বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কেন করতে হবে?

প্রশ্নটির উত্তর অতি ব্যাপক। সংক্ষেপে, সামাজিক মর্যাদা এবং আইনগত অধিকার রক্ষার জন্যই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা অতি জরুরি। রেজিস্ট্রেশন ব্যাতীত আপনি আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সাক্ষ্যগত মূল্য বহন করে। রেজিস্ট্রেশন ব্যাতিত বিবাহ প্রমাণ করা কঠিন ফলে মেয়েদের প্রতারিত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় সবচেয়ে বেশি। দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের অভিভাবকত্ব ইত্যাদি দাবির ক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রিশন বা বিবাহের কাবিননামা আইনগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কাবিননামার গুরুত্ব ব্যাপক। কাবিননামায় বয়স উল্লেখ করতে হয় বিধায় বাল্য বিবাহ রোধও সম্ভব। এটি বিবাহিত ছেলে-মেয়ে উভয়ের ভবিষ্যত আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করে। বিবাহ সম্পর্কে উভয় পক্ষ থেকেই যে কোন সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, তখন কাবিননামা প্রমাণ পত্র হিসেবে কাজ করে।

অন্যদিকে, আইনের দৃষ্টিতে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাই সকল বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা আইনত আবশ্যক।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কী এবং কেন?

বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে সরকারিভাবে বিবাহকে তালিকাভুক্তি করা। সরকারের নির্ধারিত ফরমে বিবাহের তথ্যবলী দিয়ে এই তালিকাভূক্তি করতে হয়। তালিকাভূক্তি ফরমটিকে কাবিননামাও বলে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজী বা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনটি ২০০৫ সালে সংশোধনী আনা হয় এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ওই সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন হবার সঙ্গে সঙ্গেই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা তিনি ছাড়া অন্য কেউ বিবাহ সম্পন্ন করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ্ রেজিস্ট্রার বা কাজীর নিকট বিবাহের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং কাজী উক্ত তথ্য প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের এসব বিধান লঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে। আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ বাতিল হয় না তবে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা থাকে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধি বিধান নেই। তবে ২০১২ সালে প্রণীত “হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন” অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধনের বিধান থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এরূপ বিধান নেই। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে রাখা যেতে পারে।


কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয় :

২০০৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) সংশোধিত আইন অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হবার সাথে সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হলে ৩০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি করতে রেজিস্ট্রেশন সরকারি ফি দিতে হয়। দেনমোহরের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয়। ধার্য্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ টাকা হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি এর মোট পরিমাণ ১০০ টাকার কম হবে না এবং ৪০০০ টাকার উপর হবে না। এই ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তন হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের।

আইন অনুযায়ী বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বা শর্ত যেমন, বর কনের বয়স, উভয়ের সম্মতি, দেনমোহর, তালাক প্রদানের ক্ষমতা ইত্যাদি পূরণ সাপেক্ষে কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। খ্রিস্টান বিবাহের ক্ষেত্রে যিনি বিবাহ সম্পাদন করবেন তিনিই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর কাজী উভয়পক্ষকে রেজিস্ট্রেশন ফরম বা কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদান করবেন।

বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সুফল-কুফল :
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করলে আইনগত কিছু সুফল পাওয়া যায় কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না করলে কুফলও রয়েছে অনেক, যেমন রেজিস্ট্রেশনের ফলে,

১) উভয় পক্ষ বিবাহ অস্বীকার করার আইনত সুযোগ থাকেনা এবং এর দ্বারা সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা আরোপিত হয়।
২) রেজিস্ট্রেশনের ফলে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ণয় সহজ হয়।
৩) স্ত্রী তার প্রাপ্ত দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় বা দাবি করতে পারে।
৪) সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ণয় করতে সহজ হয়।
৫) স্বামী দ্বিতীয় বিবাহের জন্য উদ্যোগী হলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
৬) রেজিস্ট্রেশনের ফলে বাল্য বিবাহ রোধ সম্ভব হয়।
৭) রেজিস্ট্রেশনের ফলে স্ত্রী ডিভোর্স দেয়ার ক্ষমতা প্রাপ্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে স্বামী বা স্ত্রীর আইনগত বৈধতা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা যায় না। রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার ফলে স্বামী অথবা স্ত্রী উভয়ই আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত বা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আবার, রেজিস্ট্রেশন না করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে। মোট কথা, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একদিকে যেমন বাধ্যতামূলক অন্যদিকে এটি একটি সামাজিক এবং পারিবারিক প্রামাণ্য দলিল।

তথ্য সুত্রঃ advocateregan.com

বিচ্ছেদের ব্যবচ্ছেদ

বিচ্ছেদ কাম্য নয়। আমরা চাইও না। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ভাঙনের সুর বেজে উঠতেই পারে জীবনে। যে অবস্থায় সুস্থ এবং মানসিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের স্বার্থে দুজনের চলার পথ দুটি দিকে বেঁকে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় খোলা থাকে না- তেমনি কিছু পরিস্থিতিতে অনিবার্য করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত এবং প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ আমাদের এই বিচ্ছেদ-ব্যবচ্ছেদ টেবিলে।

ঘটনা ১

শাহেদের সাথে হৃদির বিয়ের দেড় বছরের মাথায় শাহেদ জানতে পারে, হৃদি এখনও তার আগের এক বন্ধুর সাথে প্রেম করে। বিষয়টি জানার পর দুজনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য। তৈরী হয় দূরত্ব। এখন দুজনের কেউ চাইছে না এমন অসুস্থ দাম্পত্য জীবন কাটাতে। কী করা যায়?

ঘটনা ২

বিয়ের কদিন পর থেকেই রোজির স্বামী তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। বাবা-মাকে বলে একলাখ টাকা এনে দিলেও স্বামীর চাহিদা ফুরোয় না। আবারও যৌতুকের জন্য চাপ! না পেয়ে চলে দুর্ব্যবহার, শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে পাঠিয়ে দেয় বাবার বাড়িতে। জানিয়ে দেয়, চাহিদামতো যৌতুক না দিলে তাকে আর ঘরে ফেরানো হবে না। যৌতুকলোভী এমন একটা মানুষের সাথে সংসার চালিয়ে নেওয়া রোজীর জন্য দুঃসাধ্য। সে কীভাবে তার স্বামীকে তালাক দেবে?

মুসলিম আইনে বিবাহবিচ্ছেদ

বিবাহবিচ্ছেদের বহুল প্রচলিত মাধ্যম হচ্ছে তালাক।ইসলামি  আইন অনুযায়ী, তালাক স্বামীর একটি ক্ষমতা যা সে কল্যাণের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে। খামখেয়ালে বা অন্যায়ভাবে সে এটি তার স্ত্রীর উপর প্রয়োগ করবে না। ১৯৬১ সালের আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর করার আগে সালিসের মাধ্যমে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করতে হবে। সেই উদ্দেশ্যে এই আইনে চেয়ারম্যান নোটিশ এবং সালিশ গঠনের বিধান রাখা হয়। অপরদিকে বিবাহনিবন্ধন ফরম তথা কাবিননামার ১৮ অনুচ্ছেদে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। সেই অনুযায়ী, স্ত্রী চাইলে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।

স্বামী যেভাবে তালাক দেবে

সাধারণভাবে ধরা হয় যে, তালাক স্বামীর একচ্ছত্র ক্ষমতা। স্বামী যখন ইচ্ছা তখন একতরফাভাবে তালাক দিতে পারে। স্ত্রীকে কারণ জানানোরও প্রয়োজন নেই। তবে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে এই ক্ষমতার খামখেয়ালি ব্যবহাররোধে তালাক কার্যকর করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তালাক উচ্চারণ এবং কার্যকর হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। মুখে তালাক উচ্চারণ করলেই হবে না। চেয়ারম্যান নোটিশ দিতে হবে এবং নোটিশের পর ৯০ দিন পার না হলে তালাক কার্যকর হবে না।

তালাকের নোটিশ

১৯৬১ সালের পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭ (১) ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তালাক দেবে, সে লিখিতভাবে নোটিশ পাঠাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/পৌরসভার চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও স্ত্রী বরাবর।নোটিশ না পাঠালে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। নোটিশ পাবার ৩০ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান অথবা মেয়র সালিস পরিষদ গঠন করবেন এবং স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা করানোর চেষ্টা করবেন।

সালিস পরিষদ উভয়কে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতি ৩০ দিনে ১টি নোটিশ করে মোট ৩ টি নোটিশ পাঠাবেন। এর মধ্যে স্বামী নোটিশ প্রত্যাহার না করলে তালাক কার্যকর হবে। নোটিশ প্রত্যাহার করলে তালাক কার্যকর হবে না।

তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে তালাক কার্যকর হবে না। তবে সন্তান হওয়ার পর পর্যন্ত নোটিশ বহাল রাখলে ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে। কিন্তু এর মধ্যেও তা প্রত্যাহার করলে তালাক কার্যকর হবে না।

নোটিশ ছাড়া তালাক কার্যকর হবে কি?

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের কোথাও নোটিশ না দিলে তালাক হবে না বলে উল্লেখ নেই। তবে স্বামী শাস্তি পাবেন।কিন্তু উচ্চ আদালত বিষয়টির একটি ভিন্ন সমাধান দিয়েছেন। কাজী রাশেদ আখতার শহিদ বনাম মোসাম্মৎ রোখসানা বেগম চৌধুরী ছন্দা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, স্বামী কর্তৃক চেয়ারম্যান বরাবর নোটিশ না দিলে তালাক কার্যকর হবে না। তালাক উচ্চারণের সময় স্ত্রী যে এলাকায় বসবাস করছেন সে এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে।

স্ত্রীও তালাক চাইতে বা দিতে পারেন

নিকাহনামার ১৮ অনুচ্ছেদে স্ত্রীকে দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষমতাবলে স্ত্রী আদালতের আশ্রয় ছাড়াই স্বামীকে তালাক দিতে পারেন। এক্ষেত্রে স্বামীর মতোই স্ত্রী তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যান ও স্বামীর কাছে পাঠাবেন। নোটিশ পাবার ৯০ দিন পর তালাক কার্যকর হবে।সাধারণত বর্তমানে নিকাহ রেজিষ্ট্রেশনের সময় স্ত্রীকে এ ধরণের অধিকার দেওয়া হয়। তারপরও মেয়েদের উচিত বিবাহের সময় নিকাহনামায় এই বিধান রাখা হয়েছে কিনা তা দেখে নেওয়া।

এছাড়া ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইনে, কী কী কারণে স্ত্রী আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারবেন, তা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

  • চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে
  • দুই বছর পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীর খরপোশ দিতে ব্যর্থ হলে
  • স্বামীর সাত বছর কিংবা তারচেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে
  • স্বামী কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে
  • বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বজায় থাকলে
  • স্বামী দুই বছর ধরে মানসিক অথবা কুষ্ঠ কিংবা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে
  • স্বামী বিবাহ অস্বীকার করলে। কোন মেয়ের বাবা ব অভিভাবক যদি ১৮ বছর বয়সের আগে মেয়ের বিয়ে দেন, তাহলে মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। স্বামীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস )না হয়ে থাকলে বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারে।
  • স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে
  • স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে

নীচের কাজগুলো নিষ্ঠুরতা হিসেবে স্বীকৃত-

ক) অভ্যাসগতভাবে স্ত্রীকে আঘাত করা। এটা দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়লেও তার জীবন শোচনীয় করে তুললে এটি নিষ্ঠুর আচরণ বলে বিবেচিত হবে

খ) স্বামী খারাপ মেয়ের সাথে জীবন যাপন করলে

গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবন যাপনে বাধ্য করলে

ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করলে

ঙ) স্ত্রীকে ধর্মপালনে বাঁধা দিলে

চ) একাধিক স্ত্রী থাকলে সকলের সাথে সমান ব্যবহার না করলে

  • মুসলিম আইনে স্বীকৃত অন্য যেকোন যুক্তিসঙ্গত কারণে স্ত্রী আদালতে তালাকের অনুমতির জন্য মামলা করতে পারেন।

ওপরের যেকোন এক বা একাধিক কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদেরর আবেদন করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব স্ত্রীর। প্রমাণিত হলে স্ত্রী বিচ্ছেদের পক্ষে ডিক্রি পেতে পারেন। আদালত বিচ্ছেদের ডিক্রি দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে একটি সত্যায়িত কপি আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাবেন।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চেয়ারম্যান নোটিশকে তালাক সংক্রান্ত নোটিশ হিসেবে গণ্য করে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন এবং চেয়ারম্যানের নোটিশ পাবার দিন থেকে ৯০ দিন পর তালার চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

খুলা

স্ত্রীর পক্ষ থেকে দাম্পত্য অধিকারমুক্তির প্রস্তাবকে বলে ‍খুলা। এক্ষেত্রে স্ত্রী কোনকিছুর বিনিময়ে স্বামীকে বিচ্ছেদে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন।স্বামী রাজি থাকলে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। বিচ্ছেদের উদ্যোগ অবশ্যই স্ত্রীর পক্ষ থেকে আসতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মোহরানা এবং ভরণপোষণের দায় স্বামী স্ত্রীকে বাধ্য করেন খুলা তালাকেরর জন্য। প্রচলিত ভুল ধারণা হচ্ছে, খুলা হলে মোহরানা এবং ভরণপোষণ দেওয়ার দরকার নেই। খুলার বিনিময় সাধারণত মোহরানার চেয়ে কম। বেশি বা সমানও হতে পারে। স্ত্রীই এর পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। ‍এর জন্য তার অন্যান্য অধিকার খর্ব হবে না। মোহরানা হচ্ছে বিয়ের সাথে সাথে স্ত্রীর পাওনা। যা স্ত্রী চাইলেই স্বামী দিতে বাধ্য। অপরদিকে, খুলার যে বিনিময় তা বিবাহবিচ্ছেদের সাথে সম্পর্কিত। বিয়ের সাথে নয়।

মুবারত

স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হলে তাকে মুবারত বলে। এক্ষেত্রে পারস্পরিক ইচ্ছার ভিত্তিতে চুক্তির মাধ্যমে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

তালাকের পর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে স্ত্রী তালাক দেওয়ার পর তা কার্যকর হওয়ার আগে স্ত্রী দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন কি? ইদ্দতকাল পর্যন্ত অর্থাৎ ৯০ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন না।

হিল্লা বিয়ে

১৯৬১ সালের মুসলিম আইন অধ্যাদেশে হিল্লা বিয়েকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালাকের পর স্বামী-স্ত্রী পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে হিল্লা বিয়ের দরকার হয় না।

গর্ভাবস্থায় তালাক

গর্ভাবস্থায় তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর অথবা নোটিশ প্রদান থকে ৯০ দিন- যেটি দেরিতে শেষ হবে সেটি পার হলে তালাক কার্যকর হয়। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানেচ নোটিশের মাধ্যমে সালিস বসবে।

তালাকের ফলাফল ও ভরণপোষণ

খুলা ব্যাতীত সকল প্রকার তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ মোহরানা এবং ইদ্দতকালীন সময় পর‌্যন্ত ভরণপোষণ পাবেন। সন্তান থাকলে সন্তানের আইনগত অভিভাবক হবেন বাবা। সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব তারই। ছেলেসন্তান সাত বছর বয়স পর‌্যন্ত এবং মেয়েসন্তান বিয়ে পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকবে। তবে সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ বিবেচনায় আদালত চাইলে মামলাভেদে অন্য সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

ক) সাবালক না হওয়া পরযন্ত পিতা তার সন্তানের ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

খ) তালাক বা বিচ্ছেদের পর সন্তান যদি মায়ের কাছে থাকে, তবুও বাবাই ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে ছেলে ৭ বছর, মেয়ে বিবাহ পর্যন্ত। উল্লেখ্য, মেয়ের বিবাহের খরচও বাবাকেই দিতে হবে।

গ) যদি কোন সাবালক সন্তান অসুস্থতার জন্য কিংবা পঙ্গুত্বের জন্য রোজগার করতে না পারে, তবে বাবা তাকে আজীবন ভরণপোষণ দিতে বাধ্য।

ঘ) পিতা-মাতা গরীব বা দৈহিকভাবে অসমর্থ হলে দাদার অবস্থা সচ্ছল হলে ওই সকল ছেলেমেয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব দাদার ওপর ন্যস্ত হবে।

ঙ) সন্তানদের অভিভাবক বাবা, মা সন্তানের জিম্মাদার, লালনপালনকারী এবং হেফাজতকারীর ভূমিকা পালন করবেন। সন্তানেরা মায়ের কাছে থাকবে এবং বাবা সব খরচ বহন করবেন।

চ) মুসলিম আইনে বাবা তার দায়িত্ব পালন না করলে অভিভাবকত্বের দাবি করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের পরও সন্তানেরা মায়ের কাছে থাকতে পারবে।

মা কখন সন্তানের জিম্মাদার থাকতে পারবেন না

  • মা অসৎ জীবন যাপন করলে
  • মা এমন কাউকে বিয়ে করলে যার সঙ্গে তার নিজের কন্যার বিয়ে হওয়ার ব্যাপারে ধর্মীয় নিষেধ নেই
  • সন্তানের প্রতি উদাসীন, দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে

দেনমোহর

দেনমোহরের মোট পরিমাণকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে: আশু এবং বিলম্ব। চাইলেই পরিশোধযোগ্য অংশটিকে আশু দেনমোহর বলে। বিলম্বিত দেনমোহর মৃত্যু অথবা তালাকের ফলে পরিশোধযোগ্য। সুতরাং তালাকের সাথে সাথে স্ত্রী তার মোহরানা না পেয়ে থাকলে তার জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারেন। স্বেচ্ছায় দেনমোহর আদায় না করলে স্ত্রী এবং তার ওয়ারিসরা তা আদায়ের জন্য নিম্নলিখিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

  • আশু দেনমোহর: এর দাবি অস্বীকার করার তারিখ থেকে স্বামীর মৃত্যুর পর তিন বছরের মধ্যে পারিবারিক আদালতে মামলা করা যাবে।
  • বিলম্বিত দেনমোহর: লিখিত তালাকনামার মাধ্যমে তালাক দিলে ১৯০৪ সালের তামাদি আইনের ১০৩ ও ১০৪ ধারা অনুযায়ী তালাকের বিষয়টি অবগত হওয়ার তারিখ থেকে মামলা করার মেয়াদ তিন বছর।

১৯৮৫ সালের পারিবাহিক আদালত অধ্যাদেশের ৫ ধারায় পারিবারিক আদালতকে মোহরানার জন্য মোকদ্দমা বিচারের নিরঙ্কুশ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। মোহরানা বা দেনমোহর স্ত্রীর কাছে স্বামীর একটি দায়। সেই দায় পরিশোধের নীতিমালা এখানে প্রযোজ্য হবে। সেই অনুযায়ী, গ্রহীতা দাদাতে খুঁজে বের করে দায় পরিশোধ করেন। স্ত্রী যে এলাকায় বাস করেন সে এলাকায় অবস্থিত পারিবারিক আদালতে মোহরানা আদায়ের জন্য মামলা করতে পারেন।স্বামীর বসবাসের এলাকায় গিয়ে মামলা করার প্রয়োজন নেই।

তালাক বিনন্ধন

মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইন অনুসারে, বিয়ের মতো তালাকও রেজিস্ট্রি করতে হয়। এ সংক্রান্ত বিধিমালা ১৯৭৫ (১৮/২ ) অনুসারে, নিকাহ নিবন্ধক এ জন্য ২০০ টাকা ফি নিতে পারেন। যিনি তালাক কার্যকর করেছেন তিনি রেজিস্ট্রির জন্য আবেদন করবেন এবং ফি দেবেন। নিকাহ বিবন্ধক পরীক্ষা করে দেখবেন দুই পক্ষের মধ্যে সত্যি তালাক কার্যকর হয়েছে কিনা। স্বামী-স্ত্রী উভয়পক্ষেরেই দায়িত্ব নিকাহ নিবন্ধন ও তালাক রেজিস্ট্রির প্রত্যয়নপত্র তুলে সংরক্ষণ করা। যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার কোনো তালাক রেজিস্ট্রেশনে অস্বীকৃতি জানান, সেক্ষেত্রে যিনি রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত করেছিলেন তিনি ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের আদেশই চূড়ান্ত।

বিয়ে একটি চূক্তিমাত্র নয়, একটি পবিত্র বন্ধনও। কাজেই সমস্যা হলে সমাধানের চেষ্টা করাই কাম্য। তারপরও সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়লে বা দাম্পত্য জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়লে বিবাহবিচ্ছেদের মাধ্যমে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। আর তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের অবিবেচনাপ্রসূত ব্যবহার ওই যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দেয়। ইসলামে এটি বৈধ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে চিহ্নিত।

হিন্দু বিবাহ-বিচ্ছেদ

হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক এবং ধর্মীয় দায়িত্ব। তাই বাংলাদেশের আইনে হিন্দুদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই। ভারতে পঞ্চাশের দশকের আইন সংস্করণের মাধ্যমে  হিন্দু বিয়েকে একটি চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ তৈরী করা স্ত্রী যদি একান্তই মনে করেন যে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি পিত্রালয়ে বা অন্য নিরাপদ স্থানে পৃথকভাবে থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। ১৯৪৬ সালে বিবাহিত নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন পাস হওয়ার পর, এক স্ত্রীর বর্তমানে স্বামী অন্য স্ত্রী গ্রহণ করলে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক থাকলেও স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে স্বামী বাধ্য থাকবেন। এছাড়া নিচের কারণগুলোর উদ্ভব হলেও একজন বিবাহিত নারী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী:

  • স্বামী কোন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, যা সে স্ত্রীর কাছ থেকে পায় নি
  • স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এমন হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে
  • স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই তাকে পরিত্যাগ করে
  • স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিয়ে করে
  • স্বামী ধর্মান্তরিত হলে
  • স্বামী যদি ঘরেই কোন উপপত্নী রাখে অথবা অভ্যাসগতভাবে উপপত্নীর সাথে বসবাস করে
  • অন্যান্য যৌক্তিক কারণে

খ্রিস্টান ধর্মমতে বিবাহ-বিচ্ছেদ

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের ব্যাপারে বাংলাদেশে নির্দিষ্ট আইন রয়েছে। এটি ১৮৬৯ সালের, ক্রিশ্চিয়ান ডিভোর্স অ্যাক্ট নামে পরিচিত। কিন্তু এ আইনের মাধ্যমে কোনো ক্যাথলিক খ্রিষ্টান বিবাহবিচ্ছেদ ঘটালে তা ক্যাথলিক মণ্ডলি কর্তৃক গৃহীত হবে না। কেননা ক্যাথলিক মণ্ডলি বৈধ বিয়েতে বিচ্ছেদ মানেন না। প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বৈধ বিয়ের বিচ্ছেদ মেনে নেয়। তবে মহামান্য পোপের (ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মযাজক ) বিশেষ বিবেচনায় অথবা চার্চের হস্তক্ষেপে কিছু ক্ষেত্রে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হতে দেখা যায়।

১৮৬৯ সালের ক্রিশ্চিয়ান ডিভোর্স অ্যাক্টে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যাপারে নারীকে অধিকার দিয়েছে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর ক্ষমতা ও অধিকারকে স্বামীর পাশাপাশি সমতা দেওয়া হয় নি। ভারতে কয়েক বছর আগে আইনটি সংশোধন করে স্বামী ও স্ত্রীর ক্ষেত্রে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনটির ১০ ধারায় কোন কোন কারণে বিবাহবিচ্ছেদ করা যাবে তা উল্লেখ করা আছে। আইনটির ১৮ ধারা অনুযায়ী, পুরুষত্বহীনতা, বিবাহনিষিদ্ধ আত্মীয়তার সম্পর্ক, মানসিক ভারসাম্যহীনতা ও একাধিক বিয়ের কারণে বিয়ে বাতিলের বিধান আছে। ২২ এবং ২৩ ধারার অধীনে তারা আইনগত বিচ্ছেদ (জুডিশিয়াল সেপারেশন ) তথা উভয়ে আলাদা থাকার জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে স্ত্রী এটা চাইতে পারেন। তবে নিষ্ঠুরতার জন্য ডিভোর্স চাইতে পারেন না।খ্রিস্টান বিবাহবিচ্ছেদ বা ওপরের যেকোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের পরিবর্তে হাইকোর্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালতে মামলা করতে হয়।

লিখেছেনঃ

নোমান হোসাইন তালুকদার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর