সন্তানের উপর বিচ্ছেদের প্রভাব

বিবাহবিচ্ছেদ একজোড়া নারী-পুরুষ আর সেই সাথে তাদের সন্তানদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যে কারণেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হোক না কেন, শিশু সন্তানটির উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।অত্যন্ত সচেতনতা, পারদর্শিতা আর অগাধ ভালোবাসা ও মানসিক সহায়তার মাধ্যমেই শিশুর মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, হতাশা, অনিশ্চয়তা দূর করে তার সুস্থ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হয়। তা না হলে এর বিরূপ প্রভাব থেকে সারা জীবনেও হয়ত সে বের হতে পারবে না, তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমস্যা থেকে যাবে এবং পরবর্তী জীবনে অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনেও তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী করবে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিবাহবিচ্ছেদের মতো বিষয় সাধারণত খুব সহজে সম্পাদিত হয় না, এর কিছু পূর্বগামী ঘটনা থাকে যেগুলো মোটেও সুখকর না। এই অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর সাক্ষী কিন্তু ছোট্ট শিশুটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা দাম্পত্য কলহ, মানোমালিন্য, শারীরিক নির্যাতন, কান্নাকাটির মতো অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শিশুটিকে যেতে হয়।বাড়ির ছোট শিশু এসব দেখে বাড়ির আবহ বুঝতে পারে। সরাসরি মা-বাবার কলহ না দেখেও মা-বাবার চেহারা, প্রকাশভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি দেখে তাদের রাগ, ক্ষোভ, হতাশা, কষ্ট বুঝতে পারে। আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে, বাচ্চারা কিছু বোঝে না। প্রকৃতপক্ষে শিশুরা সবই বোঝে আর তারা তাদের নিজেদের মতো করে বিষয়টি বুঝে নেয়। অনেক স্বামী স্ত্রী সন্তানদের সামনেই পরস্পরের প্রতি কটূক্তি, গালাগালি, হাতাহাতি করে থাকে কিংবা শিশুটিকে ঘটনার সাক্ষী রাখে। এর সবই শিশুসন্তানটির উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বড়রা অনেক সময়ই নিজেদের স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার করে যা অত্যন্ত অনুচিত।

একজন শিশুর পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বড়দের মতো নয়। সে সব বোঝে, তবে নিজের মতো করে। তাই পরিস্থিতির সাথে নিজের মতো করে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করে। অনেক সময় ছোট ঘটনা তার মধ্যে বড় অনিশ্চয়তা তৈরী করে। সামান্য উদ্বেগ তার মধ্যে বিশাল ভীতির সঞ্চার করে। এর সবকিছু নিয়ে শিশুটি খুব নাজুক পরিস্থিতিতে থাকে। মা কিংবা বাবার মৌখিক আশ্বাসও তাকে নিরুদ্বেগ রাখতে পারে না। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে যেসব সমস্যা থাকে তা হলঃ

  • নিজেকে গুটিয়ে নেয়া
  • পারিবারের বাইরের লোকের সামনে লজ্জা পাওয়া, মিথ্যা বলা
  • মা বা বাবাকে (বা যার সাথে শিশুটি এখন থাকে )হারিয়ে ফেলার ভয়, অনিশ্চয়তার অনুভূতি
  • বিষন্ণতা
  • নিজের চাহিদার কথা না বলা
  • আগের তুলনায় চুপচাপ হয়ে যাওয়া
  • অস্থিরতা প্রকাশ করা বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
  • পড়াশোনায় মনোযোগ হারানো
  • বাবা-মা অথবা নিজেকে দোষারোপ করা
  • নেশা করা বা অপরধমূলক কাজে জড়িয়ে যাওয়া
  • আচরনগত বৈকল্যের শিকার হওয়া

বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এমন পরিবারের বিভিন্ন বয়সী শিশুদের উপর পরিচালিত গবেষণা থেকে দেখা যায়, ৭-৮ বছরের শিশুদের মাঝে দুঃখবোধ, মনমরা ভাব, হারানোর অনুভূতি- সেই সাথে ভয় আর অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। একই সাথে তারা নিজেদের পরিত্যক্ত ও অবাঞ্ছিত ভাবে।৯-১০ বছর বয়সী শিশুরা রাগান্বিত বোধ করে। কারণ তারা নিজেদের অবহেলিত, বঞ্চিত এবং একাকী মনে করে। অপরদিকে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা রাগ, লজ্জা, মনখারাপ ইত্যাদি বোধ করে।

৫ বছরব্যাপী আরেকটি গবেষণাঃ জরিপে অংশগ্রহণ করেছে এমন শিশুদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানিয়েছে তারা এখন সুখী।২৯ শতাংশ মোটামুটি মানিয়ে চলছে। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছে, তারা এখনও বিষন্ণতায় ভুগছে। এ ধরণের বহু গবেষণায় শিশুদের বিবাহবিচ্ছেদের নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ক্ষেত্রে তার সাথে বেশি সময় কাটান। তার হতাশা, দুঃখ ও ভয় বোঝার চেষ্টা করুন। বাস্তবসম্মতভাবে মোকাবেলার উপায় শেখান। শিশু মা-বাবার (যিনি শিশুর সাথে থাকেন না ) অভাব অনুভব করছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করুন।কারণ শিশু হয়ত আপনাকে হারানোর ভয়ে অথবা আপনি কষ্ট পাবেন এ চিন্তা থেকে তার সত্যিকারের অনুভূতি আড়াল করে রেখেছে। তাকে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তার জন্য সে দায়ী নয়। কারণ ছোট শিশুরা অনেক সময় ভেবে থাকে যে, তার কারণেই এমনটি ঘটেছে। কখনোই শিশুর সামনে তার মা-বাবা সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। এতে শিশুরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করে এবং দিশেহারা হয়ে পড়ে। সম্ভব হলে তাকে এই বলে আশ্বস্ত করুন, যা কিছু হয়েছে তা আমাদের মধ্যে, তুমি আমাদের সন্তান, আমরা তোমাকে ভালোবাসি। একসাথে না থাকলেও। অনেক সময় যে পরিবারে শিশুটি রয়েছে সেখানে মা-বাবার প্রসঙ্গ কঠোরভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এতে শিশুর মধ্যে মা-বাবা সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসা থাকলেও সে ভয়ে কোন কিছু বলতে পারে না। তাই তার মনে কোনো প্রশ্ন এলে তা যেন অবলীলায় জিজ্ঞেস করতে পারে-এরকম পরিবেশ বজায় রাখুন।

শিশুটির বাবা (অথবা মা )নেই।তাই তাকে বেশি বেশি খেলনা দেওয়া বা এধরণের আচর থেকে বিরত থাকুন। বস্তুর চেয়ে বড় তার আবেগ-অনুভূতির সঙ্গী হওয়া, তাকে আশ্বস্ত করা এবং এই কষ্টকর অনুভূতি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করা।

বাবা-মা যে-ই থাকুক না কেন, শিশুর মানসিক সহয়তার জন্য তার পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা মনোবিজ্ঞান বা কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের সহায়তা নিতে হবে।

মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এ ধরণের শিশুদের প্রতি আমাদের সচেতনতা, ভালোবাসা ও সহায়তা তাদের হতাশা, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ, একাকীত্বের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হবার সাহস ও মনোবল জোগাবে।

লিখেছেনঃ

মেহজাবীন হক
প্রফেসর, 
এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সন্তানের অভিভাবকত্ব

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন কারণে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে সন্তানেরা কার কাছে থাকবে বা কে হবে তাদের অভিভাবক- এই প্রশ্ন দেখা দেয়। মুসলিম পারিবারিক আইনে সন্তানের অভিভাবকত্ব (বিলায়াত ) এবং সন্তানের জিম্মাদারি (হিজানাত ) দুটি বিষয়কে আলাদা আইনগত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।অর্থাৎ মুসলিম আইনে অভিভাবকত্ব এবং জিম্মাদারি দুটি আলাদা বিষয়। আবার হিন্দু পারিবারিক আইনে বিষয়টি ভিন্ন।

মুসলিম আইনে সন্তানের অভিভাবকত্ব ও জিম্মাদারি

বাংলাদেশের প্রায় সব পারিবারিক আইনেই সন্তানের প্রকৃত আইনগত অভিভাবক (লিগাল গার্ডিয়ান )থাকেন পিতা। মুসলিম পারিবারিক আইনে সন্তানের জিম্মাদারির (কাস্টডি )অধিকার একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়ের হাতে থাকে।শিশুসন্তানের দেখাশোনার বিষয়ে (জিম্মাদারির ক্ষেত্রে )সবচেয়ে বড় অধিকারী হলেন মা। তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্তানের জিম্মাদার হয়ে থাকেন; কিন্তু কখনও অভিভাবক হতে পারেন না। এই সময়কাল হল ছেলেসন্তানের ক্ষেত্রে ৭ বছর আর মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল পয্যন্ত। অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে বা স্বামী মারা গেলে ছেলেসন্তান ৭ বছর পয্যন্ত এবং মেয়েসন্তান বয়ঃসন্ধিকাল পয্যন্ত মায়ের হেফাজতে থাকবে, এটাই আইন । এক্ষেত্রে মায়ের অধিকার সর্বাগ্রে স্বীকৃত।

সাধারণত সুন্নি হানাফি আইনের অধীনে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর সন্তানের হেফাজতের কোনো অধিকার মায়ের থাকে না। তবে পরে আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, শুধু নাবালক থাকাকালেই নয়, সন্তানের কল্যাণার্থে নির্দিষ্ট বয়সের পরও মায়ের জিম্মাদারিত্বে সন্তান থাকতে পারে। যদি আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সন্তান মায়ের হেফাজতে থাকলে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ স্বাভাবিক হবে, তার কল্যাণ হবে এবং স্বার্থরক্ষা হবে-সেক্ষেত্রে আদালত মাকে ওই বয়সের পরও সন্তানের জিম্মাদার নিয়োগ করতে পারেন।আবু বকর সিদ্দিকী বনাম এসএমএ বকর ৩৮ ডিএলআরের মামালায় এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে, মনে রাখতে হবে, মুসলিম আইনে মা সন্তানের আইনগত অভিভাবক নন; কেবল জিম্মাদার বা হেফাজতকারী।

মায়ের অবর্তমানে শিশুর জিম্মাদারি নিকটাত্মীয়দের কাছে চলে যাবে। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ক্রমধারা অবলম্বন করা হবে। মায়ের অবর্তমানে নাবালক শিশুর হেফাজতকারী পর্যায়ক্রমে হবেন মায়ের মা (নানি, নানির মা যত উপরের দিকে হোক ), পিতার মা (দাদি, দাদির মা যত উপরের দিকে হোক ), পূর্ণ বোন (পিতা মাতা একই ), বৈপিত্রেয় বোন (মা একই কিন্তু বাবা ভিন্ন), আপন বোনের মেয়ে (যত নিচের দিকে হোক ), বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে (যত নিচের দিকে হোক ), পূর্ণ খালা (যত উপরের দিকে হোক ), বৈপিত্রেয় খালা (যত উপরের দিকে হোক ), পূর্ণ ফুপু (যত উপরের দিকে হোক ) । উল্লেখিত আত্মীয়রা কেবল ক্রমানুসারে একজনের অবর্তমানে বা অযোগ্যতার কারণে অন্যজন জিম্মাদারিত্বের অধিকারী হবেন।

কিছু কারণে মা সন্তানের জিম্মাদারিত্ব হারাতে পারেনঃ ১. নীতিহীন জীবনযাপন করলে ২. সন্তানের প্রতি অবহেলা করলে ৩. দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে ৪. বিয়ে থাকা অবস্থায় বাসার বসবাসস্থল থেকে দূরে অবস্থান করলে ৫. ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করলে ৬.যদি সন্তানের পিতাকে তার জিম্মায় থাকা অবস্থায় দেখতে না দেয়।

স্মর্তব্য, আদালতের আদেশ ছাড়া সন্তানের জিম্মাদারের অধিকার থেকে মাকে বঞ্চিত করা যায় না।

মা বা অন্য নারী আত্মীয়দের অবর্তমানে শিশুর জিম্মাদার হতে পারেন যারা, তারা হলেনঃ বাবা, বাবার বাবা (যত উপরের দিকে হোক ), আপন ভাই, রক্তের সম্পর্কে ভাই, আপন ভাইয়ের ছেলে, রক্তের সম্পর্কের ভাইয়ের ছেলে, বাবার আপন  ভাইয়ের ছেলে, বাবার রক্তের সম্পর্কের ভাইয়ের ছেলে। মনে রাখতে হবে, েএকজন পুরুষ আত্মীয় নাবালিকার জিম্মাদার কেবল তখনই হতে পারবেন যখন তিনি ওই নাবালিকার নিষিদ্ধস্তরের আত্মীয় হন।

সন্তানের সম্পত্তির দায়িত্ব

আমরা আগেই জেনেছি, সন্তানের অভিভাবক হচ্ছেন পিতা। তবে মুসলিম আইনে কোনো নাবালক শিশুর সম্পত্তির তিন ধরণের অভিভাবক হতে পারে। আইনগত অভিভাবক, আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক এবং কার্যত অভিভাবক। আইনগত অভিভাবকেরা হলেন, বাবা, বাবার ইচ্ছাপত্রে (উইল )উল্লেখিত ব্যক্তি, বাবার বাবা (দাদা ), বাবার বাবার ইচ্ছাপত্রে (উইল ) উল্লেখিত ব্যক্তি।

উল্লেখিত আইনগত অভিভাবকেরা কিছু জরুরী কারণে নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি অথবা বন্ধক দিতে পারেন। ওই সন্তানের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য তার অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি অথবা বন্ধক দিতে পারেন। কিংবা নাবালকের ভরণপোষণ, উইলের দাবি, ঋণ, ভূমিকর পরিশোধ ইত্যাদির জন্য একজন আইনগত অভিভাবক নিচের একবা একাধিক কারণে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন। যেমন: ক. ক্রেতা দ্বিগুণ দাম দিতে প্রস্তুত খ. স্থাবর সম্পত্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ. সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে।

নাবালককে রক্ষার জন্য আেইনগত অভিভাবক বা আদালক নিযুক্ত অভিভাবক না হয়েও যেকেউ নাবালকের অভিভাবক হিসেবে কাজ করতে পারেন। বাস্তবে এরকম যিনি অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন তিনিই হলেন কার্যত অভিভাবক। তবে তিনি কোন অবস্থাতেই সম্পত্তির স্বত্ব, স্বার্থ বা অধিকার হস্তান্তর করতে পারবেন না।

হিন্দু পারিবারিক আইনে অভিভাবকত্ব

মুসলিম আইনের মতো এখানে সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং জিম্মাদারিকে আলাদা আইনগত প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। হিন্দু আইনে ৩ ধরণের অভিভাবক স্বীকৃত। ক.স্বাভাবিক অভিভাবক খ.বাবা কর্তৃক উইলদ্বারা নিযুক্ত অভিভাবক গ.গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট ১৮৯০ অনুযায়ী আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক। এছাড়া কার্যত অভিভাবক হিসেবেও অভিভাবক দেখা যায়। হিন্দু আইনে পিতা একমাত্র প্রকৃত ও স্বাভাবিক অভিভাবক। এবং পিতার জীবিত অবস্থায় অন্যকেউ অভিভাবক হতে পারে না। কিন্তু, সন্তানের মঙ্গল ও শিক্ষার জন্য পিতা ইচ্ছা করলে অন্য কারও উপর নাবালকের দায়িত্ব দিতে পারেন। আবার প্রয়োজনে ইচ্ছা করলে তিনি এই দায়িত্ব ফিরিও নিতে পারেন। বাবার অবর্তমানে মা নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক, কিন্তু বাবা যদি উইল করে অন্য কাউকে নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত করেন, তাহলে মা অপেক্ষা সেই ব্যক্তির দাবি অগ্রগণ্য হবে। মা-বাবা কেউ না থাকলে প্রয়োজনে আদালত নাবালকের নিকটবর্তী আত্মীয়দের মধ্য থেকে একজনকে অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন। নাবালকের বয়স ২১ হয়ে গেলে সে সাবালক হয়ে যায় এবং তখন আর তার কেনো অভিভাবক প্রয়োজন হয় না। আদালত অভিভাবক নিযুক্তির সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেবেনঃ ক.নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক মৃত্যুকালে যদি অভিভাবক নিয়োগের ব্যাপারে কোন ইঙ্গিত দিয়ে যায় তা; খ.নাবালক যদি তার বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন হয় তবে সেক্ষেত্রে তার মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কোন হিন্দু নাবালকের সম্পত্তির জন্য আদালত যদি অভিভাবক নিযুক্ত করে তবে সে অভিভাবক আদালতের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক বা হস্তান্তর করতে পারে না এবং তা কেনার অধিকারও নেই।

খ্রিষ্টান আইনে সন্তানের অভিভাবকত্ব

খ্রিষ্টান ধর্মে অভিভাবকত্ব নির্ধারণ হয় দুইভাবে: বিবাহবিচ্ছেদ বা জুডিশিয়াল সেপারেশনের মাধ্যমে এবং গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্টের মাধ্যমে। সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালতের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে সন্তানের কল্যাণ। অর্থাৎ বাবা অথবা মা, কার কাছে থাকলে সন্তানের লালন পালন বেশি ভালো হবে। সুতরাং সন্তানের ভালো থাকাই সর্বোচ্চ বিবেচনার বিষয়।

এছাড়া আরও দুটি বিষয় সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে। প্রথমত, সন্তানের ধর্ম। খ্রিষ্টান পারিবারিক আইন অনুযায়ী সন্তানের প্রকৃত অভিভাবক পিতা। ফলে সন্তান মায়ের কাছে থাকলেও পিতার ধর্মবিশ্বাসেই তাকে বড় করতে হবে এমনকি মায়ের ধর্মবিশ্বাস ভিন্ন হলেও। মা যদি সন্তানকে বাবার ধর্মবিশ্বাসে বড় করতে ব্যর্থ হন তাহলে তিনি অভিভাবকত্ব হারাতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মায়ের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালো না হয় তাহলে সন্তানের লালনপালন, ভরণপোষণ, প্রতিপালন, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদিতে ব্যাঘাত ঘটবে বলে যদি আদালত মনে করেন, তাহলে আদালতও সন্তানের পিতামহকেই গুরুত্ব দেবে। এক্ষেত্রে পিতামহের আর্থিক অবস্থা মায়ের চেয়ে স্বচ্ছল হতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে গঠিত পারিবারিক আদালতে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের নাগরিক সন্তানের অভিভাবকত্ব বিষয়ে মামলা করতে পারবেন।

লিখেছেনঃ

এডভোকেট লায়েকুজ্জামান মোল্লা
সিনিয়র এডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট

পারিবারিক আইন, ডিভোর্স ও অন্যান্য

পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দুটো ভিন্ন চরিত্রের একসাথে জীবন পার করে দেওয়া সহজ না। মানিয়ে চলাই তাদের প্রিলিমিনারি সামাজিক শিক্ষা। মানিয়ে নিতে না পারলেও একে অপরকে ছেড়ে যাওয়া মুখের কথা নয়। আবার কিছু আইনী প্রক্রিয়াও রয়ে যায়। বদলে যাওয়া সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন হ্য় সামাজিক ও আইনি সাহায্য। এসবের ঠিকুজি জানতেই ড.শাহনাজ হুদার মুখোমুখি লুক।

লুক: বাংলাদেশের মুসলিম আইনে তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর অধিকার কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: আমাদের দেশের মুসলিম আইন অনুযায়ী, তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর অধিকার স্ত্রীদের চেয়ে বেশি।কিন্তু এটা বলা যাবে না যে, তালাক দেওয়া কেবল স্বামীর অ্যাবসল্যুট রাইট। তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে কিছু আই্নগত প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। নোটিশ প্রদান, সালিশ-বোর্ডের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা, নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া আমাদের আইনে স্বামীর তালাক দেওয়ার অধিকারকে নিকাহনামার ১৯ নং অনুচ্ছেদের মাধ্যমে খর্ব করা সম্ভব। ১৯ নং অনুচ্ছেদের যথাযথ প্রয়োগের জন্য নিকাহ রেজিষ্ট্রারদের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা দরকার। দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদটিকে অবহেলা করে রেজিষ্ট্রাররা শুধ না শব্দটি লিখেই চলে যায়।

লুক: এই একই আইনে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অধিকার কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: এ দেশে মুসলিম আইনে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর অধিকার অনেকখানি খর্ব করা হয়েছে। স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে, দীর্ঘদিন স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে, স্বামী নপুংসক হলে ইত্যাদি কারণে স্ত্রী স্বামীকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিতে পারে। এছাড়া নিকাহনামায় যদি স্ত্রীকে তালাকে তাওফিজের অধিকার দেওয়া হয়, তাহলে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবে।

লুক: তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রীর কী কী অধিকার রয়েছে?

শাহনাজ হুদা: স্বামী স্ত্রীকে তিন মাসের ভরণপোষণ ও মোহরানার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবে। ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

লুক: তিন মাসের ভরণপোষণ কি স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন?

শাহনাজ হুদা: এটা কোনভাবেই স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট না। কিছু মুসলিম দেশে এই বিধান পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন মিশরে, স্বামী যদি স্ত্রীকে কোন উপযুক্ত কারণ না দেখিয়ে তালাক দেয়, তাহলে একবছরের ভরণপোষণ দিতে হয়। আবার কিছু দেশে স্ত্রীর পুনর্বিবাহ কিংবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দিতে হয়।

লুক: বর্তমান সময়ে নারীর সমান অধিকারের কথা বলা হয়। সমান অধিকারের কথা বিবেচনা করলে স্ত্রীর ভরণপোষণের যৌক্তিকতা কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: এক্ষেত্রে সমান অধিকারের কথা বললে আরো অনেক আইন পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার দিতে হবে। কারণ, পিতা-মাতার মৃত্যুর পর মেয়েরা ছেলের অর্ধেক সম্পত্তি পায়। স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির যে পরিমাণ পায়, স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী তার দ্বিগুণ পায়। এগুলো পরিবর্তন করার সাথে সাথে নারীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যদি এই পরিবর্তনগুলো করতে পারি, তাহলেই স্ত্রীর স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ কেন পাবে, এই প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারি। অন্যথায় নয়।

লুক: বিভিন্ন দেশ যেমন মিশরে কোর্টের অনুমতি ছাড়া স্ত্রীকে তালাক দেয়া সম্ভব না। বাংলাদেশে এরকম আইনের দ্বারা তালাকের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব? হলে কতটুকু?

শাহনাজ হুদা: কোর্টের অনুমতি নিয়ে তালাক দিতে হলে এর অপব্যবহার অনেকখানি রোধ করা সম্ভব।কিন্তু এক্ষেত্রে দেশের মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন হতে হবে। যেটা এ মুহুর্তে বাংলাদেশে কষ্টসাধ্য ব্যাপার। প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আমাদের অধিকাংশ লোকজন কোর্টে যাবে না।এবং তালাক না দিয়েই স্ত্রীকে রেখে চলে যাবে। এতে স্ত্রী ভরণপোষণও পাবে না আবার পুনরায় বিয়ে করার বৈধতাও পাবে না। আরেকটি বড়ো কারণ হলো, বাংলাদেশের বেশিরভাগ কোর্টের অ্যাকসেস টু জাস্টিস কতোটুকু, তা নিয়েই প্রশ্ন আছে।

লুক: বাংলাদেশে কিছুদিন থেকে গ্রামের তুলনায় শহরে স্ত্রী কর্তৃক তালাকের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

শাহনজ হুদা: অতীতে গ্রামে তালাকের পরিমাণ বেশি ছিলো। বর্তমানের গ্রামের তুলনায় শহর এলাকার স্ত্রীরা বেশি তালাক দিচ্ছে।তালাকের ইতিবাচক দিক হলো, স্বামীর সংসারে অপমান অবহেলা সহ্য করার চেয়ে পৃথক হয়ে যাওয়াই নারীর জন্য ভালো। নারীদের মাঝে সামাজিক সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির কারণে পৃথক থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছে। যা পরে তালাকে রূপ নিচ্ছে।

লুক: বিদ্যমান মুসলিম আইন পুরোপুরি কার্যকর করে তালাকের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার রক্ষা করা কতটুকু সম্ভব?

শাহনাজ হুদা: আমি মনে করি, পুরোপুরি না হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নারীর অধিকাংশ অধিকারই সংরক্ষণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তালাকের পদ্ধতি, যেমন সালিশি-বোর্ড গঠন, বোর্ডের কাছে উপযুক্ত কারণ দর্শানো, নোটিশ দেওয়া, ৯০ দিন অপেক্ষা করা- এগুলোর নিশ্চয়তা প্রদানের সাথে সাথে যারা এগুলো ভঙ্গ করবে তাদের বিচারের আওতায় আনলে অহেতুক তালাকের পরিমান অনেকখানি হ্রাস পাবে।

আমাদের বিদ্যমান আইন কার্যকর করার সাথে সাথে আমরা যদি সোশ্যাল প্র্যাকটিস চেঞ্জ করতে পারি তাহলে তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের অধিকাংশ অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব।

লুক: বাংলাদেশে অভিন্ন পারিবারিক আইন চালুর ক্ষেত্রে আপনার অভিমত কি?

শাহনাজ হুদা: ব্যক্তিগতভাবে আমি বাংলাদেশে অভিন্ন আইন চালুর পক্ষপাতী। কিন্তু, বাস্তবিক অর্থে এ মুহুর্তে এটা চালু করা অনেকখানি অসম্ভব। এটা চালু করতে গেলে মুসলিম-হিন্দু-খ্রীষ্টান, সকল ধর্মের অধিকাংশ পারিবারিক আইন পরিবর্তিত হয়ে যাবে। যা দেশের ধর্মীয় জনগোষ্ঠি সহজে মেনে নেবে না। অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করতে গেলে আমাদের শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

লুক: বাংলাদেশের হিন্দু আইনে তালাকের ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?

শাহনাজ হুদা: বাংলাদেশের হিন্দু আইনে শুধু ১৯৪৬ সালের নারীর পৃথক বসবাসের অধিকার আইন দ্বারা বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব। যদিও ভারতে ১৯৫৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পৃথক আইন করা হয়, যার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ সম্ভব। বাংলাদেশের হিন্দু আইন সংস্কারের জন্য অনেকবার সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু, ধর্মীয় নেতাদের আপত্তির কারণে তা আজও  কার্যকর করা সম্ভব হয় নি। তবে, বর্তমানে হিন্দু স্বামী-স্ত্রীরা এফিডেভিটের মাধ্যমে নিজেরা তালাক নিচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

লুক: তালাক পরবর্তী সময়ে সন্তানের কাস্টডি কেমন হওয়া উচিত?

শাহনাজ হুদা: বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে পিতাই সন্তানের গার্ডিয়ান। কিন্তু, ছেলেসন্তানের বয়স সাত বছর এবং মেয়ে সন্তানের পিউবার্টির পূর্ব পর্যন্ত কাস্টডিয়ান হবে মা। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে কোর্টের অনেক ডিসক্রিয়েশনাল পাওয়ার আছে। কোর্ট সন্তানদের কাস্টডি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেষ্ট ইন্টারেষ্ট অব দ্যা চাইল্ড বিবেচনা করবে। আর সন্তান যদি মতামত দেয়ার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে কোর্ট তার মতামত বিবেচনা করবে। এক্ষেত্রে আমি বলতে চাই, পারিবারিক আইনের সব ব্যাপারে কোর্ট যদি কাস্টডি নির্ধারণের মতো বেষ্ট ইন্টারেষ্ট বিধি বিবেচনা করে তাহলে সব ব্যাপারই সহজভাবে সমাধান সম্ভব।

তালাকের মতো স্পর্শকাতর এমনভাবে আইন প্রনয়ন করতে হবে, যাতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হয়। কেউ যেন কাউকে হয়রানি করতে না পারে। একটা বিষয় আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, অনেক সাধ করে দুজন মানুষ ঘর বাঁধে। এটা ভেঙে যাওয়া কম কষ্টের না। তাই এমন কোন রিএ্যাকটিভ বা উস্কানিমূলক কিছুকরা উচিত হবে না যাতে অহেতুক তালাক বৃদ্ধি পায়।

লুক: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

শাহনাজ হুদা: ধন্যবাদ লুক।

# লুকের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন নোমান হোসাইন ও আলাল আহমেদ

ভরণপোষণের অধিকার

মিতুর বিয়ে হয়ে পেরিয়ে গেছে বছর তিনেক। বিয়ের পরপরই জানা গিয়েছিলো স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের গ্রাস থেকে স্বামীকে ফেরানোর অনেক চেষ্টা করেছে মিতু। লাভ হয় নি। এরইমধ্যে কোল জুড়ে এসেছে একটি সন্তান।

সন্তান জন্মানোর পর স্বামী মিতুকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কোনো ভরণপোষণ এমনকি একমাত্র সন্তানের জন্যও কোন টাকা পাঠায় না। মিতু লেখাপড়া তেমন একটা করে নি যে চাকরী করবে। আবার বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। নিজের এবং সন্তানের ভরণপোষণের জন্য এখন কী উপায় খুঁজবে সে? আইনে তার ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত করা রয়েছে। মুসলিম আইনে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের স্ত্রী, সন্তানসন্ততি, মা-বাবা, যারা আর্থিকভাবে অসমর্থ, তাদের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে বিয়ে বর্তমান থাকা অবস্থায় ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার লাভ করে। ছেলেসন্তান সাবালক না হওয়া পর্্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান বিয়ে না হওয়া পয্যন্ত বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ লাভের দাবিদার। ছেলেসন্তান সাত বছর পয্যন্ত এবং মেয়ে সন্তান বিয়ে না হওয়া পয্যন্ত যদি মায়ের কাছে কিংবা মায়ের মা অর্থাৎ নানির কাছে থাকে, তবু বাবা তার ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

এছাড়া পঙ্গু, অক্ষম, পাগল এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী সাবালক সন্তানও বাবার কাছ থেকে ভরণপোষণ পাবে। তবে সন্তান যদি অন্যায়ভাবে বাবার সাথে থাকতে অস্বীকার করে কিংবা যে শিশু নিজস্ব সম্পত্তির আয় থেকে নিজের ভরণপোষণ করতে সক্ষম, তার ভরণপোষণ দিতে বাবাকে বাধ্য করা যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বসবাস করলেও স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। যেমন, স্ত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেনমোহর পরিশোধ না করলে, স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে, স্বামী যদি অভ্যাসগতভাবে খারাপ ব্যাবহার করেন, দীর্ঘকাল স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামী দূরে থাকলে ও অনুমতি ছাড়া স্বামী দ্বিতীয়বিয়ে করলে।

ভরণপোষণের পরিমাণ স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ও আর্থিক সঙ্গতির উপর নির্ভর করে। অনেক সময় নিকাহনামায় লেখা থাকে ভরণপোষণ হিসেবে স্বামী কতোটাকা মাসিক দেবেন। সাধারণ অবস্থায় স্বামী তার নিজ গৃহেই স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান দিয়ে থাকে। আইনসঙ্গত বা যুক্তিযুক্ত কারণে যখন স্ত্রী আলাদা বসবাস করে, তখন স্বামী নগদ অর্থ দ্বারা ভরণপোষণ জোগাবে।

আইনসম্মত স্বামী যদি স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেয়, তাহলে পারিবারিক আদালতে প্রতিকার চাওয়া যায়। ১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ অধিকার রয়েছে। সন্তান ও বৃদ্ধ মা-বাবাও আদালতের মাধ্যমে ভরণপোষণ পাওয়ার জন্য মামলা করতে পারেন।

এছাড়া ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী স্ত্রী খরপোশ দাবি করে স্বামীর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান বা মেয়রের কাছে আবেদন করতে পারেন। আবেদন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান স্ত্রী ও স্বামী উভয়পক্ষের পছন্দমতো একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে সালিস-পরিষদ গঠন করবেন। সালিস-পরিষদ স্ত্রীর দাবির যৌক্তিকতা যাচাই করে ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত এবং সেই মোতাবেক একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবে।

স্বামী স্ত্রী আলাদা থাকলে ভরণপোষণ

স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া স্বামীর কাছ থেকে আলাদা বসবাস করেন, তবে, স্বামী স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য থাকবেন না। তবে, বিবাহিত থাকা অবস্থায় স্ত্রী আলাদাভাবে বসবাস করা স্বত্ত্বেও কয়েকটি ক্ষেত্রে ভরণপোষণ পেতে পারেন।

স্বামী যদি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক দেনমোহরের দাবি অস্বীকার করেন; স্বামী বর্বর বার নিষ্ঠুর আচরণ করেন, স্ত্রী আলাদা বসবাস করেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। এছাড়া স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে বার রক্ষিতা রাখলে স্ত্রী স্বামীর সাথে থাকতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন এবং তারপরও স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ দাবি করার অধিকার রাখেন।

বিয়েবিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ

বিয়েবিচ্ছেদের পরও কিছুদিন স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হন। যেদিন থেকে বিচ্ছেদ কার্কর হয় সেদিন থেকে ৯০ দিন (এসময়কে ইদ্দত বলা হয়)পয্যন্ত স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী হন। {হেফজুর রহমান বনাম শামসুন্নাহার বেগম ৪ এমএলআর (অউ ) (১৯৯৯ )}

কোনো স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে মামলা দায়ের করার আগের সময়ের জন্য অথবা বিয়েবিচ্ছেদের আগে যে সময় স্বামী ভরণপোষণ দেয় নি সে সময়ের জন্যও ভরণপোষণ চাইতে পারেন। সিরাজুল ইসলাম বনাম হেলেনা বেগম (৪৮ উখজ )মামলায় আদালত বলেন, স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণের বিষয়ে আদালতের ডিক্রি জারি করার বিচারিক ক্ষমতা আছে।

হিন্দু আইনে ভরণপোষণ

হিন্দু আইনে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে:

একজন হিন্দুর কোন সম্পত্তি না থাকলেও সে তার নাবালক ছেলে, অবিবাহিত মেয়ে ও বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য। দায়ভাগামতে, বাবা সাবালক ছেলেকে ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য নন।

কর্তা যৌথ পরিবারের সকল পুরুষ, তাদের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের ভরণপোষণে আইনত বাধ্য। একজন মৃত ব্যক্তি যাদের ভরণপোষণে বাধ্য ছিলো, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধীকারীরাও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তাদের ভরণপোষণ করতে আইনত বাধ্য।

বিয়ে না হওয়া পয্যন্ত বাবা তার কন্যা সন্তানের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। বাবার অবর্তমানে কন্যার ভরণপোষণ বাবার সম্পত্তি হতে চলতে থাকবে। অক্ষমতা বা অযোগ্যতা হেতু কেউ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলে তাকে ও তার পরিবারবর্গকে অক্ষম ব্যক্তির বাবা ও বাবার অবর্তমানে বাবার উত্তরাধীকারী যথাযোগ্য ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

১৯৪৬ সালের বিবাহিত হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী অসতী না হলে বা অন্য ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম থেকে বহিস্কৃত না হলে সে তার জীবনকালে স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী।

১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান ও ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী, নিম্নোক্ত কারণ সমূহের উদ্ভব হলে একজন বিবাহিত নারী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক থেকেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী:

  • স্বামী যদি এমন কোন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকে যা সে তার স্ত্রীর কাছ থেকে পায় নি
  • স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এমন পয্যায়ের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কার ভয় রয়েছে
  • স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তাকে পরিত্যাগ করে
  • স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পূনরায় বিয়ে করে
  • স্বামী যদি ধর্মান্তরিত হয়
  • স্বামী যদি ঘরেই কোন উপপত্নী রাখে অথবা অভ্যাসগতভাবে উপপত্নীর সাথে বসবাস করে
  • অন্যান্য যৌক্তিক কারণ

স্বামীর মৃত্যুকালীন পৃথক সম্পত্তি বা স্বামীর সহ-অংশীদারী সম্পত্তি থেকে একজন বিধবা স্ত্রী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। স্বামীর মৃত্যুকালীন সময়ে পৃথক বসবাস করলেও তার এ অধিকার বজায় থাকে। অসৎ উদ্দেশ্য ব্যতীত স্বামীগৃহ ত্যাগ না করলে সে বকেয়া ভরণপোষণও পাওয়ার অধিকারী।

খ্রিষ্টান আইনে ভরণপোষণ

১৮৬৯ সালের ডিভোর্স অ্যাক্টের ৩৭ নং ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদের পর থেকে স্থায়ীভাবে ভরণপোষণ পেতে পারে। এছাড়া খ্রিষ্টান ধর্মে সন্তান ভরণপোষণের কথাও বলা হয়েছে। পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামী বা পিতার। বিয়ে বর্তমান থাকাকালীন অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দেবেন। মা-বাবার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সন্তানের ভরণপোষণের প্রশ্নটি আদালতের এখতেয়ারাধীন। সন্তানের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, আর্থিক সামর্থের বিবেচনায় আদালত রায় দেবেন, কী পরিমাণ ভরণপোষণ সন্তানদের দেবেন। এই আইন অনুযায়ী, জেলা আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করতে হয়।

উল্লেখ্য, অবহেলিত সন্তানরা ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪৮৮ ধারার অধীনে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পিতাকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার জন্য মামলা করতে পারে। এক্ষেত্রে সব ধর্মের সন্তানেরা তা পারবে।

লিখেছেনঃ

লোকমান বিন নূর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর

বিবাহবিডিতে চলছে T20 ভ্যালেন্টাইন অফার

বাংলাদেশী লিডিং ম্যাট্রিমনিয়াল ওয়েবপোর্টাল বিবাহবিডি ডট কম ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষ্যে  ডায়মন্ড ও পার্ল মেম্বারশীপে ২৫% ছাড় ঘোষনা করেছে। সেই সাথে যে সকল পাত্র/পাত্রী ১৬ মার্চ এর মধ্যে নিজেদের জীবন সঙ্গী বিবাহবিডি থেকে নিশ্চিত করবে তাদের মধ্যে প্রথম ৫ জোড়া জুটির জন্য বিবাহবিডির পক্ষ থেকে  রয়েছে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য  T20 বিশ্বকাপের টিকেট।

১ম ও ২য় জুটিকে ফাইনালের টিকেট, ৩য় ও ৪র্থ জুটিকে ভারত -পাকিস্থান ও ৫ম জুটিকে  উদ্ভোদনী ম্যাচের টিকেট প্রদান করা হবে। বিস্তারিত জানতে 24/7:  ০১৯২২১১৫৫৫৫ বিবাহবিডি ডট কমে রেজিষ্ট্রেশন করতে ক্লিক করুনঃ www.bibahabd.com

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ৯ আলামত

কে না চায় সুখী দাম্পত্য! কিন্তু সবার জীবনে কি আর সেই সুখ মেলে! তুচ্ছ থেকে শুরু করে গুরুতর নানা বিষয় নিয়ে বিষিয়ে ওঠে অনেক দম্পতির জীবন। খুবই অপ্রত্যাশিতভাবে একের পর এক নানা ঘটনা ঘটতে থাকে, যার ফলাফল নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদ। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে সাধারণত যে ধরনের আলামত দেখা দেয়, সম্প্রতি তা প্রকাশ করা হয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে। নয়টি আলামতের কথা রয়েছে সেখানে।

অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি
অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। কথার আঘাতে একে অন্যকে ঘায়েল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। স্ত্রী তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যদের একদমই সহ্য করতে পারেন না। ঠিক একই আচরণ লক্ষ করা যায় স্বামীর মধ্যেও।

তুচ্ছ কারণে ঝগড়া
ঝগড়া করার জন্য তুচ্ছ নানা কারণ খুঁজে বের করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। সামান্য কোনো অভিযোগ পেলেই তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলতে উদ্যত হন তাঁরা। একটা পর্যায়ে তাঁরা একে অন্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। স্বামী কিংবা স্ত্রী ঘর থেকে বের হলে একদমই ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করে না তাঁদের। এসব সমস্যার কোনো সমাধানও তাঁরা দেখতে পান না।

মতের অমিল

স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল প্রকট আকার ধারণ করে। যৌথভাবে কোনো সিদ্ধান্তই তাঁরা নিতে পারেন না। দুজনই যাঁর যাঁর অবস্থানকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজের মতামত ঠিক কি না, তা ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো যুক্তির আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন তাঁরা অনুভব করেন না। মূলত ইগো সমস্যার কারণেই এমনটা হয়। একপক্ষ মনে করতে থাকে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করছে অপর পক্ষ। একে অন্যকে স্বার্থপর বলেও ভাবতে শুরু করেন তাঁরা।

গোপন ঈর্ষা

মনের অজান্তেই চুপিসারে ঈর্ষা নামের বিষবাষ্প ঢুকে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে। সঙ্গীর ওপর থেকে আস্থা পুরোপুরি উঠে যায়। একটা পর্যায়ে একে অন্যকে অবজ্ঞা করতে শুরু করেন তাঁরা।

আত্মকেন্দ্রিকতা

স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ স্বার্থের বাইরে আর কিছুই ভাবতে পারেন না। নিজেকে উপেক্ষিত ও অনাহূত বলে মনে করতে থাকেন তাঁরা। সংসারকে আর নিজের বলে মনে হয় না। একটা সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ‘আমাদের’ বলে আর কিছু থাকে না। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠেন দুজনই। এটা খুবই ভয়ংকর একটি বিষয়।

প্রতারণা

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী কিংবা স্ত্রীর কেউ একজন প্রতারণার আশ্রয় নেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তাঁদের কেউ কেউ।  নিশ্চিতভাবেই এটা বিয়ে এবং পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু

স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা উবে যায়। আর যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হলেও সেখানে কোনো রকম আবেগ কাজ করে না। যৌনতাকে পুরোপুরি যান্ত্রিক একটি প্রক্রিয়া বলে মনে হয় তাঁদের কাছে। অথচ দাম্পত্য জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টা

সমস্যা সমাধানের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন না স্বামী কিংবা স্ত্রী। তাঁরা হাল ছেড়ে দেন। একে অন্যের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ান তাঁরা। একটা পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরং সমস্যা পুঞ্জীভূত করার চেষ্টায় মেতে ওঠেন তাঁরা। পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিস্ফোরিত কবে হবে, সেই প্রতীক্ষায় দিন গুনতে থাকেন। সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার ইচ্ছে থেকেই তাঁরা এমনটা করেন।

যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া 

পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন স্বামী ও স্ত্রী। যে দাম্পত্যে একটা সময়ে কথার ফুলঝুরি ঝরত, সেখানে ভর করে আশ্চর্য এক নীরবতা। তাঁরা কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং একে অন্যের ছায়াও মাড়ান না। কোনো দম্পতির মধ্যে এমন আলামত দেখা যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ফেরার আর কোনো পথ নেই। নিশ্চিত বিবাহ-বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন তাঁরা।

সুত্রঃ প্রথম আলো

জীবনসঙ্গীকে যে কথা বলতেই হবে

দুটি মানুষের কথোপকথনের মাধ্যমেই একটি সম্পর্কের সূচনা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেউ একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। জীবনভরই দুজনের মধ্যে চলে কথার বিনিময়। তবে কিছু কিছু কথা আছে যেগুলো নিয়ে নারীরা লুকোচুরি করেন। ওই কথাগুলো তিক্ত হলেও আপনার জীবনসঙ্গীকে বলতেই হবে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন সাতটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেগুলো আনন্দময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।

এ মুহূর্তে শারীরিক সংসর্গ নয়
আপনি চাইছেন না, অথচ আপনার সঙ্গী আপনাকে খুব কাছে পেতে চাইছেন। তাঁর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না। আপনি শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হতে না চাইলে সঙ্গীকে সরাসরি না বলে দিন। আপনার অনিচ্ছার কথাটি জানাতে রাখঢাক করবেন না।

আপনার প্রত্যাশা
আপনার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, আপনি কি মনের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু চান? তাঁর সঙ্গটাকে কেমন অনুভব করছেন? এসব বিষয় অবশ্যই তাঁকে জানাতে হবে।

অন্য কাউকে ভালোবাসা
আপনি একজনের সঙ্গে চার বছর ধরে সংসার করছেন। এরই মধ্যে অন্য একজনকে আপনার মনে ধরেছে। কিন্তু এটি লুকিয়ে রাখবেন না। প্রথম মানুষটিকে জানিয়ে দিন। অন্যথায় আপনি একই সঙ্গে দুজন মানুষের সঙ্গে অন্যায় করবেন।

বেশি খরচ করে ফেলেছি
এখানে-সেখানে সামান্য অর্থ খরচের বিষয়টি না জানালেও চলে। তবে কখনো কখনো গয়না, সম্পত্তি বা অন্য কোনো খাতে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি প্রিয় মানুষটিকে জানিয়ে দেন।

মানসিকভাবে বিপর্যস্ত
আপনার জীবনসঙ্গীর চাচি বা খালা আপনার পোশাক-আশাক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন কিংবা আপনার দেবরের প্রেমিকা বিষয়টি ফাঁস করে দিলেন। এমন বিষয় নিয়ে আপনি প্রিয়জনের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলবেন। আপনি তাঁর কাছে জানতে চাইবেন কীভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়।

পছন্দ, অপছন্দ এবং আরও কিছু
আপনার পছন্দ-অপছন্দ, পছন্দের খাবার, অতীতের গভীর সম্পর্ক কোনো কিছু বর্তমান সঙ্গীর কাছে আড়াল করবেন না।

আমার জন্য কিছুটা সময়
কিছু সময় আছে, যখন আপনি একাকীই কাটাতে চান। এ বিষয়ে সঙ্গীকে স্পষ্ট করে বলে দিন। এতে করে ওই মুহূর্তে আপনি সংঘাত এড়াতে পারবেন। কিন্তু আপনার একান্ত মুহূর্ত সম্বন্ধে কাছের মানুষটি যদি না জানে, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। সুত্রঃ প্রথম আলো

তরুণী পাত্রী চাই!

বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই সাধারণ কিছু বিষয় বিবেচনায় আনে। সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে বিবেচনার বিষয়গুলোও আলাদা হয়। মেয়েদের কাছ থেকে একটি অভিযোগের সুর প্রায়ই শোনা যায়, একটি ছেলের চেহারা বা বয়স যেমনই হোক না কেন, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেকেরই প্রধান মাপকাঠি থাকে চেহারার সৌন্দর্য এবং অপেক্ষাকৃত অল্প বয়স। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু ছেলেদেরই দোষ দিলে চলবে না।  অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদেরও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন বা শিক্ষাগত যোগ্যতা যা-ই থাকুক না কেন, সঙ্গীর পেশাগত প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টিই তারা প্রাধান্য দেয়।  কিন্তু প্রশ্ন আসে এসব বিবেচ্য বিষয়গুলো দাম্পত্যজীবনের একট দীর্ঘ পথ সুন্দরভাবে চলার জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। যে মেয়েটি তার চমৎকার মানসিক গঠন, বুদ্ধিমত্তা ও বিবেচনাবোধের কারণে দারুণ একজন পথ চলার সঙ্গী হতে পারত, শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই কি সে উপেক্ষিত হবে? অথবা যে ছেলেটির দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, অনুভূতিশীল মন এবং দায়িত্ববোধ একজন নারীকে একটি সুন্দর দাম্পত্যজীবন দিতে পারে। কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতার বিবেচনায় সে কি এ ক্ষেত্রে কম বিবেচিত হবে?

একটি সফল দাম্পত্য সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক আকর্ষণ, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের দৃঢ় ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। তবে সম্পর্কের প্রথম দিকে পরস্পরের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে এবং কাছে আসতে এই আকর্ষণের গুরুত্ব একেবারে উপেক্ষা করা যায়না। অপরিচিত দুজন নর-নারীর মধ্যে তাদের বাহ্যিক ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্য (যেমন—সৌন্দর্য, বয়স, বাচনভঙ্গি, এমনকি আর্থিক অবস্থান, ক্ষমতা ইত্যাদি) আকর্ষণ তৈরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতিদিনের জীবনে এবং দীর্ঘ পথ চলায় এই আকর্ষণ ক্রমেই ফিরে হয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মায়া এবং নিবিড় বন্ধুত্ব একটি আনন্দময় সম্পর্কের অন্যতম নির্ধারক হয়ে ওঠে। ফলে প্রথম দিকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো ম্লান হয়ে পরস্পরের মানসিক গঠনে মিল, দুজনের চিন্তা ও অনুভূতি বুঝতে পারা, মানসিক চাহিদা পূরণ করা ইত্যাদিই মুখ্য হয়ে ওঠে এবং তাদের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ভিত মজবুত হয়।

অনেক ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন আসে, বয়সের কতটুকু ব্যবধান একটি সফল সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজন? মনোবিজ্ঞানে এর কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। মানসিক গঠনে মিল ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকলে শুধু বয়স বা অন্য কিছুর ব্যবধান বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।তবে সম্পূর্ণ অপরিচিত নারী-পুরুষ যখন একটি বিয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রে বয়সের অতিরিক্ত ব্যবধান বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।এটাও দেখা যায়, অনেক সময় ছেলেদের বয়স যথেষ্ট বেশি হলে পাত্রী হিসেবে কম বয়সের মেয়েদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। যদিও ইদানীং অনেক ছেলের মধ্যেই এ ধরনের মনোভাবের পরিবর্তন দেখা যায়।দাম্পত্যজীবন নারী-পুরুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ নতুন জীবনে তার সঙ্গীটি কেমন হবে এবং কীভাবে মানিয়ে নেবে তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে তাদের ভালো থাকা, মন্দ থাকা। সুতরাং, প্রথাগত ভাবনা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসে সজীব মানসিক গঠন, জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির মিল, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের প্রতি আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় শুধু বাহ্যিক ও আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগী না হয়ে তার ভাবনাচিন্তা, রুচি ইত্যাদি জানার চেষ্টা জরুরি।

  • কম বয়স প্রাধান্য দেওয়ার নানা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে।  যেমন: জৈবিক আকর্ষণ বিবেচনায় রেখে। সেখানে মানসিক আকর্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়।
  • সন্তান ধারণের বিষয় মাথায় রেখে।
  • অল্প বয়সের মেয়েদের সঙ্গে পরিবার ও নিজের ব্যক্তিত্বের সংঘাত কম হওয়ার প্রত্যাশায়।
  • সম্পর্কের মধ্যে নিজের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ রাখার ইচ্ছা।
  • পারিবারিক চাপ।
  • সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব।


এসব বিবেচনা এলেও তা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ও সফল দাম্পত্য সম্পর্কের সহায়ক সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক সময়ই বয়সের ব্যবধান বেশি হলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়।  যেমন –

  • পুরুষেরা তাদের বেশি বয়স নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে।
  • বয়সের সঙ্গে আমাদের মানসিক গঠন ও মানসিক চাহিদা-সম্পর্কিত বলে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার ফলে মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।
  •  বেশি বয়স অনেকের মধ্যে সম্পর্কজনিত নিরাপত্তাহীনতা বোধ তৈরি করতে পারে। যা থেকে স্ত্রীর প্রতি অহেতুক সন্দেহ, অধিক নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা এবং দাম্পত্য অশান্তি দানা বাঁধতে পারে।
  • ক্ষেত্রবিশেষে কম বয়সের মেয়েদের মানসিক গঠন অপরিপক্ব থাকে। ফলে দাম্পত্যজীবনের নতুনত্ব ও শ্বশুরবাড়ির ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

লেখক: মেখলা সরকার
সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ
সুত্রঃ নকশা

নৈতিক স্খলনে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ

মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামালের মতে, নৈতিক স্খলনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। তাঁর মতে, প্রবাসীদের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে বাড়ছে মূলত সন্দেহ-অবিশ্বাস থেকে। বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনির পর স্ত্রীর সঙ্গ পান না তাঁরা। এমনকি তাঁদের জীবনে অন্য কোনো বিনোদনও নেই। দেশে স্ত্রী কী করছে এই চিন্তায় অস্থির থাকেন তাঁরা। তার ওপর দেশ থেকে অনেক সময় বাবা-মা বা ভাইয়েরা তাঁর স্ত্রীর আচরণ সম্পর্কে নানা অভিযোগ করেন। এগুলো তাঁর মনকে বিষিয়ে দেয়।

স্ত্রীকে ফোন করে তাঁরা তখন কটুকাটব্য করতে থাকেন। এতে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ে। তবে এ কথাও ঠিক, দীর্ঘকাল স্বামীর অনুপস্থিতিতে অনেকে বিবাহ- বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এটা একটা জৈবিক কারণ। স্বামীর অনুপস্থিতিতে এই জৈবতাড়নাই তাঁকে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে প্ররোচিত করে। পোশাক-কর্মীদের মতো যাঁরা নিম্নআয়ের মহিলা, অনেক দরিদ্র পুরুষই তাঁদের বিয়ে করেন অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য। অনেক সময় স্ত্রীর টাকায় নেশা করেন অনেকে, কেউ বা গোপনে অন্য নারীতে আসক্ত হয়ে পড়েন। এই মেয়েরা এখন অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী। তাঁরা এ অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেন না। তাই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানোর মতো সিদ্ধান্ত নেন।

উচ্চবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী ব্যবসা বা বড় চাকরি করেন। নিয়মিত মদ্য পান করাকে সোশ্যাল স্ট্যাটাসের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীর ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করেন। এ ছাড়া এ শ্রেণীর মেয়েদের মধ্যেও নানা হতাশা থেকে বিয়ে-বহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপনের অনেক নজির আছে। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে চিড় ধরে, যার অনিবার্য ফল বিবাহবিচ্ছেদ।
মাদকাসক্তি ও যৌতুকের মতো সামাজিক ক্ষত সারানো গেলে বিবাহবিচ্ছেদ অনেকাংশে কমবে বলে মনে করেন মোহিত কামাল। তাঁর মতে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো নিদান নেই।

মোহিত কামাল, মনোরোগ চিকিৎসক
সুত্রঃ প্রথম আলো 

হু হু করে বয়স বেড়ে যাচ্ছে মনের মত জীবন সঙ্গী পেয়েছেন কি?

আপনি কি আপনার পরিবারের কোন সদস্যের জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার অথবা পছন্দের কোন প্রফেশনের  পাত্র/পাত্রী খুঁজছেন? তাহলে  নিশ্চিন্তে লগ ইন করুন বাংলাদেশের লিডিং ম্যাট্রিমিনিয়াল পোর্টাল  বিবাহবিডি ডট কম এ,  ২০০৯ সাল থেকে বিবাহবিডির সেবা নিয়েছে ১০,০০০ এর বেশী উচ্চ শিক্ষিত পরিবার।

বিবাহবিডি (বিবাহবিডি ডট কম) আপনার শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে  ২৪ ঘন্টা ৭ দিনই  প্রস্তুত আছে। এ সেবাটি সম্পূর্ন অনলাইন বেইজ  এবং  ১০০ ভাগ সেলফ সার্ভিস। ঘরে বসেই অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করে নিজের মত করে প্রফেশন, এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রীর প্রোফাইল গুলো দেখে সহজেই বাচাই করে সরাসরি পাত্র/পাত্রী বা তার অভিভাবকের সাথে  নিজেই যোগাযোগ করতে পারবেন এবং তা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই।

তাছাড়াও বিবাহবিডিতে আপনার অথবা  আপনার পরিবারের সদস্যের প্রোফাইলটি দেখে আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী পাত্র/পাত্রী বা তাদের অভিভাবকেরাও সরাসরি আপনার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।

আপনি কেন  বিবাহবিডিতে পাত্র/পাত্রী খুঁজবেন ?

  • বিবাহবিডি সম্পূর্ন একটি সেলফ সার্ভিস। যেখানে পাত্র/পাত্রী কিংবা অভিভাবকেরা অনলাইনে ফ্রী রেজিষ্ট্রেশন করে ৩ দিনের ট্রায়াল মেম্বারশীপ নিয়ে, নিজেরাই পাত্রপাত্রীর প্রোফাইল দেখে বাছাই করেন এবং পরবর্তীতে পছন্দের পাত্র/পাত্রী কিংবা তাদের অভিভাবকের সাথে নিজেরাই সরাসরি যোগাযোগ করে থাকেন।
  • প্রফেশন অনুযায়ী, অবিবাহিত,  ডিভোর্স, বিধবা/বিপত্নীক  পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • প্রবাসী প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে
  • বাংলাদেশের যে কোন জেলার প্রতিষ্ঠিত পাত্র/পাত্রী খুঁজতে

বিবাহবিডিতে আসা প্রোফাইল গুলো যাচাই হয় কিভাবে?

  • বিবাহবিডি ডট কম এ আছে (২৪/৭ দিন) এক্সপার্ট কাষ্টমার সাপোর্ট টিম। একটি প্রোফাইল আসার সাথে সাথেই আমাদের কাষ্টমার সাপোর্ট প্রোফাইলটিকে  বেশ কিছু পন্থায় যাচাই করে থাকে এবং পাত্র-পাত্রী ও অভিভাবকের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলে তার প্রদত্ত প্রত্যেকটি তথ্য সম্পূর্ন নিশ্চিত হয়ে তারপরই একটি প্রোফাইল এক্টিভ করে।

বিবাহবিডিতে প্রোফাইল প্রোফাইল করতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন?

  • বিবাহবিডি ডট কম ছেলেদের  ক্ষেত্রে  শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম ব্যাচেলর ডিগ্রী সহ চাকুরীজীবি কিংবা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত।
  • ডিভোর্স/ বিধবা কিংবা অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ইন্টারমিডিয়েট।

৩ দিন ফ্রী মেম্বারশীপের মেয়াদ কালীন সময়ে আপনি বিবাহবিডির সবগুলো প্রোফাইল দেখে পছন্দের প্রোফাইল গুলোকে (শর্টলিষ্ট/ ফেভারিট) করে নিতে পারবেন ।

কিভাবে পছন্দের কারো সাথে যোগাযোগ করবেন ?
বিবাহবিডি ডট কমের  রয়েছে  ৪ টি প্যাকেজ । অনিক্স, রুবী, পার্ল, ডায়ামন্ড। এই চারটি প্যাকেজের যে কোন একটি কিনে আপনি পছন্দের যে কারো সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন ।  

কোন প্যাকেজের কি কি সুবিধা ?
প্যাকেজ অনুযায়ী আপনি সয়ংক্রিয় ভাবে যোগাযোগের তথ্য পাবেনঃ

অনিক্স মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৪৫ দিন – পছন্দের ৩ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য
রুবী মেম্বারশীপ – মেয়াদ ৯০ দিন  – পছন্দের ১০ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য
পার্ল মেম্বারশীপ – মেয়াদ ১৮০ দিন – পছন্দের ২৫ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য
ডায়ামন্ড মেম্বারশীপ – মেয়াদ ১৮০ দিন – পছন্দের ৪০ জনের সাথে যোগাযোগের তথ্য

যোগাযোগের তথ্যঃ  
পাত্র/পাত্রী ও অভিভাবকের ফোন নাম্বার, ইমেইল আইডি,  বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা।

 ** আপনি প্রাইভেসী ফিচার অন করে আপনার যোগাযোগের তথ্য লুকিয়ে রাখতে পারবেন। আপনি না চাইলে কোন ইউজার আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। 

বিবাহবিডির মুড অফ পেমেন্ট কি? কিভাবে সার্ভিস কেনা যায় ।

  • আপনার যদি ইন্টারনেশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে পেপল এর কার্ড কিংবা একাউন্ট থেকে থাকে অথবা
  • বিশ্বের যেকোন দেশ থেকে আপনার  ভিসা, মাষ্টার কার্ড দিয়ে আপনি  অনলাইনেই সার্ভিস কিনতে সক্ষম ।
  • বাংলাদেশের ডাচবাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনেই সার্ভিস কেনা যায়।
  • আমাদের ৩ টি অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট আছে সে গুলোতে সরাসরি ডিপোজিট করে আপনি সার্ভিস কিনতে  পারবেন –  ব্যাংক গুলো – ১)  ডাচ বাংলা ব্যাংক  ২) ব্র্যাক ব্যাংক  ৩) ব্যাংক এশিয়া

বিবাহবিডির বিগত দিনের কার্যক্রমঃ
BIBAHABD CEO @ ATN NEWS Young Nite :

TEAM LEADER @ SATV Web Intro

BIBAHABD UK Coordinator
@ বাংলাদেশ – ইউকে  যৌথ ই-কমার্স ফেয়ার – ২০১৩, গ্লুচেষ্টার মিলিনিয়াম হোটেল, লন্ডন
আয়োজকঃ গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, আইসিইটি মন্ত্রনালয় ও কম্পিউটার জগত


ডিসি, ঢাকা ও তথ্য মন্ত্রনালয় আয়োজিত ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ার – ২০১৩,
পাব্লিক লাইব্রেরী চত্তর, শাহবাগ – ঢাকা
 

ডিজিটাল ইনোভেশন ফেয়ার – ২০১৩, বাঁ থেকে –
CEO BIBAHABD, DC – DHAKA,  Information Secretary – N.I Khan

7-9 Feb, 2013 পাব্লিক লাইব্রেরী প্রঙ্গনে : ই-বাণিজ্য মেলায় BIBAHABD.COM এর ষ্টল ।

বেসিস সফট এক্সপো ২০১২, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক  সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা

 

বেসিস সফট এক্সপো ২০০৯, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা

বিভিন্ন সময় আমাদের নিউজ কভারেজ এর স্ক্রীন শর্ট দেখতে ক্লিক করুনঃ এইখানে ।

বিবাহবিডি ডট কমে রেজিষ্ট্রেশন করে ফ্রী ৩ দিন ট্রায়াল মেম্বারশীপের জন্য
নীচের ছবিতে ক্লিক করুনঃ