই।  আর প্রশ্ন করলে উল্টো আপনার উপরই চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে বলবেন, ‘ও আমার বান্ধবী।  আমরা শারীরিক সম্পর্ক করিনি।  টেনশন করো না।’

এই সমস্যা গুলো নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। জল এতখানি গড়িয়ে যাওয়ার আগেই নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবতে শুরু করে দিন।  সুত্র – ডেইলি বাংলাদেশ

দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটি

বিবাহ হলো একটা জটিল বাস্তবতা। তাই দাম্পত্য জীবন একেবারে সমস্যা ও সঙ্কটমুক্ত নয়। দাম্পত্য জীবনের বাস্তবতায় চোরের মতো ইচ্ছা-অনিচ্ছা সত্ত্বেও যে কোন সমস্যা প্রবেশ করতে পারে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দাম্পত্য সমস্যা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।  বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রূপে এর আবির্ভাব ঘটে। দাম্পত্য সমস্যা মূলত সৃষ্টি হয় দু’জনের প্রয়োজনের চাহিদা থেকে।  অর্থাৎ একজনের প্রয়োজনের চাহিদার সঙ্গে অন্যজনের প্রয়োজনের চাহিদার মধ্যে সংঘর্ষ।
দাম্পত্য সমস্যার কারণ:

দাম্পত্য সমস্যার পেছনে ৩ রকমের কারণ রয়েছে।  তা হলো-
১) ব্যক্তি নিজে
২) বিবাহের মূল উপাদানে এবং
৩)বাইরের বা পারিপার্শ্বিক কারণ।

ব্যক্তি নিজে কারণ : বিবাহ একজন পুরুষ এবং একজন নারীর দাম্পত্য বন্ধন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে এক হলেও তারা নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বতন্ত্র জীবনবোধ নিয়ে সমৃদ্ধ। এখানে ব্যক্তি হিসেবে স্বামী-স্ত্রী নিজেরাই দাম্পত্য সমস্যার কারণ হতে পারে।যেমন, স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক কারণ। শারীরিক দীর্ঘকালীন রোগব্যাধি, অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা, শারীরিক অক্ষমতা, ছোঁয়াচে রোগ, মানসিক বিকারগ্রস্ততা, ট্রম্যাটিক, সাইকিক, নিয়োরটিক, সিজোফ্রেনিক, এলকোহলিক, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি।

আবার ব্যক্তিত্বও একটা কারণ হতে পারে। অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্ব যেমন- ঘরকুনো, চাপা স্বভাব, হীনম্মন্য, সন্দেহবাতিক, সঙ্কীর্ণচেতা, নিঃসঙ্গ ও নিয়ন্ত্রণহীন আবেগ। আবার অন্যদিকে বহির্মুখী ব্যক্তিত্ব যেমন- অতিরিক্ত হৈহুল্লোড় স্বভাব, সময়জ্ঞানের অভাব, বাইরে বাইরে সময় কাটানো, বন্ধুসার্কেল নিয়ে আড্ডা মারা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। দুর্বল ব্যক্তিত্ব যেমন- পরনির্ভরশীলতা, সিদ্ধান্তহীনতা, দায়িত্ব নেয়ার অক্ষমতা, অন্যের কথায় কান দেয়া, গোপনীয়তা রক্ষা না করার দুর্বলতা, মেরুদ-হীন হীনম্মন্য, আস্থার অভাব, খুঁতখুঁতে স্বভাব, নিজস্বতা রক্ষা করার দুর্বল মানসিকতা, সন্দেহপ্রবণ। ব্যক্তিত্বের দম্ভ। যেমন- আত্ম অহমিকা, ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুন্ন, দমনীয় ভাব, নমনীয়তার অভাব, কর্তৃত্বপরায়ণতা, অতিরিক্ত মেজাজ ও আবেগ প্রবণতার অভাব, গ্রহণশীলতার অভাব, প্রবল আত্মমর্যাদা বোধ, স্বার্থপরতা, পেশিশক্তি প্রয়োগের প্রবণতা, অস্বচ্ছলতা, গোয়ার্তুমিভাব, অনাস্থা, আপোসহীন মানসিকতা, জেদ, জবাবদিহিতা আদায়ের ভাব, দোষ খোঁজার মানসিকতা।

বিবাহের মূল উপাদান : দু’জন নর-নারীর পারস্পরিক সম্মতির বিনিময়ই বিবাহ। সম্মতির মধ্যে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেটাই বিবাহের মূল উপাদান। আর দাম্পত্য জীবনে বিবাহ প্রতিশ্রুতি এই উপাদানের অনুপস্থিতি এবং এর অভাবই দাম্পত্য সমস্যার কারণ।  যেমন- ভালবাসার অভাব, বিশ্বাস ও বিশ্বস্ততার অভাব, যৌনাচার, বহুগামিতা, দৈহিক অক্ষমতা, পুরুষত্বহীনতা, পাশবিকতা, দৈহিক মিলনে অনীহা এবং এড়িয়ে চলা, সন্তানদানে অক্ষমতা, দায়িত্বজ্ঞানহীন ভবঘুরে, ভুল সঙ্গী নির্বাচন।

পারিপার্শ্বিক কারণ : এখানে বাইরের কোন শক্তি বা তৃতীয় কোন শক্তি বা পক্ষ পারিপার্শ্বিক কোন এজেন্ট দাম্পত্য সমস্যার কারণ হয়ে আসে। এর মধ্যে পিতা, মাতা, ভাই বোন, শশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ, কোন মিথ্যা গুজব, অন্যের পক্ষপাতিত্ব মনোভাব, অন্যের অতিরিক্ত আবেগ, সোহাগ, ঈর্ষা, প্রতিহিংসা, মদ-নেশা, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, বেকারত্ব চাকরি পেশা, অসৎ ব্যবসা, মোবাইল, ফেসবুক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, অসততা, অতীত টেনে আনা, বশ করা, চাকরির তাগিদে দূরে অবস্থান।

দাম্পত্য কলহ ও তার সমাধান:
ঝগড়া যে দাম্পত্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই শ্বাশত সত্যটি প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীই মনে মনে জানেন এবং মানেন। হরেক রকম তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে ঝগড়া যেমন লেগেই থাকে, ঠিক তেমনই ঝগড়া মেটানোর নানা উপায়ের খবরও রাখতে হয় দম্পতিদের। কারণ, দু’জন দু’দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকলে আর যাই হোক সংসার চলে না। মনেও একটা তেঁতোভাব রয়েই যায়।

* কথা কাটাকাটির সময় হঠাৎ উঠে চলে যাবেন না বা এক্কেবারে চুপ করে যাবেন না। যতটা সম্ভব যুক্তিসহকারে নিজের অভিযোগ বা বিরক্তি বোঝান। উঠে চলে গেলে বা কথা বন্ধ করলে মনে হবে যে আপনি পুরো ব্যাপারটা থেকে পালাতে চাইছেন। কোন সুষ্ঠু সমাধানে আসার জন্য কথার আদান-প্রদান হওয়া খুব জরুরী।

* ঝগড়ার সময় স্বামী বা স্ত্রী সব দোষ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে গেলে কিন্তু সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠবে। কেউই সহজে নিজের দোষ দেখতে পান না। রাগের মাথায় তো প্রশ্নই আসে না। আর সব ‘সমস্যা’ বা ‘ঘটনা’ নিয়ে আলোচনা করুন। সমস্যা বোঝার সময় বেশি আদর্শবাদী না হয়ে বাস্তববাদী হোন। ‘কী করা উচিত’ না ভেবে ‘কী করলে ভাল হয়’ সেটা বুঝতে পারলে সমাধান হবে।
* ঝগড়ার সময় আপনি হারলেন কি জিতলেন, সেটা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক। যা নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল সেটার কোন সঠিক রাস্তা পেলেন কি না সেটা ঠিক করাই মূল লক্ষ্য। এই জরুরী ব্যাপারটা ভুলে গিয়ে শুধু ঝগড়ার জন্য ঝগড়া করাটা নিহায়তই ছেলেমানুষি। যদি কথা কাটাকাটির সময় মনে হয় যে দোষটা আপনরাই তাহলে ‘স্যরি’ বলতে বিন্দুমাত্র দেরি করবেন না। বিশ্বাস করুন, এটা হেরে যাওয়া নয়। আপনার সত্যবাদিতার জন্য আপনার স্বামী বা স্ত্রী আপনাকে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করবেন।

কীভাবে মেটাবেন ঝগড়া:
আপনি নিজেদের মধ্যে ছোট্ট অশান্তিটাকে জিইয়ে রাখতে চাইছেন না তা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপায় হচ্ছে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি নিজের ভালবাসা দেখানো। ছোট্ট একটা শব্দ ‘স্যরি’ বলুন দেখবেন আর কোন কৈফিয়তের প্রয়োজনই হবে না। প্রবলেম কিভাবে যে মিইয়ে যাবে আপনি তা বুঝতেই পারবেন না। দ্বিতীয় কোন উপায়ে ঝগড়া মিটমাট করার চিন্তা থাকলে এক্ষেত্রে ‘উপহার’ দেয়ার কথাটা মাথায় রাখতে পারেন। ধরুন, আপনার স্বামীর একটা ট্যাব কেনার শখ হয়েছে কিন্তু প্রতিমাসে কোন না কোন খরচ এসে পড়ছে বলে আর কেনা হয়ে উঠছে না। ফলে উনি একটু মনোকষ্টে আছেন। ঝগড়ার পর শান্তি ফেরানোর জন্য না হয় একটু বেশিই খরচ হলো। তবে সব সময় যে দামী জিনিস দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। তার পছন্দের খাবারটিও ভাল করে রেঁধে একসঙ্গে খেতে বসে যান। মনের মতো জিনিস পেলে ঝগড়া মিটতে সময়ই লাগবে না। তৃতীয় উপায়টি আরও একটু শক্ত। নিজের ব্যবহারের মধ্যে পরিবর্তন আনুন। আপনি যে অনুতপ্ত তা যদি প্রিয় মানুষটিকে বোঝাতে পারেন, তাহলে আলাদা করে ঝগড়া মেটানোর দরকার হয় না। আর যদি বেশি সঙ্কোচ বোধ করেন তাহলে মোবাইল বা ফেসবুকে মেসেজে ছোট্ট একটা মেসেজ সঙ্গে একটা স্মাইলি।  ব্যস, ঝগড়া খতম!

যা কখনই করবেন না
* ভায়োলেন্সের সাহায্য নেবেন না। বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙা বা ছেঁড়া কিংবা স্বামী বা স্ত্রীকে শারীরিক আঘাত দেয়া।
* পরিবারের অন্য সদস্যের জড়িয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি।
* পুরনো রেফারেন্স টেনে এনে অশান্তি বাাড়িয়ে তোলা।
* গলা তুলে, আঙুল উঁচিয়ে কথা বলা।
* বাচ্চাদের দাম্পত্য কলহে শরিক করে নেয়া।
* ঝগড়ার জের টেনে কথা বলা বন্ধ বা বিছানা আলাদা করে নেয়া।

নববধূর সাজসজ্জায় নয়, বাড়ির অন্দরমহলও রঙিন, উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে সামান্য ফুলের ছোঁয়ায়। ফুল আসলে কোথায় সাজাবেন, কিভাবে সাজাবেন তার কোনো ব্যাকরণ হয় না, আপনার মনের খুশিমতো সাজান। অন্দরমহলে কয়েকটা জায়গা ফুল সাজানোর জন্য আদর্শ। মূল দরজা,সিলিং রুম, সেন্টার টেবিল, বেডরুমের সাইড টেবিল কিংবা ড্রেসিং টেবিল। তাই আপনার নতুন জীবন শুরু করুন সাজ, রঙ এবং ফুলের সৌরভে ভরপুর করে।  সূত্র : দৈনিক জনকণ্ঠ

দাম্পত্য জীবনে সুখী থাকার রহস্য

সুখী দম্পতিরা তাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট প্রতিটি মুহূর্ত দুজন মিলে উপভোগ করেন।  ঝগড়াকে তারা প্রাধান্য দেয়না বরং তাদের ঝগড়ার পরের ভালোবাসা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যখন একজন ভালো মনের মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন, তখন নিজেকে সুখী হিসেবে ভাবতে শুরু করবেন।  তবুও মানুষ কারণে অকারণে ক্ষুদ্র কারণে একে অপরের সঙ্গে ঝামেলা করে বসে।

পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা বলুন:
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার পছন্দ অপছন্দ অন্যের মধ্যে দেখতে চাচ্ছেন কি না? নব-বিবাহিত দম্পতির মধ্যে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রায়শই খুঁটিনাটি লেগে থাকে। মনে রাখুন আপনি সম্পূর্ণ একজন আলাদা মানুষ। আপনার যেমন পছন্দ আছে তেমনই আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীরও হয়তো সমান ভাবে পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার আছে। আর যদি আপনার সঙ্গীর করা কাজ আপনার একান্তই অপছন্দের হয় তবে তার সঙ্গে কোনো কফিশপ বা তার কোনো প্রিয় জায়গায় বসে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন।

একে অপরের হাতে হাত রেখে হাঁটুন :
একে অন্যের হাতে হাত রেখে হাঁটা উষ্ণতা প্রকাশ করে। আপনি তাকে কতটা আগলে রাখছেন তা প্রকাশ পায় এর মাধ্যমে। আপনার সঙ্গী যখন রিক্সায় উঠছে বা রাস্তা পার হচ্ছে তার হাত ধরে রাখুন। এছাড়া বাড়িতে কাজ করার সময় তার হাতে হাত রেখে জানতে পারেন- তার কোনো সহযোগিতা লাগবে কিনা? এতে সে প্রচণ্ড সাহস খুঁজে পাবে। আপনাকে তার আশ্রয় মনে করা মানুষটি আরো নতুন করে শক্তি পাবে নিজের জন্য, আপনাকে ভালোবাসার জন্য।

বিশ্বাস রাখুন :
একটা সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস, আপনি যদি আপনার সঙ্গীকে বিশ্বাস না করেন তবে সুখি দম্পতি তো দূরের কথা আপনি আপনার জীবনটা অনুভব পর্যন্ত করতে পারবেন না।

এক সাথে ঘুমোতে যাওয়া :
যদিও এটি আপনার কাছে শুনতে নিতান্তই সাধারণ মনে হবে তবে এর কার্যকারিতা রয়েছে। যখন আপনার সঙ্গীর সঙ্গে একই সময় ঘুমোতে যাবেন সেই সময়ে আপনাদের মধ্যে কথাবার্তা হবে। সারাদিন কে কী করলো তা জানা যাবে। আগামীকাল কী করা যায় বা কী করতে চাচ্ছেন তা নিয়েও কথা বলা যায়। এতে একজন আরেকজন সম্পর্কে জানতে পারে। আর এটি চাকরিজীবীদের জন্য খুব উপকারী। হয়তো দুজনেই কাজের জন্য বাইরে থাকার কারণে কথা তেমন বলা হয়না। তাই আপনার মনে জমে থাকা কথাগুলো সেই সময় তার সাথে ভাগাভাগি করে নিন।

ক্ষমা করতে শিখুন :
আর ভুল ভ্রান্তি সবার মাঝেই আছে।  আপনি নিজেও জানেন আপনার নিজের অনেক সমস্যা আছে। তাই আপনার সঙ্গীর করা কাজকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। দেখবেন আপনার সঙ্গীও আপনাকে একইভাবে দেখছে।  ক্ষমা করার শক্তি অর্জন করা উচিত। একদিনেই কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। কোনো ভুল হলে প্রথমেই সে ভুল ভেঙ্গে দেয়া উচিত। কারণ ভুল বোঝাবুঝি দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।

আলিঙ্গন করুন :
আপনার সারা দিনের কাজ হয়তো আপনাকে আপনার নিজের থেকেও একটু ছুটি দেয়না। আর আপনার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য সময় বের করা হয়তো খুব কঠিন। তাই আপনি যখন বাড়ি ফিরবেন ঘরে ঢুকে তাকে আলিঙ্গন করুন, সারাদিন তার কেমন কাটলো জিজ্ঞেস করে নিন। দেখবেন আপনার নিজেকে খুব সুখী মানুষ বলে মনে হতে শুরু করবে।

ধৈর্য :
দাম্পত্য জীবনের পুরো সময়টাই হানিমুন মুডে থাকতে পারবো…এটা ভাবাটা বোকামি এবং এটা ভাবলে বড় ধরনের ধাক্কা খেতেই হবে। জীবনে দুঃসময় আসবে, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়গুলো পার হতে হবে। তাই এমন অবস্থায় ভেঙ্গে পরবেন না। ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে পারলেই সংসার সুখের হবে।  সুখী বিবাহিত জীবন ধরে রাখা বা ভালোবাসা অটুট রাখার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলার প্রতি উৎসাহ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সেগুলো হলো:

# একে অপরের জন্য ছোট ছোট কাজে সাহায্য করা। এতে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা বোধ অটুট থাকবে। যেমন, চা তৈরি করে দেয়া, বাচ্চাকে সাহায্য করা, সংসারের কাজে একে অপরকে সাহায্য করা।

# প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’ঘণ্টা করে আপনার চিন্তা-ভাবনাগুলো আদান-প্রদান করতে পারেন।  টানা দু’ঘণ্টা সময় বের করতে না পারলে প্রতিদিন অন্তত অবসর সময়টুকো একত্রে বসে কথা বলুন। সব সময় যে প্রয়োজনীয় কথা বলতে হবে, তা নয়।

# দু’জনেই দুজনের জন্য সময় বের করুন। দু’জনেরই ভালোলাগা বা শখের বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিন। দু’জন এক সঙ্গে পছন্দের রেস্তোরায় খেতে বা সিনেমা দেখতে যেতে পারেন। এক সঙ্গে সময় কাটানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

# মাঝে মধ্যেই একে অপরকে সারপ্রাইজ দিতে পারেন। একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করুন। তাকে নিয়ে বিশেষ একটি রেস্তোরায় খেতে যান। সাপ্তাহিক ছুটির দিন সুন্দর কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন।।

# সঙ্গীকে প্রেমপত্র লিখতে পারেন। নতুন প্রেমপত্র লিখে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার না বলা কথাগুলো প্রকাশ করুন। এসব পত্রে থাকতে পারে পরবর্তী রোম্যান্টিক নানা পরিকল্পনার কথা। চিঠি লিখে পোস্টের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন, যদিও এক সঙ্গেই থাকছেন আপনারা। তাতে কি? করেই দেখুন, খারাপ লাগবে না আর সম্পর্কটাও মজবুত হবে।

সূত্র : বিডিলাইভ ডেস্ক