আপনার সঙ্গী কি আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে?

আপনার সঙ্গী কি আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছেন? বিষয়টা বুঝলেও তা পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে না আপনার কাছে? অথচ কোন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সঙ্গীর প্রতিনিয়তই স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে যাচ্ছে।  তাই দিনের শেষে সঙ্গীকে দোষারোপ করায় মন খারাপ হচ্ছে আপনারই।

এমন পরিস্থিতিতে ভালবাসা, পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ একটু একটু করে কমতে শুরু করে ঠিকই। তাই মন ভাঙার আগেই জেনে রাখুন কীভাবে বুঝবেন আপনি প্রতারিত হচ্ছেন।

১. অন্য কোন নারীর সঙ্গে আপনার সঙ্গী যদি বেশিরভাগ সময়ই ফোনে কিংবা চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার আপনার নিশ্চয়ই আছে। হাতে-নাতে ধরা পড়লে সাধারণত পুরুষরা বলে দেন ওই মহিলারই তাঁর প্রতি আকর্ষণ আছে। সে-ই সামনে থেকে এগিয়ে এসে কথাবার্তা বলে চলেছে। আর সামান্য বন্ধু ভেবে ভদ্রতার খাতিরেই তিনি কথা বলছেন। এমনটা হলে আপনার মনে সন্দেহ না হওয়ার কোনও কারণ নেই। পার্টনারের সেই মহিলার প্রতি সামান্য দুর্বলতা না থাকলে তিনি কখনওই গার্লফ্রেন্ড থাকতে বেশিরভাগ সময়টা মহিলাকে দিতেন না।

২. আপনি নিজের কাজে ব্যস্ত। আর সেই ফাঁকে নতুন বান্ধবীর সঙ্গে সিনেমা দেখা অথবা শপিং সারছেন আপনারই বয়ফ্রেন্ড। এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে উল্টো কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে আপনাকেই! বলা হচ্ছে, তাঁর অবসর সময়টা তিনি আপনার সঙ্গেই কাটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আপনি ব্যস্ত থাকাতেই তা আর হয়নি। তাই অগত্যা নতুন বান্ধবীর সঙ্গেই জুটি বাঁধতে হল। পার্টনারের থেকে এমন উত্তর পেলে একটু নজর রাখুন।

৩. ‘এতো পজেসিভ হওয়ার কিছু হয়নি। তুমি একটু বেশিই ভাবছ।’ বয়ফ্রেন্ড এবং গার্লফ্রেন্ড, উভয়ই এই অজুহাত আমরা প্রায় শুনে থাকি। নতুন বন্ধু বা বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরাঘুরি-খেতে যাওয়া, গল্প করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সাফাই দেওয়া শুরু হয়। আর তারপর অতিরিক্ত সন্দেহ করার জন্য দোষ গিয়ে পড়ে পার্টনারের ঘাড়েই। অনেক গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড একটু সন্দেহের উদ্রেক হয় ঠিকই, তবে যদি সম্পর্কে তৃতীয় কোনও মানুষের গন্ধ পান, সেক্ষেত্রে সতর্ক থাকাটাই শ্রেয়।

৪. শুধু ফোনে কথা বলা বা চ্যাটিং পর্যন্তই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকে না। নতুন বান্ধবীর সঙ্গে মাঝে-মধ্যেই গোপনে দেখা-সাক্ষাৎও চালু রাখতে পারে আপনার সঙ্গী।  আপনি জিজ্ঞেস করলে অজুহাত দেন, বন্ধুর সঙ্গে কফি খেতে গিয়েছিলেন। তখনই বুঝবেন অ্যালার্ম বেজে গিয়েছে।  এবার চোখ খোলার পালা।

৫. ইদানীং সঙ্গীর মধ্যে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন? তাঁর কথা বার্তা, হাব-ভাব, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে, অমনোযোগিতা চোখে পড়ার মতো কোনও পরিবর্তন? কিংবা আপনার সঙ্গে একটু গা-ছাড়া ব্যবহার করছেন! তার মানে আপনাদের জীবনে হয়তো তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

মনে রাখবেন, যে সঙ্গী অন্যকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে মিথ্যে অজুহাত দিতে পারেন, তিনি কিন্তু নতুন জনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়তে পারেন আপনার অজান্তেই।  আর প্রশ্ন করলে উল্টো আপনার উপরই চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে বলবেন, ‘ও আমার বান্ধবী।  আমরা শারীরিক সম্পর্ক করিনি।  টেনশন করো না।’

এই সমস্যা গুলো নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। জল এতখানি গড়িয়ে যাওয়ার আগেই নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবতে শুরু করে দিন।  সুত্র – ডেইলি বাংলাদেশ