লজ্জা সরিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা বলা দরকার

নারীরা পুরুষের তুলনায় একটু বেশিই আবেগী থাকেন এটি নতুন কিছু নয়। অনেক সময়েই নারীরা নিজেদের উপরে দোষ চাপিয়ে নিয়ে নিজেকে দোষী ভেবে অপরাধী ভাবেন, লজ্জিত হন, যেখানে সত্যিকার অর্থেই তার কোনো ভুল ছিল না এবং ভুল হয় নি। তারপরও নারীসুলভ আচরণে কিছু কাজ করে অনেক বেশি লজ্জিত থাকেন নারীরা যা একেবারেই উচিত নয়। সুতরাং, নারীদেরকে বলছি, এইধরনের কাজ করে লজ্জিত হয়ে নিজেকে ছোটো করা বা গুটিয়ে রাখার কোনোই অর্থ নেই।

১. সঙ্গীর উপহার পছন্দ না হলে তা সরাসরি বলে দেয়া
আপনার পছন্দ অপছন্দ থাকতেই পারে, তাই যদি সঙ্গীর দেয়া উপহার পছন্দ না হয়ে থাকে তাহলে সরাসরি বলে দিলে আসলেই কোনো ক্ষতি নেই। বরং এতে সঙ্গী পরবর্তী সময়ে আপনার পছন্দের ব্যাপারটি মাথায় রাখতে পারবেন।

২. নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেয়া
নিজের সংসার, শত কাজ কর্ম, পরিবার সব কিছু নিয়ে যদি একেবারে হাঁপিয়ে ওঠেন তাহলে নিজের জন্য সময় বের করে নিন। নিজে একাকী একটু সময় কাটালে পরিবারের প্রতি আগের মতোই কর্তব্য পালনে উৎসাহী হবেন। যদি একটানা একইভাবে শুধু পরিবারকে সময় দিয়ে যান তাহলে কিন্তু একসময় বিরক্তি এসে যেতে পারে। তাই নিজের জন্য একটু সময় বের করে নেয়ার ব্যাপারে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

৩. নিজের বাবা-মাকে শ্বশুর-শাশুড়ির চাইতেও বেশি ভালবাসলে
এটি প্রাকৃতিকভাবেই নির্ধারিত। যদি আপনার মনে হয়ে আপনি নিজের বাবা-মাকেই বেশি ভালোবাসেন এবং তা নিয়ে লজ্জিত হন যে শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশি অনেক বেশি প্রাধান্য দিতে পারছেন না, তার সত্যিই কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার যা কর্তব্য তাই পালন করে যান, আপনার মন আপনার নিজের বাবা-মাকেই বেশি ভালোবেসে যাবে, ঠিক যেমনটি আপনার সঙ্গী তার বাবা-মাকে বাসেন। লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

৪. নিজের বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কিছু গোপন ব্যাপার থাকলে
একজন মানুষের সাথে পুরো জীবন কাটিয়ে দেবেন তার মানে এই নয় যে আপনার একান্ত আপন বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কোনো গোপন কিছুই থাকতে পারবে না। হ্যাঁ, এটি সত্যি যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো গোপনীয়তা না থাকাই ভালো, কিন্তু নিজের বন্ধুবান্ধবের সব গোপন তথ্য তো নিশ্চয়ই জানিয়ে দেয়া উচিত নয়। সুতরাং এইসকল ব্যাপার গোপন থাকলে নিজেকে দোষী ভাবার বা লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।

৫. সঙ্গীর কিছু ব্যাপার শুধরে নিতে বলা
বিয়ে বা সম্পর্ক তখনই মজবুত হয় যখন দুপক্ষ থেকে কম্প্রোমাইজের ব্যাপারটি আসে। সুতরাং আপনি যদি নিজে ঠিক থেকে সঙ্গীর কিছু ব্যাপার শুধরে নিতে বলেন এতে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কিছু নেই এবং আপ্নারফ লজ্জা পাওয়ারও কিছু নেই।

৬. সঙ্গীর চাইতেও উঁচু পজিশনে নিজের ক্যারিয়ার থাকা
এই ব্যাপারটি নারীদের চাইতেই বেশি ভাবিয়ে তোলে পুরুষকে। যদি নিজের সঙ্গিনী তার থেকে উপরের পজিশনে থাকে তাহলে অনেক পুরুষই তা নিয়ে লজ্জিত থাকেন। এতে করে নিজেকে দোষী ভেবে লজ্জা পেতে থাকেন নারীরাও। কিন্তু আপনার যোগ্যতা, আপনার পরিশ্রমের সফলতার জন্য লজ্জা পাওয়ার আসলেই কি কিছু আছে? না। তাই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।