জীবন সঙ্গী নির্বাচনের কিছু উপায়

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সঠিক জীবন সঙ্গী নির্বাচনের গুরত্ব অনেক। বিয়ের পর কখনও যেন এমনটা মনে না হয় যে, জীবন সঙ্গী আপনার জন্যে সঠিক নয়। তাই সময় থাকতেই জেনে নিন, সঠিক জীবন সঙ্গী নির্বাচনের কিছু উপায়।

এমন কেউ যার সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ:

যে খুব সহজেই সবার সঙ্গে গল্প বা কথা বলতে পারেন, যাকে খুব সহজে আপনার মনের কথা বলতে পারেন, যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন এমন মানুষ নির্বাচন করা উচিত। এতে করে অনেক কথা বলতে এবং অনেক কাজ সহজে করতে পারবেন আপনি; অবশ্যই এটা আনন্দের।

আগ্রহ এবং গুণসম্পন্ন:

যিনি নিজের আগ্রহ এবং শখের বিষয় আপনাকে জানাবে এবং তার ভালোলাগার অনেক কিছু্ই আপনারও ভালো লাগবে। তবে এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তার সব ভালো লাগার সঙ্গে আপনার সব ভালো লাগা নাও মিলতে পারে। কিন্তু কিছু ভালো লাগা অবশ্যই মিলতে হবে।  যখন আপনি কারো সঙ্গে জীবন কাটানোর সীদ্ধান্ত নেবেন তখন অবশ্যই আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে, আপনারা দুজন একই ধরনের কাজে আনন্দ পান কি না।

সঙ্গীর মেধা যাচাই করুন:

যদি আপনি স্থীর স্বভাবের হন এবং আপনার সঙ্গী কথা এবং কাজে আপনার থেকে অনেক বেশি এগিয়ে থাকেন তবে সেটা আপনার বৈবাহিক জীবনে ক্ষতির কারণ হতে পারে। আপনাকে অবশ্যই দেখতে হবে, দুজনের মতের মিল কতটুকু রয়েছে? মতের মিল দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

মান বজায় রাখা:

জীবন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার এবং আপনার পরিবারের মান-মর্যাদার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্যাটাসের অমিল হলে যদিও খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে, আপনার সঙ্গী যেন আপনার সমাজের বাইরের না হয়।

একে অন্যকে সম্মান দিতে হবে:

এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জীবন কাটানো সম্ভব নয় যে আপনাকে, আপনার স্বপ্ন এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে সম্মান দেয় না। তাই এমন জীবন সঙ্গী নির্বাচন করুন, যিনি আপনাকে এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে সম্মান করেন।

বিশ্বাসযোগ্য:

এমন কাউকে নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাকে আপনি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন। একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা না থাকলে সুখী বৈবাহিক জীবন-যাপন একেবারেই অসম্ভব।

একসঙ্গে সময় কাটাতে হবে:

একই ধরনের শখ বা আগ্রহ থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একে অন্যকে সময় দেয়াটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ রাখবেন, আপনার সঙ্গী আপনাকে সময় দিতে কতটা আগ্রহী এবং আপনাকে সময় দিতে ভালোবাসে কি না।  এর পাশাপাশি দুই জনে বোঝাপড়া বা সমঝোতার মধ্যে থাকলে এবং একে অন্যকে বুঝে চললে সর্বোপরি সুখী দাম্পত্য জীবন কাটানো সম্ভব।

দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি

দাম্পত্য জীবনে আনন্দের জন্য নিজেদের কিছু কিছু ভাললাগার বিষয় তৈরি করে নিতে হয়।  ব্যবসায়-কাজের ফাঁকে আমার স্ত্রীর পছন্দের কোন একটি জায়গায় বেড়াতে যাওয়া বা আমার পছন্দের কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া পারস্পরিক বোঝাপড়ায় অনেক বেশি সহায়ক হয়।

একসঙ্গে চমৎকার কোন রোমান্টিক সিনেমা দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে উৎযাপন করতে পারেন ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক ভালবাসার মধ্য দিয়ে।   আর স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসাটার ভিত্তিটা কয়েক দিন বা কয়েক মাসে গড়ে উঠেনা।  দাম্পত্য সম্পর্কটা হলো চারা গাছের মত যাকে বড় করতে হয় পরম যত্নে, এবং পরিপূর্ন হয় ধীরে ধীরে।  একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, সহনশীলতার মাধ্যমেই ভালবাসার এই চর্চা করা সম্ভব।  সংসারে স্বামী ছাড়াও থাকতে পারে শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ। এক সঙ্গে থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।   সংসারে সুখের জন্য কোন কাজই কেবল ছেলেদের জন্য নয়, আবার কোনটাই কেবল মেয়েদের জন্য নয়; পরিবারের নারী-পুরুষের সমন্বিত কাজেই সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। স্বামী-স্ত্রী দুজন যেহেতু ভিন্ন দুটি পরিবার থেকে এসে একসঙ্গে বসবাস করছে; তাই দু’জনের মধ্যে কিছু অমিল থাকতেই পারে।  কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে হয়ত দুজন কিছুতেই একমত হতে পারছে না।  সে ক্ষেত্রে যার যার মত প্রকাশের ক্ষেত্রে যেমন স্বাধীনতা থাকবে তেমনি স্বামী বা স্ত্রীর মতামতের প্রতি আপনাকে হতে হবে শ্রদ্ধাশীল।

দাম্পত্যে যা যা করবেন:

১।  একজন আরেকজনকে প্রতিদিন অন্তত একবার করে বলুন আমি তোমাকে ভালবাসি! বিয়ের পর কখনই এই কথা বলেননি ভাবছেন তো কি হয়েছে! সাহস করে মন খুলে স্ত্রীকে বা স্বামীকে বলুন না প্লিজ। দেখবেন আপনার দাম্পত্য জীবনে আনন্দ কি পরিমাণ বেড়ে গেছে।
২।  ছোটখাটো ভুলেও ক্ষমা চেয়ে নিন।আবার ছোটখাটো ভুলকে ক্ষমা করতেও দিধা করবেন না। তাতে কেউ কারও কাছে ছোট হয়ে যাবেন না। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জন্ম নেবে এবং একে অন্যকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা তৈরি হবে।
৩।  একে অন্যকে ধন্যবাদ দিন। প্রতিদিনই ছোট-বড় অনেক কাজে দম্পতিরা একে অন্যের সাহায্য নিয়ে থাকেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রতিবারই স্ত্রীকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানান।
৪।  প্রশংসা করুন। আপনার স্বামী বা স্ত্রী নিশ্চয়ই কিছু না কিছু গুণে গুণান্বিত। তার গুণগুলো খুঁজে বের করুন। সময় পেলেই তার গুণের প্রশংসা করুন।
৫।  চমকে দিন প্রিয় মানুষটিকে পছন্দের একটি জিনিস উপহার দিয়ে। চেষ্টা করুন সঙ্গীকে বিভিন্ন কারণে বিভিন্নভাবে চমকে দিয়ে আনন্দের উৎস বাড়াতে। কিছুই করার না থাকলে বেড়িয়ে আসুন নদীর ধারে কিংবা লেকের পারে।
৬।  সন্তানের ভাল-মন্দ যে কোন বিষয়ে দুজনের দায়িত্ব স্বীকার করে নিন। একে অন্যের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেবেন না।

দাম্পত্যে বিরত থাকুন:

১।  সঙ্গীকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকুন। সবার সামনে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর সমালোচনা করবেন না। প্রয়োজনে একান্তে বলুন।
২।  একে অপরের কাছে বেশি কিছু আশা না করাই ভাল।  সঙ্গীর সীমাবদ্ধতাকে সহজে মেনে নিন।
৩।  বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে গিয়ে স্ত্রী বা স্বামীকে বঞ্চিত করবেন না।
৪।  আপনার সঙ্গী পছন্দ করেন না এমন কাজ তাকে দিয়ে করাতে যাবেন না।  এতে দাম্পত্য জীবনে তিক্ততার সৃষ্টি হয়।
৫।  দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা হতে পারে এমন বিষয় এড়িয়ে চলুন।

লজ্জা সরিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলা দরকার

নারীরা পুরুষের তুলনায় একটু বেশিই আবেগী থাকেন এটি নতুন কিছু নয়। অনেক সময়েই নারীরা নিজেদের উপরে দোষ চাপিয়ে নিয়ে নিজেকে দোষী ভেবে অপরাধী ভাবেন, লজ্জিত হন, যেখানে সত্যিকার অর্থেই তার কোনো ভুল ছিল না এবং ভুল হয় নি। তারপরও নারীসুলভ আচরণে কিছু কাজ করে অনেক বেশি লজ্জিত থাকেন নারীরা যা একেবারেই উচিত নয়। সুতরাং, নারীদেরকে বলছি, এইধরনের কাজ করে লজ্জিত হয়ে নিজেকে ছোটো করা বা গুটিয়ে রাখার কোনোই অর্থ নেই।

১. সঙ্গীর উপহার পছন্দ না হলে তা সরাসরি বলে দেয়া
আপনার পছন্দ অপছন্দ থাকতেই পারে, তাই যদি সঙ্গীর দেয়া উপহার পছন্দ না হয়ে থাকে তাহলে সরাসরি বলে দিলে আসলেই কোনো ক্ষতি নেই। বরং এতে সঙ্গী পরবর্তী সময়ে আপনার পছন্দের ব্যাপারটি মাথায় রাখতে পারবেন।

২. নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেয়া
নিজের সংসার, শত কাজ কর্ম, পরিবার সব কিছু নিয়ে যদি একেবারে হাঁপিয়ে ওঠেন তাহলে নিজের জন্য সময় বের করে নিন। নিজে একাকী একটু সময় কাটালে পরিবারের প্রতি আগের মতোই কর্তব্য পালনে উৎসাহী হবেন। যদি একটানা একইভাবে শুধু পরিবারকে সময় দিয়ে যান তাহলে কিন্তু একসময় বিরক্তি এসে যেতে পারে। তাই নিজের জন্য একটু সময় বের করে নেয়ার ব্যাপারে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

৩. নিজের বাবা-মাকে শ্বশুর-শাশুড়ির চাইতেও বেশি ভালবাসলে
এটি প্রাকৃতিকভাবেই নির্ধারিত। যদি আপনার মনে হয়ে আপনি নিজের বাবা-মাকেই বেশি ভালোবাসেন এবং তা নিয়ে লজ্জিত হন যে শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশি অনেক বেশি প্রাধান্য দিতে পারছেন না, তার সত্যিই কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার যা কর্তব্য তাই পালন করে যান, আপনার মন আপনার নিজের বাবা-মাকেই বেশি ভালোবেসে যাবে, ঠিক যেমনটি আপনার সঙ্গী তার বাবা-মাকে বাসেন। লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

৪. নিজের বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কিছু গোপন ব্যাপার থাকলে
একজন মানুষের সাথে পুরো জীবন কাটিয়ে দেবেন তার মানে এই নয় যে আপনার একান্ত আপন বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কোনো গোপন কিছুই থাকতে পারবে না। হ্যাঁ, এটি সত্যি যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো গোপনীয়তা না থাকাই ভালো, কিন্তু নিজের বন্ধুবান্ধবের সব গোপন তথ্য তো নিশ্চয়ই জানিয়ে দেয়া উচিত নয়। সুতরাং এইসকল ব্যাপার গোপন থাকলে নিজেকে দোষী ভাবার বা লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

৫. সঙ্গীর কিছু ব্যাপার শুধরে নিতে বলা
বিয়ে বা সম্পর্ক তখনই মজবুত হয় যখন দুপক্ষ থেকে কম্প্রোমাইজের ব্যাপারটি আসে। সুতরাং আপনি যদি নিজে ঠিক থেকে সঙ্গীর কিছু ব্যাপার শুধরে নিতে বলেন এতে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কিছু নেই এবং আপ্নারফ লজ্জা পাওয়ারও কিছু নেই।

৬. সঙ্গীর চাইতেও উঁচু পজিশনে নিজের ক্যারিয়ার থাকা
এই ব্যাপারটি নারীদের চাইতেই বেশি ভাবিয়ে তোলে পুরুষকে। যদি নিজের সঙ্গিনী তার থেকে উপরের পজিশনে থাকে তাহলে অনেক পুরুষই তা নিয়ে লজ্জিত থাকেন। এতে করে নিজেকে দোষী ভেবে লজ্জা পেতে থাকেন নারীরাও। কিন্তু আপনার যোগ্যতা, আপনার পরিশ্রমের সফলতার জন্য লজ্জা পাওয়ার আসলেই কি কিছু আছে? না। তাই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

সেই হবে সত্যিকারের সঙ্গী

সত্যিকারের ভালোবাসা কে না চায়? চায় মনের মতো সঙ্গী। প্রতিকূলতায় যে সঙ্গী তার জন্য লড়বে, বিপদে থাকবে পাশে। যার হাত ধরে নির্ভয়ে পথ হাঁটা যায়, কল্পনায় সেই আদর্শ সঙ্গীর একটা রূপ মনে ঠিক করে নেয়। কঠিন সময়েও যে হাত কখনো ছুটে যাবে না। যে সঙ্গী কথা শুনবে, দুয়ার খুলে অপেক্ষায় থাকবে। কল্পনার সেই ভবিষ্যতে সঙ্গীর সম্পর্ক কেমন হবে, অনুভূতিসহ সবকিছু মিলিয়ে একটা চিত্র মনে তৈরি হয়। চাওয়া-পাওয়ার, দিকনির্দেশনা ও প্রত্যাশা বাড়ে। কিন্তু কোথায় সেই আদর্শ সঙ্গী?

সঠিক সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় অনেকেই সময় পার করেন। যাওবা সঙ্গী মেলে, অনেক ক্ষেত্রেই মনের মতো করে পাওয়া যায় না। কল্পনার সঙ্গে অনেক ফারাক থাকে। ফলে মেনে নিতে পারেন না। সম্পর্ক ভেঙে যায়। যাঁর অস্তিত্ব নেই, সেই আদর্শ সঙ্গীকে খুঁজতে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঠিক সঙ্গীর মধ্যে নিঃস্বার্থ, যত্নশীল, স্নেহপূর্ণ ও সহজাত গুণাবলি থাকবে—এমন বিষয়টি নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো। কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকতে নাও পারে। ভালোবাসার মানুষটি নিখুঁত হবে—এমন প্রত্যাশা রাখা ঠিক নয়। একেবারে নিখুঁত সঙ্গী পাওয়ার জন্য নিজের ওপর জোর খাটানো ঠিক নয়। কল্পনার চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গীর সবকিছুতেই মিল থাকবে তা নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেকে অপেক্ষা করেন জীবনে এমন মানুষ আসবে, যে তার মূল্যবোধকে প্রতি মুহূর্তে ধরে রাখবে, প্রতিদিন মায়ের কাছে ফোন করে খোঁজখবর নেবে, অনেক সময় দেবে, স্বপ্নের কথা বলবে। কিন্তু সব গুণ কি সবার থাকে?

তাই সত্যিকারের সঙ্গী, মানে নিখুঁত ও তালিকায় থাকা সব মানদণ্ড পূরণ করার ব্যক্তি নয়। সত্যিকারের সঙ্গী সব সময় পরিপাটি নাও হতে পারে। অগোছালো কিন্তু সুন্দর ভালোবাসার মানুষ হতে পারে। পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে যে মানুষ আঘাত দেবে না, বরং অতীতকে ভুলে যেতে সাহায্য করবে, সে–ই প্রকৃত সঙ্গী। চলচ্চিত্রে চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে শতভাগ নিখুঁত সঙ্গী চাওয়া ঠিক নয়। সত্যিকারের সঙ্গী চলচ্চিত্রের কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মিলবে না। বরং মানানসই বা পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠার চেষ্টা যে করে সে প্রকৃত সঙ্গী হয়ে ওঠে।

প্রকৃত ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে হতাশা, ঝগড়াঝাঁটি, বিতর্ক, আপস, বিরক্তি এবং ভুল বোঝাবুঝি ঘটতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রতিমুহূর্তে স্বার্থহীনভাবে চিন্তা করা দুজনের মধ্যে সম্ভব হয় না। প্রকৃত আদর্শ মানুষ কেউই নয়, এ কথা মেনে নিতে হবে। প্রত্যাশা আর চাওয়া-পাওয়ার কল্পনাতে বাঁধ দিতে পারলেই সুসম্পর্ক থাকবে। পূর্ণাঙ্গ নিখুঁত মানুষ খোঁজার আশা বাদ দিয়ে যে আপনার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করতে পারবে, সেই হবে সত্যিকারের সঙ্গী।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট,প্রথম আলো

যা দেখে বুঝবেন সে বিয়ে করবে না

প্রতিটি সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত মিলন চায়।  ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু দুজনের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্ক ঠিকঠাক থাকলেও অনেক সময় ভবিষ্যতের ভাবনায় কেউ কেউ পিছুটান দিতে শুরু করে। এতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সম্পর্ক টিকবে কি না, দুজনের একসঙ্গে ঘর বাঁধা হবে কি না, সঙ্গীর হাবভাবে বুঝে নিতে পারেন। কিছু আচরণ দেখেই বুঝে নিতে পারেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। জেনে নিন কয়েকটি আচরণ সম্পর্কে:

প্রয়োজনে পাবেন না: যখন আপনার সবচেয়ে জরুরি দরকার, তখন পাশে পাবেন না। আপনার ভালো বন্ধু হতে পারে, আপনাদের মধ্যে রসায়নটা ভালো হতে পারে, কিন্তু যখন মানসিক সমর্থন দরকার হয়, তখন সবচেয়ে দূরে চলে যায়—এমন ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী করা বিপদ।

ভবিষ্যতের আলাপে অনীহা: আপনার সঙ্গী কি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনাগ্রহী? যখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, সে এড়িয়ে যায় বা অন্য প্রসঙ্গ তোলে? এ রকম হলে সতর্ক হতে পারেন। কারণ, আপনার সঙ্গীর মনে হয়তো অন্য কিছু। বুঝে নিতে পারেন সে হয়তো ঘর বাঁধতে আগ্রহী না!

পরিবারের কথা লুকাবে: পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললে বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার কথা বললে যদি দেখেন আপনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বা ঝামেলা করছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিক কি না ভেবে দেখতে পারেন।

দায়িত্ব গ্রহণে অজুহাত: অনেক দিন দেখা-সাক্ষাতের পরও বিয়ের কথা তুললে অনেকেই বলে, বিষয়টি অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে বা আমার এখনো দায়িত্ব নেওয়ার সময় আসেনি। এমন অজুহাত দেখালে তার দায়িত্ব গ্রহণের ইচ্ছা সম্পর্কে সন্দেহ জাগতে পারে।

বিয়েবিরোধী: বিয়ের কথা বললেই যদি সঙ্গীর অস্বস্তি শুরু হয় আর তার তালিকায় যদি বিয়ে সবার শেষ থাকে বা বিয়ে নিয়ে তার ধারণা নেতিবাচক হয়, তবে অবশ্যই বিষয়টি চিন্তার। এ রকম ধারণার মানুষের সঙ্গে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নাও হতে পারে।

আপনার ভাবনায় অনাগ্রহী: সে কী চায় বা তার আগ্রহ নিয়ে আপনার অনেক কিছু ভাবনা হয়তো আছে, একই রকম ভাবনা তার আছে কি না খেয়াল করেছেন? আপনাকে নিয়ে তার যদি খুব বেশি আগ্রহ না থাকে, তবে সম্পর্ক নিয়ে দুবার চিন্তা করুন।

দিন শেষে একাকী: দুজন কোথায় খেতে বা বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও সঙ্গী যদি কৌশলে এড়িয়ে যায় বা আপনাকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী না থাকে, তবে সম্পর্ক কত দূর যাবে, সেটি ভাবার বিষয়।

কখনো প্রশংসা না করা: সঙ্গীর জন্য যতই করুন, যদি তার কাছ থেকে প্রশংসা না শোনেন বা আপনাকে নিয়ে তার আগ্রহের কথা না বলে, তবে নিশ্চয়ই তার মনে অন্য কিছু আছে।

মহড়া দেওয়া: সম্পর্কের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যদি আপনার সঙ্গী মহড়া দেওয়ার কথা বলে বা আগে পরীক্ষা করে পরে সম্পর্ক স্থায়ী করার কথা বলে, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কারণ, বিয়ে কোনো মহড়া বা পরীক্ষার বিষয় নয়।

সুসময়ের বন্ধু: যদি আপনার সুখের সময় শুধু তাকে পান আর দুঃখের সময় না পান, তবে সে আপনার জন্য বিশেষ হতে পারে না। যার সঙ্গে দুঃখ-সুখ ভাগাভাগি করে নিতে পারবেন, তার সঙ্গেই কেবল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারেন।  তথ্যসূত্র: টিএনএন, প্রথম আলো 

বিবাহবিডির ৮২% ইউজারই সার্ভিসটি অন্যকে রেফারেন্স করেন

বাংলাদেশের অনলাইন মেট্রিমনি জগতের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান বিবাহবিডি ডট কম দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী বাঙ্গালী কমিউনিটির মাঝে মেট্রিমনি সেবা প্রদান করে আসছে।  গত ৯ বছরে আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি আমাদের সার্ভিসটিকে আরো সফল ও কার্যকরী করে তোলার যা কিনা এখনো চলমান।   বিবাহবিডি ডট কম সবসমই সার্ভিসের মান ও কার্যকরীতায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।  সে উদ্দেশ্যে গত অক্টোবর ২০১৭ মাসে আমরা আমাদের মেম্বারশীপ কিনেছেন এমন ইউজার মাঝে একটি জরীপ চালনা করি।

জরীপে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ইউজারদের মাঝে মাত্র ৯% বিবাহবিডি ডট কমের সার্ভিসে সন্তুষ্ট নন, ২৮% ইউজার খুবই সন্তুষ্ট এবং ৬৩% ইউজার সন্তুষ্ট।  এবং  ৮২% ইউজার বলেছেন তারা আমাদের সার্ভিসটি অন্যকে রেফারেন্স করবেন।  এই জরিপে প্রাপ্ত ৯% ইউজার যারা আমাদের সেবায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি তাদের বেশীর ভাগই সঠিক ভাবে বিবাহবিডির ফিচার গুলো ব্যবহার করতে পারেননি বলে মনে করেন বিবাহবিডি ম্যানেজমেন্ট, যেহেতু বিবাহবিডি একটি সেলফ সার্ভিস তাই অসন্তুষ্ট ইউজারদের  পুনরায় একই সার্ভিস ফ্রী প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ।  

বিবাহবিডি ডট কম বিশ্বাস করে আমাদের জন্য গ্রাহকের মতামতই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাথেয়।  আমাদের ৯১% গ্রাহকদের সন্তুষ্টি আমাদের জন্য সন্দেহাতীত ভাবে অনেক বড় অর্জন।  তবুও জরীপের মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছিলাম আমাদের সার্ভিসে গ্রাহকদের কোন অভিযোগ কিংবা পরামর্শ আছে কিনা।  সার্ভিসের উন্নয়ন ও আন্তরিক সেবা প্রদানে আমরা সবসময়ই সচেষ্ট এবং আমরা যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনা মুক্তমনে গ্রহন করি।  গ্রাহকদের থেকে প্রাপ্ত  মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতেই আমরা আমাদের সেবাটি আরো গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকরী করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও চালাবো।

শারমিন সুলতানা
টিম লিডার , বিবাহবিডি ইউজার সার্ভিস

Double Duration Offer

বিবাহবিডি ডট কম তার সকল একটিভ ইউজারদের জন্য নিয়ে এলো দারুণ এক অফার।
বিবাহবিডি ডট কম এর মেম্বারগন যারা এখনো প্রোফাইলে জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যানড কপি (উভয় পাশের), অথবা পাসপোর্টের স্ক্যানড কপি, অথবা বর্তমান চাকুরীর প্রমাণপত্র অথবা ডিভোর্সড ইউজাররা ডিভোর্স পেপারের স্ক্যানড কপি, এখনো সংযুক্ত করেননি তারা এই নভেম্বর ২০১৭ মাসের মধ্যেই উপরোক্ত ডকুমেন্ট গুলোর যে কোন একটির স্ক্যান কপি (সাদা কালো গ্রহন যোগ্য নয়) [email protected] এ ইমেইল করলেই পাবেন চলতি মেম্বারশীপের সমপরিমান বাড়তি মেয়াদ, একদম ফ্রি।

আমাদের প্যাকেজ সমুহ –
 অনিক্স – মেয়াদ ৪৫ দিন
 রুবি – মেয়াদ ৯০ দিন
 পার্ল – মেয়াদ ১৮০ দিন
 ডায়ামন্ড – মেয়াদ ৩৬০ দিন

এই অসাধারন অফারটি লুফে নিতে অথবা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখনি কল করুন 8801922115555, 8801944115555

অফার কোডঃ #Double_Duration_Offer_2017

শর্তবলীঃ
# যাদের মেম্বারশীপ + NID / PASSPORT / DIVORCE PAPER/ others Doc আপডেট করা আছে তাদের জন্য অফারটি প্রযোজ্য নয়।
# যারা ফ্রী মেম্বারশীপে আছেন তারা NID / PASSPORT / DIVORCE PAPER/ others Doc সহ মেম্বারশীপ আপগ্রেড করে ডাবল ডিউরেশন অফারটি নিতে পারবেন।

ভালোবাসার জৈবিক ভিত্তি

সেক্সের জৈবিক মডেলকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর একটি ড্রাইভ হিসাবে মনে করা হয় যা অত্যধিক ক্ষুধা বা তৃষ্ণার মতো। হেলেন ফিশার প্রেম বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। প্রেমের অভিজ্ঞতাকে তিনি তিনটি আংশিক ওভারল্যাপিং পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন: উদাহরণস্বরূপ, লালসা, আকর্ষণ, এবং সংযুক্তি। কামনা হল যৌন বাসনা পূরণ করার জন্য এক ধরনের অনুভূতি।  রোমান্টিক আকর্ষণ মূলত নির্ধারণ করে কোন ব্যক্তির সঙ্গী কতটা আকর্ষণীয় তার উপর । তাছাড়া আরও কিছু বিষয় আছে, যেমন, একি সাথে একটি বাড়িতে অবস্থান করা, পিতামাতার প্রতি কর্তব্য, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুভূতিগুলিও জড়িত থাকে। এই তিনটি রোমান্টিক শৈলীগুলির সাথে নিউরাল সার্কিটগুলি, নিউরোট্রান্সমিটার এবং তিনটি আচরণগত নিদর্শন সংযুক্ত সব সময় কার্যকর ভূমিকা পালন করে ।

কামনা হল যৌন বাসনার প্রাথমিক ধাপ যা টেসটোসটাইন এবং এস্ট্রোজেনের মতো রাসায়নিক পদার্থ বর্ধিত ত্যাগ করে। এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।  আকর্ষণ আরও individualized এবং রোমান্টিক হয় একটি নির্দিষ্ট সঙ্গীর জন্য, যার মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র লালসা বিকশিত হয়।  স্নায়ুবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষ মূলত প্রেমে পড়ে যখন তার মস্তিষ্ক নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সেটের রাসায়নিক পদার্থ ত্যাগ করে। উদাহরণস্বরূপ, নিউরোট্রান্সমিটার হরমোন, ডোপামিন, নোরপাইনফ্রাইন, এবং সেরোটোনিন এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে ।  amphetamine একি ধরনের পদার্থ ত্যাগ করে যার ফলে মস্তিষ্কের কেন্দ্রীয় অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে, হার্টের কম্পনের হার বৃদ্ধি পায় , ক্ষুধা এবং ঘুম হ্রাস পায়, এবং উত্তেজনা বেড়ে যায় । গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পর্যায় সাধারণত দেড় থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

যেহেতু কামনা এবং আকর্ষণ এর পর্যায়গুলিকে অস্থায়ী বলে মনে করা হয়, তাই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য একটি তৃতীয় পর্যায় প্রয়োজন। সংযুক্তি হল এক ধরনের বন্ধন যার কারণে সম্পর্ক অনেক বছর এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সংযুক্তি সাধারণভাবে বিবাহ বা শিশু জন্মদান করার মত অঙ্গীকারগুলির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাছাড়া পারস্পরিক বন্ধুত্ব বা পছন্দের বিষয়গুলি ভাগ করে নেয়ার কারণেও সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে স্বল্পমেয়াদী সম্পর্কের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্র বেশি পরিমাণে রাসায়নিক অক্সিটোসিন এবং ভাসপ্রেসিন নির্গত হয়। এনজো ইমানুয়েল এবং তার সহকর্মীরা রিপোর্ট করেন যে প্রোস্টেট অণুটি স্নায়ু বৃদ্ধিকারক ফ্যাক্টর (এনজিএফ) নামে পরিচিত, যখন লোকেরা প্রথম প্রেমে পড়ে তখন তার মাত্রা অনেক বেশি থাকে, কিন্তু এক বছর পর তারা আবার পূর্ববর্তী স্তরে ফিরে আসে।  – সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

সম্পর্কে জড়ানোর আগে

ভালো লাগা থেকে সম্পর্কে জড়ানোর আগে এর গুরুত্বটা বুঝতে হবে। তা না হলে শুরুতে যে আকর্ষণবোধ থাকে, পরে তা তেতো হয়ে ওঠে। সম্পর্ক গড়লে তার পরিণতি কী হবে, সেটি ভেবে সম্পর্কে জড়ানো উচিত।  এ ছাড়া সম্পর্কে জড়ানোর আগে আরও কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত।  জেনে নিন বিষয়গুলো:

প্রত্যাশা: সম্পর্কে প্রত্যাশার বিষয়টি আগে মিটমাট করে নিন। সঙ্গীর আবেগের সঙ্গে আপনার আবেগ কতটুকু যায়, সেটা আগে বুঝতে হবে। প্রয়োজনে সম্পর্কের ধরন ও প্রত্যাশাগুলোর বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করে নিন। এতে পরে সম্পর্কে ঝুট-ঝামেলা কম হবে, দুজনের বোঝাপড়া শক্ত হবে।

ত্যাগ: সম্পর্কের ক্ষেত্রে কে কতটুকু ছাড় দেবেন, সম্পর্কে জড়ানোর আগে তা নির্ধারণ করে নিতে পারলে ভালো। দুজনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। সম্পর্কে জড়ানোর আগে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য সবকিছু ভেবে তারপর সম্পর্কে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

পরিচয়: সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজের পরিচয়ের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন। মনে রাখবেন, কোনো কিছু সমন্বয় করা মানে আপস করা নয়। নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিতে হয়—এমন সম্পর্কে জড়ানোর আগে সতর্ক থাকুন।

অতীত: নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে অবশ্যই পুরোনো সম্পর্কের সবকিছু ছেড়ে দিতে হবে। এতে নতুন সম্পর্কে ঝড় ওঠার আশঙ্কা কম। এ ছাড়া সঙ্গীর সঙ্গে অতীত নিয়ে প্রতারণা করা ঠিক নয়। পুরোনো সম্পর্কের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র থাকলে তা নতুন সঙ্গীকে আগে খোলাসা করে বলা উচিত।

সময়: সুখী সম্পর্ক গড়তে সঙ্গীর সঙ্গে ভালো সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ। হাতে যখন সঙ্গীকে দেওয়ার মতো যথেষ্ট সময় থাকবে, তখনই কেবল সম্পর্কের কথা ভাববেন। তা না হলে সঙ্গীকে সময় না দেওয়ার অভিযোগে খুটখাট লেগেই থাকবে। সম্পর্ক বিষিয়ে উঠবে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হাফিংটন পোস্ট, প্রথম আলো

সঙ্গীকে ঠকিয়েছেন, মানাবেন কী করে?

সঙ্গীর কাছে ধরা পড়ে গেছেন।  তিনি টের পেয়েছেন, বিগত কয়েকদিন ধরে আপনি অন্যকোনও পুরুষ/মহিলার সঙ্গে জড়িত। তাঁর অনুমান, আরও অনেক দূর হয়তো গড়িয়েছে বিষয়টি। সবকিছু জানাজানি হওয়ার পর সঙ্গী বাক্যালাপ বন্ধ করেছেন। ঘোষণা করেছেন বিচ্ছেদ। এমন অবস্থায় নিজেকে অপরাধী মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু তার চেয়েও বেশি যে বিষয়টি আপনাকে অহোরাত্র দুঃখ দিয়ে চলেছে, তা হল সঙ্গীর অভিমান, আপনার প্রতি তাঁর ঘৃণা ও বিদ্বেষ। সঙ্গীকে ফের জীবনে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনি এখন মরিয়া।

একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে গিয়ে ভাবুন। ভালো করে খতিয়ে দেখুন, আপনাদের সুখের জীবনে তৃতীয় ব্যক্তি এল কেন? ফাঁক তৈরি হল কেন? দোষত্রূটি কার কতখানি, তার চেয়েও বেশি জানা দরকার আপনি এখন ঠিক কী চাইছেন? এতকাল যে সঙ্গীর অপূর্ণতা পূরণ করতে আপনি অন্য সঙ্গীর সান্নিধ্য খুঁজছিলেন, সেই সাধ আপনার মিটেছে কিনা। যদি মিটে গিয়ে থাকে, কি নিশ্চয়তা আছে, ফের এমন ভুল আপনি করবেন না?

প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালো করে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। ক্ষণিকের জন্য সঙ্গীকে ফিরে পেতে চাইলে, সেটা তাঁর প্রতি অন্যায় করা হবে। নিজের মন শক্ত করুন। সঠিক সিদ্ধান্তে আসুন। সঙ্গীর সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ছাড়াছাড়ি করতে চাইলে, তাঁকে বরাবরের মতো মুক্ত করে দিন। তাঁকে তাঁর মতো বাঁচতে দিন। আপনার সঙ্গে বিচ্ছেদে যদি তিনি সুখ খুঁজে পান, তবে তাই মেনে নিন। নিজের ইচ্ছে তাঁর উপর চাপিয়ে দেবেন না।

আর যদি আপনি সঙ্গীকে আগের মতো ফেরত চান, লোকলজ্জার ভয় নয়, কোনও আর্থিক কারণে নয়, শুধু ভালোবাসার কারণে, তবে কয়েকটি বিষয়ে আপনাকে সচেতন থাকতে হবে।  যেমন-

১) কখনও কান্নাকাটি করবেন না। মনে রাখবেন, সঙ্গী আপনার উপর বিরক্ত। এই সময় চোখের জল ফেললে, সেই অশ্রুকে তিনি মনে করতে পারেন কুমিরের কান্না।  তাই একদম কান্নাকাটি নয়।

২) মতো আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিতে পারেন। তাই তাঁকে নিজেকে সামলানোর সময় দিন।

৩) সোশাল মিডিয়ায় কোনও কিছু পোস্ট করবেন না। নিজের মন খারাপের কথা একেবারেই শেয়ার করবেন না। এইসব দেখলে সঙ্গী হয়তো আরও রেগে যেতে পারেন।

৪) যে ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণে আপনার বিচ্ছেদ, সেই ব্যক্তির সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখবেন না। তাঁকেও খোলাখুলি বলে দিন আপনি কী চাইছেন। এমন পরিস্থিতিতে কাউকেই অন্ধকারে রাখা ঠিক নয়।

৫) মনের দুঃখ সামলাতে অন্য কোনও পুরুষ/নারীর সঙ্গে সাময়িক সম্পর্কে জড়াবেন না। কেননা, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। হতেই পারে দূর থেকে সঙ্গী আপনার উপর নজর রাখছেন। বোঝার চেষ্টা করছেন আপনার গতিবিধি। কার সঙ্গে মিশছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন, সবেরই হয়তো খবর রাখছেন তিনি। ফলত, সাময়িক সম্পর্কে জড়ানোর ঘটনাও তাঁর অজানা নয়। আপনার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে তাঁর। শেষ ভালোলাগা টুকুও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৬) নিজের মনটাকে শান্ত করুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। দরকার হলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ কারোর সঙ্গে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। বা কোনও প্রিয় বন্ধু/বান্ধবীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।  কোনও কমন ফ্রেন্ড থাকলে বিষয়টা তাঁকেও বলতে পারেন। কমন ফ্রেন্ড এই সব ব্যাপারে দেবদূতের ভূমিকা পালন করেন মাঝেমধ্যে। যেহেতু তিনি আপনাকে ও আপনার সঙ্গীকে ভালো করে চেনেন, আপনার সঙ্গীর মনোভাব কী, জানতে সুবিধে হতে পারে।

৭) সঙ্গীও যদি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আপনাকে আরও একটা সুযোগ দিয়ে দেখবেন, তবে সেইদিনটার জন্য অপেক্ষা করুন। দেখা হলে ঘাবড়ে যাবেন না। সাহসী মনোভাব প্রকাশ করুন।  যে ভুল আপনি করেছেন, সেটা নিজে মুখে স্বীকার করুন। সরি বলুন। বলুন, আপনার ভুল হয়েছে, ভবিষ্যতে এরকম ভুল আর কোনওদিনও হবে না। দেখবেন, সঙ্গীরও আপনার উপর সব অভিমান মুছে গেছে।