গাড়িতেই সংসার!

একটু আরাম-আয়েশে বসবাস করার জন্য বাড়ি-গাড়ির কথা ভাবেন না এমন মানুষের খোঁজ মেলা ভার। তবে, যারাই এই ভাবনা ভাবেন না কেন-আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই বাড়ি তারপর ভাবেন গাড়ির কথা। কিন্তু এবারে একটু ভিন্ন ভাবনার মানুষের গল্প শুনি। যারা কিনা বাড়ির আগে গাড়ি কিনে ফেলেছেন। তাহলে তাঁরা থাকেন কোথায়? এ প্রশ্ন আসতেই পারে। একটাই উত্তর, ওই গাড়িই তাঁদের বাড়ি।

একটু আলাদাভাবে ভেবেই বাড়ির আগে গাড়ি কিনে ফেলেছেন যুক্তরাজ্যের ক্যান্টারবেরি শহরের ড্যানিয়েল বন্ড ও স্ট্যাসি দম্পতি। ২৮ বছর বয়সী ড্যানিয়েল বন্ড পেশায় গাড়ি মেরামতকারী। এই কাজ করে তিনি যে পরিমাণ অর্থ জমিয়েছেন তা একটি বাড়ি কেনার জন্য মোটেও যথেষ্ট ছিল না। কিন্তু স্ত্রী স্ট্যাসিকে (২০) নিয়ে একটু নিরাপদে থাকতেও হবে তাঁকে। এ নিয়ে বেশ ভাবনায় পড়ে যান তিনি। বাড়ি কেনার জন্য ব্যাংকও রাজি হয়নি ঋণ দিতে। আর অন্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে নারাজ দুজনেই। তাই বাধ্য হয়ে দুজনে মিলে শলা-পরামর্শ করে একটি বড়সড় গাড়ি কেনার কথা ভাবেন। তাঁদের ভাবনার কথা শুনে ড্যানিয়েলের মা তাঁকে ‘মাথা খারাপ হয়ে গেছে’ বলে ড্যানিয়েলকে রাগারাগিও করেছিলেন। সেই চোখ রাঙানিকে থোড়াই কেয়ার করে নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছিলেন তাঁরা। তাঁদের চাওয়া এমন একটি গাড়ি, যাতে সারা শহর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানো যাবে, সেই সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াসহ গাড়ির ভেতরে একটু নিরাপদে ঘুমানোও যাবে। যেই ভাবনা সেই কাজ। অর্থকড়ি গোছগাছ করে তিন হাজার পাউন্ড দিয়ে গত বছরের অক্টোবরে লেল্যান্ড অলিম্পিয়া-১৯৯১ মডেলের একটি দ্বিতল বাস কিনে ফেলেন তাঁরা। এরপর আট হাজার পাউন্ড বাড়তি খরচ করে সেই বাসের ভেতরে দুইটি থাকার কক্ষসহ বাড়ির মতো করে বানিয়ে নিয়েছেন ড্যানিয়েল ও স্ট্যাসি দম্পতি। এখন তাঁরা সেই বাড়ি মানে গাড়িতেই থাকেন, ঘর-সংসার করেন।

বাসটির ভেতরে এখন তাঁদের থাকার জন্য দুইটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, টেলিভিশন কক্ষ, প্রসাধন কক্ষ, পানির ট্যাঙ্ক এমনকি একটি বারও আছে। ‘শুরুতে আমরা বাড়ি নিয়ে বেশ হতাশায় পড়েছিলাম। ক্যান্টারবেরিতে ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট কিনতে প্রায় এক লাখ পাউন্ড দরকার। অতো অর্থ আমাদের ছিল না। কিন্তু টাকা খরচ করে অন্যের বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকারও ইচ্ছে ছিল না আমাদের। তাই অল্প অর্থ খরচ করে গাড়ি কিনে তার ভেতরে বাড়ি বানিয়ে থাকার কথা চিন্তা করি। প্রথমে বেশ জটিল মনে হলেও পড়ে বুঝতে পারি এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান।’—বলছিলেন ড্যানিয়েল বন্ড।

ড্যানিয়েল-স্ট্যাসির গাড়ির ভেতর বানানো এই বাড়িতে প্রায় ২২০ লিটার পানি ধারণ করার মতো ট্যাঙ্ক রয়েছে। তাছাড়া সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থাও আছে গাড়িতে। রান্না ঘরের ভেতরে আছে চুলা, রেফ্রিজারেটর ও কিচেন ক্যাবিনেট। স্ট্যাসি বলেন, ‘এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। আমাদের একটি বাড়ির খুব প্রয়োজন ছিল। ড্যানিয়েল অনেক কষ্ট করেছে এজন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থ জোগাড় করতে পারেননি। তাতে কী! এখন তো এটাই আমাদের দু’জনের নিজেদের বাড়ি।’

ড্যানিয়েল আরও বলেন, বাসটির ভেতরে ঢুকলে কেউ বলতে পারবে না যে, এটা একটা বাস। এটা আসলে পুরোদমে একটি নতুন বাড়ি।’ বাসটি বর্তমানে একটি খোলা জায়গায় রাখা আছে। তবে ড্যানিয়েল আশা করছেন, সামনের আগস্টেই তিনি গাড়িটির চালক হিসেবে লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। আর তা হাতে পেলেই ওই বাড়িতুল্য গাড়িতে স্ট্যাসিকে নিয়ে ঘুরে আসবেন কর্নওয়েল থেকে। যেখানে কেটেছে তাঁর শৈশব, তাঁর কৈশোর। ওয়েবসাইট।

মন্তব্য করুন