সরকারী ঘটক!

একটি ভবনে অপেক্ষমাণ নারীদের জটলা। সবাই অধীর আগ্রহে ক্ষণ গুনছেন, কখন পড়বে ডাক। তাঁদের জড়ো হওয়ার কারণ একটাই—নতুন জীবনে প্রবেশ অর্থাত্ বিয়ে করা। এখানে অপেক্ষমাণ নারীরা বিধবা ও স্বামীপরিত্যক্ত। তাঁদের জন্য নতুন জীবনের এ কর্মসূচি চালু করেছে নাইজেরিয়ার কানু অঞ্চলের শরিয়া পুলিশ। স্থানীয় ভাষায় ‘হিসবা’ হিসেবে পরিচিত এ পুলিশ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে অনেকটা ঘটকের। এসব নারীর যোগ্য পুরুষের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানোই তাদের প্রধান কাজ। পুলিশের উদ্যোগে বিয়ে পড়ানোর খবরটি জানিয়েছে ডন নিউজ। পুলিশের কর্মকর্তারা আশা করছেন, তাঁদের এমন উদ্যোগের ফলে বিয়ের মাধ্যমে শান্তি এবং বিয়ের পরে তাঁদের মধ্যে ভালোবাসা আসবে। কর্মকর্তাদের আশা, অস্থিরতাপূর্ণ এই এলাকায় শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানাতে এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তাঁদের দাবি, পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হলেও বিভিন্ন নারী স্বেচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন তাঁদের কর্মসূচিতে।

 ‘হিসবা’ তথা ঘটক পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নবহানি ওসমান বলেন, কানুর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মা-বাবার যথাযথ পরিচর্যা ছাড়া শিশুরা সহিংসতা ও চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে। তিনি আরও বলেন, সত্ বাবার মাধ্যমে হলেও ওই শিশুরা একধরনের আশ্রয় খুঁজে পাবে। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে কি না, তা বোঝা না গেলেও বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। জানা যায়, সাহারা মরুভূমির নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে আয়োজিত বিবাহ একটি সাধারণ বিষয়। তবে পুলিশের পরিচালনায় এ ধরনের উদ্যোগ একেবারেই নতুন।

 জানা গেছে, পুলিশের উদ্যোগকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো। সঙ্গী খুঁজতে চাওয়া নারীদের জন্য বিনামূল্যে এইচআইভি ভাইরাস পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছে ভয়েস অব উইডোস, ডিভোর্সেস অ্যান্ড অরফ্যানস অব নাইজেরিয়া (ভাওয়ান) নামের এমনই সংস্থাগুলো। বিয়ে করতে ইচ্ছুকদের এ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরুষকে নারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাব দেওয়া হয়, বিয়ে করতে ইচ্ছুকদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে। কারণ এলাকায় দেনমোহরের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক পুরুষই বিয়ে করতে সাহস পান না।

Leave a Reply