fbpx

দাম্পত্য কলহ সামলাবেন কিভাবে?

দাম্পত্য কলহে যদি স্বামী-স্ত্রী নিজেরে মধ্যে বনিমনা না হয় তবে পারিবারিকভাবে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে হবে। এছাড়া ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বা কাছের মানুষের সহযোগিতা নিতে হবে।কারণ দাম্পত্য কলহ থেকে হতে পারে মানসিক রোগ। 

বিয়ে হচ্ছে একজন নর ও নারীর মধ্যে স্বর্গের সম্পর্কের বন্ধন। তবে এখানে যখন বিষাদের ছাড়া নেমে আসে তখন আসে দাম্পত্য কলহ। 

দাম্পত্য কলহের কারণ

১. দু’জন মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু একসঙ্গে থাকতে হলে, মতপার্থক্য দূর করে আনতে হবে। এতে দু’জনকেই ছাড় দিতে হবে। 

২. স্বামী  অনেক সময় দেখা যায় স্ত্রীকে ডমিনেট করে। উচ্চশিক্ষিত স্বাবলম্বী অনেক মেয়ে তা মেনে নিতে পারছে না। এতে দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. বিয়ের আগে অতিরিক্ত আবেগ কাজ করে। অনেকেই ভেবে চিন্তে জীবনসঙ্গী বাছাই করতে পারে না। পরবর্তীতে আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার বিশাল পার্থক্য, মানসিক চাপে, দ্বন্দ্বের কারণ হয়।

৪. দীর্ঘদিন ধরে যৌন জীবনে অতৃপ্ত থাকলে, সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি ঘটে। বিশেষ করে স্ত্রীরা তা প্রকাশ করতে পারে না।

৫. অনেক স্বামী-স্ত্রী তাদের মনের সুখ দুঃখগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করতে পারে না। শেয়ারিং না থাকলে সম্পর্কের অবনতি ঘটবে, সমাধান বের হবে না।

৬. বর্তমানে অনেকেই দাম্পত্য বা বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে। যা ভয়াবহতম দাম্পত্য দহনের কারণ। 

৭. দাম্পত্য দহনে লিপ্ত দায়ী স্বামী বা স্ত্রী যে কোনো একজন বা দু’জনই মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকতে পারে। আপনার জীবনসঙ্গীর অস্বাভাবিক আচরণের কারণ হতে পারে মানসিক রোগ।

৮. যারা নেশা করে, তারা তাদের পার্টনারকে অমূলক সন্দেহ করে, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করে। শুরুতে বন্ধু পরে পরিণত হয় অবৈধ প্রেমে।

কীভাবে দাম্পত্য কলহ দূর করবেন

মতামতের পার্থক্য কমিয়ে আনা, দায়িত্ব পালন, পরনারী বা পরপুরুষে সম্পর্কে না জড়ানো, শারীরিক মানসিক নির্যাতন না করা, পার্টনারকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া। প্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে Couple Therapy নিতে হবে। দু’জনকেই Co-Operative হতে হবে। 

ভালোবাসাহীন দাম্পত্য জীবনের চেয়ে একা থাকা ভালো। সম্পর্ককে বাগানের মতো পরিচর্চা করতে হবে। যেসব মানসিক রোগ হতে পারে- বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা, ফোবিয়া, হিস্টিরিয়া, আত্মহত্যার প্রবণতা ইত্যাদি।

ডা. মো. হারুনুর রশীদ 
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সম্পর্কের সুখ দুখ

জানালার শিক ধরে আকাশ পানে চেয়ে আছে তামান্না। পড়ন্ত বিকেলে মেঘেরা বাহারী রঙ গায়ে মাখিয়ে ছোটাছুটি করছে। অপরূপ সে দৃশ্য। কিন্তু সেদিকে তাকিয়ে থেকেও তা দেখছে না তামান্না। কিংবা বলা চলে দেখতে পারছে না। পারবে কিভাবে, তার মন তো তার নিজের মাঝে নেই। উদাস মন মহাশূন্য ভেদ করে ছুটে যাচ্ছে, খুঁজে বেড়াচ্ছে তার হারানো ঠিকানা। কিন্তু পাচ্ছে না। এ জন্য তামান্নার কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ কষ্ট। বুকের মাঝে কষ্ট যেন কামড়ে ধরছে। বার বার ঘুরে ফিরে একটি মুখ ভেসে আসছে হৃদয়পটে। আর সঙ্গে সঙ্গে ফাকা হয়ে যাচ্ছে বুক, ফিরে আসছে কষ্টগুলো। দীর্ঘ পাঁচ বছরের ভালবাসার মানুষের সঙ্গে ব্রেকআপ হয়ে গেছে। কিন্তু বার বার ফিরে আসছে কাটানো মধুময় সে সময়গুলো আর সেই সঙ্গে ভালবাসা হারানোর কষ্ট। কোন কিছুতেই মন দিতে পারছে না সে। অথচ আর কিছুদিন পরেই তার পরীক্ষা। এখন কি করবে তামান্না? এরকম পরিস্থিতি তামান্নার মতো হাজারো তরুণ-তরুণীর। হৃদয় ভাঙ্গা কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিশ্বখ্যাত সংবেশনবিদ (হিপনটিসট) পল ম্যাককেনা এবং মনোচিকিৎসক ড. হগ উইলবর্ন কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেই আলোকেই কিভাবে ভগ্ন হৃদয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা তুলে ধরা হলো।

কষ্টকে মেনে নিন

যাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছেন, তার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে কষ্ট লাগাই স্বাভাবিক। কষ্ট না লাগলে বরং বলতে হবে আপনার ভালবাসায় খাদ আছে। তাই কষ্ট লাগবেই, এমনটা ভাবা শুরু করুন, দেখবেন কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে। মনে রাখবেন মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ মিলেই। ভালবাসার রঙিন সময়টাতে সুখের ভেলায় চড়ে কল্পজগতে পাড়ি দিয়েছেন মহাসমুদ্র, বুনেছেন কতসহস্র স্বপ্ন তার ইয়ত্তা নেই। তাই বলে যে জীবন সবসময় একরকমভাবেই যাবে, তা তো নয়। এটা জীবনের ধর্মও নয়। রাতের অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করে কোন কিছু চিন্তা না করেই আপনি লাইটের সুইচ দেন, ঠিক তেমনি ভালবাসার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলে অচেতনভাবেই আপনার মনে অতীতের স্মৃতি চলে আসবে আর তা আপনাকে পোড়াবে, ভেঙ্গেচুড়ে দিতে চেষ্টা করবে, এটাকে স্বাভাবিক ধরে নিন। দেখবেন ধীরে ধীরে কষ্ট কমে যাবে।

পুরনো অভ্যাসগুলোকে পাত্তা দেবেন না

ভালবাসার সময়টাতে আপনাদের জানতে কিংবা অজানন্তে অনেক অভ্যাসই তৈরি হয়ে গেছে। এই অভ্যাসগুলোই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই না? এক কথায় বলব, ঝেড়ে ফেলুন। যে অভ্যাসগুলো আপনি সে সময়ে করেছেন, সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। জানি কষ্ট হবে, কিন্তু কী আর করা। মাথায় কেউ আর আঙুল চালিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে না, আঙুলে আঙুলে কাটাকাটি খেলা আর হচ্ছে না। এরকম হাজারো রোমান্টিক কাজ, কত খুনসুটিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। এখন তা পোড়াচ্ছে। মনে করার চেষ্টা করুন, এগুলো নিতান্তই সে সময়কার অভ্যাস, এগুলো চিরন্তন নয়। সে সময় এগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলে এখনও যে তা করতে হবে এমনটা তো নয়, এভাবেই ভাবা শুরু করুন। দেখবেন অভ্যাসগুলোর শূন্যতা আপনাকে আর পীড়া দিচ্ছে না। ও, আর হ্যাঁ, আপনি অবশ্যই দুঃখবাদী রোমান্টিক গান শুনবেন না। এটা আপনার পোড়ামনের জ্বালা না কমিয়ে শতগুণ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, সম্পর্ক ভাঙ্গার পর বেশিরভাগ মানুষই দুঃখের গান শোনে। না, একদমই না। আপনি মোটেও এ ধরনের গান শুনবেন না।

পরিবর্তন আনুন ভাবনায়

প্রেমময় সময়ে কত কিছুই না চিন্তা করেছেন ভাললাগার মানুষটিকে নিয়ে। কত স্বপ্নই না বুনেছেন। এখন ছাড়ুন তো এসব। অনেক হয়েছে, এবার ভাবনা থামান। ভাবনায় ভাললাগার মানুষটি বার বার চলে আসলেও মাথা ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে ফেলুন। দেখুন তো অন্য কোন কিছু ভাবা যায় কিনা। যেমন ধরুন, আপনি আপনার চারপাশের পরিবেশ, মানুষ, সমাজ ইত্যাদি নিয়ে ভাবা শুরু করতে পারেন। মনে রাখবেন, ভাবনার আগের ফ্রেম থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে নতুন ফ্রেম বসাতে হবে, নাহলে আপনার মুক্তি নেই। কী বুঝলেন তো? আরে ভাই, পুরনোকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকলে তো হবে না, পৃথিবীতে কত কিছুই তো হচ্ছে, এগুলো নিয়ে ভাবা শুরু করুন, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবা শুরু করুন। দেখবেন, একটা সময় কষ্ট ফিঁকে হয়ে আসবে।


অতীতকে যেভাবে দেখছেন তা পাল্টে দিন

সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে, তাই বলে কী স্মৃতিরা চলে গেছে? মোটেই না। অতীত সম্পর্ক নিয়ে ভাবা, কষ্ট কষ্ট খেলা এক ধরনের বদঅভ্যাস। কী, এই কথা শুনে মেজাজ বিগড়ে গেল? ভাবছেন, আপনাকে নিয়ে ইয়ার্কি করা হচ্ছে। তা নয়। অনেক নিরাশাবাদী মানুষ আছেন যারা অতীতের দুঃখ নিয়ে পড়ে থাকতেই বেশি ভালবাসেন। এটা তাদের বদঅভ্যাস। এই বদঅভ্যাসের জন্য তাদের দীর্ঘ সাধনা দরকার। সেটার অন্য সমাধান আছে। আর আপনি যদি নিরাশাবাদী না হন, তাহলে অতীতের স্মৃতি মনে চলে আসলে ভাবুন ঐটা আপনার কল্পনা ছিল। আপনি ওগুলো সিনেমায় দেখেছেন, বাস্তবে নয়। হোক না মিথ্যা, সমস্যা থেকে যদি ভাল থাকা যায়। মনকে যা বোঝাবেন তাই বুঝবে। মন বড় বোকা, হে।

বিবাহবিডি কল সেন্টারঃ +৮৮ ০১৯২২১১৫৫৫৫

মনে মনে প্রিয়ার ছবি আঁকুন

কী পাগল ভাবছেন। এতক্ষণ স্মৃতি ভুলে থাকতে বলে, এখন আবার বলছি প্রিয়ার ছবি আঁকতে, পাগল ছাড়া আর কী। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার বিষয়টা তো জানেন। এ পদ্ধতিটি আসলে সেরকমই। প্রথমে আপনি একটা দৃশ্যকল্প নিজের মনের মধ্য সেট করুন। চোখ বন্ধ করে দেখতে থাকুন আপনার ভালবাসার মানুষটি হাসছে, গাইছে, নাচছে, আপনার সঙ্গে খুনসুটি করছে। দেখতে বেশ ভালই লাগছে, তাই না। কিন্তু এ ভাললাগা তো বেশিক্ষণের নয়। একটু পরেই আসবে যন্ত্রণা। চিন্তা করবেন না। এবার দেখতে থাকুন আপনার ভাললাগার মানুষটি আপনার ওপর অযৌক্তিকভাবে রেগে যাচ্ছে, আপনি মান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছেন তবু কমছে না। দেখতে থাকুন তার বদ অভ্যাসগুলো আর সেই সঙ্গে আপনার খাপ খাওয়ানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা। ভাবুন আপনি একজন সিনেমার পরিচালক ও অভিনেতা। আপনি আর আপনার ভাললাগার মানুষটি তাতে অভিনয় করছেন এবং দেখা দৃশ্যকল্পগুলো আপনার অভিনয় ও পরিচালনার মধ্য দিয়েই হচ্ছে। দেখুন তো আপনার অনুভূতিতে কোন পরিবর্তন আসছে কিনা। পরের দৃশ্যগুলোর কারণে আগের দৃশ্যকল্পের রঙিন ছবিগুলো সাদা কালো হয়ে যাচ্ছে, তাই তো। হ্যাঁ, এটাই আপনার বাস্তব জীবনে হতো যদি আপনার সম্পর্ক ছেদ না হতো। রঙিন জীবন সাদা কালো হয়ে যেত। এভাবে দৃশ্যকল্প আঁকলে দেখবেন ভালবাসার বেগ কমে গেছে।

সম্পর্কের উল্টো দিকটা তলিয়ে দেখুন

একটা কথা সবসময়ই সত্য, এক হাতে তালি বাজে না। এটা মাথায় আপনাকে রাখতেই হবে। যে সমস্যাগুলোর জন্য আপনার সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে, সেগুলো নিয়ে ভাবুন। সমস্যাগুলো তো নিশ্চয় ছোট ছিল না, তাই না? সম্পর্ক টিকে থাকলে সে সমস্যাগুলো আরও সৃষ্টি হতে পারত। তাই যা হয়েছে, ভাল হয়েছে, এমনটাই ভাবুন। মনে রাখবেন, দুষ্টু গরুর চেয়ে যেমন শূন্য গোয়াল ভাল, তেমনি সমস্যা তথা জটিলতাপূর্ণ সম্পর্কের চেয়ে না থাকাই ভাল। তাহলে আর সারা জীবন পস্তাতে হবে না। সম্পর্কের এই উল্টোদিকটি ভেবে দেখুন। দেখবেন, পুরনো সম্পর্কটি নিয়ে আপনার মধ্যে আর আপসোস জাগবে না। বরং মনে হবে, বেঁচে গেছি। আর যদি পারিবারিক কারণে আপনি নিজেই সম্পর্ক ছেদ করে থাকেন, তাহলেও সেটাকে আত্মত্যাগ হিসেবেই নিন। জীবনের প্রয়োজনে মানুষকে অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়, অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই একে স্বাভাবিক ধরে নিন। নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান। পরিবারের মানুষদের হাসিভরা মুখগুলোর কথা মনে করুন, দেখবেন আপনার কষ্ট অনেকটাই মনে যাচ্ছে।

নিজের দিকে তাকান

অনেক তো হলো, এবার নিজের দিকে তাকান। কান্নাকাটি অনেক করেছেন। আয়নায় নিজের চেহারাটি দেখুন। কী বিমর্ষ। চাঁদবদনের কী হাল করেছেন, দেখেছেন? এ কী সহ্য করা যায়! একটা কথা অপ্রিয় শোনায়, তবু চিরন্তন। আপনি বাঁচলে বাপের নাম। আর কিছু বলতে হবে? অনেক স্মৃতি স্মৃতি খেলা খেলেছেন, এবার নিজের দিকে একটু নজর দিন। এই দেশ সমাজ, আপনার পরিবারের প্রতি আপনার অনেক দায়িত্ব, এভাবে ভাবুন না একবার। নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য আপনাকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে, ভুলে যেতে হবে পুরনো স্মৃতি, এমন কথামালা আওড়াতে থাকেন। দেখবেন, আপনার ভেতর থেকে পুরনো স্মৃতি ভুলে নতুন করে বাঁচার তাগিদ সৃষ্টি হবে।

বিশ্বাস করুন আপনি আবারও প্রেমে পড়বেন

সময় বহমান, তাই তো? জীবনও বহমান। কারও জন্যই জীবন থেমে থাকে না। সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে বলে যে আবার কোন সম্পর্ক হবে না, তা তো না। এমন কোন নিয়ম তো কোথাও নেই যে, জীবনে আপনাকে একবারেই ভালবাসতে হবে। আর এমনটাও নয় যে, আপনি অতীতের ভালবাসা ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারবেন না। কেউ যদি বলে থাকে, তবে হয় আবেগের বশে বলে নয় ডাহা মিথ্যা কথা বলে। নতুন কারও সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার চিন্তা করুন। বন্ধু খুঁজুন। পারলে বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গেই বন্ধুত্ব করুন। বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব আপনার পুরনো স্মৃতিকে ভুলে যেতে সাহায্য করবে। আর প্রেম করতে পারলে তো সোনায় সোহাগা।

হল্লার মাঝে ডুবে যান

দুঃখের সময় মানুষ যদি নিঃসঙ্গ থাকে, তখনই মানুষ বেশি কষ্ট পায়। স্মৃতিরা তাড়া করে ফেরে। এজন্য একাকী না থেকে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে হৈহল্লায় মেতে উঠুন। জানি, মন সায় দেবে না। তবু বলছি, একটু মনে জোর এনেই আড্ডা দিতে যান। প্রয়োজনে বেশি সময় আড্ডা দিন। দেখবেন নির্মল আড্ডার মধ্যে দিয়েই আপনি ভুলে যেতে থাকবেন, পুরনো স্মৃতি। বন্ধুদের নিয়ে দূরে ঘুরে আসতে পারেন, পিকনিক করতে পারেন। কিংবা জড়িয়ে পড়তে পারেন সমাজসেবামূলক কাজে। আর ঘর থেকে বের হওয়ার অসুবিধা থাকলে বই পড়া শুরু করেন কিংবা লেখালেখি। যেভাবেই হোক নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার কষ্ট কমে যাচ্ছে। আপনি আবার ফিরে যাচ্ছেন স্বাভাবিক জীবনে।

বিয়ের পরে ভালোবাসা কি আগের মত সতেজ থাকে!

রোমান্সের ব্যাপারে আমরা খোলামেলা আলোচনা না করলেও, আমরা সবাই স্বীকার করি যে দাম্পত্য সুখের জন্য রোমান্সের গুরুত্ব অনেক। যারা নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বিয়ের প্রথম দিনের যে অনুভূতিটা পাচ্ছেন ঠিক প্রথম বিবাহ বার্ষিকী পর্যন্ত সেই একই রকম অনুভূতি পাওয়ার জন্য সম্পর্ককের যত্ন করতে হবে, বিষয়টা বলতে যতটা সহজ, মেনে চলা বেশ কঠিন।

বিয়ে করা মানে ভালোবাসা ফিকে হয়ে যাওয়া নয়।  বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে সতেজ রাখাটা দম্পতি দুজনের উপরই নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বিয়ের পর কিছু সময় পার হওয়ার পর দাম্পত্য জীবনের রোমান্স কমতে থাকে।  বিশেষ করে বিয়ের পর বাবা, মা হওয়ার পর এই প্রবণতা বেশী বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। এরকম অবস্থা সৃষ্টিতে সঙ্গী একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকে।

বিয়ের পরেও ভালোবাসাকে জীবিত রাখতে রোমান্স কে কি ভাবে কাজে লাগাবেন সে বিষয়ে ছোট একটা আলোচনা করা হলোঃ

বিয়ের পরের ডেটিং :  বিয়ের আগে যেভাবে একে অন্যের সাথে সময় কাটাতেন ঠিক বিয়ের পরেও চেষ্টা করবেন অন্তত মাসে একবার হলেও দুজনে বাহিরে কোথাও একান্ত সময় কাটাতে এতে করে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা উচ্ছল থাকবে।

উপহার দিনঃ  সঙ্গীকে কোন কারন ছাড়াই প্রায়ই উপহার দিয়ে চমকে দিন এতে সঙ্গী অনেক খুশী থাকবে।  ফলে দুজনের মধ্যের ভালোবাসা অটুট থাকে।

সঙ্গীকে প্রশংসা করুনঃ আপনার জীবনে সঙ্গীর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য তার প্রশংসা করুন যেমন- দিন শেষে স্ত্রীকে তার সারা দিনের কাজের জন্য প্রশংসা করতে পারেন, সাথে বলতে পারেন যে তাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে পেয়ে আপনি অনেক গর্বিত। এরকম প্রশংসা সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায়।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় এক সাথে কাটানঃ সারা দিনের কর্মব্যস্ততার পরে দুজন একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে রাখবেন একসাথে সময়টা কাটানোর, এই সময়টা গল্প করে বা নিজেদের পছন্দের কোন গেম খেলে কাটাতে পারেন।

ঘর সাঁজানোর জন্য দুজনে মিলে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ নিজেদের শোবার ঘর নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করুন, পরিকল্পনা অনুসারে দুজনে মিলে কাজ করুন এতে একসাথে সময় কাটানো হবে মনও প্রফুল্য থাকবে, ভালোবাসার বৃদ্ধি হবে।

ছোট খাটো মনোমালিন্যতা কে মজার ছলে উড়িয়ে দেওয়াঃ দম্পতিদের মধ্যে যদি কোন মনোমালিন্যতা সৃষ্টি হয় তবে বিভিন্ন মজা ছলে বিষয়টাকে স্বাভাবিক করতে হবে।আরো অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে সহজে বিবাহিত জীবনের রোমান্স কে সারা জীবন একই রকম রাখা যায়, তবে চেষ্টাটা দুজনকে সমান ভাবে করতে হবে। একতরফা চেষ্টায় ভালোবাসা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে টিকে থাকেনা।

বিয়েতে ভয়, আপনার গ্যামোফোবিয়া তো নয়!

কৈশোরে কিংবা তারুণ্যে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় হয়তো অনেকেই বিয়ের ইচ্ছা পোষণ করে থাকেন। আবার অনেকে আক্ষেপ করেও বলেন যে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাবা মা বিয়ে দিচ্ছে না কিংবা তার মনের ইচ্ছা বুঝতে চাইছে না।  কিন্তু যখন সত্যিকার জীবনে বিয়ের বয়স হয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের প্রতি দেখা দেয় অনীহা। শুধু তাই নয়, দেখা যায় যে অনেক দিনের প্রেম থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ককে বিয়ের নাম দিতে ভয় পাচ্ছেন তারা। বিয়ের জন্য যেন নিজেকে কোনো ভাবেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে উঠতে পারেন না তারা।

বিয়ে করতে ভয় পাওয়ার বিষয়টিকে ‘গ্যামোফোবিয়া’ বলে।  বিয়ের কথা শুনে কিছুটা আতঙ্কিত বোধ করাটাও স্বাভাবিক।  তবে বিয়ের নাম শুনলেই যারা দৌড়ের ওপর থাকেন, তারা গ্যামোফোবিয়ায় ভুগতে পারেন।  যাদের মনে বিয়ের ভয় জেঁকে বসে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, অবশ্যই তাদেরকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তবে যারা বিয়ের কথা শুনে কেবল আতঙ্ক বোধ করছেন, তারা কিছুটা মানসিক জোর পেলেই বিয়েতে রাজি হবেন।

গ্যামোফোবিয়া কী? : বিয়ের বন্ধন ও স্থায়ী সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার ভয়ই মূলত গ্যামোফোবিয়া।  গ্রিক শব্দ গ্যামো অর্থ বিয়ে ও ফোবিয়া মানে ভয়।   গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে বৈবাহিক সম্পর্ককে কখনো সরল জীবনযাপনের হুমকিস্বরূপ মনে হয়।  এছাড়াও সম্পূর্ণ নতুন একটি মানুষের সঙ্গে বসবাস ও তার পরিবার মানিয়ে চলাকেও তারা সহজভাবে নিতে পারেন না।

কারণ:  সাধারণত যেকোন ফোবিয়ার কারণ হচ্ছে বাইরের উদ্দীপক ও তার মানসিক প্রভাব।  যেমন, অতীতের আঘাতমূলক ঘটনা। আবার এ ভয় জেনেটিক কারণেও হতে পারে। অল্প বয়সে বিভিন্ন সম্পর্কজনিত জটিলতাও এই ফোবিয়ার কারণ হতে পারে।   ধারণা করা হয় বংশগতি, জিন ও মস্তিষ্কের রসায়ন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্মিলনে ফোবিয়া তৈরি হয়।

লক্ষণ:  ভয়ের মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। তাই গ্যামোফোবিয়ার লক্ষণগুলোও আলাদা। যেমন—প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, ভয় ও আতঙ্কগ্রস্ত থাকা। অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস, ঘেমে যাওয়া, হৃদপিণ্ডের উর্ধ্বগতি, গলা শুকিয়ে আসা, কাঁপুনি ইত্যাদি।

প্রতিকার : বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোবিয়ার সবচেয়ে উপযোগী চিকিৎসা হচ্ছে সম্মোহন বা হাইপোথেরাপি, মনোবিজ্ঞানির সাথে পরামর্শ (সাইকোথেরাপি) ও নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং (অবচেতন মন যদি নেতিবাচক হয়ে থাকে তবে তাকে রিপ্রোগ্রাম করবার জন্য দরকার সচেতনতার সাথে নিজস্ব উপলব্ধি, দৃষ্টিভংগী এবং আবেগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া)।   সাইকোলজির কিছু বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করে নিজের মনের অবচেতন প্রক্রিয়াকে গাইড করা সম্ভব।

বিয়ের ভয় কাটানোর কয়েকটি পরামর্শ জেনে নিন:

বিয়ে ফিল্ম নয়: অনেকে হলিউড বা বলিউডের চলচ্চিত্রে বড় বড় বিয়ের আয়োজন দেখে আতঙ্কিত থাকেন। মনে রাখতে হবে, বিয়ে মানে চলচ্চিত্রের দৃশ্য নয়। বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়েকে দেখুন। এটি জীবনের স্বাভাবিক অংশ। অতি কাল্পনিক বা অতি জাঁকজমকের কিছু নয়। বাস্তবতা মেনে যাঁরা বিয়ের কথা ভেবেছেন, তাঁদের ভয় কেটে গেছে।

অযৌক্তিক ভীতি নয়: বিয়ে নিয়ে অনেকেই অতিরিক্ত ভয়ে থাকেন। মনে সন্দেহ তৈরি হয়। আস্থাহীনতায় ভুগতে থাকেন। বিয়ের বিরুদ্ধে যত পয়েন্ট আছে, সব এক জায়গায় করুন। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখুন। একসময় মনে হবে, বিয়ের বিরুদ্ধে কারণগুলোর কোনো অর্থই নেই।

নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন: অনেক সময় দেখা যায়, যার বিয়ে তাঁর খবর নেই, পাড়া–পড়শির ঘুম নেই। অনবরত বিয়ের কথা বলে মনে আতঙ্ক তৈরি করে। আপনার একাকী জীবন নিয়ে যারা বেশি উদ্বেগ দেখায়, তাদের এড়িয়ে যান। বিয়ে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করুন।  মনে রাখুন, বিয়ে সম্পূর্ণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী করা ভালো।

সঙ্গীর ওপর আস্থা রাখুন: আপনার যদি পছন্দের কেউ থাকে, তবে বিয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। বিয়ে সম্পর্কে কোনো ভয় থাকলে আলোচনা করে দেখতে পারেন। সহানুভূতিশীল সঙ্গী আপনার পাশে দাঁড়াবে এবং বিয়ের ভয় কাটাতে সাহায্য করবে।

নিজেকে গুছিয়ে নিন: যাঁরা বিয়ে করতে ভয় পান, তাঁরা নিজেকে আগে গোছগাছ করে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। একা কোথাও ছুটি কাটাতে যেতে পারেন। একা অনেকটা সময় কাটিয়ে সঙ্গীর অনুভব করেন কি না, বুঝতে চেষ্টা করুন। যদি একা সময় কাটানো কষ্টকর বোধ হতে থাকে, তবে বিয়ে করে ফেলুন।

স্বাভাবিক হোন: অতীতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বেদনা থাকতে পারে। অনেকে প্রতারণার ঘটনায় বিয়েতে বিতৃষ্ণায় ভুগতে পারেন। যদি এ ধরনের ঘটনা জীবনে থাকে, তবে বাস্তববাদী ও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুন। সম্পর্কসহ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আঘাত আসতে পারে। অতীতের কষ্ট ভুলে যান, নতুন সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে মেনে নিন।

বাস্তবতা মানুন: অনেকে ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ভেবে বিয়ের দিকে যেতে ভয় পান। অপেক্ষায় সময় কাটান। অনেকে অপেক্ষা করেন বিশেষ কারও জন্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো মানুষ সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়। কল্পনার ‘হিরো’ বাস্তবের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।

উন্মুক্ত মন: যারা ইতিবাচক কথা বলে এবং যারা সংসারজীবনে সফল, তাদের কাছে কথা শুনুন। নেতিবাচক ও বাজে কথায় কান দেবেন না। নিজে ইতিবাচক থাকুন ও মন উন্মুক্ত রাখুন। আপনার মনের খোলা জানালায় শান্তির সুবাতাস বয়ে যাবে।

সূত্র : সংগৃহিত