বিয়ের পর প্রেম

দাম্পত্য প্রেম শুধু সিনেমার পর্দায় বা রোমান্টিক নভেলেই থাকে না। এর কারিগর কিন্তু আপনি এবং অবশ্যই আপনার বেটার হাফ। শিরোনামে ত্রিকোণ সম্পকের্র গন্ধ থাকলেও, এখানে মূল চরিত্র কিন্তু স্বামী-স্ত্রী। বলছি দাম্পত্য প্রেমের কথা। চোখে কপালে তোলার কিছু নেই!  দাম্পত্য প্রেম শুধু সিনেমার পর্দায় বা রোমান্টিক নভেলেই থাকে না। এর কারিগর কিন্তু আপনি এবং অবশ্যই আপনার বেটার হাফ।

বিয়ের পর প্রেম থাকে না, সেটা মানতে পারছি না। হাজার আলোর রোশনাই নিয়ে যে সম্পর্কের শুরু তা কি স্রেফ ক’বছরেই দীর্ঘশ্বাস ফেলতে পারে। উত্তরটা না।  আসলে সময়ের পলি পড়ে এই সম্পর্ক একঘেয়ে হয়ে ওঠে। 

প্রাত্যহিকতার রুটিন জীবনে দাম্পত্য সম্পর্কও অভ্যাসে পরিণত হয়। কিন্তু আপনি চাইলেই ফিরিয়ে আনতে পারেন সেই পুরনো স্পার্ক, জিইয়ে রাখতে পারেন ভাললাগার ছোট ছোট মুহূর্ত।

মনে করুন তো, শেষ কবে স্বামীকে আই লভ ইউ বলেছিলেন, শেষ কবে হাতের উপর হাত রেখে প্রেমের কবিতা পড়েছিলেন। ভাবতে হচ্ছে তো? অথচ এই স্বামী যখন আপনার প্রেমিক ছিলেন, তখন তাকে ইমপ্রেস করার জন্য কত কিছুই না করতেন।

আমরা ভাবি শুধুমাত্র সম্পর্কের গোড়ায়, আলাপের প্রথম পর্যায় ফ্লার্টিং করা যায় আর বিয়ে মানেই ফুলস্টপ বা দাঁড়ি, তা হলে দাম্পত্যের শ্বাসরোধ হতে বেশিক্ষণ লাগবে না। বিয়ে তো আ শুধুমাত্র একটা ইনস্টিটিউশন নয়, জীবনের নতুন অধ্যায়। এখান থেকেই একটা নতুন সম্পর্কের সূত্রপাত। আর এই সম্পর্কের ওম বজায় রাখাটা ক্রিয়েটিভ প্রসেস। তাই বিয়ের পরও মনটাকে সবুজ রাখুন। 

এই যেমন একে অপরের জন্য সময় বার করুন। যে ফ্রি টাইম পাচ্ছেন চা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা না দিয়ে আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড থুড়ি আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কাটান। ভেবে দেখুন না এরকম কতবার হয়েছে যে ক্লান্ত বলে কিংবা বাড়ির অন্য কাজে সময় দিতে গিয়ে সঙ্গীর প্রয়োজনগুলোই ভুলতে বসেছেন। এই ‘টেকেন ফর গ্র্যান্টেড’অ্যাটিটিউডটা কিন্তু চরম বিপদের সংকেত।

তাই যাই হয়ে যাক না কেন, একে অপরের জন্যে সময় বার করতেই হবে।  স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাবার জন্যে কিন্তু কোনও উপলক্ষের প্রয়োজন হয় না। বিয়ে হয়ে গেছে বলেই যে ডেটিং বন্ধ করে দেবেন, এরকম চিন্তা ঘুণাক্ষরেও মনে আনবেন না। প্রতি মাসে অন্তত একটা-দুটো নাইট আউট বা লং ড্রাইভে তো যাওয়াই যায়।

একে অপরকে সারপ্রাইজ় উপহার দেওয়াটাও কিন্তু রোমান্স জিইয়ে রাখার অব্যর্থ ওষুধ। সব সময় উপলক্ষ লাগে নাকি। হঠাৎ পাওয়া পছন্দের জিনিসের চার্ম একেবারেই আলাদা। আর এসএমএস প্রেম? খুব কঠিন কিছু নয় নিশ্চয়। বিয়ে হয়ে গেছে বলেই কি একে অপরকে প্রেম নিবেদন করা যাবে না? এই সব ধারণা কিন্তু একেবারেই অচল। কাজের ফাঁকে ফোন না হোক, নিদেনপক্ষে এসএমএস তো করাই যেতে পারে। তবে কেজো কথা নয়। রেসি টেক্সট মেসেজ তো আধুনিক যুগের ফোরপ্লে।

বোর্ডরুমে বসে হোক বা মার্কেটে কেনাকাটার সময় দু’একটা ‘ইনভাইটিং বা নটি’ এসএমএস দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমিকে নিমেষে দূর করে দিতে পারে। দেখবেন দাম্পত্য জীবনের সমীকরণটাই বদলে গেছে। আর বলব ওপেন কমিউনিকেশনের কথা।  মনে পড়ে বিয়ের পর পর একে অপরকে কত কিছু বলার থাকত? আর এখন আলোচনা মানেই কেজো সাংসারিক কথা।

প্রয়োজনীয় কথাবার্তা থাকবেই। তাই বলে সারক্ষণ কমপ্লেনের ভাঙা রেকর্ড বাজানোটা নিশ্চয় জরুরি নয়। তার চেয়ে পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করুন না।  হতে পারে আজ আপনার অফিসে কোনও মজার ঘটনা ঘটেছে বা সামান্য একটা জোক শুনেছেন বা আগামী কোনও অনুষ্ঠানের প্ল্যান করতে চাইছেন, কথা বলার বিষয়ের সত্যিই অভাব নেই।